WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

গুঁড়া মসলার ব্যবসা, বাজারের গুঁড়ায় ভয় পাওয়া মানুষই আপনার কাস্টমার

মসলার ব্যবসা অনলাইনে করতে চাইলে আস্ত মসলা কোথায় কিনবেন, মিলে না নিজের মেশিনে ভাঙাবেন, কোন গুঁড়ায় BSTI লাগে, ২৫০ গ্রামের প্যাকেটে আসলে কত থাকে, আর প্যাকেটে "খাঁটি" লেখার আগে কোন প্রমাণ হাতে রাখবেন, সব হিসাবসহ।

গুঁড়া মসলার ব্যবসা, বাজারের গুঁড়ায় ভয় পাওয়া মানুষই আপনার কাস্টমার
এই লেখায় যা আছে
  1. মসলার ব্যবসা কেমন, অনলাইনে কোন মসলা চলে
    1. এই ব্যবসা কাদের জন্য না
  2. আস্ত মসলা কোথায় কিনবেন, মৌলভীবাজার আর খাতুনগঞ্জ
  3. ভাঙাবেন কোথায়, মিলে না নিজের মেশিনে
  4. শুকানো, আর্দ্রতা আর গন্ধ ধরে রাখার কাজ
  5. কোন গুঁড়া মসলায় BSTI লাগে, লেবেলে কী লিখবেন
  6. প্যাকেট, ওজন আর ২৫০ গ্রামের দাম (উদাহরণ)
  7. "ভেজালমুক্ত" বা "খাঁটি" লেখার আগে কী প্রমাণ রাখবেন
  8. কাস্টমার আবার কবে কিনবেন, রিফিলের হিসাব
    1. আজই করে ফেলুন

মসলার ব্যবসা অনলাইনে ভালো চলে, যদি আপনি আস্ত মসলা নিজে দেখে কেনেন, নিজের চোখের সামনে ভাঙান, আর প্রতিটা প্যাকেটে ব্যাচ নম্বর দেন। হলুদ, মরিচ, ধনিয়ার গুঁড়া প্রতি মাসে ফুরায়, তাই যে পরিবার একবার আপনার মসলায় রান্না করে খুশি হয়, সে বারবার কেনে। তবে দুটো কথা শুরুতেই জেনে রাখুন। নিজের নামে গুঁড়া মসলা প্যাকেট করে বেচতে BSTI-র লাইসেন্স লাগে। আর একটা ২৫০ গ্রামের প্যাকেট একা বেচলে অ্যাডের খরচেই লাভ খেয়ে যায়।

ধরুন রাত এগারোটায় ইনবক্সে একজন লিখলেন, "ভাই, আপনার মরিচের গুঁড়ায় রং মেশানো নেই তো? বাজারেরটা নিয়ে ভয় লাগে।" এই প্রশ্নটাই আসলে আপনার ব্যবসার সুযোগ। মানুষ বাজারের গুঁড়া মসলায় ভরসা পাচ্ছেন না, তাই কেউ ভরসা দিতে পারলে তাঁর কাছে কিনবেন। নিচে আস্ত মসলা কেনা থেকে রিফিল অর্ডার পর্যন্ত পুরো কাজটা ধাপে ধাপে বলছি, কোথায় নতুন সেলাররা বেশি ভুল করেন সেটাসহ।

মসলার ব্যবসা কেমন, অনলাইনে কোন মসলা চলে

অনলাইনে সবচেয়ে বেশি চলে রোজকার রান্নার চার গুঁড়া, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া আর জিরা। এর পরে আসে গরম মসলা, আর কোরবানির ঈদের আগে মাংসের মসলা। যিনি কেনেন, তিনি সাধারণত পরিবারের রান্নার দায়িত্বে থাকা মানুষ, অথবা ঢাকায় থাকা কেউ যিনি "বাড়ির মতো" মসলা খুঁজছেন। এঁরা দাম নিয়ে কম কথা বলেন, কিন্তু স্বাদ আর রং নিয়ে খুব খুঁতখুঁতে। একবার মরিচের ঝাল বা হলুদের রং মনমতো না হলে আর ফেরেন না।

প্রথম মাসে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। পেজ খুলেই বারো-চৌদ্দটা মসলা তুলে ফেলেন, এলাচ, দারচিনি, তেজপাতা, পাঁচফোড়ন সব। তাতে টাকা আটকে যায় স্টকে, আর কোনোটার মান ঠিকমতো দেখা হয় না। আমার পরামর্শ, শুরু করুন তিনটা দিয়ে, হলুদ, মরিচ আর ধনিয়া। এই তিনটা প্রতিটা রান্নাঘরে লাগে, ফুরায়ও তাড়াতাড়ি। দুই-তিন মাস পরে যখন বুঝবেন কোন মিলে ভালো ভাঙে আর কোন পাইকার ঠিক মাল দেন, তখন জিরা আর গরম মসলা যোগ করুন।

এই ব্যবসা কাদের জন্য না

যিনি নিজে বাজারে গিয়ে মসলা দেখতে আর মিলে দাঁড়িয়ে ভাঙাতে পারবেন না, তাঁর জন্য এই ব্যবসা না। এখানে আপনার একমাত্র পুঁজি হলো ভরসা, আর সেটা অন্যের হাতে ছেড়ে দিলে থাকে না। অন্য কোনো কোম্পানির সিল করা প্যাকেট কিনে হুবহু বেচার প্ল্যান থাকলে সেই পথে যাবেন না। তখন কাস্টমার একই প্যাকেট পাড়ার দোকানেই পান, আপনার কাছে কেন কিনবেন, সেই উত্তর থাকে না। আর কাগজপত্র আর ল্যাবের খরচ বহন করার মতো টাকা হাতে না থাকলে আগে সেটা জোগাড় করুন, তারপর শুরু করুন।

আস্ত মসলা কোথায় কিনবেন, মৌলভীবাজার আর খাতুনগঞ্জ

ঢাকায় মসলার পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার। কোন মালের জন্য কোন বাজার, আর কোন দিন কোথায় যাবেন না, সেটা আলাদা করে আছে পাইকারি মার্কেটের লেখায়। চট্টগ্রামে মসলার বড় বাজার খাতুনগঞ্জ। বাসস ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ খাতুনগঞ্জের পাইকারি দাম ছেপেছিল। সেখানে হলুদ কেজি ২৫০ থেকে ২৫৫ টাকা, দেশি মরিচ ২০০ থেকে ২৩০, ইন্ডিয়ান মরিচ ৩৯০ থেকে ৪০০, ইন্ডিয়ান জিরা ৬২০ আর ইরানি জিরা ৮০০ টাকা লেখা ছিল। দাম মাসে মাসে বদলায়, তাই সংখ্যাগুলো শুধু আন্দাজ পেতে কাজে লাগান, কেনার দিন নিজে জিজ্ঞেস করে নিন।

প্রথম দিন বড় করে কিনবেন না। তিনটা দোকান থেকে প্রতিটা মসলার আধা কেজি করে নমুনা নিন। বাসায় এনে শুকিয়ে, অল্প করে ভাঙিয়ে, একই তরকারিতে রান্না করে দেখুন। কার মালে রং ভালো আসে আর কারটায় ঝাল ঠিকঠাক, সেটা চোখে দেখে আর মুখে চেখে বুঝুন, তারপর একজন পাইকার বেছে নিন। এই এক সপ্তাহের কাজ পরের ছয় মাসের অনেক ঝামেলা বাঁচায়।

বাজারে নিজের হাতে কয়েকটা জিনিস দেখে নিন। শুকনা মরিচ হাতে নিয়ে ভাঙুন। মচমচ করে ভেঙে গেলে ঠিক আছে, বেঁকে গেলে বুঝবেন ভেতরে পানি আছে, ভাঙানোর আগে আবার রোদে দিতে হবে। বোঁটাসহ মরিচ সস্তা মনে হয়, কিন্তু বোঁটা ছাড়ালে ওজন কমে, তাই দুটো দামের হিসাব আলাদা করে করুন। হলুদের একটা টুকরা ভেঙে ভেতরের রং দেখুন। বাইরে খুব চকচকে উজ্জ্বল হলুদ দেখলে সাবধান হবেন। Stanford Medicine-এর ম্যাগাজিনে বাংলাদেশের হলুদ নিয়ে গবেষণার কথা ছাপা হয়েছে। সেখানে বলা আছে, কিছু প্রসেসর হলুদ পলিশ করার সময় লেড ক্রোমেট নামে একটা শিল্পের রং মাখাত। ২০১৯ সালে সরকারের অভিযানের পর বাজারে এটা অনেক কমে আসে। তবু রঙের চকচকে ভাব দেখে কিনবেন না, হলুদ কিনবেন ভেতরের রং আর গন্ধ দেখে।

জিরার দাম সবচেয়ে বেশি ওঠানামা করে, কারণ বেশিরভাগ জিরা বাইরে থেকে আসে। তাই পুরো সিজনের জিরা একবারে কিনে রাখবেন না, মাসে মাসে কিনুন। দাম পড়ে গেলে বেশি দামে কেনা স্টক আপনাকে লোকসানে বেচতে হবে।

পুরান ঢাকার একটা মসলার পাইকারি দোকানে একজন তরুণ সেলার বস্তা থেকে শুকনা মরিচ হাতে নিয়ে ভেঙে দেখছেন, পাশে খোলা বস্তায় হলুদ আর ধনিয়া, দোকানদার পাশে দাঁড়িয়ে
কেনার আগে মরিচ ভেঙে দেখুন, মচমচ করে ভাঙলে শুকনা

ভাঙাবেন কোথায়, মিলে না নিজের মেশিনে

শুরুতে এলাকার মসলা ভাঙানোর মিলই যথেষ্ট। মাসে কয়েক কেজি থেকে কয়েক মণ পর্যন্ত মিলে ভাঙানো সহজ, নিজের মেশিনের টাকা, জায়গা আর বিদ্যুতের ঝামেলা থাকে না। মিল কেজি ধরে একটা চার্জ নেয়, সেটা এলাকা আর মসলা ভেদে আলাদা, তাই প্রথম দিনেই জিজ্ঞেস করে খাতায় লিখে রাখুন।

মিলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা অনেকে জানেন না। একই মেশিনে সারাদিন অনেকের মসলা ভাঙানো হয়। আপনার আগে কেউ মরিচ ভাঙালে তার কিছুটা মেশিনে থেকে যায়, আর আপনার ধনিয়ার গুঁড়ায় লালচে আভা চলে আসে। আগের জনের মসলা কেমন ছিল, সেটা আপনি জানেন না। তাই সকালে মিল খোলার সময় যান, যখন মেশিন সবচেয়ে পরিষ্কার থাকে। প্রথমে নিজের এক মুঠো মসলা চালিয়ে সেই গুঁড়াটা ফেলে দিন। তারপর আসল মাল দিন, আর পুরো সময় মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকুন।

মিলও বেছে নিতে হয়। বাংলা ট্রিবিউনের ১১ মার্চ ২০২৬-এর খবরে আছে, বগুড়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে একটা হলুদের মিল ভালো হলুদের সাথে নষ্ট হলুদ মেশানোর জন্য জরিমানা গুনেছে। মিলের ভেতরে কী হচ্ছে নিজের চোখে না দেখলে, সেটা আপনার নামের প্যাকেটেও ঢুকে যেতে পারে।

নিজের মেশিনের কথা ভাববেন তখন, যখন মিলে যাওয়া-আসায় দিনের অর্ধেক চলে যাচ্ছে, বা একই মিলে বারবার পরিষ্কার মেশিন পাচ্ছেন না। তার আগে তিনটা জিনিস হিসাব করুন। মেশিন চললে শব্দ আর ঝাঁঝ হয়, বাসায় বসালে প্রতিবেশী বিরক্ত হতে পারেন। BSTI বা নিরাপদ খাদ্যের লোক যেখানে মসলা বানান সেই জায়গা দেখতে চাইতে পারেন, তাই জায়গাটা পরিষ্কার আর আলাদা হতে হবে। আর মেশিন চালালে গুঁড়া গরম হয়, ঠান্ডা করার জায়গা লাগে।

এলাকার একটা মসলা ভাঙানোর মিলে একজন যুবক মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, মিলের কর্মী মেশিনের মুখে হলুদ ঢালছেন, নিচে স্টিলের গামলায় গুঁড়া পড়ছে, পাশে একটা ছোট পাত্রে আলাদা করে রাখা প্রথম মুঠোর গুঁড়া
সকালে মিল খোলার সময় যান, প্রথম মুঠোর গুঁড়াটা ফেলে দিন

শুকানো, আর্দ্রতা আর গন্ধ ধরে রাখার কাজ

পাইকারের কাছ থেকে আনা শুকনা মরিচ বা হলুদ আসলে পুরো শুকনা থাকে না। গুদামে আর বস্তায় থেকে বাতাসের আর্দ্রতা টেনে নেয়, বর্ষার মাসে আরও বেশি। এই অবস্থায় ভাঙালে গুঁড়া মেশিনে লেগে যায়, প্যাকেটে দলা বাঁধে, আর কয়েক সপ্তাহে ছত্রাক ধরতে পারে। তাই ভাঙানোর আগের দিন একবার কড়া রোদে দিন। ছাদে একটা পরিষ্কার পলিথিন বা মাদুর বিছিয়ে, ওপরে পাতলা নেট দিয়ে ঢেকে দিন, যাতে ধুলা আর পাখি না পড়ে। বিকেলে তোলার আগে একটা মরিচ ভেঙে দেখুন, মচমচ না করলে আরেক দিন রাখুন।

ভাঙানোর পর একটা ভুল খুব হয়। গরম গুঁড়া সাথে সাথে প্যাকেটে ভরে মুখ বন্ধ করে দেওয়া। গরম গুঁড়ার ভাপ প্যাকেটের ভেতরে পানি হয়ে জমে, আর পরে সেখান থেকেই দলা আর গন্ধ নষ্ট হওয়া শুরু হয়। গুঁড়া বড় পরিষ্কার পাত্রে ছড়িয়ে পুরো ঠান্ডা হতে দিন, তারপর চালনি দিয়ে চেলে প্যাকেট করুন।

এখানেই ওজনের হিসাবটা আসে। বোঁটা ছাড়ানো, রোদে শুকানো আর চালার পর এক কেজি আস্ত মসলা থেকে এক কেজি গুঁড়া পাওয়া যায় না, কিছুটা কম পাওয়া যায়। কত কম, সেটা মসলা, মিল আর মাল কতটা ভেজা ছিল তার ওপর নির্ভর করে। প্রথম কয়েকটা ব্যাচে মিলে যাওয়ার আগে আর প্যাকেট করার আগে দুবার ওজন মেপে খাতায় লিখে রাখুন। দাম ঠিক করবেন গুঁড়ার ওজন ধরে, আস্ত মসলার ওজন ধরে না। আমার অভিজ্ঞতায় মসলার নতুন সেলারের সবচেয়ে চুপচাপ লোকসানটা এখানেই হয়, প্রতিটা প্যাকেটে না জেনে কয়েক টাকা করে।

গন্ধ ধরে রাখার নিয়ম সোজা। গুঁড়া মসলার গন্ধ সময়ের সাথে কমে, আলো আর বাতাস পেলে আরও তাড়াতাড়ি। ধনিয়া আর জিরার গন্ধ সবচেয়ে আগে মরে, তাই এই দুটো অল্প অল্প করে, ঘন ঘন ভাঙান। স্টক রাখুন বাতাস না ঢোকা পাত্রে, অন্ধকার আর শুকনা জায়গায়, মেঝে থেকে উঁচুতে। চা, সাবান বা পারফিউমের পাশে রাখবেন না, মসলার গন্ধ ওগুলোতে ঢোকে, ওগুলোর গন্ধ মসলায়।

একটা খাতার পাতায় হলুদের ব্যাচ হ-১০০৮-এর হিসাব, ১ কেজি আস্ত হলুদ শুকানো আর চালার পর ৯২০ গ্রাম, ২৫০ গ্রামের খরচ প্রায় ৭৬ টাকা গোল করে দাগানো, পাশে রোদে শুকানো থেকে প্যাকেটের আগে দ্বিতীয় ওজন পর্যন্ত পাঁচটা ধাপ
ভাঙানোর আগের দিন আরেকবার রোদ, আর ওজনটা খাতায়

কোন গুঁড়া মসলায় BSTI লাগে, লেবেলে কী লিখবেন

BSTI-র ওয়েবসাইটে বাধ্যতামূলক জিনিসের লিস্টের পেজে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর মূল লিস্টটা ৩ জুন ২০২৫-এর, ৩১৫টা জিনিসের, আর পরে ২০২৬ সালে দুই দফায় আরও ২০টা যোগ হয়েছে। সেখানে পাঁচটা মসলার নাম পাবেন, হলুদের গুঁড়া (BDS 991:2020), মরিচের গুঁড়া (BDS 1017:2020), ধনিয়ার গুঁড়া (BDS 1084:2015), কারি পাউডার (BDS 1205:2013) আর জিরার গুঁড়া (BDS 1807:2008)। ২০২৬ সালে যোগ হওয়া ২০টা নতুন জিনিসের মধ্যে কোনো মসলা নেই।

মানে এই পাঁচটা গুঁড়া নিজের নামে প্যাকেট করে বেচলে BSTI-র CM লাইসেন্স লাগবে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে BSTI-র "সিএম লাইসেন্স ফি শিডিউল" পেজে লেখা আছে, নতুন লাইসেন্সের আবেদনে ১,০০০ টাকা। তার ওপর বছরের এক্স-ফ্যাক্টরি দামের ০.১০% হারে CM ফি, যেটা বছরে কমপক্ষে ৩,৫০০ টাকা। ছোট সেলারের বিক্রি কম, তাই প্রায় সবসময় কমপক্ষে ফিটাই দিতে হয়। গরম মসলা বা মাংসের মসলা লিস্টে আলাদা নামে দেখা যায় না, কিন্তু এগুলো কারি পাউডারের লাইনে পড়ে কি না, সেটা নিজে ঠিক করবেন না। BSTI-র ওয়ান স্টপ সার্ভিসে নিজের রেসিপি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করুন।

BSTI ছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশন আর BSTI-র মোড়কজাতকরণ রেজিস্ট্রেশনের কথা আছে। কোন অফিসে কী কাগজ, কত টাকা, কোনটা আগে, সব ফুড লাইসেন্সের লেখায় বিস্তারিত দেওয়া আছে। এখানে আর আলাদা করে লিখছি না, শুধু মসলার বেলায় দুটো কথা মনে রাখুন।

নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০১৭ অনুযায়ী লেবেল বাংলায় হবে, আর তাতে নাম-ঠিকানা, উপাদান, নিট ওজন, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন আর মেয়াদের তারিখ থাকবে। CM পাওয়ার পর BSTI-র মান চিহ্নটাও লেবেলে বসবে, আর BSTI-র পেজ সর্বোচ্চ খুচরা দামও (MRP) লিখতে বলে। নতুনদের সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে ব্যাচ নম্বর, অথচ মসলায় এটাই সবচেয়ে কাজের। একদিনে এক মিলে যতটা হলুদ ভাঙালেন, সেটা একটা ব্যাচ, তারিখ দিয়ে নম্বর দিন, যেমন হ-১০০৮। কোনো কাস্টমার রং বা স্বাদ নিয়ে অভিযোগ করলে এই নম্বর দেখে বুঝবেন কোন দিনের মাল, আর ওই ব্যাচের বাকি প্যাকেট আটকাবেন কি না।

আরেকটা কথা, হাজার হাজার লেবেল একবারে ছাপাবেন না। প্রেসে বেশি ছাপালে পিসপ্রতি দাম কমে, এই লোভটা প্রায় সবারই হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনের পেজে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ লেবেলিংয়ের নতুন প্রবিধানমালার ড্রাফট মতামতের জন্য তোলা হয়েছে, মানে নিয়ম বদলাতে পারে। দুই-তিন মাসের মতো লেবেল ছাপান, আর ছাপার আগে জেলা অফিসে একবার জিজ্ঞেস করে নিন।

২৫০ গ্রামের একটা হলুদের গুঁড়ার জিপ পাউচের নকশা, গায়ে বাংলায় লেখা লেবেলে দোকানের নাম-ঠিকানা, উপাদান হিসেবে শুধু হলুদ, নিট ওজন ২৫০ গ্রাম, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন আর মেয়াদের তারিখ দাগ দিয়ে দেখানো
প্রতিটা প্যাকেটে ব্যাচ নম্বর, যাতে অভিযোগ এলে দিনটা খুঁজে পান

প্যাকেট, ওজন আর ২৫০ গ্রামের দাম (উদাহরণ)

প্যাকেট হিসেবে বেশিরভাগ সেলার ভেতরে ফয়েলের পরত দেওয়া জিপ পাউচ নেন। এতে আলো ঢোকে না, আর কুরিয়ারের ধাক্কায় ভাঙার ভয়ও থাকে না। কাচের বয়াম দেখতে সুন্দর, কিন্তু ভারী, আর পথে ভাঙার ভয় থাকে। প্যাক করার সময় একটা ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে প্রতিটা পাউচ মাপুন, আর পাউচের নিজের ওজন বাদ দিয়ে ২৫০ গ্রাম পুরো করুন। কাস্টমার বাসায় রান্নাঘরের ওজন যন্ত্রে মেপে কম পেলে ভরসাটা ওখানেই ভাঙে। পাউচগুলো পার্সেলে দেওয়ার আগে একটা পরিষ্কার পলিতে মুড়ে নিন, যাতে মসলার গন্ধ পার্সেলের বাইরে না আসে।

প্যাকিং টেবিলে বসে একজন তরুণ সেলার ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে একটা হলুদের পাউচ মাপছেন, পাশে মরিচ আর ধনিয়ার গুঁড়ার ভরা পাউচের সারি, হাতে সিল করার ছোট মেশিন আর ব্যাচ নম্বরের স্টিকার
প্রতিটা পাউচ মেপে ২৫০ গ্রাম পুরো করুন, পাউচের ওজন বাদ দিয়ে

এবার টাকার হিসাব, যেটা না করে অনেকে মাসের পর মাস লোকসানে বেচে যান। উদাহরণ। নিচের সব সংখ্যা ধরে নেওয়া, এটা কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন। ধরুন আস্ত হলুদ কেজি ২৬০ টাকায় কিনলেন, মিলে ভাঙাতে কেজিতে ২০ টাকা গেল, আর শুকানো-চালার পর ওজন ৮% কমল। তাহলে ২৮০ টাকায় পেলেন ৯২০ গ্রাম গুঁড়া, মানে ২৫০ গ্রামে মসলার খরচ ২৮০ × ২৫০ ÷ ৯২০ = প্রায় ৭৬ টাকা। হিসাব সহজ রাখতে ধরলাম মরিচ আর ধনিয়ার ২৫০ গ্রামেও খরচ মোটামুটি একই। ল্যাব টেস্টে প্রতিটা ব্যাচে ধরুন ৩,০০০ টাকা যায়, আর এক ব্যাচে ৫০ কেজি গুঁড়া হয়। তাহলে কেজিতে ৬০ টাকা, ২৫০ গ্রামে ১৫ টাকা। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন, আর একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আনতে অ্যাডে যায় ১২০ টাকা।

খরচের খাত এক পাউচ, ২৫০ গ্রাম, ১৯০ টাকায় ফ্যামিলি প্যাক, চার পাউচে এক কেজি, ৬৮০ টাকায়
মসলা (ভাঙানো আর ওজন কমা ধরে) ৭৬ ৩০৪
পাউচ আর লেবেল ১২ ৪৮
ল্যাব টেস্টের ভাগ ১৫ ৬০
প্যাকিং (পলি, বক্স) ১৫ ২০
COD চার্জ (ধরুন ১%) ২ ৭
ফেরত পার্সেলের লোকসান, ভাগ করে ২০ ৩০
অ্যাড, প্রতি ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ১২০ ১২০
মোট খরচ ২৬০ ৫৮৯
হাতে থাকে ৭০ টাকা লোকসান ৯১ টাকা লাভ

একই মসলা, একই অ্যাড। তবু একটা পাউচের অর্ডারে পকেট থেকে ৭০ টাকা যাচ্ছে, আর ফ্যামিলি প্যাকে ৯১ টাকা থাকছে। কারণ অ্যাডের ১২০ টাকা অর্ডারপ্রতি একবারই যায়, এক পাউচে বসলে ভারী, চার পাউচে ভাগ হলে হালকা। এজন্য অ্যাডে সামনে রাখুন ফ্যামিলি প্যাক বা তিন-চার মসলার কম্বো, যেমন হলুদ ৫০০ গ্রাম, মরিচ ২৫০ আর ধনিয়া ২৫০। একা পাউচ রাখুন তাঁদের জন্য, যাঁরা আগে একটা চেখে দেখতে চান। আর পুরনো কাস্টমার ফোনে আবার ফ্যামিলি প্যাক নিলে অ্যাডের ১২০ টাকা লাগে না, তখন একই প্যাকে থাকে ২১১ টাকা। মসলার আসল লাভটা ওখানেই। তাই আমি সোজা বলি, মসলায় প্রথম অর্ডারে লাভ খুঁজবেন না, লাভ খুঁজবেন দ্বিতীয় অর্ডারে।

তেলের ব্যবসাতেও ঠিক এই অঙ্কটা ঘটে, এক লিটারে লোকসান আর পাঁচ লিটারে লাভ। সেটা সরিষার তেলের ব্যবসার লেখায় টেবিলসহ দেখানো আছে। ব্যাপারটা প্রোডাক্টের না, অ্যাডের খরচ কয়টা জিনিসে ভাগ হচ্ছে, তার।

অর্ডার ফর্মে কাস্টমারকে শুরুতেই বড় প্যাকটা দেখান, তাহলে কাজ অর্ধেক সহজ হয়ে যায়। WinningSeller-এর অর্ডার ফর্মে প্যাকেজ কার্ড আছে। প্রতিটা সাইজ বা কম্বো একটা আলাদা কার্ড, তাতে ছবি, দাম আর কোনায় ছোট একটা লেখা, যেমন "সবচেয়ে বেশি নেওয়া"। কাস্টমার কার্ডে চাপ দিয়ে সাইজ বেছে সেখানেই অর্ডার দেন।

২৫০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম আর কম্বো প্যাক অর্ডার ফর্মে সাজানপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

"ভেজালমুক্ত" বা "খাঁটি" লেখার আগে কী প্রমাণ রাখবেন

মসলার পেজে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় "১০০% খাঁটি" আর "ভেজালমুক্ত"। এখন এই কথাগুলো লেখার নিয়ম আছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন ও বিধির পেজে "নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫" আছে, তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫। এতে লেখা, গেজেটের ছয় মাস পর থেকে এটা কার্যকর, মানে ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি থেকে। বিজ্ঞাপনের সংজ্ঞায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কের কথাও আছে, তাই ফেসবুকের পোস্ট আর অ্যাডও এর মধ্যে পড়ে।

প্রবিধানমালার ৬ নম্বর তফসিলে "খাঁটি" শব্দের শর্ত লেখা। খাঁটি বলা যায় শুধু এক উপাদানের খাবারকে, যাতে আর কিছু মেশানো হয়নি, আর যার দূষণ নির্ধারিত সীমার নিচে। হলুদের গুঁড়া এক উপাদানের, তাই শর্ত মানলে বলা যায়। কিন্তু গরম মসলা বা মাংসের মসলা মিশ্র জিনিস, এগুলোকে সরাসরি খাঁটি বলা যাবে না। লেখা যাবে "খাঁটি উপাদানে তৈরি"। "নির্ভেজাল", "আসল", "সেরা" ধরনের শব্দ লেখা যায় তখনই, যখন লেবেল বা অ্যাডে গুণটা কী আর কেন এই শব্দ, সেটা পরিষ্কার বলা থাকে। আর একই প্রবিধানমালার ৪ ধারায় বিভ্রান্তিকর দাবির উদাহরণ হিসেবে "ঘরে তৈরি" কথাটা লেখা আছে, তাই এই কথাও ভেবেচিন্তে লিখবেন।

ভেজালের ভয়টা যে মিথ্যা না, খবরেই দেখা যায়। বাংলা ট্রিবিউনের ১৬ জুন ২০২৬-এর খবরে আছে, ঢাকার ফরাশগঞ্জ আর শ্যামবাজারে ডিএমপি আর ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ১৯ বস্তা ভেজাল ও নিম্নমানের হলুদ গুঁড়া জব্দ হয়েছে, চারটা প্রতিষ্ঠান মিলে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে। কাস্টমার এসব খবর পড়েন। তাই আপনার "ভেজালমুক্ত" কথাটা প্রমাণ ছাড়া শুনলে তিনি বিশ্বাস করবেন না, আর করা উচিতও না।

প্রমাণ মানে ল্যাবের রিপোর্ট, ঘরোয়া পরীক্ষা না। পানিতে গুঁড়া ফেলে রং দেখা বা হাতে ঘষে দেখা শুধু একটা আন্দাজ দেয়। যেমন আসল হলুদের দাগে সাবান লাগালে লালচে হয়ে যায়, কারণ হলুদের রং ক্ষার পেলে বদলায়। কিন্তু অল্প করে মেশানো কিছু এভাবে ধরা যায় না। BCSIR-এর Institute of Food Science and Technology আর BSTI-র রসায়ন পরীক্ষণ উইংয়ে খাবারের নমুনা পরীক্ষা হয়। হলুদে সীসা আর ক্রোমিয়াম, মরিচে কৃত্রিম রং, আর সব মসলায় আর্দ্রতা, কোন টেস্ট কত টাকা আর কত দিন লাগে, নমুনা নিয়ে যাওয়ার আগে ফোন করে জেনে নিন।

প্রতিটা ব্যাচের ল্যাব রিপোর্ট হাতে রাখুন, আর দেখে নিন রিপোর্টের নমুনা নম্বর প্যাকেটের ব্যাচ নম্বরের সাথে মেলে কি না। পাইকারের মেমোটাও ফেলবেন না, তাতে লেখা থাকে কোন দিন কোন দোকান থেকে কত কেজি কিনলেন। মিলে ভাঙানোর দিন ফোনে একটা ছোট ভিডিও করে রাখুন। কেউ কমেন্টে সন্দেহ করলে ওই ভিডিওটাই সবচেয়ে ভালো উত্তর। রিপোর্টটা পেজে আর প্রোডাক্ট পেজে তারিখসহ দিন। আর মনে রাখবেন, পুরনো রিপোর্ট নতুন ব্যাচের প্রমাণ না।

হলুদের পাউচের ব্যাচ নম্বর হ-১০০৮, ল্যাবের রিসিটে একই ব্যাচ নম্বর আর নমুনা নম্বর, ল্যাব রিপোর্টে সেই নমুনা নম্বর, তিনটা নকশা সমান চিহ্নে জোড়া, নিচে লেখা পুরনো রিপোর্ট নতুন ব্যাচের প্রমাণ না
ব্যাচ নম্বর আর ল্যাবের নমুনা নম্বর মিললে তবেই রিপোর্টটা প্রমাণ

কাস্টমার আবার কবে কিনবেন, রিফিলের হিসাব

মসলার আসল টাকা রিফিলে, আর রিফিলের দিন ঠিক হয় একটা প্রশ্নে, কাস্টমারের বাসায় মসলা কত দিনে ফুরায়। এটা নিজে আন্দাজ করবেন না। ডেলিভারির পাঁচ-সাত দিন পরে খোঁজ নেওয়ার ফোনে আগে জিজ্ঞেস করুন রান্নায় কেমন লাগল, রং কেমন এলো, ঝাল ঠিক ছিল কি না। তারপর বলুন, "আপা, ৫০০ গ্রাম হলুদ আপনাদের বাসায় সাধারণত কয় দিন যায়?" চারজনের পরিবার আর মেসে থাকা দুজনের হলুদ এক গতিতে ফুরায় না। যে উত্তর পান, তার এক সপ্তাহ আগের তারিখে রিফিলের ফোনটা লিখে রাখুন।

এক সপ্তাহ আগে কেন, সেটা রান্নাঘরের দিক থেকে ভাবুন। হলুদ ফুরিয়ে গেলে কেউ অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দুই দিন বসে থাকেন না, রান্না থামবে না। পাড়ার দোকান থেকে একটা প্যাকেট এনে ফেলেন। আর একবার দোকানের অভ্যাসে ফিরে গেলে তাঁকে আবার অ্যাডের টাকায় ফেরাতে হয়। প্রথম ফোনে যদি শোনেন ঝাল বেশি লেগেছে, সেটা খাতায় লিখুন, পরের বার কম ঝালের মরিচ মিশিয়ে দিন। এই ছোট খেয়ালটাই কাস্টমারকে বেঁধে রাখে। যেদিন কেউ নিজে থেকে ইনবক্সে লেখেন "ভাই, আগের হলুদটাই আবার পাঠান", সেদিন বুঝবেন ব্যবসাটা দাঁড়াচ্ছে। কাকে আগে ফোন দেবেন আর ফোনে পুরো কথাটা কীভাবে বলবেন, সেটা পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রি করার লেখায় আছে।

কোরবানির ঈদের দুই-তিন সপ্তাহ আগে পুরনো কাস্টমারদের মাংসের মসলা আর গরম মসলার কথা বলুন। এটা সত্যিকারের দরকারের সময়, তাই এমন ফোনে কেউ বিরক্ত হন না। ঈদের আগের সপ্তাহে কুরিয়ারে চাপ বাড়ে, তাই অর্ডার একটু আগে নিন।

পঞ্চাশজন কাস্টমার পর্যন্ত খাতা বা শিটেই চলে। কয়েকশো হয়ে গেলে কার হলুদ কবে ফুরাবে, মাথায় রাখা যায় না। WinningSeller-এর ফলোআপ কল সিস্টেমে পার্সেল ডেলিভারি হলে কাস্টমার নিজে থেকেই কলের লিস্টে চলে আসেন, আপনার ঠিক করা দিন পরে, শুরুতে ৭ দিন দেওয়া থাকে। কেউ "মাসের শেষে ফোন দিয়েন" বললে ৬০ দিনের মধ্যে যেকোনো তারিখ আর সময় বসিয়ে রাখা যায়। আর লাভ-ক্ষতির হিসাব চলে শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে, ফেরত পার্সেলের দুই দিকের কুরিয়ার চার্জসহ। তাই কোন সাইজে সত্যিই টাকা থাকছে, মাসের শেষে দেখা যায়। লাইসেন্স করা বা মসলার টেস্ট WinningSeller করে দেয় না, ওগুলো আপনার নিজের কাজ।

আজই করে ফেলুন

  1. যে তিনটা মসলা দিয়ে শুরু করবেন, সেগুলোর নাম লিখুন, আর মৌলভীবাজার বা নিজের এলাকার পাইকারের দুটো দোকানের নম্বর জোগাড় করুন।
  2. বাসার কাছের মসলা ভাঙানোর মিলে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন কেজিতে কত নেয়, আর সকালে কয়টায় খোলে।
  3. BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টের পেজটা খুলে নিজের মসলার নাম মিলিয়ে নিন, আর জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসের ফোন নম্বর খাতায় তুলুন।
  4. ওপরের টেবিলটা নিজের কেনা দাম, মিলের চার্জ আর অ্যাডের খরচ বসিয়ে আবার করুন, দেখুন এক পাউচে আর ফ্যামিলি প্যাকে কত থাকে।
  5. ব্যাচ নম্বরের একটা নিয়ম ঠিক করুন, যেমন মসলার প্রথম অক্ষর আর তারিখ, আর একটা খাতায় তার কলাম বানান।

সাধারণ প্রশ্ন

মসলার ব্যবসায় লাভ কেমন?

একটা ২৫০ গ্রামের প্যাকেট একা বেচলে অ্যাডের খরচ ধরলে সাধারণত লাভ থাকে না, উল্টো লোকসানও হতে পারে। লাভ আসে এক কেজির ফ্যামিলি প্যাক বা কম্বো থেকে, আর সবচেয়ে বেশি আসে পুরনো কাস্টমারের রিফিল অর্ডার থেকে, কারণ সেখানে অ্যাডের টাকা লাগে না। নিজের কেনা দাম, মিলের চার্জ আর ওজন কমা ধরে একবার হিসাব করে নিন।

গুঁড়া মসলা বিক্রি করতে কি BSTI লাইসেন্স লাগে?

নিজের নামে প্যাকেট করে বেচলে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া আর জিরার গুঁড়া আর কারি পাউডারে লাগে, কারণ এগুলো BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টে আছে। BSTI-র ফি শিডিউল অনুযায়ী নতুন CM লাইসেন্সের আবেদনে ১,০০০ টাকা আর বছরে কমপক্ষে ৩,৫০০ টাকা CM ফি লাগে। এর সাথে ট্রেড লাইসেন্স আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশনের কথাও ভাবতে হবে।

পাইকারি মসলা কোথায় পাওয়া যায়?

ঢাকায় মৌলভীবাজার আর চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ মসলার বড় পাইকারি বাজার। প্রথমবার কয়েকটা দোকান থেকে অল্প করে নমুনা কিনে বাসায় শুকিয়ে, ভাঙিয়ে তুলনা করুন, তারপর একজনের সাথে নিয়মিত কাজ শুরু করুন। যাওয়ার আগের দিন পাইকারকে ফোন করে জেনে নিন দোকান খোলা কি না।

মিলে মসলা ভাঙালে কি অন্যের মসলা মিশে যায়?

একই মেশিনে সারাদিন অনেকের মসলা ভাঙানো হয়, তাই আগের জনের গুঁড়ার কিছুটা মেশিনে থেকে যেতে পারে। সকালে মিল খোলার সময় যান, প্রথমে নিজের এক মুঠো মসলা চালিয়ে সেটা ফেলে দিন, আর পুরো সময় মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকুন। মিলের মালিককে আগেই বলে রাখুন আপনি পরিষ্কার মেশিনে ভাঙাতে চান।

প্যাকেটে "খাঁটি" বা "ভেজালমুক্ত" লেখা যাবে?

নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী "খাঁটি" লেখা যায় শুধু এক উপাদানের খাবারে, যেখানে কিছু মেশানো হয়নি আর দূষণ নির্ধারিত সীমার নিচে। গরম মসলার মতো মিশ্র মসলাকে সরাসরি খাঁটি বলা যায় না, "খাঁটি উপাদানে তৈরি" বলা যায়। "নির্ভেজাল" বা "আসল" লিখতে হলে লেবেল বা অ্যাডে গুণটা কী আর কেন, সেটা পরিষ্কার বলতে হয়, তাই প্রতিটা ব্যাচের ল্যাব রিপোর্ট হাতে রাখুন।

অল্প টাকায় কি মসলার ব্যবসা শুরু করা যায়?

মসলা কেনার টাকা অল্প দিয়েই শুরু করা যায়, তিন-চারটা মসলা আর কয়েক কেজি করে। আসল খরচ আসে কাগজ আর পরীক্ষায়। BSTI-তে প্রথম বছরেই কমপক্ষে ৪,৫০০ টাকা যায়, সাথে ল্যাবের টেস্ট, ট্রেড লাইসেন্স আর লেবেল ছাপানো, তাই এগুলো আগে হিসাবে ধরে তারপর মসলা কিনুন।

#মসলার ব্যবসা#গুঁড়া মসলা#হলুদ মরিচের গুঁড়া#পাইকারি মসলা#BSTI#খাবারের ব্যবসা#রিপিট সেল

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়