WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৫ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম, "সাইজ কত ভাই?" কমানোর ৫টা উদাহরণ

ইনবক্সে বারবার "সাইজ কত ভাই?" এলে বুঝবেন প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনে কিছু বাদ পড়েছে। ছয় অংশের একটা সহজ ছক, পাঞ্জাবি, স্মার্টওয়াচ, মধু, জুতা আর ট্রিমারের পুরো উদাহরণ, আর কোন লাইন লিখলে পার্সেল ফেরত বাড়ে, সেটাও দেখিয়ে দিলাম।

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম, "সাইজ কত ভাই?" কমানোর ৫টা উদাহরণ
এই লেখায় যা আছে
  1. প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন কেন বিক্রি বাড়ায় আর ফোন কমায়?
  2. ভালো ডেসক্রিপশনে কোন ছয়টা কথা, কোন ক্রমে লিখবেন?
  3. পাঞ্জাবির ডেসক্রিপশনে মাপ আর কাপড় কীভাবে লিখবেন?
  4. স্মার্টওয়াচ বা গ্যাজেটের ডেসক্রিপশনে কী লিখবেন?
  5. মধু বা খাবারের ডেসক্রিপশনে কী লিখলে কাস্টমার বিশ্বাস করেন?
  6. জুতা আর ট্রিমারের ডেসক্রিপশনে কোন লাইন ফেরত থামায়?
    1. জুতায় সাইজ নম্বরের চেয়ে পায়ের মাপ বেশি কাজের
    2. ট্রিমারে চার্জ, ব্লেড আর পানির কথা
  7. কোন কথা লিখলে ফেরত আর অভিযোগ বাড়ে?
  8. এআই দিয়ে লেখালে কোথায় হাত দেবেন?

ধরুন রাত সাড়ে দশটা বাজে। সারাদিন প্যাকিং আর কুরিয়ারের পিকআপ সামলে একটু শুয়েছেন, ফোন খুলে দেখলেন ইনবক্সে আঠারোটা মেসেজ জমে আছে। এমন রাত যদি আপনারও যায়, গলদটা সাধারণত প্রোডাক্টে না, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনে। প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন হলো ছবির নিচের সেই লেখা, যেটা পড়ে কাস্টমার বোঝেন জিনিসটা কী আর তাঁর কাজে লাগবে কি না। ভালো ডেসক্রিপশনে ছয়টা কথা এই ক্রমে থাকে। জিনিসটা কার জন্য, আসলে কী, মাপ-কাপড় বা স্পেক কত, কীভাবে চালাবেন বা যত্ন নেবেন, বক্সে কী কী থাকে, আর শেষে এক লাইনে ডেলিভারি আর চেঞ্জের নিয়ম কী।

ওই আঠারোটা মেসেজের বেশিরভাগে লেখা "ভাই সাইজ কত?"। বাকিগুলোতে "কাপড় কী?", আর একটায় শুধু "প্রাইস?"। সবগুলো এসেছে একই পাঞ্জাবির পোস্ট থেকে, যার নিচে আপনি লিখেছিলেন "প্রিমিয়াম কোয়ালিটি, এক্সক্লুসিভ কালেকশন"। একটা একটা করে উত্তর দিতে দিতে রাত বারোটা বেজে গেল। দুদিন পর একটা পার্সেল ফেরতও এলো, কাস্টমার বলেছেন লম্বায় ছোট হয়েছে। মনটা খারাপ হয়, কারণ ভুলটা পাঞ্জাবির ছিল না। আপনি যা জানতেন, সেটা শুধু পেজে লেখা ছিল না। নিচে পাঁচটা প্রোডাক্টের পুরো উদাহরণ দিলাম, প্রতিটা লাইনের পেছনের কারণসহ।

রাতে বিছানায় বসে এক তরুণ সেলার ক্লান্ত মুখে ফোনে ইনবক্স দেখছেন, পাশে প্যাক করা পার্সেল
যে প্রশ্ন বারবার আসে, তার উত্তর ডেসক্রিপশনেই থাকার কথা ছিল

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন কেন বিক্রি বাড়ায় আর ফোন কমায়?

দোকানে গেলে কাস্টমার কাপড়টা হাতে নিয়ে গায়ে ধরে দেখেন, মনে প্রশ্ন জাগলে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করে নেন। অনলাইন শপ বা ই-কমার্সে এই সুযোগটা নেই। সেখানে আপনার ছবি আর লেখাটাই দোকানদারের কাজ করে। লেখায় যে প্রশ্নের উত্তর নেই, সেটা তিনভাবে আপনার কাছেই ফিরে আসে।

কেউ ইনবক্সে জিজ্ঞেস করেন, তাতে আপনার সময় যায়। কেউ কিছু না বলে স্ক্রল করে চলে যান, আর এই মানুষগুলোকে আপনি কোনোদিন দেখতেও পান না। অথচ তাঁদের ক্লিকের পেছনেও আপনার ডলার স্পেন্ড হয়েছে। আর কেউ আন্দাজে অর্ডার দিয়ে দেন, তারপর পার্সেল খুলে দেখেন যা ভেবেছিলেন তা না। তখন পার্সেলটা দরজা থেকেই ফেরত যায়।

শেষেরটার খরচ টাকায় দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন আপনি ১,৫৫০ টাকার পাঞ্জাবি বেচেন, আর মাপ না মেলায় মাসে ১০টা পার্সেল ফেরত আসে। প্রতিটায় যাওয়া-আসার কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে ধরুন ১৮০ টাকা যায়। তাহলে মাসে ১,৮০০ টাকা কোনো কাজে না লেগেই চলে গেল, আর যে অ্যাডের টাকায় ওই ১০টা অর্ডার এসেছিল, সেটাও গেল। ডেসক্রিপশনে বুকের মাপ আর লম্বা লিখে দিলে সব ফেরত থামবে না। কিন্তু "ভেবেছিলাম বড় হবে" ধরনের ফেরত অনেকটাই কমে আসে।

একটা প্রোডাক্ট নিয়ে অ্যাড চালানোর লম্বা বিক্রির পেজ কীভাবে সাজাবেন, সেটা ল্যান্ডিং পেজের লেখায় আছে। এই লেখা দোকানের প্রতিটা প্রোডাক্টের নিচের ছোট লেখাটা নিয়ে।

ভালো ডেসক্রিপশনে কোন ছয়টা কথা, কোন ক্রমে লিখবেন?

ছয়টা অংশ সবসময় একই ক্রমে রাখুন, কারণ কাস্টমারের মাথায় প্রশ্নগুলো ঠিক এই ক্রমেই আসে।

প্রথম লাইনেই বলুন জিনিসটা কার জন্য। যেমন "অফিসে আর জুমায় পরার মতো হালকা সুতি পাঞ্জাবি"। প্রথম লাইনে কাস্টমার নিজেকে দেখতে পেলে বাকিটা পড়েন। "সবার জন্য" লিখবেন না, কারণ ওটা পড়ে কেউই ভাবেন না জিনিসটা তাঁর।

তারপর সাদা কথায় বলুন জিনিসটা আসলে কী। এক-দুই বাক্যে বোঝান জিনিসটা কী আর অন্যগুলো থেকে আলাদা কোথায়। "সেরা কোয়ালিটি" কিছুই বোঝায় না। "সুতি কাপড়, গরমে গায়ে লেপ্টে থাকে না" লিখলে কাস্টমার একটা আসল তথ্য পান।

তৃতীয় অংশে মাপ, কাপড় বা স্পেক লিখুন সংখ্যা দিয়ে। এই অংশটাই ফেরত থামায়। ইঞ্চি, সেন্টিমিটার, গ্রাম বা ঘণ্টায় যা মাপা যায়, সেটা মেপেই লিখুন। এটা শুধু ভালো অভ্যাস না, নিয়মও। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২ অংশে প্রোডাক্টের ছবি, রং, আকার, মাপ, ওজন, কী দিয়ে বানানো, ব্র্যান্ড, মডেল, কোন দেশে তৈরি আর ডেলিভারিতে কত দিন লাগবে, এসব জানাতে বলা আছে। নিয়মগুলো কোথায় লেখা আর ফেসবুক পেজেও কেন খাটে, সেটা অনলাইন ব্যবসার নীতিমালার লেখায় বিস্তারিত পাবেন।

চতুর্থ অংশে লিখুন কীভাবে চালাবেন বা যত্ন নেবেন। কাপড় হলে কীভাবে ধোবেন, গ্যাজেট হলে কীভাবে চার্জ দেবেন, খাবার হলে কোথায় রাখবেন, সেটা লিখে দিন। অনেক অভিযোগ আসলে ভুল যত্ন থেকে আসে। গরম পানিতে ধুয়ে কাস্টমার বলেন "রং উঠে গেছে"। আগে থেকে এক লাইন লেখা থাকলে এই তর্কটা আর হয় না।

পঞ্চম অংশে লিখুন বক্সে কী থাকে। যা থাকে সেটা তো লিখবেনই, আর যেটা অনেকে আশা করেন কিন্তু থাকে না, সেটা আরও স্পষ্ট করে লিখুন। "অ্যাডাপ্টার নেই" বা "পায়জামা সাথে নেই", এই একটা লাইন অনেক ঝগড়া বাঁচায়।

শেষে এক লাইনে ডেলিভারি আর চেঞ্জের নিয়ম দিন। অর্ডারের আগে কাস্টমারের শেষ ভয় থাকে, না মিললে কী হবে। এক লাইনে উত্তর দিন, লম্বা নিয়মটা আলাদা পেজে রাখুন। শুধু খেয়াল রাখবেন, এখানে যা লিখবেন ঠিক তাই করতে হবে, নইলে এই লাইনটাই পরে আপনার বিপক্ষে যাবে।

মোবাইলে একটা প্রোডাক্ট পেজ, ছবির নিচের লেখাটা ছয় রঙে ভাগ করা, কার জন্য, কী জিনিস, মাপ, যত্ন, বক্সে যা থাকে আর ডেলিভারির লাইন আলাদা আলাদা দাগানো
ছয়টা অংশ, কাস্টমারের প্রশ্ন যে ক্রমে আসে সেই ক্রমে

লেখার চেহারাটাও জরুরি। মোবাইলে মানুষ প্রথম তিন-চার লাইনই আগে দেখেন, তাই প্রথম দুই অংশ ওপরে রাখুন। প্রতিটা অংশ আলাদা ছোট প্যারাগ্রাফে লিখুন, একটা লম্বা দেয়ালের মতো করে না। কত শব্দ হলো গুনে লাভ নেই, ইনবক্সের প্রশ্নগুলোর উত্তর শেষ হলেই থামুন।

পাঞ্জাবির ডেসক্রিপশনে মাপ আর কাপড় কীভাবে লিখবেন?

সেলারদের অভিজ্ঞতায় কাপড়ের ব্যবসায় ফেরতের বড় একটা কারণ সাইজ। আর সাইজের ঝামেলার শুরু হয় কারখানার লেবেল থেকে। এক কারখানার L আরেক কারখানার L-এর সমান হয় না, একই কারখানার দুই লটেও তফাত থাকে। তাই লেবেলের সাইজ কপি না করে নিজের হাতে মাপুন।

মাপার নিয়ম সহজ। পাঞ্জাবিটা টেবিলে সমান করে বিছান। বগলের নিচের এক কোনা থেকে আরেক কোনা পর্যন্ত মেপে দুই দিয়ে গুণ করুন, এটাই বুকের মাপ। কাঁধের সবচেয়ে উঁচু জায়গা থেকে নিচের কিনারা পর্যন্ত মাপলে পাবেন লম্বা, আর কাঁধের জোড়া থেকে হাতার শেষ পর্যন্ত মাপলে হাতা। প্রতিটা সাইজের অন্তত একটা পিস এভাবে মেপে খাতায় লিখে রাখুন। মাপ লিখবেন ইঞ্চিতে, কারণ দর্জির কাছে মাপ দিতে দিতে আমাদের কাস্টমাররা ইঞ্চিতেই ভাবেন।

এবার পুরো ডেসক্রিপশনটা দেখুন। নিচের মাপ আর নিয়মগুলো উদাহরণ, নিজের মাল মেপে আর নিজের নিয়ম বসিয়ে লিখবেন।

অফিসে, জুমায় আর দাওয়াতে পরার মতো হালকা সুতি পাঞ্জাবি। কাপড়টা নরম আর ম্যাট, চকচক করে না। গরমের দিনে সারাদিন পরে থাকলেও গায়ে ভারী লাগে না।

মাপ ইঞ্চিতে। M সাইজে বুক ৪০ আর লম্বা ৪০। L সাইজে বুক ৪২ আর লম্বা ৪২। XL সাইজে বুক ৪৪ আর লম্বা ৪৪। হাতা সব সাইজে ২৪। নিজের সাইজ বুঝতে না পারলে আপনার যে পাঞ্জাবিটা গায়ে ঠিকঠাক হয়, সেটা বিছিয়ে বগলের নিচে এপাশ-ওপাশ মাপুন, দুই দিয়ে গুণ করে ওপরের বুকের মাপের সাথে মিলিয়ে নিন।

কাপড় আর যত্ন। ১০০% সুতি। প্রথম দুই-তিনবার আলাদা করে ঠান্ডা পানিতে ধোবেন, উল্টো করে ছায়ায় শুকাবেন। ছবির রঙের সাথে আসল রঙে মোবাইলের স্ক্রিনভেদে একটু তফাত হতে পারে।

প্যাকেটে যা থাকবে। একটা পাঞ্জাবি। পায়জামা সাথে নেই।

ডেলিভারি আর চেঞ্জ। সাইজ না মিললে হাতে পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে জানালে চেঞ্জ করে দেব, তবে না ধোয়া আর ট্যাগসহ থাকতে হবে।

এবার লাইনগুলোর পেছনের কারণ বলি। "নিজের পাঞ্জাবি মেপে মিলিয়ে নিন" লাইনটা আন্দাজের কাজটাকে মাপের কাজ বানিয়ে দেয়, আর যিনি নিজে মেপে অর্ডার দেন তিনি সাইজ নিয়ে খুব কম ফেরত দেন। "পায়জামা সাথে নেই" লাইনটা সেই মানুষের সাথে ঝগড়া আগেই মিটিয়ে দেয়, যিনি ছবিতে পায়জামাসহ মডেল দেখে পুরো সেট ভেবেছিলেন। আর রঙের লাইনটা লিখতে একটু খারাপ লাগে, কিন্তু এটাই কাস্টমারকে বলে আপনি সত্যি কথা বলেন।

পার্সেল খুলে শুধু একটা পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে এক তরুণ ফোনে পেজের ছবির সাথে মেলাচ্ছেন, ফোনের ছবিতে মডেলের গায়ে পাঞ্জাবি আর পায়জামা দুটোই
ছবিতে পায়জামা থাকলে, সাথে নেই কথাটা লিখে দিন

WinningSeller-এ প্রোডাক্ট অ্যাড করার সময় সাইজগুলো ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে দিন। অপশনের নাম লিখুন "সাইজ", আর মান দিন M, L, XL। তাহলে কাস্টমার অর্ডারের সময় নিজেই সাইজ সিলেক্ট করেন, ইনবক্সে আর জিজ্ঞেস করতে হয় না। "স্টকের হিসাব রাখুন" চালু রাখলে প্রতিটা সাইজের স্টক আলাদা করে গোনা হয়। মাপ আর যত্নের লেখাটা বসবে "বিস্তারিত" ঘরে, আর প্রতিটা অংশের মাঝে একটা ফাঁকা লাইন রাখলে পেজে সেগুলো আলাদা প্যারাগ্রাফ হয়ে দেখায়।

স্মার্টওয়াচ বা গ্যাজেটের ডেসক্রিপশনে কী লিখবেন?

গ্যাজেটে প্রশ্নগুলো অন্য রকম। কমেন্টে ঘুরে ঘুরে আসে "চার্জ কতক্ষণ থাকে?", "আমার ফোনে চলবে?", "পানিতে নষ্ট হবে?" আর "মেসেজ বাংলায় দেখাবে?"। গ্যাজেটের স্পেক নেবেন বক্স আর ম্যানুয়াল থেকে, অন্য সেলারের পেজ থেকে না। অন্যের পেজে হয়তো অন্য মডেলের স্পেক বসানো, আর ভুলটা তখন আপনার নামে যাবে।

তারপর একটা পিস নিজে এক-দুই দিন হাতে পরে চালিয়ে দেখুন। নিজের ফোনের সাথে কানেক্ট করে একটা বাংলা মেসেজ পাঠান, চার্জ কতক্ষণ যায় খেয়াল করুন। বক্সের লেখা আর আপনার দেখা না মিললে কাস্টমারকে কম সংখ্যাটাই বলুন, কারণ কম বলে বেশি পেলে কেউ ফেরত পাঠান না।

নিচের স্পেক উদাহরণ, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের না। নিজের মডেলের বক্স দেখে বসাবেন।

যাঁরা ফোন পকেটে রেখেই কল আর মেসেজ দেখতে চান, তাঁদের জন্য সাধারণ একটা স্মার্টওয়াচ। ঘড়ি থেকেই কল ধরা আর কথা বলা যায়, ভেতরে মাইক আর স্পিকার আছে।

স্পেক, বক্সে যেমন লেখা। স্ক্রিনটা ১.৮৫ ইঞ্চির। সাধারণভাবে চালালে চার্জ ৫ থেকে ৭ দিন থাকে, বেশি কল করলে বা স্ক্রিন সবসময় জ্বালিয়ে রাখলে কম থাকে। Android আর iPhone দুটোতেই অ্যাপ দিয়ে ব্লুটুথে চলে। বৃষ্টি আর হাত ধোয়ায় সমস্যা নেই, তবে গোসল আর সাঁতারের সময় পরবেন না।

একটা কথা আগে জেনে নিন। মেসেজের বাংলা লেখা ঘড়িতে ঠিকমতো দেখায় না, ইংরেজি লেখা পরিষ্কার দেখায়। হার্ট রেট আর ঘুমের হিসাব দেখায়, তবে এগুলো একটা আন্দাজ, ঘড়িটা ডাক্তারি যন্ত্র না।

বক্সে যা থাকে। ঘড়ি, ম্যাগনেটের চার্জিং কেবল আর একটা ম্যানুয়াল। অ্যাডাপ্টার নেই, ফোনের যেকোনো USB চার্জারে চার্জ হবে।

ডেলিভারি আর ওয়ারেন্টি। হাতে পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে চালু না হলে বা চার্জ না নিলে চেঞ্জ করে দেব।

টেবিলের ওপর খোলা একটা স্মার্টওয়াচের বাক্স, পাশে সাজানো ঘড়ি, চার্জিং কেবল আর ছোট ম্যানুয়াল, একজন লোকের হাত বাক্সের ভেতরটা দেখাচ্ছে
বক্সে যা আছে তার ছবি তুলুন, আর যা নেই সেটা লিখে দিন

এই উদাহরণের সবচেয়ে সাহসী লাইন হলো "বাংলা লেখা ঠিকমতো দেখায় না"। এতে কয়েকটা অর্ডার কমবেও, সেটা মেনে নিন। যিনি শুধু বাংলা মেসেজ পড়ার জন্য ঘড়ি কিনছিলেন, তিনি পার্সেল ফেরত দিতেন, নয়তো রেগে গিয়ে পেজে খারাপ রিভিউ লিখতেন। যে অর্ডার ফেরত আসত, সেটা না আসাই লাভ। "ডাক্তারি যন্ত্র না" লাইনটাও একই কারণে রাখা, কারণ ভুল রিডিং দেখে কেউ ভয় পেলে প্রথম দোষটা পড়ে সেলারের ওপর।

মধু বা খাবারের ডেসক্রিপশনে কী লিখলে কাস্টমার বিশ্বাস করেন?

খাবারের বেলায় কাস্টমারের প্রথম প্রশ্ন "খাঁটি তো?"। "১০০% খাঁটি" সবাই লেখেন, তাই ওই কথায় কেউ আর ভরসা পান না। ভরসা আসে খুঁটিনাটি থেকে। কোন ফুলের মধু, কোন এলাকার, কোন মাসে কে তুলেছেন, এগুলো লিখুন, তবে যতটুকু সত্যিই জানেন ততটুকুই। মানুষ খুঁটিনাটি পড়ে বিশ্বাস করেন, বড় বড় বিশেষণ পড়ে না।

ওজন লিখুন একদম পরিষ্কার করে, বোতলসহ না বোতল বাদে। এটা শুধু ভদ্রতা না। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৬ ধারায় কথা দেওয়া ওজনের চেয়ে কম ওজনে বিক্রি করলে এক বছর পর্যন্ত জেল, বা পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই হতে পারে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে আইনের লেখায় এটাই আছে। "৫০০ গ্রাম" লিখে বোতলসহ ৫০০ গ্রাম পাঠালে কাস্টমারের হাতে মধু যায় কম, আর অভিযোগটা হয় ঠিক এখানেই।

নিচের এলাকা, মাস আর নিয়ম উদাহরণ। আপনার মধু যেখান থেকে আসে, সেটাই লিখবেন।

চা, রুটি বা দইয়ের সাথে খাওয়ার জন্য সরিষা ফুলের মধু। শীতের সরিষা খেতের পাশে বসানো মৌচাষিদের বাক্স থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে তোলা।

ওজন। বোতল বাদে শুধু মধু ৫০০ গ্রাম।

জমে যাওয়ার কথা। সরিষা ফুলের মধু ঠান্ডায় সাধারণত সাদা হয়ে জমে যায়। এটা ভেজালের লক্ষণ না। বোতলটা কিছুক্ষণ কুসুম গরম পানিতে বসিয়ে রাখলে আবার পাতলা হয়।

তারিখ। বোতল ভরার তারিখ আর মেয়াদ বোতলের লেবেলে লেখা আছে।

ডেলিভারি। কাচের বোতল, তাই বাবল র‍্যাপে মুড়ে পাঠাই। ভাঙা পেলে ডেলিভারি ম্যানের সামনেই ছবি তুলে আমাদের জানান, নতুন বোতল পাঠিয়ে দেব।

মধুর কাচের বোতলের আঁকা ছবি, লেবেলে বোতল বাদে ওজন, বোতল ভরার তারিখ আর মেয়াদ, পাশে একই কথা ডেসক্রিপশনে
লেবেলে যা লেখা, ডেসক্রিপশনেও হুবহু তাই

"জমে যাওয়ার কথা" লাইনটা মধুর সেলারের সবচেয়ে কাজের লাইন। জমে যাওয়া মধু দেখে অনেকে ভাবেন চিনি মেশানো, তারপর ফোনে রাগারাগি করেন। আগে লেখা থাকলে সেই ফোন আর আসে না, উল্টো কাস্টমার ভাবেন আপনি মধু চেনেন।

জুতা আর ট্রিমারের ডেসক্রিপশনে কোন লাইন ফেরত থামায়?

জুতায় সাইজ নম্বরের চেয়ে পায়ের মাপ বেশি কাজের

জুতার সাইজ নম্বর কারখানাভেদে আলাদা হয়। একজনের পায়ে এক কারখানার ৪২ ঠিকঠাক হয়, আরেক কারখানার ৪২ চাপে। তাই প্রতিটা সাইজের ভেতরের তলা, মানে ইনসোল, সেন্টিমিটারে মেপে লিখুন, আর কাস্টমারকে বলুন নিজের পা মেপে মিলিয়ে নিতে। দেয়ালে গোড়ালি ঠেকিয়ে কাগজে দাঁড়িয়ে পা মাপার পুরো নিয়ম, আর মাপটা কেন বিকেলে নিতে হয়, সেটা জুতার ব্যবসার লেখায় ধাপে ধাপে আছে। ডেসক্রিপশনে ওই নিয়মটা দুই লাইনে লিখে দিন, আর তার নিচে একটা ছোট সাইজ চার্ট রাখুন।

নিচের মাপগুলো উদাহরণ, নিজের প্রতিটা সাইজের জুতা মেপে বসাবেন।

সাইজ ইনসোলের দৈর্ঘ্য যাঁর পা মোটামুটি এত লম্বা
৪০ ২৫.৫ সেমি ২৪ সেমি
৪১ ২৬ সেমি ২৪.৫ সেমি
৪২ ২৬.৫ সেমি ২৫ সেমি
৪৩ ২৭ সেমি ২৫.৫ সেমি

শেষ কলামে পা ইনসোলের চেয়ে দেড় সেন্টিমিটার ছোট ধরা, কারণ লোফার আর কেডসে আঙুলের সামনে এতটা জায়গা লাগে।

বাকি ডেসক্রিপশনটা ছোট রাখুন। প্রথম লাইনে কার জন্য, তারপর ওপরের অংশ আর সোল কী দিয়ে বানানো, সেটা লিখুন। আসল চামড়া কি না পুরোপুরি না জানলে "চামড়া" লিখবেন না, যা জানেন তাই লিখুন, যেমন "সিনথেটিক লেদার"। পায়ের পাতা চওড়া হলে এক সাইজ বড় নিতে বলুন। আর চেঞ্জের লাইনে "না পরে, বক্সসহ ফেরত দিলে" কথাটা রাখুন। নইলে দুদিন রাস্তায় পরা জুতা ফেরত আসবে, যেটা আর নতুন বলে বেচা যায় না।

ট্রিমারে চার্জ, ব্লেড আর পানির কথা

ট্রিমারের বেশিরভাগ অভিযোগ আসে চার্জ, পানি আর চিরুনি নিয়ে না-জানা কথা থেকে। নিচের স্পেক উদাহরণ, বক্স দেখে নিজেরটা বসাবেন।

যাঁরা সেলুনে না গিয়ে বাসায় নিজের দাড়ি ঠিক রাখতে চান, তাঁদের জন্য। বক্সে লেখা আছে, পুরো চার্জে প্রায় ৬০ মিনিট চলে আর পুরো চার্জ হতে ২ ঘণ্টা লাগে। চার্জ দেওয়ার পোর্ট Type-C, মানে অনেক Android ফোনের চার্জারেই চার্জ হবে। চার্জে লাগানো অবস্থায় চলে না, আগে চার্জ দিয়ে নিতে হয়।

ব্লেড আর চিরুনি। ব্লেড স্টেইনলেস স্টিলের। সাথে ৪টা চিরুনি আছে, ৩, ৬, ৯ আর ১২ মিলিমিটারের, দাড়ি কত বড় রাখবেন সেই অনুযায়ী লাগাবেন।

পরিষ্কার। পুরো মেশিন পানিতে ধোয়া যাবে না। শুধু ব্লেডটা খুলে সাথের ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করবেন।

বক্সে যা থাকে। ট্রিমার, ৪টা চিরুনি, USB কেবল আর পরিষ্কারের ব্রাশ। অ্যাডাপ্টার নেই।

"চার্জে লাগানো অবস্থায় চলে না" লাইনটা কেন জরুরি, ভাবুন। কাস্টমার পার্সেল খুলে ট্রিমারটা প্লাগে লাগিয়ে সুইচ দিলেন, কিছুই হলো না। তাঁর কাছে ওটা নষ্ট মাল, তাই ফেরত পাঠালেন। অথচ জিনিসটা ঠিকই ছিল, শুধু এক লাইনের লেখাটা ছিল না।

কোন কথা লিখলে ফেরত আর অভিযোগ বাড়ে?

কিছু লাইন পড়তে বেশ বিক্রির মতো লাগে, অথচ পরে ঠিক এগুলোই ফেরত আর খারাপ রিভিউ ডেকে আনে। লেখা শেষ করে নিজের ডেসক্রিপশনে এগুলো খুঁজে কেটে দিন।

  • "প্রিমিয়াম", "এক্সক্লুসিভ", "সেরা" ধরনের ফাঁকা শব্দ কেটে দিন। এগুলো কোনো তথ্য দেয় না, শুধু কাস্টমারের মনে প্রত্যাশা বাড়ায়। পার্সেল খুলে সেই প্রত্যাশা না মিললেই ফেরত আসে।
  • "ছবিতে যা দেখছেন, হুবহু তাই পাবেন" লিখবেন না। স্ক্রিনভেদে রং একটু বদলাবেই। এই লাইন লিখলে সামান্য তফাতও আপনার দেওয়া কথা ভাঙা হয়ে যায়।
  • বানানো সংখ্যা আর রিভিউ বসাবেন না। "৫,০০০+ সন্তুষ্ট কাস্টমার" যদি সত্যি না হয়, লিখবেন না। একজন কাস্টমার স্ক্রিনশট নিয়ে প্রশ্ন করলেই সব বিশ্বাস ভেঙে যায়।
  • হাতে নেই এমন মালকে "রেডি স্টক" বলবেন না। পরে দেরি হলে কাস্টমারের অভিযোগটা ন্যায্য, আর নির্দেশিকাও স্টকে না থাকলে সেটা পরিষ্কার জানাতে বলে।
  • লেখার ভেতরে দাম আর অফার রাখবেন না। দাম চেঞ্জ করলে লেখাটা পুরনো হয়ে যায়, আর একই পেজে দুই রকম দাম দেখে কাস্টমার ঠকা মনে করেন।
  • অন্যের পেজ থেকে স্পেক কপি করবেন না। সেটা তাঁর মালের মাপ, আপনার মালের না।

আইনের দিকটাও জেনে রাখুন। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় বলা আছে, কোনো জিনিস বা সেবা বেচার জন্য অসত্য বা মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাকে ঠকালে এক বছর পর্যন্ত জেল, বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই হতে পারে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে আইনের লেখায় এটাই আছে। আপনার প্রোডাক্টের পেজ আর পোস্টও কাস্টমারের চোখে বিজ্ঞাপন, তাই যা সত্যি না সেটা লিখবেন না। WinningSeller-এ ডেলিভারির সময় আর ফেরত বা চেঞ্জের নিয়মের লেখা প্রতিটা প্রোডাক্টে আলাদা করে লিখতে হয় না। ডিজাইন পেজে দোকানের এই দুটো লেখা একবার দিলে দোকানের প্রতিটা প্রোডাক্ট পেজে নিজে থেকেই দেখায়, আর খালি রাখলে দেখায়ই না। ফলে নিয়ম চেঞ্জ হলে এক জায়গায় ঠিক করলেই চলে, পঞ্চাশটা প্রোডাক্টে পুরনো কথা পড়ে থাকে না।

এআই দিয়ে লেখালে কোথায় হাত দেবেন?

পঞ্চাশটা প্রোডাক্টের ডেসক্রিপশন একা লিখতে বসলে প্রথম পাঁচটার পরেই হাঁপিয়ে উঠবেন। তখন ChatGPT বা Gemini-এর কথা মাথায় আসবেই। শুধু মনে রাখুন, এআই আপনার মাল দেখেনি। আপনি যা বলবেন, সে শুধু সেটাই জানে, আর যা বলবেন না, সেই ফাঁক সে নিজের বানানো কথা দিয়ে ভরে দেয়।

তাই এআই-কে তথ্য দিন, লেখার দায়িত্বটা দিন, কিন্তু তথ্যের দায়িত্ব নিজের কাছে রাখুন। এমন করে বলতে পারেন।

আমি ফেসবুকে পাঞ্জাবি বিক্রি করি। নিচের তথ্য দিয়ে আমার দোকানের প্রোডাক্ট পেজের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ শব্দের একটা ডেসক্রিপশন লেখো।
ক্রম হবে এমন। কার জন্য, জিনিসটা কী, মাপ আর কাপড়, যত্ন, প্যাকেটে কী থাকে, ডেলিভারি আর চেঞ্জ।
ভাষা হবে ঢাকার একজন দোকানদার ফোনে যেভাবে কথা বলেন সেভাবে। সাইজ, ডেলিভারি, চার্জ এমন শব্দ ইংরেজি শব্দেই রাখবে।
তথ্য। হালকা সুতি পাঞ্জাবি, অফিস আর জুমার জন্য। M বুক ৪০ লম্বা ৪০, L বুক ৪২ লম্বা ৪২, XL বুক ৪৪ লম্বা ৪৪, হাতা ২৪। ঠান্ডা পানিতে আলাদা ধোবেন। পায়জামা সাথে নেই। সাইজ না মিললে ৩ দিনের মধ্যে চেঞ্জ।
আমি যা লিখিনি এমন কোনো সংখ্যা, রিভিউ বা কাস্টমারের সংখ্যা লিখবে না। দাম লিখবে না। "সেরা", "প্রিমিয়াম", "এক নম্বর" লিখবে না।

লেখা হাতে এলে তিনটা জায়গায় নিজে হাত দিন। সবার আগে দেখুন প্রতিটা সংখ্যা। এআই অনেক সময় নিজে থেকে "৪৮ ঘণ্টা ব্যাটারি" বা "৯৯% কাস্টমার খুশি" বসিয়ে দেয়, কারণ ইন্টারনেটের হাজারো পেজে এমন লাইন আছে আর এআই সেখান থেকেই শিখেছে। আপনার খাতার মাপের সাথে প্রতিটা সংখ্যা মিলিয়ে নিন।

এআই-এর লেখা ডেসক্রিপশনের নকশা, প্রতিটা সংখ্যা খাতায় হাতে মাপা সংখ্যার সাথে মিলিয়ে ভুলগুলো দাগানো
এআই লেখা সাজায়, সংখ্যা মেলানোর কাজটা আপনার

এরপর দেখুন বাংলাটা অনুবাদের মতো শোনাচ্ছে কি না। "এই প্রোডাক্টটি আপনার জীবনকে সহজ করে তুলবে" এমন লাইন কোনো দোকানদার মুখে বলেন না। জোরে পড়ে দেখুন, যেখানে জিভ আটকায় সেখানে নিজের ভাষায় লিখুন।

শেষে নিজে বসিয়ে দিন দুর্বলতার লাইনগুলো। "বাংলা লেখা ঠিকমতো দেখায় না" বা "চার্জে লাগিয়ে চলে না", এমন কথা এআই নিজে থেকে কখনো লিখবে না, কারণ সে জানেই না। অথচ ওপরের উদাহরণগুলোতে দেখলেন, ফেরত থামায় ঠিক এই লাইনগুলোই।

WinningSeller-এ একটা প্রোডাক্ট নিয়ে বড় করে অ্যাড চালানোর জন্য আছে "AI দিয়ে ৫ মিনিটে ল্যান্ডিং পেজ"। সেখানে প্রোডাক্ট, কার জন্য আর অফারের মতো প্রশ্ন একটা একটা করে আসে, আর উত্তর থেকে মুখের ভাষায় পুরো পেজ লেখা হয়। লেখার পরে টাকার অঙ্ক, আপনার না দেওয়া সংখ্যা আর রোগ সারানোর দাবি থাকলে সেই বাক্য নিজে থেকেই বাদ পড়ে, আর ছবি যায় আপনার প্রোডাক্টের নিজের ছবি থেকে। পেজটা ড্রাফট হয়ে খোলে, সব লেখা চেঞ্জ করা যায়। পুরো ধাপগুলো এআই দিয়ে ল্যান্ডিং পেজ বানানোর লেখায় আছে।

তবে এআই হোক বা নিজের হাত, কাজটা আজই শুরু করা যায়। আপনার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পাঁচটা প্রোডাক্ট বেছে নিন, আর ইনবক্সে গত এক সপ্তাহে কোন প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি এসেছে সেটা দেখুন। সেই প্রশ্নের উত্তর ছয় অংশের ছকে বসিয়ে ডেসক্রিপশনটা নতুন করে লিখুন। লেখাটা ফোনের কুইক রিপ্লাইয়েও সেভ করে রাখুন, যাতে ইনবক্সে কেউ জিজ্ঞেস করলে এক চাপেই পাঠাতে পারেন। এক সপ্তাহ পর দেখবেন, রাত সাড়ে দশটার সেই আঠারোটা মেসেজ অনেক কমে এসেছে, আর আপনি একটু আগেই ঘুমাতে পারছেন।

নিজের দোকানে সাইজ বেছে অর্ডার নেওয়ার প্রোডাক্ট পেজ বানিয়েপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

সাধারণ প্রশ্ন

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন কত বড় হওয়া উচিত?

যতটুকু লিখলে কাস্টমারের প্রশ্ন শেষ হয়, ততটুকু। বেশিরভাগ প্রোডাক্টে ১০০ থেকে ২৫০ শব্দেই কাজ হয়ে যায়, গ্যাজেটে স্পেকের জন্য একটু বেশি লাগতে পারে। লম্বা করার চেয়ে জরুরি হলো দরকারি কথাটা ওপরে রাখা, কারণ মোবাইলে বেশিরভাগ মানুষ প্রথম কয়েক লাইনই পড়েন।

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনে কী কী লিখতে হয়?

ছয়টা জিনিস পরপর লিখুন। জিনিসটা কার জন্য, আসলে কী, মাপ-কাপড় বা স্পেক কত, কীভাবে চালাবেন বা যত্ন নেবেন, বক্সে কী থাকে, আর এক লাইনে ডেলিভারি ও চেঞ্জের নিয়ম কী। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এও রং, মাপ, ওজন, কী দিয়ে বানানো, কোন দেশে তৈরি আর ডেলিভারির সময় জানাতে বলা আছে।

অন্যের ওয়েবসাইট থেকে ডেসক্রিপশন কপি করা যাবে?

না করাই ভালো। অন্যের লেখা মাপ আর স্পেক তাঁর মালের, আপনার মালের সাথে না মিললে ফেরত আর অভিযোগ আপনার ঘাড়েই আসবে। আর দশটা পেজে একই লেখা দেখলে কাস্টমার আপনাকে আলাদা করে চিনতেও পারেন না।

ডেসক্রিপশনের ভেতরে দাম লিখব কি?

না, দাম রাখুন প্রোডাক্টের দামের ঘরে। লেখার ভেতরে দাম থাকলে একদিন দাম চেঞ্জ করবেন, কিন্তু লেখাটা ঠিক করতে ভুলে যাবেন। তখন পেজে দুই রকম দাম দেখে কাস্টমার ভাবেন আপনি ঠকাচ্ছেন।

এআই দিয়ে প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখা যায়?

যায়, তবে এআই শুধু ততটুকুই জানে যতটুকু আপনি বলেন। মাপ, স্পেক আর বক্সে কী আছে, এসব তথ্য আপনি দিন, লেখাটা এআই সাজাক। তারপর প্রতিটা সংখ্যা নিজের মালের সাথে মিলিয়ে নিন আর বাড়িয়ে বলা কথা কেটে দিন।

ডেসক্রিপশন বাংলায় লিখব, না ইংরেজিতে?

আপনার কাস্টমার যে ভাষায় ইনবক্সে প্রশ্ন করেন, সেই ভাষায়। বাংলাদেশের ফেসবুক কাস্টমার বেশিরভাগই বাংলায় লেখেন, তাই বাংলাই ভালো। শুধু যে ইংরেজি শব্দগুলো মানুষ মুখে বলেন, যেমন সাইজ, চার্জ, ডেলিভারি, সেগুলো ইংরেজি শব্দেই রাখুন।

#প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন#product description example#প্রোডাক্ট পেজ#অনলাইন শপ#কপিরাইটিং#ই-কমার্স

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়