১১.১১ ক্যাম্পেইন আর ১২.১২ সেলে ছোট পেজ কী করবে, লস ছাড়া প্ল্যান
বড় ব্র্যান্ড আর মার্কেটপ্লেস ১১.১১-এ ছাড় দেয়, ছোট ফেসবুক পেজ কী করবে? তিন সপ্তাহ আগে থেকে দিন ধরে প্ল্যান, কোন প্রোডাক্টে কী অফার, সেদিনের অ্যাড, কনফার্ম কল আর কুরিয়ার, আর একটা ক্যাম্পেইনের পুরো টাকার হিসাব। ১২.১২ আর শীতের সেল দ্বিতীয় সুযোগ।

এই লেখায় যা আছে
১১.১১ ক্যাম্পেইন মানে ১১ নভেম্বরের সেল, আর ১২.১২ মানে ১২ ডিসেম্বরের। ২০২৬ সালে প্রথমটা বুধবার, দ্বিতীয়টা শনিবার। ছোট পেজও এই দুই দিনে বেচতে পারে, তবে বড় মার্কেটপ্লেসের মতো গভীর ছাড় দিয়ে না। দুই-তিনটা প্রোডাক্ট বাছুন, এমন অফার দিন যাতে প্রতিটা ডেলিভারিতে লাভ থাকে, আর তিন সপ্তাহ আগে থেকে স্টক, অ্যাড, কনফার্ম কল আর কুরিয়ার সাজান। 11.11 campaign-এর প্ল্যান শুরুর দিন তাই ২১ অক্টোবর, ১১ নভেম্বরের ঠিক তিন সপ্তাহ আগে।
নভেম্বরের শুরুতে ফোন খুললেই চারদিকে ১১.১১-এর ব্যানার। বড় মার্কেটপ্লেসের অ্যাপে লাল-হলুদ অফার, পরিচিত ব্র্যান্ডের পেজে "৫০% পর্যন্ত ছাড়"। নিজের ছোট পেজের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, এদের সাথে পারব কীভাবে? এই ভাবনাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ছোট পেজের লড়াইটা দামে না, প্রস্তুতিতে। যে পেজ সেদিন অর্ডার নিয়ে দুই দিনে পার্সেল পৌঁছে দেয়, তার কাস্টমার ১২.১২-তেও ফিরে আসেন।
১১.১১ ক্যাম্পেইন আর ১২.১২ কী, ছোট পেজ ঢুকবে কি না
তারিখের সংখ্যা মিলিয়ে বছরের কয়েকটা দিনে বড় অনলাইন সেল হয়। ১১ নভেম্বর আর ১২ ডিসেম্বর তার মধ্যে সবচেয়ে চেনা। এই দিনগুলোতে মানুষ নিজেই অফার খোঁজেন, ফোনে "সেল" শব্দটা শুনতে তৈরি থাকেন। ছোট পেজের লাভ এখানেই। কাস্টমারকে কেনার কারণ বোঝাতে হয় না, শুধু ভালো একটা অফার সময়মতো সামনে রাখতে হয়।
ঝুঁকিও এখানেই। এই দিনে অ্যাডের প্রতিযোগিতা বেশি, তাই একই টাকায় কম মানুষ আপনার অ্যাড দেখতে পারেন। কুরিয়ারের হাবে পার্সেলের চাপ বাড়ে, তাই ডেলিভারি একটু পিছাতে পারে। আর অফার দেখে আসা অনেক কাস্টমার দাম তুলনা করে শেষ মুহূর্তে মত বদলান। তাই ঢোকার আগে নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন। সেদিনের বাড়তি অর্ডারের জন্য মাল হাতে আছে? দিনের অর্ডার সেদিনই কনফার্ম করার মতো মানুষ আছে? আর ছাড়ের পরেও একটা ডেলিভারিতে লাভ থাকছে? তিনটার উত্তর হ্যাঁ হলে ঢুকুন। একটা না হলে কী করবেন, সেটা নিচে "কখন নামবেন না" অংশে আছে।

বছরের কোন মাসে কী চলে আর কত আগে মাল তুলতে হয়, সেই বড় ছবিটা সিজনাল ব্যবসার ক্যালেন্ডারে আছে। এখানে শুধু একটা ক্যাম্পেইনের দিন ধরে কাজ।
তিন সপ্তাহ আগে থেকে প্ল্যান
১১ নভেম্বর থেকে উল্টো দিকে গুনলে তিন সপ্তাহ আগে পড়ে ২১ অক্টোবর। সেখান থেকে শুরু করুন। প্রতিটা সপ্তাহের কাজ আলাদা, আর আগের সপ্তাহের কাজ বাকি থাকলে পরেরটা চাপে পড়ে।
প্রথম সপ্তাহ, ২১ থেকে ২৭ অক্টোবর। দুই-তিনটা প্রোডাক্ট বাছুন আর প্রতিটার হিসাব করুন। কত পিস আনবেন, ঠিক করুন সাধারণ দুই দিনের বিক্রির তিন-চার গুণ ধরে, তার বেশি না। সাপ্লায়ারকে এই সপ্তাহেই অর্ডার দিন। অনেক সাপ্লায়ার ক্যাম্পেইনের সপ্তাহে দাম বাড়ান বা মাল দিতে দেরি করেন, কারণ সবাই একসাথে চায়। মাল ২৮ অক্টোবরের মধ্যে হাতে চাই, মানে ক্যাম্পেইনের দুই সপ্তাহ আগে।
দ্বিতীয় সপ্তাহ, ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর। মাল হাতে এলে গুনে মিলিয়ে নিন, ছবি তুলুন, অফারের পোস্টার বানান। পোস্টারে দাম আর শেষের সময় বড় করে দিন, ফোনের ছোট স্ক্রিনে বাকি লেখা কেউ পড়েন না। ল্যান্ডিং পেজ বা প্রোডাক্ট পেজে অফারের শর্ত লিখুন। দোকানের অফারের নিয়মটা এই সপ্তাহেই বানিয়ে শুরুর সময় দিয়ে রাখুন, যাতে শেষ দিনে তাড়াহুড়ো না হয়।
তৃতীয় সপ্তাহ, ৪ থেকে ১০ নভেম্বর। পেজে ছোট ছোট টিজার পোস্ট দিন, "১১ তারিখে আসছে"। পুরনো কাস্টমারদের ফোনের লিস্ট বের করুন। ৮ নভেম্বরের মধ্যে কুরিয়ারের পিকআপের লোক বা আপনার KAM-কে জানিয়ে রাখুন, ১১ আর ১২ তারিখে কত পার্সেল আশা করছেন। অ্যাড বানিয়ে রিভিউয়ে পাঠিয়ে দিন। আর ১০ তারিখ সন্ধ্যায় প্যাকিংয়ের "কিট" বানিয়ে রাখুন, মানে প্রতিটা প্রোডাক্টের পলি, ট্যাগ, ধন্যবাদ কার্ড আগে থেকে এক জায়গায় সাজানো।

১১ নভেম্বর, বুধবার। সকাল ৯টা থেকে কনফার্ম কল, দুপুরের মধ্যে প্রথম দফার পার্সেল বুক। ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর। বাকি পার্সেল পাঠানো, কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর, আর যাঁরা অর্ডার দিয়ে বাতিল করেছেন তাঁদের একবার ফোন। এই শেষ ধাপটা অনেকে বাদ দেন, অথচ এখানেই কয়েকটা অর্ডার ফিরে আসে।
কোন প্রোডাক্ট, কী অফার, মার্জিন না খেয়ে
ক্যাম্পেইনের প্রোডাক্ট বাছার নিয়ম সোজা। এমন প্রোডাক্ট নিন, যেটা আপনার পেজে এমনিতেই বিক্রি হয়, যার ফেরত কম, আর যার কেনা দাম আর বিক্রির দামের মধ্যে যথেষ্ট ফাঁক আছে। নতুন প্রোডাক্ট পরীক্ষা করার দিন এটা না। নভেম্বরে শীত শুরু হয়, তাই হুডি, সোয়েটার, চাদর, মাফলার বা শীতের খাবারের মতো জিনিস এই সময় এমনিতেই মানুষের মাথায় থাকে।
অফার তিন ধরনের হতে পারে, আর প্রতিটার খরচ আলাদা। প্রথমটা নির্দিষ্ট টাকার ছাড়, যেমন হুডিতে ১০০ টাকা কম। খরচটা আগে থেকে জানা, আর কাস্টমারও বোঝেন। দ্বিতীয়টা নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি। এতে অনেকে একটার জায়গায় দুইটা নেন, আর দুই জিনিস এক পার্সেলে যায়, ফলে আপনার কুরিয়ারের খরচ ভাগ হয়ে যায়। তৃতীয়টা "এতগুলো নিলে একটা ফ্রি"। এটা বড় ছাড়, তাই হিসাব না করে দেবেন না। কেনা দাম কত হলে এটা চলে, সেই পুরো অঙ্ক বাই ওয়ান গেট ওয়ানের হিসাবের লেখায় আছে।
একটা জিনিস একদম দেবেন না, কেনার সাথে লাকি ড্র, "গিফট জেতার সুযোগ" বা লাকি কুপন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.১.৮ অনুচ্ছেদ বলছে, সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো লটারি বা র্যাফেল ড্র করা যাবে না, আর সেখানে দণ্ডবিধির ২৯৪খ ধারার কথাও আছে। সেই ধারা কেনাবেচার সাথে কুপন, নম্বর বা অন্য উপায়ে পুরস্কারের প্রস্তাবকে শাস্তিযোগ্য বলে (১২ অক্টোবর ২০২৬-এ bdlaws.minlaw.gov.bd-তে দেখা)। তাই ছাড়টা দিন দামেই, সবার জন্য একই নিয়মে। নতুন ধাঁচের কোনো অফারের আগে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে নিন।
আরেকটা কথা মাথায় রাখুন। এক অর্ডারে কয়টা ছাড় চলবে, আগে ঠিক করে পোস্টে লিখুন। ১০০ টাকা ছাড় আর ফ্রি ডেলিভারি দুটোর কথা পাশাপাশি লিখলে কাস্টমার দুটোই একসাথে চাইবেন, আর না পেলে অর্ডারের পরে তর্ক হবে। আমি এক অর্ডারে একটা ছাড়ের নিয়মই রাখতে বলি, তাতে আপনার হিসাবও পরিষ্কার থাকে, কাস্টমারের কাছেও।
WinningSeller-এ "কুপন" মেনুতে নতুন কুপনের "কীভাবে কাজ করবে" ঘরে "অটোমেটিক" বাছলে কাস্টমারকে কোনো কোড লিখতে হয় না। "এক ক্লিকে বানান" থেকে "৳৯৯৯+ অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি" চাপলে নিয়মটা তৈরি হয়ে যায়, অঙ্কটা নিজের মতো বদলাতে পারেন। অর্ডার ফর্মে তখন দেখায় "আর ৳X যোগ করলে ডেলিভারি ফ্রি"। "শুরু" আর "শেষ" ঘরে ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা আর ১১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯-এর সময় দিয়ে রাখলে অফার নিজে থেকে শুরু হয়, নিজে থেকে থামে। একটা অর্ডারে একটাই ছাড় লাগে, অটোমেটিক নিয়মগুলোর মধ্যে যেটায় কাস্টমারের বেশি বাঁচে সেটা। "মোট কতবার দেওয়া যাবে" ঘরে সংখ্যা দিলে "প্রথম ১০০টা অর্ডার" ধাঁচের অফারও সৎভাবে চালানো যায়। নিয়ম সেভ করে চালু করে নিলে তবেই কাজ করে।
ক্যাম্পেইনের দিনের অ্যাড আর সময়
ক্যাম্পেইনের অ্যাড সেদিন সকালে বানাবেন না। নতুন অ্যাড রিভিউয়ে কিছুক্ষণ আটকে থাকতে পারে, আর অফারের দিনে কয়েক ঘণ্টা দেরি মানে সবচেয়ে দামি সময়টা চলে যাওয়া। তাই ৮ বা ৯ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাড বানিয়ে শুরুর সময় দিয়ে রাখুন। অ্যাড রিজেক্ট হলে কী করবেন, সেটা দুই দিন আগে জানলে ঠিক করার সময় থাকে।
বাজেটের বড় অংশ রাখুন ১০ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ১১ তারিখ রাত পর্যন্ত। কিন্তু খেয়াল রাখুন, রাত ১২টার পরে যে অর্ডার আসে, তা কনফার্ম হয় পরদিন সকালে, আর ততক্ষণে কিছু কাস্টমার মত বদলান। তাই কনফার্ম কলের লোক যখন কাজ করবেন, তার আশেপাশের ঘণ্টায় বেশি বাজেট দিন। সেলের দিনে কোন ঘণ্টায় কত বাজেট যাবে, সেটা Ads Manager-এ কীভাবে ঠিক করবেন, তা অ্যাড শিডিউল আর কল টিমের সময়ের লেখায় আলাদা অংশে আছে।
পেজেও অফারটা চোখের সামনে রাখুন। WinningSeller-এ ডিজাইন → "হেডার, মেনু ও ফুটার"-এর "উপরে ঘোষণার লাইন"-এ এক লাইন লিখে দিলে দোকানের সব পেজের ওপরে দেখায়, যেমন "১১.১১ অফার, হুডিতে ১০০ টাকা কম, ১১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ পর্যন্ত"। ল্যান্ডিং পেজে "কাউন্টডাউন অফার" সেকশন বসাতে চাইলে "নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে" মোডটা নিন, আর শেষের সময়টা অফারের নিয়মের শেষের সময়ের সাথে মিলিয়ে দিন। টাইমার কখন সৎ আর কখন ভুয়া তাড়া, সেটা কাউন্টডাউন টাইমারের লেখায় আলাদা করে বলেছি।
অ্যাডের আগে নিজের পুরনো কাস্টমারদের কথা ভাবুন। যাঁরা আগে কিনে খুশি হয়েছেন, তাঁদের কাছে পৌঁছাতে অ্যাডের টাকা লাগে না, আর তাঁদের অর্ডার ফেরতও কম আসে। ১০ নভেম্বর বিকেলে তাঁদের একটা ছোট মেসেজ বা ফোন দিন, "আজ সন্ধ্যা থেকে কাল রাত পর্যন্ত ১১.১১ অফার, আগের কেনা হুডির সাথে মিলিয়ে নতুন রং এসেছে, অফারে ১০০ টাকা কম।" অফারটা আগে জানলে তাঁরা শুরুতেই অর্ডার দেন, আর আপনার কনফার্ম কলের চাপ দিনের শুরুতেই কিছুটা কমে যায়। শুধু খেয়াল রাখবেন, যিনি আগে বলেছেন আর মেসেজ চান না, তাঁকে বাদ দিন।
সেদিন অর্ডার, কনফার্ম কল আর কুরিয়ার
ক্যাম্পেইনের দিনে সবচেয়ে বেশি টাকা হারায় অর্ডার আর পার্সেলের মাঝখানে। অর্ডার এলো, কিন্তু কনফার্ম হলো বিকেলে, পার্সেল গেল পরদিন, কাস্টমার ততক্ষণে আরেক পেজ থেকে নিয়ে নিয়েছেন। তাই দিনটা চালান একটা সোজা ক্রমে।
সকাল ৯টায় কনফার্ম কল শুরু করুন, দুপুরের খাবারের পরে না। রাতের অর্ডারগুলো আগে, কারণ ওঁরা সবচেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করেছেন। ফোনে অফারটা আবার মুখে বলুন, "আপনি ১১.১১ অফারে দুইটা হুডি নিয়েছেন, প্রতিটায় ১০০ টাকা কম, ডেলিভারি চার্জ ৭০, মোট ১,৭৭০ টাকা।" দাম আর অফার এক লাইনে মিলিয়ে নিলে দরজায় "এত টাকা কেন" প্রশ্ন কমে। একই নম্বর থেকে একাধিক অর্ডার বা আগে অনেকবার ফেরত দেওয়া নম্বর থাকলে কনফার্মের আগে নম্বরটা একবার দেখে নিন।

প্যাকিং আগের রাতের কিট থেকে হলে দ্রুত হয়। একজন কনফার্ম করবেন, আরেকজন সেই লিস্ট ধরে প্যাক করবেন, এভাবে দুটো কাজ একসাথে চলে। কাজটা একা করলে প্রথমে সব কনফার্ম, তারপর একবারে সব প্যাক। বারবার কাজ বদলালে ভুল প্রোডাক্ট ভুল পলিতে যায়।

কুরিয়ারে বুকিংটাও এক এক করে না করে একসাথে করুন। WinningSeller-এর অর্ডার লিস্টে কনফার্ম হওয়া অর্ডারগুলো বাছাই করে "কুরিয়ারে পাঠান" চাপলে সবগুলো একবারে কুরিয়ারে বুক হয়, আর স্ট্যাটাস নিজে থেকে বদলায়। ৬টা কুরিয়ারের যেকোনোটায় পাঠানো যায়, আর পার্সেল লেবেল সেখান থেকেই প্রিন্ট হয়। দুপুরের মধ্যে প্রথম দফা বুক করুন, যাতে সেদিনের পিকআপে ওঠে। দোকানের বাকি অর্ডারের কাজ কীভাবে চলে, তা নিচের বাটনে একসাথে দেখতে পারেন।
একটা ক্যাম্পেইনের হিসাব (উদাহরণ)
উদাহরণ। দোকানটা কাল্পনিক, অঙ্কগুলো আমার বসানো। নিজের সংখ্যা বসিয়ে একই হিসাব করুন। ধরুন আপনি ছেলেদের হুডি বেচেন ৯৫০ টাকায়। কেনা দাম ৪৮০ টাকা, প্যাকিং আর কুরিয়ারের COD চার্জ মিলিয়ে প্রতি পার্সেলে ৩০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। একটা ফেরত পার্সেলে আপনার যায় ১০০ টাকা। ক্যাম্পেইনের জন্য আগেই ১০০টা হুডি তুলেছেন।
সাধারণ দুই দিন। অ্যাডে ৩,০০০ টাকা, ডেলিভারি হয় ১৮টা, ফেরত আসে ৩টা। প্রতি ডেলিভারিতে ৯৫০ − ৪৮০ − ৩০ = ৪৪০ টাকা। ১৮ × ৪৪০ = ৭,৯২০ টাকা। অ্যাড আর ফেরতের খরচ বাদ দিলে ৭,৯২০ − ৩,০০০ − ৩০০ = ৪,৬২০ টাকা।
ক্যাম্পেইনের দুই দিন, ১০ আর ১১ নভেম্বর। অফার হুডিতে ১০০ টাকা ছাড়, মানে দাম ৮৫০। অ্যাডে ৮,০০০ টাকা। অর্ডার এলো ৯০টা, কনফার্মের ফোনে বাতিল হলো ১৫টা, পাঠানো হলো ৭৫টা। ডেলিভারি হলো ৬৫টা, ফেরত এলো ১০টা। প্রতি ডেলিভারিতে ৮৫০ − ৪৮০ − ৩০ = ৩৪০ টাকা। ৬৫ × ৩৪০ = ২২,১০০ টাকা। অ্যাডের ৮,০০০ আর ফেরতের ১০ × ১০০ = ১,০০০ টাকা বাদ দিলে হাতে থাকল ১৩,১০০ টাকা। সাধারণ দুই দিনের প্রায় তিন গুণ।
এবার একই ক্যাম্পেইনে ছাড়টা ১০০ না, ৩০০ টাকা ধরুন, আর ধরে নিন অর্ডার একই থাকল। দাম তখন ৬৫০, প্রতি ডেলিভারিতে থাকে ৬৫০ − ৪৮০ − ৩০ = ১৪০ টাকা। ৬৫ × ১৪০ = ৯,১০০ টাকা। অ্যাড আর ফেরতের ৯,০০০ টাকা বাদ দিলে থাকে মাত্র ১০০ টাকা। দুই দিনের এত পরিশ্রম, এত কল, এত প্যাকিং, শেষে একশো টাকা। বড় ছাড় সবসময় বেশি অর্ডার আনে না, কিন্তু প্রতিটা অর্ডারের লাভ ঠিকই খায়। এখানেই ছোট পেজের ভুলটা হয়।

স্টকের হিসাবও দেখুন। ১০০টা তুলেছিলেন, ডেলিভারি হলো ৬৫টা। ফেরতের ১০টা আবার স্টকে ফিরল, তাই হাতে থাকল ৩৫টা হুডি। এগুলো ১২.১২-এর জন্য তৈরি। এই কারণেই প্রথম সপ্তাহে বলেছিলাম, সাধারণ বিক্রির তিন-চার গুণের বেশি মাল তুলবেন না। শীতের মাল ডিসেম্বরেও চলে, কিন্তু জানুয়ারির শেষে পড়ে থাকলে পরের শীত পর্যন্ত টাকা আটকে থাকে।
ক্যাম্পেইন শেষে তিনটা সংখ্যা খাতায় লিখে রাখুন, পরের ক্যাম্পেইনে এগুলোই আপনার আসল গাইড। কত অর্ডার এলো আর কতটা ডেলিভারি হলো, মানে ৯০টার মধ্যে ৬৫টা। ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডে কত গেল, মানে ৮,০০০ ভাগ ৬৫, প্রায় ১২৩ টাকা। আর হাতে কত থাকল। ১২.১২-এর আগে এই তিনটা সংখ্যা দেখে ঠিক করুন ছাড় বাড়াবেন, কমাবেন, নাকি একই রাখবেন। মনে যা হয় তা দিয়ে না, খাতায় যা লেখা তা দিয়ে।
কখন ক্যাম্পেইনে নামবেন না, ১২.১২-এর জন্য রেখে দিন
মাল এখনো হাতে না এলে ১১.১১-এ অফার দেবেন না। "অর্ডার নিয়ে রাখি, মাল আসলে পাঠাব" ভাবলে প্রথম যে কাস্টমার পাঁচ দিন অপেক্ষা করে রিভিউতে রাগ ঝাড়বেন, তাঁর লেখা পরের দশটা অর্ডার খাবে। কনফার্ম কলের লোক না থাকলেও না। একা মানুষ দিনে কয়েকশো ফোন সামলাতে পারেন না, আর কনফার্ম না হওয়া পার্সেলের ফেরত ক্যাম্পেইনের লাভ খেয়ে ফেলে। আর ছাড়ের পরে প্রতিটা ডেলিভারিতে হাতে যদি অ্যাড আর ফেরতের খরচ মেটানোর মতো টাকা না থাকে, তাহলে তো একদমই না।
এমন হলে ১১.১১ বাদ দিন, আর এই সময়টা ১২.১২-এর প্রস্তুতিতে লাগান। ১২ ডিসেম্বর শনিবার, মানে অনেকের ছুটির আশেপাশে। ততদিনে শীত পুরো পড়ে যায়, তাই শীতের জিনিসের চাহিদা নভেম্বরের চেয়ে বেশি থাকার কথা। ১১.১১-এ যাঁরা কিনেছিলেন, তাঁরা ১২.১২-এর আগে আপনার পুরনো কাস্টমার, তাঁদের আলাদা করে ফোন বা মেসেজ দিন। আর মাসের শেষে শীতের সেল টানা কয়েক দিন চালানো যায়, এক দিনের চাপ ছাড়া। ছোট পেজের জন্য অনেক সময় এটাই সবচেয়ে আরামের ক্যাম্পেইন।
১২.১২-এ একটা জিনিস আলাদা করে ভাবুন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ছুটি কাছেই, তাই ১২ তারিখের অর্ডার ছুটির আগে পৌঁছানো দরকার। কুরিয়ারকে আগে জিজ্ঞেস করে নিন, ছুটির আশেপাশে পিকআপ আর ডেলিভারি কেমন চলবে। আর ১১.১১-এর অফার হুবহু আবার দেবেন না। একই অফার দ্বিতীয়বার দিলে মানুষ শেখেন যে প্রতি মাসেই এই দাম, তখন সাধারণ দিনে কেনা কমে।
আজই করে ফেলুন
- গত মাসে কোন দুই-তিনটা প্রোডাক্ট সবচেয়ে বেশি ডেলিভারি হয়েছে, আর কোনটার ফেরত সবচেয়ে কম, খাতায় লিখুন।
- প্রতিটার জন্য একটা ডেলিভারিতে হাতে কত থাকে বের করুন, তারপর ১০০ টাকা আর ৩০০ টাকা ছাড়ে কত থাকে লিখুন।
- সাপ্লায়ারকে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন, ২১ অক্টোবরের মধ্যে অর্ডার দিলে কবে মাল দেবেন আর দাম কত থাকবে।
- ফোনের ক্যালেন্ডারে চারটা রিমাইন্ডার দিন। ২১ অক্টোবর প্রোডাক্ট আর হিসাব, ২৮ অক্টোবর মাল হাতে, ৮ নভেম্বর কুরিয়ারকে জানানো আর অ্যাড রিভিউ, ১০ নভেম্বর কিট।
- কনফার্ম কলের কাজে ১১ আর ১২ তারিখে কে সাহায্য করবেন, আজই তাঁর সাথে কথা বলে রাখুন।
- অফারের শর্তের পোস্টটা ড্রাফট করুন। শুরু আর শেষের সময়, কোন প্রোডাক্টে, এক অর্ডারে একটাই ছাড়, আর ডেলিভারির সময়।
সাধারণ প্রশ্ন
১১.১১ সেল কবে, ২০২৬ সালে কোন দিন?
১১.১১ মানে ১১ নভেম্বর, ২০২৬ সালে দিনটা বুধবার। ১২.১২ মানে ১২ ডিসেম্বর, এবার শনিবার। অনলাইনে তারিখের সংখ্যা মিলিয়ে এই দুই দিনে বড় সেল হয়, আর অনেক দোকান আগের দুই-এক দিন থেকেই অফার শুরু করে।
ছোট ফেসবুক পেজের কি ১১.১১ ক্যাম্পেইন করা উচিত?
স্টক, কনফার্ম কলের লোক আর কুরিয়ারের পিকআপ যদি সেদিনের বাড়তি অর্ডার সামলাতে পারে, আর অফারের পরেও প্রতিটা ডেলিভারিতে লাভ থাকে, তাহলে হ্যাঁ। এর কোনো একটা না থাকলে ১২.১২ বা শীতের সেলের জন্য প্রস্তুতি নিন। অর্ডার নিয়ে সময়মতো দিতে না পারলে ক্যাম্পেইন উল্টো ক্ষতি করে।
১১.১১-এ কত পার্সেন্ট ছাড় দেব?
পার্সেন্ট আগে ঠিক করবেন না, আগে দেখুন ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডারে আপনার হাতে কত থাকে। ছাড় সেই অঙ্কের এমন অংশ হোক, যাতে অ্যাড আর ফেরতের খরচের পরেও কিছু থাকে। অনেক সময় বড় ছাড়ের চেয়ে নির্দিষ্ট টাকার বেশি অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি কম খরচে বেশি কাজ করে।
ক্যাম্পেইনের অ্যাড কবে থেকে চালাব?
অফারের অ্যাড অন্তত দুই-তিন দিন আগে বানিয়ে রিভিউ করিয়ে রাখুন, যাতে সেদিন সকালে রিজেক্ট হয়ে বসে না থাকে। চালানো শুরু করুন অফার শুরুর দিন বা আগের দিন। আর বাজেট এমন সময়ে রাখুন, যখন আপনার কনফার্ম কলের লোক ফোন ধরতে পারবেন।
ক্যাম্পেইনে কি অগ্রিম টাকা নেওয়া যায়?
যায়, যদি প্রোডাক্ট হাতে থাকে। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১০ অনুচ্ছেদ বলছে, পুরো টাকা নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারির লোকের হাতে দেওয়ার মতো অবস্থায় না থাকলে দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যাবে না। ক্যাম্পেইনের দিনে পার্সেলের ভিড়ে ৪৮ ঘণ্টা দ্রুত পেরিয়ে যায়, তাই হিসাব করে নিন।
অফার শেষ হওয়ার পরে অর্ডার এলে কী করব?
পোস্টে যে সময় লিখেছেন, ঠিক সেই সময়ে অফার শেষ করুন। পরে আসা অর্ডারে নরম করে বলুন অফার শেষ, এখন সাধারণ দাম, আর ১২.১২-এ আবার জানাবেন। চুপচাপ সময় বাড়ালে পরের বার কেউ আপনার শেষের সময়কে আর গুরুত্ব দেন না।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


