কাস্টমার নম্বর লিখে চলে গেলেন? ইনকমপ্লিট অর্ডার ফেরাবেন যেভাবে
যিনি অর্ডার ফর্মে মোবাইল নম্বর লিখেও অর্ডার বাটন চাপেননি, তাঁর জন্য অ্যাডের টাকা আগেই খরচ হয়ে গেছে। কখন ফোন দেবেন, ফোনে কী বলবেন, কোন সীমা মানবেন, আর ফর্ম ঠিক করে এই সংখ্যাটা কীভাবে কমাবেন, সবটা টাকার হিসাবসহ এখানে পাবেন।

এই লেখায় যা আছে
- ইনকমপ্লিট অর্ডার কী, কার্ট ফেলে যাওয়ার সাথে পার্থক্য কোথায়?
- মানুষ ফর্ম অর্ধেক পূরণ করে চলে যান কেন?
- অর্ধেক পূরণ করা ফর্ম ধরবেন কীভাবে, প্লাগইন, সফটওয়্যার নাকি হাতে?
- কখন ফোন দেবেন, কত দেরিতে আর লাভ নেই?
- ফোনে কী বলবেন, আর কী বলবেন না
- কাস্টমারের তথ্য নিয়ে যে সীমা মানবেন
- ফর্ম ঠিক করে মাঝপথে চলে যাওয়া কমাবেন যেভাবে
- ফেরানো অর্ডারের হিসাব রাখবেন যেভাবে
ইনকমপ্লিট অর্ডার মানে এমন একজন কাস্টমার, যিনি আপনার ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজের অর্ডার ফর্মে মোবাইল নম্বর লিখেছেন, হয়তো নাম আর ঠিকানাও লিখেছেন, কিন্তু শেষে অর্ডার বাটনটা চাপেননি। ফর্মটা অর্ধেক পড়ে আছে, অর্ডার আসেনি। এমন কাস্টমারকে ফেরানোর সবচেয়ে কাজের উপায় একটা ভদ্র ফোন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সাধারণত একই দিনে। ফোনে জানতে চাইবেন অর্ডারটা কেন শেষ হলো না। সমস্যাটা মিটিয়ে দিতে পারলে অর্ডারটা ফোনেই নিয়ে নেবেন। তবে তার আগে নম্বরগুলো আপনার হাতে আসতে হবে, আর সাধারণ ফর্মে সেটা আসে না। সেই ব্যবস্থাও নিচে বলছি।
ধরুন রাত এগারোটায় Ads Manager খুলে দেখলেন আজ তিনশো মানুষ লিংকে ক্লিক করেছেন, অথচ অর্ডার এসেছে নয়টা। এই অনুভূতিটা ই-কমার্সের প্রায় সব সেলার চেনেন। মনে হয় টাকাটা চোখের সামনে উড়ে গেল। অর্ধেক পূরণ করা ফর্মের লিস্ট সেই উড়ে যাওয়া টাকার একটা অংশ ফেরত আনার রাস্তা। এই মানুষগুলোকে আনার খরচ আপনি আগেই দিয়ে ফেলেছেন, এখন শুধু একটা ফোনের অপেক্ষা।
কাজটা কেন এত জরুরি, একটা উদাহরণে দেখুন। নিচের সংখ্যাগুলো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন ১,৫০০ টাকার ডলার স্পেন্ডে ১০০ জন আপনার ল্যান্ডিং পেজে এলেন। ৩০ জন ফর্মে নম্বর লিখলেন, অর্ডার হলো ১২টা। তাহলে প্রতিটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডে গেল ১২৫ টাকা। বাকি ১৮ জন প্রোডাক্ট দেখেছেন, দাম দেখেছেন, নিজের নম্বরটাও লিখেছেন, তারপর কেনার একদম দরজায় এসে থেমে গেছেন। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকেও যদি ফোনে ফেরাতে পারেন, একই ১,৫০০ টাকায় অর্ডার হবে ১৭টা। অ্যাডে এক টাকাও না বাড়িয়ে অর্ডারপ্রতি অ্যাডের খরচ নেমে আসবে প্রায় ৮৮ টাকায়।
ইনকমপ্লিট অর্ডার কী, কার্ট ফেলে যাওয়ার সাথে পার্থক্য কোথায়?
বাইরের দেশের অনলাইন দোকানে এই সমস্যাটার নাম "অ্যাবান্ডনড কার্ট", মানে কেউ কার্টে প্রোডাক্ট রেখে কেনা শেষ না করে চলে গেছেন। Baymard Institute নামের একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ৫০টা আলাদা গবেষণা মিলিয়ে এর গড় হার বের করে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাদের কার্ট অ্যাবান্ডনমেন্টের পেজে গড় হার লেখা আছে ৭০.২২%, আর পেজটা শেষবার আপডেট হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। মানে প্রতি দশজনে প্রায় সাতজন কার্টে জিনিস রেখে কেনা শেষ করেন না। তবে এটা মূলত বাইরের দেশের কার্ড পেমেন্টের দোকানের হিসাব। বাংলাদেশের ক্যাশ অন ডেলিভারির এক পেজের ফর্মে হারটা কত, তার কোনো মাপা সংখ্যা আমাদের জানা নেই। তাই সংখ্যাটা হুবহু ধরবেন না, শুধু এটুকু বুঝুন যে মাঝপথে থেমে যাওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার।
পার্থক্যটা আসলে ফেরানোর রাস্তায়। বাইরের দোকানগুলো কার্ট ফেলে যাওয়া কাস্টমারকে সাধারণত ইমেইল পাঠিয়ে ফেরায়, কারণ সেখানে কাস্টমার ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলেন। আমাদের এখানে ফেসবুক অ্যাড থেকে আসা কাস্টমারের সামনে বেশিরভাগ সময় কোনো কার্টই থাকে না। তিনি একটা ল্যান্ডিং পেজে প্রোডাক্ট দেখেন, নিচের ফর্মে নাম, নম্বর আর ঠিকানা লেখেন, আর ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অর্ডার দেন। ইমেইল প্রায় কেউই দেন না। আপনার হাতে আসে মোবাইল নম্বর, আর সেটা ইমেইলের চেয়ে অনেক বেশি কাজের, কারণ ফোনে সরাসরি মানুষটার সাথে কথা বলা যায়।
তাই এই লেখায় ইনকমপ্লিট অর্ডার বলতে একটা জিনিসই বোঝাব। কাস্টমার একটা সঠিক মোবাইল নম্বর লিখেছেন, কিন্তু অর্ডার বাটন চাপেননি। কেউ কেউ বাংলায় একে অসম্পূর্ণ অর্ডারও বলেন, জিনিস একই। যিনি নম্বর না লিখে শুধু পেজ দেখে চলে গেছেন, তিনি এই লিস্টে পড়েন না। তাঁকে ফেরাতে হয় আবার অ্যাড দেখিয়ে, সেটা আলাদা কাজ।
মানুষ ফর্ম অর্ধেক পূরণ করে চলে যান কেন?
ফোন দেওয়ার আগে কারণগুলো জানা থাকলে ফোনে কী বলবেন সেটা সহজ হয়ে যায়। বেশিরভাগ কারণ খুব সাধারণ, আর তার বেশিরভাগই একটা ফোনে মিটে যায়।
খুব চেনা একটা কারণ হলো খরচের চমক। ধরুন কাস্টমার ১,২০০ টাকার দাম দেখে ফর্ম পূরণ শুরু করলেন, তারপর এলাকা বাছতেই দেখলেন ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ যোগ হয়ে মোট টাকা বেড়ে গেছে। অনেকে ওখানেই থেমে যান। Baymard-এর ওই একই পেজে কেনা শেষ না করার কারণের জরিপও আছে। যাঁরা শুধু ঘুরে দেখছিলেন তাঁদের বাদ দিলে সবচেয়ে বেশি মানুষ, ৪০%, বলেছেন ডেলিভারি চার্জ, ট্যাক্স বা ফি-র মতো বাড়তি খরচ বেশি লেগেছে। জরিপটা বাইরের দেশের, কিন্তু মানুষের মন সব জায়গায় প্রায় একই রকম।
অনেকে আটকে যান এমন একটা প্রশ্নে, যার উত্তর পেজে নেই। কেউ বুঝতে পারছেন না জুতার সাইজ ৪১ নেবেন নাকি ৪২, কেউ জানতে চান মধুটা কোন এলাকার বা গ্যাজেটের ওয়ারেন্টি আছে কি না। কাস্টমার ভাবলেন ইনবক্সে জিজ্ঞেস করে আসি, তারপর আর ফেরেননি।
কারও বেলায় বাধাটা আসে সাধারণ জীবন থেকে। ফর্ম পূরণের মাঝখানে নেট চলে গেল, অফিসে বস ডাকলেন, বা কেউ ফোন দিলেন। আবার কেউ বাসার কাউকে একবার জিজ্ঞেস করে নিতে চান, কেউ বেতনের দিনের অপেক্ষায় আছেন। এঁদের কেনার ইচ্ছা ছিল, শুধু মুহূর্তটা চলে গেছে।
আবার অনেক সময় দোষটা ফর্মেরই। কেউ নম্বরের আগে +88 লিখলেন বা বাংলা অঙ্কে লিখলেন, ফর্ম এরর দিল, কিন্তু এররটা কী সেটা বোঝা গেল না। কিংবা অর্ডার বাটন চাপার পর অনেকক্ষণ কিছুই হলো না। কেউ কেউ শেষ ধাপে গিয়ে দেখলেন ডেলিভারি চার্জ আগে bKash-এ দিতে হবে, আর পেমেন্টের পেজ থেকে ফিরে গেলেন।
আর সত্যি কথা হলো, লিস্টে কিছু ভুল নম্বর আর মজা করা মানুষও থাকবেন। কেউ বন্ধুর নম্বর লিখে দেখছিলেন ফর্ম কেমন কাজ করে। এঁদের সংখ্যা সাধারণত কম, আর ফোনে প্রথম দশ সেকেন্ডেই বোঝা যায়।
অর্ধেক পূরণ করা ফর্ম ধরবেন কীভাবে, প্লাগইন, সফটওয়্যার নাকি হাতে?
প্রথমে একটা সোজা কথা বলে রাখি। Google Form আর বেশিরভাগ সাধারণ ওয়েবসাইট ফর্ম অর্ডার বাটন চাপার আগে আপনার কাছে কিছুই পাঠায় না। কাস্টমার নম্বর লিখে পেজ বন্ধ করলে সেই নম্বর তাঁর ফোনেই থেকে যায়, আপনি কোনোদিন জানতেও পারবেন না। তাই ওয়েবসাইটের অর্ধেক পূরণ করা ফর্ম পুরোপুরি হাতে ধরা যায় না। এর জন্য এমন একটা ব্যবস্থা লাগে, যেটা কাস্টমার লেখার সাথে সাথে নম্বরটা চুপচাপ জমা রাখে।
হাতে যেটুকু করা যায়, সেটা ইনবক্সের কাস্টমারের জন্য। যিনি দাম জিজ্ঞেস করেছেন, নম্বরও দিয়েছেন, কিন্তু অর্ডার কনফার্ম করেননি, তাঁকে একটা শিটে তুলে রাখুন। তারিখ, নম্বর, কোন প্রোডাক্ট আর কী প্রশ্ন ছিল, এই চারটা ঘর হলেই চলে। নিচের ফোনের নিয়মগুলো তাঁর বেলাতেও খাটে।
WordPress আর WooCommerce-এ সাইট হলে "incomplete order plugin" লিখে খুঁজলে ফ্রি আর টাকার দুই রকম প্লাগইনই পাবেন। কোনোটার নাম আমরা বলছি না, কারণ আপনার সাইটে কোনটা ঠিক চলবে সেটা আপনার থিম আর ফর্মের ওপর নির্ভর করে। বসানোর আগে এই কয়টা জিনিস মিলিয়ে নিন।
- আপনার আসল অর্ডার ফর্মে কাজ করে কি না। অনেক ল্যান্ডিং পেজ বিল্ডারের নিজের আলাদা ফর্ম থাকে, আর কিছু প্লাগইন শুধু WooCommerce-এর চেকআউট পেজটা দেখে। তাহলে অ্যাডের ল্যান্ডিং পেজ থেকে একটা নম্বরও আসবে না।
- পুরো নম্বর লেখার পরে জমা রাখে কি না। প্রতিটা অঙ্ক টাইপের সাথে জমা রাখলে লিস্ট ভরে যায় অর্ধেক নম্বরে, যেগুলোতে ফোনই দেওয়া যায় না।
- একই নম্বর পরে অর্ডার দিলে নিজে থেকে সরিয়ে দেয় কি না। না দিলে আপনি এমন কাউকে ফোন দেবেন যিনি দশ মিনিট পরে নিজেই অর্ডার দিয়েছেন। তিনি বিরক্ত হবেন, আর আপনার সময়ও নষ্ট।
- পুরনো নম্বর মুছে ফেলার ব্যবস্থা আছে কি না, আর মোবাইল ডেটায় পেজ ধীর হয়ে যায় কি না। Wi-Fi বন্ধ করে নিজের ফোনে একবার খুলে দেখুন।
তৃতীয় রাস্তা হলো এমন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে এই ব্যবস্থা আগে থেকেই বানানো। WinningSeller-এ কাস্টমার অর্ডার ফর্মে একটা সঠিক বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর লেখার পর থেকে তিনি যা লিখছেন, মানে নাম, ঠিকানা আর কোন প্রোডাক্ট, সেটা নিজে থেকে জমা হয়, অর্ডার শেষ না করলেও। সব জমা হয় মেনুর "অসম্পূর্ণ অর্ডার" পেজে, আর প্রতিটা নামের পাশে লেখা থাকে কাস্টমার কোন পেজ থেকে এসেছিলেন আর শেষবার কখন ফর্মে ছিলেন। একই নম্বর থেকে ৭ দিনের মধ্যে অর্ডার এলে সেটা নিজে থেকে "অর্ডার হয়েছে" ঘরে চলে যায়, তাই যিনি নিজেই অর্ডার দিয়ে ফেলেছেন তাঁকে ভুল করে ফোন দেবেন না। ফিচারটা শুরু থেকেই চালু থাকে, সেটিংসে "অসম্পূর্ণ অর্ডার জমা রাখুন" সুইচ দিয়ে বন্ধও করা যায়।

কাদের এখনই এসবের দরকার নেই, সেটাও বলি। যাঁদের সব অর্ডার আসে ইনবক্সে, ওয়েবসাইটে কোনো ফর্মই নেই, তাঁদের প্লাগইন বা সফটওয়্যারের দরকার নেই, ওপরের শিটটাই যথেষ্ট। আর যাঁদের পেজে দিনে হাতে গোনা কয়েকজন আসেন, তাঁদের লিস্টে সপ্তাহে দুই-একটা নাম জমবে। তাঁদের জন্য আগে পেজে মানুষ আনা জরুরি।
কখন ফোন দেবেন, কত দেরিতে আর লাভ নেই?
যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো। দিনের বেলায় কেউ ফর্ম ফেলে গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ফোন দিন। তখনো তাঁর মনে আছে আপনার পেজটা কেমন ছিল, প্রোডাক্টটা কেন ভালো লেগেছিল। কারণটাও তখন তাজা থাকে, তিনি নিজেই বলে দেন "ভাই, ডেলিভারি চার্জ দেখে একটু থেমে গেছিলাম"।
রাতে ফর্ম ফেলে গেলে রাতে ফোন দেবেন না। অনেকে রাত বারোটায় বিছানায় শুয়ে ফেসবুক দেখতে দেখতে অর্ডার করেন। সেই সময় অচেনা নম্বরের ফোন এলে মানুষ ভয় পান, বিরক্ত হন। পরদিন সকাল ১০টার পরে দিন, আর রাত ৯টার পরে কখনো না।
কত দেরিতে আর লাভ নেই, তার কোনো মাপা নিয়ম নেই। তবে অনেক সেলারের অভিজ্ঞতা একই দিকে যায়। একই দিনে ফোন দিলে কথা সবচেয়ে সহজে আগায়, পরদিনও চলে। দুই-তিন দিন পার হলে বেশিরভাগ মানুষ হয় ভুলে গেছেন, নয়তো অন্য কোনো পেজ থেকে কিনে ফেলেছেন। তখন ফোনটা অনেকের কাছে পিছু লাগার মতো শোনায়। তাই আমাদের পরামর্শ, তিন দিনের পুরনো নম্বরে আর ফোন দেবেন না। একটাই ব্যতিক্রম, কাস্টমার নিজে যদি বলে থাকেন "শুক্রবারে ফোন দিয়েন"।
কয়বার দেবেন? দুইবার, মাঝে কয়েক ঘণ্টার ফারাক রেখে। ধরুন দুপুর একটায় ধরলেন না, তাহলে বিকেল পাঁচটার দিকে আরেকবার। দুবারেও না ধরলে থামুন। এই মানুষটা আপনার কাছে কিছু কেনেননি, তাঁকে পাঁচবার ফোন দেওয়ার অধিকার আপনার নেই, আর পাঁচবার দিলে তিনি নম্বরটা ব্লক করবেন। যিনি অর্ডার দিয়ে ফেলেছেন, তাঁর কনফার্মেশন কলের নিয়ম আলাদা। সেখানে দিনে তিন-চারবার ফোন দেওয়া চলে, কারণ মানুষটা নিজেই অর্ডার দিয়েছেন। সেই পুরো রুটিন আছে কাস্টমার ফোন না ধরলে কী করবেন, সেই লেখায়।
ফোন দেওয়ার আগে ত্রিশ সেকেন্ড সময় নিয়ে অর্ডারের লিস্টে নম্বরটা একবার খুঁজুন। অনেকে প্রথমবার থেমে গিয়ে আধা ঘণ্টা পরে নিজেই আবার এসে অর্ডার দেন। তাঁকে "অর্ডারটা শেষ হয়নি" বলে ফোন দিলে মনে হবে আপনার দোকানে কেউ কিছু খেয়াল করে না।
ফোনে কী বলবেন, আর কী বলবেন না
এই ফোনের কাজ চাপ দেওয়া না। কাজ হলো জানা, কোথায় আটকে গিয়েছিলেন, আর সেটা সরিয়ে দেওয়া। নিচের কথাগুলো একটা পাঞ্জাবির উদাহরণে লেখা, নিজের প্রোডাক্টের নাম বসিয়ে নিন। মুখস্থ পড়বেন না, নিজের ভাষায় বলুন।
শুরু। "আসসালামু আলাইকুম ভাই, আমি [আপনার নাম], [দোকানের নাম] থেকে বলছি। আপনি আজ দুপুরে আমাদের পেজে পাঞ্জাবির অর্ডার ফর্মে এই নম্বরটা লিখেছিলেন, অর্ডারটা শেষ হয়নি দেখে ফোন দিলাম। কোনো সমস্যা হয়েছিল, নাকি কিছু জানার ছিল?"
প্রথম কয়েক সেকেন্ডে নম্বরটা কোথা থেকে পেলেন সেটা নিজেই বলে দিন। না বললে মানুষ ভাবেন তাঁর নম্বর কোথাও বিক্রি হয়েছে, তখন কথা আর আগায় না। আর প্রশ্নটা খোলা রাখুন, তারপর চুপ করে শুনুন।
কাস্টমার যা বলতে পারেন, আর আপনি যা বলবেন। তিনি সাইজ নিয়ে দ্বিধায় থাকলে তাঁর উচ্চতা আর সাধারণত কোন সাইজ পরেন জেনে নিন, তারপর আপনার সাইজ চার্ট দেখে একটা পরিষ্কার পরামর্শ দিন। ডেলিভারি চার্জ বেশি লাগলে চার্জটা কেন এত, সেটা সোজা করে বলুন। দুটো পাঞ্জাবি একসাথে নিলে চার্জ একবারই লাগে, এমন কিছু সত্যি থাকলে সেটাও বলুন। নেট চলে গিয়েছিল বা ব্যস্ত ছিলেন বললে কাজটা সহজ, "সমস্যা নেই ভাই, আমি ফোনেই অর্ডারটা লিখে নিচ্ছি" বলে বাকি ঠিকানাটা জেনে নিন। দাম বেশি মনে হলে দামটা কেন এমন, কাপড় বা সেলাইয়ের কথা টেনে এক-দুই লাইনে বলুন, তারপর তাঁকে ভাবার সময় দিন।
শেষ করা। রাজি হলে অর্ডারটা মুখে মিলিয়ে নিন। "ঠিক আছে ভাই, কালো পাঞ্জাবি, সাইজ ৪২, ঠিকানা [থানা, জেলা], পাঞ্জাবি [দাম] টাকা আর ডেলিভারি চার্জ [চার্জ] টাকা, মোট [মোট] টাকা। কুরিয়ার থেকে ফোন দিলে একটু ধরবেন।" রাজি না হলে ভদ্রভাবে রাখুন, "আচ্ছা ভাই, সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পরে লাগলে পেজে একটা মেসেজ দিয়েন।" তারপর লিস্টে লিখে রাখুন কী হলো।

এবার বলি কোন কথাগুলো বলবেন না। প্রথমেই "ভাই, আপনি রাত একটা বারো মিনিটে ঠিকানায় মিরপুর লিখেছিলেন" ধরনের কথা বলবেন না। মানুষ টের পেলে যে তাঁর প্রতিটা অক্ষর আপনি দেখেছেন, তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। বলুন শুধু এটুকু, যে তিনি নম্বর লিখেছিলেন আর অর্ডার শেষ হয়নি। কথার শুরুতেই ছাড় দেবেন না। প্রথম ফোনে ছাড় পেলে মানুষ শিখে যান যে ফর্ম অর্ধেক ফেলে গেলেই ছাড় আসে, আর পরের বার ইচ্ছা করেই সেটা করেন। স্টক নিয়ে মিথ্যা বলবেন না, "মাত্র দুইটা আছে" তখনই বলবেন যখন সত্যিই দুইটা আছে। কেউ বললেন ভুল নম্বর, তর্ক করবেন না, দুঃখিত বলে রেখে দিন।
কাস্টমারের তথ্য নিয়ে যে সীমা মানবেন
একটা কথা মাথায় রাখুন। এই মানুষটা অর্ডার বাটন চাপেননি। মানে তিনি পুরোপুরি রাজি হননি, শুধু রাজি হওয়ার কাছাকাছি এসেছিলেন। তিনি হয়তো জানতেনও না যে বাটন না চাপলেও তাঁর লেখা নম্বরটা আপনার কাছে জমা হয়। তাই এই নম্বর নিয়ে আপনাকে সাধারণ অর্ডারের চেয়েও বেশি সাবধান থাকতে হবে।
নম্বরটা কাজে লাগাবেন শুধু ওই একটা অর্ডারের জন্য। এক-দুইটা ফোন, ব্যস। তাঁকে অফারের SMS লিস্টে তুলবেন না, ঈদের অফারের ফোনও দেবেন না, যদি না তিনি নিজে পরে আপনার কাস্টমার হন। নম্বর আর ঠিকানা অন্য কোনো পেজ বা কারও সাথে শেয়ার করবেন না, বিক্রি তো না-ই। টিমে কারা এই লিস্ট দেখবেন সেটা ঠিক করে দিন, যাঁরা ফোন দেন শুধু তাঁরা।
ফর্মে নম্বরের ঘরের নিচে ছোট করে একটা লাইন লিখে রাখতে পারেন, "নম্বর দিলে এই অর্ডারের ব্যাপারে আমরা আপনাকে ফোন দিতে পারি।" এতে কাস্টমার আগেই জানেন, পরে ফোন পেয়ে চমকে যান না। এটা আমাদের পরামর্শ, আইনি পরামর্শ না। হাজার হাজার কাস্টমারের নম্বর নিয়ে বড় করে কাজ শুরুর আগে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে নেওয়া ভালো।
পুরনো নম্বর সারা জীবন জমিয়ে রাখার কোনো কারণ নেই। যিনি তিন মাস আগে ফর্ম ফেলে গেছেন, তাঁকে আর ফোন দেবেন না, তাই নম্বরটা রাখারও দরকার নেই। হাতে শিট রাখলে মাসে একবার পুরনো সারিগুলো ডিলিট করুন। WinningSeller-এ এই লিস্টের নম্বর ৯০ দিন পর নিজে থেকে মুছে যায়।
ফর্ম ঠিক করে মাঝপথে চলে যাওয়া কমাবেন যেভাবে
ফোন দিয়ে কাস্টমার ফেরানো ভালো, কিন্তু আরও ভালো হলো তাঁকে মাঝপথে থামতেই না দেওয়া। আর এখানে ইনকমপ্লিট লিস্ট আপনাকে একটা দামি জিনিস দেয়, সেটা হলো মানুষ কেন থামছেন তার আসল কারণ। প্রতিটা ফোনের পর এক লাইনে লিখে রাখুন কাস্টমার কেন থেমেছিলেন। সপ্তাহ শেষে নোটগুলো পড়ুন। দেখবেন একই দুই-তিনটা কারণ বারবার আসছে, আর সেগুলোর বেশিরভাগ পেজেই ঠিক করা যায়।
নোটে যদি দেখেন বেশিরভাগ মানুষ ডেলিভারি চার্জ দেখে থেমেছেন, তাহলে চার্জটা ফর্মের অনেক আগে, দামের ঠিক পাশে লিখে দিন। এক লাইনে লিখুন "ঢাকায় [চার্জ] টাকা, ঢাকার বাইরে [চার্জ] টাকা", আপনার কুরিয়ারের আসল চার্জ বসিয়ে। অর্ডার বাটনের ঠিক ওপরে মোট টাকাটা দেখান। মানুষ চার্জ দেখে রাগ করেন না, রাগ করেন শেষ মুহূর্তে চমক পেলে।
সাইজের প্রশ্ন বেশি এলে সাইজ চার্টটা ফর্মের ঠিক ওপরে আনুন, পেজের মাঝখানে লুকিয়ে রাখবেন না। কয়েকজন যদি বলেন নম্বর লিখতে গিয়ে এরর এসেছিল, নিজের ফর্মের এরর লেখাটা একবার পড়ে দেখুন। "Invalid input" লেখা দেখে সাধারণ কাস্টমার কিছুই বোঝেন না, তাঁকে পরিষ্কার বাংলায় বলতে হবে কী ভুল হয়েছে। আর ফর্মের পাশে দোকানের একটা ফোন নম্বর রাখুন, যাতে যাঁর প্রশ্ন আছে তিনি ইনবক্সে হারিয়ে না গিয়ে সরাসরি ফোন দিতে পারেন।
অগ্রিম নিলে কেন নিচ্ছেন সেটা ফর্মের কাছেই এক লাইনে বলুন, "ঢাকার বাইরের অর্ডারে শুধু ডেলিভারি চার্জ আগে নিই, বাকি টাকা পার্সেল হাতে পেয়ে।" কারণ না জানলে মানুষ ভাবেন এটা প্রতারণা। ফর্মে কোন ঘর রাখবেন, নম্বর আর ঠিকানার ভুল কীভাবে কমাবেন, বাটনের নিচে কী লিখবেন, সেসব অর্ডার ফর্ম বানানোর লেখায় বিস্তারিত বলা আছে।
শেষ কাজটা নিজের হাতে করুন। একটা সস্তা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Wi-Fi বন্ধ করে নিজের পেজ খুলুন, তারপর ফর্মটা কাস্টমারের মতো পূরণ করুন। একবার ইচ্ছা করে নম্বরে একটা অঙ্ক কম দিন, দেখুন ফর্ম কী বলে। এই পাঁচ মিনিটে যা চোখে পড়বে, অনেক সময় সেটাই আপনার মাসের সবচেয়ে বড় লিক।
ফেরানো অর্ডারের হিসাব রাখবেন যেভাবে
মাপ না রাখলে দুই সপ্তাহ পর মনে হবে "ফোন দিয়ে কিছু হয় না", অথচ হয়তো হচ্ছে। আবার উল্টোটাও হতে পারে, অনেক অর্ডার আসছে কিন্তু সেগুলো দরজা থেকে ফেরত যাচ্ছে। তাই সপ্তাহে একবার পাঁচটা সংখ্যা লিখে রাখুন। কয়টা ইনকমপ্লিট এলো, কয়জনকে ফোন দিলেন, কয়জনের সাথে কথা হলো, কয়টা অর্ডার হলো, আর তার কয়টা ডেলিভারি হলো।
একটা উদাহরণ দেখুন, সংখ্যাগুলো বানানো, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। এক সপ্তাহে ৪০টা ইনকমপ্লিট এলো, ৩৫ জনকে ফোন দিলেন, ২৪ জনের সাথে কথা হলো, অর্ডার হলো ৯টা, ডেলিভারি হলো ৮টা। তাহলে ফোন দেওয়াদের মধ্যে ফেরানোর হার ৯ ÷ ৩৫, মানে প্রায় ২৬%। আসল লাভ গুনবেন ওই ৮টা ডেলিভারি থেকে, ৯টা অর্ডার থেকে না, কারণ ফেরত আসা পার্সেল বিক্রি না।
দুটো জিনিস আলাদা করে খেয়াল রাখুন। এক, ফেরানো অর্ডারের ফেরত সাধারণ অর্ডারের চেয়ে অনেক বেশি হলে বুঝবেন ফোনে আপনি বা আপনার স্টাফ বেশি চাপ দিচ্ছেন। চাপে রাজি হওয়া মানুষ দরজায় গিয়ে পার্সেল ফেরত দেন, আর প্রতিটা ফেরতের চার্জ যায় আপনার পকেট থেকে। এমন নম্বর চেনার উপায় ফেক অর্ডার আর রিটার্ন কমানোর লেখায় আছে। দুই, অনেকে ফোনে "দেখি" বলে দুই-এক দিন পর নিজেই পেজে এসে অর্ডার দেন। এমন অর্ডারও ফোনের ঘরে গুনুন, কারণ ফোনটা না গেলে তিনি হয়তো আর ফিরতেন না।
WinningSeller-এ এই হিসাবের বেশিরভাগ নিজে থেকেই জমে। "অসম্পূর্ণ অর্ডার" পেজের ওপরে লেখা থাকে কতজন কল বাকি, কতজন অর্ডার করেছেন আর কতজন বাদ গেছেন। মোবাইলে নম্বরে চাপলেই কল যায়। কথা শেষে "কল করেছি" চেপে "কথা হয়েছে" বা "ধরেনি" বেছে নেন, সাথে কী হলো তার একটা নোট, যাতে টিমের আরেকজন একই মানুষকে আবার ফোন না দেন। কাস্টমার ফোনে রাজি হলে "অর্ডার বানান" চাপলে নতুন অর্ডারের ফর্ম খোলে, নাম, নম্বর আর ঠিকানা বসানো অবস্থায়, আপনি শুধু প্রোডাক্টটা বেছে দেন। আর যাঁকে আর ফোন দেওয়ার দরকার নেই, তাঁর জন্য "বাদ দিন"। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।
আজই শুরু করতে চাইলে বড় কিছু লাগবে না। আজকের ইনকমপ্লিট নম্বরগুলো, বা ইনবক্সে দাম জিজ্ঞেস করে চুপ হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর নম্বর, একটা শিটে তুলুন। সন্ধ্যার আগে তাঁদের ওপরের কথাগুলো দিয়ে ফোন দিন, আর প্রতিটা ফোনের পর এক লাইনে লিখুন কেন থেমেছিলেন। এক সপ্তাহ পর সেই লাইনগুলো পড়লেই বুঝবেন আপনার ফর্মে কোথায় টাকা পড়ে যাচ্ছে।
সাধারণ প্রশ্ন
ইনকমপ্লিট অর্ডার মানে কী?
ইনকমপ্লিট অর্ডার মানে কাস্টমার আপনার অর্ডার ফর্মে মোবাইল নম্বর লিখেছেন, কিন্তু অর্ডার বাটনটা চাপেননি। নাম-ঠিকানা লেখা থাকতেও পারে, না-ও পারে। অর্ডার আসেনি, কিন্তু নম্বরটা আছে, তাই একটা ফোন দিয়ে তাঁকে ফেরানোর সুযোগ থাকে।
ইনকমপ্লিট অর্ডারের কাস্টমারকে কখন ফোন দেওয়া উচিত?
দিনের বেলা হলে ফর্ম ফেলে যাওয়ার এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফোন দিন। কেউ রাতে ফর্ম ফেলে গেলে পরদিন সকাল ১০টার পরে দিন, রাত ৯টার পরে না। দুই-তিন দিন পার হয়ে গেলে সাধারণত আর লাভ হয় না, কারণ ততদিনে তিনি ভুলে গেছেন বা অন্য কোথাও থেকে কিনে ফেলেছেন।
ইনকমপ্লিট অর্ডার কি ফেক অর্ডার?
সবসময় না। অনেকে থেমে যান কোনো প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে, ডেলিভারি চার্জ দেখে, বা নেট চলে যাওয়ার মতো সাধারণ কারণে। তবে লিস্টে কিছু ভুল নম্বর আর মজা করা নম্বরও থাকবে। ফোনে কথা বললেই বোঝা যায় কে কোন দলে।
WooCommerce সাইটে ইনকমপ্লিট অর্ডার ধরতে কি প্লাগইন লাগবে?
হ্যাঁ, সাধারণ WooCommerce-এ অর্ধেক পূরণ করা চেকআউটের নম্বরগুলো আপনার সামনে কোনো লিস্টে আসে না, তাই এর জন্য আলাদা প্লাগইন লাগে। বসানোর আগে দেখে নিন প্লাগইনটা আপনার আসল অর্ডার ফর্মে কাজ করে কি না, একই নম্বর অর্ডার দিলে নিজে থেকে বাদ দেয় কি না, আর মোবাইলে পেজ ধীর করে কি না।
ইনকমপ্লিট অর্ডারের নম্বরে কি অফারের SMS পাঠানো যায়?
না পাঠানোই ভালো। কাস্টমার নম্বরটা দিয়েছিলেন একটা নির্দিষ্ট অর্ডারের জন্য, অফারের লিস্টে ঢোকার জন্য না। ওই অর্ডারের ব্যাপারে একটা-দুটো ফোন ঠিক আছে, কিন্তু তিনি না করলে নম্বরটা অফারের কাজে লাগাবেন না।
কয়বার ফোন দেওয়ার পর থামব?
দুইবার ফোন দিয়ে থামুন, মাঝে কয়েক ঘণ্টার ফারাক রেখে। দুবারেও না ধরলে আর দেবেন না। অর্ডার দেওয়া কাস্টমারের কনফার্মেশন কলের নিয়ম আলাদা, সেখানে তিন-চারবার চলে। আর কথা হওয়ার পর তিনি "লাগবে না" বললে সেদিনই থামুন, আবার ফোন দেবেন না।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


