WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৬ মিনিটে পড়া যায়

ফেসবুক বিজনেস ভেরিফিকেশন আটকে? কোন কাগজ দেবেন, রিজেক্ট হলে কী করবেন

পোর্টফোলিওতে Verify your business দেখাচ্ছে, কিন্তু কোন কাগজ দেবেন, নাম কীভাবে মেলাবেন, ডোমেইনে TXT রেকর্ড কোথায় বসাবেন আর রিজেক্ট হলে কী করবেন, বুঝতে পারছেন না? Meta-র হেল্প পেজ মিলিয়ে পুরো কাজটা ধাপে ধাপে এখানে।

ফেসবুক বিজনেস ভেরিফিকেশন আটকে? কোন কাগজ দেবেন, রিজেক্ট হলে কী করবেন
এই লেখায় যা আছে
  1. ফেসবুক বিজনেস ভেরিফিকেশন কী, মেটা ভেরিফাইড থেকে আলাদা কোথায়?
  2. কখন লাগে, আর কখন এখনই লাগে না?
  3. কোন কাগজ দেবেন, নাম আর ঠিকানা হুবহু মেলাবেন যেভাবে
  4. ধাপে ধাপে আবেদন, ফোন, ইমেইল না ডোমেইন দিয়ে কনফার্ম করবেন?
  5. ডোমেইন ভেরিফিকেশন, DNS-এ TXT রেকর্ড বসানোর নিয়ম
  6. একবার রিজেক্ট হলে কত যায়? একটা টাকার হিসাব
  7. রিজেক্ট হলে বা In review-এ আটকে থাকলে কী করবেন?
  8. আজই করে ফেলুন, জমা দেওয়ার আগের এক ঘণ্টার কাজ

ফেসবুক বিজনেস ভেরিফিকেশন হলো Meta Business Suite-এর Security Center থেকে Meta-কে প্রমাণ দেওয়া যে আপনার বিজনেস পোর্টফোলিওর পেছনে একটা আসল, রেজিস্টার্ড ব্যবসা আছে, আর আপনি সেই ব্যবসার মানুষ। কাজটা তিন ভাগে হয়। প্রথমে ব্যবসার আইনি নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ওয়েবসাইট দেন। Meta রেকর্ডে খুঁজে না পেলে ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্টের মতো কাগজ আপলোড করেন। শেষে ফোন, ইমেইল বা ডোমেইন দিয়ে কনফার্ম করেন যে আপনি সত্যিই ব্যবসাটার সাথে আছেন। এতে কোনো নীল ব্যাজ আসে না, আর বেশিরভাগ রিজেক্ট হয় নামের বানান না মেলায় বা ওয়েবসাইট না খোলায়।

ধরুন রাত এগারোটায় দিনের অর্ডারগুলো মিলিয়ে অ্যাডের খরচ দেখতে Business Suite খুলেছেন, আর ওপরে একটা লাইন ভাসছে, "Verify your business"। বুকটা একটু ধক করে ওঠে। কাল থেকে কি অ্যাড বন্ধ? কোন কাগজ দেব? ইউটিউবে তিনটা ভিডিও দেখলেন, তিনজন তিন রকম কথা বললেন, আর একটা গ্রুপে কেউ টাকা নিয়ে "করে দেব" বলে কমেন্ট করল। ভয় পাবেন না। নিচে পুরো কাজটা বলছি Meta-র নিজের হেল্প পেজ মিলিয়ে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেখানে যা লেখা আছে সেই অনুযায়ী, যেন প্রথমবারেই হয়ে যায়।

ফেসবুক বিজনেস ভেরিফিকেশন কী, মেটা ভেরিফাইড থেকে আলাদা কোথায়?

সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয় এখানেই। নাম প্রায় একই, কিন্তু জিনিস দুটো আলাদা। Meta Verified হলো টাকা দিয়ে নেওয়া মাসিক সাবস্ক্রিপশন, যেটা পেজে নীল ব্যাজ দেয়। আর বিজনেস ভেরিফিকেশন ফ্রি, এটা আপনার পোর্টফোলিওর জন্য, পেজের চেহারার জন্য না। Meta-র বিজনেস ভেরিফিকেশনের প্রায় প্রতিটা হেল্প আর্টিকেলে আলাদা করে লেখা আছে যে বিজনেস ভেরিফিকেশন কোনো ভেরিফাইড ব্যাজ দেয় না। নীল ব্যাজের পুরো হিসাব, দাম আর শর্ত জানতে চাইলে মেটা ভেরিফাইডের লেখাটা পড়ুন।

Meta-র "About business verification" পেজ অনুযায়ী এর কাজ দুটো। এক, দেখা যে আপনার ব্যবসাটা আইনগতভাবে আছে, মানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রেজিস্টার্ড, আর তার একটা অফিশিয়াল ফোন নম্বর বা ঠিকানা আছে। দুই, দেখা যে আপনি সেই ব্যবসার হয়ে কাজ করার অধিকার রাখেন। এজন্য ব্যবসার ফোনে বা ইমেইলে কোড নিতে হয়, অথবা ডোমেইন ভেরিফাই করতে হয়।

একটা জিনিস অনেকে পরে জানেন। ভেরিফিকেশনটা হয় পোর্টফোলিওর ওপর, আর শুরু করতে পারেন শুধু সেই মানুষ যাঁর হাতে পোর্টফোলিওর full control আছে। এজেন্সি বা আগের স্টাফের পোর্টফোলিওতে আপনার পেজ বসে থাকলে ভেরিফিকেশন হবে তাদের নামে, আপনার না। নিজের পোর্টফোলিও কীভাবে খুলবেন আর full control কেন অন্তত দুজনের হাতে রাখবেন, সেটা মেটা বিজনেস স্যুট আর পোর্টফোলিওর লেখায় ধাপে ধাপে আছে। ভেরিফিকেশনে হাত দেওয়ার আগে এটা ঠিক করে নিন।

কখন লাগে, আর কখন এখনই লাগে না?

সবার এটা লাগে না, আর সবাই চাইলেও করতে পারে না। Meta-র পেজে পরিষ্কার লেখা, Security Center খুললে আপনি দুটোর একটা দেখবেন। "Start verification" দেখালে আপনার পোর্টফোলিও ভেরিফাই করা যায়। "Ineligible for verification" দেখালে এখন Security Center থেকে কিছু করার দরকার নেই। এটা কোনো শাস্তি না, অনেক নতুন পোর্টফোলিওতেই এটা দেখায়।

কখন লাগে, সেটাও Meta লিখে দিয়েছে। কিছু অ্যাড, বিলিং, খরচ আর ডেভেলপার ফিচার খুলতে ভেরিফিকেশন চাওয়া হয়। কোনো ফিচার ভেরিফিকেশন চাইলে Meta সাধারণত ইমেইল বা নোটিফিকেশনে জানায়, কখনো Security Center ছাড়া অন্য জায়গা থেকেও। তাই একটা সহজ নিয়ম রাখুন। Meta নিজে না চাইলে, বা আপনার দরকারি কোনো ফিচার এর জন্য আটকে না থাকলে, শুধু "ভেরিফাইড হলে ভালো" ভেবে তাড়াহুড়া করবেন না।

অনেক সেলার ভাবেন ভেরিফাই করলেই অ্যাডের দৈনিক লিমিট বেড়ে যাবে। পুরোটা সত্যি না। Meta-র "About daily spending limits" পেজে লেখা, লিমিট সাধারণত নিজে থেকেই বাড়ে যখন অ্যাডের ইতিহাস জমে, পলিসি মেনে চলেন, আর লিমিটের কাছাকাছি খরচ করেন। ভেরিফিকেশন কিছু অ্যাডভারটাইজারের লিমিট তাড়াতাড়ি বাড়াতে পারে, এটুকুই Meta বলেছে।

কখন একদম করবেন না, সেটাও বলি। ট্রেড লাইসেন্স এখনো হয়নি, অথবা লাইসেন্সের নাম আর পেজের নাম মেলাবেন কিনা ঠিক করেননি, তাহলে আবেদন ধরে রাখুন। আধাখেঁচড়া তথ্যে জমা দিলে রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর একটা রিজেক্টের পর পরেরটায় মানুষ আরও তাড়াহুড়া করে আরও ভুল করেন। আমার প্রথম পরামর্শ সবসময় একই, কাগজ গুছিয়ে আর নাম ঠিক করে একবারে জমা দিন, এটাই সবচেয়ে কম খরচের পথ। আর ব্র্যান্ডের নাম বদলানোর প্ল্যান থাকলে সেটাও আগে সেরে নিন। Meta-র পেজেই লেখা আছে, ব্যবসার তথ্য এডিট করলে ভেরিফিকেশন আবার প্রথম থেকে করতে হয়।

কোন কাগজ দেবেন, নাম আর ঠিকানা হুবহু মেলাবেন যেভাবে

ফর্মে প্রথমে ব্যবসার legal name, ঠিকানা, ফোন আর ওয়েবসাইট দিতে হয়। Meta আগে নিজে থেকে রেকর্ডে খোঁজে। বাংলাদেশের ছোট দোকানের তথ্য সেখানে সাধারণত পাওয়া যায় না, তাই বেশিরভাগ সেলারকে "My business isn't listed" বা "None of these match" চেপে কাগজ আপলোড করতে হয়। Meta-র "Upload official documents to verify your business" পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে যে কাগজগুলোর কথা লেখা আছে, আমাদের দেশের হিসাবে সেগুলো দাঁড়ায় এরকম।

কাগজ কী প্রমাণ করে খেয়াল রাখুন
ট্রেড লাইসেন্স (business registration বা licence) নাম, ঠিকানা মেয়াদ পার হয়নি এমন, নবায়নের কপি সহ
সরকারি ব্যবসায়িক ট্যাক্স কাগজ নাম, ঠিকানা নিজে পূরণ করা ফর্ম চলে না
ব্যবসার নামের ব্যাংক স্টেটমেন্ট নাম, ঠিকানা পার্সোনাল অ্যাকাউন্টের না, ব্যবসার নামের
বিদ্যুৎ বা ফোনের বিল শুধু ঠিকানা আর ফোন ব্যবসার নাম থাকতে হবে, নামের প্রমাণ হিসেবে চলে না

এবার আসল জায়গা, নাম মেলানো। আমার অভিজ্ঞতায় সেলাররা সবচেয়ে বেশি আটকান এখানেই, আর কারণটা প্রায় সবার একই। ফর্মে লেখেন পেজের নাম, যেমন "Rakib Fashion BD"। অথচ ট্রেড লাইসেন্সে লেখা "রাকিব ফ্যাশন", পেছনে BD নেই, আর পুরোটা বাংলায়। Meta-র কাছে এটা দুটো আলাদা নাম। legal name মানে পেজের নাম না, কাগজে যে নাম আছে সেটা। পেজের নাম যা খুশি থাকতে পারে, ফর্মের নামটা হবে কাগজের।

বাংলা লাইসেন্স নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। Meta-র ওই পেজে যে ভাষাগুলোর কাগজ নেয়, তার লিস্টে Bengali আছে। সমস্যাটা ভাষার না, বানানের। ফর্মে ইংরেজিতে লিখতে হলে লাইসেন্সের বাংলা নামটা যতটা কাছাকাছি সম্ভব ইংরেজি অক্ষরে লিখুন, আর সব জায়গায় এক বানান রাখুন। "Rakib" এক জায়গায়, "Rakeeb" আরেক জায়গায় হলে মিলবে না। সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো এমন একটা কাগজ রাখা যেখানে ব্যবসার ইংরেজি নামটা ছাপা আছে। ব্যবসার নামে ব্যাংকে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে তার স্টেটমেন্টে সাধারণত ইংরেজি নামই থাকে। একটা কথা মাথায় রাখুন। প্রোপ্রাইটরশিপ ব্যবসায় TIN সার্টিফিকেট সাধারণত আপনার নিজের নামে হয়, দোকানের নামে না। তাই নাম মেলাতে ওটা প্রায়ই কাজে আসে না।

একটা নকশা, বাঁ দিকে বাংলায় লেখা ট্রেড লাইসেন্সে দোকানের নাম আর ঠিকানা, মাঝে ব্যাংক স্টেটমেন্টে একই নামের ইংরেজি বানান, ডান দিকে Meta-র ফর্মের legal name আর address ঘর, তিন জায়গার নাম আর ঠিকানা সবুজ দাগে মেলানো আর পেজের নাম লাল দাগে আলাদা করা
ফর্মে পেজের নাম না, কাগজের নামটা হুবহু লিখুন

ঠিকানাতেও একই নিয়ম। লাইসেন্সে যেভাবে লেখা, হোল্ডিং নম্বর, রোড, ওয়ার্ড, থানা, ঠিক সেই ক্রমে লিখুন। লাইসেন্সে "মিরপুর-১০" থাকলে ফর্মে "Mirpur 10" লিখুন, শুধু "Dhaka" না। ফোন নম্বর হবে এমন একটা নম্বর যেটা আপনার হাতে থাকে, কারণ কোড ওখানেই যেতে পারে। আর ওয়েবসাইটের ফুটারে বা যোগাযোগের পেজে একই ঠিকানা আর নম্বর রাখুন। Meta এটা নিয়ম হিসেবে লেখেনি, কিন্তু রিভিউয়ার যদি আপনার সাইট খুলে দেখেন, তিনি যা খুঁজবেন তা সেখানেই মিলে যাবে।

কাগজের ছবি তোলার সময় সমতল টেবিলে রাখুন, ওপর থেকে তুলুন, চারটা কোনাই যেন ফ্রেমে থাকে। দিনের আলোয় তুলুন, ফ্ল্যাশে ছাপার লেখা চকচক করে পড়া যায় না। ভাঁজ পড়া লাইসেন্স হলে আগে একটা বইয়ের নিচে রেখে সোজা করে নিন। আর Meta-র পেজেই বলা আছে, ভেরিফিকেশনে দরকার নেই এমন ব্যক্তিগত তথ্য ঢেকে দিতে। কাগজে আপনার NID নম্বর থাকলে একটা সাদা কাগজের টুকরো রেখে ঢেকে ছবি তুলুন। খেয়াল রাখবেন, ঢাকতে গিয়ে ব্যবসার নাম আর ঠিকানা যেন আড়ালে না পড়ে, কারণ Meta কাগজটা দিয়ে ঠিক এই দুটোই মেলায়। আপলোডের আগে ছবিটা ফোনে জুম করে একবার পড়ে দেখুন, আপনি নিজে না পড়তে পারলে Meta-ও পারবে না।

একজন তরুণ সেলার কাঠের টেবিলের ওপর ট্রেড লাইসেন্স সমতল করে রেখে ওপর থেকে মোবাইলে ছবি তুলছেন, পাশে ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর একটা স্কেল, জানালা দিয়ে দিনের আলো আসছে
সমতল টেবিল, দিনের আলো, চারটা কোনাই ফ্রেমে

ধাপে ধাপে আবেদন, ফোন, ইমেইল না ডোমেইন দিয়ে কনফার্ম করবেন?

কাজটা কম্পিউটারের ব্রাউজারে করুন, ফোনের অ্যাপে অনেক সময় সব অপশন আসে না। Meta-র "Verify your business" হেল্প পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে ধাপগুলো এভাবে লেখা আছে, সেলারের চোখে একটু খুলে বলছি।

  1. Business Suite-এর Settings থেকে Security Center খুলুন। এটা খুলতে না পারলে বুঝবেন আপনার হাতে full control নেই, আগে সেটা ঠিক করুন।
  2. Start verification চাপুন। Ineligible দেখালে এখানেই থামুন আর ওপরের অংশটা আবার পড়ুন।
  3. ব্যবসার legal name, ঠিকানা, ফোন আর ওয়েবসাইট দিন। Meta বলছে তথ্যগুলো আপনার আইনি ব্যবসার সাথে হুবহু মিলতে হবে, আর ওয়েবসাইট খুলতে হবে এবং https:// দিয়ে শুরু হতে হবে।
  4. তথ্যগুলো কনফার্ম করুন। রেকর্ডে আপনার ব্যবসা না পেলে কাগজ আপলোডের অপশন আসবে।
  5. কীভাবে কনফার্ম করবেন সেটা সিলেক্ট করুন। ইমেইল, ফোন কল, টেক্সট মেসেজ, WhatsApp মেসেজ অথবা ডোমেইন ভেরিফিকেশন, এই পাঁচটা পথ থাকে।
  6. কোড বসিয়ে Done চাপুন। তারপর স্ক্রিনে দেখাবে যে আপনার আবেদন জমা হয়েছে।

পাঁচ নম্বর ধাপটাই আসল সিদ্ধান্ত, আর এখানে অনেকে না বুঝে ভুল পথ নেন। ইমেইলের পথটা দেখতে সবচেয়ে সহজ, কিন্তু Meta-র "When to use domain verification" পেজে লেখা, কোড যায় এমন ইমেইলে যেটা আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইনের সাথে মেলে। মানে আপনার সাইট rakibfashion.com হলে ইমেইলটা হতে হবে কিছু একটা@rakibfashion.com। Gmail-এর অ্যাড্রেসে এই কোড আসবে না। নতুন সেলাররা প্রায়ই এখানে আধা ঘণ্টা ইনবক্স রিফ্রেশ করে বসে থাকেন, স্প্যাম ফোল্ডার খোঁজেন, তারপর ভাবেন Meta-র সিস্টেম নষ্ট।

তাই হাতে-কলমে নিয়মটা এরকম। নিজের ডোমেইনের ইমেইল না থাকলে ফোনের পথ নিন, তবে নম্বরটা এমন হোক যেটা ফর্মে দিয়েছেন আর কাগজেও আছে। পুরনো স্টাফের সিম বা বন্ধ নম্বরে কোড গেলে আর ফেরানো যায় না। আর নিজের ডোমেইন থাকলে আমি সবসময় ডোমেইন ভেরিফিকেশনের পথটাই নিতে বলি, এটাই সবচেয়ে পরিষ্কার, কারণ ডোমেইনে কোড বসাতে পারেন শুধু তিনিই যাঁর হাতে ডোমেইন আছে। পরের অংশে সেটা ধাপে ধাপে বলছি।

Meta Business Suite-এর Security Center-এর একটা নকশা, Start verification বাটনের পরে legal name, address, phone, website ঘর, তার নিচে কনফার্ম করার পাঁচটা পথ, ইমেইল, ফোন কল, টেক্সট, WhatsApp আর ডোমেইন, ডোমেইনের পাশে সবুজ টিক
ইমেইলের কোড যায় শুধু সাইটের ডোমেইনের ইমেইলে, Gmail-এ না

ডোমেইন ভেরিফিকেশন, DNS-এ TXT রেকর্ড বসানোর নিয়ম

ডোমেইন ভেরিফিকেশনের কাজ একটাই, Meta-কে দেখানো যে ওয়েবসাইটের ডোমেইনটা আপনার। Meta-র "Verify your domain" পেজ অনুযায়ী এর জন্য পোর্টফোলিওর full control আর ডোমেইনের অ্যাডমিন অ্যাক্সেস দুটোই লাগবে। পথ তিনটা। হোমপেজের কোডে একটা meta-tag বসানো, সাইটের মূলে একটা HTML ফাইল আপলোড করা, অথবা ডোমেইনের DNS-এ একটা TXT রেকর্ড বসানো।

শুরুতেই একটা বড় ভুল ধরিয়ে দিই। ডোমেইন ঘরে লিখবেন শুধু মূল ডোমেইন, যেমন rakibfashion.com। www বা https:// জুড়বেন না। আর কোনো প্ল্যাটফর্মের দেওয়া সাবডোমেইন, যেমন yourshop.example.com, ভেরিফাই করা যায় না। Meta-র "Troubleshoot why you can't verify your domain" পেজে লেখা, সাবডোমেইন ভেরিফাই করা যায় না, আর মূল ডোমেইনটা যেহেতু প্ল্যাটফর্মের, সেটা আপনার নামে হবে না। মানে ডোমেইন ভেরিফিকেশন করতে চাইলে নিজের কেনা ডোমেইন লাগবেই। কীভাবে নিজের নামে কিনবেন যেন পরে হাতছাড়া না হয়, সেটা ডোমেইন কেনার লেখায় আছে।

TXT রেকর্ডের পথে কাজটা এভাবে হয়।

  1. Business Suite-এর Settings-এ Brand safety অংশে Domains খুলুন। ওপরে ডান দিকে + Add চাপুন, Create a domain বেছে মূল ডোমেইনটা লিখে Add করুন।
  2. ভেরিফাই করার পথ থেকে DNS TXT রেকর্ড সিলেক্ট করুন, আর Meta যে লাইনটা দেয় সেটা কপি করুন। লাইনটা সাধারণত facebook-domain-verification= দিয়ে শুরু হয়।
  3. যেখান থেকে ডোমেইন কিনেছেন, সেই কোম্পানির প্যানেলে লগইন করে DNS Management বা Advanced DNS খুলুন।
  4. নতুন রেকর্ড যোগ করুন। Type দিন TXT, Host বা Name ঘরে @ (কোনো প্যানেলে ঘরটা ফাঁকা রাখতে বলে), আর Value ঘরে কপি করা লাইনটা পুরোটা পেস্ট করুন।
  5. সেভ করে অপেক্ষা করুন, তারপর একটা DNS TXT লুকআপ দিয়ে দেখে নিন রেকর্ডটা দেখাচ্ছে কি না।
  6. দেখালে তবেই Meta-তে ফিরে Verify domain চাপুন।
ডোমেইন কোম্পানির DNS প্যানেলের একটা নকশা, আগের A রেকর্ড আর www-এর CNAME যেমন ছিল তেমন রাখা, তার নিচে @ নামে নতুন একটা TXT রেকর্ড সবুজ দাগে, Value ঘরে facebook-domain-verification দিয়ে শুরু হওয়া লম্বা কোড
পুরনো রেকর্ড ছোঁবেন না, শুধু একটা TXT যোগ করুন

এখানে তিনটা জিনিস প্রায় সবাই একবার করে ভুল করেন। প্রথমটা হলো তাড়াহুড়া। TXT রেকর্ড সেভ করার সাথে সাথে Verify চাপলে প্রায়ই "No DNS entries were found" আসে, কারণ নতুন রেকর্ড সব জায়গায় পৌঁছাতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে। কম্পিউটারে Command Prompt খুলে nslookup -type=TXT rakibfashion.com লিখলে, বা Google Admin Toolbox-এর Dig টুলে ডোমেইন দিয়ে TXT দেখলে বুঝবেন রেকর্ড পৌঁছেছে কি না। আউটপুটে Meta-র লাইনটা দেখা গেলে তবেই Verify চাপুন।

দ্বিতীয় ভুল হলো কপিতে গোলমাল। লাইনের শুরু বা শেষে একটা বাড়তি স্পেস, বা কোনো প্যানেল নিজে থেকে দুপাশে কোটেশন চিহ্ন জুড়ে দিলে "DNS TXT record doesn't match" আসে। সেভ করার পর প্যানেলে রেকর্ডটা খুলে Meta-র স্ক্রিনের সাথে অক্ষর ধরে মিলিয়ে নিন। তৃতীয় ভুলটা সবচেয়ে দামি। কেউ কেউ "পুরনো রেকর্ড পরিষ্কার করি" ভেবে দোকানের A রেকর্ড মুছে ফেলেন, তখন ভেরিফিকেশন হয় ঠিকই কিন্তু দোকানটাই খোলে না। TXT রেকর্ড যোগ করার জিনিস, কিছু মোছার দরকার নেই।

আরেকটা এরর মাঝে মাঝে আসে, "Domain has already been verified by another business"। এর মানে আপনার ডোমেইন আগে অন্য কারো পোর্টফোলিওতে ভেরিফাই করা আছে, প্রায়ই সেই ডেভেলপার বা এজেন্সির, যিনি আগে সাইট বানিয়েছিলেন। Meta-র পরামর্শ হলো তাঁদের সাথে যোগাযোগ করে ডোমেইনটা আপনার পোর্টফোলিওর সাথে শেয়ার করতে বলা।

এবার WinningSeller-এর কথা, যেখানে এটা কাজে লাগে আর যেখানে লাগে না, দুটোই সোজাসুজি বলি। WinningSeller-এ Settings-এর "নিজের ডোমেইন" অংশে নিজের কেনা ডোমেইন কানেক্ট করা যায়। ডোমেইন কোম্পানির প্যানেলে A রেকর্ড ঠিকঠাক বসলে WinningSeller নিজেই সেটা চেক করে, তারপর HTTPS নিজে থেকে চালু হয়, আলাদা SSL কিনতে হয় না। Meta যেহেতু চায় ওয়েবসাইট খুলুক আর https:// দিয়ে শুরু হোক, এই অংশটা নিয়ে আর ভাবতে হয় না। কিন্তু WinningSeller-এ দোকানের হোমপেজের head অংশে নিজে meta-tag বসানোর বা মূলে HTML ফাইল রাখার অপশন নেই, আর দোকানের নামে ইমেইল অ্যাড্রেসও দেয় না। তাই Meta-র ডোমেইন ভেরিফিকেশনের জন্য TXT রেকর্ডের পথটাই নিন, যেটা বসবে আপনার ডোমেইন কোম্পানির প্যানেলে। দোকানের A রেকর্ডের পাশে একটা TXT যোগ করলে দোকানে কোনো প্রভাব পড়ে না। নিজের ডোমেইন সব প্ল্যানে থাকে না, তাই আগে দেখে নিন কোন প্ল্যানে আছে।

একবার রিজেক্ট হলে কত যায়? একটা টাকার হিসাব

রিজেক্ট হলে মনে হয় "আবার দিলেই তো হলো"। কিন্তু প্রতিটা জমার পর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, আর সেই অপেক্ষার একটা দাম আছে। উদাহরণ। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের অঙ্ক বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

ধরুন ঈদের আগে আপনার পোর্টফোলিওতে Meta ভেরিফিকেশন চেয়েছে, আর ভেরিফাই না হওয়া পর্যন্ত আপনি যে অ্যাডের প্ল্যান করেছিলেন সেটা শুরু করতে পারছেন না। প্ল্যান ছিল রোজ বাড়তি ৩,০০০ টাকার অ্যাড। আপনার হিসাবে প্রতি ১,০০০ টাকার অ্যাডে ৫টা অর্ডার আসে। তার ৪টা ডেলিভারি হয়, ১টা ফেরত আসে। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন, আর প্রোডাক্টের কেনা দাম আর প্যাকেট বাদ দিয়ে প্রতি ডেলিভারিতে হাতে থাকে ৪০০ টাকা। ফেরত আসা পার্সেলে কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে যায় ১৫০ টাকা।

তাহলে প্রতি ১,০০০ টাকার অ্যাডে লাভ দাঁড়ায় ৪ × ৪০০ = ১,৬০০ টাকা, তা থেকে ফেরতের ১৫০ আর অ্যাডের ১,০০০ বাদ দিলে থাকে ৪৫০ টাকা। রোজ ৩,০০০ টাকার অ্যাডে সেটা ৩ × ৪৫০ = ১,৩৫০ টাকা। এখন প্রথম আবেদনটা নামের বানানের জন্য রিজেক্ট হলো। Meta-র পেজে লেখা, প্রতিটা সিদ্ধান্তে ১৪ কর্মদিবস পর্যন্ত লাগতে পারে, যা ক্যালেন্ডারে প্রায় তিন সপ্তাহ। ধরুন দ্বিতীয় অপেক্ষাটা ঈদের আগের ১৮ দিন খেয়ে ফেলল। তাতে হারালেন ১৮ × ১,৩৫০ = ২৪,৩০০ টাকার লাভ।

উল্টো দিকটা দেখুন। নামের বানান মেলাতে লাগে এক সন্ধ্যা। আর ডোমেইনের লেখায় ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর যে দাম ধরা আছে, তাতে একটা .com-এর প্রথম বছরের খরচ এই উদাহরণের মোটামুটি এক থেকে দেড় দিনের লাভের সমান। সৎভাবে বলি, ভেরিফাই হলেই অ্যাড থেকে এই লাভ আসবে, এমন কথা কেউ দিতে পারে না। হিসাবটা শুধু দেখায়, দেরির দামটা কোথা থেকে আসে।

একটা ক্যালেন্ডারের নকশা, প্রথম জমার দিন থেকে ১৪ কর্মদিবস একটা রঙে দাগানো, রিজেক্টের দিনে লাল দাগ, তারপর দ্বিতীয় জমার ১৪ কর্মদিবস আরেক রঙে, শেষে ঈদের দিন তারা চিহ্ন, পাশে রোজ ১,৩৫০ টাকা হারানোর ছোট হিসাব
একটা রিজেক্ট মানে আরেকটা লম্বা অপেক্ষা, ঈদের আগে সেটাই সবচেয়ে দামি

রিজেক্ট হলে বা In review-এ আটকে থাকলে কী করবেন?

আগে In review-এর কথা। জমা দেওয়ার পর Security Center-এ স্ট্যাটাস দেখা যায়, আর Meta-র "Verify your business" পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে লেখা, সিদ্ধান্ত আসতে ১৪ কর্মদিবস পর্যন্ত লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে In review দেখানো মানে কিছু আটকে যায়নি, Meta দেখছে। এই সময়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো অস্থির হয়ে ব্যবসার তথ্য এডিট করা। Meta-র পেজেই লেখা, তথ্য এডিট করলে ভেরিফিকেশন আবার করতে হয়। ঠিকানায় একটা কমা ঠিক করতে গিয়ে অনেকে পুরো লাইনের শেষে গিয়ে আবার দাঁড়ান। অপেক্ষার দিনগুলোতে বরং রোজ সকালে একবার Business Suite-এর নোটিফিকেশন আর পোর্টফোলিওর ইমেইলটা দেখে নিন, কারণ রিভিউ শেষ হলে খবরটা সেখানেই আসে।

রিজেক্ট হলে কারণ খুঁজুন। Meta-র "Why was my business verification submission rejected" পেজে কারণগুলো এরকম। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া, বা এমন সন্দেহ হওয়া। এমন ব্যবসা ক্লেইম করা যেটার হয়ে কাজ করার অনুমতি আপনার নেই। Meta-র রিভিউ এড়ানোর চেষ্টা করা। আর এমন ওয়েবসাইট দেওয়া যেটা খোলে না, HTTPS না, অথবা যেখানে কোনো লিংক এররে নিয়ে যায়।

শেষ কারণটা ছোট দোকানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সাইটের হোমপেজ খোলে, কিন্তু ফুটারের "About Us" বা পুরনো কোনো অফারের লিংক ভাঙা। জমা দেওয়ার আগে নিজের ফোনে আর কম্পিউটারে সাইটটা খুলে প্রতিটা মেনু আর ফুটারের লিংকে একবার করে চাপ দিন। কোনোটা "Page not found" দেখালে আগে ঠিক করুন বা সরিয়ে দিন। আর ওয়েবসাইটের ঘরে ফেসবুক পেজের লিংক দেবেন না। ওটা আপনার ব্যবসার নিজের সাইট না, আর Meta-র ফর্ম চায় আপনার ব্যবসার ওয়েবসাইট। নিজের সাইট এখনো না থাকলে আগে সেটা দাঁড় করান, তারপর আবেদন করুন।

একজন তরুণ সেলার এক হাতে মোবাইলে আর সামনে ল্যাপটপে নিজের অনলাইন শপ খুলে লিংকগুলো একটা একটা করে চাপছেন, পাশে একটা কাগজে টিক দেওয়া লিস্ট, একটা লাইন লাল কালিতে গোল করা
জমার আগে প্রতিটা লিংকে একবার চাপ দিন, ভাঙা একটাই রিজেক্টের জন্য যথেষ্ট

কারণ ঠিক করার পর Meta বলছে, আপিলের সুযোগ থাকতে পারে, আর সেটা দেখা যাবে Security Center-এ। একবার শান্ত মাথায়, সব মিলিয়ে, জমা দিন। একই দিনে চার-পাঁচবার আলাদা আলাদা নাম বা কাগজ দিয়ে চেষ্টা করলে সেটা Meta-র চোখে বিভ্রান্তিকর তথ্যের মতো দেখাতে পারে, আর সেটা নিজেই একটা রিজেক্টের কারণ।

এই লেখা যা কভার করে না, সেটাও বলি। অ্যাড অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে যে আইডি ভেরিফিকেশন চায়, সেটা আলাদা প্রক্রিয়া, আর নীল ব্যাজের Meta Verified আলাদা সাবস্ক্রিপশন। ট্রেড লাইসেন্স কোথায় আর কীভাবে করবেন, বাসার ঠিকানায় করা যায় কি না, সেটা ট্রেড লাইসেন্সের লেখায় আছে, আর শেষ কথা বলবে আপনার সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। আর Meta মেনুর নাম মাঝে মাঝে সরায়, তাই কোনো বাটন খুঁজে না পেলে Meta-র অফিশিয়াল Verify your business হেল্প পেজটা খুলে মিলিয়ে নিন।

আজই করে ফেলুন, জমা দেওয়ার আগের এক ঘণ্টার কাজ

আবেদন আজ না করলেও এই কাজগুলো আজ সেরে রাখা যায়, হাতে যা আছে তা দিয়েই।

  1. Business Suite খুলে Settings → Security Center দেখুন। Start verification দেখাচ্ছে, না Ineligible, সেটা লিখে রাখুন। খুলতেই না পারলে খুঁজে বের করুন full control কার হাতে।
  2. ট্রেড লাইসেন্সটা বের করে দেখুন মেয়াদ আছে কি না। দোকানের নাম আর পুরো ঠিকানা যেমন লেখা, হুবহু একটা কাগজে টুকে রাখুন, ইংরেজি বানানসহ।
  3. ব্যবসার নামের এমন একটা কাগজ খুঁজুন যেখানে ইংরেজি নাম আছে, যেমন ব্যবসার অ্যাকাউন্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  4. নিজের ওয়েবসাইট ফোনে খুলুন। ঠিকানার শুরুতে তালা চিহ্ন আর https আছে কি না দেখুন, আর ফুটারের প্রতিটা লিংকে একবার চাপ দিন।
  5. নিজের ডোমেইন থাকলে ডোমেইন কোম্পানির প্যানেলে লগইন করে দেখুন DNS অংশটা কোথায়, আর এখনকার রেকর্ডগুলোর একটা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।
  6. যে ফোন নম্বর ফর্মে দেবেন, সেটা আপনার নিজের হাতে চালু আছে কি না, আর ওয়েবসাইটেও সেটাই লেখা কি না মিলিয়ে নিন।

এই ছয়টা কাজ শেষ হলে আবেদনের ফর্মটা পনেরো মিনিটের কাজ। আর যেটা সবচেয়ে বড় কথা, প্রথমবারেই ঠিক তথ্য যাবে, তাই রিজেক্টের পর আবার তিন সপ্তাহ গুনতে হবে না। নিজের দোকান, নিজের ডোমেইন আর নিজের নামের পোর্টফোলিও থাকলে Meta-র কাছে আপনি একটা আসল ব্যবসা, আর সেটা প্রমাণ করতে কারো দরজায় ঘুরতে হয় না।

ফেসবুক পেজের বাইরে নিজের ওয়েবসাইট চালু করুনhttps নিজে থেকেই চালু, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

সাধারণ প্রশ্ন

ফেসবুক বিজনেস ভেরিফিকেশন করতে কি টাকা লাগে?

Meta-র হেল্প পেজে বিজনেস ভেরিফিকেশনের জন্য কোনো ফি-র কথা লেখা নেই, এটা Meta Verified-এর মতো মাসিক সাবস্ক্রিপশনও না। খরচ যা হয় তা আপনার নিজের কাগজ গোছানোর, যেমন ট্রেড লাইসেন্স বা ডোমেইন। কেউ টাকা নিয়ে "ভেরিফাই করে দেব" বললে সাবধান থাকুন, কারণ আবেদনটা আপনার ব্যবসার নামে, আপনার পোর্টফোলিও থেকেই করতে হয়।

ভেরিফিকেশনের রেজাল্ট আসতে কত দিন লাগে?

২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র "Verify your business" হেল্প পেজে লেখা, সিদ্ধান্ত আসতে ১৪ কর্মদিবস পর্যন্ত লাগতে পারে, আর রিভিউ শেষ হলে নোটিফিকেশন আসে। এর মধ্যে Security Center-এ In review দেখালে সেটা স্বাভাবিক। মাঝপথে ব্যবসার তথ্য এডিট করলে কিন্তু ভেরিফিকেশন আবার প্রথম থেকে করতে হয়, তাই অপেক্ষার সময় তথ্যে হাত দেবেন না।

বাংলায় লেখা ট্রেড লাইসেন্স দিলে কি চলবে?

ভাষার দিক থেকে চলে, কারণ Meta-র "Upload official documents" পেজে যে ভাষাগুলোর কাগজ নেয় তার লিস্টে Bengali আছে। সমস্যা হয় নামে। ফর্মে ইংরেজিতে যে নাম লিখবেন, কাগজে সেই নামটাই চোখে পড়তে হবে। লাইসেন্সে শুধু বাংলা নাম থাকলে এমন একটা কাগজ সাথে রাখুন যেখানে ব্যবসার ইংরেজি নাম আছে, যেমন ব্যবসার নামের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কি বিজনেস ভেরিফিকেশন হয়?

কঠিন। Meta-র "About business verification" পেজে লেখা, ব্যবসাটা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রেজিস্টার্ড হতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে সরকারের দেওয়া ব্যবসার ট্যাক্স সার্টিফিকেট বা ব্যবসার নামের ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগবে, আর ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতেও সাধারণত লাইসেন্সই চায়। তাই আগে লাইসেন্সটা করে নেওয়াই সহজ পথ।

রিজেক্ট হলে কি আবার আবেদন করা যায়?

Meta-র হেল্প পেজ বলছে, রিজেক্ট হলে আপিল করার সুযোগ থাকতে পারে, আর সেটা দেখা যায় Security Center-এ। আগে কারণটা খুঁজে ঠিক করুন, যেমন নামের বানান, ওয়েবসাইট না খোলা বা ভুল কাগজ। তারপর একবার গুছিয়ে জমা দিন, একই দিনে বারবার না।

ডোমেইন ভেরিফাই হওয়ার পর TXT রেকর্ড মুছে দিলে কি সমস্যা হবে?

Meta-র "Verify your domain" পেজে লেখা, ভেরিফাই হয়ে যাওয়ার পর meta-tag, TXT রেকর্ড বা HTML ফাইল সরিয়ে দিলেও স্ট্যাটাসে প্রভাব পড়ে না। তবে রেখে দিলেও কোনো ক্ষতি নেই, আর পরে কেউ DNS ঘাঁটলে বোঝা যায় রেকর্ডটা কেন আছে। শুধু খেয়াল রাখবেন, মোছার সময় দোকানের A রেকর্ডে যেন হাত না পড়ে।

#ফেসবুক বিজনেস ভেরিফিকেশন#Meta Business Suite#ডোমেইন ভেরিফিকেশন#ট্রেড লাইসেন্স#বিজনেস পোর্টফোলিও#নিজের ডোমেইন

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়