বই বেচে লাভ থাকে? অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা, বাংলাবাজার থেকে কুরিয়ার
কোন ধরনের বই দিয়ে শুরু করবেন, বাংলাবাজারে প্রকাশক আর পাইকারের কাছ থেকে কীভাবে কিনবেন, নকল ছাপা কীভাবে চিনবেন, আর কুরিয়ারের ওজনের হিসাবে একক বই আর সেটে কত থাকে, টাকার উদাহরণসহ।

এই লেখায় যা আছে
- অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা কোন বই দিয়ে শুরু করবেন, সব বই কেন না
- বাংলাবাজার আর প্রকাশকের কাছ থেকে কেনা, ছাড় কেমন পান
- নতুন না পুরাতন বই, নীলক্ষেতে কী পাবেন
- নকল প্রিন্ট চিনবেন কীভাবে, আর বেচলে কী ঝুঁকি
- কুরিয়ারে বইয়ের ওজন আর খরচ, লাভ কোথায় যায় (উদাহরণ)
- বই প্যাক করার নিয়ম, পানি আর কোণ বাঁচিয়ে
- সেট, প্রি-অর্ডার আর বইমেলার মৌসুম
- বইয়ের ফেরত আর "পাতা ছেঁড়া" অভিযোগ সামলাবেন যেভাবে
- বইয়ের ব্যবসা কার জন্য না
- আজই করে ফেলুন
অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা শুরুর সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো এক ধরনের বই বেছে নেওয়া, যেমন বাচ্চাদের ছবির বই, ইসলামি বই বা ভর্তি পরীক্ষার বই। তারপর সেগুলো বাংলাবাজারের প্রকাশক বা পাইকারের কাছ থেকে ছাড়ে কিনে ফেসবুক পেজ বা নিজের ওয়েবসাইটে বেচুন। লাভ থাকে, তবে পাতলা। প্রতি বইয়ে লাভ বেশি না, আর বই ভারী বলে কুরিয়ার চার্জ সেই লাভের বড় অংশ খেয়ে ফেলে। তাই এই ব্যবসায় আসল টাকাটা আসে সেট বেচে, আর বাকিটা বাঁচে ওজন মেপে প্যাক করলে। একটা লাইন কখনো পার হবেন না, নকল ছাপা বই বেচবেন না।
ধরুন রাত এগারোটায় ইনবক্সে একজন লিখলেন, "ভাই, ক্লাস টুর ছেলের জন্য ছবিওয়ালা গল্পের বই কী আছে? ডেলিভারি কত?" আপনি দাম বললেন, ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জও বললেন। তারপর আর উত্তর এলো না। বইয়ের সেলারদের সাথে এটা প্রায় রোজ হয়। মানুষ বই চান, কিন্তু তিনশো টাকার একটা বইয়ের সাথে একশো টাকার বেশি ডেলিভারি শুনে থেমে যান। নিচে বই বাছা থেকে টাকার হিসাব পর্যন্ত পুরো কাজটা বলছি।
অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা কোন বই দিয়ে শুরু করবেন, সব বই কেন না
শুরুতে মনে হয়, যত বেশি টাইটেল তত বেশি অর্ডার। আসলে উল্টোটা হয়। সব রকম বই রাখলে কাস্টমার আপনাকে কোনো কিছুর দোকান হিসেবে মনে রাখেন না, আর আপনিও "এটা ক্লাস থ্রির জন্য ঠিক হবে?" প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না। অথচ বইয়ের বিক্রি আসে ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর থেকে।
প্রথম মাসে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। প্রকাশকদের পেজ থেকে শত শত বইয়ের মলাটের ছবি তুলে নিজের পেজে পোস্ট করে দেন। তারপর ইনবক্সে এমন সব বইয়ের অর্ডার আসে যেগুলো হাতে নেই। একটা বইয়ের জন্য অর্ধেক দিন বাংলাবাজার ঘুরতে হয়, অথচ সেই বইয়ে লাভ বড়জোর চল্লিশ-পঞ্চাশ টাকা। আমি সবাইকে একটা কথা বলি, শুরুতে বিশ-ত্রিশটা টাইটেলের একটা ছোট তাক বানান, যেগুলো আপনি চেনেন আর যেগুলোর জোগান নিয়মিত পাবেন।
তিনটা দল বাংলাদেশে বেশ চলে, প্রতিটার কাস্টমার আলাদা প্রশ্ন করেন। বাচ্চাদের বইয়ের কাস্টমার সাধারণত বাবা-মা। তাঁরা জানতে চান কোন বয়সের জন্য, ছবি কেমন, কাগজ মোটা কি না, আর তাঁরা প্রায়ই একসাথে কয়েকটা নেন। ইসলামি বইয়ের কাস্টমার জানতে চান কোন প্রকাশনীর, কার অনুবাদ, হার্ডকভার কি না। ভুল সংস্করণ গেলে তাঁরা বই ফেরত দেন। ভর্তি বা চাকরির প্রস্তুতির বইয়ে চাহিদা হঠাৎ বাড়ে আর হঠাৎ কমে, আর গত বছরের সংস্করণ কেউ নিতে চান না। এখানে বেশি স্টক রাখলে সিজন শেষে কেজি দরে বেচতে হতে পারে।
কোন দলটা নেবেন, সেটা ঠিক করার আগে এক সপ্তাহ বইয়ের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে মানুষ কী খোঁজেন সেটা খাতায় লিখুন। কোন বইয়ের নাম বারবার আসছে, কোন প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না, সেটাই আপনার শুরু। অন্য কোন আইডিয়াগুলো COD-তে চলে, সেটা দেখতে চাইলে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়ার লেখাটা পড়ে নিন।
বাংলাবাজার আর প্রকাশকের কাছ থেকে কেনা, ছাড় কেমন পান
পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে দুই রকম জায়গা পাবেন। প্রকাশকের নিজের সেলস সেন্টার, যেখানে শুধু ওই প্রকাশনীর বই থাকে, আর পাইকারি বইয়ের দোকান, যেখানে অনেক প্রকাশকের বই এক জায়গায় মেলে। নতুন আর জনপ্রিয় টাইটেল প্রকাশকের কাছ থেকে নিন, কারণ সেখানে নকল কপি মিশে যাওয়ার ভয় সবচেয়ে কম। অল্প অল্প করে অনেক প্রকাশকের বই লাগলে পাইকারি দোকান সময় বাঁচায়।
সব বইয়ে একই ছাড় নেই। প্রকাশক, টাইটেল আর কত কপি নিচ্ছেন, তার ওপর ছাড় বদলায়। নতুন বের হওয়া চালু বইয়ে ছাড় সাধারণত কম থাকে, পুরনো টাইটেলে বেশি। নগদে কিনলে আর বাকিতে কিনলেও হিসাব আলাদা হয়। তাই প্রথমবার গিয়ে চারটা প্রশ্ন করুন। এই টাইটেলগুলোতে ট্রেড ডিসকাউন্ট কত? কত কপি নিলে ছাড় বাড়ে? ছাপার ভুল থাকা কপি বদলে দেন কি না? আর পরে ফোনে অর্ডার দিলে কেউ পার্সেল করে দেন কি না? উত্তরগুলো সেখানে দাঁড়িয়েই খাতায় লিখে নিন, কারণ তিন প্রকাশকের কথা মাথায় মিশে যায়।
কাউন্টারে দাঁড়িয়েই প্রতিটা কপি হাতে নিয়ে দেখুন। বাঁধাই ঠিক আছে কি না, মলাটে দাগ বা ভাঁজ আছে কি না, আর বইটা দ্রুত উল্টে দেখুন কোনো অংশ বাদ পড়েছে বা দুবার ছাপা হয়েছে কি না। একটা ক্যাশ মেমো চেয়ে নিন, যাতে টাইটেল, কপির সংখ্যা আর রেট লেখা থাকে। ছাপার ভুল বই বদলাতে গেলে এই মেমোটাই আপনার প্রমাণ। বাসায় ফিরে দেখলেন দুটো কপির মাঝখানে পাতা নেই, তখন মেমো না থাকলে অনেক সময় তর্কই সার হয়।

যাওয়ার দিনটাও ঠিক করে যান। desh.tv-র ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুক্রবারের বন্ধ এলাকার লিস্টে বাংলাবাজারের নাম আছে, আর শনিবারেও কিছু দোকান বন্ধ থাকতে পারে। তাই যাওয়ার আগে চেনা দোকানে একটা ফোন দিয়ে নিন। সাথে একটা বড় ব্যাগ আর একটা পলিথিন রাখুন, কারণ রিকশায় হঠাৎ বৃষ্টি নামলে বইয়ের মলাট সবার আগে নষ্ট হয়।
অনেক সেলার ঘরে স্টক রাখেন না। অর্ডার জমলে পরের দিন বাংলাবাজার গিয়ে কিনে পাঠান। এভাবে চালালে পেজে আর প্রোডাক্টের বর্ণনায় পরিষ্কার লিখে দিন, "অর্ডারের পরের দিন সংগ্রহ করে পাঠাই, তাই ডেলিভারিতে এক দিন বেশি লাগে।" না লিখলে দ্বিতীয় দিনে কাস্টমার ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেন পার্সেল কোথায়, আর কেউ কেউ অর্ডার বাতিল করে অন্য জায়গা থেকে কিনে ফেলেন। আর প্রকাশকের স্টকেও বই শেষ হয়, তাই বইটা পাওয়া যাবে কি না না জেনে অর্ডার কনফার্ম করবেন না।
নতুন না পুরাতন বই, নীলক্ষেতে কী পাবেন
সেকেন্ড হ্যান্ড বইয়ের জন্য ঢাকার সেলাররা সাধারণত নীলক্ষেতে যান। পুরাতন বইয়ে কেনার দাম কম, তাই প্রতি কপিতে লাভ নতুন বইয়ের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। ছাত্ররা কম দামে দরকারি বই খোঁজেন, আর পুরনো বই জমান যাঁরা, তাঁরা খোঁজেন এখন আর ছাপা হয় না এমন বই।
কিন্তু এখানে কাজের ধরন আলাদা। নতুন বইয়ের সব কপি একই রকম, পুরাতন বইয়ের প্রতিটা কপি আলাদা। তাই প্রতিটা কপির নিজের ছবি তুলতে হয়, আর অবস্থা সত্যি করে লিখতে হয়, যেমন "প্রায় নতুন", "প্রথম পাতায় নাম লেখা", "কিছু লাইনে দাগানো" বা "মলাটের কোণা ভাঁজ"। পুরাতন বইয়ে ফেরতের সবচেয়ে বড় কারণ হলো "ছবির সাথে মেলে না"। দাগের কথা আগে বললে কাস্টমার রাজি হয়েই নেন, পরে দেখলে ভাবেন ঠকেছেন।
এক কপি বিক্রি হলে সাথে সাথে পোস্ট বা লিস্ট থেকে সরিয়ে দিন। না সরালে একই কপির দুটো অর্ডার আসে, আর যাঁকে না বলতে হয় তিনি সাধারণত আর ফেরেন না।
নীলক্ষেতে যাওয়ার আগে দিনটা দেখে নিন। desh.tv-র ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মঙ্গলবারের বন্ধ এলাকার লিস্টে নীলক্ষেতের নাম আছে।
নকল প্রিন্ট চিনবেন কীভাবে, আর বেচলে কী ঝুঁকি
নকল ছাপা বই চিনতে ল্যাব লাগে না, হাত আর চোখই যথেষ্ট। একটা আসল কপি পাশে রাখলে পার্থক্য আরও সহজে ধরা পড়ে।
- একটা পাতা আলোর দিকে ধরুন। নকল কপির কাগজ সাধারণত পাতলা আর ধূসর বা লালচে হয়, উল্টো পাশের লেখা পর্যন্ত দেখা যায়।
- অক্ষরগুলো কাছ থেকে দেখুন। নকল ছাপায় কিনারা ঝাপসা থাকে, কালি কোথাও মোটা কোথাও হালকা পড়ে। ভেতরে ছবি থাকলে সেটা কালচে আর ঘোলা লাগে, যেন কেউ স্ক্যান করে ছেপেছে।
- বইটা মাঝখান থেকে খুলে টেবিলে চেপে রাখুন। শুধু আঠায় লাগানো নকল বাঁধাইয়ে প্রায়ই দু-একটা পাতা আলগা হয়ে আসে।
- মলাটের রং আসল কপির পাশে রেখে মেলান, আর কোণায় নখ দিয়ে দেখুন ল্যামিনেশন উঠে আসে কি না। দাম যদি ট্রেড রেটের চেয়েও অনেক কম হয়, ধরে নিন কোথাও গোলমাল আছে।

সবচেয়ে ভালো বাঁচার উপায় হলো প্রকাশকের নিজের সেলস সেন্টার বা তাঁদের চেনা পরিবেশকের কাছ থেকে মেমোসহ কেনা।
এবার আইনের কথা। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Laws of Bangladesh সাইটে কপিরাইট আইন ২০২৩-এর যে লেখা আছে, তার ৬৯ ধারায় কপিরাইট লঙ্ঘনের মধ্যে কর্মটি বিক্রি করা, বিক্রির ব্যবস্থা করা আর বিক্রির প্রস্তাব দেওয়াও ধরা আছে। মানে "আমি তো ছাপাইনি, শুধু বেচেছি" বলে পার পাওয়ার কথা আইনে নেই। একই আইনের ৮৪ ধারায় বলা আছে, যে লঙ্ঘনের জন্য আইনে আলাদা শাস্তি লেখা নেই, তাতে সর্বোচ্চ ৪ বছর জেল আর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আপনার কোন কাজে ঠিক কোন ধারা খাটে, সেটা একজন আইনজীবী ভালো বলবেন।
আইনের বাইরেও হিসাবটা সোজা। একজন কাস্টমার কমেন্টে "ভাই, বইটা তো নকল" লিখলে পেজের পুরো বিশ্বাস নড়ে যায়, আর বইয়ের গ্রুপে কথা ছড়ায় দ্রুত। এই এক জায়গায় আমি কোনো আপস করতে বলি না, সস্তা জোগান যত লোভনীয়ই লাগুক।
কুরিয়ারে বইয়ের ওজন আর খরচ, লাভ কোথায় যায় (উদাহরণ)
বইয়ের ব্যবসায় লাভ সবচেয়ে চুপচাপ হারায় কুরিয়ারে। কাপড়ের পার্সেল আধা কেজির নিচে থাকে, কিন্তু তিনটা হার্ডকভার প্যাক করলে সহজেই দেড় কেজি হয়ে যায়। আর কুরিয়ার চার্জ ধরে প্যাকেটসহ ওজনে, বইয়ের ওজনে না। নতুন সেলাররা প্রায়ই বইটা একা মেপে দাম লেখেন, তারপর কুরিয়ারের পেমেন্টের হিসাবে প্রতি পার্সেলে বিশ টাকা বেশি কাটা দেখে অবাক হন।
ভালো খবর হলো, Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে সাধারণ পার্সেলের পাশাপাশি "Book" নামে আলাদা একটা অপশন আছে, আর তাতে চার্জ কম দেখায়। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা সিটি থেকে হোম ডেলিভারিতে ক্যালকুলেটর এই চার্জগুলো দেখিয়েছে।
| প্যাকেটসহ ওজন | ঢাকা সিটির ভেতরে (Book) | ঢাকা থেকে রংপুর (Book) | ঢাকা থেকে রংপুর (সাধারণ পার্সেল) |
|---|---|---|---|
| ১.২ কেজি পর্যন্ত | ৫৫ টাকা | ৯৫ টাকা | ১৩৫ টাকা |
| ১.৩ থেকে ২ কেজি | ৭৫ টাকা | ১১৫ টাকা | ১৫৫ টাকা |
| ২.৫ থেকে ৩ কেজি | ৯৫ টাকা | ১৩৫ টাকা | ১৭৫ টাকা |
একই পেজে লেখা আছে, এই চার্জে VAT আর ট্যাক্স ধরা নেই, পার্সেলের আকারে চার্জ বদলাতে পারে, ১% COD চার্জ আলাদা, আর চুক্তির রেটের মার্চেন্টদের বিল হয় সেই রেটে। আপনার অ্যাকাউন্টে বইয়ের পার্সেল এই রেটে বিল হবে কি না, প্রথম পার্সেলের আগে Steadfast-এর হটলাইনে জেনে নিন। অন্য কুরিয়ারকেও একই প্রশ্ন করুন।
উদাহরণ। নিচের দাম আর ছাড় একটা উদাহরণ, কোনো প্রকাশকের আসল রেট না। নিজের সংখ্যা বসিয়ে মিলিয়ে নিন। ধরুন প্রতিটা বইয়ের মলাটে লেখা দাম ৩৫০ টাকা। প্রকাশক আপনাকে ৩০% ছাড় দেন, তাই একটা বই কিনতে পড়ে ২৪৫ টাকা। আপনি একটা বই বেচেন ২৯০ টাকায়। কাস্টমার রংপুরে, ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ আপনি নেন ১২০ টাকা, আর পাঠান Steadfast-এর Book রেটে।
আগে একটা বইয়ের অর্ডার ধরুন। প্যাকেটসহ ওজন ০.৬ কেজি, তাই কুরিয়ার কাটে ৯৫ টাকা। কাস্টমার দেন ২৯০ + ১২০ = ৪১০ টাকা। COD চার্জ ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে বাকি ৩১৫ টাকার ১%, মানে প্রায় ৩ টাকা। প্যাকেটে যায় ১৫ টাকা। হাতে থাকে ৪১০ − ৯৫ − ৩ − ২৪৫ − ১৫ = ৫২ টাকা।
এবার একই কাস্টমার তিনটা পেপারব্যাকের একটা সেট নিলেন। প্যাকেটসহ ওজন দাঁড়াল ১.১ কেজি, কুরিয়ার কাটে সেই ৯৫ টাকাই। সেটের দাম রাখলেন ৮৫০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ আগের মতোই ১২০ টাকা। কাস্টমার দেন ৯৭০ টাকা। COD চার্জ (৯৭০ − ৯৫) = ৮৭৫ টাকার ১%, প্রায় ৯ টাকা। বই কিনতে গেছে ৩ × ২৪৫ = ৭৩৫ টাকা, প্যাকেটে ২৫ টাকা। হাতে থাকে ৯৭০ − ৯৫ − ৯ − ৭৩৫ − ২৫ = ১০৬ টাকা।

সেটটা যদি হার্ডকভারের হয়, হিসাব একটু বদলায়। তিনটা হার্ডকভারে প্যাকেটসহ ওজন দাঁড়াল ১.৫ কেজি, চার্জ ৯৫ থেকে হলো ১১৫ টাকা। বাকি সব এক থাকলে লাভ ১০৬ থেকে নেমে ৮৬ টাকা। ২০ টাকা ছোট শোনায়, কিন্তু এটা আপনার লাভের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এজন্য সেটের দাম লেখার আগে প্যাক করে মেপে নিন।
সবচেয়ে কষ্টের হিসাবটা হলো একক বইয়ের পার্সেল ফেরত আসা। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে লেখা আছে, পার্সেল ডেলিভারি হোক বা বাতিল, ডেলিভারি চার্জ মার্চেন্টকে দিতে হবে, তবে ফেরতের জন্য আলাদা চার্জ নেই। তাহলে ওপরের একক বইটা ফেরত এলে আপনার যায় ৯৫ টাকা কুরিয়ার আর ১৫ টাকা প্যাকেট, মোট ১১০ টাকা। এটা দুটো একক বইয়ের লাভের (৫২ × ২ = ১০৪ টাকা) চেয়েও বেশি।
এই হিসাব থেকে যা শেখার, তা হলো একক বইয়ের চেয়ে সেটে লাভ অনেক বেশি, কারণ কুরিয়ার চার্জ একবারই লাগে। আমার অভিজ্ঞতায় বইয়ের পেজ টেকে সেট দিয়ে, একক বই দিয়ে না। প্যাকেটসহ ওজন ১.২ কেজির মধ্যে রাখতে পারলে Steadfast-এর এই রেটে চার্জ এক ধাপ কম থাকে। আর একক বইয়ের অর্ডার ফোনে কনফার্ম না করে পাঠালে একটা ফেরতেই দুটো অর্ডারের লাভ চলে যায়। দামের পুরো সূত্রটা, মানে রিটার্ন আর অ্যাডের খরচ কীভাবে দামের মধ্যে ধরবেন, সেটা প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায় ধাপে ধাপে আছে।
একক বইয়ের অর্ডার কনফার্ম করার আগে নম্বরটার আগের কুরিয়ার রেকর্ড একবার দেখে নিন, তাহলেই বুঝবেন কোন অর্ডারে অগ্রিম চাইবেন।
বই প্যাক করার নিয়ম, পানি আর কোণ বাঁচিয়ে
কুরিয়ারের হাবে পার্সেলগুলো বস্তায় একটার ওপর আরেকটা পড়ে। ভারী পার্সেলের নিচে বইয়ের কোণা থেঁতলে যায়, আর বর্ষায় ভ্যানের মেঝেতে পানি জমে। বইয়ের কাস্টমার মলাটে একটা ভাঁজ দেখলেই মন খারাপ করেন, কারণ তিনি কারও হাত না পড়া নতুন কপি চেয়েছিলেন। ঝামেলা বেশি হয় শুধু পলিতে ভরা একক বইয়ে। তাই প্যাক করুন এই ক্রমে।
- প্রতিটা বই আলাদা পাতলা পলিতে বা শ্রিংক র্যাপে মুড়ুন। এতে পানি ঢোকে না, আর কাস্টমার খুলে বোঝেন কপিটায় কেউ হাত দেয়নি।
- বইয়ের চেয়ে চারদিকে এক আঙুল বড় করে দুটো কার্ডবোর্ড কাটুন, একটা ওপরে একটা নিচে। চার কোণায় কার্ডবোর্ডের ছোট ভাঁজ করা টুকরো বা কর্নার গার্ড দিন।
- কয়েকটা বই হলে সবচেয়ে বড়টা নিচে রাখুন, ফাঁক থাকলে কাগজ গুঁজে দিন, যাতে ভেতরে বই নড়াচড়া না করে।
- টেপ লাগান শুধু কার্ডবোর্ডে আর পলিতে, কখনো বইয়ের মলাটে না। মলাট থেকে টেপ তুলতে গেলে ছাপা উঠে আসে।
- শেষে কুরিয়ার পলিতে ভরে লেবেল লাগান।
প্যাক শেষ হলে দুটো জিনিস হাত দিয়ে পরীক্ষা করুন। চার কোণায় বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিন, কোণা ডেবে গেলে আরও কার্ডবোর্ড লাগবে। তারপর প্যাকেটটা কানের কাছে ধরে একটু ঝাঁকান। ভেতরে কিছু নড়ার শব্দ হলে আবার খুলে ফাঁক ভরুন।

সেট, প্রি-অর্ডার আর বইমেলার মৌসুম
সেটই এই ব্যবসার আসল লাভের জায়গা। সেট বানান কাস্টমার ইনবক্সে যে প্রশ্ন করেন সেটা ধরে। কেউ জিজ্ঞেস করলেন ক্লাস টুর বাচ্চার জন্য কী নেবেন, আপনি ওই বয়সের তিনটা গল্পের বই এক সেটে দিলেন। কেউ একটা সিরিজের প্রথম খণ্ড চাইলেন, তাঁকে পাঁচ খণ্ড একসাথে দেখালেন। কাস্টমারকে আলাদা আলাদা বই খুঁজতে হয় না, আর আপনার কুরিয়ার চার্জ লাগে একবার।
অর্ডার ফর্মে সেটগুলো পাশাপাশি দেখালে কাস্টমার নিজেই বড়টা বেছে নেন। WinningSeller-এর অর্ডার ফর্মে প্যাকেজ কার্ডের স্টাইল আছে। একই প্রোডাক্টের প্রতিটা ভ্যারিয়েন্ট একটা আলাদা কার্ড হয়ে দেখায়, যেমন "১টা বই", "৩ বইয়ের সেট" আর "৫ বইয়ের সেট"। প্রতিটা কার্ডে ছবি আর দাম থাকে, আর আপনি এক লাইন লিখে দিতে পারেন, যেমন "ডেলিভারি চার্জ একবারই"। কোণায় একটা ছোট ব্যাজও বসানো যায়, যেমন "বেশি নেওয়া"।

কার্ডের লাইনে যা লিখবেন তা যেন সত্যি হয়। "সবচেয়ে বেশি বিক্রি" লিখলে সেটা আসলেই তাই হতে হবে।
নতুন বই বের হওয়ার আগে প্রি-অর্ডার নেওয়া বইয়ের সেলারদের পুরনো কৌশল। প্রকাশক ঘোষণা দিলে পেজে জানান, আর কতজন সত্যিই নেবেন সেটা অল্প একটা অগ্রিম নিয়ে বুঝে নিন। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ অনুযায়ী যে বই টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানোর মতো হাতে নেই, তাতে এসক্রো ছাড়া দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যায় না। পুরো নিয়মটা প্রি-অর্ডারের লেখায় বিস্তারিত আছে। একটা কথা শুধু মনে রাখুন। প্রকাশক যত কপি দেবেন বলে কথা দিয়েছেন, তার বেশি প্রি-অর্ডার নেবেন না। নতুন বইয়ের প্রথম ছাপা প্রায়ই তাড়াতাড়ি শেষ হয়, তখন শেষের কয়েকজনকে টাকা ফেরত দিতে হয়।
WinningSeller-এ নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করে চালু করে নিলে অর্ডার থেকে একটা পেমেন্ট লিংক বানিয়ে অগ্রিমটা নেওয়া যায়, আর অগ্রিম অর্ডারে বসে যায়। প্রি-অর্ডারগুলোতে "প্রি-অর্ডার" নামে একটা ট্যাগ লাগিয়ে রাখলে সেগুলো হাতে থাকা বইয়ের অর্ডারের সাথে মিশে প্যাক হয়ে যায় না।
বইমেলার মৌসুম এই ব্যবসার সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। অমর একুশে বইমেলা সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে হয়, আর বেশিরভাগ নতুন বই তখনই বের হয়, তবে তারিখ প্রতি বছর এক না। বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইটের ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর খবরে ২০২৬ সালের মেলা উদ্বোধনের তারিখ ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। ২০২৭ সালের তারিখ ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে banglaacademy.gov.bd-তে দেখে তারপর প্রি-অর্ডারের তারিখ বলুন। ঢাকার বাইরের যে পাঠকেরা মেলায় আসতে পারেন না, মেলার নতুন বই তাঁদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় সুযোগ।
বইয়ের ফেরত আর "পাতা ছেঁড়া" অভিযোগ সামলাবেন যেভাবে
বইয়ের ফেরত সাধারণত চার কারণে আসে। ভুল বই বা ভুল সংস্করণ গেছে। ছাপার ভুল আছে, যেমন মাঝখানের কয়েকটা পাতা নেই বা দুবার ছাপা। পথে পানি লেগেছে বা কোণা থেঁতলে গেছে। আর চতুর্থটা, কাস্টমার পড়ে দেখলেন বইটা তাঁর ভালো লাগেনি।
প্রথম তিনটা আপনার দায়, শেষেরটা না। তাই অর্ডার নেওয়ার আগেই পেজে আর প্রোডাক্টের বর্ণনায় নিয়মটা দুই লাইনে লিখে দিন। ভুল বই, ছাপার ভুল বা পথে নষ্ট হলে বদলে দেবেন। পড়ার পর পছন্দ না হলে ফেরত নেবেন না। আর অভিযোগ থাকলে পার্সেল পাওয়ার দিনই ছবি পাঠাতে বলুন। নিয়মটা আগে লেখা থাকলে পরে তর্ক হয় না।
ছাপার ভুল ধরার সবচেয়ে সস্তা উপায় হলো প্যাক করার আগে প্রতিটা বই একবার উল্টে দেখা, এক কপিতে আধা মিনিট লাগে। ভুল কপি তখন মেমো দেখিয়ে প্রকাশকের কাছে বদলাতে পারবেন, কাস্টমারের অভিযোগের পরে না। কাস্টমারকে বলে রাখুন, রাইডার থাকতেই প্যাকেট খুলে বইটা দেখে নিতে। দরজায় দেখে নেওয়া পার্সেল নিয়ে পরে "পাতা ছেঁড়া ছিল" অভিযোগ অনেক কম আসে।

ফেরত আসা পার্সেল হাতে পেলে সাথে সাথে খুলে দেখুন। অনেক সময় ভেতরের পলি ভেজা থাকে, বা টেপ কেটে আবার লাগানো থাকে, মানে পথে কেউ খুলেছিল। মলাটে দাগ বা কোণা ভাঁজ থাকলে সেই কপি আর নতুন বলে বেচবেন না, আলাদা করে "সামান্য দাগ" লিখে কম দামে দিন। না দেখে স্টকে তুলে দিলে পরের কাস্টমারের কাছ থেকে সেই অভিযোগটাই আবার আসবে।
বইয়ের ব্যবসা কার জন্য না
নিচের কোনোটা আপনার সাথে মিললে এখনই বইয়ের দোকান খুলবেন না।
একক বইয়ে ফ্রি ডেলিভারি দিয়ে বাজার ধরার প্ল্যান থাকলে আগে হিসাবটা দেখুন। ওপরের উদাহরণের বইটায় কাস্টমার শুধু ২৯০ টাকা দিলে হাতে থাকে ২৯০ − ৯৫ − ২ (COD) − ২৪৫ − ১৫ = মাইনাস ৬৭ টাকা। মানে যত অর্ডার, তত লস। সাধারণ উপন্যাস আর বেস্টসেলারে বড় ছাড়ের দৌড়েও নামবেন না। বড় অনলাইন বুকশপগুলো সেখানে আগে থেকেই ছাড় দেয়, আপনাকে প্রায় শূন্য লাভে বেচতে হবে। আরেকটা কঠিন অবস্থা হলো ঢাকার বাইরে থাকা। নিয়মিত বাংলাবাজার যেতে না পারলে আর পার্সেল করে দেওয়ার মতো কোনো পরিবেশক না চিনলে জোগানের ঝামেলাতেই আপনার সময় চলে যাবে।
এমন হলে দুটো পথ আছে। আরও সরু একটা তাক বেছে নিন, যেখানে কাস্টমার দামের চেয়ে আপনার পরামর্শ বেশি চান। অথবা বইকে চালু দোকানের পাশের জিনিস বানান। খেলনার দোকান বাচ্চাদের ছবির বই রাখতে পারে, আতর-টুপির দোকান ইসলামি বই। তখন বইটা অন্য অর্ডারের সাথেই যায়, আলাদা কুরিয়ার চার্জ লাগে না। আর একমাত্র সস্তা জোগান যদি সন্দেহজনক ছাপা হয়, তাহলে উত্তর একটাই, শুরুই করবেন না।
আজই করে ফেলুন
- খাতায় লিখুন কোন এক ধরনের বই দিয়ে শুরু করবেন, আর সেই দলের প্রথম ২০টা টাইটেলের নাম।
- প্রতিটা টাইটেলের পাশে প্রকাশকের নাম লিখুন। বইয়ের শেষ পাতায় বা প্রকাশকের পেজে তাঁদের বাংলাবাজারের সেলস সেন্টারের নম্বর খুঁজে বের করুন।
- দুজন প্রকাশককে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করুন ট্রেড ডিসকাউন্ট কত, কত কপিতে কত, আর ছাপার ভুল কপি বদলে দেন কি না।
- ঘরের তিনটা বই ওপরের নিয়মে প্যাক করে রান্নাঘরের স্কেলে মাপুন। দেখুন ১.২ কেজির মধ্যে থাকে কি না।
- Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে "Book" বেছে আপনার কাস্টমাররা যেসব জেলায় থাকেন সেখানকার চার্জ দেখে নিন।
- ওপরের উদাহরণে নিজের দাম, ছাড় আর চার্জ বসিয়ে একক বই আর তিন বইয়ের সেটের লাভ আলাদা করে বের করুন।
একটা সৎ কথা বলে রাখি। WinningSeller আপনার হয়ে বই কেনে না, আর কুরিয়ারের "Book" রেটও বেছে দেয় না। রেট ঠিক হয় কুরিয়ারের মাপা ওজন আর তাদের সাথে আপনার চুক্তিতে। এটা দোকানের চারপাশের কাজগুলো সহজ করে। সেটগুলো প্যাকেজ কার্ডে দেখানো যায়, ৬টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল বুক হয় আর স্ট্যাটাস আপডেট আসে, আর ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে আসল লাভ-ক্ষতি দেখা যায়। সব ফিচার একসাথে এখানে দেখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
অনলাইনে বইয়ের ব্যবসায় লাভ কেমন?
প্রতি বইয়ে লাভ সাধারণত কম, কারণ প্রকাশকের ছাড় থেকেই লাভটা আসে আর কাস্টমারও মলাটের দামের চেয়ে কিছু কমে কিনতে চান। একটা বইয়ের অর্ডারে কুরিয়ার চার্জ আর প্যাকেটের খরচ বাদ দিলে অল্পই থাকে। তিন-চারটা বইয়ের সেটে ডেলিভারি চার্জ একবার লাগে বলে লাভটা চোখে পড়ার মতো হয়।
পাইকারি বই কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকার বাংলাবাজারে বেশিরভাগ প্রকাশকের সেলস সেন্টার আর বইয়ের পাইকারি দোকান আছে। নতুন টাইটেল প্রকাশকের নিজের সেলস সেন্টার থেকে কেনা সবচেয়ে নিরাপদ, আর অনেক প্রকাশকের বই এক জায়গায় পেতে পাইকারি দোকান কাজে লাগে। পুরনো আর সেকেন্ড হ্যান্ড বইয়ের জন্য সেলাররা নীলক্ষেতে যান।
নীলক্ষেত আর বাংলাবাজার কবে বন্ধ থাকে?
desh.tv-র ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মঙ্গলবারের বন্ধ এলাকার লিস্টে নীলক্ষেতের নাম আছে। একই সাইটের ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুক্রবারের লিস্টে বাংলাবাজারের নাম আছে। ছুটির দিন মাঝে মাঝে বদলায়, তাই যাওয়ার আগে চেনা দোকানে একটা ফোন দিয়ে নিন।
ফটোকপি বা নকল ছাপা বই বিক্রি করলে কী হয়?
কপিরাইট আইন ২০২৩-এর ৬৯ ধারায় কপিরাইট লঙ্ঘনের মধ্যে বিক্রি করা আর বিক্রির প্রস্তাব দেওয়াও ধরা আছে। যে লঙ্ঘনের আলাদা শাস্তি লেখা নেই, তাতে ৮৪ ধারায় সর্বোচ্চ ৪ বছর জেল আর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা লেখা আছে। শাস্তির বাইরেও একটা "নকল বই" কমেন্ট পেজের বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।
বই কুরিয়ারে পাঠাতে কত খরচ?
২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে "Book" অপশনে ঢাকা সিটির ভেতরে ১ কেজির পার্সেল ৫৫ টাকা আর ঢাকা থেকে রংপুরে ৯৫ টাকা দেখিয়েছে। প্যাকেটসহ ওজন ১.৩ কেজি হলে এই দুটো হয়ে যায় ৭৫ আর ১১৫ টাকা। এর সাথে ১% COD চার্জ আছে, আর VAT ধরা নেই।
পুরাতন বই অনলাইনে বিক্রি করা যায়?
যায়, আর প্রতি কপিতে লাভও নতুন বইয়ের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। তবে প্রতিটা কপি আলাদা, তাই প্রতিটার নিজের ছবি আর অবস্থা সত্যি করে লিখতে হয়, যেমন নাম লেখা আছে কি না, দাগানো আছে কি না। বিক্রি হওয়া কপি সাথে সাথে লিস্ট থেকে সরান, নইলে এক কপির দুটো অর্ডার আসবে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


