কাস্টমার পার্সেলের ফোন ধরেন না? অর্ডার কনফার্ম মেসেজের ৫টা রেডি SMS
কনফার্মের ফোনে রাজি হওয়া কাস্টমারও অনেক সময় ডেলিভারিম্যানের অচেনা নম্বর ধরেন না। অর্ডার পাওয়া থেকে বাতিল পর্যন্ত পাঁচটা রেডি বাংলা SMS এখানে পাবেন, প্রতিটা এক SMS-এর খরচে, কোনটায় কী লিখবেন আর কেন সেটাসহ।

এই লেখায় যা আছে
অর্ডার কনফার্ম মেসেজ হলো ছোট একটা SMS, যেটা কাস্টমারকে জানায় তাঁর অর্ডারটা দোকান পেয়েছে আর এখন কী হচ্ছে। এতে চারটা জিনিস থাকলেই চলে, দোকানের নাম, অর্ডার নম্বর, মোট টাকা আর অর্ডারের খবর। যেমন "মধুবন শপ, অর্ডার #1042 কনফার্ম। মোট 1450 টাকা, কাল কুরিয়ারে যাবে।" বাংলায় এই মেসেজটা ৬৬ অক্ষরের, তাই এক SMS-এই যায়। নিচে অর্ডার আসা থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত পাঁচটা সময়ের পাঁচটা রেডি মেসেজ দিচ্ছি। প্রতিটায় কী লিখবেন, কেন লিখবেন, আর কোন ভুলে একটা মেসেজের টাকা দুইবার কাটে, সেটাও বলছি।
এই পাঁচটা মেসেজ প্রথমে নিজের হাতে পাঠিয়ে দেখুন। কাজটা হাতে বুঝে গেলে পরে অটো করা সহজ হয়, আর কোথাও আটকালে কারণটাও নিজেই ধরতে পারবেন।
ফোনের পরেও অর্ডার কনফার্ম মেসেজ কেন পাঠাবেন?
একটা উদাহরণ ভাবুন। রাত এগারোটায় একজন ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে আপনার অ্যাড দেখলেন, পছন্দ হলো, অর্ডার দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরদিন সকালে আপনি ফোন দিলেন, তিনি ঘুম ঘুম গলায় বললেন "জি, পাঠিয়ে দেন"। তিন দিন পর দুপুরে ডেলিভারিম্যান অচেনা নম্বর থেকে ফোন দিলেন। তিনি তখন অফিসে, নম্বরটা চেনেন না, তাই ধরলেন না। ডেলিভারিম্যান আরও দুবার চেষ্টা করে পার্সেলটা ফেরত নিয়ে গেলেন। প্যাকিংয়ের খরচ, কুরিয়ারের যাওয়া-আসার চার্জ আর ওই অর্ডারের পেছনে দেওয়া অ্যাডের টাকা, সবই গেল এমন একজনের জন্য, যিনি আসলে জিনিসটা চেয়েছিলেন। এই লসটাই সবচেয়ে বেশি গায়ে লাগে।
এখানে কাস্টমার মিথ্যা বলেননি, তিনি শুধু ভুলে গিয়েছিলেন। ফোনের কথা মানুষের মাথায় থাকে এক-দুই দিন, কিন্তু SMS থেকে যায় তাঁর ফোনে। ডেলিভারিম্যানের ফোন আসার আগে তিনি যদি একটা মেসেজ দেখে থাকেন, "মধুবন শপ, অর্ডার Steadfast-এ গেছে, ফোন এলে ধরবেন", তাহলে অচেনা নম্বরটা আর অচেনা থাকে না।
SMS আপনার নিজের সময়ও বাঁচায়। প্যাকিংয়ের মাঝখানে একই কাস্টমার তৃতীয়বার ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, "ভাই, আমার পার্সেল কবে আসবে?" অনেক সেলারের দিনের একটা বড় অংশ যায় এই প্রশ্নের উত্তর দিতে। কুরিয়ারে দেওয়ার দিনই একটা মেসেজ গেলে এই ফোনের বেশিরভাগ আর আসে না, কারণ উত্তরটা তাঁর হাতে আগে থেকেই আছে।
টাকার অঙ্ক নিয়ে তর্কও কমে। ফোনে বলা "সব মিলিয়ে চৌদ্দশো পঞ্চাশ" কথাটা দরজায় এসে অনেক সময় হয়ে যায় "আমি তো বারোশো শুনেছিলাম"। মেসেজে অঙ্কটা লেখা থাকলে তর্কের জায়গা থাকে না। বাসার অন্য কেউ পার্সেল নিলেও মেসেজ দেখে টাকা রেডি রাখতে পারেন।
তবে একটা সীমাও জেনে রাখুন। SMS কনফার্ম কলের জায়গা নিতে পারে না। ফোনে কাস্টমারের গলা শুনে বোঝা যায় অর্ডারটা সত্যি কি না, মেসেজে সেটা বোঝা যায় না। কনফার্মের ফোনে কী বলবেন, তার রেডি লাইন আছে কাস্টমারের সাথে কথা বলার লেখায়। SMS-এর কাজ ফোনের পরে, ফোনে যে কথা হলো সেটা লিখে রেখে দেওয়া।
এক SMS-এ কত অক্ষর, বাংলায় খরচ বেশি কেন?
SMS কোম্পানি টাকা কাটে মেসেজ ধরে না, SMS-এর ভাগ ধরে। Alpha SMS-এর ওয়েবসাইটে লেখা আছে, বাংলায় প্রতি SMS-এ ৭০ অক্ষর আর ইংরেজিতে ১৬০ অক্ষর ধরে। কারণ বাংলা অক্ষর ইউনিকোডে যায়, তাই প্রতিটা অক্ষর বেশি জায়গা নেয়। মেসেজ এর চেয়ে লম্বা হলে কয়েক ভাগে যায়। তখন প্রতিটা ভাগের শুরুতে জোড়া লাগানোর তথ্যের জন্য কিছু জায়গা ছেড়ে দিতে হয়, ফলে বাংলায় প্রতি ভাগে ৬৭ অক্ষর আর ইংরেজিতে ১৫৩ অক্ষর আঁটে। এটা মোবাইল নেটওয়ার্কে SMS পাঠানোর সাধারণ নিয়ম।
হিসাবটা সোজা মনে হলেও এখানে একটা ফাঁদ আছে, যেটা অনেক সেলার জানেন না। চোখে আপনি যাকে একটা অক্ষর দেখেন, SMS তাকে দুই-তিনটা গোনে। "কনফার্ম" শব্দটা দেখতে ছোট, কিন্তু SMS-এর হিসাবে এটা ৭টা অক্ষর, কারণ ক, ন, ফ, আ-কার, র, হসন্ত আর ম আলাদা করে গোনা হয়। "ক্ষ" দেখতে একটা যুক্তাক্ষর, অথচ গোনা হয় ৩টা। একটা ইমোজি গোনা হয় ২টা। তাই চোখে দেখে "এটুকু তো ছোটই" ভাবলে ভুল হবে। লেখাটা কোনো SMS কাউন্টারে বা আপনার SMS প্যানেলের অক্ষর গোনার ঘরে বসিয়ে দেখে নিন।
এবার টাকার হিসাবটা দেখুন। নিচের সংখ্যাগুলো উদাহরণ। ধরুন মাসে আপনার ৩০০ অর্ডার আসে, আর প্রতিটা অর্ডারে গড়ে চারটা মেসেজ যায়। তাহলে মাসে ১,২০০টা মেসেজ। প্রতি SMS-এর রেট ধরুন ৪০ পয়সা, তাহলে খরচ ৪৮০ টাকা। এবার ধরুন মেসেজগুলো একটু লম্বা লিখেছেন, আর প্রতিটা দুই SMS হয়ে গেছে। একই অর্ডার, একই কথা, অথচ খরচ দাঁড়াল ৯৬০ টাকা। কয়েকটা বাড়তি শব্দের জন্য মাসে প্রায় পাঁচশো টাকা বেশি চলে গেল।
আরেকভাবেও দেখতে পারেন। ধরুন একটা ফেরত পার্সেলে আপনার ১৩০ টাকা যায়। তাহলে মাসের ৪৮০ টাকার SMS খরচ মোটামুটি চারটা ফেরত পার্সেলের সমান। মেসেজ দেখে মাসে চারজন কাস্টমারও যদি ডেলিভারিম্যানের ফোন ধরেন, খরচটা উঠে আসে। কোন কোম্পানির রেট কত, মাস্কিং আর নন-মাস্কিং কী, সেসব বাল্ক এসএমএসের লেখায় টেবিলসহ দেওয়া আছে।
খরচ বাঁচাতে পুরো মেসেজ ইংরেজিতে লেখার কথা মনে আসতে পারে। সেটা করবেন না। MiM SMS-এর ওয়েবসাইটে BTRC-র যে নির্দেশনার কথা আছে, তাতে ৭ মার্চ ২০২২ থেকে লেনদেন আর নোটিফিকেশনের বাল্ক SMS-ও বাংলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। অর্ডার নম্বর, ফোন নম্বর, টাকার অঙ্ক আর লিংক ইংরেজিতে থাকতে পারে। তাই বাংলাতেই লিখুন, শুধু ছোট করে লিখুন।
৫টা রেডি SMS, কখন কোনটা পাঠাবেন?
নিচের মেসেজগুলো "মধুবন শপ" নামে লেখা, নামটা ৮ অক্ষরের। আপনার দোকানের নাম লম্বা হলে অন্য কোথাও থেকে দুই-চারটা অক্ষর কেটে নিন। প্রতিটা মেসেজের পাশে লেখা অক্ষরের সংখ্যা SMS-এর হিসাবে গোনা, চোখের হিসাবে না। 01XXXXXXXXX-এর জায়গায় নিজের নম্বর বসালেও অক্ষর এগারোটাই থাকে, তাই হিসাব একই থাকবে।

১. অর্ডার পাওয়ার পর
"মধুবন শপ, অর্ডার #1042 পেয়েছি। মোট 1450 টাকা। একটু পরে কল দিচ্ছি।" (৬৬ অক্ষর, ১ SMS)
এই মেসেজ যায় কাস্টমার অর্ডার দেওয়ার সাথে সাথেই। এর আসল কাজ আপনার কনফার্মের ফোনটাকে চেনা করে দেওয়া। অনেকে অচেনা নম্বর ধরেন না, কিন্তু একটু আগে দোকানের নামে মেসেজ পেলে পরের ফোনটা ধরেন। "একটু পরে কল দিচ্ছি" লাইনটা তখনই রাখবেন, যখন সত্যিই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফোন দেন। রাতের অর্ডারে যদি সকালে ফোন দেন, তাহলে লিখুন "সকালে কল দেব"।
২. কনফার্মের পর
"মধুবন শপ, অর্ডার #1042 কনফার্ম। মোট 1450 টাকা, কাল কুরিয়ারে যাবে।" (৬৬ অক্ষর, ১ SMS)
ফোনে কাস্টমার রাজি হলে এটা পাঠান। ফোনে যে টাকার কথা হলো, সেটা এখন লেখা হয়ে রইল। "কাল কুরিয়ারে যাবে" তখনই লিখবেন, যখন আপনি সত্যিই পরদিন পাঠান। কথা রাখতে না পারলে এই লাইনটাই কাস্টমারের রাগের কারণ হবে। দিন ঠিক না থাকলে লিখুন "শীঘ্রই কুরিয়ারে যাবে", তাতে মেসেজটা ৬৯ অক্ষরের হয়, এক SMS-এই থাকে।
৩. কুরিয়ারে দেওয়ার পর
"মধুবন শপ, অর্ডার #1042 Steadfast-এ গেছে। ফোন এলে ধরবেন, 1450 টাকা।" (৬৬ অক্ষর, ১ SMS)
পাঁচটার মধ্যে এটাই সবচেয়ে কাজের, কারণ ডেলিভারিম্যানের ফোন ধরা হবে কি না, সেটা অনেকটা এই মেসেজের ওপর নির্ভর করে। কুরিয়ারের নাম লিখুন, কারণ কাস্টমারের ফোনে কল আসবে আপনার নম্বর থেকে না, কুরিয়ারের লোকের নম্বর থেকে। টাকার অঙ্কটা আবার লিখুন, যাতে তিনি টাকা হাতের কাছে রাখেন।
অনেকে এই মেসেজে ট্র্যাকিং লিংক দেন। দিতে পারেন, কিন্তু জেনে রাখুন, একটা লিংক একাই প্রায় আধা SMS জায়গা নেয়। ধরুন লিংকটা ৩৩ অক্ষরের, তাহলে ওপরের মেসেজে যোগ করলেই সেটা ৭০ পেরিয়ে দুই SMS হয়ে যায়। আপনার কাস্টমাররা লিংক খুলে দেখেন কি না, সেটা আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। না খুললে লিংক বাদ দিন, এই মেসেজের খরচ অর্ধেক হয়ে যাবে।
৪. ডেলিভারির পর
"মধুবন শপ, অর্ডার #1042 পেলেন? ধন্যবাদ। সমস্যা হলে কল দিন 01XXXXXXXXX" (৬৮ অক্ষর, ১ SMS)
পার্সেল হাতে পৌঁছানোর দিন এটা পাঠান। এখানে বিক্রির কোনো কথা নেই, আছে শুধু ধন্যবাদ আর একটা নম্বর। কোনো সমস্যা হলে কাস্টমার পেজে খারাপ কমেন্ট না লিখে আগে আপনাকে ফোন দেন, এটাই এই মেসেজের লাভ। ডেলিভারির কয়েক দিন পরে প্রোডাক্ট কেমন লাগল জানতে ফোন দেওয়া আর আবার বিক্রির কথা বলা আলাদা কাজ, সেটা পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় পুরো স্ক্রিপ্টসহ আছে।
৫. বাতিল হলে
"মধুবন শপ, অর্ডার #1042 বাতিল হয়েছে। ভুল হলে কল দিন 01XXXXXXXXX" (৬৩ অক্ষর, ১ SMS)
এই মেসেজটা অনেকে পাঠান না, অথচ এটা দরকারি। কখনো কখনো আপনার দিক থেকে ভুল করে অর্ডার বাতিল হয়, কিংবা বাসার অন্য কেউ ফোন ধরে "লাগবে না" বলে দেন। মেসেজ পেলে আসল কাস্টমার সাথে সাথে ফোন দিয়ে অর্ডারটা ফিরিয়ে আনতে পারেন। আর যিনি নিজেই বাতিল করেছেন, তিনিও জেনে গেলেন বিষয়টা মিটে গেছে, কেউ আর পার্সেল নিয়ে আসবে না।
মেসেজে নাম, অর্ডার নম্বর আর টাকা বসাবেন কীভাবে?
হাতে পাঠালে কাজটা এরকম। ফোনের নোটে বা একটা ফাইলে পাঁচটা মেসেজ লিখে রাখুন। যেখানে প্রতিবার আলাদা কিছু বসবে, সেখানে ফাঁকা জায়গা রাখুন, যেমন "অর্ডার #[নম্বর]" আর "মোট [টাকা] টাকা"। প্রতিটা অর্ডারে কপি করে ফাঁকা জায়গা ভরে পাঠান। দিনে দশ-পনেরোটা অর্ডার পর্যন্ত এভাবে চলে। এর বেশি হলে কপি-পেস্টে ভুল শুরু হয়, এক কাস্টমারের টাকা আরেকজনের মেসেজে চলে যায়।
অর্ডার নম্বর মেসেজে রাখবেন কেন, সেটাও বুঝে নিন। একই নম্বর থেকে দুটো অর্ডার এলে, বা কাস্টমার ফোন দিয়ে কিছু জানতে চাইলে, নম্বরটা বললেই আপনি এক সেকেন্ডে অর্ডারটা খুঁজে পান। নম্বর না থাকলে "গত সপ্তাহে একটা মধু নিয়েছিলাম" শুনে আপনাকে খাতা ঘাঁটতে হয়।
কাস্টমারের নাম বসাবেন কি না, এখানে একটু ভাবতে হয়। নাম থাকলে মেসেজটা আপন শোনায়, কিন্তু নামটা কত লম্বা হবে সেটা আপনার হাতে নেই। "রহিম" মাত্র ৪ অক্ষর, অথচ "মোহাম্মদ আব্দুর রহমান" ২১ অক্ষর। ওপরের ৬৬ অক্ষরের মেসেজে এই নাম বসালে সেটা দুই SMS হয়ে যায়, মানে ওই কাস্টমারের মেসেজে খরচ দ্বিগুণ। তাই যে মেসেজ প্রতিটা অর্ডারে নিজে থেকে যাবে, সেখানে নাম না রাখাই নিরাপদ। হাতে পাঠানো একটা-দুটো মেসেজে নাম দিন।
টাকার অঙ্ক লিখুন সংখ্যায়, "1450 টাকা" বা "Tk 1,450"। দুটোই প্রায় সমান জায়গা নেয়। বাংলা আর ইংরেজি অঙ্ক, দুটোই এক অক্ষর করে গোনা হয়।
অটো পাঠানোর সফটওয়্যারে এই ফাঁকা জায়গাগুলোর জন্য আলাদা চিহ্ন থাকে, যেমন {total} বা {order_no}। মেসেজ যাওয়ার সময় চিহ্নের জায়গায় আসল অঙ্ক বসে যায়। অক্ষর গোনার সময় তাই চিহ্নওয়ালা লেখাটা গুনবেন না, ভরা মেসেজটা গুনবেন, কারণ কাস্টমারের ফোনে ওটাই যায়। {order_no} নিজে ১০ অক্ষর, অথচ তার জায়গায় বসা 1042 মাত্র ৪ অক্ষর।
অর্ডারের মেসেজে কোন কথা লিখবেন না?
অফার মেশাবেন না। "অর্ডার কনফার্ম হয়েছে, সাথে শীতের চাদরে ছাড় চলছে" লিখলে মেসেজটা লম্বা হয়, আর কাস্টমার শিখে ফেলেন আপনার নামের মেসেজ মানেই অফার। তখন আসল ডেলিভারির খবরটাও তিনি না পড়েই সরিয়ে দেন। অর্ডারের মেসেজ আর অফারের মেসেজ কেন আলাদা রাখবেন, সেটা বাল্ক এসএমএসের লেখায় বিস্তারিত আছে।
হুমকির সুর রাখবেন না। "পার্সেল না নিলে আপনার নম্বর ব্লক করা হবে" ধরনের লাইন ভালো কাস্টমারকেও অপমান করে। যিনি সত্যিই ফেক অর্ডার দেন, তিনি এই লাইন পড়ে থামেন না। আপনার কাজ খবর দেওয়া, ভয় দেখানো না।
যা পাকা জানেন না, তা লিখবেন না। ধরুন লিখলেন "আগামীকাল ডেলিভারি", অথচ কুরিয়ারে তিন দিন লাগল। কাস্টমার তখন আপনাকে মিথ্যাবাদী ভাবেন, কুরিয়ারকে না। সময়ের কথা লিখতে হলে কুরিয়ারে দেওয়ার দিনটা লিখুন, পৌঁছানোর দিন না।
কাস্টমারের ঠিকানা বা অন্য তথ্য লিখবেন না। নম্বরে একটা অঙ্ক ভুল হলে মেসেজটা যায় অচেনা কারও কাছে। দোকানের নাম আর অর্ডার নম্বর অন্য কেউ জানলে ক্ষতি নেই, কিন্তু কারও বাসার ঠিকানা অচেনা মানুষের ফোনে যাওয়া ঠিক না।
অচেনা নম্বরে টাকা পাঠাতে বলবেন না। "অগ্রিম 100 টাকা এই নম্বরে bKash করুন" ধরনের মেসেজ প্রতারকরাও পাঠায়, তাই মানুষ এখন এগুলো দেখলেই সন্দেহ করেন। অগ্রিম চাওয়ার কথা ফোনে বলুন, তারপর মেসেজে শুধু অঙ্কটা লিখে রাখুন।
ইমোজি আর সাজসজ্জা বাদ দিন। প্রতিটা ইমোজি দুই অক্ষর খায়, আর কিছু পুরনো ফোনে ইমোজির জায়গায় বাক্স দেখায়। ধন্যবাদ জানাতে "ধন্যবাদ" শব্দটাই যথেষ্ট।
নিজের SMS অ্যাকাউন্ট থেকে অটো পাঠাবেন যেভাবে
মেসেজ পাঠানোর রাস্তা আসলে তিনটা। সবচেয়ে সহজটা হলো নিজের মোবাইল থেকে হাতে পাঠানো। দিনে পাঁচ-দশটা অর্ডার হলে এটাই যথেষ্ট, খরচ যায় আপনার মোবাইলের প্যাকেজ থেকে। তবে মেসেজ যায় আপনার ব্যক্তিগত নম্বর থেকে, আর প্রতিটা হাতে টাইপ করতে হয়। এর পরের ধাপ বাল্ক SMS কোম্পানির প্যানেল থেকে হাতে পাঠানো। এখানে মেসেজে দোকানের নাম দেখানো যায়, কিন্তু প্রতিটা নম্বর আর লেখা বসাতে হয় নিজেকেই। আর শেষ ধাপ হলো অটো পাঠানো। এখানে আপনার অর্ডারের সফটওয়্যার SMS কোম্পানির সাথে API key দিয়ে জোড়া থাকে, আর অর্ডারের স্ট্যাটাস চেঞ্জ হলেই মেসেজ নিজে থেকে চলে যায়।
যে রাস্তাই নিন, SMS কোম্পানিতে একটা অ্যাকাউন্ট লাগবে, সাথে ব্যালেন্স। মেসেজে নম্বরের বদলে দোকানের নাম দেখাতে চাইলে Sender ID বা মাস্কিং নাম অনুমোদন করাতে হয়, আর তাতে কয়েক দিন লাগতে পারে। অটো পাঠাতে চাইলে প্যানেল থেকে API key নিতে হয়। কোন কোম্পানি নেবেন আর অ্যাকাউন্ট কীভাবে খুলবেন, তা আগে বলা বাল্ক এসএমএসের লেখাতেই আছে।
WinningSeller-এ অটো মেসেজ যায় আপনার নিজের BulkSMSBD, Alpha SMS বা MiM SMS অ্যাকাউন্ট থেকে, আর প্রতি SMS-এর টাকা কাটে আপনার SMS কোম্পানি, আপনার রেটে। প্যানেলের "SMS" পেজে "SMS কোম্পানির সংযোগ" অংশে কোম্পানি সিলেক্ট করে API key বসান, তারপর "কানেকশন টেস্ট" চাপুন। ব্যালেন্স দেখালে বুঝবেন key ঠিক আছে। এরপর "টেমপ্লেট" অংশে পাঁচটা ঘটনা পাবেন, অর্ডার এসেছে, অর্ডার কনফার্ম, কুরিয়ারে পাঠানো, ডেলিভারি হয়েছে আর অর্ডার বাতিল। লেখায় {shop}, {order_no}, {total} আর {courier} দিলে দোকানের নাম, অর্ডার নম্বর, মোট টাকা আর কুরিয়ারের নাম নিজে থেকে বসে যায়। {total} বসে "Tk 1,450" হয়ে, তাই এর পরে আবার "টাকা" লিখবেন না। কুরিয়ারে পাঠানোর শুরুর লেখায় ট্র্যাকিং লিংক দেওয়া থাকে, আপনার কাস্টমাররা লিংক না খুললে সেটা কেটে দিন। লেখার নিচেই নমুনা মেসেজটা কয় অক্ষর আর কয়টা SMS, সেটা গুনে দেখায়। শুরুতে সব টেমপ্লেট বন্ধ থাকে, আপনি একটা একটা করে চালু না করা পর্যন্ত কাস্টমারের কাছে একটা মেসেজও যায় না।

অটো চালু করার আগে পুরো রাস্তাটা একবার হাতে পরীক্ষা করে নিন, যে সফটওয়্যারই হোক। নিজের নম্বর দিয়ে একটা টেস্ট অর্ডার দিন। তারপর সেটাকে কনফার্ম, কুরিয়ারে দেওয়া আর ডেলিভারি, প্রতিটা ধাপে নিয়ে দেখুন ঠিক মেসেজটা ঠিক সময়ে এলো কি না। একবার নিজের ফোনে সব দেখে নিলে পরে আর চমকে যেতে হয় না।
অটো মেসেজে একটা ভয় সবার থাকে। কোনো ভুলে একই কাস্টমারের কাছে বারবার মেসেজ যাবে, বা রাতারাতি ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাবে। তাই যে সফটওয়্যারই নিন, দেখে নিন তাতে তিনটা বাঁধ আছে কি না। একটা অর্ডারে একই ঘটনার মেসেজ একবারের বেশি যাবে না। যে কাস্টমার মেসেজ চান না বলেছেন, তাঁর কাছে যাবে না। আর দিনে কয়টা SMS যাবে, তার একটা সীমা থাকবে। WinningSeller-এ তিনটাই আছে। কাস্টমারের খাতায় "এই কাস্টমারকে আর অফারের ফোন দেবেন না" দাগানো থাকলে তাঁর কাছে SMS যায় না। "দিনে সর্বোচ্চ SMS" সীমা শুরুতে ২০০ থাকে, সেটা পেরোলে সেদিন আর মেসেজ যায় না। এই সেটিংস চেঞ্জ করতে পারেন শুধু সেই স্টাফ, যাঁর সেটিংসে হাত দেওয়ার অনুমতি আছে। চাইলে WinningSeller-এর বাকি ফিচারগুলোও দেখে নিতে পারেন।
মেসেজ যায়নি, কারণ কী?
কাস্টমার বললেন কোনো মেসেজ পাননি। প্রথমে SMS কোম্পানির প্যানেলে ডেলিভারি রিপোর্ট খুলুন, কাস্টমারের নম্বর দিয়ে খুঁজুন। মেসেজটা আদৌ পাঠানো হয়েছে কি না, আর কোম্পানি কী জবাব দিয়েছে, সেখানেই লেখা থাকে। কারণ সাধারণত নিচের কোনো একটা হয়।
ব্যালেন্স শেষ। এটাই সবচেয়ে বেশি ঘটে, আর ঘটে একদম চুপচাপ। ঈদের আগে অর্ডার বাড়লে ব্যালেন্স হঠাৎ ফুরিয়ে যায়, কেউ খেয়ালও করেন না। সপ্তাহে একদিন ব্যালেন্স দেখার অভ্যাস রাখুন, আর ব্যস্ত সিজনের আগে বাড়তি রিচার্জ করে রাখুন।
Sender ID অনুমোদন হয়নি। মাস্কিং নাম অনুমোদনের আগে সেই নামে পাঠালে কোম্পানি মেসেজ আটকে দেয়। অনুমোদনের খবর না আসা পর্যন্ত কোম্পানির দেওয়া সাধারণ Sender দিয়ে পাঠান, নাম অনুমোদন হলে তারপর সেটা বসান।
লেখাটা কোম্পানি আটকে দিয়েছে। মাস্কিং SMS ইংরেজিতে পাঠালে কোম্পানি সেটা আটকে দিতে পারে, কারণ ওপরের নিয়মে বাংলায় পাঠানোর কথা। আবার কিছু শব্দ দেখে স্প্যাম ভেবেও আটকায়। লেখাটা বাংলা করে আবার পাঠিয়ে দেখুন।
নম্বরে ভুল। কাস্টমার ফর্মে একটা অঙ্ক কম দিয়েছেন, বা শুরুতে +88 দুবার বসে গেছে। নম্বর এগারো অঙ্কের কি না দেখুন। ভুল নম্বরের অর্ডার শুধু SMS-এ না, কুরিয়ারেও আটকায়, তাই এটা ধরা পড়লে আগে কাস্টমারকে ফোন দিয়ে নম্বর ঠিক করে নিন।
API key ভুল, বা সার্ভারের IP অনুমোদিত না। অটো পাঠালে কোনো কোনো কোম্পানি চায় যে সফটওয়্যারের সার্ভারের IP তাদের প্যানেলে whitelist করা থাকুক। key নতুন করে কপি করে বসান, আর IP-র কথা উঠলে আপনার সফটওয়্যারের সাপোর্টকে জিজ্ঞেস করুন।
কাস্টমারের ফোনে সমস্যা। ফোন বন্ধ থাকলে, নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলে বা মেসেজের জায়গা ভরা থাকলে রিপোর্টে "পাঠানো" দেখালেও পৌঁছাতে দেরি হয়। এখানে আপনার করার কিছু নেই, তখন ফোনই ভরসা।
WinningSeller-এ এই খোঁজাখুঁজি অনেকটা কমে যায়। "SMS" পেজের "পাঠানো SMS" লিস্টে প্রতিটা মেসেজের পাশে লেখা থাকে সেটা পাঠানো হয়েছে, পাঠানো হচ্ছে, নাকি যায়নি। না গেলে কারণটা বাংলায় লেখা থাকে, যেমন ব্যালেন্স শেষ হলে লেখা আসে যে SMS কোম্পানিতে ব্যালেন্স নেই, রিচার্জ করতে হবে। কোনো কাস্টমারকে আলাদা করে কিছু জানাতে হলে অর্ডারের পেজের "SMS পাঠান" বাটন থেকে নিজে লিখে পাঠাতে পারেন।
আজ একটা কাজ করুন। ওপরের পাঁচটা মেসেজ নিজের দোকানের নাম আর নম্বর বসিয়ে ফোনের নোটে লিখে রাখুন। তারপর প্রতিটা একটা অক্ষর গোনার ঘরে বসিয়ে দেখুন ৭০ পেরোল কি না। কাল থেকে অন্তত কুরিয়ারে দেওয়ার মেসেজটা প্রতিটা অর্ডারে পাঠান। এক মাস পরে মিলিয়ে দেখুন, "পার্সেল কবে আসবে" ফোন কমল কি না, আর দরজা থেকে ফেরত আসা পার্সেল আগের মাসের চেয়ে কম কি না। যেদিন দেখবেন ডেলিভারিম্যানের প্রথম ফোনেই কাস্টমার ধরে বলছেন "জি ভাই, আসেন", সেদিন বুঝবেন ছোট্ট এই মেসেজটার দাম কত।
সাধারণ প্রশ্ন
অর্ডার কনফার্ম মেসেজে কী কী লিখতে হয়?
দোকানের নাম, অর্ডার নম্বর, মোট টাকা আর অর্ডারটার কী হলো, এই চারটা জিনিস থাকলেই যথেষ্ট। পার্সেল কবে কুরিয়ারে যাবে সেটা পাকা জানা থাকলে এক লাইনে যোগ করুন। পুরো মেসেজ বাংলায় ৭০ অক্ষরের মধ্যে রাখলে এক SMS-এর টাকাই কাটে।
অর্ডার কনফার্ম মেসেজ কি ইংরেজিতে পাঠানো যায়?
ইংরেজিতে এক SMS-এ ১৬০ অক্ষর ধরে, তাই খরচ কম পড়ে। কিন্তু MiM SMS-এর ওয়েবসাইটে BTRC-র যে নির্দেশনার কথা লেখা আছে, তাতে ৭ মার্চ ২০২২ থেকে লেনদেন আর নোটিফিকেশনের বাল্ক SMS-ও বাংলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। অর্ডার নম্বর, ফোন নম্বর, টাকার অঙ্ক আর লিংক ইংরেজিতে রাখা চলে।
ফোনে কনফার্ম করার পরেও কি SMS পাঠানো দরকার?
হ্যাঁ, কারণ ফোনের কথা দুই দিন পরে কারও মনে থাকে না, কিন্তু SMS ফোনে থেকে যায়। ডেলিভারিম্যান যখন অচেনা নম্বর থেকে ফোন দেন, কাস্টমার মেসেজ দেখে বোঝেন এটা তাঁর অর্ডারের ফোন। টাকার অঙ্কটাও লেখা থাকে, তাই দরজায় দাম নিয়ে তর্ক কম হয়।
প্রতিটা অর্ডারে পাঁচটা SMS পাঠালে মাসে কত খরচ পড়ে?
পাঁচটা সব অর্ডারে যায় না, বাতিলের মেসেজ যায় অল্প কয়েকটায়। ধরুন মাসে ৩০০ অর্ডারে গড়ে চারটা করে মেসেজ গেল আর প্রতি SMS-এর রেট ৪০ পয়সা, তাহলে মাসে ৪৮০ টাকা। প্রতিটা মেসেজ দুই SMS হয়ে গেলে খরচ দ্বিগুণ, তাই অক্ষর গোনাটা জরুরি।
SMS-এ কি কুরিয়ারের ট্র্যাকিং লিংক দেব?
দিতে পারেন, তবে একটা লিংক প্রায় আধা SMS জায়গা নেয়, ফলে বাংলা মেসেজটা সাধারণত দুই SMS হয়ে যায়। যাঁর কাস্টমাররা লিংক খুলে দেখেন, তাঁর জন্য খরচটা পোষায়। না হলে কুরিয়ারের নাম আর টাকার অঙ্ক লিখে দেওয়াই যথেষ্ট।
কাস্টমার SMS পেয়েছেন কি না বুঝব কীভাবে?
আপনার SMS কোম্পানির প্যানেলে প্রতিটা মেসেজের ডেলিভারি রিপোর্ট থাকে, সেখানে নম্বর দিয়ে খুঁজলে দেখা যায় মেসেজটা গেছে কি না। নতুন লেখা চালুর আগে নিজের নম্বরে একবার পাঠিয়ে দেখুন। আর কাস্টমার "কোনো মেসেজ পাইনি" বললে আগে নম্বরের অঙ্কগুলো মিলিয়ে নিন।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


