WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১২ মিনিটে পড়া যায়

ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসা অনলাইনে, কালো হয়ে ফেরত আসা ঠেকাবেন যেভাবে

ইমিটেশন গয়না অনলাইনে বেচা সহজ, ওজন কম আর কুরিয়ার খরচও কম। ঝামেলা একটাই, দুই সপ্তাহ পর "কালো হয়ে গেছে" ফোন। কোন ধরনের গয়না চলে, কেনার আগে মান কীভাবে পরখ করবেন, একটা সেটে কত থাকে, মডেল ছাড়া ছবি, কালো না হওয়ার প্যাকিং আর কোন কথা লিখবেন না।

ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসা অনলাইনে, কালো হয়ে ফেরত আসা ঠেকাবেন যেভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসা কেমন, কোন ধরনের গয়না চলে
    1. কখন এই ব্যবসা দিয়ে শুরু করবেন না
  2. মান চিনবেন যেভাবে, প্লেটিং আর কালো হয়ে যাওয়া
  3. পাইকারি কোথায়, প্রথম লটে কী কী নেবেন
  4. একটা সেটে কত থাকে (উদাহরণ)
  5. মডেল ছাড়া ছবি, স্ট্যান্ড, মাপ আর আলো
  6. প্যাকিং আর পার্সেলে কালো না হওয়ার উপায়
  7. "রং যাবে না" লিখবেন কি, গ্যারান্টির কথা
  8. আজই করে ফেলুন

অনলাইন জুয়েলারি ব্যবসা কিভাবে শুরু করবো, এই প্রশ্নের সোজা উত্তর হলো ইমিটেশন গয়না দিয়ে, অল্প কয়েকটা ডিজাইনে, আর প্রতিটা নতুন ডিজাইন বেশি কেনার আগে দুই পিস কিনে এক সপ্তাহ পরখ করে। গয়নার ওজন কম, তাই কুরিয়ার খরচ কম আর ছোট বাক্সেই পাঠানো যায়। এই ব্যবসার আসল শত্রু একটাই, দুই-তিন সপ্তাহ পর কাস্টমারের ফোন, "ভাই, গয়না তো কালো হয়ে গেছে।" এই ফোন কমানোর তিনটা উপায় আছে। কেনার সময় প্লেটিং পরখ করা, প্রতিটা সেট জিপ ব্যাগে সিলিকা জেলসহ প্যাক করা, আর বর্ণনায় "রং যাবে না" ধরনের কথা না লিখে যত্নের নিয়ম লিখে দেওয়া।

ধরুন প্রথম লট বেচে ভালো লাগছে। চল্লিশটা অর্ডার গেছে, কমেন্টে "সুন্দর হয়েছে" লিখছেন অনেকে। তারপর তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম ছবিটা আসে, একটা নেকলেসের লকেটের কিনারায় কালচে দাগ। পরের দিন আরেকটা। আপনি বুঝতে পারছেন না দোষ গয়নার, কাস্টমারের, নাকি আপনার প্যাকিংয়ের। নিচে প্রশ্নগুলোর উত্তর একটা একটা করে দিচ্ছি, একেবারে মাল কেনার দিন থেকে।

ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসা কেমন, কোন ধরনের গয়না চলে

ইমিটেশন গয়না মানে এমন গয়না, যেটা দেখতে সোনা, রুপা বা দামি পাথরের মতো, কিন্তু বানানো সস্তা ধাতু, প্রলেপ আর কাচ বা পাথরের নকল দিয়ে। অনলাইনে বেচার জন্য এর কয়েকটা বড় সুবিধা আছে। ওজন খুব কম, তাই কুরিয়ার চার্জ সবচেয়ে কম স্তরে থাকে। ভাঙার ভয় কম। আর ডিজাইন অনেক, তাই প্রতি সপ্তাহে নতুন কিছু দেখানো যায়।

তবে সব ইমিটেশন গয়না এক রকম টেকে না। কেনার আগে চেনা দরকার কোনটা কেমন বুড়ো হয়।

গোল্ড প্লেটেড গয়না সাধারণত পিতল বা তামার ওপর সোনালি রঙের পাতলা প্রলেপ। দেখতে সবচেয়ে ঝকঝকে, বিক্রিও সবচেয়ে বেশি, আবার "কালো হয়ে গেছে" অভিযোগও এখান থেকেই বেশি আসে। ঘাম, পারফিউম আর পানিতে প্রলেপ ক্ষয় হয়, তখন নিচের ধাতু বেরিয়ে আসে।

অক্সিডাইজড গয়না ইচ্ছে করেই কালচে রুপালি রঙের। ঝুমকা, চোকার আর বড় দুলে এটা খুব চলে। এর কালচে ভাবটাই ডিজাইন, তাই "কালো হয়ে গেছে" অভিযোগ কম। তবে ভিজে থাকলে দাগ পড়তে পারে।

কুন্দন আর পাথরের সেট দেখতে সবচেয়ে জমকালো, দামও বেশি। এখানে ঝুঁকিটা রঙে কম, পাথরে বেশি। পাথর সাধারণত আঠায় বসানো থাকে, আর পার্সেলের ঝাঁকুনিতে বা প্রথম পরাতেই একটা-দুটো খুলে আসতে পারে।

স্টেইনলেস স্টিলের গয়না প্রলেপওয়ালা পিতলের চেয়ে সাধারণত অনেক বেশি দিন রং ধরে রাখে, তাই রোজ পরার জিনিস হিসেবে এটা ভালো। তবে বাজারে "স্টিল" বলে সব কিছু আসলে স্টিল না। সাপ্লায়ার কাগজে বা চালানে না লিখলে আপনিও "স্টেইনলেস স্টিল" লিখবেন না।

এর বাইরে পুঁতি, নকল মুক্তা আর রেজিনের গয়না আছে। দাম কম, কিন্তু নকল মুক্তার ওপরের চকচকে স্তর ঘষায় উঠে যায়, সেটা মাথায় রাখুন।

কখন এই ব্যবসা দিয়ে শুরু করবেন না

ভারী বিয়ের সেট দিয়ে শুরু করবেন না। দাম বেশি, কাস্টমার একটা নির্দিষ্ট দিনের জন্য কেনেন, আর একদিন দেরি হলেই পার্সেলটা দরজা থেকে ফেরত আসে। একটা ফেরত বিয়ের সেটে আপনার পুরো সপ্তাহের লাভ চলে যেতে পারে। আর প্রতিটা নতুন ডিজাইন বেশি কেনার আগে দুই পিস কিনে এক সপ্তাহ পরখ করার ধৈর্য যদি না থাকে, তাহলে এই ব্যবসা আপনাকে অভিযোগের ফোনেই ব্যস্ত রাখবে।

মান চিনবেন যেভাবে, প্লেটিং আর কালো হয়ে যাওয়া

দোকানে দাঁড়িয়ে সব পিস ঝকঝকে দেখায়, কারণ এখনো কেউ পরেনি। আসল পরীক্ষা হয় কাস্টমারের গলায়, তিন সপ্তাহ পরে। আপনার কাজ হলো সেই পরীক্ষাটা কাস্টমারের আগে নিজে করে ফেলা।

নিয়মটা সোজা। নতুন কোনো ডিজাইন বা নতুন কোনো পাইকারের মাল বেশি কেনার আগে দুই পিস কিনুন। একটা রেখে দিন যেমন আছে, জিপ ব্যাগে। আরেকটা দিয়ে এক সপ্তাহ একটু কষ্ট দিন। প্রতিদিন এক-দুইবার আঙুলে সামান্য লেবুর রস মেশানো পানি নিয়ে ঘষুন, ঘামের মতো একটু টক ভাব আনার জন্য। তার ওপর একবার পারফিউম স্প্রে করুন। রাতে বাথরুমের কাছের মতো একটু ভেজা জায়গায় রেখে দিন। সাত দিন পর দুটো পাশাপাশি রেখে দিনের আলোয় দেখুন। কষ্ট পাওয়া পিসের কিনারা আর উঁচু জায়গাগুলো কালচে বা লালচে হয়ে গেলে বুঝবেন, প্রলেপ পাতলা। এটা কোনো ল্যাবের পরীক্ষা না, কিন্তু কোন মাল তিন সপ্তাহে ফোন আনবে, সেটা মোটামুটি আগেই ধরা পড়ে।

একটা নকশা, তিনটা সারিতে গোল্ড প্লেটেড, অক্সিডাইজড আর স্টেইনলেস স্টিলের একটা করে ব্রেসলেট, প্রতিটার পাশে প্রথম দিন আর সাত দিন পরের ছবি, গোল্ড প্লেটেডের সাত দিন পরের ছবিতে কিনারায় কালচে দাগ
সাত দিনের ঘরোয়া পরীক্ষা। পাতলা প্রলেপ এখানেই ধরা পড়ে, কাস্টমারের গলায় না

এই পরীক্ষার সাথে দোকানেই কয়েকটা জিনিস হাতে দেখে নিন। পাথরের ওপর নখ দিয়ে হালকা চাপ দিন, নড়লে বা আঠার দাগ দেখা গেলে পার্সেলের ঝাঁকুনিতে খুলবে। নেকলেসের হুক আর আংটা দুই-তিনবার খুলে-লাগিয়ে দেখুন, ঢিলা হলে প্রথম পরাতেই খুলে পড়বে। কানের দুলের ডাঁটিতে আঙুল বুলিয়ে দেখুন ধারালো কিছু আছে কিনা। আর একটা বড় দুল হাতের তালুতে নিয়ে ওজনটা টের পান। খুব ভারী দুল সুন্দর হলেও কান টানে, আর "পরে থাকা যায় না" বলে অভিযোগ আসে।

পাইকারকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, কোন ধাতুর ওপর কিসের প্রলেপ, আর তাঁর অভিজ্ঞতায় কত দিন রং থাকে। উত্তরটা কাগজে বা চালানে লিখে নিন। মুখের কথা পরে কাজে আসে না, কিন্তু লেখা থাকলে পরের বার একই মাল চাইতে পারবেন, বা খারাপ হলে দেখাতে পারবেন।

পাইকারি কোথায়, প্রথম লটে কী কী নেবেন

ঢাকায় ইমিটেশন গয়নার বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার চকবাজার। কোন মার্কেটে যাবেন, কবে বন্ধ থাকে আর ডজনের হিসাব কীভাবে হয়, সেটা চকবাজার পাইকারি মার্কেটের লেখায় বিস্তারিত আছে, এখানে আর বলছি না। এখানে বলছি কী কিনবেন।

প্রথম লটে বেশি ডিজাইন কম পিস নিন, কম ডিজাইন বেশি পিস না। আট-দশটা ডিজাইন, প্রতিটার তিন-চার পিস। কোন ডিজাইন চলবে, সেটা প্রথম দুই সপ্তাহের অর্ডারই বলে দেবে। যেটা চলবে, সেটা পরের বার বেশি আনবেন।

কানের দুল দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে সহজ। সাইজের কোনো ঝামেলা নেই, দাম কম বলে কাস্টমার সহজে অর্ডার করেন, আর ডিজাইন অসংখ্য। তার সাথে কয়েকটা হালকা নেকলেস সেট রাখুন, যেটার সাথে মিলিয়ে দুল থাকে। চুড়ি আর আংটি শুরুতে কম রাখুন। চুড়ির মাপ ২.৪, ২.৬, ২.৮ ধরে আলাদা আলাদা আসে, আর কাস্টমার নিজের মাপ প্রায়ই জানেন না। আংটি নিলে এমন নিন, যার মাপ বাড়ানো-কমানো যায়।

প্রতিটা নতুন ডিজাইনকে একটা আর্টিকেল নম্বর দিন, আর সেটা জিপ ব্যাগের গায়ে লিখে রাখুন। ইমিটেশন গয়নায় একই রকম দেখতে ডিজাইন এত বেশি যে ইনবক্সে "ওই ফুলের মতো দুলটা" বললে আপনি নিজেই গুলিয়ে ফেলবেন। কোডে আগে ধরনের দুই অক্ষর, তারপর ডিজাইনের নম্বর, যেমন নেকলেসের জন্য NK-214, দুলের জন্য ER-118।

একটা সেটে কত থাকে (উদাহরণ)

একটা নেকলেস সেট ধরে হিসাব করি, যেটার সাথে এক জোড়া দুল আছে। এখানের সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য বসানো, কারও আসল খাতা থেকে নেওয়া না। পাইকারি দাম ডিজাইন আর মান ভেদে অনেক ওঠানামা করে, কুরিয়ারের চার্জও ধরে নেওয়া। হিসাবটা নিজের দামে একবার কষে দেখুন।

উদাহরণ। সেটটা পাইকারিতে পড়ে ৩৫০ টাকা। প্যাকিংয়ে একটা ছোট বাক্স ২০ টাকা, জিপ ব্যাগ ৫ টাকা আর সিলিকা জেলের প্যাকেট ৫ টাকা, মোট ৩০ টাকা। প্রতিটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডে যায় ১৫০ টাকা। বেচেন ৯৯০ টাকায়, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। একটা সেট ঠিকঠাক পৌঁছালে আপনার থাকে ৯৯০ − ৩৫০ − ৩০ − ১৫০ = ৪৬০ টাকা। দশটা সেটে কাগজের হিসাবে ৪,৬০০ টাকা।

এবার বাস্তবের দুটো ধাক্কা যোগ করুন। দশটার মধ্যে একটা পার্সেল কাস্টমার দরজায় নিলেন না। পার্সেলটা গিয়েছিল ঢাকার বাইরে, যাওয়ার ১৩০ আর ফেরার ৬৫ টাকা ধরলে দুটোই আপনার পকেট থেকে। সাথে ওই অর্ডারের অ্যাডের ১৫০ টাকা আর প্যাকিংয়ের ৩০ টাকা গেল। ফেরতের খরচ ১৩০ + ৬৫ + ১৫০ + ৩০ = ৩৭৫ টাকা। সেটটা ফেরত এলো, আবার বেচা যাবে। বাকি নয়টা থেকে এলো ৯ × ৪৬০ = ৪,১৪০ টাকা। হাতে থাকল ৪,১৪০ − ৩৭৫ = ৩,৭৬৫ টাকা।

তারপর তিন সপ্তাহ পর নয়জনের একজন ফোন দিলেন, সেট কালো হয়ে গেছে। সম্পর্কটা রাখতে আপনি নতুন সেট পাঠালেন। নতুন সেট ৩৫০, প্যাকিং ৩০, পাঠানোর চার্জ ১৩০, মোট ৫১০ টাকা। মাসের হিসাবে থাকল ৩,৭৬৫ − ৫১০ = ৩,২৫৫ টাকা। কাগজে ছিল ৪,৬০০, হাতে এলো ৩,২৫৫। মানে দশটার মধ্যে একটা ফেরত আর একটা "কালো হয়ে গেছে" মিলে লাভের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ নিয়ে গেল।

একটা নকশা, খাতার মতো দেখতে একটা হিসাবের ছক, বাঁ দিকে একটা সেটের খরচ পাইকারি দাম, প্যাকিং আর অ্যাড, ডান দিকে দশ সেটের কাগজের লাভ ৪,৬০০ টাকা থেকে ফেরত আর বদলের খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকা ৩,২৫৫ টাকা
কাগজে ৪,৬০০, হাতে ৩,২৫৫। ফারাকটা একটা ফেরত আর একটা কালো হয়ে যাওয়া সেট

এই হিসাব থেকে দুটো কাজের কথা বের হয়। একটা হলো, সাত দিনের পরীক্ষাটা আসলে ৫১০ টাকার বিমা। পাতলা প্রলেপের মাল না কিনলে বদলের খরচটাই আসে না। আরেকটা হলো, দাম ঠিক করার সময় প্রতি সেটে একটা ছোট রিজার্ভ ধরুন, যেমন ৫০ টাকা। দশ সেটে ৫০০ টাকা জমলে একটা বদলের খরচ প্রায় ঢেকে যায়, আর একটা অভিযোগ এলে মাসটা আর লোকসানে যায় না।

মডেল ছাড়া ছবি, স্ট্যান্ড, মাপ আর আলো

গয়নার ছবি তুলতে মডেল লাগে না, বরং মডেল ছাড়া ছবিতেই গয়না বেশি পরিষ্কার দেখায়। একটা কালো বা গাঢ় নীল ভেলভেটের কাপড় বা গয়নার স্ট্যান্ড কিনে নিন। গাঢ় পেছনের ওপর সোনালি আর রুপালি দুটোই ফুটে ওঠে। দিনের বেলা জানালার পাশে তুলুন, ফ্ল্যাশ বন্ধ রেখে। ফ্ল্যাশে পাথর আর প্রলেপ এমন চকচক করে যে আসল রং আর বোঝা যায় না।

আকার বোঝাতে গয়নার পাশে একটা চেনা জিনিস রাখুন, যেমন একটা কয়েন, বা একটা মাপের ফিতা। "বড় দুল" কথাটা একেকজনের কাছে একেক রকম। কয়েনের পাশে রাখা দুল দেখে কাস্টমার নিজেই বুঝে নেন কতটা বড়। বর্ণনায় নেকলেসের লম্বা আর দুলের ঝুলের মাপ ইঞ্চিতে লিখুন, আর পাথরওয়ালা গয়নায় কয়টা পাথর আছে সেটাও গুনে লিখুন। কাস্টমার পার্সেল খুলে গুনে দেখতে পারেন, আর একটা পাথর কম থাকলে দুজনেই সেটা ধরতে পারেন।

কালো ভেলভেটের কাপড়ের ওপর একটা সোনালি ব্রেসলেট, পাশে একটা কয়েন রাখা আকার বোঝানোর জন্য, দিনের নরম আলো, কোনো মানুষ নেই
কয়েনের পাশে ব্রেসলেট। কত বড়, বলে দিতে হয় না

পেছনের দিকের একটা ছবিও দিন, হুক, আংটা আর দুলের ডাঁটিসহ। অনেক কাস্টমার এটাই সবচেয়ে বেশি দেখতে চান, কারণ সস্তা গয়নার দুর্বলতা থাকে পেছনেই। ছবির খুঁটিনাটি, আলো আর ফোনের সেটিং নিয়ে আরও আছে মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায়।

একই ডিজাইন সোনালি, রুপালি আর রোজ গোল্ড রঙে থাকলে প্রতিটা রঙের আলাদা ছবি দিন, একই আলোয়। WinningSeller-এ রঙের অপশনে সোনালি, রুপালি আর রোজ গোল্ড তিনটা মান দিয়ে প্রতিটার পাশে "ছবি বাছুন" চেপে সেই রঙের ছবিটা বেছে দিলে, কাস্টমার রং বাছলেই গ্যালারি সেই ছবিতে চলে যায়। কার্ট আর আপনার অর্ডারেও সেই রঙের ছবিটাই থাকে, তাই প্যাকার ভুল রঙের সেট তোলেন না। প্রতিটা ডিজাইনের আর্টিকেল নম্বর কাস্টমার প্রোডাক্ট পেজেই দেখেন, ইনবক্সে কোড বলেই অর্ডার করতে পারেন। রং আর ছবি সাজানোর পুরো নিয়ম প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্টের লেখায় আছে।

প্যাকিং আর পার্সেলে কালো না হওয়ার উপায়

প্রলেপের সবচেয়ে বড় শত্রু ভেজা বাতাস, আর বর্ষায় ঢাকার বাতাস প্রায় সবসময় ভেজা। তাই কালো হওয়া শুধু কাস্টমারের গলায় শুরু হয় না, আপনার তাকেই শুরু হতে পারে। প্যাকিং শুরু হয় স্টক রাখার জায়গা থেকে।

স্টক রাখুন বায়ুরোধী প্লাস্টিকের বক্সে, প্রতিটা পিস নিজের জিপ ব্যাগে, বক্সে কয়েকটা সিলিকা জেলের প্যাকেট দিয়ে। বক্স রাখুন বাথরুম আর রান্নাঘর থেকে দূরে। প্যাকিং টেবিলের কাছে পারফিউম, বডি স্প্রে বা আতর রাখবেন না, আর টেবিলে বসে স্প্রে করবেন না। গরমের দিনে ঘামা হাতে প্রলেপের ওপর বারবার আঙুল দিলেও দাগ পড়ে। পাতলা সুতির গ্লাভস পরে প্যাক করলে এই ঝামেলা থাকে না।

পার্সেলে প্রতিটা সেট আলাদা জিপ ব্যাগে, একটা ছোট সিলিকা জেলের প্যাকেটসহ। দুল একটা কার্ডে আটকে নিন, যাতে জোড়া আলাদা না হয়। নেকলেসের চেইন সোজা করে ভাঁজ করে রাখুন, দলা পাকিয়ে না, তাহলে জট লাগে না। তারপর ছোট একটা শক্ত কাগজের বাক্সে ভরুন, যাতে কুরিয়ারের বস্তায় চাপ খেয়ে পাথর না খোলে বা চেইন না বাঁকে। বাক্সের ভেতরে একটা ছোট যত্নের কার্ড দিন। "পানি আর পারফিউম থেকে দূরে রাখুন, পারফিউম দেওয়ার পরে গয়না পরুন, খুলে জিপ ব্যাগে রাখুন।" এই এক লাইন অনেক অভিযোগ আগেই থামায়।

একজন যুবক টেবিলে বসে পাতলা সুতির গ্লাভস পরে একটা নেকলেস সেট স্বচ্ছ জিপ ব্যাগে ভরছেন, পাশে ছোট সিলিকা জেলের প্যাকেটের স্তূপ, কার্ডে আটকানো দুল আর কয়েকটা ছোট কাগজের বাক্স
জিপ ব্যাগ, সিলিকা জেল, শক্ত বাক্স। তিনটাই সস্তা, তিনটাই অভিযোগ থামায়

ফেরত আসা গয়না স্টকে তোলার আগে খুলে দিনের আলোয় দেখুন। প্রলেপে দাগ, পাথর কম বা হুক বাঁকা থাকলে সেটা নতুন মালের সাথে মেশাবেন না। ওটা আলাদা করে কম দামে "ছোট খুঁতসহ" লিখে বেচতে পারেন, বা নিজের হিসাবে ক্ষতি ধরে রাখুন।

"রং যাবে না" লিখবেন কি, গ্যারান্টির কথা

না, লিখবেন না। "রং যাবে না", "লাইফটাইম গ্যারান্টি", "সোনার মতোই টেকসই", এই কথাগুলো ইমিটেশন গয়নার বেলায় সত্যি না, আর একদিন একটা কালো হয়ে যাওয়া সেটের ছবির নিচে এই কথাগুলোই আপনাকে লজ্জায় ফেলবে। এক সপ্তাহের বিক্রির জন্য এক বছরের ভরসা নষ্ট করবেন না।

বর্ণনায় লিখুন সত্যিটা। কোন ধাতুর ওপর কিসের প্রলেপ, যতটুকু সাপ্লায়ার কাগজে দিয়েছেন। রঙের নাম লিখুন "সোনালি রঙের", কখনো "সোনার" না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১ আর ৩.২.২ অনুচ্ছেদে প্রোডাক্টের উপাদান, রং আর মাপ পরিষ্কার লিখতে বলা আছে, আর ৩.২.৮ অনুচ্ছেদে নকল বা ভেজাল জিনিস বেচা নিষেধ। আমার বোঝায়, ইমিটেশন বলে পরিষ্কার লিখে বেচলে সেটা কাউকে ঠকানো না। কিন্তু কোনো নামকরা ব্র্যান্ডের লোগো বসানো কপি বেচা নকলের ঘরেই পড়ার কথা, তাই এমন মাল তুলবেন না। কোনো নির্দিষ্ট মাল নিয়ে সন্দেহ থাকলে একজন আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন। অনুচ্ছেদগুলো ২০২৬ সালের অক্টোবরে গেজেটের মূল কপি থেকে মেলানো।

BSTI-র দিকটাও জেনে রাখুন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে BSTI-র বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের লিস্টের পেজে ৩১৫টা আইটেমের মূল লিস্টে সোনা আর সোনার সংকর ধাতুর গ্রেড ও মার্কিংয়ের মান (BDS 1515:2021) আছে। ২০২৬ সালে যোগ হওয়া নতুন আইটেমগুলো মিলিয়েও সেখানে ইমিটেশন বা সোনালি রঙের গয়নার আলাদা কোনো নাম চোখে পড়ে না। লিস্ট সময়ে সময়ে বদলায়, তাই বড় করে নিজের ব্র্যান্ডে বানাতে বা আমদানি করতে চাইলে BSTI-তে সরাসরি জিজ্ঞেস করে নিন। আর ইমিটেশনের বেলায় "সোনা", "ক্যারেট" বা "হলমার্ক" শব্দগুলো কখনো লিখবেন না। এগুলো আসল সোনার জন্য।

গ্যারান্টি দিতে চাইলে নিজের সামর্থ্যের ভেতরে, পরিষ্কার শর্তে দিন। যেমন, "হাতে পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে পাথর খুলে এলে বা হুক ভেঙে গেলে ছবি পাঠান, বদলে দেব।" এটা আপনি রাখতে পারবেন, কারণ ৭ দিনের মধ্যে যা হয় তা সাধারণত মালের দোষ। ওয়ারেন্টি আর গ্যারান্টির তফাত আর ক্লেইম সামলানোর নিয়ম ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টির লেখায় আছে।

আজই করে ফেলুন

বেশিরভাগ কাজে টাকা লাগে না, খরচ বলতে কিছু জিপ ব্যাগ আর সিলিকা জেল।

  1. যে ডিজাইনগুলো এখন বেচছেন বা বেচার কথা ভাবছেন, প্রতিটার পাশে লিখুন গোল্ড প্লেটেড, অক্সিডাইজড, পাথরের না স্টিল।
  2. সবচেয়ে বেশি চলা ডিজাইনের একটা পিস নিয়ে আজ থেকেই সাত দিনের ঘরোয়া পরীক্ষা শুরু করুন, আরেকটা পিস পাশে রেখে।
  3. পঞ্চাশটা জিপ ব্যাগ আর সিলিকা জেলের প্যাকেট কিনে রাখুন, আর স্টক বায়ুরোধী বক্সে সরান।
  4. পেজের বর্ণনা থেকে "রং যাবে না", "সোনার" ধরনের কথাগুলো খুঁজে খুঁজে বদলে দিন।
  5. যত্নের কার্ডের এক লাইন লিখে প্রিন্ট করে নিন, পরের পার্সেল থেকেই দিন।
  6. কানের দুল ফেরতের নিয়মটা পিন করা পোস্টে লিখুন।
  7. কালো ভেলভেট আর একটা কয়েন নিয়ে একটা ডিজাইনের ছবি নতুন করে তুলুন, সামনে-পেছনে দুই দিক।
জানালার পাশে একজন যুবক কালো ভেলভেটের স্ট্যান্ডে একটা সোনালি রঙের নেকলেস সেট সাজাচ্ছেন, পাশে আকার বোঝাতে একটা কয়েন, সামনে ছোট স্ট্যান্ডে তাঁর ফোন, গয়নাটা স্পষ্ট আর মানুষটা পেছনে ঝাপসা
ভেলভেট, কয়েন আর জানালার আলো। আজকের শেষ কাজটা এভাবেই

ইমিটেশন গয়নার কাস্টমার বারবার ফেরেন, কারণ নতুন ডিজাইনের শখ কখনো শেষ হয় না। যে দোকানের গয়না তিন সপ্তাহ পরেও ঝকঝকে থাকে আর যার বর্ণনায় বাড়িয়ে বলা কথা নেই, কাস্টমার পরের ঈদে সেখানেই আগে খোঁজেন। প্রথম কয়েক মাস ডিজাইন কম রাখুন, প্রতিটা পরখ করে নিন। দোকানের আর কী কী কাজ এক জায়গা থেকে চালানো যায়, সেটা ফিচারের পেজে দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায় লাভ কেমন?

গয়নার ওজন কম বলে কুরিয়ার খরচ কম, আর পাইকারি দামের সাথে বেচার দামের ফাঁক সাধারণত ভালো থাকে। কিন্তু আসল লাভ ঠিক করে দুটো জিনিস, অ্যাডে প্রতি অর্ডারে কত যায় আর কতগুলো "কালো হয়ে গেছে" বলে বদলাতে হয়। কেনার আগে মান পরখ না করলে কাগজের লাভ মাস শেষে অনেকটা কমে যায়।

ইমিটেশন গয়না কালো হয়ে যায় কেন?

বেশিরভাগ ইমিটেশন গয়না পিতল বা তামার মতো ধাতুর ওপর পাতলা সোনালি বা রুপালি প্রলেপ দিয়ে বানানো। ঘাম, পারফিউম, পানি আর বাতাসের আর্দ্রতায় প্রলেপ ক্ষয় হয়, তখন নিচের ধাতু বেরিয়ে কালচে দেখায়। প্রলেপ যত পাতলা, তত তাড়াতাড়ি হয়।

ইমিটেশন গয়নার জন্য কি BSTI লাইসেন্স লাগে?

২০২৬ সালের অক্টোবরে BSTI-র বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের লিস্টে সোনা আর সোনার সংকর ধাতুর গ্রেড ও মার্কিংয়ের নাম আছে, কিন্তু ইমিটেশন বা সোনালি রঙের গয়নার আলাদা নাম পাওয়া যায়নি। লিস্ট সময়ে সময়ে বদলায়, তাই বড় পরিসরে নামার আগে BSTI-তে সরাসরি জিজ্ঞেস করে নিন। আর ইমিটেশনের বেলায় সোনা, ক্যারেট বা হলমার্ক শব্দগুলো কখনো লিখবেন না।

কানের দুল কি ফেরত নেওয়া উচিত?

ভাঙা বা খুঁতওয়ালা না হলে কানের দুল সাধারণত ফেরত নেওয়া হয় না, কারণ কানে পরা জিনিস আরেকজনকে বেচা ঠিক না। এই নিয়মটা অর্ডারের আগেই পেজে আর কনফার্মের ফোনে বলে দিন। খুঁত থাকলে অবশ্যই বদলে দিন।

অল্প টাকায় কোন গয়না দিয়ে শুরু করব?

কানের দুল আর হালকা নেকলেস সেট দিয়ে শুরু করা সহজ, কারণ এগুলোর সাইজের ঝামেলা নেই আর ডিজাইন অনেক। চুড়ি আর আংটিতে সাইজ মেলানোর ঝামেলা থাকে, তাই শুরুতে কম রাখুন, বা আংটি নিলে মাপ বাড়ানো-কমানো যায় এমন নিন। ভারী বিয়ের সেট পরে, হাত বসে গেলে।

গয়না পার্সেলে কীভাবে প্যাক করব?

প্রতিটা সেট আলাদা জিপ ব্যাগে একটা সিলিকা জেলের প্যাকেটসহ রাখুন, কানের দুল কার্ডে আটকে নিন, নেকলেসের চেইন যেন জট না পাকায় সেভাবে ভাঁজ করুন। তারপর ছোট একটা শক্ত বাক্সে ভরে কুরিয়ার পলিতে দিন। এতে পথে চাপও লাগে না, ভেজা বাতাসও কম ঢোকে।

#ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসা#অনলাইন জুয়েলারি ব্যবসা#গোল্ড প্লেটেড গয়না#গয়না প্যাকিং#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়