WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১২ মিনিটে পড়া যায়

বিকাশ পেমেন্ট লিংকে অগ্রিম নেবেন যেভাবে, ভুয়া স্ক্রিনশটের ভয় ছাড়া

কাস্টমারের স্ক্রিনশট দেখে বিশ্বাস করা আর রাত জেগে TrxID মেলানোর ঝামেলা কমান। পেমেন্ট লিংক বানাতে কী লাগে, কাস্টমারকে কী লিখে পাঠাবেন, ওয়েবসাইটের অর্ডারে শুধু ডেলিভারি চার্জ আগে নেবেন কীভাবে, আর ভুয়া পেমেন্ট ও রিফান্ড সামলাবেন যেভাবে।

বিকাশ পেমেন্ট লিংকে অগ্রিম নেবেন যেভাবে, ভুয়া স্ক্রিনশটের ভয় ছাড়া
এই লেখায় যা আছে
  1. বিকাশ পেমেন্ট লিংক কী, সেন্ড মানির সাথে পার্থক্য কোথায়?
  2. পেমেন্ট লিংকের জন্য কী লাগে?
  3. ইনবক্সের কাস্টমারকে লিংক পাঠাবেন যেভাবে, সাথে কী লিখবেন
  4. ওয়েবসাইটের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নেবেন যেভাবে (পার্শিয়াল COD)
  5. ভুয়া স্ক্রিনশট আর ভুল TrxID থেকে বাঁচবেন যেভাবে
  6. টাকা দিয়ে পরে বাতিল করলে রিফান্ড কীভাবে?
  7. কোন কাস্টমারকে লিংক পাঠাবেন, কাকে না?

বিকাশ পেমেন্ট লিংক হলো একটা লিংক, যেটা আপনি কাস্টমারকে ইনবক্সে বা SMS-এ পাঠান। কাস্টমার লিংকে চাপ দিলে পেমেন্টের পেজ খোলে, টাকার অঙ্ক সেখানে আগে থেকেই বসানো থাকে, আর তিনি নিজের bKash নম্বর আর পিন দিয়ে টাকাটা দেন। টাকা যায় আপনার ব্যবসার অ্যাকাউন্টে, আর লেনদেনের রেকর্ড থাকে bKash বা গেটওয়ের কাছে। কাস্টমারকে কোনো নম্বর টাইপ করতে হয় না, আপনাকেও কারও স্ক্রিনশট দেখে বিশ্বাস করতে হয় না। ডেলিভারি চার্জ বা অগ্রিম নেওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে কম ঝামেলার রাস্তা।

ঝামেলাটা কেমন, সেটা যিনি অগ্রিম নিয়েছেন তিনি জানেন। ধরুন রাত এগারোটায় একজন কাস্টমার ১৩০ টাকার একটা স্ক্রিনশট পাঠালেন। আপনি মার্চেন্ট অ্যাপ খুলে লেনদেনের লিস্টে খুঁজছেন, কিন্তু টাকাটা পাচ্ছেন না। তিনি বলছেন পাঠিয়েছেন, আপনি বলছেন আসেনি, আর অর্ডারটা মাঝখানে ঝুলে থাকে। আবার অনেক কাস্টমার অচেনা পেজের পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতেই ভয় পান, তাই অর্ডারটাই আর হয় না। এক রাতে এমন দুটো ঘটনা ঘটলে মনে হয়, অগ্রিম চাওয়াটাই বুঝি ভুল ছিল। পেমেন্ট লিংক এই দুটো ঝামেলাই অনেকখানি কমায়। কোন কাস্টমারের কাছে অগ্রিম চাইবেন আর কার কাছে চাইবেন না, সেটা শেষের দিকে বলেছি। আগে দেখি কাজটা কীভাবে করবেন।

বিকাশ পেমেন্ট লিংক কী, সেন্ড মানির সাথে পার্থক্য কোথায়?

সেন্ড মানিতে সব কাজ কাস্টমারের হাতে। তিনি আপনার নম্বর টাইপ করেন, টাকার অঙ্ক টাইপ করেন, তারপর আপনাকে জানান। নম্বরে একটা সংখ্যা ভুল হলে টাকা চলে যায় অন্য কারও কাছে। অঙ্কে ভুল হলে ১৩০ টাকার জায়গায় আসে ১০০ টাকা। আর টাকা এসেছে কি না, সেটা মেলাতে আপনাকে বসতে হয় কাস্টমারের দেওয়া TrxID নিয়ে।

পেমেন্ট লিংকে কাজটা উল্টো দিক থেকে শুরু হয়। কত টাকা নেবেন, সেটা আপনি আগেই লিংকে বসিয়ে দেন। কাস্টমার শুধু লিংক খোলেন, অঙ্কটা দেখেন, আর নিজের পিন দিয়ে টাকা দেন। ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার সুযোগ নেই, কম-বেশি টাকা যাওয়ার সুযোগও কম। আর পেমেন্টটা হয় bKash বা গেটওয়ের নিজের সিস্টেমে, তাই সেটা দেখতে আপনাকে কাস্টমারের কথার ওপর ভরসা করতে হয় না।

সেলাররা "পেমেন্ট লিংক" বলতে আসলে তিন রকম জিনিস বোঝান, আর তিনটার কাজ আলাদা।

একটা হলো bKash-এর নিজের লিংক। ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি The Business Standard-এ bKash-এর Business Dashboard চালুর খবর ছাপা হয়েছিল। সেখানে বলা আছে, মার্চেন্ট বা পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট আর একটা ইমেইল দিয়ে business.bkash.com-এ সাইন আপ করলে ড্যাশবোর্ড থেকে পেমেন্ট লিংক বানানো যায়। নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক বসিয়ে "Fixed Payment Link"-ও পাঠানো যায়, আর লিংকটা মেসেজ, SMS বা ইমেইলে দেওয়া যায়। খবরটা কয়েক বছর আগের, তাই এখনকার নিয়ম ড্যাশবোর্ডে ঢুকে মিলিয়ে নেবেন।

আরেকটা আসে গেটওয়ে থেকে। SSLCommerz-এর ওয়েবসাইটে Payment Links পেজে লেখা আছে, তাদের ড্যাশবোর্ড থেকে লিংক বানিয়ে SMS, ইমেইল, WhatsApp বা Facebook-এ পাঠানো যায়। টাকার অঙ্ক বসিয়ে দেওয়া যায়, আবার কাস্টমার নিজে অঙ্ক লিখবেন এমন লিংকও বানানো যায়। এই লিংকে কাস্টমার bKash ছাড়াও অন্য রাস্তায় টাকা দিতে পারেন।

শেষেরটা অর্ডারের লিংক। এটা আসে আপনার ওয়েবসাইট বা দোকানের সফটওয়্যার থেকে, আর এটা একটা নির্দিষ্ট অর্ডারের সাথে বাঁধা থাকে। আগের দুই রকম লিংক শুধু টাকা নেয়, কোন অর্ডারের টাকা সেটা জানে না, তাই মেলানোর কাজটা আপনার। অর্ডারের লিংকে টাকা এলে অর্ডারটাই নিজে থেকে আপডেট হয়ে যায়।

পেমেন্ট লিংকের জন্য কী লাগে?

সবার আগে লাগবে একটা ব্যবসার অ্যাকাউন্ট। পার্সোনাল bKash নম্বর দিয়ে পেমেন্ট লিংক হয় না, কারণ bKash-এর ঘোষণা অনুযায়ী Business Dashboard-এ সাইন আপ করতে মার্চেন্ট বা পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট লাগে। ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে শুরু করা যায়। কোন অ্যাকাউন্ট আপনার জন্য, কী কাগজ লাগে আর কীভাবে খুলবেন, সেটা ধাপে ধাপে আছে bKash মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার লেখায়।

গেটওয়ের লিংক বা ওয়েবসাইটের অর্ডারে অগ্রিম নিতে চাইলে লাগবে একটা পেমেন্ট গেটওয়ের অ্যাকাউন্ট। bKash-এর পেমেন্ট গেটওয়ে নিতে হয় bKash-এর Online Business পেজ থেকে আবেদন করে, আর এর জন্য ট্রেড লাইসেন্সসহ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট লাগে। SSLCommerz-এর মতো অ্যাগ্রিগেটরের নিজস্ব কাগজের লিস্ট আছে। কোন গেটওয়েতে কী কাগজ লাগে আর প্রতিটা পেমেন্ট থেকে কত চার্জ কাটে, সেটা পাশাপাশি দেওয়া আছে পেমেন্ট গেটওয়ের তুলনার লেখায়।

টাকার অঙ্কের একটা নিচের সীমাও থাকে। SSLCommerz-এর ডেভেলপার ডকুমেন্টে লেখা আছে, একটা লেনদেন হতে হবে ১০ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে। মানে ৫ টাকার মতো ছোট অগ্রিম এই রাস্তায় নেওয়া যাবে না। bKash-এর লিংকের সীমা কত, সেটা ড্যাশবোর্ডে দেখে নিন।

এবার সহজ একটা নিয়মে ঠিক করুন আপনি কোন রাস্তায় যাবেন। যদি ট্রেড লাইসেন্স না থাকে আর অর্ডার আসে মূলত ইনবক্সে, তাহলে পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট খুলে bKash-এর ড্যাশবোর্ডের লিংক দিয়ে শুরু করুন। আর যদি ট্রেড লাইসেন্স আর একটা চালু ওয়েবসাইট থাকে, সাথে দিনে অনেকগুলো অগ্রিম আসে, তাহলে গেটওয়ে নিয়ে ওয়েবসাইটের সাথে লাগিয়ে নিন। তখন মেলানোর কাজটাও আর হাতে করতে হয় না।

ইনবক্সের কাস্টমারকে লিংক পাঠাবেন যেভাবে, সাথে কী লিখবেন

লিংক পাঠানোর সবচেয়ে ভালো সময় কনফার্ম কলের ঠিক পরে। কাস্টমার তখনো প্রোডাক্টটা নিয়ে ভাবছেন, আগ্রহটাও সবচেয়ে বেশি। পরদিন সকালে লিংক গেলে তিনি হয়তো আর ইনবক্সটাই খোলেন না। হাতে কাজটা করলে এই ধাপগুলোতে করুন।

  1. অর্ডারটা খাতায় বা শিটে তুলুন। নাম, নম্বর, ঠিকানা, প্রোডাক্ট, মোট টাকা আর কত টাকা অগ্রিম নেবেন, সব এক লাইনে লিখুন।
  2. ড্যাশবোর্ডে ঠিক ওই অঙ্কের একটা লিংক বানান। কাস্টমার নিজে অঙ্ক লিখবেন এমন লিংক দেবেন না, কারণ তখন ১৩০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা এলে আবার সেই পুরনো তর্ক শুরু হয়।
  3. নিচের মেসেজের সাথে লিংকটা পাঠান।
  4. খাতায় লিখে রাখুন কাকে কখন কত টাকার লিংক গেল।
  5. টাকা এলে ড্যাশবোর্ডের লেনদেনের সাথে অঙ্ক আর সময় মিলিয়ে অর্ডারের পাশে TrxID লিখুন। তারপর পার্সেল বুক করার সময় কুরিয়ারের COD অঙ্ক থেকে অগ্রিমটা বাদ দিন।

মেসেজটা এভাবে লিখতে পারেন। নাম, প্রোডাক্ট আর টাকার অঙ্ক নিজেরটা বসিয়ে নিন।

"ভাই, আপনার অর্ডার নম্বর ১০৪৫, কালো পাঞ্জাবি, সাইজ L, মোট ১,৩৩০ টাকা। ডেলিভারি চার্জের ১৩০ টাকা অগ্রিম দিতে নিচের লিংকে চাপ দিন, bKash দিয়ে টাকা দিতে পারবেন। বাকি ১,২০০ টাকা পার্সেল হাতে পেয়ে দেবেন। টাকা দেওয়ার পর এখানে শুধু 'দিয়েছি' লিখলেই হবে, স্ক্রিনশট লাগবে না।"

মেসেজের প্রতিটা অংশের একটা কাজ আছে। অর্ডার নম্বর আর প্রোডাক্টের নাম থাকলে কাস্টমার বোঝেন টাকাটা কীসের জন্য। মোট টাকা আর বাকি টাকা আগে বলে দিলে দরজায় দাঁড়িয়ে "এত টাকা কেন" প্রশ্ন আসে না। আর "স্ক্রিনশট লাগবে না" লাইনটা কাস্টমারকে বুঝিয়ে দেয় আপনি নিজে মিলিয়ে দেখবেন, তাঁর দিক থেকে আর কিছু করার নেই।

তিন-চার ঘণ্টায় টাকা না এলে একবার মনে করিয়ে দিন, তারপর একটা ফোন দিন। বারবার মেসেজ দিলে কাস্টমার বিরক্ত হন। হয়তো তিনি লিংক খুলে পিন দিতে গিয়ে কোথাও আটকে গেছেন, আর লজ্জায় জিজ্ঞেস করছেন না। একটা ফোনেই সেটা মিটে যায়।

সবচেয়ে দামি ভুলটা হয় শেষ ধাপে। অগ্রিম নেওয়ার পর কুরিয়ারের COD অঙ্ক কমাতে ভুলে গেলে ডেলিভারিম্যান কাস্টমারের কাছে পুরো ১,৩৩০ টাকাই চাইবেন। কাস্টমার ভাববেন আপনি দুবার টাকা নিচ্ছেন, আর রেগে গিয়ে পার্সেলটাই ফেরত দিতে পারেন। তখন অগ্রিমের ১৩০ টাকা ফেরত দিতে হয়, ফেরতের চার্জও আপনার ঘাড়ে পড়ে, আর যে কাস্টমার খুশি হয়ে আবার কিনতে পারতেন তিনি আর ফেরেন না।

WinningSeller-এ এই মেলানোর কাজটা হাতে করতে হয় না। ইনবক্সের অর্ডারটা প্রথমে "নতুন অর্ডার" দিয়ে তুলে নিন। তারপর অর্ডারের পেজে "পেমেন্ট লিংক কপি করুন" চাপুন, কত টাকার লিংক সেটা লিখুন, আর "লিংক বানান" চাপুন। অঙ্ক না বদলালে লিংকটা হয় অর্ডারের পুরো বাকি টাকার, আর লিংকটা ৩ দিন কাজ করে। কাস্টমার লিংক খুললে দেখেন "এখন দিতে হবে" কত আর "প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে দেবেন" কত। টাকা এলে অর্ডারের অগ্রিম নিজে থেকে বাড়ে, আর পার্সেল বুক করার সময় কুরিয়ারের COD অঙ্ক সেই হিসাবেই কমে যায়। লিংক বানানো যায় শুধু সেই অর্ডারে, যেটা এখনো কুরিয়ারে যায়নি, আর তার আগে "অনলাইন পেমেন্ট" পেজে নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট চালু করে নিতে হয়।

একজন তরুণ পুরুষ সেলার দোকানের কাউন্টারে বসে মোবাইল থেকে কাস্টমারকে পেমেন্ট লিংক পাঠাচ্ছেন, পাশের খাতায় অর্ডার নম্বরের পাশে অগ্রিমের অঙ্ক লেখা
কনফার্ম কলের ঠিক পরে লিংক পাঠান, তখনই কাস্টমারের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি

ওয়েবসাইটের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নেবেন যেভাবে (পার্শিয়াল COD)

পার্শিয়াল COD মানে অর্ডারের একটা অংশ কাস্টমার আগে অনলাইনে দেন, আর বাকিটা কুরিয়ারকে দেন পার্সেল হাতে পেয়ে। ইনবক্সে এটা আপনি লিংক পাঠিয়ে করেন। ওয়েবসাইটে কাজটা আরও সহজ, কারণ কাস্টমার অর্ডার ফর্ম পূরণ করার পরেই টাকা দেওয়ার পেজে চলে যান। আলাদা করে লিংক পাঠাতে হয় না।

অগ্রিম নেওয়ার তিনটা ধরন আছে, আর কোনটা নেবেন সেটা নির্ভর করে প্রোডাক্টের দামের ওপর। একটা উদাহরণে দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না।

ধরুন আপনি ১,২০০ টাকার একটা পাঞ্জাবি বিক্রি করেন, আর ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা। অর্ডারের মোট দাঁড়ায় ১,৩৩০ টাকা।

অগ্রিমের ধরন কাস্টমার অনলাইনে দেন কুরিয়ার দরজায় তোলে
শুধু ডেলিভারি চার্জ ১৩০ টাকা ১,২০০ টাকা
নির্দিষ্ট অগ্রিম, ধরুন ৩০০ টাকা ৩০০ টাকা ১,০৩০ টাকা
পুরো টাকা ১,৩৩০ টাকা ০ টাকা

শুধু ডেলিভারি চার্জ নেওয়াটা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চলে, কারণ কাস্টমারের কাছে এটা ছোট একটা অঙ্ক। যিনি সত্যিই পাঞ্জাবিটা চান, ১৩০ টাকা দিতে তিনি দুবার ভাবেন না। আর যিনি মজা করে অর্ডার দিয়েছিলেন, তিনি সাধারণত এখানেই থেমে যান। ফেরত আসা একটা পার্সেলে যাওয়া-আসার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে আপনার যা যায়, ১৩০ টাকার অগ্রিম তার বড় একটা অংশ ঢেকে দেয়।

নির্দিষ্ট অগ্রিম কাজে লাগে দামি প্রোডাক্টে। ৪,০০০ টাকার একটা জুতা ফেরত এলে ক্ষতি শুধু চার্জে না, বাক্স খোলা জুতা পরের কাস্টমারকে বেচাও কঠিন। তখন ৩০০ বা ৫০০ টাকা অগ্রিম নিলে কাস্টমারও একটু ভেবে অর্ডার দেন। পুরো টাকা অগ্রিম নিলে মাথায় রাখবেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল কুরিয়ারের হাতে দিতে হয়। পুরো নিয়মটা সহজ ভাষায় আছে অনলাইন ব্যবসার নীতিমালা নিয়ে লেখায়।

হাতে করলে ওয়েবসাইট ছাড়াও পার্শিয়াল COD চালানো যায়। অর্ডার কনফার্ম করে লিংক পাঠান, টাকা এলে খাতায় অগ্রিমের ঘরে লিখুন, আর কুরিয়ারে বুক করার সময় COD-র ঘরে লিখুন মোট টাকা থেকে অগ্রিম বাদ দিয়ে যা থাকে। দিনে পাঁচ-দশটা অর্ডারে এটা সহজেই চলে। দিনে পঞ্চাশটা হলে রোজকার অনেকটা সময় চলে যায় শুধু মেলাতে, আর ক্লান্ত মাথায় একটা ভুল হলেই ওপরের সেই ঝামেলা।

WinningSeller-এর স্টোরে "অনলাইন পেমেন্ট" পেজে নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্টের তথ্য বসিয়ে চালু করে নিলে ঠিক এই কাজটা চেকআউটেই হয়। চালু না করা পর্যন্ত অর্ডার ফর্ম আগের মতো শুধু ক্যাশ অন ডেলিভারিতেই চলে। "বায়ার অনলাইনে কত দেবে" অংশে বেছে নেন পুরো টাকা, শুধু ডেলিভারি চার্জ, নাকি নির্দিষ্ট অ্যাডভান্স। "ক্যাশ অন ডেলিভারিও রাখুন" চালু রাখলে যে কাস্টমার অনলাইনে দিতে চান না, তিনিও অর্ডার করতে পারেন। টাকা যায় সরাসরি আপনার নিজের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে। কাস্টমার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত অর্ডারটা "পেমেন্ট বাকি" হয়ে অপেক্ষা করে, আর এই সময়ে সেটা কনফার্ম কলের লিস্টে ওঠে না, SMS-ও যায় না। আপনার ঠিক করা সময়ের মধ্যে টাকা না এলে অর্ডারটা বাতিল হয়ে স্টক ফেরত যায়। সময়টা ১৫ মিনিট থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখা যায়।

মোবাইলে একটা অর্ডারের পেমেন্ট পেজের ডিজাইন, ওপরে পাঞ্জাবির নাম আর মোট ১,৩৩০ টাকা, তার নিচে এখন দিতে হবে ১৩০ টাকা আর প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে দেবেন ১,২০০ টাকা, সবার নিচে বিকাশে পেমেন্টের বড় বাটন
শুধু ডেলিভারি চার্জ আগে, বাকিটা পার্সেল হাতে পেয়ে

শুরুতে ক্যাশ অন ডেলিভারির অপশনটা চালু রাখাই ভালো। কতজন অনলাইনে টাকা দিচ্ছেন আর কতজন COD বেছে নিচ্ছেন, দুই-তিন সপ্তাহ দেখুন। তারপর ঠিক করুন COD পুরো বন্ধ করবেন কি না। হঠাৎ বন্ধ করলে কিছু সত্যিকারের কাস্টমারও ফিরে যাবেন, যাঁরা অনলাইনে টাকা দিতে অভ্যস্ত না।

ভুয়া স্ক্রিনশট আর ভুল TrxID থেকে বাঁচবেন যেভাবে

অগ্রিম নিয়ে ঠকানোর চেষ্টা কয়েক রকমভাবে আসে। কেউ এডিট করা স্ক্রিনশট পাঠান, কেউ পাঠান অন্য দিনের পুরনো স্ক্রিনশট। কেউ অন্য কারও পেমেন্টের TrxID দেন, আবার কেউ কম টাকা পাঠিয়ে বলেন পুরোটাই পাঠিয়েছেন। সবগুলোর উত্তর একটাই নিয়ম। টাকা এসেছে কি না দেখবেন শুধু নিজের মার্চেন্ট অ্যাপে বা ড্যাশবোর্ডে, কাস্টমারের পাঠানো কোনো ছবিতে না।

পেমেন্ট লিংক এখানে বড় সুবিধা দেয়, কারণ অঙ্কটা আপনি ঠিক করেছেন আর পেমেন্টের রেকর্ড আছে গেটওয়ের কাছে। তবুও লিংকের টাকা এসেছে বলে ধরে নেবেন না। পার্সেল বুক করার আগে ড্যাশবোর্ডে খুলে অঙ্কটা দেখে নিন। ১৩০ টাকার লিংকের জায়গায় যদি অন্য কোনো অঙ্ক দেখেন, অর্ডারটা থামিয়ে কাস্টমারকে ফোন দিন।

প্রতিটা অর্ডারের জন্য আলাদা লিংক বানান। একই লিংক দশজনকে পাঠালে কোন টাকাটা কার, সেটা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। তখন কেউ অন্যের পেমেন্টকে নিজের বলে দাবি করলে আপনার হাতে প্রমাণ থাকে না।

মেলানোর জন্য দিনে একটা নির্দিষ্ট সময় রাখুন, ধরুন পার্সেল বুক করার ঠিক আগে। খাতার "লিংক গেছে" লিস্টটা পাশে রেখে ড্যাশবোর্ডের লেনদেন একটা একটা করে মিলিয়ে নিন। যেটা মিলল সেটায় TrxID লিখুন, যেটা মিলল না সেটা আজ যাবে না।

টাকা দিয়ে পরে বাতিল করলে রিফান্ড কীভাবে?

রিফান্ডের নিয়ম আগে থেকে ঠিক করে পেজের শর্তে লিখে রাখুন। পার্সেল কুরিয়ারে যাওয়ার আগে কাস্টমার বাতিল করলে পুরো অগ্রিম ফেরত দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পার্সেল রওনা দেওয়ার পর বাতিল করলে বা দরজা থেকে ফিরিয়ে দিলে ডেলিভারি চার্জের টাকা ফেরত দেবেন কি না, সেটা আগে থেকে না লিখলে তর্ক হবেই। লেখা শর্ত থাকলে আপনি সেটা দেখাতে পারবেন।

ওপরে বলা নির্দেশিকা একটা জায়গায় পরিষ্কার। অগ্রিম নিয়ে সময়মতো ডেলিভারি দিতে না পারলে কাস্টমারের টাকা দেওয়ার দিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হয়, যে রাস্তায় টাকা এসেছিল সেই রাস্তায়, আর ফেরত পাঠানোর চার্জ আপনার। তবে ১০ দিন পর্যন্ত টেনে নেওয়ার কোনো লাভ নেই। অচেনা পেজকে ১৩০ টাকা দিয়ে যিনি টাকা ফেরতের অপেক্ষায় আছেন, প্রতিটা ঘণ্টায় তাঁর ভয় বাড়ে যে টাকাটা বুঝি আর আসবে না। সেদিনই ফেরত দিলে সেই কাস্টমারই পরের মাসে আবার অর্ডার দিতে পারেন।

হাতে রিফান্ড দিলে দুটো জিনিস লিখে রাখুন। কত টাকা, কবে আর কোন TrxID-তে ফেরত গেল, আর কে দিল। আর অর্ডারটা যদি তবুও যায়, ধরুন কাস্টমার অগ্রিম ফেরত নিয়ে COD-তে নিতে চাইলেন, তাহলে কুরিয়ারের COD অঙ্ক আবার বাড়িয়ে দিন।

WinningSeller-এ অনলাইনে আসা টাকা ফেরত দেওয়া হয় অর্ডারের পেজের "রিফান্ড করুন" বাটন দিয়ে। এটা পারেন শুধু দোকানের মালিক আর অ্যাডমিন, ম্যানেজার বা স্টাফ পারেন না, আর কে কত টাকা কেন ফেরত দিলেন সেটা অর্ডারের টাইমলাইনে থেকে যায়। পার্সেল তখনো কুরিয়ারে না গেলে রিফান্ডের পর কুরিয়ারের COD অঙ্ক নিজে থেকেই সেই হিসাবে বাড়ে।

কোন কাস্টমারকে লিংক পাঠাবেন, কাকে না?

সব কাস্টমারকে লিংক পাঠানোর দরকার নেই। প্রতিটা অর্ডারে অগ্রিম চাইলে কিছু ভালো কাস্টমারও বিরক্ত হয়ে চলে যান। লিংক রাখুন সন্দেহের অর্ডারগুলোর জন্য, আর তাঁদের জন্য যাঁরা নিজে থেকেই আগে টাকা দিতে চান।

লিংক পাঠান তাঁকে, যিনি নিজেই বলেন "ভাই, বিকাশ নম্বরটা দেন"। নম্বর না দিয়ে লিংক দিন, এতে তাঁর কাজও কমে, আপনার মেলানোও। ঢাকার বাইরের নতুন কাস্টমার, যাঁর সাথে আগে কখনো লেনদেন হয়নি, তাঁকেও লিংক পাঠান। আর যে নম্বর থেকে আগে বিভিন্ন দোকানের পার্সেল বারবার ফেরত গেছে, সেখানে অগ্রিম ছাড়া পার্সেলই পাঠাবেন না। নম্বরটার আগের রেকর্ড পার্সেল বুক করার আগেই ফ্রি ফ্রড চেকারে দেখে নিতে পারেন।

লিংক পাঠাবেন না সেই রিপিট কাস্টমারকে, যিনি আগে দুই-তিনবার পার্সেল রেখেছেন। তাঁর কাছে অগ্রিম চাইলে মনে হয় আপনি তাঁকে বিশ্বাস করছেন না, আর এই অনুভূতিটাই একজন পুরনো কাস্টমারকে অন্য পেজে পাঠিয়ে দেয়। যে বয়স্ক কাস্টমার মোবাইলে লিংক খুলতে অভ্যস্ত না, তাঁকেও জোর করবেন না। একটা কনফার্ম কল দিয়ে সাধারণ COD-তে পাঠান, অথবা মার্চেন্ট নম্বরে Payment করতে বলুন।

লিংকটা নিজেও সবার জন্য না। এখনো শুধু পার্সোনাল নম্বর থাকলে আগে একটা রিটেইল অ্যাকাউন্ট খুলুন, লিংক তার পরে। আর দিনে দুই-তিনটা অগ্রিম এলে মার্চেন্ট নম্বরে Payment নিয়ে হাতে মিলিয়ে নেওয়াই যথেষ্ট, এর জন্য গেটওয়ের খরচ পোষায় না। লিংকের আসল দাম বোঝা যায় যখন অগ্রিম রোজকার কাজ হয়ে যায়, আর মেলাতে গিয়ে রাতের ঘুম কমতে শুরু করে।

আজ একটা কাজ করে দেখুন। আপনার ব্যবসার অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের জন্য একটা ১০ টাকার লিংক বানিয়ে নিজের ফোনে খুলুন, টাকাটা দিন, তারপর ড্যাশবোর্ডে মিলিয়ে দেখুন। কাস্টমার ঠিক কী দেখবেন, সেটা নিজের চোখে দেখলে মেসেজটাও আরও পরিষ্কার করে লিখতে পারবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

বিকাশ পেমেন্ট লিংক কীভাবে বানাবো?

bKash-এর মার্চেন্ট বা পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট থাকলে bKash Business Dashboard-এ (business.bkash.com) সাইন আপ করে সেখান থেকে লিংক বানানো যায়, এটা ২০২২ সালের জানুয়ারিতে bKash-এর ঘোষণায় বলা হয়েছিল। SSLCommerz-এর অ্যাকাউন্ট থাকলে তাদের ড্যাশবোর্ড থেকেও লিংক বানানো যায়, আর সেই লিংকে কাস্টমার bKash দিয়েও টাকা দিতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইটে গেটওয়ে লাগানো থাকলে অর্ডারের সাথে বাঁধা লিংকও বানানো যায়।

পার্সোনাল বিকাশ নম্বর দিয়ে কি পেমেন্ট লিংক বানানো যায়?

না। bKash-এর ঘোষণা অনুযায়ী Business Dashboard-এ সাইন আপ করতে মার্চেন্ট বা পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট লাগে। পার্সোনাল নম্বরে কাস্টমার শুধু সেন্ড মানি করতে পারেন। লিংক চাইলে আগে একটা রিটেইল বা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে নিন।

পার্শিয়াল COD মানে কী?

পার্শিয়াল COD মানে অর্ডারের একটা অংশ কাস্টমার আগে অনলাইনে দেন, আর বাকিটা কুরিয়ারকে দেন পার্সেল হাতে পেয়ে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চলে শুধু ডেলিভারি চার্জটা আগে নেওয়া। এতে যিনি সত্যিই কিনতে চান না, তিনি সাধারণত অর্ডারই করেন না।

পেমেন্ট লিংকে সবচেয়ে কম কত টাকা নেওয়া যায়?

এটা গেটওয়ের ওপর নির্ভর করে। SSLCommerz-এর ডেভেলপার ডকুমেন্টে লেখা আছে, একটা লেনদেন হতে হবে ১০ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে। bKash-এর নিজের লিংকের সীমা ড্যাশবোর্ডে দেখে নিন।

কাস্টমার অগ্রিম দিয়ে অর্ডার বাতিল করলে কী করবো?

যে রাস্তায় টাকা এসেছিল, সেই রাস্তায় যত তাড়াতাড়ি পারেন ফেরত দিন, পারলে সেদিনই। পার্সেল কুরিয়ারে চলে যাওয়ার পর বাতিল করলে ডেলিভারি চার্জ ফেরত দেবেন কি না, সেটা আগে থেকে পেজের শর্তে লিখে রাখুন। টাকা ফেরত দেওয়ার পরও অর্ডারটা গেলে কুরিয়ারের COD অঙ্ক বাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।

কাস্টমার লিংকে টাকা দিতে ভয় পেলে কী করবো?

জোর করবেন না। বলুন লিংকটা খুললে আগে টাকার অঙ্ক দেখাবে, পিন দেওয়ার আগে কোনো টাকা কাটবে না, আর পিন বা কোড কাউকে বলতে হবে না। তাতেও রাজি না হলে কনফার্ম কল করে সাধারণ COD-তে পাঠান, অথবা আপনার মার্চেন্ট নম্বরে Payment করতে বলুন।

#বিকাশ পেমেন্ট লিংক#অগ্রিম পেমেন্ট#পার্শিয়াল COD#ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম#bKash#পেমেন্ট গেটওয়ে

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়