WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া ২০২৬, বাংলাদেশে COD-তে চলে এমন ১২টা ব্যবসা

অল্প পুঁজির, ঘরে বানিয়ে বেচার আর স্টক কম রেখে চালানোর ১২টা অনলাইন ব্যবসা। কোনটা কার জন্য, শুরুতে মোটামুটি কত টাকা লাগে, কোথায় লাইসেন্স লাগে, আর কোনটায় কাস্টমার আবার কেনেন।

অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া ২০২৬, বাংলাদেশে COD-তে চলে এমন ১২টা ব্যবসা
এই লেখায় যা আছে
  1. অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া ২০২৬, এক নজরে কোনটা কার জন্য?
  2. অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ৪টা ব্যবসা
    1. ১. মোবাইল আর গ্যাজেট এক্সেসরিজ
    2. ২. ছেলেদের পাঞ্জাবি আর টি-শার্ট
    3. ৩. কসমেটিক আর স্কিনকেয়ার
    4. ৪. বাচ্চাদের জিনিস আর খেলনা
  3. ঘরে বানিয়ে বিক্রি করা যায় এমন ৪টা ব্যবসা
    1. ৫. আচার, মসলা আর ঘরের রান্না খাবার
    2. ৬. কেক আর বেকারি
    3. ৭. নকশিকাঁথা, ব্লক-বাটিক আর হ্যান্ডপেইন্ট
    4. ৮. নাম লেখা গিফট, মগ, টি-শার্ট আর ফ্রেম
  4. স্টক কম রেখে চালানো যায় এমন ৪টা ব্যবসা
    1. ৯. প্রি-অর্ডারে বিদেশি প্রোডাক্ট
    2. ১০. লোকাল ড্রপশিপিং বা রিসেলিং
    3. ১১. মৌসুমি ফল আর কৃষির জিনিস
    4. ১২. বই
  5. কোন আইডিয়ায় আগে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন লাগে?
  6. কোন আইডিয়াগুলোতে এখন ভিড় বেশি, ঢুকলে কী আলাদা করবেন?
  7. দুইটা আইডিয়ার প্রথম মাস পাশাপাশি (উদাহরণ)
  8. আইডিয়া ঠিক হলে এই সপ্তাহে কী করবেন?

অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া খুঁজলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে শুরু করার মতো ১২টা ব্যবসা হলো মোবাইল এক্সেসরিজ, ছেলেদের পাঞ্জাবি আর টি-শার্ট, কসমেটিক, বাচ্চাদের জিনিস, আচার-মসলা, কেক, হাতের কাজ, নাম লেখা গিফট, প্রি-অর্ডারে বিদেশি প্রোডাক্ট, লোকাল রিসেলিং, মৌসুমি ফল আর বই। এগুলো বেছেছি একটা প্রশ্ন দিয়ে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পার্সেল পাঠিয়ে, মাঝে মাঝে ফেরত খেয়েও এই ব্যবসায় লাভ থাকে কি না? নিচে ১২টাকে তিন ভাগে রেখেছি। চারটা অল্প পুঁজির, চারটা ঘরে বানিয়ে বেচার, আর চারটা স্টক কম রেখে চালানোর। প্রতিটার সাথে লিখেছি কার জন্য মানায়, শুরুতে মোটামুটি কত টাকা লাগে, বড় ঝুঁকিটা কোথায়, আর কাস্টমার আবার কেনেন কি না।

ফ্রিল্যান্সিং বা ইউটিউব এই লিস্টে রাখিনি। এখানে শুধু সেই ব্যবসা আছে, যেখানে প্রোডাক্ট কুরিয়ারে কাস্টমারের দরজায় যায়। টাকার অঙ্কগুলো আন্দাজ, কোনো আয়ের গ্যারান্টি না।

অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া ২০২৬, এক নজরে কোনটা কার জন্য?

টেবিলের "শুরুর পুঁজি" মানে প্রথম স্টক আর প্যাকেটের টাকা, অ্যাডের টাকা এর বাইরে। "আবার কেনেন?" ঘরটা মন দিয়ে দেখুন। দ্বিতীয় অর্ডারে অ্যাডের টাকা লাগে না, শুধু একটা ফোন লাগে।

ব্যবসা শুরুর পুঁজি (উদাহরণ) বড় ঝুঁকি আবার কেনেন?
মোবাইল আর গ্যাজেট এক্সেসরিজ ১০ থেকে ২০ হাজার মান খারাপ, দ্রুত নষ্ট কম, সাথের জিনিস কেনেন
ছেলেদের পাঞ্জাবি আর টি-শার্ট ১৫ থেকে ৩০ হাজার সাইজ না মেলা, ঈদের পরে স্টক প্রতি ঈদে
কসমেটিক আর স্কিনকেয়ার ১৫ থেকে ৩০ হাজার নকল মাল, মেয়াদ, লাইসেন্স বেশি
বাচ্চাদের জিনিস আর খেলনা ১০ থেকে ২৫ হাজার ভাঙা, ব্যাটারির খেলনা নষ্ট মাঝারি
আচার, মসলা, ঘরের রান্না ৫ থেকে ১৫ হাজার লিক, নষ্ট হওয়া, রেজিস্ট্রেশন বেশি
কেক আর বেকারি ৫ থেকে ১৫ হাজার, ওভেন থাকলে এক দিনে নষ্ট, শুধু নিজের শহরে বেশি, প্রতি জন্মদিনে
নকশিকাঁথা, ব্লক, হ্যান্ডপেইন্ট ৫ থেকে ১৫ হাজার সময় বেশি লাগে কম, উপহার হিসেবে
নাম লেখা গিফট ৫ থেকে ১০ হাজার, প্রিন্ট করিয়ে নিলে বানান ভুল হলে পুরো লস উপলক্ষ ধরে
প্রি-অর্ডারে বিদেশি প্রোডাক্ট ৫ থেকে ১০ হাজার দেরি, চালান আটকে যাওয়া মাঝারি
লোকাল ড্রপশিপিং বা রিসেলিং ৫ থেকে ১০ হাজার, মূলত অ্যাড মান আর স্টক অন্যের হাতে সাপ্লায়ারের ওপর
মৌসুমি ফল আর কৃষির জিনিস ১০ থেকে ২০ হাজার পচন, মৌসুম ছোট বেশি, প্রতি মৌসুমে
বই ৫ থেকে ১০ হাজার লাভ কম, পার্সেল ভারী বেশি

টেবিল থেকে বাছার সময় নিজের তিনটা জিনিস মিলিয়ে নিন। হাতে কত টাকা আছে, দিনে কত সময় দিতে পারবেন, আর কোন কাজটা আপনি নিজে ভালো পারেন। টাকা কম কিন্তু রান্নার হাত ভালো হলে ঘরে বানানোর দিকটা দেখুন। চাকরি করেন আর দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় পান না, তাহলে কেক বা ফলের মতো তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়া জিনিস নেবেন না। প্রোডাক্ট বাছার চারটা প্রশ্ন আর এক পিসে কত লাভ থাকে তার হিসাব অনলাইন ব্যবসা শুরুর পুরো গাইডে আছে।

অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ৪টা ব্যবসা

এই চারটায় জিনিস কিনে এনে বেচবেন, নিজে বানাতে হবে না। শুরু করা সহজ, কিন্তু একই জিনিস আরও অনেকে বেচেন। তাই এখানে আপনাকে আলাদা করবে মাল বাছাইয়ের চোখ।

১. মোবাইল আর গ্যাজেট এক্সেসরিজ

চার্জার, কেবল, ফোনের কভার, ইয়ারফোন আর স্মার্টওয়াচের বেল্ট এই দলে পড়ে। এগুলো হালকা আর সহজে ভাঙে না, তাই আধা কেজির পার্সেলে কম চার্জে চলে যায়। যিনি ফোন আর গ্যাজেট নিজে বোঝেন, তাঁর জন্য এটা ভালো শুরু, কারণ "এটা কি ফাস্ট চার্জ নেয়?" ধরনের প্রশ্নের উত্তর তাঁকেই দিতে হবে।

বড় ঝুঁকি মান নিয়ে। দেখতে একই রকম দুটো কেবলের একটা ছয় মাস চলে, আরেকটা দুই সপ্তাহে নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট জিনিস গেলে কাস্টমার পেজে খারাপ রিভিউ লেখেন, আর পরের অ্যাড থেকে অর্ডার কমে যায়। তাই কোনো আইটেম বেশি করে কেনার আগে নিজে কয়েক দিন চালিয়ে দেখুন। একই কাস্টমার একই জিনিস আবার কম কেনেন, তবে যিনি কভার নিয়েছেন তিনি পরে স্ক্রিন প্রটেক্টর বা কেবল নিতে পারেন।

২. ছেলেদের পাঞ্জাবি আর টি-শার্ট

যিনি কাপড় চেনেন আর পাইকারি বাজারে যাওয়া-আসা আছে, তাঁর জন্য এটা ভালো। পাঞ্জাবির সবচেয়ে বড় বিক্রি ঈদের আগে, আর টি-শার্ট চলে সারা বছর। পুঁজি একটু বেশি লাগে, কারণ একটা ডিজাইন অন্তত তিন-চারটা সাইজে রাখতে হয়।

এখানে ফেরতের প্রধান কারণ সাইজ না মেলা। এক কারখানার "L" আরেক কারখানার "M"-এর সমান হতে পারে। তাই পেজে শুধু "L" না লিখে বুক আর লম্বার মাপ ইঞ্চিতে লিখুন, আর কাস্টমারকে নিজের একটা পাঞ্জাবি মেপে মিলিয়ে নিতে বলুন। ঈদের স্টক একবারে না কিনে দুই-তিন দফায় অল্প করে কিনুন। ঈদের পরের দিন থেকে পাঞ্জাবির চাহিদা হঠাৎ পড়ে যায়, তখন বেঁচে যাওয়া স্টক পরের ঈদ পর্যন্ত টাকা আটকে রাখে।

৩. কসমেটিক আর স্কিনকেয়ার

ফেস ওয়াশ, সানস্ক্রিন, সিরাম আর লোশনের মতো জিনিস এই দলে পড়ে। এগুলো মাখতে মাখতে শেষ হয়ে যায়, তাই খুশি কাস্টমার মাস দুয়েক পরে আবার কেনেন। যিনি নিজে স্কিনকেয়ার বোঝেন আর কোন স্কিনে কোনটা মানায় তা বুঝিয়ে বলতে পারেন, তাঁর জন্য এটা ভালো ব্যবসা।

ঝুঁকি দুটো। প্রথমটা নকল মাল। বাজারে আসল প্যাকেটের হুবহু কপি ঘোরে, আর একবার নকল গেলে সেই কাস্টমার আর ফেরেন না। তাই ইনভয়েস দেয় এমন ইমপোর্টার বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে কিনুন, আর প্রতিটা ব্যাচের মেয়াদ দেখে নিন। দ্বিতীয় ঝুঁকিটা নিয়মের। Meta-র Commerce Policies-এ লেখা আছে, কেউ আগে মেখেছেন এমন কসমেটিক, বা আসল প্যাকেট ছাড়া কসমেটিক Facebook-এর কেনাবেচার জায়গাগুলোতে বেচা যাবে না। তাই বড় বোতল ভেঙে ছোট বোতলে ভরে বেচার আগে দুবার ভাবুন।

৪. বাচ্চাদের জিনিস আর খেলনা

বাচ্চার কাপড়, ফিডার, স্কুলব্যাগ, পাজল আর শেখার খেলনা এই দলে পড়ে। বাবা-মায়েরা বাচ্চার জিনিসে টাকা খরচ করতে কম দ্বিধা করেন, আর বাচ্চা বড় হলে পরের সাইজটাও লাগে। তাই আগের কাস্টমারকে ছয় মাস পরে নতুন সাইজের কথা বললে অর্ডার আসার সুযোগ থাকে।

এখানে ঝুঁকি হলো পার্সেলে ভেঙে যাওয়া, আর ব্যাটারির খেলনা প্রথম দিনেই নষ্ট হওয়া। প্লাস্টিকের খেলনা শক্ত কার্টনে পাঠান, আর ব্যাটারির খেলনা পাঠানোর আগে একবার চালিয়ে দেখুন। প্রতিটা প্রোডাক্টে কোন বয়সের বাচ্চার জন্য, সেটাও লিখে দিন। ছোট টুকরোর খেলনা দুই বছরের বাচ্চার হাতে গেলে বিপদ হতে পারে, আর ভুল বয়সের খেলনা ফেরতও আসে।

ঘরে বানিয়ে বিক্রি করা যায় এমন ৪টা ব্যবসা

ঘরে বানানো জিনিসের বড় সুবিধা হলো, রেসিপি বা হাতের কাজটা আপনার নিজের। তাই হুবহু একই জিনিস আর কেউ বেচতে পারে না। অসুবিধা হলো সময়। দামের মধ্যে নিজের খাটুনির সময়টা না ধরলে মাস শেষে দেখবেন লাভ বলে কিছু নেই।

৫. আচার, মসলা আর ঘরের রান্না খাবার

বরই, জলপাই বা রসুনের আচার, হাতে ভাঙা মসলার গুঁড়া আর ঘরে বানানো ঘি দিয়ে এই ব্যবসা শুরু হয়। যাঁর রান্নার হাত ভালো, বা পরিবারে কারও পুরনো রেসিপি আছে, তাঁর জন্য এটা সবচেয়ে কম পুঁজির ব্যবসাগুলোর একটা। দশ-বারোটা বয়ামের একটা ব্যাচ বানিয়ে শুরু করা যায়, আর বিক্রি বুঝে পরের ব্যাচ বানানো যায়।

সবচেয়ে বড় ভয় লিক। তেলের আচার কুরিয়ারের ঝাঁকুনিতে মুখ দিয়ে বের হয়ে অন্যের পার্সেলও নষ্ট করে, তখন কুরিয়ার আপনার পার্সেল নিতে আপত্তি করতে পারে। তাই বয়ামের মুখে সিল দিন, তারপর আলাদা পলিতে মুড়ে নিন। ফ্রোজেন খাবার কুরিয়ারে দূরে পাঠাবেন না, নিজের শহরে নিজে ডেলিভারি দিন। খাবার ফুরিয়ে যায়, তাই ভালো আচারের কাস্টমার বারবার ফেরেন। কোন কাগজ লাগে, সেটা নিচের লাইসেন্সের অংশে আছে।

বাসার টেবিলে বসে একজন তরুণ ছেলে সেলার আচারের কাচের বয়ামের মুখে সিল লাগাচ্ছেন, পাশে কুরিয়ারের পলিব্যাগ আর লেবেলের রোল
ঘরে বানানো খাবারে প্যাকেটই অর্ধেক কাজ। মুখে সিল আর আলাদা পলি থাকলে লিক হয় কম

৬. কেক আর বেকারি

বাসায় ওভেন থাকলে জন্মদিনের কেক, কাপকেক আর কুকিজ দিয়ে শুরু করা যায়। এই ব্যবসা চলে শুধু নিজের শহরে বা এলাকায়, কারণ কেক কুরিয়ারে দুই দিন ঘুরলে আর খাওয়ার মতো থাকে না। ডেলিভারি দিতে হয় নিজে বা লোক দিয়ে, নির্দিষ্ট সময়ে।

এখানে দেরি মানেই পুরো অর্ডার নষ্ট। সন্ধ্যা সাতটার জন্মদিনে রাত নয়টায় কেক পৌঁছালে কাস্টমার টাকা দিতে চাইবেন না, আর সেটা অন্যায়ও না। তাই নাম লেখা কেকে বুকিংয়ের সময় একটা ছোট অগ্রিম নিন, তবে অঙ্কটা নিয়ম মেনে। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জিনিস ডেলিভারি ম্যান বা কুরিয়ারের হাতে না গেলে দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যায় না। তাই কয়েক দিন আগের বুকিংয়ে ১০% পর্যন্ত নিন, বাকিটা ডেলিভারির আগের দিন বা ডেলিভারির সময়। অগ্রিমের পুরো নিয়ম ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকার লেখায় আছে। ভালো দিকটা হলো, জন্মদিন প্রতি বছর আসে। কে কার জন্মদিনে কেক নিলেন, সেই তারিখটা লিখে রাখলে পরের বছর এক সপ্তাহ আগে একটা ফোনই যথেষ্ট।

৭. নকশিকাঁথা, ব্লক-বাটিক আর হ্যান্ডপেইন্ট

নিজে বা পরিবারে কেউ সেলাই, ব্লক বা রং করার কাজ জানলে, অথবা গ্রামে কারিগর চেনা থাকলে এই ব্যবসাটা দেখুন। হাতের কাজের জিনিস বাজারে কম। আর যিনি আসল হাতের কাজ খোঁজেন, তিনি দামের চেয়ে কাজটাই বেশি দেখেন।

এখানে সমস্যা সময়ের। একটা বড় নকশিকাঁথায় এক সপ্তাহ বা তার বেশি লেগে যেতে পারে, তাই কারিগরের মজুরি আগে দামের মধ্যে ধরুন, তারপর লাভ। মেশিনের প্রিন্টকে অনেকেই "হাতের কাজ" বলে বেচেন, তাই কাজ চলার সময়ের ছোট ভিডিও পোস্ট করুন। আসল কাজের প্রমাণ দেখলে কাস্টমার আপনাকে আলাদা করে মনে রাখেন। একই কাস্টমার নিজের জন্য আবার কম কেনেন, তবে উপহার দিতে আবার আসেন।

৮. নাম লেখা গিফট, মগ, টি-শার্ট আর ফ্রেম

মগে বা টি-শার্টে নাম আর ছবি ছাপিয়ে, বা নাম লেখা ফ্রেম বানিয়ে জন্মদিন আর বিয়ের উপহার হিসেবে বেচা হয়। Canva-র মতো অ্যাপে যিনি একটু ডিজাইন পারেন, তিনি এটা শুরু করতে পারেন। শুরুতে নিজের মেশিন না কিনে কাছের কোনো প্রিন্টের দোকান থেকে করিয়ে নিলে পুঁজি কম লাগে।

এই ব্যবসার বড় ঝুঁকি ফেরত। রহিমের নাম লেখা মগ ফেরত এলে সেটা আর কাউকে বেচা যায় না, পুরো টাকাটাই লস। তাই প্রিন্টের আগে ডিজাইনের একটা ছবি কাস্টমারকে পাঠিয়ে বানান মিলিয়ে নিন, আর অন্তত জিনিসের দামটুকু অগ্রিম নিন। কাস্টমার উপলক্ষ এলে আবার আসেন, তাই কে কোন উপলক্ষে নিয়েছিলেন সেটা লিখে রাখুন।

স্টক কম রেখে চালানো যায় এমন ৪টা ব্যবসা

এই চারটায় আগে থেকে বেশি মাল কিনে ঘরে রাখতে হয় না। অর্ডার এলে কিনবেন, অথবা অন্যের স্টক থেকে পাঠাবেন। তাতে টাকা কম আটকায়, কিন্তু সময়, মান আর দামের অনেকটা থাকে অন্যের হাতে।

৯. প্রি-অর্ডারে বিদেশি প্রোডাক্ট

এখানে চীন বা অন্য দেশের কোনো প্রোডাক্টের ছবি দিয়ে অর্ডার নেবেন, তারপর সব অর্ডার একসাথে আনাবেন। রান্নাঘরের গ্যাজেট, ঘর সাজানোর জিনিস বা কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জিনিস এভাবে বেশি চলে। যাঁর কাস্টমার কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে রাজি, তাঁর জন্যই এটা।

ঝুঁকি হলো দেরি। চালান কাস্টমসে আটকে গেলে ইনবক্স ভরে যায় প্রশ্নে। অগ্রিম নেওয়ারও একটা সীমা আছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ অনুযায়ী, যে প্রোডাক্ট টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ারে দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই, তার দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যায় না। তাই অর্ডারের সময়ই লিখে দিন কত দিন লাগতে পারে, আর না এলে টাকা ফেরত দেবেন। প্রথম চালানটা ছোট রাখুন।

১০. লোকাল ড্রপশিপিং বা রিসেলিং

এখানে দেশের কোনো সাপ্লায়ারের প্রোডাক্ট নিজের পেজে বেচবেন, আর অর্ডার এলে পার্সেল যাবে সাপ্লায়ারের গুদাম থেকে। স্টক কিনতে হয় না, তাই পুঁজির বেশিরভাগটা যায় অ্যাডে। কিন্তু মান, প্যাকেট আর পাঠানোর সময় সবই সাপ্লায়ারের হাতে থাকে, আর ভুল হলে কাস্টমার রাগ করেন আপনার ওপর। এটা কীভাবে চলে, ফেরতের টাকা কার কাছে যায়, আর সাপ্লায়ারের সাথে কী লিখে নেবেন, সব ড্রপশিপিংয়ের লেখায় টাকার হিসাবসহ আছে। প্রি-অর্ডারের অগ্রিম নিয়ে বাকি নিয়মগুলোও ওখানে পাবেন।

১১. মৌসুমি ফল আর কৃষির জিনিস

এখানে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, দিনাজপুরের লিচু, শীতের খেজুরের গুড় বা সুন্দরবন এলাকার মধুর কথা বলছি। যাঁর বাড়ি এসব এলাকায়, বা বাগানের মালিক চেনা আছে, তিনি বাগান থেকে সরাসরি পাঠাতে পারেন। শহরের মানুষ আসল জিনিস পেলে বেশি দাম দিতে রাজি থাকেন।

ঝুঁকি হলো পচন আর বিশ্বাস। পাকা আম কুরিয়ারে তিন দিন ঘুরলে নষ্ট হতে পারে, তাই একটু কাঁচা অবস্থায় পাঠাতে হয়, আর ঝুড়ি বা কার্টনে বাতাস চলাচলের জায়গা রাখতে হয়। অনেক কাস্টমার কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম নিয়ে ভয় পান। বাগান থেকে তোলার ভিডিও দেখালে সেই ভয় কমে। মৌসুম ছোট হলেও খুশি কাস্টমার পরের মৌসুমে আবার আসেন, তাই এ বছরের কাস্টমার লিস্টটাই আগামী বছরের সবচেয়ে বড় পুঁজি।

১২. বই

ঢাকার বাংলাবাজার বইয়ের বড় পাইকারি বাজার। অনেক অনলাইন বইয়ের সেলার অর্ডার জমলে পরের দিন সেখান থেকে কিনে পাঠান, তাই ঘরে বেশি বই রাখতে হয় না। যিনি নিজে বই পড়েন, তাঁর জন্য এটা ভালো।

সব রকম বই না বেচে একটা দল বাছুন, যেমন ভর্তি পরীক্ষার বই, বাচ্চাদের ছবির বই বা ইসলামি বই। তাহলে কাস্টমার আপনাকে ওই ধরনের বইয়ের দোকান হিসেবে মনে রাখেন। বইয়ে লাভ কম আর পার্সেল ভারী, তাই একটা বইয়ের অর্ডারে কুরিয়ার খরচেই লাভ চলে যেতে পারে। দুই-তিনটা বই একসাথে নিলে ডেলিভারি চার্জে ছাড় দিন। নকল ছাপা বই বেচবেন না। এতে লেখক আর যাঁরা বইটা ছাপেন তাঁদের ক্ষতি হয়, আর Meta-র Commerce Policies-এও নকল জিনিস বেচা নিষেধ।

কোন আইডিয়ায় আগে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন লাগে?

ট্রেড লাইসেন্স কখন করবেন, সেটা ওপরে লিংক দেওয়া পুরো গাইডে আছে। এখানে শুধু সেই আইডিয়াগুলোর কথা বলছি, যেখানে এর বাইরেও কাগজ লাগে। নিয়ম সবচেয়ে কড়া খাবার, কসমেটিক আর ওষুধের কাছাকাছি জিনিসে।

খাবার। আচার, মসলা, ঘি, মধু বা কেক বেচলে কাগজের প্রশ্ন সবার আগে আসে। খবর অনুযায়ী ১৬ জুলাই ২০২৬-এর গেজেটে আসা নতুন প্রবিধানমালায় রাস্তার পিঠার দোকান থেকে বেকারি পর্যন্ত খাবারের প্রায় সব ব্যবসাকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (BFSA) রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হয়েছে। আবার মধু, ঘি, সরিষার তেল, মসলার গুঁড়া, আচার আর কেক BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টে আছে। তাই নিজের লেবেলে বয়াম ভরে বেচলে BSTI-র CM লাইসেন্সও লাগে। কোন অফিসে কী জমা দেবেন, কত টাকা যায়, আর প্যাকেটের লেবেলে কী লিখতেই হবে, সব ফুড লাইসেন্সের লেখায় ধাপে ধাপে বলা আছে। খাবারের আইডিয়া বাছলে প্রথম অর্ডার নেওয়ার আগে ওটা একবার পড়ে নিন।

কসমেটিক। BSTI-র একই লিস্টে স্কিন ক্রিম, লোশন, ফেস ওয়াশ, লিপস্টিক, শ্যাম্পু আর চুলের তেলও আছে। এর ওপর ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ কসমেটিকের দেখভাল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হাতে দিয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ জুন ২০২৬-এ কসমেটিকসের লাইসেন্স আর রেজিস্ট্রেশনের নতুন বিধিমালার ড্রাফট মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দিয়েছে। মানে নিয়মটা এখনো তৈরি হচ্ছে। তাই নিজে বানিয়ে বা নিজে বিদেশ থেকে এনে কসমেটিক বেচার আগে জেনে নিন আপনার কী লাগবে।

ওষুধ, হারবাল আর সাপ্লিমেন্ট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এ বলা আছে, অনলাইনে ওষুধ আর চিকিৎসা সামগ্রী বেচতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লাইসেন্স লাগবে। Meta-র Commerce Policies-এও খাওয়ার সাপ্লিমেন্ট আর মেডিকেল প্রোডাক্ট বেচা নিষেধ। তাই ওজন কমানোর চা বা "রোগ সারায়" এমন জিনিস দিয়ে প্রথম ব্যবসা শুরু করবেন না। একই পলিসিতে জীবিত প্রাণী বেচাও নিষেধ, তাই পাখি বা বিড়ালের ব্যবসা Facebook-এর Shop বা Marketplace দিয়ে চলবে না।

খেলনা। এটা আগে সহজ দলে ছিল, এখন আর না। শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২২ জুন ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে (এস. আর. ও. নং ২৩২-আইন/২০২৬) খেলনা BSTI-র বাধ্যতামূলক তালিকায় এসেছে, আর বাচ্চার প্লাস্টিকের ফিডারও। প্রজ্ঞাপনে লেখা, মান না মানা এসব জিনিস বিক্রি, বিতরণ আর বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন নিষেধ, আর গেজেটে ছাপার দুই মাস পরে, মানে আগস্ট ২০২৬-এর শেষ দিক থেকে নিয়মটা চালু। লাইসেন্স সাধারণত নেন যিনি বানান বা আমদানি করেন, কিন্তু খুচরা সেলারের বেলায় হাতে-কলমে কী দেখা হবে, সেটা BSTI-ই ভালো বলবে। তাই পাইকারের কাছে কাগজ চেয়ে নিন আর বড় লট তোলার আগে BSTI-র অফিসে একবার জিজ্ঞেস করুন। খুঁটিনাটি আছে খেলনার ব্যবসার লেখায়।

বাকিগুলো, মানে এক্সেসরিজ, পাঞ্জাবি, হাতের কাজ, গিফট, বই আর ফল, সাধারণত ট্রেড লাইসেন্সের বাইরে আলাদা কিছু চায় না। তবে মৌসুমি জিনিসের সাথে মধু বেচলে ওপরের খাবারের নিয়মটা খাটে।

কোন আইডিয়াগুলোতে এখন ভিড় বেশি, ঢুকলে কী আলাদা করবেন?

থ্রি-পিস, স্মার্টওয়াচ, মধু আর কসমেটিকে এখন অনেক পেজ একসাথে অ্যাড চালায়, এটা সেলারদের সাধারণ অভিজ্ঞতা। Facebook Ad Library-তে "খাঁটি মধু" লিখে সার্চ দিলেই দেখবেন একই রকম ছবি আর একই "১০০% খাঁটি" কথা কত পেজে চলছে। এমন জায়গায় নতুন পেজ একই কথা বললে কারও চোখে পড়ে না, তখন দাম কমিয়ে টিকে থাকতে হয়।

তার মানে এই না যে ভিড়ের প্রোডাক্টে ঢোকা যায় না। ঢুকতে হয় ছোট একটা দল বেছে নিয়ে। "সবার জন্য থ্রি-পিস" না বলে "অফিসে পরার মতো সুতি থ্রি-পিস" বা "প্লাস সাইজের থ্রি-পিস" বলুন। তখন যাঁর ঠিক ওটাই দরকার, তিনি ভাবেন পেজটা তাঁর জন্যই বানানো।

মধু আর ঘিতে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পান ভেজালের। তাই জিনিসটা কোথা থেকে আসে, সেটা দেখাতে পারাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য। মৌয়ালের চাক কাটার বা ঘি জ্বাল দেওয়ার একটা ভিডিও অনেক কথার চেয়ে বেশি কাজ করে। আরেকটা জায়গা হলো সার্ভিস। সাইজ না মিললে ফ্রিতে বদলে দিন, আর ভুল আপনার হলে নিজের খরচে ঠিক করে দিন। এসব অন্য পেজ সহজে কপি করে না, কারণ এতে খাটুনি আছে।

দুইটা আইডিয়ার প্রথম মাস পাশাপাশি (উদাহরণ)

নিচের হিসাবটা একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল সংখ্যা না। তবে নিজের দাম বসিয়ে একইভাবে গুনতে পারবেন। ধরুন দুজন নতুন সেলার ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে আধা কেজির পার্সেল পাঠান Pathao দিয়ে, আর ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। Pathao-র ওয়েবসাইটের রেট টেবিলে (অক্টোবর ২০২৬) আধা কেজি পর্যন্ত ঢাকা থেকে অন্য জেলায় ১১০ টাকা লেখা আছে। ঢাকার বাইরে থেকে পার্সেল ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জের ওপর আরও ৫০% ফেরতের চার্জ লাগে, আর COD চার্জ কাটে ১%। এই রেটে VAT ধরা নেই। মানে একটা পার্সেল ফেরত এলে ১১০ আর ৫৫, মোট ১৬৫ টাকা সেলারের পকেট থেকে যায়।

প্রথম জন বেচেন মোবাইল এক্সেসরিজ। তিনি ১৫,০০০ টাকায় ৬০ পিস কেবল, কভার আর চার্জার কিনলেন, গড়ে পিস ২৫০ টাকা। বেচেন গড়ে ৫৫০ টাকায়, আর প্যাকেটে যায় ১৫ টাকা। মাসে অ্যাডে গেল ৬,০০০ টাকা, অর্ডার এলো ৫০টা। এর মধ্যে ৮টা ফেরত এলো, ডেলিভারি হলো ৪২টা। প্রতিটা ডেলিভারিতে থাকে ৫৫০ − ২৫০ − ১৫ = ২৮৫ টাকা, ৪২টায় ১১,৯৭০ টাকা। এখান থেকে বাদ যাবে অ্যাডের ৬,০০০ টাকা। COD চার্জ যাবে প্রায় ২৮০ টাকা, কারণ প্রতিটা কাস্টমার ডেলিভারি চার্জসহ ৬৬০ টাকা দেন। ফেরতের চার্জ ৮ × ১৬৫ = ১,৩২০ টাকা, আর ফেরত পার্সেলের প্যাকেট ১২০ টাকা। মাস শেষে থাকে প্রায় ৪,২৫০ টাকা, আর ১৮ পিস মাল এখনো ঘরে।

দ্বিতীয় জন বেচেন ঘরে বানানো আচার। ৪০০ গ্রামের বয়াম ৩৮০ টাকা। উপকরণ, বয়াম আর সিলে যায় ১৬০ টাকা, বাড়তি প্যাকেটে ২৫ টাকা। তিনি দশ বয়ামের ব্যাচ বানান, তাই একবারে দুই হাজার টাকার মতো আটকায়। অ্যাডে গেল ৪,০০০ টাকা, অর্ডার এলো ৩০টা। ৪টা ফেরত এলো, ডেলিভারি হলো ২৬টা। প্রতিটা ডেলিভারিতে থাকে ৩৮০ − ১৬০ − ২৫ = ১৯৫ টাকা, ২৬টায় ৫,০৭০ টাকা। বাদ যাবে অ্যাডের ৪,০০০, COD চার্জ প্রায় ১৩০, আর ফেরতের ৪ × ১৬৫ = ৬৬০ টাকা। এক সপ্তাহ পথে ঘুরে আসা আচার আর বেচা ঠিক না, তাই ওই ৪টা বয়ামের ৭৪০ টাকাও লস। মাস শেষে হিসাব দাঁড়ায় ৪৬০ টাকা ক্ষতি।

খাতার পাতায় দুই কলামে মোবাইল এক্সেসরিজ আর ঘরে বানানো আচারের প্রথম মাসের হিসাব, এক্সেসরিজে ৪,২৫০ টাকা থাকে আর আচারে ৪৬০ টাকা ক্ষতি, পাশে দ্বিতীয় মাসে আচারের ৭টা রিপিট অর্ডারের কথা
প্রথম মাসে এক্সেসরিজ এগিয়ে, কিন্তু দ্বিতীয় মাসে আচারের পুরনো কাস্টমাররা ফিরে আসতে পারেন

প্রথম মাস দেখে মনে হবে আচার একটা ভুল আইডিয়া। কিন্তু দ্বিতীয় মাসটা দেখুন। ধরুন আচারের ২৬ জন কাস্টমারের ৭ জন ফোন পেয়ে আবার অর্ডার দিলেন। এই ৭টা অর্ডারে অ্যাডের এক টাকাও লাগেনি, তাই COD চার্জ বাদে প্রায় ১,৩৩০ টাকা পুরোটাই থাকে। এক্সেসরিজের কাস্টমার পরের মাসে সাধারণত আরেকটা কেবল কেনেন না, তাই সেখানে দ্বিতীয় মাসও চলে অ্যাডের টাকায়।

তাই এক মাস দেখে কোনো আইডিয়া বাতিল বা পাকা করবেন না। তিন মাস দেখুন, কোনটায় টাকা আর কাস্টমার দুটোই জমছে। তবে আচারের সেলারকে প্রথম মাসেই অর্ডারপ্রতি অ্যাডের খরচ কমাতে হবে। নইলে রিপিট অর্ডার আসার আগেই পুঁজি ফুরিয়ে যাবে।

আইডিয়া ঠিক হলে এই সপ্তাহে কী করবেন?

আজ একটা কাগজে তিনটা লাইন লিখুন। হাতে কত টাকা আছে যেটা হারালেও সংসার চলবে, দিনে কত ঘণ্টা দিতে পারবেন, আর কোন কাজটা আপনি অন্যদের চেয়ে ভালো পারেন। তারপর ওপরের টেবিল থেকে দুটো আইডিয়া বাছুন, বারোটা না। ধার করা টাকায় স্টক কিনবেন না। প্রথম কয়েক মাস ফেরত আর অ্যাডে টাকা যায়, আর ধারের চাপে মানুষ তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।

খাবার বা কসমেটিক বাছলে বিক্রি শুরুর আগেই রেজিস্ট্রেশন আর লাইসেন্সের খোঁজ নিন। তারপর দশ পিস দিয়ে শুরু করে ছোট বাজেটের অ্যাডে প্রোডাক্টটা টেস্ট করুন। টেস্টের সময় অর্ডারের সংখ্যা না দেখে দেখুন প্রতিটা ডেলিভারিতে অ্যাডে কত গেল, আর কয়টা পার্সেল ফেরত এলো। এই দুটো সংখ্যা মাস শেষে লাভ রাখছে কি না, ওপরের উদাহরণের মতো গুনে দেখুন।

কোন আইডিয়া নেবেন সেটা আপনার সিদ্ধান্ত, কিন্তু অর্ডার নেওয়া থেকে পাঠানো পর্যন্ত কাজটা প্রায় সবগুলোতে একই। WinningSeller-এ AI দিয়ে ৫ মিনিটে একটা ল্যান্ডিং পেজ বানানো যায়, আর Steadfast, Pathao, RedX-সহ ৬টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল দেওয়া যায়। নতুন নম্বর থেকে অর্ডার এলে নম্বর দিয়ে ফ্রড চেক করে নিতে পারেন। মাস শেষে লাভ-ক্ষতিও গোনা হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, ঠিক ওপরের উদাহরণের মতো। বাকি ফিচার এখানে দেখুন, আর নিজের প্রথম আইডিয়াটা চালিয়ে দেখতে পারেন (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম)।

সাধারণ প্রশ্ন

অল্প টাকায় কোন অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায়?

মোবাইল এক্সেসরিজ, বই, হাতের কাজ, ঘরে বানানো আচার বা লোকাল সাপ্লায়ারের প্রোডাক্ট রিসেলিং অল্প টাকায় শুরু করা যায়। এগুলোতে প্রথম স্টক ৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব, অ্যাডের টাকা আলাদা। তবে অল্প পুঁজির ব্যবসাতেও ফেরত পার্সেলের খরচ ধরে তারপর লাভ গুনতে হয়।

ঘরে বসে কোন অনলাইন ব্যবসা করা যায়?

যে জিনিস ঘরেই বানানো বা প্যাক করা যায়, সেই ব্যবসা ঘরে বসে ভালো চলে। যেমন আচার, মসলা, কেক, নকশিকাঁথা, নাম লেখা গিফট, আর অর্ডার ধরে বই কিনে পাঠানো। খাবারের ব্যবসা হলে শুরুর আগে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশনের নিয়মটা জেনে নিন।

১০ হাজার টাকায় কি অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায়?

যায়, যদি প্রোডাক্ট হালকা হয় আর প্রথমে অল্প পিস কেনেন। বই, আচার, হাতের কাজ বা রিসেলিংয়ে ১০ হাজার টাকায় স্টক আর প্রথম কয়েক দিনের অ্যাড দুটোই হয়ে যেতে পারে। পুরো টাকা স্টকে ঢালবেন না, কারণ অ্যাড আর ফেরত পার্সেলের খরচের জন্যও হাতে টাকা রাখতে হয়।

কোন অনলাইন ব্যবসায় লাভ সবচেয়ে বেশি?

এর একটা নির্দিষ্ট উত্তর নেই। লাভ নির্ভর করে কুরিয়ার, ফেরত আর অ্যাডের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটা ডেলিভারিতে কত থাকে তার ওপর। সাধারণত যে প্রোডাক্ট মানুষ ফুরিয়ে গেলে আবার কেনেন, যেমন খাবার, স্কিনকেয়ার বা বই, সেখানে দ্বিতীয় অর্ডারে অ্যাড লাগে না বলে লম্বা সময়ে লাভ বেশি থাকে।

অনলাইনে খাবার বিক্রি করতে কি লাইসেন্স লাগে?

হ্যাঁ, লাগে। খবর অনুযায়ী ১৬ জুলাই ২০২৬-এর গেজেটে আসা নতুন প্রবিধানমালায় খাবারের প্রায় সব ব্যবসাকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হয়েছে, আর ট্রেড লাইসেন্স তো লাগেই। মধু, ঘি, আচার, কেক আর মসলার গুঁড়া BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টে আছে, তাই নিজের লেবেলে বেচলে BSTI-র CM লাইসেন্সও লাগে।

কোন অনলাইন ব্যবসায় এখন প্রতিযোগিতা কম?

হাতের কাজ, নিজের জেলার বিশেষ জিনিস, নির্দিষ্ট ধরনের বই আর নাম লেখা গিফটে ভিড় তুলনামূলক কম দেখা যায়। থ্রি-পিস, স্মার্টওয়াচ, মধু আর কসমেটিকে অনেক পেজ একসাথে অ্যাড দেয়। ভিড়ের প্রোডাক্টেও ঢোকা যায়, যদি ছোট একটা কাস্টমার দল বেছে নিয়ে শুধু তাঁদের জন্য বেচেন।

#অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া#অল্প পুঁজিতে ব্যবসা#ঘরে বসে ব্যবসা#হোমমেড খাবার#ক্যাশ অন ডেলিভারি#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়