স্টেডফাস্ট আর পাঠাও ফ্রড চেক, কত স্কোরে পাঠাবেন আর কখন অগ্রিম চাইবেন
স্টেডফাস্ট ফ্রড চেকে স্কোর এলো ৪৫, পাঠাওতে লেখা "মোটামুটি"। কোন সংখ্যার মানে কী, দুই কুরিয়ার কেন আলাদা কথা বলে, কোন স্কোরে পার্সেল পাঠিয়ে দেবেন আর কোনটায় ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চাইবেন, সব টাকার উদাহরণ দিয়ে বোঝানো।

এই লেখায় যা আছে
রাত এগারোটার দিকে দিনের শেষ অর্ডারটা কনফার্ম করতে বসেছেন। ঢাকার বাইরের অর্ডার, ২,৫০০ টাকার একটা স্মার্টওয়াচ। Steadfast-এর প্যানেলে নম্বরটা দিতেই স্কোর এলো ৪৫। পাঠাবেন, নাকি বাদ দেবেন? স্টেডফাস্ট ফ্রড চেক হলো Steadfast-এর মার্চেন্ট প্যানেলের একটা অপশন, যেখানে কাস্টমারের মোবাইল নম্বর লিখলে দেখা যায় ওই নম্বরে আগে পাঠানো পার্সেল কেমন গেছে। উত্তরটা আসে ১০০-র মধ্যে একটা স্কোরে। মোটা দাগে নিয়মটা এরকম। ৬০ বা তার বেশি হলে স্বাভাবিক কনফার্ম কল করে পাঠিয়ে দিন। ৪০ থেকে ৫৯ হলে কলটা সময় নিয়ে করুন। ৪০-এর নিচে হলে ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম চান।
Pathao (পাঠাও)-ও একই কাজ করে, তবে ১০০-র মধ্যে নম্বর দেয় না। ওরা দেয় আগের পার্সেলের হিসাব আর "ভালো কাস্টমার" বা "ঝুঁকিপূর্ণ"-এর মতো এক কথার একটা রেটিং। দুই কুরিয়ারের ভাষা আলাদা বলে অনেক সেলার দ্বিধায় পড়েন, আর সেই দ্বিধার দাম দুই দিকেই দিতে হয়। ভালো কাস্টমারকে ফিরিয়ে দিলে বিক্রিটা হাতছাড়া হয়। আবার খারাপ নম্বরে পাঠালে এক সপ্তাহ পর পার্সেলটা ফেরত আসে, চার্জ কাটে, আর যে অ্যাডের টাকায় অর্ডারটা এসেছিল সেটাও জলে যায়। নিচে প্রতিটা কুরিয়ারের রেজাল্ট কীভাবে পড়বেন আর কোন রেজাল্টে ঠিক কী করবেন, সেটা ধরে ধরে বলছি।
স্টেডফাস্ট ফ্রড চেক কোথায় দেখবেন, স্কোর মানে কী?
Steadfast-এর ওয়েবসাইটে মার্চেন্ট ড্যাশবোর্ডের ফিচারের মধ্যে "Fraud check before you ship" নামে এই সুবিধার কথা লেখা আছে (২০২৬ সালের অক্টোবরে steadfast.com.bd-তে দেখা)। কাজটা সহজ। প্যানেলে বা মার্চেন্ট অ্যাপে লগইন করে ফ্রড চেকের জায়গায় কাস্টমারের ১১ ডিজিটের নম্বরটা লিখুন। অ্যাকাউন্ট এখনো না থাকলে আগে স্টেডফাস্ট মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়মটা দেখে নিন।
যে রেকর্ডটা দেখছেন, সেটা শুধু আপনার দোকানের না। Steadfast দিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো দোকান ওই নম্বরে যত পার্সেল পাঠিয়েছে, সবগুলো ধরে স্কোরটা বানানো হয়। তাই যিনি আপনার কাছে প্রথমবার কিনছেন, অথচ গত মাসে অন্য তিনটা দোকানের পার্সেল ফেরত দিয়েছেন, তাঁর কথাও এখানে ধরা পড়ে।
০ থেকে ১০০-র এই স্কোর শুধু ডেলিভারির হার দেখে বানানো হয় না। পার্সেলগুলো কত আগের, আর নম্বরটার নামে কোনো দোকান অভিযোগ করেছে কি না, সেগুলোও ধরা হয়। দুই বছর আগে দুটো ফেরত দেওয়া মানুষ আর গত সপ্তাহে দুটো ফেরত দেওয়া মানুষ, এই দুজনের স্কোর তাই এক হয় না।
স্কোরের সাথে Steadfast একটা লেভেলও দেয়। ওদের API-র নিয়মে কোন স্কোর কোন লেভেলে পড়ে, সেটা এরকম।
- ৮০ বা তার বেশি হলে trusted, মানে সবচেয়ে ভরসার কাস্টমার
- ৬০ থেকে ৭৯ হলে good
- ৪০ থেকে ৫৯ হলে caution, মানে একটু সাবধান
- ২০ থেকে ৩৯ হলে risky
- ২০-এর নিচে হলে danger
- কোনো রেকর্ডই না থাকলে new, মানে নতুন কাস্টমার
প্যানেলে কথাগুলো বাংলায় বা একটু অন্যভাবে লেখা থাকতে পারে। তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ Steadfast নিজেই জানিয়েছে, API-তে যে স্কোর আসে আর প্যানেলের ফ্রড চেকে যা দেখায়, দুটো একই নিয়মে বানানো।
স্কোরের নিচে কয়েকটা ছোট কারণও থাকে, আর আসল কাজের কথা ওখানেই। একটা কারণ বলে নম্বরটার রেকর্ড কত দিনের, কোনো পার্সেলই যায়নি, অল্প, মোটামুটি, নাকি অনেক দিনের। আরেকটা বলে তিনি পার্সেল কেমন নেন, ৮০%-এর বেশি, অর্ধেকের বেশি, নাকি অর্ধেকের কম। শেষটা অভিযোগ নিয়ে, কোনো অভিযোগ নেই, পুরনো অভিযোগ, নাকি সাম্প্রতিক অভিযোগ। স্কোর ৪৫ দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার আগে কারণগুলো পড়ুন। "খুব অল্প রেকর্ড" আর "অর্ধেকের কম পার্সেল নেন", এই দুটো একই ৪৫ স্কোর দিতে পারে, কিন্তু দুটোর মানে একেবারে আলাদা।

পাঠাওর রেটিং আর স্টেডফাস্টের স্কোর আলাদা কেন?
কারণটা খুব সাধারণ। প্রতিটা কুরিয়ার শুধু নিজের পার্সেলের হিসাব রাখে। Pathao-র নিজের ব্লগে ২০২৬ সালের ১১ আগস্টের একটা লেখায় বলা আছে, মার্চেন্ট প্যানেলে কাস্টমারের নম্বর দিলে Pathao-র নেটওয়ার্কে তাঁর আগের ডেলিভারির ইতিহাস দেখা যায়, কতগুলো সফল, কতগুলো বাতিল বা ফেরত। মানে Pathao দেখে Pathao-র পার্সেল, Steadfast দেখে Steadfast-এর। একজন কাস্টমার Steadfast-এ দশটা পার্সেল ঠিকঠাক নিয়েছেন, আর Pathao-তে দুটো ফেরত দিয়েছেন, এমন হতেই পারে। তখন এক কুরিয়ার বলবে ভালো, আরেকটা বলবে সাবধান, আর দুটোই সত্যি।
দ্বিতীয় পার্থক্য হলো বলার ধরনে। Steadfast দেয় ১০০-র মধ্যে নম্বর। Pathao প্যানেলে আগের পার্সেলের হিসাব দেখায়, আর ওদের API কাস্টমারের একটা এক শব্দের রেটিংও দেয়। রেটিংটা চমৎকার কাস্টমার, ভালো কাস্টমার, মোটামুটি, ঝুঁকিপূর্ণ আর নতুন কাস্টমার, এই কয়েক ধাপে পড়া যায়। সংখ্যা দেখে মনে হয় বেশি নিখুঁত, কিন্তু রেটিংয়ের পেছনেও একই জিনিস থাকে, নম্বরটা আগে কেমন পার্সেল নিয়েছে। Pathao-তে অ্যাকাউন্ট খোলা আর প্যানেল চালানোর পুরো ধাপ আছে পাঠাও মার্চেন্ট একাউন্টের গাইডে।
দুটো একসাথে পড়ার একটা সহজ নিয়ম রাখুন। দুই কুরিয়ারই ভালো বললে স্বাভাবিক কল করে পাঠিয়ে দিন। একটা ভালো আর একটা ঝুঁকিপূর্ণ বললে অর্ডারটাকে "সাবধান" ধরুন, ভালোটাকে না। কারণ যিনি এক জায়গায় ফেরত দেন, তিনি আপনার পার্সেলও ফেরত দিতে পারেন, কোন কুরিয়ারে গেল সেটা তাঁর কাছে বড় কথা না। আর যে কুরিয়ারে নম্বরটার কোনো রেকর্ড নেই, তার "নতুন কাস্টমার" কথাটাকে ভালো বা খারাপ কোনোটাই ধরবেন না। ওটা শুধু বলে, এই কুরিয়ার তাঁকে চেনে না।
RedX, Paperfly বা Carrybee-র রেকর্ডও একসাথে দেখতে চাইলে আলাদা প্যানেলে ঘুরতে হয়, অথবা Fraud BD-র মতো একটা সার্ভিস লাগে যা সব কুরিয়ারের হিসাব এক জায়গায় দেয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে fraudbd.com-এ লেখা আছে, ওরা Pathao, RedX, Steadfast, Paperfly, Parceldex আর Carrybee-র রেকর্ড দেখায়। ফ্রি প্ল্যানে ৭ দিন দিনে ১০টা চেক, আর ২০০ টাকার মাসিক প্ল্যানে দিনে ৫০টা। দাম বদলাতে পারে, কেনার আগে ওদের সাইটে একবার দেখে নিন।
কত স্কোরে পাঠাবেন, কত হলে অগ্রিম চাইবেন?
স্কোর দেখার পর আসল প্রশ্ন একটাই, এখন কী করবেন। নিচের টেবিলটা WinningSeller-এর ফ্রি ফ্রড চেকার যে নিয়মে রেজাল্ট দেয়, সেটা ধরে বানানো। ডেলিভারির সংখ্যা পাওয়া গেলে হার দেখা হয়, সংখ্যা না থাকলে কুরিয়ারের স্কোর।
| রেজাল্ট | Steadfast স্কোর | ডেলিভারির হার | কী করবেন |
|---|---|---|---|
| ভালো | ৬০ বা বেশি | ৮০% বা বেশি | স্বাভাবিক কনফার্ম কল, তারপর পাঠান |
| সাবধান | ৪০ থেকে ৫৯ | ৬০ থেকে ৭৯% | সময় নিয়ে কল, ঠিকানা মিলিয়ে, দামি হলে অগ্রিম |
| ঝুঁকি বেশি | ৪০-এর নিচে | ৬০%-এর নিচে | ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম, না দিলে পাঠাবেন না |
| তথ্য নেই | স্কোর নেই | পার্সেল নেই | নতুন কাস্টমার, যত্নের কল |
কোনো কুরিয়ার নম্বরটাকে ঝুঁকিপূর্ণ বললে "ভালো" নেমে আসে "সাবধান"-এ। এটা আগের অংশের সেই নিয়মটাই।
এখন প্রশ্ন হলো, "সাবধান" অর্ডারে কি সবসময় অগ্রিম চাইবেন? না, আর এটা টাকায় দেখলে পরিষ্কার হয়। নিচের সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ফেরতের হারগুলোও আন্দাজ, নিজের দোকানের সংখ্যা বসিয়ে মিলিয়ে নিন।
ধরুন ২,৫০০ টাকার স্মার্টওয়াচে আপনার লাভ ৬০০ টাকা। একটা পার্সেল ফেরত এলে কুরিয়ার চার্জ, প্যাকেট আর আটকে থাকা স্টক মিলিয়ে ধরুন ২৫০ টাকা যায়। অগ্রিম হিসেবে চাইবেন ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ, ধরুন ১৩০ টাকা।
প্রথমে "সাবধান" ঘরের ১০টা অর্ডার ধরুন, যেখানে সাধারণত ৩টা ফেরত আসে। অগ্রিম না চেয়ে পাঠালে ৭টা ডেলিভারিতে লাভ ৪,২০০ টাকা, আর ৩টা ফেরতে যায় ৭৫০ টাকা। হাতে থাকে ৩,৪৫০ টাকা। এবার সবার কাছে অগ্রিম চাইলেন। ভুয়া ৩ জন থেমে গেলেন, কিন্তু সত্যিকারের ২ জনও "আগে টাকা দেব না" বলে অর্ডার বাতিল করলেন। ডেলিভারি হলো ৫টা, লাভ ৩,০০০ টাকা। মানে অগ্রিম চেয়ে আপনি ৪৫০ টাকা কম পেলেন।
এবার "ঝুঁকি বেশি" ঘরের ১০টা অর্ডার, যেখানে ধরুন ৬টাই ফেরত আসে। অগ্রিম ছাড়া পাঠালে ৪টা ডেলিভারিতে ২,৪০০ টাকা, ৬টা ফেরতে যায় ১,৫০০ টাকা, হাতে থাকে ৯০০। অগ্রিম চাইলে ৬ জন থামলেন, সত্যিকারের ৪ জনের ৩ জন টাকা পাঠালেন। ৩টা ডেলিভারিতে লাভ ১,৮০০ টাকা, ফেরত শূন্য। এখানে অগ্রিম চেয়ে আপনার দ্বিগুণ লাভ।
নিয়মটা তাহলে এরকম দাঁড়ায়। "সাবধান" অর্ডার কল দিয়েই সামলান, অগ্রিম রাখুন শুধু দামি প্রোডাক্ট বা কলে খটকা লাগলে। "ঝুঁকি বেশি" অর্ডারে অগ্রিম ছাড়া পাঠাবেন না।
প্রোডাক্টের দাম কম হলে সীমাটা আরও কড়া করুন। ৪৫০ টাকার একটা ফেস ওয়াশে লাভ যদি ১৫০ টাকা হয়, আর ফেরতে ওই ২৫০ টাকার কাছাকাছিই যায়, তাহলে একটা ফেরতেই প্রায় দুটো ডেলিভারির লাভ চলে যায়। সেখানে ৫০-এর কাছাকাছি স্কোরেও অগ্রিম চাওয়া যুক্তির কথা। উল্টো দিকে যে প্রোডাক্টে লাভ বেশি, সেখানে একটু ঝুঁকি নেওয়া চলে।
অগ্রিম চাওয়ার সময় কাস্টমারকে কখনো বলবেন না যে তাঁর রেকর্ড খারাপ। বলুন, "ঢাকার বাইরের অর্ডারে আমরা ডেলিভারি চার্জটা আগে নিই, বাকিটা পার্সেল হাতে পেয়ে দেবেন।" কারণটা আপনার নিয়ম, কারও দোষ না।
নতুন নম্বর, কোনো রেকর্ড নেই, তখন কী?
Steadfast-এ স্কোরের জায়গা ফাঁকা, আর লেভেলে লেখা new। অনেক সেলার এটাকে কম স্কোর ভেবে ভয় পান। আসলে এর মানে একটাই, এই কুরিয়ার কখনো এই নম্বরে পার্সেল দেয়নি, তাই তার কিছু জানা নেই। শূন্য আর "জানা নেই" এক কথা না। যিনি জীবনে প্রথম অনলাইনে কিনছেন, বা কয়েক দিন আগে নতুন সিম নিয়েছেন, তাঁর রেকর্ড থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।
ফেসবুকে অ্যাড চালালে নতুন কাস্টমার আসবেই, আর এঁদের সবাইকে সন্দেহ করলে ব্যবসা বাড়বে না। এখানে ফ্রড চেক আপনাকে কিছু বলতে পারছে না, তাই কাজটা করবে কনফার্ম কল। কলে তিনটা জিনিস একটু বেশি যত্ন নিয়ে করুন।
প্রথমে ঠিকানাটা কাস্টমারের মুখ থেকে আবার শুনুন, থানা আর জেলাসহ, আর একটা চেনা জায়গার নাম জিজ্ঞেস করুন। "বাসার কাছে কোনো মসজিদ, স্কুল বা দোকান আছে, যেটা ডেলিভারিম্যানকে বললে চিনবে?" যিনি সত্যিই অর্ডার দিয়েছেন, তিনি এটা সাথে সাথে বলতে পারেন। তারপর মোট টাকাটা মুখে বলুন, ডেলিভারি চার্জসহ, যাতে দরজায় দাঁড়িয়ে "এত টাকা!" শুনতে না হয়। শেষে জিজ্ঞেস করুন, কবে বাসায় থাকবেন। এতে কাস্টমার নিজেই একটা দিন ঠিক করেন, আর নিজের দেওয়া কথা মানুষ সাধারণত রাখেন।
নতুন নম্বরের সাথে যদি আরও দু-একটা খটকা থাকে, যেমন ঢাকার বাইরের দামি অর্ডার, প্রথম অর্ডারেই একই জিনিস তিন-চারটা, বা কলে ঠিকানা নিয়ে গড়বড়, তখন ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চান। কলে কোন লক্ষণ দেখলে থামবেন, সেই লিস্ট আর ফেরত কমানোর বাকি উপায়গুলো আছে ফেক অর্ডার আর রিটার্ন কমানোর লেখায়।
রেকর্ড ভালো অথচ রিপোর্ট আছে, মানে কী?
মাঝে মাঝে এমন নম্বর আসবে, যিনি অনেক পার্সেল নিয়েছেন, ডেলিভারির হারও ভালো, তবু তাঁর নামে অভিযোগ আছে। Steadfast-এ মার্চেন্টরা কোনো নম্বরের নামে অভিযোগ করতে পারেন, আর সেটা স্কোরে ধরা হয়। প্রশ্ন হলো, অভিযোগটা কতটা বিশ্বাস করবেন।
Steadfast নিজেই এই অবস্থাটা আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। ডেলিভারির রেকর্ড ভালো, অথচ অভিযোগ আছে, এমন হলে ওদের কারণের লাইনে সতর্ক করা থাকে যে এটা প্রতিযোগীর কাজও হতে পারে। মানে কোনো দোকান হয়তো ইচ্ছা করে অন্য দোকানের ভালো কাস্টমারের নামে রিপোর্ট দিয়েছে। আবার এমনও হয়, এক দোকানের সাথে দাম বা সাইজ নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল, সেই রাগে দোকানটা রিপোর্ট করেছে।
তাই অভিযোগের লাইনটা দেখেই অর্ডার বাতিল করবেন না। আগে দেখুন রেকর্ডটা কেমন। যিনি ২০টা পার্সেলের ১৮টা নিয়েছেন, তাঁর নামে একটা পুরনো অভিযোগ থাকলে সাধারণ কলেই পাঠান। কিন্তু অভিযোগ যদি সাম্প্রতিক হয়, আর সাথে ডেলিভারির হারও নামতে থাকে, তখন দুটো মিলিয়ে সাবধান হন।
আরেকটা কারণের লাইন হলো ডেলিভারি হওয়া পার্সেলেও অভিযোগ। এমন নম্বরে কলের সময় প্রোডাক্টের রং, সাইজ আর কী কী থাকবে, সেটা পরিষ্কার করে মিলিয়ে নিন। প্যাক করার সময় পার্সেলের ছবি বা ছোট একটা ভিডিও তুলে রাখুন। Pathao-ও ওই আগস্টের লেখায় রাইডারের হাতে দেওয়ার আগে প্যাক করা পার্সেলের ছবি বা ভিডিও রাখতে বলেছে। পরে "ভেতরে জিনিস কম ছিল" বললে ছবিটাই আপনার কথা বলবে।
ফ্রড চেক কখন ভুল বলে?
ফ্রড চেক আগের পার্সেলের হিসাব, ভবিষ্যতের গ্যারান্টি না। বেশিরভাগ সময় এটা ঠিক দিক দেখায়, তবে কয়েকটা জায়গায় রেজাল্টটা চোখ বুজে মানলে ভুল হয়।
মাত্র দু-তিনটা পার্সেলের রেকর্ড। দুটো পার্সেলের একটা ফেরত মানে হার ৫০%, আর রেজাল্ট আসে "ঝুঁকি বেশি"। অথচ সেই একটা ফেরত হয়তো তিনি বাড়িতে না থাকার কারণে হয়েছিল। এত কম পার্সেলে হারটা তেমন কিছু বলে না। WinningSeller-এর ফ্রি চেকারও ৩টার কম পার্সেল হলে আলাদা করে লিখে দেয় যে রেকর্ড খুব অল্প। এমন নম্বরকে "সাবধান" ধরে কল করুন, অগ্রিমের সিদ্ধান্ত নিন কল শুনে।
অনেক মানুষের হয়ে অর্ডার দেওয়া নম্বর। কেউ অফিসের সবার জন্য অর্ডার দেন, কেউ নিজে ছোট করে রিসেল করেন। তাঁর নম্বরে পার্সেল অনেক, আর অন্যের হয়ে নেওয়া কিছু পার্সেল ফেরতও যায়। হারটা একটু নেমে থাকে, কিন্তু তিনি আপনার জন্য ভালো কাস্টমার হতে পারেন। কলে "কার জন্য নিচ্ছেন?" জিজ্ঞেস করলেই বোঝা যায়।
পুরনো নম্বর, নতুন মানুষ। অনেক দিন বন্ধ পড়ে থাকা সিম মোবাইল অপারেটর অনেক সময় নতুন কাউকে দেয়। তখন আগের মানুষের ফেরতের রেকর্ড নতুন মানুষের ঘাড়ে পড়ে। কাস্টমার যদি বলেন নম্বরটা কয়েক মাস আগে নিয়েছেন, আর বাকি কথাবার্তা ঠিক থাকে, তাহলে রেকর্ডের চেয়ে কলটাকে বেশি গুরুত্ব দিন।
এক কুরিয়ার দেখে পুরো সিদ্ধান্ত। আপনি শুধু Steadfast-এ চেক করলেন, স্কোর ভালো। অথচ কাস্টমার RedX-এ নিয়মিত পার্সেল ফেরত দেন, যেটা Steadfast জানে না। দামি অর্ডারে তাই অন্তত দুটো কুরিয়ারে দেখে নিন।
পরিবারের এক নম্বরে সবার অর্ডার, বা কুরিয়ারের নিজের ভুলে কাস্টমারের নামে ফেরত লেখা হওয়া, এই দুটো কারণও আছে। এগুলো ফেক অর্ডারের লেখাটায় বিস্তারিত বলা আছে, তাই এখানে আর বাড়ালাম না।
প্রতিটা অর্ডারে হাতে চেক না করে নিজে থেকে দেখবেন যেভাবে
দিনে পাঁচটা অর্ডার হলে প্যানেলে একটা একটা নম্বর দেওয়া কোনো কষ্টের কাজ না। কিন্তু দিনে ৩০টা অর্ডারে দুই কুরিয়ারের প্যানেলে আলাদা করে চেক করতে গেলে এক ঘণ্টা চলে যায়, আর ব্যস্ত দিনে কাজটা বাদ পড়ে। বাদ পড়ার দিনেই সাধারণত খারাপ নম্বরটা ঢুকে যায়।
হাতে করলে কাজটা একটা নিয়মে বাঁধুন। দিনে দুইবার, ধরুন দুপুর ১২টা আর সন্ধ্যা ৬টায়, জমা হওয়া সব নতুন অর্ডারের নম্বর একসাথে চেক করুন। অর্ডারের শিটে একটা কলাম রাখুন "রেকর্ড", সেখানে ছোট করে লিখুন, যেমন "S ৭২ / P ভালো"। তারপর কল করতে বসুন। এতে কল করার আগেই জানেন কোন কলে বেশি সময় দিতে হবে আর কোন কলে অগ্রিমের কথা তুলতে হবে। আগে কল, পরে চেক করলে একই কাস্টমারকে দুবার ফোন দিতে হয়।
WinningSeller-এ এই চেকটা নিজে থেকে হয়। পার্সেল বুক করার জন্য যে Steadfast key আর Pathao অ্যাকাউন্ট আগেই সেভ করেছেন, সেগুলো দিয়েই Steadfast-এর বায়ার স্কোর আর Pathao-র কাস্টমার রেটিং চলে আসে, আলাদা কোনো খরচ ছাড়া। কুরিয়ার পেজের "ভুয়া অর্ডার ধরতে কুরিয়ার রেকর্ড" অংশে "প্রতিটি নতুন অর্ডারে নিজে থেকে যাচাই" চালু রাখলে অর্ডার আসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অর্ডার লিস্টে নম্বরের পাশে সবুজ, হলুদ বা লাল একটা চিহ্ন বসে। অর্ডার খুললে "কুরিয়ার রেকর্ড" কার্ডে স্কোর, রেটিং আর Steadfast-এর কারণের লাইনগুলো বাংলায় পড়া যায়। ডেলিভারির হার কত শতাংশের নিচে নামলে সাবধান করবে, সেটা আপনি ঠিক করেন (শুরুতে ৭০% দেওয়া থাকে), আর হার তার চেয়েও ২০ পয়েন্ট নিচে নামলে চিহ্নটা লাল হয়। একই নম্বর ২৪ ঘণ্টায় একবারই চেক হয়, আর দরকার হলে অর্ডারের ভেতরের "আবার যাচাই" বাটনে চাপ দিলে নতুন করে দেখে। Fraud BD-র key বসালে বাকি কুরিয়ারের হিসাবও একই কার্ডে আসে।

যে পথেই অটোমেটিক চেক করান, কয়েকটা সীমা সবখানেই থাকে। RedX ফ্রড চেকের কোনো API দেয় না, তাই কোনো সফটওয়্যারে RedX-এর রেকর্ড দেখতে হলে Fraud BD-র মতো সার্ভিস লাগে। কিছু টুল আপনার কুরিয়ার প্যানেলের পাসওয়ার্ড চেয়ে নিয়ে প্যানেলে লগইন করে তথ্য তোলে। প্যানেলের পাসওয়ার্ড কোনো টুলের হাতে দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন, কারণ ওই প্যানেলেই আপনার কুরিয়ারের টাকা থাকে। আর Steadfast নিজের API-তে পার্সেল বুকিং ধরে দৈনিক লিমিট রাখে, তাই একেবারে নতুন অ্যাকাউন্টে ব্যস্ত দিনে কিছু চেক আটকে যেতে পারে।
আজ থেকেই শুরু করা যায়। কাল সকালের প্রথম পাঁচটা অর্ডারের নম্বর Steadfast আর Pathao দুই প্যানেলেই দেখুন, শিটে স্কোর আর রেটিং লিখুন, তারপর ওপরের টেবিল ধরে কল করুন। এক সপ্তাহ পর মিলিয়ে দেখুন, যাঁদের "সাবধান" লিখেছিলেন তাঁদের কয়জন পার্সেল নিলেন। নিজের দোকানের সেই সংখ্যাটাই পরের মাসে আপনার সীমা ঠিক করে দেবে।
সাধারণ প্রশ্ন
স্টেডফাস্ট ফ্রড চেক করতে কি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট লাগে?
হ্যাঁ, লাগে। ফ্রড চেকটা Steadfast-এর মার্চেন্ট প্যানেল আর মার্চেন্ট অ্যাপের ভেতরের ফিচার, তাই লগইন করেই দেখতে হয়। অ্যাকাউন্ট না থাকলে WinningSeller-এর ফ্রি ফ্রড চেকারে নম্বর দিয়ে কুরিয়ারের রেকর্ড দেখে নিতে পারেন।
স্টেডফাস্টের স্কোর কত হলে ভালো?
৬০ বা তার বেশি হলে সাধারণ কনফার্ম কল করে পাঠিয়ে দিতে পারেন, আর ৮০ বা তার বেশি হলে Steadfast নিজেই নম্বরটাকে সবচেয়ে ভরসার ঘরে রাখে। ৪০ থেকে ৫৯ হলে কলটা সময় নিয়ে করুন। ৪০-এর নিচে হলে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চাওয়াই নিরাপদ।
পাঠাওতে ফ্রড চেক কোথায় করব?
Pathao-র মার্চেন্ট প্যানেলেই এই অপশন আছে, আলাদা কোনো সফটওয়্যার লাগে না। Pathao-র নিজের ব্লগে ২০২৬ সালের আগস্টে লেখা হয়েছে, প্যানেলে কাস্টমারের নম্বর দিলে Pathao-র নেটওয়ার্কে তাঁর আগের ডেলিভারির ইতিহাস দেখা যায়, কতগুলো সফল আর কতগুলো বাতিল বা ফেরত। মনে রাখবেন, এটা শুধু Pathao-র পার্সেলের হিসাব।
স্কোর না এলে বা "নতুন কাস্টমার" দেখালে কি অর্ডারটা ভুয়া?
না। এর মানে কুরিয়ার এই নম্বরে আগে কখনো পার্সেল দেয়নি, তাই তার কিছু জানা নেই। অনেক মানুষ প্রথমবার অনলাইনে কেনেন। কনফার্ম কলটা একটু যত্ন নিয়ে করুন, আর দামি প্রোডাক্ট হলে ডেলিভারি চার্জ আগে নিন।
Steadfast বলছে ভালো, Pathao বলছে ঝুঁকিপূর্ণ, কোনটা মানব?
দুটোই মানবেন, কারণ দুই কুরিয়ার শুধু নিজের পার্সেলের হিসাব রাখে। এক কুরিয়ারে কেউ পার্সেল নিয়মিত নেন, আরেকটায় ফেরত দেন, এমন হয়। কোনো একটা কুরিয়ার ঝুঁকি দেখালে অর্ডারটাকে "সাবধান" ধরে লম্বা কল করুন।
দিনে কতবার ফ্রড চেক করা যায়?
সেটা নির্ভর করে কোন পথে চেক করছেন তার ওপর। API দিয়ে চেক করলে Steadfast আপনার পার্সেল বুকিংয়ের পরিমাণ ধরে একটা দৈনিক লিমিট রাখে, তাই নতুন অ্যাকাউন্টে কম চেক হয়। Fraud BD-র সাইটে ২০২৬ সালের অক্টোবরে লেখা আছে, ৭ দিনের ফ্রি প্ল্যানে দিনে ১০টা আর ২০০ টাকার মাসিক প্ল্যানে দিনে ৫০টা চেক করা যায়।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


