WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৫ মিনিটে পড়া যায়

ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্ট খুলে ফেসবুকের বাইরেও অর্ডার আনবেন যেভাবে

ফেসবুক পেজ তো আছে, ইনস্টাগ্রামে দোকান খুললে কি অর্ডার আসবে? কোন প্রোডাক্ট সেখানে চলে, বিজনেস একাউন্টে সুইচ আর পেজের সাথে কানেক্ট করার ধাপ, বায়োর লিংক কোথায় নিয়ে যাবে, কী পোস্ট করবেন, আর ডিএম-এর অর্ডার যেন না হারায়, সব এক জায়গায়।

ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্ট খুলে ফেসবুকের বাইরেও অর্ডার আনবেন যেভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. ইনস্টাগ্রামে কোন প্রোডাক্ট বিক্রি হয়, কোনটা ফেসবুকেই ভালো?
  2. বিজনেস নাকি ক্রিয়েটর একাউন্ট?
  3. ধাপ ১: পার্সোনাল প্রোফাইলকে ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্টে সুইচ করা
  4. ধাপ ২: ফেসবুক পেজের সাথে কানেক্ট করা
  5. ধাপ ৩: নাম, বায়ো আর বায়োর লিংক
  6. কী পোস্ট করবেন, রিল, ক্যারোসেল না স্টোরি?
  7. ডিএম থেকে অর্ডার হারাবেন না যেভাবে
  8. ইনস্টাগ্রামে অ্যাড, আলাদা না ফেসবুকের সাথেই?

ধরুন রাত সাড়ে দশটা। দিনের সব পার্সেল কুরিয়ারে তুলে দিয়ে চা নিয়ে একটু বসেছেন। ভার্সিটিতে পড়া ছোট ভাই ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলল, "ভাইয়া, আমার বন্ধুরা তো পাঞ্জাবি ইনস্টাগ্রাম দেখেই কেনে। একটা ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্ট খোলো না কেন?"

খোলার কাজটা আসলে সবচেয়ে সহজ। আলাদা কোনো অ্যাপ লাগে না, একটা সাধারণ Instagram প্রোফাইলকেই সুইচ করে নিলে হয়, আর এতে কোনো টাকা লাগে না। Instagram অ্যাপে নিজের প্রোফাইলে গিয়ে ওপরের তিন দাগের মেনু থেকে Account type and tools খুলুন, তারপর Switch to professional account চেপে Business বেছে নিন। এরপর ফেসবুক পেজের সাথে কানেক্ট করুন, বায়োতে এমন একটা লিংক বসান যেখানে চাপলেই অর্ডার করা যায়, আর ডিএম-এর Requests ফোল্ডারটা রোজ খুলুন। এই কাজগুলো ঠিকঠাক হলে Instagram আপনার ফেসবুক পেজের পাশে একটা বাড়তি দোকান হয়ে দাঁড়ায়।

তবে ভাইয়ের কথা শুনে আপনার মনে কী ঘুরছে, সেটা বুঝি। এমনিতেই ফেসবুকের ইনবক্স সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, এখন আরেকটা অ্যাপ? এত সময় দিয়ে যদি একটা অর্ডারও না আসে? দুটো প্রশ্নেরই উত্তর আছে। তবে উত্তরটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কী বেচেন তার ওপর, কারণ সব প্রোডাক্ট Instagram-এ চলে না। তাই সেখান থেকেই শুরু করি।

ইনস্টাগ্রামে কোন প্রোডাক্ট বিক্রি হয়, কোনটা ফেসবুকেই ভালো?

আগে একটা সংখ্যা দেখে নিন, তাহলে আশাটা ঠিক জায়গায় থাকবে। DataReportal-এর Digital 2026 Bangladesh রিপোর্টে Meta-র নিজের অ্যাড টুলের হিসাব ধরে লেখা আছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশে Instagram-এর ইউজার ছিল প্রায় ৯১ লাখ ৫০ হাজার। একই রিপোর্টে Facebook-এর সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লাখ। মানে Instagram-এর মাঠটা Facebook-এর প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ।

ছোট মাঠ মানেই খারাপ মাঠ না। আসল কথা হলো সেখানে কারা আছেন। সেলারদের সাধারণ অভিজ্ঞতা বলে, Instagram-এ বেশি থাকেন শহরের তরুণরা, ভার্সিটির ছাত্রছাত্রী আর চাকরির শুরুতে থাকা মানুষ। তাঁরা লম্বা লেখা কম পড়েন, ছবি আর ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেন। তাই যে প্রোডাক্ট দেখতেই সুন্দর, যার রং আর ডিজাইনটাই আসল কথা, সেটা Instagram-এ ভালো চলে। যেমন পাঞ্জাবি, শার্ট, স্নিকার, ঘড়ি, ব্যাগ, পারফিউম, হাতে বানানো গিফট আইটেম, ঘর সাজানোর জিনিস বা কাস্টম কেক।

উল্টো দিকে কিছু প্রোডাক্ট ফেসবুকেই ভালো থাকে। মধু, ঘি, সরিষার তেল বা হারবাল কোনো জিনিস বোঝাতে লম্বা কথা লাগে। এর কাস্টমার প্রশ্ন করেন, কমেন্টে অন্যদের অভিজ্ঞতা পড়েন, ভরসা পেতে সময় নেন। ফেসবুকের পোস্ট আর গ্রুপ এই কাজটা ভালো পারে। আবার আপনার কাস্টমার যদি বেশিরভাগ জেলা শহরের মাঝবয়সী মানুষ হন, তাঁরাও সাধারণত Instagram কম খোলেন।

নিজের জন্য একটা সহজ মাপকাঠি নিন। শেষ ৫০টা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার খুলে দেখুন, কতগুলো বড় শহরে গেছে। তারপর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ছবি দেখেই কি মানুষ আপনার প্রোডাক্টটা কিনে ফেলে? দুটোর উত্তরই "বেশিরভাগ" হলে Instagram-এ সময় দিন, এটা আপনার জন্য। দুটোই "কম" হলে আগে ফেসবুক পেজ আর অর্ডারের কাজ গুছান, Instagram পরে। মাঝামাঝি হলে প্রোফাইলটা গুছিয়ে খুলে রাখুন, ফেসবুকের রিলগুলো সেখানেও দিন, কিন্তু আলাদা করে দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেবেন না। এটা কোনো গবেষণার নিয়ম না, শুধু সময় কোথায় দেবেন সেটা ঠিক করার একটা শুরু।

দোকানের টেবিলে বসে একজন তরুণ সেলার খাতায় শেষ ৫০টা অর্ডারের শহরের নাম গুনে দাগ দিচ্ছেন, পাশে ফোনে কুরিয়ারের ডেলিভারি লিস্ট খোলা
নিজের পুরনো অর্ডারই বলে দেয় Instagram-এ সময় দেওয়া উচিত কি না

আরেকটা কথা পরিষ্কার করে রাখি, কারণ ইউটিউবের বিদেশি ভিডিও দেখে অনেকে এখানে ভুল বোঝেন। পোস্টে প্রোডাক্ট ট্যাগ করা আর প্রোফাইলে Shop ট্যাব, এই সুবিধাগুলো বাংলাদেশ থেকে চালু করা যায় না। Instagram-এর হেল্প সেন্টারে Shops-এর জন্য যে দেশগুলোর লিস্ট আছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাতে বাংলাদেশের নাম নেই। তাই এই লেখায় "শপ" মানে আপনার নিজের অর্ডারের পেজ, আর Instagram হলো সেখানে মানুষ পাঠানোর রাস্তা।

বিজনেস নাকি ক্রিয়েটর একাউন্ট?

Instagram-এ প্রফেশনাল একাউন্ট দুই রকম, Business আর Creator। Instagram-এর হেল্প পেজ অনুযায়ী Business একাউন্ট দোকান, ব্র্যান্ড, লোকাল ব্যবসা আর সার্ভিস দেওয়া মানুষের জন্য। Creator একাউন্ট পাবলিক ফিগার, কনটেন্ট বানানো মানুষ, আর্টিস্ট আর ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য। দুটোতেই অ্যাড দেওয়া, Insights দেখা আর মেসেজ গুছানোর টুল পাওয়া যায়।

আপনি প্রোডাক্ট বেচেন, তাই সোজা উত্তর Business। এখানে প্রোফাইলে দোকানের ফোন নম্বর আর ইমেইল দেখানো যায়, ক্যাটাগরি দেখায়, পেজের সাথে কানেক্ট করে অ্যাডও চালানো যায়। মানে পুরো প্রোফাইলটা দোকানের মতো করে সাজানো থাকে। Creator বেছে নিলে প্রোফাইলটা দেখতে লাগে একজন মানুষের মতো, দোকানের মতো না। কাস্টমার যখন অচেনা পেজ থেকে টাকা দিয়ে কিছু কিনতে যান, তখন এই ছোট ছোট জিনিসই ভরসা তৈরি করে।

একটা জিনিস অনেকে সুইচ করার পরে টের পান, তাই আগেই বলে রাখি। Instagram-এর লাইসেন্সড মিউজিকের হেল্প পেজে লেখা আছে, লাইব্রেরির গানগুলো ব্যক্তিগত কাজের জন্য, তাই কিছু বিজনেস একাউন্ট এই লাইব্রেরি পায় না। তখন রিলে মিউজিক দিতে হয় Meta-র Sound Collection থেকে। সেখানে হাজার হাজার রয়্যালটি-ফ্রি গান আর সাউন্ড আছে, আর সেগুলো অ্যাডেও চলে। শুধু পছন্দের গানের জন্য Creator একাউন্ট নেবেন না। কারণ দোকানের রিল একদিন বুস্ট করতেই হবে, আর Instagram-এর বুস্টের নিয়মে লেখা আছে, বুস্ট করা রিলে লাইসেন্সড গান চলে না।

ভুল বেছে ফেললেও চিন্তা নেই। Instagram বলছে, প্রফেশনাল একাউন্টের ধরন যেকোনো সময় চেঞ্জ করা যায়, চাইলে পার্সোনালেও ফেরা যায়।

ধাপ ১: পার্সোনাল প্রোফাইলকে ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্টে সুইচ করা

শুরুর আগে একটা জিনিস ঠিক করে নিন, কোন প্রোফাইলটা সুইচ করবেন। Instagram-এর হেল্প পেজে লেখা আছে, প্রাইভেট প্রোফাইল প্রফেশনাল একাউন্টে সুইচ করলে সেটা পাবলিক হয়ে যায়, আর যত ফলো রিকোয়েস্ট ঝুলে ছিল সব নিজে থেকে অ্যাকসেপ্ট হয়ে যায়। মানে বিয়ের ছবি, বন্ধুদের আড্ডার ছবিতে ভরা নিজের প্রোফাইল সুইচ করলে সেগুলো সবাই দেখবে। তাই দোকানের জন্য আলাদা একটা Instagram একাউন্ট খুলে নেওয়াই ভালো। Instagram এক অ্যাপেই একাধিক একাউন্টে লগইন রেখে এক চাপে এদিক-ওদিক যেতে দেয়, তাই এক ফোনেই দুটো চালাতে পারবেন।

দোকানের একাউন্টে লগইন করে Instagram-এর দেখানো এই ধাপগুলো পরপর করুন।

  1. নিচের ডান কোণে নিজের ছবিতে চেপে প্রোফাইলে যান।
  2. ওপরের ডান কোণের তিন দাগের মেনু চাপুন, Settings and activity খুলবে।
  3. For professionals অংশে Account type and tools চাপুন।
  4. Switch to professional account চাপুন।
  5. একটা ক্যাটাগরি বেছে নিন, যেটা আপনার দোকানের কাজের সবচেয়ে কাছাকাছি।
  6. Business বেছে নিয়ে Next চাপুন।
  7. দোকানের ফোন নম্বর আর ইমেইল দিন। এরপর ফেসবুক পেজ কানেক্ট করার কথা আসবে, সেটা পরের ধাপে বলছি।
Instagram-এর Account type and tools স্ক্রিনের নকশা, Switch to professional account হলুদ দাগে ঘেরা, নিচে Business আর Creator দুটো অপশন, পাশে সুইচ করার সাতটা ধাপ
সেটিংসের For professionals অংশেই সুইচের অপশনটা থাকে

ক্যাটাগরি নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না। Instagram নিজেই লিখেছে, কোন ক্যাটাগরি নিলেন তা দেখে ঠিক হয় না একাউন্টটা Business হবে না Creator। কম্পিউটারে বসে কাজটা করতে চাইলে instagram.com-এ More থেকে Settings, তারপর একই Account type and tools। পুরো কাজে পাঁচ মিনিটও লাগে না।

ধাপ ২: ফেসবুক পেজের সাথে কানেক্ট করা

পেজের সাথে কানেক্ট করা বাধ্যতামূলক না। সুইচ করার সময় Skip চেপে পরে করাও যায়। তবু কানেক্ট করে নিন, কারণ এতে আপনার রোজকার কাজ কমে। Meta-র হেল্প পেজ বলছে, কানেক্ট থাকলে Instagram-এর পোস্ট ফেসবুক পেজে শেয়ার করা যায়, দুই জায়গার Insights একসাথে পাওয়া যায়, আর Instagram-এর বিজনেস টুলগুলো খোলে। কাজের ভাষায় বললে, একটা রিল বানিয়ে দুই জায়গায় দেবেন, একটা অ্যাড দুই জায়গায় দেখাবেন। আর Meta Business Suite-এ Instagram-এর মেসেজ আসবে পেজের মেসেজের পাশেই, দুটো অ্যাপ ঘুরে দেখতে হবে না।

কানেক্ট করার আগে দুটো জিনিস লাগবে। ফেসবুক পেজে আপনার full control থাকতে হবে, মানে পেজের পুরো অ্যাক্সেস। আর পেজটা কোনো বিজনেস পোর্টফোলিওতে থাকলে Instagram একাউন্টটাকেও সেই একই পোর্টফোলিওতে আনতে হবে, কারণ Meta-র নিয়মে একটা Instagram একাউন্ট একসাথে একটাই পোর্টফোলিওতে থাকতে পারে। পোর্টফোলিওতে Instagram আনার ধাপগুলো মেটা বিজনেস স্যুট আর পোর্টফোলিওর লেখায় আছে, এখানে আর বলছি না।

এবার কানেক্ট করার পালা, Meta-র "Connect or disconnect your professional Instagram account and a Facebook Page" হেল্প পেজ যেভাবে বলেছে। Instagram-এ প্রোফাইলে গিয়ে Edit profile চাপুন। Business একাউন্ট হলে নিচে Public business information অংশে আসুন। সেখানে Page চাপুন, তারপর Connect or create, তারপর Continue। এবার Log in to Facebook চেপে দেখে নিন ঠিক ফেসবুক একাউন্টটা এসেছে কি না। অন্য একাউন্ট লাগলে Switch Facebook account চাপুন। শেষে নিজের পেজটা বেছে Connect চাপলেই কাজ শেষ।

ধাপ ৩: নাম, বায়ো আর বায়োর লিংক

কেউ একটা রিল দেখে আপনার প্রোফাইলে এলেন। এক নজরেই তিনি তিনটা জিনিস বুঝতে চান। এটা কিসের দোকান, তাঁর এলাকায় ডেলিভারি দেয় কি না, আর কিনবেন কীভাবে। প্রোফাইলের ওপরের অংশটা এই তিন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তিনি পরের রিলে চলে যান, আর ফেরেন না।

নাম দিয়েই শুরু করুন। প্রোফাইলের নামের ঘরে শুধু দোকানের নাম না লিখে পাশে কী বেচেন সেটাও লিখুন, যেমন "দোকানের নাম | Cotton Panjabi"। username রাখুন ছোট আর ফেসবুক পেজের নামের সাথে মিলিয়ে, যাতে কাস্টমার এক জায়গায় দেখে অন্য জায়গায় সহজে খুঁজে পান।

এবার বায়ো। Instagram-এর হেল্প পেজ অনুযায়ী বায়োতে ১৫০ অক্ষর পর্যন্ত লেখা যায়। বাংলায় লিখলে কার আর ফলাও আলাদা অক্ষর হিসেবে গোনা হয়, তাই জায়গাটা আরও ছোট লাগবে। তিন লাইনে তিন প্রশ্নের উত্তর দিন, এর বেশি না। একটা উদাহরণ দেখুন।

নিজেদের কারখানার কটন পাঞ্জাবি
সারা দেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি
অর্ডার করতে নিচের লিংকে চাপুন

প্রথম লাইন বলছে কী বেচেন আর কেন আলাদা। দ্বিতীয় লাইন বলছে টাকা আগে দিতে হবে না, আর এই একটা কথাই অচেনা দোকানের প্রতি ভয় অনেকটা কমায়। তৃতীয় লাইন হাত ধরে দেখিয়ে দিচ্ছে এরপর কী করতে হবে। "Premium quality", "Best price" জাতীয় কথা জায়গা খায়, কাউকে কিছু বলে না।

তারপর আসে বায়োর লিংক। Instagram-এর হেল্প পেজে লেখা আছে, প্রোফাইলে ৫টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া যায়, আর সেগুলোর সিরিয়াল আগে-পিছে করা যায়। প্রোফাইলে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে প্রথম লিংকটাই। তাই প্রথমে রাখুন সেই লিংক, যেখানে চাপলে অর্ডার করা যায়। Edit profile থেকে Links-এ গিয়ে লিংক বসাতে পারবেন।

দুটো Instagram প্রোফাইলের পাশাপাশি নকশা, বাঁয়েরটায় শুধু দোকানের নাম আর খালি বায়ো, ডানেরটায় নামের পাশে কী বেচে লেখা, তিন লাইনের বায়ো আর ওপরে অর্ডারের লিংক
বায়ো পড়েই যেন বোঝা যায় কী বেচেন আর কীভাবে কিনবেন

লিংক দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো লিংকটা কোথায় নিয়ে যায়। ফেসবুক পেজের লিংক দিলে কাস্টমারকে আরেকটা অ্যাপে পাঠালেন, পথেই অনেকে হারিয়ে যান। চ্যাটের লিংক দিলে আবার সেই "দাম কত", "XL আছে?" দিয়ে শুরু। সবচেয়ে ভালো হলো এমন একটা পেজ, যেখানে প্রোডাক্টের ছবি, দাম, সাইজ আর অর্ডারের ফর্ম এক জায়গায় থাকে। একটা প্রোডাক্ট বেশি চললে সেই প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজ দিন, অনেকগুলো হলে নিজের অনলাইন স্টোরের লিংক। কাস্টমার নিজেই নাম, মোবাইল আর ঠিকানা লিখে অর্ডার দেন, আপনাকে রাত জেগে চ্যাটে প্রশ্ন করতে হয় না। ফেসবুক পেজ থেকে নিজের স্টোরে যাওয়ার পুরো হিসাব পেজ থেকে অনলাইন স্টোর বানানোর লেখায় আছে।

WinningSeller-এ এই পেজটা বানাতে ডিজাইনার বা ডেভেলপার লাগে না। AI দিয়ে ৫ মিনিটে একটা ল্যান্ডিং পেজ দাঁড়িয়ে যায়, তারপর প্রতিটা লেখা আর বাটনের রং-সাইজ নিজের মতো করে নেবেন। নিজের ডোমেইন বসালে বায়োর লিংকটাও হয় দোকানের নামে। আর ব্র্যান্ডের সেটআপে "দোকানের পরিচয় ও সোশ্যাল লিংক" অংশে Instagram-এর লিংক বা @নাম দিলে স্টোরের ফুটারে Instagram-এর আইকন বসে যায়, ফলে উল্টো পথেও মানুষ আপনাকে খুঁজে পান।

বায়োর লিংকে নিজের অর্ডার পেজ বসিয়ে দেখুনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

কী পোস্ট করবেন, রিল, ক্যারোসেল না স্টোরি?

তিনটার কাজ তিন রকম, তাই তিনটাই লাগবে। তবে সবকটা সমান পরিমাণে দেবেন না, কারণ প্রতিটা আলাদা মানুষের কাছে পৌঁছায়।

রিল নতুন মানুষ আনে। যাঁরা আপনাকে চেনেন না, তাঁদের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় রাস্তা রিল, এটা প্রায় সব সেলারের অভিজ্ঞতা। পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে কাপড়টা কাছ থেকে দেখানো, গায়ে দিয়ে হেঁটে দেখানো, রাতের প্যাকিংয়ের ব্যস্ততা, এমন সাধারণ ভিডিওই কাজ করে। রিলের সাইজ, প্রথম দুই সেকেন্ডে কী দেখাবেন আর মোবাইলে শুট করার নিয়ম রিলের ভিডিও বানানোর লেখায় ধরে ধরে বলা আছে।

জানালার আলোয় হ্যাঙারে ঝোলানো একটা সাদা পাঞ্জাবির রিল ফোনে শুট করছেন একজন তরুণ সেলার, ফোনটা ছোট ট্রাইপডে খাড়া করে রাখা
রিলের জন্য স্টুডিও লাগে না, জানালার আলো আর খাড়া করে রাখা ফোনই যথেষ্ট

ক্যারোসেল প্রশ্নের উত্তর দেয়। ক্যারোসেল মানে এক পোস্টে কয়েকটা ছবি, আঙুল দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে দেখতে হয়। যিনি রিল দেখে আগ্রহী হয়েছেন, তিনিই ক্যারোসেল সরিয়ে দেখেন। তাই প্রথম ছবিটা রাখুন সবচেয়ে সুন্দরটা, তারপর কাপড় বা সেলাইয়ের কাছের ছবি, সব রং পাশাপাশি, সাইজের চার্ট, আর শেষ ছবিতে কীভাবে অর্ডার করবেন। ডিএম-এ যে প্রশ্নগুলো রোজ দশবার আসে, তার উত্তর এখানেই দিয়ে দিন। তাহলে যিনি মেসেজ করেন, তিনি প্রশ্ন না করে সরাসরি অর্ডার করতে চান।

স্টোরি চেনা মানুষকে মনে করায়। স্টোরি বেশি দেখেন যাঁরা আগে থেকে আপনাকে ফলো করেন। নতুন স্টক এলে, কোনো রং শেষ হয়ে এলে, কাস্টমার খুশি হয়ে মেসেজ দিলে তার স্ক্রিনশট, এগুলো স্টোরির জন্য। স্ক্রিনশট দিলে কাস্টমারের নাম আর নম্বর ঢেকে দিন, আর পারলে তাঁর অনুমতি নিয়ে নিন। স্টোরি একদিন পর চলে যায়, কিন্তু Highlights-এ রাখলে প্রোফাইলে থেকে যায়। "অর্ডার", "ডেলিভারি", "সাইজ" আর "রিভিউ" নামে চারটা Highlights রাখুন। নতুন কেউ প্রোফাইলে এসে ওখানেই নিজের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যান।

আর দাম? ক্যাপশনে দাম লিখে দিন। Instagram-এ মানুষ তাড়াতাড়ি স্ক্রল করেন। "দাম জানতে ডিএম করুন" দেখলে অনেকে মেসেজ না করেই চলে যান, অনেক সেলার এটা নিজের চোখে দেখেছেন। দাম লুকালে প্রশ্ন বাড়ে, অর্ডার বাড়ে না। শুরুর জন্য সপ্তাহে তিন-চারটা রিল, দুটো ক্যারোসেল আর প্রায় রোজ এক-দুটো স্টোরি রাখতে পারেন। এটা ধরাবাঁধা নিয়ম না। একা দোকান চালালে এর চেয়ে কম দিয়েও শুরু করা যায়, শুধু নিয়মিত থাকুন।

ডিএম থেকে অর্ডার হারাবেন না যেভাবে

Instagram-এ সবচেয়ে বেশি অর্ডার হারায় এমন একটা ফোল্ডারে, যেটার কথা অনেক সেলার জানেনই না। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী প্রফেশনাল একাউন্টের ইনবক্সে তিনটা ফোল্ডার থাকে, Primary, General আর Requests। যাঁদের আপনি ফলো করেন না, তাঁদের মেসেজ যায় Requests-এ। নতুন কাস্টমারকে তো আপনি ফলো করেন না, তাই তাঁর প্রথম মেসেজটা সাধারণত সেখানেই পড়ে থাকে। আর Accept না করা পর্যন্ত মেসেজটা "seen" দেখায় না। কাস্টমার ভাবেন আপনি দেখেনইনি, অপেক্ষা করে অন্য দোকানে চলে যান।

General ফোল্ডারেও চোখ রাখুন। Meta লিখেছে, General-এর মেসেজের নোটিফিকেশন শুরুতে বন্ধ থাকে। কোনো কাস্টমারের চ্যাট ভুল করে General-এ সরিয়ে দিলে তিনি আবার লিখলেও ফোনে কোনো সাড়া পাবেন না।

ফোনে Instagram-এর প্রফেশনাল ইনবক্সের নকশা, ওপরে Primary, General আর Requests তিনটা ট্যাব, Requests-এর পাশে লাল বৃত্তে ৮ লেখা, ভেতরে "দাম কত", "XL আছে?" ধরনের না-পড়া মেসেজ
নতুন কাস্টমারের প্রথম মেসেজ সাধারণত Requests-এ পড়ে থাকে

ক্ষতিটা টাকায় দেখলে গায়ে লাগে। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন আপনি ১,৪৫০ টাকার পাঞ্জাবি বেচেন, আর একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে কাপড়, প্যাকেট আর অ্যাড বাদে হাতে থাকে ৫০০ টাকা। এক সপ্তাহে Requests-এ ৮টা মেসেজ জমল, আপনি দেখলেন তিন দিন পর। ততদিনে বেশিরভাগ মানুষ অন্য কোথাও কিনে ফেলেছেন। ৮ জনের মধ্যে ৩ জনও যদি আপনার কাছ থেকে নিতেন, তাহলে এক সপ্তাহেই হাতছাড়া হলো ১,৫০০ টাকা। সবচেয়ে কষ্টের কথা, এই টাকাটা কোনো খাতায় বা কুরিয়ারের স্টেটমেন্টে দেখা যায় না, তাই অনেকে টেরই পান না।

এটা ঠেকাতে রোজকার একটা ছোট রুটিন রাখুন।

  • দিনে অন্তত তিনবার Requests খুলুন, সকালে, দুপুরে আর রাতে। মেসেজ Accept করে উত্তর দিন, তাহলে সেই কাস্টমারের পরের মেসেজ সরাসরি Primary-তে আসবে।
  • অর্ডারের তথ্য চাওয়ার মেসেজটা saved reply করে রাখুন। Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, নিজের পাঠানো কোনো মেসেজ চেপে ধরে More থেকে সেটা saved reply হিসেবে রাখা যায়, সাথে একটা শর্টকাট। পরে শর্টকাটটা লিখলেই পুরো মেসেজ বসে যায়। নাম, নম্বর, পুরো ঠিকানা আর সাইজ এক মেসেজে চাওয়ার টেমপ্লেটটা হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়ার লেখায় আছে, ওটাই এখানে রাখুন।
  • কমেন্টে দাম জিজ্ঞেস করলে উত্তর কমেন্টেই দিন, দামসহ, তারপর ডিএম-এ অর্ডারের লিংক পাঠান। কমেন্টে উত্তরটা দেখে পরের দশজনের প্রশ্নও মিটে যায়।
  • কনফার্ম হওয়া অর্ডার সাথে সাথে লিস্টে তুলুন। চ্যাট কোনো লিস্ট না। দুশো মেসেজের নিচে চাপা পড়লে কাল সকালে আর খুঁজে পাবেন না।

WinningSeller-এর সাথে Instagram কানেক্টেড না, ডিএম-এর মেসেজ আপনাকেই কপি করে আনতে হবে। তবে আনার কাজটা ছোট। অর্ডারের পেজে নতুন অর্ডার খুলে স্মার্ট পেস্ট বক্সে কাস্টমারের পুরো মেসেজটা পেস্ট করুন, তারপর পড়ে বসিয়ে দিন চাপুন। নাম, মোবাইল, ঠিকানা আর কয়টা লাগবে নিজে থেকে ফর্মে বসে যায়, মেসেজে যে প্রোডাক্টের কথা আছে সেটাও সাজেস্ট করে। সেভ করার আগে একবার মিলিয়ে নেবেন। অর্ডার কোথা থেকে এসেছে ঘরে ইনস্টাগ্রাম বেছে রাখুন। কাস্টমার bKash-এ অগ্রিম দিয়ে থাকলে অগ্রিম পেয়েছেন ঘরে সেটা লিখে দিন, কুরিয়ার তখন শুধু বাকি টাকাটা তুলবে। এরপর এই অর্ডারও স্টোরের অর্ডারের মতো একই লিস্টে থাকে, আর সেখান থেকেই এক ক্লিকে কুরিয়ারে পার্সেল বুক হয়।

ইনস্টাগ্রামে অ্যাড, আলাদা না ফেসবুকের সাথেই?

বেশিরভাগ ছোট সেলারের জন্য উত্তর হলো, ফেসবুকের সাথেই। Meta-র "About the Instagram ad placement" হেল্প পেজ অনুযায়ী Instagram-এর অ্যাড দেখা যায় Feed, Stories, Explore, Reels আর Shops-এ, আর Ads Manager-এ ফেসবুকের অ্যাডের সাথেই এই জায়গাগুলো বেছে নেওয়া যায়। Meta নিজেও Advantage+ placements রাখতে বলে, যাতে বাজেটটা সেখানে যায় যেখানে কম খরচে ফল আসে। ছোট বাজেটকে Facebook আর Instagram-এর দুটো আলাদা ক্যাম্পেইনে ভাগ করলে দুটোই অল্প টাকায় চলে, কোনোটাই ঠিকমতো শেখার সুযোগ পায় না, অথচ ডলার স্পেন্ড ঠিকই হয়। তবে Instagram-এর জন্য আলাদা করে কয়েকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হয়।

Ads Manager-এর অ্যাড সেটআপের নকশা, Placements অংশে Facebook আর Instagram-এর Feed, Stories আর Reels-এ টিক দেওয়া, পাশে iPhone থেকে বুস্ট করলে বাড়তি খরচের হিসাব
আলাদা ক্যাম্পেইন লাগে না, একই অ্যাডেই Instagram-এর জায়গাগুলো থাকে

শুরুতেই অ্যাডের Identity-তে ফেসবুক পেজের সাথে Instagram একাউন্টটাও বেছে দিন। Meta-র ওই পেজে Instagram-এ অ্যাড চালানোর প্রথম শর্তই হলো অ্যাডের মুখ হিসেবে একটা Instagram একাউন্ট থাকা। তাহলে অ্যাডে আপনার দোকানের নাম আর ছবি দেখায়, আর কেউ নামে চাপলে আপনার গুছানো প্রোফাইলেই আসেন।

এরপর ঠিক করুন, অ্যাড মানুষকে কোথায় পাঠাবে। Instagram-এ যিনি স্ক্রল করছেন, তিনি এক অ্যাপ থেকে আরেক জায়গায় ঘুরতে চান না। তাই অ্যাডের লিংক দিন নিজের ল্যান্ডিং পেজে, যেখানে এক পেজেই অর্ডার হয়ে যায়। মেসেজের অ্যাড চালাবেন কেবল তখন, যখন ডিএম দেখার জন্য সারাদিন কেউ বসে থাকেন। নইলে অ্যাডের টাকায় মেসেজ আসবে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো Requests-এ পড়ে থাকবে।

আর অ্যাপ থেকে বুস্ট করলে দুটো নিয়ম জেনে রাখুন। Instagram-এর হেল্প পেজ অনুযায়ী বুস্ট করা রিল দেখায় Reels ট্যাব, Explore, Feed আর Stories-এ, তবে রিলটা ৯০ সেকেন্ড বা তার ছোট আর খাড়া ৯:১৬ মাপের হতে হবে। আর iPhone-এ বুস্ট করলে সাবধান। একই পেজে লেখা আছে, Instagram-এর iOS অ্যাপ থেকে অ্যাড একাউন্টে টাকা যোগ করলে বেশিরভাগ অঞ্চলে মোট পেমেন্টের ৩০% পর্যন্ত Apple-এর সার্ভিস ফি লাগতে পারে, আর টাকাটা রাখে Apple। ধরুন ১,০০০ টাকার বুস্টে বাড়তি ৩০০ টাকা পর্যন্ত চলে যেতে পারে। তাই iPhone থাকলে বুস্টটা কম্পিউটার থেকে Ads Manager-এ করুন।

অ্যাড যেখানেই দেখাক, কাস্টমার যদি আপনার স্টোর বা ল্যান্ডিং পেজে অর্ডার করেন, Meta সেটা একই পিক্সেল দিয়ে গোনে। WinningSeller-এর স্টোরে Facebook Pixel আর Conversions API বসানো থাকলে Instagram-এর অ্যাড থেকে আসা অর্ডারও ফেসবুকের অ্যাডের অর্ডারের মতোই Meta-র কাছে যায়। চাইলে Purchase পাঠাতে পারেন কুরিয়ার ডেলিভারি করার পরে, যাতে ফেরত আসা অর্ডার দিয়ে অ্যাড ভুল মানুষ খুঁজতে না শেখে। তবে ডিএম থেকে হাতে তোলা অর্ডার Purchase হিসেবে যায় না, কারণ ওই কাস্টমার অ্যাডের লিংকে চেপে আসেননি। তাই Instagram থেকে আসলে কত বিক্রি হলো বুঝতে অ্যাডের রিপোর্টের পাশাপাশি নিজের লিস্টের "ইনস্টাগ্রাম" অর্ডারগুলোও গুনুন, আর কনফার্ম কলে একবার জিজ্ঞেস করে নিন, "আমাদের কোথায় দেখেছেন?"

শুরুটা আজ রাতেই করা যায়। দোকানের একাউন্ট সুইচ করুন, পেজের সাথে কানেক্ট করুন, বায়োটা তিন লাইনে লিখে প্রথমে অর্ডারের লিংক বসান। কাল সকালে প্রথম কাজ, Requests ফোল্ডারটা খুলে দেখা। যেদিন একজন অচেনা মানুষ শুধু একটা রিল দেখে বায়োর লিংক থেকে নিজে নিজে অর্ডার দিয়ে যাবেন, কোনো চ্যাট ছাড়াই, সেদিন বুঝবেন সময়টা বৃথা যায়নি।

সাধারণ প্রশ্ন

ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্ট খুলতে কি টাকা লাগে?

না, পার্সোনাল প্রোফাইলকে বিজনেস একাউন্টে সুইচ করতে কোনো টাকা লাগে না। টাকা লাগে শুধু যখন পোস্ট বা রিল বুস্ট করবেন বা Ads Manager-এ অ্যাড চালাবেন। নীল ব্যাজের Meta Verified আলাদা একটা মাসিক সাবস্ক্রিপশন, বিজনেস একাউন্টের জন্য সেটা লাগে না।

ফেসবুক পেজ ছাড়া কি ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্ট চালানো যায়?

যায়। সুইচ করার সময় পেজ কানেক্ট করার ধাপে Skip চাপলেই হয়, পরে চাইলে কানেক্ট করে নেবেন। তবে পেজের সাথে কানেক্ট থাকলে একই পোস্ট দুই জায়গায় দেওয়া, এক অ্যাড থেকে দুই জায়গায় দেখানো আর দুই জায়গার মেসেজ এক জায়গায় দেখা সহজ হয়। ফেসবুকে আগে থেকে পেজ থাকলে কানেক্ট করে নেওয়াই ভালো।

বাংলাদেশ থেকে কি ইনস্টাগ্রাম শপ চালু করা যায়?

না। Instagram-এর হেল্প সেন্টারে Shops আর পোস্টে প্রোডাক্ট ট্যাগ করার জন্য যে দেশগুলোর লিস্ট আছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাতে বাংলাদেশ নেই। তাই এখান থেকে বিক্রি করতে হয় বায়োর লিংক, ডিএম আর অ্যাড দিয়ে নিজের অর্ডারের পেজে মানুষ পাঠিয়ে।

ইনস্টাগ্রামের বায়োতে কয়টা লিংক দেওয়া যায়?

Instagram-এর হেল্প পেজ অনুযায়ী প্রোফাইলে ৫টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া যায়, আর লিংকগুলোর সিরিয়াল আগে-পিছে করা যায়। প্রোফাইলে প্রথম লিংকটাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। তাই সবচেয়ে জরুরি লিংক, মানে যেখানে চাপলে অর্ডার করা যায়, সেটা প্রথমে রাখুন।

বিজনেস একাউন্ট থেকে আবার পার্সোনাল একাউন্টে ফেরা যায়?

যায়, যেকোনো সময়। তবে Instagram-এর হেল্প পেজে লেখা আছে, পার্সোনালে ফিরলে অ্যাড দেওয়ার সুযোগ আর কিছু টুল চলে যায়, আর কানেক্ট করা ফেসবুক পেজটা ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। দোকান চালালে বিজনেস একাউন্টেই থাকুন।

কাস্টমারের মেসেজ ইনস্টাগ্রামে খুঁজে পাচ্ছি না কেন?

সম্ভবত মেসেজটা Requests ফোল্ডারে পড়ে আছে। যাঁদের আপনি ফলো করেন না, তাঁদের মেসেজ সেখানে যায়, আর নতুন কাস্টমারকে সাধারণত কেউ ফলো করেন না। আরেকটা জায়গা হলো General ফোল্ডার, সেখানে নতুন মেসেজের নোটিফিকেশন শুরুতে বন্ধ থাকে।

#ইনস্টাগ্রাম বিজনেস একাউন্ট#ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং#বায়োর লিংক#ইনস্টাগ্রাম ডিএম#ফেসবুক পেজ#অনলাইন শপ

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়