দুই পেজে ভাগ হয়ে আছে ফলোয়ার? ফেসবুক পেজ মার্জের নিয়ম আর যা হারাবেন
দুই পেজের ফলোয়ার এক পেজে আনা যায়, কিন্তু যে পেজটা মার্জ হয় তার পোস্ট, ছবি, রিভিউ আর ইউজারনেম চলে যায়, আর কাজটা ফেরানো যায় না। কখন মার্জ করবেন, Meta-র শর্ত কী, অপশন কোথায় আর কেন দেখায় না, আর মার্জের আগে কোন পাঁচটা কাজ সেরে রাখবেন, টাকার হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- ফেসবুক পেজ মার্জ করবেন, নাকি দুটো পেজই রাখবেন?
- মার্জ করলে কী আসে আর কী হারায়
- হুট করে মার্জ করলে কত টাকা যায়, একটা উদাহরণ
- মার্জের শর্ত কী? নাম, বিষয়, ঠিকানা আর অ্যাক্সেস
- কোন পেজটা রাখবেন, কোনটা মার্জ হবে?
- ফেসবুক পেজ মার্জের অপশন কোথায়, কেন দেখায় না
- মার্জের আগে যে পাঁচটা কাজ সেরে রাখবেন
- মার্জ না হলে পুরনো পেজের কাস্টমার নতুন পেজে আনবেন যেভাবে
- আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ
ফেসবুক পেজ মার্জ মানে আপনার দুটো পেজকে এক করা। একটা পেজ থেকে যায়, আরেকটা ফেসবুক থেকে সরে যায়, আর সরে যাওয়া পেজের ফলোয়ার চলে আসে থেকে যাওয়া পেজে। কিন্তু সবকিছু আসে না। যে পেজটা মার্জ হয়, তার পোস্ট, ছবি, রিভিউ, রেটিং আর ইউজারনেম ডিলিট হয়ে যায়, আর কাজটা একবার হলে ফেরানো যায় না। মার্জ করতে হলে দুই পেজের নাম এক হতে হয়, দুটো একই ব্যবসার হতে হয়, একই বিজনেস পোর্টফোলিওতে থাকতে হয়, আর দুটোতেই আপনার পুরো অ্যাক্সেস লাগে।
ধরুন রাত এগারোটায় পুরনো পেজের ইনবক্স খুলে দেখলেন একজন কাস্টমার লিখেছেন, "ভাই, আপনাদের আসল পেজ কোনটা? দুইটা দেখি।" প্রথম পেজটা খুলেছিলেন তিন বছর আগে, তাতে ৫ হাজার ফলোয়ার। মাঝে নতুন নামে আরেকটা পেজ খুলেছেন, সেখানে ৮০০। অ্যাড চলে নতুনটায়, অথচ পুরনো কাস্টমাররা মেসেজ দেন পুরনোটায়। দুই জায়গায় উত্তর দিতে দিতে মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়, আর মাঝে মাঝে কোনো মেসেজ চোখই এড়িয়ে যায়। তখন মনে হয়, দুটো এক করে দিলেই তো ঝামেলা শেষ। ঝামেলা সত্যিই কমে, যদি আগে থেকে ঠিক কাজগুলো করে রাখেন। কোন কাজ, কোন ক্রমে, সেটাই নিচে ধাপে ধাপে বলছি।
ফেসবুক পেজ মার্জ করবেন, নাকি দুটো পেজই রাখবেন?
মার্জ করা তখনই ঠিক, যখন দুটো পেজ আসলে একই দোকান। একই প্রোডাক্ট, একই কাস্টমার, শুধু কোনো একসময় দ্বিতীয় পেজটা খোলা হয়ে গেছে। দ্বিতীয় পেজ সাধারণত এভাবেই জন্মায়। কেউ পুরনো পেজের পাসওয়ার্ড হারিয়ে নতুন পেজ খুলেছিলেন, পরে পুরনোটা ফেরত পেয়েছেন। কেউ ব্যবসার নাম চেঞ্জ করার সময় নতুন নামে আলাদা পেজ খুলেছেন। আবার কোনো স্টাফ বা পরিচিত কেউ উৎসাহ করে একটা পেজ খুলে দিয়েছিলেন। এই অবস্থায় দুই পেজে পোস্ট দেওয়া, দুই ইনবক্স দেখা আর দুই জায়গায় রিভিউ জমানো মানে নিজের শক্তি দুই ভাগ করা।
কিন্তু সব দুই পেজ এক করার জিনিস না। মধুর পেজ আর গ্যাজেটের পেজ আলাদা মানুষের কাছে বিক্রি করে। এক করলে মধুর কাস্টমারের ফিডে চার্জার আর ইয়ারফোনের পোস্ট যায়, তাঁরা বিরক্ত হয়ে আনফলো করেন। আর Meta-র শর্তেও এমন দুই পেজ মার্জ হওয়ার কথা না, কারণ দুটো একই জিনিস না।
তাহলে কখন মার্জ করবেন না, সেটাও পরিষ্কার করে বলি। দুই পেজ আলাদা প্রোডাক্ট বা আলাদা কাস্টমারের হলে মার্জ করবেন না। কোনো একটা পেজ অন্যের হাতে থাকলে, যেমন পুরনো পার্টনার বা কোনো এজেন্সির পোর্টফোলিওতে, আগে মালিকানা নিজের হাতে আনুন, তারপর ভাবুন। কোনো পেজ এখন রেস্ট্রিক্টেড থাকলে সেই সমস্যা আগে মেটান, কারণ ঝুলে থাকা সমস্যা নিয়ে এমন একটা কাজ শুরু করা ঠিক না যেটা ফেরানো যায় না। আর ঈদ বা বড় সেলের সপ্তাহে মার্জ করবেন না। যে সপ্তাহে ইনবক্সে সবচেয়ে বেশি মেসেজ আসে, ঠিক তখন পেজ চেঞ্জ হলে কাস্টমার আপনাকে খুঁজে পান না, আর সেই অর্ডারগুলো চলে যায় অন্য দোকানে।
নতুন পেজে মাত্র কয়েকশো ফলোয়ার, আর আপনি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না কোনটা রাখবেন, তাহলে তাড়া করবেন না। ছোট পেজটায় পোস্ট বন্ধ করে একটা পিন করা পোস্টে বড় পেজের লিংক রেখে দিলে কয়েক মাস চলে যায়। নতুন সেলারদের আমি সবসময় এটাই বলি, মার্জ পরে করলেও চলে, কিন্তু ভুল মার্জ আর ঠিক করা যায় না।

মার্জ করলে কী আসে আর কী হারায়
২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র Help Center-এর Merge 2 Facebook Pages পেজে যা লেখা আছে, তা এক জায়গায় রাখলে এমন দাঁড়ায়।
| জিনিস | যে পেজ থাকছে | যে পেজ মার্জ হচ্ছে |
|---|---|---|
| ফলোয়ার আর চেক-ইন | দুই পেজেরটা এক হয়ে এখানে আসে | এখান থেকে চলে যায় |
| পেজের সাথে লিংক করা গ্রুপ | এখানে চলে আসে | এখান থেকে চলে যায় |
| পোস্ট আর ছবি | নিজেরগুলো থাকে | ডিলিট হয়ে যায় |
| রিভিউ আর রেটিং | নিজেরগুলো থাকে | ডিলিট হয়ে যায় |
| ইউজারনেম | নিজেরটা থাকে | ডিলিট হয়ে যায় |
সবচেয়ে বড় কথাটা হলো, যে পেজ রাখছেন না সেটা ফেসবুক থেকে সরে যায়, আর একই হেল্প পেজে লেখা আছে আনমার্জ করা যায় না। মানে ফেরার রাস্তা নেই।
ইনবক্সের পুরনো মেসেজ নিয়ে হেল্প পেজে আলাদা করে কিছু লেখা নেই। কিন্তু পেজটাই যেহেতু ফেসবুক থেকে সরে যায়, তার ইনবক্সের পুরনো কথাবার্তা পরে খুলে দেখতে পারবেন, এমন ভরসা করবেন না। ওই ইনবক্সেই থাকে কাস্টমারের নাম, নম্বর, ঠিকানা, কে কী কিনেছিলেন। অনেক সেলারের পুরো কাস্টমার লিস্ট আসলে ওই চ্যাটগুলোই, আলাদা কোনো খাতা নেই।
রিভিউ হারানোর কষ্টটা টের পাওয়া যায় পরে। নতুন কাস্টমার পেজে ঢুকে প্রথমেই দেখেন অন্যরা কী বলেছেন। তিন বছরে জমানো চল্লিশটা রিভিউ এক রাতে চলে গেলে পেজটা হঠাৎ নতুন পেজের মতো লাগে। রিভিউ আবার জমানোর কাজটা কীভাবে করবেন, সেটা পেজের রিভিউ বাড়ানোর লেখায় আছে। কিন্তু সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো এমন পেজটাই রাখা, যেটায় রিভিউ বেশি।

হুট করে মার্জ করলে কত টাকা যায়, একটা উদাহরণ
মার্জের ক্ষতি কোনো রিসিটে লেখা থাকে না, তাই অনেকে টেরই পান না। একটা হিসাবে দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের সংখ্যা বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন আপনি মধু বিক্রি করেন। এক কেজি ৮৫০ টাকা, কিনতে পড়ে ৫০০ টাকা, বোতল আর প্যাকেটে আরও ৩০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। তাহলে একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে হাতে থাকে ৮৫০ − ৫০০ − ৩০ = ৩২০ টাকা।
পুরনো পেজে মাসে ২০টা রিপিট অর্ডার আসে। এগুলো আসে সেই মানুষদের কাছ থেকে, যাঁরা পুরনো চ্যাট খুলে লেখেন "ভাই, আরেক কেজি পাঠান", অথবা প্যাকেটের স্টিকারে ছাপা পুরনো পেজের লিংকে ঢোকেন। এই অর্ডারে অ্যাডের এক টাকাও লাগে না। এখন কোনো ঘোষণা ছাড়াই এক রাতে পুরনো পেজটা মার্জ করে দিলেন। ধরুন প্রথম মাসে ২০ জনের ৮ জন আপনাকে আর খুঁজে পেলেন না। কারও পুরনো চ্যাট আর খোলে না, কেউ স্টিকারের লিংকে ঢুকে কিছু পান না।
প্রথম ক্ষতিটা অর্ডারের। ৮টা অর্ডার × ৩২০ টাকা = ২,৫৬০ টাকার লাভ চলে গেল।
আরেকটা ক্ষতি হয় স্টিকারে। ধরুন স্টিকার ছাপিয়েছিলেন ১,০০০টা, প্রতিটা দেড় টাকা করে। তার ৬০০টা এখনো রোলে পড়ে আছে, তাতে পুরনো পেজের ইউজারনেম ছাপা। ইউজারনেম ডিলিট হলে এগুলো কাজের না, তাই ৬০০ × ১.৫০ = ৯০০ টাকা গেল।
মোট ২,৫৬০ + ৯০০ = ৩,৪৬০ টাকা, শুধু প্রথম মাসে। ওই ৮টা অর্ডার নতুন করে অ্যাড দিয়ে আনতে চাইলে, প্রতি অর্ডারে ২০০ টাকা ধরলে, আরও ৮ × ২০০ = ১,৬০০ টাকা ডলার স্পেন্ড। আর চল্লিশটা রিভিউ হারানোর দাম কোনো হিসাবে বসানো যায় না।
এবার একই কাজ গুছিয়ে করলে। মার্জের এক সপ্তাহ আগে থেকে পুরনো পেজে রোজ জানিয়েছেন কোন পেজে যাচ্ছেন। পুরনো স্টিকারগুলো আগে শেষ করেছেন, আর নতুন স্টিকারে পেজের ইউজারনেমের বদলে নিজের স্টোরের লিংক ছাপিয়েছেন। পুরনো চ্যাটের কাস্টমারদের নাম-নম্বর আগেই একটা শিটে তুলে রেখেছেন। এতে খরচ হয় শুধু আপনার কয়েক ঘণ্টা সময়। অর্ডার একটাও না হারানোর কথা কেউ দিতে পারবে না, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে খুঁজে পান।

মার্জের শর্ত কী? নাম, বিষয়, ঠিকানা আর অ্যাক্সেস
Meta-র হেল্প পেজে শর্তগুলো লেখা আছে। এগুলোর একটাও না মিললে রিকোয়েস্ট এগোয় না, তাই এক এক করে মিলিয়ে নিন।
সবার আগে নাম মেলাতে হবে। দুই পেজের নাম এক হতে হবে, আর দুটো একই ব্যবসা বোঝাতে হবে। নাম আলাদা হলে Meta নিজেই বলছে, একটা পেজের নাম চেঞ্জের রিকোয়েস্ট দিন। এখানে একটা কাজের কথা মাথায় রাখুন। যে পেজটা মার্জ হয়ে চলে যাবে, নাম চেঞ্জ করুন সেটার, রাখার পেজের না। রাখার পেজের নাম কাস্টমাররা চেনেন, সেটা নাড়াবেন না।
২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র নাম চেঞ্জের হেল্প পেজে ধাপগুলো এমন লেখা আছে। পেজে সুইচ করে Settings and privacy, তারপর Settings, তারপর Page setup-এ Name। পেজের নামের পাশে Edit চেপে নতুন নাম লিখুন, Review change চাপুন, পাসওয়ার্ড দিয়ে Request change চাপুন। নামটা সাথে সাথে চেঞ্জ হয় না, রিকোয়েস্ট অ্যাপ্রুভ হতে হয়। কিছুদিন আগে কেউ নাম চেঞ্জ করে থাকলে Edit অপশন না-ও আসতে পারে, আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে সেটা হেল্প পেজে লেখা নেই। নাম অ্যাপ্রুভ হওয়ার আগে মার্জের রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না। অনেকে নাম চেঞ্জের রিকোয়েস্ট দিয়েই মার্জে চলে যান, তখন নাম না মেলায় রিকোয়েস্ট আটকে যায়।
এরপর ঠিকানা। পেজে দোকানের ঠিকানা দেওয়া থাকলে দুই পেজে একই ঠিকানা হতে হবে। অনেক পুরনো পেজে খোলার সময় বাসার ঠিকানা বা পুরনো দোকানের ঠিকানা দেওয়া থাকে, যেটা কেউ আর খেয়াল করেন না। দুই পেজের About অংশ খুলে ঠিকানাটা অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দেখুন।
তৃতীয় শর্তটা পোর্টফোলিওর। হেল্প পেজ এখনো পুরনো নাম Business Manager লিখেছে, এখন এটাকে বিজনেস পোর্টফোলিও বলে। দুই পেজকে একই পোর্টফোলিওতে আনতে হবে। এখানে অনেকে আটকান, কারণ পুরনো পেজটা হয়তো কোনো এজেন্সি বা পুরনো স্টাফের পোর্টফোলিওতে রয়ে গেছে, আর সেটা কারও মনে নেই। পোর্টফোলিও খোলা আর পেজ যোগ করার ধাপ মেটা বিজনেস স্যুটের লেখায় আছে। আরেকটা শর্ত আছে। যে পেজটা মার্জ হবে, সেটা পোর্টফোলিওর primary পেজ হতে পারবে না। এটা কোথায় চেঞ্জ করতে হয়, হেল্প পেজে লেখা নেই, আটকে গেলে Meta-র সাপোর্টে জিজ্ঞেস করুন।
আর লাগবে ঠিক অ্যাক্সেস। দুই পেজেই আপনার Facebook access থাকতে হবে, শুধু task access দিয়ে মার্জ হয় না। task access মানে আপনি Business Suite বা Ads Manager থেকে কাজ করেন, কিন্তু ফেসবুকে পেজ হয়ে সরাসরি কাজ করতে পারেন না। মডারেটর বা এজেন্সিকে দিয়ে পেজ খোলালে মালিকের নিজেরই অনেক সময় শুধু task access থাকে। কোন অ্যাক্সেস কী, আর কাকে কোনটা দেবেন, সেটা বিজনেস পেজ সেটআপের লেখায় আছে।
কিছু পেজ অবশ্য কোনোভাবেই মার্জ হয় না। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী global পেজ, মানে অনেক দেশের জন্য বানানো বড় ব্র্যান্ডের পেজ, মার্জ করা যায় না, আর ভেরিফায়েড পেজকে আনভেরিফায়েড পেজে মার্জ করা যায় না। আপনার কোনো পেজে নীল ব্যাজ থাকলে সেটাকেই রাখার পেজ বানান।
কোন পেজটা রাখবেন, কোনটা মার্জ হবে?
মার্জ এক দিকে যায়। একটা পেজ থাকে, আরেকটা যায়। তাই "কোনটা রাখব" প্রশ্নটাই আসল সিদ্ধান্ত। বেশিরভাগ মানুষ ফলোয়ার দেখে ঠিক করেন। অথচ ফলোয়ার তো দুই দিকেই আসে। যা আসে না, তা হলো পোস্ট, ছবি, রিভিউ আর ইউজারনেম। তাই সেগুলো দেখে ঠিক করুন।
রাখুন সেই পেজটা, যেটায় রিভিউ বেশি, যেটার ইউজারনেম কাস্টমারের কাছে ছড়ানো, যেটায় প্রোডাক্টের ছবি আর ভিডিও বেশি জমেছে, আর যেটায় নীল ব্যাজ আছে। আমার অভিজ্ঞতায় এটা প্রায় সবসময় পুরনো পেজটাই হয়।
এগুলো আন্দাজে না, নিজের চোখে দেখে নিন। রিভিউ গুনতে পেজের Reviews ট্যাব খুলুন। ইউজারনেম দেখতে পেজের লিংকটা কপি করুন, facebook.com/ এর পরে যে নামটা আছে সেটাই ইউজারনেম। তারপর একটা প্যাকেটের স্টিকার, ভিজিটিং কার্ড আর পুরনো অ্যাডের ছবি হাতে নিয়ে দেখুন কোন ইউজারনেমটা সেখানে ছাপা। অনেক সেলার এই সময়ে গিয়ে প্রথম খেয়াল করেন যে কাস্টমারের হাতে আসলে পুরনো পেজের লিংকটাই ঘুরছে। ওপরের ৫ হাজার আর ৮০০ ফলোয়ারের উদাহরণে পুরনো পেজটাই রাখার কথা।
সমস্যা হয় যখন নতুন পেজের নামটাই আপনি আসলে চান। তখন দুটো রাস্তা। পুরনো পেজটা রেখে সেটার নাম নতুন নামে চেঞ্জ করুন, তাহলে দুই পেজের নাম এক হয়ে যায়, তারপর মার্জ করুন। অথবা নতুন পেজটা রেখে পুরনোর রিভিউ হারানো মেনে নিন। প্রথম রাস্তায় কাজ বেশি, কিন্তু রিভিউ আর পুরনো ইউজারনেম বাঁচে। কোন রাস্তা নেবেন, কাগজে দুই পেজের রিভিউ, পোস্ট আর ইউজারনেম লিখে তুলনা করে ঠিক করুন, মন যেটা বলে সেটা দিয়ে না।
ফেসবুক পেজ মার্জের অপশন কোথায়, কেন দেখায় না
২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র হেল্প পেজে শুধু কম্পিউটারের ধাপ দেওয়া আছে। ধাপগুলো এমন।
- ওপরে ডান দিকে নিজের প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করে See all profiles, তারপর পেজটা সিলেক্ট করুন।
- পেজের প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করে Settings and privacy, তারপর Settings।
- বাঁ দিকের মেনুতে Page setup, তারপর Merge Pages-এর পাশে View।
- Merge multiple Pages-এর পাশে Start request চাপুন, আর স্ক্রিনে যা চায় তা দিন।
ফেসবুক মাঝে মাঝে মেনুর নাম আর জায়গা চেঞ্জ করে, তাই আপনার স্ক্রিনে একটু আলাদা দেখাতে পারে। মোবাইল অ্যাপে অপশনটা খুঁজে না পেলে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে করুন, ধাপগুলো সেখানেই লেখা আছে।

অপশন না দেখানোর কারণ সাধারণত এগুলোর একটা। এক, আপনি নিজের প্রোফাইলে আছেন, পেজে সুইচ করেননি। প্রথমবার প্রায় সবাই এই ভুলটা করেন, আর প্রোফাইলের Settings-এ Page setup থাকেই না। দুই, পেজে আপনার শুধু task access আছে, Facebook access নেই। তিন, দুই পেজ একই পোর্টফোলিওতে নেই, বা নাম আর ঠিকানা মেলেনি। চার, ভেরিফায়েড পেজকে আনভেরিফায়েড পেজে মার্জ করতে চাইছেন।
গুগলে অনেকে "facebook page merge link" বা "direct link" খোঁজেন। কোনো ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ইউটিউব ভিডিওর ডেসক্রিপশনে দেওয়া লিংক যদি আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড বা কোড চায়, সেখানে লগইন করবেন না। মার্জের একমাত্র নিরাপদ রাস্তা পেজের নিজের Settings। "মার্জ করে দেব" বলে পেজের অ্যাডমিন অ্যাক্সেস চাওয়া মানুষকেও অ্যাক্সেস দেবেন না।
রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর কত দিনে ফল আসবে, বা রিফিউজ হলে কী বলবে, হেল্প পেজে তা লেখা নেই। তাই রিকোয়েস্ট দিয়ে রোজ পেজের নোটিফিকেশন আর পোর্টফোলিওর মেসেজ দেখে নিন।
মার্জের আগে যে পাঁচটা কাজ সেরে রাখবেন
১. রাখার পেজ ঠিক করে নাম মিলিয়ে নিন
ওপরের নিয়মে কোন পেজ থাকবে ঠিক করুন। তারপর যে পেজ যাবে, তার নাম চেঞ্জের রিকোয়েস্ট দিন, আর অ্যাপ্রুভ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এই ফাঁকেই বাকি চারটা কাজ সারুন।
২. চলে যাওয়া পেজের অ্যাড বন্ধ করুন
Meta-র হেল্প পেজে আলাদা করে লেখা আছে, মার্জের রিকোয়েস্ট দেওয়ার আগে দেখে নিন কোনো চলতি ক্যাম্পেইন যেন ডিলিট হতে যাওয়া পেজের দিকে না থাকে। Ads Manager খুলে প্রতিটা চালু অ্যাডের পেজটা দেখুন। যেগুলো ওই পেজের নামে চলছে, সেগুলো বন্ধ করে রাখার পেজের নামে নতুন করে বানান। পুরনো একটা অ্যাড মাসের পর মাস চুপচাপ চলতে থাকা খুব কমন, যেটার কথা মনেই থাকে না। তাই শুধু Active ফিল্টার দিয়ে সব অ্যাড একবার দেখে নিন।
৩. রিভিউ, ছবি আর কাস্টমারের নম্বর তুলে রাখুন
যে পেজ যাবে, তার রিভিউগুলোর স্ক্রিনশট নিন। ওগুলো নতুন পেজে আসবে না, কিন্তু স্ক্রিনশট থেকে কাস্টমারের নাম আর ছবি ঝাপসা করে ল্যান্ডিং পেজে বা পোস্টে তাঁদের কথা দেখাতে পারবেন। প্রোডাক্টের ভালো ছবি আর ভিডিওগুলো ফোনে বা ড্রাইভে নামিয়ে রাখুন। আর সবচেয়ে জরুরি কাজ, ইনবক্সের পুরনো চ্যাট থেকে যাঁরা কিনেছেন তাঁদের নাম আর নম্বর একটা শিটে তুলুন। দুইশো চ্যাট হলে এক বসায় শেষ হবে না, দুই-তিন দিনে ভাগ করে করুন।

৪. এক সপ্তাহ আগে কাস্টমারকে জানান
পুরনো পেজে একটা পোস্ট দিয়ে পিন করুন। "আমরা এই পেজ থেকে অমুক পেজে চলে যাচ্ছি, অর্ডার আর মেসেজ এখন থেকে ওখানে দিন", সাথে নতুন পেজের লিংক। কভার ছবিতেও কথাটা লিখে দিন, কারণ অনেকে পোস্ট পড়েন না, কিন্তু কভার দেখেন। এই সপ্তাহে যাঁরা পুরনো পেজে মেসেজ দেন, তাঁদের উত্তরের শেষে নতুন পেজের লিংকটা দিন।
৫. লিংক আর একই পোর্টফোলিও দেখে নিন
দুই পেজকে একই বিজনেস পোর্টফোলিওতে আনুন, আর দুটোতেই আপনার Facebook access আছে কি না দেখুন। তারপর খুঁজুন পুরনো পেজের লিংক কোথায় কোথায় আছে। প্যাকেটের স্টিকার, ভিজিটিং কার্ড, ওয়েবসাইটের ফুটার, Instagram-এর বায়ো, Google-এর বিজনেস প্রোফাইল। পুরনো পেজের সাথে Instagram কানেক্ট থাকলে আগে সেটা রাখার পেজের সাথে কানেক্ট করে নিন। ইউজারনেম ডিলিট হলে এসব লিংক কোথায় নিয়ে যাবে, তার ভরসা নেই।
মার্জ না হলে পুরনো পেজের কাস্টমার নতুন পেজে আনবেন যেভাবে
সব শর্ত মিলিয়েও অনেক সময় মার্জ হয় না, বা অপশনটাই আসে না। রিফিউজ হলে কী করতে হবে, Meta-র হেল্প পেজে তা লেখা নেই। প্রথমে শর্তগুলো আরেকবার মিলিয়ে দেখুন, বিশেষ করে নাম চেঞ্জ অ্যাপ্রুভ হয়েছে কি না আর দুই পেজ একই পোর্টফোলিওতে আছে কি না। তারপরও না হলে হাতে-কলমে কাস্টমার সরানোই রাস্তা। এটা ধীর, কিন্তু কাজ করে, আর এতে রিভিউ বা পোস্ট কিছুই হারায় না।
পুরনো পেজটা ডিলিট করবেন না। ওখানে একটা পোস্ট পিন করে রাখুন যে এখন থেকে নতুন পেজে পাওয়া যাবে, আর কভার ছবিতেও তাই লিখুন। সপ্তাহে একবার পুরনো পেজে একটা ছোট পোস্ট দিন, যাতে নতুন পেজের কোনো অফারের কথা আর লিংক থাকে। যাঁরা পুরনো পেজ ফলো করেন, তাঁরা এভাবে ধীরে ধীরে নতুন পেজে আসেন। পুরনো ইনবক্সে Business Suite-এর অটো রিপ্লাই চালু রাখুন, যাতে রাতে মেসেজ দিলেও নতুন পেজের লিংকটা পান।
একটা জিনিস আগে থেকে জেনে রাখুন। পুরনো পেজে মেসেজ আসা কয়েক সপ্তাহে থামে না, মাসের পর মাস দু-একটা করে আসতেই থাকে, বিশেষ করে ঈদের আগে। তাই পুরনো পেজের ইনবক্স সপ্তাহে অন্তত দুইবার খুলুন। কোনো অর্ডারের মেসেজ সেখানে তিন দিন পড়ে থাকলে অনেক সময় দেখা যায়, কাস্টমার ততদিনে অন্য পেজ থেকে কিনে ফেলেছেন।
এরপর আপনার নিজের লিস্ট কাজে লাগান। মার্জের আগে যে শিট বানিয়েছেন, তাঁদের একটা ফোন বা SMS দিন। "আসসালামু আলাইকুম, আমাদের ফেসবুক পেজ চেঞ্জ হয়েছে, নতুন পেজ এটা, আর অর্ডার দিতে চাইলে এই লিংকে।" রিপিট কাস্টমারের কাছে এই একটা খবরই যথেষ্ট, তাঁরা আপনাকে আগে থেকেই চেনেন।
এই পুরো ঝামেলা থেকে যে কথাটা আমি সবাইকে আগে বলি, সেটা শিখে রাখুন। ফেসবুক পেজ নিয়ে কোনো না কোনো ঝামেলা প্রায় সব সেলারের একবার না একবার হয়, কখনো হ্যাক, কখনো রেস্ট্রিকশন, কখনো এই মার্জ। তখন যার হাতে নিজের দোকানের লিংক আর নিজের কাস্টমার লিস্ট আছে, তিনিই সবচেয়ে কম হারান।
WinningSeller-এ স্টোর খুললে দোকানের নিজের একটা লিংক পান। শুরুতে সেটা winningseller.com-এর নিচে একটা সাবডোমেইন, আর গ্রোথ প্ল্যান থেকে নিজের কেনা ডোমেইন জুড়ে দেওয়া যায় (কোন প্ল্যানে কী আছে)। স্টিকারে আর পোস্টে সেই লিংকটা ছাপলে পেজের যা-ই হোক, লিংক চেঞ্জ হয় না। স্টোরে আসা অর্ডারগুলো CSV ফাইলে নামানো যায়, তাতে কাস্টমারের নাম আর মোবাইল নম্বর থাকে, তাই ইনবক্সের ওপর ভরসা করে বসে থাকতে হয় না। তবে পেজ মার্জের কাজটা WinningSeller করে না, ওটা Meta-র Settings থেকেই করতে হয়। আর ফেসবুক ইনবক্সের পুরনো চ্যাটও WinningSeller-এ আসে না, ওগুলো নিজেকেই শিটে তুলতে হবে।
আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ
মার্জ করুন বা না করুন, আজকের এক ঘণ্টায় এই কাজগুলো হাতে যা আছে তা দিয়েই সারা যায়।
- দুই পেজ খুলে কাগজে লিখুন কোনটায় কত ফলোয়ার, কত রিভিউ, কোনটার ইউজারনেম স্টিকারে ছাপা, আর কোনটায় নীল ব্যাজ।
- দুই পেজের About খুলে নাম আর ঠিকানা মিলিয়ে দেখুন, কী কী আলাদা।
- পেজে সুইচ করে Settings, তারপর Page setup খুলে দেখুন Merge Pages আসে কি না। না এলে ওপরের চারটা কারণ মিলিয়ে নিন।
- Ads Manager-এ Active ফিল্টার দিয়ে দেখুন কোন কোন অ্যাড যে পেজটা চলে যাবে তার নামে চলছে।
- চলে যাওয়া পেজের রিভিউগুলোর স্ক্রিনশট নিন, আর ইনবক্সের প্রথম পঞ্চাশটা চ্যাটের কাস্টমারের নাম-নম্বর শিটে তুলুন।
এই পাঁচটা করার পর আপনি জানবেন মার্জ আপনার জন্য ঠিক কি না, আর ঠিক হলে কী কী হারাবেন। তারপর সিদ্ধান্তটা নিন। দুই পেজ এক হলে কাজ সত্যিই অর্ধেক হয়ে যায়, শুধু খেয়াল রাখবেন রাস্তায় যেন কাস্টমার না হারায়।
সাধারণ প্রশ্ন
ফেসবুক পেজ মার্জ করলে কি ফলোয়ার যোগ হয়?
হ্যাঁ, Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে মার্জ হলে দুই পেজের ফলোয়ার আর চেক-ইন এক হয়ে যায়। তবে যাঁরা দুটো পেজই ফলো করতেন, তাঁরা একজন মানুষই, তাই দুই সংখ্যা যোগ করে যা আসে শেষে তার চেয়ে কম দেখালে অবাক হবেন না। ফলোয়ার আসে, কিন্তু মার্জ হওয়া পেজের পোস্ট, ছবি আর রিভিউ আসে না।
মার্জ করা পেজ কি আবার আলাদা করা যায়?
না। Meta-র হেল্প পেজে পরিষ্কার লেখা আছে, যে পেজটা রাখছেন না সেটা ফেসবুক থেকে সরে যায়, আর আনমার্জ করা যায় না। তাই রিকোয়েস্ট পাঠানোর আগে কোন পেজ থাকবে আর কোনটা যাবে, সেটা ঠান্ডা মাথায় ঠিক করুন।
দুই পেজের নাম আলাদা হলে কি মার্জ করা যায়?
সরাসরি না। Meta চায় দুই পেজের নাম এক হোক আর দুটো একই ব্যবসার হোক। নাম আলাদা হলে আগে যে পেজটা মার্জ হবে তার নাম চেঞ্জের রিকোয়েস্ট দিন, অ্যাপ্রুভ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, তারপর মার্জের রিকোয়েস্ট পাঠান।
ফেসবুক পেজ মার্জের অপশন দেখাচ্ছে না কেন?
সবচেয়ে বেশি যা হয়, আপনি পেজে সুইচ না করে নিজের প্রোফাইল থেকে খুঁজছেন, অথবা পেজে আপনার Facebook access নেই, শুধু task access আছে। দুই পেজ একই বিজনেস পোর্টফোলিওতে না থাকলে, নাম না মিললে, বা ভেরিফায়েড পেজকে আনভেরিফায়েড পেজে মার্জ করতে চাইলেও মার্জ হয় না। মোবাইল অ্যাপে না পেলে কম্পিউটার থেকে চেষ্টা করুন।
ফেসবুক পেজ মার্জ লিংক কোথায় পাব?
আলাদা কোনো লিংক খুঁজবেন না। পেজে সুইচ করে Settings and privacy, তারপর Settings, তারপর Page setup-এ Merge Pages পাবেন, এটাই Meta-র নিজের রাস্তা। কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ "ডাইরেক্ট মার্জ লিংক" দিয়ে আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড চাইলে সেখানে লগইন করবেন না, পেজ হাতছাড়া হওয়ার এটা একটা চেনা রাস্তা।
মার্জ করলে পুরনো পেজের রিভিউ কি নতুন পেজে আসে?
না। Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, যে পেজটা মার্জ হয় তার রিভিউ আর রেটিং ডিলিট হয়ে যায়। তাই যে পেজে রিভিউ বেশি, সাধারণত সেটাকেই রাখা ভালো, আর মার্জের আগে অন্য পেজের রিভিউগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


