অনলাইনে গাছ বিক্রি, নার্সারির চারা কেনা আর কুরিয়ারে না মরে পৌঁছানো
অনলাইনে গাছ বিক্রি করবেন, কিন্তু ভয় পাচ্ছেন পথে গাছ মরে যাবে? কোন গাছ চলে, নার্সারি থেকে কেমন চারা আনবেন, কোন কুরিয়ার গাছ নেয় না, একটা চারা প্যাক করার ধাপ, টব-মাটিসহ দামের হিসাব আর গাছ মরলে কী করবেন, সব এখানে।

এই লেখায় যা আছে
- অনলাইনে গাছ বিক্রি করলে কোন গাছ চলে, কারা কেনেন
- চারা কোথা থেকে আনবেন, নার্সারি, কলম আর নিজের বেড
- কুরিয়ার কি গাছ নেয়, কোন শর্তে
- একটা চারা প্যাক করার ধাপ, মাটি না ঝরে, ডাল না ভাঙে
- কোন মাসে বেচা সহজ, কোন মাসে ঝুঁকি
- টব, মাটি আর সার জুড়ে দাম (উদাহরণ)
- গাছ মরে গেলে কী বলবেন, কী বদলে দেবেন
- যত্নের কার্ড আর রিপিট কাস্টমার
- কখন গাছের ব্যবসা শুরু করবেন না
- আজই করে ফেলুন
অনলাইনে গাছ বিক্রি মানে ফেসবুক পেজ বা নিজের ওয়েবসাইটে টবের গাছ আর চারা বেচে কুরিয়ারে কাস্টমারের বাসায় পৌঁছে দেওয়া। শুরুটা কঠিন না। কাছের নার্সারি থেকে অল্প কয়েকটা শক্ত জাতের ইনডোর গাছ আর কলমের চারা আনুন, আর শুধু সেই গাছ পাঠান যেটা টবে ভালোমতো বসে গেছে। আগের দিন পানি দিয়ে, মাটি মুড়ে, কার্টনে খাড়া করে প্যাক করুন। আর প্রথম পার্সেলের আগেই কুরিয়ারের কাছ থেকে লিখিত জেনে নিন ওরা গাছ নেয় কি না, কারণ সব কুরিয়ার নেয় না।
ধরুন রাত এগারোটায় ইনবক্সে একটা ছবি এলো। আপনার পাঠানো অ্যাগলোনিমার পাতাগুলো ঝুলে পড়েছে, দুটো পাতা হলুদ। নিচে লেখা, "ভাই, গাছ তো মরে গেছে।" বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠে, কারণ গাছের দাম আর অ্যাডের টাকা দুটোই তখন ঝুলে আছে। এই লেখাটা সেই মেসেজ যেন কম আসে, আর এলে যেন লস ছাড়া সামলাতে পারেন, সেটা নিয়েই। অনলাইন ব্যবসার আইডিয়ার লেখায় কৃষির জিনিস এক লাইনে ছিল, এখানে শুধু জীবন্ত গাছ বেচার খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলব।
অনলাইনে গাছ বিক্রি করলে কোন গাছ চলে, কারা কেনেন
অনলাইনে যাঁরা গাছ কেনেন, তাঁদের বেশিরভাগ শহরের ফ্ল্যাটে থাকেন। কারও ছাদে ছোট বাগান আছে, কারও শুধু একটা বারান্দা। কেউ অফিসের ডেস্কে একটু সবুজ রাখতে চান, কেউ কাউকে উপহার পাঠান। প্রথম আলোর ২০২২ সালের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদন "গাছগাছালির ব্যবসা চলে ১২ মাস"-এ নার্সারির মালিকেরা বলেছেন, ফলের গাছে আমই ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ, তারপর লেবু, কামরাঙা, মাল্টা, পেয়ারার মতো গাছ। ফুলে গোলাপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একই প্রতিবেদনে আছে, সরকারি-বেসরকারি অনেক অফিস সাজানোর জন্য ফিলোডেনড্রন, এরিকা পাম, ড্রাসিনা, মানিপ্ল্যান্ট, অ্যাগলোনিমা আর পিস লিলি ভাড়া নেয়।
কুরিয়ারে পাঠানোর কথা মাথায় রাখলে গাছগুলো মোটামুটি চার দলে পড়ে। স্নেক প্ল্যান্ট, ZZ প্ল্যান্ট, মানিপ্ল্যান্ট, অ্যাগলোনিমার মতো শক্ত পাতার ইনডোর গাছ অন্ধকার বাক্সে এক-দুই দিন থাকলেও সহজে কাবু হয় না। আমার সোজা পরামর্শ, প্রথম মাসে শুধু এই শক্ত পাতার গাছ বেচুন, প্যাকিং হাতে বসার পর অন্য গাছে যান। ক্যাকটাস আর সাকুলেন্টও পথে কম মরে, কারণ এরা ছোট আর পানি কম চায়।
ছাদ বাগানের মানুষ সবচেয়ে বেশি খোঁজেন আম, লেবু, মাল্টা, পেয়ারার কলম, আর দামও এগুলোতেই বেশি ওঠে। ঝামেলা হলো, পথে কলমের জোড়া ভাঙলে গাছটা আর কাজের থাকে না। গোলাপ, জবা, বেলি, কাঠগোলাপের মতো ফুলের গাছে আবার পথে ফুল আর কুঁড়ি প্রায়ই ঝরে যায়। তাই ফুলসহ ছবি দিলে পোস্টেই লিখে দিন যে পথে ফুল ঝরতে পারে, গাছ ঠিক থাকবে। এই এক লাইন না লিখলে ফুলের গাছের অর্ডারে অভিযোগ আসবেই।
প্রথম মাসে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। পেজে গাছের নাম ধরে পোস্ট দেন, অথচ কাস্টমারের প্রশ্ন আসে জায়গা ধরে। "ভাই, আমার বারান্দায় রোদ আসে না, কোন গাছ টিকবে?" এই প্রশ্নটাই আপনার ক্যাটালগ ঠিক করে দেয়। "রোদ ছাড়া বারান্দার গাছ", "অফিস ডেস্কের গাছ", "ছাদের ফলের কলম" এভাবে সাজালে কাস্টমার নিজের জায়গার সাথে মিলিয়ে কেনেন, আর ভুল গাছ কিনে মেরে ফেলার দোষও আপনার ঘাড়ে কম আসে।
আকারটাও শুরুতেই ঠিক করে নিন। চার-পাঁচ ফুটের পাম কার্টনে আঁটে না। কুরিয়ারের জন্য ঠিক মাপ হলো এক থেকে দুই ফুটের গাছ, ছয় থেকে আট ইঞ্চির প্লাস্টিকের টবে। বড় গাছ বেচতে চাইলে শুধু নিজের শহরে, নিজের লোক দিয়ে পাঠান।
চারা কোথা থেকে আনবেন, নার্সারি, কলম আর নিজের বেড
ঢাকায় থাকলে নার্সারি হাতের কাছেই। প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে নার্সারির মালিকদের হিসাবে ঢাকা শহর আর আশপাশে প্রায় ৮০০ নার্সারি, বেশিরভাগ আগারগাঁও, তিন শ ফুট, দিয়াবাড়ী, দোয়েল চত্বর, বেইলি রোড, কাকরাইল আর বেড়িবাঁধ এলাকায়। সাভার, আশুলিয়া, রূপগঞ্জ আর গাজীপুরের দিকে আছে প্রায় ৫০০টা। সংখ্যাটা চার বছর আগের, আর ফুটপাতের নার্সারি মাঝে মাঝে উচ্ছেদও হয়, তাই যাওয়ার আগে খোঁজ নিয়ে যান। ঢাকার বাইরে থাকলে উপজেলা কৃষি অফিসে জিজ্ঞেস করলে কাছের ভালো নার্সারির নাম পাওয়া যায়।
নার্সারিতে গিয়ে আসল কাজ হলো ঠিক গাছটা বাছা। সারি করে রাখা সব গাছই সবুজ দেখায়, কিন্তু অনেক গাছ মাত্র দুই-তিন দিন আগে বেড থেকে তুলে টবে বসানো, শিকড় তখনও মাটি ধরেনি। এমন গাছ কুরিয়ারের ঝাঁকুনি সয় না। চেনার উপায় আপনার হাতেই। টবটা একটু কাত করে নিচের ছিদ্রে দেখুন, সাদা বা হালকা বাদামি শিকড় উঁকি দিচ্ছে কি না। তারপর গাছের গোড়া আলতো করে ধরে নাড়ুন। গাছ টবের সাথে শক্ত হয়ে থাকলে ভালো, আর মাটিসহ নড়ে উঠলে সেটা রেখে দিন।

এই কথাটা সরকারি কাগজেও আছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (dae.gov.bd) নার্সারী গাইডলাইনস, ২০০৮ রাখা আছে, যেটা ২০০৯ সালের ২৭ আগস্টের গেজেটে ছাপা। ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেটা খুলে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে লেখা, পরিবহনের জন্য জীবন্ত চারা মাটি, চট বা অন্য উপযুক্ত টবে তৈরি করতে হবে, আর বীজতলার ফলের চারা পরিবহনের দুই সপ্তাহ আগে টবে সরাতে হবে। মানে টবে অন্তত দুই সপ্তাহ বসা গাছই পাঠানোর মতো। নার্সারিকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, "এই টবে কত দিন হলো?"
কলম কিনলে জোড়ার জায়গাটা দেখুন। জোড়া শক্ত কি না, চারপাশ সমান মোটা কি না, আর ওপরের ডালে নতুন পাতা এসেছে কি না। একই গাইডলাইনে লেখা আছে, প্রতিটা চারা বা কলমে ট্যাগ থাকবে, তাতে নার্সারির নাম, ঠিকানা, জাত আর তারিখ লেখা থাকবে। দুর্বল, রোগা বা পোকা ধরা চারাকে সেখানে অনুপযুক্ত চারা বলা হয়েছে। ট্যাগ ছাড়া কলম কিনবেন না, আর ট্যাগটা কাস্টমার পর্যন্ত যেতে দিন। "এটা কি সত্যিই বারি মাল্টা?" প্রশ্নের সবচেয়ে ভালো উত্তর ওই ট্যাগ।
নিজে বেড করে চারা বানানোর কথা ভাবলে নিয়মটা জেনে নিন। ওই গাইডলাইনে বলা আছে, নতুন আর চালু সব নার্সারির রেজিস্ট্রেশন লাগবে। আবেদন যায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে, লাইসেন্স ফি ৫০০ টাকা চালানে, আর প্রতি পাঁচ বছরে রিনিউ। কাগজটা ২০০৮ সালের, ফি আর নিয়ম বদলে থাকতে পারে। শুধু কিনে বেচলে এই রেজিস্ট্রেশন আপনার বেলায় লাগে কি না, সেটাও উপজেলা কৃষি অফিসেই জিজ্ঞেস করুন, শেষ কথা ওদের।
কুরিয়ার কি গাছ নেয়, কোন শর্তে
অনেকে এই প্রশ্নটা করেন প্রথম পার্সেল ফেরত আসার পর। প্রতিটা কুরিয়ারের নিজের ওয়েবসাইটে কী লেখা, সেটা ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবরে দেখে নিচে দিলাম।
Pathao-র বাংলা হেল্প পেজে (পেজে সর্বশেষ আপডেট লেখা ২ ডিসেম্বর ২০২৪) যে জিনিস ওরা ডেলিভারি দেয় না তার লিস্ট আছে। সেই লিস্টে পরিষ্কার লেখা "উদ্ভিদ / জীবন্ত বীজ"। তাই Pathao-তে গাছের পার্সেল বুক করবেন না। ধরা পড়লে পার্সেল ফেরত আসবে, আর মাঝের দিনগুলোতে গাছটা বাক্সে শুকাবে।
Paperfly-র টার্মসে লেখা, মার্চেন্ট কোনো পচনশীল জিনিস দেবেন না, আর এক প্যাকেটের ওজন ৫ কেজির বেশি হবে না। পচনশীল জিনিসের পার্সেলে ক্ষতিপূরণও বিবেচনা করা হয় না। জীবন্ত গাছ ওদের চোখে পচনশীলের ঘরে পড়ে কি না, সেটা লেখা নেই। Steadfast-এর টার্মসে গাছ নিয়ে আলাদা কিছু পাইনি। সেখানে নষ্ট পার্সেলে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা দামের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত। RedX-এর ওয়েবসাইটে এ নিয়ে লেখা কোনো নিয়ম খুঁজে পাইনি।
তাই প্রথম গাছের পার্সেলের আগে যে কুরিয়ারে পাঠাতে চান, তার KAM বা সাপোর্টকে লিখে জিজ্ঞেস করুন। প্রশ্নটা এমন রাখুন, "টবে লাগানো জীবন্ত ইনডোর গাছ, কার্টনে খাড়া করে প্যাক করা, ওজন দেড় থেকে দুই কেজি। ঢাকার ভেতরে আর ঢাকার বাইরে পাঠাতে চাই। নেবেন? পথে গাছ নষ্ট হলে আপনাদের দায় কতটুকু?" উত্তর নিন ইমেইলে বা চ্যাটে, মুখের কথায় না। রাইডার আর হাবের লোক বদলায়, কিন্তু লেখাটা থেকে যায়।
হাবে পার্সেল বস্তায় ভরে ভ্যানে গাদা করে যায়, বাক্সের গায়ে "উপরে রাখুন" লেখা সবাই খেয়াল করেন না। তাই এমনভাবে প্যাক করবেন যেন বাক্স কাত হয়ে পড়ে থাকলেও মাটি না পড়ে, ডাল না ভাঙে। তবে গাছকে সবচেয়ে বেশি মারে "Hold"। কাস্টমার অফিসে আছেন, রাইডারকে বললেন কাল দিতে, আর প্যানেলে পার্সেলটা দুই দিন ঝুলে থাকল। এজন্য অর্ডার কনফার্মের ফোনেই বলে দিন, "আপা, এটা জীবন্ত গাছ। যেদিন রাইডার ফোন দেবে, সেদিনই একটু কষ্ট করে রিসিভ করবেন।"

WinningSeller থেকে Steadfast, Pathao, RedX, Paperfly, Carrybee আর eCourier, এই ছয় কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল বুক করা যায়, স্ট্যাটাসও নিজে থেকে আপডেট হয়। কিন্তু কোন কুরিয়ার গাছ নেবে, সেটা কুরিয়ারের নিয়ম, WinningSeller সেটা ঠিক করে দেয় না। গাছের অর্ডারে কুরিয়ারটা নিজে দেখে সিলেক্ট করবেন।
একটা চারা প্যাক করার ধাপ, মাটি না ঝরে, ডাল না ভাঙে
প্যাকিংয়ের কাজ আসলে দুটো। মাটি যেন টবেই থাকে, আর বাক্স যতই কাত হোক, গাছটা যেন নিজের জায়গা থেকে না নড়ে। একটা ছয় ইঞ্চির টবের গাছ ধরে ধাপগুলো এরকম।
- আগের দিন পানি দিন, পাঠানোর দিন না। পাঠানোর সময় আঙুল দিয়ে মাটি টিপে দেখুন, ভেজা ভেজা থাকবে, কাদা না। কাদা মাটি বাক্সে ঘেমে শিকড় পচায়, আর কার্টন ভিজে নরম হয়ে যায়।
- প্রতিটা গাছের ছবি তুলুন। টবসহ দুই দিক থেকে, পাশে অর্ডার নম্বর লেখা একটা কাগজ রেখে। পরে "মরা গাছ পাঠিয়েছেন" অভিযোগ এলে এই ছবিই আপনার প্রমাণ।
- মাটি আটকান। টবের মুখে গাছের গোড়ার চারপাশ দিয়ে ক্লিং ফিল্ম দুই-তিন প্যাঁচ দিন, তারপর পুরো টবটাও মুড়ে দিন। ক্লিং ফিল্ম না থাকলে একটা পলি গোড়ার কাছে রাবার দিয়ে আলগা করে বাঁধুন। টব আলতো করে উল্টে দেখুন, মাটি পড়ছে না তো।
- বাঁশের কাঠি দিন। গাছের পাশে মাটিতে একটা সরু কাঠি গেঁথে কাণ্ডের সাথে দুই জায়গায় আলগা করে বাঁধুন। কলম হলে জোড়ার ওপরে বাঁধুন, যাতে ঝাঁকুনির চাপ জোড়ায় না পড়ে।
- পাতায় কাগজের হাতা পরান, বন্ধ পলি না। খবরের কাগজ বা বাদামি কাগজ চোঙার মতো করে পাতার চারপাশে মুড়ে টেপ দিন। বন্ধ পলিতে পাতা ঘামে, এক দিনেই পাতায় পচন ধরতে পারে।
- কার্টনে খাড়া করে বসান। গাছের চেয়ে একটু উঁচু কার্টন নিন। টবের চারপাশ দলা করা কাগজ বা ভাঁজ করা কার্ডবোর্ড দিয়ে শক্ত করে আটকান, যাতে টব একচুলও না সরে। কার্টনের দুই পাশে কয়েকটা ছোট ছিদ্র করুন, বাতাসের জন্য।
- বাইরে লিখুন আর ঝাঁকিয়ে দেখুন। চার পাশে তীর চিহ্ন দিয়ে "এই দিক উপরে, জীবন্ত গাছ" লিখুন, সাথে অর্ডার নম্বর আর কাস্টমারের ফোন নম্বর। তারপর বাক্সটা আলতো করে কাত করুন। ভেতরে কিছু গড়ানোর শব্দ হলে খুলে আবার আটকান।

সিরামিক বা মাটির সুন্দর টবে গাছ বসিয়ে পাঠাবেন না। টব ভাঙলে মাটি ছড়ায়, ভাঙা টুকরো পাতাও কাটে। Steadfast-এর টার্মসেই লেখা, ভাঙার মতো জিনিসের ড্যামেজে ওরা টাকা দেয় না, আর উদাহরণের লিস্টে সিরামিকও আছে। তাই গাছ যাক প্লাস্টিকের নার্সারি টবে, আর সুন্দর টব আলাদা প্রোডাক্ট হিসেবে আলাদা মোড়কে। ভাঙা যায় এমন জিনিস কীভাবে মুড়বেন, সেটা কুরিয়ারের প্যাকেজিংয়ের লেখায় বিস্তারিত আছে।
শেষে বাক্সটা ওজন করুন। মাটি ভারী, ছয় ইঞ্চির টবে মাটিসহ গাছ প্রায়ই এক কেজি ছাড়িয়ে যায়। কুরিয়ার ওজন ধরে চার্জ কাটে, তাই প্রথম কয়েকটা পার্সেলের আসল ওজন খাতায় লিখে রাখুন। দামের হিসাবে এটা লাগবে।
কোন মাসে বেচা সহজ, কোন মাসে ঝুঁকি
গাছ বারো মাস বিক্রি হয়, তবে সব মাসে পাঠানো সমান সহজ না। বর্ষার শুরুতে, মোটামুটি আষাঢ়-শ্রাবণে, মানুষ ফলের গাছ লাগাতে চান, তাই কলমের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এই সময়েই বৃষ্টিতে কার্টন ভেজে, পার্সেল এক-দুই দিন বেশি ঘোরে। তাই কার্টনের বাইরে একটা পলি মুড়ে দিন।
চৈত্র-বৈশাখের তীব্র গরমে উল্টো সমস্যা। বন্ধ ভ্যানে বা হাবের টিনের চালের নিচে বাক্সের ভেতরটা গরম হয়ে ওঠে, নরম পাতার গাছ এক দিনেই নেতিয়ে পড়ে। এই সময়ে ঢাকার বাইরে শুধু শক্ত পাতার গাছ আর ক্যাকটাস পাঠান। শীতে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকার মতো শীতের ফুলের চারা চলে। এগুলো কচি, তাই কাঠি আর কাগজের হাতা আরও যত্ন করে দিন।
টব, মাটি আর সার জুড়ে দাম (উদাহরণ)
নার্সারির ১৮০ টাকার গাছ অনলাইনে ৩০০ টাকায় বেচলেই লাভ, এটা ভাবলে মাস শেষে টাকা মেলে না। টব, প্যাকিং, অ্যাড আর মরা গাছ বদলে দেওয়ার খরচ সব দামে ধরতে হয়। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের কেনা দাম আর কুরিয়ারের রেট বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন আপনি একটা স্নেক প্ল্যান্ট বেচবেন দুইভাবে। একটা শুধু টবসহ গাছ। আরেকটা কম্বো, যেখানে সাথে যাবে এক কেজি পটিং মিক্স আর আধা কেজি ভার্মিকম্পোস্ট, যাতে কাস্টমার পরে বড় টবে বদলাতে পারেন। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন, তবে কম্বোর বাড়তি ওজনের চার্জ আপনি নিজে রাখছেন।
| খরচের খাত | শুধু গাছ (টবসহ) | কম্বো (গাছ, টব, মাটি, সার) |
|---|---|---|
| নার্সারি থেকে গাছ | ১৮০ | ১৮০ |
| প্লাস্টিকের টব | ৪০ | ৪০ |
| পটিং মিক্স আর ভার্মিকম্পোস্ট | ০ | ৭০ |
| প্যাকিং (কার্টন, ফিল্ম, কাঠি, কাগজ, টেপ) | ৪০ | ৪৫ |
| যত্নের কার্ড | ৫ | ৫ |
| বাড়তি ওজনের চার্জ (আপনি দেন) | ০ | ২০ |
| প্রতি অর্ডারে অ্যাড খরচ | ১২০ | ১২০ |
| মরা গাছ বদলানোর রিজার্ভ | ৪০ | ৪০ |
| মোট খরচ | ৪২৫ | ৫২০ |
| বিক্রির দাম | ৫৫০ | ৬৯০ |
| এক অর্ডারে লাভ | ১২৫ | ১৭০ |

এবার রিজার্ভের লাইনটা দেখুন, এটাই গাছের ব্যবসার আসল হিসাব। দশটা শুধু-গাছ অর্ডারে লাভ ১০ × ১২৫ = ১,২৫০ টাকা, আর রিজার্ভে জমল ১০ × ৪০ = ৪০০ টাকা। একটা গাছ বদলে দিতে খরচ নতুন গাছ ১৮০, টব ৪০, প্যাকিং ৪০, কার্ড ৫, আর এবারের কুরিয়ার চার্জ ধরুন ৮০ টাকা, যেটা আপনাকেই দিতে হয়। মোট ৩৪৫ টাকা। দশটার মধ্যে একটা মরলে রিজার্ভ থেকেই চলে যায়, ৫৫ টাকা বেঁচেও থাকে। তাহলে দশ অর্ডারে হাতে থাকে ১,২৫০ + ৫৫ = ১,৩০৫ টাকা। দুটো মরলে দ্বিতীয়টার ৩৪৫ টাকা যায় লাভ থেকে, থাকে ১,৩০৫ − ৩৪৫ = ৯৬০ টাকা। তিনটা মরলে ৯৬০ − ৩৪৫ = ৬১৫ টাকা।
একটাও না মরলে রিজার্ভের পুরো ৪০০ টাকা লাভে যোগ হয়, থাকে ১,৬৫০। মানে প্যাকিংয়ের ভুলে তিনটা গাছ মরলেই দশ অর্ডারের লাভের অর্ধেকের বেশি চলে যায়। আমার অভিজ্ঞতায় গাছের ব্যবসার লাভ-লোকসান দামের টেবিলে ঠিক হয় না, ঠিক হয় প্যাকিং টেবিলে। আর কম্বোতে প্রতি অর্ডারে ৪৫ টাকা বেশি থাকে, অ্যাডের খরচ একই।
একটা প্রশ্ন আসবেই, "ভাই, আগারগাঁওয়ে তো এটা ২০০ টাকা।" ঠিক কথা, যদি কেউ রিকশা ভাড়া দিয়ে অর্ধেক দিন খরচ করে নিজে গিয়ে আনেন। আপনি তো বাছাই করা গাছটা দরজায় পৌঁছে দিচ্ছেন, আর পরে কোনো সমস্যা হলে ফোন ধরার মানুষও আপনি। এই কথাটা শান্ত গলায় বলুন, দাম না কমিয়ে।
WinningSeller-এর অর্ডার ফর্মে একটা প্রোডাক্টের আলাদা আলাদা ভ্যারিয়েন্ট প্যাকেজ কার্ড হিসেবে পাশাপাশি দেখানো যায়। "শুধু গাছ" আর "গাছ, টব, মাটি, সার" দুটো কার্ড, প্রতিটায় নিজের ছবি আর দাম থাকে, কাস্টমার একটায় চাপ দিয়ে অর্ডার করেন। ফোনে বা ইনবক্সে কোন প্যাকেজ বলেছিলেন, সেই তর্ক আর থাকে না।
গাছ মরে গেলে কী বলবেন, কী বদলে দেবেন
ভালো প্যাক করলেও মাঝে মাঝে গাছ খারাপ অবস্থায় পৌঁছাবে, তাই নিয়মটা অর্ডারের আগেই পেজে আর অর্ডার ফর্মের পাশে লিখে রাখুন। যেমন, "পার্সেল খোলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছের ছবি বা ভিডিও পাঠালে আমরা গাছ বদলে দেব, অথবা গাছের দাম ফেরত দেব।" যা লিখবেন, পরে ঠিক সেটাই করবেন।
ছবি এলে প্রথমে দেখুন গাছটা আসলে মরেছে, নাকি শুধু পথের ধকল। দুই-একটা পাতা হলুদ হওয়া বা পাতা একটু ঝুলে পড়া অন্ধকার বাক্সে এক-দুই দিন থাকার স্বাভাবিক ফল। ছায়ায় রেখে পরিমাণমতো পানি দিলে বেশিরভাগ গাছ কয়েক দিনে সামলে ওঠে। কিন্তু গোড়ার কাণ্ড নরম বা কালো হয়ে গেলে, মূল ডাল ভাঙলে, কলমের জোড়া খুলে গেলে বা মাটি থেকে পচা গন্ধ এলে বুঝবেন গাছটা আর ফিরবে না।

পথের ধকল হলে কাস্টমারকে বলুন, "ভাই, ছবিটা দেখলাম। পাতা হলুদ হয়েছে পথে অন্ধকারে থাকার জন্য, এটা গাছ মরে যাওয়া না। এখন রোদে দেবেন না, ঘরের আলোতে রাখুন, মাটি শুকালে একটু পানি দেবেন। সাত দিন পর আমি নিজে ফোন দিয়ে খোঁজ নেব। তখনও ভালো না হলে বদলে দেব।" আর সত্যিই সাত দিন পর ফোন দিন। এই একটা ফোন অনেক কাস্টমারকে রাগ থেকে বিশ্বাসে নিয়ে আসে।
গাছ সত্যিই মরলে তর্ক করবেন না। পরের কোনো ডেলিভারির সাথে নতুন গাছ দিন, অথবা গাছের দাম ফেরত দিন, কোনটা চান সেটা কাস্টমারকেই জিজ্ঞেস করুন। মরা গাছ ফেরত পাঠাতে বলবেন না, ফেরতের চার্জ গাছের দামের কাছাকাছি চলে যায়। পথে ভেঙেছে মনে হলে প্যাকিংয়ের ছবিসহ কুরিয়ারের কাছে অভিযোগ দিন।
দরজা থেকে ফেরতও আলাদা করে ভাবুন। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কেউ পার্সেল না নিলে গাছ আরও কয়েক দিন ঘুরে ফেরত আসে, তখন সেটা প্রায়ই আর বেচার মতো থাকে না। এজন্য ঢাকার বাইরে বা নতুন নম্বরে গাছের অর্ডারে অন্তত ডেলিভারি চার্জটা bKash-এ আগে নিয়ে নিন। যিনি সত্যিই গাছ চান, তিনি সাধারণত এতে আপত্তি করেন না। পাঠানোর আগে নম্বরটা কুরিয়ারের রেকর্ডে একবার দেখে নিন, আগে কয়টা পার্সেল নিয়েছেন আর কয়টা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
যত্নের কার্ড আর রিপিট কাস্টমার
কাস্টমারের হাতে গিয়ে গাছ বেশিরভাগ সময় মরে চেনা কয়েকটা ভুলে। প্রথম দিনেই কড়া রোদে রেখে দেন, রোজ পানি ঢালেন, নয়তো এসেই বড় টবে বদলে ফেলেন। একটা ছোট যত্নের কার্ড এই ভুলগুলো আটকায়। ভিজিটিং কার্ডের মাপে ছাপিয়ে প্রতিটা বাক্সে দিন।
কার্ডের ওপরে গাছের নাম লিখুন, কলম হলে জাতের নামও। তার নিচে আলোর কথা, "জানালার পাশে রাখুন, সরাসরি রোদে না", আর পানির নিয়ম, "মাটি টিপে শুকনো লাগলে তবেই পানি দিন"। প্রথম সাত দিনের জন্য লিখুন, "এক সপ্তাহ টব বদলাবেন না, সার দেবেন না"। একদম নিচে দোকানের নাম আর ফোন নম্বর দিন। যত্নের খুঁটিনাটি জাত ধরে নার্সারির মালির কাছ থেকে জেনে নিন।

ডেলিভারির সাত দিন পর একটা ফোন দিন। "ভাই, গাছটা কেমন আছে? নতুন পাতা এসেছে?" ভালো বললে জিজ্ঞেস করুন গাছটা কোথায় রেখেছেন, এই উত্তর থেকেই পরের বিক্রি আসে। বারান্দার এক কোণে গাছ পেয়ে খুশি মানুষ প্রায়ই অন্য কোণের জন্য আরেকটা চান। মাস দুয়েক পর সার আর বড় টবও লাগে। কাকে কবে ফোন দেবেন আর ফোনে কী বলবেন, সেটা পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় কল স্ক্রিপ্টসহ আছে।
কাস্টমার বাড়তে থাকলে এই ফোনগুলো খাতায় না রেখে সিস্টেমে চালান। WinningSeller-এর ফলোআপ কল সিস্টেম এই কাজটাই করে। পার্সেল ডেলিভারি হওয়ার পর কাস্টমার নিজে থেকেই কলের লিস্টে চলে আসেন। কত দিন পর আসবেন সেটা আপনি ঠিক করেন, শুরুতে ৭ দিন দেওয়া থাকে, যা গাছের "কেমন আছে" ফোনের জন্য ঠিক মাপ। ল্যান্ডিং পেজে একটা YouTube ভিডিও বসিয়ে দেখাতে পারেন বাক্স খুলে গাছ কীভাবে বের করবেন আর প্রথম পানি কখন দেবেন। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।
কখন গাছের ব্যবসা শুরু করবেন না
বাসায় আলো-বাতাস আছে এমন ছায়ার জায়গা না থাকলে, আর রোজ পানি দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে শুরু করবেন না। এক সপ্তাহ বাইরে গেলেই স্টকের অর্ধেক গাছ শুকিয়ে যেতে পারে। কাপড়ের স্টক অপেক্ষা করে, গাছের স্টক করে না।
আপনার কাস্টমার বেশিরভাগ দূরের জেলায়, যেখানে পার্সেল পৌঁছাতে তিন-চার দিন লাগে, আর হাতে গাছ নেয় এমন কোনো কুরিয়ার নেই, তাহলেও থামুন। তখন নিজের শহরে নিজের লোক দিয়ে শুরু করুন। শুরুতে দামি বিদেশি গাছেও হাত দেবেন না, একটা মরলেই এক সপ্তাহের লাভ চলে যেতে পারে। আর নিজে বিদেশ থেকে চারা আনার কথা ভাববেন না। ওই নার্সারী গাইডলাইনসেই লেখা আছে, চারা আমদানিতে প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন আইন মানতে হবে, আর মাটিতে জন্মানো বা শিকড়ে মাটি লাগা চারা-কলম আমদানি পুরোপুরি নিষেধ।
না বিকানো গাছের ঝুঁকিটাও হিসাব করুন। তিন মাস পড়ে থাকা গাছ টবের চেয়ে বড় হয়ে যায়, পাতা পুরনো দেখায়। তাই বেশি স্টক না করে শুরুতে আগে অর্ডার নিন, পরদিন সকালে নার্সারি থেকে বাছাই করে কিনে আনুন। মাস দুয়েকে বোঝা যাবে কোন গাছ বারবার চলে, তখন শুধু সেগুলো স্টকে রাখুন।
আজই করে ফেলুন
- যে কুরিয়ারে পাঠাতে চান, তার KAM বা সাপোর্টকে ওপরের মেসেজটা পাঠান। গাছ নেয় কি না আর নষ্ট হলে দায় কতটুকু, উত্তরটা লিখিত চান।
- কাছের নার্সারিতে গিয়ে শক্ত পাতার তিনটা গাছ কিনুন। প্রতিটার টব কাত করে শিকড় দেখে, গোড়া নাড়িয়ে তবেই নিন।
- একটা গাছ ওপরের সাত ধাপে প্যাক করে অন্য এলাকায় কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর ঠিকানায় পাঠান। পৌঁছালে খোলার আগে আর পরে ছবি চেয়ে নিন।
- ফোনের নোটে তিনটা গাছের যত্নের কার্ড লিখে ফেলুন, আলো, পানি আর প্রথম সাত দিনের নিয়মসহ।
- মরা গাছ নিয়ে আপনার নিয়মটা দুই লাইনে লিখে পেজে পিন করুন।
- একটা শিট খুলুন, কলামে রাখুন গাছের নাম, কেনা দাম, টবের দাম, কেনার তারিখ আর পাঠানো পার্সেলের ওজন।
সাধারণ প্রশ্ন
কুরিয়ারে কি গাছ পাঠানো যায়?
যায়, তবে সব কুরিয়ারে না। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Pathao-র বাংলা হেল্প পেজে যে জিনিস ওরা ডেলিভারি দেয় না তার লিস্টে "উদ্ভিদ / জীবন্ত বীজ" লেখা আছে। অন্য কুরিয়ারের ওয়েবসাইটে গাছ নিয়ে পরিষ্কার কিছু লেখা নেই, তাই যে কুরিয়ারে পাঠাবেন তার KAM বা সাপোর্টের কাছ থেকে লিখিত হ্যাঁ নিয়ে নিন।
অনলাইনে গাছ বিক্রি করতে কি কোনো রেজিস্ট্রেশন লাগে?
নিজে চারা বানিয়ে বেচলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নার্সারী গাইডলাইনস, ২০০৮ অনুযায়ী নার্সারির রেজিস্ট্রেশন লাগে, আবেদন যায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে। শুধু নার্সারি থেকে কিনে অনলাইনে বেচলে এটা আপনার বেলায় খাটে কি না, সেটা উপজেলা কৃষি অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন। দোকান হিসেবে ট্রেড লাইসেন্সের নিয়ম আলাদা।
অনলাইনে শুরু করতে কোন গাছ সবচেয়ে ভালো?
শক্ত পাতার ইনডোর গাছ, যেমন স্নেক প্ল্যান্ট, মানিপ্ল্যান্ট, অ্যাগলোনিমা বা ZZ প্ল্যান্ট। এগুলো ছোট টবে আসে, অন্ধকার বাক্সে দুই-এক দিন সহজে সয়, আর ফ্ল্যাটের মানুষ এগুলোই বেশি খোঁজেন। ফলের কলম আর ফুলের চারা আনুন প্যাকিং হাতে বসে যাওয়ার পর।
কুরিয়ারে গাছ মরে গেলে কি টাকা ফেরত দিতে হবে?
নিয়মটা আপনিই ঠিক করবেন, তবে অর্ডারের আগেই পেজে আর অর্ডার ফর্মের পাশে লিখে রাখুন। বেশিরভাগ সেলার পার্সেল খোলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি বা ভিডিও চান, তারপর গাছ বদলে দেন বা গাছের দাম ফেরত দেন। মরা গাছ ফেরত পাঠাতে বলবেন না, তাতে শুধু কুরিয়ারের চার্জ যায়।
চারা আর কলমের গাছের পার্থক্য কী?
চারা হয় বীজ থেকে, তাই বড় হয়ে মায়ের মতো ফল দেবে কি না বলা যায় না, ফলও আসে দেরিতে। কলম হয় ভালো জাতের গাছের ডাল জুড়ে, তাই জাত ঠিক থাকে আর ফল আসে আগে। কোনটা বেচছেন সেটা প্রোডাক্টের নামেই লিখুন, নইলে পরে ঝগড়া হবে।
গাছ পাঠানোর আগে কখন পানি দেব?
পাঠানোর আগের দিন, পাঠানোর দিন না। পাঠানোর সময় মাটি ভেজা ভেজা থাকবে, কাদা না। কাদা মাটি বাক্সের ভেতর ঘেমে শিকড় পচায়, আর কার্টন ভিজে নরম হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


