সাইকেল পাইকারি থেকে অনলাইনে বিক্রি, ফিটিং আর কুরিয়ারের খরচ
সাইকেল পাইকারি কিনে অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন সাইকেল চলে, বংশালে কী পাবেন, বয়স ধরে বাচ্চাদের সাইকেলের সাইজ, অর্ধেক ফিট করে কার্টনে পাঠানো, ১২ কেজির পার্সেলে কুরিয়ারের আসল চার্জ, বাসায় জোড়া লাগানো আর ওয়ারেন্টির কথা।

এই লেখায় যা আছে
সাইকেল পাইকারি কিনে অনলাইনে বেচা যায়, তবে কাপড় বা গ্যাজেটের মতো সহজে না। কারণ একটা সাইকেল বড়, ভারী, আর পুরো ফিট করা অবস্থায় কুরিয়ারের বাইকে ওঠে না। তাই অনলাইনে যাঁরা সাইকেল বেচেন, তাঁরা সাধারণত বংশালের মতো পাইকারি বাজার থেকে কেনেন, অর্ধেক ফিট করে কার্টনে ভরে পাঠান, আর কাস্টমারকে জোড়া লাগানোর ভিডিও দেন। কোন সাইকেল চলে, বাচ্চার বয়স ধরে সাইজ, ১২ কেজির পার্সেলে কুরিয়ার আসলে কত নেয়, আর একটা সাইকেলে হাতে কত থাকে, সবটা টাকার হিসাব ধরে বলছি।
ধরুন ঈদের তিন সপ্তাহ আগে রংপুর থেকে ফোন এল, "ভাই, ছেলের বয়স সাত, ওর জন্য একটা সাইকেল পাঠাতে পারবেন?" অর্ডারটা ভালো, দামও ভালো। কিন্তু ফোন রাখতেই তিনটা চিন্তা মাথায় ঘোরে। কোন সাইজ দেব? কুরিয়ার এত বড় কার্টন নেবে তো? ওখানে জোড়া লাগাবে কে? এই তিনটার উত্তর একটা একটা করে দিচ্ছি।
কোন সাইকেল অনলাইনে চলে, কোনটা না
অনলাইনে সবচেয়ে সহজে চলে বাচ্চাদের সাইকেল। বাবা-মা দোকানে ঘোরার সময় পান না, আর বাচ্চাদের সাইকেল তুলনায় ছোট আর হালকা, কার্টনে আঁটে। ঈদ, জন্মদিন আর বার্ষিক পরীক্ষার পরের উপহার, এই তিন সময়ে এগুলোর চাহিদা আসে। তিন চাকার ছোট সাইকেল আর সাপোর্ট চাকা লাগানো ১২-১৬ ইঞ্চির সাইকেল এখানে বেশি চলে।
বড়দের সাইকেলের মধ্যে চলে সাধারণ কমিউটার আর বাজেটের মাউন্টেন ধরনের সাইকেল, যেগুলো অফিস বা কলেজে যাওয়ার জন্য মানুষ কেনেন। দামি গিয়ারওয়ালা সাইকেল অনলাইনে বেচা কঠিন। এই কাস্টমার সাধারণত দোকানে গিয়ে চড়ে দেখতে চান, ফ্রেমের সাইজ মেলাতে চান, আর এত টাকার জিনিস না দেখে কিনতে ভয় পান। শুরুতে এই দলটা বাদ রাখুন।
আরেকটা দল আছে যেটা অনলাইনে সহজ, সেটা পার্টস আর এক্সেসরিজ। লাইট, বেল, তালা, সিট কভার, বাচ্চাদের সাপোর্ট চাকা, হাতের গ্লাভস। এগুলো ছোট, হালকা, আর সাধারণ পার্সেলে যায়। অনেকে পুরো সাইকেলের আগে এগুলো দিয়ে শুরু করেন, কাস্টমারের একটা লিস্ট বানান, তারপর সেই লিস্টে সাইকেল বেচেন।

সাইকেল পাইকারি আর পার্টস কোথায় পাবেন
ঢাকায় সাইকেল পাইকারি বলতে প্রথমে আসে পুরান ঢাকার বংশালের নাম। AFP-র জুন ২০২০-এর একটা রিপোর্ট, যেটা Al Jazeera ছেপেছিল, বলছে বংশালের সাইকেল বাজারে প্রায় ১৫০টা বিশেষ দোকান। Dhaka Tribune-এর একটা লেখায় আছে, দেশের নানা জেলার খুচরা দোকানি আর পাইকার বংশাল থেকে সাইকেল আর পার্টস নিয়ে যান, আর এখানকার ছোট অ্যাসেম্বলাররা অনেকে বিদেশি পার্টস দিয়ে সাইকেল জোড়া লাগান। এই সংখ্যাগুলো পুরনো, তাই এখনকার অবস্থা নিজে গিয়ে দেখবেন।
যাওয়ার দিনটা আগে মিলিয়ে নিন। desh.tv-র ২ অক্টোবর ২০২৬-এর শুক্রবারের বন্ধ মার্কেটের লিস্টে বংশালের নাম আছে। অন্য শহরের পাইকারি বাজার আর সাপ্লায়ার যাচাইয়ের প্রশ্নগুলো পাইকারি মার্কেটের পুরো লিস্টে পাবেন। বংশালে প্রথম দিন কিছু কিনবেন না। তিন-চারটা দোকানে একই সাইজের সাইকেলের দাম জিজ্ঞেস করুন, বলুন কয়টা নেবেন, কার্ড নিন। পাইকারি দাম শুনতে হলে শুরুতেই সংখ্যাটা বলতে হয়, নইলে খুচরা দামটাই শুনবেন।
কেনার সময় চারটা জিনিস হাতে ধরে দেখুন। ফ্রেমের জোড়ায় ঝালাইয়ের দাগ পরিষ্কার কি না, রঙে ফাটল বা ফোসকা আছে কি না। চাকা ঘুরিয়ে দেখুন সোজা ঘোরে, নাকি দুলে দুলে। ব্রেক চেপে দেখুন চাকা থামে কি না। আর জিজ্ঞেস করুন কার্টন সাথে দেবেন কি না, কারণ কোম্পানির আসল কার্টন পেলে প্যাকিংয়ের অর্ধেক কাজ শেষ।
একটা সরকারি নিয়মের কথাও বলে রাখি। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর BSTI-র বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের তালিকায় সাইকেল নিজে নেই। কিন্তু ৩১৫টা জিনিসের তালিকায় "Bicycle Tyres and Rims, Part 2, Rims" আছে, মান BDS ISO 5775-2:2024। আর সাইকেলের হেলমেট তালিকায় নেই, আছে স্কুটার আর মোটরসাইকেলের হেলমেট। রিম আলাদা করে বেচতে চাইলে পাইকারের কাছ থেকে কাগজের কথা জেনে নিন।
বয়স ধরে বাচ্চাদের সাইকেলের সাইজ
বাচ্চাদের সাইকেলের সাইজ বলা হয় চাকার মাপে, ইঞ্চিতে। ১২ ইঞ্চি, ১৬ ইঞ্চি, ২০ ইঞ্চি, ২৪ ইঞ্চি। আর ভুল সাইজ এই ব্যবসায় ফেরতের একটা বড় কারণ। বড় সাইজ নিলে বাচ্চার পা মাটিতে পৌঁছায় না, পড়ে যায়, বাবা-মা ভয় পান। ছোট নিলে হাঁটু হ্যান্ডেলে লাগে, তিন মাসেই আর চলে না।
মোটামুটি একটা আন্দাজ এমন, আর এটা শুধু শুরু করার জন্য। দুই থেকে চার বছরের জন্য ১২ ইঞ্চি, সাধারণত সাপোর্ট চাকাসহ। চার থেকে ছয় বছরে ১৬ ইঞ্চি। ছয় থেকে নয় বছরে ২০ ইঞ্চি। নয় থেকে বারো বছরে ২৪ ইঞ্চি। এর ওপরে বড়দের ২৬ বা ২৭.৫ ইঞ্চির সাইকেল। কিন্তু একই বয়সের দুটো বাচ্চার উচ্চতায় অনেক তফাত থাকে, তাই কোম্পানির বক্সে বা ক্যাটালগে উচ্চতার চার্ট থাকলে সেটাই মানুন।

তাই কনফার্ম কলে বয়সের সাথে একটা প্রশ্ন যোগ করুন, "বাবুর উচ্চতা কত, ফিতা দিয়ে একবার মেপে বলবেন?" অনেক বাবা-মা তখনই মাপেন, আর পাঁচ মিনিটে ভুল সাইজের ফেরত বাঁচে। দোটানায় থাকলে বলুন ছোট সাইজটা নিতে, সাপোর্ট চাকাসহ, কারণ ভয় পাওয়া বাচ্চা বড় সাইকেলে আর চড়তেই চায় না। প্রোডাক্ট পেজে চাকার মাপকে আলাদা অপশন বানান, আর প্রতিটা সাইজের পাশে বয়সের আন্দাজ লিখে দিন।
অর্ধেক ফিট করে পাঠানো, কুরিয়ারের খরচ (উদাহরণ)
পুরো ফিট করা সাইকেল ই-কমার্স কুরিয়ারের সাধারণ পার্সেলে সাধারণত যায় না। তাই সাইকেল যায় অর্ধেক ফিট করা অবস্থায়, কার্টনে। হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে ফ্রেমের সমান করে দিন, প্যাডেল দুটো খুলে নিন, সিট নামিয়ে দিন বা খুলে নিন, আর সামনের চাকা দরকার হলে খুলে ফ্রেমের পাশে বাঁধুন। এতে কার্টনের আকার অনেকটা ছোট হয়। খোলা প্যাডেল, স্ক্রু আর ছোট পার্টস একটা জিপ ব্যাগে ভরে গায়ে লিখে দিন "প্যাডেল, বাম আর ডান", তারপর ব্যাগটা ফ্রেমের সাথে টেপ দিয়ে আটকে দিন।

এবার কুরিয়ারের সীমা। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Paperfly-র ওয়েবসাইটের প্রথম পেজে লেখা আছে তারা ৮ কেজি পর্যন্ত পার্সেল নেয়, আর ওদের শর্তের পেজে সীমাটা আরও কম, ৫ কেজি। দুই হিসাবেই কার্টনসহ বেশিরভাগ সাইকেল সেখানে যাবে না। Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে ওজনের ঘরে ৬০০ কেজি পর্যন্ত বসানো যায়, কিন্তু সেখানেই লেখা আছে পার্সেলের সাইজে ডেলিভারি চার্জ বদলাতে পারে। মানে বড় কার্টনে চার্জ ক্যালকুলেটরের অঙ্কের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই প্রথম সাইকেল পাঠানোর আগে কুরিয়ারের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারকে কার্টনের লম্বা, চওড়া, উঁচু আর ওজন লিখে পাঠান, আর লিখিত উত্তর নিন। ভারী পার্সেলে কুরিয়ার কীভাবে চার্জ করে, ভলিউমেট্রিক ওজন কী, আর কুরিয়ার না নিলে ভ্যান বা ট্রেনে কীভাবে পাঠাবেন, সেটা ভারী পার্সেলের লেখায় পুরো আছে।
উদাহরণ। কুরিয়ারের চার্জ ছাড়া বাকি দাম ধরে নেওয়া। ধরুন ১৬ ইঞ্চির একটা বাচ্চাদের সাইকেল পাইকারি কিনলেন ৪,২০০ টাকায়, বেচবেন ৬,৫০০ টাকায়। কার্টন, ফোম আর টেপ মিলিয়ে প্যাকিং ২৫০ টাকা। প্যাক করার পর ওজন হলো ১২ কেজি। ১২ অক্টোবর Steadfast-এর ক্যালকুলেটরে ঢাকা সিটি থেকে ১২ কেজির চার্জ এমন দেখিয়েছে।
| কোথায় | হোম ডেলিভারি | কাস্টমার পয়েন্ট থেকে নিলে |
|---|---|---|
| ঢাকার ভেতরে | ২৮০ টাকা | ২২৫ টাকা |
| ঢাকা থেকে রংপুর | ৩৩৫ টাকা | ২৫০ টাকা |
এর ওপর ১% COD চার্জ, যেটা ক্যালকুলেটরের হিসাবে ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে বাকি টাকার ওপর কাটে। ধরুন রংপুরের কাস্টমার সাইকেলের দাম আর ডেলিভারি চার্জ দুটোই দেবেন। তাহলে আপনার হাতে থাকে ৬,৫০০ − ৪,২০০ (কেনা) − ২৫০ (প্যাকিং) − ৩০০ (প্রতি ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে অ্যাড, ধরে নেওয়া) − ৬৫ (COD) − ১৫০ (ফেরত আর ভাঙার ঝুঁকির জন্য রাখা, ধরে নেওয়া) = ১,৫৩৫ টাকা।
টেবিলের ডান কলামটা ভালো করে দেখুন। ভারী পার্সেলে পয়েন্ট ডেলিভারিতে চার্জ অনেক কমে, রংপুরে ৮৫ টাকা কম। যে কাস্টমার উপজেলা সদরে থাকেন আর নিজে গিয়ে নিতে পারেন, তাঁকে এটা বলতে পারেন। কিন্তু একটা বড় সাইকেলের কার্টন হাব থেকে বাসায় নেওয়ার ঝামেলাও তাঁর, সেটা কলেই বলে নিন। পয়েন্ট ডেলিভারি কীভাবে কাজ করে, কখন রিটার্ন বাড়ায়, সেটা পয়েন্ট ডেলিভারি আর কুরিয়ার হাবের লেখায় আলাদা করে আছে।
বাড়িতে জোড়া লাগানো, ভিডিও আর মেকানিক
অর্ধেক ফিট করা সাইকেল পেয়ে কাস্টমারের প্রথম অনুভূতি হয় ভয়, "এটা আমি লাগাব কীভাবে?" এই ভয়টা দূর করতে পারলেই রিভিউ ভালো আসে। প্রতিটা মডেলের জন্য একবার একটা জোড়া লাগানোর ভিডিও বানান। কার্টন খোলা থেকে শুরু, হ্যান্ডেল সোজা করা, প্যাডেল লাগানো, সিট বসানো, তারপর ব্রেক চেপে দেখা। এডিট লাগবে না, ফোনে এক টেকে তুলুন, শুধু ক্যামেরা স্থির রাখুন।

প্যাডেল নিয়ে একটা কথা ভিডিওতে আর কার্টনের ভেতরের কাগজে আলাদা করে বলুন। ডান প্যাডেল লাগে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরিয়ে, আর বাম প্যাডেল লাগে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে। এটা না জেনে অনেকে জোর করে প্যাঁচ নষ্ট করে ফেলেন, তারপর ফোন করেন সাইকেলটা খারাপ। প্যাডেলের গায়ে L আর R লেখা থাকে, কাগজে ছবি দিয়ে দেখিয়ে দিন।
ব্রেক আর গিয়ার ঠিক করা একটু হাতের কাজ। কাস্টমারকে সৎভাবে বলুন, "প্যাডেল আর সিট আপনি নিজেই পারবেন, ব্রেকটা একবার পাড়ার সাইকেলের দোকানে টাইট করিয়ে নিলে ভালো।" প্রায় সব বাজারে সাইকেল মেকানিক আছেন, আর এই কাজে খরচ সামান্য। বড় শহরে নিজের চেনা কোনো মেকানিক থাকলে তাঁর নম্বর দিতে পারেন, কিন্তু তিনি গিয়ে লাগিয়ে দেবেন, এমন কথা দেবেন না যদি নিশ্চয়তা না থাকে।
WinningSeller-এ প্রোডাক্টের ফর্মে "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে জোড়া লাগানোর ভিডিওর লিংক দিলে অর্ডার বাটনের নিচে "এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন" বাটন আসে, কাস্টমার কেনার আগেই দেখে নেন কাজটা কতটুকু। চাকার মাপ আর রংকে আলাদা অপশন বানালে দোকানের "সাইজ" আর "রং" ফিল্টারে কাস্টমার নিজের সাইজ বেছে নিতে পারেন, আর প্রতিটা রঙে আলাদা ছবি জুড়ে দেওয়া যায়। সেটিংসের "ডেলিভারি চার্জ"-এ নিজের এলাকা আর চার্জ লিখে রাখা যায়, যেমন "ঢাকার ভেতরে" আর "ঢাকার বাইরে", তাই ভারী জিনিসের চার্জ কাস্টমার অর্ডারের আগেই দেখেন। কোন কাজ কোন স্ক্রিনে হয়, ফিচারের পেজে একসাথে পাবেন।
ওয়ারেন্টি আর ফেরতের কথা
সাইকেলে ওয়ারেন্টির কথা আগে থেকে পরিষ্কার না থাকলে পরে তর্ক হয়। ফ্রেম, ব্রেক, টায়ার, চেইন, প্যাডেল, সবগুলোর জীবন আলাদা। টায়ার আর ব্রেকের রাবার ক্ষয় হয়, চেইনে তেল না দিলে মরচে ধরে, আর এগুলোতে ওয়ারেন্টি দেওয়া মানে নিজের ঘাড়ে বোঝা নেওয়া। কোম্পানি বা পাইকার যদি ফ্রেমে ওয়ারেন্টি দেন, সেটা লিখিত নিন, আর ঠিক ততটুকুই কাস্টমারকে দিন। ওয়ারেন্টি আর গ্যারান্টির পার্থক্য আর কাগজে কী লিখবেন, সেটা ওয়ারেন্টি আর গ্যারান্টির লেখায় আছে।
ফেরত নিয়ে বাস্তব কথাটা হলো, বড় কার্টনের একটা সাইকেল ফেরত এলে যাওয়ার চার্জ, ফেরতের চার্জ আর কার্টনের খরচ মিলিয়ে বড় টাকা যায়। আর ফেরতের পথে আবার ঘষা লাগে। তাই ফেরতের সংখ্যা কমানোর কাজটা পাঠানোর আগেই করতে হয়। সাইজ নিয়ে কলে কথা, জোড়া লাগানোর ভিডিও আগেই পাঠানো, আর রাইডারের সামনে কার্টন খুলে ফ্রেম আর চাকা দেখে নিতে বলা।
ঢাকার বাইরের বড় অর্ডারে অনেক সেলার অন্তত ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নেন। এতে যিনি শুধু দেখার জন্য অর্ডার দেন, তিনি আর দেন না। WinningSeller-এ অর্ডার ফর্মে শুধু ডেলিভারি চার্জ বা অগ্রিম নেওয়ার অপশন আছে, bKash বা SSLCommerz-এ, তবে এটা নিজে চালু করে নিতে হয়।
কোন মাসে বেশি চলে
বাচ্চাদের সাইকেলের সবচেয়ে বড় মৌসুম দুই ঈদ। ঈদের সালামির টাকা আর উপহার মিলিয়ে অনেক বাবা-মা এই সময়েই কেনেন। দ্বিতীয় সময়টা বছরের শেষে, বার্ষিক পরীক্ষার ফল আর শীতের ছুটিতে। বড়দের সাইকেলে সাধারণত শীতের শুকনো মাসগুলোতে চাহিদা ভালো থাকে, বর্ষায় কমে।
ঈদের সময় একটা জিনিস মাথায় রাখুন। ঈদের আগের সপ্তাহে কুরিয়ারের হাবে পার্সেলের ভিড় সবচেয়ে বেশি, আর বড় কার্টন তখন সবার আগে পিছিয়ে পড়ে। ভিড়ের দিনে কোনো কোনো হাব বড় কার্টন নিতে গড়িমসিও করতে পারে। তাই ঈদের সাইকেলের অর্ডার ঈদের অন্তত দশ দিন আগে বন্ধ করুন, আর ক্যাপশনে লিখে দিন "ঈদের আগে পেতে চাইলে অমুক তারিখের মধ্যে অর্ডার করুন।" দেরিতে পৌঁছানো ঈদের উপহার প্রায়ই ফেরত আসে।

কখন সাইকেল অনলাইনে বেচবেন না
যদি আপনার এলাকার কুরিয়ার বড় কার্টন নিতে রাজি না হয়, তাহলে অ্যাড চালানোর আগে থামুন। আগে অন্তত একটা কুরিয়ার বা পরিবহনের পথ ঠিক করুন, লিখিত উত্তরসহ। দশটা অর্ডার জমে যাওয়ার পর হাব থেকে "এত বড় নেব না" শোনা সবচেয়ে খারাপ অবস্থা।
দামি গিয়ারওয়ালা বা খেলার সাইকেলও অনলাইনে শুরু করার জায়গা না। এই কাস্টমার ফ্রেমের মাপ, ওজন আর পার্টসের ব্র্যান্ড নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেন, চড়ে দেখতে চান, আর ছোট কোনো গোলমালে পুরো টাকা ফেরত চান। আর যদি জোড়া লাগানোর কাজটা নিজে একবারও না করে থাকেন, তাহলেও না। নিজে অন্তত পাঁচটা সাইকেল খুলে আবার লাগান, তারপর কাস্টমারকে শেখাতে পারবেন। আমার নিয়ম সোজা, যে কাজ নিজে হাতে করেননি, সেটা কাস্টমারকে করতে বলবেন না।
আজই করে ফেলুন
- বাচ্চাদের কোন দুটো সাইজ দিয়ে শুরু করবেন, ঠিক করুন, আর প্রতিটার পাশে বয়সের আন্দাজ লিখুন।
- নিজের কুরিয়ারের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারকে মেসেজ দিন, একটা সাইকেলের কার্টন কত মাপ আর কত কেজি পর্যন্ত নেবেন, আর লিখিত উত্তর চান।
- Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে নিজের এলাকা থেকে তিনটা জেলায় ১০ আর ১৫ কেজির চার্জ দেখে খাতায় তুলুন, হোম আর পয়েন্ট দুটোই।
- ওপরের উদাহরণটা নিজের কেনা দাম, প্যাকিং আর অ্যাডের খরচ দিয়ে আবার কষুন।
- বংশালে যাওয়ার দিন ঠিক করুন, শুক্রবার বাদে, আর প্রথম দিন শুধু দাম জানবেন।
- কনফার্ম কলের স্ক্রিপ্টে একটা লাইন যোগ করুন, "বাবুর উচ্চতা কত, একবার মেপে বলবেন?"
সাধারণ প্রশ্ন
সাইকেলের পাইকারি বাজার কোথায়?
ঢাকায় সবচেয়ে পরিচিত জায়গা পুরান ঢাকার বংশাল। AFP-র জুন ২০২০-এর একটা রিপোর্টে বংশালের সাইকেল বাজারে প্রায় ১৫০টা বিশেষ দোকানের কথা আছে, আর Dhaka Tribune-এর লেখায় আছে জেলার খুচরা দোকানিরাও এখান থেকে সাইকেল আর পার্টস নিয়ে যান। desh.tv-র ২ অক্টোবর ২০২৬-এর লিস্টে বংশাল শুক্রবার বন্ধ।
সাইকেল কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?
যায়, তবে সব কুরিয়ারে না আর পুরো ফিট করা অবস্থায় না। Paperfly-র ওয়েবসাইটে লেখা তারা ৮ কেজি পর্যন্ত পার্সেল নেয় (শর্তের পেজে ৫ কেজি), তাই বেশিরভাগ সাইকেল সেখানে যাবে না। Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে ভারী ওজন বসানো যায়, তবে সেখানেই লেখা পার্সেলের সাইজে চার্জ বদলাতে পারে। পাঠানোর আগে নিজের কুরিয়ারকে কার্টনের মাপ আর ওজন বলে লিখিত উত্তর নিন।
বাচ্চাদের সাইকেলের সাইজ কীভাবে বুঝব?
বাচ্চাদের সাইকেলের সাইজ চাকার মাপ ইঞ্চিতে, যেমন ১২, ১৬, ২০ বা ২৪ ইঞ্চি। মোটামুটি আন্দাজ হলো দুই থেকে চার বছরে ১২, চার থেকে ছয়ে ১৬, ছয় থেকে নয়ে ২০, আর নয় থেকে বারোতে ২৪ ইঞ্চি। তবে বয়সের চেয়ে বাচ্চার উচ্চতা বেশি জরুরি, তাই কনফার্ম কলে উচ্চতা জিজ্ঞেস করুন আর কোম্পানির নিজের চার্ট মিলিয়ে নিন।
সাইকেল বিক্রি করতে কি BSTI লাগে?
২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর BSTI-র বাধ্যতামূলক তালিকায় সাইকেল নিজে নেই। ৩১৫টা জিনিসের তালিকায় সাইকেলের রিম আছে, "Bicycle Tyres and Rims, Part 2, Rims", মান BDS ISO 5775-2:2024। আপনি রিম আলাদা বেচলে বা নিজে সাইকেল বানালে BSTI-কে জিজ্ঞেস করে নিন।
অনলাইনে সাইকেল কিনে নিজে কি জোড়া লাগানো যায়?
অর্ধেক ফিট করা সাইকেলে সাধারণত হ্যান্ডেল সোজা করা, প্যাডেল লাগানো আর সিট বসানো বাকি থাকে, যেটা একটা রেঞ্চ দিয়ে বাসাতেই হয়। ব্রেক আর গিয়ার ঠিক করা একটু ঝামেলার, তাই কাস্টমারকে জোড়া লাগানোর ভিডিও দিন, আর বলে দিন দরকার হলে পাড়ার সাইকেল মেকানিককে একবার দেখিয়ে নিতে।
সাইকেলে ওয়ারেন্টি কীভাবে লিখব?
যা দেবেন ঠিক সেটাই লিখিত দিন, কোন অংশে কত দিন আর কোন অবস্থায় দেবেন না। ফ্রেম, ব্রেক, টায়ার আর চেইনের কথা আলাদা করে লিখুন, কারণ টায়ার আর ব্রেকের রাবার ক্ষয় হওয়া জিনিস। ওয়ারেন্টি আর গ্যারান্টির পার্থক্য আর লেখার নিয়ম ওয়ারেন্টির আলাদা লেখায় আছে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


