ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনার উপায়, শুল্ক কত আর মাল আটকায় কোথায়
কলকাতার শাড়ি, থ্রি-পিস বা কসমেটিকস এনে বেচতে চাইলে কোন পথ বৈধ, লাগেজে কতটুকু আনা যায়, ডিউটি কত বসে, ইন্ডিয়ার পাইকারকে টাকা কীভাবে পাঠাবেন, আর লাগেজ পার্টির মালে ঝুঁকি কোথায়। সাথে একটা শাড়ি ঘরে আনার পুরো খরচের হিসাব।

এই লেখায় যা আছে
- ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনার উপায় কয়টা, কোনটা বৈধ?
- স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক আমদানি কীভাবে হয়, কী কী লাগে?
- ইন্ডিয়া থেকে কত কেজি মাল আনা যায়, লাগেজে আনলে নিয়ম কী?
- ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে কুরিয়ারে আনলে খরচ আর শুল্ক কত?
- ইন্ডিয়ার পাইকারকে টাকা পাঠাবেন কীভাবে?
- ইন্ডিয়া থেকে কি কি পণ্য আনা যাবে না, কোনটায় অনুমতি লাগে?
- লাগেজ পার্টির কাছ থেকে মাল কিনলে ঝুঁকি কী?
- একটা শাড়ি দেশে আনতে কত পড়ে (উদাহরণ)
- প্রথমবার ইন্ডিয়া থেকে মাল আনার আগে কী করবেন?
ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনার উপায় আসলে চারটা, কিন্তু বিক্রির মাল পুরো বৈধভাবে আনার রাস্তা এর মধ্যে একটাই। এর জন্য নিজের নামে IRC লাগে, আর টাকা যায় ব্যাংকের মাধ্যমে। মাল ঢোকে বেনাপোলের মতো কোনো স্থলবন্দর দিয়ে, যেখানে একজন C&F এজেন্ট আপনার হয়ে সেটা ছাড়ান। এর বাইরে আছে ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার, যেটা দুই-চার পিস স্যাম্পলের জন্য ঠিক আছে। নিজে কলকাতা গিয়ে লাগেজে আনার পথও আছে, কিন্তু ব্যাগেজের ছাড় শুধু নিজের কাজের জিনিসের জন্য, দোকানের স্টকের জন্য না। আর শেষ পথটা লাগেজ পার্টির কাছ থেকে কেনা। দামে এটা সবচেয়ে সস্তা, ঝুঁকিতেও সবচেয়ে ভারী।
কলকাতার শাড়ি, থ্রি-পিস আর কসমেটিকসের প্রতি আমাদের কাস্টমারদের টান অনেক পুরনো। তাই এই ব্যবসায় নামার ইচ্ছা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক, আর ভয় পাওয়াটাও। ধরুন ঈদের তিন সপ্তাহ আগে আপনার পঞ্চাশটা শাড়ি বর্ডারে আটকে গেল। পুরো সিজনের টাকা তখন অন্য কারও গুদামে পড়ে আছে, আর আপনি রাত এগারোটায় ইনবক্সের প্রি-অর্ডারগুলো দেখে ভাবছেন কাস্টমারকে কী বলবেন। নিচে প্রতিটা পথ খুলে বলছি, যাতে একটা টাকাও পাঠানোর আগে জানেন কোথায় কী ঝুঁকি।
নিয়ম আর হারগুলো অক্টোবর ২০২৬-এ NBR, Bangladesh Customs আর অন্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকে মিলিয়ে লিখেছি। এগুলো প্রায় প্রতি বাজেটে বদলায়, তাই মাল আনার আগে আরেকবার মিলিয়ে নেবেন।
ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনার উপায় কয়টা, কোনটা বৈধ?
চারটা পথ পাশাপাশি রাখলে তফাতটা চোখে পড়ে। কোনটায় কী আনা যায়, কী কাগজ লাগে আর ঝুঁকি কোথায়, নিচের টেবিলে দিলাম।
| পথ | কী আনা যায় | কাগজ | ঝুঁকি |
|---|---|---|---|
| স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক আমদানি | বিক্রির স্টক, যত পরিমাণ দরকার | ট্রেড লাইসেন্স, TIN, IRC, ব্যাংক, C&F এজেন্ট | কাগজের ঝামেলা বেশি, ছোট চালানে খরচ পোষায় না |
| ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার | স্যাম্পল, অল্প কয়েক পিস | কুরিয়ারের বুকিং আর ইনভয়েস | কেজির রেট বেশি, HS কোড ধরে ডিউটি |
| নিজে গিয়ে লাগেজে | নিজের আর পরিবারের জিনিস | পাসপোর্ট, ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম | ছাড়ের বেশি আনলে শুল্ক আর জরিমানা |
| লাগেজ পার্টির কাছ থেকে কেনা | তারা যা আনে | কিছুই না | মাল আটক, মান খারাপ, সাপ্লাই হঠাৎ বন্ধ |
শুধু প্রথম পথেই প্রতিটা চালানের কাগজ আপনার নামে থাকে। কেউ মালের উৎস জানতে চাইলে বিল অব এন্ট্রি দেখিয়ে দিতে পারবেন, আর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতেও পারবেন। কুরিয়ার আর লাগেজ ছোট কাজের জন্য ঠিক আছে, নিয়মিত স্টকের জন্য না। লাগেজ পার্টির কথা নিচে আলাদা করে বলছি।
ইমপোর্টের সাধারণ নিয়ম, মানে IRC কী আর কখন লাগে, সেটা চায়না থেকে প্রোডাক্ট আনার লেখায় বিস্তারিত বলেছি। এখানে থাকছে শুধু ইন্ডিয়ার আলাদা জায়গাগুলো, মানে স্থলবন্দর, লাগেজের নিয়ম, ইন্ডিয়ার পাইকার আর লাগেজ পার্টি।
স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক আমদানি কীভাবে হয়, কী কী লাগে?
ইন্ডিয়া থেকে বেশিরভাগ মাল ট্রাকে আসে, স্থলবন্দর দিয়ে। Bangladesh Trade Portal-এ রাখা স্থলবন্দরগুলোর পরিচিতিতে লেখা আছে, যশোরের বেনাপোলের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল। কলকাতা থেকে মাল আনার সবচেয়ে চেনা পথ এটাই। উত্তরবঙ্গের সেলারদের কাছে আছে লালমনিরহাটের বুড়িমারী, যার ওপারে চ্যাংরাবান্ধা। কোন বন্দর আপনার কাছে আর আপনার পাইকারের কাছে সুবিধার, সেটা দেখে ঠিক করবেন।
শুরু করার আগে এই জিনিসগুলো হাতে থাকতে হবে।
- ব্যবসার নামে ট্রেড লাইসেন্স আর TIN।
- IRC, মানে ইমপোর্টারের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
- ব্যবসার নামে একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, যে ব্যাংক ইমপোর্টের কাজ করে।
- ইন্ডিয়ার পাইকারের কাছ থেকে প্রোফর্মা ইনভয়েস, যেখানে প্রতিটা আইটেমের নাম, পরিমাণ আর দাম লেখা।
- একজন লাইসেন্স করা C&F এজেন্ট, যিনি বন্দরে আপনার হয়ে মাল ছাড়াবেন।
কাজটা সাধারণত এভাবে আগায়। পাইকার প্রোফর্মা ইনভয়েস দেন, আপনি সেটা নিয়ে ব্যাংকে যান। ব্যাংক LC খোলে, অথবা কেনাবেচার চুক্তির ভিত্তিতে টাকা পাঠায়। The Business Standard-এর খবর অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট ২০২৬-এ গেজেট হওয়া আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ LC ছাড়া চুক্তিতে মাল আনার সুযোগ রাখা হয়েছে, আর এতে টাকার অঙ্কের কোনো সীমা রাখা হয়নি। আগের নীতিতে এই পথে বছরে সীমা ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এই আদেশের একটা সংশোধিত কপিও এসেছে, তাই ব্যাংকে যাওয়ার আগে সবচেয়ে নতুন কপিটা দেখে নিন।
এরপর পাইকার ট্রাকে মাল পাঠান পেট্রাপোলে। ওপারের রপ্তানির কাগজ তাঁর দায়িত্ব। এপারে আপনার C&F এজেন্ট কাস্টমসের ASYCUDA World সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি জমা দেন। কাস্টমস HS কোড আর দাম মিলিয়ে দেখে, দরকার হলে মাল খুলে পরীক্ষা করে, তারপর ডিউটি ঠিক করে। ব্যাংকে ডিউটি জমা হলে মাল ছাড়া পায়, তারপর ট্রাকে আপনার গুদামে আসে।
C&F এজেন্ট বাছার আগে Bangladesh Customs-এর ওয়েবসাইটে Valid C&F Agents List খুলে দেখে নিন, তাঁর লাইসেন্স সেখানে আছে কি না। এজেন্টের কাছে লিখিত চান তাঁর ফি কত, বন্দরের চার্জ কত হতে পারে, আর মাল কত দিনে ছাড়ানো যায়। মুখের কথায় রাজি হলে পরে বিল দেখে তর্ক করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
একটা জিনিস জেনে রাখুন। সব স্থলবন্দর দিয়ে সব মাল ঢোকে না, আর এই নিয়ম হঠাৎ বদলায়। যেমন প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে NBR বেনাপোল, বুড়িমারীসহ কয়েকটা স্থলবন্দর দিয়ে ইন্ডিয়া থেকে সুতা আনা বন্ধ করে দেয়, তবে সমুদ্রপথে আনা চালু থাকে। তাই নতুন ধরনের মাল আনার আগে C&F এজেন্টকে জিজ্ঞেস করুন, ওই বন্দর দিয়ে এটা এখন আনা যায় কি না।
সৎ কথা হলো, বিশটা শাড়ির জন্য এই পথ পোষায় না। এজেন্টের ফি, ব্যাংকের চার্জ আর বন্দরের খরচ চালান ছোট হলেও প্রায় একই থাকে। যখন একই প্রোডাক্ট প্রতি মাসে আনছেন আর বিক্রিও স্থির, তখনই এই পথে আসার সময়।
ইন্ডিয়া থেকে কত কেজি মাল আনা যায়, লাগেজে আনলে নিয়ম কী?
স্থলপথে এলে আসল নিয়মটা কেজিতে না, ডলারে। NBR ২০২৫ সালের ৩ জুন অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে, আর অক্টোবর ২০২৬-এ NBR-এর ওয়েবসাইটে ব্যাগেজ রুলসের লিস্টে যাত্রীর ব্যাগেজের সবচেয়ে নতুন বিধিমালা এটাই। এর ৪ নম্বর বিধিতে বলা আছে, স্থলপথে আসা একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪০০ মার্কিন ডলারের ব্যাগেজ সব শুল্ক আর কর ছাড়া আনতে পারেন। তবে এক পঞ্জিকা বছরে এই সুবিধা তিনবারের বেশি পাওয়া যায় না।
৪০০ ডলার কত টাকা, সেটা নির্ভর করে সেদিনের রেটের ওপর। ধরুন রেট ১২২ টাকা, তাহলে অঙ্কটা দাঁড়ায় প্রায় ৪৮,৮০০ টাকা। এটা উদাহরণ, ডলারের রেট বদলালে অঙ্কটাও বদলাবে। বছরে তিনবার এই টাকার জিনিস আনলেও একটা পেজের স্টক এতে চলে না, আর বিক্রির মাল আনার অনুমতিও এই ছাড়ে নেই। কেন নেই, সেটা একটু পরেই বলছি।
বিমানে বা জলপথে এলে নিয়ম আলাদা। বিধিমালায় ১২ বছর বা তার বেশি বয়সের যাত্রীর জন্য মোট ৬৫ কেজি পর্যন্ত ব্যাগেজ শুল্ক ছাড়া ছাড়ানোর কথা আছে। আর "ব্যাগেজ" কথাটার সংজ্ঞাতেই বলা আছে, একেকটা আইটেমের ওজন ১৫ কেজির বেশি হবে না।
এখানেই বেশিরভাগ মানুষ ভুল বোঝেন। ৬৫ কেজি বা ৪০০ ডলার মানে এই না যে এর মধ্যে যা খুশি আনা যাবে। বিধিমালায় ব্যাগেজ মানে যাত্রীর আনা যুক্তিসংগত পরিমাণের খাবার, কাপড়, ঘরের বা নিজের কাজের জিনিস। একই ডিজাইনের ত্রিশটা শাড়ি বা চল্লিশটা একই লিপস্টিক কোনো পরিবারের নিজের কাজে লাগে না, আর কাস্টমস অফিসারও সেটা ভালো করেই জানেন।
ছাড়ের বাইরে বাড়তি মাল আনলে কী হয়, সেটাও বিধিমালার ১০ নম্বর বিধিতে লেখা আছে। তখন আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্র দেখাতে হয়। তারপর বিচার করে যে শুল্ক, কর, অর্থদণ্ড বা জরিমানা ধরা হবে, সব দিয়ে তবেই মাল ছাড়ানো যায়। মানে ছাড়পত্র না থাকলে মাল আটকে থাকবে, আর থাকলেও ডিউটির ওপর জরিমানার ঝুঁকি থেকে যায়।
বিধিমালা অনুযায়ী বিদেশ থেকে আসা সবাইকে ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম পূরণ করতে হয়, কাগজে বা অনলাইনে। শুল্ক দিতে হয় এমন কিছু সাথে থাকলে সেটা ফরমে লিখে কাস্টমসকে নিজে থেকেই জানান। লুকাতে গিয়ে ধরা পড়লে সামান্য জিনিসও বড় ঝামেলা হয়ে দাঁড়ায়।
ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে কুরিয়ারে আনলে খরচ আর শুল্ক কত?
কুরিয়ারের ভাড়া কোম্পানি, ওজন আর সার্ভিস অনুযায়ী অনেক আলাদা হয়। তাই কোনো একটা বাঁধা রেট এখানে লিখছি না। বুকিংয়ের আগে দুই-তিনটা কোম্পানির কাছ থেকে লিখিত রেট নিন। সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ডিউটি এই রেটের মধ্যে ধরা আছে, নাকি মাল হাতে নেওয়ার সময় আপনাকে আলাদা দিতে হবে। এটা না জেনে বুক করলে পার্সেল আনতে গিয়ে বিল দেখে চমকে যাবেন।
ডিউটি বুঝতে হলে আগে HS কোড বুঝতে হবে। প্রতিটা জিনিসের একটা কোড আছে, আর কাস্টমস সেই কোড ধরে ঠিক করে মোট কত ট্যাক্স বসবে। এই মোট হারকে TTI বলে। কুরিয়ারে এলেও বিক্রির মালে এই হিসাব চলে। ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ Bangladesh Customs-এর ওয়েবসাইটের Duty Calculator-এ কয়েকটা কোডের TTI দেখলাম। প্রিন্ট করা সুতি কাপড়ের কোড 5208.52.00-এ TTI ৮০.১৮%। ৮৫% বা তার বেশি সিল্কের বোনা কাপড়ের কোড 5007.20.00-এ এটা ১২৭.৯৫%। আর স্কিনকেয়ারের ময়েশ্চার লোশনের কোড 3304.99.20-এ ১৬২.৫৬%।
মানে ১,০০০ টাকার একটা ময়েশ্চার লোশন বাণিজ্যিকভাবে আনলে শুধু ট্যাক্সেই যেতে পারে ১,৬০০ টাকার বেশি। লোশনের দামের চেয়ে ট্যাক্স বেশি, শুনতে অবাক লাগলেও হিসাবটা এমনই। আর কাস্টমস হিসাব করে মালের দামের সাথে ভাড়া যোগ করে। আপনার জিনিসটা ঠিক কোন কোডে পড়বে, সেটা শেষ পর্যন্ত কাস্টমস ঠিক করে। তাই ওপরের হারগুলো ধারণার জন্য, নিজের প্রোডাক্টের কোড C&F এজেন্টকে দিয়ে মিলিয়ে নিন।
এই কারণে কুরিয়ারকে স্টক আনার পথ ভাববেন না, ভাবুন স্যাম্পলের পথ। কলকাতার কোনো পাইকারের সাথে বড় অর্ডারের কথা চলছে, তার আগে দুই-তিন পিস কুরিয়ারে আনিয়ে নিজের হাতে কাপড়টা ধরে দেখুন। পঞ্চাশ পিস খারাপ মাল গুদামে পড়ে থাকার চেয়ে কয়েক হাজার টাকার স্যাম্পল খরচ অনেক ভালো।
ইন্ডিয়ার পাইকারকে টাকা পাঠাবেন কীভাবে?
বিক্রির মালের টাকা বিদেশে পাঠানোর বৈধ পথ একটাই, ব্যাংক। এর জন্য আপনার IRC লাগবে, আর ব্যাংক LC খুলে বা চুক্তির ভিত্তিতে পাইকারকে টাকা পাঠাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইমপোর্ট পেমেন্টের সার্কুলার আর ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে স্টক কেনা যায় কি না, এসব চায়নার লেখায় বলেছি। ইন্ডিয়ার বেলাতেও নিয়ম একই।
ইন্ডিয়ার জন্য একটা বাড়তি কথা আছে। Dhaka Tribune-এর ১২ জুলাই ২০২৩-এর খবর অনুযায়ী, তখন থেকে দুই দেশের মধ্যে রুপিতে LC খুলে বাণিজ্যের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। শুরুতে বাংলাদেশের দিকে এটা করছিল সোনালী ব্যাংক আর ইস্টার্ন ব্যাংক। আপনার ব্যাংক এখন রুপিতে LC খোলে কি না, ট্রেড সার্ভিসের ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।
টাকা পাঠানোর আগে পাইকারটা আসল কি না দেখে নিন। ইন্ডিয়ার ব্যবসায়ীদের GST রেজিস্ট্রেশন থাকে, তাই তাঁর ১৫ অক্ষরের GSTIN নম্বরটা চান। ইন্ডিয়ার GST পোর্টাল gst.gov.in-এর "Search Taxpayer" অপশনে লগইন না করেই এই নম্বর দিয়ে ব্যবসার আইনি নাম, ঠিকানা আর রেজিস্ট্রেশন চালু আছে কি না দেখা যায়। আর বিদেশে মাল পাঠাতে ইন্ডিয়ার ব্যবসায়ীর DGFT-র দেওয়া IEC নম্বর লাগে। যিনি এই দুটো নম্বর দিতে পারেন না, তিনি আপনার নামে বৈধভাবে মাল রপ্তানি করতে পারবেন না।
এরপর একবার ভিডিও কলে দোকান আর মাল দেখে নিন। প্রোফর্মা ইনভয়েসের নাম, GST-র নাম আর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম একই কি না মেলান। প্রথম অর্ডারটা ছোট রাখুন, কারণ প্রথম চালানেই বোঝা যায় পাইকার কথা রাখেন কি না, আর সেই পরীক্ষায় অল্প টাকা ঝুঁকিতে রাখাই ভালো। কথা আর কাজ মিললে তবেই বড় চালান দিন।
ইন্ডিয়া থেকে কি কি পণ্য আনা যাবে না, কোনটায় অনুমতি লাগে?
কোন মাল একদম নিষিদ্ধ আর কোনটা শর্ত মেনে আনতে হয়, তার লিস্ট থাকে আমদানি নীতি আদেশে। এখন চলছে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের আদেশ, যেটা গেজেট হয়েছে ২০২৬ সালের আগস্টে। নতুন ধরনের কোনো জিনিস আনার আগে এই লিস্ট আর Bangladesh Customs-এর সাইটে HS কোডটা দেখে নিন। পাইকার বা এজেন্ট "সব আনা যায়" বললেও মাল আটকালে লোকসানটা আপনার।
ইন্ডিয়া থেকে সেলাররা যে জিনিসগুলো বেশি আনতে চান, তার কয়েকটায় আলাদা সংস্থার নিয়ম আছে। কসমেটিকস আর ওষুধ আনলে ঔষধ প্রশাসনের নিয়ম মানতে হয়। চকলেট, বিস্কুট বা মসলার মতো খাবারে BSTI আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিয়ম আছে। মোবাইল ফোনের মতো ওয়্যারলেস যন্ত্রে আবার BTRC-র নিয়ম খাটে। কারও শরীরে রিঅ্যাকশন হলে বা খাবারে সমস্যা হলে দায়টা পুরোপুরি সেলারের, মানে আপনার।
নামী ব্র্যান্ডের লোগো বসানো কপি মাল কাস্টমস নিজে থেকেই আটকাতে পারে। এই নিয়ম আর ব্যাটারি-লিকুইডের ঝামেলার কথা চায়নার লেখার "কোন প্রোডাক্ট আনবেন না" অংশে আছে, আর ইন্ডিয়ার বেলায়ও কথাগুলো একইভাবে খাটে।
শাড়ি, থ্রি-পিস আর পাঞ্জাবির মতো কাপড়ে আলাদা অনুমতির ঝামেলা সাধারণত কম। এজন্যই ইন্ডিয়া থেকে আনা শুরু করার জন্য কাপড় সবচেয়ে সহজ জায়গা। তবে কাপড়েও ডিউটি কম না, সেটা নিচের হিসাবে দেখবেন।
লাগেজ পার্টির কাছ থেকে মাল কিনলে ঝুঁকি কী?
লাগেজ পার্টি মানে যাঁরা বারবার বর্ডার পার হয়ে ব্যাগেজের নামে বিক্রির মাল আনেন, তারপর দোকানে বা সেলারদের কাছে বেচে দেন। The Business Standard-এর ২০২৫ সালের ৮ জুলাইয়ের একটা খবরে বেনাপোলের এমন চিত্র এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিজনেস ভিসায় আসা অনেক ভারতীয় যাত্রী সকালে এসে বিকেলে ফিরে যান, আর সাথে আনেন শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকসসহ নানা জিনিস। একই খবরে একজন কাস্টমস কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা চেকপোস্টে নিয়মিত এমন মাল আটক করছেন।
এই মাল সস্তা কেন, সেটা বুঝলেই ঝুঁকিটা বোঝা যায়। বাণিজ্যিক পরিমাণের ওপর যে ডিউটি দেওয়ার কথা, সেটা এখানে দেওয়া হয়নি। ওপরে দেখলেন, কাপড়ে সেই ডিউটি দামের ৮০% বা তারও বেশি হতে পারে। তাই লাগেজ পার্টির দাম বৈধ আমদানির দামের সাথে কখনো মিলবে না।
সবার আগে আসে কাগজের ঝামেলা। এই মালের সাথে কোনো বিল অব এন্ট্রি থাকে না, পাইকারের বৈধ ইনভয়েসও থাকে না। কেউ মালের উৎস জানতে চাইলে আপনার হাতে দেখানোর মতো কিছুই থাকবে না।
টাকার ঝুঁকিটা আরও কষ্টের। অনেকে অর্ডারের সময়েই পুরো টাকা আগে চান। পথে মাল আটক হলে সেই টাকা ফেরত চাওয়ার কোনো লিখিত ভিত্তি আপনার থাকে না, পুরোটাই তাঁর মুখের কথার ওপর ঝুলে থাকে।
সাপ্লাইয়ের ওপরও ভরসা রাখা যায় না। কাস্টমস কড়াকড়ি করলে মাল আসা হঠাৎ থেমে যায়, আর সেটা প্রায়ই হয় ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে। আপনি পেজে ছবি দিয়ে অর্ডার নিয়ে বসে আছেন, অথচ মাল আসছে না। কাস্টমারকে বারবার "আর দুই দিন" বলতে বলতে একসময় পেজের ওপর তাঁদের বিশ্বাসটাই চলে যায়, আর সেই বিশ্বাস ফেরানো নতুন মাল জোগাড়ের চেয়ে অনেক কঠিন।
মানের ব্যাপারেও কিছু বলার জায়গা থাকে না। ভুল রং বা ছেঁড়া পিস এলে ফেরত দেওয়ার কোনো রাস্তা নেই। কসমেটিকসে ব্যাচ নম্বর আর মেয়াদের কোনো ঠিক থাকে না, আর একজন কাস্টমারের মুখে রিঅ্যাকশন হলে সেই দায় আর পেজের বদনাম দুটোই আপনার ঘাড়ে আসে।
তাই নিজের জন্য একটা নিয়ম ঠিক করে নিন। লাগেজ পার্টির কাছ থেকে কসমেটিকস, খাবার বা ওষুধ কখনো নেবেন না। কাপড় নিলেও পুরো টাকা আগে দেবেন না, মাল হাতে দেখে তবে টাকা দিন। আর এই মালের ভরসায় কখনো প্রি-অর্ডার নেবেন না।
একটা শাড়ি দেশে আনতে কত পড়ে (উদাহরণ)
নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। রুপির রেট, পাইকারের দাম, এজেন্টের ফি আর ভাড়া নিজের কাছ থেকে নিয়ে হিসাবটা বসিয়ে নিন। শুধু ডিউটির হারটা Bangladesh Customs-এর ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।
ধরুন আপনি কলকাতার এক পাইকারের কাছ থেকে ১০০টা প্রিন্ট করা সুতি শাড়ি আনবেন, স্থলবন্দর দিয়ে, নিজের নামে। একেকটার দাম ৯০০ রুপি। ব্যাংকের রেট ধরলাম রুপিপ্রতি ১.৪০ টাকা। C&F এজেন্ট বলেছেন শাড়িগুলো 5208.52.00 কোডে পড়বে, যার TTI ৮০.১৮%।
- শাড়ির দাম, ১০০ × ৯০০ রুপি = ৯০,০০০ রুপি, মানে ১,২৬,০০০ টাকা।
- ওপারে বর্ডার পর্যন্ত ভাড়া আর রপ্তানির কাগজ, ৫,০০০ রুপি, মানে ৭,০০০ টাকা। কাস্টমস দামের সাথে এটাও ধরবে, তাই ডিউটি বসবে ১,৩৩,০০০ টাকার ওপর।
- ডিউটি আর ট্যাক্স, ১,৩৩,০০০ টাকার ৮০.১৮% = প্রায় ১,০৬,৬৪০ টাকা।
- C&F এজেন্টের ফি, বন্দরের চার্জ আর ব্যাংকের চার্জ মিলিয়ে ধরলাম ১৫,০০০ টাকা।
- বেনাপোল থেকে ঢাকায় ট্রাকে আনার ভাগ ৪,০০০ টাকা।
সব মিলিয়ে ১,৩৩,০০০ + ১,০৬,৬৪০ + ১৫,০০০ + ৪,০০০ = ২,৫৮,৬৪০ টাকা। প্রতিটা শাড়ি আপনার ঘরে পৌঁছাতে পড়ল প্রায় ২,৫৮৬ টাকা।

কলকাতার দোকানে দেখে মনে হয়েছিল শাড়িটা ১,২৬০ টাকার। আসলে পড়ল তার দ্বিগুণের বেশি, আর বাড়তি খরচের বড় অংশটাই ডিউটি। সিল্কের শাড়ি হলে, যার কাপড়ের কোডে TTI ১২৭.৯৫%, এই ফারাক আরও বড় হতো। এখান থেকে একটা কাজের নিয়ম পাওয়া যায়। কলকাতার দামের দ্বিগুণ ধরেও যদি আপনার বিক্রির দামে ভালো লাভ না থাকে, তাহলে ওই শাড়ি বৈধভাবে আনা আপনার জন্য না।
এবার ধরুন, লাগেজ পার্টি একই শাড়ি ১,৬০০ টাকায় দিচ্ছে। ডিউটির পুরো অংশটা সেখানে নেই বলেই দামটা কম। সেই কম দামের সাথে ওপরের ঝুঁকিগুলোও যে কিনছেন, এটা মাথায় রাখবেন।
আরেকটা কথা। ২,৫৮৬ টাকা বিক্রির দাম না, শুধু মাল ঘরে আনার খরচ। এর ওপর প্যাকেট, কুরিয়ারের COD চার্জ, ফেরত পার্সেলের খরচ আর অর্ডারপ্রতি অ্যাডের খরচ যোগ হবে। সব ধরে বিক্রির দাম কীভাবে ঠিক করবেন, সেটা ধাপে ধাপে আছে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায়। আর একই ধরনের শাড়ি দেশের পাইকারি বাজারে কত পড়ে, ঢাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারের লেখা দেখে একবার মিলিয়ে নিন। অনেক সময় দেশি বাজারের মালেই হিসাবটা ভালো দাঁড়ায়।
প্রথমবার ইন্ডিয়া থেকে মাল আনার আগে কী করবেন?
প্রথমে প্রোডাক্টটা দেশে বসেই পরীক্ষা করুন। যে ধরনের শাড়ি বা থ্রি-পিস আনতে চান, তার কাছাকাছি মাল দেশের বাজার থেকে অল্প কিছু কিনে পেজে চালিয়ে দেখুন, কাস্টমার আসলেই নেন কি না। বর্ডারের ওপার থেকে বড় চালান আনার পর যদি টের পান মাল চলছে না, সেই লোকসানের কষ্ট অনেক দিন থাকে।
চলছে দেখলে কলকাতার দুই-তিনজন পাইকারের GSTIN আর IEC চেয়ে নিন, পোর্টালে মিলিয়ে দেখুন। তারপর প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই-তিন পিস স্যাম্পল কুরিয়ারে আনান। কাপড় হাতে ধরে, ধুয়ে, রং ঠিক থাকে কি না দেখে একজনকে বাছুন। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স, TIN আর IRC-র কাজ গুছিয়ে ফেলুন, আর একজন C&F এজেন্টের কাছ থেকে লিখিত ফি নিন। এরপর ওপরের মতো করে কাগজে পুরো খরচ বের করুন, আর লাভ থাকলে তবেই প্রথম চালান দিন। চালানটা এমন রাখুন, যেটা দেড়-দুই মাসে বিক্রি হয়ে যায়।
শুনতে অনেক কাজ মনে হচ্ছে, জানি। কিন্তু যেদিন প্রথম চালানটা কোনো ঝামেলা ছাড়া ঘরে আসবে আর মাস শেষে খাতায় লাভের অঙ্কটা দেখবেন, সেদিন বুঝবেন এই কাগজের ঝামেলাটুকু কেন দরকার ছিল।

মাল আসার পর আসল কাজ হিসাব রাখা। কোন চালানে কোন পাইকারের কাছ থেকে কত পিস এলো, কয়টা নষ্ট এলো, আর ডিউটিসহ পিসপ্রতি আসল খরচ কত পড়ল, এগুলো না লিখলে তিন চালান পরে আর মনে থাকবে না কোনটায় লাভ হয়েছিল। WinningSeller-এ সাপ্লায়ার আর পারচেজ অর্ডার রাখার জায়গা আছে, তাই প্রতিটা চালানের পিস আর দাম আলাদা করে লেখা থাকে। লাভ-ক্ষতি গোনা হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, আর পাশে অ্যাড খরচের হিসাবও রাখা যায়। ফলে কলকাতার শাড়িতে সত্যিই কত থাকছে, মাস শেষে অনুমান না করে চোখের সামনে দেখতে পারবেন। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ইন্ডিয়া থেকে স্থলপথে কত টাকার মাল শুল্ক ছাড়া আনা যায়?
NBR-এর অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্থলপথে আসা একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪০০ মার্কিন ডলারের ব্যাগেজ শুল্ক ছাড়া আনতে পারেন, আর এই সুবিধা এক পঞ্জিকা বছরে তিনবারের বেশি পাওয়া যায় না। তবে ছাড়টা নিজের কাজে লাগার জিনিসের জন্য, বিক্রির স্টকের জন্য না। এর বাইরে বাড়তি মাল আনলে ছাড়পত্র দেখিয়ে পুরো শুল্ক দিয়ে তবেই ছাড়াতে হয়।
ইন্ডিয়া থেকে বিমানে ফিরলে কত কেজি মাল আনা যায়?
বিধিমালায় আকাশ আর জলপথে আসা ১২ বছর বা তার বেশি বয়সের যাত্রীর জন্য মোট ৬৫ কেজি পর্যন্ত ব্যাগেজ শুল্ক ছাড়া ছাড়ানোর কথা আছে, আর একেকটা আইটেম ১৫ কেজির বেশি হতে পারবে না। তবে এখানেও কথা একই, জিনিসগুলো হতে হবে যুক্তিসংগত পরিমাণে আর নিজের কাজের। একই ডিজাইনের ত্রিশটা শাড়িকে কাস্টমস ব্যাগেজ হিসেবে মেনে নেবে, এমন আশা করবেন না।
ইন্ডিয়ার পাইকারকে bKash-এ বা কারও হাতে টাকা দিয়ে পেমেন্ট করা যায়?
না। ঢাকায় কাউকে টাকা দিলেন আর ওপারে কেউ রুপি দিয়ে দিল, এটাই হুন্ডি, আর এটা বেআইনি। বিক্রির মালের টাকা পাঠানোর বৈধ পথ ব্যাংক, আর তার জন্য আপনার নামে IRC লাগে।
ইন্ডিয়া থেকে বিক্রির মাল আনতে কি IRC লাগে?
নিজের নামে বাণিজ্যিকভাবে আনতে হলে লাগে। IRC-র জন্য আগে ট্রেড লাইসেন্স, TIN আর ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গুছিয়ে নিতে হয়। লাগেজে ছাড়ের চেয়ে বেশি মাল আনলেও বিধিমালা অনুযায়ী আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্র দেখিয়ে পুরো শুল্ক দিয়ে তবেই ছাড়ানো যায়।
লাগেজ পার্টির কাছ থেকে মাল কেনা কি ঠিক?
দাম কম দেখে অনেকে কেনেন, কিন্তু এই মালের সাথে কোনো বৈধ কাগজ থাকে না। বেনাপোলে কাস্টমস এমন মাল নিয়মিত আটক করছে বলে খবরে এসেছে, তাই সাপ্লাই হঠাৎ থেমে যেতে পারে, আর আগাম দেওয়া টাকাও আটকে যেতে পারে। কিনলেও পুরো টাকা আগে দেবেন না, আর কসমেটিকস একদম নেবেন না।
ইন্ডিয়া থেকে কুরিয়ারে স্যাম্পল আনা যায়?
যায়। দুই-তিন পিস স্যাম্পল আনতে কুরিয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। তবে কাস্টমস HS কোড ধরে ডিউটি বসাতে পারে, তাই বুকিংয়ের আগে কুরিয়ার কোম্পানির কাছ থেকে লিখিত রেট নিন, আর জেনে নিন বাংলাদেশের ডিউটি সেই রেটে ধরা আছে, নাকি মাল নেওয়ার সময় আপনাকে দিতে হবে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


