অর্ডার ফর্ম বানানোর নিয়ম, গুগল ফর্ম না ওয়েবসাইট (ভুল নম্বর আটকানোসহ)
অর্ডার ফর্মে কোন ঘর রাখবেন আর কোনটা বাদ দেবেন, গুগল ফর্মে ১১ অঙ্কের নম্বর আর পুরো ঠিকানা না দিলে অর্ডার জমা না হওয়ার সেটিং, গুগল ফর্ম কোথায় চুপচাপ টাকা খায়, আর কখন ওয়েবসাইটের ফর্মে যাবেন।

এই লেখায় যা আছে
- অর্ডার ফর্মে কোন ঘরগুলো রাখবেন, কোনগুলো রাখবেন না?
- গুগল ফর্মে অর্ডার ফর্ম বানাবেন যেভাবে, ধাপে ধাপে
- গুগল ফর্মের যে সমস্যাগুলো পরে টাকা খায়
- ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্ম আলাদা কোথায়?
- এক প্রোডাক্টের ১, ২, ৩ প্যাক ফর্মে দেখাবেন যেভাবে
- ঠিকানা আর মোবাইল নম্বরে ভুল কমাবেন যেভাবে
- ফর্মের নিচে কী লিখবেন?
- কখন গুগল ফর্মেই চলবে, কখন বদলাবেন?
অর্ডার ফর্ম হলো সেই ছোট ফর্ম, যেখানে কাস্টমার নিজের হাতে নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা আর কোন প্যাকটা নেবেন লিখে অর্ডার পাঠান। শুরু করার জন্য গুগল ফর্মই যথেষ্ট, এতে এক টাকাও লাগে না। কিন্তু গুগল ফর্ম দাম যোগ করে মোট টাকা দেখাতে পারে না, প্রতিটা অর্ডার আবার কুরিয়ারে টাইপ করতে হয়, আর ফেসবুক অ্যাড থেকে কোন অর্ডারটা এলো সেটাও ফর্ম বলতে পারে না, কারণ গুগল ফর্মে পিক্সেল বসানো যায় না। দিনে অল্প কয়টা অর্ডার হলে গুগল ফর্মে দিব্যি চলে। নিয়মিত অ্যাড চালালে নিজের ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্মে যাওয়াই লাভ।
কেন এই একটা ফর্ম নিয়ে এত কথা, একটা রাতের কথা ভাবলেই বুঝবেন। রাত এগারোটায় শিট খুলে আজকের অর্ডারগুলো কুরিয়ারে তুলছেন। একজনের নম্বরে দশটা অঙ্ক। আরেকজনের ঠিকানার ঘরে শুধু লেখা "মিরপুর"। তৃতীয়জন দুই প্যাক চেয়েছেন, কিন্তু তিনি জানেনই না মোট কত টাকা হবে, কারণ ফর্মের কোথাও সেটা লেখা ছিল না। এই প্রতিটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডের টাকা আগেই চলে গেছে। নম্বর ভুল হলে সেই টাকা আর ফেরে না, আর ঠিকানা আধা হলে পার্সেল ঘুরে এসে উল্টো কুরিয়ার চার্জ খেয়ে যায়। এর বেশিরভাগটাই ফর্ম ঠিক করলে আটকানো যায়, আর সেটা কীভাবে, নিচে একে একে বলছি।
অর্ডার ফর্মে কোন ঘরগুলো রাখবেন, কোনগুলো রাখবেন না?
প্রতিটা ঘরকে একটা প্রশ্ন করুন। পার্সেলটা ঠিক মানুষের কাছে, ঠিক জিনিস নিয়ে পৌঁছাতে এই তথ্যটা লাগে কি না? লাগলে রাখুন, না লাগলে বাদ দিন। মোবাইলে প্রতিটা বাড়তি ঘর মানে কাস্টমারের আঙুলের আরেকটা কাজ। আর প্রতিটা বাড়তি কাজে কিছু মানুষ মাঝপথে ফোন রেখে দেন, এটা প্রায় সব সেলারই দেখেছেন।
যে ঘরগুলো লাগবেই, সেগুলো এই।
- নাম। কুরিয়ারের লোক দরজায় গিয়ে এই নামেই খোঁজ করবেন। পুরো নাম চাইবেন না, যে নামে ডাকলে সাড়া দেন সেটাই যথেষ্ট।
- মোবাইল নম্বর, ১১ অঙ্কের। কনফার্ম কল, কুরিয়ারের কল, সব এই এক নম্বরে। এটা ভুল হলে বাকি সব ঠিক থাকলেও অর্ডারটা মরে যায়।
- পুরো ঠিকানা, থানা আর জেলাসহ। বাসা আর রোড নম্বর, এলাকা, থানা, জেলা। থানা না থাকলে কুরিয়ার পার্সেলটা কোন হাবে পাঠাবে, সেটাই ঠিক করতে পারে না।
- ঢাকার ভেতরে না বাইরে। ডেলিভারি চার্জ এটা দিয়েই ঠিক হয়। কাস্টমার নিজে বেছে নিলে মোট টাকা নিয়ে পরে তর্ক কম হয়।
- কোন প্যাক বা কয়টা, আর সাইজ বা রং থাকলে সেটা। এখানে ভুল হলে ঠিক মানুষের কাছে ভুল জিনিস যায়, আর সেটাও ফেরত আসে।
- একটা নোটের ঘর, না দিলেও চলবে এমন। "অফিসে দিয়ে আসবেন" বা "বিকেল পাঁচটার পর ফোন দিবেন" এমন কথা এখানেই আসে।
যা রাখবেন না, সেটাও সমান জরুরি। ইমেইল চাইবেন না। বেশিরভাগ COD কাস্টমারের ইমেইলের দরকারই পড়ে না, আর অনেকের ফোনে ইমেইলের পাসওয়ার্ডও মনে থাকে না। জন্মতারিখ, পেশা, "আমাদের কোথা থেকে জানলেন" এসব বাধ্যতামূলক করবেন না। জানতে চাইলে নোটের মতো না দিলেও চলে এমন করে রাখুন। আরেকটা নম্বরও চাইতে পারেন, তবে সেটাও বাধ্যতামূলক না। প্রথম নম্বর বন্ধ পেলে কুরিয়ারের লোক তখন দ্বিতীয়টায় ফোন দিতে পারেন।
গুগল ফর্মে অর্ডার ফর্ম বানাবেন যেভাবে, ধাপে ধাপে
নিচের ধাপগুলো মোবাইলেও করা যায়, তবে কম্পিউটারে করলে তাড়াতাড়ি হয়। উদাহরণটা একটা ঘিয়ের দোকানের, নিজের প্রোডাক্ট বসিয়ে নিন।
১. নতুন ফর্ম খুলুন, আর ওপরে দরকারি কথাগুলো লিখুন। forms.google.com-এ গিয়ে একটা খালি ফর্ম খুলুন। টাইটেলে দোকানের নাম আর প্রোডাক্ট লিখুন, যেমন "ঘিওয়ালা শপ, গাওয়া ঘি অর্ডার"। নিচের ডেসক্রিপশনে দাম, ডেলিভারি চার্জ, কয় দিনে পৌঁছাবে আর "প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে টাকা দিন" লিখে দিন। গুগল ফর্মে মোট টাকা দেখানোর জায়গা নেই, তাই কাস্টমার এই কয়টা লাইন পড়েই হিসাব বোঝেন।
২. নামের ঘর। Short answer প্রশ্ন দিন, লিখুন "আপনার নাম", আর Required চালু করুন। Required না থাকলে খালি ঘর রেখেও ফর্ম জমা হয়ে যায়।
৩. মোবাইল নম্বরের ঘর, ভুল আটকানোসহ। আরেকটা Short answer দিন, নাম দিন "মোবাইল নম্বর", Required চালু করুন। তারপর ঘরের নিচের তিন ডটে চাপ দিয়ে Response validation চালু করুন। প্রথম ড্রপডাউনে Regular expression, দ্বিতীয়টায় Matches বেছে নিন, আর প্যাটার্নের ঘরে বসান ^01[3-9][0-9]{8}$। Custom error text-এ লিখুন, "ইংরেজি অঙ্কে ১১ ডিজিটের নম্বর লিখুন, যেমন 01712345678"। গুগলের নিজের সাপোর্ট পেজে (support.google.com/docs) এই Regular expression আর Custom error text-এর নিয়ম দেওয়া আছে।
প্যাটার্নটার মানে সহজ। নম্বরটা ০১ দিয়ে শুরু হবে, তৃতীয় অঙ্ক হবে ৩ থেকে ৯-এর মধ্যে, তারপর আরও ৮টা অঙ্ক, সব মিলিয়ে ১১টা। দেশের মোবাইল নম্বর এখন ০১৩ থেকে ০১৯ সিরিজেই। ০১৩ আর ০১৪ এসেছে সবার পরে। New Age-এর খবর অনুযায়ী BTRC ০১৩ দিয়েছে Grameenphone-কে আর ০১৪ দিয়েছে Banglalink-কে। তাই ১০ অঙ্কের নম্বর বা ০১২ দিয়ে শুরু নম্বর আর জমা হবে না। এরর মেসেজে "ইংরেজি অঙ্কে" কথাটা কেন লিখলাম, সেটা নিচে গুগল ফর্মের সমস্যার অংশে বলছি।
৪. ঠিকানার ঘর। এবার Paragraph প্রশ্ন দিন, নাম "পুরো ঠিকানা (বাসা ও রোড, এলাকা, থানা, জেলা)"। ঘরের বর্ণনায় একটা উদাহরণ লিখে দিন। Response validation চালু করে Length বেছে নিন, তারপর Minimum character count দিন ২০। এতে কেউ শুধু "মিরপুর" বা "ঢাকা" লিখে ফর্ম জমা দিতে পারবেন না।
৫. ডেলিভারি এলাকা। Multiple choice প্রশ্ন দিন, দুটো অপশন রাখুন। যেমন "ঢাকার ভেতরে, ডেলিভারি চার্জ ৭০ টাকা" আর "ঢাকার বাইরে, ডেলিভারি চার্জ ১৩০ টাকা"। এই দুটো অঙ্ক উদাহরণ, আপনার নিজের চার্জ বসান।
৬. প্যাক আর পরিমাণ। আরেকটা Multiple choice দিন, নাম "কোন প্যাক নেবেন"। প্রতিটা অপশনে প্যাক আর দাম একসাথে লিখুন, যেমন "২৫০ গ্রাম, ৪৫০ টাকা", "৫০০ গ্রাম, ৮৫০ টাকা"। একই প্যাক কয়টা লাগবে জানতে চাইলে নিচে Dropdown দিয়ে ১ থেকে ৫ রাখুন। প্যাকের জন্য ড্রপডাউন না দিয়ে Multiple choice দিলাম, কারণ মোবাইলে সবগুলো অপশন একবারে চোখের সামনে থাকে, চাপ দিয়ে খুলতে হয় না।
৭. নোটের ঘর। একটা Short answer দিন, নাম "বিশেষ কিছু বলার আছে? (না দিলেও চলবে)"। এটায় Required চালু করবেন না।
৮. সেটিংস, ধন্যবাদের লেখা আর শিট। Settings-এ গিয়ে ইমেইল নেওয়ার অপশন বন্ধ রাখুন। ধন্যবাদের লেখায় (Confirmation message) লিখুন, "আপনার অর্ডার পেয়েছি। আজকের মধ্যে কল দিয়ে কনফার্ম করব, ফোনটা কাছে রাখবেন।" তারপর Responses ট্যাবে গিয়ে Select destination for responses থেকে একটা নতুন স্প্রেডশিট বানান। এখন থেকে প্রতিটা অর্ডার একটা শিটের সারিতে জমা হবে। শেষে Send চাপুন, লিংকের আইকন থেকে ছোট লিংক কপি করুন, আর পেজে দেওয়ার আগে নিজের ফোনে মোবাইল ডেটা দিয়ে একবার একটা ভুল নম্বর লিখে দেখুন এরর আসে কি না।

গুগল ফর্মের যে সমস্যাগুলো পরে টাকা খায়
গুগল ফর্ম বানানো হয়েছে জরিপ আর তথ্য নেওয়ার জন্য, বিক্রির জন্য না। তাই ফর্মটা ঠিকঠাক বানালেও কিছু জায়গায় টাকা চুপচাপ বেরিয়ে যায়। সবচেয়ে বড়টা হলো মোট টাকা। কাস্টমার প্যাক বেছে নিলেন, কিন্তু প্যাকের দাম আর ডেলিভারি চার্জ যোগ করে ফর্ম তাঁকে কিছু দেখাল না। অনেকে যোগটা মনে মনে করেন না। তারপর দরজায় দাঁড়িয়ে কুরিয়ারের লোকের মুখে মোট টাকা শুনে বলেন, "এত টাকা তো বলেননি।" পার্সেলটা তখন ফেরত আসে।
নম্বরের ঘরেও একটা ফাঁক থেকে যায়। ওপরের প্যাটার্নটা শুধু নম্বরের চেহারা দেখে, নম্বরটা সত্যি কি না সেটা দেখে না। এক অঙ্ক উল্টাপাল্টা লেখা নম্বরও ১১ অঙ্কের হলে দিব্যি জমা হয়ে যায়। আবার উল্টো দিকে, যে কাস্টমার বাংলা কিবোর্ডে ০১৭১২... লিখলেন, বা মাঝখানে একটা স্পেস দিলেন, তাঁর সঠিক নম্বরও আটকে যায়। কারণ গুগল ফর্মের এই নিয়মে [0-9] মানে শুধু ইংরেজি অঙ্ক। এরর পড়েও যিনি বুঝলেন না কী করতে হবে, তিনি ফর্ম ছেড়ে চলে যান।
তারপর আছে একই জিনিস দুবার টাইপ করার ঝামেলা। শিট থেকে প্রতিটা অর্ডার কুরিয়ারের প্যানেলে তুলতে হয়, আর রাত জেগে হাতে তুলতে গেলে দু-একটা ভুল হবেই। দাম বদলালে আরেক বিপদ। অপশনের লেখায় দাম আপনি হাতে বসিয়েছেন, তাই দাম বাড়ানোর দিন ফর্মে বদলাতে ভুলে গেলে পুরনো দামেই অর্ডার আসতে থাকে।
কিছু কাজ আবার গুগল ফর্ম একেবারেই পারে না। কেউ নম্বর লিখে বাকিটা না লিখে চলে গেলে তাঁর কিছুই জমা থাকে না, তাই তাঁকে একটা ফোন দিয়ে ফেরানোর সুযোগও থাকে না। একই মানুষ ভুলে দুবার জমা দিলে শিটে দুটো সারি আসে, আর তাড়াহুড়োয় দুটো পার্সেলই চলে যেতে পারে। আর যেহেতু ফর্মে পিক্সেল বসে না, ফেসবুক জানতে পারে না কোন অ্যাড দেখে কে অর্ডার করলেন। তখন অ্যাড কাকে দেখাবে সেটা শেখার মতো তথ্যই ফেসবুক পায় না।
একটা মাসের হিসাব (উদাহরণ)
নিচের সংখ্যাগুলো উদাহরণ, কোনো দোকানের মাপা হিসাব না। নিজের অর্ডার আর খরচ বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন গুগল ফর্মে মাসে ২০০টা অর্ডার আসে, আর প্রতিটা অর্ডার আনতে অ্যাডে গড়ে ১৫০ টাকা যায়। এর মধ্যে ৪টা অর্ডারের নম্বরে কাউকে পাওয়াই গেল না। ওই ৪টার অ্যাডের ৬০০ টাকা পুরোটাই গেল। আরও ৪টা পার্সেল আধা ঠিকানার কারণে ঘুরে ফেরত এলো। প্রতিটায় যাওয়া-আসার কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে ধরুন ১৫০ টাকা, চারটায় ৬০০ টাকা। আর ৩ জন দরজায় মোট টাকা শুনে পার্সেল নিলেন না। সেই একই ১৫০ টাকা করে সেখানে গেল আরও ৪৫০ টাকা।
সব মিলিয়ে এক মাসে ১,৬৫০ টাকা গেল এমন সব অর্ডারে, যেগুলো ভালো ফর্ম থাকলে হয় ঠিকঠাক আসত, নয়তো আসতই না। এর ওপরে আছে সময়। ২০০টা অর্ডার শিট থেকে কুরিয়ারে তুলতে প্রতিটায় দুই মিনিট লাগলেও মাসে ৪০০ মিনিট, মানে প্রায় সাত ঘণ্টা। এই সাত ঘণ্টায় অনেকগুলো পুরনো কাস্টমারকে ফোন দেওয়া যেত। আর টাকার চেয়েও বেশি খারাপ লাগে অন্য জায়গায়। যে কাস্টমার সত্যিই কিনতে চেয়েছিলেন, তিনি একটা ভুল অঙ্কের কারণে আপনার কাছে আর পৌঁছালেনই না।
ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্ম আলাদা কোথায়?
ঘরগুলো একই থাকে, নাম, নম্বর, ঠিকানা, এলাকা আর প্যাক। তফাতটা হলো ফর্মটা আপনার দোকানের অংশ, আলাদা কোনো জরিপের কাগজ না। প্রোডাক্টের পেজ বা ল্যান্ডিং পেজের ঠিক নিচেই ফর্ম থাকে, তাই কাস্টমার ছবি আর বর্ণনা দেখতে দেখতেই অর্ডার করে ফেলেন। ফর্ম প্রোডাক্টের দাম আগে থেকেই জানে। কাস্টমার প্যাক আর এলাকা বেছে নেওয়ার সাথে সাথে প্রোডাক্টের দাম, ডেলিভারি চার্জ আর মোট টাকা চোখের সামনে বসে যায়। দরজায় গিয়ে "এত টাকা তো বলেননি" শোনার রাস্তাটাই বন্ধ হয়ে যায়।
অর্ডার শিটে না গিয়ে সোজা আপনার অর্ডারের লিস্টে আসে, সেখান থেকে কুরিয়ারে পাঠানো যায়, আবার টাইপ করতে হয় না। পেজে পিক্সেল বসানো থাকলে ফেসবুকও জানে কোন অ্যাড থেকে অর্ডারটা এলো। ফর্মটা পেজের কোথায় বসাবেন আর তার আশেপাশে কী দেখাবেন, সেটা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লেখায় বিস্তারিত আছে।
সৎ কথাটাও বলি। ওয়েবসাইটের ফর্মের জন্য আগে একটা ওয়েবসাইট লাগে, আর তার একটা খরচ আছে। আর ফর্ম থাকলেও কিছু কাস্টমার সবসময় ইনবক্সেই অর্ডার দেবেন। চ্যাটের সেই কাস্টমারদের না হারিয়ে ফর্মে আনার উপায় আছে হোয়াটসঅ্যাপ আর ইনবক্সে অর্ডার নেওয়ার লেখায়।
WinningSeller-এর স্টোর আর ল্যান্ডিং পেজের অর্ডার ফর্ম ঠিক ওপরের ঘরগুলো দিয়েই বানানো। দাম আসে আপনার প্রোডাক্টের লিস্ট থেকে, আর অর্ডার সেভ হওয়ার মুহূর্তে সার্ভার দামটা আবার মিলিয়ে নেয়। তাই কেউ ব্রাউজারে পেজের লেখা ঘাঁটলেও অর্ডারে দাম বদলায় না। কাস্টমার নম্বর বাংলা অঙ্কে লিখুন, মাঝে স্পেস বা ড্যাশ দিন, বা সামনে +88 লাগান, ফর্ম ঠিকই সেটাকে ১১ অঙ্কের নম্বর হিসেবে ধরে নেয়। আর কেউ সঠিক নম্বর লিখে অর্ডার শেষ না করে চলে গেলে তাঁর নম্বর "অসম্পূর্ণ অর্ডার" লিস্টে জমা থাকে, যাতে আপনি একটা কল দিতে পারেন।
এক প্রোডাক্টের ১, ২, ৩ প্যাক ফর্মে দেখাবেন যেভাবে
কাস্টমার "কয়টা নেব" ভাবেন না, ভাবেন "আমার কতটা লাগবে"। এক মাসের ঘি, ঈদের রান্নার জন্য বড় কৌটা, অথবা নিজের জন্য একটা আর শ্বশুরবাড়ির জন্য একটা। প্যাক বানালে এই চিন্তাটা ফর্মেই সহজ হয়ে যায়। আর বড় প্যাকে আপনার প্যাকেট আর কুরিয়ারের খরচ একটা পার্সেলেই থাকে, তাই প্রতি কেজিতে দাম একটু কম রাখলেও লাভ ঠিক থাকে।
ধরুন ঘিয়ের তিনটা প্যাক। দামগুলো উদাহরণ। ২৫০ গ্রাম ৪৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ৮৫০ টাকা, ১ কেজি ১,৬০০ টাকা। ১ কেজির প্যাকে কাস্টমার দুটো ৫০০ গ্রাম কেনার চেয়ে ১০০ টাকা কম দিচ্ছেন। এটা প্যাকের নিচে ছোট করে লিখে দিন, "এক কেজি একসাথে নিলে ১০০ টাকা কম"। কত টাকা কম, সেটা টাকায় লিখলে কাস্টমার শতাংশের চেয়ে তাড়াতাড়ি বোঝেন। কোন প্যাকে কত ছাড় দিলে আপনার লাভ সত্যিই বাড়ে, সেই হিসাব টেবিল ধরে দেখানো আছে আপসেল আর ক্রস সেলের লেখায়।
প্যাক সাজানোর কয়েকটা নিয়ম মানুন। প্যাকের নাম দিন কাজ দিয়ে, যেমন "এক মাসের প্যাক" বা "পরিবারের প্যাক", শুধু ওজন দিয়ে না। প্যাক তিনটার বেশি রাখবেন না, চার-পাঁচটা অপশন দেখলে মানুষ বাছতেই দেরি করেন। যে প্যাকটা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, সেটা আগে থেকে বেছে রাখুন। সবচেয়ে দামিটা জোর করে আগে বেছে রাখলে কাস্টমার খেয়াল না করে অর্ডার দেন, আর কনফার্ম কলে বা দরজায় গিয়ে রাগ করেন।
দুটো জায়গায় সাবধান থাকবেন। কাটা দাম দেখাবেন শুধু তখনই, যখন প্রোডাক্টটা সত্যিই সেই দামে বিক্রি হতো। বানানো "আগের দাম" দেখানো ঠকানো, আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকা ২০২১-এ অফার আর ছাড়ের শর্ত প্রোডাক্টের বর্ণনাতেই পরিষ্কার লিখে রাখতে বলা আছে। আর বড় প্যাকের ওজন বেশি। বেশিরভাগ কুরিয়ার ওজন বাড়লে চার্জ বাড়ায়, তাই বড় কৌটার পার্সেলে আপনার কুরিয়ার কত কাটে সেটা আগে দেখে নিয়ে তারপর দাম ঠিক করুন।
গুগল ফর্মে প্যাক দেখানোর উপায় একটাই, ওপরের ধাপ ৬-এর মতো অপশনের লেখায় নাম আর দাম। ওয়েবসাইটে প্যাক দেখানো যায় বড় কার্ডে, প্রতিটা কার্ডে ছবি আর দাম। WinningSeller-এর অর্ডার ফর্মে "ভ্যারিয়েন্ট বা প্যাকেজ কীভাবে বেছে নেবে" থেকে "বড় কার্ডে, প্রতিটি প্যাকেজ আলাদা দামসহ" বেছে নিলে প্রোডাক্টের প্রতিটা ভ্যারিয়েন্ট একটা আলাদা কার্ড হয়ে যায়। প্রতিটা কার্ডে নামের নিচে একটা ছোট লাইন আর কোণে একটা ব্যাজ লিখতে পারেন, যেমন "সবচেয়ে বেশি চলে"। কাটা দাম দেখায় শুধু তখন, যখন প্রোডাক্টে সেই দাম দেওয়া আছে। আর প্যাক দিয়েই কাজ চললে "কয়টি" বাছার ঘরটা বন্ধ করে দেওয়া যায়।

ঠিকানা আর মোবাইল নম্বরে ভুল কমাবেন যেভাবে
ঘরের ঠিক পাশে একটা উদাহরণ দেখালে ভুল সবচেয়ে বেশি কমে, কারণ মানুষ যা দেখেন তার মতো করেই লেখেন। ওয়েবসাইটের ফর্মে এটা ঘরের ভেতরে ধূসর লেখায় বসে। গুগল ফর্মে ঘরের ভেতরে কিছু লেখা যায় না, তাই প্রশ্নের তিন ডট থেকে Description চালু করে সেখানে লিখুন। নম্বরের ঘরে উদাহরণ দিন 01712345678। ঠিকানার ঘরে লিখুন "বাসা ও রোড, এলাকা, থানা, জেলা"। যাঁরা গ্রামে থাকেন, তাঁদের জন্য বর্ণনায় এক লাইন রাখুন, "গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা আর জেলা লিখবেন, কাছের বাজার বা স্কুলের নাম দিলে আরও ভালো।" এই একটা চেনা জায়গার নাম অনেক সময় কুরিয়ারের লোকের আধা ঘণ্টা বাঁচায়।
এলাকার ঘরটা ঠিকানার সাথে মেলে কি না, সেটা কনফার্ম কলে দেখে নিন। কেউ "ঢাকার ভেতরে" বেছে ঠিকানায় লিখলেন সাভার বা টঙ্গী। আপনার কুরিয়ার এই জায়গাগুলোকে কোন রেটে ধরে, আগে জেনে নিন, আর এলাকার অপশনের পাশে ছোট করে লিখে দিন কোনগুলো "ভেতরে" ধরা হয়। নইলে ডেলিভারি চার্জের ফারাকটা আপনার পকেট থেকেই যায়।
কনফার্ম কলে নম্বর আর ঠিকানা কাস্টমারকে পড়ে শোনান। নম্বর পড়ুন দুই ভাগে, প্রথম পাঁচ অঙ্ক তারপর বাকি ছয়টা, তাহলে কাস্টমার মন দিয়ে শোনেন। ঠিকানার শেষে জিজ্ঞেস করুন, "কুরিয়ারের লোক গিয়ে কাকে ফোন দিবে, এই নম্বরেই তো?" এই এক মিনিটের কলে যে ভুল ধরা পড়ে, সেটা না ধরলে পার্সেলটা কয়েক দিন রাস্তায় ঘুরে আপনার কাছেই ফেরত আসত।
ফর্মের নিচে কী লিখবেন?
ফর্মের শেষ কয়েকটা লাইন কাস্টমারের শেষ দ্বিধাটা কাটায়। বাটনে চাপ দেওয়ার ঠিক আগে মানুষ ভাবেন, টাকা কি এখনই দিতে হবে? কবে পাব? কেউ ফোন দেবে তো? আমার নম্বর দিয়ে কী করবে? এই চারটা প্রশ্নের উত্তর বাটনের ঠিক আশেপাশে থাকলে কাস্টমার নিশ্চিন্তে অর্ডার দেন। নিচের লেখাটা কপি করে নিজের মতো বদলে নিন। দিনগুলো উদাহরণ, আপনার কুরিয়ার যত দিনে দেয় সেটাই বসান।
প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে টাকা দেবেন, কোনো অগ্রিম লাগবে না। ঢাকার ভেতরে ২ দিনে, বাইরে ৩ থেকে ৫ দিনে পৌঁছাবে। অর্ডারের পর আমরা কল দিয়ে কনফার্ম করব, ফোনটা কাছে রাখবেন। আপনার নাম, নম্বর আর ঠিকানা শুধু ডেলিভারির কাজে লাগবে।
ডেলিভারির সময়টা লেখা শুধু ভদ্রতা না। ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.২ অনুচ্ছেদে প্রোডাক্টের সাথে ডেলিভারিতে কত দিন লাগবে সেটা লিখে রাখতে বলা আছে। ফেরত বা চেঞ্জের নিয়ম থাকলে সেটাও এক লাইনে লিখুন, যেমন "সাইজ না মিললে ৩ দিনের মধ্যে জানালে চেঞ্জ করে দেব।"
বাটনের লেখাও ভাবুন। "জমা দিন" শুনলে মনে হয় কোনো আবেদন, "অর্ডার কনফার্ম করুন" শুনলে মনে হয় কেনাকাটা। গুগল ফর্মের বাটনে Submit বা জমা দিন লেখা থাকে, নিজের মতো বদলানো যায় না। তাই ফর্মের ওপরের বর্ণনায় লিখে দিন, "সব ঘর পূরণ করে শেষে নিচের বাটনে চাপলেই অর্ডার হয়ে যাবে।" এই এক লাইন না পেলে অনেক কাস্টমার বাটনটা দেখে থমকে যান, ভাবেন এটা কোনো ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ, অর্ডার না।
কখন গুগল ফর্মেই চলবে, কখন বদলাবেন?
গুগল ফর্ম খারাপ কিছু না, ভুল জায়গায় লাগালেই ঝামেলা। নতুন একটা প্রোডাক্টে মানুষের আগ্রহ আছে কি না দেখতে, মাল আনার আগে প্রি-অর্ডারের নাম নিতে, বা চেনা রিসেলারদের কাছ থেকে পাইকারি অর্ডার নিতে গুগল ফর্মই সবচেয়ে সহজ রাস্তা। এখানে মোট টাকা বা পিক্সেল নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার পড়ে না। অ্যাড ছাড়া, পেজের পোস্ট আর পুরনো কাস্টমার থেকে যাঁর দিনে অল্প কয়টা অর্ডার আসে, তাঁরও এখনই বদলানোর তাড়া নেই।
বদলানোর সময় হয়েছে কি না বুঝতে মাস শেষে শিট খুলে একটা সংখ্যা গুনুন। ভুল নম্বর, আধা ঠিকানা আর "এত টাকা তো বলেননি" মিলিয়ে কয়টা অর্ডার আটকাল বা ফেরত এলো। মাসে তিনটার বেশি হলে, অথবা অর্ডার কুরিয়ারে তুলতে রোজ এক ঘণ্টার বেশি যাচ্ছে, তাহলে ওয়েবসাইটের ফর্মে যান। আর নিয়মিত ফেসবুক অ্যাড চালালে এই হিসাবের অপেক্ষাই করবেন না। পিক্সেল ছাড়া প্রতিটা দিন অ্যাডের টাকা খরচ হয়, অথচ ফেসবুক শিখতে পারে না কারা আসলে কেনেন।
বদলানোর দিন পুরনো লিংকটা মেরে ফেলবেন না। পুরনো পোস্টে আর মানুষের ফোনে গুগল ফর্মের লিংক থেকে যায়। ফর্মে উত্তর নেওয়া বন্ধ করে দিন, আর বন্ধ ফর্মে যে মেসেজ দেখায় সেখানে নতুন অর্ডার ফর্মের লিংকটা লিখে দিন। তাহলে পুরনো লিংকে এসেও কাস্টমার পথ হারান না।
গুগল ফর্মের জায়গায় যদি এমন অর্ডার ফর্ম চান যেটা নিজে দাম আর মোট মেলায়, তাহলে WinningSeller-এ স্টোর বা ল্যান্ডিং পেজ বানালে অর্ডার ফর্ম সাথেই থাকে। কাস্টমার যে এলাকা বাছেন, আপনার ঠিক করা সেই এলাকার ডেলিভারি চার্জ নিজে থেকে মোটের সাথে যোগ হয়। অর্ডার জমা হয় অর্ডারের লিস্টে, আর সেখান থেকে Steadfast, Pathao, RedX সহ ৬টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল যায়। কেউ ভুল করে দুবার অর্ডার দিলে দুটোতেই ডুপ্লিকেট চিহ্ন পড়ে, তাই পাঠানোর আগেই চোখে পড়ে। নিজের bKash বা SSLCommerz মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট জুড়ে দিলে শুধু ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নেওয়ার অপশনও আছে। আগে চালিয়ে দেখতে পারেন (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম), বাকি সব ফিচারের পেজে দেখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
গুগল ফর্ম দিয়ে কি অনলাইনে অর্ডার নেওয়া যায়?
হ্যাঁ, যায়, আর এতে কোনো খরচ নেই। নাম, নম্বর, ঠিকানা, ডেলিভারি এলাকা আর কোন প্যাক, এই কয়টা ঘর রেখে লিংকটা পেজে বা ইনবক্সে দিলেই অর্ডার আসা শুরু হয়। তবে গুগল ফর্ম মোট টাকা হিসাব করে দেখায় না, আর প্রতিটা অর্ডার আপনাকে হাতে কুরিয়ারে তুলতে হয়।
গুগল ফর্মে মোবাইল নম্বর ১১ ডিজিট বাধ্যতামূলক করব কীভাবে?
নম্বরের ঘরে Response validation চালু করে Regular expression আর Matches বেছে নিন, তারপর ^01[3-9][0-9]{8}$ বসান। এতে ০১ দিয়ে শুরু না হলে বা ১১ অঙ্ক না হলে ফর্ম জমা হবে না। Custom error text-এ লিখে দিন "ইংরেজি অঙ্কে ১১ ডিজিটের নম্বর লিখুন, যেমন 01712345678", কারণ বাংলা অঙ্কে লেখা নম্বর এই নিয়মে আটকে যায়।
অর্ডার ফর্মে কোন কোন তথ্য নেওয়া উচিত?
কাস্টমারের নাম, ১১ অঙ্কের মোবাইল নম্বর, থানা আর জেলাসহ পুরো ঠিকানা, ঢাকার ভেতরে না বাইরে, আর কোন প্যাক বা কয়টা। সাইজ বা রং থাকলে সেটাও। বাকি সব, যেমন ইমেইল বা জন্মতারিখ, বাদ দিন, কারণ পার্সেল পৌঁছাতে এগুলো লাগে না।
গুগল ফর্মে কি মোট দাম হিসাব করে দেখানো যায়?
গুগল ফর্ম নিজে থেকে দাম যোগ করে মোট দেখাতে পারে না। তাই প্রতিটা প্যাকের নামের পাশে দাম লিখে দিন, আর ফর্মের ওপরে ডেলিভারি চার্জ পরিষ্কার লিখুন। কনফার্ম কলে মোট টাকাটা মুখে বলে নিন, যাতে দরজায় গিয়ে "এত টাকা তো বলেননি" না শুনতে হয়।
গুগল ফর্মের অর্ডার কি সরাসরি কুরিয়ারে চলে যায়?
না, যায় না। উত্তরগুলো একটা Google Sheet-এ জমা হয়, সেখান থেকে আপনাকে কুরিয়ারের প্যানেলে তুলতে হয়। অনেক কুরিয়ারের প্যানেলে একসাথে অনেক পার্সেল তোলার বাল্ক আপলোড আছে, তবে তার জন্য শিটের কলাম ওদের নমুনা ফাইলের মতো সাজিয়ে নিতে হয়।
ফেসবুক পেজে অর্ডার ফর্মের লিংক কোথায় দেব?
প্রোডাক্টের পোস্টের ক্যাপশনে, পেজের অ্যাকশন বাটনে, আর ইনবক্সের অটো রিপ্লাইয়ে। লিংক দিলেও ইনবক্সে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করবেন না। যাঁরা ফর্ম পূরণ করতে চান না, তাঁদের অর্ডারটা চ্যাটেই নিয়ে নিন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


