WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৫ মিনিটে পড়া যায়

টিকটকে ভিউ আসে, অর্ডার আসে না? টিকটক মার্কেটিংয়ে অর্ডার আনার নিয়ম

টিকটকে ভিউ আসে কিন্তু অর্ডার আসে না? বাংলাদেশে টিকটক শপের আসল অবস্থা, বায়োতে শপের লিংক, কোন ভিডিওতে অর্ডার আসে, Promote দিয়ে বুস্ট আর তার পেমেন্ট, কখন Ads Manager-এ যাবেন, আর টিকটকের অর্ডার আলাদা করে গোনার নিয়ম।

টিকটকে ভিউ আসে, অর্ডার আসে না? টিকটক মার্কেটিংয়ে অর্ডার আনার নিয়ম
এই লেখায় যা আছে
  1. টিকটক মার্কেটিং কি অনলাইন শপে কাজ করে?
  2. বাংলাদেশে কি টিকটক শপ চালু আছে?
  3. টিকটক বিজনেস অ্যাকাউন্ট আর বায়োতে শপের লিংক
  4. টিকটকে কোন ভিডিওতে অর্ডার আসে?
  5. টিকটক বুস্ট করার নিয়ম (Promote), টাকা কীভাবে দেবেন?
  6. কখন বুস্ট ছেড়ে TikTok Ads Manager-এ যাবেন?
  7. টিকটক থেকে কয়টা অর্ডার এল, মাপবেন কীভাবে?
  8. টিকটকে কোন প্রোডাক্টের অ্যাড চলে না?
  9. আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?

টিকটক মার্কেটিং দিয়ে অনলাইন শপে অর্ডার আনা যায়, তবে ফেসবুকের নিয়মে না। টিকটকে মানুষ আসেন ভিডিও দেখতে, কেনাকাটার মন নিয়ে আসেন না। তাই এখানে ভিউ পাওয়া তুলনামূলক সহজ, কিন্তু অর্ডার আসে তখনই যখন ভিডিওতে প্রোডাক্টটা হাতে নিয়ে দেখানো হয়, দাম আর অর্ডার করার উপায় পরিষ্কার বলা থাকে, আর প্রোফাইলের বায়োতে এমন একটা লিংক থাকে যেখানে এক পেজেই অর্ডার করা যায়। যে ভিডিও নিজে থেকেই সাড়া পাচ্ছে, শুধু সেটাকে Promote দিয়ে অল্প টাকায় বুস্ট করবেন, আর টিকটক থেকে আসা অর্ডার আলাদা করে গুনবেন। শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি। অক্টোবর ২০২৬-এ বাংলাদেশে টিকটক শপ চালু নেই, তাই অর্ডারটা নিতে হবে নিজের ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে।

ধরুন রাতে একটা ভিডিও দিলেন, সকালে উঠে দেখলেন বিশ হাজার ভিউ। মনটা খুশিতে ভরে গেল, ভাবলেন আজ অর্ডার সামলাতে হিমশিম খেতে হবে। তারপর সারাদিন ইনবক্স আর অর্ডারের খাতা খুলে বসে থেকে দেখলেন অর্ডার এসেছে মোটে দুইটা, তার একজন আবার ফোনই ধরছেন না। এই হতাশাটা অনেক সেলারের চেনা। নিচে ধাপে ধাপে বলছি ভিউকে কীভাবে অর্ডারে আনবেন, বুস্টের টাকা কীভাবে দেবেন, আর মাস শেষে কীভাবে বুঝবেন টিকটকে দেওয়া টাকাটা ফেরত এলো কি না।

টিকটক মার্কেটিং কি অনলাইন শপে কাজ করে?

করে, কারণ আপনার কাস্টমাররা ওখানে আছেন। DataReportal-এর Digital 2026 Bangladesh রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫ কোটি ৬২ লাখ মানুষের কাছে টিকটকের অ্যাড পৌঁছাতে পারত। একই রিপোর্টে ফেসবুকের সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লাখ। রিপোর্টটা নিজেই মনে করিয়ে দিয়েছে, এগুলো অ্যাডের সম্ভাব্য দর্শক, রোজ অ্যাপ খোলা মানুষের গুনতি না। তবু দুইটা সংখ্যা যে এত কাছাকাছি, সেটাই আসল কথা। আপনার কাস্টমারের বড় একটা অংশ টিকটকেও আছেন।

তফাতটা আসলে মানুষের মনের অবস্থায়। ফেসবুকে কাস্টমার পেজে ঢুকে ইনবক্সে দাম জিজ্ঞেস করেন। টিকটকে মানুষ একটার পর একটা ভিডিও স্ক্রল করে যান, প্রথম এক-দুই সেকেন্ডে চোখ না আটকালে আপনার ভিডিও চলে যায়। তাই টিকটকে বিক্রির কাজ দুই ভাগে চলে। ভিডিও মানুষকে থামায়, আর বায়োর লিংক বা অ্যাডের লিংক তাকে অর্ডারের পেজে নিয়ে যায়। এর একটা দুর্বল হলে অন্যটা একা কিছুই করতে পারে না।

যে প্রোডাক্ট চোখে দেখলেই বোঝা যায়, টিকটকে সেটাই ভালো চলে। যেমন গ্যাজেট যেটা চালিয়ে দেখানো যায়, ক্রিম বা লোশন যার টেক্সচার ক্যামেরায় ধরা পড়ে, পাঞ্জাবি বা টি-শার্ট যেটা গায়ে দিয়ে ঘুরে দেখানো যায়, আর রান্নার জিনিস যেটা কড়াইয়ে পড়লেই মানুষের খিদে পায়। যে প্রোডাক্ট বোঝাতে লম্বা লেখা বা অনেক প্রশ্নের উত্তর লাগে, যেমন দামি ইলেকট্রনিক্স বা কোনো খাবারের বিশেষ গুণ, সেখানে টিকটক থেকে সরাসরি অর্ডার কম আসে। এটা অনেক সেলারের অভিজ্ঞতা।

টিকটক কাদের জন্য এখনই না, সেটাও বলে রাখি। সপ্তাহে কয়েকটা ভিডিও বানানোর সময় যদি একদমই না থাকে, তাহলে শুধু অ্যাকাউন্ট খুলে রেখে লাভ নেই। আর যদি এখনো ফেসবুকের অ্যাড থেকেই লাভ বের করতে না পারেন, তাহলে আগে সেটা ঠিক করুন। একসাথে দুই জায়গায় শেখা মানে দুই জায়গাতেই টাকা ঢালা, আর কোনটায় ভুল হচ্ছে সেটা ধরতে দেরি হওয়া।

বাংলাদেশে কি টিকটক শপ চালু আছে?

না, ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নেই। TikTok Shop-এর সেলারদের সাইট seller.tiktok.com-এ যে দেশগুলো থেকে সেলার সাইন আপ করতে পারেন, সেখানে আমেরিকা, এশিয়া আর ইউরোপ মিলিয়ে উনিশটা দেশের নাম আছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান আর যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশের নাম সেখানে নেই। ওই সাইটেই লেখা আছে, TikTok Shop প্রতিটা দেশে আলাদা করে চলে, আর যে দেশে বিক্রি করবেন সেই দেশের জন্য আলাদা সাইন আপ করতে হয়।

এর মানে খুব সোজা। টিকটক অ্যাপের ভেতরে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট কার্টে নিয়ে টাকা দেবেন, এমন রাস্তা বাংলাদেশে এখন নেই। কাস্টমারকে টিকটক থেকে বের করে আপনার নিজের ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে আনতে হবে, অথবা ইনবক্সে অর্ডার নিতে হবে। কেউ যদি টাকা নিয়ে "টিকটক শপ বিডি অ্যাকাউন্ট খুলে দেব" বলেন, আগে seller.tiktok.com-এর দেশের লিস্টটা নিজে খুলে দেখুন। লিস্টে বাংলাদেশ না থাকলে ওই কথায় একটা টাকাও দেবেন না।

টিকটক বিজনেস অ্যাকাউন্ট আর বায়োতে শপের লিংক

দোকানের জন্য টিকটক চালালে প্রথম কাজ হলো অ্যাকাউন্টটা পার্সোনাল থেকে বিজনেসে নেওয়া। প্রোফাইল থেকে Settings and privacy খুলে Account অংশে Switch to Business Account পাবেন, তারপর ব্যবসার ক্যাটাগরি সিলেক্ট করবেন। অ্যাপের ভার্সন ভেদে নামগুলো একটু আলাদা দেখাতে পারে, কাজটা একই।

দোকানের অ্যাকাউন্টে একটা জিনিস অনেকে শুরুতে খেয়াল করেন না, সেটা হলো গান। TikTok-এর Promote-এর হেল্প পেজে লেখা আছে, শুধু সেই ভিডিও Promote করা যায় যেটায় নিজের রেকর্ড করা আওয়াজ আছে, অথবা ব্যবসার কাজে বাজানোর অনুমতি আছে এমন গান। অনুমতি থাকা গানগুলো পাবেন Commercial Music Library-তে, পেজটা বলছে সেখানে ১০ লাখের বেশি ট্র্যাক আছে।

ধরুন জনপ্রিয় কোনো সিনেমার গান দিয়ে ভিডিও বানালেন, ভিডিওটা চললও। তারপর বুস্ট করতে গিয়ে দেখলেন TikTok গানটা চেঞ্জ করতে বলছে। শুরু থেকেই লাইব্রেরির গান বা নিজের গলা দিলে এই আফসোসটা করতে হয় না।

এবার বায়োর লিংক। TikTok-এর সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী প্রোফাইলে ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া যায় যদি অন্তত ১,০০০ ফলোয়ার থাকে, অথবা অ্যাকাউন্টটা ভেরিফাইড বিজনেস অ্যাকাউন্ট হয়। নতুন দোকানের ফলোয়ার কম থাকাই স্বাভাবিক, তাই বিজনেস ভেরিফিকেশনের রাস্তাটাই আপনার জন্য সহজ। TikTok-এর বিজনেস হেল্প পেজে যে দেশগুলোতে ভেরিফিকেশন চালু আছে, তার লিস্টে বাংলাদেশ আছে। কী কাগজ চাইবে সেটা আবেদনের স্ক্রিনেই দেখাবে, তবে ট্রেড লাইসেন্স থাকলে হাতের কাছে রাখুন।

লিংকটা কোথায় নিয়ে যাবে, সেটা লিংক দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন। টিকটক থেকে আসা মানুষের ধৈর্য কম। তাকে যদি দোকানের হোমপেজে ফেলেন, যেখানে চল্লিশটা প্রোডাক্ট, তিনি খুঁজতে খুঁজতেই বিরক্ত হয়ে চলে যাবেন। ভিডিওতে যে প্রোডাক্ট দেখালেন, লিংকটা সেই প্রোডাক্টের পেজে বা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজে দিন, যেখানে নিচে নামলেই অর্ডার ফর্ম। এমন পেজে কী কী থাকতে হয়, সেটা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজ নিয়ে লেখায় বিস্তারিত আছে। নিজের এমন পেজ না থাকলে WinningSeller-এ AI দিয়ে মিনিট পাঁচেকে একটা ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে নেওয়া যায়। নতুন প্রোডাক্টের ভিডিও দিলে বায়োর লিংকটাও সেই প্রোডাক্টে চেঞ্জ করে দিন।

বায়োতে অল্প কথায় লিখুন আপনি কী বিক্রি করেন, কোথায় ডেলিভারি দেন আর অর্ডার কোথায় করতে হবে। যেমন, "খাঁটি সরিষার তেল আর ঘি। সারা দেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি। অর্ডার নিচের লিংকে।" লিংকের শেষে ?utm_source=tiktok জুড়ে দিন। কেন জুড়বেন, সেটা নিচে অর্ডার মাপার অংশে বলছি।

টিকটকে কোন ভিডিওতে অর্ডার আসে?

যে ভিডিওতে প্রোডাক্টটা মানুষের হাতে থাকে। স্টুডিওর মতো সাজানো পোস্টার বা সাপ্লায়ারের দেওয়া চকচকে ছবি দিয়ে বানানো ভিডিও টিকটকে অ্যাডের মতো লাগে, আর অ্যাড দেখলেই মানুষ পরের ভিডিওতে চলে যান। আপনার নিজের হাতে, নিজের ঘরের আলোয় তোলা ভিডিও দেখলে কাস্টমার ভাবেন, জিনিসটা আসলেই আছে, আর পার্সেল খুলে এটাই পাব। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে এই বিশ্বাসটুকুই অনেক সময় ঠিক করে দেয়, কাস্টমার দরজায় পার্সেল নেবেন নাকি ফেরত দেবেন।

অর্ডার আনে এমন ভিডিও সাধারণত চার রকমের হয়।

  • হাতে নিয়ে খুলে দেখানো। প্যাকেট খোলা, জিনিসটা হাতে নেওয়া, হাতের পাশে রেখে সাইজটা বোঝানো। সাইজ নিয়ে ভুল ধারণা থেকেই অনেক পার্সেল ফেরত আসে, হাতের পাশে রাখলে সেই ভুলটা কমে।
  • চালিয়ে বা মেখে দেখানো। চার্জার লাগিয়ে ফোনে চার্জ ঢুকছে দেখানো, ক্রিমটা হাতের পিঠে মেখে দেখানো, পাঞ্জাবিটা গায়ে দিয়ে একবার ঘুরে দাঁড়ানো। কাজটা চোখে দেখলে মানুষকে আর বোঝাতে হয় না।
  • কমেন্টের প্রশ্নের উত্তর। কেউ কমেন্টে লিখলেন "এটা কি পানিতে নষ্ট হয়?" ঠিক সেই প্রশ্ন নিয়ে ছোট একটা ভিডিও বানান। একজন যে প্রশ্ন লিখেছেন, সেটা আরও অনেকের মনে আছে, যারা লেখেননি।
  • প্যাকিংয়ের ভিডিও। আজকের অর্ডারগুলো প্যাক হচ্ছে, পলিতে ঢুকছে, কুরিয়ারের লোক নিয়ে যাচ্ছেন। এটা দেখলে নতুন কাস্টমার বোঝেন দোকানটা সত্যি চলে, ভুয়া পেজ না।
একজন যুবক সেলার জানালার পাশে টেবিলে মোবাইল স্ট্যান্ডে ফোন বসিয়ে নিজের হাতে একটা স্মার্টওয়াচ খুলে ক্যামেরার দিকে দেখাচ্ছেন
নিজের হাতে, ঘরের আলোয় প্রোডাক্ট দেখানো ভিডিওতেই কাস্টমার বেশি ভরসা পান

ভিডিওর প্রথম এক-দুই সেকেন্ডে প্রোডাক্ট বা সমস্যাটা দেখান, দোকানের নাম বা লোগো না। "শীতে ঠোঁট ফাটে?" বলে শুরু করলে যার ঠোঁট ফাটে তিনি থামবেন, লোগো দিয়ে শুরু করলে খুব কম মানুষ থামেন। দাম লুকাবেন না, স্ক্রিনে লিখে দিন বা মুখে বলুন। "দাম জানতে ইনবক্স করুন" লিখলে টিকটকের মানুষ ইনবক্সে আসেন না, পরের ভিডিওতে চলে যান। আর শেষ দুই-তিন সেকেন্ডে বলে দিন অর্ডার কীভাবে করবেন, যেমন "প্রোফাইলের লিংকে অর্ডার করুন, টাকা দেবেন পার্সেল হাতে পেয়ে"।

একটা ভিডিও ভাইরাল হলে মানুষ আপনার প্রোফাইলে এসে আগের ভিডিওগুলো দেখেন। সেখানে মাত্র দুটো ভিডিও থাকলে তিনি ভরসা পান না। তাই সপ্তাহে কয়েকটা ভিডিও দিন, কারণ কোনটা চলবে সেটা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না।

টিকটক বুস্ট করার নিয়ম (Promote), টাকা কীভাবে দেবেন?

টিকটকের বুস্টের নাম Promote। TikTok-এর হেল্প পেজ এটাকে বলছে একটা অ্যাডের টুল, যেটা দিয়ে আপনার ভিডিও আরও বেশি মানুষের সামনে যায়। Promote করতে হলে বয়স ১৮ বা তার বেশি হতে হবে আর ভিডিওটা পাবলিক হতে হবে। ওয়েবসাইটে মানুষ পাঠাতে চাইলে কাজটা মোটামুটি এভাবে করবেন।

  1. প্রোফাইলে গিয়ে ওপরের ☰ মেনু থেকে Business suite খুলুন (বিজনেস অ্যাকাউন্ট না হলে TikTok Studio), তারপর Promote-এ চাপুন। ভিডিওর পাশের ... বাটন থেকেও Promote পাওয়া যায়।
  2. গোলের জায়গায় ওয়েবসাইটে ভিজিট আনার গোল, মানে More website visits সিলেক্ট করুন। অ্যাপের ভার্সন ভেদে এটা Get sales ধরনের কোনো ট্যাবের নিচে থাকতে পারে।
  3. আপনার প্রোডাক্ট পেজের লিংক দিন, আর Call to action বাটনের লেখা বেছে নিন।
  4. TikTok কয়েকটা প্রমোশন প্যাক সাজিয়ে দেখায়। কাকে দেখাবেন, দিনে কত টাকা আর কত দিন চলবে, এগুলো নিজে ঠিক করতে চাইলে Custom বেছে নিন।
  5. সব মিলিয়ে দেখে নিয়ে Pay চাপুন। ভিডিওটা রিভিউতে পাস করলে বুস্ট শুরু হয়।

প্যাকের পাশে যে ভিউ বা ক্লিকের সংখ্যা লেখা থাকে, TikTok নিজেই বলছে সেটা আগের হিসাব থেকে একটা আন্দাজ, গ্যারান্টি না। আর মাঝপথে বুস্ট থামালে বাকি টাকাটা Promote balance-এ ফেরত যায়, পরের বুস্টে কাজে লাগানো যায়। তাই ভয়ে ভয়ে একবারে বড় প্যাক কেনার দরকার নেই।

অনেকের টাকা নষ্ট হয় গোল বেছে নেওয়ার জায়গাতেই। Promote-এ ভিউ আর ফলোয়ার বাড়ানোর গোলও আছে, আর সেগুলো দেখতে ভালো লাগে, কারণ সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। কিন্তু ভিউয়ের গোল দিলে টিকটক এমন মানুষ খোঁজে যারা ভিডিও দেখেন, যারা কেনেন তাদের না। আপনার অর্ডার পেজ থাকলে More website visits দিন।

যারা ওয়েবসাইটে গিয়ে কেনেন তাদের খোঁজার গোলও আছে, More website conversions। তবে সেটা পেতে ওয়েবসাইটে TikTok Pixel আর Promote-এর সাথে TikTok Ads Manager জোড়া লাগে।

কোন ভিডিও বুস্ট করবেন? যেটা টাকা ছাড়াই সাড়া পাচ্ছে। যে ভিডিওর নিচে মানুষ "দাম কত", "ঢাকার বাইরে দেন?" লিখছেন, সেটাই বুস্টের জন্য সবচেয়ে ভালো, কারণ মানুষ আগেই দেখিয়ে দিয়েছেন এটা তাদের মনে ধরেছে। যে ভিডিও ফ্রিতে চলেনি, টাকা দিলেও সাধারণত সেটা খুব একটা চলে না।

Promote-এ সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে, TikTok-এর হেল্প পেজে নির্দিষ্ট অঙ্কে লেখা নেই, বাজেট দেওয়ার স্ক্রিনেই সেটা দেখায়। প্রথমবার ছোট বাজেটে তিন-চার দিন চালান, উদাহরণ হিসেবে ধরুন দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এটা কোনো নিয়ম না। উদ্দেশ্য একটাই, অল্প টাকায় দেখে নেওয়া এই ভিডিও থেকে সত্যিকারের অর্ডার আসে কি না।

এবার পেমেন্ট। TikTok-এর "Supported methods of payment for Promote" পেজে লেখা আছে, Promote-এর টাকা দেওয়া যায় TikTok Coins, কার্ড, ব্যাংক বা ই-ওয়ালেট, Promote balance, Ads Manager balance আর GMV Pay দিয়ে, তবে কোন অপশন আসবে সেটা দেশ ভেদে আলাদা। ফোনের অ্যাপে Coins, Apple Pay বা Google Pay দিয়ে দিলে Apple বা Google-এর বাড়তি সার্ভিস ফি কাটে, TikTok-এর হেল্প পেজ বলছে সেটা সাধারণত প্রায় ৩০%, সাথে ট্যাক্স। ওয়েব থেকে, মানে tiktok.com/promote/web/main থেকে দিলে এই বাড়তি ফি লাগে না। তাই কার্ডে টাকা দিতে চাইলে ফোনের ব্রাউজার বা কম্পিউটার থেকে দিন।

ওই পেজে bKash-এর নাম আলাদা করে নেই, তাই আপনার পেমেন্টের স্ক্রিনে কী আসে, সেটা দেখে নিন। কার্ড দিয়ে দিতে চাইলে ডলারে খরচ করা যায় এমন কার্ড লাগবে, সেটা কীভাবে করাবেন তা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নিয়ে লেখায় ধাপে ধাপে আছে। TikTok-এর ট্যাক্সের পেজে লেখা আছে, বিলিং ঠিকানার দেশ অনুযায়ী অ্যাডের সাথে ট্যাক্স যোগ হতে পারে। তাই প্রথম বিলটা খুলে দেখে নিন আসলে কত কাটল, তারপর পরের বাজেট ঠিক করুন।

কখন বুস্ট ছেড়ে TikTok Ads Manager-এ যাবেন?

Promote সহজ, কিন্তু এতে হাত-পা কিছুটা বাঁধা। TikTok Ads Manager হলো টিকটকের পুরো অ্যাডের প্যানেল, ফেসবুকের Ads Manager-এর মতো। এখানে এক ক্যাম্পেইনে কয়েকটা ভিডিও একসাথে চালানো যায়, আর পিক্সেলের খবর দেখে টিকটক কেনার মানুষ খুঁজতে শেখে।

তবে Ads Manager-এ ঢোকার দরজাটা টাকার। TikTok-এর বাজেটের হেল্প পেজে লেখা, দিনের বাজেট অ্যাড গ্রুপে দিলে সেটা ২০ ডলারের বেশি হতে হবে, আর ক্যাম্পেইনে দিলে ৫০ ডলারের বেশি। ডলার ১২২ টাকা ধরলে শুধু অ্যাড গ্রুপের নিয়মেই দিনে প্রায় ২,৪৪০ টাকা, এক সপ্তাহে ১৭,০০০ টাকার বেশি। কার্ডের রেট আর ট্যাক্স যোগ হলে আসল খরচ আরও একটু বেশি পড়বে। যে সেলারের মাসের পুরো অ্যাড বাজেট ১৫-২০ হাজার টাকা, এক সপ্তাহেই তার পুরো মাসের টাকা শেষ।

তাই একটা সহজ নিয়ম ধরুন। Ads Manager-এ যাবেন তখনই, যখন Promote দিয়ে অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ চালিয়ে দেখেছেন যে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আসছে, আর একটা ডেলিভারির পেছনে অ্যাডের খরচ আপনার লাভের চেয়ে কম থাকছে। সাথে অন্তত দুই সপ্তাহ দিনে ২০ ডলারের বেশি খরচ চালানোর টাকা আলাদা করে রাখা চাই, যাতে মাঝপথে থামতে না হয়। আর ওয়েবসাইটে TikTok Pixel বসানো থাকতে হবে। এর কোনো একটা না মিললে Promote-এই থাকুন, এতে লজ্জার কিছু নেই।

TikTok Pixel হলো ওয়েবসাইটে বসানো একটা কোড, যেটা মানুষ ওয়েবসাইটে কী করলেন সেই খবর টিকটককে পাঠায়, আর Events API একই খবর পাঠায় সার্ভার থেকে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে আসল প্রশ্নটা হলো Purchase-এর খবর কখন পাঠাবেন, অর্ডার আসার সাথে সাথে, ফোনে কনফার্মের পরে, নাকি ডেলিভারির পরে। ফেক অর্ডারকে Purchase হিসেবে পাঠালে অ্যাড ভুল মানুষ খুঁজতে শেখে। এই ভুলটা ফেসবুকে যেমন, টিকটকেও ঠিক তেমন। পুরো যুক্তিটা টাকার উদাহরণসহ ফেসবুক পিক্সেল সেটআপের লেখায় আছে, শুধু ফেসবুকের জায়গায় টিকটক পড়ে নিন। WinningSeller-এর স্টোরে ট্র্যাকিংয়ের পেজে TikTok Pixel-এর কোড আর Events API-র টোকেন বসালেই দুই দিক থেকে খবর যায়। Purchase কখন যাবে, সেটা ফেসবুকের মতোই আপনি বেছে নেন, কনফার্মের পরে বা ডেলিভারির পরেও।

টিকটক থেকে কয়টা অর্ডার এল, মাপবেন কীভাবে?

টিকটকের হিসাবে সবচেয়ে বড় ফাঁকিটা হলো, অনেক কাস্টমার টিকটকে ভিডিও দেখেন, তারপর ফেসবুকে আপনার পেজ খুঁজে ইনবক্সে অর্ডার দেন। খাতায় তখন লেখা হয় "ফেসবুক", আর আপনি ভাবেন টিকটক কিছুই দিচ্ছে না। আন্দাজে চললে একদিন ভুল জায়গায় পুরো বাজেট ঢেলে দেবেন। তাই টিকটকের অর্ডারে কয়েকটা চিহ্ন রেখে দিন।

সবচেয়ে সহজ চিহ্নটা বায়োর লিংকে। লিংকের শেষে ?utm_source=tiktok জুড়ে দিলে, যেমন yourshop.com/p/ghee/?utm_source=tiktok, আপনার ওয়েবসাইট বুঝতে পারে কাস্টমার টিকটক থেকে এসেছেন। অ্যাডের ক্লিকে চিহ্নটা টিকটক নিজেই দেয়। কেউ টিকটকের অ্যাডে ক্লিক করলে লিংকের সাথে টিকটকের একটা ক্লিক আইডি যায়, আর ওয়েবসাইটে পিক্সেল বসানো থাকলে সেই অর্ডার অ্যাডের ঘরে গোনা হয়।

যারা ইনবক্সে বা ফোনে অর্ডার দেন, তাদের ধরতে কুপন কাজে দেয়। টিকটকের ভিডিওতে একটা কোড বলুন, ধরুন "TIKTOK কোড দিলে ডেলিভারি চার্জ ৫০ টাকা কম"। কাস্টমার কোডটা বললেই বুঝে যাবেন তিনি কোথা থেকে এসেছেন। আর সবচেয়ে সস্তা চিহ্নটা হলো কনফার্ম কলের একটা প্রশ্ন।

এবার হিসাবটা টাকায় দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন আপনি ঘি বিক্রি করেন, আর একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে অ্যাডের খরচ বাদ দেওয়ার আগে আপনার হাতে থাকে ৩২০ টাকা। এক সপ্তাহে টিকটকে Promote-এ খরচ করলেন ২,০০০ টাকা, আর ফেসবুকে বুস্টে ২,০০০ টাকা। সপ্তাহ শেষে চিহ্ন দেখে অর্ডারগুলো আলাদা করলেন।

হিসাব টিকটক ফেসবুক
অ্যাডের খরচ ২,০০০ টাকা ২,০০০ টাকা
অর্ডার এসেছে ১৪টা ১১টা
ডেলিভারি হয়েছে ৮টা ৯টা
একটা ডেলিভারির পেছনে অ্যাডের খরচ ২৫০ টাকা প্রায় ২২২ টাকা

প্রথম দেখায় মনে হয় টিকটক জিতেছে, কারণ অর্ডার বেশি। কিন্তু গুনতে হবে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার, অর্ডার নেওয়ার দিনের সংখ্যা না। টিকটকের ১৪টা অর্ডারের কয়েকজন কনফার্ম কলেই না বলে দিয়েছেন, কয়েকটা দরজা থেকে ফেরত এসেছে। শেষে একটা ডেলিভারির পেছনে টিকটকে গেছে ২৫০ টাকা, ফেসবুকে প্রায় ২২২ টাকা। দুটোই ৩২০ টাকার নিচে, মানে দুই জায়গাতেই প্রতিটা ডেলিভারিতে কিছু টাকা থাকছে। তবে ফেরতের কুরিয়ার চার্জ ধরলে টিকটকের লাভ আরও একটু কমবে।

এই অবস্থায় টিকটক বন্ধ করার কারণ নেই। বরং খুঁজুন টিকটকের অর্ডার কেন বেশি ফেরত আসছে। হয়তো মানুষ ঝোঁকের মাথায় অর্ডার দিচ্ছেন, তখন ভিডিওতে দাম আর ডেলিভারি চার্জ আরও পরিষ্কার করে বললে ঝোঁকের অর্ডার কমে, ডেলিভারি বাড়ে।

ল্যাপটপে একটা সাধারণ শিটের নকশা, টিকটক আর ফেসবুকের দুই কলামে অ্যাডের খরচ, অর্ডার, ডেলিভারি আর একটা ডেলিভারির পেছনে অ্যাডের খরচ, পাশে দুটো খরচই ৩২০ টাকার নিচে দেখানো বার
অর্ডারের সংখ্যা না, একটা ডেলিভারির পেছনে অ্যাডের খরচ মিলিয়ে দেখুন

সংখ্যাটা যদি উল্টো হয়, ধরুন টিকটকে একটা ডেলিভারির পেছনে ৪০০ টাকা যাচ্ছে আর আপনার হাতে থাকে ৩২০, তাহলে প্রতিটা অর্ডারে ৮০ টাকা করে লোকসান। তখন বুস্ট থামান, কিন্তু ভিডিও দেওয়া থামাবেন না। বায়োর লিংক থেকে যে অর্ডারগুলো আসে, সেগুলোতে তো অ্যাডের কোনো খরচই নেই। শুধু Promote-এর খরচটা আপাতত বন্ধ রাখুন।

টিকটকে কোন প্রোডাক্টের অ্যাড চলে না?

খেটে ভিডিও বানানোর পর বুস্ট রিজেক্ট হলে কষ্ট লাগে, আর অ্যাকাউন্ট আটকে গেলে আরও বেশি। তাই প্রোডাক্ট ঠিক করার আগেই নিয়মটা দেখে নিন। নিচের কথাগুলো অক্টোবর ২০২৬-এ TikTok-এর বিজনেস হেল্প সেন্টারের অ্যাড পলিসি থেকে নেওয়া।

ব্র্যান্ডের কপিই সবচেয়ে বড় বিপদ। TikTok-এর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির পলিসিতে লেখা আছে, নকল প্রোডাক্ট, রেপ্লিকা বা ব্র্যান্ডের অনুমতি ছাড়া বানানো জিনিসের অ্যাড চলে না, আর নকল ধরা পড়লে অ্যাড অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হয়। তাই "মাস্টার কপি" লেখা ঘড়ি, জুতা বা পারফিউম টিকটকে বুস্ট করার কথা ভাববেন না। Promote-এর নিয়মে আলাদা করে লেখা আছে, রাজনৈতিক কিছু আর তামাক বা নিকোটিনের জিনিস Promote করা যায় না।

ওজন কমানো বা বাড়ানোর জিনিসে নিয়ম কড়া। TikTok-এর ওজন নিয়ে পলিসিতে লেখা, এমন দাবির অ্যাড শুধু ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দেখানো যাবে, আর বাড়িয়ে বলা দাবি চলবে না। "ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই এক মাসে দশ কেজি কমবে" ধরনের কথা ঠিক এই নিষেধের মধ্যে পড়ে।

ওষুধের নিয়ম আরও কড়া। TikTok-এর স্বাস্থ্য আর ওষুধের পলিসিতে প্রেসক্রিপশনের ওষুধের অ্যাড নিষেধ। বাংলাদেশের জন্য প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় এমন ওষুধ বা মেডিকেল ডিভাইসের অ্যাডে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্টিফিকেট লাগে, আর অ্যাড দেখাতে হয় শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের। কসমেটিকসে রোগ সারানোর দাবি করা যায় না, যেমন "ব্রণ চিরতরে দূর" লিখলে আটকে যাবে।

নিয়মগুলো দেশ ভেদে আলাদা আর মাঝে মাঝে বদলায়, তাই বড় বাজেটে নামার আগে ads.tiktok.com/help-এ নিজের ক্যাটাগরির পেজটা একবার পড়ে নিন।

আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?

আজই বড় কিছু করতে হবে না। টিকটক অ্যাকাউন্টটা বিজনেসে নিন, বিজনেস ভেরিফিকেশনের আবেদন দিন, আর বায়োতে আপনার সবচেয়ে বেশি চলা প্রোডাক্টের পেজের লিংক বসান, শেষে ?utm_source=tiktok জুড়ে। তারপর ওই প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে তিনটা ছোট ভিডিও বানান। একটায় প্যাকেট খুলে দেখাবেন, একটায় চালিয়ে দেখাবেন, আর একটায় আজকের প্যাকিং। এক সপ্তাহ পর যেটার নিচে সবচেয়ে বেশি "দাম কত" কমেন্ট, শুধু সেটাকেই অল্প টাকায় Promote করুন। আর কনফার্ম কলের প্রশ্নটা আজ থেকেই শুরু করুন। যেদিন খাতায় প্রথম "টিকটক" লেখা অর্ডারটা ডেলিভারি হবে, সেদিন বুঝবেন ভিউগুলো আর শুধু সংখ্যা না।

এই মাপার কাজটা খাতায় না করে সিস্টেমে চালাতে চাইলে WinningSeller-এর স্টোরে বেশিরভাগটাই তৈরি আছে। অ্যাড খরচের হিসাবে টিকটকের খরচ TikTok হিসেবে লিখে রাখলে লাভ-ক্ষতির রিপোর্টে সেই খরচের পাশেই টিকটক থেকে আসা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারগুলো দেখা যায়। utm_source=tiktok দেওয়া লিংক আর টিকটকের ক্লিক আইডি, দুটোই সেখানে টিকটকের ঘরে গোনা হয়। আর কুপন চালু করে TIKTOK কোডটা বানিয়ে রাখলে প্রতিটা অর্ডারের সাথে কোডটা লেখা থাকে। বাকি সব ফিচার এখানে দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

টিকটক মার্কেটিং কি টাকা ছাড়া করা যায়?

হ্যাঁ, ভিডিও পোস্ট করা আর বায়োতে শপের লিংক রাখা পুরোটাই ফ্রি। টাকা লাগে শুধু যখন Promote বা Ads Manager দিয়ে ভিডিও বুস্ট করবেন। তবে ফ্রিতে অর্ডার আনতে হলে নিয়মিত ভিডিও দিতে হয়, তাই তখন আপনার সময়টাই আসল খরচ।

বাংলাদেশ থেকে কি টিকটক শপে সেলার হওয়া যায়?

অক্টোবর ২০২৬-এ না। TikTok Shop-এর সেলার সাইট seller.tiktok.com-এ যে দেশগুলোর নাম আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ নেই, আর TikTok Shop প্রতিটা দেশে আলাদা করে চলে। তাই বাংলাদেশের কাস্টমারের কাছে বিক্রি করতে হলে টিকটক থেকে কাস্টমারকে নিজের ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে আনতে হবে।

টিকটক বুস্ট করতে কত টাকা লাগে?

Promote-এ কত টাকা থেকে শুরু করা যায়, TikTok তার হেল্প পেজে নির্দিষ্ট অঙ্কে লেখেনি, বাজেট দেওয়ার স্ক্রিনেই সেটা দেখায়। Ads Manager-এর নিয়ম লেখা আছে, অ্যাড গ্রুপে দিনের বাজেট ২০ ডলারের বেশি আর ক্যাম্পেইনে ৫০ ডলারের বেশি হতে হয়। তাই অল্প টাকায় শুরু করতে চাইলে Promote দিয়েই শুরু করুন।

bKash দিয়ে কি টিকটক বুস্টের টাকা দেওয়া যায়?

TikTok-এর Promote পেমেন্টের হেল্প পেজে bKash-এর নাম আলাদা করে নেই। সেখানে লেখা আছে TikTok Coins, কার্ড, ব্যাংক বা ই-ওয়ালেট, Promote balance, Ads Manager balance আর GMV Pay, আর কোন অপশন আসবে সেটা দেশ ভেদে আলাদা। তাই টাকা দেওয়ার আগে পেমেন্টের স্ক্রিনে আপনার অ্যাকাউন্টে কী দেখায়, সেটা একবার দেখে নিন।

বায়োতে ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়ার অপশন আসছে না কেন?

TikTok-এর সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী প্রোফাইলে ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া যায় যদি অন্তত ১,০০০ ফলোয়ার থাকে, অথবা অ্যাকাউন্টটা ভেরিফাইড বিজনেস অ্যাকাউন্ট হয়। ফলোয়ার কম হলে বিজনেস অ্যাকাউন্টে গিয়ে বিজনেস ভেরিফিকেশনের আবেদন করুন। TikTok-এর বিজনেস হেল্প পেজে বাংলাদেশ এই ভেরিফিকেশনের দেশের লিস্টে আছে।

টিকটকের অর্ডার আর ফেসবুকের অর্ডার আলাদা করে বুঝব কীভাবে?

তিনটা জিনিস একসাথে রাখুন। বায়োর লিংকের শেষে ?utm_source=tiktok জুড়ে দিন, টিকটকের জন্য আলাদা একটা কুপন কোড রাখুন, আর কনফার্ম কলে জিজ্ঞেস করুন "আমাদের কোথায় দেখেছেন?"। অ্যাডের ক্লিক গোনার জন্য ওয়েবসাইটে TikTok Pixel বসান।

#টিকটক মার্কেটিং#টিকটক বুস্ট#TikTok Promote#টিকটক শপ#TikTok Pixel#অনলাইন শপ

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়