WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১১ মিনিটে পড়া যায়

ফুডপান্ডা হোম শেফ রেজিস্ট্রেশন, ঘরের রান্না অ্যাপে বেচবেন যেভাবে

ঘরে রান্না করেন, ফুডপান্ডায় হোম শেফ হতে চান? রেজিস্ট্রেশনের ধাপ আর কাগজ Foodpanda-র নিজের পেজ অনুযায়ী, কমিশন কোথায় জানবেন, খাবারের রেজিস্ট্রেশন কেন আগে, একটা প্লেটে কমিশন বাদে কত থাকে, আর অ্যাপের পাশাপাশি নিজের পেজ।

ফুডপান্ডা হোম শেফ রেজিস্ট্রেশন, ঘরের রান্না অ্যাপে বেচবেন যেভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. ফুডপান্ডা হোম শেফ কী, কারা পারেন
  2. ফুডপান্ডা হোম শেফ রেজিস্ট্রেশনের ধাপ আর কাগজ
  3. আগে খাবারের রেজিস্ট্রেশন আর ট্রেড লাইসেন্স, কেন
  4. কমিশন বাদে একটা প্লেটে কত থাকে (উদাহরণ)
  5. মেনু, ছবি, রান্নার সময় আর রেটিং
  6. অ্যাপ আর নিজের পেজ, পাশাপাশি
  7. কখন হোম শেফ হবেন না
  8. আজই করে ফেলুন

ফুডপান্ডা হোম শেফ রেজিস্ট্রেশন হয় Foodpanda-র পার্টনার ওয়েবসাইটের একটা ফর্ম দিয়ে। নাম, ফোন নম্বর আর ইমেইল দিয়ে ফর্মটা পূরণ করলে ওদের টিম ফোন দেয়, তারপর জাতীয় পরিচয়পত্র, মেনু, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ আর ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হয়। দোকান লাগে না, কিন্তু রান্নাঘরটা ওদের ডেলিভারি এলাকায় হতে হবে, আর সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন খোলা রাখতে হবে। কমিশন কত, সেটা পাবলিক পেজে লেখা নেই, রেজিস্ট্রেশনের সময় দেখায়।

ঘরের রান্না নিয়ে যাঁরা এই প্রশ্নটা করেন, তাঁদের গল্প প্রায় একই রকম। অফিসের কলিগরা টিফিনের ভাগ খেয়ে বলেন, "ভাই, এই খিচুড়ি তো বাইরে বেচলে চলবে।" তারপর মাথায় আসে, Foodpanda-তে তো ঘরের রান্নাও বিক্রি হয়, আমি পারব না কেন? পারবেন। কিন্তু অ্যাপে নামার আগে জেনে নিন কী কাগজ লাগে, কমিশনের পরে একটা প্লেটে কত থাকে, আর কোন অবস্থায় অ্যাপটা আপনার জন্য না।

ফুডপান্ডা হোম শেফ কী, কারা পারেন

Foodpanda-র হোম শেফ মানে যিনি রেস্টুরেন্ট ছাড়া নিজের রান্নাঘর থেকে রান্না করে অ্যাপে বেচেন। কাস্টমার অ্যাপে অর্ডার দেন, আপনার কাছে নোটিফিকেশন আসে, আপনি রান্না করে প্যাক করে রাখেন, আর Foodpanda-র রাইডার এসে নিয়ে যান। পেমেন্ট আর কাস্টমার সাপোর্ট ওরা দেখে, এটা ওদের পার্টনার পেজেই লেখা। মানে আপনার কাজ রান্না আর প্যাকিং, ডেলিভারি না।

প্রোগ্রামটা দেশে নতুন না। The Business Standard-এর ১৫ জুন ২০২২-এর খবরে আছে, Foodpanda সিলেটে হোম শেফদের ট্রেনিং দিয়েছিল, যেখানে ট্যাবে অর্ডার সামলানো, প্রচার, ব্র্যান্ড বানানো আর রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা শেখানো হয়েছিল। মানে Foodpanda নিজেই এই প্রোগ্রামে ঘরের রাঁধুনিদের চায়।

কারা পারেন, সেটা নিয়ে পার্টনার পেজের শর্তগুলো পড়ুন, কারণ এখানেই বেশিরভাগ মানুষ আটকে যান। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ partner.foodpanda.com.bd-তে চারটা শর্ত লেখা আছে। দোকান বা কিচেন ওদের অপারেশন এলাকার ভেতরে হবে। আগে থেকে অর্ডার নেওয়া বা মাঝে মাঝের প্রোডাক্ট বেচা চলবে না। দিনে অন্তত ৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৫ দিন খোলা থাকতে হবে। আর একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা লাগবে। একই পেজের আরেকটা প্রশ্নে বলা আছে, HomeChef বা ক্লাউড কিচেনের মালিক দোকান ছাড়াই সাইন আপ করতে পারেন।

দ্বিতীয় শর্তটা খেয়াল করুন। কেক বা বিরিয়ানির হাঁড়ি এক দিন আগে বুক করে বেচার মডেল এখানে চলে না। অ্যাপের কাস্টমার এখনই খেতে চান, তাই আপনার মেনুর খাবার খোলার সময়ে প্রতিদিন তৈরি থাকতে হবে। আগে বুকিং নিয়ে বানানোর কাজ হলে কেকের ব্যবসার লেখাটা আপনার কাজের সাথে বেশি মিলবে।

আরেকটা কথা, হোম শেফ আর ক্লাউড কিচেন এক জিনিস না। হোম শেফ নিজের বাসার রান্নাঘর থেকে অল্প মেনুতে রাঁধেন। ক্লাউড কিচেন আলাদা জায়গা ভাড়া নিয়ে শুধু ডেলিভারির জন্য বড় করে রান্নাঘর চালায়। দ্বিতীয়টার খরচ আর হিসাব আলাদা, সেটা আছে ক্লাউড কিচেনের লেখায়।

ফুডপান্ডা হোম শেফ রেজিস্ট্রেশনের ধাপ আর কাগজ

ধাপগুলো Foodpanda-র নিজের পার্টনার পেজে যেভাবে লেখা, সেভাবেই বলছি। প্রথমে partner.foodpanda.com.bd খুলে রেজিস্ট্রেশন ফর্মটা পূরণ করুন। ফর্মে ব্যবসার নাম, মালিকের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, ব্যবসার ধরন আর কোন ধরনের খাবার রাঁধেন, এসব চায়। ব্যবসার ধরন বাছার সময় বাসার কিচেন বা HomeChef-এর মতো যে ধরনটা আপনার কাজের সাথে মেলে, সেটাই নিন, রেস্টুরেন্ট না। নম্বর আর ইমেইল ঠিক দেবেন, কারণ পরের সব যোগাযোগ এই দুই জায়গাতেই আসে।

এরপর কাগজ। পার্টনার পেজে চারটা কাগজের কথা আছে। জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, মেনু (পেজে লেখা Dine-in Menu, মানে আপনার খাবারের তালিকা আর দাম), ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ, আর ট্রেড লাইসেন্স, যেটা ওরা ভ্যাটের জন্য চায়। খাবারের লাইসেন্স বা নিরাপদ খাদ্যের নিবন্ধন সেই লিস্টে নেই, কিন্তু তার মানে এই না যে আপনার লাগবে না। কেন লাগবে, সেটা পরের অংশে। পেজেই বলা আছে, এগুলো আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে অনুমোদন তাড়াতাড়ি হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ হিসেবে ওরা কোন কাগজ নেয়, চেকের ছবি নাকি ব্যাংকের স্টেটমেন্ট, সেটা ওদের টিমকে জিজ্ঞেস করে নিন।

অনুমোদনে পেজ অনুযায়ী সাধারণত ২ থেকে ৫ কার্যদিবস লাগে, যদি ব্যবসার কাগজ, মেনু, খোলার সময় আর খাবারের ছবি সব দেওয়া থাকে। এই সময়ে ফোন হাতের কাছে রাখুন। ওদের টিম অ্যাকাউন্ট চালু করতে ফোন দিতে পারে, আর অচেনা নম্বর ভেবে না ধরলে কাজটা কয়েক দিন পিছিয়ে যায়।

অনুমোদন হলে ইমেইলে পার্টনার পোর্টালের ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড আসে। পেজে পরিষ্কার লেখা, এর মানে এই না যে আপনার কিচেন অ্যাপে চালু হয়ে গেছে। চালু করতে নিজে কয়েকটা কাজ করতে হয়। মেনু আর প্রতিটা খাবারের ছবি আপলোড করা, খোলার সময় ঠিক করা, তারপর কিচেনটা চালু করা। ছাড় আর অফার না দিলেও চলে।

কমিশনের প্রশ্নে পেজের উত্তর হলো, কয়েকটা কমিশন প্যাকেজ আছে, সেগুলো সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, আর ঠিক হারটা রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনার প্যাকেজে দেখানো হবে। মানে আগে থেকে কোনো সংখ্যা পাবলিক না। তাই ওদের টিম ফোন দিলে এই প্রশ্নগুলো একবারে করে নিন। কমিশন কত শতাংশ, আর সেটা মেনুর দামে কাটে নাকি ছাড়ের পরের দামে। টাকা কত দিন পরপর ব্যাংকে আসে। ছাড়ের ক্যাম্পেইনে যোগ দিলে ছাড়ের টাকা কে দেয়। প্যাকেজিং নিয়ে কোনো নিয়ম আছে কি না। উত্তরগুলো ইমেইলে চেয়ে নিন, মুখের কথা পরে মেলানো যায় না।

কাগজ জমা দেওয়ার আগে একটা ছোট কাজ করুন, যেটা অনেকে বাদ দেন। জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স আর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আপনার নাম আর ঠিকানার বানান মিলিয়ে দেখুন। কোথাও "মো." আর কোথাও "মোহাম্মদ", বা বাসার নম্বর এক কাগজে আছে আরেকটায় নেই, এমন ছোট অমিলেই প্রায়ই বাড়তি প্রশ্ন আসে আর অনুমোদন পিছিয়ে যায়। আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যেন আপনার নিজের নামে বা ব্যবসার নামে হয়, আত্মীয়ের অ্যাকাউন্ট দিলে পরে টাকা তোলা নিয়ে ঝামেলা হয়।

বাসার পরিষ্কার রান্নাঘরে একজন যুবক অ্যাপ্রন আর ক্যাপ পরে চুলায় কড়াইয়ে রান্না করছেন, সামনের তাকে ঢাকনা লাগানো একই রকম কয়েকটা খাবারের কন্টেইনার সারি করে রাখা, পাশে একটা ট্যাবলেট রাখা
অর্ডারের আগেই কন্টেইনার সাজানো, ট্যাব হাতের কাছে

আগে খাবারের রেজিস্ট্রেশন আর ট্রেড লাইসেন্স, কেন

Foodpanda ট্রেড লাইসেন্স চায়, তাই সেটা ছাড়া শুরুই হবে না। বাসার ঠিকানায় খাবারের ব্যবসার ধরন দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করুন। "জেনারেল স্টোর" ধরনের লাইসেন্সে পরে অন্য অফিসে কাগজ দিতে গেলে প্রশ্ন ওঠে।

এরপর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। The Daily Star বাংলার ২২ জুলাই ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী ১৬ জুলাই রেজিস্ট্রেশন আর লাইসেন্সের নতুন প্রবিধানমালা গেজেট হয়েছে। সেখানে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারিং, এমনকি রাস্তার পাশের পিঠা-পুরির দোকানকেও রেজিস্ট্রেশন নিতে বলা হয়েছে। খবরে রেজিস্ট্রেশন ফি ১,০০০ টাকা থেকে শুরু, নবায়ন ৫০০ টাকা, মেয়াদ সাধারণত তিন বছর। বাসার রান্নাঘর থেকে অ্যাপে খাবার বেচা মানুষের কথা খবরে আলাদা করে নেই। কিন্তু রাস্তার পিঠার দোকানও যখন আওতায়, তখন ধরে নিন রোজ রান্না করে অ্যাপে বেচা আপনিও আওতায় পড়বেন, আর জেলা অফিসে একবার জিজ্ঞেস করে মিলিয়ে নিন।

কেন আগে? দুটো কারণে। প্রথমত, কোনো কাস্টমার অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ করলে আপনার হাতে সরকারি কাগজ থাকা আর না থাকার মধ্যে অনেক তফাত। দ্বিতীয়ত, রেজিস্ট্রেশনের জন্য যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মানতে হয়, সেটা শুরু থেকে অভ্যাস করলে পরে রান্নাঘর বদলাতে হয় না। জেলা অফিসে কীভাবে যোগাযোগ করবেন, কোন কাগজ গুছিয়ে রাখবেন, ধাপে ধাপে আছে ফুড লাইসেন্সের লেখায়।

কমিশন বাদে একটা প্লেটে কত থাকে (উদাহরণ)

অ্যাপে নামার আগে একটা প্লেটের পুরো হিসাব কাগজে করুন। কমিশন শুনে অনেকে ভয় পান, কেউ আবার একদম ধরেনই না। দুটোই ভুল। কমিশনের বদলে আপনি পাচ্ছেন ডেলিভারি, কাস্টমার আর অ্যাডের খরচ ছাড়া অর্ডার। প্রশ্ন হলো, সব কেটে হাতে কত থাকে।

উদাহরণ। এখানে কমিশনের হারটা ধরে নেওয়া, কারণ Foodpanda কোনো হার পাবলিক করেনি। আপনার প্যাকেজে যে হার দেখাবে, সেটা বসিয়ে আবার করুন। ধরুন মেনুতে আছে মুরগির ঝোল আর পোলাও, এক প্লেট ৩২০ টাকা। উপকরণে যায় ১৩০ টাকা, কন্টেইনার, ব্যাগ আর চামচে ২৫, গ্যাসে ১০, আর বেঁচে যাওয়া বা নষ্ট খাবারের ভাগ ১০। মোট রান্না আর প্যাকিংয়ের খরচ ১৭৫ টাকা। কমিশন ধরলাম ২৫%।

খাত অ্যাপে অ্যাপে, ১০% ছাড়ে নিজের পেজে
বিক্রির দাম ৩২০ ২৮৮ ৩২০
কমিশন (ধরে নেওয়া ২৫%) ৮০ ৭২ ০
অ্যাড, প্রতি অর্ডারে ০ ০ ৪০
রান্না আর প্যাকিং ১৭৫ ১৭৫ ১৭৫
হাতে থাকে ৬৫ ৪১ ১০৫

অ্যাপে এক প্লেটে হাতে থাকে ৩২০ − ৮০ − ১৭৫ = ৬৫ টাকা। ছাড়ের ক্যাম্পেইনে ছাড়টা পুরো আপনার ঘাড়ে পড়লে দাম হয় ২৮৮, কমিশন যদি ছাড়ের পরের দামে কাটে তাহলে ৭২, হাতে থাকে ৪১ টাকা। নিজের পেজে কমিশন নেই, কিন্তু অ্যাড আছে, আর ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দিলেও রাইডার খোঁজা আর সময় মেলানোর ঝামেলা আপনার। সেখানে হাতে থাকে ১০৫ টাকা।

এই টেবিল থেকে তিনটা কাজের কথা বের হয়। এক, ছাড়ের ক্যাম্পেইনে যোগ দেওয়ার আগে এই হিসাবটা করবেন, ছাড়ে অর্ডার বাড়ে কিন্তু প্রতি প্লেটে লাভ অনেক কমে। দুই, অ্যাপের মেনুতে এমন খাবার রাখুন যার উপকরণের খরচ দামের তুলনায় কম, যেমন খিচুড়ি বা ভর্তা-ভাত, যেখানে কমিশনের পরেও কিছু থাকে। তিন, অ্যাপ থেকে পাওয়া কাস্টমার যদি পরে আপনার পেজ থেকে নেন, তখন একই প্লেটে লাভ দেড় গুণেরও বেশি।

একটা খাবারের প্লেটের নকশা, প্লেট টুকরো করে ভাগ করা, উপকরণ, প্যাকিং, গ্যাস, নষ্টের ভাগ আর কমিশনের টুকরো আলাদা রঙে, পাশে তিনটা কলামে অ্যাপে, ছাড়ে আর নিজের পেজে হাতে থাকা টাকা ৬৫, ৪১ আর ১০৫
একই প্লেট, তিন জায়গায় তিন রকম লাভ

মেনু, ছবি, রান্নার সময় আর রেটিং

মেনু ছোট রাখুন। পাঁচ-ছয়টা খাবার, যেগুলো প্রতিদিন একই স্বাদে রাঁধতে পারেন। নতুন হোম শেফরা প্রায়ই শুরুতে বিশটা আইটেম তুলে দেন, তারপর দুপুরে একসাথে চার রকম অর্ডার এলে একটাও সময়মতো হয় না। যে খাবার আগে থেকে রেঁধে গরম রাখা যায়, যেমন খিচুড়ি, তেহারি বা মাংসের ঝোল, সেগুলো অ্যাপের জন্য সহজ। যেটা অর্ডারের পরে ভাজতে হয়, সেটা ব্যস্ত সময়ে দেরি করায়।

ছবি তুলুন দিনের আলোয়, জানালার পাশে, প্রতিটা খাবার একই প্লেটে আর একই কোণ থেকে। মেনুতে সব ছবি এক রকম দেখালে আপনার কিচেনটা গোছানো লাগে। আর ছবিতে যত মাংস দেখাচ্ছেন, প্যাকেটে তত মাংসই দিন। ছবির চেয়ে কম পেলে কাস্টমার রিভিউতে সেটাই লেখেন।

রান্নার সময়টা সৎভাবে দিন। অ্যাপে প্রস্তুতির সময় কম দিলে রাইডার এসে দাঁড়িয়ে থাকেন, খাবার দেরিতে পৌঁছায়, আর দেরির রাগ গিয়ে পড়ে আপনার রেটিংয়ে। পার্টনার পেজ অনুযায়ী খুব ব্যস্ত হলে GO অ্যাপে কিছুক্ষণের জন্য অর্ডার বন্ধ রাখা যায়, বা কিচেন ব্যস্ত দেখিয়ে কাস্টমারকে জানানো যায় যে খাবার আসতে বেশি সময় লাগবে। তাড়াহুড়া করে খারাপ খাবার পাঠানোর চেয়ে আধা ঘণ্টা অর্ডার বন্ধ রাখা ভালো।

একটা ফোনের স্ক্রিনের নকশা, ওপরে কিচেনের নাম আর ব্যানার, নিচে পাঁচটা খাবারের সারি, প্রতিটার পাশে একই প্লেটে একই কোণ থেকে তোলা ছবি, নাম, দাম আর রান্নার সময়, কোনো অ্যাপের লোগো নেই
পাঁচ-ছয়টা খাবার, এক রকম ছবি, সৎ রান্নার সময়

রেটিং কীভাবে গোনা হয় আর তা আপনার কিচেন অ্যাপে কোথায় দেখাবে, সেটা Foodpanda-র পোর্টালের হেল্প অংশে দেখুন। পার্টনার পেজ অনুযায়ী পোর্টালের ওপরের ডান কোণের Help বাটন থেকে সাপোর্টে লেখা যায়। নিজের দিক থেকে একটা অভ্যাস রাখুন। প্রতিদিন রাতে নয়, দুপুরের ভিড় শেষে খারাপ রিভিউগুলো পড়ুন, আর একই কথা দুইবার এলে পরের দিনই সেটা ঠিক করুন।

অ্যাপ আর নিজের পেজ, পাশাপাশি

অ্যাপ নতুন কাস্টমার এনে দেয়, কিন্তু সেই কাস্টমার অ্যাপের। আজ আপনার খিচুড়ি খেয়েছেন, কাল পাশের কিচেনের। নিজের ফেসবুক পেজে যে কাস্টমার আসেন, তিনি আপনার। অনেক হোম শেফ তাই দুটো একসাথে চালান। দুপুর আর রাতের তাৎক্ষণিক অর্ডার অ্যাপে, আর অফিসের লাঞ্চ, বাসার দাওয়াত বা শুক্রবারের বিরিয়ানির অগ্রিম অর্ডার নিজের পেজে।

দুই জায়গায় বেচার আগে Foodpanda-র সাথে চুক্তিতে দাম বা অন্য কোথাও বেচা নিয়ে কোনো শর্ত আছে কি না পড়ে নিন। আর প্রতিদিন সর্বোচ্চ কত প্লেট রাঁধতে পারবেন, সেই সংখ্যাটা ঠিক করুন। নিজের পেজের বড় অর্ডারের দিন অ্যাপে আগেভাগে কিচেন বন্ধ রাখুন, দুই দিক সামলাতে গিয়ে দুই দিকেই দেরি করবেন না।

নিজের পেজের ডেলিভারি নিজেকেই সাজাতে হয়। কাছের এলাকায় নিজের লোক না একই দিনের কুরিয়ার, খরচ কত, সেটা নিজের ডেলিভারি ম্যানের লেখায় রান্না করা খাবারের আলাদা অংশে আছে।

একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। WinningSeller Foodpanda-র সাথে যুক্ত না, অ্যাপের অর্ডার এখানে আসে না। কাজে আসে নিজের পেজের অর্ডারে। ফোন বা ইনবক্সে আসা অর্ডার "নতুন অর্ডার" দিয়ে তুলে রাখা যায়, নোটে ডেলিভারির সময় লিখে। সেটিংসের "ডেলিভারি চার্জ" অংশে নিজের এলাকাগুলো আলাদা চার্জে লেখা যায়, যেমন "দুই কিলোমিটারের মধ্যে" আর "তার বাইরে"। আর নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট জুড়ে "অনলাইন পেমেন্ট" চালু করে নিলে "শুধু ডেলিভারি চার্জ (অ্যাডভান্স)" অপশনে অর্ডারের সময়েই ডেলিভারি চার্জটা নিয়ে নিতে পারেন, ভুয়া অর্ডারে রান্না নষ্ট হয় না। বাকি ফিচারগুলো এক জায়গায় দেখতে চাইলে ফিচারের পেজটা খুলুন।

একটা বাসার দরজার সামনে একজন রাইডার সাধারণ জ্যাকেট পরে, কোনো লোগো ছাড়া, এক যুবকের হাত থেকে সিল করা একটা খাবারের ব্যাগ নিচ্ছেন, যুবকের অন্য হাতে ফোন
ব্যাগ সিল করা, তরকারি আলাদা ব্যাগে, তারপর রাইডারের হাতে

কখন হোম শেফ হবেন না

যদি সপ্তাহে ৫ দিন, দিনে অন্তত ৪ ঘণ্টা রান্নাঘরে থাকার অবস্থা না থাকে, তাহলে অ্যাপে নামবেন না। শর্তটা Foodpanda-র নিজের, আর কিচেন বারবার বন্ধ থাকলে অ্যাপে আপনাকে খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়। এই অবস্থায় নিজের পেজে সপ্তাহে দুই-তিন দিনের অগ্রিম অর্ডার অনেক বেশি মানায়।

যদি আপনার খাবারের উপকরণের খরচ এত বেশি হয় যে ওপরের মতো হিসাব করলে কমিশনের পরে প্লেটে ২০-৩০ টাকাও থাকে না, তাহলেও না। দামি মাছ বা গরুর মাংসের পদ অনেক সময় এই দলে পড়ে। আর বাসার রান্নাঘর যদি পরিবারের রোজকার রান্নার সাথে ভাগ করে চালাতে হয়, দুপুরের ভিড়ের সময় দুটো একসাথে সামলানো প্রায় অসম্ভব। আমি এখানে একটা পরীক্ষাই করতে বলি। অ্যাপে নামার আগে দুই সপ্তাহ নিজের পেজে প্রতিদিন একই সময়ে রেঁধে দেখুন, সময়মতো পারছেন কি না।

আজই করে ফেলুন

  1. partner.foodpanda.com.bd খুলে দেখুন আপনার এলাকা ওদের অপারেশন এলাকায় পড়ে কি না, আর শর্তগুলো নিজের চোখে পড়ুন।
  2. জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ আর ট্রেড লাইসেন্সের কপি এক ফোল্ডারে রাখুন, ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে আবেদনের খোঁজ নিন।
  3. পাঁচটা খাবারের মেনু লিখুন, প্রতিটার উপকরণের খরচসহ।
  4. ওপরের টেবিলে নিজের খরচ বসিয়ে দেখুন কমিশনের একটা ধরে নেওয়া হারে প্রতিটা প্লেটে কত থাকে।
  5. কাল দুপুরে জানালার আলোয় পাঁচটা খাবারের ছবি একই প্লেটে আর একই কোণ থেকে তুলুন।
  6. Foodpanda-র টিমকে জিজ্ঞেস করার প্রশ্নগুলো, মানে কমিশন, টাকা আসার দিন আর ছাড়ের দায়, একটা নোটে লিখে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ফুডপান্ডা হোম শেফ হতে কি দোকান লাগে?

না। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Foodpanda-র পার্টনার পেজে লেখা আছে, HomeChef বা ক্লাউড কিচেনের মালিক দোকান ছাড়াই দরকারি কাগজ দিয়ে সাইন আপ করতে পারেন। তবে আপনার রান্নাঘরটা ওদের ডেলিভারি এলাকার ভেতরে থাকতে হবে।

ফুডপান্ডা হোম শেফ রেজিস্ট্রেশনে কী কী কাগজ লাগে?

পার্টনার পেজের লিস্টে আছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, মেনু, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ আর ট্রেড লাইসেন্স। অনুমোদনের সময় খাবারের ছবি আর খোলার সময়ও দিতে হয়। হোম শেফের জন্য আলাদা কিছু চাওয়া হয় কি না, ফর্ম পূরণের পরে ওদের টিম ফোন দিলে জিজ্ঞেস করে নিন।

ফুডপান্ডা হোম শেফের কমিশন কত?

Foodpanda-র পার্টনার পেজে নির্দিষ্ট কোনো হার লেখা নেই। সেখানে বলা আছে কয়েকটা কমিশন প্যাকেজ আছে, সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, আর ঠিক হারটা রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনার প্যাকেজে দেখানো হবে। সই করার আগে হারটা লিখিত দেখে নিন।

ফুডপান্ডায় রেজিস্ট্রেশন করতে কত দিন লাগে?

পার্টনার পেজ অনুযায়ী সব কাগজ আর তথ্য দিলে অনুমোদনে সাধারণত ২ থেকে ৫ কার্যদিবস লাগে। অনুমোদনের পর ইমেইলে পোর্টালের ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড আসে, তারপর মেনু, ছবি আর খোলার সময় দিয়ে নিজে চালু করতে হয়।

শুধু শুক্র-শনিবার রান্না করলে কি হোম শেফ হওয়া যায়?

পার্টনার পেজের শর্তে দোকান বা কিচেন দিনে অন্তত ৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৫ দিন খোলা থাকার কথা লেখা আছে, আর আগে থেকে অর্ডার নেওয়া বা মাঝে মাঝের প্রোডাক্ট চলবে না। তাই শুধু ছুটির দিনে রান্না করলে নিজের পেজে অগ্রিম অর্ডার নেওয়াই আপনার জন্য সহজ রাস্তা।

ফুডপান্ডার পাশাপাশি নিজের পেজে অর্ডার নেওয়া যায়?

অনেক হোম শেফ সেটাই করেন, কারণ নিজের পেজের অর্ডারে কমিশন নেই। তবে Foodpanda-র সাথে আপনার চুক্তিতে দাম বা অন্য কোথাও বেচা নিয়ে কোনো শর্ত আছে কি না, সই করার আগে পড়ে নিন। দুই জায়গার অর্ডার একসাথে সামলাতে প্রতিদিন কত প্লেট রাঁধতে পারবেন, সেটাও আগে ঠিক করুন।

#ফুডপান্ডা হোম শেফ#হোম শেফ রেজিস্ট্রেশন#ঘরের রান্না#হোমমেড খাবার#ফুড লাইসেন্স#ঘরে বসে ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়