পাইকারি ঘড়ির মার্কেট কোথায়? পেজ আর লাভ না হারিয়ে ঘড়ির ব্যবসা
পাটুয়াটুলীর ঘড়ির পাইকারি মার্কেট কোথায়, কবে বন্ধ, আর মাল তোলার আগে কী জেনে যাবেন। মাস্টার কপি বেচলে পেজ আর আইনের ঝুঁকি, স্মার্টওয়াচের লট টেস্ট, যে ওয়ারেন্টি সত্যিই রাখতে পারবেন, আর একটা ঘড়িতে আসলে কত থাকে, টাকার হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- অনলাইনে কোন ঘড়ি চলে, কোনটা ঝামেলা?
- পাইকারি ঘড়ির মার্কেট কোথায়, ঢাকা আর চট্টগ্রাম
- "মাস্টার কপি" ঘড়ি বেচলে কী হয়?
- স্মার্টওয়াচের লট কেনার আগে কী টেস্ট করবেন?
- ওয়ারেন্টি কতদিন দেবেন, কীভাবে লিখবেন?
- ঘড়ির ছবি আর ভিডিওতে কী দেখাবেন?
- দামি ঘড়ির পার্সেল ফেরত এলে কত যায়, ঠেকাবেন কীভাবে?
- একটা ঘড়িতে আসলে কত থাকে? (টাকার উদাহরণ)
ধরুন বৃহস্পতিবার দুপুর। আপনি পুরান ঢাকার একটা সরু গলির দোকানে বসে আছেন, সামনে কাচের ট্রেতে সারি সারি ঘড়ি, আর দোকানদার একটার পর একটা বের করে বলছেন, "এইটা নেন ভাই, অনলাইনে এইটাই চলে।" এই এলাকাটাই পাটুয়াটুলী, পাইকারি ঘড়ির মার্কেট খুঁজলে ঢাকায় সবার আগে যে নামটা আসে। The Business Standard ২০২১ সালের অক্টোবরে লিখেছে, ইসলামপুর রোডের এই এলাকায় ১০টা মার্কেটে ৭০০ থেকে ৮০০ ঘড়ির ব্যবসায়ী আছেন। সামনের দোকানগুলো খুচরা বেচে, ভেতরের দোকানগুলো মূলত পাইকারি, আর শুক্রবার পুরো এলাকাটা বন্ধ থাকে।
এবার দোকানদার আপনার হাতে দিলেন একটা ঝকঝকে ঘড়ি, ডায়ালে নামী এক ব্র্যান্ডের লোগো। দাম শুনে মনটা খুশি হয়ে গেল, কারণ লাভ তো দারুণ দেখাচ্ছে। ঠিক এই মুহূর্তে কোন ঘড়িটা তুলবেন, ছয় মাস পরে আপনার পেজ থাকবে কি না সেটা অনেকটা তার ওপর নির্ভর করে।
মার্কেট চেনাটা আসলে ঘড়ির ব্যবসার সবচেয়ে সহজ কাজ। অনলাইনে ঘড়ি বেচতে গিয়ে সেলাররা আটকান অন্য তিন জায়গায়। কেউ নামী ব্র্যান্ডের কপি বেচে পেজ হারান। কেউ নষ্ট স্মার্টওয়াচের ক্লেইম মেটাতে গিয়ে পুরো মাসের লাভ খুইয়ে ফেলেন। আর কারও দামি পার্সেল দুই সপ্তাহ ঘুরে দাগ নিয়ে ফেরত আসে। মাল তোলার আগে এই তিনটা ঝুঁকি, আর একটা ঘড়িতে আসলে কত টাকা থাকে, সেটা হিসাব ধরে ধরে নিচে বলছি।
অনলাইনে কোন ঘড়ি চলে, কোনটা ঝামেলা?
ফেসবুকে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে যাঁরা ঘড়ি বেচেন, তাঁদের বিক্রি সাধারণত কয়েকটা চেনা জিনিস থেকেই আসে। সবচেয়ে বেশি চলে ছেলেদের সাধারণ অ্যানালগ ঘড়ি, যেটা অফিসে আর বাইরে দুই জায়গাতেই পরা যায়। তারপর আসে কাপলদের জোড়া ঘড়ি, যেটা মানুষ মূলত উপহার দিতে কেনেন। আর আছে কম দামের স্মার্টওয়াচ, যেটা দিয়ে ফোন পকেটে রেখেই কল আর মেসেজ দেখা যায়।
এগুলো চলার কারণটা সহজ। পার্সেল ছোট আর হালকা বলে পাঠাতে ঝামেলা কম, আর ছবি দেখেই কাস্টমার বুঝে যান জিনিসটা কেমন। তার ওপর ঘড়ি উপহারের জিনিস, তাই বিশেষ কিছু দিনের আগে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। ভালোবাসা দিবস, ঈদ আর বিয়ের মৌসুমের আগে জোড়া ঘড়ি আর বক্সসহ সেটের অর্ডার সাধারণত বেশি আসে। এর দুই-তিন সপ্তাহ আগে মাল তুলে রাখলে অ্যাড চালানোর সময় হাতে স্টক থাকে, আর "স্টক শেষ" বলে কাস্টমার ফেরাতে হয় না।
কিছু ঘড়ি আবার শুরুতে এড়িয়ে চলাই ভালো। পনেরো-বিশ হাজার টাকার আসল ব্র্যান্ডের ঘড়ি মানুষ সাধারণত শোরুম বা অনুমোদিত দোকান থেকে কেনেন। একটা নতুন ফেসবুক পেজকে অত টাকা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে দিতে কেউ সহজে ভরসা পান না, আর ঘড়িটা যে আসল সেটা আপনি প্রমাণও করতে পারবেন না। বড় দেয়াল ঘড়িও ঝামেলার জিনিস। বক্স বড় হয়, গ্লাস ভাঙার ভয় থাকে, আর পার্সেল বড় হলে কুরিয়ার চার্জও বেশি পড়ে। সবচেয়ে বড় ঝামেলাটা অবশ্য নামী ব্র্যান্ডের লোগো বসানো কপি ঘড়ি, সেটা নিয়ে একটু পরে আলাদা করে বলছি।
শুরুতে একটা ধরন বেছে নিন, ধরুন শুধু ছেলেদের অ্যানালগ ঘড়ি। একসাথে অ্যানালগ, স্মার্টওয়াচ আর দেয়াল ঘড়ি তুললে অল্প পুঁজি তিন জায়গায় আটকে যায়। তখন কোনটা আসলে চলছে, সেটা বুঝতেই এক-দুই মাস চলে যায়।
পাইকারি ঘড়ির মার্কেট কোথায়, ঢাকা আর চট্টগ্রাম
ঢাকায় হাতঘড়ি আর দেয়াল ঘড়ির পাইকারির মূল জায়গা পাটুয়াটুলী। The Business Standard-এর ২৪ অক্টোবর ২০২১-এর রিপোর্ট বলছে, ইসলামপুর রোডে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের পাশ দিয়ে এই মার্কেটগুলোতে ঢোকা যায়। একই রিপোর্টে আছে, এখানে হাতঘড়ির দাম ৫০ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, আর বেশিরভাগ ঘড়ি আসে চীন থেকে, তারপর ভারত আর জাপান থেকে। মানে সস্তা থেকে দামি, প্রায় সব রকম মাল আপনি এক এলাকাতেই পাবেন।
যাওয়ার আগে বন্ধের দিনটা মিলিয়ে নিন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর আর অক্টোবরে desh.tv আর Star News শুক্রবারের বন্ধ এলাকার যে লিস্ট দিয়েছে, তাতে পাটুয়াটুলীর নাম আছে। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে যান, আর পারলে সকালের দিকে যান। দুপুরের ভিড়ে দোকানদার তাড়াহুড়া করেন, তখন আপনি ঠিকমতো প্রশ্নই করতে পারবেন না।
প্রথম দিন কিনতে যাবেন না, দাম জানতে যাবেন। তিন-চারটা দোকানে একই ধরনের ঘড়ির দাম জিজ্ঞেস করুন, আর প্রতিটা দোকানে তিনটা কথা জেনে নিন। পাইকারি দামে পেতে কমপক্ষে কয় পিস নিতে হয়, ডজন ধরে নিলে দাম কত কমে, আর নষ্ট পিস কত দিনের মধ্যে বদলে দেন। শেষের উত্তরটা মেমোতে লিখিয়ে নেবেন, কারণ পরে আপনার ওয়ারেন্টির পুরো হিসাব এর ওপরই দাঁড়াবে।

স্মার্টওয়াচ সাধারণত মোবাইল আর গ্যাজেটের দোকানে পাওয়া যায়। ঢাকায় সেলারদের মুখে গ্যাজেটের পাইকারির জন্য গুলিস্তান আর মোতালেব প্লাজার নাম বেশি শোনা যায়। তবে স্মার্টওয়াচের আলাদা কোনো পাইকারি বাজার নিয়ে তারিখসহ কোনো রিপোর্ট আমরা পাইনি। তাই কোনো দোকানের নাম জোর দিয়ে বলছি না, যাওয়ার আগে ফোনে একবার খোঁজ নিয়ে যান।
চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি আর খুচরা বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার। প্রথম আলো ১৫ জুন ২০২৫-এ লিখেছে, সেখানে ইলেকট্রনিকস আর মোবাইলের দোকানও আছে। কিন্তু চট্টগ্রামে ঘড়ির আলাদা পাইকারি অংশ নিয়ে তারিখসহ কোনো রিপোর্ট আমরা খুঁজে পাইনি। চট্টগ্রামের সেলার হলে আগে স্থানীয় দোকানে খোঁজ নিন। নয়তো একবার ঢাকায় এসে পাটুয়াটুলীর একজন পাইকারের সাথে পরিচয় করে যান। পরিচয়টা হয়ে গেলে পরের লটগুলো ফোনে অর্ডার দিয়ে কুরিয়ারে আনানো যায়, প্রতিবার বাসভাড়া দিয়ে ঢাকায় আসতে হয় না।
"মাস্টার কপি" ঘড়ি বেচলে কী হয়?
পেজ খোলার কয়েক দিনের মধ্যেই ইনবক্সে এই প্রশ্নটা আসবে, "ভাই, অমুক ব্র্যান্ডের মাস্টার কপি আছে?" তখন একটু লোভ লাগাটা খুব স্বাভাবিক। মাস্টার কপি মানে নামী কোনো ব্র্যান্ডের নাম আর লোগো বসিয়ে বানানো নকল ঘড়ি, দেখতে আসলের মতো কিন্তু দাম অনেক কম। পাইকারি বাজারে এগুলো খোলাখুলিই বিক্রি হয়। New Age ১০ জানুয়ারি ২০২৬-এ পাটুয়াটুলী নিয়ে লিখেছে, সেখানে নামী ব্র্যান্ডের রেপ্লিকা ঘড়ি ৫০০ থেকে ৩০,০০০ টাকায় বিক্রি হয়, আর মাল আসে চীনের গুয়াংজু থেকে। দোকানে খোলাখুলি বিক্রি হচ্ছে দেখে অনেকে ভাবেন, অনলাইনে বেচলেও সমস্যা নেই। সবচেয়ে বড় ভুলটা এখানেই হয়।
ঝামেলাটা প্রথমে আসে ফেসবুকের দিক থেকে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র Advertising Standards-এ লেখা আছে, অন্য কোম্পানির প্রোডাক্টের নাম, লোগো বা চোখে পড়ার মতো ডিজাইন নকল করে আসলের মতো বানানো জিনিসের প্রচার বা বিক্রির অ্যাড চলবে না। Meta-র Community Standards-এ আরও আছে, নকল মাল বেচার পোস্ট ওরা সরিয়ে দেয়, আর যে অ্যাকাউন্ট বারবার এই নিয়ম ভাঙে তাকে বন্ধ বা সীমিত করে দেয়। মানে একটা অ্যাড রিজেক্ট হয়েই গল্প শেষ হয় না। ব্র্যান্ডের লোক রিপোর্ট করতে থাকলে পুরো পেজটাই বিপদে পড়ে। পেজ আটকে গেলে কী করবেন, সেটা পেজ রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার লেখায় ধাপে ধাপে আছে। কিন্তু দুই বছর ধরে গড়া একটা পেজ নিয়ে ওই দৌড়ঝাঁপে না পড়াই ভালো।
এরপর আছে আইন। bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ৭২ আর ৭৩ ধারায় লেখা আছে, মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো জিনিসে বা তার মোড়কে কারও ট্রেডমার্ক বা তার মতো দেখতে মার্ক বসানো অপরাধ। ৭৪ ধারাটা আলাদা করে মিথ্যা ট্রেডমার্কের মাল বিক্রির সাজা নিয়ে। ৭৩ আর ৭৪ ধারায় সাজা লেখা আছে ছয় মাস থেকে দুই বছর জেল, অথবা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই। একই দোষ আবার করলে এক থেকে তিন বছর জেল, অথবা এক থেকে তিন লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই। এটা আইনে যা লেখা আছে তাই, কারও মামলায় শেষে কী হবে সেটা আদালত ঠিক করে। আমরা আইনি পরামর্শ দিচ্ছি না, শুধু ঝুঁকিটা কত বড় সেটা দেখাচ্ছি।
শেষে আসেন কাস্টমার নিজেই। যিনি "মাস্টার কপি" জেনেই কিনেছেন, তিন মাস পরে লোগো উঠে গেলে বা চেইন কালো হয়ে গেলে তিনিও রাগ করে কমেন্টে লেখেন। তখন সেই রাগের কমেন্টটা আপনার পেজের নিচে নতুন কাস্টমাররাও পড়েন।
তাহলে কী বেচবেন? এমন ঘড়ি বেচুন, যার ডায়ালে কোনো নামী ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো নেই, অথবা যে ব্র্যান্ড নিজের নামেই বাজারে আসে। পোস্ট আর ডেসক্রিপশনে ঘড়িটাকে তার নিজের পরিচয়ে বলুন, ডায়ালের সাইজ, স্ট্র্যাপ আর রং দিয়ে। এতে হয়তো প্রথম মাসে বিক্রি একটু কম হবে, মনও একটু খারাপ লাগবে। কিন্তু পেজটা থাকবে, আর এক বছর পরে ওই পেজটাই আপনার সবচেয়ে বড় পুঁজি।
ঘড়ির নিজের গুণ দিয়ে বেচতে শিখলে কপির দরকারই পড়ে না। পরের অংশগুলো সেই কাজের জন্যই।
স্মার্টওয়াচের লট কেনার আগে কী টেস্ট করবেন?
স্মার্টওয়াচে টাকার অঙ্কে লাভ বেশি দেখায়, কিন্তু ঝুঁকিও বেশি। এটা চলে ব্যাটারি, স্ক্রিন, ব্লুটুথ আর একটা অ্যাপ মিলে, আর এর যেকোনো একটা গোলমাল করলেই কাস্টমার ফেরত পাঠান। তাই একসাথে বিশ-ত্রিশ পিস তোলার আগে দুই পিস কিনে নিজে তিন দিন হাতে পরে দেখুন। এই তিন দিনে নিচের জিনিসগুলো মিলিয়ে নিন।
- ফুল চার্জে আসলে কত দিন চলে, আর বক্সে যা লেখা তার সাথে মেলে কি না।
- বক্সে যে অ্যাপের নাম লেখা, সেটা Play Store আর App Store-এ আছে কি না, আর Android আর iPhone দুটোতেই ঘড়িটা কানেক্ট হয় কি না।
- মেসেজের নোটিফিকেশনে বাংলা লেখা ঠিকমতো দেখায় কি না।
- কল ফিচার থাকলে ঘড়ি থেকে কথা বললে দুই দিকে আওয়াজ কেমন শোনা যায়।
- চার্জার ঠিকমতো লাগে কি না, আর স্ট্র্যাপের পিন সহজে খুলে যায় কি না।
যেটা মেলে না, সেটা হয় পোস্টে সোজা করে লিখে দিন, নয়তো ওই মডেলটা তুলবেন না। ধরুন বাংলা নোটিফিকেশন ঠিকমতো দেখায় না। এটা আগে লিখে দিলে কয়েকটা অর্ডার হয়তো কম আসবে, কিন্তু যিনি নেবেন তিনি জেনেই নেবেন, দরজা থেকে ফেরত পাঠাবেন না। আরেকটা কথা মাথায় রাখবেন। ঘড়ির স্টেপ বা হার্ট রেটের সংখ্যা ডাক্তারি মাপ না, তাই পোস্টে কখনো লিখবেন না যে এটা দিয়ে রোগ ধরা যায় বা প্রেশার মাপা যায়।

লট কেনার দিনেও দোকানে বসে কিছু কাজ সেরে নিন। এলোমেলোভাবে কয়েকটা বক্স খুলে ঘড়ি চালু করে দেখুন, আর প্রতিটা বক্সে চার্জার আর ম্যানুয়াল আছে কি না মিলিয়ে নিন। নষ্ট পিস কত দিনের মধ্যে বদলে দেবেন, পাইকারকে আরেকবার জিজ্ঞেস করুন, আর উত্তরটা মেমোতে লিখিয়ে নিন। দোকানে বসে দশ মিনিট লাগবে, কিন্তু পরে অনেকগুলো ঝগড়া বাঁচবে।
অ্যানালগ ঘড়িতে কাজ কম, তবু কয়েকটা জিনিস দেখে নেবেন। সময় মিলিয়ে রেখে পরদিন দেখুন ঘড়িটা আগে বা পিছে যায় কি না। পাশের চাবিটা ঘুরিয়ে দেখুন ঠিকমতো ঘোরে আর জায়গায় বসে কি না। গ্লাসে দাগ আছে কি না আর বক্সের কোণা ভাঙা কি না, সেটাও দেখুন। উপহারের জিনিসে বক্স দুমড়ানো থাকলেই কাস্টমারের মন খারাপ হয়ে যায়।
ওয়ারেন্টি কতদিন দেবেন, কীভাবে লিখবেন?
নিয়মটা একটাই। আপনার পাইকার যত দিন নষ্ট পিস বদলে দেন, তার চেয়ে লম্বা ওয়ারেন্টি লিখবেন না। পাইকার এক মাস বদলে দিলে আর আপনি ছয় মাস লিখলে বাকি পাঁচ মাসের প্রতিটা ক্লেইম আপনার নিজের টাকায় মেটাতে হবে। পাটুয়াটুলী বা গ্যাজেটের পাইকারি দোকান থেকে কেনা ঘড়িতে সাধারণত ব্র্যান্ডের কোনো অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি থাকে না, তাই যা লিখবেন তার পুরো দায় আপনার দোকানের।
মেয়াদের সাথে এটাও লিখে দিন কী ওয়ারেন্টিতে পড়বে আর কী পড়বে না। ঘড়ির মেশিন নষ্ট হওয়া বা স্মার্টওয়াচ চার্জ না নেওয়া ওয়ারেন্টিতে পড়তে পারে। কিন্তু গ্লাস ভাঙা, স্ট্র্যাপ ছেঁড়া বা পানি ঢুকে নষ্ট হওয়া সাধারণত পড়ে না। এটা আগে থেকে লেখা থাকলে পরে কাস্টমারের সাথে তর্ক হয় না। ওয়ারেন্টি কার্ডে কী থাকবে, নষ্ট জিনিস ফেরত আনার কুরিয়ার চার্জ কে দেবে, এসব খুঁটিনাটি ওয়ারেন্টি আর গ্যারান্টির লেখায় বিস্তারিত আছে।
ঘড়ির ছবি আর ভিডিওতে কী দেখাবেন?
ঘড়ির পার্সেল ফেরত আসার একটা চেনা কারণ কাস্টমারের এই এক লাইন, "ছবিতে যেমন দেখছিলাম, হাতে তো তেমন না।" কাছ থেকে তোলা ছবিতে ছোট ডায়ালও বড় দেখায়। পার্সেল খুলে কাস্টমার দেখেন ঘড়িটা তাঁর কবজিতে খুব ছোট বা খুব বড়, আর তখনই ডেলিভারি ম্যানের হাতে ফেরত দিয়ে দেন। এটা ঠেকানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ঘড়িটা একজন মানুষের হাতে পরিয়ে ছবি তোলা।
প্রতিটা ঘড়ির অন্তত পাঁচটা ছবি তুলে রাখুন। সামনে থেকে পুরো ডায়ালের একটা ছবি নিন, তারপর কবজিতে পরিয়ে একটা। পাশ থেকে একটা তুলুন, যাতে কাস্টমার বোঝেন ঘড়িটা কতটা মোটা। পেছনের অংশটাও দেখান, আর শেষে বক্সে যা যা যাবে সব একসাথে সাজিয়ে একটা ছবি নিন। ডেসক্রিপশনে ডায়ালের মাপ মিলিমিটারে লিখুন, আর স্ট্র্যাপ চামড়ার, চেইনের না রাবারের সেটাও লিখুন। স্মার্টওয়াচ হলে স্ক্রিন চালু অবস্থায় ছবি দিন, যেন কাস্টমার আসল ডিসপ্লেটা দেখেন।

চকচকে ঘড়ির ছবি তোলা একটু কঠিন, কারণ গ্লাস আর স্টিলে আয়নার মতো চারপাশের সব দেখা যায়, এমনকি আপনার ফোনটাও। ক্যামেরা একদম সোজা না ধরে একটু কাত করে ধরুন, আর ঘড়ির চারপাশে সাদা কাগজ রাখুন। জানালার আলো, সাদা কাগজ আর ফোনের সেটিং নিয়ে পুরো নিয়ম মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় আছে।
ছবির চেয়েও বেশি কাজ করে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও। ঘড়িটা হাতে পরছেন, আলোতে একটু ঘোরাচ্ছেন, সেকেন্ডের কাঁটা চলছে, এটুকুই যথেষ্ট। স্মার্টওয়াচে দেখান ফোনে মেসেজ এলে ঘড়িতে কীভাবে ভেসে ওঠে। ভিডিওতে কাস্টমার যা নিজের চোখে দেখেছেন, সেটা নিয়ে পরে তর্ক করার কিছু থাকে না।
WinningSeller-এ ল্যান্ডিং পেজে YouTube ভিডিও বসানো যায়। কাস্টমার ভিডিওতে চাপ দিলে সেটা পেজের ভেতরেই চলে, তাই তিনি অর্ডার ফর্ম ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান না। AI দিয়ে একটা ল্যান্ডিং পেজ বানাতে মিনিট পাঁচেক লাগে, তারপর ছবি আর ভিডিও বদলে নিজের ঘড়ির মতো করে সাজিয়ে নেবেন।
দামি ঘড়ির পার্সেল ফেরত এলে কত যায়, ঠেকাবেন কীভাবে?
দুই সপ্তাহ পরে ফেরত আসা পার্সেলটা খুলে দেখলেন, বক্সের কোণা দুমড়ানো আর গ্লাসে সরু একটা দাগ। ঘড়ির ফেরত পার্সেলে শুধু কুরিয়ার চার্জ যায় না, এই ক্ষতিটাও হয়। ওই পিস তখন আর নতুন বলে বেচা যায় না, কম দামে ছেড়ে দিতে হয়। ঘড়ি যত দামি, এই লসও তত বড়। ২,৫০০ টাকার একটা স্মার্টওয়াচ দাগ নিয়ে ফিরলে চার্জের টাকার সাথে ঘড়ির দামের একটা অংশও চলে যায়।
তাই দামি পার্সেল পাঠানোর আগে দুটো কাজ করুন। আগে ফোনে অর্ডারটা কনফার্ম করুন, আর কথার মধ্যে একবার ডায়ালের মাপটা বলে দিন। যেমন বলতে পারেন, "ভাই, ঘড়িটার ডায়াল ৪২ মিলিমিটার, মানে মাঝারি সাইজ। আপনার হাতে মানাবে তো?" এরপর কাস্টমারের নম্বরটা কুরিয়ারের রেকর্ডে দেখে নিন। আগের পার্সেলগুলোর বেশিরভাগ যিনি রেখেছেন, তাঁকে নিশ্চিন্তে পাঠান। যাঁর রেকর্ডে ফেরতই বেশি, তাঁর কাছে ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম চান।
নিজের জন্য একটা সীমা ঠিক করে রাখুন, ধরুন ১,৫০০ টাকা। এর বেশি দামের ঘড়ি হলে, আর নম্বরের রেকর্ডে ফেরত বেশি থাকলে, অগ্রিম ছাড়া পাঠাবেন না। অঙ্কটা আপনার দাম আর ফেরতের হিসাব দেখে বদলে নিন। কিন্তু একটা সীমা আগে থেকে ঠিক থাকলে প্রতিটা অর্ডারে নতুন করে দোটানায় পড়তে হয় না।
প্যাকিংয়ে দশ-বিশ টাকা বাঁচাতে যাবেন না। ঘড়ির নিজের বক্সটা বাবল র্যাপে মুড়ে একটা শক্ত বক্সে ভরুন, শুধু পলিতে দেবেন না। কুরিয়ারের টার্মসে ক্ষতিপূরণের একটা সীমা থাকে, আর ভাঙা যায় এমন জিনিসে অনেক সময় কোনো টাকাই দেয় না। তাই পথে ভাঙলে লসটা আপনার, কুরিয়ারের না।

WinningSeller-এ কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট বা ফ্রড চেকের key কানেক্ট করে রাখলে নতুন অর্ডার এলে কাস্টমারের নম্বরের কুরিয়ার রেকর্ড নিজে থেকেই চেক হয়। আগে ঝামেলা করা নম্বর ব্লক লিস্টে রাখা যায়, আর একই নম্বর থেকে দুবার অর্ডার এলে সেটাও ধরা পড়ে। bKash বা SSLCommerz চালু করে নিলে শুধু ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নেওয়ার অপশনও আছে।
একটা ঘড়িতে আসলে কত থাকে? (টাকার উদাহরণ)
অনেকে কেনা দাম আর বেচার দামের ফারাককেই লাভ ভাবেন। ৪২০ টাকায় কিনে ৯৯০ টাকায় বেচলে মনে হয় প্রতিটায় ৫৭০ টাকা থাকছে। আসলে থাকে অনেক কম। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন আপনি ছেলেদের একটা অ্যানালগ ঘড়ি ৯৯০ টাকায় বেচেন, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। কিনতে পড়ে ৪২০ টাকা, বক্স আর বাবল র্যাপে যায় ৩৫ টাকা। একটা অর্ডার আনতে অ্যাডে যায় ১৫০ টাকা। এক সপ্তাহে ১০টা কনফার্ম করা অর্ডার পাঠালেন। ৮টা ডেলিভারি হলো, ২টা ফেরত এলো। ফেরত আসা দুটো ঘড়ি ভালো অবস্থায় ফিরে স্টকে উঠল, কিন্তু প্রতিটার ফেরত চার্জ ধরুন ১০০ টাকা দিতে হলো। আর ডেলিভারি হওয়া ৮টার একটা ওয়ারেন্টির মধ্যে নষ্ট হলো, পাইকার সেটা আর বদলে দিলেন না। কাস্টমারকে নতুন একটা ঘড়ি দিলেন, আর দুই দিকের কুরিয়ারে গেল ১৫০ টাকা।
| হিসাব | টাকা | কীভাবে এলো |
|---|---|---|
| ৮টা ঘড়ি বিক্রি | ৭,৯২০ | ৮ × ৯৯০ |
| ৮টা ঘড়ির কেনা দাম | − ৩,৩৬০ | ৮ × ৪২০ |
| ১০টা পার্সেলের বক্স আর বাবল র্যাপ | − ৩৫০ | ১০ × ৩৫ |
| ১০টা অর্ডারের অ্যাড | − ১,৫০০ | ১০ × ১৫০ |
| ২টা ফেরতের চার্জ | − ২০০ | ২ × ১০০ |
| ১টা ওয়ারেন্টি ক্লেইম | − ৫৭০ | নতুন ঘড়ি ৪২০ + কুরিয়ার ১৫০ |
| হাতে থাকল | ১,৯৪০ |
১,৯৪০ টাকা ৮টা ডেলিভারিতে ভাগ করলে প্রতিটায় থাকে প্রায় ২৪০ টাকা। ৫৭০ ভেবে শুরু করেছিলেন, থাকল তার অর্ধেকেরও কম। প্রথমবার এই অঙ্কটা দেখলে একটু ধাক্কা লাগে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু হিসাবটা জানা থাকলেই বুঝবেন কোথায় হাত দিলে লাভ বাড়ে।

এই হিসাবে সবচেয়ে বড় খরচ অ্যাড। একটা অর্ডারের অ্যাড খরচ ১৫০ থেকে ১০০ টাকায় নামাতে পারলে এই দশ অর্ডারেই আরও ৫০০ টাকা থাকে। তার পরেই আসে ফেরত আর ওয়ারেন্টি। কবজিতে পরা ছবি আর ডায়ালের মাপ দিয়ে একটা ফেরত কমালেও লাভ বাড়ে। আর পাইকারের সাথে বদলের শর্ত লিখিয়ে নিলে ওয়ারেন্টির ৫৭০ টাকাও আর আপনার ঘাড়ে পড়ে না।
স্মার্টওয়াচে হিসাবটা আরও ধারালো। ধরুন ১,১৫০ টাকায় কিনে ১,৯৫০-এ বেচেন। দেখে মনে হয় প্রতিটায় ৮০০ টাকা। কিন্তু দশটার মধ্যে দুটো ক্লেইম এলে আর পাইকার না বদলালে, দুটো নতুন ঘড়ি আর কুরিয়ার মিলে ২ × (১,১৫০ + ১৫০) = ২,৬০০ টাকা চলে যায়। এজন্যই স্মার্টওয়াচে লট তোলার আগের টেস্ট আর পাইকারের বদলের শর্ত, এই দুটো অ্যানালগের চেয়েও বেশি জরুরি।
এই হিসাব প্রতি সপ্তাহে খাতায় করা যায়। WinningSeller-এ অ্যাডের খরচ লিখে রাখলে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকেই লাভ-ক্ষতির হিসাব দেখায়, ফেরত আসা অর্ডারকে বিক্রি হিসেবে গোনে না। আর কী কী আছে, সেটা ফিচারের পেজে একবার দেখে নিতে পারেন।
এই সপ্তাহে একটা কাজ দিয়ে শুরু করুন। পাটুয়াটুলীতে গিয়ে তিন-চারটা দোকানে দাম আর বদলের শর্ত জেনে আসুন, কিছু না কিনেই। তারপর বাসায় বসে একটা ঘড়ির জন্য ওপরের টেবিলটা নিজের দাম দিয়ে ভরুন। হিসাবে যদি প্রতি ঘড়িতে আপনার মনের মতো টাকা থাকে, তখন প্রথম লটটা তুলুন। লটটা ছোট হোক, কিন্তু তাতে যেন একটা ঘড়ির ডায়ালেও অন্যের নাম না থাকে।
সাধারণ প্রশ্ন
ঘড়ির পাইকারি মার্কেট কোথায়?
ঢাকায় সবচেয়ে বড় নাম পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী, ইসলামপুর রোডে। The Business Standard ২০২১ সালের অক্টোবরে লিখেছে, সেখানে ১০টা মার্কেটে ৭০০ থেকে ৮০০ ঘড়ির ব্যবসায়ী আছেন। সামনের দোকানগুলো খুচরা বেচে, ভেতরের দোকানগুলো মূলত পাইকারি।
পাটুয়াটুলী ঘড়ির মার্কেট কবে বন্ধ থাকে?
শুক্রবার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর আর অক্টোবরে desh.tv আর Star News শুক্রবারের বন্ধ এলাকার যে লিস্ট দিয়েছে, তাতে পাটুয়াটুলীর নাম আছে। ঈদের আগে বা বিশেষ সময়ে নিয়ম বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে পাইকারকে একবার ফোন দিয়ে নিন।
অনলাইনে মাস্টার কপি ঘড়ি বিক্রি করা কি বৈধ?
না। ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ৭৩ ধারায় মালিকের অনুমতি ছাড়া কারও ট্রেডমার্ক বা তার মতো মার্ক বসানো অপরাধ, আর সাজা লেখা আছে ছয় মাস থেকে দুই বছর জেল বা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, বা দুটোই। Meta-র অ্যাডের নিয়মেও কপি বা রেপ্লিকার অ্যাড চলে না, আর বারবার ধরা পড়লে অ্যাকাউন্ট বা পেজ আটকে যেতে পারে।
ঘড়ির ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?
নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নেই, নির্ভর করে কোন ঘড়ি আর কয় পিস নিয়ে শুরু করছেন তার ওপর। একটা উদাহরণ ধরুন, ৪২০ টাকার ঘড়ির ৩টা ডিজাইন ১০ পিস করে নিলে মাল কিনতে লাগে ১২,৬০০ টাকা। এর সাথে বক্স-প্যাকেট আর প্রথম কয়েক সপ্তাহের অ্যাডের বাজেট আলাদা করে রাখুন।
স্মার্টওয়াচে কত দিনের ওয়ারেন্টি দেওয়া উচিত?
আপনার সাপ্লায়ার যত দিন নষ্ট পিস বদলে দেন, তার চেয়ে বেশি না। সাপ্লায়ার এক মাস বদলে দিলে আপনি ছয় মাসের ওয়ারেন্টি লিখলে বাকি পাঁচ মাসের প্রতিটা ক্লেইমের টাকা আপনার পকেট থেকে যাবে। মেয়াদের সাথে লিখে দিন কী কী ওয়ারেন্টিতে পড়ে আর কী পড়ে না।
ঘড়ি কুরিয়ারে পাঠালে কি ভেঙে যায়?
শুধু পলিতে পাঠালে গ্লাস ফাটার আর বক্স দুমড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঘড়ির নিজের বক্সটা বাবল র্যাপে মুড়ে একটা শক্ত বক্সে ভরে পাঠান। আর পাঠানোর আগে আপনার কুরিয়ারের টার্মসে দেখে নিন ভাঙা যায় এমন জিনিস ক্ষতি হলে ওরা কতটা দেয়, কারণ অনেক সময় কিছুই দেয় না।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


