WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১০ মিনিটে পড়া যায়

ফেসবুক পেজের লিংক কিভাবে বের করব? ইউজারনেম দিয়ে ছোট লিংক বানান

কাস্টমার পেজের লিংক চাইলে profile.php?id= দিয়ে লম্বা একটা লিংক পাঠান? মোবাইলে আর কম্পিউটারে পেজের লিংক বের করার নিয়ম, ইউজারনেম দিয়ে ছোট লিংক বানানো, "not available" দেখালে কী করবেন, নাম বদলালে পুরনো লিংকের কী হয়, আর m.me ও QR কোড কোথায় কাজে লাগে।

ফেসবুক পেজের লিংক কিভাবে বের করব? ইউজারনেম দিয়ে ছোট লিংক বানান
এই লেখায় যা আছে
  1. ফেসবুক পেজের লিংক কিভাবে বের করব, মোবাইলে আর কম্পিউটারে
  2. লম্বা profile.php লিংক আর ইউজারনেমের লিংক, পার্থক্য কী
  3. পেজের ইউজারনেম দেওয়ার নিয়ম, ধাপে ধাপে
  4. ইউজারনেম "not available" দেখালে
  5. ইউজারনেম বদলালে পুরনো লিংকের কী হয়
  6. m.me লিংক আর QR কোড, কোথায় কাজে লাগে
  7. আজই করে ফেলুন

ফেসবুক পেজের লিংক বের করার সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো পেজ খুলে তিন ডটের (…) মেনু থেকে Copy link চাপা, আর কম্পিউটারে পেজ খুলে ব্রাউজারের ঠিকানার ঘর থেকে লিংকটা কপি করা। কপি করে যদি দেখেন লিংকটা facebook.com/profile.php?id= আর একগাদা সংখ্যা দিয়ে লম্বা, তাহলে বুঝবেন আপনার পেজের কোনো ইউজারনেম নেই। কম্পিউটার থেকে পেজের সেটিংসে Page setup, তারপর Name খুলে ইউজারনেম দিলে লিংকটা হয়ে যায় ছোট আর মনে রাখার মতো, যেমন facebook.com/panjabihouse। আর একই নাম দিয়ে Messenger-এর লিংকও হয়, m.me/panjabihouse।

ভাবুন একজন কাস্টমার ফোনে বললেন, "ভাই, আপনাদের পেজের নামটা বলেন, খুঁজে নেব।" আপনি নাম বললেন, তিনি সার্চ করে দেখলেন একই নামে চারটা পেজ, তার দুটো আবার নকল। অথবা ইনবক্সে লিংক চাইলেন, আপনি পাঠালেন সংখ্যায় ভরা একটা লম্বা লিংক, যেটা দেখে মনে হয় কোনো স্প্যাম। ছোট্ট একটা ইউজারনেম এই দুটো ঝামেলাই মিটিয়ে দেয়, আর কাজটা এক ঘণ্টারও কম। নিচে ধাপে ধাপে বলছি।

ফেসবুক পেজের লিংক কিভাবে বের করব, মোবাইলে আর কম্পিউটারে

মোবাইলে ফেসবুক অ্যাপ খুলে আগে নিজের পেজে যান। পেজের নামের পাশে বা কভার ছবির নিচে তিনটা ডট (…) দেখবেন। ওখানে চাপ দিলে একটা মেনু আসে, যেখানে Copy link বা লিংক কপি করার অপশন থাকে। ফেসবুক অ্যাপ প্রায়ই নিজের চেহারা বদলায়, তাই অপশনটা কখনো Share বাটনের ভেতরেও থাকে। যেখানেই পান, কপি করার পর লিংকটা নিজের Messenger-এ বা কোনো নোটে পেস্ট করে দেখুন আসলে কী কপি হলো।

কম্পিউটারে কাজটা আরও সহজ। ব্রাউজারে ফেসবুক খুলে আপনার পেজে যান, তারপর ওপরের ঠিকানার ঘরে যে লিংক দেখছেন সেটাই পেজের লিংক। পুরোটা সিলেক্ট করে কপি করুন।

প্রথমবার অনেকে একটা ভুল করেন, যেটা ধরা পড়ে অনেক পরে। পেজের কোনো একটা পোস্ট বা ছবি খোলা অবস্থায় লিংক কপি করেন, ফলে কপি হয় ওই পোস্টের লিংক, পেজের না। পরে সেই লিংক ইনভয়েসে ছাপা হয়, আর কাস্টমার স্ক্যান করে দেখেন তিন মাস আগের একটা অফারের পোস্ট। আরেকটা ভুল হলো নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলের লিংক কপি করা, কারণ পেজে সুইচ না করেই কাজটা করেছেন। তাই কপি করা লিংকটা লগআউট করা কোনো ব্রাউজারে, বা ফোনের প্রাইভেট উইন্ডোতে একবার খুলে দেখুন। ঠিক পেজটাই খুললে তবে বাকি জায়গায় বসান।

একজন তরুণ সেলার দোকানের কাউন্টারে বসে মোবাইলে নিজের ফেসবুক পেজ খুলে তিন ডটের মেনু থেকে লিংক কপি করছেন, পাশে খাতায় লিংকটা লেখার জন্য কলম রাখা
পেজের তিন ডট থেকে লিংক কপি, তারপর একবার খুলে মিলিয়ে নেওয়া

লম্বা profile.php লিংক আর ইউজারনেমের লিংক, পার্থক্য কী

ফেসবুক এখন পেজগুলোকে অনেকটা প্রোফাইলের মতো করে চালায়, যাকে অনেকে নতুন পেজ এক্সপেরিয়েন্স বলেন। এই ধরনের পেজে ইউজারনেম না থাকলে লিংক হয় facebook.com/profile.php?id= আর তার পরে লম্বা একটা সংখ্যা। লিংকটা কাজ করে, পেজও খোলে। কিন্তু তিনটা জায়গায় এটা আপনাকে পিছিয়ে দেয়।

প্রথমত, কেউ মনে রাখতে পারেন না। ফোনে বলা যায় না, কাগজে লিখলে ভুল হয়। দ্বিতীয়ত, দেখতে সন্দেহজনক লাগে। অচেনা একটা দোকানের কাছ থেকে সংখ্যায় ভরা লিংক পেলে অনেকে খুলতেই ভয় পান। তৃতীয়ত, এই পেজ দিয়ে Messenger-এর ছোট লিংক বানানো যায় না, কারণ m.me লিংকের জন্য ইউজারনেম লাগে।

আরেকটা ছোট খরচ অনেকে খেয়াল করেন না। অর্ডার কনফার্মের SMS-এ পেজের লিংক দিলে এই লম্বা লিংক একাই একটা SMS-এর অনেকটা জায়গা খেয়ে ফেলে, বাকি কথা লিখতে গিয়ে SMS দুটো হয়ে যায়, আর খরচও দ্বিগুণ। ছোট ইউজারনেমের লিংকে সেই সমস্যা থাকে না।

একটা তুলনার নকশা, ওপরে লাল দাগে একটা লম্বা facebook.com/profile.php?id= দিয়ে শুরু সংখ্যায় ভরা লিংক, নিচে সবুজ দাগে ছোট facebook.com/panjabihouse লিংক, পাশে ছোট আইকনে মনে রাখা, ফোনে বলা আর m.me বানানোর সুবিধা
একই পেজ, দুই রকম লিংক

ইউজারনেম দিলে আপনার পেজের ঠিকানা হয় facebook.com/ইউজারনেম। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র Help Centre-এর "Create a username for your Facebook Page" পেজে লেখা আছে, ইউজারনেম পেজের নামের নিচে দেখায় আর পেজের ঠিকানাতেও বসে, যাতে মানুষ পেজটা খুঁজে পান আর মনে রাখেন। ইউজারনেম দেওয়ার পর পেজের নামের নিচে @ চিহ্নসহ নামটা দেখায়, যেমন @panjabihouse। কাস্টমার এটা দেখে Instagram বা অন্য জায়গাতেও একই নাম খোঁজেন, তাই সব জায়গায় একই নাম রাখার লাভ এখানেই। পেজ খোলার সময় থেকেই কাজটা সেরে রাখা ভালো। পেজ খোলার পুরো নিয়ম ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলার লেখায় আছে।

পেজের ইউজারনেম দেওয়ার নিয়ম, ধাপে ধাপে

আগে নামটা ঠিক করুন, তারপর সেটিংসে যান। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র "Guidelines for creating a custom username" পেজে নিয়মগুলো এমন লেখা আছে। ইউজারনেম অন্তত পাঁচ অক্ষরের হতে হবে। শুধু ইংরেজি অক্ষর (A-Z), সংখ্যা (0-9) আর ফুল স্টপ (.) চলবে। .com বা .net-এর মতো ডোমেইনের শেষাংশ, বা খুব সাধারণ শব্দ রাখা যাবে না। একটা পেজের একটাই ইউজারনেম থাকে, আর অন্য কেউ নিয়ে থাকলে সেটা পাবেন না। কাজটা করতে পারেন শুধু পেজের পুরো অ্যাক্সেস যাঁর আছে তিনি।

একই পেজে আরেকটা জিনিস লেখা আছে, যেটা অনেকে জানেন না। ফুল স্টপ আর বড় হাতের অক্ষর দিয়ে দুটো নাম আলাদা হয় না। PanjabiHouse, panjabi.house আর panjabihouse, ফেসবুকের কাছে তিনটাই একই নাম। তাই বড় হাতের অক্ষর দিয়ে নাম সাজিয়ে লাভ নেই, লিংকে সেটা ধরে রাখার ওপর ভরসা করবেন না। সব ছোট হাতের অক্ষরে লিখুন, এটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ভালো ইউজারনেম কেমন হবে, তার একটা সহজ পরীক্ষা আছে। নামটা ফোনে একবার বলে দেখুন, শোনা মানুষটা কি বানান না জিজ্ঞেস করেই লিখতে পারছেন? panjabihouse পারা যায়। panjabi_house_official_bd পারা যায় না, আর আন্ডারস্কোর তো নিয়মেই চলে না। ছোট রাখুন, দোকানের নামের সাথে মিল রাখুন, আর bd, shop, store জাতীয় শব্দ জুড়ুন শুধু দরকার হলে।

কম্পিউটার থেকে ধাপগুলো Meta-র পেজে এভাবে দেওয়া আছে।

  1. ফেসবুকে লগইন করে ওপরে ডান দিকে নিজের প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিন।
  2. See all profiles থেকে আপনার পেজটা বাছুন, মানে পেজে সুইচ করুন।
  3. আবার ওপরে ডানে পেজের প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিয়ে Settings and privacy, তারপর Settings খুলুন।
  4. বাম দিকের মেনুতে Page setup চাপুন।
  5. Name-এ চাপ দিয়ে ইউজারনেমের পাশে Edit চাপুন।
  6. ইউজারনেম লিখুন। খালি থাকলে Save changes চাপুন।
একটা মোবাইল আর ল্যাপটপের স্ক্রিনের নকশা পাশাপাশি, ল্যাপটপে ফেসবুক পেজের Page setup খোলা, Name অংশে ইউজারনেমের ঘরে panjabihouse লেখা আর পাশে সবুজ টিক, নিচে Save changes বাটন
Page setup থেকে Name, তারপর ইউজারনেমের পাশে Edit

ফোন থেকে এই ঘর খুঁজতে গিয়ে অনেকে আধা ঘণ্টা ঘোরেন। কারণটা Meta-র "Change your Page's username and web address" পেজেই লেখা আছে, পেজের ইউজারনেম বদলানো যায় শুধু কম্পিউটারে ফেসবুকে লগইন থাকা অবস্থায়। তাই সময় নষ্ট না করে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নিয়ে বসুন। একই পেজে আরেকটা কথা আছে। পেজে যাঁর শুধু task access আছে, তিনি ইউজারনেম বদলাতে পারেন না। মডারেটরকে দিয়ে কাজটা করাতে গিয়ে আটকে গেলে কারণ এটাই।

নাম বাছার সময় চেষ্টা করুন ফেসবুক, Instagram, ওয়েবসাইটের ডোমেইন আর পারলে WhatsApp-এর বিজনেস প্রোফাইলেও একই নাম রাখতে। কাস্টমার এক জায়গায় নাম দেখে আরেক জায়গায় খুঁজলে যেন একই নাম পান। দোকানের নামটাই এখনো ঠিক না হলে আগে সেটা গুছিয়ে নিন, অনলাইন ব্যবসার নাম বাছার লেখায় কীভাবে দেখবেন নামটা খালি আছে কি না, সেটাও বলা আছে।

ইউজারনেম "not available" দেখালে

পছন্দের নামটা লিখলেন, আর ফেসবুক বলল not available। প্রথম প্রতিক্রিয়া সাধারণত, "কিন্তু এই নামে তো কোনো পেজই নেই!" ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র "What to do if the username you want isn't available" পেজে এর উত্তর লেখা আছে। ইউজারনেম সাধারণত দেওয়া হয় যে আগে চায় তাকে, আর পেজ বা প্রোফাইল পাবলিশ না হলেও নামটা আগে থেকে নেওয়া থাকতে পারে। মানে হয়তো কেউ বছর পাঁচেক আগে একটা প্রোফাইলে নামটা নিয়ে রেখেছেন, যেটা আপনি সার্চে দেখতে পান না।

এখানে কয়েকটা সহজ বদল চেষ্টা করুন। নামের শেষে bd যোগ করুন, যেমন panjabihousebd। দোকানের শহরের নাম যোগ করুন, যেমন panjabihouse.rangpur। নামের মাঝে একটা ফুল স্টপ দিলে কাজ হবে না, কারণ আগেই বললাম ফুল স্টপে নাম আলাদা হয় না। অর্থহীন সংখ্যা জুড়ে দেবেন না, panjabihouse2847 দেখতে নকল পেজের মতো লাগে।

আর নতুন পেজ খোলার সাথে সাথেই ইউজারনেমের ঘর কাজ না করলে ভয় পাবেন না। Meta-র পেজেই লেখা আছে, নতুন পেজে সব সময় সাথে সাথে ইউজারনেম দেওয়া যায় না, বিশেষ করে অল্প সময়ে কয়েকটা পেজ খুললে। কয়েক দিন পেজটা স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে আবার চেষ্টা করুন।

ইউজারনেম বদলালে পুরনো লিংকের কী হয়

এখানে সৎভাবে বলি, Meta-র ইউজারনেম বদলানোর পেজে লেখা নেই যে পুরনো লিংক নতুন নামে নিয়ে যাবে। তাই ধরে নিন পুরনো ইউজারনেমের লিংক আর কাজ করবে না। একই সাথে Meta-র নিয়মের পেজে আরেকটা লাইন আছে, অনেক দিন অচল থাকা পেজের ইউজারনেম সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। মানে মাসের পর মাস পোস্ট না দিয়ে পেজ ফেলে রাখলেও নামটা ঝুঁকিতে পড়ে। দোকান চালু থাকলে নিয়মিত পোস্ট দিন, এটাই সবচেয়ে সহজ পাহারা। আর নিয়ম অনুযায়ী ইউজারনেম যে আগে চায় সে পায়, তাই আপনার ছেড়ে দেওয়া নামটা পরে অন্য কেউ নিয়ে নিতে পারেন। তখন পুরনো স্টিকারের লিংক কাস্টমারকে নিয়ে যাবে অন্য কারও পেজে।

এর দাম কত, একটা হিসাব দেখুন। এটা একটা কাল্পনিক হিসাব, সংখ্যাগুলো শুধু ধরন বোঝাতে। ধরুন পার্সেলের স্টিকারে আপনার পেজের ছোট লিংক আর QR কোড ছাপা। হাতে এখনো ১,০০০টা স্টিকার আছে, প্রতিটা দেড় টাকায় ছাপানো, মানে ১,০০০ × ১.৫০ = ১,৫০০ টাকা। গত তিন মাসে ৬০০টা পার্সেল এই স্টিকার নিয়ে কাস্টমারের বাসায় গেছে। ধরুন তার ৩০ জন পরে আবার কিনতে স্টিকারের লিংক বা QR দিয়ে পেজ খোঁজেন, আর সেখান থেকে ১০টা অর্ডার হতো, প্রতিটায় লাভ ৩০০ টাকা। মানে ১০ × ৩০০ = ৩,০০০ টাকা।

এখন ইউজারনেম বদলালেন। স্টিকারগুলো ফেলে দিতে হলো, গেল ১,৫০০ টাকা। আর যে ৩০ জন পুরনো লিংকে চাপ দিয়ে কিছু পেলেন না বা অন্যের পেজে গেলেন, তাঁদের বড় অংশ আর ফেরেননি। ধরুন ওই ১০টা অর্ডারের সবকটাই হারালেন। মোট ক্ষতি ১,৫০০ + ৩,০০০ = ৪,৫০০ টাকা, শুধু একটা নাম বদলানোর জন্য।

তাই নিয়মটা সোজা। স্টিকার, ইনভয়েস, প্যাকেট বা ব্যানারে লিংক ছাপানোর পরে ইউজারনেম বদলাবেন না। একান্তই বদলাতে হলে, যেমন ব্যবসার নামই বদলে গেছে, তখন আগে পুরনো ছাপা জিনিস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, পেজে কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন নামের কথা জানান, আর ওয়েবসাইট, WhatsApp প্রোফাইল, Instagram সব জায়গার লিংক একই দিনে বদলে দিন।

m.me লিংক আর QR কোড, কোথায় কাজে লাগে

ইউজারনেম পাওয়ার পর আপনার হাতে আসলে দুটো লিংক। facebook.com/ইউজারনেম খোলে পেজ, আর m.me/ইউজারনেম খোলে সরাসরি Messenger-এ আপনার পেজের চ্যাট। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনে m.me লিংক নিয়ে লেখা আছে, এটা Meta-র একটা লিংক সার্ভিস যা মানুষকে Messenger-এ নিয়ে যায় পেজের সাথে কথা শুরু করতে, আর এটা ওয়েবসাইটে, ইমেইলে আর QR কোডে বসানো যায়।

কোথায় কোনটা দেবেন, সেটা কাস্টমার কী করবেন তার ওপর নির্ভর করে। পার্সেলের স্টিকারে আর ইনভয়েসের নিচে m.me লিংক বা তার QR দিন, কারণ পার্সেল হাতে পাওয়া কাস্টমারের সাধারণত একটা কথাই থাকে, "আরেকটা লাগবে" বা "সাইজ বদলাতে চাই"। তাঁকে সরাসরি চ্যাটে পাঠানোই ভালো। দোকানের ব্যানারে, ভিজিটিং কার্ডে আর মেলার স্টলে পেজের লিংক দিন, কারণ নতুন মানুষ আগে পেজ দেখে বিশ্বাস করতে চান।

একটা খোলা পার্সেলের ওপরে লাগানো স্টিকারের ক্লোজআপ, স্টিকারে দোকানের নাম, একটা ছোট m.me লিংক আর তার পাশে একটা QR কোড, পাশে একজন যুবকের হাতে মোবাইল QR স্ক্যান করছে
পার্সেলের স্টিকারে ছোট লিংক আর QR, পরের অর্ডারের রাস্তা

QR কোড বানাতে যেকোনো ফ্রি QR তৈরির টুলে লিংকটা বসালেই হয়। ছাপানোর আগে তিনটা ভিন্ন ফোনে স্ক্যান করে দেখুন, আর কাগজে ছাপার পর আরেকবার, কারণ ছোট করে ছাপলে অনেক ফোন QR পড়তে পারে না। দুই সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট করবেন না। আর QR-এর পাশে লিংকটা লেখাতেও দিন, যাঁর ফোনের ক্যামেরা QR পড়ে না তিনি যেন টাইপ করে আসতে পারেন।

এই ইউজারনেমটাই আপনার ওয়েবসাইটের Messenger বাটনেও কাজে লাগে। WinningSeller-এ সেটিংসের "চ্যাট বাটন (WhatsApp + Messenger)" কার্ডে Messenger-এর ঘরে facebook.com/ইউজারনেম বা শুধু ইউজারনেমটা লিখলেই হয়, আর বাটন চালু করে নিলে দোকানের পেজে "সরাসরি কথা বলুন" থেকে কাস্টমার এক চাপে Messenger-এ আপনার পেজের চ্যাটে চলে যান। ঘরে profile.php?id= দিয়ে লিংক দিলে সেটা নেয় না, বরং বলে দেয় আগে পেজে একটা ইউজারনেম দিতে, কারণ ওই লিংকে Messenger খোলে না। মেসেজগুলো আসে আপনার পেজের নিজের ইনবক্সে, WinningSeller-এ না। ওয়েবসাইটে WhatsApp আর Messenger বাটন কোথায় বসাবেন, তার নিয়ম চ্যাট বাটনের লেখায় আছে, আর দোকানের বাকি সব কাজ ফিচারের পেজে।

আজই করে ফেলুন

ল্যাপটপ খুলে বসলে নিচের কাজগুলো এক ঘণ্টার মধ্যে হয়ে যায়।

  1. ফোনে পেজের লিংক কপি করে প্রাইভেট উইন্ডোতে খুলুন। profile.php?id= দেখলে আজই ইউজারনেম দিন।
  2. পাঁচটা নাম কাগজে লিখুন, সব ছোট হাতের অক্ষরে, অন্তত পাঁচ অক্ষরের, আর দেখুন ওয়েবসাইটের ডোমেইন আর Instagram-এর সাথে মেলে কোনটা।
  3. কম্পিউটারে Page setup থেকে Name খুলে প্রথম নামটা দিয়ে চেষ্টা করুন, not available হলে পরেরটা।
  4. নতুন লিংক আর m.me লিংক দুটোই লগআউট করা ব্রাউজারে আর অন্য একজনের ফোনে খুলে দেখুন।
  5. পেজের লিংক যেখানে যেখানে আছে, যেমন WhatsApp প্রোফাইল, ওয়েবসাইট, Instagram বায়ো, সব জায়গায় নতুন ছোট লিংক বসান।
  6. পরের বার স্টিকার ছাপানোর আগে m.me লিংক আর তার QR তিন ফোনে স্ক্যান করে মিলিয়ে নিন।

পেজের নাম কাস্টমার ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু পার্সেলের গায়ে লেখা ছোট একটা লিংক ছয় মাস পরেও তাঁকে আপনার কাছে ফিরিয়ে আনে। আজ যে নামটা দেবেন, সেটা বছরের পর বছর রেখে দেওয়ার মতো করে বাছুন।

সাধারণ প্রশ্ন

মোবাইলে ফেসবুক পেজের লিংক কিভাবে কপি করব?

ফেসবুক অ্যাপে নিজের পেজটা খুলুন, তারপর পেজের নামের পাশের বা নিচের তিন ডটের (…) মেনুতে চাপ দিন। সেখানে Copy link বা লিংক কপি করার অপশন থাকে, অ্যাপের সংস্করণভেদে জায়গাটা একটু বদলায়। কপি করা লিংকটা একবার নিজের Messenger-এ পাঠিয়ে খুলে দেখুন ঠিক পেজটাই খুলছে কি না।

ফেসবুক পেজের ইউজারনেম কয় অক্ষরের হতে হয়?

Meta-র Help Centre-এর নিয়ম অনুযায়ী ইউজারনেম অন্তত পাঁচ অক্ষরের হতে হয়। শুধু ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা আর ফুল স্টপ (.) চলে, আর .com বা .net-এর মতো ডোমেইনের শেষাংশ রাখা যায় না। বড় হাতের অক্ষর আর ফুল স্টপ দিয়ে দুটো নাম আলাদা হয় না।

ফেসবুক পেজের ইউজারনেম কি মোবাইল থেকে চেঞ্জ করা যায়?

Meta-র "Change your Page's username and web address" পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে লেখা আছে, পেজের ইউজারনেম বদলানো যায় শুধু কম্পিউটারে ফেসবুকে লগইন থাকা অবস্থায়। ফোন থেকে করতে চাইলে ফোনের ব্রাউজারে ডেস্কটপ সাইট চালু করে চেষ্টা করা যায়, তবে কম্পিউটারই সবচেয়ে ঝামেলাহীন।

ইউজারনেম not available দেখাচ্ছে কেন, অথচ ওই নামে কোনো পেজ দেখি না?

Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী ইউজারনেম সাধারণত যে আগে চায় সে পায়, আর পেজ বা প্রোফাইল পাবলিশ না হলেও নামটা আগে থেকে নেওয়া থাকতে পারে। তাই চোখে পেজ না দেখলেও নামটা খালি না। একটা ছোট বদল দিয়ে আরেকটা নাম চেষ্টা করুন।

ফেসবুক পেজের m.me লিংক কী?

m.me লিংক হলো এমন একটা ছোট লিংক, যেটায় চাপ দিলে মানুষ সরাসরি Messenger-এ আপনার পেজের সাথে কথা শুরু করতে পারেন। এটা দেখতে m.me/আপনার-ইউজারনেম। পেজের ইউজারনেম না থাকলে এই লিংক বানানো যায় না।

ফেসবুক পেজের ইউজারনেম কে দিতে পারেন?

পেজে যাঁর পুরো অ্যাক্সেস আছে, যাকে Meta বলে Facebook access, তিনিই ইউজারনেম দিতে বা বদলাতে পারেন। Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, শুধু task access থাকলে ইউজারনেম বদলানো যায় না। তাই মডারেটরকে দিয়ে না করিয়ে কাজটা নিজে করুন।

#ফেসবুক পেজের লিংক#পেজ ইউজারনেম#Facebook username#m.me লিংক#QR কোড#ফেসবুক পেজ

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়