WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৫ মিনিটে পড়া যায়

গুগল ম্যাপে দোকান নেই? গুগল বিজনেস প্রোফাইল কারা পায়, খুলবেন কীভাবে

শুধু ফেসবুকে বেচলে কি গুগল ম্যাপে দোকান আসে? Google-এর নিজের নিয়মে কারা গুগল বিজনেস প্রোফাইল পায় আর কারা পায় না, দোকান থাকলে কীভাবে খুলবেন আর ভিডিওতে ভেরিফাই করবেন, আর প্রোফাইল না পেলে গুগলে নিজের শপ আনার রাস্তা।

গুগল ম্যাপে দোকান নেই? গুগল বিজনেস প্রোফাইল কারা পায়, খুলবেন কীভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. গুগল বিজনেস প্রোফাইল কি, কারা পায় আর কারা পায় না?
  2. শুধু ফেসবুক পেজে বেচলে কি প্রোফাইল খোলা ঠিক?
  3. দোকান বা পিকআপ পয়েন্ট থাকলে প্রোফাইল খুলবেন কীভাবে?
  4. ঠিকানা লুকিয়ে সার্ভিস এরিয়া দেখানো যায় কখন?
  5. ভিডিও দিয়ে ভেরিফিকেশন করবেন কীভাবে?
  6. প্রোফাইলে নাম, ক্যাটাগরি, ছবি আর ওয়েবসাইটের ঘরে কী লিখবেন?
  7. গুগলে রিভিউ চাইবেন কীভাবে, আর কোন ভুলে প্রোফাইল বিপদে পড়ে?
  8. প্রোফাইল না পেলে গুগলে নিজের শপ আনবেন যেভাবে

ধরুন রাত দশটা বাজে। সারাদিন প্যাকিং আর কুরিয়ারের পেছনে দৌড়ে সবে একটু বসেছেন, তখন ইনবক্সে এক কাস্টমার লিখলেন, "ভাই, গুগল ম্যাপে আপনাদের দোকানটা খুঁজলাম, পেলাম না। আপনারা আসলেই আছেন তো?" পড়ে মনটা খচখচ করে। আপনি তো আছেন, রোজ পার্সেল যাচ্ছে, অথচ একজন মানুষ আপনাকে ভরসা করতে পারছেন না শুধু গুগলে নাম নেই বলে।

সোজা উত্তরটা আগে বলি। গুগল বিজনেস প্রোফাইল হলো Google-এর একটা ফ্রি প্রোফাইল, যেটা দিয়ে আপনার ব্যবসা গুগল সার্চ আর গুগল ম্যাপে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর আর রিভিউসহ দেখায়। কিন্তু Google-এর নিজের নিয়মে যে ব্যবসা শুধু অনলাইনে চলে, সেটা এই প্রোফাইল পায় না। প্রোফাইল পেতে হলে কাস্টমারের সাথে সামনাসামনি দেখা হতে হয়। হয় কাস্টমার আপনার দোকান, শোরুম বা পিকআপের জায়গায় আসবেন, নয়তো আপনি বা আপনার লোক নিজে কাস্টমারের কাছে যাবেন। এর একটাও না থাকলে প্রোফাইলের পেছনে না ছুটে নিজের ওয়েবসাইট দিয়ে গুগলে আসাটাই ঠিক রাস্তা।

নিচে Google-এর যত নিয়মের কথা বলেছি, সব ২০২৬ সালের অক্টোবরে Google Business Profile Help-এর পেজগুলোতে যা লেখা ছিল সেখান থেকে। Google এগুলো মাঝে মাঝে চেঞ্জ করে, তাই খোলার আগে একবার মিলিয়ে নেবেন।

গুগল বিজনেস প্রোফাইল কি, কারা পায় আর কারা পায় না?

গুগলে কোনো দোকানের নাম লিখে সার্চ দিলে মোবাইলে ওপরের দিকে, আর কম্পিউটারে ডান পাশে একটা বক্স আসে। তাতে দোকানের নাম, ম্যাপে লাল পিন, খোলার সময়, ফোন করার বাটন, ছবি আর তারা দিয়ে রিভিউ থাকে। এই বক্সটাই গুগল বিজনেস প্রোফাইল, আগে যেটাকে Google My Business বলা হতো। Google-এর "Get started with Google Business Profile" পেজে লেখা আছে, এটা দিয়ে ম্যাপ আর সার্চে ব্যবসা কেমন দেখাবে সেটা কোনো টাকা ছাড়াই চালানো যায়।

একটা মোবাইলের স্ক্রিনে গুগল ম্যাপ, একটা ছোট কাপড়ের দোকানের লাল পিন, নিচে দোকানের নাম, খোলার সময়, কল করার বাটন, কয়েকটা ছবি আর তারা দিয়ে রিভিউ দেখানো প্রোফাইলের কার্ড
দোকানের নাম লিখে খুঁজলে এই কার্ডটাই আসে, এটাই বিজনেস প্রোফাইল

কে পাবেন, সেটা Google ঠিক করে দিয়েছে তাদের "Business eligibility and ownership guidelines" পেজে। সেখানে প্রথম শর্তটাই হলো, ব্যবসাকে তার জানানো সময়ের মধ্যে কাস্টমারের সাথে সামনাসামনি দেখা করতে হবে। একই পেজে যাদের প্রোফাইল দেওয়া হয় না তাদের একটা লিস্ট আছে, আর তার মধ্যে পরিষ্কার লেখা "online-only businesses", মানে যে ব্যবসা শুধু অনলাইনে চলে। আর Google-এর মূল গাইডলাইনে লেখা, ভাড়া নেওয়া যে ঠিকানায় আসলে কোনো কাজ হয় না, মানে ভার্চুয়াল অফিস, সেটাও প্রোফাইল পায় না।

নিয়মটা কেন, সেটা বুঝলে মন খারাপ একটু কম হবে। গুগল ম্যাপের কাজ মানুষকে একটা জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। কেউ পিন দেখে রিকশা নিয়ে গিয়ে যদি দেখেন ওখানে কোনো দোকান নেই, তখন বদনামটা Google-এরও হয়। তাই যে ব্যবসায় কেউ গিয়ে দাঁড়াতে পারেন না, আর যে ব্যবসা নিজেও কারও দরজায় যায় না, তাকে Google ম্যাপে রাখতে চায় না।

আমাদের সেলারদের সাধারণ কয়েকটা অবস্থা Google-এর নিয়মের সাথে মিলিয়ে নিচে দিলাম। এটা নিয়ম পড়ে আমাদের বোঝা, শেষ কথা সবসময় Google-এর।

আপনার অবস্থা প্রোফাইল পাবেন? কেন
শুধু ফেসবুক পেজ, বাসা থেকে কুরিয়ারে সারা দেশে পাঠান না কাস্টমারের সাথে দেখা হয় না, এটা অনলাইন-অনলি ব্যবসা
সাইনবোর্ডসহ দোকান বা শোরুম, নির্দিষ্ট সময়ে কেউ বসে থাকেন হ্যাঁ, দোকান হিসেবে প্রোফাইল ঠিক এমন ব্যবসার জন্যই
বাসা বা গোডাউন থেকে কেউ কেউ এসে পার্সেল নেন, সাইনবোর্ড নেই দোকান হিসেবে না ঠিকানা দেখাতে হলে স্থায়ী সাইনবোর্ড আর বসে থাকার নির্দিষ্ট সময় লাগে
নিজের ডেলিভারি ম্যান দিয়ে শহরের কিছু এলাকায় হাতে হাতে দেন হতে পারে, সার্ভিস এরিয়া হিসেবে ঠিকানা লুকিয়ে এলাকা দেখাবেন, বাকিটা ভেরিফিকেশনে ঠিক হয়
অন্যের দোকান বা ভাড়া করা ঠিকানা দেখাতে চান না Google-এর চোখে এটা ভার্চুয়াল অফিস, প্রোফাইল বন্ধ হতে পারে

টেবিল থেকে নিজের লাইনটা খুঁজে নিন। প্রথম লাইনে পড়লে পরের অংশটা আপনার জন্য সবচেয়ে জরুরি।

শুধু ফেসবুক পেজে বেচলে কি প্রোফাইল খোলা ঠিক?

না, আর এখানে একটু শক্ত করেই বলছি। ফেসবুক গ্রুপে প্রায়ই পোস্ট দেখবেন, "গুগল ম্যাপে আপনার দোকান বসিয়ে দেব, ভেরিফাইসহ।" কেউ মামার দোকানের ঠিকানা দিতে বলেন, কেউ ম্যাপের যেকোনো জায়গায় একটা পিন বসিয়ে দেন। শুনতে লোভনীয় লাগে, কারণ ম্যাপে নাম থাকলে মানুষ ভরসা পায়। কিন্তু এটা Google-এর নিয়ম ভেঙে খোলা প্রোফাইল, আর এর দাম পরে দিতে হয়।

Google-এর গাইডলাইনে লেখা, সাইনবোর্ড, কাজের সময়ে কাস্টমার আর বসে থাকা নিজের লোক ছাড়া কো-ওয়ার্কিং অফিসের ঠিকানাও দেওয়া যাবে না। নিয়ম না মানলে তথ্য বদলে দেওয়া হতে পারে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে Google থেকে সরিয়েও দেওয়া হতে পারে। ভাবুন, ছয় মাস ধরে বিশটা রিভিউ জমালেন, তারপর একদিন প্রোফাইলটাই আর দেখা যায় না।

আরও খারাপটা হয় কাস্টমারের দিক থেকে। ধরুন মোহাম্মদপুরের একজন কাস্টমার ভাবলেন, দোকান তো কাছেই, নিজে গিয়ে দেখে কিনি। পিন ধরে গিয়ে দেখলেন ওখানে একটা ফার্মেসি। তিনি আর কোনোদিন আপনার পেজে অর্ডার দেবেন না, আর হয়তো ম্যাপেই একটা এক তারা রিভিউ লিখে আসবেন। ম্যাপে নাম না থাকার চেয়ে ভুল ঠিকানায় নাম থাকা অনেক বেশি ক্ষতির।

তাহলে শুধু অনলাইনে বেচা সেলার কী করবেন? মন খারাপ করার কিছু নেই। কাস্টমার যখন বলেন "গুগলে খুঁজে পেলাম না", তিনি আসলে জানতে চান আপনি সত্যিকারের মানুষ কি না, টাকা দিলে মাল পাবেন কি না। এই ভরসাটা ম্যাপের পিন ছাড়াও দেওয়া যায়, দোকানের নামে নিজের ওয়েবসাইট দিয়ে। কীভাবে, সেটা শেষের অংশে বলছি।

আর শোরুম খোলার প্ল্যান থাকলে প্রোফাইলটা খুলুন সাইনবোর্ড ঝোলানোর পরে, আগে না। ভেরিফিকেশনের সময় Google ঠিক ওই সাইনবোর্ডটাই দেখতে চাইবে।

দোকান বা পিকআপ পয়েন্ট থাকলে প্রোফাইল খুলবেন কীভাবে?

পিকআপ পয়েন্ট নিয়ে আগে একটা কথা পরিষ্কার করি। বাসার নিচে মাঝে মাঝে কেউ এসে পার্সেল নিয়ে গেলে সেটা Google-এর চোখে দোকান না। Google-এর গাইডলাইনে লেখা, যে ব্যবসা Google-এ ঠিকানা দেখায়, সেই ঠিকানায় ব্যবসার নামের একটা স্থায়ী সাইনবোর্ড থাকতে হবে। আর কাস্টমার আসার যে সময় লিখবেন, সেই সময়ে আপনার কেউ সেখানে থাকতে হবে। ছোট একটা দোকান, শোরুম বা অফিস, যেখানে সাইনবোর্ড আছে আর ধরুন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কেউ বসে থাকেন, সেটা পিকআপ পয়েন্ট হিসেবে চলবে।

ঢাকার একটা গলিতে ছোট একটা শোরুমের ওপরে স্থায়ী নীল সাইনবোর্ড, কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একজন তরুণ সেলার একজন পুরুষ কাস্টমারের হাতে প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন
সাইনবোর্ড আর বসে থাকার নির্দিষ্ট সময়, পিকআপ পয়েন্টে এই দুটোই লাগে

এবার ধাপগুলো। Google-এর "Add or claim your Business Profile" পেজে যে ক্রমে লেখা, সেভাবেই সাজালাম, সাথে প্রতিটা কেন করবেন।

  1. দোকানের নামে আলাদা একটা Google Account খুলুন, পাসওয়ার্ড থাকবে আপনার কাছে। নিজের পার্সোনাল Gmail বা কোনো স্টাফের অ্যাকাউন্ট দিয়ে খুলবেন না। স্টাফ চাকরি ছেড়ে গেলে বা পুরনো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হারালে প্রোফাইলটাও হাত থেকে চলে যায়।
  2. গুগল ম্যাপে দোকানের নাম আর এলাকা লিখে খুঁজে দেখুন, প্রোফাইল আগে থেকেই আছে কি না। পেলে প্রোফাইলে "Claim this business" থেকে "Manage now" চাপুন। নতুন করে আরেকটা খুলবেন না, কারণ Google এক জায়গার জন্য একটার বেশি প্রোফাইল রাখতে মানা করে।
  3. না পেলে ব্রাউজারে business.google.com/add খুলে "Add your business to Google" চাপুন।
  4. এবার ঘরগুলো ভরে ফেলুন। দোকানের নাম, ক্যাটাগরি, কাস্টমার আপনার জায়গায় আসেন কি না, ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ওয়েবসাইট চাইবে। কোন ঘরে কী লিখবেন, সেটা একটু পরে আলাদা করে বলছি।
  5. ম্যাপে পিনটা নিজের হাতে ঠিক জায়গায় বসান। আমাদের অনেক ঠিকানায় হোল্ডিং নম্বর ঠিকমতো থাকে না, তাই Google ঠিকানা খুঁজে না পেলে ম্যাপে নিজে পিন বসানোর অপশন রেখেছে। পিনটা দোকানের দরজার ওপর রাখুন, পাশের বড় রাস্তায় না।
  6. শেষে ভেরিফিকেশনের অপশন সিলেক্ট করুন। কোন অপশনগুলো আসবে, সেটা Google ঠিক করে। এটা নিয়ে নিচে আলাদা করে বলেছি।

পুরো কাজটা মোবাইল থেকেই করা যায়। তবে নাম আর ক্যাটাগরির ঘরে তাড়াহুড়া করবেন না। ভেরিফিকেশনের ভিডিওতে সাইনবোর্ডের নামের সাথে এই নাম মেলাতে হবে।

ঠিকানা লুকিয়ে সার্ভিস এরিয়া দেখানো যায় কখন?

Google দুই রকম ব্যবসার কথা বলে, যাদের দোকানের ঠিকানা ছাড়াও প্রোফাইল থাকতে পারে। Google-এর service area পেজে সার্ভিস এরিয়া বিজনেস মানে এমন ব্যবসা, যে কাস্টমারের কাছে নিজে যায় বা সরাসরি ডেলিভারি দেয়, কিন্তু নিজের ঠিকানায় কাস্টমারকে সার্ভিস দেয় না। আর হাইব্রিড ব্যবসা হলো যে দুটোই করে, যেমন যে রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া যায় আবার হোম ডেলিভারিও দেয়।

আমাদের সেলারদের মধ্যে কে এই দলে পড়েন? ধরুন আপনি মিরপুরে বাসা থেকে কেক বা ঘরের রান্না বিক্রি করেন, আর আপনার দুজন ডেলিভারি ম্যান বাইকে করে মিরপুর, পল্লবী আর কাফরুলে হাতে হাতে পৌঁছে দেন। এখানে আপনার লোক নিজে কাস্টমারের দরজায় যাচ্ছে, তাই সার্ভিস এরিয়া হিসেবে প্রোফাইল চাওয়ার যুক্তি আছে। কিন্তু সব অর্ডার যদি Steadfast বা Pathao দিয়ে সারা দেশে যায়, তাহলে দরজায় যাচ্ছে কুরিয়ার, আপনি না। Google-এর লেখা পড়ে আমাদের মনে হয়, এমন ব্যবসা সার্ভিস এরিয়ার মধ্যে পড়ে না। শেষ সিদ্ধান্তটা ভেরিফিকেশনে Google-ই নেবে।

Google-এর একই পেজে লেখা, সার্ভিস এরিয়া দিতে হয় শহর, পোস্টাল কোড বা এলাকার নাম ধরে, সর্বোচ্চ ২০টা। আর পুরো এলাকাটা ব্যবসা যেখান থেকে চলে সেখান থেকে মোটামুটি ২ ঘণ্টার গাড়ির রাস্তার বেশি হওয়া উচিত না। মানে "সারা বাংলাদেশ" লিখে সার্ভিস এরিয়া দেওয়ার কোনো রাস্তাই নেই।

ঢাকার একটা ম্যাপে মিরপুর, পল্লবী আর কাফরুল এলাকা নীল রঙে দাগানো, মাঝে কোনো ঠিকানার পিন নেই, এক কোণে একজন তরুণ ডেলিভারি ম্যান বাইকে পার্সেল নিয়ে দাঁড়িয়ে
ঠিকানা লুকানো, শুধু যে এলাকায় নিজে পৌঁছে দেন সেটুকু দেখানো

সার্ভিস এরিয়া হলে ঠিকানাটা লুকিয়ে রাখতে হবে, এটা Google-এর গাইডলাইনেই পরিষ্কার লেখা। এতে আপনার লাভও আছে। বাসার ঠিকানা সবাইকে দেখানোর দরকার নেই, আর কেউ ম্যাপ দেখে রাত নয়টায় বাসার দরজায় এসে দাঁড়াবেন না। পরে এলাকা বদলালে Google-এর পেজ বলছে, approve হলে নতুন এলাকা প্রোফাইলে দেখাতে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে।

ভিডিও দিয়ে ভেরিফিকেশন করবেন কীভাবে?

ভেরিফাই না হওয়া পর্যন্ত আপনি নাম বা খোলার সময় এডিট করতে পারবেন না, কাস্টমারের সাথে কথাও চালাতে পারবেন না। Google-এর "Verify your business on Google" পেজে লেখা, ভেরিফিকেশনের অপশন Google নিজে ঠিক করে, আপনি বদলাতে পারবেন না। ব্যবসার ধরন, এলাকা আর সময় দেখে ফোন বা SMS, ইমেইল, লাইভ ভিডিও কল, ভিডিও রেকর্ডিং বা ডাকে পোস্টকার্ড, এর যেকোনোটা আসতে পারে। ভিডিওর অপশন এলে Google নিজেই সেটা নিতে বলে।

ভিডিওর নিয়মগুলো কড়া। Google-এর ভিডিও ভেরিফিকেশন পেজে লেখা, ভিডিওটা হতে হবে লাইভ, কোনো কাট বা এডিট ছাড়া এক টানে রেকর্ড করা, অন্তত ৩০ সেকেন্ডের, আর মোবাইল থেকে প্রোফাইলের ভেতর দিয়েই রেকর্ড করে আপলোড করতে হবে। আগে রেকর্ড করে রাখা ভিডিও চলবে না। ভিডিওতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ট্যাক্স বা আইডি নম্বর দেখানো যাবে না, অন্য মানুষের মুখও না। তাই দোকানে কাস্টমার কম থাকে এমন সময়ে রেকর্ড করুন।

রেকর্ড চাপার আগে কাগজে লিখে নিন কোনটার পর কোনটা দেখাবেন। দোকান থাকলে Google দেখতে চায় আপনি কোথায়, দোকানটা যে সত্যিই আছে, আর আপনিই যে এটা চালান। এই তিনটা মাথায় রেখে একটা দোকানের ভিডিওর প্ল্যান এমন হতে পারে।

  • রাস্তার মোড় থেকে শুরু করুন। রাস্তার নামফলক, পাশের চেনা দোকান বা বিল্ডিংয়ের নম্বর দেখান, যাতে ম্যাপের পিনের সাথে জায়গাটা মেলে।
  • হেঁটে দোকানের সামনে আসুন, সাইনবোর্ডটা পরিষ্কার দেখান। সাইনবোর্ডের নাম আর প্রোফাইলের নাম এক হতে হবে, Google এটা আলাদা করে লিখে দিয়েছে।
  • চাবি দিয়ে শাটার বা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকুন। ক্যাশ বাক্স খুলুন, স্টকের তাক বা গোডাউনের ঘর দেখান, যেখানে শুধু দোকানের লোক যেতে পারে।
একজন তরুণ দোকানি মোবাইল হাতে নিজের দোকানের সাইনবোর্ডের দিকে ক্যামেরা ধরে ভিডিও করছেন, পেছনে রাস্তার নামফলক আর পাশের দোকানগুলো দেখা যাচ্ছে
রাস্তা থেকে সাইনবোর্ড, তারপর ভেতরে, এক টানে অন্তত ৩০ সেকেন্ড

সার্ভিস এরিয়া হলে ভিডিওর নিয়ম একটু আলাদা। Google বলে বাসা থেকে চালালে আশেপাশের রাস্তার সাইন আর চেনা জায়গা দেখাতে, কাজের জিনিসপত্র বা প্রোডাক্ট দেখাতে, আর ব্যবসার কাগজ, যেমন পারমিট, ইনভয়েস বা ইউটিলিটি বিল দেখাতে, যার নাম প্রোফাইলের নামের সাথে মেলে। আমাদের দেশে দোকানের নামে করা ট্রেড লাইসেন্স এই কাজে লাগতে পারে, যদি তাতে হুবহু একই নাম থাকে।

ভিডিও জমা দেওয়ার পরে Google দেখে। পেজে লেখা, এতে ৫ কাজের দিন পর্যন্ত লাগে, মাঝে মাঝে আরও বেশি। পোস্টকার্ড এলে নিয়ম অন্য। Google বলে বেশিরভাগ কোড ১৪ দিনের মধ্যে আসে, কোডের মেয়াদ ৩০ দিন, আর অপেক্ষার সময় নাম, ঠিকানা বা ক্যাটাগরি এডিট করলে পাঠানো কোডটা আর কাজ করে না। ভেরিফাই হয়ে গেলে Google একটা কনফার্মেশন ইমেইল পাঠায়। ওই ইমেইলটা যেদিন আসবে, সেদিন নিজেকে এক কাপ ভালো চা খাওয়াতেই পারেন, কাজটা সহজ ছিল না।

প্রোফাইলে নাম, ক্যাটাগরি, ছবি আর ওয়েবসাইটের ঘরে কী লিখবেন?

নাম দিয়েই শুরু করি, কারণ সবচেয়ে বেশি ভুল এখানেই হয়। Google-এর গাইডলাইনে লেখা, নাম হবে দোকানের আসল নাম, যেটা সাইনবোর্ডে, ওয়েবসাইটে আর কাগজপত্রে একইভাবে লেখা থাকে। নামের মধ্যে বাড়তি কথা ঢোকালে প্রোফাইল suspend হতে পারে, সেটাও লেখা আছে। মানে "Rupkotha Fashion" ঠিক আছে। কিন্তু "Rupkotha Fashion, Best Three Piece Shop in Dhaka" লিখলে, বা নামের শেষে ফোন নম্বর জুড়ে দিলে সেটা নিয়ম ভাঙা। অনেকে ভাবেন নামে কিওয়ার্ড দিলে সার্চে আগে আসবেন, অথচ Google ঠিক এটাকেই suspend হওয়ার কারণ হিসেবে লিখে রেখেছে।

ক্যাটাগরির বেলায় Google বলে, মূল ক্যাটাগরি হবে যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট, আর বাড়তি ক্যাটাগরি দেবেন অল্প কয়েকটা, প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য একটা করে না। নিজে নতুন ক্যাটাগরি বানানো যায় না, লিস্ট থেকেই সিলেক্ট করতে হয়। কাপড়ের দোকান হলে টাইপ করে কাপড়ের দোকানের সবচেয়ে কাছের নামটা নিন, আর জুতাও বেচলে সেটা বাড়তি ক্যাটাগরিতে দিন। ক্যাটাগরি দেখেই Google বোঝে কোন খোঁজে আপনাকে দেখাবে।

খোলার সময়ের ঘরে শুধু সেই সময়টা লিখুন, যখন সত্যিই কেউ দোকানে থাকেন। মনে রাখবেন, প্রোফাইল পাওয়ার শর্তই হলো জানানো সময়ে কাস্টমারের সাথে দেখা হওয়া। রাত ৯টা লিখে ৮টায় শাটার নামালে যিনি ৮টা ২০-এ এসে ফিরে গেলেন, তাঁর রিভিউটা কেমন হবে বুঝতেই পারছেন। ঈদের ছুটির মতো দিনের জন্য Google আলাদা করে বিশেষ সময় দেওয়ার অপশন রেখেছে, সেটা কাজে লাগান।

এবার ছবি। Google-এর ছবির নিয়মে ফাইল হবে JPG বা PNG, সাইজ ১০ KB থেকে ৫ MB, আর মাপ ৭২০ × ৭২০ পিক্সেল হলে ভালো, কমপক্ষে ২৫০ × ২৫০ লাগবেই। ছবি হবে ফোকাসে, ভালো আলোয় তোলা, ভারী ফিল্টার ছাড়া, কারণ ছবি দেখে মানুষ আসল জায়গাটা চিনবে। লোগো আর কভারের পরে সবচেয়ে কাজের ছবি হলো বাইরে থেকে সাইনবোর্ডসহ দোকানের একটা ছবি। যিনি প্রথমবার আসছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি ঠিক ওটাই খোঁজেন।

ল্যাপটপের স্ক্রিনে বিজনেস প্রোফাইল এডিটের নকশা, নামের ঘরে শুধু দোকানের নাম, ক্যাটাগরিতে কাপড়ের দোকান, ওয়েবসাইটের ঘরে দোকানের নিজের ডোমেইন, পাশে ভুল নাম আর ফেসবুক লিংক কেটে দেওয়া
নামের ঘরে শুধু নাম, আর ওয়েবসাইটের ঘরে নিজের ডোমেইন

শেষ ঘরটা ওয়েবসাইটের, আর এখানে বেশিরভাগ সেলার ফেসবুক পেজের লিংক বসিয়ে দেন। Google-এর গাইডলাইনে একটা লাইন আছে, এমন কোনো লিংক বা নম্বর দেবেন না যেটা মানুষকে আসল ব্যবসার বাইরের অন্য কোনো পেজে পাঠায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় বানানো পেজসহ। লাইনটা পড়লে ফেসবুক পেজের লিংক নিয়ে একটা খটকা থেকেই যায়। দোকানের নামে নিজের ডোমেইনের একটা ওয়েবসাইট দিলে সেই খটকা আর থাকে না। আর প্রোফাইল থেকে যিনি ওয়েবসাইটে এলেন, তিনি সেখানেই প্রোডাক্ট দেখে অর্ডার করতে পারেন, ইনবক্সে দাম জিজ্ঞেস করে বসে থাকতে হয় না। ডোমেইন কোথা থেকে আর কার নামে কিনবেন, সেটা ডোমেইন কেনার লেখায় ধাপে ধাপে আছে।

নিজের ডোমেইন থাকলে আরেকটা সুবিধাও আছে। Google-এর ভেরিফিকেশন পেজে লেখা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রোফাইল সাথে সাথে ভেরিফাই হয়ে যায়, যেমন যখন আপনার ওয়েবসাইট Google Search Console-এ ভেরিফাই করা থাকে। ফেসবুক পেজের লিংক দিয়ে এই সুবিধা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

প্রোফাইলে দেওয়ার মতো নিজের ওয়েবসাইট বানিয়ে দেখুননিজের ডোমেইন গ্রোথ প্ল্যান থেকে, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

গুগলে রিভিউ চাইবেন কীভাবে, আর কোন ভুলে প্রোফাইল বিপদে পড়ে?

গুগলে রিভিউ আসে মূলত চাইলে। খুশি কাস্টমারও নিজে থেকে খুব কমই লেখেন, কারণ খুশি মানুষ খুশি হয়েই চলে যান, রাগী মানুষই আগে ফোন বের করেন। Google-এর "Tips to get more reviews" পেজ বলে, কাস্টমারকে একটা Google লিংক দিন বা QR কোড স্ক্যান করতে দিন, আর এই লিংক আর QR প্রোফাইল থেকেই বানানো যায়। একটা কথা মনে রাখবেন, রিভিউ দিতে কাস্টমারকে নিজের Google Account-এ লগইন থাকতে হয়।

চাওয়ার নিয়ম একটাই, সবাইকে চাইবেন। দোকান থেকে যিনিই প্রোডাক্ট নিয়ে যান, হাতে প্যাকেট দেওয়ার সময় হাসিমুখে বলুন, "ভাই, সময় পেলে গুগলে দুই লাইন লিখে দিয়েন, নতুন কাস্টমাররা ওটা দেখেই আসেন।" কাউন্টারে QR কোডটা প্রিন্ট করে রাখুন, আর হাতে হাতে যাওয়া পার্সেলের ভেতরে একটা ছোট কার্ডেও দিতে পারেন। কত তারা দেবেন সেটা বলবেন না, শুধু অনুরোধ করুন।

এবার ঝুঁকির দিক। Google Maps-এর ভুয়া কনটেন্টের নীতিতে পরিষ্কার লেখা, টাকা দিয়ে কেনা রিভিউ চলবে না। রিভিউ লেখার বদলে বা খারাপ রিভিউ সরানোর বদলে ছাড়, ফ্রি প্রোডাক্ট বা টাকা দেওয়াও চলবে না। মানে "রিভিউ দিলে পরের অর্ডারে ৫০ টাকা ছাড়" লেখা কার্ডটা পার্সেলে দেবেন না। একই নীতিতে বলা আছে, বেছে বেছে শুধু খুশি কাস্টমারের কাছে রিভিউ চাওয়া, আর খারাপ রিভিউ দিতে মানা করা, দুটোই নিষেধ। নিজের স্টাফ, আত্মীয় বা পুরনো কর্মচারীর রিভিউকেও Google স্বার্থের সম্পর্ক আছে এমন রিভিউ হিসেবে ধরে। বন্ধুদের দিয়ে বিশটা পাঁচ তারা লেখানো তাই সবচেয়ে সহজ ভুল। Google এমন রিভিউ খুঁজে সরিয়ে দেয়, আর নিয়ম ভাঙলে প্রোফাইলের ওপরও রেস্ট্রিকশন আসতে পারে।

প্রথম এক তারা রিভিউটা যেদিন আসবে, বুকে লাগবে, এটা স্বাভাবিক। রাগ করে উত্তর দেবেন না। Google-এর পরামর্শও তাই, ছোট আর ভদ্র উত্তর দিন, কাস্টমারের ব্যক্তিগত তথ্য লিখবেন না, ঝামেলা জটিল হলে ফোনে বা ইমেইলে কথা বলতে বলুন। আর একটা কথা জেনে রাখলে মনটা একটু হালকা হবে। Google নিজেই লিখেছে, ভালো আর খারাপ মেশানো রিভিউ মানুষের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য লাগে।

প্রোফাইল না পেলে গুগলে নিজের শপ আনবেন যেভাবে

এই অংশটা বেশিরভাগ পাঠকের জন্য, কারণ আমাদের বেশিরভাগ সেলারই বাসা থেকে কুরিয়ারে বেচেন। গুগল ম্যাপে না এলেও গুগল সার্চে আসার রাস্তা খোলা। প্রথম লক্ষ্য হলো, কেউ আপনার দোকানের নাম লিখে খুঁজলে যেন আপনার নিজের ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেজটা আসে। যে কাস্টমার "গুগলে পেলাম না" লিখেছিলেন, তাঁর ভয়টা এতেই অনেকটা কাটে।

এর জন্য সবার আগে লাগবে দোকানের নামে নিজের ডোমেইনে একটা ওয়েবসাইট। ফেসবুক পেজের পাশে ওয়েবসাইট কেন লাগে, সেটা ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন স্টোরের লেখায় বিস্তারিত আছে। নতুন ওয়েবসাইট Google-এর খুঁজে পেতে সময় লাগে, কবে দেখাবে তার কোনো বাঁধা দিন নেই, তাই যত আগে শুরু করবেন তত ভালো।

তারপর নামের বানানটা একবার মিলিয়ে নিন। ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট, ইনভয়েস আর পার্সেলের লেবেলে একই বানানে একই নাম রাখুন। একেক জায়গায় একেক বানান হলে মানুষও গুলিয়ে ফেলেন, আর Google-এর পক্ষেও বোঝা কঠিন হয় এগুলো একই দোকান। পরে শোরুম খুলে প্রোফাইল নিতে গেলেও এই মিল কাজে দেবে।

প্রোফাইলে যে কথাগুলো থাকত, সেগুলো এবার ওয়েবসাইটে পরিষ্কার করে লিখে রাখুন। ফোন নম্বর কত, কোন শহর থেকে পাঠান, কোন সময়ে ফোন ধরেন, ডেলিভারি চার্জ কত আর রিটার্নের নিয়ম কী, এগুলো যেন খুঁজতে না হয়। প্রোফাইলের আসল কাজ ছিল ভরসা দেওয়া। ওয়েবসাইটে এগুলো থাকলে সেই কাজের বড় অংশ হয়ে যায়।

মোবাইলে দোকানের নাম লিখে সার্চের নকশা, ফলাফলের প্রথমে দোকানের নিজের ডোমেইনের ওয়েবসাইট আর তার নিচে ফেসবুক পেজ, পাশে ওয়েবসাইটে কী লিখে রাখবেন তার লিস্ট
ম্যাপে না এলেও নাম লিখে খুঁজলে নিজের সাইটটা যেন আগে আসে

আর মাঝে মাঝে নিজে দেখে নিন, গুগল আপনার সাইটকে চেনে কি না। Search Console-এ সাইট যোগ করা থেকে প্রোডাক্টের পেজে কী লিখবেন, সব অনলাইন শপের এসইও নিয়ে লেখায় আছে।

WinningSeller-এ এই কাজগুলো এক জায়গায় করা যায়। দোকান বানালে সেটা শুরুতে WinningSeller-এর দেওয়া একটা ঠিকানায় চলে, আর গ্রোথ প্ল্যান থেকে Settings-এর "নিজের ডোমেইন" অংশে কেনা ডোমেইনটা কানেক্ট করা যায়। দোকানের ফোন, ঠিকানা, খোলার সময় আর Facebook পেজের লিংক একবার লিখে রাখলে সেগুলো সাইটের নিচের অংশে নিজে থেকেই দেখায়, তাই কাস্টমারকে আলাদা করে জিজ্ঞেস করতে হয় না আপনি কোথায় আর কখন ফোন ধরেন। কোন ফিচার কোথায় আছে, সব ফিচারের পেজে একবার দেখে নিতে পারেন।

আজকের কাজটা ছোট। সাইনবোর্ডসহ দোকান থাকলে আজই গুগল ম্যাপে দোকানের নাম লিখে দেখুন প্রোফাইল আগে থেকে আছে কি না, তারপর ক্লেইম করুন বা নতুন খুলুন। আর শুধু অনলাইনে বেচলে প্রোফাইলের পেছনে টাকা বা সময় না দিয়ে দোকানের নামে ডোমেইনটা কিনে ফেলুন। পরের বার কেউ "গুগলে পেলাম না" লিখলে তাঁকে মন খারাপ করে উত্তর দিতে হবে না, একটা লিংক পাঠিয়ে দিলেই হবে।

সাধারণ প্রশ্ন

গুগল বিজনেস প্রোফাইল খুলতে কি টাকা লাগে?

না, Google-এর নিজের হেল্প পেজে লেখা আছে প্রোফাইল খোলা আর চালানো ফ্রি। কেউ টাকা নিয়ে "ম্যাপে দোকান বসিয়ে দেব" বললে আগে দেখুন আপনার ব্যবসা আদৌ প্রোফাইল পায় কি না। নিয়ম ভেঙে খোলা প্রোফাইল যেকোনো দিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তখন টাকাটাও যায়।

শুধু অনলাইনে বিক্রি করি, গুগল ম্যাপে দোকান যোগ করতে পারব?

সাধারণত না। Google-এর eligibility পেজে যাদের প্রোফাইল দেওয়া হয় না, তাদের লিস্টে "online-only businesses" লেখা আছে, কারণ প্রোফাইলের শর্ত হলো কাস্টমারের সাথে সামনাসামনি দেখা হওয়া। তবে নিজের লোক দিয়ে কোনো এলাকায় হাতে হাতে ডেলিভারি দিলে সার্ভিস এরিয়া হিসেবে চেষ্টা করা যায়, শেষ সিদ্ধান্ত Google-এর।

বাসার ঠিকানা দিয়ে কি গুগল বিজনেস প্রোফাইল খোলা যায়?

বাসায় কাস্টমার না এলে সেই ঠিকানা প্রোফাইলে দেখানো যায় না। আপনি নিজে কাস্টমারের কাছে গেলে বা নিজে ডেলিভারি দিলে সার্ভিস এরিয়া বিজনেস হিসেবে খুলতে পারেন, কিন্তু Google-এর নিয়মে তখন ঠিকানাটা লুকিয়ে রাখতে হয়। ভিডিও ভেরিফিকেশনে বাসার আশেপাশের রাস্তার সাইন আর চেনা জায়গা দেখাতে হয়।

ভেরিফিকেশন ভিডিওতে কী দেখাতে হয়?

আপনি কোথায়, ব্যবসাটা যে সত্যিই আছে, আর আপনিই যে এটা চালান। দোকান হলে রাস্তার সাইন বা পাশের দোকান, প্রোফাইলের নামের সাথে মেলে এমন সাইনবোর্ড, আর ক্যাশ বাক্স বা স্টকরুমের মতো শুধু দোকানের লোকের জায়গা দেখান। ভিডিও হতে হবে এডিট ছাড়া এক টানে, অন্তত ৩০ সেকেন্ডের, মোবাইল থেকে প্রোফাইলের ভেতর দিয়েই রেকর্ড করা।

প্রোফাইল ভেরিফাই হতে কত দিন লাগে?

ধাপগুলো শেষ করার পর Google-এর রিভিউতে ৫ কাজের দিন পর্যন্ত লাগে, মাঝে মাঝে আরও বেশি। পোস্টকার্ডের অপশন নিলে Google বলে বেশিরভাগ কোড ১৪ দিনের মধ্যে আসে। কোডের অপেক্ষার সময় নাম, ঠিকানা বা ক্যাটাগরি এডিট করবেন না, করলে পাঠানো কোডটা আর কাজ করে না।

গুগল বিজনেস প্রোফাইলে লগইন করব কোথা থেকে?

যে Google Account দিয়ে প্রোফাইল খুলেছিলেন, সেটায় লগইন থাকা অবস্থায় গুগলে দোকানের নাম আর শহর লিখে খুঁজুন, অথবা শুধু "my business" লিখুন। Google-এর হেল্প পেজে এই দুটো রাস্তাই বলা আছে। অন্য অ্যাকাউন্টে লগইন থাকলে নিজের প্রোফাইল খুঁজে পাবেন না, তাই আগে অ্যাকাউন্টটা মিলিয়ে নিন।

#গুগল বিজনেস প্রোফাইল#গুগল ম্যাপে দোকান#Google Business Profile#অনলাইন শপ#গুগল রিভিউ#নিজের ওয়েবসাইট

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়