WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১১ মিনিটে পড়া যায়

ঘর সাজানোর জিনিস পাইকারি না হাতে বানানো, না ভেঙে পৌঁছানোর নিয়ম

ওয়াল ডেকর, ফুলদানি, ল্যাম্প আর হাতের কাজের জিনিস অনলাইনে বেচতে চাইলে কোনটা চলে, পাইকারি কিনবেন না নিজে বানাবেন, ঘণ্টা ধরে হাতের কাজের দাম, মাপ বোঝানো ছবি, কাচ আর সিরামিকের প্যাকিং, কাস্টম অর্ডারে অগ্রিম আর কুরিয়ারের ক্ষতিপূরণের নিয়ম।

ঘর সাজানোর জিনিস পাইকারি না হাতে বানানো, না ভেঙে পৌঁছানোর নিয়ম
এই লেখায় যা আছে
  1. কোন ঘর সাজানোর জিনিস অনলাইনে চলে
  2. ঘর সাজানোর জিনিস পাইকারি কোথায়, না নিজে বানাবেন
  3. হাতের তৈরি জিনিসের দাম, ঘণ্টা ধরে (উদাহরণ)
  4. ঘরে সাজিয়ে ছবি, মাপ বোঝানো
  5. কাচ, সিরামিক আর কাঠ, না ভাঙার প্যাকিং
  6. কাস্টম অর্ডার আর অগ্রিম
  7. কোন মৌসুমে বেশি চলে
  8. কখন এই ব্যবসা আপনার জন্য না
  9. আজই করে ফেলুন

ঘর সাজানোর জিনিস পাইকারি কিনে বেচা যায়, আবার নিজে বা কারিগরকে দিয়ে বানিয়েও বেচা যায়, আর দুটোর হিসাব একদম আলাদা। পাইকারি জিনিসে লাভ আসে কেনা-বেচার দামের ফারাক থেকে, আর হাতের তৈরি জিনিসে লাভ আসে আপনার নকশা আর সময়ের দাম থেকে। দুই পথেই বড় বিপদ একটা, কুরিয়ারে ভাঙা, আর বেশিরভাগ কুরিয়ার ভাঙা কাচ-সিরামিকের টাকা দেয় না। তাই কোন জিনিস দিয়ে শুরু করবেন, হাতের কাজের দাম ঘণ্টা ধরে কীভাবে কষবেন, আর কীভাবে প্যাক করলে জিনিস আস্ত পৌঁছায়, এই তিনটাই এখানে আসল কাজ।

বিকেলে একটা মেসেজ আসে, "ভাই, দেয়ালের ওই কাঠের নকশাটা আমার নতুন বাসায় লাগাতে চাই, আমার নাম লিখে দেওয়া যাবে?" এমন অর্ডারে মন ভালো হয়, কারণ মানুষটা আপনার কাজ পছন্দ করেছেন। আবার একই সপ্তাহে আরেকটা ফোন আসে, "ভাই, ফুলদানি তো তিন টুকরা হয়ে এসেছে।" এই দুই অনুভূতির মাঝখানের কাজটাই এই ব্যবসা।

কোন ঘর সাজানোর জিনিস অনলাইনে চলে

অনলাইনে ঘর সাজানোর জিনিস কেনেন মূলত তিন ধরনের মানুষ। কেউ নতুন বাসায় উঠেছেন, দেয়াল খালি। কেউ উপহার খুঁজছেন, বিয়ে, নতুন বাসার দাওয়াত বা জন্মদিনে। আর কেউ নিজের ঘরের একটা কোণ বদলাতে চান। তিনজনেরই চোখে পড়ে এমন জিনিস, যেটা ছবিতে সুন্দর দেখায় আর হাতে পেয়ে ছবির মতোই লাগে।

কম ঝুঁকিতে ভালো চলে দেয়ালের কাঠ বা মেটালের নকশা, ফ্রেম, পাট আর বেতের ঝুড়ি, কুশন কভার, টেবিল রানার, হাতে আঁকা কাঠের নামফলক, আর ছোট গাছের টব। এগুলো ভাঙে কম, ওজন কম, আর পার্সেলে সহজে যায়। কাচের ফুলদানি, সিরামিকের শোপিস আর বড় আয়না দেখতে সুন্দর, কিন্তু অনলাইনে প্রথম দিনের জিনিস না। প্যাকিংয়ে হাত পাকার আগে এগুলো ধরবেন না।

আলো আর ঘড়ির জিনিসে একটা নিয়মের কথা আছে। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর BSTI-র ওয়েবসাইটের ৩১৫টা জিনিসের বাধ্যতামূলক তালিকায় ব্যাটারিতে চলা দেয়ালঘড়ি আছে, মান BDS 1722:2003। আর শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২২ জুন ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে, যেটা BSTI-র পেজের "নতুন ৭ টি" তালিকায় আছে, যোগ হয়েছে LED Luminaires। তাই LED ল্যাম্প, ঝুলানো বাতি বা দেয়ালঘড়ি বেচলে বা বানালে BSTI-র অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন আপনার জিনিস এই তালিকায় পড়ে কি না। নিজের মতো ধরে নেবেন না।

ঘর সাজানোর জিনিস পাইকারি কোথায়, না নিজে বানাবেন

পাইকারির পথে আগে একটা কথা স্বীকার করে নিই। ঘর সাজানোর জিনিসের জন্য আলাদা কোনো নামকরা পাইকারি বাজারের নাম ভরসা করার মতো কোনো খবরে পাওয়া যায়নি। The Daily Star বাংলার ২২ নভেম্বর ২০২৩-এর একটা লেখায় ঢাকায় এসব জিনিস কোথায় পাওয়া যায় তার লিস্ট আছে, যেমন ফ্রেম আর আয়নার জন্য নিউমার্কেট আর এলিফ্যান্ট রোড, ল্যাম্পশেডের জন্য নবাবপুর আর কাকরাইল, তামা-কাঁসার জিনিসের জন্য পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার আর তাঁতিবাজার। কিন্তু সেই লেখায় এগুলোর কোনোটাকে পাইকারি বাজার বলা হয়নি, তাই এগুলোকে সাপ্লায়ার খোঁজার শুরুর জায়গা ধরুন, দাম জিজ্ঞেস করার সময় বলুন কয়টা নেবেন।

প্লাস্টিকের ঘরের জিনিসের জন্য পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকা পরিচিত, আর The Business Standard আগস্ট ২০২৬-এ পাশের ইসলামবাগে প্লাস্টিকের ছোট কারখানার বড় একটা গুচ্ছের কথা লিখেছে, যেটা আমাদের পাইকারি মার্কেটের লিস্টে আছে। কাঠ, বাঁশ, বেত, পাট আর মাটির জিনিস অনেক জেলায় কারিগররা নিজেরাই বানান, আর মেলায় তাঁদের পাওয়া যায়।

পাইকারি জিনিসের সমস্যা হলো, একই জিনিস আরও দশজন বেচেন, একই ছবিতে। তখন দামের লড়াই, আর ঘর সাজানোর জিনিসে দামের লড়াই মানে প্যাকিংয়ে কম খরচ, তারপর ভাঙা পার্সেল। হাতের তৈরি জিনিসের সুবিধা হলো আপনার নকশা আর কারও কাছে নেই। অসুবিধা হলো সময় লাগে, আর একই জিনিস দশটা একরকম বানানো কঠিন।

একটা ছোট ঘরোয়া কর্মশালায় একজন তরুণ কারিগর টেবিলে রাখা একটা কাঠের দেয়ালের নকশায় তুলি দিয়ে রং করছেন, পাশে রঙের কৌটা, স্যান্ডপেপার আর আরও দুটো শুকাতে দেওয়া একই নকশা
একই নকশা পাঁচটা একরকম হলে তবেই লিস্টিং

মাঝের একটা পথ অনেকের জন্য ভালো কাজ করে। নিজে নকশা ঠিক করেন, কারিগরকে দিয়ে বানান, আর নিজে ফিনিশিং, রং আর প্যাকিং করেন। কারিগরের সাথে কাজ শুরু করলে প্রথমে পাঁচটা বানিয়ে নিন, পাঁচটাই হাতে নিয়ে মিলিয়ে দেখুন একরকম হয়েছে কি না। ছবিতে যা দেখাবেন, কাস্টমার ঠিক সেটাই আশা করবেন। প্রতিটা নকশার একটা নমুনা নিজের কাছে রেখে দিন, পরের লটে মেলানোর জন্য।

হাতের তৈরি জিনিসের দাম, ঘণ্টা ধরে (উদাহরণ)

হাতের কাজের দাম ঠিক করতে গিয়ে প্রায় সবাই একই ভুল করেন। উপকরণের দাম যোগ করে, তার ওপর কিছু বসিয়ে দাম ঠিক করেন। নিজের সময়টা হিসাবেই আসে না। প্রথম কয়েক মাস মনে হয় ভালোই চলছে, তারপর একদিন টের পান সারা সপ্তাহ কাজ করে হাতে প্রায় কিছুই থাকছে না।

উদাহরণ। সব অঙ্ক ধরে নেওয়া, আপনার জিনিস দিয়ে আবার কষুন। ধরুন একটা হাতে আঁকা কাঠের দেয়ালের নকশা বানাবেন। কাঠ ২২০ টাকা, রং ৯০ টাকা, বার্নিশ আর হুক ৭০ টাকা, মানে উপকরণ ৩৮০ টাকা। ঘড়ি ধরে দেখলেন একটা বানাতে ৪ ঘণ্টা লাগে, আর নিজের সময়ের দাম ধরলেন ঘণ্টায় ১৫০ টাকা, মানে মজুরি ৬০০ টাকা। প্যাকিং, মানে বাবল র‍্যাপ, কোনার গার্ড আর ৫ প্লাই কার্টন, ১২০ টাকা। প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে অ্যাডের খরচ ২০০ টাকা। ভাঙা আর ফেরতের ঝুঁকির জন্য রাখলেন ১৩০ টাকা।

খাত টাকা
উপকরণ ৩৮০
প্যাকিং ১২০
অ্যাড, প্রতি ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ২০০
ভাঙা আর ফেরতের ঝুঁকি ১৩০
মজুরি ছাড়া খরচ ৮৩০
আপনার ৪ ঘণ্টার মজুরি ৬০০

এবার দুটো দাম পাশাপাশি দেখুন। বাজারে কারখানার একই রকম জিনিস ১,০০০ টাকায় পাওয়া যায় বলে আপনিও ১,০০০ টাকা রাখলেন। তাহলে হাতে থাকে ১,০০০ − ৮৩০ = ১৭০ টাকা, চার ঘণ্টার কাজে। মানে ঘণ্টায় সাড়ে বিয়াল্লিশ টাকা, একজন দিনমজুরের চেয়েও কম। আর দাম যদি রাখেন ১,৭৫০ টাকা, তাহলে মজুরি ছাড়া খরচ বাদে থাকে ৯২০ টাকা। তার থেকে নিজের ৬০০ টাকা মজুরি নিলে ব্যবসার লাভ থাকে ৩২০ টাকা।

একটা পরিষ্কার নকশা, একটা কাঠের দেয়ালের নকশার ছবির পাশে দাম ভাগ করে দেখানো একটা বার, উপকরণ, প্যাকিং, অ্যাড, ঝুঁকি আর মজুরি আলাদা রঙে, নিচে দুটো দামের পাশাপাশি তুলনা, এক হাজার টাকায় ঘণ্টায় সাড়ে বিয়াল্লিশ টাকা আর সতেরোশো পঞ্চাশ টাকায় পুরো মজুরি আর লাভ
নিজের ঘণ্টা হিসাবে না আনলে হাতের কাজে মজুরি হারিয়ে যায়

১,৭৫০ টাকায় কেউ কিনবেন কি না, সেটা নির্ভর করে আপনি কী দেখাচ্ছেন তার ওপর। কারখানার জিনিসের সাথে পাল্লা দিলে হারবেন। কিন্তু যদি দেখান যে নকশাটা হাতে আঁকা, নাম লিখে দেওয়া যায়, আর এমনটা বাজারে নেই, তাহলে অন্য কাস্টমার আসবেন, যিনি দাম না, জিনিসটা খুঁজছেন। আর ঘণ্টা কমানোর চেষ্টাও করুন। একসাথে পাঁচটা বানালে প্রতিটায় সময় কম লাগে, কারণ রং মেশানো আর শুকানোর সময় ভাগ হয়ে যায়।

ঘরে সাজিয়ে ছবি, মাপ বোঝানো

ঘর সাজানোর জিনিস কাস্টমার কেনেন কল্পনা করে, "আমার দেয়ালে এটা কেমন লাগবে।" তাই সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবির সাথে অন্তত একটা ছবি দিন আসল ঘরে, আসল দেয়ালে বা তাকে। আর প্রতিটা জিনিস একই তাকে, একই আলোয় তুলুন, তাহলে পেজের সব ছবি একসাথে গোছানো দেখায়।

মাপ বোঝানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পাশে একটা চেনা জিনিস রাখা। একটা সাধারণ বই, একটা চায়ের কাপ বা একটা মোবাইল ফোন। ছবিতে একটা ফুলদানি দেখে কেউ বুঝবেন না সেটা ছয় ইঞ্চি না এক ফুট, কিন্তু পাশে বই থাকলে সাথে সাথে বোঝেন। লেখায় সেন্টিমিটার আর ইঞ্চি দুটোতেই মাপ দিন। আর একটা নিয়ম কখনো ভাঙবেন না, যে ছবি নিজে তোলেননি, মানে সাপ্লায়ারের ক্যাটালগ বা অন্য কারও ছবি, সেটা দেবেন না। হাতে পেয়ে রং বা ফিনিশ না মিললেই ফেরত।

একটা কাঠের তাকে একটা হাতে আঁকা মাটির ফুলদানি রাখা, ঠিক পাশে একটা সাধারণ বই দাঁড় করানো, পেছনে হালকা রঙের দেয়ালে জানালার আলো, কোনো মানুষ নেই
পাশে একটা বই, আর মাপ নিয়ে কাউকে প্রশ্ন করতে হয় না

ভিডিওর কথাও বলি। এক মিনিটের একটা ভিডিওতে জিনিসটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে দেখান, কাছ থেকে ফিনিশ দেখান, তারপর দেয়ালে বা তাকে বসিয়ে দেখান। হাতের কাজের সূক্ষ্মতা ছবিতে যতটা ধরা পড়ে, ভিডিওতে তার চেয়ে বেশি। WinningSeller-এ এই ভিডিওর YouTube লিংক প্রোডাক্টের "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে দিলে অর্ডার বাটনের নিচে ভিডিও দেখার বাটন আসে, আর ল্যান্ডিং পেজের "ঘর আর কিচেন" টেমপ্লেটে ডেমো ভিডিও, মাপের বিবরণ আর প্যাকেজ কার্ডের অংশ আগে থেকেই সাজানো থাকে। একই জিনিস কয়েক রঙে বানালে প্রোডাক্টের রঙের অপশনে প্রতিটা রঙের পাশে "ছবি বাছুন" দিয়ে সেই রঙের ছবি জুড়ে দিন, তাহলে কাস্টমার যে রং বাছেন, গ্যালারিতে আর অর্ডারে সেই রঙের ছবিটাই থাকে। বাকিগুলো WinningSeller-এর ফিচারের তালিকায় একসাথে আছে।

ছবি তোলার সময় একটা ছোট কাজ করে রাখুন যেটা পরে অনেক সময় বাঁচায়। প্রতিটা জিনিসের মাপ, ওজন আর কোন উপকরণে তৈরি, একটা খাতায় বা ফোনের নোটে লিখে রাখুন। ইনবক্সে প্রশ্ন এলে, বা কুরিয়ারে ওজন বলতে হলে, আর মাপার ফিতা খুঁজতে হবে না।

কাচ, সিরামিক আর কাঠ, না ভাঙার প্যাকিং

প্যাকিংয়ের আগে কুরিয়ারের নিয়মটা জানুন, কারণ ভাঙলে কে দায় নেবে সেটা এখানেই ঠিক হয়। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Steadfast-এর শর্তের বাংলা পেজে লেখা আছে, ভঙ্গুর আর তরল জিনিসের ক্ষতির টাকা তারা দেয় না, উদাহরণে কাচের জিনিস আর সিরামিক নাম ধরে আছে। RedX-এর প্রশ্নোত্তরের পেজে লেখা, প্যাকেজিংয়ের দুর্বলতায় জিনিস নষ্ট হলে রিফান্ড হবে না, আর হোম ডেলিভারিতে কাস্টমারকে রাইডারের সামনেই জিনিস দেখে নিতে হবে। eCourier-এর শর্তে লেখা, কাচের প্রতিটা জিনিস বাবল র‍্যাপে মুড়ে শক্ত বক্সে ভরতে হবে, আর বিমা না করা পার্সেলে তাদের দায় ইনভয়েসের দাম বা ৫০০ টাকা, যেটা কম। পার্সেলের দাম ঘোষণা করে আলাদা ফি দিলে বিমা নেওয়া যায়, সাথে প্রতিটায় ৫০ টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি। eCourier-এর হেল্প পেজে ভাঙার মতো আর তরল জিনিসের আলাদা একটা সার্ভিসও আছে, বক্সের সাইজ ধরে ২৫, ৫০ বা ১০০ টাকা বাড়তি, তবে শুধু বিভাগীয় শহর থেকে পাঠালে। Pathao-র হেল্প পেজে আবার খুব ভঙ্গুর জিনিস তারা ডেলিভারিই দেয় না বলে লেখা।

মানে সোজা কথা, ভাঙলে টাকাটা সাধারণত আপনার। তাই প্যাকিং এমন হতে হবে যেন বক্সটা কেউ ফেলে দিলেও জিনিস না ভাঙে। কাচ আর সিরামিকের জন্য ধাপগুলো এমন। প্রথমে জিনিসের ভেতরের ফাঁকা অংশ, যেমন ফুলদানির পেট, কাগজ দিয়ে ভরুন। তারপর অন্তত দুই-তিন পাক বাবল র‍্যাপ, বাবলগুলো ভেতরের দিকে। তারপর একটা শক্ত ছোট বক্স, চারপাশ থেকে নড়বে না এমন। সেই বক্স আবার একটা বড় কার্টনে, মাঝখানে চারপাশে কাগজ বা বাবল র‍্যাপের ফাঁক। বক্সের মধ্যে বক্স, এটাই কাচের নিয়ম।

একজন যুবক প্যাকিং টেবিলে একটা সিরামিকের ফুলদানি বাবল র‍্যাপে কয়েক পাক মুড়ছেন, ফুলদানির ভেতরে কাগজ ঠাসা, পাশে একটা ছোট শক্ত বক্স আর একটা বড় কার্টন খোলা
ভেতরে কাগজ, বাইরে কয়েক পাক বাবল, তারপর বক্সের ভেতর বক্স

কাঠের জিনিস ভাঙে কম, কিন্তু কোনা থেঁতলে যায় আর রঙে ঘষা লাগে। কোনায় কার্ডবোর্ডের গার্ড দিন, রঙের ওপর একটা পাতলা কাগজ দিয়ে তারপর বাবল র‍্যাপ, যাতে বাবলের দাগ বার্নিশে না বসে। কোন বক্স কত টাকায় পাবেন, ৩ প্লাই না ৫ প্লাই, সেটা কুরিয়ারের জন্য প্যাকেজিংয়ের লেখায় বিস্তারিত আছে।

নতুন কোনো জিনিস লিস্ট করার আগে একটা পরীক্ষা করুন। পুরো প্যাক করা বক্সটা কোমর সমান উঁচু থেকে শক্ত মেঝেতে ফেলুন, চার দিক থেকে একবার করে। তারপর খুলে দেখুন। ভাঙলে প্যাকিং বদলান, তারপর আবার ফেলুন। একটা জিনিস এই পরীক্ষায় নষ্ট করা অনেক সস্তা, পঞ্চাশটা কাস্টমারের বাসায় ভাঙা পৌঁছানোর চেয়ে।

একটা ঘরের মেঝেতে একজন তরুণ সেলার কোমর সমান উঁচু থেকে একটা টেপ দিয়ে বন্ধ করা কার্টন ছেড়ে দিচ্ছেন, পাশে একটা খোলা কার্টনে আগের পরীক্ষার জিনিস অক্ষত অবস্থায় রাখা
লিস্টিংয়ের আগে একবার ফেলে দেখুন, কাস্টমারের দরজার আগে

কাস্টম অর্ডার আর অগ্রিম

নাম লেখা নামফলক, নির্দিষ্ট মাপের ফ্রেম, পছন্দের রঙের দেয়ালের নকশা, এগুলো কাস্টম অর্ডার। আর কাস্টম অর্ডারের ঝুঁকি একটাই, কাস্টমার নিতে না চাইলে জিনিসটা আর কাউকে বেচা যায় না। "রাকিব ও তানিয়ার ঘর" লেখা নামফলক অন্য কেউ কিনবেন না। তাই কাস্টম কাজে অগ্রিম ছাড়া কাজ শুরু করবেন না। অনেক সেলার অর্ধেক টাকা আগে নেন, অন্তত উপকরণের খরচটা আগে নিন।

অর্ডার নেওয়ার সময় তিনটা জিনিস লিখে কাস্টমারকে পাঠান, আর তাঁর "ঠিক আছে" মেসেজটা রেখে দিন। নামের বানান আর লেখার ধরন, মাপ আর রং, আর কতদিনে দেবেন। বানানটা বিশেষ করে মিলিয়ে নিন, কাঠে একবার রং করে ফেললে ভুল বানান আর মোছা যায় না। নকশা পাকা হওয়ার আগে একটা ছোট স্কেচ বা আগের কাজের ছবি পাঠিয়ে মিলিয়ে নিন।

অগ্রিম নেওয়ার নিয়ম, bKash পেমেন্ট লিংক কীভাবে বানাবেন আর কাস্টমারকে কীভাবে বলবেন, সেটা bKash পেমেন্ট লিংক আর অগ্রিম নেওয়ার লেখায় আছে। WinningSeller-এ অর্ডার ফর্মে অনলাইন পেমেন্ট চালু করে নিলে শুধু ডেলিভারি চার্জ বা অগ্রিম নেওয়া যায়, bKash বা SSLCommerz-এ, আর আলাদা পেমেন্ট লিংকও পাঠানো যায়। কাস্টমারের নাম-বানান আর নকশার কথা তিনি অর্ডার ফর্মের নোটে লিখতে পারেন।

কোন মৌসুমে বেশি চলে

ঘর সাজানোর জিনিস বছরজুড়ে চলে, কিন্তু কয়েকটা সময়ে চাহিদা চোখে পড়ার মতো বাড়ে। দুই ঈদের আগে মানুষ ঘর গোছান, নতুন কুশন কভার আর পর্দার সাথে দেয়ালের জিনিসও কেনেন। শীতের মৌসুমে বিয়ের দাওয়াত বেশি, তাই উপহারের চাহিদা বাড়ে। আর বছরের শুরুতে অনেকে নতুন বাসায় ওঠেন, তখন খালি দেয়াল ভরানোর জিনিস চলে।

মৌসুমের জন্য কাজটা আগে থেকে করুন। হাতের কাজের জিনিস রাতারাতি বানানো যায় না, তাই ঈদের এক মাস আগে থেকে স্টক বানান আর ছবি তুলে রাখুন। ঈদের আগের সপ্তাহে কুরিয়ারে ভিড়, আর ভিড়ের পার্সেলে ঝাঁকুনিও বেশি, তাই ভঙ্গুর জিনিসের অর্ডার শেষ সপ্তাহের আগেই বন্ধ করে দিন।

কখন এই ব্যবসা আপনার জন্য না

যদি আপনার কাছে প্যাকিংয়ের জন্য আলাদা সময় আর জায়গা না থাকে, তাহলে কাচ আর সিরামিক দিয়ে শুরু করবেন না। একটা কাচের জিনিস ঠিকমতো প্যাক করতে দশ-পনেরো মিনিট লাগে, আর তাড়াহুড়োর প্যাকিং মানে ভাঙা পার্সেল। যদি শুধু সবচেয়ে কম দামে কারখানার জিনিস বেচতে চান, তাহলেও এই ব্যবসা কঠিন, কারণ প্যাকিং আর ভাঙার খরচ ছোট দামের জিনিসে মেটে না।

আর যদি বিদেশে বেচার কথা ভেবে হাতের কাজ শুরু করতে চান, তাহলে আগে দেশের কাস্টমারদের কাছে বেচে হাত পাকান। বিদেশের মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশ থেকে কী করা যায় আর কী যায় না, সেটা বাংলাদেশ থেকে Etsy আর Amazon-এ বেচার লেখায় আলাদা করে বলা আছে। আমার মতে দেশের প্রথম একশোটা কাস্টমারের কাছ থেকে যা শিখবেন, সেটাই পরে যেকোনো জায়গায় কাজে লাগবে।

আজই করে ফেলুন

  1. যে তিনটা জিনিস দিয়ে শুরু করতে চান, তার নাম লিখুন, আর পাশে লিখুন সেটা কাঠ, কাপড়, কাচ না সিরামিক।
  2. একটা জিনিস বানাতে কত সময় লাগে, আজই ঘড়ি ধরে একটা বানিয়ে দেখুন, আর ওপরের টেবিলে নিজের অঙ্ক বসান।
  3. বাসার একটা তাক আর একটা বই ঠিক করুন, প্রতিটা ছবি সেখানেই তুলবেন।
  4. নিজের কুরিয়ারের শর্তের পেজ খুলে ভঙ্গুর জিনিস আর ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী লেখা, পড়ে খাতায় টুকে রাখুন।
  5. একটা প্যাক করা বক্স কোমর সমান উঁচু থেকে ফেলে দেখুন।
  6. কাস্টম অর্ডারের জন্য তিন লাইনের একটা মেসেজ লিখে রাখুন, বানান, মাপ-রং আর কতদিনে দেবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

ঘর সাজানোর জিনিস কোথায় পাইকারি পাওয়া যায়?

প্লাস্টিকের ঘরের জিনিসের জন্য পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকা পরিচিত, আর The Business Standard আগস্ট ২০২৬-এ পাশের ইসলামবাগে প্লাস্টিকের ছোট কারখানার বড় গুচ্ছের কথা লিখেছে। কাঠ, বাঁশ, পাট আর মাটির হাতের কাজ অনেক সময় সরাসরি কারিগরের কাছ থেকে পাওয়া যায়। ঘর সাজানোর জিনিসের আলাদা কোনো নামকরা পাইকারি বাজারের নাম ভরসা করার মতো কোনো খবরে পাওয়া যায়নি, তাই নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড বা পুরান ঢাকার দোকান থেকে শুরু করে নিজে ঘুরে সাপ্লায়ার যাচাই করুন।

হাতের তৈরি জিনিসের দাম কীভাবে ঠিক করব?

উপকরণের খরচ, আপনার কাজের ঘণ্টা গুণ ঘণ্টাপ্রতি মজুরি, প্যাকিং, অ্যাডের খরচ আর ভাঙা বা ফেরতের ঝুঁকি যোগ করুন, তারপর তার ওপর লাভ বসান। একটা জিনিস বানাতে কত সময় লাগে, ঘড়ি ধরে একবার দেখে নিন। বাজারের সস্তা কারখানার জিনিসের দামের সাথে পাল্লা দিতে গেলে হাতের কাজে নিজের মজুরিই থাকে না।

কুরিয়ারে কাচ বা সিরামিকের জিনিস ভাঙলে টাকা পাওয়া যায়?

সাধারণ সার্ভিসে বেশিরভাগ সময় না। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Steadfast-এর শর্তে লেখা, ভঙ্গুর আর তরল জিনিসের ক্ষতির টাকা তারা দেয় না, উদাহরণে কাচের জিনিস আর সিরামিকও আছে। eCourier-এর শর্তে বিমা না করা পার্সেলে দায় ইনভয়েসের দাম বা ৫০০ টাকা, যেটা কম। তাই প্যাকিংটাই আসল ভরসা।

কাস্টম অর্ডারে কত টাকা অগ্রিম নেব?

অনেক সেলার কাস্টম কাজে অর্ধেক টাকা আগে নেন, কারণ নাম লেখা বা মাপমতো বানানো জিনিস অন্য কাউকে বেচা যায় না। অন্তত উপকরণের খরচটা আগে নিন। কোন কাজ কতদিনে দেবেন আর নকশা একবার পাকা হওয়ার পর বদলালে কী হবে, অর্ডার নেওয়ার সময়ই লিখে জানিয়ে দিন।

হাতের তৈরি জিনিস অনলাইনে বেচতে কি লাইসেন্স লাগে?

সাধারণ ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের কথা আগে ভাবুন। কিছু জিনিস BSTI-র বাধ্যতামূলক তালিকায় আছে, যেমন ব্যাটারিতে চলা দেয়ালঘড়ি, আর জুন ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে যোগ হয়েছে LED Luminaires। ল্যাম্প বা ঘড়ি বেচলে বা বানালে BSTI-র অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন আপনার জিনিস কোন নিয়মে পড়ে।

কোন ঘর সাজানোর জিনিস কুরিয়ারে সবচেয়ে কম ভাঙে?

কাঠ, বাঁশ, বেত, পাট, কাপড় আর ধাতুর জিনিস তুলনায় নিরাপদ, যেমন দেয়ালের কাঠের নকশা, পাটের ঝুড়ি, কুশন কভার আর মেটালের শোপিস। কাচ আর সিরামিক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির। শুরুটা নিরাপদ জিনিস দিয়ে করুন, কাচ ধরুন প্যাকিংয়ে হাত পাকার পর।

#ঘর সাজানোর জিনিস পাইকারি#হ্যান্ডমেড প্রোডাক্ট#হাতের তৈরি জিনিস#ঘর সাজানোর জিনিস#কাচ সিরামিক প্যাকিং#কাস্টম অর্ডার

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়