অনলাইনে শুটকি ব্যবসা, ভালো মাল কোথায় পাবেন আর গন্ধ আটকাবেন কীভাবে
শুটকির কাস্টমার একবার ভরসা পেলে বছরের পর বছর কেনেন, আর একটা গন্ধ ছড়ানো পার্সেল বা ওষুধ দেওয়া মাল সেই ভরসা এক দিনে ভেঙে দেয়। কোথা থেকে কিনবেন, ভালো শুটকি কীভাবে চিনবেন, ঘরে কীভাবে রাখবেন, কীভাবে প্যাক করবেন আর এক কেজিতে কত থাকে, সব এখানে।

এই লেখায় যা আছে
- অনলাইনে শুটকি ব্যবসা কেমন চলে, কারা কেনেন?
- শুটকি কোথায় তৈরি হয়, পাইকারি বাজার কোথায়?
- কীটনাশক বা ওষুধ দেওয়া শুটকি চিনবেন কীভাবে?
- ঘরে রাখবেন কীভাবে যাতে নষ্ট না হয়?
- শুটকি কুরিয়ারে পাঠাবেন কীভাবে, যাতে পথে গন্ধ না ছড়ায়?
- শুটকি বেচতে কী লাইসেন্স লাগে, প্যাকেটে কী লিখবেন?
- শুটকির এক প্যাকেটে আসলে কত লাভ থাকে?
- কখন শুটকির ব্যবসা করবেন না?
ধরুন দুপুরে বসে প্যাকিং করছেন, এমন সময় ফোনে একটা মেসেজ এলো। "ভাই, পার্সেল পেয়েছি, কিন্তু ডেলিভারির ছেলেটা মুখ কুঁচকে দিয়ে গেল, পুরো প্যাকেট থেকে গন্ধ আসছিল।" শুটকিটা হয়তো খুব ভালোই ছিল। তবু বুকের ভেতর একটা খচখচ থেকে যায়, এই মানুষটা আর অর্ডার দেবেন তো?
অনলাইনে শুটকি ব্যবসা আসলে দাঁড়িয়ে থাকে দুটো জিনিসের ওপর। একটা কাস্টমারের ভরসা, আরেকটা এমন প্যাকিং যাতে পথে গন্ধ না ছড়ায়। ছোট করে রাস্তাটা বলি। মৌসুমে চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ বা কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে মাল কিনবেন, আর কেনার আগে হাতে নিয়ে দেখবেন শুটকি শক্ত কি না, চকচক করছে কি না, গায়ে সাদা গুঁড়া আছে কি না। ঘরে রাখবেন বাতাস ঢোকে না এমন পাত্রে। পাঠাবেন দুই স্তরে সিল করে, শক্ত বাক্সে ভরে। ঢাকার বাইরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জটা আগে নেবেন। আর যিনি একবার খেয়ে খুশি হয়েছেন, তাঁর শুটকি ফুরানোর আগেই একটা ফোন দেবেন।
নিচে প্রতিটা ধাপ খুলে বলছি, কেন করবেন সেটাসহ, কারণ এই ব্যবসায় কাস্টমার হারায় ছোট ছোট ভুলেই।
অনলাইনে শুটকি ব্যবসা কেমন চলে, কারা কেনেন?
শুটকি এমন একটা খাবার, যেটা যাঁরা খান তাঁরা খুব ভালোবেসে খান। আর যাঁরা খান না, তাঁরা গন্ধটাও সহ্য করতে পারেন না। এই কারণেই অনলাইনে শুটকির কাস্টমার একটু আলাদা। আপনার অ্যাড সবাই দেখবে, কিন্তু অর্ডার দেবেন অল্প কিছু মানুষ। আর সেই অল্প মানুষগুলোই বারবার কিনবেন, যদি একবার ভরসা পান।
কারা কেনেন, একটু ভাবলেই আন্দাজ করা যায়। ঢাকা বা গাজীপুরে চাকরি করতে আসা অনেক মানুষ ছোটবেলা থেকে লইট্যা ভর্তা আর চিংড়ি শুটকির তরকারি খেয়ে বড় হয়েছেন, শহরে এসে সেই স্বাদটা খোঁজেন। শহরের অনেক পরিবার পাড়ার বাজারে ভালো শুটকি পান না, আর পেলেও মন থেকে ভরসা পান না। কেউ কেউ বিদেশে থাকা আত্মীয়ের কাছে পাঠানোর জন্য একসাথে কয়েক কেজি কিনতে চান। এঁদের সবার মনে একটাই প্রশ্ন ঘোরে, "ভাই, ওষুধ দেওয়া না তো?" এই প্রশ্নের সৎ উত্তর যিনি দিতে পারেন, মানুষ তাঁর কাছেই বারবার ফেরে।

আরেকটা কথা শুরুতেই জেনে রাখুন। শুটকি বেশিরভাগ বাসায় অল্প অল্প করে খাওয়া হয়, তাই অনেকেই আধা কেজি বা এক কেজি নিয়ে শেষ হলে আবার নেন। মানে আপনার আসল লাভটা লুকিয়ে আছে দ্বিতীয়, তৃতীয় অর্ডারে। প্রথম অর্ডারের অ্যাডের খরচ উঠতে উঠতেই লাভ প্রায় শেষ হয়ে যায়, এটা নিচের হিসাবেও দেখবেন।
শুটকি কোথায় তৈরি হয়, পাইকারি বাজার কোথায়?
সামুদ্রিক শুটকি বানানোর বড় জায়গাগুলো কক্সবাজার আর চট্টগ্রামের উপকূলে। কক্সবাজার শহরের পাশে নাজিরারটেকে সমুদ্রের ধারে বিশাল জায়গা জুড়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানো হয়, এই জায়গাগুলোকে বলে শুটকি মহাল। প্রথম আলোর ১২ নভেম্বর ২০২৪-এর প্রতিবেদনে লেখা আছে, নাজিরারটেকের মহালগুলোতে মৌসুমে দিনে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন শুটকি তৈরি হয়, আর মৌসুম চলে মোটামুটি ছয় মাস, মে পর্যন্ত।

পাইকারি কেনার জায়গা হলো চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ, স্থানীয়ভাবে যাকে শুটকি পট্টি বলে। The Business Standard ১৮ অক্টোবর ২০২৫-এর প্রতিবেদনে একে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি শুটকির বাজার বলেছে, আর লিখেছে এখানে ৪০ থেকে ৭৫ রকমের শুটকি পাওয়া যায়। মাল আসে কক্সবাজার, মহেশখালী, টেকনাফ, সুন্দরবনের দুবলার চর আর নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে। একই প্রতিবেদনে বলা আছে, বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি হয় নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে।
তাহলে কোথা থেকে কিনবেন? দুটো রাস্তা আছে, আর দুটোরই সুবিধা-অসুবিধা আছে।
একটা রাস্তা হলো মহাল থেকে সরাসরি কেনা। নাজিরারটেকে গেলে আপনি নিজের চোখে দেখতে পাবেন মাছ কীভাবে শুকানো হচ্ছে, মাচা জালে ঢাকা নাকি খোলা, মাছি কতটা বসছে। দামও এখানে একটু কম পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু একজন মহাল মালিক সাধারণত কয়েক রকমের মাছই শুকান, তাই সব জাত এক জায়গায় পাবেন না।
আরেকটা রাস্তা আসাদগঞ্জের আড়ত। এখানে এক জায়গায় অনেক রকম শুটকি পাবেন, পাশাপাশি রেখে তুলনা করে কিনতে পারবেন। কিন্তু মালটা কোথায়, কীভাবে শুকানো হয়েছে, সেটা আপনি দেখেননি, আড়তদারের কথার ওপরেই ভরসা করতে হয়। তাই প্রথমবার গিয়ে একজন আড়তদারকে বেছে নিন, তাঁর কাছ থেকেই নিয়মিত কিনুন, আর জিজ্ঞেস করুন কোন মহাল থেকে মাল আসে। নিয়মিত খদ্দেরকে আড়তদাররা সাধারণত ভালো মালটাই দেন।
ঢাকায় থাকলে বড় কাঁচাবাজারের শুটকির দোকান থেকেও শুরু করতে পারেন। তবে সেই মাল চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার ঘুরেই আসে, তাই দামে একটা হাত বেশি পড়তে পারে। শুরুতে অল্প মালে টেস্ট করার জন্য এটা খারাপ না। বিক্রি দাঁড়িয়ে গেলে একবার নিজে চট্টগ্রাম ঘুরে আসুন। মাল কোথা থেকে আসছে সেটা নিজে দেখে এলে কাস্টমারকে যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে পারবেন, সেটা অন্য কিছুতে আসে না।
আর মৌসুমটা মাথায় রাখুন। শীতের শুরুতে নতুন শুটকি আসে, তখন বাছাই করার সুযোগ বেশি। বর্ষায় শুকানো প্রায় বন্ধ থাকে, তখন যা পাবেন তা আগের মৌসুমের রাখা মাল। নতুন সেলার হিসেবে প্রথম বড় স্টকটা নভেম্বর-ডিসেম্বরে কেনাই ভালো।
কীটনাশক বা ওষুধ দেওয়া শুটকি চিনবেন কীভাবে?
এই প্রশ্নটা কাস্টমার করবেনই, তাই উত্তরটা আপনাকে সৎভাবে জানতে হবে। শুটকি রোদে শুকানোর সময় মাছি বসে, ডিম পাড়ে, আর পরে পোকা ধরে। এটা ঠেকাতে কিছু মহালে মাছে কীটনাশক ছিটানো হয়। ব্যাপারটা নতুন না, আর গবেষণাতেও ধরা পড়েছে।
Bangladesh Journal of Pharmacology-তে ২০০৮ সালে Bhuiyan ও তাঁর সহকর্মীদের একটা গবেষণা ছাপা হয়েছিল। ঢাকা আর চট্টগ্রামের বাজার থেকে ছুরি, চিংড়ি আর লইট্যা শুটকির নমুনা নিয়ে তাঁরা পরীক্ষা করেছিলেন, আর প্রতিটা নমুনাতেই DDT পেয়েছিলেন। পরে New Age-এর ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮-এর খবরে এসেছিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে আট জেলার ৯২টা শুটকির নমুনা পরীক্ষা করে ৪২টাতে কীটনাশক পেয়েছে। এগুলো কয়েক বছরের পুরনো সংখ্যা, এখনকার অবস্থা আলাদা হতে পারে। তবে ঝুঁকিটা যে আছে, সেটা পরিষ্কার।
আইনের দিকটাও জেনে রাখুন। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৩ ধারায় খাবারে শরীরের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কীটনাশক মেশানো নিষেধ, আর কীটনাশকের উদাহরণ হিসেবে সেখানে DDT-র নামই লেখা আছে। ওই ধারা এমন খাবার মজুদ রাখা আর বেচাও নিষেধ করেছে। মানে ওষুধ দেওয়া শুটকি বেচলে দায়টা আপনার ঘাড়েও আসতে পারে, শুধু যিনি শুকিয়েছেন তাঁর ওপর না।
তাহলে কেনার সময় কী দেখবেন? প্রথম আলোর নভেম্বর ২০২৪-এর ওই প্রতিবেদনে কক্সবাজারের শুটকি ব্যবসায়ী মো. মফিজ কয়েকটা লক্ষণের কথা বলেছেন। ভালো শুটকি শক্ত হবে, চাপ দিলে ভাঙবে না। চকচক করবে না। গায়ে সাদা গুঁড়ার আস্তর থাকবে না। আর গন্ধটা হবে স্বাভাবিক শুটকির গন্ধ।

এখানে একটা সৎ কথা বলি। এই লক্ষণগুলো কাজের, কিন্তু প্রমাণ না। চোখে দেখে বা শুঁকে কেউ জোর দিয়ে বলতে পারেন না শুটকিতে কীটনাশক আছে কি নেই, এটা ধরা পড়ে শুধু ল্যাবের টেস্টে। "মাছি বসলে বুঝবেন বিষ নেই" জাতীয় কথাও অনেকে বলেন, কিন্তু এটাকেও প্রমাণ হিসেবে ধরবেন না। তাই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো উৎস চেনা। যিনি জাল দিয়ে ঢেকে বা মেশিনে শুকান, তিনি সাধারণত সেটা দেখাতে খুশি হন। যিনি মাচার কাছে যেতে দিতে চান না, তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত কিনবেন না।
শুকানোর জায়গায় গেলে ফোনে কয়েকটা ছবি আর ছোট একটা ভিডিও করে আনুন। জালে ঢাকা মাচা আর মাছ উল্টানোর কাজটা যেন ভিডিওতে দেখা যায়। পেজে বা প্রোডাক্ট পেজে এগুলো দিলে কাস্টমার নিজেই বোঝেন মালটা কোথা থেকে আসছে। লম্বা লেখার চেয়ে এই এক মিনিটের ভিডিও অনেক বেশি কাজ করে।
ঘরে রাখবেন কীভাবে যাতে নষ্ট না হয়?
শুটকির সবচেয়ে বড় শত্রু ভেজা বাতাস। ভালো করে শুকানো শুটকিও বাতাস থেকে ভেজা ভাব টেনে নেয়, ধীরে ধীরে নরম হয়ে যায়, তারপর ছত্রাক বা পোকা ধরে। একবার পোকা ধরলে সেই বস্তার পুরো মাল আর বেচার মতো থাকে না। তাই ঘরে স্টক রাখার নিয়মটা প্রথম দিন থেকেই ঠিক করে নিন।
মাল আসার পর প্রথমেই বস্তা খুলে বাছাই করুন। ভাঙা টুকরো, গুঁড়া আর নরম লাগা মাছগুলো আলাদা করুন। নরমগুলো এক-দুই দিন কড়া রোদে দিয়ে শক্ত করে নিন, তারপর ঠান্ডা হলে প্যাক করুন। গরম অবস্থায় ভরলে পাত্রের ভেতর ভাপ জমে, আর সেই ভাপই পরে পানি হয়ে শুটকিকে নরম করে দেয়।
এরপর রাখুন বাতাস ঢোকে না এমন পাত্রে, যেমন ঢাকনা টাইট এমন প্লাস্টিকের বড় কৌটা বা ফুড গ্রেড জিপলক ব্যাগ। প্রতিটা পাত্রের গায়ে জাত আর কেনার তারিখ লিখে রাখুন, যাতে আগের মাল আগে বেচতে পারেন। পাত্রগুলো রাখুন মেঝে থেকে উঁচুতে, শুকনো আর ঠান্ডা ঘরে, রান্নাঘর বা বাথরুমের দেয়ালের পাশে না। বেশি দিন রাখতে হলে অনেকে ফ্রিজেও রাখেন, তবে ফ্রিজ থেকে বের করে সাথে সাথে প্যাক করবেন না, আগে ঘরের তাপমাত্রায় আসতে দিন।

সপ্তাহে একবার প্রতিটা পাত্র খুলে দেখুন। হাতে নিয়ে নরম লাগছে কি না, গায়ে সাদা বা সবুজ দাগ পড়েছে কি না, নিচে গুঁড়া জমছে কি না। নরম লাগলে সাথে সাথে রোদে দিন। বর্ষার মাসগুলোতে এই দেখাটা আরও ঘন ঘন করুন, কারণ তখনই সবচেয়ে বেশি মাল নষ্ট হয়।
একটা সহজ নিয়ম ধরে রাখুন। এক মাসে যতটা বেচতে পারবেন বলে মনে হয়, তার চেয়ে বেশি স্টক একবারে কিনবেন না, অন্তত প্রথম বছর। পাইকারের কাছে বেশি নিলে কেজিতে কিছু টাকা কম পড়ে ঠিকই। কিন্তু বর্ষায় এক বস্তা নষ্ট হলে কেজিতে বাঁচানো সেই টাকা কোথায় যে চলে যায়, টেরও পাবেন না।
শুটকি কুরিয়ারে পাঠাবেন কীভাবে, যাতে পথে গন্ধ না ছড়ায়?
শুটকির পার্সেল অন্য পার্সেলের মতো না। কুরিয়ারের গাড়িতে আপনার প্যাকেটটা থাকে আরও শত শত পার্সেলের সাথে, কাপড়, কসমেটিকস আর বইয়ের পাশে। গন্ধ বের হলে কুরিয়ারের লোক বিরক্ত হন, পাশের পার্সেলের কাস্টমার অভিযোগ করতে পারেন, আর আপনার কাস্টমার পার্সেল হাতে নিয়েই লজ্জা পান। তাই প্যাকিংয়ে কয়েক টাকা বেশি খরচ করাটা এখানে বাড়তি খরচ না, এটাই আসল কাজ।
একটা পার্সেল এভাবে স্তরে স্তরে প্যাক করুন।
- শুটকি ভরুন মোটা ফুড গ্রেড জিপলক বা ভ্যাকুয়াম ব্যাগে। হাত দিয়ে চেপে যতটা পারেন বাতাস বের করে দিন, তারপর বন্ধ করুন। ভ্যাকুয়াম সিলার থাকলে আরও ভালো।
- এই ব্যাগটা আরেকটা মোটা পলিতে ভরে হিট সিলার দিয়ে মুখ গলিয়ে বন্ধ করুন। দ্বিতীয় স্তরটাই গন্ধ আটকানোর আসল কাজ করে, কারণ জিপলকের মুখ পথে একটু খুলে যেতেই পারে।
- এবার এটা ভরুন একটা শক্ত কার্টনে। লইট্যা আর ছুরি শুটকি পলিতে পাঠালে চাপে ভেঙে গুঁড়া হয়ে যায়, আর ভাঙা শুটকি দেখে কাস্টমারের মন খারাপ হয়।
- বাক্সটা কুরিয়ারের পলিতে ভরে ওপরে লেবেল লাগান। ভেতরে ছোট একটা কাগজে লিখে দিন কীভাবে রাখবেন আর কোন তারিখে প্যাক করা।

প্যাকিং ঠিক হলো কি না, সেটা পরীক্ষা করার সহজ একটা উপায় আছে। প্রথম কয়েকটা পার্সেল প্যাক করে একটা বন্ধ ঘরে বা আলমারিতে এক দিন রেখে দিন। পরদিন দরজা খুলেই যদি গন্ধ পান, তাহলে কুরিয়ারের গাড়িতে কয়েক দিনেও পাবেন। তখন দ্বিতীয় স্তরটা আরও মোটা পলিতে করুন। বাক্স, স্টিকার আর ধন্যবাদ কার্ডের মতো সাধারণ প্যাকেজিংয়ের কথা আলাদা করে আছে প্যাকেজিং ডিজাইনের লেখায়।
প্রথম পার্সেল পাঠানোর আগেই নিজের কুরিয়ারের হাবে বা হটলাইনে জিজ্ঞেস করে নিন, তারা শুকনো খাবার নেয় কি না আর কোনো শর্ত আছে কি না। বুকিংয়ের সময় প্রোডাক্টের ঘরে "শুকনো খাবার" লিখুন, লুকাবেন না। কিছু লুকিয়ে পাঠানো পার্সেলে গন্ধ বের হলে কুরিয়ার সেটা আটকে দিতে পারে, আর তখন ফেরতের খরচও আপনার।
এবার টাকার দিকটা একটু ভাবুন। শুটকির পার্সেল ফেরত আসাটা অন্য প্রোডাক্টের চেয়ে বেশি কষ্টের। একটা জামা ফেরত এলে ভাঁজ করে আবার বেচা যায়। কিন্তু এক সপ্তাহ কুরিয়ারে ঘুরে আসা শুটকি খুলে দেখতে হয়, নরম হয়ে গেছে কি না, প্যাকেট ছিঁড়েছে কি না। অনেক সময় সেটা আর কাস্টমারকে পাঠানোর মতো থাকে না। তাই ঢাকার বাইরের অর্ডারে, বিশেষ করে প্রথমবারের কাস্টমারের বেলায়, ডেলিভারি চার্জটা আগে নিয়ে নিন। যিনি সত্যিই খেতে চান, তিনি ডেলিভারি চার্জটুকু আগে দিতে সাধারণত আপত্তি করেন না। আর যিনি শুধু দেখার জন্য অর্ডার দিয়েছিলেন, তিনি এখানেই সরে যান। bKash-এ লিংক পাঠিয়ে অগ্রিম নেওয়ার পুরো নিয়ম আছে bKash পেমেন্ট লিংকে অগ্রিম নেওয়ার লেখায়।
দিনে দুই-চারটা অর্ডারে হাতে হাতে bKash নম্বর পাঠিয়ে স্ক্রিনশট মেলানো যায়, কিন্তু অর্ডার বাড়লে এই কাজেই সন্ধ্যা পার হয়ে যায়। WinningSeller-এ "অনলাইন পেমেন্ট" পেজে নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট চালু করে নিলে অর্ডার ফর্মেই কাস্টমার শুধু ডেলিভারি চার্জ বা আপনার ঠিক করা অগ্রিম দিয়ে অর্ডার করতে পারেন, টাকা যায় সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে। ইনবক্সে আসা অর্ডার "নতুন অর্ডার" দিয়ে তুলে নিলে অর্ডারের পেজের "পেমেন্ট লিংক কপি করুন" থেকে লিংক বানিয়ে কাস্টমারকে পাঠানো যায়। চালু না করা পর্যন্ত অর্ডার ফর্ম আগের মতো শুধু ক্যাশ অন ডেলিভারিতেই চলে।
শুটকি বেচতে কী লাইসেন্স লাগে, প্যাকেটে কী লিখবেন?
শুটকি খাবার, তাই অন্য খাবারের ব্যবসার মতো এখানেও কাগজের কথা ভাবতে হবে। শুরু হয় ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে, তারপর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশন। কোন কাগজ কোথায় করবেন, কত টাকা লাগে, আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের নতুন নিয়মে কারা রেজিস্ট্রেশনের আওতায় পড়েন, সবটা ধাপে ধাপে আছে ফুড লাইসেন্সের লেখায়। এখানে সেগুলো আবার বলছি না, শুধু শুটকির বেলায় যেটুকু আলাদা সেটুকু বলি।
খোলা শুটকি কিনে নিজের নামের প্যাকেটে ভরে বেচলে প্যাকেট যিনি করছেন, লেবেলের দায়টা তাঁর, মানে আপনার। তাই প্যাকেটে বাংলায় দোকানের নাম-ঠিকানা, শুটকির জাত, নিট ওজন, প্যাক করার তারিখ আর ব্যাচ নম্বর থাকা দরকার। কোন তথ্য বাধ্যতামূলক, সেটা ওই লেখার লেবেলের অংশে প্রবিধানমালা ধরে লেখা আছে। শুটকিতে ব্যাচ মানে সহজ, একদিনে একই বস্তা থেকে যতগুলো প্যাকেট করলেন সেটা একটা ব্যাচ। কোনো কাস্টমার অভিযোগ করলে এই নম্বর দেখেই বুঝবেন কোন বস্তার মাল।
BSTI নিয়েও একটু সাবধান থাকুন। ফুড লাইসেন্সের লেখাটা লেখার সময় BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্ট মিলিয়ে দেখা হয়েছিল, তাতে শুটকির নাম পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই লিস্টে মাঝে মাঝে নতুন জিনিস যোগ হয়। তাই হাজার কপি লেবেল ছাপানোর আগে লিস্টটা একবার দেখে নিন, বা জেলা অফিসে একটা ফোন করুন। ছাপা লেবেল ফেলে দেওয়ার চেয়ে এক ফোনের খরচ অনেক কম।
শুটকির এক প্যাকেটে আসলে কত লাভ থাকে?
শুটকির দাম জাত আর সাইজে অনেক ওঠানামা করে। The Business Standard-এর অক্টোবর ২০২৫-এর ওই প্রতিবেদনে আসাদগঞ্জে লইট্যা শুটকি ৪০০ থেকে ১,২০০ টাকা কেজি, ছুরি ২০০ থেকে ২,০০০ টাকা, লাল চিংড়ি ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা আর রূপচাঁদা ২,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা কেজি লেখা ছিল। এখনকার দাম এর চেয়ে আলাদা হতে পারে, তাই কেনার আগে নিজে দাম জেনে নিন।
এবার একটা হিসাব করি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের কেনা দাম, কুরিয়ার চার্জ আর অ্যাডের খরচ বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন আপনি ৯০০ টাকা কেজি দরে ১০ কেজি লইট্যা কিনলেন, তাতে গেল ৯,০০০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনতে গেল আরও ৩০০ টাকা। বাছাই করার পর ভাঙা টুকরো আর গুঁড়া মিলে আধা কেজি আলাদা হলো, ভালো মাল থাকল সাড়ে ৯ কেজি। তাহলে ভালো মালের কেজিপ্রতি খরচ দাঁড়াল ৯,৩০০ ÷ ৯.৫ = প্রায় ৯৮০ টাকা। আপনি আধা কেজির প্যাকেট বেচেন, তাই এক প্যাকেটে শুটকির খরচ ৪৯০ টাকা।
| এক প্যাকেটের হিসাব (আধা কেজি) | টাকা |
|---|---|
| বেচার দাম (ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন) | ৮০০ |
| শুটকির খরচ | ৪৯০ |
| দুই স্তরের পলি, কার্টন আর লেবেল | ৪০ |
| ডেলিভারি হলে হাতে থাকে | ২৭০ |
এবার ধরুন অ্যাড থেকে ১০টা অর্ডার এলো, প্রতিটা অর্ডার আনতে অ্যাডে গেছে ১৫০ টাকা, মানে মোট ১,৫০০ টাকা। ৯টা ডেলিভারি হলো, তাতে এলো ৯ × ২৭০ = ২,৪৩০ টাকা। ১টা ফেরত এলো, কুরিয়ারের চার্জ আর নষ্ট প্যাকিং মিলে ধরুন ১৬০ টাকা গেল। হাতে থাকল ২,৪৩০ − ১,৫০০ − ১৬০ = ৭৭০ টাকা।
কিন্তু শুটকির হিসাব এখানেই শেষ না। ফেরত আসা প্যাকেটের শুটকি যদি নরম হয়ে যায় আর বেচার মতো না থাকে, তাহলে ৪৯০ টাকার মালও গেল। তখন দশ অর্ডারে হাতে থাকে মাত্র ২৮০ টাকা। একটা ফেরত দশ অর্ডারের লাভের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খেয়ে ফেলল। এই কারণেই ওপরে বলেছি, ঢাকার বাইরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ আগে নিন।

এবার উল্টো দিকটা দেখুন। এই ৯ জনের কেউ যদি মাসখানেক পরে আপনার একটা ফোন পেয়ে আবার আধা কেজি নেন, সেই অর্ডারে অ্যাডের এক টাকাও লাগে না। ডেলিভারি হলে পুরো ২৭০ টাকাই আপনার। মানে পুরনো কাস্টমারের দশটা অর্ডার থেকে আসতে পারে ২,৭০০ টাকা, যেখানে নতুন কাস্টমারের দশটা অর্ডার থেকে এসেছিল ৭৭০ টাকা। শুটকি যেহেতু ফুরিয়ে যায় আর মানুষ আবার খেতে চান, এই ব্যবসায় রিপিট অর্ডারই আসল লাভ।
কাকে কবে ফোন দেবেন আর ফোনে কী বলবেন, সেটা পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় পুরোটা আছে। শুটকির বেলায় একটা জিনিস যোগ করুন। প্রথম ফোনে জিজ্ঞেস করুন কোন জাতটা তাঁর বাসায় বেশি চলে, লইট্যা না চিংড়ি না ছুরি। পরের ফোনে সেই জাতের নতুন মৌসুমের মাল এসেছে কি না, সেটা দিয়েই কথা শুরু করুন।
কাস্টমার পঞ্চাশজন ছাড়ালে এটা খাতায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। WinningSeller-এর ফলোআপ কল সিস্টেমে পার্সেল ডেলিভারি হলে কাস্টমার নিজে থেকেই ফোনের লিস্টে চলে আসেন, আপনার ঠিক করা দিন পরে (শুরুতে ৭ দিন দেওয়া থাকে)। শুটকির জন্য দিনটা একটু বাড়িয়ে নিতে পারেন, কারণ আধা কেজি শুটকি এক সপ্তাহে কারও শেষ হয় না।
কখন শুটকির ব্যবসা করবেন না?
সব ব্যবসা সবার জন্য না, শুটকিও না। শুরু করার আগে নিজেকে কয়েকটা সোজা প্রশ্ন করুন, আর উত্তরটা নিজের কাছে সৎভাবে দিন।
শুটকির গন্ধ কি আপনার আর বাসার সবার সহ্য হয়? কথাটা হাসির মনে হতে পারে। কিন্তু বস্তা খোলা, বাছাই আর প্যাক করার কাজটা হবে আপনার ঘরেই, প্রায় প্রতিদিন। বাসার মানুষ বিরক্ত হলে কয়েক মাসের মধ্যে ব্যবসাটাই ঝগড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্টক রাখার মতো শুকনো, ঠান্ডা একটা কোণ কি ঘরে আছে? স্যাঁতসেঁতে ঘরে, বিশেষ করে বর্ষায়, শুটকি টেকে না। আর এক বস্তা নষ্ট হলে কয়েক সপ্তাহের লাভ এক ধাক্কায় চলে যায়।
মালটা কোথায় শুকানো হয়েছে, সেটা জানার জন্য কি সময় দিতে পারবেন? না জানলে কাস্টমারের "ওষুধ দেওয়া না তো?" প্রশ্নের সৎ উত্তর আপনি দিতে পারবেন না। সস্তায় অচেনা জায়গা থেকে কিনে বেচতে থাকলে একদিন ঠিকই এমন কাস্টমারের সামনে পড়বেন, যিনি শুটকি আপনার চেয়ে ভালো চেনেন।
আপনি কি শুধু সবচেয়ে কম দাম দিয়ে বাজার ধরতে চান? শুটকিতে দাম কমানোর সহজ রাস্তা একটাই, খারাপ মাল কেনা। এই ব্যবসায় এর চেয়ে বড় ভুল আর নেই, কারণ এখানকার কাস্টমার কেনেন বিশ্বাস করে, সস্তা দেখে না।
আর আপনার কুরিয়ার যদি শুকনো খাবার না নেয়, হাতে অন্য কোনো কুরিয়ারও না থাকে, তাহলে সারা দেশে পাঠানোর আগে নিজের এলাকায় হাতে হাতে ডেলিভারি দিয়ে শুরু করুন।
এসব প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার পক্ষে যায়, তাহলে শুরুটা ছোট করুন। এক-দুই রকম শুটকি অল্প করে আনুন, একজন চেনা আড়তদারের কাছ থেকেই কিনুন। প্রথম মাসে লাভের হিসাবের চেয়ে বেশি মন দিন খাতার দুটো কলামে। একটায় লিখবেন কোন পার্সেলে অভিযোগ বা ফেরত এলো। আরেকটায় লিখবেন কে দ্বিতীয়বার কিনলেন। দ্বিতীয় মাসে এই খাতাই বলে দেবে কোন শুটকি কাকে বেচবেন আর কীভাবে পাঠাবেন।
আর যেদিন কেউ নিজে থেকে ফোন করে বলবেন, "ভাই, আগেরটা শেষ, আরেক কেজি পাঠান", সেদিন বুঝবেন ব্যবসাটা পায়ের নিচে মাটি পাচ্ছে। শুটকির ব্যবসায় সেই ফোনটাই আসল পুঁজি।
সাধারণ প্রশ্ন
অনলাইনে শুটকি ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?
নির্ভর করে কোন শুটকি আর কতটা দিয়ে শুরু করছেন তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে, ১০ কেজি লইট্যা ৯০০ টাকা কেজি দরে কিনলে শুধু মালেই যায় ৯,০০০ টাকা, এর সাথে পরিবহন, প্যাকিং আর অ্যাডের টাকা ধরতে হবে। শুরুতে দুই-তিন রকম শুটকি অল্প অল্প করে আনুন, যাতে কোনটা চলে সেটা বুঝতে পারেন আর মাল ঘরে পড়ে না থাকে।
শুটকির পাইকারি বাজার কোথায়?
দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি শুটকির বাজার চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ, যাকে স্থানীয়ভাবে শুটকি পট্টি বলা হয়। শুটকি বানানোর বড় জায়গা কক্সবাজারের নাজিরারটেক, মৌসুমে সেখানকার মহাল থেকে সরাসরিও কেনা যায়। ঢাকার বড় কাঁচাবাজারেও শুটকির দোকান আছে, তবে কেনার আগে কয়েক দোকানে দাম মিলিয়ে নিন।
কীটনাশক বা ওষুধ দেওয়া শুটকি চেনার উপায় কী?
ব্যবসায়ীদের কথায় ভালো শুটকি শক্ত হয়, চকচক করে না, গায়ে সাদা গুঁড়ার আস্তর থাকে না আর গন্ধটা স্বাভাবিক শুটকির মতো হয়। তবে চোখে দেখে বা শুঁকে কীটনাশক আছে কি না পাকা করে বলার উপায় নেই, এটা শুধু ল্যাবের টেস্টেই ধরা পড়ে। তাই যাঁর কাছ থেকে কিনছেন, তিনি কীভাবে শুকান সেটা নিজের চোখে দেখাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
শুটকি ঘরে কত দিন ভালো থাকে?
এটা নির্ভর করে শুটকি কতটা শুকনো আর কোথায় রাখছেন তার ওপর। ভালো করে শুকানো শুটকি বাতাস ঢোকে না এমন পাত্রে শুকনো, ঠান্ডা জায়গায় রাখলে অনেক দিন ভালো থাকে। কিন্তু বর্ষায় ভেজা বাতাসে নরম হয়ে গেলে ছত্রাক আর পোকা ধরতে পারে, তাই প্রতি সপ্তাহে একবার খুলে দেখে নিন।
কুরিয়ারে কি শুটকি পাঠানো যায়?
অনেক সেলার কুরিয়ারেই শুটকি পাঠান, তবে প্রথম পার্সেলের আগে নিজের কুরিয়ারের হাবে বা হটলাইনে জিজ্ঞেস করে নিন তারা শুকনো খাবার নেয় কি না আর কোনো শর্ত আছে কি না। গন্ধ বের হলে বা প্যাকেট ছিঁড়ে গুঁড়া পড়লে পার্সেল আটকে যেতে পারে। দুই স্তরে সিল করা প্যাকিং আর শক্ত বাক্স দিলে এই ঝামেলা প্রায় থাকে না।
শুটকি বিক্রি করতে কি লাইসেন্স লাগে?
অন্য খাবারের মতো শুটকিতেও ট্রেড লাইসেন্স আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশনের কথা ভাবতে হবে, বিশেষ করে নিজের নামে প্যাকেট করে বেচলে। কোন কাগজ কোথায় করবেন সেটা আমাদের ফুড লাইসেন্সের লেখায় ধাপে ধাপে আছে। BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টে আমরা শুটকির নাম পাইনি, তবে লিস্টে মাঝে মাঝে নতুন জিনিস যোগ হয়, তাই নিজের লেবেল ছাপানোর আগে একবার দেখে নিন।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


