অফারের SMS কেউ খোলে না? ভয়েস এসএমএসের খরচ, নিয়ম আর রেডি স্ক্রিপ্ট
পুরনো কাস্টমারদের অনেকে লেখা SMS পড়েন না, কিন্তু একটা কল ঠিকই শোনেন। রেকর্ড করা কলে অফার পাঠাতে কত টাকা লাগে, কাকে পাঠাবেন আর কাকে না, আর লাভ হলো কি না কীভাবে বুঝবেন, ১,০০০ কলের পুরো হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- ভয়েস এসএমএস কী, লেখা SMS থেকে কোথায় আলাদা
- কোন কাস্টমারের কাছে কাজ করে, কার কাছে বিরক্তি
- কোথা থেকে নেবেন, টাকা দেওয়ার আগে কী জিজ্ঞেস করবেন
- ১,০০০ কলে কত খরচ (উদাহরণ)
- ২০ সেকেন্ডের স্ক্রিপ্ট আর রেকর্ড করার নিয়ম
- সময়, অনুমতি আর বন্ধ করার উপায়, কোন নিয়ম মানবেন
- কাজ হলো কি না, মাপবেন যেভাবে
- কখন ভয়েস এসএমএস পাঠাবেন না
- আজই করে ফেলুন
ভয়েস এসএমএস মানে আপনার গলায় রেকর্ড করা ছোট একটা অফারের কথা, যেটা একটা সিস্টেম একসাথে শত শত পুরনো কাস্টমারের নম্বরে কল করে শুনিয়ে দেয়। কাস্টমার কল ধরলেই রেকর্ডিং বাজতে থাকে, তাঁকে কিছু পড়তে হয় না। বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরের বিজনেস সার্ভিস আর কয়েকটা বাল্ক SMS কোম্পানি এটা বিক্রি করে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাদের নিজের পেজে ছোট একটা কলের দাম মোটামুটি ৫৫ পয়সা থেকে এক টাকার মধ্যে লেখা। এটা কাজ করে মূলত সেই পুরনো কাস্টমারদের কাছে, যাঁরা লেখা SMS পড়েন না। অচেনা মানুষের কাছে পাঠালে টাকা দিয়ে বিরক্তি কেনা হয়, আর কিছু না।
ধরুন আপনি মধু আর সরিষার তেল বেচেন। ঈদের আগে আটশো পুরনো কাস্টমারকে যত্ন করে লেখা একটা অফারের SMS পাঠালেন। দুই দিনে ফোন এলো হাতে গোনা কয়েকটা। তারপর এক চাচা অর্ডার দিতে ফোন করে বললেন, "বাবা, মোবাইলে কী একটা লেখা আসছে, চোখে ভালো দেখি না, নাতি পড়ে শোনাল।" তখন বুকের ভেতর একটা আফসোস হয়, কথাটা যদি মুখে বলে দেওয়া যেত! ভয়েস এসএমএস ঠিক এই জায়গার জন্য। তবে ভুল লিস্টে পাঠালে টাকাও যায়, পেজের সুনামও যায়, তাই তাড়াহুড়া না করে পুরোটা বুঝে নিন।
ভয়েস এসএমএস কী, লেখা SMS থেকে কোথায় আলাদা
প্রোভাইডারের প্যানেলে আপনি দুটো জিনিস আপলোড করেন, কাস্টমারদের নম্বরের একটা Excel বা CSV ফাইল আর রেকর্ড করা অডিও। তারপর কোন দিন কয়টায় কল যাবে ঠিক করে দেন, সময় হলে সিস্টেম নিজেই একটার পর একটা নম্বরে কল দেয়। কেউ না ধরলে কিছুক্ষণ পরে আবার দেয়, MiM SMS-এর পেজে যেমন তিনবার রিডায়ালের কথা লেখা। কাস্টমারের ফোনে কলটা আসে প্রোভাইডারের একটা নির্দিষ্ট নম্বর থেকে, আপনার নিজের মোবাইল নম্বর থেকে না। MiM-এর পেজে একে বলা হয়েছে IPTSP নম্বর, মানে ইন্টারনেটে চলা ফোন নম্বর, যেটা বাংলাদেশে ০৯৬ দিয়ে শুরু হয়। অচেনা নম্বর দেখে কেউ কেউ প্রথমবার ধরেন না, রিডায়ালটা এজন্যই কাজে আসে।
আসল পার্থক্যটা হলো মানুষ এগুলো কীভাবে হাতে নেন। লেখা SMS গিয়ে পড়ে সিম কোম্পানির প্যাকেজ আর লোনের অফারের ভিড়ে, অনেকে না খুলেই ডিলিট করেন। বয়স্ক মানুষ খুললেও লম্বা বাংলা লেখা পড়তে কষ্ট পান। ভয়েস কলকে ভিড়ে লুকিয়ে রাখা যায় না। হয় তিনি শোনেন, নয়তো কেটে দেন।
লেখা SMS-এর নম্বর কাস্টমার পরে দেখে ফোন দিতে পারেন, ভয়েসে সেই সুযোগ নেই। কল শেষে নম্বরটা মাথায় না থাকলে অর্ডারও আসে না। তাই রেকর্ডিংয়ে নিজের নম্বর দুবার বলতে হয়।
আর একটা ছোট জিনিস আছে, যেটা না জানলে প্রথম রেকর্ডিংটাই নষ্ট হয়। কাস্টমার কল ধরে প্রথমে বলেন "হ্যালো, কে?" কিন্তু রেকর্ডিং ততক্ষণে বাজতে শুরু করেছে। ফলে প্রথম এক-দুই সেকেন্ড তিনি শুনতেই পান না। প্রথম কথাটাই যদি দোকানের নাম হয়, সেটা "হ্যালো"-র নিচে চাপা পড়ে যায়।

কোন কাস্টমারের কাছে কাজ করে, কার কাছে বিরক্তি
ভয়েস এসএমএস সবচেয়ে ভালো কাজ করে যে জিনিস মানুষ বারবার কেনেন, সেখানে। মধু, ঘি, সরিষার তেল, চাল বা শুটকি শেষ হলে আবার লাগে, শুধু কেউ মনে করিয়ে দিলেই হয়। এই কাস্টমারদের বড় একটা অংশ জেলা শহর বা গ্রামের, বয়সও একটু বেশি। তাঁরা ইনবক্সে কথা বলার চেয়ে ফোনে কথা বলতে বেশি স্বস্তি পান।
কাকে পাঠাবেন, সেটা আন্দাজে ঠিক করবেন না। অর্ডারের খাতাটা খুলে দেখুন কে ফোন করে অর্ডার দিয়েছিলেন আর কে ইনবক্সে লিখে। যিনি নিজে ফোন করেছিলেন, তিনি ভয়েসের মানুষ। ইনবক্সে "ছেলে লিখে দিল" বলে যাঁর ঠিকানা এসেছিল, তিনিও প্রায়ই এই দলে পড়েন। এঁদের পাশে একটা দাগ দিয়ে রাখুন।
বিরক্তি আসে উল্টো দিকের মানুষের কাছ থেকে। বিশ-পঁচিশ বছরের যে কাস্টমার গ্যাজেট কিনে সারাদিন ইনবক্সে থাকেন, তাঁর কাছে রেকর্ড করা কল সিম কোম্পানির বিজ্ঞাপনের মতোই ঝামেলা। আর যিনি কোনোদিন আপনার কাছ থেকে কেনেননি, তাঁকে এই কল পাঠাবেনই না। অচেনা দোকানের রেকর্ড করা কল শুনে মানুষ প্রতারণা ভেবে ভয় পান, কেউ কেউ নম্বরটা ব্লকও করে দেন।
নতুন সেলারদের আমি সবসময় এই নিয়মটাই দিই, শুধু তাঁদের পাঠান যাঁরা গত ছয় মাসে আপনার কাছ থেকে কিনে পার্সেল হাতে নিয়েছেন। প্রথম তিন সেকেন্ডে দোকানের নাম আর তিনি কী নিয়েছিলেন শুনলে কলটা তাঁর কাছে বিজ্ঞাপন থাকে না, মনে করিয়ে দেওয়া হয়ে যায়।
কোথা থেকে নেবেন, টাকা দেওয়ার আগে কী জিজ্ঞেস করবেন
ভয়েস এসএমএস বিক্রি করে মূলত দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান। এক, মোবাইল অপারেটরের বিজনেস সার্ভিস। Grameenphone-এর ওয়েবসাইটে "Voice Broadcast" নামে সার্ভিসটার পেজ আছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে সেখানে লেখা ছিল, এটা GP Enterprise কাস্টমারদের জন্য, নিতে হয় অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারের মাধ্যমে। কাগজ লাগে ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ার্ক অর্ডার, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর NID। দাম লেখা মিনিট ধরে, ১০,০০০ মিনিট পর্যন্ত মিনিটে ১ টাকা, ৫০,০০০ পর্যন্ত ০.৮০ টাকা, তার বেশি হলে ০.৬০ টাকা।
দুই, বাল্ক SMS কোম্পানি, যাদের অনেকে এখন ভয়েসও দেয়। MiM SMS-এর পেজে সার্ভিসটার নাম Voice Broadcasting Service। সেখানে ২৯ সেকেন্ডের কল ৫,০০০টায় প্রতিটা ০.৭০ টাকা, ৫০,০০০টায় ০.৫৫ টাকা, আর ৫৯ সেকেন্ডের কল ১ টাকা থেকে ০.৮৫ টাকা। কাগজ চায় NID, ট্রেড লাইসেন্স আর সাইন করা শর্তের ফর্ম। BulkSMSBD-এর ওয়েবসাইটে ভয়েস কল ব্লাস্টিং মিনিটে ১ টাকা, ১,০০০ মিনিট থেকে শুরু, ৩০ সেকেন্ডের পালসে হিসাব, আর কল যেতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগে। এদের কারও কাছে আগে থেকেই SMS অ্যাকাউন্ট থাকলে ওই সাপোর্টেই আগে ফোন দিন, কাগজ জমা দেওয়া আছে বলে কাজ দ্রুত হয়।
খেয়াল করুন, প্রায় সবাই ট্রেড লাইসেন্স চায়। আপনার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ভয়েস এসএমএস আপাতত অপেক্ষা করুক, আগে লাইসেন্সটা করে নিন। কেউ কোনো কাগজ ছাড়াই "আজই চালু করে দিচ্ছি" বললে জিজ্ঞেস করুন, কলগুলো কার লাইসেন্সে আর কার নম্বর থেকে যাবে। BTRC-র ওয়েবসাইটে A2P SMS কোম্পানিগুলোর যে লিস্ট আছে (শেষ আপডেট মার্চ ২০২৬), সেটা লেখা SMS-এর জন্য, ভয়েসের না।
প্যাকেজ কেনার আগে সাপোর্টে ফোন দিয়ে এই প্রশ্নগুলো করুন, উত্তর ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত চান।
- টাকা কাটে প্রতি কলে, নাকি মিনিট বা পালস ধরে? ২০ সেকেন্ডের একটা কলে ঠিক কত কাটবে?
- কাস্টমার না ধরলে বা নম্বর বন্ধ থাকলে কি টাকা কাটে? কয়বার রিডায়াল করে, কত মিনিট পরপর?
- কাস্টমারের ফোনে কোন নম্বর দেখাবে, আর কেউ ওই নম্বরে কল ব্যাক করলে কলটা কোথায় যায়?
- প্যাকেজের মেয়াদ কত দিন, আর দামের সাথে ভ্যাট আলাদা কি না?
- রিপোর্টে কী থাকে, কে ধরলেন আর কত সেকেন্ড শুনলেন সেটা দেখা যায় কি না?
- অডিও কোন ফরম্যাটে চায় (MP3 না WAV), কত সেকেন্ডের মধ্যে, আর কল যাওয়ার আগে ওদের কেউ অডিওটা শুনে পাস করে কি না?
আমার অভিজ্ঞতায় প্রথমবার সবচেয়ে বেশি টাকা নষ্ট হয় প্যাকেজের ভুলে। বড় প্যাকেজে প্রতি কলের দাম কম দেখে কেউ ২০,০০০ কল কিনে ফেলেন, অথচ লিস্টে মানুষ আটশো। মেয়াদ ফুরালে বাকি কলের টাকা আর ফেরত আসে না। তাই দামের পাশে মেয়াদটাও লিখিত নিন।

১,০০০ কলে কত খরচ (উদাহরণ)
নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। প্রোভাইডারের রেট নেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাদের নিজের পেজ থেকে। নিজের দাম আর খরচ বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন আপনি এক কেজি মধু ৮৫০ টাকায় বেচেন। কিনতে পড়ে ৫০০ টাকা, বোতল আর প্যাকেটে আরও ৩০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। তাহলে একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে হাতে থাকে ৩২০ টাকা। গত ছয় মাসে ডেলিভারি পাওয়া কাস্টমার ১,১৮০ জন। এর থেকে একই নম্বর দুবার, দুই বা তার বেশি বার পার্সেল ফেরত দেওয়া নম্বর আর যাঁরা ফোন দিতে মানা করেছেন তাঁদের বাদ দিলেন। লিস্টে থাকল ঠিক ১,০০০ জন।
এবার লেখা SMS আর ভয়েসের খরচ পাশাপাশি দেখুন। অক্টোবর ২০২৬-এ প্রোভাইডারদের পেজে ছোট প্যাকেজের নন-মাস্কিং SMS প্রতিটা ০.৩৪ থেকে ০.৪০ টাকা, হিসাবের সুবিধার জন্য ধরা হলো ০.৩৫ টাকা। অফারের বাংলা মেসেজ এক SMS-এর ৭০ অক্ষরে আঁটে না, তাই ধরা হয়েছে দুই ভাগ।
| হিসাব | ভয়েস (২৯ সেকেন্ড, MiM-এর ৫,০০০ কলের প্যাকেজ) | লেখা বাংলা SMS (দুই ভাগ) |
|---|---|---|
| একজনের কাছে খরচ | ০.৭০ টাকা | ০.৩৫ × ২ = ০.৭০ টাকা |
| ১,০০০ জনে খরচ | ৭০০ টাকা | ৭০০ টাকা |
| সবচেয়ে ছোট প্যাকেজ কিনতে লাগে | ৩,৫০০ টাকা (৫,০০০ কল) | Alpha SMS-এ ১,৫০০, MiM-এ ১,৭০০ টাকা |
অবাক লাগলেও, একজন কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে দুটোর খরচ প্রায় একই। আসল তফাত প্রথম প্যাকেজে। ভয়েসে একবারে ৩,৫০০ টাকা বের করতে হয়, আর ১,০০০ জনকে পাঠানোর পর ৪,০০০ কল বাকি থাকে।
এবার ফলাফল ধরুন। পাঠানোর পর ৪৮ ঘণ্টায় আপনার নম্বরে ১৫টা কল এলো, তার থেকে অর্ডার হলো ১২টা। একটা পার্সেল দরজা থেকে ফেরত এলো, তাতে কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে গেল ১৩০ টাকা। ১১টা ডেলিভারি থেকে এলো ১১ × ৩২০ = ৩,৫২০ টাকা।
এই একবারের পাঠানোর খরচ ৭০০ টাকা ধরলে হাতে থাকে ৩,৫২০ − ১৩০ − ৭০০ = ২,৬৯০ টাকা। কিন্তু বাকি ৪,০০০ কল যদি মেয়াদের মধ্যে কাজে না লাগান, তাহলে আসল খরচ পুরো ৩,৫০০ টাকা। তখন হিসাব দাঁড়ায় ৩,৫২০ − ১৩০ − ৩,৫০০ = মাইনাস ১১০ টাকা। একই অর্ডার, একই মধু, শুধু প্যাকেজের মেয়াদের কারণে লাভ থেকে লস।
তাই কেনার আগে লাভ-লসের সীমাটা বের করে রাখুন। প্রতি ডেলিভারিতে ৩২০ টাকা থাকলে ৭০০ টাকা তুলতে লাগে ৩টা ডেলিভারি (৭০০ ÷ ৩২০ = ২.১৯, মানে দুইটায় হয় না)। আর পুরো ৩,৫০০ টাকা তুলতে লাগে ১১টা ডেলিভারি (৩,৫০০ ÷ ৩২০ = ১০.৯৪)। আপনার লিস্ট থেকে বছরে কয়বার পাঠাবেন, সেটা ভেবে তবেই প্যাকেজ কিনুন।

২০ সেকেন্ডের স্ক্রিপ্ট আর রেকর্ড করার নিয়ম
২৯ সেকেন্ডের কল কিনলেও রেকর্ডিং রাখুন ২০ থেকে ২২ সেকেন্ডের মধ্যে। শুরু আর শেষের ফাঁকা সময়টাও কলের মধ্যে গোনা হয়। আর ২৯ সেকেন্ড পার হলে প্রোভাইডার শেষটা কেটে দিতে পারে, বা ৫৯ সেকেন্ডের দাম ধরতে পারে, কোনটা করবে আগে জেনে নিন। স্টপওয়াচ ধরে দেখবেন, একটা মোবাইল নম্বর ধীরে দুবার বলতেই আট-দশ সেকেন্ড চলে যায়। তাই বাকি কথাগুলো খুব ছোট রাখতে হয়, মোটামুটি তিরিশ-পঁয়ত্রিশটা শব্দ।
নিচের স্ক্রিপ্টটা মধুর উদাহরণে লেখা। দোকানের নাম, অফার আর নম্বর নিজেরটা বসিয়ে নিন।
"আসসালামু আলাইকুম। [একটু থামুন] মধুবন শপ থেকে রাশেদ বলছি। আপনি আগে আমাদের মধু নিয়েছিলেন। নতুন চাকের মধু এসেছে, শুক্রবার পর্যন্ত ডেলিভারি চার্জ লাগবে না। অর্ডার করতে ফোন দিন [আপনার নম্বর]। আবার বলছি, [আপনার নম্বর]। এমন কল না চাইলে এই নম্বরে জানাবেন। ধন্যবাদ।"
প্রতিটা লাইনের একটা কাজ আছে। সালামের পরের ছোট বিরতিটা "হ্যালো, কে?"-র জন্য রাখা, যাতে দোকানের নাম চাপা না পড়ে। দোকানের নাম আর "আগে মধু নিয়েছিলেন" কথাটা প্রথম পাঁচ-ছয় সেকেন্ডে চলে আসে, তাই কাস্টমার বুঝে ফেলেন এটা চেনা দোকান। অফার একটাই, আর তার একটা শেষ দিন আছে। একসাথে তিনটা জিনিসের কথা বললে মানুষ কোনোটাই মনে রাখেন না। নম্বর দুবার বলা হচ্ছে, কারণ প্রথমবার শুনে কেউ কাগজ-কলম খোঁজেন, দ্বিতীয়বার লেখেন। আর শেষের লাইনটা বের হওয়ার রাস্তা, যিনি এমন কল চান না তাঁর জন্য।
নম্বরটা দুই-তিন অঙ্ক পরপর একটু থেমে বলুন, "জিরো ওয়ান সেভেন" বা "শূন্য এক সাত", আপনার এলাকার কাস্টমার যেভাবে সহজে বোঝেন।
রেকর্ড করবেন ফোন দিয়েই। ঘরের ফ্যান বন্ধ করুন, রাস্তার দিকের জানালা লাগান, আর এমন ঘর বাছুন যেখানে কথা গমগম করে না। ফোনটা মুখ থেকে মোটামুটি এক বিঘত দূরে ধরুন, প্রায় ২০ সেন্টিমিটার। খুব কাছে ধরলে ফটফট শব্দ হয়, দূরে ধরলে ঘরের শব্দ ঢোকে। যতটা ধীরে বলা আপনার স্বাভাবিক মনে হয়, তার চেয়ে একটু ধীরে বলুন। ফোনের ছোট স্পিকারে দ্রুত কথা জড়িয়ে যায়।
চার-পাঁচবার রেকর্ড করে সবচেয়ে পরিষ্কারটা রাখুন। রাখার আগে ফোনের সাধারণ স্পিকারে একবার শুনুন, কারণ কাস্টমার ইয়ারফোনে শুনবেন না।

পুরো লিস্টে পাঠানোর আগে নিজের পাঁচটা নম্বরে টেস্ট পাঠান। আলাদা আলাদা অপারেটরের নম্বর নিন, নিজের, ভাইয়ের, বন্ধুর। দেখুন কল আসছে কি না, ফোনে কোন নম্বর দেখাচ্ছে, শুরুর কথা কাটা পড়ছে কি না, আর শেষটা মাঝপথে কেটে যাচ্ছে কি না। পাঁচটা টেস্ট কলের খরচ হাজার জনের কাছে ভুল রেকর্ডিং যাওয়ার চেয়ে অনেক কম।
সময়, অনুমতি আর বন্ধ করার উপায়, কোন নিয়ম মানবেন
আগে সরকারি নিয়মের কথা বলি, কারণ এখানে সৎভাবে বলার মতো কথা কম। ২০২৬ সালের অক্টোবরে BTRC-র ওয়েবসাইটে নির্দেশনা আর গাইডলাইনের লিস্ট ঘেঁটে দোকানের রেকর্ড করা অফারের কল নিয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। অফারের লেখা SMS নিয়ে BTRC-র যে নিয়মগুলো আছে, যেমন বাংলায় পাঠানো, রাতে না পাঠানো আর DND, সেগুলো বাল্ক এসএমএস মার্কেটিংয়ের লেখায় সোর্সসহ আছে। ভয়েসের বেলাতেও ওই নিয়মগুলোই মেনে চলবেন। প্রতিবার পাঠানোর আগে প্রোভাইডারকেও জিজ্ঞেস করুন এখন কোন শর্ত চলছে।
বন্ধ করার উপায় নিয়ে প্রোভাইডারদের নিজের নিয়ম আছে। Grameenphone-এর Voice Broadcast পেজে লেখা ছিল, যাঁরা কল পান তাঁদের জন্য DND অপশন আছে। কিন্তু অপারেটরের DND রেকর্ড করা কলও সবক্ষেত্রে আটকায় কি না, কোথাও পরিষ্কার লেখা নেই, আর কাস্টমারও কোডটা জানেন না। তাই অন্য কারও DND-র ভরসায় না থেকে নিজের একটা "ফোন দিতে মানা" লিস্ট রাখুন। স্ক্রিপ্টের শেষ লাইন শুনে যিনি জানান যে কল চান না, সেদিনই তাঁর নম্বর লিস্টে তুলুন। প্রতিবার আপলোডের আগে সেই নম্বরগুলো বাদ দিন।
কাস্টমারের নম্বরও কিন্তু একটা দায়িত্ব। লিস্ট আপলোড মানে আপনার কাস্টমারদের নম্বর আরেকটা কোম্পানির সার্ভারে তুলে দেওয়া। ২০২৬ সালের অক্টোবরে BTRC-র ওয়েবসাইটে আইনের লিস্টে "ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬" আছে। তাই যতটুকু লাগে ততটুকুই আপলোড করুন, সাধারণত শুধু নম্বর, নাম-ঠিকানা না। আর লিস্ট কাউকে বিক্রি বা ধার দেবেন না। আইনে দোকানের ঠিক কী দায়, সেটা জানতে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।
বাকি নিয়মগুলো আপনার নিজের, আর এগুলোই কাস্টমার ধরে রাখে। কল পাঠান সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে, নামাজের সময় আর শুক্রবার জুমার সময়টা বাদ দিয়ে। একই মানুষের কাছে মাসে একবারের বেশি রেকর্ড করা কল পাঠাবেন না। আর যাঁর আগের পার্সেল এখনো কুরিয়ারে আছে বা যাঁর কোনো অভিযোগ ঝুলে আছে, তাঁকে লিস্ট থেকে সাময়িক সরিয়ে রাখুন।
কাজ হলো কি না, মাপবেন যেভাবে
মাপ না রাখলে দুই সপ্তাহ পরে শুধু মনে হবে "কাজ হয়নি", অথচ হয়তো হয়েছে। তাই পাঠানোর আগের দুই দিন রোজ কয়টা ফোন আর অর্ডার আসে, গুনে খাতায় লিখে রাখুন। ভয়েস পাঠানোর পরে যেটুকু বাড়তি আসে, সেটাই ভয়েসের ফল।
রেকর্ডিংয়ে এমন একটা নম্বর দিন যেটা শুধু এই অফারের জন্য রাখা, একটা আলাদা সিম। তাহলে ওই নম্বরে যত কল আসবে, সবই ভয়েস থেকে আসা, আন্দাজ করতে হয় না। আলাদা সিম না থাকলে প্রতিটা ফোনে জিজ্ঞেস করুন, "ভাই, আমাদের কলটা শুনে ফোন দিলেন?"
পাঠানোর পর ৪৮ ঘণ্টা ধরে ওই নম্বরে কয়টা কল এলো আর তার থেকে কয়টা অর্ডার হলো, গুনুন। সাড়ার বড় অংশ সাধারণত প্রথম দিনেই আসে। দ্বিতীয় দিনে ফোন দেন তাঁরা, যাঁরা ছেলে বা নাতিকে দিয়ে নম্বরটা লিখিয়ে রেখেছিলেন। এই দুই দিন ফোনটা যেন সবসময় কেউ ধরেন। ভয়েস শুনে যিনি ফোন দেন, দুবার না পেলে তিনি সাধারণত আর দেন না, আর সেই অর্ডারটা চুপচাপ হারিয়ে যায়।

প্রোভাইডারের রিপোর্টটাও খুলুন। কয়জন ধরেছেন, আর থাকলে কে কত সেকেন্ড শুনেছেন, দেখে নিন। যিনি পুরো কলটা শুনেছেন কিন্তু ফোন দেননি, তিনি আগ্রহী ছিলেন, হয়তো শুধু হাতের কাছে কলম ছিল না। এই কাস্টমারদের পরের সপ্তাহে নিজে একটা ফোন দিন। কী বলবেন তার পুরো স্ক্রিপ্ট পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রি করার লেখায় আছে। প্রথম দুই-তিন সেকেন্ডেই কেটে দেওয়া মানুষ খুব বেশি হলে রেকর্ডিংয়ের শুরুটা বদলান।
শেষ হিসাবটা করুন শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে, কারণ ফোনে "পাঠিয়ে দেন" বলে পার্সেল ফেরত দিলে সেটা বিক্রি না। ওপরের উদাহরণে খরচ ৭০০ টাকা, ডেলিভারি ১১টা। মানে প্রতি ডেলিভারিতে ভয়েসের খরচ ৭০০ ÷ ১১ = প্রায় ৬৪ টাকা। এই সংখ্যাটা আপনার ফেসবুক অ্যাডে একটা ডেলিভারি আনতে কত যায়, তার পাশে বসান। ভয়েসেরটা কম হলে পরের মাসে আবার পাঠান, বেশি হলে লিস্ট বা স্ক্রিপ্ট বদলান।
কখন ভয়েস এসএমএস পাঠাবেন না
লিস্ট ছোট হলে পাঠাবেন না। দেড়শো জন কাস্টমারকে নিজে ফোন দিতে প্রতিজনে তিন মিনিট ধরলে লাগে ১৫০ × ৩ = ৪৫০ মিনিট, মানে সাড়ে সাত ঘণ্টা। এক সপ্তাহে ভাগ করলে দিনে এক ঘণ্টার একটু বেশি। নিজের গলায় সরাসরি কথায় কাস্টমার প্রশ্ন করতে পারেন, অর্ডারও তখনই হয়, আর ৩,৫০০ টাকার প্যাকেজও লাগে না। দুই-তিনশো জনের কম কাস্টমার হলে আগে নিজে ফোন দিন।

যে প্রোডাক্টে লাভ খুব কম, সেখানেও না। প্রতি ডেলিভারিতে যদি ৪৫ টাকা থাকে, তাহলে ৭০০ টাকা তুলতেই লাগবে ১৬টা ডেলিভারি (৭০০ ÷ ৪৫ = ১৫.৫৬)। এক হাজার কলে এতগুলো ডেলিভারির ভরসায় আমি কাউকে প্যাকেজ কিনতে বলব না।
কাস্টমার যদি বেশিরভাগ তরুণ হন আর সারাদিন ইনবক্সে থাকেন, তাঁদের জন্য লেখা মেসেজই ভালো। যাঁরা আপনার নম্বর সেভ করেছেন, তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্টে অফার পাঠানো সস্তাও, ছবিও দেখানো যায়।
পাঠানোর পরের দুই দিন ফোন ধরার কেউ না থাকলে পাঠাবেন না। যেদিন মাল তুলতে পাইকারি বাজারে সারাদিন কাটবে, সেদিনটা বাদ দিন। আর শেষ কয়েকটা ডেলিভারিতে যদি দেরি বা প্রোডাক্ট নিয়ে অভিযোগ এসে থাকে, আগে সেটা ঠিক করুন। মন খারাপ করা কাস্টমারের কাছে অফারের কল গেলে অনেক সময় তিনি উল্টো পেজে গিয়ে রাগের কমেন্ট করেন।
আর কেনা বা অন্য কারও কাছ থেকে নেওয়া নম্বরের লিস্টে কোনো অবস্থাতেই না। যাঁর নম্বর, তিনি আপনাকে সেটা দেননি, আর অচেনা দোকানের অফার কল পেয়ে মানুষ প্রতারণা ভেবে রিপোর্টও করেন।
আজই করে ফেলুন
এক ঘণ্টা হাতে থাকলে আজই এই কাজগুলো সেরে ফেলা যায়, কোনো প্যাকেজ না কিনেই।
- অর্ডারের খাতা বা লিস্ট থেকে গুনে দেখুন গত ছয় মাসে কতজন পার্সেল হাতে নিয়েছেন। দুই-তিনশোর কম হলে ভয়েস না, এই সপ্তাহে নিজে ফোন দিন।
- সেই লিস্টে যাঁরা নিজে ফোন করে অর্ডার দিয়েছিলেন, বা মধু-তেল-চালের মতো বারবার লাগে এমন জিনিস নেন, তাঁদের পাশে দাগ দিন।
- একই নম্বর দুবার থাকলে একটা কাটুন। দুই বা তার বেশি বার পার্সেল ফেরত দেওয়া নম্বর আর "ফোন দিতে মানা" নম্বরগুলোও কেটে দিন।
- ওপরের স্ক্রিপ্টে নিজের দোকান, অফার আর নম্বর বসিয়ে ফোনের স্টপওয়াচ চালিয়ে জোরে পড়ুন। ২২ সেকেন্ড পার হলে শব্দ কাটুন।
- যে কোম্পানিতে আপনার SMS অ্যাকাউন্ট আছে, তাদের সাপোর্টে ফোন দিয়ে ওপরের প্রশ্নগুলো করুন, উত্তর লিখিত চান।
- একটা সিম আলাদা করে রাখুন, যেটার নম্বর শুধু এই অফারের রেকর্ডিংয়ে বলবেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় খায় লিস্ট গোছানো। WinningSeller এই অংশটা সহজ করে। তবে পরিষ্কার করে বলি, এটা নিজে কোনো ভয়েস কল পাঠায় না। এর অর্ডার SMS যায় আপনার নিজের BulkSMSBD, Alpha SMS বা MiM SMS অ্যাকাউন্ট দিয়ে, আর সেগুলো লেখা SMS। ভয়েসের কাজে এটা লাগে লিস্ট বানাতে। অর্ডারের লিস্টে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ফিল্টার করে CSV নামালে তারিখ, কাস্টমারের নাম, মোবাইল আর প্রোডাক্ট একসাথে চলে আসে। ছয় মাসের বেশি পুরনোগুলো সরিয়ে শুধু নম্বরের কলামটা প্যানেলে তুলুন। আর যাঁরা কল শুনেও ফোন দেননি, তাঁদের নিজের গলায় ফোন দেওয়ার জন্য আছে ফলোআপ কল সিস্টেম, যেখানে কেউ ফোন দিতে মানা করলে তিনি আর কলের লিস্টে আসেন না। বাকি ফিচার এখানে দেখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ভয়েস এসএমএস কী?
ভয়েস এসএমএস হলো আপনার গলায় রেকর্ড করা ছোট একটা মেসেজ, যেটা একটা সিস্টেম একসাথে অনেক নম্বরে কল করে শুনিয়ে দেয়। কাস্টমার কল ধরলেই রেকর্ডিং বাজে, তাঁকে কিছু পড়তে হয় না। কল রিসিভ করতে তাঁর কোনো টাকা লাগে না।
ভয়েস এসএমএসে প্রতি কলে কত টাকা লাগে?
২০২৬ সালের অক্টোবরে MiM SMS-এর পেজে ২৯ সেকেন্ডের কল প্রতিটা ০.৫৫ থেকে ০.৭০ টাকা লেখা, প্যাকেজ যত বড় দাম তত কম। Grameenphone-এর Voice Broadcast পেজে মিনিটে ১ টাকা থেকে শুরু, আর BulkSMSBD-এর পেজেও মিনিটে ১ টাকা। মিনিট ধরে কাটে নাকি পালস ধরে, আর ভ্যাট আলাদা কি না, কেনার আগে লিখিতভাবে জেনে নিন।
ভয়েস এসএমএস পাঠাতে কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?
যে কয়টা প্রোভাইডারের পেজ দেখা হয়েছে, প্রায় সবাই ট্রেড লাইসেন্স চায়। MiM SMS চায় NID, ট্রেড লাইসেন্স আর সাইন করা শর্তের কাগজ। Grameenphone চায় ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ার্ক অর্ডার, দুই কপি ছবি আর NID।
কাস্টমার কল না ধরলেও কি টাকা কাটে?
অনেক জায়গায় কাটে। MiM SMS-এর পেজে লেখা, কল জমা দিলেই চার্জ হয়, আর কয়েকবার রিডায়াল করার পরও কাউকে না পেলে সেই কলটাও চার্জের মধ্যে ধরা হয়। তাই লিস্টে ভুল আর বন্ধ নম্বর রাখলে সেগুলোর টাকাও আপনার যাবে।
দিনের কোন সময়ে ভয়েস কল পাঠানো ভালো?
সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে, নামাজের সময় আর শুক্রবার জুমার সময়টা বাদ দিয়ে। মানুষ কাজের ফাঁকে বা বিকেলে বাসায় ফিরে কল বেশি ধরেন। রাতে বা ভোরে রেকর্ড করা অফারের কল এলে মানুষ রেগে যান, অর্ডার দেন না।
ভয়েস এসএমএস ভালো, না নিজে ফোন দেওয়া ভালো?
দুই-তিনশো জনের কম কাস্টমার হলে নিজে ফোন দেওয়াই ভালো, কারণ ফোনে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় আর অর্ডারও তখনই নেওয়া যায়। ভয়েস এসএমএস কাজে লাগে যখন লিস্ট বড়, সবাইকে আলাদা ফোন দেওয়ার সময় নেই, আর কাস্টমারদের অনেকে লেখা SMS পড়েন না।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


