WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৫ মিনিটে পড়া যায়

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পোস্ট করার নিয়ম, অ্যাড ছাড়া অর্ডার আসে কি?

মার্কেটপ্লেসে প্রোডাক্ট দিলে কি অ্যাড ছাড়াই অর্ডার আসে? বাংলাদেশ থেকে কারা পোস্ট করতে পারেন, কী দেওয়া যায় না, লিস্টিং ধাপে ধাপে, লিস্টিং সরে গেলে কী করবেন, মেসেজের প্রতারণা চেনা, আর কোন সেলারের জন্য এটা আসলেই কাজের, টাকার হিসাবসহ।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পোস্ট করার নিয়ম, অ্যাড ছাড়া অর্ডার আসে কি?
এই লেখায় যা আছে
  1. বাংলাদেশে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস চলে কি, পেজ থেকে না প্রোফাইল থেকে?
  2. কোন জিনিস মার্কেটপ্লেসে দেওয়া যায় না
  3. ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পোস্ট করার নিয়ম, ধাপে ধাপে
  4. ছবি, দাম আর লোকেশন, কোনটায় মেসেজ বেশি
  5. মেসেজ এলে কী লিখবেন, "Is this still available?" থেকে অর্ডার পর্যন্ত
  6. মার্কেটপ্লেসের এক সপ্তাহ, টাকার হিসাবে (উদাহরণ)
  7. লিস্টিং সরে গেলে বা অ্যাকাউন্ট আটকালে
  8. মার্কেটপ্লেসের মেসেজে প্রতারণা আর সময় নষ্ট চিনবেন যেভাবে
  9. কোন সেলারের জন্য মার্কেটপ্লেস, কার জন্য না?
  10. আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পোস্ট করার নিয়ম আসলে সহজ। নিজের মূল ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ফোনের অ্যাপে Marketplace খুলবেন, "Create new listing" চেপে "Item for sale" সিলেক্ট করবেন। তারপর নিজের তোলা ছবি দেবেন, টাইটেল, দাম, কন্ডিশন আর ডেসক্রিপশন লিখবেন, লোকেশন ঠিক আছে কি না দেখবেন, আর Publish চাপবেন। বাংলাদেশ থেকে এটা চলে, কিন্তু লিস্টিং খোলা হয় প্রোফাইল থেকে, পেজ থেকে না। প্রোডাক্টটা Meta-র Commerce Policies-এ নিষিদ্ধ হলে লিস্টিং টিকবে না। আর অর্ডার আসে কি না? আসে, তবে কতগুলো আসবে, সেটা অ্যাডের মতো আপনার বাজেটের হাতে থাকে না। কোন প্রোডাক্টে আর কোন সেলারের জন্য এটা কাজের, টাকার হিসাবসহ সেটা নিচে খোলাখুলি বলছি।

ধরুন এই মাসের ডলার শেষ, পেজের অ্যাড বন্ধ। কেউ বললেন, "মার্কেটপ্লেসে দাও ভাই, ফ্রি।" রাতে দশটা প্রোডাক্ট তুলে দিলেন। সকালে উঠে দেখলেন বিশটা মেসেজ, প্রায় সবগুলোতে একটাই লাইন, "Is this still available?" তিনজন জানতে চাইছেন বাসায় এসে নেওয়া যাবে কি না, আর একজন একটা "কোড" চাইছেন। মার্কেটপ্লেসে নতুন প্রায় সব সেলারের প্রথম সকালটা এমনই যায়। এই লেখা ওই সকালটার জন্য।

বাংলাদেশে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস চলে কি, পেজ থেকে না প্রোফাইল থেকে?

চলে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Facebook-এর Marketplace directory পেজে দেশের লিস্টে বাংলাদেশ আছে, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী আলাদা করে দেখানো আছে। কে ইউজ করতে পারবেন, সেটা Help Center-এর "Who can use Facebook Marketplace" পেজে লেখা (একই মাসে দেখা)। প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, নিজের মূল প্রোফাইল থেকে ঢুকতে হবে, additional profile থেকে না, আর এটা চলে ফোনের Facebook অ্যাপে। নতুন খোলা বা অনেকদিন বন্ধ থাকা অ্যাকাউন্টে মার্কেটপ্লেস আটকে থাকতে পারে। তাই দোকানের জন্য নতুন প্রোফাইল খুলে মার্কেটপ্লেসে নামার বুদ্ধিটা প্রথম দিনেই আটকে যায়।

এবার পেজের প্রশ্ন। Help Center-এর "Ways to sell on Facebook" পেজে বিক্রির তিনটা রাস্তা আলাদা করে লেখা, মার্কেটপ্লেস, কেনাবেচার গ্রুপ আর পেজ। লিস্টিংয়ের ধাপগুলোও শুরু হয় প্রোফাইলের মার্কেটপ্লেস থেকে। আর Meta-র নিউজরুমে ২৪ জুলাই ২০২৬-এর লেখায় তারা নিজেরাই বলেছে, ছোট ব্যবসাকে মার্কেটপ্লেসে লিস্টিং দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সেটা এখনো ভেবে দেখছে। মানে এই মুহূর্তে শপ পেজের নামে লিস্টিং দেওয়ার কোনো সাধারণ রাস্তা নেই।

এর একটা দিক অনেকে খেয়াল করেন না। মার্কেটপ্লেসে কাস্টমার আপনার দোকানের নাম দেখেন না, দেখেন আপনার নিজের নাম আর প্রোফাইল ছবি। অনেকে মেসেজ দেওয়ার আগে প্রোফাইলে চাপ দিয়ে দেখেন মানুষটা আসল কি না, আর প্রোফাইল একদম ফাঁকা হলে মেসেজই দেন না। আবার অনেক সেলারের প্রোফাইলে পরিবারের ছবি সবার জন্য খোলা থাকে। লিস্টিং দেওয়ার আগে নিজের প্রোফাইলটা একবার অচেনা মানুষের চোখে খুলে দেখুন।

Meta-র Commerce Policies-এ আরেকটা কথা আছে, যেটা জেনে রাখা ভালো। মার্কেটপ্লেস বানানো হয়েছে মানুষ থেকে মানুষে কেনাবেচার জন্য। ব্যবসা হিসেবে বেচলে বাধা আসতে পারে, এমনকি মার্কেটপ্লেস বন্ধও হতে পারে। তবে এই কথা সেখানে শুধু EEA, ফিলিপাইন আর ভারতের নাম ধরে বলা, বাংলাদেশের নাম নেই। তবু দিনে চল্লিশটা লিস্টিং দেওয়া প্রোফাইল দেখতে দোকানের মতোই লাগে। কোনোদিন নিয়মটা বাংলাদেশেও এলে ধাক্কাটা লাগবে আপনার নিজের প্রোফাইলে, পেজে না।

জুলাইয়ে কিছু বাংলা অনলাইন পত্রিকায় "ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বিক্রেতাদের জন্য আসছে বড় চমক" হেডলাইনে খবর এসেছিল। খবরের উৎস Meta-র নিউজরুমে ২৪ জুলাই ২০২৬-এর লেখাগুলো। সেখানে নিয়মিত সেলারদের জন্য "Seller" নামে আলাদা অ্যাপের কথা আছে, কিন্তু Meta নিজেই লিখেছে অ্যাপটা আপাতত শুধু যুক্তরাষ্ট্রে, App Store-এ। ভিডিও সেলফি দিয়ে ফ্রি "Facebook Verified" ব্যাজও চালু হচ্ছে ধাপে ধাপে, বাছাই করা কিছু দেশে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে এই লেখাগুলোর কোথাও বাংলাদেশের নাম নেই, তাই এগুলোর ভরসায় এখনই কোনো প্ল্যান করবেন না।

কোন জিনিস মার্কেটপ্লেসে দেওয়া যায় না

কী বেচা যাবে, সেটা ঠিক করে Meta-র Commerce Policies। ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেখানে চব্বিশটা নিষেধের ঘর আছে। সবগুলো মুখস্থ করার দরকার নেই, আমাদের দেশের সেলাররা যেগুলোতে বারবার আটকান, সেগুলো জানলেই চলে।

হারবাল আর স্বাস্থ্যের প্রোডাক্ট দিয়ে শুরু করি। মেডিকেল আর হেলথকেয়ার প্রোডাক্টের ঘরে খাওয়ার সাপ্লিমেন্টও পড়ে। তাই ওজন কমানোর চা, হারবাল ক্যাপসুল বা "চুল গজানোর তেল" পেজে যত ভালোই চলুক, মার্কেটপ্লেসে সেই লিস্টিং টেকার কথা না। খোলা বা ইউজ করা কসমেটিকস, আসল প্যাকেট ছাড়া কসমেটিকস, আর "মাস্টার কপি" লিখে বেচা নামী ব্র্যান্ডের নকলও নিষেধ। নকল ব্র্যান্ড বেচা আইনের চোখেও ঝামেলার কাজ, তাই এটা মার্কেটপ্লেসের বাইরেও করবেন না। এই তিনটার খুঁটিনাটি, বড় বোতল থেকে ভরা পারফিউম থেকে অন্যের পেজের ছবি পর্যন্ত, পেজ রেস্ট্রিক্টেড হলে কী করবেন, সেই লেখায় আছে।

মার্কেটপ্লেসে স্ক্রল করলে পাখি বা বিড়ালের বাচ্চার পোস্ট চোখে পড়ে, তাই অনেকে ভাবেন প্রাণী বেচা চলে। চলে না, Commerce Policies-এ প্রাণী বেচা নিষেধের লিস্টে আছে। অন্যরা দিচ্ছেন দেখে আপনি দিলে রিজেক্টটা আসবে আপনার প্রোফাইলে। মদ, তামাক আর অস্ত্র তো আছেই। গাড়ি-বাইকের পার্টসের জন্যও "Vehicle parts" নামে আলাদা ঘর আছে, বাইকের পার্টস বা এক্সেসরিজ বেচলে লিস্টিং দেওয়ার আগে ঘরটা নিজে একবার পড়ে নিন।

নতুনরা প্রায়ই যেটায় আটকান, সেটা হলো এমন লিস্টিং, যেখানে আসলে কোনো প্রোডাক্টই নেই। Commerce Policies-এ এর নাম "No item for sale"। পেজের অফারের পোস্টার, "আমাদের পেজে ঢুকুন" লেখা লিস্টিং বা কোনো খবর এখানে চলে না। প্রতিটা লিস্টিংয়ে একটা আসল প্রোডাক্ট আর তার দাম থাকতে হবে।

একটা রিজেক্টেড লিস্টিং নিজে বড় কিছু না, কিন্তু বারবার হলে পুরো মার্কেটপ্লেসটাই আপনার জন্য বন্ধ হতে পারে। তাই শুরুর দিকের সেলার এলে আমার প্রথম পরামর্শ এটাই, নতুন ধরনের কোনো প্রোডাক্ট হলে আগে একটা লিস্টিং দিন। পরদিন "Your listings"-এ সেটা চালু আছে দেখে তারপর বাকিগুলো দিন।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পোস্ট করার নিয়ম, ধাপে ধাপে

Help Center-এর "Sell something on Facebook Marketplace" পেজে ধাপগুলো ছোট করে লেখা। নিচে সেগুলো সেই ক্রমে দিলাম, যে ক্রমে কাজটা আসলে হয়, যাতে একেকটা লিস্টিং পাঁচ মিনিটে হয়ে যায়।

  1. আগে ছবি তুলে গ্যালারিতে রাখুন। লিস্টিং খুলে তারপর ছবি তুলতে গেলে অর্ধেক লেখা অবস্থায় অ্যাপ বন্ধ হয়, আবার শুরু থেকে করতে হয়।
  2. ডেসক্রিপশনটা ফোনের নোটে লিখে রাখুন। প্রথম লাইনে "সারা দেশে কুরিয়ারে, ক্যাশ অন ডেলিভারি"। এরপর সাইজ, রং, ম্যাটেরিয়াল, ডেলিভারি চার্জ আর কয় দিনে পৌঁছায়।
  3. Marketplace খুলে "Create new listing", তারপর "Item for sale" চাপুন। "Add photos" থেকে ছবি দিন, যে ছবিতে প্রোডাক্টের পুরোটা দেখা যায় সেটা প্রথমে।
  4. টাইটেল, দাম, ক্যাটাগরি আর কন্ডিশন দিন। নতুন প্রোডাক্ট হলে কন্ডিশনে New। দাম লিখুন আসল দামটাই।
  5. নোট থেকে ডেসক্রিপশন বসান, লোকেশনটা দেখে নিন। অ্যাপ সাধারণত ফোনের লোকেশন ধরে নেয়, তবু চোখে দেখুন ঠিক এলাকা দেখাচ্ছে কি না।
  6. Next চাপুন, তারপর Publish। সব জরুরি ঘর না ভরলে Next চাপা যায় না, তখন খালি ঘরটা খুঁজুন।
একটা মোবাইল স্ক্রিনে মার্কেটপ্লেস লিস্টিং ফর্মের নকশা, ছেলেদের চামড়ার মানিব্যাগের তিনটা ছবি, টাইটেল, ৬৫০ টাকা দাম, কন্ডিশনে New, আর ডেসক্রিপশনের প্রথম লাইনে লেখা সারা দেশে কুরিয়ারে, ক্যাশ অন ডেলিভারি
ডেসক্রিপশনের প্রথম লাইনেই বলে দিন যে কুরিয়ারে পাঠান, বাসায় এসে নিতে হবে না

Publish চাপার পরেই কাজ শেষ না। লিস্টিং একটা রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে যায়। "Your listings"-এ গিয়ে দেখুন সেটা চালু আছে, নাকি পাশে "Needs attention" লেখা। অনেকে দশটা লিস্টিং দিয়ে ঘুমাতে যান, আর পরদিন খেয়াল করেন তিনটা প্রথম রাতেই আটকে ছিল।

একই প্রোডাক্টের অনেক পিস থাকলে প্রতিটার জন্য আলাদা লিস্টিং দেবেন না। Help Center-এ একাধিক পিসের লিস্টিংয়ের কথা আছে, ফর্মে পরিমাণের ঘর থাকলে সেখানে স্টক লিখুন। একই ছবি আর লেখায় দশটা লিস্টিং স্প্যামের মতো দেখায়। আর স্টক শেষ হলে "Mark as sold" করে দিন, যাতে কেউ না-থাকা জিনিসের জন্য মেসেজ না দেন।

ছবি, দাম আর লোকেশন, কোনটায় মেসেজ বেশি

কোনটায় ঠিক কত বেশি মেসেজ আসে, এমন মাপা হিসাব আমাদের কাছে নেই, Meta-র পেজেও লেখা নেই। তবে একটা জিনিস নিজের চোখেই দেখে নিন। গ্রিডে স্ক্রল করার সময় কাস্টমার একটা লিস্টিংয়ের তিনটা জিনিসই দেখেন, প্রথম ছবি, দাম আর জায়গা। চাপ দেবেন কি না, সেটা এই তিনটাই ঠিক করে।

প্রথম ছবি দিয়ে শুরু করি। প্রোডাক্টটা পুরো ফ্রেম জুড়ে থাকুক, পেছনে সাদা দেয়াল বা এক রঙের কাপড়। দিনের বেলায় জানালার পাশে তুললেই আলো যথেষ্ট। অনেক সেলার পেজের অফার পোস্টারটাই প্রথম ছবি দেন, লেখা আর লোগোতে ভরা। ছোট গ্রিডে ওই লেখা পড়াই যায় না, দেখতে অ্যাডের মতো লাগে। পরের ছবিগুলোতে পেছনের দিক, ভেতরটা আর হাতে ধরা একটা ছবি দিন, যাতে সাইজ বোঝা যায়।

একজন যুবক জানালার পাশে সাদা কাপড়ের ওপর একটা চামড়ার মানিব্যাগ রেখে মোবাইলে ওপর থেকে ছবি তুলছেন
জানালার আলো আর এক রঙের কাপড়, মার্কেটপ্লেসের প্রথম ছবির জন্য এটুকুই যথেষ্ট

দামের ঘরে আসল দামটাই লিখুন। কেউ কেউ মেসেজ টানতে ১ টাকা বা ১০ টাকা লিখে রাখেন, তারপর ইনবক্সে আসল দাম বলেন। এতে কাস্টমার রেগে যান, আর Help Center মার্কেটপ্লেসের প্রতারণার লিস্টে অস্বাভাবিক কম দামের লিস্টিংকে আলাদা করে চিহ্ন দিয়েছে। সতর্ক মানুষ এমন লিস্টিং দেখে মেসেজই দেন না। ডেলিভারি চার্জ ডেসক্রিপশনে আলাদা লিখুন, ঢাকায় কত আর বাইরে কত।

লোকেশনে সেই জায়গাটাই রাখুন, যেখানে আপনি আসলেই থাকেন। মার্কেটপ্লেস বানানোই হয়েছে কাছের মানুষের সাথে কেনাবেচার জন্য, Help Center-এ দূরত্ব দিয়ে লিস্টিং সাজানোর লেখাও আছে। রংপুরে বসে লোকেশন ঢাকা দিলে মিরপুরের মানুষ লিখবেন "আজ বিকেলে এসে নিতে পারি?"। "কুরিয়ারে পাঠাব" শুনে অনেকে চলে যাবেন, আর বাকিরা ভাববেন আপনি ভুল তথ্য দিয়েছেন। নিজের শহরের লোকেশনে মেসেজ কম আসতে পারে, কিন্তু তাঁদের পার্সেল দ্রুত পৌঁছায়।

টাইটেলে সেটাই লিখুন, যেটা কাস্টমার সার্চের ঘরে লেখেন। "অফার!!! সেরা কালেকশন" কেউ সার্চ করেন না, "ছেলেদের চামড়ার মানিব্যাগ, খয়েরি" করেন।

মেসেজ এলে কী লিখবেন, "Is this still available?" থেকে অর্ডার পর্যন্ত

মার্কেটপ্লেসে কাস্টমার এক চাপে একটা তৈরি মেসেজ পাঠাতে পারেন, তাই "Is this still available?" আসবে সবচেয়ে বেশি, অনেকগুলোই শুধু ঘুরে দেখার চাপ। প্রতিটার উত্তর আলাদা টাইপ করলে দিনের এক ঘণ্টা এখানেই যায়। একটা তৈরি উত্তর ফোনের নোটে বা কীবোর্ডের ক্লিপবোর্ডে রেখে দিন।

"জি, আছে। দাম ৬৫০ টাকা, সারা দেশে কুরিয়ারে পাঠাই, হাতে পেয়ে টাকা দেবেন। ঢাকায় ডেলিভারি চার্জ … টাকা, বাইরে … টাকা। নিতে চাইলে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর আর পুরো ঠিকানা একসাথে লিখে দিন।"

এই উত্তর কাস্টমারের তিনটা প্রশ্নের জবাব এক মেসেজেই দিয়ে দেয়, দাম কত, বাসায় আসবে কি না আর আগে টাকা লাগবে কি না। তারপর পরের কাজটা স্পষ্ট বলে দেয়। যাঁর আসলেই দরকার, তিনি ঠিকানা লেখেন। যিনি শুধু দেখছিলেন, তিনি চুপ হয়ে যান, তাঁর পেছনে আর সময় যায় না। উত্তর দিন যত তাড়াতাড়ি পারেন, কারণ একই জিনিস আরও দশজন বেচছেন।

দুটো মোবাইল স্ক্রিনের নকশা, বাঁয়েরটায় ফোনের নোটে লিখে রাখা তৈরি উত্তর, ডানেরটায় মার্কেটপ্লেসের চ্যাটে Is this still available-এর নিচে পেস্ট করা সেই উত্তর, যাতে দাম, ডেলিভারি চার্জ আর নাম-নম্বর-ঠিকানা চাওয়ার লিস্ট
একবার লিখে রাখা উত্তর, প্রতিটা Is this still available-এ শুধু পেস্ট করলেই হয়

ঠিকানা পাওয়ার পর কাজটা পেজের অর্ডারের মতোই। কনফার্মের একটা ফোন দিন, দাম আর ঠিকানা মুখে মিলিয়ে নিন। কী বলবেন, সেটা কাস্টমারের সাথে কথা বলার লেখায় লাইন ধরে আছে। মার্কেটপ্লেসের কাস্টমার আপনার পেজের রিভিউ দেখেননি, তাই এই ফোনটাই তাঁর কাছে দোকানের প্রথম পরিচয়।

প্রথম সপ্তাহে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। মার্কেটপ্লেসের মেসেজ আসে নিজের প্রোফাইলের মেসেঞ্জারে, পেজের ইনবক্সে না। পেজের অর্ডার এক জায়গায়, মার্কেটপ্লেসের অর্ডার আরেক জায়গায়, আর তিন দিন পর মনে থাকে না কাকে পার্সেল পাঠানো হয়েছে। তাই ঠিকানা পাওয়া মাত্র অর্ডারটা আপনার আসল অর্ডার লিস্টে তুলুন, পাশে লিখুন "মার্কেটপ্লেস"।

WinningSeller-এ এটা হয় Orders পেজের "নতুন অর্ডার" বাটন থেকে। কাস্টমারের মেসেজটা কপি করে স্মার্ট পেস্টে দিলে নাম, নম্বর আর ঠিকানা নিজে থেকে ঘরে বসে, আপনি শুধু মিলিয়ে দেখেন। "অর্ডার কোথা থেকে এসেছে" ঘরে "অন্যান্য" দিন, আর নিজের বানানো "মার্কেটপ্লেস" ট্যাগটা লাগান। এরপর অর্ডারটা দোকানের বাকি অর্ডারের সাথে একই লিস্টে থাকে, একই স্টক থেকে কাটে, আর Steadfast, Pathao বা RedX-এ এক ক্লিকে পার্সেল বুক হয়। পরিষ্কার বলে রাখি, WinningSeller মার্কেটপ্লেসে আপনার হয়ে লিস্টিং দেয় না, মার্কেটপ্লেসের মেসেজও পড়ে না। কাজ শুরু হয় আপনি অর্ডারটা তোলার পর থেকে। বাকি টুল সব ফিচারের পেজে আছে।

মার্কেটপ্লেসের অর্ডারও একই লিস্টে তুলে রাখুনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

মার্কেটপ্লেসের এক সপ্তাহ, টাকার হিসাবে (উদাহরণ)

"ফ্রি" শুনলে মনে হয় যা আসে সবই লাভ। একটা হিসাব কষে দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না, আর মার্কেটপ্লেস থেকে এত অর্ডার আসবেই, এমন কথাও না। নিজের দাম বসিয়ে মিলিয়ে নিন।

ধরুন আপনি ছেলেদের চামড়ার মানিব্যাগ বেচেন ৬৫০ টাকায়। কিনতে পড়ে ৩৪০ টাকা, প্যাকেট আর স্টিকারে ১৫ টাকা, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। তাহলে একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে হাতে থাকে ৬৫০ − ৩৪০ − ১৫ = ২৯৫ টাকা। একটা পার্সেল ফেরত এলে কুরিয়ারের চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে ধরুন ১৫০ টাকা যায়। এক সপ্তাহে মার্কেটপ্লেস থেকে ১০টা অর্ডার এল।

অবস্থা ডেলিভারি / ফেরত হাতে থাকল
ফেরত কম (৮টা ডেলিভারি, ২টা ফেরত) ৮ × ২৯৫ = ২,৩৬০, বাদ ২ × ১৫০ = ৩০০ ২,০৬০ টাকা
ফেরত বেশি (৬টা ডেলিভারি, ৪টা ফেরত) ৬ × ২৯৫ = ১,৭৭০, বাদ ৪ × ১৫০ = ৬০০ ১,১৭০ টাকা
একই ১০টা অর্ডার বুস্ট করা পোস্ট থেকে, অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ ধরুন ১২০ টাকা (৮টা ডেলিভারি) ২,০৬০ থেকে বাদ ১০ × ১২০ = ১,২০০ ৮৬০ টাকা

প্রথম আর তৃতীয় সারি পাশাপাশি রাখুন। একই দশটা অর্ডার, তবু মার্কেটপ্লেসে ১,২০০ টাকা বেশি থাকল, কারণ অ্যাডের টাকা লাগেনি। এটাই মার্কেটপ্লেসের আসল সুবিধা। কিন্তু দ্বিতীয় সারিটাও দেখুন। দুটো বাড়তি ফেরতে ৮৯০ টাকা কমে গেল, কারণ প্রতিটা ফেরত ২৯৫ টাকার লাভ কেড়ে নেয় আর ওপরে ১৫০ টাকা খরচ করায়। তাই অচেনা কাস্টমারের বেলায় কনফার্মের ফোন আর নম্বর চেক আমি কখনো বাদ দিতে বলি না।

সময়ের হিসাবও রাখুন। এই উদাহরণের ১০টা অর্ডারের পেছনে ধরুন ৪০ থেকে ৫০টা মেসেজ, দিনে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। এটা অ্যাডের টাকা থেকে সস্তা, কিন্তু ফ্রি না।

একটা খোলা খাতায় এক সপ্তাহের মার্কেটপ্লেস অর্ডারের হিসাব হাতে লেখা, দশটা অর্ডারের পাশে ডেলিভারি আর ফেরতের টিক, নিচে মোট লাভ গোল দাগ দিয়ে চিহ্ন দেওয়া, পাশে একটা ক্যালকুলেটর আর কলম
উদাহরণের হিসাব, দুটো বাড়তি ফেরতেই সপ্তাহের লাভের বড় একটা অংশ চলে যায়

লিস্টিং সরে গেলে বা অ্যাকাউন্ট আটকালে

Help Center-এ দুটো আলাদা অবস্থার কথা আছে। একটা হলো একটা লিস্টিং রিজেক্ট হওয়া। অন্যটা আপনার পুরো মার্কেটপ্লেস "at risk", "limited" বা "suspended" হওয়া। দ্বিতীয়টার পেজে লেখা, প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে কিছু ক্ষেত্রে ওয়ার্নিং সরানোর সুযোগ থাকে, কিন্তু যে লিস্টিংয়ের জন্য ওয়ার্নিং এসেছে সেটা ফেরত আসে না।

কারণ দেখা আর রিভিউ চাওয়ার রাস্তা একটাই। প্রোফাইলের মেনু থেকে "Profile status" খুলুন, "Extra features"-এর নিচে "Marketplace" চাপুন। কোন লিস্টিং কোন নিয়মে আটকেছে সেখানে দেখা যায়, আর ভুল মনে হলে "Request review" দেওয়া যায়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে "What to do if your Facebook Marketplace listing is rejected" পেজে লেখা আছে, রিজেক্টের পর ১৮০ দিন পার হলে, আগে একবার রিভিউ চাওয়া হয়ে গেলে, বা নিয়মটায় রিভিউয়ের সুযোগ না থাকলে আর রিভিউ চাওয়া যায় না। তাই রিভিউ দেওয়ার আগে ভাবুন, ভুলটা আসলে কার।

লিস্টিং সাধারণত আটকায় ওপরের নিষেধের লিস্ট থেকেই, আর দুটো অভ্যাসে। অন্যের পেজ থেকে নামানো ছবি, আর একই লিস্টিং বারবার দেওয়া। পুরনো লিস্টিং নিচে নেমে গেলে অনেকে সেটা ডিলিট করে হুবহু আবার দেন, দিনে দুবার। এটা করবেন না, পুরনোটা এডিট করে ছবি বা দাম ঠিক করুন। অনেকের "Your listings"-এ পুরনো লিস্টিংয়ের পাশে Renew অপশনও আসে। কয় দিন পর বা কয়বার, ২০২৬ সালের অক্টোবরে Help Center-এ তার কোনো লেখা নিয়ম নেই, তাই নিজের লিস্টিংয়েই দেখে নিন।

মার্কেটপ্লেস বন্ধ হলে দ্বিতীয় প্রোফাইল খুলে আবার শুরু করবেন না। মার্কেটপ্লেস চলে মূল প্রোফাইল থেকে, নতুন অ্যাকাউন্টে এমনিতেই আটকে থাকতে পারে, আর নিয়ম ঘুরিয়ে চলার চেষ্টা মূল প্রোফাইলের বিপদ বাড়ায়। Help Center-এর ভাষায় এই শাস্তি আপনার মার্কেটপ্লেস অ্যাক্সেসের ওপর, পেজের ওপর না।

মার্কেটপ্লেসের মেসেজে প্রতারণা আর সময় নষ্ট চিনবেন যেভাবে

যে কেউ এক চাপে মেসেজ দিতে পারেন, তাই প্রতারকও এখানে আসে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Help Center-এর "About scams on Facebook Marketplace" পেজে যে প্রতারণাগুলোর কথা লেখা, তার মধ্যে সেলারের দিকে যেগুলো বেশি আসে, সেগুলো নিচে বলছি।

সবচেয়ে বিপজ্জনকটা হলো কোড চাওয়া। মেসেজটা সাধারণত এমন আসে, "আপনার ফোনে একটা কোড গেছে, ওটা দিন, ভেরিফাই করে অর্ডার করব।" Help Center ফোন বা ইমেইলে যাওয়া ভেরিফিকেশন কোড চাওয়াকে সরাসরি ফিশিং স্ক্যাম বলেছে।

টাকা পাঠানোর ভুয়া স্ক্রিনশটও Help Center-এর লিস্টে আছে। কেউ অগ্রিম দিয়েছেন বলে স্ক্রিনশট পাঠালে নিজের bKash বা Nagad অ্যাপ খুলে দেখুন টাকা আসলেই ঢুকেছে কি না। "ভুল করে বেশি পাঠিয়েছি, বাকিটা ফেরত দিন" কৌশলটাও লিস্টে আছে। নিজের অ্যাপে টাকা না দেখা পর্যন্ত এক টাকাও ফেরত পাঠাবেন না।

বাইরের লিংকেও সাবধান থাকুন। কেউ লিংক পাঠিয়ে বলেন "এখানে আপনার পেমেন্ট নিন", বা কথা অন্য অ্যাপে সরাতে চান। Help Center দুটোকেই প্রতারণার লক্ষণ বলেছে।

প্রতারণার বাইরে আছে সময় নষ্ট। "লাস্ট কত?", "বাসায় এসে দেখে নিতে পারি?", এই প্রশ্নের পর অনেকে আর ঠিকানা দেন না। নিজের জন্য একটা নিয়ম রাখুন। তিনটা মেসেজের পরেও নাম, নম্বর আর ঠিকানা না এলে লিখুন "নিতে চাইলে ঠিকানাটা দিয়েন, পাঠিয়ে দেব", তারপর পরের মেসেজে যান।

ঠিকানা পেলেও পাঠানোর আগে নম্বরটা দেখে নিন, এই মানুষ আগে কুরিয়ারের পার্সেল নিয়েছেন নাকি ফেরত দিয়েছেন। রেকর্ডে ফেরত বেশি হলে ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম চান। ওপরের হিসাবের দ্বিতীয় সারি থেকে এই একটা চেকই আপনাকে বাঁচায়।

একটা মোবাইল স্ক্রিনে মার্কেটপ্লেসের চ্যাট, একজন কাস্টমার লিখেছেন আপনার ফোনে যাওয়া কোডটা দিন, সেই মেসেজের পাশে লাল রঙের সতর্কতার চিহ্ন, আর নিচে সেলারের রিপ্লাইয়ের ঘর ফাঁকা
কোড চাওয়া মেসেজের উত্তর একটাই, কোড দেওয়া হয় না
কাস্টমারের নম্বর ফ্রিতে চেক করুনআগে কতগুলো পার্সেল নিয়েছেন আর কতগুলো ফেরত দিয়েছেন

কোন সেলারের জন্য মার্কেটপ্লেস, কার জন্য না?

মার্কেটপ্লেস কাজে লাগে তাঁদের, যাঁরা বড় শহরে থাকেন আর এমন জিনিস বেচেন, যেটা মানুষ নাম ধরে খোঁজেন আর ছবিতে ভালো বোঝা যায়। মানিব্যাগ, জুতা, ঘড়ি, ব্যাগ বা গ্যাজেট এক্সেসরিজ এক ছবিতেই বোঝা যায়। লটের মাল, কয়েক পিস বাকি থাকা স্টক, বা অ্যাডে টাকা ঢালার আগে একটা নতুন প্রোডাক্ট পরখ করতেও এটা ভালো রাস্তা। একদম নতুন দোকানের জন্য এটা প্রথম ১০০ কাস্টমার আনার চেনা মানুষ আর এলাকার গ্রুপের পাশে আরেকটা দরজা।

এবার কাদের জন্য না, সেটাও স্পষ্ট বলি।

যাঁর প্রোডাক্ট নিষেধের লিস্টে পড়ে, যেমন হারবাল, সাপ্লিমেন্ট বা ডিক্যান্ট পারফিউম, তাঁর জন্য না। লিস্টিং টিকবে না, আর বারবার রিজেক্টে প্রোফাইলটাই ঝুঁকিতে পড়ে। তাঁর সময় পেজ আর নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়াই ভালো।

যিনি অফিসে বসে দিনে কয়েকবারের বেশি ফোন দেখতে পারেন না, তাঁর জন্যও না। মার্কেটপ্লেসের কাস্টমার অপেক্ষা করেন না, দেরিতে উত্তর দেওয়া লিস্টিং থেকে মেসেজ আসে, অর্ডার আসে না।

যাঁর মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক অর্ডার দরকার, তিনি মার্কেটপ্লেসের ভরসায় স্টক তুলবেন না। কোন লিস্টিং কত মানুষ দেখবেন, সেটা Facebook নিজে ঠিক করে, আপনার হাতে বাজেটের কোনো চাকা নেই। আজ বিশটা মেসেজ মানে কাল বিশটা, এমন না।

আমার অভিজ্ঞতায় মার্কেটপ্লেস একটা বাড়তি দরজা, দোকান না। এটা আপনার নিজের দোকানের জায়গা নেয় না। এখানে কাস্টমার আপনার নাম দেখেন, দোকানের নাম না, আর কোনো পিক্সেল বসে না। তাই মার্কেটপ্লেস থেকে যিনি একবার কিনলেন, তাঁকে পরের বার নিজের পেজ বা ওয়েবসাইটে আনুন। পার্সেলের ভেতরে একটা কার্ডে পেজের নাম আর অর্ডারের লিংক দিয়ে দিন।

একজন যুবক প্যাকিং টেবিলে বসে একটা মানিব্যাগের পার্সেলের ভেতরে দোকানের নাম আর পেজের লিংক লেখা ছোট একটা কার্ড রাখছেন, পাশে কুরিয়ারের স্লিপ আর টেপ
মার্কেটপ্লেসের কাস্টমারকে পরের বার নিজের দোকানে আনার কাজটা শুরু হয় পার্সেলের ভেতর থেকেই

আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ

হাতে যা আছে, তা দিয়েই আজ সন্ধ্যার মধ্যে এগুলো করা যায়।

  1. ফোনের Facebook অ্যাপে মূল প্রোফাইল থেকে Marketplace খুলে দেখুন, আপনার জন্য চালু আছে কি না আর লোকেশন ঠিক দেখাচ্ছে কি না।
  2. নিজের প্রোফাইলটা অচেনা মানুষের চোখে দেখুন। প্রোফাইল ছবি আছে কি না, আর পরিবারের ছবি সবার জন্য খোলা কি না।
  3. Commerce Policies পেজ খুলে নিজের প্রথম তিনটা প্রোডাক্টের ধরন মিলিয়ে নিন।
  4. ফোনের নোটে "Is this still available?"-এর তৈরি উত্তরটা লিখে রাখুন, দাম, ডেলিভারি চার্জ আর "নাম, নম্বর, পুরো ঠিকানা দিন" সহ।
  5. সবচেয়ে ভালো বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টের তিনটা নতুন ছবি তুলুন জানালার আলোয়, তারপর একটা লিস্টিং দিন।
  6. অর্ডারের খাতায় বা শিটে "কোথা থেকে এল" নামে একটা কলাম যোগ করুন।

এক মাস পরে ওই কলামটা দেখুন। মার্কেটপ্লেস থেকে কতগুলো অর্ডার এল, কতগুলো ডেলিভারি হলো আর কতগুলো ফেরত এল, এই তিনটা সংখ্যাই বলে দেবে আপনার দোকানের জন্য এটা বাড়তি রাস্তা নাকি সময় নষ্ট। মার্কেটপ্লেসের নিয়ম মাঝে মাঝে বদলায়, তাই নতুন কিছু শুনলে Help Center আর Commerce Policies পেজেই আগে মিলিয়ে নেবেন, গ্রুপের পোস্টে না।

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশ থেকে কি ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করা যায়?

যায়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Facebook-এর Marketplace directory পেজে বাংলাদেশের নাম আছে, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী আলাদা করে দেখানো আছে। তবে নিজের মূল প্রোফাইল থেকে, ফোনের Facebook অ্যাপে খুলতে হয়। নতুন খোলা বা অনেকদিন বন্ধ থাকা প্রোফাইলে অনেক সময় মার্কেটপ্লেস দেখায় না।

ফেসবুক পেজ থেকে কি মার্কেটপ্লেসে পোস্ট দেওয়া যায়?

সাধারণভাবে না, লিস্টিং খোলা হয় আপনার নিজের প্রোফাইল থেকে। Facebook-এর Help Center মার্কেটপ্লেস আর পেজকে বিক্রির দুটো আলাদা রাস্তা হিসেবে দেখায়। আর Meta ২৪ জুলাই ২০২৬-এ নিজেই লিখেছে যে ছোট ব্যবসাকে মার্কেটপ্লেসে লিস্টিং দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সেটা তারা এখনো ভেবে দেখছে।

মার্কেটপ্লেসে পোস্ট দিতে কি টাকা লাগে?

লিস্টিং দিতে টাকা লাগে না, Help Center-এর লিস্টিংয়ের ধাপগুলোর কোথাও কোনো ফি-র ঘর নেই। টাকা লাগে শুধু লিস্টিং বুস্ট করলে, সেটা আসলে একটা অ্যাড, আর অ্যাডের মতোই কার্ড থেকে টাকা কাটে। তবে ফ্রি মানে খরচ নেই, তা না। মেসেজের উত্তর দিতে যে সময় যায়, সেটাও একটা খরচ।

মার্কেটপ্লেস থেকে আমার লিস্টিং সরিয়ে দিলে কী করব?

প্রোফাইল থেকে মেনুতে গিয়ে Profile status খুলুন, Extra features-এর নিচে Marketplace-এ ঢুকে লিস্টিংটা বেছে কারণটা দেখুন। ভুল মনে হলে সেখান থেকেই Request review দিন। Help Center বলছে ১৮০ দিন পার হয়ে গেলে বা একবার রিভিউ চাওয়া হয়ে গেলে আর রিভিউ চাওয়া যায় না।

মার্কেটপ্লেসে কাস্টমার একটা কোড চাইছেন, দেব?

কখনো না। Facebook-এর Help Center-এ মার্কেটপ্লেসের প্রতারণার লিস্টেই আছে, ফোনে বা ইমেইলে আসা ভেরিফিকেশন কোড চাওয়া একটা স্ক্যাম। ওই কোড দিয়ে আপনার Facebook, WhatsApp বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। যে কাস্টমার সত্যিই কিনতে চান, তাঁর কোনো কোডের দরকার হয় না।

মার্কেটপ্লেসে কি কসমেটিকস বা হারবাল প্রোডাক্ট বেচা যায়?

নতুন, আসল প্যাকেটের কসমেটিকস দেওয়া যায়। কিন্তু Meta-র Commerce Policies অনুযায়ী খোলা বা ইউজ করা কসমেটিকস আর আসল প্যাকেট ছাড়া কসমেটিকস দেওয়া যায় না। মেডিকেল আর হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট, খাওয়ার সাপ্লিমেন্টও নিষেধ, তাই ওজন কমানোর চা বা হারবাল ক্যাপসুল লিস্টিংয়ে টিকবে না।

#ফেসবুক মার্কেটপ্লেস#মার্কেটপ্লেসে পোস্ট#ফেসবুকে বিক্রি#অনলাইন প্রতারণা#ক্যাশ অন ডেলিভারি#ফেসবুক ব্যবসা

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়