ডোমেইন কিভাবে কিনবো? নিজের নামে কিনুন, যেন দোকান হাতছাড়া না হয়
ডোমেইন কোথা থেকে কিনবেন, কার নামে কিনবেন, bKash না কার্ডে পেমেন্ট করবেন, পরের বছর রিনিউর দাম কত হবে, আর কিনে অনলাইন স্টোরে কীভাবে কানেক্ট করবেন। ডেভেলপারের নামে কেনা ডোমেইন নিজের নামে ফেরত আনার উপায়ও আছে।

এই লেখায় যা আছে
- ডোমেইন কিনতে কী কী লাগে, হোস্টিংও কি লাগবে?
- ডোমেইন কেনার ওয়েবসাইট, বিদেশি না দেশি কোম্পানি?
- ধাপে ধাপে ডোমেইন কিভাবে কিনবো
- bKash না কার্ড, ডোমেইনের পেমেন্ট কীভাবে করবেন?
- প্রথম বছরের দাম আর রিনিউর দাম আলাদা কেন?
- ডোমেইন কিনে অনলাইন স্টোরে কীভাবে কানেক্ট করবেন?
- ডোমেইন অন্যের নামে কেনা থাকলে ফেরত আনবেন কীভাবে?
- ডোমেইন কেনার পর যে ভুলে সাইট বন্ধ হয়ে যায়
- আজ কোন কাজটা করবেন?
ডোমেইন কিভাবে কিনবো, এই প্রশ্নের সোজা উত্তরটা আগে দিয়ে নিই। একটা ডোমেইন কোম্পানির ওয়েবসাইটে নিজের নামে আর নিজের ইমেইলে অ্যাকাউন্ট খুলুন। দোকানের নামটা সার্চ করে খালি পেলে কার্টে নিন, তারপর কার্ড বা bKash দিয়ে পেমেন্ট করুন। পুরো কাজে আধা ঘণ্টাও লাগে না। কেনার পর ইমেইলে আসা ভেরিফিকেশন লিংকে চাপুন আর অটো-রিনিউ চালু করে দিন। শেষে ডোমেইনের DNS-এ এক-দুটো রেকর্ড বসিয়ে সেটাকে আপনার অনলাইন স্টোরের সাথে কানেক্ট করুন।
কেনাটা সহজ, ঝামেলা শুরু হয় পরে। অনেকে দ্বিতীয় বছরে গিয়ে দেখেন, যে ডোমেইন প্রথম বছর প্রায় ফ্রিতে পেয়েছিলেন, তার রিনিউতে এখন দুই হাজার টাকার বেশি চাইছে। কারো অবস্থা আরও খারাপ হয়। ধরুন ঈদের সপ্তাহ, অ্যাড চলছে, প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ডলার স্পেন্ড হচ্ছে। এমন সময় একজন কাস্টমার ইনবক্সে লিখলেন, "ভাই, লিংকে ঢুকলে তো কিছুই আসে না।" খোঁজ নিয়ে জানলেন, ডোমেইনটা ছিল ডেভেলপারের অ্যাকাউন্টে, মেয়াদও শেষ, আর তিনি ফোন ধরছেন না। অ্যাডের টাকা কাটছে অথচ দোকানের দরজা বন্ধ, এই অসহায় লাগাটা কেউ একবার টের পেলে আর ভোলেন না।
ডোমেইন হলো আপনার দোকানের সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ড অন্যের নামে থাকলে দোকানটাও পুরোপুরি আপনার থাকে না। তাই নিচে শুধু কেনার ধাপ না, কেনার পরে কোন ভুলে ডোমেইন হাতছাড়া হয়, সেটাও খুলে বলছি।
ডোমেইন কিনতে কী কী লাগে, হোস্টিংও কি লাগবে?
ডোমেইন হলো আপনার দোকানের ঠিকানা, যেমন rakibfashion.com। কাস্টমার এটা ব্রাউজারে লিখলে আপনার দোকান খোলে। হোস্টিং হলো সেই কম্পিউটার বা সার্ভার, যেখানে ওয়েবসাইটের ফাইল আর ছবি রাখা থাকে। দুটো আলাদা জিনিস।
হোস্টিং লাগবে কি না, সেটা নির্ভর করে আপনার দোকান কোথায় চলে তার ওপর। নিজে WordPress দিয়ে সাইট বানালে হোস্টিং কিনতে হয়, সার্ভারের দেখাশোনাও তখন আপনার ঘাড়ে। কিন্তু অনলাইন স্টোর যদি কোনো প্ল্যাটফর্মে চলে, তাহলে সার্ভার চালায় প্ল্যাটফর্ম নিজেই। সেক্ষেত্রে আপনার শুধু ডোমেইনটা কিনে কানেক্ট করতে হয়, আলাদা হোস্টিং লাগে না। কোন রাস্তায় মোট কত খরচ পড়ে, সেটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে লেখায় হিসাব করে দেখানো আছে।
এবার আসি ডোমেইন কিনতে আসলে কী কী লাগে। প্রথমেই লাগবে এমন একটা ইমেইল, যেটা আপনি বছরের পর বছর চালাবেন, কারণ ডোমেইনের সব নোটিশ ওখানেই আসবে। লাগবে নিজের সঠিক নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর। পেমেন্টের জন্য একটা কার্ড বা bKash অ্যাকাউন্ট থাকলেই চলবে। আর লাগবে দোকানের এমন একটা নাম, যার .com এখনো কেউ নেয়নি। নামটা খালি কি না কীভাবে দেখবেন, আর .com না .com.bd নেবেন, সেটা বিস্তারিত আছে অনলাইন ব্যবসার নাম নিয়ে লেখায়। এখানে শুধু এটুকু জেনে রাখুন, .com.bd নিতে ট্রেড লাইসেন্সের মতো কাগজ লাগে, .com-এ লাগে না।
সঠিক তথ্য দেওয়ার ব্যাপারটা হালকাভাবে নেবেন না। ডোমেইনের দুনিয়ার নিয়মকানুন ঠিক করে ICANN নামের একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা। তাদের ওয়েবসাইটে ডোমেইন মালিকের দায়িত্ব নিয়ে একটা পেজ আছে। সেখানে লেখা, মালিককে সঠিক তথ্য দিতে হবে, কিছু বদলালে সাথে সাথে আপডেট করতে হবে, আর ডোমেইন কোম্পানির কোনো প্রশ্নের উত্তর ১৫ দিনের মধ্যে দিতে হবে। ভুয়া নাম বা পুরনো ইমেইল দিলে পরে মালিকানা প্রমাণ করতে গিয়ে আপনিই আটকে যাবেন।
ডোমেইন কেনার ওয়েবসাইট, বিদেশি না দেশি কোম্পানি?
ডোমেইন দুই রকম জায়গা থেকে কেনা যায়। এক হলো বিদেশি ডোমেইন কোম্পানি, যাদের ইংরেজিতে রেজিস্ট্রার বলে। এরা ICANN-এর অনুমোদন নিয়ে সরাসরি ডোমেইন বিক্রি করে, আর টাকা নেয় ডলারে, কার্ড দিয়ে। আরেক হলো দেশি হোস্টিং কোম্পানি। এদের অনেকেই বড় কোনো রেজিস্ট্রারের রিসেলার, মানে তারা আপনার হয়ে ডোমেইনটা কিনে দেয়। এরা টাকায় দাম লেখে, আর bKash-Nagad-এ পেমেন্ট নেয়।
দুটোরই নিজের সুবিধা আছে। বিদেশি কোম্পানিতে আপনি নিজে সরাসরি অ্যাকাউন্টের মালিক, সব সেটিং নিজের হাতে থাকে। কিন্তু ডলারে পেমেন্ট করতে কার্ড লাগে, আর কার্ডের ব্যাংক চার্জ আলাদা কাটে। দেশি কোম্পানিতে কার্ড ছাড়াই কেনা যায়, ফোন করলে বাংলায় সাপোর্ট পাওয়া যায়। কিন্তু ডোমেইনটা তাদের প্যানেলের ভেতর দিয়ে চলে, তাই কোম্পানিটা ভালো না হলে ঝামেলায় পড়তে পারেন।
সিদ্ধান্তটা জটিল করবেন না। ফেসবুক অ্যাডের জন্য যদি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড আগেই থাকে, পরিচিত কোনো বিদেশি রেজিস্ট্রার থেকে কিনুন। কার্ড না থাকলে নাম করা দেশি কোম্পানি থেকে কিনুন, তবে পেমেন্টের আগে তাদের এই চারটা প্রশ্ন করে নিন।
- ডোমেইনের মালিক (Registrant) হিসেবে কার নাম আর কার ইমেইল বসবে? উত্তর হতে হবে, আপনার।
- আমি নিজে লগইন করে DNS-এর রেকর্ড চেঞ্জ করতে পারব তো, নাকি প্রতিবার আপনাদের বলতে হবে?
- পরে অন্য কোম্পানিতে নিতে চাইলে ট্রান্সফারের কোড (EPP বা auth code) দেবেন তো?
- রিনিউর সময় দাম কত পড়বে?
তৃতীয় প্রশ্নটার একটা আইনি দিকও আছে। ICANN-এর ট্রান্সফার পলিসিতে লেখা, ডোমেইনের মালিক চাইলে ডোমেইন কোম্পানিকে পাঁচ দিনের মধ্যে এই কোড দিতে হবে। কেউ যদি বলে "কোড দেওয়া যাবে না" বা "কোডের জন্য আলাদা টাকা লাগবে", সেখান থেকে না কেনাই ভালো।
ধাপে ধাপে ডোমেইন কিভাবে কিনবো
কোম্পানি ঠিক হয়ে গেলে কেনার কাজটা এই ধাপে করুন। প্রতিটা ধাপের সাথে কারণটাও লিখে দিলাম, যাতে কোম্পানির পেজ একটু আলাদা দেখালেও বুঝতে পারেন কী করছেন।
- নিজের ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। অ্যাকাউন্ট থাকবে আপনার নামে, পাসওয়ার্ড থাকবে শুধু আপনার কাছে। ডোমেইনের সব নোটিশ, রিনিউর রিমাইন্ডার আর ট্রান্সফারের কোড এই ইমেইলেই আসবে।
- টু-ফ্যাক্টর চালু করুন। তাহলে কেউ পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও আপনার ফোনের কোড ছাড়া লগইন করতে পারবে না। ফেসবুক পেজ যেভাবে হ্যাক হয়, ডোমেইনের অ্যাকাউন্টও ঠিক সেভাবে হ্যাক হতে পারে।
- নামটা সার্চ করুন। সার্চ বক্সে পুরো নামটা .com সহ লিখুন। খালি থাকলে কার্টে নিন। খালি না থাকলে নামের শেষে ছোট একটা শব্দ জুড়ে দেখুন, যেমন bd বা shop।
- কার্ট থেকে বাড়তি জিনিস বাদ দিন। অনেক কোম্পানি কার্টে নিজে থেকে হোস্টিং, ইমেইল প্যাকেজ, SSL বা ওয়েবসাইট বিল্ডার ঢুকিয়ে দেয়। প্ল্যাটফর্মে স্টোর চালালে এগুলোর কোনোটাই লাগে না। শুধু WHOIS প্রাইভেসি রাখুন, যদি ফ্রি হয়। এতে আপনার ফোন নম্বর আর ঠিকানা সবার সামনে খোলা থাকে না।
- কত বছরের জন্য নেবেন, ঠিক করুন। প্রথমবার এক বছরই যথেষ্ট। তবে রিনিউর দামটা আগে দেখে নিন, সেই হিসাবটা নিচে আলাদা করে দেখাচ্ছি।
- মালিকের তথ্য ঠিকমতো লিখুন। NID-তে যে নাম আছে, সেই নাম আর আসল ঠিকানা দিন। পরে কখনো মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এই তথ্যই আপনাকে বাঁচাবে।
- পেমেন্ট করুন, তারপর ইমেইল খুলুন। পেমেন্টের পর ডোমেইন কোম্পানি একটা ভেরিফিকেশনের ইমেইল পাঠায়। ওই ইমেইলের লিংকে চাপতে ভুলবেন না, কারণ সাড়া না দিলে ডোমেইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- অটো-রিনিউ আর ডোমেইন লক চালু রাখুন। অটো-রিনিউ থাকলে মেয়াদ শেষের আগে টাকা নিজে থেকে কাটে। ডোমেইন লক থাকলে আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ ডোমেইনটা অন্য কোম্পানিতে সরাতে পারে না।

bKash না কার্ড, ডোমেইনের পেমেন্ট কীভাবে করবেন?
বিদেশি রেজিস্ট্রারে পেমেন্ট করতে হয় ডলারে, Visa বা Mastercard দিয়ে। এর জন্য এমন কার্ড লাগে যেটায় আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু আছে, যেমন ফেসবুক অ্যাডের জন্য অনেকে যে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড চালান। শুধু দেশের ভেতরে চলে এমন কার্ড দিয়ে ডলারে পেমেন্ট হয় না। আর মনে রাখবেন, ওয়েবসাইটে লেখা ডলারের দামের সাথে ব্যাংক নিজের ডলার রেট আর চার্জ যোগ করে। তাই টাকার হিসাবে খরচটা একটু বেশিই পড়ে।
কার্ড না থাকলে দেশি কোম্পানিই ভরসা। অক্টোবর ২০২৬-এ যেমন Alpha Net-এর ওয়েবসাইটে লেখা আছে, তারা bKash, Rocket, Nagad, Upay-সহ কয়েকটা মোবাইল ওয়ালেট আর Visa-Mastercard কার্ডে পেমেন্ট নেয়। এমন কোম্পানির ওয়েবসাইটের পেমেন্ট পেজ দিয়েই টাকা দিন, আর ইনভয়েসটা সেভ করে রাখুন। ফেসবুক গ্রুপে "সস্তায় ডোমেইন কিনে দিই" বলে কেউ পার্সোনাল bKash নম্বর দিলে সেখানে টাকা পাঠাবেন না। তিনি হয়তো ডোমেইনটা কিনে দেবেন ঠিকই, কিন্তু নিজের অ্যাকাউন্টে, আর সেই ডোমেইন ফেরত পাওয়ার কোনো কাগজ আপনার হাতে থাকবে না।
পেমেন্টের রাস্তা বাছার সময় রিনিউর কথাও ভাবুন। ICANN-এর মালিকের দায়িত্বের পেজে বলা আছে, অটো-রিনিউ চালু রাখলে পেমেন্টের তথ্য আপডেট রাখা মালিকের দায়িত্ব। অটো-রিনিউ কাজ করে তখনই, যখন কোম্পানির কাছে আপনার কার্ড সেভ করা থাকে, বা অ্যাকাউন্টে আগে থেকে টাকা জমা থাকে। প্রতিবার bKash-এ আলাদা করে পেমেন্ট করলে রিনিউর দিনটা আপনাকেই মনে রাখতে হবে। তাই মেয়াদ শেষের তারিখের তিন সপ্তাহ আগে ফোনের ক্যালেন্ডারে একটা রিমাইন্ডার বসিয়ে রাখুন।
প্রথম বছরের দাম আর রিনিউর দাম আলাদা কেন?
ডোমেইন কোম্পানিগুলো নতুন কাস্টমার টানতে প্রথম বছরে ছাড় দেয়, কোনো কোনোটা প্রায় ফ্রি। লাভটা তারা তোলে পরের বছরগুলোর রিনিউ থেকে। এটা ঠকানো না, কারণ দামটা পেজেই লেখা থাকে। ICANN-এর নিয়মেও কোম্পানিকে রিনিউর দাম ওয়েবসাইটে পরিষ্কার করে দেখাতে হয়। সমস্যা হলো, কেনার উত্তেজনায় আমরা নিচের ছোট লেখাটা পড়ি না।
তিনটা কোম্পানির পেজে ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ যা লেখা ছিল, সেটা দিয়ে একটা উদাহরণ হিসাব করি। ডলারকে টাকায় নিতে এখানে ১ ডলার = ১২২ টাকা ধরেছি, এটা শুধু হিসাবের সুবিধার জন্য। কার্ডে কাটার সময় ব্যাংকের রেট আর চার্জ মিলিয়ে একটু বেশি পড়বে। আপনি যেদিন কিনবেন, সেদিনের দাম আবার দেখে নেবেন।
| কোম্পানি (পেজে লেখা দাম) | প্রথম বছর | পরের প্রতি বছর | তিন বছরে মোট (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|
| Hostinger (.com) | ০.০১ ডলার, প্রায় ১ টাকা | ১৯.৯৯ ডলার ধরে, প্রায় ২,৪৩৯ টাকা | প্রায় ৪,৮৭৯ টাকা |
| Porkbun (.com) | ১১.০৮ ডলার, প্রায় ১,৩৫২ টাকা | ১১.০৮ ডলার, প্রায় ১,৩৫২ টাকা | প্রায় ৪,০৫৫ টাকা |
| Alpha Net (.com, bKash চলে) | ১,৭৯৫ টাকা | ১,৮৪০ টাকা | ৫,৪৭৫ টাকা |
Hostinger-এর পেজে ০.০১ ডলারের পাশে ১৯.৯৯ ডলার কাটা দাগ দিয়ে লেখা ছিল, তাই আমরা রিনিউ সেই দামে ধরেছি। আসল রিনিউর দাম কার্টে "Renews at" লেখার পাশে দেখে নিন।
এবার দেখুন কী দাঁড়াল। প্রথম বছরে যে ডোমেইন প্রায় ১ টাকা, তিন বছরের হিসাবে সেটাই প্রতি বছর এক দামের ডোমেইনের চেয়ে প্রায় ৮২৪ টাকা বেশি পড়ছে। দেশি কোম্পানির দাম তিন বছরে সবচেয়ে বেশি, কিন্তু সেখানে কার্ড লাগে না, ব্যাংকের চার্জও নেই। এই বাড়তি টাকাটাকে bKash-এ কেনার সুবিধার দাম হিসেবে দেখতে পারেন। আমাদের অন্য লেখায় .com-এর খরচ বছরে মোটামুটি ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা ধরা আছে, সেটা গড়পড়তা হিসাব। প্রথম বছরে বড় ছাড় দেওয়া কোম্পানিতে রিনিউ এর চেয়ে বেশিও হতে পারে।
তাই নিয়মটা এক লাইনে মনে রাখুন। ডোমেইনের দাম তুলনা করবেন তিন বছরের মোট খরচ দিয়ে, প্রথম বছরের দাম দিয়ে না। প্রথম বছরের ছাড় খুব লোভনীয় লাগলে খোঁজ নিন, একসাথে কয়েক বছর নিলে ছাড়টা সব বছরে পাওয়া যায় কি না।
ডোমেইন কিনে অনলাইন স্টোরে কীভাবে কানেক্ট করবেন?
ডোমেইন কেনার পর সেটা নিজে থেকে কোথাও যায় না, শুধু কোম্পানির খাতায় আপনার নামে লেখা থাকে। ডোমেইনকে দোকানের দিকে পাঠানোর কাজটা হয় DNS দিয়ে। DNS-কে ইন্টারনেটের ফোনবুক ভাবতে পারেন। কেউ ব্রাউজারে rakibfashion.com লিখলে DNS বলে দেয়, এই নামের দোকান কোন সার্ভারে আছে। আপনার কাজ হলো ফোনবুকে ঠিক নম্বরটা লিখে দেওয়া।
এই নম্বর লেখা হয় রেকর্ড দিয়ে, আর দোকানের জন্য লাগে দুই রকম রেকর্ড। A রেকর্ড বলে, এই নাম অমুক IP অ্যাড্রেসের সার্ভারে যাবে। CNAME রেকর্ড বলে, এই নাম অমুক আরেকটা নামের কাছে যাবে। DNS-এর নিয়মে মূল ডোমেইনে CNAME বসানো যায় না, তাই rakibfashion.com-এ বসে A রেকর্ড, আর www.rakibfashion.com-এ বসে CNAME। ডোমেইন কোম্পানির প্যানেলে মূল ডোমেইনকে সাধারণত @ দিয়ে লেখা হয়।
WinningSeller-এ কাজটা এভাবে হয়। স্টোরের Settings-এ "নিজের ডোমেইন" অংশে গিয়ে কেনা ডোমেইনটা লিখে যোগ করুন। চাইলে www সহ আরেকটা ডোমেইনও দিতে পারেন, একটা দোকানে সব মিলিয়ে দুটো রাখা যায়। যোগ করলেই স্ক্রিনে দেখাবে কোন রেকর্ড বসাতে হবে, প্রতিটা ঘরের পাশে কপি করার বাটনসহ। মূল ডোমেইনের জন্য দেখাবে A রেকর্ড, আর www-এর জন্য আপনার দোকানের এখনকার ঠিকানায় একটা CNAME। এবার ডোমেইন কোম্পানির প্যানেলে লগইন করে DNS Management বা Advanced DNS অংশে যান, আর রেকর্ডগুলো হুবহু বসিয়ে দিন।

একটা জিনিস প্রায় সবাই ভুলে যান। নতুন ডোমেইনে কোম্পানি নিজেই একটা "পার্কিং পেজ" বসিয়ে রাখে, মানে একই নামে আগে থেকে একটা A বা CNAME রেকর্ড থাকে। নতুন রেকর্ড বসানোর আগে একই নামের পুরনো A, AAAA বা CNAME রেকর্ডগুলো ডিলিট করে দিন। না করলে কিছু কাস্টমার আপনার দোকানে আসবেন, আর কিছু কাস্টমার গিয়ে পড়বেন ওই পার্কিং পেজে।
রেকর্ড বসানোর পর সেটা সব জায়গায় পৌঁছাতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে। তারপর WinningSeller-এ "এখনই যাচাই করুন" বাটনে চাপুন। না চাপলেও প্রথম তিন দিন সিস্টেম প্রতি ঘণ্টায় নিজে থেকে চেক করে। ভেরিফাই হয়ে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে তালা চিহ্ন, মানে HTTPS, নিজে থেকে চালু হয়, আলাদা করে SSL কিনতে হয় না। এরপর ডোমেইনটাকে "প্রধান ঠিকানা" করলে দোকানের সব লিংক নতুন ডোমেইনে চলে যায়। কেউ পুরনো লিংকে ঢুকলেও নতুনটায় পৌঁছে যান, তাই আগের পোস্টের লিংকগুলো নষ্ট হয় না।
কোনো কোনো প্ল্যাটফর্ম বা ডেভেলপার রেকর্ডের বদলে নেমসার্ভার চেঞ্জ করতে বলে। তাতে পুরো DNS-এর দায়িত্ব অন্য জায়গায় চলে যায়, আর সময়ও বেশি লাগে। Namecheap-এর সাপোর্ট পেজে লেখা, নেমসার্ভার বদলালে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। যেভাবেই কানেক্ট করুন, নতুন ডোমেইনে দোকানটা নিজের ফোনে তালা চিহ্নসহ খুলে না দেখা পর্যন্ত অ্যাডের লিংক বদলাবেন না।
ডোমেইন অন্যের নামে কেনা থাকলে ফেরত আনবেন কীভাবে?
আগে দেখে নিন ডোমেইনটা এখন কোথায় আছে। ICANN-এর ফ্রি টুল lookup.icann.org-এ ডোমেইনের নাম লিখলে দেখাবে কোন কোম্পানিতে কেনা, কবে কেনা, আর মেয়াদ কবে শেষ। মালিকের নাম প্রায়ই প্রাইভেসির কারণে লুকানো থাকে, তাই সেটা জানতে হবে যিনি কিনেছেন তাঁর কাছ থেকে। ICANN-এর ট্রান্সফার পলিসি অনুযায়ী ডোমেইন অন্য কোম্পানিতে সরানোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা মালিকের হাতে। তাই ডেভেলপারের নামে থাকা ডোমেইন নিয়মের চোখে তাঁরই, যতক্ষণ না তিনি আপনাকে দিয়ে দেন।
ফেরত আনার রাস্তা দুটো। প্রথমটা সহজ। ডেভেলপার যে কোম্পানিতে কিনেছেন, সেখানে আপনি নিজের অ্যাকাউন্ট খুলুন। অনেক কোম্পানিতে এক অ্যাকাউন্ট থেকে আরেক অ্যাকাউন্টে ডোমেইন সরিয়ে দেওয়া যায়, তিনি শুধু আপনার অ্যাকাউন্টের নাম বা ইমেইল দিয়ে সরিয়ে দেবেন। অন্য রাস্তা হলো ট্রান্সফার। তিনি ডোমেইনটা আনলক করে ট্রান্সফারের কোড দেবেন, আর আপনি নিজের পছন্দের কোম্পানিতে সেই কোড দিয়ে ডোমেইনটা নিয়ে আসবেন। অনেক কোম্পানিতে ট্রান্সফারের সময় এক বছরের রিনিউর টাকা দিতে হয়, তবে মেয়াদও এক বছর বাড়ে।
ডেভেলপারের সাথে ঝগড়া দিয়ে শুরু করবেন না। বেশিরভাগ সময় তিনি কাজের সুবিধার জন্য নিজের অ্যাকাউন্টে কিনেছিলেন, খারাপ উদ্দেশ্যে না। ভদ্রভাবে চান, আর লিখে চান, যাতে পরে প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে। এমন একটা মেসেজ পাঠাতে পারেন।
"ভাই, rakibfashion.com ডোমেইনটা এখন থেকে আমার নিজের অ্যাকাউন্টে রাখতে চাই, যাতে রিনিউ আমি নিজেই করতে পারি। আপনার সুবিধামতো দুটোর একটা করে দিলে খুব উপকার হয়। হয় একই কোম্পানিতে আমার অ্যাকাউন্টে (এই ইমেইলে) সরিয়ে দিন, নয়তো ডোমেইনটা আনলক করে ট্রান্সফারের কোডটা দিন। ওয়েবসাইটের কাজে আপনার যে অ্যাক্সেস লাগে, সেটা আমি আলাদা করে দিয়ে দেব।"
ডোমেইন হাতে আসার পর সেদিনই মালিকের নাম আর ইমেইল নিজের করে নিন, অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করুন, আর টু-ফ্যাক্টর চালু করুন। একটা কথা আগে থেকে জেনে রাখুন। ICANN-এর ট্রান্সফার পলিসি অনুযায়ী মালিকের নাম বদলালে ডোমেইন কোম্পানি ৬০ দিনের জন্য অন্য কোম্পানিতে সরানো আটকে দেয়, যদি না আগে থেকে এই লক বাদ দেওয়ার অপশন বেছে নেন। নতুন কেনা ডোমেইনের বেলাতেও প্রথম ৬০ দিন অন্য কোম্পানিতে সরানোর অনুরোধ কোম্পানি ফিরিয়ে দিতে পারে। নতুন নিয়মে এই সময়টা কমতে পারে, কিন্তু অক্টোবর ২০২৬-এ ICANN-এর পলিসি পেজে এখনো ৬০ দিনই লেখা। তাই কোম্পানি বদলানোর ইচ্ছা থাকলে আগে ট্রান্সফার, তারপর নাম বদল।
আর যদি ডেভেলপার কিছুতেই রাজি না হন? তখন কঠিন সত্যিটা মেনে নিতে হবে, ডোমেইন যার নামে, ক্ষমতাও তার হাতে। আপনার কাছে পেমেন্টের রিসিট বা লিখিত চুক্তি থাকলে আইনি পথে যেতে পারেন, কিন্তু তাতে সময় আর টাকা দুটোই যায়। অনেক সময় নতুন একটা ডোমেইন নিজের নামে কিনে নতুন করে শুরু করাই কম কষ্টের। পরের বার যে-ই সাইট বানাক, ডোমেইন কিনবেন আপনি নিজে, নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে।
ডোমেইন কেনার পর যে ভুলে সাইট বন্ধ হয়ে যায়
ভেরিফিকেশনের ইমেইল না খোলা
নতুন ডোমেইন কেনার পর, মালিকের তথ্য বদলালে, বা অন্য কোম্পানি থেকে ডোমেইন আনলে কোম্পানি একটা ভেরিফিকেশনের ইমেইল পাঠায়। ICANN-এর নিয়মে ১৫ দিনের মধ্যে সাড়া না পেলে কোম্পানি ডোমেইন সাসপেন্ড করতে পারে। তখন সাইট খোলে না, অথচ আপনি ভাবছেন সব ঠিক আছে। কেনার দিনই ইমেইলের Inbox আর Spam দুটোই দেখে নিন।
কার্ডের মেয়াদ শেষ, অটো-রিনিউ ফেল
অটো-রিনিউ চালু ছিল, কিন্তু কার্ডের মেয়াদ শেষ বা কার্ডে ডলার নেই, তাই টাকা কাটেনি। ICANN-এর নিয়মে কোম্পানি মেয়াদ শেষের মোটামুটি এক মাস আর এক সপ্তাহ আগে দুবার রিমাইন্ডার পাঠায়। মেয়াদ পার হওয়ার পর কোম্পানিভেদে কিছুদিন রিনিউ করা যায়, কখনো বাড়তি দামে। কিন্তু ডিলিটের আগের দিনগুলোতে DNS বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন সাইট আর ওই ডোমেইনের ইমেইল দুটোই থেমে যায়। ডিলিট হওয়ার পর আরও ৩০ দিন ফেরত আনার সুযোগ থাকে। তবে এই ফেরত আনার জন্য কোম্পানি আলাদা ফি নিতে পারে, আর ICANN-এর নিয়মে সেই ফি কত, সেটা কোম্পানিকে ওয়েবসাইটে আগেই জানিয়ে রাখতে হয়। তাই রিমাইন্ডারের ইমেইল এলে সেদিনই রিনিউ সেরে ফেলুন।
যে ইমেইলে ডোমেইন, সেটাই আর চালান না
ধরুন পুরনো ইমেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন, বা যে ভাই ইমেইলটা খুলে দিয়েছিলেন তিনি এখন বিদেশে। তাহলে রিমাইন্ডার থেকে শুরু করে পাসওয়ার্ড রিসেটের মেইল পর্যন্ত কিছুই আপনার কাছে পৌঁছাবে না। বছরে একবার ডোমেইন কোম্পানির অ্যাকাউন্টে লগইন করে দেখে নিন ইমেইল, ফোন নম্বর আর কার্ড সব ঠিক আছে কি না।
DNS-এর রেকর্ড এলোমেলো করা
কেউ ইমেইল সার্ভিস চালু করতে গিয়ে বা অন্য কোনো টুল জুড়তে গিয়ে দোকানের A রেকর্ডটাই ডিলিট বা চেঞ্জ করে ফেলেন। দোকানের রেকর্ডগুলোর একটা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন, আর DNS-এ হাত দেওয়ার আগে সেটা খুলে মিলিয়ে নিন। WinningSeller প্রতিদিন একবার চেক করে আপনার ডোমেইন ঠিক জায়গায় আছে কি না। গোলমাল পেলে সাথে সাথে বন্ধ না করে প্যানেলে সমস্যাটা দেখায়, আর পরপর তিন দিন ঠিক না হলে তবেই ডোমেইনটা বন্ধ করে। তখনও দোকানের নিজের ঠিকানা আগের মতো চলে, কিন্তু অ্যাডের লিংকে ডোমেইন থাকলে সেই অর্ডারগুলো হারাবেন।
আজ কোন কাজটা করবেন?
ডোমেইন এখনো না কিনে থাকলে আজ শুধু দুটো কাজ করুন। ব্যবসার জন্য নিজের নামে একটা আলাদা Gmail খুলুন, আর দোকানের নামের .com খালি আছে কি না দেখে নিন। তারপর ওপরের টেবিলের মতো করে দুই-তিনটা কোম্পানির তিন বছরের মোট দাম মিলিয়ে কিনুন।
ডোমেইন আগেই কেনা থাকলে lookup.icann.org-এ নামটা লিখে মেয়াদ কবে শেষ দেখে নিন, আর ফোনের ক্যালেন্ডারে তার তিন সপ্তাহ আগের তারিখে রিমাইন্ডার বসান। ডোমেইনটা অন্য কারো অ্যাকাউন্টে থাকলে ওপরের মেসেজটা আজই পাঠান। সম্পর্ক ভালো থাকতে থাকতে চাওয়াটা অনেক সহজ। পাঁচ মিনিটের এই কাজগুলো সেরে রাখলে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।
আপনার স্টোর যদি WinningSeller-এ চলে, নিজের ডোমেইন কানেক্ট করার সুবিধা আছে গ্রোথ প্ল্যান থেকে। ডোমেইন যোগ করলে কোন রেকর্ড কোথায় বসাবেন সেটা স্ক্রিনেই দেখায়, আর HTTPS নিজে থেকে চালু হয়। কোন প্ল্যানে কী আছে, সেটা দামের পেজে দেখে নিন। আর ফেসবুক পেজের পাশাপাশি নিজের স্টোর কেন রাখবেন, সেটা নিয়ে বিস্তারিত আছে ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন স্টোর বানানোর লেখায়।
সাধারণ প্রশ্ন
bKash দিয়ে কি ডোমেইন কেনা যায়?
যায়, তবে সাধারণত দেশি হোস্টিং কোম্পানির কাছ থেকে। অক্টোবর ২০২৬-এ যেমন Alpha Net-এর ওয়েবসাইটে bKash, Rocket, Nagad আর কার্ডে পেমেন্টের কথা লেখা আছে। বিদেশি ডোমেইন কোম্পানিতে সাধারণত ডলারে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে হয়। যেখানেই কিনুন, ডোমেইনটা যেন আপনার নামে আর আপনার অ্যাকাউন্টে থাকে।
ডোমেইন কিনলে কি হোস্টিংও কিনতে হবে?
সবসময় না। নিজে WordPress দিয়ে সাইট বানালে হোস্টিং লাগে। কিন্তু অনলাইন স্টোর যদি কোনো প্ল্যাটফর্মে চলে, তাহলে সার্ভার প্ল্যাটফর্মই চালায়, আপনাকে শুধু ডোমেইনটা কিনে কানেক্ট করতে হয়। কার্টে হোস্টিং নিজে থেকে ঢুকে গেলে বাদ দিয়ে দিন।
ডোমেইন কি একবার কিনলে সারাজীবন থাকে?
না, ডোমেইন আসলে বছর হিসেবে ভাড়া নেওয়ার মতো। মেয়াদ শেষের আগে প্রতি বছর রিনিউ করতে হয়, চাইলে একসাথে কয়েক বছরের টাকাও দিয়ে রাখা যায়। রিনিউ না করলে ডোমেইন একসময় ছেড়ে দেওয়া হয়, আর তখন অন্য যে কেউ সেটা কিনে ফেলতে পারেন।
রিনিউ করতে ভুলে গেলে কি সাথে সাথে ডোমেইন চলে যায়?
সাথে সাথে যায় না, তবে সাইট আর ইমেইল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ICANN-এর নিয়মে ডোমেইন কোম্পানি মেয়াদ শেষের মোটামুটি এক মাস আর এক সপ্তাহ আগে দুবার মনে করিয়ে দেয়। মেয়াদ পার হলে কোম্পানিভেদে কিছুদিন রিনিউ করা যায়, কখনো বাড়তি দামে, আর ডিলিট হওয়ার পরেও ৩০ দিন ফেরত আনার সুযোগ থাকে, তবে তখন আলাদা ফি লাগতে পারে।
ডোমেইন কিনে স্টোরে কানেক্ট করলে চালু হতে কত সময় লাগে?
DNS-এ রেকর্ড বসানোর পর সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা লাগে। নেমসার্ভার চেঞ্জ করলে আরও বেশি লাগতে পারে, Namecheap-এর সাপোর্ট পেজে এটা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা লেখা। তাই অ্যাডের লিংক বদলানোর আগে নতুন ডোমেইনে দোকানটা নিজে খুলে দেখে নিন।
ডেভেলপার ডোমেইন কিনে দিয়েছে, এখন সেটা আমার নামে আনব কীভাবে?
ডেভেলপারকে বলুন হয় একই কোম্পানির ভেতরে ডোমেইনটা আপনার অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দিতে, নয়তো ডোমেইন আনলক করে ট্রান্সফারের কোড (EPP বা auth code) দিতে। কোড দিয়ে আপনি নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেবেন। এরপর মালিকের নাম আর ইমেইল নিজের করে নিন, আর পুরনো পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ফেলুন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


