কুরিয়ার যায় না এমন গ্রামে অর্ডার? পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠানোর নিয়ম
কাস্টমারের ইউনিয়নে কুরিয়ার যায় না? ডাক বিভাগের কোন সার্ভিসে পাঠাবেন, কাউন্টারে কী নিয়ে যাবেন, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু নতুন ডাক মাশুল, ভিপির টাকা কীভাবে ফেরে, আর একটা পার্সেলের পুরো টাকার হিসাব এখানে পাবেন।

এই লেখায় যা আছে
- ডাক বিভাগের কোন সার্ভিস অনলাইন সেলারের কাজে লাগে
- ভিপি পার্সেল কী, পোস্ট অফিসে ক্যাশ অন ডেলিভারি যেভাবে হয়
- পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠানোর নিয়ম, কাউন্টারে বুক করার ধাপ
- ওজন ধরে খরচ কত, ২০২৬-এর নতুন রেট আর পুরো একটা উদাহরণ
- ভিপির টাকা কবে, কীভাবে হাতে আসে
- ট্র্যাকিং, দেরি আর পার্সেল হারালে কোথায় যাবেন
- কুরিয়ার না ডাক, কোন অর্ডারে কোনটা
- আজই করে ফেলুন
পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠানোর নিয়ম আসলে খুব সোজা। প্রোডাক্টটা ব্রাউন পেপারে মুড়ে বাংলায় পুরো ঠিকানা, পোস্ট কোড আর কাস্টমারের মোবাইল নম্বর লিখে উপজেলা বা জেলা শহরের বড় ডাকঘরের কাউন্টারে নিয়ে যান। কাউন্টারে ওজন মেপে মাশুল নেওয়া হয়, আর আপনি বারকোডসহ একটা রিসিট পান। কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা তুলতে চাইলে পার্সেলটা ভিপি করে দিন, মানে ভ্যালু পেয়েবল। তখন কাস্টমার টাকা দিয়ে পার্সেল নেন, আর সেই টাকা মানি অর্ডারে আপনার কাছে ফেরে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন ডাক মাশুল চালু হয়েছে, সাধারণ পার্সেলের প্রথম কেজি এখন ২০ টাকা।
ধরুন রাতে একটা অর্ডার এলো কুড়িগ্রামের এক চরের ইউনিয়ন থেকে। কাস্টমার দুটো শাল আর একটা পাঞ্জাবি চেয়েছেন, সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার টাকার অর্ডার। সকালে কুরিয়ারের প্যানেলে থানা খুঁজে দেখলেন, ওদিকে হোম ডেলিভারি নেই। কাস্টমারকে ফোন দিলেন, তিনি বললেন, "ভাই, এখানে কুরিয়ারের লোক আসে না, ডাকে দেন, পোস্ট অফিস আমার বাড়ির কাছেই।" অর্ডারটা বাতিল করতে মন চায় না, আবার জীবনে কখনো ডাকে পার্সেল পাঠাননি বলে একটু ভয়ও লাগছে। ভয়ের কিছু নেই, নিয়মটা জানা থাকলে কাজটা সোজা। নিচে পুরো কাজটা ধাপে ধাপে লিখছি, একটা পার্সেলের টাকার হিসাবসহ।
ডাক বিভাগের কোন সার্ভিস অনলাইন সেলারের কাজে লাগে
ডাক বিভাগে অনেক সার্ভিস আছে, তবে একজন অনলাইন সেলারের কাজে লাগে মূলত চারটা জিনিস, সাধারণ পার্সেল, ই-কমার্স পার্সেল, স্পিড পোস্ট আর ভিপি। প্রথম তিনটা ঠিক করে পার্সেল কোন পথে যাবে, আর ভিপি ঠিক করে টাকা কীভাবে উঠবে। মানে ভিপি আলাদা কোনো পার্সেল না, এটা পার্সেলের সাথে জুড়ে দেওয়া যায় এমন একটা ব্যবস্থা।
নতুন গেজেটে তিনটা সার্ভিসই ৩০ কেজি পর্যন্ত নেয়। ২০২২ সালের আগের গেজেটে সাধারণ পার্সেল আর "ডিজিটাল কমার্স" দুটোর পাশেই লেখা ছিল হোম ডেলিভারি, আর নতুন গেজেটে ডিজিটাল কমার্সের নাম হয়েছে "ই-কমার্স"। ই-কমার্স পার্সেলে পরের প্রতি কেজির মাশুল একটু বেশি। স্পিড পোস্টের মাশুল সবচেয়ে কম, কিন্তু ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে স্পিড পোস্টের পেজে পরিষ্কার লেখা, এটা শুধু উইন্ডো ডেলিভারি। পার্সেল কাস্টমারের বাড়িতে যাবে না। ডাকঘরে পৌঁছালে কাস্টমারের মোবাইলে মেসেজ যাবে, আর তাঁকে গিয়ে তুলতে হবে। কখনো কখনো জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তবেই পার্সেল দেওয়া হয়, তাই কাস্টমারকে আগেই বলে রাখবেন এনআইডি সাথে নিতে।
অনেকে গুগলে "ems bangladesh post" লিখে খোঁজেন, কারণ নামটা পরিচিত। ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে EMS-কে লেখা আছে দ্রুত আন্তর্জাতিক সার্ভিস হিসেবে, ৪৩টা দেশে। দেশের ভেতরে কাস্টমারের কাছে পার্সেল পাঠানোর জন্য এটা না।
আরেকটা কথা প্রথম দিনেই জেনে রাখুন, নইলে একটা সকাল নষ্ট হবে। ডাক অধিদপ্তরের "কার্যক্রম" পেজের লিস্টে লেখা, পার্সেল আর ভিপিপি সার্ভিস দেওয়া হয় জিপিও, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর আর উপ-ডাকঘর থেকে। গ্রামের শাখা ডাকঘরের নাম সেখানে নেই। নতুন অনেক সেলার বাজারের ছোট শাখা ডাকঘরে পার্সেল হাতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসেন। তাই বুক করতে যাবেন উপজেলা বা থানা সদরের ডাকঘরে, অথবা জেলা শহরের প্রধান ডাকঘরে।
ভিপি পার্সেল কী, পোস্ট অফিসে ক্যাশ অন ডেলিভারি যেভাবে হয়
ভিপি হলো ডাক বিভাগের ক্যাশ অন ডেলিভারি, আর এটা নতুন কিছু না, এর আইনটা ১৮৯৮ সালের। Post Office Act, 1898-এর ৩৪ ধারায় লেখা আছে, যিনি পাঠাচ্ছেন তিনি লিখিতভাবে যে টাকার অঙ্ক বলে দেবেন, ডেলিভারির সময় যিনি পার্সেল নিচ্ছেন তাঁর কাছ থেকে সেই টাকা তোলা হবে, আর তোলা টাকা পাঠানো মানুষটির কাছে যাবে। একই ধারায় এটাও লেখা, কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা না ওঠা পর্যন্ত সেই টাকার কোনো দায় সরকারের না। মানে কাস্টমার পার্সেল না নিলে আপনি টাকা পাবেন না, পার্সেলটা ফেরত আসবে।
কাজটা চলে এভাবে। বুকিংয়ের সময় আপনি ভিপির ফর্মে অঙ্কটা লেখেন, যেমন ২,৫৫০ টাকা। পার্সেল কাস্টমারের ডাকঘরে পৌঁছায়। পোস্টম্যান বাড়িতে নিয়ে যান, অথবা পার্সেল বড় হলে বা বাড়িতে কাউকে না পেলে অনেক সময় একটা নোটিশ কার্ড রেখে আসেন। তখন কাস্টমারকে নিজে ডাকঘরে গিয়ে টাকা দিয়ে পার্সেল তুলতে হয়। টাকা জমা পড়লে সেটা ভিপি মানি অর্ডার হয়ে আপনার ঠিকানার দিকে রওনা দেয়। নতুন গেজেটে একবারে এমন মানি অর্ডারের সর্বোচ্চ সীমা ২৫,০০০ টাকা, তাই এর চেয়ে বড় অর্ডার ভিপিতে এক পার্সেলে যাবে না।
আমার অভিজ্ঞতায় ভিপিতে প্রথম মাসে নতুনদের সবচেয়ে বেশি টাকা খায় একটা ভুল। ভিপির অঙ্কে শুধু প্রোডাক্টের দাম লেখেন, ডেলিভারি চার্জ যোগ করতে ভুলে যান। পার্সেল বুক হয়ে গেলে কাস্টমারের কাছ থেকে বাড়তি টাকা চাওয়ার আর কোনো পথ থাকে না। তাই অঙ্কটা লেখার আগে কনফার্মের ফোনেই কাস্টমারকে মোট টাকাটা বলে দিন, "ভাই, শাল-পাঞ্জাবি ২,৪০০, ডাকের খরচ ১৫০, মোট ২,৫৫০ টাকা দিয়ে ডাকঘর থেকে নেবেন।"
ফোনে দ্বিতীয় যে কথাটা বলবেন, সেটা নোটিশের কথা। গ্রামের অনেক মানুষ কুরিয়ারের রাইডারের ফোনে অভ্যস্ত, কিন্তু ডাকের নোটিশ কার্ড হাতে পেয়েও খেয়াল করেন না, ভাবেন সরকারি কোনো চিঠি। বলুন, "পোস্ট অফিস থেকে কাগজ বা মেসেজ এলে দেরি না করে তুলে নেবেন।" এই এক লাইনে অনেক পার্সেল ডাকঘরে পড়ে থেকে ফেরত আসা থেকে বাঁচে।
পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠানোর নিয়ম, কাউন্টারে বুক করার ধাপ
ডাকঘরে যাওয়ার আগে বাসাতেই প্যাকিং শেষ করুন। কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে প্যাকেট মোড়ানো যায়, কিন্তু তখন পেছনে লাইন জমে আর তাড়াহুড়োয় ঠিকানায় ভুল হয়। সাথে রাখুন ব্রাউন পেপার, চওড়া টেপ, এক টিউব আঠা আর একটা মোটা কালো মার্কার। অনেক ডাকঘরে এসব পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও নিজের আনা জিনিসে কাজ দ্রুত হয়। কাপড় আগে একটা পলিতে ভরে তারপর কাগজে মুড়ুন। ডাকের বস্তায় পার্সেল অন্য মালের সাথে চাপাচাপি করে যায়, আর বর্ষায় ভিজে যাওয়ার ভয় থাকে।
ঠিকানা লিখুন বাংলায়, বড় করে, পরিষ্কার হাতে। অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট ঠিকানার পার্সেল কয়েকটা ডাকঘর ঘুরে আপনার কাছেই ফেরত আসে, আর সেই দায় কেউ নেবে না। প্রাপকের ঘরে এগুলো যেন থাকে।
- কাস্টমারের নাম, আর বাড়ির নাম বা বাবার নাম, যাতে গ্রামে খুঁজে পাওয়া যায়
- গ্রাম, ডাকঘরের নাম আর পোস্ট কোড
- থানা বা উপজেলা, আর জেলা
- কাস্টমারের মোবাইল নম্বর, পুরো ১১ অঙ্ক
পোস্ট কোডটা কাস্টমারের কাছ থেকেই জেনে নিন, অথবা ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের "পোস্টকোড অনুসন্ধান" লিংক থেকে খুঁজে নিন। সবচেয়ে বেশি পার্সেল ঘোরে ইউনিয়নের নাম লিখে ডাকঘরের নাম বাদ দিলে, কারণ ডাক চলে ডাকঘর ধরে, ইউনিয়ন ধরে না। প্রেরকের ঘরে নিজের নাম, পুরো ঠিকানা আর মোবাইল নম্বর লিখুন। পার্সেল ফেরত এলে বা ভিপির মানি অর্ডার এলে, আসবে এই ঠিকানাতেই।

কাউন্টারে গিয়ে বলুন কোন সার্ভিসে পাঠাবেন আর ভিপি হবে কি না। কাউন্টারের লোক পার্সেলটা মাপবেন, মাশুল বলবেন, আর ভিপি হলে একটা ফর্ম দেবেন। ফর্মে টাকার অঙ্কটা সংখ্যায় আর কথায় দুইভাবেই লিখুন, আর খেয়াল রাখুন দুটো যেন একই হয়। টাকা দিলে বারকোড নম্বরসহ একটা রিসিট পাবেন। কাউন্টার থেকে সরার আগে নিজের চোখে দেখে নিন, পার্সেলের গায়ের স্টিকারের নম্বর আর রিসিটের নম্বর এক কি না। তারপর রিসিটের একটা ছবি তুলে রাখুন। ট্র্যাকিং, অভিযোগ আর ভিপির টাকা মেলানোর সময় এই রিসিটটাই আপনার একমাত্র প্রমাণ।
সময়ের দিকটাও মাথায় রাখুন। অনেক ডাকঘরে পার্সেল বুকিংয়ের কাউন্টার কুরিয়ারের হাবের চেয়ে অনেক আগে বন্ধ হয়, আর ছুটির দিনের নিয়ম ডাকঘরভেদে আলাদা। প্রথমবার গিয়েই বুকিংয়ের শেষ সময়টা জেনে নিন, তারপর সেই অনুযায়ী প্যাকিংয়ের দিন ঠিক করুন। বিকেলে পার্সেল হাতে নিয়ে গিয়ে বন্ধ কাউন্টার দেখে ফিরে আসা নতুনদের খুব চেনা ঘটনা।

ওজন ধরে খরচ কত, ২০২৬-এর নতুন রেট আর পুরো একটা উদাহরণ
ডাকের মাশুল ঠিক হয় বাংলাদেশ গেজেটে। ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের "ডাক মাশুল গেজেট" পেজে নতুন যে গেজেট রাখা আছে, সেটা ছাপা হয়েছে ১২ আগস্ট ২০২৬, আর তাতে লেখা এটা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর। ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ সেই গেজেট থেকে দেশের ভেতরের পার্সেলের রেট নিচের টেবিলে তুলে দিলাম।
| সার্ভিস | প্রথম ১ কেজি | এরপর প্রতি কেজি | ডেলিভারি |
|---|---|---|---|
| সাধারণ পার্সেল (৩০ কেজি পর্যন্ত) | ২০ টাকা | ১০ কেজি পর্যন্ত ১০ টাকা, তারপর ১৫ টাকা | বাড়িতে |
| ই-কমার্স পার্সেল (৩০ কেজি পর্যন্ত) | ২০ টাকা | ১৫ টাকা | বাড়িতে |
| স্পিড পোস্ট (৩০ কেজি পর্যন্ত) | ১৫ টাকা | ৮ টাকা | ডাকঘর থেকে তুলতে হয় |
এর সাথে রেজিস্ট্রেশনের চার্জ আলাদা, গেজেটে সেটা ৫ টাকা। প্রাপ্তি স্বীকারের কার্ড (এডি) নিলে আরও ১০ টাকা, আর বীমা বা ভিপি নিলে সেগুলোর চার্জ আলাদা যোগ হয়। কাউন্টারে সাধারণত কেজির ভাঙা অংশকেও পুরো কেজি ধরা হয়। তাই ২ কেজি ১০০ গ্রাম হলে ৩ কেজির মাশুল ধরে হিসাব করুন, কম হলে সেটা আপনার লাভ।
এবার পুরো একটা পার্সেলের হিসাব দেখি। উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ওপরের কুড়িগ্রামের অর্ডারটাই ধরুন। দুটো শাল আর একটা পাঞ্জাবির দাম ২,৪০০ টাকা, কিনতে পড়েছে ১,৫০০ টাকা। কাস্টমারের সাথে কথা হয়েছে, ডাকের খরচ বাবদ ১৫০ টাকা তিনি দেবেন। তাই ভিপির অঙ্ক ২,৫৫০ টাকা। প্যাক করার পর ওজন হলো ২ কেজি ৩০০ গ্রাম, মানে মাশুল ধরছি ৩ কেজির।
আপনার খরচগুলো এরকম। সাধারণ পার্সেলের মাশুল প্রথম কেজি ২০ আর পরের দুই কেজি ১০ করে, মোট ৪০ টাকা। রেজিস্ট্রেশন ৫ টাকা। ভিপির মানি অর্ডারের খরচ গেজেট ধরে গুনলে দাঁড়ায় ফর্ম ৫ টাকা, প্রথম ৫০০ টাকায় কমিশন ৫ টাকা, বাকি ২,০৫০ টাকার প্রতি ১০০ বা তার অংশে ১ টাকা করে ২১ টাকা, আর রেজিস্ট্রেশন ফি ১০ টাকা, মোট ৪১ টাকা। এই খরচটা কার ঘাড়ে পড়ে, আপনার ডাকঘর বলে দেবে, উদাহরণে পুরোটা আপনার ঘাড়েই ধরছি। ব্রাউন পেপার, পলি আর টেপে ২৫ টাকা। উপজেলা সদরের ডাকঘরে যাওয়া-আসায় ৬০ টাকা। সব মিলিয়ে ৪০ + ৫ + ৪১ + ২৫ + ৬০ = ১৭১ টাকা।
পার্সেল ডেলিভারি হলে আপনার হাতে থাকে ২,৫৫০ − ১,৫০০ − ১৭১ = ৮৭৯ টাকা। আর কাস্টমার পার্সেল না নিলে মানি অর্ডারই হয় না, তাই সেই ৪১ টাকা লাগে না, কিন্তু বাকি খরচ যায়। ৪০ + ৫ + ২৫ + ৬০ = ১৩০ টাকা, সাথে ফেরত আসা পার্সেল তুলতে আরেকবার যাওয়া-আসা। ফেরতের জন্য আলাদা কিছু কাটে কি না, বুকিংয়ের সময়ই কাউন্টারে জিজ্ঞেস করে নিন।
এখন ধরুন মাসে এমন ৬টা গ্রামের অর্ডার ডাকে পাঠালেন, তার ১টা ফেরত এলো। ৫টা থেকে এলো ৫ × ৮৭৯ = ৪,৩৯৫ টাকা, ফেরতে গেল ১৩০ টাকা। হাতে থাকল ৪,২৬৫ টাকা, আর এগুলো সেই অর্ডার যেগুলো ডাক না থাকলে আপনি বাতিলই করতেন। হিসাবটা থেকে আরেকটা কথা বোঝা যায়। এখানে খরচের বড় অংশ ডাকের মাশুল না, আপনার যাওয়া-আসা আর মানি অর্ডারের খরচ। তাই কয়েকটা পার্সেল জমিয়ে এক দিনে নিয়ে গেলে প্রতি পার্সেলে খরচ অনেক কমে যায়।

ভিপির টাকা কবে, কীভাবে হাতে আসে
এই অংশটাই সেলারদের সবচেয়ে বেশি অস্থির করে। কুরিয়ারে টাকা আসে bKash বা ব্যাংকে, প্যানেলে দেখা যায় কোন পার্সেলের কত। ডাকে টাকা আসে কাগজের মানি অর্ডারে। নতুন গেজেটেও এর নাম লেখা "মানি অর্ডার/ভিপি মানি অর্ডার (পেপার বেজড রেজিস্টার্ড সার্ভিস)"। পোস্টম্যান মানি অর্ডারটা আপনার ঠিকানায় নিয়ে আসেন আর সই নিয়ে টাকা দেন, অথবা আপনাকে ডাকঘরে গিয়ে তুলতে বলেন।
কতদিন লাগবে, তার কোনো বাঁধা দিন ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বা গেজেটে লেখা নেই। নিজে বুঝে নিন এভাবে। পার্সেল কাস্টমারের ডাকঘরে পৌঁছাবে, কাস্টমার এসে টাকা দেবেন, তারপর মানি অর্ডার উল্টো পথে আপনার ডাকঘরে আসবে। তিনটা ধাপের যেকোনোটায় দেরি হলে টাকাও দেরিতে আসে, বিশেষ করে কাস্টমার নোটিশ পেয়েও কয়েক দিন না গেলে। তাই ডাকের অর্ডারের টাকা ধরে পরের সপ্তাহের অ্যাড বা স্টকের হিসাব করবেন না। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে টাকা আটকে থাকলে কীভাবে হাত চালাবেন, সেটা ক্যাশ ফ্লোর লেখায় বিস্তারিত আছে।
ঝামেলা শুরু হয় যখন একসাথে চার-পাঁচটা মানি অর্ডার আসে, আর কোনটা কোন অর্ডারের বোঝা যায় না। কাগজে থাকে কাস্টমারের নাম আর টাকার অঙ্ক। দুজন কাস্টমারের অঙ্ক একই হলে গুলিয়ে যায়। এজন্য তিনটা অভ্যাস রাখুন। পার্সেলের গায়ে আর আপনার খাতায় অর্ডার নম্বরের পাশে বারকোড নম্বরটা লিখে রাখুন। মানি অর্ডার যেদিন হাতে আসে, সেদিনই কাস্টমারের নাম আর অঙ্ক মিলিয়ে অর্ডারটার পাশে "টাকা পেয়েছি" লিখুন, পরের দিনের জন্য ফেলে রাখবেন না। আর যে পার্সেলের তিন সপ্তাহ পরেও টাকা আসেনি, সেটা আলাদা করে লিখে কাস্টমারকে ফোন দিন, তিনি পার্সেল তুলেছেন কি না।

WinningSeller-এ ছয়টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল বুক করা যায়, কিন্তু ডাক বিভাগ তার মধ্যে নেই। ডাকের পার্সেল আপনাকে কাউন্টারেই বুক করতে হবে। তবে হিসাবটা এক জায়গায় রাখা যায়। অর্ডারটা ম্যানুয়াল অর্ডার হিসেবে তুলুন, তাতে "ডাকে গেছে" নামে নিজের একটা ট্যাগ দিন, আর নোটে বারকোড নম্বরটা লিখুন। ডাকের খরচ আগে bKash-এ নিয়ে থাকলে সেটা অর্ডারে অগ্রিম হিসেবে বসিয়ে দিন। ট্যাগ দিয়ে লিস্ট ফিল্টার করলে এক নজরে দেখবেন কয়টা ডাকের পার্সেলের টাকা এখনো আসেনি। মানি অর্ডার এলে অর্ডারটা ডেলিভারড করে দিন। লাভ-ক্ষতির রিপোর্ট শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার গোনে, তাই ডাকে আটকে থাকা টাকা আগেভাগে লাভ হিসেবে দেখায় না। আর মাশুলের রিসিটটা খরচের এন্ট্রিতে ছবিসহ রেখে দিন।
ট্র্যাকিং, দেরি আর পার্সেল হারালে কোথায় যাবেন
রিসিটের বারকোড নম্বরটাই আপনার ট্র্যাকিং নম্বর। ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের "ট্র্যাক এন্ড ট্রেস" মেনুতে "অভ্যন্তরীণ মেইল ট্র্যাকিং" নামে একটা লিংক আছে, সেখানে নম্বরটা দিলে দেখা যায় পার্সেল কোন ডাকঘর পার হলো। একটা কথা আগেই জেনে রাখুন। কুরিয়ারের প্যানেলের মতো ঘণ্টায় ঘণ্টায় আপডেট এখানে আশা করবেন না। অনেক সময় দুই-তিন দিন কোনো নতুন লাইন আসে না, তারপর একসাথে কয়েকটা আসে। প্রথম দুই দিন আপডেট না দেখে ভয় পেয়ে কাস্টমারকে "পার্সেল হারিয়ে গেছে" বলে দেবেন না।
দেরি মনে হলে প্রথমে কাস্টমারকে ফোন দিন, জিজ্ঞেস করুন ডাকঘর থেকে কোনো কাগজ বা মেসেজ পেয়েছেন কি না। অনেক সময় পার্সেল ডাকঘরে বসে থাকে, শুধু কাস্টমার জানেন না। নতুন গেজেটে লেখা, কোনো ডাকদ্রব্য ৭ দিনের বেশি ডাকঘরে পড়ে থাকলে প্রতিদিন ৫ টাকা রিটেনশন ফি। বেশি দেরি হলে পার্সেল আপনার কাছেই ফেরত চলে আসে। তাই "ডাকঘরে এসেছে" খবর পেলে কাস্টমারকে সেদিনই একবার মনে করিয়ে দিন।
সত্যিই খোঁজ না মিললে যে ডাকঘর থেকে পাঠিয়েছিলেন, সেখানে রিসিট নিয়ে অনুসন্ধানের আবেদন করুন। ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ ডাক অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে দেখা গেছে, দেশের ভেতরের ডাকের অনুসন্ধানের জন্য লাগে বুকিংয়ের রিসিট, আর সেবাটা বিনামূল্যে। তবে নতুন গেজেটে "পোস্টাল আর্টিকেল অনুসন্ধান ফি" ১০ টাকা লেখা আছে, তাই কাউন্টার ১০ টাকা চাইলে অবাক হবেন না। রিসিট হারালে কাজটা অনেক কঠিন হয়ে যায়, এজন্যই কাউন্টারেই ছবি তুলে রাখতে বলেছি। সেখানে সমাধান না পেলে সরকারের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা grs.gov.bd-তে অভিযোগ করা যায়, চার্টারে নিষ্পত্তির সময় লেখা ৩০ থেকে ৬০ কার্যদিবস।
দামি পার্সেল বীমা করে পাঠান। নতুন গেজেটে বীমার ফি প্রোডাক্টের দাম ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি হাজারে ১০ টাকা। মানে ৬,০০০ টাকার একটা ঘড়ি বীমা করে পাঠালে ফি ৬০ টাকা। কয়েকশো টাকার কাপড়ে এর দরকার নেই, কিন্তু কয়েক হাজার টাকার ঘড়ি বা গ্যাজেট গেলে এই ফি সস্তা নিরাপত্তা। বীমা করা পার্সেলে কী কী কাগজ লাগে আর ক্ষতিপূরণ কীভাবে চাইতে হয়, সেটা বুকিংয়ের দিনই কাউন্টারে জেনে নিন।
কুরিয়ার না ডাক, কোন অর্ডারে কোনটা
আমি সেলারদের সবসময় এটাই বলি, ডাক কুরিয়ারের বদলি না, এটা কুরিয়ারের পাশের একটা রাস্তা। যে কাস্টমারের থানায় আপনার কুরিয়ার ঠিকমতো যায়, তাঁকে কুরিয়ারেই পাঠান। কুরিয়ারে রাইডার ফোন দেন, দরজায় পার্সেল দেন, টাকা কয়েক দিনের মধ্যে আপনার bKash বা ব্যাংকে আসে, আর পার্সেল বুক হয় বাসায় বসে। কোন কুরিয়ারের চার্জ কত আর কে কবে টাকা দেয়, সেটা কোন কুরিয়ার ভালো সেই তুলনায় পাশাপাশি রাখা আছে।
ডাক কাজে লাগে যখন কাস্টমারের থানায় বা ইউনিয়নে আপনার কোনো কুরিয়ার হোম ডেলিভারি দেয় না, অথবা কাস্টমার নিজেই বলেন ডাকে দিতে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষ বছরের পর বছর ডাকঘর থেকে চিঠি আর মানি অর্ডার তুলে আসছেন। তাঁদের কাছে ডাকঘরটা কুরিয়ারের হাবের চেয়ে অনেক বেশি চেনা আর কাছের। আরেকটা জায়গা হলো ভারী কিন্তু কম দামি মাল, যেমন কয়েক কেজি বই, কারণ ডাকে কেজির খরচ কম। বুকিং কুরিয়ারের শাখায় কন্ডিশনে পাঠানোর রাস্তাও আছে, সেটা কুরিয়ার সার্ভিস লিস্টের লেখায় আছে। কাস্টমারের বাজারে কোন শাখা আছে দেখে দুটোর মধ্যে বাছুন।

কখন ডাকে পাঠাবেন না, সেটাও পরিষ্কার থাকা দরকার। কাঁচা মাছ, মিষ্টি, দই বা দ্রুত নষ্ট হয় এমন কিছু ডাকে দেবেন না। পার্সেল কবে পৌঁছাবে আর কাস্টমার কবে তুলবেন, দুটোর কোনোটাই আপনার হাতে নেই। কাচের বোতল বা ভাঙার মতো জিনিস ডাকের বস্তায় ঝুঁকিতে থাকে। ঈদের আগের দিন পৌঁছাতেই হবে এমন অর্ডারেও ডাক না। আর যে প্রোডাক্টে আপনার লাভ ১৫০ থেকে ২০০ টাকার কম, সেখানে ওপরের হিসাবের ১৭১ টাকার খরচেই লাভ শেষ, একটা ফেরত এলে সোজা লোকসান। তখন হয় কাস্টমারকে কাছের কুরিয়ার হাব থেকে পার্সেল তুলতে রাজি করান, নয়তো ভদ্রভাবে না বলুন।
যে নম্বরের আগের রেকর্ডে ফেরত বেশি, তাঁকেও ভিপিতে পাঠাবেন না। ডাকে একটা ফেরতের খরচ কম হলেও আপনার যাওয়া-আসা, সময় আর আটকে থাকা স্টক অনেক। পাঠানোর আগে নম্বরটা ফ্রি ফ্রড চেকারে দেখে নিন। কুরিয়ারের রেকর্ড খারাপ হলে অন্তত ডাকের খরচটা আগে bKash-এ নিয়ে নিন। আর যদি সপ্তাহে অনেক পার্সেল ডাকে যেতে থাকে, তখন ডাক অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে লেখা "বাল্ক মেইল চুক্তি"-র খোঁজ নিন। এটা আগারগাঁওয়ে ডাক অধিদপ্তরের সাথে সমঝোতা চুক্তি করে চলে, শর্ত আর দাম চুক্তিতেই ঠিক হয়।
আজই করে ফেলুন
- গত তিন মাসে যে অর্ডারগুলো "কুরিয়ার যায় না" বলে বাতিল করেছিলেন, খাতা বা ইনবক্স থেকে তাঁদের নাম, থানা আর নম্বর একটা লিস্টে তুলুন।
- আপনার উপজেলা বা জেলা শহরের প্রধান ডাকঘরে একবার যান। বুকিংয়ের শেষ সময়, ভিপির মানি অর্ডারের খরচ কে দেন আর ফেরতের নিয়ম জিজ্ঞেস করে খাতায় লিখে আনুন।
- বাসায় ডাকের পার্সেলের একটা ছোট কিট রাখুন, তাতে ব্রাউন পেপার, চওড়া টেপ, আঠা আর মোটা মার্কার থাকবে।
- কনফার্ম কলের স্ক্রিপ্টে দুই লাইন যোগ করুন, "আপনার ডাকঘরের নাম আর পোস্ট কোড কত?" আর "ডাক থেকে কাগজ বা মেসেজ এলে তুলে নেবেন।"
- খাতায় বা শিটে "ডাকে গেছে" নামে একটা আলাদা পেজ খুলুন, কলামে অর্ডার নম্বর, বারকোড নম্বর, ভিপির অঙ্ক, পাঠানোর তারিখ আর টাকা পাওয়ার তারিখ রাখুন।
প্রথম পার্সেলটা পাঠানোর পর রিসিটের অঙ্ক আর মানি অর্ডার আসতে কত দিন লাগল, এই দুটো সংখ্যা লিখে রাখুন। তিন-চারটা পার্সেলের পর আপনার নিজের এলাকার জন্য একটা সত্যিকারের হিসাব হাতে থাকবে, যেটা কোনো ওয়েবসাইট আপনাকে দিতে পারবে না। আর ডাকের রেট কয়েক বছর পরপর বদলায়, শেষবার বদলেছে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে, তার আগের রেট ছিল ২০২২ সালের। তাই বছরের শুরুতে বা নতুন গেজেটের খবর পেলে প্রথম পার্সেলে আরেকবার কাউন্টারে মিলিয়ে নেবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠাতে কত টাকা লাগে?
১২ আগস্ট ২০২৬-এর বাংলাদেশ গেজেটে ছাপা আর ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু ডাক মাশুলে সাধারণ পার্সেলের প্রথম ১ কেজি ২০ টাকা। এরপর ১০ কেজি পর্যন্ত প্রতি কেজিতে ১০ টাকা, আর ১০ থেকে ৩০ কেজির মধ্যে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা। রেজিস্ট্রেশন ৫ টাকা আলাদা, আর ভিপি বা বীমা নিলে তার চার্জও যোগ হয়। শেষ অঙ্কটা কাউন্টারের রিসিটে মিলিয়ে নিন।
পোস্ট অফিসে কি ক্যাশ অন ডেলিভারি হয়?
হয়, এর নাম ভিপি বা ভ্যালু পেয়েবল। পার্সেল বুক করার সময় আপনি একটা টাকার অঙ্ক লিখে দেন, কাস্টমার সেই টাকা দিলে তবেই পার্সেল হাতে পান, আর টাকাটা মানি অর্ডারে আপনার কাছে আসে। Post Office Act, 1898-এর ৩৪ ধারায় এই ব্যবস্থার কথা লেখা আছে।
ভিপি পার্সেলের টাকা কতদিনে হাতে আসে?
ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট বা গেজেটে কোনো বাঁধা দিন লেখা নেই। পার্সেল পৌঁছানো, কাস্টমারের টাকা দেওয়া আর মানি অর্ডার উল্টো পথে আপনার ঠিকানায় আসা, এই তিন ধাপ শেষ হলে তবেই টাকা পান। তাই কুরিয়ারের চেয়ে বেশি সময় ধরে রাখুন, আর প্রথম কয়েকটা পার্সেলে নিজে দিন গুনে দেখুন।
স্পিড পোস্ট আর সাধারণ পার্সেলের পার্থক্য কী?
ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট আর নতুন গেজেট দুই জায়গাতেই লেখা, স্পিড পোস্ট শুধু উইন্ডো ডেলিভারি। মানে কাস্টমারকে ডাকঘরে গিয়ে পার্সেল তুলতে হয়। স্পিড পোস্টের মাশুল কম, কিন্তু কাস্টমার ডাকঘর থেকে দূরে থাকলে পার্সেল পড়ে থেকে ফেরত আসার ঝুঁকি বাড়ে।
ডাক বিভাগের পার্সেল ট্র্যাক করব কীভাবে?
বুকিংয়ের রিসিটে একটা বারকোড নম্বর থাকে। ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের "ট্র্যাক এন্ড ট্রেস" মেনুতে "অভ্যন্তরীণ মেইল ট্র্যাকিং" লিংকে সেই নম্বর দিয়ে খুঁজতে পারবেন। খবর না পেলে রিসিট নিয়ে যে ডাকঘর থেকে পাঠিয়েছেন সেখানে অনুসন্ধানের আবেদন করুন।
EMS দিয়ে কি দেশের ভেতরে পার্সেল পাঠানো যায়?
না। ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে EMS-কে আন্তর্জাতিক সার্ভিস হিসেবে লেখা আছে, ৪৩টা দেশে, ২০ গ্রাম থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত। দেশের ভেতরে কাস্টমারের কাছে পাঠাতে সাধারণ পার্সেল, ই-কমার্স বা স্পিড পোস্ট নিন।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


