ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কি? টাকা জলে না ফেলে ছোট শপ যেভাবে করাবে
ইনবক্সে কেউ ১২ হাজার টাকায় রিভিউ ভিডিওর অফার দিলে কী করবেন? বড় সেলিব্রিটি লাগে না। নিজের এলাকার ছোট ক্রিয়েটর খোঁজা, কেনা ফলোয়ার চেনা, টাকা দেওয়ার নিয়ম আর ভিডিওর পরে আসল হিসাব, টাকার উদাহরণসহ।

এই লেখায় যা আছে
- ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কি, ছোট শপের জন্য কোনটা কাজে লাগে?
- ন্যানো, মাইক্রো না বড়, ফলোয়ার ধরে পার্থক্য
- নিজের এলাকার আর নিজের প্রোডাক্টের ক্রিয়েটর খুঁজবেন যেভাবে
- কেনা ফলোয়ার চিনবেন কীভাবে?
- টাকা কীভাবে দেবেন, প্রোডাক্ট, ফিক্সড না অর্ডারপ্রতি?
- ক্রিয়েটরকে কী লিখে দেবেন (এক পেজের ব্রিফ)
- "পেইড পার্টনারশিপ" লেবেল আর মিথ্যা দাবির ঝুঁকি
- কাজ হলো কি না, কোন সংখ্যা দেখবেন?
- কখন ইনফ্লুয়েন্সারে টাকা দেবেন না
ধরুন রাত এগারোটায় দিনের শেষ অর্ডারগুলো কনফার্ম করে ফোনটা রাখতে যাচ্ছেন, ঠিক তখন পেজের ইনবক্সে একটা মেসেজ এলো। "ভাই, আমার পেজে ৮০ হাজার ফলোয়ার। আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে একটা রিভিউ ভিডিও করে দিতে পারি, ১২ হাজার টাকা।" এই যে প্রস্তাবটা পেলেন, এটাই ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং।
সহজ করে বললে, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং মানে এমন একজন মানুষকে দিয়ে আপনার প্রোডাক্টের কথা বলানো, যাঁর কথা একদল মানুষ মন দিয়ে শোনেন আর বিশ্বাস করেন। তিনি নিজের ফেসবুক পেজ, প্রোফাইল বা টিকটকে আপনার প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে ভিডিও বা পোস্ট দেন। বিনিময়ে আপনি টাকা, প্রোডাক্ট বা প্রতি অর্ডারে একটা কমিশন দেন। ছোট শপের জন্য এর মানে বড় সেলিব্রিটি না। আপনার কাজে লাগবেন নিজের এলাকার বা নিজের প্রোডাক্টের লাইনের ছোট ক্রিয়েটর, যাঁর ফলোয়ার হয়তো পাঁচ-দশ হাজার, কিন্তু কমেন্টে আসল মানুষ কথা বলেন।
এখন ওই মেসেজে ফিরে যাই। ৮০ হাজার ফলোয়ার দেখে একটু লোভ লাগাটা স্বাভাবিক। আবার মনে পড়ে, গত মাসে অ্যাডে যে ডলার স্পেন্ড করেছিলেন তার হিসাবই এখনো মেলেনি। ১২ হাজার টাকা একটা ছোট শপের জন্য কম টাকা না। ভিডিওটা চলে গেল, অর্ডার এলো না, তখন টাকাটা ফেরত আসবে কোথা থেকে? ভয়টা ভুল না। তাই নিচে একে একে বলছি কাকে টাকা দেবেন, কাকে দেবেন না, কোন নিয়মে দেবেন, আর ভিডিওর পরে কোন সংখ্যা দেখে বুঝবেন টাকাটা কাজে লাগল কি না।
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কি, ছোট শপের জন্য কোনটা কাজে লাগে?
অ্যাড আর ইনফ্লুয়েন্সারের পার্থক্যটা আগে বুঝে নিন। অ্যাডে আপনি নিজেই নিজের প্রোডাক্টের প্রশংসা করেন, আর মানুষ জানেন এটা সেলারের নিজের কথা। ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিওতে একই কথা আসে এমন একজনের মুখ থেকে, যাঁকে দর্শক আগে থেকে চেনেন। তাই কথাটা বেশি বিশ্বাস করার মতো শোনায়। ফেসবুকে কেনার সময় কাস্টমারের সবচেয়ে বড় ভয় হলো "ছবির সাথে জিনিসটা মিলবে তো?" একজন চেনা মানুষ প্রোডাক্টটা হাতে নিয়ে খুলে দেখালে সেই ভয়টা অনেকটা কমে যায়।
ছোট শপের কাজে সবচেয়ে বেশি লাগে রিভিউ ভিডিও। ক্রিয়েটর প্রোডাক্টটা খোলেন, খেয়ে, পরে বা চালিয়ে দেখান, তারপর নিজের ভাষায় বলেন কেমন লাগল। এর কাছাকাছি আরেকটা ধরন হলো ক্রিয়েটরের নিজের ভিডিওর ভেতরে আপনার প্রোডাক্ট। যেমন সিলেটের একজন ভ্লগার চা বাগান ঘোরার ভিডিওর শেষে আপনার চা পাতার প্যাকেট খুলে এক কাপ চা বানালেন। দর্শক ভিডিওটা দেখতে এসেছিলেন বাগানের জন্য, চা পাতাটা দেখলেন বাড়তি হিসেবে, আর বিরক্তও হলেন না।
আরেকটা রাস্তা অনেকে জানেন না। Meta-তে ক্রিয়েটরের পোস্টটাই টাকা দিয়ে পার্টনারশিপ অ্যাড হিসেবে চালানো যায়। যে ভিডিও তাঁর পেজে মানুষের ভালো লেগেছে, সেটা অ্যাডে একবার চালিয়ে দেখার মতো। এর জন্য ক্রিয়েটর বাড়তি টাকা চাইতে পারেন, আগেই কথা বলে নিন।
উল্টো দিকে "শাউটআউট", মানে কেউ স্টোরিতে দুই সেকেন্ডের জন্য আপনার পেজের নাম বলে দিলেন, এতে অর্ডার খুব কমই আসে, কারণ মানুষ প্রোডাক্টটা দেখলেনই না। আর এমন সেলিব্রিটি দিয়ে শুরু করবেন না, যাঁর এক পোস্টের দাম আপনার পুরো মাসের অ্যাড বাজেটের চেয়ে বেশি। ওই একটা পোস্ট খারাপ গেলে পুরো মাসটাই হাতছাড়া হয়ে যায়।
কমেন্টে অনেকে জিজ্ঞেস করেন, "ভাই, অ্যাড বন্ধ করে শুধু ইনফ্লুয়েন্সার দিয়ে চালানো যায়?" সত্যি কথা হলো, একটা ভিডিও দুই-তিন দিন অর্ডার আনে, তারপর থেমে যায়। প্রতিদিনের অর্ডার আসে অ্যাড আর পুরনো কাস্টমার থেকে। ক্রিয়েটরের ভিডিও সেখানে বিশ্বাসটা বাড়ায়, অ্যাডের জায়গা নেয় না।
ন্যানো, মাইক্রো না বড়, ফলোয়ার ধরে পার্থক্য
মার্কেটিংয়ের লোকেরা ক্রিয়েটরদের ফলোয়ার ধরে কয়েকটা নামে ডাকেন। এই ভাগের কোনো অফিসিয়াল সীমা নেই, একেক জায়গায় একেক রকম লেখা পাবেন। মোটামুটি ধরা হয়, এক হাজার থেকে দশ হাজার ফলোয়ার হলে ন্যানো, দশ হাজার থেকে এক লাখ হলে মাইক্রো, আর তার ওপরে বড় বা ম্যাক্রো। সংখ্যাগুলো মুখস্থ করার দরকার নেই। কোন ভাগের মানুষ কেমন, সেটা বুঝলেই চলবে।
ন্যানো ক্রিয়েটর বেশিরভাগ সময় একজন সাধারণ মানুষ, যিনি নিজের শখের জিনিস নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দেন। ধরুন রংপুরের একজন কলেজছাত্র শহরের খাবারের দোকান ঘুরে ভিডিও বানান। তাঁর ফলোয়ার হয়তো সাত হাজার, কিন্তু তাঁদের বেশিরভাগ রংপুরেরই, আর কমেন্টে বন্ধু-পরিচিতরা প্রশ্ন করেন। এমন কেউ অনেক সময় শুধু প্রোডাক্ট পেলেই খুশি মনে ভিডিও বানান, কারণ তাঁর কাছে কাজটা নতুন আর মজার। আপনার ঝুঁকি কম। আর আপনি যদি রংপুরে ডেলিভারি দেন, তাঁর দর্শকই আপনার কাস্টমার।

মাইক্রো ক্রিয়েটর এক ধাপ ওপরে। তিনি নিয়মিত কাজ করেন, ভিডিওর মান ভালো, আর তাঁর একটা নির্দিষ্ট বিষয় আছে, যেমন গ্যাজেট রিভিউ, ছেলেদের ফ্যাশন বা রান্না। তিনি টাকা নেবেন। কিন্তু তাঁর দর্শকরা ওই বিষয়েই আগ্রহী, তাই আপনার প্রোডাক্ট ঠিক লোকের সামনে যায়। ছোট শপের বেশিরভাগ সেলারের জন্য সবচেয়ে কাজের জায়গা এই দুই ভাগ।
বড় ক্রিয়েটরের ভিডিওতে ভিউ আসে অনেক, কিন্তু দর্শক নানা রকম। ধরুন আপনার পাঞ্জাবির দোকান। একজন কমেডি ক্রিয়েটরের দশ লাখ ভিউয়ের চেয়ে ছেলেদের ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা একজনের বিশ হাজার ভিউ বেশি অর্ডার আনতে পারে। কারণ ওই বিশ হাজার মানুষ ভিডিওটা দেখতেই এসেছিলেন কী পরবেন সেটা জানতে। ভিউ কত হলো তার চেয়ে কারা দেখলেন, সেটাই আসল।
নিজের এলাকার আর নিজের প্রোডাক্টের ক্রিয়েটর খুঁজবেন যেভাবে
সবচেয়ে ভালো নামগুলো পাবেন নিজের কাস্টমারের মুখে। কনফার্ম কলে বা ডেলিভারির পরের ফোনে একটা প্রশ্ন জুড়ে দিন, "ভাই, ফেসবুক বা টিকটকে খাবার নিয়ে কার ভিডিও দেখেন?" দশজনের উত্তরে দুই-তিনটা নাম বারবার আসবে। এই নামগুলো আপনার কাস্টমারের চেনা মুখ। কোনো এজেন্সির লিস্টে এর চেয়ে কাজের নাম পাবেন না।
এরপর ফেসবুক আর টিকটকের সার্চে যান। শহর আর বিষয় মিলিয়ে বাংলায় লিখে খুঁজুন, যেমন "সিলেট ফুড রিভিউ", "চট্টগ্রাম গ্যাজেট রিভিউ" বা "রংপুর ফুড ভ্লগ"। তারপর রিলস আর ভিডিওর ঘরে গিয়ে দেখুন কার ভিডিওর কমেন্টে মানুষ সত্যিই প্রশ্ন করছেন। "দাম কত?", "কোথায় পাব?", "ঢাকার বাইরে দেয়?" এমন কমেন্ট যাঁর ভিডিওতে বেশি, তাঁর দর্শক কেনার মুডে থাকেন।
আপনার লাইনের অন্য দোকানগুলোর দিকেও একবার চোখ রাখুন। আপনার মতো প্রোডাক্ট বিক্রি করে এমন পেজগুলোর পোস্টে কারা ট্যাগ হচ্ছেন, খেয়াল করুন। আর আপনার পেজে যাঁরা নিয়মিত সুন্দর রিভিউ লেখেন, তাঁদের প্রোফাইলেও একবার ঘুরে আসুন। খুশি কাস্টমার অনেক সময় নিজেই একজন ছোট ক্রিয়েটর। তাঁর কথা সবচেয়ে সত্যি শোনায়, কারণ তিনি প্রথমবার নিজের টাকায় কিনেছিলেন।
এভাবে দশ-বারোজনের একটা শর্টলিস্ট বানান। প্রত্যেকের পাশে লিখে রাখুন ফলোয়ার কত, শেষ দশটা ভিডিওতে গড়ে কত ভিউ, কমেন্টে কী ধরনের কথা হয়, আর তিনি কোন শহরের। লিস্টটা হাতে থাকলে কারও মিষ্টি কথায় ভুলবেন না।

কেনা ফলোয়ার চিনবেন কীভাবে?
এই ধাপটা বাদ দিলে সবচেয়ে বেশি টাকা জলে যায়। ফলোয়ার কেনা যায়, লাইকও কেনা যায়, আর বাইরে থেকে দেখে বোঝা কঠিন। কেনা ফলোয়ার কোনোদিন আপনার প্রোডাক্ট কিনবে না, কারণ ওগুলোর পেছনে কোনো কাস্টমার নেই। শর্টলিস্টের প্রত্যেককে নিচের চারটা লক্ষণে মিলিয়ে নিন।
- লাখের ওপর ফলোয়ার অথচ প্রতিটা পোস্টে লাইক-কমেন্ট মিলিয়ে কয়েকশো, এমন দেখলে প্রথমেই সন্দেহ করুন। একটা সহজ হিসাব আছে। শেষ দশটা পোস্টের লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার যোগ করে দশ দিয়ে ভাগ দিন, তারপর সেটাকে ফলোয়ার দিয়ে ভাগ দিয়ে ১০০ দিয়ে গুণ করুন। এটাকে বলে এনগেজমেন্ট রেট। ধরুন ওই ৮০ হাজার ফলোয়ারের পেজে শেষ দশ পোস্টে মোট ৪,০০০ সাড়া এসেছে, মানে গড়ে ৪০০। তাহলে রেট ০.৫%। কত হলে ভালো তার বাঁধা নিয়ম নেই, তাই শর্টলিস্টের সবার রেট পাশাপাশি লিখুন। একজনের রেট বাকিদের চেয়ে অনেক কম হলে সেখানে গোলমাল আছে।
- কমেন্টগুলো একই রকম হলে সাবধান হন। "Nice", "Wow", শুধু আগুন বা হার্টের ইমোজি, আর এমন নাম থেকে কমেন্ট, যাঁদের প্রোফাইলে ছবি নেই বা যাঁরা বাংলা বোঝেন বলে মনে হয় না। আসল দর্শক প্রশ্ন করেন, মজা করেন, একে অন্যকে ট্যাগ করেন।
- ভিউ আর ফলোয়ার না মিললেও বুঝবেন কিছু একটা ঠিক নেই। দুই লাখ ফলোয়ারের পেজে রিলের ভিউ মাসের পর মাস তিন-চার হাজারে আটকে আছে, এটা খারাপ লক্ষণ। উল্টোটা কিন্তু খারাপ না। ফলোয়ার অল্প অথচ ভিউ বেশি মানে ভিডিওগুলো মানুষের ভালো লাগছে বলেই ছড়াচ্ছে।
- ফলোয়ার কোন দেশের, সেটা দেখাতে না চাইলে সেখানেই থামুন। ক্রিয়েটরের কাছে তাঁর পেজের ড্যাশবোর্ডের অডিয়েন্সের অংশটা চান, যেখানে ফলোয়াররা কোন দেশ আর কোন শহরের সেটা দেখা যায়। স্ক্রিনশট না চেয়ে ছোট একটা স্ক্রিন রেকর্ডিং চান, কারণ স্ক্রিনশট এডিট করা সহজ। বাংলাদেশে COD-তে বিক্রি করলে ফলোয়ারের বড় অংশ বাংলাদেশের হতেই হবে।
যিনি এসব প্রশ্ন শুনে রেগে যান বা কথা ঘুরিয়ে দেন, তাঁর সাথে কাজ না করাই ভালো। যাঁর ফলোয়ার আসল, তিনি জানেন দোকানদাররা এগুলো দেখেন। নিজের সংখ্যা দেখাতে তাঁর আপত্তি থাকে না, বরং দেখাতে পেরে খুশিই হন।

টাকা কীভাবে দেবেন, প্রোডাক্ট, ফিক্সড না অর্ডারপ্রতি?
ক্রিয়েটরকে টাকা দেওয়ার তিনটা চেনা নিয়ম আছে, আর প্রতিটায় ঝুঁকিটা পড়ে আলাদা আলাদা ঘাড়ে।
সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো শুধু প্রোডাক্ট দেওয়া। আপনি প্রোডাক্ট পাঠান, তিনি ভিডিও বানান। ন্যানো ক্রিয়েটরের সাথে এভাবে শুরু করা যায়, আর আপনার খরচ শুধু প্রোডাক্ট আর কুরিয়ার। কিন্তু ভিডিও কবে আসবে, কেমন আসবে, তার ওপর আপনার জোর কম। তাই প্রোডাক্ট পাঠানোর আগেই মেসেজে কথা বলে নিন যে এর বিনিময়ে একটা ভিডিও হবে, কোন সপ্তাহের মধ্যে।
মাইক্রো আর বড় ক্রিয়েটররা সাধারণত ফিক্সড টাকায় কাজ করেন। একটা ভিডিও বা পোস্টের জন্য ঠিক করা টাকা, সাথে প্রোডাক্ট। অর্ডার আসুক বা না আসুক, টাকাটা যাবেই, তাই পুরো ঝুঁকি আপনার।
আর আছে অর্ডারপ্রতি কমিশন। প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ক্রিয়েটর একটা ঠিক করা টাকা পান, ফলে ঝুঁকি দুজনে ভাগ করে নেন। শুধু কমিশনে অনেক ক্রিয়েটর রাজি হন না। তবে অল্প ফিক্সড টাকা আর সাথে কমিশন, এমন মিশ্র প্রস্তাবে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কোনটা আপনার জন্য ভালো, টাকায় দেখলে পরিষ্কার হয়। নিচের সব সংখ্যা একটা উদাহরণ, কোনো ক্রিয়েটরের আসল রেট বা কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম আর খরচ বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন আপনি ঘানিতে ভাঙা সরিষার তেল বিক্রি করেন, দুই লিটারের বোতল ৭৫০ টাকা। কেনা আর বোতল-প্যাকেট মিলিয়ে আপনার পড়ে ৫২০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। তাহলে একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে হাতে থাকে ২৩০ টাকা। একটা পার্সেল ফেরত এলে কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে ধরুন ১২০ টাকা যায়। একজন মাইক্রো ফুড ক্রিয়েটরকে ভিডিওর জন্য দুই বোতল তেল পাঠালেন, কুরিয়ারসহ খরচ ১,১০০ টাকা।
তিনি দুটো প্রস্তাব দিলেন। একটা হলো ভিডিওর জন্য ফিক্সড ৪,০০০ টাকা। অন্যটা ১,০০০ টাকা ফিক্সড আর প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ৬০ টাকা। ভিডিওর পরে তাঁর কোড দিয়ে এলো ২৫টা অর্ডার। ডেলিভারি হলো ২০টা, ফেরত এলো ৫টা।
| হিসাব | ফিক্সড ৪,০০০ টাকা | ১,০০০ টাকা + ডেলিভারিপ্রতি ৬০ টাকা |
|---|---|---|
| ২০টা ডেলিভারি থেকে হাতে | ৪,৬০০ টাকা | ৪,৬০০ টাকা |
| ক্রিয়েটরের টাকা | ৪,০০০ টাকা | ১,০০০ + (২০ × ৬০) = ২,২০০ টাকা |
| পাঠানো তেল আর ৫টা ফেরতের খরচ | ১,১০০ + ৬০০ = ১,৭০০ টাকা | ১,৭০০ টাকা |
| শেষে থাকল | ১,১০০ টাকা লস | ৭০০ টাকা লাভ |
ভিডিও একই, অর্ডারও একই। তবু এক নিয়মে ১,১০০ টাকা লস, আরেক নিয়মে ৭০০ টাকা লাভ। এবার ধরুন ভিডিওটা ভালো চলেনি, ডেলিভারি হলো মাত্র ৬টা, ফেরত ২টা। ফিক্সড নিয়মে লস দাঁড়ায় প্রায় ৪,০০০ টাকা, মিশ্র নিয়মে ১,৩০০ টাকার মতো। আবার ভিডিওটা খুব ছড়িয়ে গেলে, ধরুন ৬০টা ডেলিভারি হলো, তখন ফিক্সড নিয়মেই আপনার লাভ বেশি থাকে, কারণ ক্রিয়েটরের টাকা আর বাড়ে না।

তাহলে নিয়মটা সোজা। কাউকে প্রথমবার নিচ্ছেন, তাহলে মিশ্র প্রস্তাব দিন। তাঁর ভিডিওতে ভালো অর্ডার আসে দেখে নিলে তখন ফিক্সড টাকায় যান। আর টাকা ঠিক করার আগে হিসাব করে নিন কয়টা ডেলিভারি হলে খরচ উঠবে। ওপরের উদাহরণে ৪,০০০ আর ১,১০০ টাকা তুলতে অন্তত ২৩টা ডেলিভারি লাগে, ফেরত ধরলে আরও বেশি। তাঁর আগের ভিডিও দেখে এত অর্ডার আসার কথা মনে না হলে দামাদামি করুন বা অন্য কাউকে খুঁজুন।
ক্রিয়েটরকে কী লিখে দেবেন (এক পেজের ব্রিফ)
ক্রিয়েটর আপনার প্রোডাক্ট আপনার মতো চেনেন না। তিনি ভুল দাম বললে কনফার্ম কলে কাস্টমার রাগ করেন, "ভিডিওতে তো অন্য দাম বলল!" আর তিনি যদি উৎসাহে বলে ফেলেন "এই তেলে কোলেস্টেরল কমে", সেই কথার দায় পড়ে আপনার দোকানের ঘাড়ে। এজন্য ভিডিওর আগে এক পেজের একটা ব্রিফ লিখে দিন। মুখে না বলে মেসেজে পাঠান, যাতে কী কথা হয়েছিল তার রেকর্ড থাকে। ব্রিফে এই কথাগুলো রাখুন।
- প্রোডাক্টটা কোথা থেকে আসে, কীভাবে বানানো, কোন সাইজ, দাম কত, ডেলিভারি চার্জ কত আর কত দিনে পৌঁছায়, সব লিখে দিন। দামটা ক্রিয়েটরের আন্দাজের ওপর ছাড়বেন না।
- কী বলা যাবে না, সেটাও লিখুন। রোগ সারে, ওজন কমে, "এর চেয়ে খাঁটি দেশে নেই", এমন কোনো কথা চলবে না যা আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না। অন্য দোকানের নাম নিয়ে খারাপ কথাও না।
- ভিডিওতে প্রোডাক্টটা সত্যি খুলে, খেয়ে বা পরে দেখাতে বলুন, আর পার্সেলটা কেমন অবস্থায় পৌঁছেছে সেটাও। আপনার কাস্টমাররা ইনবক্সে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন করেন, তার উত্তরটা যেন ভিডিওতে থাকে।
- অর্ডার কোথা থেকে হবে, সেটা পরিষ্কার করে দিন। আপনার পেজ বা ওয়েবসাইটের লিংক, আর তাঁর নিজের কুপন কোড, যেটা তিনি ভিডিওতে মুখে বলবেন আর ক্যাপশনে লিখবেন। পোস্টে Paid partnership লেবেল থাকবে আর আপনার পেজ ট্যাগ হবে, এটাও লিখে দিন।
- কবে পোস্ট হবে, কতদিন থাকবে, আর ভিডিওটা আপনি নিজের পেজে দিতে বা অ্যাডে চালাতে পারবেন কি না, পারলে কতদিন, এসব আগেই ঠিক করে নিন।
- টাকা কত, কবে আর bKash না অন্য কোনো উপায়ে দেবেন, লিখে রাখুন। কমিশন হলে কোন তারিখ পর্যন্ত ডেলিভারি হওয়া অর্ডার গোনা হবে আর হিসাবটা কবে মিলিয়ে দেবেন, সেটাও।
একটা জিনিস করবেন না। পুরো স্ক্রিপ্ট লিখে মুখস্থ করিয়ে দেবেন না। দর্শক ক্রিয়েটরকে চেনেন, তিনি হঠাৎ বিজ্ঞাপনের ভাষায় কথা বললে সবাই ধরে ফেলেন, আর তখন বিশ্বাসটাই চলে যায়। তথ্য আর নিষেধগুলো বেঁধে দিন, বাকিটা তাঁকে নিজের মতো বলতে দিন। পোস্টের আগে ভিডিওটা একবার দেখে নিতে পারেন, তবে শুধু তথ্য মেলাতে। প্রথম দুই সেকেন্ডে কী দেখালে মানুষ স্ক্রল থামান, সেটা ফেসবুক রিলস ভিডিওর লেখায় আছে, ক্রিয়েটরকেও পাঠাতে পারেন।

ভিডিওটা নিজের কাছে রাখার অনুমতি পেলে সেটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজে, যেখানে ভিডিওর ঠিক নিচে অর্ডার ফর্ম থাকে। কাস্টমার ক্রিয়েটরের পোস্ট থেকে এসে পেজে আবার সেই চেনা মুখটা দেখেন, তাই ভরসা পান। WinningSeller-এর ল্যান্ডিং পেজে YouTube ভিডিও বসানো যায়। ভিডিওটা YouTube-এ আপলোড করে লিংকটা পেজের ভিডিও সেকশনে দিলেই হলো। পেজে প্রথমে শুধু ভিডিওর ছবিটা থাকে, কাস্টমার চাপ দিলে তবেই চলে, তাই পেজ খুলতে দেরি হয় না।
"পেইড পার্টনারশিপ" লেবেল আর মিথ্যা দাবির ঝুঁকি
অনেক সেলার ভাবেন, লেবেল দিলে মানুষ বুঝে যাবে টাকা দিয়ে করানো, তাতে বিশ্বাস কমবে। কিন্তু লেবেল না দিলে ঝুঁকিটা আরও বড়। Meta-র Branded Content Policies অনুযায়ী কোনো ক্রিয়েটর টাকা বা ফ্রি গিফটের মতো কোনো বিনিময় পেয়ে কোনো ব্যবসার প্রোডাক্ট নিয়ে পোস্ট দিলে সেটা ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট। তখন তাঁকে ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট টুল দিয়ে সেই ব্যবসার পেজ ট্যাগ করতে হয়, আর পোস্টে "Paid partnership" লেবেল দেখায়। মানে শুধু টাকা না, ফ্রি প্রোডাক্ট পাঠালেও নিয়মটা খাটে।
এতে আপনার লাভই আছে। ট্যাগ থাকলে দর্শক এক চাপে আপনার পেজে পৌঁছান। পোস্ট লাইভ হলে নিজে খুলে দেখে নিন লেবেল আর আপনার পেজের নাম এসেছে কি না।
টিকটকেও একই রকম নিয়ম। পোস্ট করার সময় কমার্শিয়াল কনটেন্ট জানিয়ে দেওয়ার একটা সুইচ আছে। ক্রিয়েটর সেটা চালু করে Branded content বেছে নিলে ভিডিওতে "Paid partnership" লেবেল আসে। টিকটক থেকে কীভাবে অর্ডার আনবেন আর মাপবেন, সেটা আলাদা করে টিকটক মার্কেটিংয়ের লেখায় আছে।
এবার আসল ঝুঁকির কথা। ক্রিয়েটর আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে যা বলেন, সেটাও আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির বিজ্ঞাপন। bdlaws.minlaw.gov.bd-তে থাকা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় লেখা আছে, কিছু বিক্রির উদ্দেশ্যে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের ঠকালে এক বছর পর্যন্ত জেল, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই হতে পারে। কাস্টমার পার্সেল খুলে ভিডিওর কথার সাথে জিনিস মেলাতে না পারলে রাগটা আসে আপনার দোকানের ওপর, কারণ টাকাটা তিনি আপনাকেই দিয়েছেন। অভিযোগ কীভাবে হয় আর অনলাইন সেলারের ওপর কোন নিয়ম খাটে, সেটা অনলাইন ব্যবসার নীতিমালার লেখায় বিস্তারিত আছে।
কাজ হলো কি না, কোন সংখ্যা দেখবেন?
ভিডিওতে পঞ্চাশ হাজার ভিউ দেখে মনটা ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ভিউ দিয়ে দোকানের ভাড়া দেওয়া যায় না। দেখুন কয়টা অর্ডার এলো, কয়টা ডেলিভারি হলো, আর প্রতিটা ডেলিভারির পেছনে কত টাকা গেল।
অর্ডার গোনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রতিটা ক্রিয়েটরের জন্য আলাদা কুপন কোড, যাতে কোড দিয়ে আসা অর্ডার তাঁর ঘরে ওঠে। যাঁরা কোড না লিখেই ইনবক্সে অর্ডার দেন, তাঁদের ধরতে কনফার্ম কলে জিজ্ঞেস করুন, "ভাই, আমাদের কোথায় দেখেছিলেন?" কোডের নাম কেমন হবে, লিমিট কত দেবেন, আর একটা কোড কুপনের গ্রুপে ছড়িয়ে গেলে হিসাব কীভাবে গুলিয়ে যায়, সেটা কুপন কোড বানানোর লেখায় আলাদা করে আছে।
তারপর একটা হিসাব করুন।
ডেলিভারিপ্রতি খরচ = (ক্রিয়েটরের মোট টাকা + পাঠানো প্রোডাক্ট + কুপনের ছাড়) ÷ ডেলিভারি হওয়া অর্ডার
ওপরের তেলের উদাহরণে মিশ্র নিয়মে খরচ ছিল ২,২০০ + ১,১০০ = ৩,৩০০ টাকা, ধরুন কোডে কোনো ছাড় ছিল না। ২০টা ডেলিভারিতে ভাগ করলে প্রতিটায় ১৬৫ টাকা। এবার পাশে রাখুন আপনার ফেসবুক অ্যাডে একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আনতে কত যায়। ধরুন সেটা ২৫০ টাকা। তাহলে এই ক্রিয়েটর অ্যাডের চেয়ে সস্তায় অর্ডার এনেছেন, তাঁর সাথে আবার কাজ করুন। খরচ অ্যাডের চেয়ে অনেক বেশি হলে আরেকবার সুযোগ দিন অন্য প্রোডাক্টে বা অন্য ধরনের ভিডিওতে। দ্বিতীয়বারও একই হলে থামুন। মন খারাপ করবেন না, সবার দর্শক সব প্রোডাক্টের জন্য না।
গোনার জন্য সময়ও ঠিক রাখুন। কোডের শেষ তারিখ দুই-তিন সপ্তাহ পরে দিন, আর হিসাব মেলান সব পার্সেল ডেলিভারি বা ফেরত হয়ে যাওয়ার পরে। অর্ডার নেওয়ার দিনের সংখ্যা দেখে খুশি হবেন না, কারণ দরজা থেকে ফেরত আসা অর্ডার বিক্রি না।

WinningSeller-এ প্রতিটা ক্রিয়েটরের জন্য আলাদা কুপন বানানো যায়, পার্সেন্ট ছাড়, টাকা ছাড় বা ফ্রি ডেলিভারি দিয়ে। সাথে ঠিক করে দেওয়া যায় মোট কতবার চলবে, এক নম্বর থেকে কতবার নেওয়া যাবে, আর কবে শুরু কবে শেষ। প্রতিটা কুপন খুললে সেই কোড দিয়ে আসা অর্ডারগুলোর লিস্ট পাশাপাশি দেখা যায়। সেখান থেকে কোনটা ডেলিভারি হলো আর কোনটা ফেরত এলো, আলাদা করে খুঁজতে হয় না।
কখন ইনফ্লুয়েন্সারে টাকা দেবেন না
সব দোকানের জন্য এখনই এটা দরকার না। নিচের কোনোটা আপনার সাথে মিললে আগে সেটা ঠিক করুন, তারপর ক্রিয়েটরের কথা ভাবুন।
প্রোডাক্টে লাভ খুব কম হলে এটা পোষায় না। একটা অর্ডারে ৪০-৫০ টাকা লাভ থাকলে একজন ক্রিয়েটরের ৩,০০০ টাকা তুলতেই ষাট থেকে পঁচাত্তরটা ডেলিভারি লাগে। এমন প্রোডাক্ট বরং অন্য প্রোডাক্টের সাথে কম্বো করে বিক্রি করুন, তারপর কম্বোটা ক্রিয়েটরকে দিন।
স্টক বা ডেলিভারি নড়বড়ে হলেও থামুন। ভিডিও হঠাৎ ছড়িয়ে গেলে দুই দিনে একশো অর্ডার আসতে পারে। স্টক না থাকলে বা পার্সেল পৌঁছাতে দশ দিন লাগলে সেই একশো কাস্টমারই পেজে রাগী কমেন্ট লিখবেন। খুশির দিনটা তখন সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ হয়ে যায়।
অর্ডার নেওয়ার জায়গা ঠিক না থাকলেও টাকা জলে যায়। দর্শক ভিডিও দেখে আপনার পেজে এলেন, ইনবক্সে মেসেজ দিলেন, তিন ঘণ্টা উত্তর পেলেন না। এমন হলে ভিডিও যত ভালোই হোক, অর্ডারটা অন্য কেউ পায়। আগে ঝামেলা ছাড়া অর্ডার নেওয়ার একটা পথ বানান, একটা ল্যান্ডিং পেজ বা অন্তত ইনবক্সে দ্রুত উত্তর দেওয়ার মানুষ।
এসব ঠিক থাকলে আজই শুরু করতে পারেন, বড় কোনো খরচ ছাড়া। এই সপ্তাহে দশজন কাস্টমারকে জিজ্ঞেস করুন তাঁরা কার ভিডিও দেখেন। ফেসবুক আর টিকটকে নিজের শহরের নাম দিয়ে খুঁজে শর্টলিস্টটা বানান, প্রত্যেকের এনগেজমেন্ট রেট বের করুন। তারপর সবচেয়ে ভালো দুইজনকে প্রোডাক্ট আর অল্প টাকার মিশ্র প্রস্তাব দিন, প্রত্যেককে আলাদা কোড দিয়ে। এক মাস পরে হিসাবটা হাতে থাকবে। তখন আর কারও ফলোয়ারের সংখ্যা দেখে না, নিজের খাতার সংখ্যা দেখে ঠিক করবেন পরের টাকাটা কার পেছনে যাবে।
সাধারণ প্রশ্ন
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কি?
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং মানে এমন একজন মানুষকে দিয়ে আপনার প্রোডাক্টের কথা বলানো, যাঁর কথা একদল মানুষ মন দিয়ে শোনেন আর বিশ্বাস করেন। তিনি নিজের পেজ, প্রোফাইল বা টিকটকে ভিডিও বা পোস্ট দেন, আর বিনিময়ে আপনি টাকা, প্রোডাক্ট বা প্রতি অর্ডারে একটা কমিশন দেন। ছোট শপের জন্য সাধারণত বড় সেলিব্রিটির চেয়ে নিজের এলাকার বা নিজের প্রোডাক্টের লাইনের ছোট ক্রিয়েটর বেশি কাজের।
ইনফ্লুয়েন্সারকে কত টাকা দিতে হয়?
কোনো বাঁধা রেট নেই, ক্রিয়েটরভেদে আর প্ল্যাটফর্মভেদে রেট অনেক আলাদা হয়। তাই কয়েকজনের কাছ থেকে রেট জেনে নিন, আর টাকা ঠিক করার আগে হিসাব করুন কয়টা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার এলে খরচটা উঠবে। ছোট ক্রিয়েটরদের কেউ কেউ শুধু প্রোডাক্ট, বা প্রোডাক্টের সাথে অল্প টাকাতেও রাজি হন।
অল্প ফলোয়ারের ইনফ্লুয়েন্সার দিয়ে কি কাজ হয়?
হয়, যদি তাঁর ফলোয়াররা আপনার কাস্টমারের মতো মানুষ হন আর তাঁর কথায় সত্যিই সাড়া দেন। ফলোয়ার কম হলে খরচও কম, আর ছোট পেজের কমেন্টে সাধারণত আসল মানুষের কথাবার্তা বেশি থাকে। একজন বড় ক্রিয়েটরের বদলে তিন-চারজন ছোট ক্রিয়েটরকে আলাদা আলাদা কোড দিয়ে টেস্ট করলে কে কাজ করেন, সেটাও ধরা যায়।
কেনা ফলোয়ার কীভাবে বুঝব?
সবচেয়ে সহজ লক্ষণ হলো ফলোয়ারের তুলনায় লাইক, কমেন্ট আর ভিউ খুব কম, আর কমেন্টগুলো একই রকম ছোট কথা বা শুধু ইমোজি। ক্রিয়েটরের কাছে তাঁর পেজের অডিয়েন্সের একটা স্ক্রিন রেকর্ডিং চান, যেখানে ফলোয়াররা কোন দেশ আর কোন শহরের সেটা দেখা যায়। বাংলাদেশে COD-তে বিক্রি করলে ফলোয়ারের বড় অংশ বাংলাদেশের হতে হবে।
ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্টে কি পেইড পার্টনারশিপ লেবেল দিতে হয়?
হ্যাঁ, টাকা বা ফ্রি প্রোডাক্ট দিলে দিতে হয়। Meta-র Branded Content Policies অনুযায়ী এমন পোস্টে ক্রিয়েটরকে ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট টুল দিয়ে আপনার পেজ ট্যাগ করতে হয়, তখন পোস্টে Paid partnership লেবেল দেখায়। TikTok-এও পোস্ট করার সময় কমার্শিয়াল কনটেন্ট জানিয়ে দেওয়ার একটা অপশন আছে, সেটা চালু করতে হয়।
ইনফ্লুয়েন্সারকে টাকা আগে দেব, না পরে?
নতুন কারও সাথে প্রথমবার পুরো টাকা আগে না দিয়ে অর্ধেক আগে আর অর্ধেক পোস্ট হওয়ার পরে দেওয়ার প্রস্তাব দিন। কী পোস্ট হবে, কবে হবে আর কতদিন থাকবে, সেটা মেসেজে লিখে নিন, যাতে পরে কথা ঘুরে না যায়। যাঁর সাথে আগে ভালো কাজ হয়েছে, তাঁর বেলায় নিয়মটা সহজ করতে পারেন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


