ফেসবুক বুস্টিং সার্ভিসে ডলার নেবেন? আসল রেট কষুন, পেজ রাখুন নিজের হাতে
কার্ড নেই, তাই বুস্টিং সার্ভিসে টাকা দিয়ে অ্যাড চালান? ১০০ ডলারে আসলে কত টাকা যায়, পেজ আর পিক্সেল নিজের হাতে রাখবেন কীভাবে, টাকা দেওয়ার আগে কোন ৮টা প্রশ্ন করবেন, আর এজেন্সির রিপোর্ট নিজে মেলাবেন যেভাবে।

এই লেখায় যা আছে
- ফেসবুক বুস্টিং সার্ভিস কীভাবে কাজ করে, টাকা কার অ্যাকাউন্টে যায়?
- বুস্টিং সার্ভিসের ডলার রেট কত, ১০০ ডলারে আসলে কত টাকা যায়?
- এজেন্সির অ্যাড অ্যাকাউন্ট নাকি নিজের অ্যাকাউন্টে পার্টনার অ্যাক্সেস?
- টাকা পাঠানোর আগে এজেন্সিকে কোন ৮টা প্রশ্ন করবেন?
- বুস্টিং এজেন্সির কোন কথা শুনলে সরে আসবেন?
- অ্যাড চলছে কি না, রিসিট আর রিপোর্ট নিজে মেলাবেন যেভাবে
- কখন নিজের ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে চলে যাবেন?
ফেসবুক বুস্টিং সার্ভিস মানে আপনি কোনো এজেন্সি বা মানুষকে bKash বা ব্যাংকে টাকা দেন, আর তিনি নিজের কার্ড বা অ্যাড অ্যাকাউন্ট থেকে ডলারে আপনার পেজের অ্যাড চালিয়ে দেন। কার্ড না থাকলে এটা একদম চলনসই রাস্তা, এতে লজ্জার কিছু নেই। শুধু টাকা পাঠানোর আগে তিনটা জিনিস মিলিয়ে নেবেন। VAT আর সব চার্জ ধরে এক ডলারে আসলে কত টাকা যাচ্ছে, সেটা আগে কষে দেখুন। পেজ আর পিক্সেল যেন আপনার নামেই থাকে, এজেন্সি যেন পায় শুধু অ্যাড চালানোর অ্যাক্সেস, পাসওয়ার্ড না। আর যত ডলারের টাকা দিলেন, তত ডলার খরচ হলো কি না, সেটা যেন আপনি নিজের চোখে মেলাতে পারেন।
ধরুন ঈদের দশ দিন আগে, রাত এগারোটা। নতুন পাঞ্জাবির ছবি তুলে পোস্ট দিয়েছেন, লাইক-কমেন্টও আসছে, মনে হচ্ছে এখনই একটু বুস্ট দিলে মালগুলো বের হয়ে যাবে। কিন্তু কার্ড নেই, আর এত রাতে ব্যাংকে দৌড়ানোর উপায়ও নেই। সেলারদের একটা গ্রুপে পোস্ট দিলেন, পাঁচ মিনিটে বিশটা কমেন্ট পড়ে গেল। কেউ লিখেছে "ভাই ইনবক্স", কেউ "ডলার ১২৮", কেউ আবার "সবচেয়ে কম রেটে বুস্ট, গ্যারান্টি"। বুকটা একটু ধুকপুক করে, তাই না? কষ্টের টাকা, কাকে পাঠাবেন? যে সবচেয়ে কম রেট বলল, তাকে?
এই প্রশ্নের উত্তরটাই নিচে ধাপে ধাপে দিচ্ছি। পড়া শেষে আপনি নিজেই দুইটা রেটের আসল দাম কষতে পারবেন, আর জানবেন কোন কথা শুনলে ভদ্রভাবে "থাক ভাই" বলে সরে আসতে হয়।
ফেসবুক বুস্টিং সার্ভিস কীভাবে কাজ করে, টাকা কার অ্যাকাউন্টে যায়?
Meta বাংলাদেশ থেকে অ্যাডের টাকা নেয় ডলারে, সাধারণত কার্ড দিয়ে। যাঁর ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেই, তিনি নিজে Meta-কে পেমেন্ট দিতে পারেন না। বুস্টিং সার্ভিস এই ফাঁকটাই ভরায়। আপনি তাদের টাকায় পেমেন্ট দেন, তারা নিজের দিক থেকে ডলারে Meta-কে দেয়। মাঝখানে তাদের লাভটা থাকে ডলারের রেটে।
কাজটা সাধারণত দুইভাবে হয়, আর এই পার্থক্যটা বোঝা খুব জরুরি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যাড চলে এজেন্সির নিজের অ্যাড অ্যাকাউন্ট থেকে। আপনার পেজে তাদের অ্যাড চালানোর অনুমতি দেওয়া থাকে, তারা নিজের অ্যাকাউন্টে বসে আপনার পেজের নামে অ্যাড বানায়, আর বিল কাটে তাদের কার্ড থেকে। অ্যাডটা মানুষ দেখে আপনার পেজের নামে, কিন্তু অ্যাকাউন্ট, খরচের ইতিহাস আর রিপোর্ট সবই থাকে এজেন্সির কাছে।
অন্য ব্যবস্থায় অ্যাকাউন্টটা আপনার নিজের। এজেন্সি পার্টনার হিসেবে ঢুকে সেখানে কাজ করে, আর পেমেন্ট মেথডটা হয় আপনার। এই দুটোর কোনটা আপনার জন্য ঠিক, সেটা নিচে আলাদা করে বলছি।
তাহলে আপনার টাকাটা আসলে যায় কোথায়? আপনি টাকা পাঠান এজেন্সির bKash বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। সেখান থেকে Meta পর্যন্ত বাকি পথটা আপনি দেখতে পান না। এজেন্সি কোন কার্ডে, কার নামে Meta-কে পেমেন্ট দিচ্ছে, সেটাও আপনার জানার উপায় নেই। এজন্যই পুরো সম্পর্কটা দাঁড়িয়ে থাকে বিশ্বাস আর রিপোর্টের ওপর। বিশ্বাসটা আপনি ঠিক করবেন মানুষ দেখে, আর রিপোর্টটা মেলাবেন নিজের হাতে।

বুস্টিং সার্ভিসের ডলার রেট কত, ১০০ ডলারে আসলে কত টাকা যায়?
গ্রুপে সবার প্রথম প্রশ্ন এটাই, "ভাই ডলার কত?" সত্যি বলতে বুস্টিং সার্ভিসের ডলার রেট দিন আর এজেন্সি ভেদে বদলায়, কোনো বাঁধা রেট নেই। তাই কে কত বলল, সেই সংখ্যাটা একা কিছু বোঝায় না। আসল প্রশ্ন হলো, ১০০ ডলারের অ্যাড চালাতে আপনার পকেট থেকে মোট কত টাকা বের হবে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয় VAT নিয়ে। Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, জুন ২০২১ থেকে অ্যাড অ্যাকাউন্টের ঠিকানা বাংলাদেশে হলে আর BIN নম্বর দেওয়া না থাকলে ওরা বিলের সাথে বাংলাদেশের হারে VAT যোগ করে। হারটা ১৫%, সেটার সোর্সসহ হিসাব ফেসবুক বুস্ট করার নিয়মের লেখায় আছে। এজেন্সির অ্যাকাউন্টেও এই খরচ কোথাও না কোথাও বসে। কেউ রেটের ভেতরে ধরে নেয়, কেউ আলাদা লাইনে চায়। কম রেট শুনে খুশি হওয়ার আগে তাই জেনে নিন রেটটা কীসের।
এবার একটা উদাহরণে দেখি। নিচের রেটগুলো বোঝানোর জন্য ধরে নেওয়া, কোনো এজেন্সির আসল রেট না। ধরুন দুটো সার্ভিস আপনাকে রেট দিল।
| এজেন্সি ক | এজেন্সি খ | |
|---|---|---|
| যা বলল | ডলার ১৩৫ টাকা, VAT সহ | ডলার ১২৮ টাকা, VAT আলাদা |
| ১০০ ডলারের অ্যাড | ১০০ × ১৩৫ = ১৩,৫০০ টাকা | ১০০ × ১২৮ = ১২,৮০০ টাকা |
| VAT ১৫% | রেটের ভেতরে | ১৫ ডলার × ১২৮ = ১,৯২০ টাকা |
| মোট যা দিলেন | ১৩,৫০০ টাকা | ১৪,৭২০ টাকা |
কাগজে যে এজেন্সিকে সস্তা মনে হচ্ছিল, শেষ হিসাবে তার কাছেই ১০০ ডলারে ১,২২০ টাকা বেশি গেল। এক ডলারে আসলে পড়ল ১৪৭ টাকার একটু বেশি। মাসে ৩০০ ডলার স্পেন্ড করলে শুধু এই ফারাকেই হাত থেকে বেরিয়ে যায় ৩,৬৬০ টাকা। ছোট একটা দোকানে এটা পুরো মাসের পলি আর প্যাকেজিংয়ের টাকা হতে পারে।
হিসাব কিন্তু এখানেই শেষ না। আরও দুটো জিনিস রেটকে চুপচাপ বাড়িয়ে দেয়, আর এ দুটো প্রায় কেউ খেয়াল করে না। একটা হলো না খরচ হওয়া ডলার। ধরুন এজেন্সি ক-কে ১০০ ডলারের টাকা দিলেন, কিন্তু অ্যাড বন্ধের দিন রিপোর্টে খরচ দেখাল ৯২ ডলার। বাকি ৮ ডলার যদি পরের বারে যোগ না হয়, তাহলে আপনার আসল রেট দাঁড়াল ১৩,৫০০ ÷ ৯২ = প্রায় ১৪৭ টাকা। অন্যটা হলো টাকা পাঠানোর খরচ। bKash বা ব্যাংক থেকে পাঠাতে আপনার যে চার্জ কাটে, সেটাও আসলে এই অ্যাডেরই খরচ, হিসাবে ধরতে ভুলবেন না।
তাই দুই এজেন্সির তুলনা করার একটাই নিয়ম রাখুন। প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করুন, "১০০ ডলারের অ্যাড চালাতে VAT আর সব চার্জ মিলিয়ে মোট কত টাকা পাঠাব, আর না খরচ হলে বাকি ডলারের কী হবে?" যে উত্তরটা এক লাইনে, পরিষ্কার অঙ্কে আসে, সেটাই তুলনার যোগ্য।

এজেন্সির অ্যাড অ্যাকাউন্ট নাকি নিজের অ্যাকাউন্টে পার্টনার অ্যাক্সেস?
এই প্রশ্নটা শুনতে টেকনিক্যাল লাগে, কিন্তু এখানে আপনি আসলে ঠিক করছেন আপনার ব্যবসার কোন জিনিসটা কার নামে থাকবে। রাস্তা তিনটা। দুটো চলে, একটা কখনো নেবেন না।
এজেন্সির নিজের অ্যাড অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাড চালানো
ছোট সেলারদের মধ্যে এটাই সবচেয়ে চালু। আপনার কার্ড লাগে না, ঝামেলাও কম। কিন্তু অ্যাড অ্যাকাউন্টটা এজেন্সির, তাই কোন অ্যাড কত টাকায় কয়টা মেসেজ বা অর্ডার আনল, সেই পুরো ইতিহাস তাদের কাছে থাকে। এজেন্সি চেঞ্জ করলে সেই ইতিহাস আপনার সাথে আসে না, নতুন জায়গায় আবার শূন্য থেকে শুরু। আরেকটা ঝুঁকি আছে। এজেন্সির অ্যাকাউন্টে অন্য কোনো ক্লায়েন্টের অ্যাডের কারণে ঝামেলা হলে Meta পুরো অ্যাকাউন্ট আটকে দিতে পারে, তখন আপনার চলতি অ্যাডও থেমে যায়। এই রাস্তায় যাবেন, তবে চোখ খোলা রেখে।
নিজের অ্যাড অ্যাকাউন্টে এজেন্সিকে পার্টনার করা
এখানে অ্যাকাউন্টটা থাকে আপনার বিজনেস পোর্টফোলিওতে, এজেন্সি সেখানে কাজ করার অনুমতি পায়। মালিকানার দিক থেকে এটাই সবচেয়ে নিরাপদ। খরচের ইতিহাস, অডিয়েন্স আর রিপোর্ট সবই আপনার নামে জমে। সমস্যা একটাই, পেমেন্ট মেথডটা আপনাকেই দিতে হবে। কিছু সার্ভিস তখন বলে "আমরা আপনার অ্যাকাউন্টে কার্ড অ্যাড করে দিচ্ছি"। এটা আসলে অন্যের কার্ড ভাড়া নেওয়া। কার্ডের মালিক কার্ড সরিয়ে নিলে বা ব্যাংকে গিয়ে লেনদেন অস্বীকার করলে ঝামেলাটা পড়ে আপনার অ্যাকাউন্টে, তার না। অন্যের নামের কার্ড কেন ভাড়া নেওয়া ঠিক না, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মসহ সেটা ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের লেখায় আছে। লিংকটা নিচে শেষের দিকে দিয়েছি।
পেজটাই এজেন্সির পোর্টফোলিওতে তুলে দেওয়া (এটা করবেন না)
কেউ কেউ বলেন, "পেজটা আমাদের বিজনেস ম্যানেজারে দিয়ে দিন, কাজে সুবিধা হবে।" এটা করবেন না। কোনো পোর্টফোলিওতে পেজ যোগ করা মানে Meta-র চোখে পেজটা সেই ব্যবসার নিজের। কেন এটা এত বিপজ্জনক আর ঠিক রাস্তাটা কী, সেটা মেটা বিজনেস স্যুট আর পোর্টফোলিওর লেখায় আছে।
এজেন্সিকে শুধু অ্যাডের অ্যাক্সেস দেবেন যেভাবে
তাহলে এজেন্সিকে অ্যাক্সেস দেবেন কীভাবে? Meta-র "Give a partner access to business assets" হেল্প পেজ অনুযায়ী কাজটা তিন ধাপের। আপনার নিজের পোর্টফোলিওতে full control থাকতে হবে, এজেন্সির কাছ থেকে তাদের Business portfolio ID নিতে হবে, আর Settings-এর Partners অংশ থেকে তাদের অ্যাক্সেস দিতে হবে। সেখানে পুরো কন্ট্রোল না দিয়ে শুধু নির্দিষ্ট কাজের, মানে অ্যাড চালানোর আংশিক অ্যাক্সেস দেওয়া যায়। এজেন্সির দরকার শুধু এটুকুই।
পিক্সেলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আপনার ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে যে পিক্সেল বসানো, সেটা থাকবে আপনার পোর্টফোলিওতে, এজেন্সি পাবে শুধু শেয়ার করা অ্যাক্সেস। এজেন্সি যদি নিজের পিক্সেল বসাতে চায়, তাহলে আপনার কাস্টমাররা কী দেখল আর কী কিনল, সেই সব ডেটা জমবে তাদের অ্যাকাউন্টে। কাল এজেন্সি চেঞ্জ করলে ফেসবুক আপনার কাস্টমারদের সম্পর্কে যা শিখেছিল, তার কিছুই আপনার কাছে থাকবে না।

টাকা পাঠানোর আগে এজেন্সিকে কোন ৮টা প্রশ্ন করবেন?
অনেকে ভাবেন এত প্রশ্ন করলে এজেন্সি রাগ করবে, কাজই করবে না। আসলে উল্টো। একটা ভালো সার্ভিস এই প্রশ্নগুলো শুনে খুশি হয়, কারণ শুরুতে কথা পরিষ্কার থাকলে পরে ঝগড়া কম হয়। আর যে বিরক্ত হয়, তার সম্পর্কে আপনি টাকা পাঠানোর আগেই কিছু একটা জেনে গেলেন। উত্তরগুলো ফোনে মুখে না নিয়ে ইনবক্সে লিখিত নিন, যাতে দরকার হলে পরে স্ক্রিনশট দেখাতে পারেন।
১. ডলার রেট কত, VAT সহ নাকি আলাদা? ওপরের হিসাবেই দেখলেন, এই এক প্রশ্নে ১০০ ডলারে হাজার টাকার বেশি ফারাক হতে পারে।
২. সর্বনিম্ন কত ডলার নিতে হয়, আলাদা সার্ভিস চার্জ আছে কি? কেউ ১০ ডলার থেকে নেয়, কেউ ৫০ ডলারের নিচে কাজ করে না। আবার কেউ রেটের ওপর অ্যাড বানানোর জন্য আলাদা ফি নেয়। সব মিলিয়ে মোট অঙ্কটা চান।
৩. কোন অ্যাড অ্যাকাউন্ট থেকে চলবে, আমার পেজে কোন অ্যাক্সেস লাগবে? উত্তর হতে হবে পার্টনার অ্যাক্সেস, শুধু অ্যাডের কাজের জন্য। পাসওয়ার্ড বা full control চাইলে ওখানেই কথা শেষ।
৪. না খরচ হওয়া ডলারের কী হবে? পরের বারে যোগ হবে, টাকা ফেরত দেবে, নাকি হারিয়ে যাবে, এটা আগেই ঠিক করুন। অ্যাড রিজেক্ট হলে বা আপনি মাঝপথে থামালে এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।

৫. রিপোর্ট কীভাবে দেবেন? অন্তত প্রতিটা অ্যাডের Ads Manager-এর স্ক্রিনশট চান, যেখানে তারিখ, Amount spent আর রেজাল্ট দেখা যায়। "অ্যাড ভালো চলছে ভাই" কোনো রিপোর্ট না।
৬. অ্যাড রিজেক্ট হলে বা অ্যাকাউন্ট আটকালে কী হবে? অ্যাকাউন্টটা এজেন্সির হলে রিভিউ চাইতেও পারবে শুধু তারাই। তারা কত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে, আর ততদিন আপনার টাকার কী হবে, সেটা জেনে রাখুন।
৭. পাবলিশের আগে অ্যাডটা আমি দেখতে পাব? ছবি, লেখা, কোন এলাকায় কাকে দেখাবে আর কোন লিংকে নিয়ে যাবে, সব পাবলিশের আগে একবার দেখে নিন। লিংকটা আপনিই দিন, আর তাতে নিজের একটা UTM ট্যাগ রাখুন। এর কাজ নিচে বলছি।
৮. টাকা কোথায় পাঠাব, রিসিট দেবেন তো? দোকান বা এজেন্সির নামের মার্চেন্ট নম্বর বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলে ভালো। প্রতিটা পেমেন্টের পর তারিখ, টাকা, রেট আর কত ডলার, এই চারটা লেখা একটা রিসিট বা মেসেজ চান। মাস শেষে এই রিসিটগুলোই আপনার হিসাবের ভিত।
বুস্টিং এজেন্সির কোন কথা শুনলে সরে আসবেন?
কিছু কথা শুনলে রেট যত কমই হোক, অন্য জায়গায় খোঁজ নিন। এগুলো সেলারদের মুখে মুখে ঘোরা পুরনো শিক্ষা, আর প্রায় প্রতিটার পেছনে কারও না কারও টাকা বা পেজ হারানোর কষ্ট আছে। সেই কষ্টটা আপনার না হলেই ভালো।
"পেজের লগইনটা দেন" বা "আমাদের BM-এ পেজটা দিয়ে দেন"। ওপরে বলেছি কেন, এখানে আর ছাড় নেই।
"এত টাকায় এতগুলো অর্ডার গ্যারান্টি"। অর্ডার আসবে কি না, সেটা নির্ভর করে আপনার প্রোডাক্ট, দাম, ছবি আর অর্ডারের পেজের ওপর। এজেন্সি অ্যাড চালাতে পারে, কাস্টমারের মন কেনার গ্যারান্টি দিতে পারে না। যে এই গ্যারান্টি দেয়, সে হয় না বুঝে বলছে, নয়তো জেনে বলছে। দুটোই আপনার জন্য খারাপ খবর।
"আমাদের অ্যাকাউন্টে যেকোনো প্রোডাক্টের অ্যাড চলে, কখনো আটকায় না"। Meta-র অ্যাডের নিয়ম সব অ্যাকাউন্টের সব অ্যাডে খাটে। যে প্রোডাক্টের অ্যাড আপনার পেজ থেকে রিজেক্ট হয়, অন্যের অ্যাকাউন্ট দিয়ে চালালেও পলিসি ভাঙছে আপনার পেজের অ্যাড। ধরা পড়লে আঘাতটা আসে আপনার পেজের ওপরেও।
রেট বাজারের চেয়ে অনেক কম, আর পুরো মাসের টাকা একবারে আগে চায়। অস্বাভাবিক সস্তা ডলারের পেছনে কখনো থাকে অন্যের কার্ড বা ধার করা অ্যাকাউন্ট, যা মাঝপথে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। শুরুতে ছোট অঙ্কে, ধরুন ২০ থেকে ৩০ ডলারে, এক সপ্তাহ চালিয়ে দেখুন। ভরসা হলে তবেই বড় অঙ্ক।
স্ক্রিনশট বা রিপোর্ট চাইলেই টালবাহানা করে। যে সত্যিই অ্যাড চালিয়েছে, তার কাছে Ads Manager-এর স্ক্রিনশট দিতে এক মিনিট লাগে। বারবার "ভাই বিশ্বাস রাখেন" শুনলে বুঝে নেবেন, মেলানোর মতো কিছু দেখানোর নেই।
"আমরা Meta-র অফিসিয়াল পার্টনার" অথচ কোনো প্রমাণ নেই। Meta-র Business Partners পেজ (facebook.com/business/marketing-partners) অনুযায়ী যোগ্য পার্টনাররা Meta Business Partner ব্যাজ পায়। ছোট একটা বুস্টিং সার্ভিসের এই ব্যাজ না থাকা দোষের কিছু না, বেশিরভাগেরই থাকে না। দোষ হলো না থাকা জিনিস দাবি করা। কেউ এই দাবি করলে ব্যাজের প্রমাণ চান।
অ্যাড চলছে কি না, রিসিট আর রিপোর্ট নিজে মেলাবেন যেভাবে
টাকা পাঠানোর পর মনে একটা খচখচানি থাকেই। অ্যাডটা সত্যিই চলছে তো? যত ডলারের টাকা দিলাম, তত ডলার খরচ হলো তো? রাতে শুয়ে এই চিন্তা করার দরকার নেই। ভয়টা দূর করার কাজটা খুব সহজ, সপ্তাহে দশ মিনিট লাগে।
শুরু করুন সবচেয়ে সোজা কাজটা দিয়ে, অ্যাডটা আদৌ চলছে কি না দেখে। Ad Library হলো Meta-র একটা ফ্রি পেজ। Meta-র transparency পেজ অনুযায়ী Facebook আর Instagram-এ এখন যত অ্যাড চলছে, যে কেউ সেখানে সার্চ করে দেখতে পারেন। সেখানে নিজের পেজের নাম লিখুন। আপনার পেজের নামে কোন কোন অ্যাড চলছে, আর প্রতিটা কবে থেকে চলছে, তা দেখাবে। এজেন্সি বলল তিনটা অ্যাড চলছে অথচ সেখানে একটাও নেই, তাহলে সাথে সাথে জিজ্ঞেস করুন।
এরপর খরচটা মেলান। অ্যাড শেষ হলে এজেন্সির কাছ থেকে Ads Manager-এর স্ক্রিনশট নিন, যেখানে ওই তারিখগুলোর Amount spent দেখা যায়। তারপর একটা সহজ ভাগ করুন। আপনি মোট যত টাকা পাঠিয়েছেন, তাকে ভাগ দিন রিপোর্টের খরচ হওয়া ডলার দিয়ে। এটাই আপনার আসল রেট। ওপরের উদাহরণে এটা ছিল ১৩,৫০০ ÷ ৯২, মানে প্রায় ১৪৭ টাকা। এই সংখ্যাটা প্রতি মাসে লিখে রাখলে দেখবেন কোন এজেন্সির কাছে আসলে কত পড়ছে।

আসল কাজটা কিন্তু এর পরে। অ্যাডের টাকাকে অর্ডারের সাথে মেলাতে হবে। এজেন্সির রিপোর্টে মেসেজ বা ক্লিক দেখাবে, কিন্তু আপনার ব্যবসা চলে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে। এজন্যই সাত নম্বর প্রশ্নে বলেছিলাম লিংকটা আপনি দেবেন। যেমন আপনার অর্ডারের পেজের লিংকের শেষে ?utm_source=facebook&utm_campaign=eid-panjabi লাগিয়ে দিন। এতে ওয়েবসাইটে বোঝা যায় কোন অর্ডার এই অ্যাড থেকে এলো।
তারপর হিসাবটা দাঁড়ায় এরকম। এটাও বোঝানোর জন্য একটা উদাহরণ। ১৩,৫০০ টাকার অ্যাড থেকে ৪০টা অর্ডার এলো। কনফার্ম কল আর কুরিয়ার পেরিয়ে ডেলিভারি হলো ৩৪টা। তাহলে প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে অ্যাড খরচ পড়ল ১৩,৫০০ ÷ ৩৪, মানে প্রায় ৩৯৭ টাকা। প্রতিটা পাঞ্জাবিতে আপনার লাভ যদি এর চেয়ে কম হয়, তাহলে এজেন্সি যতই ভালো রিপোর্ট দিক, অ্যাডটা আপনাকে লস দিচ্ছে। কথাটা শুনতে খারাপ লাগে, জানি। কিন্তু প্রথম মাসে এটা জানলে ক্ষতি অল্প, ছয় মাস পরে জানলে ততদিনে অনেক টাকা চলে যায়।
খাতায় এই হিসাব রাখা যায়, কিন্তু দিনে বিশ-ত্রিশটা অর্ডার হলে খাতা গুলিয়ে যায়। WinningSeller-এ এজেন্সিকে যত টাকা পাঠালেন, সেটা টাকার অঙ্কেই অ্যাড খরচ হিসেবে লিখে রাখতে পারেন, সাথে bKash রিসিটের ছবি আর ক্যাম্পেইনের নাম। ক্যাম্পেইনের নামটা লিংকের utm_campaign-এর সাথে মিললে লাভ-ক্ষতির রিপোর্ট নিজেই দেখিয়ে দেয় প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে অ্যাড খরচ কত পড়ল, আর ক্যাম্পেইনটার ROAS কত, মানে অ্যাডের এক টাকায় কত টাকার ডেলিভারি এলো। হিসাবটা আসে আপনার নিজের অর্ডার থেকে, এজেন্সির স্ক্রিনশট থেকে না।
কখন নিজের ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে চলে যাবেন?
বুস্টিং সার্ভিস খারাপ কিছু না। শুরুতে, যখন মাসে দুই-চারবার ছোট বুস্ট দেন, তখন এর চেয়ে সহজ রাস্তা খুব কম। পাসপোর্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখনো ঠিক না থাকলেও এটাই আপাতত ভরসা। আর এজেন্সি যদি অ্যাড বানানো, টার্গেট ঠিক করা আর ছবি বাছার কাজটাও ভালোভাবে করে দেয়, তাহলে ডলারের ওপর বাড়তি টাকাটা আসলে একটা সার্ভিসের দাম, সেটা দিতে আপত্তি নেই।
তবে কিছু লক্ষণ দেখলে বুঝবেন, নিজের কার্ডের কথা ভাবার সময় হয়েছে। প্রতি মাসেই যদি নিয়মিত ডলার স্পেন্ড হয়, তাহলে রেটের ওপরের বাড়তি টাকাটা আর ছোট থাকে না, মাসে মাসে জমে বড় হয়। এজেন্সি যদি শুধু টাকা নিয়ে অ্যাড চালায়, আর অ্যাড বানানো থেকে টার্গেট পর্যন্ত সব আপনি নিজেই করেন, তাহলে ওই বাড়তি টাকায় আপনি আসলে কোনো সার্ভিস কিনছেন না। আর যখন একই প্রোডাক্টে কয়েকটা অ্যাড পাশাপাশি টেস্ট করতে চাইবেন, তখন খরচের পুরো ইতিহাস নিজের অ্যাকাউন্টে জমে থাকাটা খুব কাজে লাগে।
কত টাকা বাঁচবে, সেটা নিজেই কষে দেখুন। এজেন্সির আসল রেট, মানে ওপরের ভাগ করে বের করা সংখ্যাটা লিখুন। পাশে লিখুন কার্ডে এক ডলারে আপনার কত পড়বে। এর জন্য VAT, ব্যাংকের ডলার রেট আর চার্জ, সব যোগ করতে হবে। দুইটার ফারাককে মাসের ডলার দিয়ে গুণ করুন। শুধু উদাহরণ হিসেবে, ফারাক যদি ডলারে ১০ টাকা হয় আর মাসে ৩০০ ডলার চালান, তাহলে মাসে ৩,০০০ টাকা, বছরে ৩৬,০০০ টাকা। এর সাথে কার্ডের বছরের ফি মেলান। কার্ডের ফি, ডলার রেট আর বছরে কত ডলার খরচ করা যায়, সেই নিয়ম আর কাগজপত্র সব ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের লেখায় সোর্সসহ আছে।

আরেকটা রাস্তাও এখন খোলা থাকতে পারে। The Business Standard ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ খবর দিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য bKash দিয়ে Meta-র অ্যাডের পেমেন্ট চালু হয়েছে। আপনার অ্যাড অ্যাকাউন্টের Payment settings-এ অপশনটা এসেছে কি না দেখে নিন। এলে কার্ড ছাড়াই নিজের অ্যাকাউন্টে অ্যাড চালাতে পারবেন।
যে রাস্তাতেই যান, একটা জিনিস বদলাবে না। পেজ, পিক্সেল আর কাস্টমারের লিস্ট থাকবে আপনার নিজের নামে, এজেন্সি আসবে আর যাবে। WinningSeller-এ পিক্সেল আর Conversions API বসে আপনার দোকানের নিজের সেটিংসে, তাই এজেন্সি চেঞ্জ করলেও ট্র্যাকিং আর অর্ডারের হিসাব আপনার কাছেই থাকে। কোন কোন ফিচার আছে, এক জায়গায় দেখে নিন।
আজকের কাজটা ছোট। যে এজেন্সির কাছে এখন অ্যাড দেন, তাদের ওপরের প্রথম চারটা প্রশ্ন লিখে পাঠান। উত্তর এলে ১০০ ডলারে মোট কত টাকা যায় সেটা কষে খাতায় লিখুন, আর Ad Library-তে নিজের পেজের নাম একবার সার্চ করুন। এক সন্ধ্যার কাজ, কিন্তু এরপর থেকে আপনি জানবেন প্রতিটা ডলার কোথায় যাচ্ছে।
সাধারণ প্রশ্ন
ফেসবুক বুস্টিং সার্ভিস কী?
ফেসবুক বুস্টিং সার্ভিস হলো এমন এজেন্সি বা মানুষ, যাঁকে আপনি টাকায় পেমেন্ট দেন আর তিনি নিজের কার্ড বা অ্যাড অ্যাকাউন্ট থেকে ডলারে আপনার পেজের অ্যাড চালিয়ে দেন। যাঁদের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেই, তাঁরাই সাধারণত এই রাস্তা নেন। এখানে আপনি আসলে ডলার কিনছেন, তাই রেট, অ্যাক্সেস আর রিপোর্ট তিনটাই দেখে নিতে হয়।
বুস্টিং সার্ভিসে ডলার রেট কত?
কোনো বাঁধা রেট নেই, দিন আর এজেন্সি ভেদে বদলায়। তাই শুধু "ডলার কত" জিজ্ঞেস করবেন না, জিজ্ঞেস করুন রেটে VAT ধরা আছে কি না, সর্বনিম্ন কত ডলার নিতে হয়, আর না খরচ হওয়া ডলারের কী হয়। এই তিনটা মিলিয়ে ১০০ ডলারে মোট কত টাকা যাবে, সেই অঙ্কটা দিয়েই দুই এজেন্সির তুলনা করবেন।
বুস্টিং সার্ভিসের টাকায় কি VAT লাগে?
Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, জুন ২০২১ থেকে অ্যাড অ্যাকাউন্টের ঠিকানা বাংলাদেশে হলে আর BIN নম্বর দেওয়া না থাকলে ওরা বিলের সাথে বাংলাদেশের হারে VAT যোগ করে। এজেন্সির অ্যাকাউন্টেও এই খরচটা কোথাও না কোথাও বসে, হয় রেটের ভেতরে, নয়তো আলাদা লাইনে। তাই টাকা দেওয়ার আগে লিখিতভাবে জেনে নিন রেটটা VAT সহ, নাকি VAT আলাদা।
এজেন্সি দিয়ে বুস্ট করালে কি পেজের ক্ষতি হতে পারে?
পেজের পাসওয়ার্ড দিলে, এজেন্সিকে full control দিলে বা পেজটা ওদের বিজনেস পোর্টফোলিওতে তুলে দিলে ক্ষতি হতে পারে, কারণ তখন পেজের মালিকানা বা পুরো চাবি অন্যের হাতে যায়। আপনার পোর্টফোলিও থেকে শুধু অ্যাড চালানোর পার্টনার অ্যাক্সেস দিলে পেজ আপনারই থাকে। কাজ শেষ হলে বা এজেন্সি চেঞ্জ করলে সেই অ্যাক্সেস সরিয়ে দিলেই হয়।
এজেন্সি সত্যিই আমার অ্যাড চালাচ্ছে কি না কীভাবে বুঝব?
Meta-র Ad Library-তে নিজের পেজের নাম লিখে সার্চ করুন। Facebook আর Instagram-এ এখন যত অ্যাড চলছে, সেখানে দেখা যায়, আর প্রতিটা অ্যাড কবে থেকে চলছে সেটাও লেখা থাকে। এর সাথে এজেন্সির কাছে Ads Manager-এর খরচের স্ক্রিনশট চেয়ে আপনার পাঠানো টাকার সাথে মিলিয়ে নিন।
কার্ড ছাড়া নিজের অ্যাড অ্যাকাউন্টে অ্যাড দেওয়ার কোনো উপায় আছে?
আছে কি না, সেটা আপনার অ্যাকাউন্টেই দেখে নিতে হবে। The Business Standard ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ খবর দিয়েছে যে বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য bKash দিয়ে Meta-র অ্যাডের পেমেন্ট চালু হয়েছে। নিজের অ্যাড অ্যাকাউন্টের Payment settings খুলে অপশনটা এসেছে কি না দেখুন, এলে এজেন্সি ছাড়াই নিজের অ্যাকাউন্টে অ্যাড চালাতে পারবেন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


