বিছানার চাদর পাইকারি বাজার থেকে অনলাইনে, মাপ আর কাপড় চিনে বেচার নিয়ম
অনলাইনে বেডশিট বেচতে চান? বিছানার চাদর পাইকারি কোথায় পাবেন, ডাবল আর কিং সাইজের মাপ কীভাবে মেলাবেন, কাপড়ের রং ওঠে কি না কীভাবে বুঝবেন, খাটে বিছিয়ে ছবি, আর একটা সেটে কুরিয়ারসহ কত লাভ থাকে, হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
বিছানার চাদর পাইকারি বাজার বলতে ঢাকায় প্রথম নামটা পুরান ঢাকার ইসলামপুর, সদরঘাটের কাছে, আর দেশি তাঁতের চাদরের জন্য নরসিংদীর বাবুরহাট। অনলাইনে বেডশিট বেচতে চাইলে বাজার চেনার পরে তিনটা জিনিস শিখতে হয়। কাস্টমারের খাটের মাপের সাথে চাদর মেলানো, কাপড়ের রং ওঠে কি না আর কতটা ছোট হয় তা আগে পরীক্ষা করা, আর খাটে বিছিয়ে এমন ছবি তোলা যাতে রং আর প্রিন্ট সত্যিটাই দেখায়। এই লেখায় প্রতিটার নিয়ম, একটা সেটে কুরিয়ারসহ লাভের হিসাব, আর কোন মাসে কী চলে।
সন্ধ্যায় একজন কাস্টমার ইনবক্সে চাদরের ছবি পাঠিয়ে লিখলেন, "আপু, এটা কিং সাইজ বললেন, আমার খাটে তো দুই পাশে গোঁজাই যায় না।" আপনি পাইকারের মুখে "কিং" শুনে সেটাই লিখেছিলেন, ইঞ্চি মাপেননি। চাদর ফেরত এলো, কুরিয়ার চার্জ গেল, আর কাস্টমার পেজে একটা কড়া রিভিউ দিয়ে গেলেন। বেডশিটের ব্যবসায় প্রথম মাসের বেশিরভাগ ঝামেলা এই মাপ আর রংয়ের গরমিল থেকেই আসে, আর দুটোই আগে থেকে ঠেকানো যায়।
বিছানার চাদর অনলাইনে কেমন চলে, কারা কেনেন
বিছানার চাদর এমন জিনিস, যেটা প্রায় প্রতিটা ঘরে লাগে, আর বছরে কয়েকবার বদলায়। অনলাইনে যাঁরা কেনেন, তাঁদের বড় অংশ নতুন সংসার সাজানো মানুষ, বিয়ের উপহার খোঁজা পরিবার, ঈদের আগে ঘর বদলানো গৃহস্থ, আর শহরের বাইরে থাকা মানুষ যাঁদের কাছে ভালো ডিজাইনের দোকান নেই। প্রোডাক্টটা ভাঙে না, পচে না, আর মেয়াদ নেই। তাই স্টক কয়েক মাস পড়ে থাকলেও নষ্ট হয় না, শুধু ডিজাইন পুরনো হয়।
চ্যালেঞ্জটাও জানুন। চাদর একটা দেখার জিনিস। কাস্টমার রং আর প্রিন্টের জন্য কেনেন, আর ছবিতে যা দেখেছেন হাতে সেটা না পেলেই ফেরত। জামার মতো "গায়ে হয় না" সমস্যা নেই, কিন্তু "খাটে হয় না" আর "রং অন্য রকম" সমস্যা আছে। যাঁরা এই দুটো সামলাতে পারেন, তাঁদের বেলায় একজন কাস্টমার অনেক সময় পরের ঈদে আবার আসেন, কারণ চাদর বদলানোর দরকার বারবার আসে।
এবার বলি কাদের জন্য এখনই না। ঘরে স্টক রাখার শুকনো জায়গা না থাকলে শুরু করবেন না, কারণ চাদরের বান্ডেল জায়গা নেয় আর স্যাঁতসেঁতে ঘরে কাপড়ে দাগ পড়ে। দিনের আলোয় খাট বিছিয়ে ছবি তোলার সুযোগ না থাকলে আর পাইকারের দেওয়া ছবি দিয়েই চালাতে চাইলে, শুরু না করাই ভালো। ওই একই ছবি আরও অনেক পেজে ঘোরে, আর রংও প্রায়ই মেলে না।
মাপ, সিঙ্গেল, ডাবল আর কিং সাইজ কত ইঞ্চি
শুরুতেই আসল কথাটা জানুন। বাংলাদেশের বাজারে বেডশিটের কোনো একটা ঠিক করা মাপ নেই। একই মাপের চাদর এক জায়গায় ডাবল আর আরেক জায়গায় কিং নামে বিক্রি হতে দেখা যায়। প্যাকেটের গায়ের লেখাও সবসময় ঠিক থাকে না। তাই "কিং সাইজ" শব্দে ভরসা না করে ইঞ্চিতে মাপুন, আর পেজেও ইঞ্চি লিখুন।
মাপ মেলানোর হিসাবটা সহজ। কাস্টমারের ম্যাট্রেসের তিনটা মাপ লাগে, চওড়া, লম্বা আর পুরুত্ব। চাদরের চওড়া হতে হবে ম্যাট্রেসের চওড়া, তার সাথে দুই পাশের পুরুত্ব, আর দুই পাশে নিচে গোঁজার জন্য ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি করে। লম্বার বেলায়ও একই হিসাব।
উদাহরণ ধরি। ধরুন কাস্টমারের ম্যাট্রেস ৬০ ইঞ্চি চওড়া, ৭৫ ইঞ্চি লম্বা আর ৬ ইঞ্চি মোটা। চওড়ায় লাগবে ৬০ + ৬ + ৬ + ৮ + ৮ = ৮৮ ইঞ্চি। লম্বায় লাগবে ৭৫ + ৬ + ৬ + ৮ + ৮ = ১০৩ ইঞ্চি। মানে ৯০×১০০ ইঞ্চির চাদর চওড়ায় চলবে, কিন্তু লম্বায় একটু টানাটানি হবে। ৯০×১০৮ হলে আরাম করে গোঁজা যাবে। ম্যাট্রেস ১০ ইঞ্চি মোটা হলে আবার ৯০×১০০ চওড়াতেও কম পড়বে।

তাই প্রতিটা নতুন ডিজাইন আসার পর একটা চাদর খুলে নিজে ফিতা দিয়ে মাপুন, চার কোণ থেকে। প্যাকেটে লেখা মাপের চাদর খুলে মাপলে কখনো কখনো কয়েক ইঞ্চি কম বের হয়, আর এই কয়েক ইঞ্চিই কাস্টমারের খাটে তফাত গড়ে দেয়। বালিশের কভারের মাপও লিখে রাখুন, কারণ সেটা নিয়েও প্রশ্ন আসে।
পেজে প্রতিটা সাইজের পাশে ইঞ্চি লিখুন, আর পোস্টের নিচে বা প্রোডাক্টের বিবরণে এক লাইনে বলে দিন, "আপনার ম্যাট্রেসের চওড়া, লম্বা আর পুরুত্ব জানালে আমরা মিলিয়ে বলে দেব কোন সাইজ লাগবে।" এই একটা লাইন অনেক ফেরত বাঁচায়, কারণ কাস্টমার অর্ডারের আগেই মাপ পাঠান।

কাপড় চিনবেন যেভাবে, রং ওঠা আর সুতা
বাজারে চাদরের কাপড় মোটামুটি তিন রকম। সুতি, পলিয়েস্টার (অনেকে বলেন মাইক্রোফাইবার বা "চায়না কাপড়"), আর দুটো মেশানো, যাকে পলি-কটন বলে। সুতি গরমে আরাম দেয়, ঘাম টানে, তবে প্রথম ধোয়ায় একটু ছোট হতে পারে আর ভাঁজ পড়ে। পলিয়েস্টারের রং উজ্জ্বল থাকে, ভাঁজ কম পড়ে, দামও কম, কিন্তু গরমের রাতে গায়ে লাগে। কোনটা ভালো, সেটা কাস্টমারের ওপর। আপনার কাজ শুধু সত্যিটা লেখা।
সুতি না পলিয়েস্টার, দোকানেই একটা সহজ পরীক্ষায় বোঝা যায়। চাদরের কিনারা থেকে একটা সুতা টেনে বের করে লাইটার দিয়ে পোড়ান, বাইরে, দূরে কিছু না রেখে। সুতি কাগজের মতো পোড়ে, গন্ধও পোড়া কাগজের মতো, আর ছাই নরম হয়ে গুঁড়া হয়। পলিয়েস্টার গলে যায়, কালো শক্ত একটা দানা হয়, আর প্লাস্টিকের গন্ধ আসে। দুটোর মাঝামাঝি হলে মেশানো কাপড়। এই পরীক্ষা মোটামুটি ধারণা দেয়, শতকরা কত ভাগ সুতি সেটা বলে না।
রং ওঠা আর ছোট হওয়ার পরীক্ষাটা প্রতিটা নতুন লটে করুন, একটা চাদর নিজের খরচে বাদ দিয়ে। চাদরটা মেপে লিখে রাখুন, তারপর একটা সাদা কাপড়ের টুকরার সাথে হালকা গরম পানিতে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে সাধারণভাবে ধুয়ে শুকান। সাদা কাপড়ে রং লাগলে বুঝবেন প্রথম ধোয়ায় রং ছাড়বে। শুকানোর পর আবার মাপুন, কয় ইঞ্চি ছোট হলো দেখুন। রং ছাড়লে পেজে লিখে দিন "প্রথমবার আলাদা ধোবেন"। খুব বেশি ছোট হলে সেই লট বেচার আগে ভাবুন। যত ভালো দামেই কিনুন, প্রথম ধোয়ার পরে যে চাদর খাটে আর আঁটে না, তার দাম কাস্টমারের কাছে শূন্য।
বিছানার চাদর পাইকারি বাজার কোথায়
ঢাকায় চাদরের পাইকারির সবচেয়ে পরিচিত জায়গা ইসলামপুর, পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গার পাড়ে, সদরঘাটের একদম কাছে। The Daily Star-এর Star Weekend Magazine-এ ২০১১ সালের আগস্টে ইসলামপুর নিয়ে একটা ফিচার ছাপা হয়েছিল। সেখানে লেখা, হাসপাতালের চাদর থেকে দামি পোশাকের কাপড় পর্যন্ত সবই এখানে মেলে, আর ছবির ক্যাপশনে চাদর, পর্দা আর কুশনের কাপড়ের কথা আলাদা করে বলা। লেখাটা পুরনো, কিন্তু চাদরের জন্য ইসলামপুরের নাম এখনো আগে আসে। এখানে থান আর গজের হিসাবে কথা হয়, আবার প্যাকেট করা রেডি চাদরের সেটও পাওয়া যায়। ইসলামপুরের কাপড়ের দোকান শুক্রবার বন্ধ থাকে।
দেশি তাঁতের চাদর আর গামছার জন্য অনেকে যান নরসিংদীর বাবুরহাটে। প্রথম আলো আর বাসসের ২০২৪ সালের এপ্রিলের রিপোর্টে বাবুরহাটের মালের লিস্টে বিছানার চাদর আছে, আর হাট বসে সপ্তাহে তিন দিন, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার। বাবুরহাটে বেশিরভাগ বেচাকেনা বড় লটে, তাই প্রথমবার না গিয়ে আগে ইসলামপুর থেকে কয়েকটা ডিজাইন বেচে দেখুন। দুই বাজারের যাওয়ার রাস্তা, বন্ধের দিন আর প্রথমবার কত টাকা নিয়ে যাবেন, সব ঢাকার পাইকারি কাপড়ের মার্কেটের লেখায় আছে। অন্য শহরের পাইকারি বাজারের খোঁজ পাবেন পাইকারি মার্কেটের ডিরেক্টরির লেখায়।
পাইকারের দোকানে কয়েকটা কাজ প্রথম দিনেই করুন। প্রতিটা ডিজাইনের একটা চাদর খুলে মাপ আর কাপড় দেখুন, শুধু প্যাকেটের ছবি দেখে বান্ডেল নেবেন না। একটা "সেট"-এ ঠিক কী কী আছে গুনে নিন, একটা চাদর আর দুটো বালিশের কভার, নাকি চারটা। আর প্রতিটা লটের একটা ছোট টুকরা বা একটা কভার আলাদা করে রেখে দিন, গায়ে তারিখ আর পাইকারের নাম লিখে। পরে কাস্টমার রং নিয়ে অভিযোগ করলে বা পাইকারের কাছে একই মাল আবার চাইলে এই টুকরাটাই আপনার প্রমাণ।
BSTI-র কথাটাও জেনে রাখুন। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর BSTI-র ওয়েবসাইটের বাধ্যতামূলক লিস্টের পেজে দেখা যায়, আগস্ট ২০২৪-এ ২৬টা জিনিসের একটা বাড়তি লিস্টে সুতি বিছানার চাদর যোগ হয়েছিল, আর ৩ জুন ২০২৫-এর ৩১৫টা জিনিসের মূল লিস্টেও "Cotton Bed Sheets" নাম ধরে আছে, মানদণ্ড BDS 951। মানে নিজে কাপড় কিনে চাদর বানিয়ে নিজের ব্র্যান্ডে বেচলে BSTI-র CM লাইসেন্সের প্রশ্ন আসে। কী কাগজ আর কত ফি, সেটা কাছের BSTI অফিস থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন। আর পাইকার থেকে রেডি চাদর কেনার সময় জিজ্ঞেস করুন প্রোডাক্টে BSTI মার্ক আছে কি না।
খাটে বিছিয়ে ছবি, রং যেন মেলে
চাদরের ছবির সবচেয়ে বড় ভুল হলো ভাঁজ করা চাদরের ছবি। ভাঁজে প্রিন্টের মাত্র এক কোণ দেখা যায়, পুরো নকশা বোঝা যায় না। কাস্টমার জানতে চান খাটে বিছালে কেমন লাগবে, তাই সেটাই দেখান। একটা খাট টানটান করে বিছান, বালিশের কভার পরিয়ে দিন, আর জানালার পাশে দিনের আলোয় ছবি তুলুন।
রং মেলানোর জন্য তিনটা কাজ করুন। দুপুরের কড়া রোদ না, সকাল বা বিকেলের নরম আলোয় তুলুন। ঘরের হলুদ বাল্ব বন্ধ রাখুন, কারণ মিশ্র আলোয় সাদা হয় হলদেটে আর নীল হয় সবুজাভ। আর ফোনের ফিল্টার বা "বিউটি" মোড বন্ধ রাখুন। ছবি তোলার পরে চাদরটা হাতে নিয়ে ফোনের স্ক্রিনের পাশে ধরুন। চোখে দুটো একই রকম লাগলে ছবি ঠিক আছে।

একটা ডিজাইনের জন্য চারটা ছবিই যথেষ্ট। পুরো খাট সামনে থেকে, একটা কোণ কাছ থেকে যাতে প্রিন্ট আর কাপড়ের বুনন দেখা যায়, বালিশের কভার আলাদা করে, আর প্যাকেটসহ পুরো সেট মেঝেতে সাজিয়ে। মোবাইলে আলো আর ব্যাকগ্রাউন্ড সামলানোর পুরো নিয়ম মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় আছে।
একই ডিজাইনের পাঁচটা রং থাকলে আরেকটা সমস্যা আসে। কাস্টমার লাল চেয়েছিলেন, পেয়েছেন মেরুন, কারণ পেজে পাঁচ রংয়ের একটাই ছবি ছিল। WinningSeller-এ প্রোডাক্টের ফর্মে রঙের অপশনের প্রতিটা রঙের পাশে "ছবি বাছুন" থাকে। প্রতিটা রঙের নিজের ছবি বেছে দিলে কাস্টমার রং বাছার সাথে সাথে গ্যালারি সেই ছবিতে চলে যায়, আর কার্ট, চেকআউট আর অর্ডারেও সেই রঙের ছবিটাই থাকে। পরে রঙের নাম বদলালে, যেমন "লাল" থেকে "মেরুন", ছবি আবার বেছে দিতে হয়।
সাইজ আর রং মিলিয়ে অপশন বানালে দোকানের সব প্রোডাক্টের লিস্ট, কালেকশন আর সার্চের পেজে সাইজ আর রংয়ের ফিল্টার নিজে থেকে চলে আসে, আলাদা কিছু সাজাতে হয় না। শুধু নাম সবখানে একই রকম লিখবেন, যেমন সব প্রোডাক্টে "ডাবল ৯০×১০০", কোথাও "Double", কোথাও "ডাবল বেড" না। প্রতিটা ডিজাইনের একটা আর্টিকেল নম্বর দিলে, যেমন BS-210, প্রোডাক্ট পেজে কাস্টমার সেটা দেখেন, আর অর্ডার, ইনভয়েস আর পার্সেল লেবেলেও কোডটা যায়। পাঁচটা কাছাকাছি নীল ফুলের চাদরের মধ্যে প্যাকিংয়ের সময় ভুল তোলার ভয় অনেক কমে। এই সব কাজ কোথায় কীভাবে হয়, তার পুরো লিস্ট ফিচারের পেজে আছে।
একটা সেটে কত থাকে, কুরিয়ারসহ (উদাহরণ)
একটা ডাবল সেট ধরে পুরো হিসাব করি। নিচের কেনা দাম, বেচার দাম আর অ্যাডের খরচ ধরে নেওয়া সংখ্যা, নিজের পাইকারের দাম বসিয়ে আবার করে নিন। কুরিয়ার চার্জ Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটর থেকে, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর, ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে হোম ডেলিভারি, VAT আলাদা।
ধরুন একটা চাদর আর দুটো বালিশের কভারের সেট ইসলামপুর থেকে কিনলেন ৬৫০ টাকায়। পলি আর একটা ছোট ধন্যবাদের কার্ডে যায় ২০ টাকা। বেচেন ১,১৯০ টাকায়, আর ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা। কাস্টমার দেন ১,৩২০ টাকা।
প্যাক করা সেটের ওজন ১.১ কেজি হলে Steadfast কাটে ১৩৫ টাকা। ক্যালকুলেটরের হিসাবে COD চার্জ ১% কাটে ডেলিভারি চার্জ বাদে বাকি টাকার ওপর, মানে (১,৩২০ − ১৩৫) = ১,১৮৫ টাকার ১%, প্রায় ১২ টাকা। হাতে থাকে ১,৩২০ − ৬৫০ − ২০ − ১৩৫ − ১২ = ৫০৩ টাকা। এবার ধরুন প্রতিটা অর্ডার আনতে অ্যাডে গেছে ১৫০ টাকা। তাহলে আসল লাভ ৩৫৩ টাকা।
এখন প্যাকিংয়ের একটা ছোট ভুল দেখুন। একই দিনের ক্যালকুলেটরে ১.২ কেজি বসালে চার্জ ১৩৫ টাকাই থাকে, কিন্তু ১.২৫ কেজি বসালেই ১৫৫ টাকা। ভারী একটা গিফট বক্সে বা ঢিলেঢালা মোটা পলিতে প্যাক করলে সেটের ওজন সহজেই সেই ধাপ পেরিয়ে যায়। তখন প্রতি সেটে ২০ টাকা কম, মাসে ১০০ সেটে ২,০০০ টাকা। তাই চাদর ভাঁজ করে হাতে চেপে বাতাস বের করুন, তারপর মাপের পলিতে চ্যাপ্টা করে ঢোকান। বক্স দিতে চাইলে হালকা কার্ডবোর্ডের বক্স নিন, আর প্যাক শেষে মেপে দেখুন।

ফেরত এলে কী হয়, সেটাও হিসাবে রাখুন। সেটটা যদি দরজা থেকে ফেরত আসে, ডেলিভারি চার্জের ১৩৫ টাকা আর পলির ২০ টাকা মিলিয়ে অন্তত ১৫৫ টাকা যায়, অ্যাডের ১৫০ টাকা তো আগেই গেছে। মানে একটা ফেরত মোটামুটি একটা সেটের পুরো লাভ খেয়ে ফেলে। ফেরতের জন্য কুরিয়ার আলাদা চার্জ নেয় কি না, সেটা কুরিয়ারভেদে আলাদা, প্রথম ফেরতের পর প্যানেলে মিলিয়ে নিন। ফেরত কমানোর সবচেয়ে কাজের উপায় এই লেখার ওপরের দুটো অংশই, ঠিক মাপ আর সত্যি রংয়ের ছবি।

কোন মাসে কী চলে, কমফোর্টার কখন
চাদরের বিক্রি সারা বছর চলে, কিন্তু কয়েকটা সময়ে লাফ দেয়। ঈদের আগে মানুষ ঘর সাজান, নতুন চাদর আর বালিশের কভার কেনেন। শীতের শুরুতে বিয়ের মৌসুমে উপহারের সেট আর নতুন সংসারের জন্য কেনাকাটা বাড়ে। এই সময়গুলোর অন্তত এক মাস আগে স্টক আর ছবি রেডি রাখুন, কারণ ঠিক আগের সপ্তাহে পাইকারের দোকানেও ভিড় থাকে আর ভালো ডিজাইন শেষ হয়ে যায়।
কমফোর্টারের কথা আলাদা। এটা শীতের জিনিস, আর আকারে বড় কিন্তু ওজনে হালকা। কুরিয়ারে পাঠানোর আগে কার্টনের মাপ জানিয়ে জিজ্ঞেস করুন বাইকে নেবে কি না, আর সাইজের জন্য আলাদা চার্জ হয় কি না। শীতের পোশাক আর কম্বলের পাইকারি কোথায় আর কখন মাল তুলবেন, সেটা শীতের ব্যবসার আইডিয়ার লেখায় আছে। গরমের মাসে আবার পাতলা সুতির চাদর বেশি চলে, তখন কাপড়ের আরামের কথাটাই পোস্টে আগে বলুন।
এই ব্যবসায় নতুনদের সবচেয়ে দামি ভুলটা হলো মৌসুমে একসাথে অনেক ডিজাইন তোলা। পাঁচটা ডিজাইন দশটা করে না তুলে দশটা ডিজাইন তিনটা করে তুলে দেখুন কোনটা চলে, তারপর সেটা আবার তুলুন। চাদর নষ্ট হয় না ঠিক, কিন্তু না চলা ডিজাইন বছরের পর বছর তাকে পড়ে থাকে আর টাকা আটকে রাখে।
আজই করে ফেলুন
হাতে যা আছে, তা দিয়েই আজ এগুলো করা যায়।
- নিজের বাসার খাটের ম্যাট্রেসের চওড়া, লম্বা আর পুরুত্ব মেপে ওপরের হিসাবে বের করুন কত ইঞ্চির চাদর লাগে। কাস্টমারকে বোঝাতে এটাই আপনার প্রথম উদাহরণ।
- পেজে বা প্রোডাক্টের বিবরণে প্রতিটা সাইজের পাশে ইঞ্চি লিখুন, আর "ম্যাট্রেসের মাপ দিলে মিলিয়ে বলে দেব" লাইনটা যোগ করুন।
- হাতে যে চাদর আছে, তার একটা সুতা পুড়িয়ে আর একটা টুকরা ধুয়ে কাপড় আর রং পরীক্ষা করুন। ফল খাতায় লিখে রাখুন।
- একটা খাট বিছিয়ে জানালার পাশে দিনের আলোয় চারটা ছবি তুলুন, আর চাদর হাতে নিয়ে স্ক্রিনের সাথে রং মিলিয়ে দেখুন।
- একটা সেট প্যাক করে মাপুন, ১.২ কেজির নিচে থাকছে কি না দেখুন।
- ইসলামপুরে যাওয়ার আগে পাইকারকে ফোন করে জেনে নিন দোকান খোলা কি না আর সেটে কয়টা বালিশের কভার থাকে।
সাধারণ প্রশ্ন
বিছানার চাদর পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকায় সবচেয়ে পরিচিত জায়গা পুরান ঢাকার ইসলামপুর, সদরঘাটের কাছে। The Daily Star-এর ২০১১ সালের ইসলামপুর নিয়ে একটা ফিচারে লেখা আছে, এখানে চাদর, পর্দা আর কুশনের কাপড় সব দামেই পাওয়া যায়। দেশি তাঁতের চাদর পাওয়া যায় নরসিংদীর বাবুরহাটে। ইসলামপুর শুক্রবার বন্ধ থাকে, আর বাবুরহাট সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েক দিন বসে, যাওয়ার আগে ফোন করে নিন।
ডাবল বেডশিটের মাপ কত?
বাজারে একটা নির্দিষ্ট মাপ নেই, একই মাপের চাদর কেউ ডাবল বলেন, কেউ কিং। তাই নাম না, ইঞ্চি দেখুন। ম্যাট্রেসের চওড়ার সাথে দুই পাশের পুরুত্ব আর দুই পাশে গোঁজার জন্য ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি যোগ করলে চাদরের যে চওড়া লাগে, অন্তত সেটুকু থাকতে হবে। লম্বার বেলায়ও একই হিসাব।
চাদরের কাপড় আসল সুতি কি না কীভাবে বুঝব?
সুতির কাপড় হাতে নরম আর একটু খসখসে লাগে, ঘামে ভিজলে টানে। একটা সুতা পুড়িয়ে দেখা যায়, সুতি কাগজের মতো পোড়ে আর নরম ছাই হয়, পলিয়েস্টার গলে শক্ত দানা হয়ে যায়। তবে সাপ্লায়ারের লেবেলে যা লেখা নেই, যেমন "১০০% কটন", সেটা নিজে থেকে পেজে লিখবেন না।
বেডশিটের ব্যবসায় লাভ কেমন?
প্রোডাক্ট আর কেনার দামের ওপর নির্ভর করে। একটা উদাহরণে ৬৫০ টাকায় কেনা ডাবল সেট ১,১৯০ টাকায় বেচলে কুরিয়ার, পলি আর COD বাদে প্রায় ৫০০ টাকা থাকে, অ্যাডের খরচ তার আগে। প্যাকিংয়ে ওজন এক ধাপ বাড়লে বা একটা ফেরত এলে এই লাভ দ্রুত কমে যায়।
বেডশিট কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?
যায়, আর ভালোভাবেই যায়, কারণ ভাঙে না। শুধু ভাঁজ করে বাতাস বের করে চ্যাপ্টা প্যাক করুন, যাতে ওজন আর আকার দুটোই কম থাকে। কমফোর্টার বা লেপ বড় আর হালকা, সেগুলো পাঠানোর আগে কুরিয়ারকে সাইজ জানিয়ে নিন।
বিছানার চাদর বেচতে কি BSTI লাগে?
সুতি চাদর নিজের ব্র্যান্ডে বানিয়ে বেচলে লাগে। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর BSTI-র ওয়েবসাইটে ৩ জুন ২০২৫-এর ৩১৫টা জিনিসের বাধ্যতামূলক লিস্টে সুতি বিছানার চাদর (Cotton Bed Sheets, BDS 951) আলাদা নামে আছে। নিজে বানালে কাছের BSTI অফিস থেকে CM লাইসেন্সের কাগজ আর ফি জেনে নিন, আর পাইকার থেকে কিনলে তাঁকে জিজ্ঞেস করুন প্রোডাক্টে BSTI মার্ক আছে কি না।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


