WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

কত টাকা লাগবে, মাসে কত থাকবে? অনলাইন ব্যবসার বিজনেস প্ল্যান টেমপ্লেট

বিজনেস প্ল্যান মানে মোটা ফাইল না, এক পেজের একটা কাগজ। ফেসবুক আর ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বেচা দোকানের জন্য আটটা ঘর, একটা থ্রি-পিসের দোকানের তিন মাসের হিসাব টাকায়, শুরুতে কত টাকা লাগবে, আর ব্যাংক লোনের জন্য বড় প্ল্যানে কী যোগ করবেন।

কত টাকা লাগবে, মাসে কত থাকবে? অনলাইন ব্যবসার বিজনেস প্ল্যান টেমপ্লেট
এই লেখায় যা আছে
  1. অনলাইন শপের বিজনেস প্ল্যান কেন লিখবেন, কার জন্য?
  2. এক পেজের বিজনেস প্ল্যানে কোন ৮টা ঘর থাকে?
  3. প্রোডাক্ট, কাস্টমার আর প্রতিযোগীর ঘর কীভাবে লিখবেন?
  4. একটা অর্ডারে আসলে কত লাভ থাকে, প্ল্যানে লিখবেন কীভাবে?
  5. প্রথম তিন মাসে কত লাভ হবে? একটা উদাহরণ টাকায়
  6. কত টাকা লাগবে, কোথা থেকে আসবে?
  7. ব্যাংক বা বিনিয়োগকারীর জন্য বড় প্ল্যানে কী যোগ করবেন?
  8. প্ল্যানের সাথে আসল বিক্রি প্রতি মাসে মেলাবেন কীভাবে?

ধরুন রাতে খাওয়ার পর বন্ধুকে বললেন, এবার সত্যি সত্যি অনলাইনে থ্রি-পিসের পেজ খুলবেন। বন্ধু চায়ের কাপ নামিয়ে দুটো প্রশ্ন করল, "কত টাকা লাগবে? আর মাসে হাতে কত থাকবে?" আপনি একটু থেমে বললেন, "আগে শুরু তো করি, দেখা যাবে।" এই "দেখা যাবে"-র ফাঁকটাই ভরে দেয় একটা বিজনেস প্ল্যান। অনলাইন ব্যবসার বিজনেস প্ল্যান মানে এক পেজের একটা কাগজ। এর আটটা ঘরে লেখা থাকে কী বেচবেন, কার কাছে, মাল কোথা থেকে আসবে, দাম আর লাভ কত, কাস্টমার কীভাবে আসবেন, মাসে কয়টা ডেলিভারি হলে পোষাবে, শুরুতে কত টাকা লাগবে, আর প্রথম ৯০ দিনে কী করবেন।

লিখতে এক সন্ধ্যার বেশি লাগে না। লাগে শুধু কাগজ-কলম আর মোবাইলের ক্যালকুলেটর। নিচে একটা থ্রি-পিসের দোকানের প্ল্যান টাকায় ভরে দেখিয়েছি, নিজের সংখ্যা বসিয়ে আজ রাতেই নিজেরটা লিখে ফেলতে পারবেন।

অনলাইন শপের বিজনেস প্ল্যান কেন লিখবেন, কার জন্য?

অনেকে ভাবেন বিজনেস প্ল্যান বড় কোম্পানির জিনিস, ইংরেজি শব্দে ভরা মোটা ফাইল। কথাটা অর্ধেক ঠিক। মোটা ফাইল আপনার এখন লাগবে না। কিন্তু এক পেজের প্ল্যানটা লাগবে, আর সবার আগে লাগবে আপনার নিজের জন্য।

কারণটা টাকার। অনলাইন ব্যবসায় টাকা হারায় চুপচাপ। অ্যাডের ডলার কার্ড থেকে কেটে যায়, কুরিয়ারের টাকা আসে কয়েক দিন পরে, আর ফেরত পার্সেলের চার্জ বিলের এক কোণে লুকিয়ে থাকে। মাথায় হিসাব রাখলে মনে হয় ব্যবসা চলছে, কারণ রোজ অর্ডার আসছে। তিন মাস পরে দেখা যায় জমানো টাকা শেষ, অথচ কেন শেষ সেটা কেউ বলতে পারে না। প্ল্যানটা আগে থেকে কাগজে লেখা থাকলে দ্বিতীয় মাসেই চোখে পড়ে কোন সংখ্যাটা প্ল্যানের চেয়ে খারাপ যাচ্ছে।

প্ল্যান লিখতে বসলে আরেকটা জিনিস হয়। যে প্রশ্নগুলো এতদিন এড়িয়ে যাওয়া সহজ ছিল, সেগুলো সামনে এসে দাঁড়ায়। ধরুন দামের ঘর লিখতে গিয়ে দেখলেন, অ্যাড আর ফেরতের খরচ ধরলে পছন্দের প্রোডাক্টটায় লাভ প্রায় থাকেই না। খারাপ লাগবে, জানি। কিন্তু কথাটা পাইকারের হাতে টাকা দেওয়ার আগে জানা ভালো, পরে না।

আর আছে মানুষের প্রশ্ন। পরিবার থেকে টাকা নিলে বা পরে ব্যাংকে গেলে সবাই জিজ্ঞেস করবেন, কত লাগবে আর কবে ফেরত আসবে। প্ল্যান হাতে থাকলে উত্তরটা আন্দাজে দিতে হয় না, আর কেউ আপনার দোকানকে "শখের পেজ" ভাবেন না।

এটা কার জন্য এখনই না, সেটাও বলি। কী বেচবেন সেটাই যদি ঠিক না হয়ে থাকে, আগে অল্প টাকায় একটা প্রোডাক্ট টেস্ট করুন, তারপর প্ল্যান লিখুন। তখন সংখ্যাগুলো অনেক বেশি সত্যি হবে। প্রোডাক্ট বাছা থেকে কুরিয়ার ঠিক করা পর্যন্ত ধাপগুলো অনলাইন ব্যবসা শুরুর পুরো গাইডে আছে।

এক পেজের বিজনেস প্ল্যানে কোন ৮টা ঘর থাকে?

একটা A4 কাগজ নিন, বা খাতার একটা পাতা। ওপরে দোকানের নাম আর তারিখ লিখুন, তারপর কাগজটাকে আটটা ঘরে ভাগ করুন। কোনো ঘরে দুই-তিন লাইনের বেশি লিখবেন না। লম্বা লিখলে পরে নিজেই পড়বেন না, আর ছোট জায়গায় লিখতে গেলে আসল কথাটা বেছে নিতে হয়।

  1. এক নম্বর ঘরে লিখুন কী বেচবেন, দাম কোন রেঞ্জে, আর কেন এই প্রোডাক্টটাই বাছলেন।
  2. দুই নম্বরে লিখুন কাস্টমার কে, কোথায় থাকেন, আর এখন কোথা থেকে কেনেন।
  3. তিন নম্বরে থাকবে মাল কোন পাইকার বা মার্কেট থেকে আসবে, এক লটে কত পিস নিতে হয়, আর আবার কত দিনে পাওয়া যায়।
  4. চার নম্বরে লিখুন বিক্রির দাম, কেনা দাম, আর ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডারে আসলে কত থাকে।
  5. পাঁচ নম্বরে লিখুন কাস্টমার আসবেন কোন পথে, অ্যাড, পেজের পোস্ট না পুরনো কাস্টমার, আর ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডে কত যাবে।
  6. ছয় নম্বরে প্রথম তিন মাসের হিসাব, প্রতি মাসে কয়টা পার্সেল যাবে, কয়টা ডেলিভারি হবে আর লাভ কত থাকবে।
  7. সাত নম্বরে লিখুন স্টক, অ্যাড, প্যাকেট আর হাতে রাখার জন্য কত টাকা লাগবে, আর প্রতিটা টাকা কোথা থেকে আসবে।
  8. আট নম্বরে প্রথম ৯০ দিনের কাজ, কোন সপ্তাহে কী করবেন আর কোন সংখ্যা দেখলে থামবেন।

চার, পাঁচ আর ছয় নম্বর ঘর বেশিরভাগ মানুষ ফাঁকা রেখে দেন, কারণ ওখানে হিসাব করতে হয়। অথচ প্ল্যানের প্রাণ ওই তিনটা ঘরেই। বাকিগুলো দশ মিনিটে লেখা হয়ে যায়, এই তিনটায় পুরো একটা সন্ধ্যা লাগতে পারে।

টেবিলে রাখা একটা A4 কাগজ আটটা ঘরে ভাগ করা, প্রতিটা ঘরে থ্রি-পিসের দোকানের প্ল্যানের দুই লাইন হাতে লেখা, দাম আর লাভের ঘরে ১,০৯০ আর ২০৯ লেখা, পাশে মোবাইলের ক্যালকুলেটরে ২০৯ আর এক কাপ চা
এক পেজ, আটটা ঘর। থ্রি-পিসের দোকানের প্ল্যান ভরলে মোটামুটি এমন দেখায়

আট নম্বর ঘরে বড় স্বপ্ন লিখবেন না, সপ্তাহের কাজ লিখবেন। যেমন, প্রথম সপ্তাহে পাইকারের কাছ থেকে ৬০ পিস মাল তোলা আর ছবি তোলা, দ্বিতীয় সপ্তাহে পেজ সাজিয়ে প্রথম অ্যাড চালু করা, চতুর্থ সপ্তাহে প্রথম মাসের হিসাব মেলানো। এর সাথে একটা থামার নিয়মও লিখে রাখুন। ধরুন, "দুই মাস পরেও ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ ২৫০ টাকার ওপরে থাকলে প্রোডাক্ট বদলাব।" নিয়মটা আগে থেকে লেখা থাকলে পরে মায়ায় পড়ে লোকসানের প্রোডাক্ট মাসের পর মাস টেনে নেওয়ার ভুলটা কম হয়।

প্রোডাক্ট, কাস্টমার আর প্রতিযোগীর ঘর কীভাবে লিখবেন?

প্রথম তিনটা ঘর লেখার নিয়ম একটাই। প্রতিটা এক লাইনে লিখুন, এমন ভাষায় যেটা আপনার মামা পড়েও বুঝবেন। "আমরা মানসম্মত পোশাক সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেব" ধরনের লাইন লিখবেন না। এমন লাইন প্রায় সব পেজে লেখা থাকে, তাই এটা আপনাকে কিছুই বলে না।

ভালো লাইন কেমন হয়, দেখুন। "ঢাকার বাইরের ২৫ থেকে ৪০ বছরের মহিলাদের জন্য ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকার সুতি থ্রি-পিস, যাঁরা জেলা শহরের দোকানে নতুন ডিজাইন কম পান।" এই এক লাইনে প্রোডাক্ট, দাম, কাস্টমার আর তিনি কেন আপনার কাছে কিনবেন, সবই আছে। পরে অ্যাডের অডিয়েন্স ঠিক করতে আর ছবি তুলতে গিয়েও এই লাইনটা কাজে আসবে।

কাস্টমারের ঘরে একটা প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই লিখবেন। তিনি এখন কোথা থেকে কেনেন? এলাকার মার্কেট থেকে, নাকি অন্য কোনো পেজ থেকে? এটা না জানলে আপনি জানেন না কার সাথে পাল্লা দিচ্ছেন, আর তাঁকে আপনার দিকে আনার কারণটাও খুঁজে পাবেন না।

প্রতিযোগীর ঘরে কারো বদনাম লেখার দরকার নেই। ফেসবুকে একই প্রোডাক্ট বেচে এমন তিনটা পেজ খুঁজুন। দেখুন তারা কত দাম রাখে, ডেলিভারি চার্জ কত নেয়, আর কমেন্টে কাস্টমাররা কী নিয়ে অভিযোগ করেন। তারপর এক লাইনে লিখুন আপনি কোথায় আলাদা হবেন। যেমন, "অন্যরা শুধু ছবি দেয়, আমি প্রতিটা ডিজাইনের কাপড় হাতে ধরে ভিডিও দেব, আর মাপ ইঞ্চিতে লিখে দেব।" দাম কমিয়ে আলাদা হওয়ার কথা লিখবেন না। বড় পেজ বেশি মাল তোলে বলে কম দামে পায়, তাই সবচেয়ে সস্তা হওয়ার লড়াইয়ে নতুন সেলার প্রায় সবসময় হারেন।

মাল কোথা থেকে আসবে, সেই ঘরে পাইকারের নামের সাথে আরও দুটো জিনিস লিখুন। এক লটে কমপক্ষে কত পিস নিতে হয়, আর একই ডিজাইন আবার কত দিনে পাওয়া যায়। প্রোডাক্ট চলতে শুরু করার পর মাল ফুরালে অ্যাডের টাকা বৃথা যায়, আর অর্ডার "স্টক নেই" বলে বাতিল করতে হয়।

একটা অর্ডারে আসলে কত লাভ থাকে, প্ল্যানে লিখবেন কীভাবে?

চার নম্বর ঘরটাই ঠিক করে দেয় ব্যবসাটা দাঁড়াবে কি না। পাইকারি দামের সাথে ৪০০ টাকা যোগ করে দাম বসালে মনে হয় পিসে ৪০০ টাকা লাভ। কিন্তু সেই টাকা থেকেই যায় প্যাকেট, কুরিয়ারের কাটা টাকা, ফেরত পার্সেলের খরচ আর অ্যাডের টাকা।

তাই প্ল্যানে লাভ লিখবেন ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডার ধরে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে টাকা আসে শুধু সেই পার্সেল থেকে, যেটা কাস্টমার রেখে দিয়েছেন, আর ফেরত পার্সেলের খরচও মেটে ওই টাকা থেকেই।

এখানে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখার থ্রি-পিসের উদাহরণটাই ধরছি, পুরো হিসাবটা ওখানে ধাপে ধাপে আছে। এটা একটা বানানো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। কুরিয়ারের চার্জগুলো ওই লেখায় ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর ওয়েবসাইট দেখে নেওয়া, আপনার চুক্তির রেট আলাদা হতে পারে।

থ্রি-পিস কিনতে পড়ে ৬৫০ টাকা, আর প্যাকেটে যায় ২৫ টাকা। বিক্রির দাম ১,০৯০ টাকা, আর ঢাকার বাইরের কাস্টমার ডেলিভারি চার্জ দেন ১৩০ টাকা। তাহলে দরজায় ওঠে ১,২২০ টাকা। Steadfast তার ১৩৫ টাকা ডেলিভারি চার্জ আর বাকি টাকার ১% COD চার্জ, মানে প্রায় ১১ টাকা, রেখে আপনাকে দেয় ১,০৭৪ টাকা। এখান থেকে কেনা দাম আর প্যাকেট বাদ দিলে থাকে ৩৯৯ টাকা।

এই ৩৯৯ টাকা কিন্তু লাভ না। এর থেকে আরও দুটো খরচ যাবে, আর প্ল্যানে এই দুটোই সবচেয়ে বেশি ভুল লেখা হয়।

প্রথমটা ফেরতের ভাগ। ধরুন ১০০টা পার্সেল পাঠালে ২০টা ফেরত আসে। প্রতিটা ফেরতে কুরিয়ারের চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে যায় ১৬০ টাকা, ২০টায় ৩,২০০ টাকা। এই টাকা ভাগ হবে ৮০টা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের ওপর, তাই প্রতিটার ঘাড়ে পড়ে ৪০ টাকা। নতুন শুরু করলে নিজের ফেরতের হার জানা থাকে না, তখন ২০% ধরে রাখাই নিরাপদ।

দ্বিতীয়টা অ্যাড। প্ল্যানের ঘরে মেসেজপ্রতি বা অর্ডারপ্রতি খরচ লিখবেন না, লিখবেন ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি খরচ। মাসে ১২,০০০ টাকার অ্যাডে যদি ৮০টা অর্ডার ডেলিভারি হয়, তাহলে ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ ১৫০ টাকা। নেওয়া অর্ডার দিয়ে ভাগ করলে সংখ্যাটা ছোট দেখায়, কারণ তাতে বাতিল আর ফেরত অর্ডারও গোনা হয়, অথচ টাকা আসে শুধু ডেলিভারি থেকে।

তাহলে ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডারে আসল লাভ ৩৯৯ − ৪০ − ১৫০ = ২০৯ টাকা। প্ল্যানের চার নম্বর ঘরে এই সংখ্যাটাই লিখবেন, "পিসে ৪৪০ টাকা লাভ" না। ফারাকটা দেখে প্রথমবার একটু ধাক্কা লাগে। কিন্তু ধাক্কাটা কাগজে খাওয়া অনেক সস্তা, পকেটে খাওয়ার চেয়ে।

খাতার পাতায় হাতে লেখা হিসাব, ওপরে বিক্রির দাম ১,০৯০ আর ডেলিভারি চার্জ ১৩০, তার নিচে একে একে কুরিয়ারের কাটা, কেনা দাম, প্যাকেট, ফেরতের ভাগ আর অ্যাডের ভাগ বিয়োগ করা, শেষ লাইনে ২০৯ টাকা গোল দাগে ঘেরা, পাশে একটা কলম আর দুই ভাগের হিসাবের ছোট কার্ড
পিসে ৪৪০ না, ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ২০৯। প্ল্যানে লিখবেন এই শেষ লাইনটা

এই ঘর ভরতে গিয়ে যদি দেখেন লাভ ১০০ টাকার নিচে নেমে যাচ্ছে, তাহলে প্ল্যান লেখা ওখানেই থামান। তারপর তিনটা জিনিসের যেকোনো একটা বদলান, দাম, কেনা দাম বা প্রোডাক্ট। "অ্যাড খরচ পরে কমে যাবে" ধরে নিয়ে প্ল্যান সাজাবেন না। নতুন পেজে প্রথম মাসে অ্যাড খরচ প্রায়ই বেশি পড়ে, কারণ তখনো আপনি জানেন না কোন ছবি আর কোন অডিয়েন্স কাজ করে।

প্রথম তিন মাসে কত লাভ হবে? একটা উদাহরণ টাকায়

ছয় নম্বর ঘরে প্রতি মাসের জন্য পাঁচটা সংখ্যা লিখুন। অ্যাডে কত টাকা দেবেন, কয়টা পার্সেল পাঠাবেন, কয়টা ডেলিভারি হবে, ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ কত, আর মাস শেষে লাভ কত। সাথে মাসের স্থির খরচও ধরুন, মানে অর্ডার কম-বেশি যাই হোক, যে খরচ একই থাকে। ফোন বিল, ইন্টারনেট আর টুকটাক মিলিয়ে উদাহরণে এটা মাসে ৩,০০০ টাকা।

হিসাবটা ওপরের থ্রি-পিস ধরেই। প্রতিটা ডেলিভারিতে অ্যাডের আগে ৩৯৯ টাকা থাকে, প্রতিটা ফেরতে ১৬০ টাকা যায়, আর পাঠানো পার্সেলের ২০% ফেরত আসে। আবারও বলি, এটা একটা বানানো উদাহরণ।

হিসাব মাস ১ মাস ২ মাস ৩
অ্যাডের টাকা ৮,০০০ ১২,০০০ ১৫,০০০
কুরিয়ারে পাঠানো পার্সেল ৫০ ১০০ ১২৫
ডেলিভারি হলো (৮০%) ৪০ ৮০ ১০০
ফেরত এলো (২০%) ১০ ২০ ২৫
ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ ২০০ ১৫০ ১৫০
ডেলিভারি থেকে, অ্যাডের আগে (প্রতিটা ৩৯৯) ১৫,৯৬০ ৩১,৯২০ ৩৯,৯০০
ফেরতের খরচ (প্রতিটা ১৬০) −১,৬০০ −৩,২০০ −৪,০০০
অ্যাড −৮,০০০ −১২,০০০ −১৫,০০০
মাসের স্থির খরচ −৩,০০০ −৩,০০০ −৩,০০০
মাস শেষে লাভ ৩,৩৬০ ১৩,৭২০ ১৭,৯০০

প্রথম মাসে অ্যাড কম রেখেছি, আর ডেলিভারিপ্রতি খরচ ২০০ টাকা ধরেছি, কারণ প্রথম মাসটা শেখার মাস। কোন ছবিতে মেসেজ আসে, কোন সময়ে কাস্টমার ফোন ধরেন, কোন জেলা থেকে ফেরত বেশি আসে, এসব তখনো আপনি জানেন না। তাই প্রথম মাসের ৩,৩৬০ টাকা দেখে মন খারাপ করবেন না। প্ল্যানেই লেখা আছে, এই মাসে লাভ কম হবে।

তৃতীয় মাসে অ্যাড বাড়ালেও খরচ ১৫০ টাকাতেই রেখেছি। সত্যি বলি, এটা একটু আশাবাদী আন্দাজ। বাজেট বাড়ালে অ্যাড কম আগ্রহী মানুষের কাছেও যায়, তাই ডেলিভারিপ্রতি খরচ প্রায়ই কিছুটা বাড়ে। তৃতীয় মাসের সংখ্যাটাকে "ভালো গেলে" ধরে রাখুন, পাকা আয় না।

দেয়ালে টেপ দিয়ে সাঁটা একটা কাগজে মাস ১, মাস ২, মাস ৩-এর অ্যাডের টাকা, পার্সেল, ডেলিভারি আর লাভ, লাভ ৩,৩৬০ থেকে ১৭,৯০০ পর্যন্ত বাড়ছে, পাশে লাভের তিনটা বার আর নিচে কয়টা ডেলিভারিতে খরচ ওঠে তার হিসাব
প্রথম মাস শেখার মাস। প্ল্যানে আগে থেকে লেখা থাকলে কম লাভ দেখে ভয় লাগে না

এবার সবচেয়ে কাজের প্রশ্নটা, যেটা প্ল্যান ছাড়া কেউ নিজেকে করেন না। মাসে কয়টা অর্ডার ডেলিভারি হলে ব্যবসাটা আমাকে চালাবে? উল্টো দিক থেকে হিসাব করুন। স্থির খরচ ৩,০০০ টাকা তুলতেই লাগে ১৫টা ডেলিভারি (৩,০০০ ÷ ২০৯)। এবার ধরুন সংসার চালাতে আপনার মাসে ২৫,০০০ টাকা লাগে। তাহলে লাগবে (২৫,০০০ + ৩,০০০) ÷ ২০৯, মানে প্রায় ১৩৪টা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার, প্রতি মাসে।

উদাহরণের তিন মাসে আপনি ১০০টা ডেলিভারিতে পৌঁছাচ্ছেন। মানে প্ল্যান সোজা ভাষায় বলছে, তিন মাসে এই দোকান থেকে সংসার চলবে না। কথাটা শুনতে কষ্ট লাগে, আমি জানি। কিন্তু চাকরি ছাড়ার আগে কাগজে এটা দেখে ফেলা, ছয় মাস পরে জমানো টাকা শেষ হয়ে দেখার চেয়ে হাজার গুণ ভালো। তখন হয়তো ঠিক করবেন চাকরি রেখে আরও কয়েক মাস চালাবেন, বা লাভ বেশি এমন একটা দ্বিতীয় প্রোডাক্ট যোগ করবেন। দুটোই ভালো সিদ্ধান্ত, কারণ এবার আপনি সংখ্যা দেখে ঠিক করছেন।

কত টাকা লাগবে, কোথা থেকে আসবে?

সাত নম্বর ঘরে দুটো ভাগ। ওপরে লিখুন টাকাটা কোথায় যাবে, নিচে লিখুন টাকাটা আসবে কোথা থেকে। উদাহরণের দোকানে শুরুর টাকা এভাবে ভাগ হচ্ছে।

  • প্রথম লটের মাল, ৬০ পিস × ৬৫০ = ৩৯,০০০ টাকা। প্রথম মাসে ৫০টা পাঠাবেন, বাকি ১০টা হাতে থাকবে সাইজ বা রং বদলে দেওয়ার জন্য।
  • প্যাকেট আর স্টিকার, ১০০টা × ২৫ = ২,৫০০ টাকা।
  • প্রথম মাসের অ্যাড, ৮,০০০ টাকা।
  • ছবি তোলার ছোট সেটআপ, পেজ সাজানো আর টুকটাক জিনিস, ধরুন ৫,০০০ টাকা।
  • হাতে রাখার টাকা, ২৫,০০০ টাকা।

সব মিলিয়ে ৭৯,৫০০ টাকা, মানে প্রায় ৮০ হাজার। এর মধ্যে শেষ লাইনটা দেখে অনেকে বলেন, এটা বাদ দিলে তো ৫৫ হাজারেই শুরু করা যায়। যায়, কিন্তু দ্বিতীয় মাসে গিয়ে আটকে যাবেন। কারণটা টাকায় দেখুন।

দ্বিতীয় মাসে ১০০টা পার্সেল পাঠাতে হবে। হাতে আছে আগের ১০ পিস আর ফেরত আসা ১০ পিস, তাই নতুন মাল লাগবে ৮০ পিস, মানে ৫২,০০০ টাকা। সাথে ১২,০০০ টাকার অ্যাড আর আরও কিছু প্যাকেট, সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার। অথচ প্রথম মাসের ৪০টা ডেলিভারি থেকে কুরিয়ার আপনাকে দেবে ৪০ × ১,০৭৪, মানে প্রায় ৪৩ হাজার টাকা, তাও ডেলিভারির কয়েক দিন পরে। মাঝের প্রায় ২২ হাজার টাকার ফাঁক আর মাসের স্থির খরচ মেটায় ওই হাতে রাখার টাকাটাই। ব্যবসা বাড়তে থাকলে এই ফাঁকটাও বাড়ে, তাই এটা কোনো বিলাসিতা না।

দুটো লম্বা বারে দ্বিতীয় মাসের হিসাব, ওপরে লাগবে প্রায় ৬৫,০০০ টাকা, নিচে কুরিয়ার দেবে প্রায় ৪৩,০০০ টাকা, মাঝের ২২,০০০ টাকার ফাঁক লাল দাগে ঘেরা, তার নিচে শুরুর ৭৯,৫০০ টাকার ভাগ যেখানে হাতে রাখা ২৫,০০০ সবুজ রঙে
দ্বিতীয় মাসের মাল কেনার দিন কুরিয়ারের টাকা পুরো আসে না। এই ফাঁকটাই হাতে রাখার টাকা

এবার নিচের ভাগ, টাকা আসবে কোথা থেকে। সবচেয়ে ভালো উৎস নিজের জমানো টাকা, কারণ এর কোনো কিস্তি নেই। পরিবার বা আত্মীয়ের কাছ থেকে নিলে প্ল্যানেই লিখে রাখুন এটা ধার না অংশীদারি, আর ধার হলে কবে, কয় কিস্তিতে ফেরত দেবেন। তাঁকে একটা কপি দিন। মুখের কথায় নেওয়া টাকা নিয়েই পরে সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি টান পড়ে।

একদম নতুন সেলারের হাতে লেনদেনের কাগজ থাকে না, তাই প্রথম দিনেই ব্যাংক লোন পাওয়া কঠিন। কোন স্কিমে কত সুদ আর ছয় মাসে কীভাবে প্রস্তুত হবেন, সেটা উদ্যোক্তা লোনের লেখায় আছে। আর ধার বা লোন যেখান থেকেই আসুক, সেই টাকা মাল কেনায় দিন, অ্যাডে না। স্টক পড়ে থাকলেও কম দামে ছেড়ে কিছু টাকা তোলা যায়, অ্যাডের টাকা একবার গেলে আর ফেরে না।

ব্যাংক বা বিনিয়োগকারীর জন্য বড় প্ল্যানে কী যোগ করবেন?

ব্যাংকে লোনের আবেদন করলে বা কেউ বড় অঙ্কের টাকা দিতে চাইলে এক পেজের প্ল্যানের একটা বড় রূপ লাগবে। ভয় পাবেন না, এটা শূন্য থেকে বানাতে হবে না। SME ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে (smef.gov.bd) "SME Business Plan Template" নামে একটা ফ্রি টেমপ্লেট আছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেখানে বাংলা আর ইংরেজি দুটো PDF পাওয়া যাচ্ছে। টেমপ্লেটের শুরুতেই লেখা আছে, উদ্যোক্তা লোন পাওয়ার যোগ্য কি না, সেটা বোঝার জন্য ব্যাংক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিজনেস প্ল্যান একটা বড় রেফারেন্স হতে পারে।

টেমপ্লেটটা সব ধরনের ব্যবসার জন্য, তাই এতে কারখানা আর মেশিনের অনেক ঘর আছে, যা অনলাইন দোকানের লাগবে না। যে অংশ আপনার ব্যবসার সাথে মেলে না, সেটা বাদ দেওয়া যায় বলে টেমপ্লেটেই লেখা আছে। অনলাইন সেলারের কাজে লাগবে মূলত তিনটা অংশ।

শুরুতেই আছে Executive Summary, মানে পুরো প্ল্যানের সারকথা, আর টেমপ্লেটে এটা এক পেজের মধ্যে রাখতে বলা আছে। আপনার আটটা ঘরের প্ল্যানটা প্রায় এটাই। তারপর মার্কেটিং প্ল্যানের অংশে লিখতে হবে প্রতিযোগী কারা, কাস্টমার কারা, দাম কত, তিন বছরে কত বিক্রির আশা করছেন, ব্যবসার ঝুঁকি কী আর সিজনে বিক্রি কেমন ওঠানামা করে। শেষে টাকার হিসাবের অংশ। সেখানে চাওয়া আছে শুরুতে কত লাগবে, কতটা লোন আর কতটা নিজের টাকা, লোন শোধের শিডিউল, ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট, ব্যালান্স শিট আর ক্যাশ ফ্লো।

শব্দগুলো ভারী শোনালেও এর অনেকটা আপনি ওপরে করেই ফেলেছেন। ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট মানে কয়টা বিক্রিতে খরচ উঠে আসে, যেটা আমরা ১৫টা ডেলিভারি বলে বের করেছি। ক্যাশ ফ্লো মানে টাকা কবে ঢুকছে আর কবে বের হচ্ছে, যেটা দ্বিতীয় মাসের ২২ হাজার টাকার ফাঁকে দেখেছেন। বড় প্ল্যানে এগুলোই কয়েক বছরের জন্য টেনে লিখতে হয়। আয়-ব্যয়ের ছকে VAT আর ট্যাক্সের লাইনও আছে, সেগুলো একজন হিসাবরক্ষকের সাথে বসে ভরাট করুন।

একজন তরুণ পুরুষ উদ্যোক্তা বাসার টেবিলে বসে প্রিন্ট করা একটা মোটা বিজনেস প্ল্যান স্পাইরাল বাইন্ড করছেন, খোলা পাতায় তিন বছরের আয়-ব্যয়ের ছক দেখা যাচ্ছে, পাশে ল্যাপটপে একটা স্প্রেডশিট আর আলাদা করে রাখা এক পেজের হাতে লেখা প্ল্যান
ব্যাংকের বড় প্ল্যান শূন্য থেকে না, নিজের এক পেজের প্ল্যান থেকেই বড় হয়

লোনের পুরো কাগজের লিস্ট উদ্যোক্তা লোনের লেখায় আছে। এখানে শুধু প্ল্যানের সাথে যেটুকু জড়িত, সেটা বলি। SME ফাউন্ডেশনের "Check list for bank loan" পেজে দরকারি কাগজের মধ্যে আছে ব্যবসার নামে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট আর ব্যাংকভেদে ৬ মাস থেকে ৩ বছরের স্টেটমেন্ট। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী মজুত মালের লিস্ট আর তার এখনকার দামও চাওয়া হতে পারে। একই পেজে পরিষ্কার লেখা, লোন দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ব্যাংক নিজের নিয়মে নেয়।

তাই একটা সত্যি কথা মনে রাখুন। সুন্দর প্ল্যান একা লোন এনে দেয় না। SME ফাউন্ডেশনের বাংলা টেমপ্লেটেও লেখা আছে, লোন পাওয়ার জন্য বিজনেস প্ল্যানকে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ধরা যাবে না। প্ল্যানে মাসে ১০০টা ডেলিভারি লেখা, অথচ স্টেটমেন্টে তার ছায়াও নেই, এমন ফাইল ব্যাংকের টেবিলে বেশিক্ষণ টেকে না।

প্ল্যানের সাথে আসল বিক্রি প্রতি মাসে মেলাবেন কীভাবে?

প্ল্যান লিখে ড্রয়ারে রেখে দিলে ওটা একটা সুন্দর কাগজ ছাড়া কিছু না। মাসের প্রথম দিন আধা ঘণ্টা সময় রাখুন। ছয় নম্বর ঘরের পাঁচটা সংখ্যার পাশে আসল সংখ্যাগুলো লিখুন, অ্যাডের টাকা, পাঠানো পার্সেল, ডেলিভারি, ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ আর লাভ।

এরপর দেখুন কোন সংখ্যা প্ল্যান থেকে সবচেয়ে বেশি সরে গেছে, আর সেটা ধরে কাজ করুন। ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ বেশি হলে ছবি, অফার বা অডিয়েন্স বদলে দেখুন, দরকার হলে প্রোডাক্ট। ফেরত বেশি হলে কনফার্ম কলে মন দিন, আর পার্সেল পাঠানোর আগে নম্বরটার আগের রেকর্ড দেখে নিন। যে নম্বর আগেও কয়েকবার পার্সেল ফেরত দিয়েছে, তার কাছে অগ্রিম ছাড়া পাঠালে আপনার ২০% ফেরতের হিসাব আর টেকে না। সব ঠিক থেকেও লাভ কম হলে দামের ঘরে ফিরে যান। আমার পরামর্শ, কোনো সংখ্যা প্ল্যানের চেয়ে মোটামুটি ২০%-এর বেশি খারাপ গেলেই কারণ খুঁজুন, পরের মাসের অপেক্ষা করবেন না।

পরপর দুই মাস না মিললে প্ল্যানটাই নতুন করে লিখুন, এবার আসল সংখ্যা দিয়ে। এতে হেরে যাওয়ার কিছু নেই। প্রথম প্ল্যান লেখা হয় আন্দাজে, দ্বিতীয়টা অভিজ্ঞতায়, আর দ্বিতীয়টাই বেশি সত্যি। আবার কোনো মাসে প্ল্যানের চেয়ে ভালো গেলে খুশি হন, কিন্তু পরের দিনই অ্যাড দ্বিগুণ করবেন না। অল্প অল্প বাড়ান, আর প্রতিবার দেখুন ডেলিভারিপ্রতি খরচ কোথায় গিয়ে দাঁড়াল।

আসল সংখ্যাগুলো আসবে রোজকার হিসাবের শিট থেকে। কোন কলাম রাখবেন, সেটা অনলাইন ব্যবসার হিসাব রাখার লেখায় আছে। প্ল্যান বলে কোথায় যেতে চান, হিসাবের শিট বলে কোথায় আছেন।

একজন পুরুষ সেলার এক হাতে প্ল্যানের কাগজ আর অন্য হাতে মোবাইল ধরে আছেন, কাগজে প্রতিটা সংখ্যার পাশে কলমে আসল সংখ্যা লেখা, কোনোটার পাশে সবুজ টিক আর ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচের পাশে লাল গোল দাগ
মাসে একবার, আধা ঘণ্টা। প্ল্যানের পাশে আসল সংখ্যা বসালেই বোঝা যায় কোথায় হাত দিতে হবে

সত্যি বলতে, মেলানোর কাজে সবচেয়ে কষ্টের অংশ আসল সংখ্যাগুলো জোগাড় করা। বিশেষ করে ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ, যেটা বের করতে কুরিয়ার প্যানেল, কার্ডের বিল আর খাতা তিনটাই খুলে বসতে হয়। WinningSeller-এ লাভ-ক্ষতির হিসাব হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে, কুরিয়ার চার্জ, COD চার্জ আর ফেরত পার্সেলের যাওয়া-আসার খরচ বাদ দিয়ে। অ্যাডের খরচ লেখার সময় বলে দেওয়া যায় সেটা Facebook, Google না TikTok-এর। রিপোর্টে প্রতিটার পাশে দেখায় অ্যাডের লিংক থেকে আসা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার, ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ আর ROAS, মানে অ্যাডের এক টাকায় কত টাকার বিক্রি এলো। প্রোডাক্টে কেনা দাম বসানো থাকলে লাভও দেখায়। মানে প্ল্যানের চার, পাঁচ আর ছয় নম্বর ঘরের আসল সংখ্যা মাস শেষে এক জায়গাতেই পেয়ে যাবেন।

প্ল্যানের সংখ্যা আর আসল বিক্রি পাশাপাশি দেখুনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

তবে সফটওয়্যার পরের কথা। আজ রাতে শুধু একটা কাগজ নিন, আটটা ঘর আঁকুন, আর চার নম্বর ঘরটা আগে ভরুন। ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডারে আসলে কত থাকে, এই একটা সংখ্যা জানলেই বন্ধুর ওই দুটো প্রশ্নের উত্তর অর্ধেক দেওয়া হয়ে যায়। বাকি অর্ধেক লেখা হবে প্রথম তিন মাসে, আসল অর্ডার আর আসল টাকায়।

সাধারণ প্রশ্ন

বিজনেস প্ল্যান কি?

বিজনেস প্ল্যান হলো লিখে রাখা একটা হিসাব, যেখানে থাকে কী বেচবেন, কার কাছে, কত দামে, কাস্টমার কীভাবে আসবেন, কত টাকা লাগবে আর কত লাভ আশা করছেন। ছোট অনলাইন দোকানের জন্য এক পেজই যথেষ্ট। ব্যাংক লোনের জন্য এর একটা বড় রূপ লাগে, যেখানে কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের অনুমানও থাকে।

ছোট ফেসবুক পেজের ব্যবসায় কি বিজনেস প্ল্যান লাগে?

মোটা ফাইল লাগে না, কিন্তু এক পেজের প্ল্যান লাগে। এতে আগেই দেখা যায় অ্যাড আর ফেরতের খরচ ধরে প্রোডাক্টে লাভ থাকে কি না, আর শুরু করতে কত টাকা লাগবে। এটা না থাকলে অনেক সময় তিন মাস পরে বোঝা যায় জমানো টাকা শেষ, কিন্তু কোথায় গেল বলা যায় না।

ব্যবসার পরিকল্পনায় প্রধান কী কী থাকে?

এক পেজের প্ল্যানে আটটা ঘর রাখুন। কী বেচবেন, কার কাছে, মাল কোথা থেকে, দাম আর লাভ, কাস্টমার কীভাবে আসবেন, মাসের সংখ্যা, কত টাকা লাগবে আর কোথা থেকে, আর প্রথম ৯০ দিনের কাজ। ব্যাংকের জন্য বড় প্ল্যানে এর সাথে মার্কেটিং প্ল্যান, লোন শোধের শিডিউল আর কয়েক বছরের আয়-ব্যয় ও ক্যাশ ফ্লোর অনুমান যোগ হয়।

বিজনেস প্ল্যান টেমপ্লেট ফ্রি কোথায় পাব?

SME ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে (smef.gov.bd) "SME Business Plan Template" নামে একটা ফ্রি টেমপ্লেট আছে, বাংলা আর ইংরেজি দুটো PDF-এ। এটা সব ধরনের ব্যবসার জন্য বানানো, তাই কারখানার অনেক ঘর অনলাইন দোকানের কাজে লাগবে না, আর অদরকারি অংশ বাদ দেওয়া যায় বলে টেমপ্লেটেই লেখা আছে। শুরুতে এই লেখার এক পেজের আটটা ঘরই যথেষ্ট।

ব্যাংক লোনের জন্য বিজনেস প্ল্যানে কী দিতে হয়?

SME ফাউন্ডেশনের টেমপ্লেট ধরলে প্ল্যানে লাগবে শুরুতে কত টাকা লাগবে, কতটা লোন আর কতটা নিজের টাকা, লোন শোধের শিডিউল, ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট আর ক্যাশ ফ্লো। প্ল্যানের সাথে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার নামে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট আর ব্যাংকভেদে ৬ মাস থেকে ৩ বছরের স্টেটমেন্টও লাগে। লোন দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ব্যাংক নিজের নিয়মে নেয়।

প্ল্যানের সংখ্যা আসল বিক্রির সাথে না মিললে কী করব?

প্রতি মাসে প্ল্যানের পাশে আসল সংখ্যা লিখে দেখুন কোনটা সবচেয়ে বেশি সরে গেছে। ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ বেশি হলে অ্যাড বা প্রোডাক্ট নিয়ে, ফেরত বেশি হলে কনফার্ম কল নিয়ে, আর সব ঠিক থেকেও লাভ কম হলে দাম নিয়ে কাজ করুন। পরপর দুই মাস না মিললে আসল সংখ্যা দিয়ে প্ল্যানটা নতুন করে লিখুন।

#বিজনেস প্ল্যান#বিজনেস প্ল্যান টেমপ্লেট#ব্যবসার পরিকল্পনা#অনলাইন ব্যবসা#উদ্যোক্তা#লাভ-ক্ষতি

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়