WinningSeller
অর্ডার ও কুরিয়ার১৪ মিনিটে পড়া যায়

কুরিয়ার পলির সাইজ, দাম আর পাইকারি কোথায় পাবেন (২০২৬)

থ্রি-পিস, শাড়ি, টি-শার্ট, কসমেটিকস আর ছোট গ্যাজেটে কোন সাইজের কুরিয়ার পলি লাগে, কতটা পুরু নেবেন, প্রিন্ট না সাদা, পাইকারি কোথায় পাবেন, অক্টোবর ২০২৬-এর দোকানের দাম, আর মাসে কয়টা কিনবেন তার হিসাব।

কুরিয়ার পলির সাইজ, দাম আর পাইকারি কোথায় পাবেন (২০২৬)
এই লেখায় যা আছে
  1. কুরিয়ার পলি কী, সাধারণ পলিথিনের সাথে পার্থক্য কোথায়?
  2. কুরিয়ার পলি সাইজ, কোন প্রোডাক্টে কোন মাপ?
  3. কতটা পুরু পলি নেবেন, আঠা আর সিল কেমন হবে?
  4. প্রিন্ট করা পলি নাকি সাদা পলি?
  5. কুরিয়ার পলি পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?
  6. কুরিয়ার পলির দাম কত (উদাহরণসহ)?
  7. মাসে কত পলি কিনবেন, হিসাব করবেন কীভাবে?
  8. পলিথিন নিষেধাজ্ঞা কি কুরিয়ার পলিতেও খাটে?
  9. আজ কোন কাজটা করবেন?

কুরিয়ার পলি হলো মোটা প্লাস্টিকের একটা খাম, যার মুখে আঠা লাগানো থাকে। প্রোডাক্ট ভরে কাগজটা টেনে খুলে মুখ চেপে দিলেই পার্সেল বন্ধ হয়ে যায়, টেপ লাগে না। সাইজ বাছবেন প্রোডাক্ট ধরে। ভাঁজ করা থ্রি-পিস বা পাঞ্জাবিতে সাধারণত ১২×১৬ ইঞ্চির পলি লাগে, টি-শার্টে ১০×১৩ বা ১০×১৪, আর লিপস্টিক, সিরাম বা ইয়ারফোনের মতো ছোট জিনিসে ৬×৮ বা ৮×১০ ইঞ্চি। ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ দুইটা বাংলাদেশি অনলাইন প্যাকেজিং শপে ১২×১৬ ইঞ্চির সাদা বা সিলভার পলির দাম ছিল পিসপ্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৮ টাকার মধ্যে। পাইকারি পাবেন পুরান ঢাকার চকবাজারে, আর অনলাইন প্যাকেজিং শপে।

কুরিয়ার পলি পলিথিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে কি না, এই প্রশ্নটা অনেক সেলারের মনে ঘোরে। লেখার শেষের দিকে সেটা নিয়েও যা জানা গেছে, খোলাখুলি বলেছি।

কুরিয়ার পলি কী, সাধারণ পলিথিনের সাথে পার্থক্য কোথায়?

বাজারের পাতলা পলিথিন ব্যাগ বানানো হয় হাতে করে জিনিস বাসায় নেওয়ার জন্য। একটু টান লাগলেই ফুটো হয়, আর মুখ বাঁধতে হয় গিঁট দিয়ে বা টেপ পেঁচিয়ে। কুরিয়ার পলি বানানো হয় পার্সেলের জন্য। এর প্লাস্টিক মোটা, মুখে একটা ভাঁজ করা ফ্ল্যাপ থাকে, আর সেই ফ্ল্যাপে আঠা লাগানো থাকে একটা কাগজের নিচে। দোকানে লিস্টিংয়ে "১২×১৬+২" লেখা দেখলে বুঝবেন পলিটা ১২ ইঞ্চি চওড়া, ১৬ ইঞ্চি লম্বা, আর ওপরে ২ ইঞ্চির ফ্ল্যাপ আছে। সাধারণত প্রথম সংখ্যাটা চওড়া, দ্বিতীয়টা লম্বা। তবু কেনার আগে দোকানদারকে একবার জিজ্ঞেস করে নিন।

বেশিরভাগ কুরিয়ার পলি বাইরে সাদা, সিলভার, ধূসর বা হলুদ রঙের হয়, আর ভেতরে গাঢ় রঙের পরত থাকে। এর কাজ হলো বাইরে থেকে ভেতরের জিনিস দেখতে না দেওয়া। কাস্টমার কী কিনেছেন সেটা পথে কেউ দেখতে পায় না, আর দামি জিনিস চোখে পড়ে না বলে লোভও কম জাগে।

পার্সেলে বক্স না দিয়ে পলি কেন দেবেন? কাপড়, কসমেটিকস বা ছোট গ্যাজেটের মতো যা সহজে ভাঙে না, তাতে পলিই যথেষ্ট। পলি বক্সের চেয়ে অনেক সস্তা, আর ঘরে জায়গাও কম নেয়। সবচেয়ে বড় কথা, পলি হালকা, আর এর একটা সরাসরি টাকার হিসাব আছে। কুরিয়ার চার্জ ধরে ওজনের ধাপে, আর ওজন মাপা হয় প্যাকেটসহ। ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ Pathao-র কুরিয়ার পেজের টেবিলে ঢাকা থেকে অন্য শহরে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চার্জ ১১০ টাকা, আর ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত ১৩০ টাকা লেখা আছে। মোটা বক্সের কারণে ওজন ৫০০ গ্রাম পার হলে প্রতিটা পার্সেলে ২০ টাকা বাড়তি যায়।

তবে কাচের বোতল, মধু, তেল বা মোবাইল ফোন শুধু পলিতে ভরে পাঠাবেন না। ভাঙলে সেই ক্ষতি কুরিয়ার সাধারণত দেয় না, নিচে শর্তের অংশে দেখবেন।

কুরিয়ার পলি সাইজ, কোন প্রোডাক্টে কোন মাপ?

সাইজ ঠিক করার সহজ নিয়মটা আগে বলি, তাহলে টেবিল ছাড়াও নিজে বের করতে পারবেন। প্রোডাক্টটা যেভাবে পাঠাবেন, ঠিক সেভাবে ভাঁজ করুন বা বক্সে ভরুন। তারপর চওড়া, লম্বা আর উচ্চতা, মানে জিনিসটা কতটা মোটা, এই তিনটা মাপ নিন।

পলির চওড়া = প্রোডাক্টের চওড়া + উচ্চতা + ১ ইঞ্চি

পলির লম্বা = প্রোডাক্টের লম্বা + উচ্চতা + ১ ইঞ্চি (ফ্ল্যাপ বাদে)

উচ্চতা যোগ করতে হয় কারণ চ্যাপ্টা পলি একটা মোটা জিনিসকে ঘিরে বসলে দুই পাশ থেকেই কিছুটা মাপ খেয়ে ফেলে। এক ইঞ্চি রাখা হয় মুখ ঠিকমতো বন্ধ হওয়ার জায়গার জন্য। ধরুন একটা থ্রি-পিস ভাঁজ করলে দাঁড়ায় ১০ ইঞ্চি চওড়া, ১৪ ইঞ্চি লম্বা আর ১ ইঞ্চি মোটা। তাহলে পলির চওড়া লাগবে ১০ + ১ + ১ = ১২ ইঞ্চি, আর লম্বা ১৪ + ১ + ১ = ১৬ ইঞ্চি। মানে আপনার লাগবে ১২×১৬ সাইজের পলি।

নিচের টেবিলটা শুরু করার একটা আন্দাজ। দোকানে যে সাইজগুলো সাধারণত পাওয়া যায়, সেগুলো ধরেই লেখা। আপনার ভাঁজ আর বক্স আলাদা হলে ওপরের নিয়মে মিলিয়ে নিন।

প্রোডাক্ট (যেভাবে পাঠাবেন) শুরু করার সাইজ (ইঞ্চি) খেয়াল রাখবেন
লিপস্টিক, সিরাম, ছোট কসমেটিকস বক্স, ইয়ারফোন, চার্জার ৬×৮ বা ৮×১০ বক্স মোটা হলে বড়টা নিন
স্মার্টওয়াচ বা পাওয়ার ব্যাংকের বক্স, কসমেটিকস কম্বো ৮×১০ থেকে ১০×১৩ বক্সের উচ্চতা যোগ করতে ভুলবেন না
একটা টি-শার্ট, বাচ্চাদের জামা ১০×১৩ বা ১০×১৪ কলার ভাঁজ না করে রাখলে বড়টা
একটা থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শাড়ি (বক্স ছাড়া) ১২×১৬ ভারী কাজের শাড়ি মোটা হয়, মেপে নিন
বক্সে ভরা শাড়ি, বা দুইটা থ্রি-পিস একসাথে ১৪×১৮ দুইটা আলাদা পার্সেল করলে ডেলিভারি চার্জ দুইবার যায়
টেবিলের ওপর তিন সাইজের কুরিয়ার পলি পাশাপাশি রাখা, ছোটটার পাশে একটা লিপস্টিকের বক্স, মাঝেরটার পাশে ভাঁজ করা টি-শার্ট, বড়টার পাশে ভাঁজ করা থ্রি-পিস, পাশে একটা মাপার ফিতা
আগে প্রোডাক্ট ভাঁজ করে মাপুন, তারপর সাইজ কিনুন

খুব বড় পলি নিলে ভেতরে প্রোডাক্ট নড়ে, আর বাড়তি প্লাস্টিক ভাঁজ খেয়ে ছিঁড়ে যায়। খুব ছোট নিলে মুখ টেনে বন্ধ করতে হয়, তখন আঠা পুরো লাগে না আর পথে খুলে যেতে পারে। তাই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টগুলোর মাপ ধরে দুই-তিনটা সাইজই রাখুন। দশ রকম সাইজ রাখলে টাকা আটকে থাকে, আর প্যাক করার সময় ভুল সাইজ হাতে ওঠে।

কতটা পুরু পলি নেবেন, আঠা আর সিল কেমন হবে?

পুরুত্ব মাপা হয় মাইক্রনে। এক মাইক্রন মানে এক মিলিমিটারের হাজার ভাগের এক ভাগ। সমস্যা হলো, বাংলাদেশের বেশিরভাগ অনলাইন লিস্টিংয়ে মাইক্রন লেখাই থাকে না। ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ যে কয়টা অনলাইন প্যাকেজিং শপের কুরিয়ার পলির পেজ দেখেছি, তার কোনোটাতেই পুরুত্বের সংখ্যা পাইনি। তাই দোকানদারকে সরাসরি মাইক্রন জিজ্ঞেস করুন, আর একই সাইজের দুই দোকানের পলি হাতে নিয়ে পাশাপাশি তুলনা করুন।

পুরু পলি কেন দরকার, সেটা কুরিয়ারের নিজের শর্তেই লেখা আছে। Pathao-র মার্চেন্ট শর্তের ৩.৩১ নম্বর অংশে বলা আছে, সেলারের প্যাকেট সাধারণত কাস্টমারের কাছে একবার যাওয়ার মতো করে বানানো হয়। কাস্টমারকে না পেয়ে কয়েকবার চেষ্টা করলে বা পার্সেল ফেরত এলে প্যাকেটের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। আর দুর্বল প্যাকেটের কারণে যা ছেঁড়ে বা নষ্ট হয়, তার দায় Pathao নেবে না। Pathao-র রেট টেবিলেই ঢাকার বাইরের ডেলিভারির সময় ৭২ ঘণ্টা লেখা। পার্সেল এই সময়টা কাটায় ট্রাকে, গুদামে আর বস্তার নিচে। তাই ঢাকার বাইরের পার্সেলে পাতলা পলি কিনে টাকা বাঁচাতে যাবেন না।

Steadfast-এর শর্তেও একই কথা। সেখানে লেখা আছে, পার্সেল যেন পথে ঠিক থাকে সেভাবে প্যাক করার দায়িত্ব সেলারের। ভুল প্যাকিংয়ের কারণে কিছু নষ্ট হলে Steadfast দায় নেবে না। অন্য কারণে পার্সেল নষ্ট হলে তারা পোর্টালে লেখা দামের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত দেয়, তাও তদন্ত আর আলোচনার পর। আর মধু, তেল বা কাচের মতো তরল আর ভাঙার মতো জিনিসের ক্ষতি তারা দেয়ই না। Pathao-র শর্তে লেখা, ক্ষতিপূরণ ইনভয়েসের দাম, বাজারদর বা ১০,০০০ টাকার মধ্যে যেটা কম, তার বেশি হবে না। মানে পলি ছিঁড়ে জিনিস নষ্ট হলে টাকার বড় অংশ আপনারই যায়।

Steadfast-এর শর্তে এটাও লেখা আছে যে সব পার্সেল CCTV-র নজরে প্যাক করতে হবে। ঘরে CCTV না থাকলে অন্তত দামি অর্ডার প্যাক করার সময় ফোনে একটা ছোট ভিডিও করে রাখুন। কাস্টমার "ভেতরে জিনিস কম ছিল" বললে এটাই আপনার প্রমাণ। ফোনের ভিডিও Steadfast মানবে কি না, সেটা তাদের কাছে জেনে নিন।

এবার আঠা আর সিলের কথায় আসি। ভালো কুরিয়ার পলির আঠা এমন হয় যে একবার বন্ধ করলে আর পরিষ্কারভাবে খোলা যায় না। খুলতে গেলে পলিটাই ছিঁড়ে যায়, বা আঠার জায়গায় দাগ থেকে যায়। একে টেম্পার-এভিডেন্ট সিল বলে। এর লাভ হলো, পথে কেউ পার্সেল খুললে কাস্টমার দরজাতেই সেটা দেখতে পান। কেনার আগে তিনটা পরীক্ষা করে নিন।

  • টানের পরীক্ষা। একটা খালি পলির দুই পাশ ধরে টান দিন। সহজে লম্বা হয়ে পাতলা হয়ে গেলে ওই পলি ঢাকার বাইরের পার্সেলে টিকবে না।
  • আলোর পরীক্ষা। পলির ভেতরে একটা লেখা কাগজ রেখে আলোর দিকে ধরুন। লেখা পড়া গেলে ভেতরের প্রোডাক্টও বাইরে থেকে দেখা যাবে।
  • আঠার পরীক্ষা। মুখ বন্ধ করে পাঁচ মিনিট রেখে খোলার চেষ্টা করুন। সহজে খুলে গেলে আঠা দুর্বল। পলি ছিঁড়ে গেলে বা দাগ পড়লে আঠা ঠিক আছে।

প্রিন্ট করা পলি নাকি সাদা পলি?

লোগো প্রিন্ট করা পলিতে কাস্টমার দরজায় পার্সেল হাতে নিয়েই দোকানের নাম দেখেন, আর পরের বার নামটা মনে থাকে। কিন্তু এর খরচ বেশি, আর একবারে অনেক কিনতে হয়। ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ WrapUP BD-র ওয়েবসাইটে এক রঙে প্রিন্ট করা পলির এক ইউনিট ১,০০০ পিস, আর ১২×১৬ সাইজে তার দাম ১২,৩৫০ টাকা। মানে পিসপ্রতি ১২.৩৫ টাকা। একই পেজের বিবরণে আবার সর্বনিম্ন অর্ডার ১,৩০০ পিস লেখা, তাই অর্ডারের আগে কয় পিস নিতে হবে সেটা জিজ্ঞেস করে নিন। পেজে এটাও লেখা আছে, বাড়তি প্রিন্ট থাকলে তার দাম বিলে যোগ হবে। একই দোকানে সাদা ১২×১৬ পলি ৫০ পিস ৪২৫ টাকা, মানে পিসপ্রতি ৮.৫০ টাকা।

মাঝামাঝি একটা রাস্তাও আছে। সাদা পলির সাথে আলাদা করে লোগোর স্টিকার প্রিন্ট করিয়ে নিন। WrapUP BD এটা "পলি আর স্টিকার কম্বো" নামে বেচে, ১০০ পলি আর ১০০ স্টিকার একসাথে, আর ১২×১৬ সাইজের কম্বোর দাম লেখা ১,১০০ টাকা। স্টিকারের সুবিধা হলো, এটা অন্য সাইজের পলিতে বা বক্সেও লাগানো যায়। তাই এক সাইজের হাজার পলিতে টাকা আটকে থাকে না।

কখন কোনটা নেবেন, তার একটা সহজ নিয়ম দিই। ১,০০০ পিস প্রিন্ট করা পলি যদি তিন মাসের মধ্যে শেষ না হয়, তাহলে এখন প্রিন্ট করাবেন না। ধরুন মাসে ২০০ পার্সেল যায়। তাহলে ১,০০০ পলি শেষ হতে পাঁচ মাস লাগবে, আর ১২ হাজার টাকার বেশি পুরো সময়টা ঘরের কোণে বসে থাকবে। এর মধ্যে লোগো বা পেজের নাম বদলালে বাকি পলি নষ্ট। তাই শুরুতে সাদা পলি আর স্টিকার নিন। প্রিন্টে যাবেন তখন, যখন একই সাইজে মাসে ৩৩৫টার বেশি পার্সেল যায় আর দোকানের নাম-লোগো পাকা হয়ে গেছে। দোকান ১,৩০০ পিসের কম না দিলে এই সংখ্যাটা দাঁড়ায় মাসে প্রায় ৪৩৫টা।

প্রিন্ট করালে ডিজাইনে একটা জায়গা ফাঁকা রাখুন। Steadfast-এর শর্তে লেখা আছে, প্রতিটা পার্সেলে বৈধ কনসাইনমেন্ট আইডি থাকতে হবে। Pathao-র শর্তেও বলা আছে, ভেতরের জিনিস আর বাইরের লেখা মিলতে হবে। কুরিয়ারের লেবেল আর আপনার ঠিকানার স্টিকার যেন লোগোর ওপর না পড়ে। গাঢ় রঙের প্রিন্টের ওপর বারকোড বসলে স্ক্যান না-ও হতে পারে, তাই লেবেলের জায়গাটা সাদা রাখুন। ভেতরে ইনভয়েস কেন দেবেন, সেটা ফেক অর্ডার আর রিটার্ন কমানোর লেখার ১০ নম্বর উপায়ে বলা আছে।

কুরিয়ার পলি পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?

ঢাকায় থাকলে সবচেয়ে বড় জায়গা পুরান ঢাকার চকবাজার আর তার আশপাশ, যেখানে প্লাস্টিক আর প্যাকেজিংয়ের অনেক পাইকার বসেন। কীভাবে যাবেন, কোন দিন বন্ধ থাকে আর প্রথমবার কীভাবে ঘুরবেন, সেটা চকবাজার পাইকারি মার্কেটের লেখায় আছে। পলি কেনার জন্য বাড়তি দুটো কাজ করুন। নিজের প্রোডাক্টটা ভাঁজ করে সাথে নিয়ে যান, আর দোকানেই পলিতে ভরে দেখে সাইজ কিনুন। কিছু দোকান পলি কেজি দরে বেচে। তখন জিজ্ঞেস করুন এক কেজিতে ওই সাইজের কয়টা পলি পড়ে, নইলে দুই দোকানের দাম মেলাতে পারবেন না।

ঢাকার বাইরে থাকলে বা বাজারে যাওয়ার সময় না থাকলে অনলাইন প্যাকেজিং শপ ভালো অপশন। ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ WrapUP BD আর PackioBD দুটোরই নিজের ওয়েবসাইটে সাইজ ধরে দাম লেখা ছিল। WrapUP BD-র পেজে লেখা, ঢাকার ভেতরে ২-৩ কর্মদিবসে ডেলিভারি হয়, আর পেমেন্ট দেওয়া যায় ক্যাশ অন ডেলিভারিতে। নিজের জেলা শহরের প্লাস্টিকের পাইকারি দোকানেও জিজ্ঞেস করে দেখুন, অনেকে ঢাকা থেকে এনে রাখেন।

প্রথমবার কিনলে একবারে হাজার পিস নেবেন না। WrapUP BD-র সাদা পলি ৫০ পিসের প্যাকেটে আসে, আর Dunia-তে ধূসর রঙের পলি ২৫ পিসের প্যাকেটেও পাওয়া যায়। এমন ছোট প্যাকেট নিয়ে দশটা পার্সেল প্যাক করে দেখুন। সাইজ আর আঠা ঠিক আছে কি না, আর ঢাকার বাইরে পার্সেলটা ঠিকঠাক পৌঁছাল কি না, সেটা দেখে তারপর পাইকারিতে যান।

কুরিয়ার পলির দাম কত (উদাহরণসহ)?

নিচের সব দাম ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ দোকানগুলোর নিজের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া। পিসপ্রতি দাম আমরা প্যাকেটের দামকে পিস দিয়ে ভাগ করে বের করেছি। দাম যেকোনো দিন বদলাতে পারে, আর চকবাজারে দরদাম করলে আলাদা দাম পাবেন। তাই এগুলো দিয়ে দোকানের দাম তুলনা করুন, আর কেনার দিন আবার মিলিয়ে নিন।

PackioBD-র সিলভার রঙের সাদামাটা পলির দাম ১০০ পিস ধরে লেখা। ১০০ পিসে ৬×৮ ইঞ্চির দাম ২৯০ টাকা, ৮×১০ ইঞ্চির ৩৬০, ১০×১৪ ইঞ্চির ৪২০, ১২×১৬ ইঞ্চির ৫২০, আর ১৪×১৮ ইঞ্চির ৬৫০ টাকা। মানে পিসপ্রতি পড়ে ২.৯০ থেকে ৬.৫০ টাকা। তাদের রেডিমেড প্রিন্টের পলিতে (দোকানের নিজের ডিজাইন, আপনার লোগো না) ১২×১৬ ইঞ্চির ১০০ পিস ৫৫০ টাকা। ওই পেজে দাম কেজি দরে দেখানোর একটা নোটও আছে, তাই অর্ডারের আগে জেনে নিন দামটা ১০০ পিসের, নাকি এক কেজির।

WrapUP BD-র সাদা পলি ৫০ পিসের প্যাকেটে আসে। ৫০ পিসে ৬×৮ ইঞ্চির দাম ১৯৫ টাকা, ৮×১০ ইঞ্চির ২৭৫, ১০×১৩ ইঞ্চির ৩২৫, ১২×১৬ ইঞ্চির ৪২৫, আর ১৪×১৮ ইঞ্চির ৪৯৫ টাকা। মানে পিসপ্রতি পড়ে ৩.৯০ থেকে ৯.৯০ টাকা। Dunia-তে ধূসর পলির ২৫ পিসের প্যাকেট সাইজভেদে ৮৭ থেকে ১৭৮ টাকা, মানে পিসপ্রতি সাড়ে ৩ থেকে ৭ টাকার মতো।

ছোট প্যাকেট কেনার একটা লুকানো খরচ আছে, সেটা ডেলিভারি চার্জ। WrapUP BD-র পেজে ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ ১৫০ টাকা লেখা। ধরুন রংপুর থেকে ৫০ পিসের একটা প্যাকেট ৪২৫ টাকায় অর্ডার করলেন। তাহলে ডেলিভারিসহ মোট দাঁড়ায় ৫৭৫ টাকা, মানে পিসপ্রতি ১১.৫০ টাকা। একই ডেলিভারি চার্জে ৩০০ পিস আনলে সেই চার্জ ভাগ হয়ে পিসপ্রতি ৫০ পয়সায় নেমে আসে। তাই সাইজ একবার পাকা হয়ে গেলে এক-দেড় মাসের পলি একসাথে আনুন।

মাসে কত পলি কিনবেন, হিসাব করবেন কীভাবে?

এই অংশের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। পলির দামগুলো শুধু ওপরের PackioBD-র সিলভার পলির লিস্ট থেকে নেওয়া। নিজের সংখ্যা বসিয়ে একবার গুনে দেখুন।

ধরুন গত মাসে আপনার ২৪০টা পার্সেল গেছে। তার মধ্যে ১৬০টা থ্রি-পিস, যেগুলো যায় ১২×১৬ পলিতে, আর ৮০টা কসমেটিকস, যেগুলো যায় ৮×১০ পলিতে। প্রথমে প্রতিটা সাইজের সাথে ১০% বাড়তি ধরুন। এই বাড়তিটা লাগে কারণ প্যাক করতে গিয়ে কিছু পলি ছেঁড়ে, ঠিকানা ভুল লিখে নতুন পলিতে ভরতে হয়, আর ফেরত আসা পার্সেল বা এক্সচেঞ্জ আবার পাঠাতে নতুন পলি লাগে। একবার আঠা দিয়ে বন্ধ করা পলি খুললে আর বন্ধ করা যায় না।

তাহলে এক মাসে লাগবে ১২×১৬ সাইজের ১৬০ + ১৬ = ১৭৬টা, আর ৮×১০ সাইজের ৮০ + ৮ = ৮৮টা। দোকান ১০০ পিসের প্যাকেটে বেচে, তাই কিনবেন ১২×১৬ দুই প্যাকেট (২০০টা) আর ৮×১০ এক প্যাকেট (১০০টা)। খরচ ২ × ৫২০ + ৩৬০ = ১,৪০০ টাকা। কবে আবার কিনবেন, তার নিয়মটাও সহজ। স্টকে যখন দুই সপ্তাহের পলি বাকি থাকবে, তখন অর্ডার দিন। অনলাইনে আনতে কয়েক দিন লাগে, আর ঈদের আগে দোকানেও টান পড়ে।

এবার দেখুন একটা পার্সেলে পলির খরচ আসলে কত পড়ছে। মাসে যে ২৪০টা পার্সেল গেল, প্রতিটাতেই পলি খরচ হয়েছে। ১৬০ × ৫.২০ = ৮৩২ টাকা, আর ৮০ × ৩.৬০ = ২৮৮ টাকা, মোট ১,১২০ টাকা। ধরুন এর মধ্যে ৪০টা ফেরত এলো, ডেলিভারি হলো ২০০টা। টাকা আসে শুধু ওই ২০০টা থেকে। তাই ডেলিভারি হওয়া প্রতিটা পার্সেলে পলির খরচ দাঁড়ায় ১,১২০ ÷ ২০০ = ৫.৬০ টাকা, যদিও কাগজে এক পলির দাম মাত্র ৫.২০ বা ৩.৬০ টাকা।

একই হিসাব প্রিন্ট করা পলি দিয়ে করলে ১২×১৬-এর ১৬০টায় যেত ১৬০ × ১২.৩৫ = ১,৯৭৬ টাকা, সাদা পলির চেয়ে মাসে ১,১৪৪ টাকা বেশি। বছরে সেটা প্রায় ১৩,৭০০ টাকা। এটাই লোগোর আসল দাম। দেওয়ার মতো কি না সেটা আপনার সিদ্ধান্ত, শুধু সংখ্যাটা জেনে সিদ্ধান্ত নিন।

পলি হলো প্যাকেজিংয়ের একটা অংশ মাত্র। এর সাথে ইনভয়েসের কাগজ, স্টিকার, টেপ, কখনো বাবল র‍্যাপ যোগ হয়। সব মিলিয়ে প্যাকেজিংয়ের খরচ প্রতিটা অর্ডারের দামে কীভাবে ধরবেন, সেটা প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায় পুরো উদাহরণসহ আছে।

একজন তরুণ পুরুষ সেলার রান্নাঘরের ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রে পলিতে ভরা একটা পার্সেল মাপছেন, পাশে কয়েকটা সিলভার রঙের কুরিয়ার পলি আর ভাঁজ করা কাপড়
প্রতিটা প্রোডাক্ট পলিসহ একবার মেপে নিন, ৫০০ গ্রামের ঘর পার হলে চার্জ বাড়ে

ওজনটাও একবার মেপে নিন। একটা ছোট ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র কিনে প্রতিটা প্রোডাক্ট পলি আর ইনভয়েসসহ মাপুন। ধরুন ভাঁজ করা থ্রি-পিসের ওজন ৪৭০ গ্রাম। তার সাথে পলি আর ইনভয়েস মিলে যদি ৫০০ গ্রাম পার হয়ে যায়, তাহলে ঢাকার বাইরে Pathao-তে প্রতি পার্সেলে ২০ টাকা বাড়তি যাবে, ওপরে যেমন বললাম। মাসে ১৬০টা পার্সেলে সেটা ৩,২০০ টাকা, পলির পুরো মাসের খরচের দ্বিগুণের বেশি। এমন হলে মোটা বড় পলির বদলে ঠিক মাপের পলি নিন, আর ইনভয়েস এক পেজে আনুন।

পলিথিন নিষেধাজ্ঞা কি কুরিয়ার পলিতেও খাটে?

এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর এখনো কোনো সরকারি কাগজে আমরা পাইনি। যা পেয়েছি, সেটাই বলছি। এটা আইনি পরামর্শ না, ব্যবসা বড় হলে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে নিন।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬ক সরকারকে ক্ষমতা দিয়েছে। সরকার যদি মনে করে কোনো পলিথিন শপিং ব্যাগ, বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরি কোনো জিনিস পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে সেটা বানানো, বেচা, মজুত রাখা বা ব্যবসার কাজে লাগানো বন্ধ করতে পারে। ওই ধারায় "পলিথিন শপিং ব্যাগ"-এর সংজ্ঞাটা অনেক বড়। পলিইথাইলিন, পলিপ্রপাইলিন বা তার মিশ্রণে বানানো যেকোনো ব্যাগ, ঠোঙা বা ধারক, যা কেনাবেচায় বা কিছু রাখা বা বহনের কাজে লাগে, সবই এর মধ্যে পড়ে। কুরিয়ার পলিও সাধারণত এই প্লাস্টিকেই বানানো হয়। আইনের ১৫ ধারার টেবিলে বলা আছে, এমন নিষেধ ভেঙে বেচলে, মজুত রাখলে বা ব্যবসার কাজে লাগালে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই হতে পারে।

বাস্তবে অভিযান কোথায় হয়েছে, সেটাও জেনে রাখুন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আলোর খবরে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেছিলেন, ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে কোনো পলিথিন বা পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ রাখা যাবে না। The Business Standard-এর খবর অনুযায়ী ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে কাঁচাবাজারেও পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হয়, আর ১ ডিসেম্বর থেকে জরিমানা শুরুর কথা বলা হয়। এই খবরগুলোর কোনোটাতেই কুরিয়ার পলি বা ই-কমার্সের প্যাকেজিংয়ের কথা নেই। কুরিয়ার পলির নাম ধরে আলাদা কোনো নিষেধ বা ছাড়ের প্রজ্ঞাপনও আমরা খুঁজে পাইনি।

তাহলে সেলার হিসেবে আপনি কী করবেন? প্রথমত, পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট doe.gov.bd আর খবরে চোখ রাখুন। দ্বিতীয়ত, একসাথে ছয় মাসের পলি জমিয়ে রাখবেন না। হঠাৎ নিয়ম বদলালে জমানো পলিই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, আর আইনেও "মজুদ" শব্দটা আছে। তৃতীয়ত, যেখানে পারেন প্লাস্টিক কমান। ঠিক মাপের পলি নিলে প্লাস্টিক কম লাগে। যে প্রোডাক্ট আগে থেকেই শক্ত বক্সে আসে, সেটা পলিতে না ভরে বক্সেই লেবেল লাগিয়ে পাঠানো যায় কি না দেখুন। কাগজের প্যাকেট চেষ্টা করতে চাইলে মনে রাখবেন বৃষ্টিতে কাগজ ভেজে, তাই আগে দুই-একটা পার্সেল পাঠিয়ে দেখে নিন।

আজ কোন কাজটা করবেন?

আপনার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া দুই-তিনটা প্রোডাক্ট আজ ভাঁজ করে মাপুন, আর ওপরের নিয়মে প্রতিটার পলির সাইজ বের করুন। তারপর গত মাসে কয়টা পার্সেল গেছে দেখে প্রতিটা সাইজে ১০% যোগ করে এক মাসের পরিমাণ ঠিক করুন। প্রথমবার ছোট প্যাকেট কিনে ঢাকার বাইরের কোনো পরিচিত মানুষের ঠিকানায় একটা পার্সেল পাঠিয়ে পরীক্ষা করুন, তারপর পাইকারিতে যান। আর প্রিন্ট করা পলির কথা ভাবুন তখন, যখন হাজার পিস তিন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার মতো অর্ডার আসে।

মাসে কয়টা পার্সেল গেল আর কয়টা ফেরত এলো, এই দুইটা সংখ্যাই পলির হিসাবের ভিত্তি। WinningSeller-এ ৬টা কুরিয়ারে (Steadfast, Pathao, RedX, Paperfly, Carrybee, eCourier) এক ক্লিকে পার্সেল বুক হয়, আর স্ট্যাটাস নিজে থেকে আপডেট হয়। তাই মাস শেষে কয়টা ডেলিভারি হলো আর কয়টা ফেরত এলো, সেটা খাতা ঘেঁটে গুনতে হয় না, আর ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকেই লাভ-ক্ষতি দেখা যায়। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

কুরিয়ার পলির দাম কত?

৭ অক্টোবর ২০২৬-এ বাংলাদেশের দুইটা অনলাইন প্যাকেজিং শপে ১২×১৬ ইঞ্চির সাদা বা সিলভার পলির দাম পড়ছিল পিসপ্রতি ৫.২০ থেকে ৮.৫০ টাকা, ৫০ বা ১০০ পিসের প্যাকেটে। ছোট ৬×৮ ইঞ্চির পলি পিসপ্রতি ২.৯০ থেকে ৩.৯০ টাকা। লোগো প্রিন্ট করা পলি ১,০০০ পিস নিলে ১২×১৬ সাইজে পিসপ্রতি প্রায় ১২ টাকা পড়ে। দাম দোকান আর সময়ভেদে বদলায়, কেনার দিন মিলিয়ে নিন।

থ্রি-পিসের জন্য কোন সাইজের কুরিয়ার পলি লাগে?

ভাঁজ করা একটা থ্রি-পিসে সাধারণত ১২×১৬ ইঞ্চির পলি লাগে। তবে ভাঁজের ধরন আর কাপড়ের পুরুত্বে মাপ বদলায়, তাই নিজের ভাঁজ করা থ্রি-পিসটা মেপে নিন। চওড়ার সাথে প্রোডাক্টের উচ্চতা আর এক ইঞ্চি যোগ করলে পলির চওড়া পাবেন, লম্বার বেলাতেও একই নিয়ম।

কুরিয়ার পলি পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?

ঢাকায় সবচেয়ে বড় জায়গা পুরান ঢাকার চকবাজার আর তার আশপাশ, যেখানে প্লাস্টিক আর প্যাকেজিংয়ের অনেক পাইকার বসেন। ঢাকার বাইরে থাকলে অনলাইন প্যাকেজিং শপ থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে আনা যায়। প্রথমবার ২৫ বা ৫০ পিসের ছোট প্যাকেট নিয়ে সাইজটা মিলিয়ে নিন, তারপর বেশি করে কিনুন।

লোগো প্রিন্ট করা কুরিয়ার পলি বানাতে কমপক্ষে কয়টা নিতে হয়?

দোকানভেদে আলাদা, আর একই দোকানের পেজেও দুই রকম লেখা থাকতে পারে। ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ WrapUP BD-র প্রিন্ট করা পলির পেজের নামে ১,০০০ পিস লেখা, কিন্তু বিবরণে সর্বনিম্ন অর্ডার ১,৩০০ পিস। অর্ডারের আগে কয় পিস, মোট দাম, ডিজাইনের আলাদা চার্জ আর কত দিনে পাবেন, লিখিতভাবে জেনে নিন।

কুরিয়ার পলি কি নিষিদ্ধ পলিথিনের মধ্যে পড়ে?

পরিষ্কার উত্তর এখনো কোথাও লেখা নেই। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ আইনের ধারা ৬ক-তে "পলিথিন শপিং ব্যাগ"-এর সংজ্ঞা অনেক বড়, আর ২০২৪ সালের অভিযান হয়েছে সুপারশপ আর কাঁচাবাজারে। কুরিয়ার পলির নাম ধরে আলাদা কোনো নিষেধ বা ছাড়ের প্রজ্ঞাপন আমরা খুঁজে পাইনি, তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশে চোখ রাখুন।

পলির ভেতরে প্রোডাক্ট নষ্ট হলে কুরিয়ার কি টাকা দেয়?

শর্তসাপেক্ষে দেয়, তবে পুরোটা না। Steadfast-এর শর্তে লেখা আছে, পার্সেল নষ্ট হলে পোর্টালে লেখা দামের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত দেবে, কিন্তু ভাঙার মতো জিনিস আর তরলের জন্য কিছু দেবে না, আর ঠিকমতো প্যাক না করলে দায় নেবে না। Pathao-র শর্তে ক্ষতিপূরণ ইনভয়েসের দাম, বাজারদর বা ১০,০০০ টাকা, যেটা কম, তার বেশি হবে না।

#কুরিয়ার পলি#পলি মেইলার#প্যাকেজিং#পার্সেল#পাইকারি#কুরিয়ার

আরও পড়ুন

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন

নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে

সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য

পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

·১১ মিনিটে পড়া যায়