WinningSeller
অর্ডার ও কুরিয়ার১৩ মিনিটে পড়া যায়

পার্সেল হোল্ড বা পার্শিয়াল ডেলিভারি মানে কি? টাকা না হারাতে যা করবেন

প্যানেলে Hold, Partial Delivered বা Return লেখা দেখে বুঝতে পারছেন না টাকা আসবে কি না, মাল কোথায়? প্রতিটা কুরিয়ার স্ট্যাটাসের মানে, সেদিন আপনার কাজ, আর স্টক ও হিসাব ঠিক রাখার নিয়ম, টাকার উদাহরণসহ।

পার্সেল হোল্ড বা পার্শিয়াল ডেলিভারি মানে কি? টাকা না হারাতে যা করবেন
এই লেখায় যা আছে
  1. কুরিয়ারের স্ট্যাটাসগুলো কী কী, এক নজরে
  2. পার্সেল হোল্ড মানে কি, হোল্ডে গেলে কী করবেন?
  3. পার্শিয়াল ডেলিভারি কি, টাকা আর মাল কোথায় যায়?
  4. রিটার্ন ইন ট্রানজিট মানে কি, মাল কবে হাতে পাবেন?
  5. পিকআপের আগে বাতিল আর পরে বাতিল, পার্থক্য কেন জরুরি?
  6. ভুল করে রিটার্ন দেখালে কী করবেন?
  7. ৩০ দিনের বেশি আটকে থাকা পার্সেল খুঁজবেন যেভাবে
  8. স্ট্যাটাস ধরে স্টক আর হিসাব ঠিক রাখবেন যেভাবে

হোল্ড পার্সেল মানে কুরিয়ার পার্সেলটা ডেলিভারি দিতে পারেনি, কিন্তু ফেরতও পাঠায়নি। রাইডার কাস্টমারকে ফোনে পাননি, বা কাস্টমার অন্য দিন নিতে চেয়েছেন, তাই পার্সেলটা হাবে আটকে আছে। পার্শিয়াল ডেলিভারি মানে কাস্টমার পার্সেলের কিছু জিনিস রেখেছেন, বাকিটা ফেরত দিয়েছেন, আর টাকা দিয়েছেন শুধু রাখা জিনিসের। আর রিটার্ন মানে এই পার্সেলের ডেলিভারি আর হবে না, মালটা আপনার দিকে ফিরছে। তিনটা স্ট্যাটাসেই আপনার একটা কাজ আছে, আর কাজটা সেদিনই করতে হয়। হোল্ডে একটা ফোন পুরো বিক্রিটা বাঁচাতে পারে। পার্শিয়াল আর রিটার্নে খাতা ঠিক না করলে মাস শেষে কুরিয়ারের টাকার সাথে আপনার হিসাব মেলে না।

ধরুন সকালে চা হাতে কুরিয়ারের প্যানেল খুললেন। গতকালের পাঁচটা পার্সেলের দুটোর পাশে লেখা Hold, একটার পাশে Partial Delivered। টাকা আসবে কি না, মাল কোথায় আছে, স্টকে তুলবেন কি না, কিছুই পরিষ্কার না। অ্যাডে টাকা দিয়ে অর্ডার আনলেন, ফোনে কনফার্ম করলেন, রাত জেগে প্যাক করলেন, আর এখন একটা ইংরেজি শব্দের সামনে বসে আছেন। এই অস্বস্তিটা প্রায় প্রতিটা COD সেলারের চেনা। নিচে আগে সব স্ট্যাটাসের মানে আর সেদিনের কাজ একটা টেবিলে দিলাম, তারপর ঝামেলার স্ট্যাটাসগুলো একটা একটা করে খুলে বলছি।

কুরিয়ারের স্ট্যাটাসগুলো কী কী, এক নজরে

প্রতিটা কুরিয়ার স্ট্যাটাসের নাম নিজের মতো করে রাখে। Steadfast এক নাম লেখে, Pathao আরেক নাম, RedX আবার অন্যভাবে। কিন্তু পার্সেলের যাত্রাটা সবার কাছে একই। আপনি এন্ট্রি দেন, রাইডার পিকআপ করেন, পার্সেল হাব হয়ে কাস্টমারের এলাকায় যায়, তারপর হয় ডেলিভারি হয়, নয়তো আপনার কাছে ফেরত আসে। এই যাত্রাটা মাথায় রাখলে যেকোনো কুরিয়ারের যেকোনো শব্দ কোন ধাপের কথা বলছে, সেটা ধরতে পারবেন।

স্ট্যাটাস (যে নামে দেখতে পারেন) মানে সেদিন আপনার কাজ
পিকআপের অপেক্ষায় (Pickup Requested, In Review) এন্ট্রি হয়েছে, রাইডার এখনো মাল নেননি প্যাকেট রেডি রাখুন, পিকআপ রিকোয়েস্ট গেছে কি না দেখুন
পিকআপ হয়েছে (Picked) মাল এখন কুরিয়ারের হাতে কাস্টমারকে জানিয়ে দিন পার্সেল রওনা দিয়েছে
পথে আছে (In Transit, At Hub) পার্সেল হাব থেকে হাবে যাচ্ছে কিছু করার নেই, শুধু দিন গুনুন
হোল্ড (Hold, Delivery Failed) ডেলিভারি হয়নি, ফেরতও যায়নি সেদিনই কাস্টমারকে ফোন দিন
ডেলিভারড (Delivered) কাস্টমার নিয়েছেন, টাকা দিয়েছেন বিক্রি হিসেবে লিখুন
পার্শিয়াল ডেলিভারি (Partial Delivered) কিছু জিনিস রেখেছেন, বাকিটা ফেরত কত টাকা উঠল লিখুন, ফেরত জিনিসের খোঁজ রাখুন
রিটার্ন ইন ট্রানজিট (Returning) ডেলিভারি আর হবে না, পার্সেল ফেরার পথে ফেরতের কারণ জেনে লিখে রাখুন
রিটার্নড (Returned) পার্সেল আপনার কাছে ফেরত এসেছে খুলে মিলিয়ে তারপর স্টকে তুলুন
বাতিল (Cancelled) পিকআপের আগে না পরে, সেটা দেখতে হবে নিচের আলাদা অংশটা পড়ুন

টেবিলের নামগুলো উদাহরণ, আপনার প্যানেলে একটু অন্যরকম লেখা থাকতে পারে। Steadfast-এর একটা শব্দ দেখে অনেক সেলার ঘাবড়ে যান, সেটা আলাদা করে বলি। Steadfast নিজেদের GitHub-এ API-র যে স্ট্যাটাস লিস্ট পাবলিশ করেছে, সেখানে নতুন এন্ট্রির নাম in_review, মানে অর্ডারটা ওদের রিভিউতে আছে। রিভিউ পার হলে স্ট্যাটাস হয় pending, যার মানে পার্সেলটা এখনো ডেলিভারি বা বাতিল হয়নি, কাজ চলছে। তাই pending দেখে "পার্সেল আটকে গেছে" ভেবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রাইডার মাল নিয়ে গেছেন কি না জানতে চাইলে পার্সেলের টাইমলাইন খুলে দেখুন।

একই লিস্টে চারটা স্ট্যাটাস আছে যাদের শেষে approval pending লেখা। যেমন delivered_approval_pending মানে রাইডার ডেলিভারি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন, কিন্তু Steadfast এখনো সেটা ফাইনাল করেনি। আপনার ব্যালান্স আপডেট হয় তখন, যখন approval pending কথাটা সরে গিয়ে শুধু delivered, partial_delivered বা cancelled লেখা আসে। তাই approval pending দেখেই টাকাটা হাতে এসেছে ধরে নিয়ে খরচের প্ল্যান করবেন না।

পার্সেল হোল্ড মানে কি, হোল্ডে গেলে কী করবেন?

হোল্ডের কারণ বেশিরভাগ সময় খুব সাধারণ। রাইডার ফোন দিয়েছিলেন, কাস্টমার তখন অফিসের মিটিংয়ে বা নামাজে ছিলেন। কেউ বলেছেন "আজ বাসায় নেই, পরশু দিয়েন"। কোথাও ঠিকানা আধা লেখা ছিল, রাইডার বাড়িটা খুঁজে পাননি। আবার কিছু কাস্টমার মন বদলে ফেলেছেন, কিন্তু সরাসরি না বলতে পারছেন না, তাই ফোন ধরছেন না। কোনো কোনো কুরিয়ার একই অবস্থাকে Delivery Failed নামে দেখায়, কাজ একই।

একটা জিনিস গুলিয়ে ফেলবেন না। কুরিয়ারের হোল্ড আর আপনার নিজের অর্ডার হোল্ড আলাদা। কনফার্মের ফোন না ধরায় আপনি যে অর্ডারটা পাঠানো আটকে রাখেন, সেটা আপনার হোল্ড, মাল তখনো আপনার তাকে। সেটা কখন রাখবেন আর কখন বাতিল করবেন, তা কাস্টমার ফোন রিসিভ না করলে কী করবেন লেখায় আছে। এখানে কথা হচ্ছে সেই পার্সেলের, যেটা আগেই কুরিয়ারের হাতে চলে গেছে, রাস্তায় আছে।

কুরিয়ার হোল্ডের পার্সেল অনন্তকাল রাখে না। Pathao-র হেল্প সেন্টারে লেখা আছে, জিনিস নষ্ট হওয়ার ভয়ে ওরা সর্বোচ্চ ৩ দিন পার্সেল ধরে রাখতে পারে। এর বেশি সময় দরকার হলে প্যানেলের Deliveries থেকে পার্সেলে গিয়ে More, তারপর Report Issue দিয়ে জানাতে হয়। অন্য কুরিয়ারের নিয়ম আলাদা হতে পারে, তাই নিজের কুরিয়ারের সাপোর্ট থেকে একবার জেনে খাতায় লিখে রাখুন। সময় পেরিয়ে গেলে পার্সেল নিজে থেকেই ফেরতের পথে চলে যায়।

এবার টাকার দিকটা দেখুন। সংখ্যাগুলো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন আপনি ৯৫০ টাকার এক কেজি মধু পাঠিয়েছেন। অর্ডারটা আনতে অ্যাডে গেছে ১৮০ টাকা। পার্সেলটা হোল্ড থেকে ফেরত এলে কুরিয়ারের চার্জ ধরুন ১৩০ টাকা, আর নষ্ট বোতল-প্যাকেট ২৫ টাকা। মানে ৩৩৫ টাকা পুরোটাই জলে গেল, বিক্রিও হলো না। অথচ এটা বাঁচাতে পারত তিন মিনিটের একটা ফোন। দিনে দুই-তিনটা হোল্ড বাঁচাতে পারলে মাস শেষে কয়েক হাজার টাকা বাঁচে, আর রাতে ঘুমটাও ভালো হয়।

একজন তরুণ সেলার এক হাতে মোবাইলে কাস্টমারের সাথে কথা বলছেন, অন্য হাতে ল্যাপটপে কুরিয়ারের প্যানেলে একটা হোল্ড পার্সেলের লাইন দেখছেন
হোল্ডের খবর পেলে সেদিনই কাস্টমারকে ফোন। একটা ফোনে পুরো বিক্রিটা বাঁচতে পারে

ফোনে কী বলবেন, সেটা ছোট রাখুন। "আসসালামু আলাইকুম ভাই, আমি [দোকানের নাম] থেকে বলছি। আপনার মধুর পার্সেলটা আজ নিয়ে গিয়েছিল, আপনাকে ফোনে পায়নি। কাল কখন বাসায় থাকবেন বললে আমি কুরিয়ারকে ওই সময়ে আবার দিতে বলে দিই।" কাস্টমার যে সময় বলেন, সেটা লিখে রাখুন, তারপর প্যানেলের অপশন বা সাপোর্ট দিয়ে কুরিয়ারকে জানান। দোষ কারও ঘাড়ে চাপাবেন না। "আপনি ফোন ধরেননি কেন" বললে কাস্টমার রেগে যান, আর রাগ থেকে মানুষ পার্সেল ফেরত দেন।

একটা সহজ নিয়ম রাখতে পারেন, এটা আমাদের মাপা নিয়ম না, শুধু শুরু করার মতো একটা অভ্যাস। হোল্ডের খবর পেলে দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ফোন দিন। না ধরলে একটা SMS রেখে বিকেলে আবার ফোন দিন। কাস্টমার যে নতুন দিন বলেন, সেটা কুরিয়ারের ধরে রাখার সময়ের মধ্যে পড়লে আবার ডেলিভারি করান। অনেক দূরের দিন বললে পার্সেল ফেরত আনুন, পরে নতুন করে পাঠান। আর পরিষ্কার "নেব না" শুনলে ধরে রাখবেন না, ফেরত আনুন, কারণ যত দিন পার্সেল রাস্তায় থাকে তত দিন সেই মাল অন্য কাস্টমারের কাছে বেচতে পারছেন না।

পার্শিয়াল ডেলিভারি কি, টাকা আর মাল কোথায় যায়?

পার্শিয়াল ডেলিভারি হয় যখন একটা পার্সেলে একাধিক জিনিস থাকে। কাস্টমার দরজায় খুলে দেখলেন, একটা পছন্দ হলো, আরেকটা হলো না। তিনি পছন্দেরটা রেখে বাকিটা রাইডারকে ফিরিয়ে দিলেন। Pathao-র হেল্প সেন্টারে লেখা আছে, কাস্টমার এভাবে কিছু অংশ নিতে চাইলে রাইডার মার্চেন্টকে ফোন দিয়ে জানান। Steadfast-এর টার্মসে লেখা, একই পার্সেল আইডিতে কয়েকটা জিনিস থাকলে আর কাস্টমার তার কিছু নিলে প্যানেলে Partially Delivered দেখায়, তবে সেটা বসে শুধু মার্চেন্ট অ্যাপ্রুভ করলে।

টাকাটা কোথায় যায়, একটা উদাহরণে দেখুন। সংখ্যাগুলো উদাহরণ। কাস্টমার দুইটা থ্রি-পিস অর্ডার করেছিলেন, প্রতিটা ১,১০০ টাকা, সাথে ডেলিভারি চার্জ ১৩০ টাকা। মোট পাওনা ২,৩৩০ টাকা। দরজায় তিনি একটা রাখলেন, একটা ফেরত দিলেন। রাইডার তুললেন ১,১০০ আর ১৩০, মোট ১,২৩০ টাকা। কুরিয়ারের পেমেন্টে আপনি পাবেন এই ১,২৩০ টাকা থেকে তাদের চার্জ কেটে যা থাকে, ২,৩৩০ টাকার হিসাব থেকে না।

আর দ্বিতীয় থ্রি-পিসটা? সেটা ফেরত পার্সেলের মতোই আপনার কাছে ফিরে আসে, আর ফেরতের নিয়ম ও চার্জও সেভাবেই ধরে। Pathao-র কুরিয়ার পেজে লেখা আছে, ঢাকা মেট্রোর ভেতরে সাধারণ ফেরতে রিটার্ন চার্জ না থাকলেও পার্শিয়াল আর এক্সচেঞ্জ ডেলিভারিতে সেখানেও রিটার্ন চার্জ লাগে। কোন কুরিয়ার ফেরতে কত কাটে, সেটা কোন কুরিয়ার ভালো, সেই তুলনায় চার্জসহ দেওয়া আছে।

এখানে সবচেয়ে বড় ভুলটা হয় খাতায়। অর্ডারটা "ডেলিভারড, ২,৩৩০ টাকা" লিখে রাখলে আপনার বিক্রি ১,১০০ টাকা বেশি দেখাবে। স্টকেও একটা থ্রি-পিস কম দেখাবে, অথচ সেটা আসলে ফেরার পথে। মাস শেষে কুরিয়ারের টাকা আর খাতার টাকা মিলবে না, আর আপনি রাত জেগে কারণ খুঁজবেন, পাবেন না। তাই পার্শিয়াল হলে দুটো জিনিস লিখুন, কত টাকা আসলে উঠল, আর কোন জিনিসটা ফেরত আসছে।

রিটার্ন ইন ট্রানজিট মানে কি, মাল কবে হাতে পাবেন?

রিটার্ন ইন ট্রানজিট মানে এই পার্সেলের ডেলিভারি আর হবে না। কাস্টমার নেননি, বা হোল্ডের সময় পেরিয়ে গেছে, তাই পার্সেলটা এখন আপনার দিকে ফেরার পথে আছে। অনেক জায়গায় এটাকে RTO বলে, মানে Return to Origin, যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরত। এই অবস্থায় বিক্রিটা আর হবে না, কিন্তু মালটাও এখনো আপনার হাতে আসেনি।

কত দিনে হাতে আসবে, সেটা দূরত্বের ওপর নির্ভর করে। ঢাকার ভেতরের পার্সেল তাড়াতাড়ি ফেরে, রংপুর বা সিলেট থেকে ফিরতে কয়েক দিন লাগে। Pathao এ নিয়ে টার্মসে কী বলেছে আর প্যানেলে ফেরত পার্সেল কোথায় দেখবেন, সেটা পাঠাও মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের লেখায় আছে। অন্য কুরিয়ারের জন্য প্রথম কয়েকটা ফেরত নিজে গুনে দেখুন, তাহলে আপনার রুটে সাধারণত কত দিন লাগে সেটা জানা হয়ে যাবে।

ফেরতের এই কয়েক দিনে তিনটা কাজ সেরে রাখুন। শুরুতে কাস্টমারকে একবার ফোন দিয়ে জেনে নিন কেন নিলেন না, আর কারণটা লিখে রাখুন। "দাম বেশি", "অন্য জায়গা থেকে নিয়েছি", "অর্ডারই করিনি", এই কারণগুলো মাসে একবার পড়লে বোঝা যায় ফেরত কোথা থেকে আসছে। এরপর মালটাকে স্টকে গুনবেন না, যতক্ষণ না হাতে পান। নইলে কেউ সেটা অর্ডার দিলে বিক্রি করে ফেলবেন, অথচ মাল তখনো রাস্তায়, আর সেই কাস্টমারকে ফোন দিয়ে দেরির কথা বলতে হবে। শেষ কাজটা পার্সেল হাতে নেওয়ার দিনের। রাইডারের সামনেই প্যাকেট খুলে মিলিয়ে নিন, তারপর সই বা কোড দিন। ভাঙা বা কম পেলে সেদিনই কুরিয়ারকে জানান, কারণ রাইডার চলে যাওয়ার পরে অভিযোগ প্রমাণ করা অনেক কঠিন।

পিকআপের আগে বাতিল আর পরে বাতিল, পার্থক্য কেন জরুরি?

প্যানেলে একই শব্দ, Cancelled, কিন্তু এর পেছনে দুটো একদম আলাদা ঘটনা থাকতে পারে। প্রথমটা পিকআপের আগে বাতিল। রাইডার মাল নিতে আসেননি, বা এন্ট্রিতে ভুল ছিল বলে বুকিংটা বাতিল হয়েছে। মাল তখনো আপনার তাকেই আছে। দ্বিতীয়টা পিকআপের পরে বাতিল। মাল কুরিয়ারের হাতে গিয়েছিল, কাস্টমার নেননি, এখন সেটা ফিরছে। এটা আসলে একটা ফেরত, শুধু নামটা আলাদা।

পার্থক্যটা টাকায় পরিষ্কার। Steadfast-এর টার্মসে লেখা আছে, যে পার্সেল ওদের হাতে দেওয়া হয়েছে, সেটা ডেলিভারি হোক বা বাতিল, ডেলিভারি চার্জ মার্চেন্টকে দিতে হবে। মানে পিকআপের পরে বাতিল হলে চার্জ কাটবে। আবার ওদের টার্মস অনুযায়ী কাস্টমার নিতে না চাইলে বা তাঁকে পাওয়া না গেলে ওরা আপনার সাথে কথা বলে প্যানেলে বাতিলের রিকোয়েস্ট দেয়, আর আপনি অ্যাপ্রুভ করলে তবেই পার্সেল ফেরত রওনা দেয়।

পিকআপের আগের বাতিলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা টাকার না, কাস্টমারের। কাস্টমার তো অর্ডার বাতিল করেননি, তিনি পার্সেলের অপেক্ষায় বসে আছেন। আপনি যদি বাতিল দেখে অর্ডারটাকেও মৃত ধরে নেন, তাহলে তিন দিন পর রাগী একটা ফোন আসবে, "ভাই, আমার জিনিস কই?" তাই পিকআপের আগে বাতিল হলে অর্ডারটা আবার কনফার্মডে ফিরিয়ে আনুন আর নতুন করে বুক করুন।

দ্বিতীয় ঝুঁকি কাস্টমারের রেকর্ডে। পিকআপের আগের বাতিলকে ফেরত হিসেবে গুনলে একজন ভালো কাস্টমারের নামের পাশে একটা মিথ্যা রিটার্ন বসে যায়। পরে হয়তো তাঁকেই অগ্রিম চাইবেন, বা ব্লক করে দেবেন, অথচ তাঁর কোনো দোষ ছিল না। কোনটা কোন বাতিল, বোঝার উপায় সহজ। পার্সেলের টাইমলাইনে দেখুন, বাতিলের আগে কোথাও Picked বা পিকআপ হয়েছে লেখা আছে কি না। থাকলে সেটা ফেরত, না থাকলে মাল কখনো বের হয়নি।

ভুল করে রিটার্ন দেখালে কী করবেন?

মাঝে মাঝে রিটার্ন লেখা থাকে, অথচ গল্পটা অন্য। কাস্টমার ফোন দিয়ে বলেন, "আমি তো নিতেই চেয়েছিলাম, কেউ আমাকে ফোনই দেয়নি।" কেউ রিটার্ন হওয়ার পরের দিন মন বদলে বলেন, "ভাই, পাঠিয়ে দেন, এবার নেব।" কখনো আবার আপনি নিজে তাড়াহুড়োয় ভুল অর্ডারে রিটার্ন লিখে ফেলেছেন। প্রতিটা ক্ষেত্রে অর্ডারটা আসলে বেঁচে আছে, শুধু খাতায় মরে গেছে।

প্রথমে কাস্টমারের সাথে কথা বলে জেনে নিন তিনি সত্যিই নেবেন কি না, আর ঠিকানা ও সময় আবার মিলিয়ে নিন। পার্সেলটা যদি এখনো কুরিয়ারের হাবে থাকে, কনসাইনমেন্ট আইডি দিয়ে সাপোর্টে জিজ্ঞেস করুন আবার ডেলিভারির চেষ্টা করানো যায় কি না। আর যদি মাল আগেই আপনার হাতে চলে এসে থাকে, তাহলে নতুন করে বুক করে পাঠান।

এরপর খাতা ঠিক করুন, এটাই সবাই ভুলে যান। ওই ভুল রিটার্নটা কাস্টমারের ফেরতের সংখ্যা থেকে বাদ দিন, নইলে পরের বার তাঁকে ঝুঁকির কাস্টমার মনে হবে। আর মালটা আবার বিক্রিতে গেছে, তাই স্টক থেকে আবার কাটুন। WinningSeller-এ রিটার্ন হওয়া অর্ডারের পেজে এর জন্য একটা বাটন আছে, "রিটার্ন ভুল ছিল: আবার পাঠান"। চাপলে অর্ডারটা আবার কনফার্মড হয়, স্টক আবার কেটে নেওয়া হয়, কাস্টমারের ফেরতের সংখ্যা নতুন করে গোনা হয়, আর পুরনো পার্সেলটা বন্ধ হয়ে যায় যাতে সাথে সাথে নতুন করে বুক করা যায়।

৩০ দিনের বেশি আটকে থাকা পার্সেল খুঁজবেন যেভাবে

কিছু পার্সেল কোনো শব্দ ছাড়াই হারিয়ে যায়। প্যানেলে সপ্তাহের পর সপ্তাহ পথে আছে বা হোল্ড লেখা থাকে, টাকা আসে না, মালও ফেরত আসে না। ব্যস্ততার মধ্যে কেউ খোঁজ নেয় না, আর যে পার্সেলের খোঁজ কেউ নেয় না, তার টাকা সহজে আসে না। দেশের ভেতরের বেশিরভাগ পার্সেল কয়েক দিনের মধ্যেই ডেলিভারড বা ফেরত হয়ে যায়। তাই সাত দিনের বেশি যেটা কুরিয়ারে পড়ে আছে, সেটা সপ্তাহে একবার দেখে নিন। আর ৩০ দিন পরেও যেটা শেষ হয়নি, ধরে নিন সেখানে কোনো গোলমাল আছে।

হাতে খোঁজার নিয়মটা এরকম। মাসে একবার আপনার অর্ডারের শিট বুকিংয়ের তারিখ দিয়ে সাজান। যেগুলো ৩০ দিনের বেশি আগে বুক করা, অথচ এখনো ডেলিভারড বা রিটার্নড হয়নি, সেগুলো আলাদা একটা লিস্টে তুলুন। প্রতিটার কনসাইনমেন্ট আইডি পাশে রাখুন। তারপর কুরিয়ারের পেমেন্ট স্টেটমেন্টের সাথে মিলিয়ে দেখুন, এর কোনোটার টাকা আসলে এসে গেছে কি না, শুধু আপনার খাতায় ওঠেনি।

যেগুলোর কোনো হিসাব মিলল না, সেগুলোর পুরো লিস্টটা একবারে কুরিয়ারের সাপোর্টে পাঠান, আলাদা আলাদা ফোনে না। লিখিত উত্তর চান, প্রতিটা পার্সেল এখন কোথায় আর কবে শেষ হবে। লিখিত থাকলে পরে কে কী বলেছিল, সেটা নিয়ে তর্ক করতে হয় না। পার্সেল হারিয়ে গেলে ক্ষতিপূরণের নিয়ম কুরিয়ার ভেদে আলাদা, আর দাবি যত পুরনো হয়, প্রমাণ করা তত কঠিন হয়। তাই মাসের লিস্টটা সেই মাসেই পাঠান, তিন মাস জমিয়ে রাখবেন না।

একজন মাঝবয়সী পুরুষ দোকানের টেবিলে বসে প্রিন্ট করা অর্ডারের লিস্টে কলম দিয়ে পুরনো পার্সেলগুলো দাগাচ্ছেন, পাশে কয়েকটা ফেরত আসা পার্সেলের প্যাকেট রাখা
মাসে একবার ৩০ দিনের পুরনো পার্সেলগুলো আলাদা করুন, তারপর পুরো লিস্টটা একবারে কুরিয়ারকে পাঠান

WinningSeller-এ এই লিস্টটা হাতে বানাতে হয় না। কুরিয়ার পেজের ওপরে "পুরনো পার্সেল" নামে একটা সংখ্যা দেখায়, মানে ৩০ দিনের বেশি আগে বুক করা যে পার্সেলগুলো কুরিয়ার এখনো শেষ করেনি। এমন পার্সেলের স্ট্যাটাস ৯০ দিন পর্যন্ত কুরিয়ার থেকে আনা হতে থাকে, তাই কোনটা নিয়ে কুরিয়ারের প্যানেলে খোঁজ নিতে হবে, সেটা এক নজরে দেখা যায়।

স্ট্যাটাস ধরে স্টক আর হিসাব ঠিক রাখবেন যেভাবে

সব কথা একটা নিয়মে আনা যায়। স্টক আর বিক্রি বদলাবে শুধু তখন, যখন মাল বা টাকা সত্যিই কারও হাত বদল করেছে। প্যানেলের প্রতিটা নড়াচড়ায় খাতা বদলাবেন না। নিচের লিস্টটা আপনার শিটের পাশে লিখে রাখতে পারেন।

  • ডেলিভারড। বিক্রি হিসেবে গুনুন, পুরো পাওনা টাকায়।
  • পার্শিয়াল ডেলিভারি। বিক্রি গুনুন শুধু যত টাকা উঠেছে, আর ফেরত জিনিসটা "ফেরার পথে" লিখুন।
  • হোল্ড, পথে আছে, রিটার্ন ইন ট্রানজিট। বিক্রিতেও তুলবেন না, স্টকেও না, কারণ মাল এখনো রাস্তায় আছে।
  • রিটার্নড। হাতে পেয়ে, খুলে, ভালো থাকলে তবেই স্টকে তুলুন। নষ্ট হলে আলাদা লিখে রাখুন।
  • পিকআপের আগে বাতিল। স্টক বদলায়নি, কারণ মাল বের হয়নি। অর্ডারটা আবার পাঠান।

এই নিয়ম মানলে কুরিয়ারের পেমেন্ট আর আপনার খাতার টাকা প্রায় মিলে যাবে। যেটুকু মিলবে না, সেটা হবে কোনো ঝুলে থাকা পার্সেল, যেটা আপনি ওপরের ৩০ দিনের লিস্টে এমনিতেই ধরবেন। হিসাবটা গোনা হবে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, নেওয়া অর্ডার থেকে না। এই একটা অভ্যাসই অনেক সেলারকে মাস শেষের ধাক্কা থেকে বাঁচায়, যখন অর্ডার দেখে মনে হয়েছিল ভালো মাস গেছে, অথচ হাতে টাকা আসেনি।

WinningSeller-এ এই কাজের বড় অংশ নিজে থেকেই হয়। Steadfast, Pathao, RedX, Paperfly, Carrybee বা eCourier, এই ছয় কুরিয়ারের যেটাতেই পাঠান, পার্সেলের স্ট্যাটাস প্রায় প্রতি ঘণ্টায় কুরিয়ার থেকে নিজে মিলিয়ে আনা হয়, আর প্রতিটা কুরিয়ারের আলাদা শব্দ একই বাংলা নামে দেখায়, যেমন পথে আছে, হোল্ড, আংশিক ডেলিভারি। ডেলিভারি হলে অর্ডার ডেলিভারড হয়, ফেরত এলে অর্ডার রিটার্ন হয়ে স্টক ফিরে যায়, আর পিকআপের আগে কুরিয়ার বাতিল করলে অর্ডারটা রিটার্ন না হয়ে আবার কনফার্মডে ফেরে। হোল্ড আর আংশিক ডেলিভারিতে অর্ডারের গায়ে একটা নোট পড়ে, যাতে ফোনটা দিতে কেউ না ভোলেন। আংশিক ডেলিভারিতে কত টাকা উঠল, সেটা "আংশিক ডেলিভারি" বাটনে লিখে দিলে রিপোর্টে শুধু সেই টাকাই বিক্রি হিসেবে ধরে। আর অর্ডারের লিস্টে "সব কুরিয়ার স্ট্যাটাস" ফিল্টারে হোল্ড সিলেক্ট করলে আজ কাকে ফোন দিতে হবে, সেই লিস্ট এক ক্লিকে চলে আসে। বাকি সুবিধাগুলো সব ফিচারের পেজে দেখতে পারেন।

তবে সফটওয়্যার থাকুক বা না থাকুক, আজ একটা কাজ করুন। কুরিয়ারের প্যানেল খুলে এখন যতগুলো পার্সেল হোল্ডে আছে, প্রতিটার কাস্টমারকে ফোন দিন। তারপর গত মাসের পার্শিয়াল ডেলিভারিগুলো খুঁজে খাতায় আসল অঙ্কটা বসান। এই দুটো কাজে এক ঘণ্টা লাগবে, কিন্তু এর মধ্যে কয়েকটা বিক্রি আর কয়েক হাজার টাকার হিসাব লুকিয়ে থাকতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন

হোল্ড পার্সেল মানে কি?

হোল্ড মানে কুরিয়ার পার্সেলটা ডেলিভারি দিতে পারেনি, কিন্তু এখনো ফেরতও পাঠায়নি। সাধারণত রাইডার কাস্টমারকে ফোনে পাননি, বা কাস্টমার অন্য দিন নিতে চেয়েছেন। সেদিনই কাস্টমারকে ফোন দিন, কারণ বেশি দিন হোল্ডে থাকা পার্সেল সাধারণত ফেরতের পথে চলে যায়।

পার্শিয়াল ডেলিভারি কি?

পার্শিয়াল ডেলিভারি মানে কাস্টমার পার্সেলের কিছু জিনিস রেখেছেন আর বাকিটা ফেরত দিয়েছেন। কুরিয়ার টাকা তোলে শুধু রাখা জিনিসের, আর বাকি জিনিস ফেরত পার্সেলের মতো আপনার কাছে ফিরে আসে। Steadfast-এর টার্মস অনুযায়ী এই স্ট্যাটাস বসাতে মার্চেন্টের অ্যাপ্রুভাল লাগে।

কুরিয়ার কত দিন পার্সেল হোল্ডে রাখে?

কুরিয়ার ভেদে আলাদা। Pathao-র হেল্প সেন্টারে লেখা আছে, ওরা সর্বোচ্চ ৩ দিন পার্সেল ধরে রাখতে পারে, এর বেশি লাগলে প্যানেলের Report Issue দিয়ে জানাতে হয়। অন্য কুরিয়ারের নিয়ম তাদের সাপোর্ট থেকে একবার জেনে লিখে রাখুন।

রিটার্ন ইন ট্রানজিট মানে কি?

রিটার্ন ইন ট্রানজিট মানে ডেলিভারি আর হবে না, পার্সেলটা এখন আপনার দিকে ফেরার পথে আছে। মাল এখনো আপনার হাতে আসেনি, তাই এটাকে স্টকে গুনবেন না। হাতে পেয়ে প্যাকেট খুলে মিলিয়ে তারপর স্টকে তুলুন।

Steadfast-এ pending মানে কি পার্সেল আটকে আছে?

না। Steadfast-এর API-র স্ট্যাটাস লিস্টে নতুন এন্ট্রির নাম in_review, আর রিভিউ পার হলে সেটা pending হয়, মানে পার্সেলটা এখনো ডেলিভারি বা বাতিল হয়নি, কাজ চলছে। রাইডার মাল নিয়ে গেছেন কি না জানতে চাইলে পার্সেলের টাইমলাইন খুলে দেখুন।

হোল্ডে থাকা পার্সেল কি আবার ডেলিভারি করানো যায়?

যায়, যদি কাস্টমার নতুন সময় বলেন আর সেটা কুরিয়ারের ধরে রাখার সময়ের মধ্যে পড়ে। কাস্টমারের দেওয়া সময়টা কুরিয়ারের সাপোর্ট বা প্যানেলের অপশন দিয়ে জানিয়ে দিন। সময়টা অনেক দূরে হলে পার্সেল ফেরত এনে পরে নতুন করে পাঠানোই নিরাপদ।

#পার্সেল হোল্ড#পার্শিয়াল ডেলিভারি#কুরিয়ার স্ট্যাটাস#রিটার্ন পার্সেল#Steadfast#Pathao

আরও পড়ুন

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন

নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে

সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য

পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

·১১ মিনিটে পড়া যায়