বাংলাদেশ থেকে Etsy আর Amazon-এ বিক্রি করা যায়? আসল নিয়ম আর পথ
Etsy from Bangladesh খুঁজছেন? Etsy আর Amazon-এর নিজের পেজে ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ বাংলাদেশ নিয়ে কী লেখা, টাকা কোন পথে আসে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্কেটপ্লেস রপ্তানির নিয়ম, অন্যের নামে অ্যাকাউন্টের বিপদ আর একটা অর্ডারের ডলার থেকে টাকার পুরো হিসাব।

এই লেখায় যা আছে
Etsy from Bangladesh নিয়ে মন খারাপের খবরটা আগে দিই। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Etsy-র নিজের হেল্প পেজে যে দেশগুলো থেকে Etsy Payments-এ টাকা নেওয়া যায় তার তালিকায় বাংলাদেশ নেই, আর Etsy-র নিয়মে তালিকার বাইরের দেশ থেকে নতুন দোকানই খোলা যায় না। Amazon-এর ছবিটা আলাদা। Amazon-এর সেলার রেজিস্ট্রেশনের দেশের তালিকায় বাংলাদেশ আছে, কিন্তু Amazon যে দেশগুলোর ব্যাংকে সরাসরি টাকা পাঠায়, সেখানে বাংলাদেশ নেই। মানে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, টাকা আনতে আলাদা পথ লাগে। নিচে দুই প্ল্যাটফর্মের নিজের কথা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম, অন্যের নামে অ্যাকাউন্টের বিপদ, আর একটা অর্ডারের ডলার থেকে টাকার পুরো হিসাব।
হাতের কাজ যাঁরা করেন, নকশিকাঁথা, পাটের ব্যাগ, কাঠের নকশা বা মাটির গয়না, তাঁদের অনেকেই একদিন ভিডিও দেখেন যে কেউ একটা জিনিস বিদেশে ৪০ ডলারে বেচছেন। মনে হয়, আমার জিনিসও তো এমন। তারপর শুরু হয় খোঁজ, আর পাওয়া যায় একগাদা ভিডিও যেখানে "সহজ উপায়" বলে অন্যের ঠিকানায় অ্যাকাউন্ট খোলার কথা। এই লেখা সেই খোঁজটা প্ল্যাটফর্মের নিজের পেজ দিয়ে শেষ করার জন্য।
Etsy from Bangladesh, Etsy নিজে কী বলে
Etsy-তে বেচার একটাই প্রধান পথ, Etsy Payments। Etsy-র হেল্প সেন্টারের "What is Etsy Payments?" পেজে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর লেখা আছে, Etsy Payments-এ যুক্ত হওয়া দোকান খোলারই একটা অংশ। আর যুক্ত হতে লাগে যোগ্য একটা দেশে নিজের বসবাসের ঠিকানা আর একটা চালু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সাথে একটা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড। একই পেজে লেখা, যেসব দেশে Etsy Payments এখনো চালু নেই, তার বেশিরভাগ জায়গা থেকে এখন দোকান খোলা যাবে না। Etsy-র Payments Policy-তে কথাটা আরও সোজা, তালিকার বাইরের দেশের মানুষ নতুন দোকান খুলতে পারবেন না।
এবার যোগ্য দেশের তালিকা। Etsy-র "Countries Eligible for Etsy Payments" পেজে ১২ অক্টোবর ষাটের বেশি দেশের নাম ছিল। প্রতিবেশীদের মধ্যে ভারত আর পাকিস্তান আছে, দুটোর পাশেই তারা চিহ্ন, মানে সেখানকার সেলাররা Payoneer অ্যাকাউন্ট দিয়ে Etsy Payments নেন। বাংলাদেশের নাম তালিকায় নেই, তারা চিহ্নেও নেই। Etsy লিখেছে তারা ভবিষ্যতে আরও দেশ যোগ করার চেষ্টা করছে, আর খবর দেবে Seller Handbook-এর Site Updates অংশে।
তাই কেউ যদি বলেন "Payoneer দিয়ে বাংলাদেশ থেকে Etsy খোলা যায়", তাঁকে Etsy-র এই পেজটা দেখান। Payoneer-এর পথটা Etsy নিজেই শুধু তারা চিহ্নের দেশগুলোর জন্য লিখেছে। পেজগুলো বদলায়, তাই যেদিন দেখবেন সেদিনের তালিকার একটা স্ক্রিনশট রেখে দিন। কোনোদিন বাংলাদেশ তালিকায় এলে খরচের হিসাবও জানা থাকা ভালো। Etsy-র Fees & Payments Policy-তে ১২ অক্টোবর লেখা ছিল, প্রতিটা লিস্টিংয়ে ০.২০ ডলার, বিক্রি হলে দাম আর শিপিং মিলিয়ে ৬.৫% ট্রানজ্যাকশন ফি, আর দোকান খুলতে এককালীন একটা সেট-আপ ফি লাগতে পারে। এর বাইরে পেমেন্ট প্রসেসিং ফি দেশভেদে আলাদা।
Amazon-এ বাংলাদেশি সেলার, Seller Central-এর নিয়ম
Amazon-এর বেলায় খবরটা একটু ভালো। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Amazon Seller Central-এর "Countries accepted for seller registration" পেজে, যেটা Amazon.com-এ বেচার জন্য, বাংলাদেশের নাম আছে। শর্ত তিনটা লেখা আছে, তালিকার কোনো দেশের বাসিন্দা হতে হবে, একটা চালু ফোন নম্বর থাকতে হবে, আর আন্তর্জাতিকভাবে চার্জ করা যায় এমন ক্রেডিট কার্ড লাগবে। একই পেজে লেখা, বাংলাদেশসহ কয়েকটা দেশ থেকে Amazon-এর ফোন সাপোর্ট পাওয়া যায় না, শুধু ইমেইল আর চ্যাট।
কার্ডের শর্তটা অনেককে আটকে দেয়। বাংলাদেশ থেকে ডলারে চার্জ করা যায় এমন কার্ড বলতে সাধারণত ব্যাংকের ডুয়াল কারেন্সি বা ডলারের কার্ড বোঝায়, আর তার নিয়ম, সীমা আর কাগজ ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের লেখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম ধরে বলা আছে। খরচের দিকটা sell.amazon.com-এর দামের পেজে ১২ অক্টোবর এমন ছিল। Individual প্ল্যানে প্রতিটা বিক্রিতে ০.৯৯ ডলার, Professional প্ল্যানে মাসে ৩৯.৯৯ ডলার, আর দুই প্ল্যানেই প্রতিটা বিক্রিতে ক্যাটাগরি ধরে রেফারেল ফি। যেমন Home and Kitchen-এ ১৫%, আর সেটা কাটে মোট দামের ওপর।

এবার আসল প্রশ্ন, মাল যাবে কীভাবে। দুটো পথ আছে। এক, প্রতিটা অর্ডার আপনি নিজে বাংলাদেশ থেকে কাস্টমারের দেশে পাঠাবেন। দুই, আগে থেকে মাল Amazon-এর গুদামে পাঠিয়ে রাখবেন, যাকে FBA বলে। দ্বিতীয় পথে ওই দেশে আমদানির কাগজপত্র, শুল্ক আর ট্যাক্সের আলাদা একটা জগৎ আছে, যেটা একা নতুন সেলারের জন্য না। Amazon-এর নিজের Global Selling পেজেও বলা আছে, প্রতিটা দেশের ট্যাক্স আর নিয়ম নিয়ে নিজের ট্যাক্স আর আইন পরামর্শকের সাথে কথা বলতে। প্রথম পথে প্রতিটা পার্সেলের খরচ অনেক বেশি, সেটা নিচের হিসাবে দেখবেন।
টাকা দেশে আনবেন কীভাবে, ব্যাংকের নিয়ম
Amazon-এর "Countries, regions, and currencies supported by Amazon for disbursement" পেজে, মানে যে দেশগুলোর ব্যাংকে Amazon সরাসরি টাকা পাঠায়, ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ বাংলাদেশের নাম ছিল না। Amazon-এর "Payments for global accounts" পেজে লেখা, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট Amazon-এর তালিকার দেশে না হলে Amazon হয়তো সেখানে টাকা পাঠাতে পারবে না। তখন লাগবে Amazon-এর বাজারের দেশে বা তালিকার কোনো দেশে একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অথবা Hyperwallet বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের পেমেন্ট সার্ভিস, যারা মুদ্রা বদলের কাজ করে। বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার যে পেমেন্ট সার্ভিসগুলো চেনেন, সেগুলোর কোনটা Amazon-এর টাকা নেয় আর বাংলাদেশে পাঠায়, সেই সার্ভিসের নিজের পেজে আর আপনার ব্যাংকে মিলিয়ে নিন।

দেশের দিকের নিয়ম বলে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ৩০ জুলাই ২০২৬-এর FEPD-1 Circular No. 26 আছে, রপ্তানির সব নিয়ম এক জায়গায়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেখানে Part-J-তে যা লেখা আছে, তার সারকথা এমন। বিশ্বে পরিচিত অনলাইন মার্কেটপ্লেসে দেশের রপ্তানিযোগ্য জিনিস তুলে বিদেশি ক্রেতার কাছে বেচা যায়। ব্যাংক দেখবে মার্কেটপ্লেসের সাথে আপনার বৈধ মার্চেন্ট চুক্তি আছে কি না। সুবিধাটা ছোট রপ্তানির জন্য, প্রতি লেনদেনে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত। আর প্রতি চালানে ১,০০০ ডলার পর্যন্ত হলে, যদি পুরো টাকা চালানের আগেই ব্যাংকিং চ্যানেল বা বৈধ ডিজিটাল পেমেন্টে এসে যায়, EXP ফর্ম লাগে না।
একই সার্কুলারে আরও দুটো কাজের কথা আছে। রপ্তানির টাকা দেশে আনার নির্ধারিত সময় চার মাস। আর আপনার ব্যাংক এই ব্যবস্থায় কাউকে কাজ করতে দিলে সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে, কোন মার্কেটপ্লেসে আপনি বেচবেন সেটাসহ। মানে এটা ব্যাংকের সাথে বসে চালু করার জিনিস, নিজে নিজে শুরু করে পরে কাগজ খোঁজার জিনিস না।
একটা প্রশ্ন ব্যাংকে অবশ্যই তুলবেন। ১৫ জুন ২০২৬-এর FEPD-1 Circular No. 12-এ বলা আছে, মার্কেটপ্লেসের চার্জ রপ্তানির কমিশনের সাধারণ সীমার ভেতরে থাকতে হবে। সেই সীমা জিনিসের দামের ৫%, যদি না বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা অনুমতি দেয়। Amazon-এর ১৫% রেফারেল ফি বা Etsy-র ৬.৫% ট্রানজ্যাকশন ফি এর চেয়ে বেশি। আপনার ক্ষেত্রে এটা কীভাবে মেলানো হবে, সেই উত্তর ব্যাংকের ট্রেড ডেস্ক দেবে, আন্দাজে ধরে নেবেন না।
অনুমতি ছাড়া বিদেশে আয় জমিয়ে রাখা নিয়ে সার্কুলারে কড়া কথা আছে, আর হুন্ডি তো বেআইনি পথই, তাই কোনোটার দিকেই যাবেন না।
প্রথম অর্ডার থেকেই একটা ফাইল রাখুন। প্রতিটা বিক্রির অর্ডারের কপি, ইনভয়েস, ডাকঘর বা কুরিয়ারের রসিদ আর ট্র্যাকিং নম্বর, আর টাকা কবে কোন পথে এল তার স্টেটমেন্ট। ব্যাংক টাকা ছাড়ার আগে এসব কাগজই চাইবে, আর বছরের শেষে আয়কর রিটার্নেও এগুলো লাগবে। কাগজ পরে খুঁজতে গেলে পাওয়া যায় না, তাই চালান যেদিন যায়, সেদিনই ফাইলে তুলুন।
অন্যের নামে অ্যাকাউন্ট কেন বিপদ
ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি যে "উপায়" দেখা যায়, সেটা হলো বিদেশে থাকা কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর ঠিকানা আর ব্যাংক দিয়ে Etsy খোলা, বা টাকা দিয়ে কারও তৈরি করা অ্যাকাউন্ট কেনা। শুনতে সহজ। কিন্তু Etsy-র পেজেই লেখা, পরিচয় যাচাই হয়, আর দেওয়া তথ্যে যাচাই না হলে আরও কাগজ চাওয়া হয়, না দিলে Etsy অ্যাকাউন্টে ঢুকতে দিতে অস্বীকার করতে পারে। আপনি তখন অন্যের নামের কাগজ কোথা থেকে দেবেন?
টাকার দিকটা আরও কঠিন। অ্যাকাউন্টটা আরেকজনের নামে, ব্যাংকও তাঁর নামে, তাই আইনের চোখে বিক্রির টাকাও তাঁর। তিনি দেশে টাকা পাঠালে সেটা আপনার রপ্তানির আয় হিসেবে দেখানো যায় না। সম্পর্ক খারাপ হলে, তিনি অসুস্থ হলে বা দেশ বদলালে আপনার দোকান আর জমানো টাকা দুটোই আটকে যায়। আর কেনা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে টাকা ফেরত চাওয়ার কোনো জায়গাই থাকে না।
এখানে আমার কথা পরিষ্কার। যে প্ল্যাটফর্ম আপনার দেশকে তালিকায় রাখেনি, সেখানে অন্যের পরিচয়ে ব্যবসা দাঁড় করাবেন না। কয়েক মাসের বিক্রি একদিনে শূন্য হয়ে যেতে পারে। তার চেয়ে নিচের দুটো সৎ পথের কোনো একটা নিন।
বিদেশে একটা পার্সেল পাঠানো, খরচসহ (উদাহরণ)
ধরুন Amazon.com-এ নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুললেন, আর প্রতিটা অর্ডার বাংলাদেশ থেকে নিজে পাঠাবেন। একটা অর্ডারে আসলে কত থাকে, সেটা আগে কাগজে দেখে নিন। কোন পথে পাঠাবেন, ডাকের ইএমএস না এক্সপ্রেস কুরিয়ার, ইনভয়েসে কী লিখবেন আর কোন জিনিস ওপারে আটকায়, সেটা বিদেশে কুরিয়ার পাঠানোর লেখায় ডাক বিভাগের গেজেট আর DHL-এর রেট ধরে পুরো বলা আছে।
উদাহরণ। Amazon-এর ফি ১২ অক্টোবরের পেজ থেকে, বাকি সব ধরে নেওয়া। ধরুন একটা নকশিকাঁথার কুশন কভার ৩০ ডলারে বেচলেন, Home and Kitchen ক্যাটাগরিতে, Individual প্ল্যানে। রেফারেল ফি ১৫%, মানে ৪.৫০ ডলার, আর প্রতি বিক্রিতে ০.৯৯ ডলার। কাটার পর থাকে ২৪.৫১ ডলার। পেমেন্ট সার্ভিসের খরচ ধরলাম ২%, মানে ০.৪৯ ডলার, থাকে ২৪.০২ ডলার। ১ ডলার ১২২ টাকা ধরলে হাতে আসে প্রায় ২,৯৩০ টাকা। এদিকে কভারটা বানাতে পড়েছে ৯০০ টাকা, প্যাকিং ১৫০ টাকা, আর ডাকঘরে ওজন করিয়ে আমেরিকায় পাঠানোর খরচ ধরুন ৩,০০০ টাকা। মোট খরচ ৪,০৫০ টাকা। মানে এই অর্ডারে লস ১,১২০ টাকা।
এবার একই অর্ডারে কাস্টমারের কাছ থেকে শিপিং বাবদ ২৫ ডলার নিলেন, মোট ৫৫ ডলার। রেফারেল ফি তখন মোট দামের ওপর, ৫৫-এর ১৫% মানে ৮.২৫ ডলার, সাথে ০.৯৯ ডলার। থাকে ৪৫.৭৬ ডলার। পেমেন্ট সার্ভিসের ২% বাদে ৪৪.৮৪ ডলার, মানে প্রায় ৫,৪৭০ টাকা। খরচ সেই ৪,০৫০ টাকা। লাভ ১,৪২০ টাকা।

এই হিসাবের শিক্ষা দুটো। একা একটা পার্সেল বিদেশে পাঠানোর খরচ ছোট জিনিসের দামের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তাই শিপিং খরচ দামের মধ্যে না ধরলে প্রতিটা অর্ডারে লস। আর ৫৫ ডলারে একটা কুশন কভার আমেরিকার কেউ কিনবেন কি না, সেটা আলাদা প্রশ্ন, যেখানে আপনার জিনিসের গল্প আর ছবিই সব। তাই লিস্টিংয়ের আগে একটা নমুনা প্যাক করে ডাকঘরে ওজন করিয়ে আসল খরচ জেনে নিন, আর একই নকশার অন্তত পাঁচটা বানিয়ে রাখুন। বিদেশের অর্ডার আসার পর বানাতে বসলে দেরি হয়, আর বিদেশি ক্রেতা দেরি আর ধীর উত্তর খুব তাড়াতাড়ি রেটিংয়ে লিখে দেন।
প্রবাসীদের কাছে দেশ থেকেই বিক্রি
বিদেশের টাকা আনার সবচেয়ে সহজ রাস্তাটা অনেকে চোখের সামনে থেকেও দেখেন না। প্রবাসী বাংলাদেশি। সৌদি, দুবাই, মালয়েশিয়া বা লন্ডনে থাকা মানুষ দেশে থাকা মা-বাবা, ভাই-বোনের জন্য নিয়মিত জিনিস কেনেন। ঈদে, বিয়েতে, জন্মদিনে। তিনি অর্ডার দেন বিদেশ থেকে, কিন্তু পার্সেল যায় দেশের ঠিকানায়, আর টাকা দেন দেশের কেউ, বা তিনি নিজে অনলাইনে।
এই কাস্টমারের জন্য আপনার দরকার একটা ভালো পেজ বা ওয়েবসাইট, পরিষ্কার দাম আর ঝামেলা ছাড়া পেমেন্ট। WinningSeller-এ দোকানের অর্ডার ফর্মে bKash আর SSLCommerz-এ অনলাইন পেমেন্ট চালু করে নেওয়া যায়, আর পেমেন্ট লিংকও পাঠানো যায়, তাই দেশে থাকা পরিবার বা প্রবাসী নিজে টাকা দিয়ে দিতে পারেন। কনফার্ম কলে বা মেসেজে তিনটা কথা পরিষ্কার করে নিন, পার্সেল দেশের কোন ঠিকানায় যাবে, সেখানে কে হাতে নেবেন, আর ক্যাশ অন ডেলিভারি হলে টাকা দেবেন কে। প্রবাসী অনেক সময় অবাক করে দিতে চান, আর বাসার মানুষ জানেনই না পার্সেল আসছে, তখন রাইডার ফোন করলে কেউ ধরেন না। তাই যিনি হাতে নেবেন, তাঁর নম্বরটাই অর্ডারে দিন, আর তাঁকে আগে একবার জানিয়ে রাখতে বলুন। Etsy বা Amazon-এর কাজ WinningSeller করে না, এটা দেশের ভেতরে বেচার দোকান। কী কী ফিচার আছে, দেখতে পারেন ফিচারের পেজে।
আর কোনো প্রবাসী যদি নিজের ঠিকানাতেই বিদেশে জিনিস চান, তখন ওপরের বিদেশে কুরিয়ারের লেখার নিয়মগুলো খাটে, পুরো টাকা আগে আর বৈধ পথে। আর মার্কেটপ্লেসে বেচার হাতেখড়িটা যদি দেশেই নিতে চান, Daraz-এ বাংলাদেশি সেলার নিজের নামেই বেচতে পারেন। তার কমিশন আর অ্যাকাউন্টের নিয়ম Daraz সেলার অ্যাকাউন্টের লেখায় আছে।

কখন বিদেশের মার্কেটপ্লেসে নামবেন না
যদি দেশের কাস্টমারের কাছে এখনো নিয়মিত বিক্রি না থাকে, তাহলে বিদেশের মার্কেটপ্লেসে নামার সময় এখনো আসেনি। বিদেশে প্রতিটা ভুলের দাম বেশি, ফেরত পার্সেল প্রায় অসম্ভব, আর রিভিউ একবার খারাপ হলে নতুন দোকানের জন্য ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। আগে দেশে বেচে জানুন কোন নকশা চলে, কোন প্যাকিং টেকে, আর একই জিনিস কয়টা একরকম বানাতে পারেন।
যদি ব্যাংকে গিয়ে রপ্তানির টাকা আনার ব্যবস্থা চালু করার সময় আর ধৈর্য না থাকে, তাহলেও না। আর যদি একমাত্র পথ হয় অন্যের ঠিকানা বা অন্যের নাম, তাহলে তো একেবারেই না। হাতের কাজ দিয়ে দেশের বাজারে কীভাবে শুরু করবেন, দাম কীভাবে কষবেন আর না ভেঙে কীভাবে পাঠাবেন, সেটা ঘর সাজানোর জিনিস আর হাতের কাজের ব্যবসার লেখায় আছে।
আজই করে ফেলুন
- Etsy-র "Countries Eligible for Etsy Payments" পেজটা খুলে নিজে দেখুন বাংলাদেশ আছে কি না, আর আজকের তারিখসহ একটা স্ক্রিনশট রাখুন।
- Amazon Seller Central-এর "Countries accepted for seller registration" আর টাকা পাঠানোর দেশের পেজ দুটো খুলে একই কাজ করুন।
- নিজের ব্যাংকের কোন শাখায় ফরেন এক্সচেঞ্জ ডেস্ক আছে, খোঁজ নিন, আর জিজ্ঞেস করার প্রশ্নটা খাতায় লিখে রাখুন।
- আপনার সবচেয়ে ভালো জিনিসের একটা নমুনা প্যাক করে কাছের ডাকঘরে ওজন করিয়ে আমেরিকা আর যুক্তরাজ্যের খরচ জেনে নিন।
- ওপরের হিসাবটা নিজের জিনিসের খরচ দিয়ে আবার কষুন, শিপিং দামের মধ্যে ধরে আর না ধরে।
- পেজে একটা পোস্ট দিন, "প্রবাস থেকে দেশে পরিবারের জন্য অর্ডার নিই", আর দেখুন কয়জন সাড়া দেন।
সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশ থেকে কি Etsy-তে দোকান খোলা যায়?
২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Etsy-র হেল্প সেন্টারের "Countries Eligible for Etsy Payments" পেজে বাংলাদেশের নাম নেই। Etsy-র Payments Policy-তে (৩১ জুলাই ২০২৬-এর হালনাগাদ) লেখা, যেসব দেশ এখনো Etsy Payments-এর তালিকায় নেই, সেখান থেকে নতুন দোকান খোলা যাবে না। তাই বাংলাদেশের ঠিকানা আর ব্যাংক দিয়ে এখন Etsy-তে দোকান খোলার পথ নেই।
বাংলাদেশ থেকে Amazon-এ সেলার অ্যাকাউন্ট খোলা যায়?
খোলা যায়। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Amazon Seller Central-এর "Countries accepted for seller registration" পেজে বাংলাদেশের নাম আছে। শর্ত হলো তালিকার দেশের বাসিন্দা হওয়া, একটা চালু ফোন নম্বর আর আন্তর্জাতিকভাবে চার্জ করা যায় এমন ক্রেডিট কার্ড।
Amazon-এর টাকা বাংলাদেশের ব্যাংকে সরাসরি আসে?
১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Amazon-এর যে দেশগুলোর ব্যাংকে টাকা পাঠানো হয় তার তালিকায় বাংলাদেশ নেই। Amazon-এর পেজে লেখা, তখন Amazon-এর তালিকার অন্য কোনো দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, Hyperwallet বা অন্য তৃতীয় পক্ষের পেমেন্ট সার্ভিস লাগবে। সেখান থেকে টাকা দেশে আনতে হবে বৈধ পথে, ব্যাংকের মাধ্যমে।
আত্মীয়ের বিদেশের ঠিকানা দিয়ে Etsy খুললে সমস্যা কী?
Etsy Payments-এ যুক্ত হতে লাগে যোগ্য দেশে নিজের বসবাসের ঠিকানা আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর পরিচয় যাচাই হয়। অন্যের ঠিকানা বা অন্যের নাম দিলে যাচাইয়ে আটকে যাওয়ার আর অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে, আর টাকা আটকে গেলে সেটা ফেরত চাওয়ার মতো কাগজও আপনার হাতে থাকে না। তার ওপর আয়টা আপনার নামে দেশে আনা আর বৈধ দেখানোও কঠিন হয়ে যায়।
বিদেশে বিক্রির টাকা কতদিনের মধ্যে দেশে আনতে হয়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ জুলাই ২০২৬-এর FEPD-1 Circular No. 26-এ লেখা, রপ্তানির টাকা দেশে আনার নির্ধারিত সময় চার মাস। মার্কেটপ্লেসের ছোট রপ্তানিতেও টাকা এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেল বা বৈধ ডিজিটাল পেমেন্টে আনতে হয়। নিজের ক্ষেত্রে কী কাগজ লাগবে, নিজের ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।
Etsy বা Amazon ছাড়া বিদেশি কাস্টমারের কাছে বেচার সহজ পথ কী?
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে নিজের পেজ আর ওয়েবসাইট থেকে বেচা। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা পরিবারের জন্য কেনেন, তখন টাকা দেন দেশের মানুষ আর ডেলিভারিও দেশে। বিদেশেই পাঠাতে হলে পুরো টাকা আগে বৈধ পথে নিন, আর ডাক বা এক্সপ্রেস কুরিয়ারের খরচ ওজন করিয়ে জেনে নিন।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


