WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৫ মিনিটে পড়া যায়

লিমিটেড কোম্পানি করার নিয়ম ও খরচ ২০২৬, পার্টনার এলে যা জানবেন

ব্যবসা বড় হচ্ছে, পার্টনার বা ইনভেস্টর আসছে, তাই ভাবছেন কোম্পানি করবেন? RJSC-তে নামের ছাড়পত্র থেকে সার্টিফিকেট পর্যন্ত ধাপ, মূলধন ধরে সরকারি ফি টাকায়, প্রতি বছরের অডিট আর রিটার্ন, আর কখন এখনই কোম্পানি করবেন না, সব এক জায়গায়।

লিমিটেড কোম্পানি করার নিয়ম ও খরচ ২০২৬, পার্টনার এলে যা জানবেন
এই লেখায় যা আছে
  1. একক মালিকানা, পার্টনারশিপ আর লিমিটেড কোম্পানি, পার্থক্য এক টেবিলে
  2. কখন কোম্পানি করা লাভ, কখন এখনই না
  3. এক মালিকের কোম্পানি (OPC) কী, কার জন্য
  4. RJSC-তে নামের ছাড়পত্র থেকে সার্টিফিকেট, ধাপে ধাপে
  5. খরচ কত, সরকারি ফি আর পরামর্শকের ফি (উদাহরণ)
  6. কোম্পানি হওয়ার পর প্রতি বছর যা করতে হয়
  7. ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক আর পেজ কোম্পানির নামে আনা
  8. আজই করে ফেলুন

লিমিটেড কোম্পানি করার নিয়ম ছোট করে বললে এরকম। প্রথমে RJSC-র ওয়েবসাইট app.roc.gov.bd থেকে কোম্পানির নামের ছাড়পত্র নিতে হয়। তারপর মেমোরেন্ডাম আর আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন আর পাঁচটা ফর্ম পূরণ করে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করতে হয়, নির্ধারিত ব্যাংকে ফি জমা দিতে হয়, আর সব ঠিক থাকলে RJSC ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট দেয়। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে অন্তত দুজন পরিচালক লাগে। ১০ লাখ টাকা মূলধনে সরকারি খরচ ভ্যাটসহ ১৮ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। আসল খরচটা আসে পরে, প্রতি বছরের অডিট আর রিটার্নে।

ধরুন রাত এগারোটায় মাসের হিসাব মেলাতে বসেছেন। মাসে বিক্রি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি, দুজন মডারেটর বেতন পান, গোডাউনে কয়েক লাখ টাকার মাল। এমন সময় এক বন্ধু ফোন দিয়ে বললেন, "পাঁচ লাখ টাকা দিতে চাই, কিন্তু কাগজে আমার ভাগটা লিখে দিস।" তখনই মাথায় আসে, এবার কি কোম্পানি করার সময় হলো? উত্তরটা নির্ভর করে আপনার ব্যবসা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তার ওপর। তাই রাস্তাটা ধাপে ধাপে দেখাব, আর কোন অবস্থায় এখনই কোম্পানি না করাই ভালো, সেটাও খোলাখুলি বলব।

একক মালিকানা, পার্টনারশিপ আর লিমিটেড কোম্পানি, পার্থক্য এক টেবিলে

বেশিরভাগ ফেসবুক সেলার ব্যবসা শুরু করেন একক মালিকানায়। সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে নিজের নামে একটা ট্রেড লাইসেন্স, তাতে দোকানের নাম লেখা থাকে "অমুক ফ্যাশন"। অনেকে ভাবেন, লাইসেন্সে দোকানের নাম থাকায় ব্যবসাটা তাঁর থেকে আলাদা হয়ে গেছে। আসলে হয়নি। একক মালিকানায় আপনি আর আপনার দোকান আইনের চোখে একই মানুষ। সাপ্লায়ারের কাছে বড় বাকি পড়ে গেলে সেটা দোকানের আলাদা কোনো দেনা না, সেটা আপনার নিজের দেনা। ভাড়ার চুক্তি বা ব্যাংকের লোনেও একই কথা।

লিমিটেড কোম্পানি এখানেই আলাদা। RJSC-তে রেজিস্ট্রেশন হলে আইনের চোখে কোম্পানি নিজেই আলাদা একজন "মানুষ" হয়ে যায়। কোম্পানির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, কোম্পানির নামে চুক্তি হয়, আর শেয়ারহোল্ডারের দায় সাধারণত তাঁর শেয়ারের টাকা পর্যন্ত সীমিত থাকে। এজন্যই নামের শেষে "লিমিটেড"। কোম্পানি আইনের ২০২০ সালের সংশোধনীতে বলা আছে, প্রাইভেট কোম্পানির নামের শেষে Limited বা Ltd. থাকবে।

বিষয় একক মালিকানা পার্টনারশিপ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি
মালিক কে আপনি একা চুক্তিপত্রের পার্টনাররা শেয়ারহোল্ডাররা, অন্তত দুজন পরিচালক, সর্বোচ্চ ৫০ জন সদস্য
দেনার দায় পুরোটা আপনার নিজের পার্টনারদের নিজেদের সাধারণত শেয়ারের টাকা পর্যন্ত
কোথায় রেজিস্ট্রেশন শুধু ট্রেড লাইসেন্স RJSC-তে করা যায়, বাধ্যতামূলক না RJSC-তে বাধ্যতামূলক
প্রতি বছরের কাজ লাইসেন্স নবায়ন আর নিজের রিটার্ন লাইসেন্স নবায়ন, পার্টনারদের রিটার্ন AGM, অডিট, RJSC-তে রিটার্ন, কোম্পানির ট্যাক্স রিটার্ন
নতুন ইনভেস্টর আনা কাগজে ভাগ দেওয়ার উপায় নেই চুক্তি নতুন করে লিখতে হয় নতুন শেয়ার দিয়ে, নিয়ম মেনে

টেবিলের সংখ্যাগুলো কোম্পানি আইন ১৯৯৪ থেকে নেওয়া। ৯০ ধারায় প্রাইভেট কোম্পানিতে অন্তত দুজন পরিচালকের কথা আছে, আর ২ ধারার সংজ্ঞায় প্রাইভেট কোম্পানির সদস্য ৫০ জনের মধ্যে রাখার কথা। পার্টনারশিপের চুক্তি কীভাবে লিখবেন আর ফার্মের রেজিস্ট্রেশন কেন করবেন, সেটা আলাদা করে পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তিপত্রের লেখায় বিস্তারিত আছে।

তিনটা ফাইল পাশাপাশি, প্রথমটায় শুধু একটা ট্রেড লাইসেন্স, দ্বিতীয়টায় স্ট্যাম্পের চুক্তিপত্র, তৃতীয়টায় মোটা কাগজের বান্ডেল আর সিল, প্রতিটার নিচে মালিক, দেনার দায়, রেজিস্ট্রেশন আর প্রতি বছরের কাজ
একক মালিকানা, পার্টনারশিপ আর কোম্পানি, কাগজের ভার তিন রকম

একটা কথা মনে রাখবেন। "লিমিটেড" মানে সব ঝুঁকি চলে গেল, তা না। ব্যাংক যখন কোম্পানিকে লোন দেয়, অনেক সময় পরিচালকদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টিও চায়। তখন সেই লোনের দায় আবার আপনার কাঁধেই আসে। তাই দায় সীমিত হওয়ার সুবিধাটা মূলত সাপ্লায়ার, ভাড়া আর সাধারণ ব্যবসার দেনায় কাজে লাগে।

কখন কোম্পানি করা লাভ, কখন এখনই না

কোম্পানি করার পেছনে খরচ আর ঝামেলা দুটোই আছে, তাই আগে দেখুন আপনার এখন আসলে দরকার কি না। কয়েকটা অবস্থায় কোম্পানি সত্যিই কাজে লাগে। বাইরের কেউ টাকা দিতে চান আর বদলে মালিকানার ভাগ চান। দুই-তিনজন মিলে ব্যবসা করছেন আর কে কত শতাংশের মালিক সেটা পরিষ্কার কাগজে রাখতে চান। কোনো বড় প্রতিষ্ঠান বা টেন্ডারে অর্ডার নিতে গেলে ওরা কোম্পানির কাগজ চাইছে। অথবা ব্যবসার দেনা এত বড় হয়েছে যে নিজের সংসারের সম্পদ থেকে সেটা আলাদা রাখা দরকার।

রাতে একটা ছোট টেবিলে বসে একজন তরুণ পুরুষ সেলার, সামনে ল্যাপটপে বিক্রির শিট খোলা, এক হাতে ফোন কানে, অন্য হাতে খাতায় দুই বন্ধুর নাম আর পাশে শতাংশ লেখা
কারও টাকা বা ভাগ ঢুকলেই কোম্পানির প্রশ্ন আসে

এবার উল্টো দিকটা দেখুন। মাস ছয়েকের পুরনো পেজ, এখনো প্রতি মাসে কত লাভ থাকে সেটাই পরিষ্কার না, একাই চালান। এই অবস্থায় কোম্পানি করলে আপনার ঘাড়ে প্রতি বছর অডিটরের ফি, RJSC-র রিটার্ন আর কোম্পানির ট্যাক্স রিটার্নের খরচ বসবে, অথচ বদলে কিছুই পাবেন না। এই অবস্থায় আমি কাউকে কোম্পানি করতে বলি না। তখন বরং ট্রেড লাইসেন্স, TIN আর একটা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টই যথেষ্ট। নিজের নামে লাইসেন্স কীভাবে করবেন, সেটা অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের লেখায় ধাপে ধাপে আছে।

আমার অভিজ্ঞতায় প্রথম বছরে নতুন সেলাররা সবচেয়ে বেশি টাকা নষ্ট করেন এই ভুলটায়। কারও মুখে শোনেন "কোম্পানি থাকলে পেমেন্ট গেটওয়ে সহজে পাওয়া যায়, ব্যাংক লোন দেয়", আর তড়িঘড়ি কোম্পানি করে ফেলেন। অথচ শুধু কোম্পানির কাগজ দেখে গেটওয়েও আসে না, লোনও আসে না। গেটওয়ে দেখে আপনার ওয়েবসাইট আর ব্যবসার কাগজ, আর ব্যাংক লোনের আগে দেখতে চায় ব্যবসার লেনদেন আর হিসাব। কোম্পানি একটা খোলস। ভেতরে বিক্রি, হিসাব আর ব্যাংক স্টেটমেন্ট না থাকলে খোলস দিয়ে কেউ লোন দেয় না।

কোম্পানির প্রশ্নে আমি সবসময় একটা সহজ নিয়ম দিই। যেদিন অন্য কারও টাকা বা অন্য কারও ভাগ ব্যবসায় ঢুকছে, সেদিন কোম্পানি নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবুন। একা নিজের টাকায় চালালে আর বিক্রি এখনো উঠছে-নামছে, তাহলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করুন।

এক মালিকের কোম্পানি (OPC) কী, কার জন্য

অনেকে খোঁজেন "one person company bangladesh", কারণ পার্টনার ছাড়াই কোম্পানি করতে চান। কোম্পানি আইনে ২০২০ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীতে এক ব্যক্তি কোম্পানি বা OPC যোগ হয়েছে। bdlaws.minlaw.gov.bd-তে আইনের ৩৯২খ ধারায় লেখা আছে, একজন প্রাকৃতিক ব্যক্তি একটাই OPC খুলতে পারেন। আর স্মারকে একজন মনোনীত ব্যক্তির নাম তাঁর লিখিত সম্মতিসহ থাকতে হয়, যিনি মালিক মারা গেলে বা অক্ষম হলে শেয়ারের মালিক হবেন। ৩৯২ঙ ধারা অনুযায়ী একমাত্র শেয়ারহোল্ডারই পরিচালক, তবে ম্যানেজার আর কর্মী রাখা যায়। এই মনোনীত ব্যক্তির জায়গাতেই অনেকের কাজ আটকে যায়। ভাই বা বাবার নাম দেবেন ঠিক করে রেখেছেন, কিন্তু তাঁর NID কপি আর সই করা সম্মতি হাতে নেই। আইনে লিখিত সম্মতির কথা আছে, তাই আবেদনের আগেই কাগজটা সই করিয়ে রাখুন।

শর্তটা আসে ৩৯২গ ধারায়, আর এখানেই বেশিরভাগ ছোট সেলার আটকে যান। ২০২৬ সালের অক্টোবরে আইনের পেজে লেখা আছে, OPC-র পেইড-আপ শেয়ার মূলধন হবে অন্তত ২৫ লাখ টাকা আর সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা। আর আগের অর্থবছরের বার্ষিক টার্নওভার অন্তত ১ কোটি টাকা আর সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা। মানে এটা "একা মানুষের ছোট কোম্পানি" না, এটা একা মালিকের মাঝারি ব্যবসার জন্য। একদম নতুন ব্যবসার আগের বছরের টার্নওভারের শর্ত RJSC কীভাবে দেখে, সেটা আবেদনের আগে একজন আইনজীবীর কাছ থেকে জেনে নিন।

তাহলে OPC কার জন্য? যিনি বছরে কোটি টাকার বেশি বিক্রি করেন, ব্যবসা একাই চালাবেন, কিন্তু নিজের সংসারের সম্পদ ব্যবসার দেনা থেকে আলাদা রাখতে চান। RJSC-র ফি ক্যালকুলেটরে One Person Company আলাদা অপশন হিসেবে আছে, আর আইনের ৩৯২ঘ ধারায় লেখা প্রাইভেট কোম্পানির নিয়মগুলোই প্রয়োজনমতো বদলে OPC-তে খাটে। ২৫ লাখ টাকা পেইড-আপ মূলধন দেখানোর মতো অবস্থা না হলে, আর সাথে বিশ্বস্ত কেউ থাকলে, দুজন পরিচালক নিয়ে সাধারণ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিই বেশিরভাগের জন্য সহজ রাস্তা।

RJSC-তে নামের ছাড়পত্র থেকে সার্টিফিকেট, ধাপে ধাপে

পুরো কাজটা অনলাইনে হয়, তবে ধাপগুলো একটার পর একটা। ২০২৬ সালের অক্টোবরে RJSC-র ওয়েবসাইট roc.gov.bd-র "নিবন্ধন প্রক্রিয়া" পেজে যে সিরিয়াল লেখা, সেটাই এখানে সেলারের ভাষায় দিলাম।

  1. শুরু হয় নামের ছাড়পত্র দিয়ে, যাকে ইংরেজিতে বলে Name Clearance। app.roc.gov.bd-তে গিয়ে আবেদন করুন। RJSC-র Business Process পেজে লেখা, এক আবেদনে ১ থেকে ১০টা নাম দেওয়া যায়, কিন্তু ছাড় পায় একটাই। ছাড়পত্রের মেয়াদ ৩০ দিন, আবেদন করলে প্রথম দিন থেকে ৬০ দিন, তারপর ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এই সময়ের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করতে হয়।
  2. এরপর মেমোরেন্ডাম আর আর্টিকেলস লিখতে হয়। মেমোরেন্ডামে থাকে কোম্পানি কী কী ব্যবসা করবে আর অনুমোদিত মূলধন কত। আর্টিকেলসে থাকে ভেতরের নিয়ম, যেমন শেয়ার কীভাবে হাতবদল হবে আর পরিচালক কীভাবে বদলাবে।
  3. সাথে পাঁচটা ফর্ম পূরণ করতে হয়। RJSC-র পেজে প্রাইভেট কোম্পানির জন্য লেখা আছে ফর্ম I (রেজিস্ট্রেশনের ঘোষণা), ফর্ম VI (অফিসের ঠিকানা), ফর্ম IX (পরিচালকের সম্মতি), ফর্ম X (পরিচালকদের লিস্ট) আর ফর্ম XII (পরিচালক আর ম্যানেজারের তথ্য)।
  4. তারপর অনলাইনে জমা দিয়ে ফি দেন। Apply for Registration-এ গিয়ে ছাড়পত্রের Submission no. আর NC Letter no. বসিয়ে ফর্ম পূরণ করুন, সব তথ্য মিলিয়ে Submit করুন। এরপর সিস্টেম ফি জমার নির্দেশনা দেয়, আর টাকাটা জমা দিতে হয় নির্ধারিত ব্যাংকে।
  5. শেষে আসে সার্টিফিকেট। কাগজ আর ফি ঠিক থাকলে RJSC ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট দেয়। ফি ক্যালকুলেটরে রেজিস্ট্রেশনের সাথে ডিজিটাল সার্টিফিকেট আর সার্টিফায়েড কপির টাকা একসাথে ধরা থাকে।
নামের ছাড়পত্রের আবেদন ফর্মের নকশা, নিচে নোটপ্যাডে হাতে লেখা তিনটা সম্ভাব্য কোম্পানির নাম, দ্বিতীয় নামে টিক, পাশে নামের ছাড়পত্র থেকে ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট পর্যন্ত পাঁচটা ধাপ
একটা না, তিন-চারটা নাম হাতে রেখে আবেদন

কাগজে ধাপগুলো সোজা, কিন্তু আসল কাজে কয়েকটা জায়গায় প্রায় সবাই আটকান। সবচেয়ে বেশি আটকায় নামে। কোম্পানি আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী বিদ্যমান কোনো কোম্পানির নামের সাথে এমন মিল থাকলে, যাতে মানুষ ভুল করতে পারে, সেই নাম রেজিস্ট্রেশন হয় না। "Rangpur Fashion Limited" ছাড় না পেলে "Rangpur Fashions Limited" পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। তাই তিন-চারটা আলাদা ধরনের নাম আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, আর প্রথম পছন্দের নামটা যেন আপনার পেজের ব্র্যান্ডের কাছাকাছি হয়। পরে bKash, কুরিয়ার আর ব্যাংকে নাম মেলাতে এটা অনেক ঝামেলা কমায়।

এরপর ভুলটা হয় মূলধনে। অনেকে ভাবেন বড় অনুমোদিত মূলধন লিখলে কোম্পানি ভারী দেখায়। কিন্তু মূলধন যত বেশি, ফি আর স্ট্যাম্প তত বেশি, আর পরের অংশের হিসাবেই দেখবেন ফারাকটা কত বড়। অনুমোদিত মূলধন পরে বাড়ানো যায়, RJSC-র রিটার্ন ফাইলিং পেজে মূলধন বাড়ানোর নোটিশের জন্য ফর্ম IV-এর কথা লেখা আছে। তাই শুরুতে প্রয়োজনের মাপেই রাখুন।

অফিসের ঠিকানার কাগজ নিয়েও অনেকে শেষ মুহূর্তে দৌড়ান। ফর্ম VI-তে কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিস লাগে, আর পরে ট্রেড লাইসেন্স আর ব্যাংকেও সেই ঠিকানার প্রমাণ চাইবে। বাসায় অফিস দেখালে ভাড়ার চুক্তি বা দলিল এখনই খুঁজে রাখুন। পরিচালকদের NID, ছবি, ফোন নম্বর আর ইমেইলও এক ফোল্ডারে আগে জমা করুন। পরিচালকদের ব্যক্তিগত TIN চাওয়া হবে কি না, সেটা আপনার পরামর্শককে আগেই জিজ্ঞেস করে নিন, কারণ কোম্পানির পরের প্রায় সব কাজে TIN লাগে।

RJSC-র পেজে একটা গোলমেলে কথাও আছে, সেটা জেনে রাখুন। ওই "নিবন্ধন প্রক্রিয়া" পেজেই এক লাইনে লেখা নামের ছাড়পত্র প্রাইভেট কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য নয়, অথচ একই পেজের কাগজের লিস্টে আর অনলাইন ধাপে ছাড়পত্রের নম্বর চাওয়া হয়েছে। আবেদনের দিন সিস্টেম যা চাইবে, সেটাই মানবেন।

খরচ কত, সরকারি ফি আর পরামর্শকের ফি (উদাহরণ)

সরকারি খরচের জন্য RJSC-র নিজের ফি ক্যালকুলেটর আছে, roc.gov.bd-র "ফি সমূহ" মেনুতে লিংক পাবেন। ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ সেখানে Registration আর Private Company সিলেক্ট করে দুটো মূলধন বসালে যে সংখ্যা আসে, নিচের উদাহরণ সেটা দিয়েই বানানো।

উদাহরণ। ধরুন রাশেদ আর তানভীর দুই বন্ধু মিলে কোম্পানি করবেন। তাঁদের সামনে দুটো অপশন, অনুমোদিত মূলধন ১০ লাখ টাকা, নাকি ৫০ লাখ টাকা।

১০ লাখ টাকা মূলধনে ক্যালকুলেটর দেখায়, রেজিস্ট্রেশন ফি শূন্য, ফাইলিং ফি ১,২০০ টাকা, মেমোরেন্ডাম-আর্টিকেলসের স্ট্যাম্প ১২,৩০০ টাকা, আর সার্টিফায়েড কপি আর ডিজিটাল সার্টিফিকেটে ১,৫২০ টাকা। যোগ করলে ১,২০০ + ১২,৩০০ + ১,৫২০ = ১৫,০২০ টাকা। এর সাথে নামের ছাড়পত্রে প্রতিটা নামের জন্য ৫০০ টাকা, এক নাম ধরলে মোট ১৫,৫২০ টাকা।

৫০ লাখ টাকা মূলধনে রেজিস্ট্রেশন ফি দাঁড়ায় ৩,২০০ টাকা, আর স্ট্যাম্প লাফিয়ে হয় ৩২,৩০০ টাকা। বাকি দুটো একই। তাহলে ৩,২০০ + ১,২০০ + ৩২,৩০০ + ১,৫২০ + ৫০০ = ৩৮,৭২০ টাকা।

শুধু একটা সংখ্যা বড় লেখার জন্য বাড়তি গেল ৩৮,৭২০ − ১৫,৫২০ = ২৩,২০০ টাকা। ক্যালকুলেটর আবার নিচে লিখে দেয়, এর সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হবে। কোন খাতে ভ্যাট বসে সেটা পেমেন্টের সময় দেখবেন। তবে সব খাতে বসছে ধরে বাজেট করলে ১০ লাখের কোম্পানিতে ১৫,৫২০ × ১.১৫ = ১৭,৮৪৮ টাকা, আর ৫০ লাখের কোম্পানিতে ৩৮,৭২০ × ১.১৫ = ৪৪,৫২৮ টাকা।

খোলা খাতায় হাতে লেখা দুই কলামের হিসাব, বাঁ কলামের ওপরে ১০ লাখ আর ডান কলামের ওপরে ৫০ লাখ, নিচে রেজিস্ট্রেশন ফি, ফাইলিং ফি, স্ট্যাম্প, সার্টিফায়েড কপি আর ছাড়পত্রের লাইন, শেষে দুটো মোট অঙ্ক গোল দাগে ঘেরা, পাশে একটা ক্যালকুলেটর
একই কোম্পানি, শুধু মূলধনের অঙ্ক বদলালে খরচ আড়াই গুণ

ফারাকটা আসে দুই জায়গা থেকে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে roc.gov.bd-র নিবন্ধন ফি পেজে লেখা আছে, আর্টিকেলসের স্ট্যাম্প ৪০ লাখ টাকা মূলধন পর্যন্ত ১০,০০০ টাকা, আর এর বেশি হলে ১২ কোটি পর্যন্ত ৩০,০০০ টাকা। আর মূলধনের ফি ১০ লাখ পর্যন্ত শূন্য, ১০ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে প্রতি লাখে ৮০ টাকা, ৫০ লাখের ওপরে প্রতি লাখে ১৩০ টাকা। সরকার এই ফি বদলাতে পারে, তাই জমার আগে ক্যালকুলেটরে আরেকবার মিলিয়ে নিন।

এবার পরামর্শকের ফি। এর কোনো সরকারি রেট নেই। আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম আর এজেন্টরা একেক রকম দাম চান, আর ফেসবুকে "দশ হাজারে কোম্পানি করে দেব" ধরনের পোস্টও চোখে পড়ে। ওপরের হিসাবেই দেখলেন, শুধু সরকারি অংশই ১৫ হাজার টাকার বেশি। তাহলে ১০ হাজারের প্যাকেজে সরকারি ফি ধরা আছে কি না, আগে জিজ্ঞেস করুন।

কোম্পানি হওয়ার পর প্রতি বছর যা করতে হয়

সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে অনেকে ভাবেন কাজ শেষ। আসলে কাজ শুরু। একক মালিকানায় বছরে লাইসেন্স নবায়ন আর নিজের রিটার্ন দিলেই চলত। কোম্পানিতে প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট চক্র ঘোরে, আর সেটা বাদ গেলে জরিমানা জমতে থাকে।

চক্রের মাঝখানে থাকে বার্ষিক সাধারণ সভা, মানে AGM। কোম্পানি আইনের ৮১ ধারায় লেখা, প্রতি ইংরেজি ক্যালেন্ডার বছরে একটা AGM করতে হবে, আর দুটো AGM-এর মাঝে ১৫ মাসের বেশি ফাঁক রাখা যাবে না। প্রথম AGM কোম্পানি হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে করা যায়। দুই বন্ধুর কোম্পানিতে এটা এক বিকেলের বৈঠকেই হয়ে যায়, কিন্তু তার কার্যবিবরণী লিখে সই করে রাখতে হয়।

AGM-এর আগে লাগে অডিট করা হিসাব। ২১০ ধারা অনুযায়ী প্রতিটা AGM-এ কোম্পানি অডিটর নিয়োগ করে, আর ২১২ ধারায় লেখা অডিটরকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হবে। অডিটর আপনার কাছে চাইবেন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিক্রির হিসাব, খরচের রিসিট, স্টকের হিসাব আর কুরিয়ারের পেমেন্টের স্টেটমেন্ট। ফেসবুক সেলারের সবচেয়ে বড় বিপদ এখানেই। কুরিয়ারের টাকা আসে ব্যক্তিগত bKash-এ, অ্যাডের খরচ যায় নিজের কার্ড থেকে, মাল কেনা হয় নগদে। বছর শেষে কাগজ খুঁজতে খুঁজতে অডিটরের বিল বাড়ে।

AGM হয়ে গেলে ঘড়ি চলতে শুরু করে RJSC-র বার্ষিক রিটার্নের। ২০২৬ সালের অক্টোবরে RJSC-র "রিটার্ন ফাইলিং" পেজে প্রাইভেট কোম্পানির জন্য লেখা আছে, শেয়ারহোল্ডার আর পরিচালকদের লিস্টসহ শিডিউল X জমা দিতে হয় AGM-এর ২১ দিনের মধ্যে, আর ব্যালেন্স শিট ও লাভ-ক্ষতির হিসাব AGM-এর ৩০ দিনের মধ্যে। রিটার্ন ফাইলিং ফির পেজে লেখা, সময়মতো জমা দিলে প্রতিটা ডকুমেন্ট ২০০ টাকা। দেরি হলে ৩ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর বা তার অংশের জন্য ৫০০ টাকা, আর ৩ বছরের বেশি হলে প্রতি বছর ৭০০ টাকা। পরিচালক বদলালে ফর্ম XII ১৫ দিনের মধ্যে, আর অফিস বদলালে ফর্ম VI ২৮ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা একই পেজে আছে।

একটা ছোট অফিসের টেবিলে একজন মাঝবয়সী পুরুষ অডিটর ল্যাপটপ আর ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রিন্ট নিয়ে বসে আছেন, তাঁর সামনে একজন তরুণ পুরুষ সেলার রঙিন ক্লিপে আটকানো খরচের রিসিটের ফাইল এগিয়ে দিচ্ছেন
অডিটর চাইবেন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রিসিট আর কুরিয়ারের হিসাব

এর পাশাপাশি চলে ট্যাক্সের কাজ। কোম্পানি একটা আলাদা করদাতা, তার নিজের TIN আর নিজের আয়কর রিটার্ন লাগে। কোম্পানির করের হার, অগ্রিম কর আর কোন খরচ বাদ যায়, এগুলো প্রতি বাজেটে বদলাতে পারে, তাই এখানে কোনো হার দিচ্ছি না। একজন ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার বা অডিট ফার্মকে দিয়ে করান। আর বিক্রি বাড়লে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের প্রশ্ন আসবে, কোন অঙ্কে কী লাগে তা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন আর BIN-এর লেখায় আছে।

এই চক্র সহজ রাখার আসল উপায় হলো সারা বছর হিসাবটা গুছিয়ে রাখা। কোম্পানির টাকা শুধু কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসবে, আর প্রতিটা খরচের রিসিট সেদিনই ছবি তুলে রাখবেন। আর লাভ গুনবেন ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, শুধু অর্ডার আসা থেকে না, কারণ COD-তে ফেরত আসা পার্সেল কোনো আয় না। WinningSeller-এ লাভ-ক্ষতির রিপোর্ট ঠিক এভাবেই চলে। ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে আয় ধরে, কুরিয়ার চার্জ আর ফেরতের খরচ কাটে, আর অ্যাড, ভাড়া বা বেতনের খরচ রিসিটের ছবিসহ লিখে রাখা যায়। তবে পরিষ্কার করে বলি, এটা অডিট করে না, রিটার্নও জমা দেয় না। অডিটরের হাতে গোছানো কাগজ তুলে দেওয়ার কাজটা সহজ করে, এটুকুই।

অডিটরের জন্য সারা বছরের হিসাব গুছিয়ে রাখুনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক আর পেজ কোম্পানির নামে আনা

সার্টিফিকেট পাওয়ার পর কাজগুলো একটা নির্দিষ্ট সিরিয়ালে করতে হয়, কারণ একটা কাগজ ছাড়া পরেরটা হয় না।

প্রথমে কোম্পানির নিজের TIN। এরপর কোম্পানির নামে নতুন ট্রেড লাইসেন্স। আপনার নিজের নামের পুরনো লাইসেন্সটা কোম্পানির নামে বদলানো যায় না, কারণ লাইসেন্স থাকে লাইসেন্সধারীর নামে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সের পেজে লেখা আছে, লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলধনের প্রমাণ হিসেবে মেমোরেন্ডাম আপলোড করতে হয়, আর বাকি কাগজ সাধারণ লাইসেন্সের মতোই।

তারপর ব্যাংকে কোম্পানির নামে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। ব্যাংক সাধারণত সার্টিফিকেট, মেমোরেন্ডাম-আর্টিকেলসের সত্যায়িত কপি, ফর্ম XII, অ্যাকাউন্ট খোলার বোর্ড রেজুলেশন, ট্রেড লাইসেন্স আর TIN চায়। একেক ব্যাংকের লিস্ট একটু আলাদা, তাই শাখা থেকে লিখিত লিস্ট চেয়ে নিন। অনেকের এখানে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়, কারণ ব্যাংক প্রত্যেক পরিচালকের কাগজ আলাদা করে চেক করে, আর একজনের কাগজে নাম বা ঠিকানার বানানে গরমিল থাকলে সবার কাজই আটকে থাকে। এই সময়টায় পুরনো লাইসেন্স আর পুরনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করবেন না, ব্যবসা চলতে থাকুক।

একটা ব্যাংকের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে দুজন পুরুষ পরিচালক একটা মোটা ফাইল থেকে কাগজ বের করে দিচ্ছেন, কাউন্টারের ওপাশে একজন পুরুষ ব্যাংক কর্মকর্তা কাগজে সিল দেখছেন
কোম্পানির অ্যাকাউন্টে প্রত্যেক পরিচালকের কাগজ লাগে

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হয়ে গেলে বাকিগুলো একে একে আনুন। bKash বা অন্য মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট কোম্পানির নামে নতুন করে খুলতে হতে পারে, কোন কাগজে হবে সেটা তাদের হেল্পলাইনে আগে জিজ্ঞেস করে নিন। কুরিয়ারের মার্চেন্ট প্যানেলে ব্যবসার নাম আর পেমেন্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বদলাতে তাদের সাপোর্ট বা KAM-কে লিখে জানান। Meta-র বিজনেস পোর্টফোলিওতে ব্যবসার আইনি নাম, ডোমেইনের মালিকের নাম, আর ইনভয়েসে দোকানের নাম, সবখানে এক নাম রাখুন। কাস্টমার যে ব্র্যান্ড চেনেন, পেজের নাম সেটাই থাকুক, শুধু পেছনের কাগজ কোম্পানির।

এই সময় আরেকটা জিনিস বদলায়, সেটা হলো দায়িত্ব। আগে সব পাসওয়ার্ড আর সব সিদ্ধান্ত আপনার একার কাছে থাকত। এখন পরিচালক আছেন একাধিক, তাই কে কোন জায়গায় ঢুকতে পারবেন আর কে টাকার হিসাব বদলাতে পারবেন, সেটা কাগজের মতো সিস্টেমেও আলাদা রাখুন। WinningSeller-এ টিমের প্রত্যেককে তাঁর ইমেইল দিয়ে ইনভাইট করে আলাদা রোল দেওয়া যায়, আর হিসাব লেখার অনুমতি শুধু মালিক আর অ্যাডমিন রোলের থাকে। কেউ নিজের রোলের চেয়ে বড় রোলে কাউকে ইনভাইট করতে পারেন না, আর দোকানের শেষ মালিককে সরানো যায় না। তবে মালিক রোলে কে কে থাকবেন, সেটা আপনাদের শেয়ারের কাগজের সাথে মিলিয়ে ঠিক করুন।

শেষে নিজের আর কোম্পানির টাকার একটা লাইন টেনে দিন। কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের খরচ চালাবেন না। নিজে টাকা নিতে চাইলে সেটা বেতন বা পরিচালকের পারিশ্রমিক হিসেবে লিখে নিন, আর কোম্পানিতে টাকা ঢাললে সেটা শেয়ার না লোন, তা কাগজে লিখুন। ব্যবসা বাড়ানোর টাকা লোন থেকে আনবেন ভাবলে কোন স্কিমে কোন কাগজ লাগে, সেটা অনলাইন ব্যবসার SME লোনের লেখায় দেখে নিন।

আজই করে ফেলুন

এক ঘণ্টায় নিচের কাজগুলো হাতের কাছে যা আছে তা দিয়েই করা যায়।

  1. গত ছয় মাসের বিক্রি, ডেলিভারি আর লাভ একটা কাগজে লিখুন। লাভ পরিষ্কার না হলে কোম্পানির আগে হিসাব গোছান।
  2. কাকে কোম্পানিতে রাখবেন, আর কে কত শতাংশ শেয়ার পাবেন, সেটা পার্টনারের সাথে বসে এক লাইনে লিখে ফেলুন।
  3. পছন্দের চারটা কোম্পানির নাম লিখুন, প্রতিটার শেষে Limited দিয়ে। গুগল আর ফেসবুকে খুঁজে দেখুন কেউ এই নামে চালাচ্ছে কি না।
  4. RJSC-র ফি ক্যালকুলেটরে Registration আর Private Company সিলেক্ট করে ১০ লাখ আর ২০ লাখ মূলধনে দুবার হিসাব চালান, স্ক্রিনশট রাখুন।
  5. অফিসের ঠিকানার প্রমাণ, প্রত্যেক পরিচালকের NID আর ছবি এক ফোল্ডারে রাখুন।
  6. দুই-তিনজন পরামর্শকের কাছে ওপরের সতর্কতার বাক্সের প্রশ্নগুলো লিখে পাঠান, লিখিত কোটেশন চান।

এই লেখা আইনি পরামর্শ না, একজন সেলারের চোখে কোম্পানি করার পুরো রাস্তার ছবি। ফি আর নিয়ম বদলায়, তাই জমার আগে roc.gov.bd-র ফি পেজ আর ক্যালকুলেটর আরেকবার দেখে নেবেন। মেমোরেন্ডাম-আর্টিকেলসের শেষ ড্রাফট একজন আইনজীবীকে দিয়ে পড়িয়ে নিন, আর ট্যাক্সের হিসাব করান একজন ট্যাক্স প্র্যাকটিশনারকে দিয়ে।

সাধারণ প্রশ্ন

লিমিটেড কোম্পানি করতে কি কি লাগে?

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে অন্তত দুজন পরিচালক লাগে, তাঁদের NID, ছবি আর ঠিকানা, আর কোম্পানির অফিসের ঠিকানার প্রমাণ। RJSC-তে জমা দিতে হয় নামের ছাড়পত্র, মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, আর ফর্ম I, VI, IX, X ও XII। সাথে নির্ধারিত ব্যাংকে ফি আর স্ট্যাম্পের টাকা জমা দিতে হয়।

লিমিটেড কোম্পানি করতে কত টাকা লাগে?

সরকারি খরচটা অনুমোদিত মূলধনের ওপর নির্ভর করে। ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ RJSC-র ফি ক্যালকুলেটরে ১০ লাখ টাকা মূলধনে ফাইলিং ফি, স্ট্যাম্প আর সার্টিফায়েড কপি মিলিয়ে আসে ১৫,০২০ টাকা, সাথে নামের ছাড়পত্রের ৫০০ টাকা, আর এর ওপর ১৫% ভ্যাট। পরামর্শক বা আইনজীবীর ফি এর বাইরে, আর প্রতি বছর অডিট আর রিটার্নের খরচ আলাদা।

একজন মানুষ কি একা লিমিটেড কোম্পানি খুলতে পারেন?

পারেন, এক ব্যক্তি কোম্পানি বা OPC হিসেবে। তবে কোম্পানি আইনের ৩৯২গ ধারায় OPC-র পেইড-আপ মূলধন অন্তত ২৫ লাখ টাকা আর আগের অর্থবছরের টার্নওভার অন্তত ১ কোটি টাকা লেখা আছে। ছোট অনলাইন শপের জন্য শর্তটা বেশ বড়, তাই আবেদনের আগে একজন আইনজীবীর সাথে মিলিয়ে নিন।

কোম্পানি করলে কি ট্যাক্স কমে যায়?

শুধু কোম্পানি করলেই ট্যাক্স কমে না। কোম্পানি একটা আলাদা করদাতা, তার নিজের TIN আর নিজের রিটার্ন লাগে, আর অডিট করা হিসাব লাগে। আপনার বিক্রি আর লাভ ধরে কোনটায় কর কম পড়বে, সেটা একজন ট্যাক্স প্র্যাকটিশনারকে দিয়ে হিসাব করিয়ে নিন।

ট্রেড লাইসেন্স কি কোম্পানির নামে নতুন করতে হয়?

হ্যাঁ, কোম্পানির নামে আলাদা ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সের পেজে লেখা আছে, লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলধনের প্রমাণ হিসেবে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস আপলোড করতে হয়। আপনার নিজের নামের পুরনো লাইসেন্সটা সব কাজ কোম্পানিতে না আসা পর্যন্ত চালু রাখুন।

কোম্পানির নাম আগে থেকে কারও আছে কি না বুঝব কীভাবে?

নামের ছাড়পত্রের আবেদনটাই আসল পরীক্ষা। RJSC-র FAQ-তে লেখা, বিদ্যমান বা প্রক্রিয়াধীন কোনো নামের সাথে খুব মিলে গেলে সেই নাম ছাড় পায় না। তাই একটা নাম না দিয়ে একসাথে তিন-চারটা নাম দিন, আর গুগলে আর ফেসবুকে নামটা খুঁজে দেখুন অন্য কেউ ব্র্যান্ড হিসেবে চালাচ্ছে কি না।

#লিমিটেড কোম্পানি#লিমিটেড কোম্পানি করার নিয়ম#RJSC#কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন#ওয়ান পারসন কোম্পানি#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়