কাউন্টডাউন টাইমার দিলে অর্ডার বাড়ে? সত্যি অফারে টাইমার বসানোর নিয়ম
ল্যান্ডিং পেজে "অফার শেষ হতে বাকি" টাইমার তখনই অর্ডার বাড়ায়, যখন অফারটা সত্যিই শেষ হয়। নির্দিষ্ট সময়ের টাইমার আর প্রতিবার নতুন করে শুরু হওয়া টাইমারের পার্থক্য, আইন আর ফেসবুকের নিয়ম, পেজে কোথায় বসাবেন, শেষ হলে কী করবেন, আর ৪৮ ঘণ্টার একটা অফারের হিসাব।

এই লেখায় যা আছে
কাউন্টডাউন টাইমার অর্ডার বাড়ায়, কিন্তু শুধু একটা শর্তে। অফারটা সত্যিই সেই সময়ে শেষ হতে হবে। ল্যান্ডিং পেজে "অফার শেষ হতে বাকি" টাইমার দেখলে যিনি কিনব-কিনব করছিলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যে টাইমার প্রতিবার নতুন করে শুরু হয় আর দাম কখনো বদলায় না, সেটা ধরা পড়লে পেজের বিশ্বাস যায়, আর আইনের ঝুঁকিও আসে। তাই countdown timer for website যে টুল দিয়েই বসান, নিয়ম দুটো। শেষের সময়টা সবার জন্য এক হবে, আর সময় শেষ হলে দামটা সত্যিই বদলাবে।
একজন কাস্টমার অ্যাড থেকে আপনার পেজে এলেন, দেখলেন টাইমারে বাকি ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট। ভাবলেন, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে অর্ডার দেব। সন্ধ্যায় আবার খুললেন, টাইমারে আবার ৩ ঘণ্টা। তিনি আর অর্ডার দিলেন না, শুধু কমেন্টে লিখে গেলেন, "এই টাইমার তো কখনো শেষ হয় না।" সেই কমেন্ট পরের একশো জন পড়লেন। একটা ভুয়া টাইমারের দাম অনেক সময় এভাবেই দিতে হয়, চুপচাপ।
কাউন্টডাউন টাইমার কেন কাজ করে
মানুষ কেনার সিদ্ধান্ত ফেলে রাখতে ভালোবাসেন। "পরে দেখি" বলে ট্যাব বন্ধ করেন, আর সেই পরে আর আসে না। একটা সত্যি শেষের সময় এই ফেলে রাখাটা থামায়। কাস্টমার জানেন, এখন নিলে ১০০ টাকা কম, কাল নিলে পুরো দাম। সিদ্ধান্তটা তখন আজকের, পরের না।
খেয়াল করুন, টাইমার চাহিদা তৈরি করে না। যিনি আপনার প্রোডাক্ট চান না, টাইমার দেখে তিনি কিনবেন না। টাইমার কাজ করে শুধু তাঁদের ওপর, যাঁরা এমনিতেই আগ্রহী, কিন্তু দেরি করছেন। তাই টাইমার দেওয়ার আগে পেজের বাকি জিনিসগুলো ঠিক আছে কি না দেখুন। পরিষ্কার ছবি, দাম, ডেলিভারির কথা আর ভরসার কারণ। এগুলো না থাকলে টাইমার একটা দৌড়ানো সংখ্যা ছাড়া কিছু না। একটা পেজে কোন সাতটা জিনিস ছাড়া অর্ডার আসে না, তা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লেখায় আছে।
আরেকটা জিনিস অনেকে বোঝেন দেরিতে। টাইমারের জোর আসে বিশ্বাস থেকে। আপনার পেজের আগের অফারগুলো যদি সত্যিই সময়মতো শেষ হয়ে থাকে, পুরনো কাস্টমাররা সেটা জানেন, আর পরের টাইমারটা তাঁদের কাছে সত্যি মনে হয়। আর যদি একবারও ধরা পড়েন যে টাইমার শেষ হলো কিন্তু দাম একই, তাহলে সেই বিশ্বাস ফেরাতে অনেক মাস লাগে।
সত্যি ডেডলাইন আর প্রতিবার নতুন করে শুরু, পার্থক্য কোথায়
টাইমার মূলত দুই রকম। প্রথমটা নির্দিষ্ট তারিখ আর সময়ের টাইমার। সবাই একই শেষের সময় দেখেন। শুক্রবার সকালে যিনি দেখলেন আর শনিবার রাতে যিনি দেখলেন, দুজনের টাইমারই একই মুহূর্তে শূন্যে নামবে। এটা একটা সত্যিকারের অফারের মতো, যেমন দোকানে "রবিবার পর্যন্ত" লেখা নোটিশ।
দ্বিতীয়টা প্রতিটা ভিজিটরের জন্য আলাদা টাইমার। কেউ প্রথমবার পেজ খুললে তাঁর জন্য ধরুন তিন ঘণ্টার একটা টাইমার শুরু হয়। ফোনের ব্রাউজার সেটা মনে রাখে। কিন্তু অন্য ফোনে, প্রাইভেট ট্যাবে, বা তিন ঘণ্টা শেষ হওয়ার পরে আবার এলে টাইমার আবার শুরু থেকে চলে। মানে একজন মানুষ চাইলে প্রতিদিন নতুন করে "শেষ হতে বাকি" দেখতে পারেন।

দ্বিতীয় ধরনটা কখন সৎ? শুধু তখন, যখন সেই মানুষটার জন্য টাইমার শেষ হলে দামটা সত্যিই বদলায়। যেমন কেউ প্রথমবার এলে তিন ঘণ্টার জন্য একটা ছাড়ের কোড পান, আর তিন ঘণ্টা পরে কোডটা আর চলে না। এমন ব্যবস্থা না থাকলে, মানে টাইমার শেষ হলেও সবার জন্য দাম একই থাকলে, এই টাইমার একটা মিথ্যা কথা বলছে।
নিজের পেজটা এখনই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ফোনের ব্রাউজারে একটা প্রাইভেট ট্যাব খুলে পেজটা খুলুন, টাইমারের সময়টা দেখুন। ট্যাব বন্ধ করে আরেকটা প্রাইভেট ট্যাবে আবার খুলুন। টাইমার যদি আবার শুরু থেকে চলে, তাহলে আপনার কাস্টমাররাও সেটা দেখছেন। আর কাস্টমারের সন্দেহও ঠিক সেভাবেই শুরু হয়।
WinningSeller-এর ল্যান্ডিং পেজে "কাউন্টডাউন অফার" সেকশনে দুটো মোডই আছে। "কখন শেষ হবে" ঘরে "প্রতিটা ভিজিটরের জন্য নতুন করে শুরু" আর "নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে"। সেকশন নতুন যোগ করলে প্রথমটা বাছা থাকে, তাই নিজে বদলে নিন। WinningSeller-এ পেজের দাম আসে প্রোডাক্ট থেকে, আর সেটা একজন ভিজিটরের জন্য আলাদা করে বদলায় না। তাই এখানে সত্যি অফারের জন্য "নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে" মোডটাই নিন, আর "শেষ হওয়ার সময়" ঘরে অফারের আসল শেষের সময় দিন।
আইন আর ফেসবুকের নিয়মে ভুয়া তাড়ার বিপদ
ভুয়া টাইমারের প্রথম শাস্তি কাস্টমারের কাছ থেকেই আসে, কমেন্টে আর রিভিউতে। কিন্তু আইনের দিকটাও জেনে রাখুন। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারা অসত্য বা মিথ্যা বিজ্ঞাপনে ক্রেতা ঠকানোর শাস্তি নিয়ে। সরকারের আইনের সাইট bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা পাঠে সেই শাস্তি অনূর্ধ্ব এক বছরের জেল, অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা দুটোই। কোন টাইমার ঠিক এই ধারায় পড়বে, সেটা অধিদপ্তর বা আদালত ঠিক করবে, আমি সেই রায় দিচ্ছি না। কিন্তু যে অফার শেষ হয় না, তাকে "শেষ হতে বাকি" লিখে ঝুঁকিটা নেবেন কেন?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১১ অনুচ্ছেদ বলছে, কোনো অফার বা ছাড় থাকলে সেটা প্রোডাক্টের বর্ণনায় পরিষ্কার করে লিখতে হবে। অফারের শেষের সময়ও সেই শর্তেরই অংশ। নির্দেশিকার বাকি নিয়ম, অগ্রিম আর ডেলিভারির সময়সহ, অনলাইন ব্যবসার নীতিমালার লেখায় এক জায়গায় পাবেন।
ফেসবুকে অ্যাড দিলে Meta-র নিয়মও আছে। Meta-র Advertising Standards-এর "Prohibited Commercial Practices" অংশ (১২ অক্টোবর ২০২৬) মানুষকে টাকার ব্যাপারে ঠকানো আটকাতে চায়, আর উদাহরণে নাম ধরে আছে deceptive pricing। অ্যাডের কথা আর ল্যান্ডিং পেজের কথা তাই মিলতে হবে। অ্যাডে "আজ রাত ১২টায় শেষ" লিখে পেজে প্রতিদিন একই অফার রাখলে অ্যাড রিজেক্ট হওয়ার ঝুঁকি নিজেই ডেকে আনছেন।
পেজে কোথায় বসাবেন
টাইমারের জায়গা অফারের দামের পাশে। মানুষ আগে প্রোডাক্টটা দেখেন, বোঝেন কী পাচ্ছেন, দাম দেখেন, তারপর শেষের সময় দেখে সিদ্ধান্ত নেন। এই ক্রমটা উল্টো করলে, মানে একদম ওপরে, প্রোডাক্টের ছবির আগেই টাইমার দিলে, মানুষ তাড়াটা দেখেন কিন্তু কী নিয়ে তাড়া, তা জানেন না। ফোনে তখন টাইমারটা শুধু জায়গা খায়।
তাই সাধারণত এই ক্রমটা ভালো কাজ করে। প্রোডাক্টের ছবি আর মূল কথা, তারপর অফারের দাম, তার ঠিক নিচে টাইমার, আর টাইমারের পরেই অর্ডার ফর্ম। লম্বা পেজে চাইলে একদম শেষে, রিভিউয়ের পরে, আরেকবার টাইমার দিতে পারেন। তিন-চারবার একই টাইমার দিলে পেজটা চিৎকার করার মতো লাগে।
টাইমারের নিচে শেষের সময়টা কথায় লিখুন, যেমন "অফার চলবে রবিবার, ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত"। কারণ সংখ্যার টাইমার স্ক্রিনশটে বোঝা যায় না, কিন্তু লেখা তারিখ বোঝা যায়। কাস্টমার স্ক্রিনশট নিয়ে বন্ধুকে পাঠান, আর সেখানে "০২:১৪:০৫" দেখে কেউ কিছু বোঝেন না। WinningSeller-এর "কাউন্টডাউন অফার" সেকশনে "হেডিং" আর "নিচের লেখা" দুটো ঘরই নিজে বদলানো যায়। "নিচের লেখা"-য় শুরু থেকে একটা সাধারণ বাক্য বসানো থাকে, সেটা মুছে শেষের তারিখ আর অফারের শর্ত লিখে দিন।

একটা ধীর ফোনে, মোবাইল ডেটায়, পেজটা একবার খুলে দেখুন। টাইমার দেরিতে আসছে কি না, দামের সাথে একই স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে কি না। দামি ফোনে ওয়াইফাইতে সব ঠিক দেখায়, কিন্তু আপনার বেশিরভাগ কাস্টমার সেভাবে দেখেন না।
টাইমার শেষ হলে পেজে কী থাকবে
এখানেই বেশিরভাগ সেলার ভুল করেন। টাইমার শূন্যে নামল, কিন্তু দাম আগের মতোই অফারের দাম, আর লেখাও "এই দামে আর পাবেন না"। কাস্টমার তখন বোঝেন অফারটা আসলে শেষ হয়নি, আর পরের অফারে আর বিশ্বাস করেন না।
একটা কথা পরিষ্কার জেনে রাখুন। টাইমার শুধু সময় গোনে, দাম বদলায় না। WinningSeller-এ "নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে" টাইমার শেষ হলে সংখ্যাগুলো শূন্যে থামে আর নিচে "অফারের সময় শেষ" লেখা ওঠে। কিন্তু প্রোডাক্টের দাম আপনাকেই বদলাতে হয়। এখানে দুইভাবে অফার চালানো যায়।
প্রথম উপায়, প্রোডাক্টের দামই বদলানো। অফার শুরুর সময় প্রোডাক্টের ফর্মে "দাম ও স্টক"-এ "বিক্রির দাম" অফারের দামে আনুন, আর "আগের দাম" ঘরে সেই দামটা দিন, যে দামে সত্যিই বেচছিলেন। তখন পেজের "অফারের দাম" সেকশনে আগের দাম কাটা দাগে আর নতুন দাম পাশাপাশি দেখায়, কাস্টমার এক নজরে বোঝেন। শেষের মিনিটে দাম আবার আগের জায়গায় নিতে হবে হাতে। তাই শেষের সময়ের পাঁচ মিনিট আগে ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন।
দ্বিতীয় উপায়, "কুপন" মেনুতে "অটোমেটিক" একটা টাকা ছাড়ের নিয়ম, যার "শেষ" ঘরে অফারের শেষের সময় দেওয়া। এতে শেষের সময়ে ছাড় নিজেই থেমে যায়, ভুলে যাওয়ার ভয় নেই। তবে পেজে আর ফর্মে প্রোডাক্টের সাধারণ দামটাই দেখায়, ছাড় কাটে অর্ডার দেওয়ার সময়। তাই টাইমারের নিচের লেখায় অফারটা কথায় লিখে দিন, "অর্ডার করলে মোট থেকে ১০০ টাকা কেটে যাবে"। একটা টেস্ট অর্ডার দিয়ে ধন্যবাদ পেজে ছাড়ের লাইনটা দেখে নিন। ল্যান্ডিং পেজের বাকি সেকশন আর ছাড়ের নিয়মগুলো এক জায়গায় দেখতে চাইলে ফিচারের লিস্ট খুলে দেখুন।

যে উপায়েই চালান, শেষের পরে পেজের লেখা বদলান। "এই দামে আর পাবেন না" মুছে লিখুন, "অফার শেষ হয়েছে, এখন সাধারণ দাম"। চাইলে কাউন্টডাউন সেকশনটা কিছুদিন সরিয়ে রাখুন। অফারের শর্ত আর শেষের সময় দেখানো পোস্টের একটা স্ক্রিনশট রেখে দিন। পরে কেউ অভিযোগ করলে, "আমি তো দেখলাম অফার আছে", তখন এই স্ক্রিনশটই আপনার প্রমাণ। লুকানো শর্তে ছাড় দিলে কী হয়, তা কুপন কোডের লেখায় আরও বলা আছে।
৪৮ ঘণ্টার একটা অফারের হিসাব (উদাহরণ)
উদাহরণ। দোকান আর অর্ডারের সংখ্যা কাল্পনিক। ধরুন আপনি ছেলেদের চামড়ার মানিব্যাগ বেচেন ৮৯০ টাকায়। শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে রবিবার, ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত, মানে ঠিক ৪৮ ঘণ্টা, দাম ৭৯০ টাকা। পেজে "নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে" টাইমার, শেষের সময় রবিবার সকাল ১০টা। একটা মানিব্যাগ কিনতে পড়ে ৩৬০ টাকা, প্যাকিং আর COD চার্জ মিলিয়ে ২৫ টাকা। এই ৪৮ ঘণ্টায় অ্যাডে গেল ৫,০০০ টাকা। একটা ফেরত পার্সেলে আপনার যায় ৯০ টাকা।
প্রথম ২৪ ঘণ্টায় অর্ডার এলো ২২টা, পরের ২৪ ঘণ্টায় ৩১টা। মোট ৫৩টা। শেষের ছয় ঘণ্টাতেই এলো ১৪টা। ১৪ ভাগ ৫৩ মানে প্রায় ২৬%, মানে মোট অর্ডারের চার ভাগের এক ভাগের বেশি এলো শেষের এক-অষ্টমাংশ সময়ে। সত্যি শেষের সময় থাকলে শেষের দিকে এমন ভিড় দেখা যায়, কারণ যাঁরা ফেলে রাখছিলেন তাঁরা তখন সিদ্ধান্ত নেন।
কনফার্মের পরে পাঠানো হলো ৪৮টা, ডেলিভারি হলো ৪৪টা, ফেরত এলো ৪টা। প্রতি ডেলিভারিতে হাতে থাকল ৭৯০ − ৩৬০ − ২৫ = ৪০৫ টাকা। ৪৪ × ৪০৫ = ১৭,৮২০ টাকা। অ্যাডের ৫,০০০ আর ফেরতের ৪ × ৯০ = ৩৬০ টাকা বাদ দিলে থাকল ১২,৪৬০ টাকা।

রবিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ইনবক্সে তিনজন লিখলেন, "ভাই, এখন দিলে ৭৯০-তে হবে?" এখানে নরম কিন্তু পরিষ্কার থাকুন। "ভাই, অফারটা সকাল ১০টায় শেষ হয়েছে, এখন দাম ৮৯০। পরের অফারের খবর সবার আগে পেতে পেজটা ফলো করে রাখুন।" এই তিনজনের মধ্যে কেউ কেউ পুরো দামেই নেন, কেউ নেন না। কিন্তু যে ৫৩ জন সময়ের মধ্যে অর্ডার দিলেন, তাঁরা দেখলেন আপনার কথার দাম আছে। পরের অফারের টাইমার তাঁদের কাছে সত্যি মনে হবে, আর এই বিশ্বাসটাই পরের অফারের অর্ডার আনে।
কখন টাইমার দেবেন না
অফারের কোনো আসল শেষ না থাকলে টাইমার দেবেন না। যে প্রোডাক্ট সারা বছর একই দামে বেচেন, তাতে টাইমার শুধু সন্দেহ বাড়ায়। নতুন পেজেও টাইমার দিয়ে শুরু করবেন না। যে পেজের এখনো কোনো রিভিউ বা পুরনো কাস্টমার নেই, সেখানে "তাড়াতাড়ি করুন" দেখলে মানুষ ভরসার চেয়ে চাপ বেশি টের পান।
দামি প্রোডাক্টে, যেখানে কাস্টমার পরিবারের সাথে কথা বলে কেনেন, যেমন কয়েক হাজার টাকার গ্যাজেট বা ফার্নিচার, সেখানে কয়েক ঘণ্টার টাইমার উল্টো কাজ করে। মানুষ ভাবার সময় পান না, তাই কেনেনই না। এমন প্রোডাক্টে অফার দিলে কয়েক দিনের সময় দিন। আর স্টক বা কুরিয়ার যদি অফারের ভিড় সামলাতে না পারে, তাহলে টাইমারের তাড়ায় আসা অর্ডার দেরিতে পৌঁছাবে, আর সেই কাস্টমার আর ফিরবেন না।
শেষ কথা, প্রতি সপ্তাহে "আজই শেষ" দেবেন না। মাসে বা মৌসুমে একবার একটা সত্যি অফার, তারপর কিছুদিন সাধারণ দাম। এভাবে চললে আপনার টাইমারের একটা মানে থাকে।
আজই করে ফেলুন
- নিজের ল্যান্ডিং পেজটা ফোনের প্রাইভেট ট্যাবে দুইবার খুলুন। টাইমার আবার শুরু থেকে চললে আজই সেটা বদলান বা সরান।
- যে টাইমার রাখবেন, তার শেষের সময় অফারের আসল শেষের সাথে মিলিয়ে নিন, আর টাইমারের নিচে তারিখ আর সময় কথায় লিখুন।
- টাইমারের নিচের "এই দামে আর পাবেন না" ধাঁচের পুরনো লেখা সত্যি কি না দেখুন। সত্যি না হলে বদলে দিন।
- পরের অফারের জন্য ঠিক করুন, দাম বদলাবেন প্রোডাক্টে, নাকি শেষের সময়সহ অটোমেটিক ছাড়ে। প্রথমটা হলে শেষের মিনিটের অ্যালার্ম দিন।
- একটা ধীর ফোনে মোবাইল ডেটায় পেজটা খুলে দেখুন, দাম আর টাইমার একই স্ক্রিনে আসে কি না।
- শেষ অফারের শর্তের পোস্টের স্ক্রিনশট একটা ফোল্ডারে রাখুন, তারিখ দিয়ে নাম দিন।
সাধারণ প্রশ্ন
কাউন্টডাউন টাইমার কি সত্যিই অর্ডার বাড়ায়?
যিনি প্রোডাক্টটা এমনিতেই চান কিন্তু কিনব-কিনব করছেন, টাইমার তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। যিনি চান না, তাঁকে টাইমার কেনাতে পারে না। আর অফার যদি শেষ না হয়, তাহলে পরের বার টাইমার দেখে কেউ আর তাড়া অনুভব করেন না।
ভুয়া কাউন্টডাউন টাইমার কী?
যে টাইমার প্রতিবার পেজ খুললে বা কিছুক্ষণ পরে আবার নতুন করে শুরু হয়, অথচ দাম কখনো বদলায় না, সেটাই ভুয়া টাইমার। "অফার শেষ হচ্ছে" বলে সে একটা সত্যি না হওয়া কথা বলে। কাস্টমার দুই ফোনে খুলে বা পরদিন এসে সেটা সহজেই ধরে ফেলেন।
ওয়েবসাইটে কাউন্টডাউন টাইমার কীভাবে বসাব?
অনেক ওয়েবসাইট বিল্ডারে আলাদা টাইমার সেকশন বা উইজেট থাকে, কোথাও HTML কোড বসাতে হয়। WinningSeller-এ ল্যান্ডিং পেজে "কাউন্টডাউন অফার" সেকশন যোগ করে "নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে" বাছুন আর শেষের সময় দিন, কোনো কোড লাগে না। যেভাবেই বসান, শেষের সময়টা অফারের আসল শেষের সাথে মিলিয়ে দিন।
টাইমার শেষ হলে কি দাম নিজে থেকে বদলে যায়?
সাধারণত না। টাইমার শুধু সময় গোনে, দামটা বদলাতে হয় আপনাকে, বা ছাড়ের নিয়মে শেষের সময় দিয়ে রাখতে হয়। শেষের মিনিটে ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন, আর পেজের লেখাও বদলে দিন।
টাইমার পেজের কোথায় দিলে ভালো?
অফারের দামের ঠিক পাশে বা নিচে, আর অর্ডার ফর্মের ওপরে। পুরো পেজে একবার, বড়জোর দুইবার। একদম ওপরে, প্রোডাক্ট দেখানোর আগেই টাইমার দিলে মানুষ তাড়াটা দেখেন, কিন্তু কী কিনবেন তা তখনো জানেন না।
একই অফার কি বারবার টাইমার দিয়ে দেওয়া যায়?
প্রতি সপ্তাহে "আজই শেষ" লিখলে মানুষ শিখে যান যে আসলে কিছুই শেষ হয় না। মাসে বা মৌসুমে একবার একটা সত্যি অফার দিন, আর শেষের পরে কিছুদিন সাধারণ দামে বেচুন। তাহলে পরের টাইমারটা আবার কাজ করবে।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


