WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

বাইকের পার্টস পাইকারি কোথায় পাবেন? হেলমেট-এক্সেসরিজ বেচুন ফেরত কমিয়ে

মোটরসাইকেল পার্টস এর পাইকারি মার্কেট কোথায়, শুরুতে পার্টস না এক্সেসরিজ, হেলমেটের BSTI মান আর আইন, বাইকের মডেল ধরে লিস্টিং, হেলমেটের সাইজ আর কুরিয়ার খরচ, আর একটা হেলমেটে কত থাকে তার টাকার হিসাব।

বাইকের পার্টস পাইকারি কোথায় পাবেন? হেলমেট-এক্সেসরিজ বেচুন ফেরত কমিয়ে
এই লেখায় যা আছে
  1. এক্সেসরিজ না পার্টস, কোনটা দিয়ে শুরু করবেন?
    1. কখন পার্টসে হাত দেবেন না
  2. মোটরসাইকেল পার্টস এর পাইকারি মার্কেট কোথায়, বংশালে কী পাবেন
  3. হেলমেট বেচার আগে মান আর আইনের কথা
  4. মডেল ধরে লিস্টিং, "আমার বাইকে লাগবে?" প্রশ্নের উত্তর
  5. হেলমেটের বক্স, সাইজ আর কুরিয়ার খরচ
  6. একটা হেলমেট আর একটা ফোন হোল্ডারে কত থাকে (উদাহরণ)
  7. ফেরত কেন আসে, কীভাবে কমাবেন
  8. বাইকারদের গ্রুপে বেচবেন যেভাবে
  9. আজই করে ফেলুন

মোটরসাইকেল পার্টস এর পাইকারি মার্কেট বলতে ঢাকায় সবার আগে আসে পুরান ঢাকার বংশালের নাম, আর সেটা শুক্রবার বন্ধ থাকে। তবে অনলাইনে নতুন শুরু করলে পার্টস দিয়ে না, এক্সেসরিজ দিয়ে শুরু করুন। হেলমেট, ফোন হোল্ডার, বাইক কভার আর গ্লাভস বেশিরভাগ বাইকেই চলে, তাই "আমার বাইকে লাগবে তো?" প্রশ্নে ফেরত কম আসে। হেলমেট বেচার আগে দেখে নিন তাতে BSTI-র মার্ক আছে কি না, কারণ মোটরসাইকেলের হেলমেট BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টে আছে। আর প্রতিটা প্রোডাক্ট বাইকের মডেল ধরে লিস্ট করুন।

ধরুন রাত দশটায় পেজের ইনবক্সে মেসেজ এলো, "ভাই, এই হোল্ডারটা কি আমার পালসারে লাগবে? আগেরবার এক পেজ থেকে নিয়েছিলাম, লাগেনি।" মেসেজটা পড়ে বুকটা একটু ধক করে ওঠে, কারণ ভুল উত্তর দিলে পার্সেলটা ফেরত আসবে আর কুরিয়ার চার্জ যাবে আপনার পকেট থেকে। এই একটা প্রশ্নই বাইকের ব্যবসার আসল খেলা। যিনি প্রশ্নটার পরিষ্কার উত্তর দিতে পারেন, বাইকাররা বারবার তাঁর কাছেই ফেরেন। কোথা থেকে কিনবেন, কী বেচবেন, কীভাবে বেচবেন আর একটা হেলমেটে আসলে কত টাকা থাকে, নিচে সব একে একে বলছি।

এক্সেসরিজ না পার্টস, কোনটা দিয়ে শুরু করবেন?

পার্টস মানে বাইকের ভেতরের জিনিস, যেমন ব্রেক প্যাড, ক্লাচ প্লেট, চেইন-স্প্রকেট, হেডলাইটের বাল্ব বা এয়ার ফিল্টার। আর এক্সেসরিজ হলো যা বাইকের গায়ে লাগানো হয় বা বাইকার নিজে পরেন, যেমন হেলমেট, ফোন হোল্ডার, কভার, গ্লাভস, রেইনকোট আর ট্যাংক প্যাড। বাইকের দোকানে দুটো পাশাপাশি তাকে থাকে, কিন্তু অনলাইনে বেচতে গেলে ঝুঁকিটা একদম আলাদা।

পার্টসের সবচেয়ে বড় ঝামেলা হলো মডেল মেলানো। একই কোম্পানির দুই মডেলের ব্রেক প্যাড দেখতে প্রায় এক, কিন্তু এক মিলিমিটারের ফারাকে লাগে না। আবার একই মডেলের পুরনো আর নতুন বছরের বাইকেও অনেক পার্টস বদলে যায়। কাস্টমার ভুল মডেল লিখলেন, আপনি পাঠালেন, মেকানিক লাগাতে গিয়ে বললেন "এটা হবে না"। পার্সেল ফেরত আসে, আর কুরিয়ার চার্জটা যায় আপনার পকেট থেকে।

এক্সেসরিজে এই ঝুঁকি কম। একটা হেলমেট যেকোনো বাইকারের মাথায় চলে, শুধু সাইজটা মিলতে হয়। একটা ভালো ফোন হোল্ডার বেশিরভাগ হ্যান্ডেলবারে বসে যায়। তাই শুরু করুন এমন ৪-৫টা জিনিস দিয়ে, যেগুলো সব বাইকারের লাগে। এ নিয়ে কেউ পরামর্শ চাইলে আমি আগে এটাই বলি, প্রথম অর্ডারগুলো আসুক এমন জিনিসে, যেখানে "লাগবে তো?" প্রশ্নটাই ওঠে না। কয়েক মাস চালানোর পরে অর্ডারের খাতা দেখলেই বুঝবেন কোন কোন মডেলের বাইকার আপনার কাছ থেকে বেশি কেনেন। তখন শুধু সেই মডেলগুলোর জন্য দুই-একটা পার্টস যোগ করুন, তার আগে না।

কখন পার্টসে হাত দেবেন না

আপনি নিজে বাইক না চালালে, বা চেনা কোনো মেকানিক না থাকলে, পার্টস দিয়ে শুরু করবেন না। কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর আন্দাজে দিলে ফেরত আসবেই। ব্রেক, টায়ার বা আলোর মতো নিরাপত্তার জিনিসে আন্দাজের ভুলে মানুষের ক্ষতিও হতে পারে। আর যে জিনিস লাগালে কাস্টমারই আইন ভাঙেন, সেটা লিস্টেই রাখবেন না। সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮-এর ধারা ৪৫(৪)-এ লেখা আছে, নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ করে এমন হর্ন বা যন্ত্র মোটরযানে লাগানো যাবে না। বিকট শব্দের হর্ন বেচে দুইদিনের লাভ আসে, কিন্তু পেজের নামটা নষ্ট হয়।

মোটরসাইকেল পার্টস এর পাইকারি মার্কেট কোথায়, বংশালে কী পাবেন

পুরান ঢাকার বংশাল বহু বছর ধরে সাইকেল আর মোটরসাইকেলের পার্টসের জন্য পরিচিত। বংশাল রোড, মুকিমবাজার আর আশেপাশের গলিতে পার্টস, হেলমেট আর এক্সেসরিজের দোকান আর গুদাম পাশাপাশি গায়ে গায়ে লাগানো। অনেক দোকান খুচরা আর পাইকারি দুটোই বেচে, তাই দাম জিজ্ঞেস করার সময় শুরুতেই বলে নিন কত পিস নিলে পাইকারি রেট দেবেন। নইলে খুচরা দামটাই শুনবেন। দেশের অন্য সব পাইকারি বাজারের লিস্ট পাইকারি মার্কেটের লেখায় আছে, এখানে শুধু বাইকের কথা।

কবে যাবেন, সেটা আগে ঠিক করুন। desh.tv-র ২ অক্টোবর ২০২৬-এর শুক্রবারের বন্ধ মার্কেটের লিস্টে বংশাল আর নবাবপুরের নাম আছে, তাই শুক্রবার এদিকে যাবেন না। সকালের দিকে যান, কারণ তখন ভিড় কম থাকে আর দোকানিরা কথা বলার সময় দেন।

প্রথমবার গিয়ে নতুনরা প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। এক দোকানে দাম শুনে সেখানেই সব কিনে ফেলেন। প্রথম দিন কিছু কিনবেন না, শুধু ঘুরবেন। তিন-চারটা দোকানে একই হেলমেটের দাম জিজ্ঞেস করুন, কার্ড নিন, আর প্রতিটা জিনিস হাতে নিয়ে দেখুন। হেলমেটের ভেতরের প্যাড খুলে আবার লাগানো যায় কি না দেখুন, ভাইজর ওঠানামা করলে ঠিকমতো ক্লিক করে কি না শুনুন, আর স্ট্র্যাপের বাকল জোরে টেনে দেখুন খুলে যায় কি না। ফোন হোল্ডারের স্ক্রু প্লাস্টিকের না ধাতুর, সেটাও দেখুন। প্লাস্টিকের স্ক্রু রাস্তার ঝাঁকুনিতে তাড়াতাড়ি ঢিলা হয়ে যায়।

একজন তরুণ পুরুষ সেলার বংশালের একটা পার্টসের দোকানে হেলমেট হাতে নিয়ে ভেতরের প্যাড আর স্ট্র্যাপের বাকল দেখছেন, পেছনের তাকে সারি করে সাজানো হেলমেট আর ফোন হোল্ডারের প্যাকেট
প্রথম দিন কিনবেন না, হাতে নিয়ে দেখবেন আর তিন দোকানের দাম মেলাবেন

পুরনো আর রিকন্ডিশন পার্টসের জন্য মেকানিকরা ধোলাইখালের নাম বলেন। তবে পুরনো পার্টস অনলাইনে নতুন সেলারের জন্য না, কারণ সেটা কতদিন চলবে, আপনিও জানেন না, কাস্টমারও না।

ঢাকার বাইরে থাকলে নিজের জেলার বড় পার্টসের দোকানে জিজ্ঞেস করুন, অনেকে আশেপাশের দোকানে পাইকারি দেন। যশোর বা চট্টগ্রামের পার্টসের বাজারের কথা অনেক বাইকার বলেন, কিন্তু কবে বন্ধ থাকে এমন তারিখসহ নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট এই লেখার সময় পাওয়া যায়নি। যাওয়ার আগে স্থানীয় মেকানিককে জিজ্ঞেস করে নিন।

হেলমেট বেচার আগে মান আর আইনের কথা

হেলমেট আর দশটা এক্সেসরিজের মতো না। দুর্ঘটনার সময় এটাই একজন মানুষের মাথা বাঁচায়। তাই বেচার আগে আইন আর মানের দুইটা সরকারি কথা জেনে রাখুন।

আগে আইনের কথা বলি। সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮-এর ধারা ৪৯-এ লেখা আছে, মোটরসাইকেলে চালক আর পেছনের আরোহী দুজনকেই ঠিকমতো হেলমেট পরতে হবে। না পরলে ধারা ৯২ অনুযায়ী তিন মাস পর্যন্ত জেল বা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই হতে পারে, আর চালকের লাইসেন্স থেকে একটা পয়েন্ট কাটা যায়। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর সরকারের bdlaws ওয়েবসাইটে আইনটা এভাবেই আছে। এজন্য অনেক বাইকার দুইটা হেলমেট একসাথে খোঁজেন, একটা নিজের, একটা পেছনের জনের। আপনার জন্য এটা একটা সহজ কম্বো, কারণ একই পার্সেলে দুইটা যায়।

এবার মানের কথা। BSTI-র ওয়েবসাইটে বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের লিস্ট আছে। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর সেখানে দেখা ৩১৫টা জিনিসের লিস্টে "Protective Helmets for Scooter & Motorcycle Riders" আছে, মান BDS 1136:2022। একই লিস্টে মোটরসাইকেলের টায়ার আর রিমও আছে। মানে এগুলো বাজারে আসার আগে BSTI-র সার্টিফিকেশন মার্ক লাগার কথা। এই লিস্টে মাঝে মাঝে গেজেট দিয়ে নতুন জিনিস যোগ হয়, তাই নতুন কোনো আইটেম তোলার আগে একবার পেজটা খুলে দেখে নিন।

একজন খুচরা অনলাইন সেলার হিসেবে আপনার কাজটা সোজা। পাইকারকে জিজ্ঞেস করুন হেলমেটে BSTI-র মার্ক আছে কি না, আর আমদানি করা হলে কাগজ দেখাতে পারবেন কি না। অনেক পাইকার মুখে "সব ঠিক আছে ভাই" বলে দেন, তাই কথায় না, চোখে দেখে কিনুন। হেলমেটের গায়ে, ভেতরের লেবেলে আর বক্সে কী লেখা আছে, নিজে দেখুন আর ছবি তুলে রাখুন। লাইসেন্স কার নামে লাগবে, আমদানিকারকের না খুচরা সেলারের, এসব খুঁটিনাটি BSTI-র অফিস থেকেই জেনে নিন। এই লেখা আইনি পরামর্শ না।

একজন পুরুষ সেলার জানালার আলোয় একটা ফুল-ফেস হেলমেটের ভেতরের লেবেল আর বাইরের স্টিকার খুঁটিয়ে দেখছেন, পাশে টেবিলে হেলমেটের বক্স খোলা
পাইকারের কথায় না, হেলমেটের লেবেল আর বক্স নিজে দেখে কিনুন

মডেল ধরে লিস্টিং, "আমার বাইকে লাগবে?" প্রশ্নের উত্তর

বাইকের প্রোডাক্টে ইনবক্সে সবচেয়ে বেশি আসে একটা প্রশ্ন, "আমার বাইকে লাগবে?" প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর আলাদা করে দিতে গেলে দিন শেষ হয়ে যায়। তার চেয়ে ভালো, প্রোডাক্ট পেজেই উত্তরটা লিখে রাখা।

এজন্য একটা ফিট টেবিল বানান। খাতায় বা শিটে চারটা কলাম রাখুন, বাইকের কোম্পানি, মডেল, বছর আর লাগবে কি না। "লাগবে না" লেখাটাও জরুরি, কারণ ওই লাইনটাই ভুল অর্ডার আটকায়। টেবিলটা আন্দাজে ভরবেন না। নিজে লাগিয়ে দেখুন, বা চেনা মেকানিকের দোকানে বসে এক বিকেলে কয়েকটা বাইকে লাগিয়ে নিন।

বাইক বছর এই ফোন হোল্ডার লাগবে? কী দেখে বলা
১৫০ সিসির নেকেড বাইক (মডেল A) ২০২২-এর পরে লাগবে নিজে লাগিয়ে দেখা
১২৫ সিসির কমিউটার (মডেল B) সব বছর লাগবে মেকানিকের দোকানে লাগানো
স্কুটার (মডেল C) সব বছর লাগবে না, হ্যান্ডেল ঢাকা মাপ নিয়ে দেখা

টেবিলের নামগুলো একটা উদাহরণ, নিজের প্রোডাক্টে আসল মডেলের নাম বসাবেন। শেষ কলামটা কাস্টমারকে দেখানোর দরকার নেই, কিন্তু নিজের কাছে রাখুন, যাতে জানেন কোন উত্তর কোথা থেকে এলো।

ছবিও ফিট দেখাবে। শুধু সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রোডাক্টের ছবি দিলে কাস্টমার বোঝেন না জিনিসটা বাইকে বসলে কেমন দেখায়। অন্তত একটা ছবি দিন বাইকে লাগানো অবস্থায়, আর একটা ছবি দিন ক্ল্যাম্প বা স্ক্রুর কাছ থেকে, পাশে একটা স্কেল বা ফিতা রেখে, যাতে মাপটা চোখে পড়ে। হ্যান্ডেলবারের মোটা অংশটা কত মিলিমিটার, সেটা ছবিতে দেখলেই অনেক কাস্টমার নিজের বাইক মেপে নেন। ডেসক্রিপশনে কী কী লিখবেন, তার পুরো নিয়ম প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার লেখায় আছে।

হ্যান্ডেলবারে লাগানো ফোন হোল্ডারের ক্ল্যাম্পের নকশা, পাশে হ্যান্ডেলবারের মোটা অংশের মাপ আর একটা স্কেল, ডানে তিনটা উদাহরণ বাইকে এই হোল্ডার লাগবে কি না তার ফিট টেবিল
বাইকে লাগানো অবস্থার ছবি আর ক্ল্যাম্পের মাপ, অর্ধেক প্রশ্ন এখানেই শেষ

ফোন হোল্ডারে একটা সৎ কথা লিখুন। Apple-এর সাপোর্ট পেজে (১ নভেম্বর ২০২৩-এ পাবলিশ করা, ২০২৬ সালের অক্টোবরে দেখা) লেখা আছে, বড় ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলে iPhone লাগাতেই তারা মানা করে, কারণ কাঁপুনি দীর্ঘদিন সরাসরি ফোনে লাগলে ক্যামেরার স্ট্যাবিলাইজেশন আর অটোফোকাস খারাপ হতে পারে। স্কুটারের মতো ছোট ইঞ্জিনেও ভাইব্রেশন কমানোর মাউন্ট লাগাতে বলেছে। তাই শক্ত প্লাস্টিকের হোল্ডারের পাশে ড্যাম্পার লাগানো একটা হোল্ডারও রাখুন, আর ডেসক্রিপশনে লিখে দিন যে লম্বা রাস্তায় ফোন সারাক্ষণ হোল্ডারে রাখা ঠিক না। এই এক লাইনে পরে একজন রাগী কাস্টমার কম পাবেন।

এই পুরো কাজটা খাতা আর ফেসবুক পোস্টেও করা যায়। তবে WinningSeller-এ একটা প্রোডাক্টের ভেতরে অপশন রাখা যায়, যেমন সাইজ M, L, XL বা "ক্ল্যাম্প ছোট, বড়"। প্রোডাক্ট পেজের "wholesale" ডিজাইনে দুই বা তার বেশি অপশন থাকলে অপশন ধরে দামের একটা টেবিল দেখায়, যার সারিতে চাপ দিলেই সেই অপশন সিলেক্ট হয়ে যায়। আর ল্যান্ডিং পেজে YouTube-এর ভিডিও বসানো যায়, তাই বাইকে লাগানোর ছোট একটা ভিডিও সেখানে অবশ্যই দিন। ফিট টেবিলটা অবশ্য আপনাকেই লাগিয়ে দেখে ভরতে হবে, সফটওয়্যার জানে না কোন হোল্ডার কোন বাইকে বসে।

বাইকের মডেল আর সাইজ ধরে প্রোডাক্ট পেজ বানানপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

হেলমেটের বক্স, সাইজ আর কুরিয়ার খরচ

হেলমেটে ফেরতের সবচেয়ে বড় কারণ সাইজ। কাস্টমার "L দিয়েন" লিখলেন, কারণ তাঁর আগের হেলমেট L ছিল। কিন্তু আগেরটা অন্য ব্র্যান্ডের, আর এই ব্র্যান্ডের L তাঁর মাথায় ঢিলা। ঢিলা হেলমেট দুর্ঘটনায় মাথা থেকে সরে যেতে পারে, তাই এখানে "একটু ঢিলা হলেও চলবে" বলার সুযোগ নেই।

সমাধান হলো সাইজ না জিজ্ঞেস করে মাপ জিজ্ঞেস করা। কাস্টমারকে বলুন দর্জির ফিতা দিয়ে ভ্রুর একটু ওপর দিয়ে, কানের ওপর দিয়ে, মাথার পেছনের সবচেয়ে উঁচু জায়গা ঘুরিয়ে মাপতে, সেন্টিমিটারে। তারপর যে ব্র্যান্ডের হেলমেট বেচছেন, তার বক্সে বা ওয়েবসাইটে দেওয়া সাইজ চার্টের সাথে মেলান। নিজের মতো করে একটা "সব ব্র্যান্ডের" চার্ট বানাবেন না। ধরুন একটা চার্টে লেখা M মানে ৫৭ থেকে ৫৮ সেন্টিমিটার। তাহলে যাঁর মাথা ৫৮, তিনি M-এর একদম কিনারায়, তাঁকে সেটা খোলাখুলি বলুন, আর হাতে পেয়ে কীভাবে দেখবেন সেটাও বলে দিন। ঠিক সাইজের হেলমেট পরে মাথা ডানে-বামে নাড়লে হেলমেট আলাদা করে ঘোরে না, আর গাল দুটো একটু চেপে থাকে।

একজন পুরুষের মাথার পাশ থেকে আঁকা নকশা, ভ্রুর একটু ওপর, কানের ওপর আর মাথার পেছন দিয়ে ঘোরানো মাপের ফিতা, পাশে সাইজ চার্টে M মানে ৫৭ থেকে ৫৮ সেমি আর ৫৮ সেমি কিনারায় দাগানো
সাইজ না, মাথার মাপ জিজ্ঞেস করুন, তারপর সেই ব্র্যান্ডের চার্ট মেলান

এবার প্যাকিংয়ের কথা। হেলমেট সাধারণত নিজের বক্সে আসে, কিন্তু সেই বক্স দোকানের তাকের জন্য বানানো, কুরিয়ারের হাবের জন্য না। পথে অন্য পার্সেলের চাপে কোণ ভাঙে, আর সবচেয়ে বেশি দাগ পড়ে ভাইজরে। নতুন সেলাররা প্রথম মাসে প্রায় সবাই এখানে একটা অভিযোগ পান, "ভাইজরে দাগ"। তাই ভাইজরের ওপরের প্রটেক্টিভ ফিল্ম খুলবেন না, তার ওপর একটা নরম কাপড় বা বাবল র‍্যাপ দিন। হেলমেটের ভেতরে গ্লাভস বা কভার ভরে দিলে জায়গাও কাজে লাগে, ভেতরের শেপও ঠিক থাকে। তারপর বক্সটা মোটা পলি বা আরেকটা কার্টনে মুড়িয়ে টেপ মারুন।

প্যাক শেষ হলে স্কেলে মাপুন। কুরিয়ার চার্জ হয় প্যাকসহ ওজনে, শুধু হেলমেটের ওজনে না। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর steadfast.com.bd-এর রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা সিটির ভেতরে হোম ডেলিভারি ১ কেজি ৭৫ টাকা আর ২ কেজি ৯৫ টাকা দেখিয়েছে। ঢাকা থেকে রংপুরে ১ কেজি ১৩৫ টাকা, ২ কেজি ১৫৫ টাকা, আর আড়াই কেজি ১৭৫ টাকা। এর সাথে COD-র টাকা থেকে ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে বাকিটার ১% কাটে, আর এই চার্জে VAT ধরা নেই। ক্যালকুলেটরের নিচে এটাও লেখা, পার্সেলের আকার অনুযায়ী চার্জ বদলাতে পারে। হেলমেটের বক্স ওজনে হালকা কিন্তু আকারে বড়, তাই প্রথম পার্সেলের পরে প্যানেলে আসলে কত কাটল নিজের চোখে দেখে নিন। এটা মাসের শেষে পেমেন্ট মেলানোর দিন পর্যন্ত ফেলে রাখবেন না, তখন দশটা পার্সেলের হিসাব একসাথে গরমিল হয়ে বসে থাকে।

চেইন লুব আর পলিশ নিয়েও সাবধান। এগুলোর বেশিরভাগ আসে স্প্রে ক্যানে। Pathao-র ব্লগে ১১ মে ২০২৬-এর পার্সেল গাইডলাইনে স্প্রে ক্যান নিষিদ্ধ জিনিসের লিস্টে আছে, আর বোতলের তরল লিক না হয় এমন প্যাকে দিতে বলা আছে। Steadfast-এর টার্মসে লেখা, ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস নেওয়া হয় না, আর ঠিকমতো প্যাক না করা তরল বা ভাঙার মতো জিনিস নষ্ট হলে তারা দায় নেয় না। তাই স্প্রে ক্যান অনলাইন লিস্টে রাখার আগে নিজের কুরিয়ারকে জিজ্ঞেস করে লিখিত উত্তর নিন।

একটা হেলমেট আর একটা ফোন হোল্ডারে কত থাকে (উদাহরণ)

নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব বা বাজারদর না। কুরিয়ারের চার্জগুলো শুধু ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Steadfast-এর ক্যালকুলেটর থেকে নেওয়া। নিজের কেনা দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

ধরুন একটা হাফ-ফেস হেলমেট পাইকারি ৯০০ টাকায় কিনলেন, আর বেচবেন ১,৪৫০ টাকায়। কাস্টমার রংপুরে থাকেন, ডেলিভারি চার্জ নিলেন ১৫০ টাকা, তাই রাইডার তুলবেন ১,৬০০ টাকা। প্যাক করার পরে ওজন হলো ২ কেজি। Steadfast কাটবে ১৫৫ টাকা ডেলিভারি চার্জ, আর বাকি ১,৪৪৫ টাকার ১% মানে ১৪ টাকা। আপনার হাতে আসবে ১,৬০০ − ১৫৫ − ১৪ = ১,৪৩১ টাকা। খেয়াল করুন, কাস্টমারের কাছ থেকে ১৫০ নিলেন, কিন্তু কুরিয়ার কাটল ১৫৫। এই ৫ টাকা আপনার পকেট থেকেই গেল, আর বিলে VAT যোগ হলে আরও কয়েক টাকা যাবে।

এবার খরচ বাদ দিন। হেলমেট ৯০০ টাকা, বাবল র‍্যাপ, পলি আর টেপ ৩৫ টাকা, আর এই অর্ডার আনতে অ্যাডে গেছে ধরুন ২০০ টাকা। থাকল ১,৪৩১ − ৯০০ − ৩৫ − ২০০ = ২৯৬ টাকা।

এবার ধরুন একই কাস্টমার সাথে ৪৫০ টাকার একটা ফোন হোল্ডারও নিলেন, যেটা আপনি কিনেছেন ২২০ টাকায়। রাইডার তুলবেন ১,৪৫০ + ৪৫০ + ১৫০ = ২,০৫০ টাকা। পার্সেলের ওজন আড়াই কেজি হলো, তাই ডেলিভারি চার্জ ১৭৫ টাকা, COD চার্জ ১৯ টাকা, হাতে আসবে ১,৮৫৬ টাকা। প্যাকিং ধরুন ৪০ টাকা, অ্যাড একই ২০০ টাকা। থাকল ১,৮৫৬ − ৯০০ − ২২০ − ৪০ − ২০০ = ৪৯৬ টাকা। একটা হোল্ডার যোগ হওয়ায় লাভ বাড়ল ২০০ টাকা, কারণ অ্যাডের টাকা নতুন করে লাগেনি।

আর হোল্ডারটা যদি একা বেচতেন? ৪৫০ টাকার সাথে ১৩০ টাকা ডেলিভারি, মোট ৫৮০ টাকা। আধা কেজির পার্সেলে Steadfast কাটবে ১১৫ আর ৫ টাকা, হাতে আসবে ৪৬০ টাকা। হোল্ডার ২২০, প্যাকিং ১৫, অ্যাড ২০০ বাদ দিলে থাকে মাত্র ২৫ টাকা। মানে ছোট এক্সেসরিজ একা অ্যাড দিয়ে বেচলে প্রায় কিছুই থাকে না। এগুলো বেচবেন হেলমেটের সাথে, বা পুরনো কাস্টমারকে।

একটা খাতার পাতার নকশা, যেখানে তিনটা কলামে হেলমেট একা, হেলমেট আর ফোন হোল্ডার একসাথে, আর হোল্ডার একা বেচার হিসাব লেখা, নিচে লাভের ঘরে ২৯৬, ৪৯৬ আর ২৫ টাকা গোল করে দাগানো
একই অ্যাডের টাকায় একটা জিনিস বেশি গেলে লাভটা সেখানেই

ফেরত কেন আসে, কীভাবে কমাবেন

বাইকের এক্সেসরিজের পার্সেল সাধারণত চারটা কারণে ফেরত আসে। হেলমেটের সাইজ মেলেনি, জিনিসটা বাইকের মডেলে লাগেনি, পথে ভাইজরে দাগ পড়েছে বা কিছু ভেঙেছে, নয়তো কাস্টমার ভেবেছিলেন জিনিসটা অন্যরকম হবে। প্রথম তিনটা ওপরের মাথার মাপ, ফিট টেবিল আর প্যাকিং দিয়ে অনেকটা ঠেকানো যায়। শেষেরটা ঠেকে আসল ছবি আর সৎ ডেসক্রিপশনে।

দরজায় যা হয়, সেটাও জেনে রাখুন। হেলমেটের পার্সেলে অনেক কাস্টমার রাইডারের সামনেই বক্স খুলে মাথায় দিয়ে দেখতে চান। রাইডারের হাতে আরও পার্সেল, তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়াতে চান না, আর একটু ঢিলা লাগলেই কাস্টমার পার্সেলটা ফিরিয়ে দেন। তাই কনফার্ম কলেই বলে দিন, হাতে পেয়ে কী দেখবেন, আর সাইজ না মিললে বদলের নিয়ম কী, কুরিয়ার চার্জ কে দেবে।

একটা ফেরতের খরচ টাকায় দেখুন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর টার্মসে লেখা আছে, পার্সেল ডেলিভারি হোক বা বাতিল, ডেলিভারি চার্জ মার্চেন্টকে দিতে হবে, তবে ফেরত পার্সেলের জন্য আলাদা চার্জ নেই। ওপরের হেলমেটটা রংপুর থেকে ফেরত এলে যায় ১৫৫ টাকা ডেলিভারি চার্জ, ৩৫ টাকার প্যাকিং আর ২০০ টাকার অ্যাড, মোট ৩৯০ টাকা। মানে একটা ফেরতে যা যায়, তা একটা হেলমেট বেচে যা থাকে তার চেয়েও ৯৪ টাকা বেশি। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Pathao-র কুরিয়ার পেজে লেখা আছে, ঢাকার বাইরে থেকে ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জের সাথে তার ৫০% রিটার্ন চার্জ যোগ হয়। আর সাইজ বদলে আরেকটা পাঠালে আরেকটা ডেলিভারি চার্জ লাগে। এক বিক্রিতে দুইবার ডেলিভারি চার্জ গুনলে ওই হেলমেটে আর লাভ থাকে না।

তাই এই চারটা নিয়ম কড়াভাবে মানুন। আমার অভিজ্ঞতায় বাইকের পেজে ফেরত কমানোর এর চেয়ে সস্তা কোনো উপায় নেই।

  • হেলমেটের অর্ডারে কনফার্ম কলে মাথার মাপ সেন্টিমিটারে আবার জিজ্ঞেস করুন। "L" শুনে ছেড়ে দেবেন না।
  • পার্টসের অর্ডারে বাইকের মডেল আর বছর জিজ্ঞেস করুন, সম্ভব হলে পুরনো পার্টসের একটা ছবি চেয়ে নিন।
  • প্যাক করার আগে ভাইজর আর গায়ের ছবি বা ছোট ভিডিও রাখুন। দাগ নিয়ে তর্ক হলে এটাই আপনার প্রমাণ।
  • ঢাকার বাইরের দামি হেলমেটে নম্বরের কুরিয়ার রেকর্ড দেখুন। রেকর্ডে ফেরত বেশি হলে ডেলিভারি চার্জটা আগে চেয়ে নিন।
একজন তরুণ পুরুষ সেলার প্যাকিং টেবিলে বসে মোবাইলে একটা হেলমেটের ভাইজরের ভিডিও করছেন, পাশে বাবল র‍্যাপ, টেপ আর একটা ছোট ডিজিটাল ওজন মাপার স্কেল
প্যাকের আগে ভাইজরের ছোট একটা ভিডিও, দাগের তর্কে এটাই প্রমাণ

শেষ নিয়মটা হেলমেটের মতো বড় পার্সেলে সবচেয়ে কাজের, কারণ এখানে একটা ফেরতের দাম বেশি। ফ্রি ফ্রড চেকারে নম্বরটা দিলে দেখবেন আগের পার্সেলগুলোর কয়টা ডেলিভারি হয়েছে আর কয়টা ফেরত গেছে, কোনো কুরিয়ার শুধু স্কোর দিলে সেই স্কোর। WinningSeller-এর স্টোরে Steadfast বা Pathao-র অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করা থাকলে নতুন অর্ডারের সাথেই এই রেকর্ড দেখা যায়। আর নিজের bKash বা SSLCommerz কানেক্ট করলে চেকআউটে শুধু ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নেওয়ার নিয়ম রাখা যায়, বা অর্ডার থেকে পেমেন্ট লিংক কপি করে কাস্টমারকে পাঠানো যায়। তবে রেকর্ডটা কুরিয়ারের পুরনো তথ্য, নতুন নম্বরের বেলায় কিছুই বলে না। তখন কনফার্ম কলের ওপরেই ভরসা।

বাইকারদের গ্রুপে বেচবেন যেভাবে

বাইকারদের ফেসবুক গ্রুপ এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় জায়গা, আবার নাম নষ্ট হওয়ারও সবচেয়ে সহজ জায়গা। বেশিরভাগ বড় গ্রুপে বিক্রির পোস্টের আলাদা নিয়ম থাকে, কোথাও শুধু নির্দিষ্ট দিনে চলে, কোথাও একেবারেই চলে না। গ্রুপে ঢুকেই "হেলমেট পাবেন, ইনবক্স করুন" লিখলে অ্যাডমিন পোস্ট মুছে দেন, আর বারবার করলে বের করে দেন।

যা আসলে কাজ করে, সেটা হলো গ্রুপে কাজের মানুষ হয়ে থাকা। কেউ জিজ্ঞেস করলেন "রাইডে ফোন হোল্ডারে ফোন কাঁপে কেন"। আপনি জানেন, বেশিরভাগ সময় ক্ল্যাম্প ঢিলা থাকে বা হোল্ডারে ড্যাম্পার নেই, সেটাই লিখে দিন। কেউ জিজ্ঞেস করলেন হেলমেটের সাইজ কীভাবে মাপে, আপনি ফিতার নিয়মটা লিখে দিলেন। পোস্টে দোকানের লিংক না দিয়েই সাহায্য করুন। কয়েক সপ্তাহ পরে মানুষ নিজেই প্রোফাইল ঘুরে আপনার পেজে আসেন। আর গ্রুপে বিক্রির দিন থাকলে সেদিন একটা পরিষ্কার পোস্ট দিন, যেখানে দাম, সাইজ চার্ট আর কোন বাইকে লাগে, সব লেখা থাকবে।

রাইড বা বাইকার মিটআপে গেলে নিজের বাইকে নিজের বেচা হোল্ডার লাগিয়ে যান। কেউ জিজ্ঞেস করলে হাতে দেখান। নতুন পেজে প্রথম কাস্টমার আনার আরও উপায় প্রথম ১০০ কাস্টমারের লেখায় আছে।

যাঁরা একবার কিনেছেন, তাঁদের লিস্টটাই আসল সম্পদ। যিনি হেলমেট কিনেছেন, বর্ষার আগে তাঁর একটা রেইনকোট লাগতে পারে, শীতের আগে গ্লাভস। WinningSeller-এ প্রতিটা কাস্টমারের আগের অর্ডারের ইতিহাস থাকে, আর ফলোআপ কলের লিস্ট থেকে তাঁদের ফোন দেওয়া যায়। কোন কোন ফিচার আছে, ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন। তবে কোন জিনিস কখন বলবেন, সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে, কোনো সফটওয়্যার সেটা আপনার হয়ে জানে না।

আজই করে ফেলুন

হাতে যা আছে তা দিয়েই এক ঘণ্টায় এই কাজগুলো সেরে ফেলা যায়।

  1. খাতায় ৪-৫টা এক্সেসরিজের নাম লিখুন, যেগুলো সব বাইকারের লাগে। ইঞ্জিনের পার্টস এই লিস্টে রাখবেন না।
  2. যে হেলমেট বেচতে চান, তার ব্র্যান্ডের সাইজ চার্ট খুঁজে বের করে সেভ করুন, আর পাইকারকে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন BSTI-র মার্ক আছে কি না।
  3. Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে নিজের জেলা থেকে ২ কেজি আর আড়াই কেজির চার্জ দেখে ওপরের হিসাবটা নিজের দামে আবার কষুন।
  4. চার কলামের একটা ফিট টেবিল খুলুন, আর নিজের বা চেনা কারও বাইক দিয়ে প্রথম লাইনটা ভরুন।
  5. বংশালে যাওয়ার দিন ঠিক করুন, শুক্রবার বাদে, আর প্রথম দিন শুধু দাম জানার জন্য যাবেন, কিনবেন না।

বাইকাররা খুব তাড়াতাড়ি ধরে ফেলেন কোন পেজ বাইক বোঝে আর কোন পেজ শুধু মাল বেচে। কনফার্ম কলে মাথার মাপটা আরেকবার জিজ্ঞেস করলে বা ডেসক্রিপশনে "এই বাইকে লাগবে না" লিখে রাখলে প্রথম দলে থাকা যায়। এগুলো ছোট কাজ, কিন্তু রাত দশটার সেই "লাগবে তো?" মেসেজের উত্তর আপনি তখন ভয় ছাড়াই দিতে পারবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

মোটরসাইকেল পার্টস এর পাইকারি মার্কেট কোথায়?

ঢাকায় সবচেয়ে চেনা জায়গা পুরান ঢাকার বংশাল, যেখানে নতুন পার্টস, হেলমেট আর বাইকের এক্সেসরিজের অনেক দোকান আর গুদাম আছে। পুরনো আর রিকন্ডিশন পার্টসের জন্য মেকানিকরা ধোলাইখালের নাম বলেন। ঢাকার বাইরে নিজের জেলার বড় পার্টসের দোকানগুলোও অনেক সময় পাইকারি দেয়, আগে দাম মিলিয়ে নিন।

বংশাল মার্কেট কোন দিন বন্ধ থাকে?

শুক্রবার। desh.tv-র ২ অক্টোবর ২০২৬-এর শুক্রবারের বন্ধ মার্কেটের লিস্টে বংশাল আর নবাবপুরের নাম আছে। তাই কেনাকাটার প্ল্যান রবিবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে করুন, আর যাওয়ার আগের দিন পাইকারকে একটা ফোন দিয়ে নিন।

হেলমেট বিক্রি করতে কি BSTI-র অনুমোদন লাগে?

মোটরসাইকেলের হেলমেট BSTI-র বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের লিস্টে আছে। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর BSTI-র ওয়েবসাইটে দেখা ৩১৫টা জিনিসের লিস্টে "Protective Helmets for Scooter & Motorcycle Riders" লেখা, মান BDS 1136:2022। আপনি খুচরা সেলার হলে পাইকারকে জিজ্ঞেস করুন হেলমেটে BSTI-র মার্ক আছে কি না, আর লাইসেন্স কার নামে লাগবে সেটা BSTI-র অফিস থেকে জেনে নিন।

অল্প টাকায় বাইকের এক্সেসরিজের ব্যবসা কীভাবে শুরু করব?

সব মডেলে লাগে এমন কয়েকটা জিনিস দিয়ে শুরু করুন, যেমন হেলমেট, ফোন হোল্ডার, বাইক কভার আর গ্লাভস। প্রথমবার প্রতিটার অল্প কয়েক পিস কিনুন, নিজে বাইকে লাগিয়ে ছবি আর ভিডিও করুন, তারপর অ্যাডে যান। ইঞ্জিন বা ব্রেকের পার্টস শুরুতে রাখবেন না, ওখানে মডেল না মিললেই ফেরত আসে।

অনলাইনে হেলমেটের সাইজ কীভাবে বলব?

কাস্টমারকে দর্জির ফিতা দিয়ে কপালের ঠিক ওপর দিয়ে মাথার চারপাশ মাপতে বলুন, সেন্টিমিটারে। তারপর যে ব্র্যান্ডের হেলমেট বেচছেন, সেই ব্র্যান্ডের সাইজ চার্টের সাথে মেলান। এক ব্র্যান্ডের M আরেক ব্র্যান্ডের M-এর সমান নাও হতে পারে, তাই নিজের মতো করে সাধারণ চার্ট বানিয়ে দেবেন না।

চেইন লুব বা পলিশ কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?

স্প্রে ক্যানে হলে সাধারণত না। Pathao-র ব্লগে ১১ মে ২০২৬-এর পার্সেল গাইডলাইনে স্প্রে ক্যান নিষিদ্ধ জিনিসের লিস্টে আছে, আর দাহ্য জিনিসও নেয় না। বোতলের তরল পলিশ লিক না হয় এমন প্যাকে দিতে বলা আছে। অন্য কুরিয়ারে বুক করার আগে তাদের সাপোর্টে জিজ্ঞেস করে লিখিত উত্তর নিন।

#বাইক এক্সেসরিজ#হেলমেট পাইকারি#মোটরসাইকেল পার্টস#বংশাল#পাইকারি মার্কেট#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়