রিটার্গেটিং কি? দেখে চলে যাওয়া মানুষকে আবার অর্ডারে ফেরাবেন যেভাবে
যাঁরা পেজে এসে দাম দেখে অর্ডার না করেই চলে গেলেন, তাঁদের আবার অ্যাডে ফেরানোর পুরো নিয়ম। কোন কাস্টম অডিয়েন্স কোথা থেকে বানাবেন, কত দিনের রাখবেন, লুকালাইক কোন লিস্ট থেকে, কত বাজেটে, আর কেনা মানুষকে কীভাবে বাদ দেবেন।

এই লেখায় যা আছে
- রিটার্গেটিং কি, এক উদাহরণে
- কাস্টম অডিয়েন্স কোথা থেকে বানানো যায়, কোনটা আপনার কাজে লাগবে?
- ধাপ ১: ওয়েবসাইট ভিজিটরের অডিয়েন্স (পিক্সেল লাগবে)
- ধাপ ২: ভিডিও দেখা আর পেজে মেসেজ দেওয়া মানুষের অডিয়েন্স
- ধাপ ৩: ডেলিভারি পাওয়া কাস্টমারের লিস্ট আপলোড
- লুকালাইক অডিয়েন্স কি, কোন লিস্ট থেকে বানাবেন?
- রিটার্গেটিং অ্যাডে কী দেখাবেন, কত দিন, কত বাজেট?
- কাদের বাদ দেবেন, যাতে কেনা মানুষকেই আবার অ্যাড না দেখান
- আজ কোথা থেকে শুরু করবেন
ধরুন এখন রাত এগারোটা বাজে। দোকানের কাজ শেষ করে শুয়ে শুয়ে Ads Manager খুললেন। আজ অ্যাডে গেছে ৩,০০০ টাকা, ল্যান্ডিং পেজে এসেছেন ৯০০ জন, আর অর্ডার এসেছে মাত্র ১৪টা। বাকি ৮৮৬ জন এসে দাম দেখে চুপচাপ চলে গেছেন। রিটার্গেটিং মানে ঠিক এই মানুষগুলোকে আবার অ্যাড দেখানো, যাঁরা আপনার পেজ, ভিডিও বা প্রোডাক্ট একবার দেখেছেন কিন্তু অর্ডার করেননি। ফেসবুকে কাজটা হয় কাস্টম অডিয়েন্স দিয়ে। Ads Manager-এ একটা লিস্ট বানান, যেমন "গত ৭ দিনে অর্ডার ফর্ম খুলেছেন কিন্তু কেনেননি", তারপর অ্যাডটা শুধু ওই লিস্টের মানুষকে দেখান।
ওপরের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কিন্তু বুকের ভেতর ওই খচখচ করা অনুভূতিটা প্রায় সব সেলারের চেনা। নিজের ডলার স্পেন্ড করে মানুষ ডেকে আনলেন, আর তাঁরা একবার দেখেই হারিয়ে গেলেন। কিন্তু ঠিক সময়ে ঠিক কথাটা নিয়ে সামনে গেলে এঁদের অনেকেই ফেরেন। নিচে পুরো কাজটা ধাপে ধাপে দেখাচ্ছি, সাথে COD ব্যবসার একটা ফাঁদ, যেটা অনেকের অ্যাডের টাকা চুপচাপ খেয়ে ফেলে।
রিটার্গেটিং কি, এক উদাহরণে
ধরুন আপনি ১,৪৫০ টাকায় একটা স্মার্টওয়াচ বিক্রি করেন। রাকিব নামে একজন অফিসের লাঞ্চ ব্রেকে আপনার অ্যাড দেখে পেজে ঢুকলেন। ছবি দেখলেন, দাম দেখলেন, অর্ডার ফর্মে নামও লিখলেন। ঠিক তখন বস ডাকলেন, ফোনটা পকেটে চলে গেল। রাতে বাসায় ফিরে তাঁর আর মনে নেই কোন পেজে ঘড়িটা দেখেছিলেন।
দুই দিন পর রাতে ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে তিনি আবার আপনার ঘড়িটা দেখলেন। এবার অ্যাডে ঘড়ির ছবির সাথে লেখা, "ডেলিভারির সময় খুলে দেখে তারপর টাকা দিন।" রাকিবের মনে যে একটু ভয় ছিল, ছবির মতো আসবে তো, সেটা কেটে গেল। তিনি অর্ডার দিলেন। এটাই রিটার্গেটিং। আপনি নতুন কাউকে ডাকছেন না, যিনি আগেই আগ্রহ দেখিয়েছেন তাঁকে আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
মানুষ পেজ দেখে চলে যান নানা কারণে। কেউ ব্যস্ত ছিলেন, কারও বেতন তখনো আসেনি, কারও মনে সন্দেহ ছিল পেজটা আসল কি না। রিটার্গেটিং অ্যাডের কাজ এই সন্দেহের জবাব দেওয়া। একই অ্যাড আবার চোখের সামনে ধরলে সেই কাজটা হয় না।

একটা সৎ কথাও বলে রাখি, রিটার্গেটিং কোনো জাদু না। পেজে দাম বাজারের চেয়ে অনেক বেশি হলে বা ছবি ঝাপসা হলে, রিটার্গেটিং সেই "না"-টাই আরেকবার শোনাবে, তাও আপনার টাকায়। আর দিনে মাত্র ২০-৩০ জন ভিজিটর এলে অডিয়েন্সটা এত ছোট হয় যে অ্যাড ঠিকমতো চলেই না। তখন টাকা না ঢেলে আগে পেজটা ঠিক করুন।
কাস্টম অডিয়েন্স কোথা থেকে বানানো যায়, কোনটা আপনার কাজে লাগবে?
কাস্টম অডিয়েন্স হলো এমন মানুষের লিস্ট, যাঁরা আপনার সাথে আগে কোনোভাবে যুক্ত হয়েছেন। কারা থাকবেন সেটা আপনি বলে দেন, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে লিস্টটা বানায়। কারও নাম আপনি দেখতে পান না, স্ক্রিনে শুধু আন্দাজে কতজন আছেন সেটা দেখায়।
Ads Manager-এর মেনু থেকে Audiences-এ গিয়ে Create audience চাপলে Custom audience পাবেন। সেখানে অনেকগুলো সোর্স দেখায়, যেমন Website, Customer list, Video, Facebook Page, Instagram account। মেনুর লেখা Meta মাঝে মাঝে একটু বদলায়, কিন্তু সোর্সগুলো এরকমই থাকে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বিক্রি করা একটা দোকানের জন্য চারটা সোর্স সবচেয়ে কাজের।
| সোর্স | কারা থাকেন | কী লাগে | শুরুতে কত দিনের রাখবেন |
|---|---|---|---|
| ওয়েবসাইট ভিজিটর | যাঁরা প্রোডাক্ট দেখেছেন, কার্টে নিয়েছেন বা ফর্ম খুলেছেন | ওয়েবসাইটে পিক্সেল | ৭ থেকে ৩০ দিন |
| ভিডিও দেখা মানুষ | যাঁরা রিল বা ভিডিওর বড় অংশ দেখেছেন | পেজে ভিডিও | ৩০ থেকে ৬০ দিন |
| পেজ বা ইনস্টাগ্রামে সাড়া দেওয়া মানুষ | যাঁরা মেসেজ দিয়েছেন, পোস্টে রিঅ্যাক্ট বা কমেন্ট করেছেন | শুধু পেজ | ৩০ থেকে ৯০ দিন |
| ডেলিভারি পাওয়া কাস্টমার | যাঁরা পার্সেল হাতে নিয়েছেন | তাঁদের নম্বরের লিস্ট | বাদ দেওয়া আর লুকালাইকের জন্য |
শেষ কলামের দিনগুলো শুরু করার জন্য একটা আন্দাজ, Meta-র নিয়ম না। যুক্তিটা হলো, যিনি যত বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাঁকে তত তাড়াতাড়ি ধরতে হয়। যিনি ফর্ম খুলেছিলেন, এক সপ্তাহ পরে তাঁর আগ্রহ অনেকটা ঠান্ডা হয়ে যায়।
তাহলে কোনটা দিয়ে শুরু করবেন? নিজের ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে অর্ডার নিলে ওয়েবসাইট ভিজিটর দিয়ে শুরু করুন। অর্ডার যদি শুধু পেজের ইনবক্সে আসে, তাহলে মেসেজ দেওয়া মানুষ আর ভিডিও দেখা মানুষই আপনার ভরসা। আর ব্যবসা কয়েক মাস চললে, যেভাবেই অর্ডার নিন, একটা কাস্টমার লিস্ট বানিয়ে রাখুন।
ধাপ ১: ওয়েবসাইট ভিজিটরের অডিয়েন্স (পিক্সেল লাগবে)
এই অডিয়েন্সের জন্য ওয়েবসাইটে ফেসবুক পিক্সেল বসানো থাকতে হবে, কারণ কে কোন পেজে এলেন সেই খবর ফেসবুক পায় পিক্সেল থেকেই। পিক্সেল নেই, বা বসানো আছে কিন্তু ঠিকমতো কাজ করছে কি না জানেন না, তাহলে আগে ফেসবুক পিক্সেল আর Conversions API সেটআপের লেখাটা ধরে কাজটা শেষ করুন। শুধু ব্রাউজারের পিক্সেল থাকলে অ্যাড ব্লকার আর আইফোনের নিয়মের কারণে অনেক ভিজিট ফেসবুকের কাছে পৌঁছায় না। তাতে আপনার অডিয়েন্সও আসলের চেয়ে ছোট দেখায়।
পিক্সেল ঠিক থাকলে অডিয়েন্স বানানো কয়েক মিনিটের কাজ। Create audience থেকে Custom audience-এ যান, তারপর সোর্স হিসেবে Website আর আপনার পিক্সেলটা সিলেক্ট করুন। এরপর বলে দিতে হয় কোন মানুষদের নেবেন, আর কত দিন পেছন পর্যন্ত। শুরুতে তিনটা আলাদা অডিয়েন্স বানান, কারণ সবার আগ্রহ সমান না।
সবচেয়ে গরম দলটা হলো যাঁরা অর্ডার ফর্ম খুলেছিলেন। এঁদের জন্য ইভেন্টের লিস্ট থেকে InitiateCheckout সিলেক্ট করুন, আর সময় দিন ৭ দিন। এঁরা কেনার একদম কাছে এসে থেমে গেছেন, অনেকে ফর্মে নম্বরও লিখে গেছেন। নম্বর হাতে থাকলে অ্যাডের আগে একটা ফোন দিন। একটা ফোনের খরচ অ্যাডের চেয়ে অনেক কম, আর মানুষের গলা শুনলে সন্দেহও তাড়াতাড়ি কাটে। অ্যাডটা থাকুক তাঁদের জন্য, যাঁদের নম্বর পাননি।
এর পরের দল প্রোডাক্টের পেজ দেখেছেন, কিন্তু ফর্ম পর্যন্ত যাননি। এঁদের অডিয়েন্সে ইভেন্ট দিন ViewContent, সময় ১৪ থেকে ৩০ দিন। তাঁরা দাম জানেন, তাই অ্যাডে এমন কিছু রাখুন যা প্রথমবার চোখে পড়েনি। আসল কাস্টমারের রিভিউ বা প্রোডাক্টের একদম কাছ থেকে তোলা একটা ভিডিও এখানে ভালো কাজ করে।
শেষ দলটা হলো All website visitors, মানে যিনিই ওয়েবসাইটে এসেছেন, সময় ৩০ দিন। দলটা সবচেয়ে বড়, কিন্তু আগ্রহে সবচেয়ে ঠান্ডা। এঁদের নতুন কালেকশন বা আপনার সবচেয়ে বেশি চলা প্রোডাক্টটা দেখান।

কত দিন পেছন পর্যন্ত রাখা যায়, তার সীমা আছে। Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনের Website Custom Audiences পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে লেখা আছে, এই মেয়াদ ১ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে হবে। Meta এসব সীমা মাঝে মাঝে বদলায়, তাই স্ক্রিনে যা দেখায় সেটাই মানবেন। তবে ছয় মাস আগে যিনি একবার পেজ দেখেছিলেন, তিনি সম্ভবত ভুলেই গেছেন।
অডিয়েন্সের নাম এমন দিন যেটা দেখেই বোঝা যায়, যেমন "WEB চেকআউট ৭ দিন"। দুই মাস পর দশটা অডিয়েন্স জমে গেলে এই নামগুলোই আপনাকে বাঁচাবে। আর বানানোর সাথে সাথে সংখ্যা না দেখালে ঘাবড়াবেন না। Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনে লেখা আছে, অডিয়েন্সে মানুষ যোগ বা বাদ হতে কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে, তবে অ্যাড এর মধ্যেও চলতে থাকে।
WinningSeller-এর স্টোর বা ল্যান্ডিং পেজে Pixel ID আর Conversions API-র টোকেন বসালে ViewContent, AddToCart আর InitiateCheckout ব্রাউজার আর সার্ভার দুই দিক থেকেই ফেসবুকে যায়, একই event_id দিয়ে, যাতে দুবার গোনা না হয়। অ্যাড ব্লকারে হারানো ভিজিটের অনেকগুলো সার্ভারের কপি দিয়ে ফিরে আসে, তাই ওপরের অডিয়েন্সগুলো আসল সংখ্যার কাছাকাছি থাকে।
ধাপ ২: ভিডিও দেখা আর পেজে মেসেজ দেওয়া মানুষের অডিয়েন্স
অনেক সেলারের এখনো নিজের ওয়েবসাইট নেই। অর্ডার আসে পেজের ইনবক্সে, কমেন্টে আর রিল থেকে। তাই অনেকে জিজ্ঞেস করেন, "ভাই, ওয়েবসাইট ছাড়া কি রিটার্গেটিং হয়?" হয়, শুধু সোর্সটা আলাদা।
আগে ভিডিও দেখা মানুষের অডিয়েন্স বানান। Custom audience-এ সোর্স হিসেবে Video সিলেক্ট করুন। তারপর কতটা দেখলে লিস্টে আসবেন সেটা বেছে নিন, যেমন ভিডিওর অন্তত ৫০% দেখেছেন, বা ThruPlay। এরপর ভিডিওগুলো সিলেক্ট করুন। ৩ সেকেন্ড দেখা মানুষ নেবেন না, কারণ স্ক্রল করার সময় যাঁর চোখের সামনে দিয়ে ভিডিওটা চলে গেছে, তিনিও ওই দলে পড়েন। যিনি প্রোডাক্টের ভিডিও অর্ধেক পর্যন্ত দেখেছেন, তিনি সত্যিই কিছুটা আগ্রহী।
এবার আসি পেজে মেসেজ দেওয়া মানুষের কথায়। সোর্স হিসেবে Facebook Page সিলেক্ট করুন, তারপর নিজের পেজ। এখানে কয়েকটা অপশন পাবেন। "Everyone who engaged with this Page" মানে যিনি পেজে এসেছেন বা কোনো পোস্টে সাড়া দিয়েছেন, এটা বড় দল। আরেকটা অপশনে থাকেন যাঁরা পেজে মেসেজ পাঠিয়েছেন। এই দলটা সোনার মতো। এঁরা ইনবক্সে দাম জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারপর আর উত্তর দেননি। Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনে পেজ এনগেজমেন্টের অডিয়েন্সে সর্বোচ্চ ৭৩০ দিন পর্যন্ত রাখার কথা লেখা আছে। তবে মেসেজ দেওয়া মানুষদের জন্য ৩০ থেকে ৬০ দিনই যথেষ্ট, এর বেশি পুরনো জিজ্ঞাসা সাধারণত আর অর্ডারে বদলায় না।
ইনস্টাগ্রামের জন্য সোর্স হিসেবে Instagram account দিন, যদি প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টটা পেজের সাথে যুক্ত থাকে।
আরেকটা প্রশ্নও খুব আসে, "যাঁরা দাম জিজ্ঞেস করে কেনেননি, শুধু তাঁদের কি আলাদা করে ধরা যায়?" সরাসরি যায় না, কারণ মেসেজ দেওয়া মানুষের লিস্টে ক্রেতারাও থাকেন। তাঁদের বাদ দিতে হয় কাস্টমার লিস্ট দিয়ে, যেটা পরের ধাপে বানাবেন।
ধাপ ৩: ডেলিভারি পাওয়া কাস্টমারের লিস্ট আপলোড
এই লিস্টটা দিয়ে আপনি কেনা মানুষকে অ্যাড থেকে বাদ দেবেন, তাঁদের সাথের অন্য প্রোডাক্ট দেখাবেন, আবার লুকালাইকও বানাবেন। প্রতিটা কাজেই শর্ত একটা। লিস্টে থাকবেন শুধু তাঁরা, যাঁরা পার্সেল হাতে নিয়ে টাকা দিয়েছেন। যাঁরা অর্ডার দিয়ে ফোন ধরেননি বা পার্সেল ফেরত দিয়েছেন, তাঁরা এখানে ঢুকবেন না। কেন, সেটা লুকালাইকের অংশে টাকার হিসাবে দেখাচ্ছি।
লিস্টটা বানান একটা সাধারণ শিটে। কুরিয়ারের প্যানেলে ডেলিভারি হওয়া পার্সেলের লিস্ট থাকে, অর্ডারের খাতাও আছে। যেখানে যা পান, সেখান থেকে নাম আর মোবাইল নম্বর তুলে নিন। কলাম রাখুন phone, fn (নামের প্রথম অংশ), ln (নামের শেষ অংশ) আর country। শুধু নম্বর থাকলেও চলে, তবে নাম থাকলে মেলানো একটু সহজ হয়।
নম্বরের ফরম্যাটে একটা ভুল প্রায় সবাই করেন। আমরা লিখি 01712345678, কিন্তু Meta চায় দেশের কোডসহ নম্বর। Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনে কাস্টমার লিস্টের নিয়মে লেখা, নম্বর থেকে চিহ্ন আর শুরুর শূন্য বাদ দিতে হবে, আর আলাদা country কলাম না থাকলে সামনে দেশের কোড বসাতে হবে। মানে 01712345678 হবে 8801712345678। Excel-এ নম্বরগুলো A কলামে থাকলে পাশের ঘরে ="880"&RIGHT(A2,10) লিখে নিচে টেনে দিন। নিরাপদ থাকতে country কলামে BD-ও লিখে রাখতে পারেন।

আপলোড করতে Custom audience থেকে Customer list সিলেক্ট করুন, ফাইলটা দিন, তারপর কোন কলামে কী আছে সেটা মিলিয়ে দিন। Meta-র Business Help Center-এ লেখা আছে, Ads Manager-এ লিস্ট আপলোড করলে তথ্যটা পাঠানোর আগেই হ্যাশ করা হয়। হ্যাশ মানে নম্বরটা এমন এক কোডে বদলে যায়, যেটা থেকে আর আসল নম্বর বের করা যায় না। আপলোডের পরে দেখবেন সব নম্বর অডিয়েন্সে আসেনি, কারণ অনেকের ফেসবুকে ওই নম্বর দেওয়া নেই। এটা স্বাভাবিক।
লিস্টটা নিজে থেকে বাড়ে না। নতুন ডেলিভারি হলে মাসে একবার নতুন নম্বরগুলো যোগ করে আবার আপলোড করুন, নইলে গত মাসের ক্রেতারাও "নতুন মানুষ" হিসেবে আপনার অ্যাড দেখতে থাকবেন। হাতে শিট বানালে এই মাসিক কাজটাই সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগে, আর এজন্যই অনেকে দুই মাস পর আর করেন না। WinningSeller-এ অর্ডারের লিস্টে স্ট্যাটাস "ডেলিভারড" দিয়ে ফিল্টার করে CSV নামালে কাস্টমারের নাম আর মোবাইল নম্বরসহ পুরো লিস্টটা এক ফাইলে চলে আসে। তারপর ওপরের ফর্মুলা দিয়ে নম্বরগুলো 880 দিয়ে শুরু করিয়ে আপলোড করলেই হলো।
লুকালাইক অডিয়েন্স কি, কোন লিস্ট থেকে বানাবেন?
লুকালাইক অডিয়েন্স মানে আপনার একটা কাস্টম অডিয়েন্স দেখে ফেসবুক নতুন মানুষ খুঁজে বের করে, যাঁদের আগ্রহ আর অনলাইনে চলাফেরা ওই মানুষদের মতো। এটা আসলে রিটার্গেটিং না, নতুন কাস্টমার খোঁজার রাস্তা। কিন্তু বানাতে লাগে রিটার্গেটিংয়ের লিস্টগুলোই, তাই কথাটা এখানে বলছি।
Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনে ২০২৬ সালের অক্টোবরে লেখা আছে, লুকালাইকের সোর্স অডিয়েন্সে অন্তত ১০০ জন থাকতে হবে, আর একটা দেশ ঠিক করে দিতে হবে। সাইজ দেওয়া হয় শতাংশে। ১% মানে সেই দেশে আপনার সোর্সের সাথে সবচেয়ে বেশি মেলে এমন ১% মানুষ। শতাংশ যত বাড়াবেন, অডিয়েন্স তত বড় হবে, কিন্তু মিল তত কমবে। শুরু করুন বাংলাদেশ আর ১% দিয়ে।
এবার সেই ফাঁদের কথা, যেটা শুরুতে বলেছিলাম। লুকালাইক সোর্সের মানুষগুলোর মতো মানুষ খোঁজে। সোর্সে যদি এমন মানুষ থাকেন যাঁরা অর্ডার দেন কিন্তু পার্সেল নেন না, ফেসবুক তাঁদের মতো মানুষও খুঁজে আনবে। ফেক অর্ডার দিয়ে বানানো লুকালাইক আরও ফেক অর্ডারের মানুষ খুঁজে দেয়।
নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন আপনার কাছে দুটো লিস্ট আছে। একটায় গত ছয় মাসের সব অর্ডারের ৬০০টা নম্বর, যার মধ্যে প্রায় ১৫০টা ফোন ধরেনি বা পার্সেল ফেরত দিয়েছে। আরেকটায় শুধু বাকি ৪৫০ জন, যাঁরা পার্সেল হাতে নিয়েছেন। প্রথম লিস্টের লুকালাইকে ধরুন একটা অর্ডার আসে ১৮০ টাকায়, কিন্তু ৩০% পার্সেল ফেরত আসে। তাহলে একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের পেছনে অ্যাড খরচ দাঁড়ায় ১৮০ ÷ ০.৭ = প্রায় ২৫৭ টাকা। তার ওপর প্রতিটা ফেরত পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ আলাদা।
দ্বিতীয় লিস্টের লুকালাইকে ধরুন অর্ডার একটু দামি পড়ে, একেকটা ২০০ টাকায়, কিন্তু ফেরত আসে ১৫%। তাহলে একটা ডেলিভারির পেছনে খরচ ২০০ ÷ ০.৮৫ = প্রায় ২৩৫ টাকা। একই টাকা খরচ করলে ফেরত পার্সেলের সংখ্যাও আগের অর্ধেকের কম হয়। Ads Manager-এ প্রথমটাকে ভালো দেখায়, কারণ সেখানে অর্ডার সস্তা। কিন্তু মাসের শেষে পকেটে টাকা আসে দ্বিতীয়টা থেকে। আপনার দোকানে ফারাকটা কত, সেটা আমি বলতে পারব না। দুটো লুকালাইক এক সপ্তাহ পাশাপাশি চালিয়ে ডেলিভারির হিসাবে মিলিয়ে দেখুন।

ওয়েবসাইটের Purchase অডিয়েন্সেও একই ফাঁদ। পিক্সেল যদি ফেক অর্ডারসহ প্রতিটা অর্ডারেই Purchase পাঠায়, তার লুকালাইকও ফেক অর্ডারের মানুষ শিখবে। Purchase কখন পাঠাবেন, সেটা পিক্সেলের লেখায় আলাদা করে বলা আছে।
সবচেয়ে ভালো সোর্স হলো যাঁরা দুই বা তার বেশি বার কিনেছেন, কিন্তু ছোট দোকানে এমন মানুষ ১০০ জনও হয় না। তাই শুরু করুন ডেলিভারি পাওয়া সব কাস্টমার দিয়ে। Create audience থেকে Lookalike audience সিলেক্ট করে সোর্সে কাস্টমার লিস্ট, দেশে বাংলাদেশ আর সাইজে ১% দিন।
রিটার্গেটিং অ্যাডে কী দেখাবেন, কত দিন, কত বাজেট?
রিটার্গেটিংয়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে অ্যাড দেখে মানুষ চলে গিয়েছিলেন, সেটাই আবার দেখানো। ওই অ্যাডের কথায় তাঁর মন ভরেনি বলেই তিনি কেনেননি। এবার তাঁর মনের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
মানুষ পেজ থেকে ফিরে যান সাধারণত কোনো একটা সন্দেহ নিয়ে। কেউ ভাবেন প্রোডাক্ট ছবির মতো আসবে কি না, কেউ ভাবেন পেজটা আসল কি না, আবার কারও চিন্তা সাইজ মিলবে তো। প্রতিটা সন্দেহের জন্য আলাদা একটা অ্যাড ভাবুন।
- যিনি ভাবছেন "ছবির মতো আসবে তো?", তাঁকে আসল প্যাকেট খোলার ভিডিও দেখান, বা কাস্টমারের পাঠানো ছবি, অবশ্যই সেই কাস্টমারের অনুমতি নিয়ে।
- যাঁর ভয় "টাকা দিয়ে ঠকব না তো?", তাঁর জন্য লিখুন, ডেলিভারির সময় খুলে দেখে তারপর টাকা দেবেন। এই কথা দিলে সেটা সত্যিই রাখতে হবে।
- যাঁর মনে হয়েছে দামটা একটু বেশি, তাঁকে দাম কমানোর আগে দেখান কেন এই দাম। কোন কাপড়, কোন মেশিন, কত দিনের ওয়ারেন্টি, সেটা বলুন। তারপরও দরকার হলে একটা ছোট অফার দিন, যেমন ডেলিভারি চার্জ ফ্রি।
অ্যাডের লেখায় এমন কিছু বলবেন না যাতে মনে হয় আপনি তাঁর ওপর নজর রাখছেন। "আপনি গতকাল আমাদের পেজে এসেছিলেন" পড়লে অনেকের অস্বস্তি লাগে। "এখনো ভাবছেন? খুলে দেখে নিন, তারপর টাকা দিন" অনেক বেশি স্বাভাবিক শোনায়।

ক্যাম্পেইন বানানো আর objective বাছাই ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন সেটআপের লেখায় ধাপে ধাপে আছে। রিটার্গেটিংয়ে শুধু একটা জিনিস খেয়াল রাখুন। Advantage+ audience চালু থাকলে ফেসবুক আপনার কাস্টম অডিয়েন্সকে সাধারণত সাজেশন হিসেবে ধরে, আর তার বাইরের মানুষকেও অ্যাড দেখায়। শুধু ওই লিস্টের মানুষকে দেখাতে চাইলে স্ক্রিনের লেখা পড়ে দরকার হলে Advantage+ audience বন্ধ করুন। Meta এই অংশটা প্রায়ই বদলায়।
এবার বাজেটের কথা। রিটার্গেটিং অডিয়েন্স সাধারণত ছোট হয়, কয়েকশো বা কয়েক হাজার মানুষ। ছোট অডিয়েন্সে বেশি টাকা দিলে ফেসবুক একই মানুষকে বারবার দেখায়। তখন খরচ বাড়ে, আর মানুষ বিরক্ত হয়ে অ্যাড লুকিয়ে দেন।
এটাও একটা উদাহরণ। ধরুন আপনি দিনে মোট ২,০০০ টাকার অ্যাড চালান। অনেক সেলার এর দশ থেকে বিশ ভাগ, মানে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা রিটার্গেটিংয়ে দেন। ধরুন দিনে ৩০০ টাকায় সাত দিন চালালেন, খরচ ২,১০০ টাকা, অর্ডার এলো ১২টা। একেকটা অর্ডারে খরচ ১৭৫ টাকা। একই সপ্তাহে নতুন মানুষের অ্যাডে যদি একটা অর্ডারে ২৫০ টাকা যায়, তাহলে রিটার্গেটিং ভালো করছে। তবে তুলনাটা করবেন ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে, শুধু অর্ডারের সংখ্যা ধরে না।
বাজেট বাড়াবেন কি না, সেটা বুঝতে Ads Manager-এর Frequency কলামটা দেখুন। এটা বলে একজন মানুষ গড়ে কতবার আপনার অ্যাড দেখেছেন। এর কোনো জাদুর সংখ্যা নেই। কয়েক দিন ধরে Frequency বাড়ছে আর একই সাথে CTR নামছে বা অর্ডারের খরচ বাড়ছে, এটা দেখলে বুঝবেন মানুষ অ্যাডটা দেখে দেখে ক্লান্ত। তখন বাজেট না বাড়িয়ে নতুন ছবি বা ভিডিও দিন, অথবা অডিয়েন্সের দিন একটু বাড়ান। আর রিটার্গেটিং কয়েক দিনের জন্য চালিয়ে বন্ধ করে দেবেন না। ছোট বাজেটে সারা মাস চালু রাখুন, কারণ প্রতিদিনই নতুন মানুষ পেজ দেখে চলে যাচ্ছেন।
কাদের বাদ দেবেন, যাতে কেনা মানুষকেই আবার অ্যাড না দেখান
একটা দৃশ্য ভাবুন। একজন কাস্টমার গতকাল ১,৪৫০ টাকায় আপনার ঘড়িটা খুশি মনে নিলেন। আজ ফেসবুকে দেখলেন সেই ঘড়িরই অ্যাড, লেখা "ডেলিভারি চার্জ ফ্রি"। তাঁর মনে প্রথম যে প্রশ্নটা আসবে, আমি কি ঠকলাম? আপনার অ্যাডের টাকাও গেল, আর খুশি কাস্টমারের মনটাও খারাপ হয়ে গেল।
এটা ঠেকাতে অ্যাড সেটের অডিয়েন্স অংশে Exclude-এর ঘরে কিছু অডিয়েন্স বসিয়ে দিন। ওই ঘরে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা এই অ্যাড দেখবেন না।
সবার আগে বাদ দিন যাঁরা কিনে ফেলেছেন। এর জন্য ধাপ ৩-এর ডেলিভারি পাওয়া কাস্টমারের লিস্ট বসান। ওয়েবসাইটে পিক্সেল থাকলে গত ৩০ দিনের Purchase ইভেন্টের অডিয়েন্সও বসাতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, Purchase কখন যায় তার ওপর নির্ভর করে এই লিস্ট কতটা ঠিক।
যাঁদের পার্সেল এখন কুরিয়ারে আছে, তাঁদেরও বাদ দেওয়া ভালো। ভাবুন, তিনি অর্ডার দিয়েছেন, পার্সেল পথে আছে, আর ঠিক তখন তাঁকে কম দামের অফার দেখালেন। দরজায় পার্সেল ফেরত দেওয়ার একটা কারণ আপনি নিজেই হাতে তুলে দিলেন। কুরিয়ারে থাকা অর্ডারের নম্বরগুলো আলাদা একটা ছোট লিস্ট করে সপ্তাহে একবার আপলোড করতে পারেন।
আর যে নম্বরগুলো বারবার পার্সেল ফেরত দিয়েছে, সেগুলোর একটা লিস্ট আপলোড করে সব অ্যাড থেকেই বাদ দিন। এঁরা যত কম অ্যাড দেখবেন, ফেরতের চার্জে তত কম টাকা যাবে।

একটা ব্যতিক্রম আছে। কেনা মানুষকে একই প্রোডাক্টের অ্যাড দেখাবেন না, কিন্তু সাথের অন্য প্রোডাক্ট দেখাতে পারেন। মধুর কাস্টমারকে ঘি, ঘড়ির কাস্টমারকে বেল্ট বা চার্জার। এর জন্য আলাদা একটা অ্যাড সেট বানান, যেখানে কাস্টমার লিস্টটাই অডিয়েন্স। তবে পুরনো কাস্টমারের কাছে আবার বিক্রির সবচেয়ে সস্তা রাস্তা এখনো একটা ফোন। কাকে কবে ফোন দেবেন, সেটা পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় পুরোটা আছে।
আজ কোথা থেকে শুরু করবেন
এত কিছু পড়ে মাথা ভার লাগলে চিন্তা নেই, আজ সব একসাথে করতে হবে না। পিক্সেল থাকলে "WEB চেকআউট ৭ দিন" আর "WEB ভিউ ৩০ দিন" নামে দুটো অডিয়েন্স বানিয়ে রাখুন। পিক্সেল না থাকলে পেজে মেসেজ দেওয়া মানুষের ৬০ দিনের অডিয়েন্স বানান। আর গত তিন মাসে যাঁরা পার্সেল নিয়েছেন, তাঁদের নম্বর 880 দিয়ে একটা শিটে তুলে কাস্টমার লিস্ট আপলোড করুন। কাল সকালে অডিয়েন্সগুলোতে সংখ্যা দেখা গেলে কেনা মানুষদের বাদ দিয়ে ছোট বাজেটে একটা রিটার্গেটিং অ্যাড সেট চালু করুন। এক সপ্তাহ পর ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে হিসাব মেলান।
যে ৮৮৬ জন আজ রাতে আপনার পেজ দেখে চলে গেলেন, তাঁদের অনেকে আসলে "না" বলেননি, বলেছেন "পরে দেখি"। রিটার্গেটিং সেই "পরে"-টাকে আপনার দিকে ফিরিয়ে আনে। প্রথম যেদিন Ads Manager-এ রিটার্গেটিং অ্যাড সেটের পাশে কয়েকটা অর্ডার জমতে দেখবেন, সেদিন ওই রাত এগারোটার খচখচানিটা অনেকটা কমে যাবে।
এই কাজটা এক জায়গা থেকে চালাতে চাইলে WinningSeller-এ Purchase কখন যাবে সেটা আপনি ঠিক করে দেন, স্টাফ অর্ডার কনফার্ম করার পরে বা কুরিয়ার ডেলিভারি করার পরে। তাতে Purchase অডিয়েন্স আর তার লুকালাইক ফেক অর্ডার থেকে অনেকটা দূরে থাকে। অ্যাডের খরচ লিখে রাখলে কোন প্ল্যাটফর্মের অ্যাড থেকে কত ডেলিভারি এলো, সেটাও পাশাপাশি দেখা যায়। বাকি সব ফিচার এখানে দেখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
রিটার্গেটিং কি?
রিটার্গেটিং মানে যাঁরা আপনার ওয়েবসাইট, ভিডিও বা পেজ একবার দেখেছেন কিন্তু অর্ডার করেননি, তাঁদের আবার অ্যাড দেখানো। ফেসবুকে এটা করা হয় কাস্টম অডিয়েন্স বানিয়ে, তারপর অ্যাডটা শুধু ওই অডিয়েন্সকে দেখিয়ে। এই মানুষগুলো আপনার প্রোডাক্ট আগে থেকেই চেনেন, তাই তাঁদের কাছে বিক্রি করা সাধারণত নতুন মানুষের চেয়ে সহজ।
রিটার্গেটিং করতে কি ওয়েবসাইট লাগবেই?
না। পেজে মেসেজ দেওয়া মানুষ, পোস্টে সাড়া দেওয়া মানুষ আর ভিডিও দেখা মানুষ দিয়েও কাস্টম অডিয়েন্স বানানো যায়, এর জন্য শুধু ফেসবুক পেজ লাগে। তবে কে প্রোডাক্টের পেজ দেখলেন আর কে অর্ডার ফর্ম খুলেও চলে গেলেন, এটা ধরতে হলে ওয়েবসাইটে পিক্সেল লাগবে।
কাস্টম অডিয়েন্স আর লুকালাইক অডিয়েন্সের পার্থক্য কী?
কাস্টম অডিয়েন্সে থাকেন সেই মানুষরা, যাঁরা আপনার সাথে আগে কোনোভাবে যুক্ত হয়েছেন, যেমন ওয়েবসাইটে এসেছেন বা আপনার কাছ থেকে কিনেছেন। লুকালাইক অডিয়েন্সে থাকেন নতুন মানুষ, যাঁদের ফেসবুক খুঁজে বের করে আপনার কোনো কাস্টম অডিয়েন্সের সাথে মিল দেখে। প্রথমটা দিয়ে পুরনোদের ফেরান, দ্বিতীয়টা দিয়ে নতুন কাস্টমার খোঁজেন।
লুকালাইক অডিয়েন্স বানাতে কতজন কাস্টমার লাগে?
Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনে লেখা আছে, লুকালাইকের সোর্স অডিয়েন্সে অন্তত ১০০ জন থাকতে হয়। এর চেয়ে বেশি হলে ফেসবুকের শেখার মতো তথ্য বাড়ে, তাই কয়েকশো ডেলিভারি পাওয়া কাস্টমার জমলে শুরু করাই ভালো। সংখ্যার চেয়েও জরুরি হলো লিস্টে শুধু আসল ক্রেতা রাখা।
রিটার্গেটিং অ্যাডে কত টাকা বাজেট দেব?
অনেক সেলার শুরু করেন মোট অ্যাড বাজেটের ছোট একটা অংশ দিয়ে, যেমন দশ থেকে বিশ ভাগ। রিটার্গেটিং অডিয়েন্স ছোট হয়, তাই বেশি টাকা দিলে একই মানুষ দিনে বারবার অ্যাড দেখেন আর বিরক্ত হন। Ads Manager-এর Frequency কলাম দেখে বাজেট বাড়াবেন বা কমাবেন।
কাস্টমারের নম্বর ফেসবুকে আপলোড করা কি ঠিক?
শুধু তাঁদের নম্বর, যাঁরা আপনার কাছ থেকে কিনেছেন। Meta-র Business Help Center-এ লেখা আছে, Ads Manager-এ লিস্ট আপলোড করলে তথ্যটা পাঠানোর আগেই হ্যাশ করা হয়, মানে এমন কোডে বদলে যায় যেটা উল্টে আর নম্বর বানানো যায় না। কেনা লিস্ট বা অন্য কারও কাস্টমারের নম্বর কখনো তুলবেন না।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


