WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৪ মিনিটে পড়া যায়

ড্রপশিপিং কি, আর বাংলাদেশে কিভাবে শুরু করবেন (টাকার হিসাবসহ)

স্টক না কিনে সাপ্লায়ারের মাল নিজের পেজে বিক্রি করা যায়, কিন্তু COD-র টাকা, ফেরত পার্সেল আর লাভের হিসাব না বুঝে নামলে লোকসান হয়। বাংলাদেশে কোন মডেলটা চলে, একটা অর্ডারে কত থাকে, আর সাপ্লায়ারের সাথে কী লিখে নেবেন, সব এখানে।

ড্রপশিপিং কি, আর বাংলাদেশে কিভাবে শুরু করবেন (টাকার হিসাবসহ)
এই লেখায় যা আছে
  1. ড্রপশিপিং কি, কীভাবে কাজ করে?
  2. বাংলাদেশে ড্রপশিপিং কোন দুইভাবে হয়?
  3. লোকাল সাপ্লায়ার দিয়ে ড্রপশিপিং কিভাবে শুরু করব?
  4. ফেরত আর COD-র টাকা কার কাছে যায়?
  5. একটা অর্ডারে আসলে কত লাভ থাকে? টাকায় একটা উদাহরণ
  6. বিদেশ থেকে ড্রপশিপিং বাংলাদেশে চলে না কেন?
  7. সাপ্লায়ারের সাথে কী লিখে নেবেন?
  8. ড্রপশিপিং কার জন্য না?
  9. ড্রপশিপিং থেকে নিজের স্টকে কখন যাবেন?

ড্রপশিপিং মানে আপনি নিজের ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট বিক্রি করেন, কিন্তু মাল থাকে সাপ্লায়ারের গোডাউনে। অর্ডার এলে আপনি কাস্টমারের নাম, নম্বর আর ঠিকানা সাপ্লায়ারকে পাঠান। সাপ্লায়ার পার্সেল প্যাক করে কুরিয়ারে দেন, আর আপনার বিক্রির দাম আর সাপ্লায়ারের দামের ফারাকটা আপনার লাভ। বাংলাদেশে ড্রপশিপিং কিভাবে শুরু করব, এই প্রশ্নের ছোট উত্তর হলো, দেশের ভেতরের একজন পাইকার বা সাপ্লায়ার দিয়ে শুরু করুন। তিনি আপনার দোকানের নামে পার্সেল পাঠাবেন, আর COD-র টাকার হিসাব লিখে দেবেন। বিদেশ থেকে সরাসরি কাস্টমারের কাছে মাল পাঠানোর মডেলটা এখানে প্রায় চলে না, কারণটা নিচে আলাদা করে বলছি।

স্টক কিনতে টাকা লাগে না, এটা সত্যি। কিন্তু অ্যাডের খরচ আর ফেরত পার্সেলের চার্জ আপনার ঘাড়েই থাকে। পার্সেল দেরি হলে কাস্টমারের রাগের ফোনটাও আসে আপনার কাছে, সাপ্লায়ারের কাছে না। তাই আগে কাজটা কীভাবে চলে সেটা বোঝাচ্ছি, তারপর একটা অর্ডারের পুরো হিসাব টাকায় দেখাচ্ছি।

ড্রপশিপিং কি, কীভাবে কাজ করে?

একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। ধরুন আপনি ফেসবুক পেজে স্মার্টওয়াচ বিক্রি করেন, কিন্তু ঘরে একটাও ঘড়ি নেই। ঘড়িগুলো আছে ঢাকার একজন পাইকারের কাছে। তিনি আপনাকে বলেছেন, প্রতিটা ঘড়ি আপনার জন্য ৯০০ টাকা, প্যাকিংসহ। আপনি পেজে সেটা ১,৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

রাজশাহী থেকে একজন কাস্টমার অর্ডার দিলেন। আপনি তাঁকে ফোন দিয়ে অর্ডারটা কনফার্ম করলেন। তারপর তাঁর নাম, নম্বর, ঠিকানা আর কোন রঙের ঘড়ি, সেটা সাপ্লায়ারকে পাঠালেন। সাপ্লায়ার ঘড়িটা প্যাক করে কুরিয়ারে দিলেন। কাস্টমার পার্সেল হাতে নিয়ে কুরিয়ারের লোককে টাকা দিলেন। কুরিয়ার চার্জ কেটে টাকাটা পাঠাল, আর সেখান থেকে সাপ্লায়ারের ৯০০ টাকা বাদ দিয়ে বাকিটা আপনার।

এখানে কে কোন কাজ করছেন, সেটা খেয়াল করুন। কাস্টমার খোঁজা, অ্যাড চালানো, ইনবক্সে উত্তর দেওয়া আর অর্ডার কনফার্ম করা আপনার কাজ। মাল রাখা, প্যাক করা আর কুরিয়ারে তুলে দেওয়া সাপ্লায়ারের কাজ। কাস্টমার কিন্তু সাপ্লায়ারকে চেনেন না। তাঁর কাছে দোকানটা আপনার, তাই ভুল ঘড়ি গেলে বা ঘড়ি নষ্ট হলে দায়টাও তিনি আপনার ওপরেই দেবেন।

একটা সহজ ড্রয়িংয়ে ওপরের সারিতে অর্ডারের পথ, কাস্টমার থেকে সেলারের পেজ, সাপ্লায়ার, কুরিয়ার হয়ে কাস্টমারের দরজা, আর নিচের সারিতে উল্টো দিকে টাকার পথ, কে কত রাখেন লেখা
অর্ডার যায় এক পথে, টাকা ফেরে আরেক পথে। দুটো পথই কাগজে লিখে রাখুন

বাংলাদেশে অনেক পাইকার এটাকে "রিসেলার" প্রোগ্রাম বলেন। সব রিসেলার প্রোগ্রাম অবশ্য ড্রপশিপিং না। কোথাও আপনাকে নিজে গিয়ে মাল তুলে এনে পাঠাতে হয়, সেটা আসলে ছোট করে পাইকারি কেনা। ড্রপশিপিং তখনই, যখন সাপ্লায়ার নিজে আপনার কাস্টমারের কাছে পার্সেল পাঠান আর আপনি মাল ছুঁয়েও দেখেন না।

সুবিধাটা বুঝতে কষ্ট হয় না। স্টকের জন্য একসাথে ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকা আটকে রাখতে হয় না, আর না চলা মাল ঘরে পড়ে থাকার ভয়ও নেই। একটা প্রোডাক্ট না চললে পরের সপ্তাহে আরেকটা ধরতে পারেন। এর বদলে আপনি মার্জিন কম পান। সাপ্লায়ার মাল রাখছেন আর প্যাক করছেন, তাই তিনি পাইকারি দামের চেয়ে বেশি রাখবেন। আর প্যাকিং কেমন হবে বা পার্সেল কবে কুরিয়ারে উঠবে, সেটাও আপনি ঠিক করতে পারেন না।

বাংলাদেশে ড্রপশিপিং কোন দুইভাবে হয়?

প্রথম পথটা লোকাল সাপ্লায়ার দিয়ে। পাইকার, ছোট কারখানা বা ইমপোর্টার দেশের ভেতরে মাল রাখেন, আর আপনার অর্ডার পেয়ে দেশের কুরিয়ারে পার্সেল পাঠান। কাস্টমার ক্যাশ অন ডেলিভারিতে টাকা দেন, পার্সেল আসে দুই থেকে পাঁচ দিনে, আর ফেরত পার্সেল আবার সাপ্লায়ারের কাছেই ফিরে যায়। আমাদের কাস্টমার যেভাবে কিনতে অভ্যস্ত, এই পথটা ঠিক সেভাবেই চলে, তাই এই লেখার বেশিরভাগ কথা এটা নিয়েই।

দ্বিতীয় পথটা বিদেশি সাপ্লায়ার দিয়ে। ইউটিউবে "ড্রপশিপিং" লিখে খুঁজলে যে ভিডিওগুলো আসে, তার বেশিরভাগ এই মডেলের। আপনি AliExpress-এর মতো কোনো বিদেশি সাইটের প্রোডাক্ট নিজের দোকানে দেখান। অর্ডার এলে সেই সাইটে ডলারে টাকা দিয়ে কাস্টমারের ঠিকানায় পার্সেল পাঠাতে বলেন। আমেরিকা বা ইউরোপের কাস্টমারের জন্য বানানো এই মডেল বাংলাদেশের কাস্টমারের বেলায় কেন আটকে যায়, সেটা নিচে আলাদা অংশে আছে।

এর মাঝামাঝি আরেকটা জিনিস অনেকে করেন, চীন থেকে প্রি-অর্ডার। কাস্টমারের কাছ থেকে আগে টাকা নিয়ে মাল আনানো হয়, তারপর দুই-তিন সপ্তাহ পরে পাঠানো হয়। এটা ঠিক ড্রপশিপিং না, তবে এর একটা আইনি ঝুঁকি আছে, সেটাও বিদেশের অংশে বলছি।

লোকাল সাপ্লায়ার দিয়ে ড্রপশিপিং কিভাবে শুরু করব?

শুরুটা ছয়টা কাজে ভাগ করে নিন, আর সিরিয়ালটা ভাঙবেন না। অনেকে তিন নম্বর কাজটা বাদ দিয়ে সোজা অ্যাডে চলে যান, আর লোকসানটা হয় ঠিক সেখানেই।

১. আগে প্রোডাক্ট ঠিক করুন, তারপর সাপ্লায়ার। যে জিনিসটা আপনি নিজে বোঝেন, সেটা দিয়ে শুরু করুন। গ্যাজেট বোঝেন তো গ্যাজেট, কাপড় বোঝেন তো কাপড়। কাস্টমার যখন ফোনে প্রশ্ন করবেন, "এটার ব্যাটারি কত দিন যায়?", তখন আপনাকেই উত্তর দিতে হবে, সাপ্লায়ার পাশে বসে থাকবেন না। কোন প্রোডাক্টে চাহিদা আছে সেটা কীভাবে বুঝবেন, তার পুরো পদ্ধতি আছে উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজে বের করার লেখায়।

২. সাপ্লায়ার খুঁজুন, আর তিনটা প্রশ্ন করুন। পাইকারি মার্কেটের দোকানে বা ফেসবুকের পাইকারি গ্রুপে অনেক সাপ্লায়ার নিজেরাই রিসেলার খোঁজেন। প্রথম কথাতেই জিজ্ঞেস করুন, আপনি কি সরাসরি আমার কাস্টমারের কাছে পার্সেল পাঠান? পার্সেলের ওপর কার দোকানের নাম থাকে? আর COD-র টাকা কবে, কীভাবে দেন? এই তিনটার পরিষ্কার উত্তর না পেলে আর কথা না আগানোই ভালো।

৩. নিজে একটা অর্ডার দিয়ে দেখুন। নিজের বা কোনো আত্মীয়ের ঠিকানায় একটা অর্ডার দিন, ঠিক যেভাবে আপনার কাস্টমার পাবেন। দেখুন অর্ডার দেওয়ার কত ঘণ্টা পরে পার্সেল কুরিয়ারে উঠল, প্যাকিং কেমন, আর ভেতরে সাপ্লায়ারের কোনো ভিজিটিং কার্ড বা দামের স্টিকার আছে কি না। ভেতরে অন্য দোকানের কার্ড পেলে কাস্টমার পরের বার সরাসরি ওখানেই অর্ডার দেবেন। এই একটা অর্ডারে যে কয়েকশো টাকা যায়, পরে সেটাই অনেক বড় লোকসান থেকে বাঁচায়।

৪. ছবি আর লেখা নিজের করে নিন। সাপ্লায়ার যে ছবিগুলো দেন, সেগুলো হয়তো আরও পঞ্চাশটা পেজ চালাচ্ছে। কাস্টমার একই ছবি তিন জায়গায় তিন দামে দেখলে কাউকেই বিশ্বাস করেন না। স্যাম্পল প্রোডাক্টটা হাতে পেয়ে মোবাইলে নিজের ছবি আর ছোট একটা ভিডিও তুলুন, আর বর্ণনাটা নিজের ভাষায় লিখুন।

৫. ছোট বাজেটে অ্যাড দিয়ে টেস্ট করুন। প্রথমেই বড় বাজেট দেবেন না। কয়েক দিন ছোট অ্যাড চালিয়ে দেখুন অর্ডার প্রতি অ্যাডে কত যাচ্ছে, আর কতগুলো অর্ডার ডেলিভারি হচ্ছে। ড্রপশিপিংয়ে মার্জিন কম থাকে, তাই এই সংখ্যাটা নিচের উদাহরণের মতো করে মিলিয়ে না দেখলে লাভ মনে হলেও আসলে লোকসান হতে পারে।

৬. প্রতিদিন অর্ডার পাঠানোর একটা সময় ঠিক করুন। ধরুন প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে কনফার্ম করা অর্ডারের লিস্ট সাপ্লায়ারকে যাবে, আর তিনি সেদিনই বা পরের দিন সকালে কুরিয়ারে দেবেন। কনফার্ম না করে লিস্ট পাঠাবেন না। ফেক অর্ডার সাপ্লায়ারের কাছে গেলে পার্সেল ফেরত আসবে, আর সেই ফেরতের চার্জ শেষে আপনার হিসাব থেকেই কাটবে।

ফেরত আর COD-র টাকা কার কাছে যায়?

ড্রপশিপিংয়ে সবচেয়ে বেশি ঝগড়া হয় এই প্রশ্ন নিয়ে। উত্তরটা নির্ভর করে পার্সেলটা কার কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে বুক হচ্ছে তার ওপর। বাংলাদেশে সাধারণত দুইভাবে চলে।

প্রথম ব্যবস্থায় পার্সেল যায় সাপ্লায়ারের নিজের কুরিয়ার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে। কাস্টমারের দেওয়া টাকা কুরিয়ার পাঠায় সাপ্লায়ারকে। সাপ্লায়ার নিজের দাম রেখে আপনার লাভটা পাঠান, সাধারণত সপ্তাহে একবার বা দুইবার। শুরু করা এতে সহজ, কারণ আপনার কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলারও দরকার নেই। কিন্তু টাকাটা আপনার হাতে আসে সবার শেষে। কোন পার্সেল কবে ডেলিভারি হলো, সেটাও আপনি দেখতে পান না, সাপ্লায়ার যা বলেন সেটাই বিশ্বাস করতে হয়।

দ্বিতীয় ব্যবস্থায় পার্সেল যায় আপনার নিজের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে, শুধু পিকআপ হয় সাপ্লায়ারের গোডাউন থেকে। কাস্টমারের টাকা আসে আপনার কাছে, আর আপনি ডেলিভারি হওয়া পার্সেলের হিসাব ধরে সাপ্লায়ারকে তাঁর দাম দেন। এতে কাস্টমারের নাম আর নম্বরও আপনার প্যানেলে থাকে, যেটা পরে আবার বিক্রির সময় কাজে লাগে। পিকআপ ঠিকানা হিসেবে সাপ্লায়ারের গোডাউন রাখা যায় কি না, আর একাধিক পিকআপ ঠিকানা রাখা যায় কি না, সেটা আপনার কুরিয়ারের প্যানেলে বা সাপোর্টে জিজ্ঞেস করে নিন। অনেক সাপ্লায়ার এই ব্যবস্থায় রাজি হন না, কারণ তখন টাকার ঝুঁকি তাঁর দিকে চলে যায়। তখন তিনি আগে টাকা চাইতে পারেন।

ফেরত পার্সেলের হিসাবটা দুই ব্যবস্থাতেই আগে ঠিক করে নিতে হয়। কাস্টমার পার্সেল না নিলে কুরিয়ার ডেলিভারি চার্জ কাটে, আর কোনো কোনো কুরিয়ার ঢাকার বাইরের ফেরতে বাড়তি রিটার্ন চার্জও নেয়। এই চার্জ সাধারণত সেলারকেই দিতে হয়, কারণ কাস্টমার এনেছেন আপনি। তারপর পার্সেলটা ফিরে যায় সাপ্লায়ারের কাছে। খোলা বা নষ্ট অবস্থায় ফিরলে তিনি সেটা আবার বেচতে পারবেন না, তখন সেই ক্ষতি কে নেবে, সেটা আগে থেকে লেখা না থাকলেই ঝগড়া বাধে।

COD-র টাকা কয়েক হাত ঘুরে আসে বলে ড্রপশিপিংয়ে টাকা আটকে থাকার সময়টা আরও লম্বা হয়। প্রথম ব্যবস্থায় কুরিয়ার থেকে সাপ্লায়ার, তারপর সাপ্লায়ার থেকে আপনি, মাঝে দুই জায়গায় দেরি হয়। অথচ অ্যাডের বিল আপনাকে আগেই দিতে হয়। কুরিয়ার কবে টাকা দেয়, আর হাতে কত টাকা রাখলে অ্যাড মাঝপথে থামে না, তার পুরো হিসাব আছে COD ক্যাশ ফ্লো নিয়ে লেখায়।

একটা অর্ডারে আসলে কত লাভ থাকে? টাকায় একটা উদাহরণ

নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ডেলিভারি চার্জ আর COD চার্জ কুরিয়ার আর এলাকাভেদে আলাদা হয়, তাই নিজের সংখ্যা বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

ওপরের স্মার্টওয়াচটাই ধরি। বিক্রির দাম ১,৩৫০ টাকা, আর ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার আলাদা দেন। ড্রপশিপিংয়ে সাপ্লায়ার প্রতিটা ঘড়ি দেন ৯০০ টাকায়, প্যাকিংসহ। একই ঘড়ি নিজে পাইকারি কিনলে ধরুন পড়ে ৭২০ টাকা, আর প্যাকেটে আরও ২০ টাকা, মোট ৭৪০ টাকা।

এবার ১০টা অর্ডার ধরুন। প্রতিটা অর্ডার আনতে অ্যাডে গেছে ১৮০ টাকা, মানে ১০টায় ১,৮০০ টাকা। ১০টার মধ্যে ৮টা ডেলিভারি হলো, ২টা ফেরত এলো। কুরিয়ার প্রতিটা ডেলিভারি থেকে ১% COD চার্জ কাটল। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর ওয়েবসাইটেও এই ১% চার্জের কথা লেখা আছে। ১,৩৫০ টাকার ১% মানে প্রায় ১৪ টাকা, ৮টায় ১১২ টাকা। প্রতিটা ফেরত পার্সেলে ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ ধরুন ১৩০ টাকা গেল, দুটোয় ২৬০ টাকা। আর ড্রপশিপিংয়ে সাপ্লায়ার প্রতিটা ফেরত মাল আবার গুছিয়ে রাখার জন্য ৩০ টাকা করে নিলেন, দুটোয় ৬০ টাকা।

খাত (১০টা অর্ডার, ৮টা ডেলিভারি) ড্রপশিপিং নিজের স্টক
৮টা ডেলিভারিতে দামের ফারাক ৮ × ৪৫০ = ৩,৬০০ টাকা ৮ × ৬১০ = ৪,৮৮০ টাকা
অ্যাড, COD চার্জ আর ফেরতের খরচ ১,৮০০ + ১১২ + ৩২০ = ২,২৩২ টাকা ১,৮০০ + ১১২ + ২৬০ = ২,১৭২ টাকা
হাতে থাকে ১,৩৬৮ টাকা (ডেলিভারিপ্রতি ১৭১) ২,৭০৮ টাকা (ডেলিভারিপ্রতি প্রায় ৩৩৯)
শুরুতে স্টকে আটকায় (৫০ পিস ধরে) ০ টাকা ৩৭,০০০ টাকা

একই দশটা অর্ডারে নিজের স্টকে প্রায় দ্বিগুণ টাকা থাকছে। কিন্তু তার জন্য শুরুতে ৩৭,০০০ টাকার মাল কিনে রাখতে হয়েছে। ঘড়িটা না চললে সেই টাকা মাসের পর মাস তাকে পড়ে থাকবে। ড্রপশিপিংয়ে আপনি কম লাভ মেনে নিচ্ছেন, আর বদলে এই ঝুঁকিটা আপনার ঘাড়ে থাকছে না।

এখন দেখুন অ্যাডের খরচ একটু বাড়লে কী হয়। ধরুন অর্ডার প্রতি অ্যাডের খরচ ১৮০ থেকে বেড়ে ২৫০ টাকা হলো, যেটা ঈদের আগে বা প্রতিযোগিতা বাড়লে প্রায়ই হয়। তখন ড্রপশিপিংয়ে হাতে থাকে ৩,৬০০ − ২,৫০০ − ১১২ − ৩২০ = ৬৬৮ টাকা, মানে ডেলিভারিপ্রতি ৮৩ টাকার মতো। এর সাথে ফেরত যদি দশে দুইয়ের জায়গায় দশে তিন হয়, তাহলে দশটা অর্ডার শেষে হাতে থাকে মাত্র ৭২ টাকার মতো।

এখান থেকে একটা কাজের নিয়ম বের হয়। অ্যাড শুরুর আগে বের করুন, একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে সাপ্লায়ারের দাম আর কুরিয়ারের খরচ বাদ দিয়ে কত থাকে। ওপরের ঘড়িতে সেটা ৪৫০ থেকে ১৪ বাদ দিয়ে ৪৩৬ টাকা, তার অর্ধেক ২১৮ টাকা। অর্ডার প্রতি অ্যাডের খরচ যদি এই অর্ধেকের কাছে চলে যায়, তাহলে সেই প্রোডাক্টে ড্রপশিপিং পোষাবে না। তখন হয় দাম বাড়ান, নয়তো অন্য প্রোডাক্ট ধরুন।

বিদেশ থেকে ড্রপশিপিং বাংলাদেশে চলে না কেন?

প্রথম ঝামেলাটা টাকা নিয়ে। আমাদের বেশিরভাগ কাস্টমার পার্সেল হাতে পেয়ে টাকা দিতে চান। বিদেশি সাপ্লায়ার কিন্তু অর্ডার পাঠানোর আগেই ডলারে পুরো টাকা চান। মানে প্রতিটা অর্ডারের টাকা আপনাকে নিজের পকেট থেকে আগে দিতে হচ্ছে। আর কাস্টমার পার্সেল না নিলে সেই টাকা আর ফেরত আসে না।

এরপর আসে ডলার পাঠানোর প্রশ্ন। ড্রপশিপিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা কোনো সার্কুলার আমরা খুঁজে পাইনি। The Daily Star-এর রিপোর্ট বলছে, ২৯ জুলাই ২০২৬-এ বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সাথে দেশের ব্যাংক যুক্ত করার একটা নিয়ম দিয়েছে। কোন কোন খরচে এটা কাজে লাগানো যাবে, তার যে লিস্ট রিপোর্টে আছে, সেখানে ভ্রমণ, মেম্বারশিপ ফি, IT সার্ভিস, ভিসা ফি আর হোটেল বুকিংয়ের কথা আছে। বিক্রির জন্য বিদেশ থেকে মাল কেনার কথা সেখানে নেই। নিজের ইন্টারন্যাশনাল কার্ডে ব্যবসার মাল কেনার আগে তাই নিজের ব্যাংকে জিজ্ঞেস করে নিন, এটা করা যায় কি না।

সময়ও একটা বড় বাধা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এ বলা আছে, পুরো দাম আগে নেওয়া হলে অর্ডারের পর একই শহরে ৫ দিনের মধ্যে আর অন্য শহরে বা গ্রামে ১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দিতে হবে। বিদেশ থেকে একটা পার্সেল আসতেই সাধারণত এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। COD অর্ডারেও কাস্টমার দুই-তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে রাজি থাকেন না, মাঝপথে অন্য পেজ থেকে কিনে ফেলেন।

কাস্টমসের ঝামেলা তো আছেই। বিদেশ থেকে আসা পার্সেলে প্রোডাক্টের HS কোড ধরে শুল্ক বসতে পারে। কোন কোডে কত শুল্ক, সেটা Bangladesh Customs-এর ওয়েবসাইটের ট্যারিফ লিস্টে আলাদা করে দেওয়া থাকে, আর এক প্রোডাক্ট থেকে আরেক প্রোডাক্টে হার অনেক বদলায়। এই শুল্ক অনেক সময় যিনি পার্সেল নেন তাঁকেই দিতে বলা হয়। কাস্টমার আগে জানতেন না, তাই তিনি পার্সেল না নিয়েই ফিরিয়ে দেন। আর বিক্রির জন্য নিয়মিত বিদেশ থেকে মাল আনতে গেলে CCI&E অফিস থেকে IRC নামের একটা আমদানির লাইসেন্স লাগে।

শেষ সমস্যাটা ফেরত পার্সেল। দেশের কুরিয়ারে ফেরত পার্সেল দুই-তিন দিনে সাপ্লায়ারের কাছে ফিরে যায়। বিদেশে মাল ফেরত পাঠানোর খরচ প্রায়ই প্রোডাক্টের দামের চেয়ে বেশি পড়ে, তাই বাস্তবে ফেরত মানে পুরো টাকাটাই লোকসান।

সাপ্লায়ারের সাথে কী লিখে নেবেন?

ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বিক্রির জন্য দেখানো প্রোডাক্ট যদি সেলার বা তাঁর সাথে চুক্তি করা কোনো মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের হাতে না থাকে, তাহলে প্রোডাক্টের পাশে পরিষ্কার করে "স্টকে নেই" লিখতে হবে, আর সেই প্রোডাক্টের জন্য কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। আমরা যেভাবে বুঝি, ড্রপশিপারের জন্য এর মানে দুটো। সাপ্লায়ারের সাথে আপনার একটা চুক্তি থাকা দরকার। আর সাপ্লায়ারের কাছে মাল শেষ হলে পেজে সেটা এমনভাবে দেখানো যাবে না যেন এখনই পাঠানো যায়।

চুক্তিটা দামি স্ট্যাম্প পেপারে হতে হবে, এমন না। একটা কাগজে দুজনের সই, অথবা অন্তত একটা লিখিত মেসেজে দুজনের "রাজি" থাকলেও পরে ঝগড়ার সময় দেখানোর মতো কিছু হাতে থাকে। মুখের কথায় চললে দুই মাস পরে কেউই মনে রাখেন না কে কী বলেছিলেন। এই কথাগুলো লিখে নিন।

  • দাম আর কত দিন সেই দাম থাকবে। প্রতি পিসের দাম কত, আর দাম বাড়ানোর আগে সাপ্লায়ার কত দিন আগে আপনাকে জানাবেন। না হলে অ্যাড চালু অবস্থায় হঠাৎ দাম বেড়ে আপনার লাভ শূন্য হয়ে যেতে পারে।
  • স্টকের খবর কীভাবে দেবেন। প্রতিদিন কোন সময়ে স্টকের সংখ্যা জানাবেন, আর মাল শেষ হলে কতক্ষণের মধ্যে বলবেন।
  • কুরিয়ারে দেওয়ার সময়। লিস্ট পাওয়ার কত ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল কুরিয়ারে উঠবে, শুক্রবার আর ছুটির দিনে কী হবে।
  • প্যাকিং আর দোকানের নাম। পার্সেলের ওপর আপনার দোকানের নাম থাকবে, ভেতরে সাপ্লায়ারের কার্ড, দামের ট্যাগ বা অন্য দোকানের লিফলেট থাকবে না।
  • ফেরতের খরচ আর নষ্ট মাল। ফেরতের কুরিয়ার চার্জ কে দেবেন, ফেরত মাল গুছিয়ে রাখার জন্য সাপ্লায়ার কিছু নেবেন কি না, আর ভুল বা নষ্ট প্রোডাক্ট গেলে বদলে দেওয়ার খরচ কার।
  • টাকার হিসাব কবে। COD-র টাকা কে তুলবেন, সপ্তাহের কোন দিন হিসাব মেলানো হবে, আর টাকা bKash-এ যাবে নাকি ব্যাংকে।
  • আপনার কাস্টমার আপনার। সাপ্লায়ার আপনার কাস্টমারের নম্বরে নিজে থেকে ফোন বা অফার দেবেন না।

শেষ লাইনটা অনেকে লিখতে লজ্জা পান, কিন্তু এটাই সবচেয়ে দরকারি। আপনার অ্যাডের টাকায় আনা কাস্টমারের নাম আর নম্বর সাপ্লায়ারের কাছে যাচ্ছে। সেই নম্বরে তিনি নিজের দোকানের অফার পাঠালে আপনার পরের বিক্রিটা তাঁর কাছে চলে যাবে।

সাপ্লায়ারের গোডাউনে একজন মধ্যবয়সী পুরুষ টেবিলে বসে পার্সেল প্যাক করছেন, পাশে দোকানের নীল স্টিকারের শিট আর কুরিয়ারের সাদা লেবেল সাজানো
মাল সাপ্লায়ারের, কিন্তু পার্সেলের ওপর নামটা আপনার দোকানের

ড্রপশিপিং কার জন্য না?

যিনি ভাবছেন ড্রপশিপিং মানে ঘরে বসে কিছু না করে আয়, তাঁর জন্য না। মাল রাখার কাজটা সাপ্লায়ার করছেন ঠিকই, কিন্তু অ্যাড চালানো, ইনবক্সের উত্তর, কনফার্মেশন কল, দেরি হলে কাস্টমারকে বোঝানো আর হিসাব মেলানো, সবই আপনার। দিনে কয়েক ঘণ্টা ফোনে থাকতে না পারলে এই কাজ চলবে না।

যে প্রোডাক্টে মান হাতে নিয়ে না দেখলে বোঝা যায় না, সেখানে ড্রপশিপিং ঝুঁকির। মধু, ঘি, তেলের মতো খাবার, মেয়াদ আছে এমন কসমেটিকস আর স্কিনকেয়ার এর মধ্যে পড়ে। কোন লটে কী গেল আপনি দেখতে পাচ্ছেন না, অথচ কাস্টমারের শরীরে বা পেটে কিছু হলে দায়টা আপনার নামে আসে।

যে প্রোডাক্টে দামের ফারাক খুব কম, সেখানেও না। সাপ্লায়ারের দাম আর বাজারের দামের মধ্যে যদি দুই-তিনশো টাকার বেশি জায়গা না থাকে, তাহলে ওপরের হিসাবের মতো অ্যাড আর ফেরতের খরচ বাদ দিলে কিছুই থাকবে না।

আর যিনি নিজের একটা ব্র্যান্ড দাঁড় করাতে চান, তাঁর জন্য ড্রপশিপিং শুরুর সিঁড়ি হতে পারে, শেষ জায়গা না। পার্সেল কেমন প্যাক হবে আর কবে পৌঁছাবে, এটা যতদিন অন্যের হাতে, ততদিন কাস্টমার আপনার দোকান নিয়ে কী ভাববেন সেটাও পুরোপুরি আপনার হাতে নেই।

ড্রপশিপিং থেকে নিজের স্টকে কখন যাবেন?

ড্রপশিপিং সবচেয়ে বেশি কাজে আসে কম ঝুঁকিতে নতুন প্রোডাক্ট টেস্ট করার সময়। একটা প্রোডাক্ট যখন টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত অর্ডার আনছে, আর ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের হিসাবে লাভ থাকছে, তখন সেটা নিজের স্টকে নেওয়ার কথা ভাবুন। ওপরের উদাহরণে নিজের স্টকে ডেলিভারিপ্রতি লাভ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। যে প্রোডাক্ট মাসের পর মাস বিক্রি হচ্ছে, সেখানে এই বাড়তি লাভ ছেড়ে দেওয়ার মানে হয় না।

ধাপে ধাপে যান। প্রথমবার হয়তো এক সপ্তাহের বিক্রির সমান মাল কিনুন, বাকিটা ড্রপশিপিংয়েই চলুক। তাতে নিজের প্যাকিং আর ডেলিভারির গতি দেখে নিতে পারবেন, অথচ একসাথে বেশি টাকা আটকাবে না। নতুন প্রোডাক্টগুলো ড্রপশিপিংয়ে টেস্ট করতে থাকুন, আর যেটা চলে সেটা স্টকে আনুন। অনেক সেলার এই দুই মডেল একসাথেই চালান।

এই সময়ে হিসাব গুছিয়ে না রাখলে গোলমাল লাগবেই, কারণ কিছু মাল আপনার ঘরে আর কিছু সাপ্লায়ারের কাছে। WinningSeller-এ সাপ্লায়ার আর পারচেজ অর্ডার রাখার জায়গা আছে, তাই কার কাছ থেকে কত পিস কত দামে কিনলেন সেটা লেখা থাকে। লাভ-ক্ষতি গোনা হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, আর অ্যাড খরচের হিসাবও সাথে রাখা যায়। নতুন নম্বর থেকে অর্ডার এলে নম্বর দিয়ে ফ্রড চেক করে নিতে পারেন, আর চাইলে শুধু ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নিতে পারেন। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন। আর পেজ খোলা থেকে কুরিয়ার, পেমেন্ট আর ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত পুরো ব্যবসাটা কীভাবে সাজাবেন, সেটা পাবেন অনলাইন ব্যবসা শুরুর পুরো গাইডে।

সাধারণ প্রশ্ন

ড্রপশিপিং শুরু করতে কত টাকা লাগে?

স্টক কেনার টাকা লাগে না, কিন্তু অ্যাড আর ফেরত পার্সেলের চার্জের টাকা লাগে। ধরুন একটা প্রোডাক্ট ছোট অ্যাডে টেস্ট করার জন্য ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা আলাদা রাখলেন, এটা উদাহরণ মাত্র, বাঁধা কোনো নিয়ম না। এর সাথে সাপ্লায়ারের কাছ থেকে নিজের জন্য একটা স্যাম্পল কেনার টাকাও রাখুন।

বাংলাদেশে ড্রপশিপিং কি বৈধ?

ড্রপশিপিং নিয়ে আলাদা কোনো আইন বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার আমরা খুঁজে পাইনি। তবে দেশের ভেতরে অনলাইনে বিক্রি করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ মেনে চলতে হয়। কত দিনে ডেলিভারি দিতে হবে, কত টাকা অগ্রিম নেওয়া যায়, স্টক না থাকলে পেজে কী লিখতে হবে, এসবের নিয়ম ওখানে আছে। ট্রেড লাইসেন্স বা DBID-র মতো কাগজ কখন লাগে, সেটা পুরো গাইডে আলাদা করে বলা আছে।

ড্রপশিপিং কি হালাল?

এটা ফিকহের প্রশ্ন, আমরা এখানে ফতোয়া দিচ্ছি না। আলেমদের আলোচনার মূল জায়গা হলো হাকিম ইবনে হিযাম (রা.)-এর হাদিস, "যা তোমার কাছে নেই তা বিক্রি করো না" (আবু দাউদ ৩৫০৩, তিরমিজি ১২৩২)। islamqa.info-এর মতো ফতোয়ার সাইটে অন্য পথ হিসেবে সাপ্লায়ারের এজেন্ট হয়ে আগে থেকে ঠিক করা কমিশনে বিক্রির কথা বলা আছে, তাই নিজের চুক্তিটা একজন বিশ্বস্ত আলেমকে দেখিয়ে নিন।

ওয়েবসাইট ছাড়া কি ড্রপশিপিং করা যায়?

যায়। শুরুতে অনেকে শুধু ফেসবুক পেজ আর ইনবক্সে অর্ডার নিয়ে সাপ্লায়ারকে লিস্ট পাঠান। তবে অর্ডার বাড়লে ইনবক্স থেকে ঠিকানা আর নম্বর তুলতে গিয়ে ভুল হতে থাকে, আর ভুল ঠিকানার পার্সেল ফেরত আসে। তখন অর্ডার ফর্মসহ একটা ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ কাজে আসে।

AliExpress থেকে কি বাংলাদেশে ড্রপশিপিং করা যায়?

কাগজে সম্ভব হলেও বাস্তবে খুব কঠিন। বিদেশি সাপ্লায়ার আগে ডলারে টাকা চান, অথচ আমাদের কাস্টমার পার্সেল হাতে পেয়ে টাকা দিতে চান। পার্সেল আসতে সপ্তাহ পেরিয়ে যায়, কাস্টমসে শুল্কও ধরতে পারে। কাস্টমার পার্সেল না নিলে সেটা বিদেশে ফেরত পাঠানোর কোনো সহজ রাস্তা নেই।

ড্রপশিপিংয়ের জন্য সাপ্লায়ার কোথায় পাব?

পাইকারি মার্কেটের দোকান আর ফেসবুকের পাইকারি গ্রুপে অনেক সাপ্লায়ার নিজেরাই "রিসেলার নেওয়া হচ্ছে" লিখে পোস্ট দেন। কথা বলার আগে জেনে নিন তিনি সরাসরি আপনার কাস্টমারের কাছে পার্সেল পাঠান কি না, কার নামে পাঠান, আর COD-র টাকা কবে দেন। তারপর নিজের ঠিকানায় একটা অর্ডার দিয়ে প্যাকিং আর সময় নিজে দেখে নিন।

#ড্রপশিপিং#স্টক ছাড়া ব্যবসা#সাপ্লায়ার#রিসেলার#ক্যাশ অন ডেলিভারি#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়