মাছ কুরিয়ার করার নিয়ম, কোন কুরিয়ার নেয় আর পথে যেন গলে-পচে না যায়
মাছ, মাংস, দই বা মিষ্টি কুরিয়ারে পাঠাতে চাইলে আগে জানুন কোন কুরিয়ার নেয় আর কোনটা লিখে মানা করেছে, ককশিট বক্সে জেল প্যাক দিয়ে কীভাবে প্যাক করবেন, কোন রুটে কত ঘণ্টায় পৌঁছাতে হবে, আর নষ্ট পৌঁছালে কী করবেন। এক কেজি মাছের পুরো খরচের হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- কোন খাবার কুরিয়ারে যায়, কোনটা না
- কোন কুরিয়ার মাছ-মাংস নেয়, কোন শর্তে
- মাছ কুরিয়ার করার নিয়ম, ককশিট বক্স আর বরফে প্যাকিং ধাপে ধাপে
- দই আর মিষ্টি, মাটির পাত্র না ভেঙে, রস না ছড়িয়ে
- কত ঘণ্টা ঠিক থাকে, কোন রুটে পাঠাবেন
- এক কেজি মাছ পাঠাতে খরচ কত (উদাহরণ)
- নষ্ট পৌঁছালে কাস্টমার কী বলবেন, আপনি কী করবেন
- কখন কুরিয়ারে পাঠাবেন না, নিজের শহরেই বেচবেন
মাছ কুরিয়ার করার নিয়ম আসলে চারটা কাজের নাম। সব কুরিয়ার মাছ নেয় না, Pathao আর Paperfly তো নিজেদের পেজেই মানা করে রেখেছে। তাই প্রথমে এমন কুরিয়ার খুঁজবেন যে পচনশীল খাবার নেয়, আর তার কাছ থেকে লিখিত হ্যাঁ নেবেন। মাছ আগের রাতে চ্যাপ্টা করে শক্ত জমিয়ে ককশিট বক্সে জমানো জেল প্যাকের মাঝে বসাবেন, খোলা বরফ দেবেন না। বক্সের ঢাকনা তিন দিক থেকে টেপ করে দুই পাশে "পচনশীল, উপরে রাখুন" লিখবেন। আর কুরিয়ারের কাট-অফের আগে হাতে দেবেন, যাতে পার্সেল কোনো হাবে রাত না কাটায়। দই আর মিষ্টিতে নিয়মটা একই, শুধু প্যাকিংটা আলাদা।
ধরুন রাত দশটায় পেজে মেসেজ এলো, "ভাই, আপনার পাবদা চট্টগ্রামে পাঠাবেন? দুই কেজি নেব।" শুনে খুশি লাগে, কিন্তু সাথে সাথে মাথায় প্রশ্নগুলো ঘুরতে থাকে। কুরিয়ার কি মাছ নেবে? পথে গলে গেলে কী হবে? কাস্টমার যদি বলেন গন্ধ, তখন টাকা কে দেবে? কাপড়ের পার্সেল দেরি হলে কাস্টমার রাগ করেন, কিন্তু মাছ দেরি হলে পুরো জিনিসটাই ফেলে দিতে হয়।
কোন খাবার কুরিয়ারে যায়, কোনটা না
সব খাবার এক রকম না। শুটকি, মধু, ঘি, আচার বা মসলা ঘরের তাপমাত্রায় দিনের পর দিন থাকে, এগুলোর ঝামেলা ভাঙা আর লিক হওয়া। কাচের বোতল, মধু আর তেলের প্যাকিং প্যাকেজিংয়ের লেখায় বিস্তারিত আছে। এই লেখা সেই খাবারগুলো নিয়ে, যেগুলো ঠান্ডা না রাখলে কয়েক ঘণ্টায় নষ্ট হতে শুরু করে।
এই দলে পড়ে কাঁচা মাছ, মাংস আর চিংড়ি। দই পড়ে, কারণ গরমে দই টক হয়ে যায় আর পানি ছাড়ে। ছানার মিষ্টি আর সন্দেশ গরমে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। রসগোল্লা বা চমচমে নষ্ট হওয়ার সাথে রস ছড়ানোর ঝামেলাও আছে। টিনের কৌটায় সিল করা রসগোল্লার লেবেলে মেয়াদ লেখা থাকে, সেটা অনেক নিরাপদ।
প্রথম দিকে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। দইকে মধুর মতো ধরে নেন, আর সাধারণ পার্সেলের মতো পাঠিয়ে দেন। তাই নতুন কোনো খাবার বেচার আগে যে দোকান বা আড়ত থেকে কিনছেন, তাঁদের সোজা জিজ্ঞেস করুন, "ফ্রিজ ছাড়া এটা কত ঘণ্টা ঠিক থাকে?" উত্তরটা খাতায় লিখে রাখুন। আর অনলাইনে খাবার বেচতে কোন কাগজ লাগে, সেটা ফুড লাইসেন্সের লেখায় পাবেন।
ইলিশ বেচলে আরেকটা জিনিস মাথায় রাখুন। দৈনিক ইত্তেফাকে ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ খবর এসেছে, মা ইলিশ রক্ষায় এবার ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, আর এই সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত আর বেচাকেনাও নিষেধ। মানে আজ, ৮ অক্টোবর থেকেই ইলিশের অর্ডার নেবেন না, প্রি-অর্ডারও না। তারিখটা প্রতি বছর বদলায়, তাই মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (fisheries.gov.bd) প্রতি বছরের ঘোষণাটা দেখে নিন।
কোন কুরিয়ার মাছ-মাংস নেয়, কোন শর্তে
অনেকে কুরিয়ারকে জিজ্ঞেসই করেন না, ভুলটা শুরু হয় এখানেই। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবরে প্রতিটার নিজের ওয়েবসাইটে যা লেখা ছিল, সেটা এরকম।
Pathao-র বাংলা হেল্প পেজে (শেষ আপডেট ২ ডিসেম্বর ২০২৪) যে জিনিসগুলো ওরা ডেলিভারি দেয় না তার লিস্ট আছে। সেখানে লেখা, পচনশীল খাবার আর যে খাবার বা পানীয় ফ্রিজে বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় রাখতে হয়, সেগুলো ওরা নেয় না। একই লিস্টে ড্রাই আইসও নিষেধ। মানে কাঁচা মাছ, মাংস আর দই Pathao-তে পাঠানোর রাস্তা নেই।
Paperfly-র টার্মসে আরও সোজা করে লেখা, মার্চেন্ট কোনো পচনশীল জিনিস দেবেন না, আর ৫ কেজির বেশি ওজনের কোনো প্যাকেটও না। একই টার্মসে আছে, পচনশীল জিনিসের পার্সেলে কোনো ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করা হবে না।
Steadfast-এর টার্মসে পচনশীল খাবার নিয়ে আলাদা করে কিছু লেখা নেই, নেয় বলেও না, নেয় না বলেও না। ভাঙা যায় এমন আর তরল জিনিসের ক্ষতির টাকা ওরা দেয় না, লিস্টে মধু আর তেলের নাম আছে। অন্য জিনিস নষ্ট হলে ঘোষণা করা দামের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত। RedX-এর ওয়েবসাইটে এ নিয়ে লেখা কোনো নিয়ম চোখে পড়ে না, ওদেরও লিখে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে।
তাহলে কী করবেন? যে কুরিয়ারে পাঠাতে চান, তার KAM বা সাপোর্টকে লিখে জিজ্ঞেস করুন। প্রশ্নটা এমন রাখুন, "জমানো মাছ ককশিট বক্সে জেল প্যাক দিয়ে প্যাক করা, ঢাকার ভেতরে আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পাঠাতে চাই। নেবেন? নষ্ট হলে আপনাদের দায় কতটুকু?" উত্তরটা ইমেইল বা চ্যাটে নিন, মুখের কথায় না। রাইডার বদলায়, হাবের লোক বদলায়, কিন্তু লেখা থেকে যায়।
পার্সেলে "মাছ" না লিখে "গিফট আইটেম" লিখে দেওয়ার লোভ অনেকের হয়। এখানে আমার কথা পরিষ্কার, এটা কখনো করবেন না। নষ্ট হলে ভুল ঘোষণার কারণে কোনো দাবি টিকবে না, আর পানি চুঁইয়ে অন্যের পার্সেল ভিজলে সেই দায়ও আপনার ঘাড়ে আসবে।
জেলা শহরে অফিস-বুকিংয়ের কুরিয়ারে পাঠালে খাবার নেবে কি না আর কোন শর্তে, সেটা শাখায় আগে জিজ্ঞেস করে নিন। আর নিজের শহরের ভেতরে হলে নিজের লোক দিয়ে দেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ, সেই হিসাব নিজের ডেলিভারি ম্যানের লেখায় আছে।
মাছ কুরিয়ার করার নিয়ম, ককশিট বক্স আর বরফে প্যাকিং ধাপে ধাপে
ভালো প্যাকিংয়ের কাজ একটাই, মাছ যেন ঠান্ডা অবস্থায় রওনা দেয় আর ঠান্ডা অবস্থায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা USDA FSIS-এর "Mail Order Food Safety" পেজেও লেখা, মাছ-মাংসের মতো পচনশীল জিনিস পাঠাতে হবে ঠান্ডা বা জমানো অবস্থায়, সাথে ঠান্ডা রাখার কিছু দিয়ে, ফোম বা শক্ত কার্টনের বক্সে। বাজারে যেটাকে ককশিট বক্স বলে, সেটাই ওই ফোমের বক্স।

কাজটা এই সিরিয়ালে করুন।
- আগের রাতেই মাছ জমিয়ে ফেলুন, চ্যাপ্টা করে। মাছ কেটে ধুয়ে কাপড় বা টিস্যু দিয়ে পানি মুছে নিন, তারপর পলিতে ভরে হাত দিয়ে চেপে চ্যাপ্টা করে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। গোল দলা করে জমালে মাঝখানটা দেরিতে জমে আর বক্সে ফাঁক থাকে, চ্যাপ্টা প্যাকেট সারারাতে পুরো শক্ত হয়ে যায়।
- জেল প্যাকগুলোও একই রাতে ফ্রিজে দিন। সকালে হাতে নিয়ে টিপে দেখুন, পাথরের মতো শক্ত হয়েছে কি না। নরম জেল প্যাক দেওয়া আর না দেওয়া প্রায় সমান কথা। জেল প্যাক না পেলে মোটা পলিতে পানি ভরে মুখ শক্ত করে বেঁধে জমিয়ে নিন, কিন্তু খোলা বরফ দেবেন না।
- মাছের প্যাকেটটা আরেকটা পলিতে ভরে মুখে গিঁট দিন বা টেপ করুন। পথে গলতে শুরু করলেও পানিটা যেন বক্সে না আসে।
- এবার বক্সে স্তর করে সাজান। নিচে জেল প্যাক, তার ওপর এক ভাঁজ খবরের কাগজ, তারপর মাছ, ওপরে আবার জেল প্যাক। খালি জায়গাগুলো কাগজ মুচড়ে ভরে দিন, কারণ বক্সের ভেতরের ফাঁকা বাতাসই সবার আগে গরম হয়।
- ঢাকনাটা তিন দিক থেকে টেপ করুন। লম্বায় একবার, চওড়ায় একবার, আর ঢাকনার চারপাশ ঘুরিয়ে একবার। ককশিট সহজে ফাটে, তাই বক্সটা একটা পাতলা কার্টনে বা মোটা পলিতে মুড়ে দিন, কোনা কম ভাঙবে।
- বক্সের দুই পাশে বড় করে লিখে দিন "পচনশীল, উপরে রাখুন", সাথে অর্ডার নম্বর আর কাস্টমারের ফোন নম্বর। হাবে পার্সেল গাদা করে রাখা হয়, লেখাটা চোখে পড়লে কেউ কেউ অন্তত ভারী বস্তার নিচে রাখেন না।

খোলা বরফের ভুলে অনেক পার্সেল পিকআপেই আটকে যায়। বরফ গলা পানি ককশিটের জোড়া দিয়ে বের হয়ে বাইরের কার্টন ভিজিয়ে দেয়, আর রাইডার ভেজা বক্স হাতে নিয়েই অনেক সময় ফিরিয়ে দেন, কারণ হাবে ওই পানি অন্যের পার্সেলও ভেজাবে। ড্রাই আইসও দেবেন না, হাতে লাগলে চামড়া পোড়ে, আর Pathao-র নিষিদ্ধ লিস্টে ওটার নাম আলাদা করে আছে।
প্যাক করার সময় ফোনে একটা ভিডিও করুন, শুরুতে অর্ডার নম্বরটা জোরে বলে, টেপ লাগানো পর্যন্ত এক টানে। Steadfast-এর টার্মসেও লেখা আছে, সব পার্সেলের প্যাকিং CCTV-র সামনে করতে হবে। পরে কাস্টমার বা কুরিয়ারের সাথে কথা উঠলে এই ভিডিওটাই আপনার প্রমাণ।
দই আর মিষ্টি, মাটির পাত্র না ভেঙে, রস না ছড়িয়ে
দইয়ের ঝামেলা দুটো, গরম আর ধাক্কা। মাটির পাত্র দেখতে শক্ত, কিন্তু হাবে এক পার্সেলের ওপর আরেকটা ছুড়ে রাখলে কানা ফেটে যায়। আর পাত্র কাত হলেই ঢাকনার ফাঁক দিয়ে পানি বের হয়।
প্রথমে পাত্রের মুখে একটা পরিষ্কার খাবারের পলি টান টান করে বসিয়ে রাবার বা সুতা দিয়ে বাঁধুন, তারপর মাটির ঢাকনা বসিয়ে চারপাশে টেপ দিন। এরপর প্রতিটা পাত্র আলাদা একটা পলিতে ভরুন, যাতে একটা ফাটলেও অন্যগুলো না ভেজে। কার্টনের তলায় মোচড়ানো কাগজ বা ককশিটের টুকরো দিন, পাত্রগুলো খাড়া করে বসান, মাঝের ফাঁক ভরে দিন যেন ঝাঁকালে নড়ে না। কার্টনের ওপরে তীর এঁকে লিখুন "এই দিক উপরে"।
গরমের দিনে দই জেল প্যাকের পাশে রাখুন, তবে জেল প্যাক কাগজে মুড়ে, দইয়ের গায়ে সরাসরি লাগিয়ে না। দই জমে গেলে স্বাদ আর গড়ন দুটোই বদলে যায়। আর দই কিনবেন পাঠানোর দিনের সকালে, পিকআপ পর্যন্ত ফ্রিজে রাখবেন।

রসের মিষ্টি পাঠালে শক্ত ঢাকনার প্লাস্টিকের কৌটা নিন, ঢাকনার জোড়ায় টেপ ঘুরিয়ে দিন, তারপর পুরো কৌটা একটা পলিতে ভরে মুখ বাঁধুন। তারপর প্যাক করা কৌটাটা বেসিনের ওপর এক মিনিট উল্টো করে ধরে দেখুন। এক ফোঁটাও পড়লে ওটা কুরিয়ারে যাওয়ার মতো হয়নি। সন্দেশ বা শুকনো মিষ্টি কাগজের বক্সে এক স্তরে সাজান, ওপরে ভারী কিছু রাখবেন না।
কত ঘণ্টা ঠিক থাকে, কোন রুটে পাঠাবেন
এই প্রশ্নে সবাই একটা সংখ্যা চান, কিন্তু সৎ উত্তর হলো, আপনার বক্স কত ঘণ্টা ঠান্ডা রাখে সেটা আপনাকেই মেপে দেখতে হবে। কেন সময়টা এত জরুরি, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের USDA FSIS-এর "How Temperatures Affect Food" পেজে সোজা করে লেখা। মোটামুটি ৪ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে, মাত্র ২০ মিনিটেও দ্বিগুণ হতে পারে। তাই ওদের পরামর্শ, খাবার ফ্রিজের বাইরে ২ ঘণ্টার বেশি না, আর বাইরে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম হলে ১ ঘণ্টার বেশি না।
বাংলাদেশের গরমকালে দুপুরের তাপমাত্রা প্রায়ই এর ওপরে থাকে। জেল প্যাকসহ বক্সে জমানো মাছ তবু টিকে যায়, কিন্তু খোলা পলিতে রাইডারের ব্যাগে গেলে এক ঘণ্টাতেই ঝুঁকি শুরু। আর এই ব্যাকটেরিয়া স্বাদ বা গন্ধ না বদলেও বাড়তে পারে, তাই "গন্ধ তো নেই" দেখে খাবার নিরাপদ ধরে নেবেন না।
নিজের বক্সের সময় জানতে একদিন ঠিক অর্ডারের মতো করে একটা বক্স প্যাক করে ঘরের সবচেয়ে গরম কোণে রেখে দিন। ১২ ঘণ্টা পর একবার খুলে দেখুন, ২৪ ঘণ্টা পর আরেকবার। USDA-র মেইল অর্ডারের পেজ অনুযায়ী পৌঁছানোর সময় খাবার জমানো থাকবে বা বরফের দানা দেখা যাবে, নয়তো অন্তত ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা থাকবে। আপনার বক্স যতক্ষণ এই অবস্থা ধরে রাখে, পথের সময় তার চেয়ে অনেক কম রাখুন।
রুট বাছার নিয়মটা এরপর সহজ হয়ে যায়।
সবচেয়ে নিরাপদ হলো নিজের শহরের ভেতরে একই দিনে পৌঁছে দেওয়া। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবরে Steadfast-এর টার্মসে লেখা, একই দিনের ডেলিভারি শুধু ঢাকা মেট্রো আর চট্টগ্রাম মেট্রোতে, আর রিকোয়েস্ট দিতে হয় সকাল ১১টার আগে। রংপুর বা সিলেটের মতো শহরে একই দিনে দিতে চাইলে তাই নিজের লোকই ভরসা।
তার পরে আসে বড় শহর থেকে বড় শহরে পরদিনের ডেলিভারি। Steadfast-এর রেট পেজে লেখা, আজ বুক করলে ঢাকায় একই দিনে আর বাকি সব জায়গায় পরদিন। জেলা শহরের বেলায় কথাটা প্রায়ই মেলে, কিন্তু প্রতিবার না। মাছ শক্ত করে জমানো আর বক্সটা ভালো হলে এই রুটে পাঠানো চলে।
দূরের উপজেলা বা ইউনিয়নের কথা আলাদা। সেখানে পার্সেল জেলা হাব থেকে আবার ছোট হাবে যায়, মাঝে এক-দুই দিন লেগে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। প্যানেলে "In transit" দেখে আপনি নিশ্চিন্তে বসে থাকেন, ওদিকে বক্সটা এক হাবের মেঝেতে রাত কাটায়। পচনশীল খাবার এই রুটে পাঠাবেন না।

সপ্তাহের দিনটাও দেখুন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বা শুক্রবারে বুক করা পার্সেল অনেক সময় হাবে পড়ে থাকে, কারণ ছুটির দিনে সব রুটে ডেলিভারি সমান চলে না। তাই মাছ-দইয়ের পার্সেল শনি থেকে বুধবারের মধ্যেই পাঠান। আর পাঠানোর আগে কাস্টমারকে ফোন দিয়ে জেনে নিন তিনি সেদিন বাসায় থাকবেন কি না। রাইডার ১১টায় ফোন দিলে কাস্টমার যদি বলেন, "ভাই, অফিসে আছি, বিকেলে দেন", তাহলে বক্স আরও ছয় ঘণ্টা রাইডারের ব্যাগে ঘুরবে। অফিসের ঠিকানায় পাঠাবেন শুধু তখন, যখন জানেন সেখানে ফ্রিজ আছে আর তিনি সাথে সাথে নেবেন।
এক কেজি মাছ পাঠাতে খরচ কত (উদাহরণ)
নিচের হিসাবটা একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। মাছ, বক্স আর জেল প্যাকের দাম এলাকা আর মৌসুমভেদে অনেক বদলায়, নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন। কুরিয়ার চার্জগুলো শুধু আসল, ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবরে Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটর থেকে নেওয়া, ঢাকা সিটির ভেতরে হোম ডেলিভারি, VAT আলাদা। ওরা মাছ নেবে কি না সেটা আলাদা প্রশ্ন, যে কুরিয়ার নেবে তার রেট বসিয়ে নিন।
ধরুন আপনি এক কেজি পাবদা ৯৫০ টাকায় বেচেন, কিনতে পড়ে ৬০০ টাকা। মাছ কাটা আর জমানোর ঝামেলায় ধরুন ২০ টাকা। ছোট ককশিট বক্স ধরুন ৮০ টাকা, জেল প্যাক দুটো ধরুন ৫০ টাকা করে ১০০ টাকা, পলি, টেপ আর স্টিকার ২০ টাকা। প্যাকিংয়েই গেল ২২০ টাকা।
এবার ওজন। এক কেজি মাছ, দুটো জেল প্যাক আর বক্স মিলে পার্সেলটা মোটামুটি আড়াই কেজি হয়। Steadfast-এর ক্যালকুলেটরে আড়াই কেজি দিলে তিন কেজির চার্জ দেখায়, ঢাকা সিটির ভেতরে ১১৫ টাকা। এক কেজির সাধারণ পার্সেলে সেখানে ৭৫ টাকা। মানে শুধু বরফের ওজনের জন্যই চার্জ ৪০ টাকা বেড়ে গেল। ওদের পেজে এটাও লেখা, পার্সেলের সাইজ বড় হলে চার্জ বদলাতে পারে, আর ককশিট বক্স জায়গা নেয় বেশি।
| খাত | ১ কেজির অর্ডার | ৩ কেজির অর্ডার |
|---|---|---|
| মাছ কেনা | ৬০০ টাকা | ১,৮০০ টাকা |
| জমানো, বক্স, জেল প্যাক, পলি-টেপ | ২২০ টাকা | ৩৪০ টাকা |
| মোট খরচ | ৮২০ টাকা | ২,১৪০ টাকা |
| বিক্রি (কেজি ৯৫০) | ৯৫০ টাকা | ২,৮৫০ টাকা |
| হাতে থাকে, অ্যাডের আগে | ১৩০ টাকা | ৭১০ টাকা |
| অ্যাড খরচ (ধরুন অর্ডারপ্রতি) | ১০০ টাকা | ১০০ টাকা |
| শেষে লাভ | ৩০ টাকা | ৬১০ টাকা |
তিন কেজিতে ধরেছি বড় বক্স ১২০ টাকা, তিনটা জেল প্যাক ১৫০, পলি-টেপ ৩০ আর জমানো ৪০ টাকা। পার্সেল দাঁড়ায় পাঁচ কেজির কাছাকাছি, ক্যালকুলেটরে ঢাকা সিটির ভেতরে ১৫৫ টাকা। ডেলিভারি চার্জ দুই ক্ষেত্রেই কাস্টমার দিচ্ছেন ধরেছি, তাই টেবিলে নেই। অ্যাডের ১০০ টাকাও একটা ধরে নেওয়া সংখ্যা, আপনার পেজের আসল খরচ বসিয়ে নিন।

টেবিলটা খেয়াল করে দেখুন। এক কেজির অর্ডারে অ্যাডের টাকা বাদ দিলে হাতে থাকে মাত্র ৩০ টাকা, অথচ খাটুনি তিন কেজির অর্ডারের প্রায় সমান। এজন্য মাছের পেজগুলোতে প্রায়ই দেখবেন সর্বনিম্ন দুই কেজির অর্ডার, অথবা এক কেজিতে প্যাকিং চার্জ আলাদা করে লেখা। ঢাকার বাইরে পাঠালে চার্জও বাড়ে। একই ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে বগুড়ায় তিন কেজি ১৭৫ টাকা, আর চাঁদপুর থেকে ঢাকায় তিন কেজি ১৫৫ টাকা দেখায়।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে ফেরতে। কাপড়ের পার্সেল ফেরত এলে আবার বেচা যায়, কিন্তু ফেরত আসা মাছ ফেলে দিতে হয়। এক কেজির একটা অর্ডার কাস্টমার না নিলে আপনার যায় মাছ আর প্যাকিংয়ের ৮২০ টাকা, সাথে যাওয়ার চার্জ ১১৫ টাকা, মোট ৯৩৫ টাকা। অ্যাডের ১০০ টাকা তো আগেই গেছে। Steadfast-এর টার্মসে লেখা, বাতিল হওয়া পার্সেলেও ডেলিভারি চার্জ মার্চেন্টকে দিতে হয়, যদিও ফেরতের জন্য আলাদা চার্জ ওরা নেয় না। এক কেজির অর্ডারে ৩০ টাকা করে লাভ হলে এই ৯৩৫ টাকা তুলতে ৩২টা অর্ডার লাগে। তিন কেজির অর্ডারে ৬১০ টাকা করে লাভ ধরলেও লাগে পুরো দুটো অর্ডার। এজন্য পচনশীল অর্ডারে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে আর নতুন কাস্টমারের বেলায়, পুরো টাকা অগ্রিম নিন। চেনা কাস্টমার হলে অন্তত ডেলিভারি চার্জটা আগে নিন।
WinningSeller-এ অনলাইন পেমেন্টের সেটিংয়ে ঠিক করে দিতে পারেন কাস্টমার অর্ডারের সময় পুরো টাকা দেবেন, শুধু ডেলিভারি চার্জ, নাকি একটা নির্দিষ্ট অগ্রিম। টাকা যায় আপনার নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্টে। সেটিংটা পুরো দোকানের জন্য একটাই। তাই কাপড় আর মাছ দুটোই বেচলে মাছের অর্ডারটা খুলে "পেমেন্ট লিংক কপি করুন" চাপুন, আর লিংকটা ইনবক্সে কাস্টমারকে পাঠিয়ে দিন। লিংক তিন দিন কাজ করে, আর কুরিয়ারে এন্ট্রি দেওয়ার আগেই এটা পাঠাতে হয়। টাকা এলে অর্ডারে অগ্রিম হিসেবে বসে যায়, কুরিয়ার তখন সেই অনুযায়ী কম টাকা তোলে। তবে সোজা কথা, মাছ ঠান্ডা রাখা বা কোন কুরিয়ার মাছ নেয় সেটা জানা সফটওয়্যারের কাজ না, ওটা আপনার হাতেই থাকবে।
নষ্ট পৌঁছালে কাস্টমার কী বলবেন, আপনি কী করবেন
সব ঠিকঠাক করার পরেও একদিন ফোনটা আসবে। "ভাই, মাছ তো নরম হয়ে গেছে, কেমন একটা গন্ধ।" বুকটা ধক করে ওঠে। কিন্তু এই মুহূর্তে আপনার প্রথম কথাটাই ঠিক করে দেয় কাস্টমার আবার কিনবেন, নাকি পেজে খারাপ রিভিউ লিখবেন।
প্রথম কথাটা হোক মাফ চাওয়া আর একটা অনুরোধ। "খুবই দুঃখিত ভাই। বক্সটা খোলা অবস্থায় ভেতরের একটা ছবি বা ছোট ভিডিও পাঠাবেন? জেল প্যাক তখনো ঠান্ডা ছিল কি না, সেটাও একটু বলবেন।" এতে আপনি দেখতে পান সমস্যা প্যাকিংয়ে, পথের সময়ে, নাকি কাস্টমার পার্সেল নিয়ে অনেকক্ষণ ফেলে রেখেছিলেন।
তারপর কুরিয়ারের প্যানেলে পার্সেলের টাইমলাইন খুলুন। পিকআপ কখন হয়েছে, ডেলিভারি কখন, মাঝে কোথাও "Hold" বা এক হাবে রাত কেটেছে কি না। সকালে দিয়ে পরদিন বিকেলে পৌঁছালে বুঝবেন দোষ রুটের বা কুরিয়ারের দেরির। এটা কুরিয়ারকে লিখে জানান, তবে ক্ষতিপূরণের আশা কম রাখবেন। ওপরে দেখলেন, অন্তত Paperfly-র টার্মসে পচনশীল জিনিসে ক্ষতিপূরণ নেই বলেই লেখা।

কাস্টমারের ক্ষতি কিন্তু আপনাকেই মেটাতে হবে। ছবিতে নষ্ট বোঝা গেলে হয় আবার পাঠান, নয়তো টাকা ফেরত দিন, কোনটা চান সেটা কাস্টমারকেই জিজ্ঞেস করুন। নষ্ট মাছ ফেরত পাঠাতে বলবেন না, ছবি তোলার পর ফেলে দিতে বলুন। আর "একটু ভালো করে রান্না করলে ঠিক হয়ে যাবে" ধরনের কথা কখনো বলবেন না। USDA-র পেজেও পরিষ্কার লেখা, গরম অবস্থায় পৌঁছানো পচনশীল খাবার খাওয়া তো দূরের কথা, চেখেও দেখা উচিত না।
আমার অভিজ্ঞতায় এমন ঝগড়া কমানোর সবচেয়ে কাজের উপায় হলো নিয়মটা আগে থেকে পেজে লিখে রাখা। যেমন, "পার্সেল পেয়েই বক্স খুলে দেখুন, সমস্যা থাকলে দুই ঘণ্টার মধ্যে ছবিসহ জানান।" তাহলে কাস্টমার জানেন কী করতে হবে, আর আপনিও জানেন কখন দাবি মেনে নেবেন। নিয়মটা সবার জন্য একই রাখবেন।
কখন কুরিয়ারে পাঠাবেন না, নিজের শহরেই বেচবেন
কুরিয়ার লিখে হ্যাঁ না বললে পাঠাবেন না, দাবি উঠলে তখন আপনার হাতে কিছু থাকবে না। কাস্টমারের ঠিকানা যদি এমন উপজেলা বা গ্রামে হয় যেখানে আপনার কুরিয়ার সাধারণত দুই-তিন দিন নেয়, সেই অর্ডার ভদ্রভাবে না করে দিন। একটা অর্ডার হারানো একটা নষ্ট পার্সেল আর একটা খারাপ রিভিউয়ের চেয়ে অনেক সস্তা।
কোন এলাকায় কত দিন লাগে, সেটা আন্দাজে ধরবেন না। অর্ডার নেওয়ার সময়েই থানা বা উপজেলার নাম জেনে নিন, তারপর কুরিয়ার প্যানেলে ওই এলাকায় আগে যাওয়া পার্সেলগুলোর পিকআপ থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত সময়টা দেখুন। নতুন সেলাররা প্রায়ই জেলার নাম দেখে "পরদিন পৌঁছাবে" ধরে নেন, অথচ একই জেলার শহর আর দূরের ইউনিয়নে সময় এক না।
তীব্র গরমের দিনে, বন্যা-হরতাল বা লম্বা ছুটির আগে পচনশীল পার্সেল বন্ধ রাখুন। আর যিনি অগ্রিম দিতে রাজি না, তাঁর কাছে ঢাকার বাইরে মাছ পাঠাবেন না।
মাছ বা দই বেচা সবে শুরু করলে এখানে আমার পরামর্শ পরিষ্কার, প্রথম এক-দুই মাস শুধু নিজের শহরে বেচুন, নিজের লোক দিয়ে বা একই দিনের ডেলিভারিতে। এই সময়ে শিখে যাবেন কোন মাছ কেমন জমে আর আপনার বক্স কতক্ষণ ঠান্ডা রাখে। তারপর বাইরে যান, শুরুতে শুধু যেসব শহরে পার্সেল পরদিন পৌঁছায়।
রোজ সকালে কোন অর্ডার আজকেই না পাঠালে নষ্ট হবে, সেটা আলাদা করে চোখে রাখতে হয়। WinningSeller-এ "আজকেই পাঠাতে হবে" নামে একটা ট্যাগ বানিয়ে মাছ-দইয়ের অর্ডারে লাগিয়ে দিতে পারেন, তারপর অর্ডার লিস্টে ওই ট্যাগ দিয়ে ফিল্টার করলে সকালে শুধু সেগুলোই সামনে আসে। অর্ডার থেকেই Steadfast, Pathao, RedX, Paperfly, Carrybee বা eCourier-এ এক ক্লিকে পার্সেল এন্ট্রি দেওয়া যায়, তবে কোন কুরিয়ার মাছ নেবে সেটা আগে জেনেই সিলেক্ট করবেন। আর কী কী আছে, সব ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন
মাছ কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?
যায়, তবে সব কুরিয়ারে না আর সব রুটে না। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Pathao-র বাংলা হেল্প পেজ আর Paperfly-র টার্মসে পচনশীল খাবার নিতে মানা করা আছে। যে কুরিয়ার নেবে, তার কাছ থেকে লিখিত হ্যাঁ নিন, মাছ জমিয়ে ককশিট বক্সে জেল প্যাক দিয়ে প্যাক করুন, আর এমন রুটে পাঠান যেখানে এক দিনের মধ্যে পৌঁছায়।
ককশিট বক্সে মাছ কত ঘণ্টা ভালো থাকে?
এর কোনো একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। মাছ কতটা শক্ত করে জমানো, বক্স কত পুরু, কয়টা জেল প্যাক আর বাইরে কত গরম, সব মিলিয়ে সময়টা ঠিক হয়। তাই একটা টেস্ট বক্স প্যাক করে ঘরে রেখে ১২ আর ২৪ ঘণ্টা পর খুলে দেখুন, ভেতরে মাছ তখনো শক্ত বা অন্তত ফ্রিজের মতো ঠান্ডা আছে কি না। নিজের বক্সের সময়টা এভাবেই জানবেন।
মাছ পাঠাতে বরফ দেব, নাকি জেল প্যাক?
জেল প্যাক, বা পানি ভরা পলি শক্ত করে জমিয়ে, খোলা বরফ না। খোলা বরফ গলে পানি হয়, সেই পানি বক্স ভিজিয়ে দেয় আর পাশের পার্সেলও ভেজায়, তখন রাইডার বা হাব পার্সেলটা নিতে চায় না। ড্রাই আইস দেবেন না, Pathao-র নিষিদ্ধ লিস্টে ওটার নাম আলাদা করে লেখা আছে।
বগুড়ার দই কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?
কাছের রুটে এক দিনের মধ্যে পৌঁছালে অনেকে পাঠান, কিন্তু ঝুঁকিটা আপনার। দই ফ্রিজ ছাড়া বেশিক্ষণ ভালো থাকে না, আর মাটির পাত্র ধাক্কায় ফাটে। পাত্রের মুখ পলি দিয়ে বেঁধে টেপ করুন, প্রতিটা পাত্র আলাদা পলিতে রাখুন, কার্টনে ফাঁক ভরে খাড়া করে পাঠান, আর দোকান থেকে জেনে নিন ফ্রিজ ছাড়া ওদের দই কত ঘণ্টা ঠিক থাকে।
মাছের অর্ডারে কি পুরো টাকা অগ্রিম নেওয়া উচিত?
ঢাকার বাইরে বা প্রথমবারের কাস্টমারের বেলায় হ্যাঁ। কাপড় ফেরত এলে আবার বেচা যায়, কিন্তু ফেরত আসা মাছ বা দই ফেলে দিতে হয়। তাই একটা ফেরত মানে মাছের দাম, প্যাকিং আর কুরিয়ার চার্জ, তিনটাই পুরো লস। নিজের শহরে চেনা কাস্টমার হলে অন্তত ডেলিভারি চার্জটা আগে নিন।
নষ্ট মাছ পৌঁছালে কাস্টমারকে কী বলব?
আগে মাফ চান, তর্ক না। বক্স খোলা অবস্থায় ভেতরের ছবি বা ছোট ভিডিও চেয়ে নিন, তারপর ঠিক করুন আবার পাঠাবেন নাকি টাকা ফেরত দেবেন। নষ্ট খাবার ফেরত পাঠাতে বলবেন না, আর "একটু রান্না করে দেখেন" তো কখনোই না।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


