ব্যবসার ইমেইল খুলবেন? নিজের ডোমেইনে প্রফেশনাল ইমেইল, ফ্রি আর টাকায়
পেমেন্ট গেটওয়ে বা ভেরিফিকেশনে ব্যবসার ইমেইল চাইছে? info@আপনারদোকান.com কীভাবে খুলবেন, ফ্রি আর টাকার তিনটা রাস্তা, MX রেকর্ড বসানোর ধাপ, এক বছরের খরচ, আর স্টাফের হাতে ইমেইল গেলে কী হারান।

এই লেখায় যা আছে
প্রফেশনাল ইমেইল আইডি খোলার নিয়ম ছোট করে বললে, আগে নিজের একটা ডোমেইন লাগবে, তারপর একটা ইমেইল সার্ভিসে সেই ডোমেইন যোগ করে মেইলবক্স বানাতে হবে, আর শেষে ডোমেইনের DNS-এ সার্ভিসের দেওয়া MX রেকর্ড বসাতে হবে। ফ্রিতে করা যায় Zoho Mail-এর ফ্রি প্ল্যানে, টাকা দিয়ে করা যায় Zoho-র ছোট প্ল্যানে বা Google Workspace-এ, আর তৃতীয় রাস্তা দেশের হোস্টিং কোম্পানির ইমেইল প্যাকেজ। পুরো কাজ এক ঘণ্টার, শুধু DNS কাজ করতে কয়েক ঘণ্টা থেকে এক দিন লাগতে পারে।
ধরুন bKash মার্চেন্ট বা একটা পেমেন্ট গেটওয়ের ফর্ম পূরণ করছেন। ইমেইলের ঘরে লিখলেন rakib.fashion99@gmail.com, আর মনটা খচখচ করল। ফোনের ওপাশের লোকটাও জিজ্ঞেস করলেন, "ভাই, ব্যবসার কোনো ইমেইল নেই?" এই ছোট অস্বস্তিটা অনেক সেলারের। ডোমেইন কেনা আছে, দোকানও চলছে, শুধু ইমেইলটা এখনো ব্যক্তিগত Gmail। নিচে ধাপে ধাপে দেখাচ্ছি কীভাবে info@ বা orders@ নিজের ডোমেইনে খুলবেন, কত খরচ, আর কোথায় ভুল করলে দোকানের ওয়েবসাইট বা পুরনো মেইল আটকে যায়।
ব্যবসার আলাদা ইমেইল কেন, কখন লাগে
ব্যবসার ইমেইল আলাদা রাখার প্রথম কারণ বিশ্বাস। info@rakibfashion.com থেকে ইনভয়েস বা অফারের মেইল গেলে কাস্টমার আর কোম্পানি দুজনেই বোঝেন এটা একটা দোকান, কারো ব্যক্তিগত ঠিকানা না। কর্পোরেট অর্ডার বা পাইকারি সাপ্লায়ারের সাথে কথা বলতে গেলে এটা আরও বেশি চোখে পড়ে।
দ্বিতীয় কারণ কাগজপত্র। পেমেন্ট গেটওয়ে, বড় কুরিয়ারের KAM বা কোনো কোম্পানির সাথে চুক্তির সময় অনেকে ব্যবসার ইমেইল চায়। Meta-র বিজনেস ভেরিফিকেশনে ডোমেইনের ইমেইল দিয়ে কনফার্ম করার একটা রাস্তা আছে, পুরো নিয়মটা Meta বিজনেস ভেরিফিকেশনের লেখায় পাবেন। কোন গেটওয়ে কী কাগজ চায়, সেটা পেমেন্ট গেটওয়ের তুলনার লেখায় আছে।
তৃতীয় কারণটা সবচেয়ে কম বলা হয়, কিন্তু সবচেয়ে দামি। দোকানের সব অ্যাকাউন্ট, মানে ডোমেইন, ফেসবুক বিজনেস, কুরিয়ারের প্যানেল আর পেমেন্টের অ্যাকাউন্ট, একটা ইমেইলে বাঁধা থাকে। সেই ইমেইলটা যদি আপনার ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, ভার্সিটির গ্রুপ আর হাজারটা প্রোমো মেইলের ভিড়ে থাকে, তাহলে ডোমেইন রিনিউর নোটিশ বা পাসওয়ার্ড বদলের সতর্কবার্তা হারিয়ে যায়।
এখন বলি কখন লাগে না। আপনার যদি এখনো নিজের ডোমেইন না থাকে, অর্ডার সব ইনবক্সে আসে, আর কোনো গেটওয়ে বা চুক্তির কাগজ এই মুহূর্তে জমা দিচ্ছেন না, তাহলে ডোমেইন ইমেইলের জন্য এখনই ব্যস্ত হবেন না। দোকানের নামে একটা আলাদা Gmail খুলে নিন, সেটাই এখন যথেষ্ট। ডোমেইন কেনার পরে, বা যেদিন কোনো ফর্মে ব্যবসার ইমেইল চাইবে, সেদিন এই লেখায় ফিরে আসুন।
Gmail-এ দোকানের নামে, নাকি নিজের ডোমেইনে
দুটো জিনিস গুলিয়ে ফেলবেন না। rakibfashion.bd@gmail.com হলো Gmail-এ দোকানের নামে খোলা একটা ঠিকানা। এটা ফ্রি, পাঁচ মিনিটে খোলা যায়, আর Google-এর নিজের জায়গায় থাকে। info@rakibfashion.com হলো নিজের ডোমেইনে ইমেইল। এর জন্য ডোমেইন কিনতে হয়, আর একটা ইমেইল সার্ভিস লাগে।
দোকানের নামে Gmail-এর সুবিধা হলো সহজ, আর হারানোর ভয় কম, যদি রিকভারি ফোন নম্বরটা আপনার নিজের থাকে। অসুবিধা হলো, যেকোনো মানুষ একই রকম নামে আরেকটা Gmail খুলতে পারেন, যেমন rakibfashionbd@gmail.com, আর সেখান থেকে আপনার কাস্টমারকে ভুয়া মেইল পাঠাতে পারেন। নিজের ডোমেইনের ঠিকানা কেউ হুবহু বানাতে পারে না, কারণ @rakibfashion.com শুধু আপনার।
আমি বলি দুটোই রাখুন, দুটো আলাদা কাজের জন্য। দোকানের নামে একটা Gmail থাকবে সব অ্যাকাউন্টের মালিকানার জন্য, যেটা দিয়ে ডোমেইন, ফেসবুক বিজনেস আর পেমেন্টের অ্যাকাউন্ট খোলা। আর নিজের ডোমেইনের ইমেইল থাকবে বাইরের মানুষের সাথে কথা বলার জন্য, কাস্টমার, সাপ্লায়ার আর কোম্পানির সাথে। দুটো আলাদা থাকলে একটায় গোলমাল হলে আরেকটা দিয়ে ফিরে আসা যায়। যে ইমেইলে ডোমেইন কেনা, সেটা কেন সবসময় চালু রাখবেন, সেই কথা ডোমেইন কেনার লেখায় আছে।
নিজের ডোমেইনে ইমেইলের তিন রাস্তা, খরচসহ
নিচের দামগুলো প্রতিটা কোম্পানির নিজের ওয়েবসাইট থেকে, দেখা হয়েছে ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ। ডলারের দাম আর প্ল্যান মাঝে মাঝে বদলায়, কেনার দিন আবার দেখে নিন।
প্রথম রাস্তা, ফ্রি প্ল্যান। Zoho Mail-এর দামের পেজে Mail Free প্ল্যানকে লেখা আছে "Forever free"। এতে ৫ জন পর্যন্ত ইউজার, প্রত্যেকের ৫ GB জায়গা, আর একটা ডোমেইনে ইমেইল। ৬ নম্বর ইউজার যোগ করলে সবাইকে পেইড প্ল্যানে যেতে হয়। বড় শর্তটা হলো, এতে IMAP, POP আর ActiveSync নেই। মানে মোবাইলের Gmail অ্যাপ বা কম্পিউটারের Outlook-এ এই ইমেইল জুড়তে পারবেন না। পড়তে আর লিখতে হবে Zoho-র ওয়েবসাইটে বা Zoho Mail অ্যাপে। একজন বা দুজনের দোকানের জন্য এটা সাধারণত সমস্যা না।
দ্বিতীয় রাস্তা, টাকার প্ল্যান। Zoho-র Mail Lite প্ল্যান বছরে একবারে নিতে হয়, মাসে মাসে দেওয়ার প্ল্যান নেই। Zoho-র দামের পেজের ডলারের হিসাবে প্রতি ইউজার মাসে ১ ডলার (৫ GB) বা ১.২৫ ডলার (১০ GB)। দেশভেদে দাম আলাদা দেখাতে পারে। Google Workspace-এর দামের পেজে Business Starter প্রতি ইউজার মাসে ৭ ডলার, বছরের প্ল্যানে, আর প্রতি ইউজারে ৩০ GB জায়গা, ১৪ দিন ফ্রি ট্রায়াল। Google-এ Gmail-এর চেনা চেহারা পাবেন, সাথে Drive আর Meet। এগুলো ডলারে কেনা, তাই ডলার কার্ড বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড লাগবে।
তৃতীয় রাস্তা, দেশের কোম্পানি। দেশের অনেক হোস্টিং আর ডোমেইন কোম্পানি নিজেরা ইমেইল প্যাকেজ বেচে, আবার Google Workspace-ও টাকায় রিসেল করে। যেমন Alpha Net-এর ইমেইলের পেজে তাদের Enterprise Email মাসে ৯৯ টাকা থেকে শুরু লেখা, আর Google Workspace মাসে প্রতি ইউজার ৭৫০ টাকা থেকে। সুবিধা হলো টাকায় পেমেন্ট করা যায়, ডলার কার্ড লাগে না, আর বাংলায় সাপোর্ট পাওয়া যায়। অসুবিধা হলো প্যাকেজভেদে জায়গা, স্প্যাম ফিল্টার আর অ্যাপের মান অনেক আলাদা, তাই কেনার আগে জিজ্ঞেস করুন মেইলবক্স কত GB, মোবাইলে কোন অ্যাপে চলবে, আর মাসে কয়টা মেইল পাঠানো যায়।

কোনটা নেবেন? একা বা দুজন মিলে দোকান চালালে আর মোবাইলে আলাদা একটা অ্যাপ রাখতে আপত্তি না থাকলে Zoho-র ফ্রি প্ল্যান দিয়ে শুরু করুন। Gmail অ্যাপেই সব দেখতে চাইলে বা টিমে কয়েকজন থাকলে টাকার প্ল্যানে যান। ডলার কার্ড না থাকলে দেশের কোম্পানির প্যাকেজ বা রিসেলার।
ধাপে ধাপে, MX রেকর্ড বসানো
MX রেকর্ড হলো ডোমেইনের একটা লাইন, যেটা দুনিয়ার সব ইমেইল সার্ভারকে বলে দেয়, "@rakibfashion.com-এর মেইল এই ঠিকানায় পাঠাও।" ওয়েবসাইট কোথায় খুলবে, সেটা বলে আরেক ধরনের রেকর্ড, A আর CNAME। এই পার্থক্যটা মনে রাখলেই সবচেয়ে বড় ভুলটা আর হবে না। নিচে Zoho-র উদাহরণে ধাপগুলো দিলাম, Google বা অন্য সার্ভিসেও কাজটা একই, শুধু রেকর্ডের লেখা আলাদা।
- ইমেইল সার্ভিসে সাইন আপ করুন নিজের ডোমেইন দিয়ে। অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টটা খুলবেন নিজের নামে, নিজের ফোন নম্বরে, আর রিকভারি ইমেইল দেবেন দোকানের নামের সেই Gmail।
- ডোমেইন ভেরিফাই করুন। সার্ভিস একটা TXT বা CNAME রেকর্ড দেবে। ডোমেইন কোম্পানির DNS সেটিংসে গিয়ে সেটা যোগ করুন। এতে বোঝা যায় ডোমেইনটা আপনার।
- মেইলবক্স বানান, যেমন info@ আর orders@।
- পুরনো MX রেকর্ড মুছুন। ডোমেইন কোম্পানি অনেক সময় নিজের একটা MX আগে থেকে বসিয়ে রাখে। Zoho আর Google দুজনেই তাদের সাহায্যের পেজে লিখেছে, পুরনো সব MX রেকর্ড সরাতে হবে, না হলে মেইল ঠিকমতো আসে না।
- নতুন MX বসান। Zoho-র সাহায্যের পেজে .com ডেটা সেন্টারের জন্য তিনটা রেকর্ড লেখা, mx.zoho.com (priority 10), mx2.zoho.com (20) আর mx3.zoho.com (50), Host-এর ঘরে @ বা খালি। Google লিখেছে একটাই, smtp.google.com, priority 1। নিজের অ্যাডমিন প্যানেলে যে মান দেখায়, সেটাই বসাবেন।
- SPF রেকর্ড যোগ করুন। এটা একটা TXT রেকর্ড, যেটা বলে কোন সার্ভার আপনার নামে মেইল পাঠাতে পারে। Zoho-র পেজে লেখা মানটা হলো v=spf1 include:zohomail.com -all। ডোমেইনে SPF রেকর্ড একটাই থাকবে, দুটো থাকলে Zoho-র পেজের ভাষায় সেটা ভুল, আর মেইল স্প্যামে যেতে পারে।

এখানেই দোকানের মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়টা আসে, "MX বদলালে আমার ওয়েবসাইট বন্ধ হবে না তো?" হবে না, যদি A আর CNAME রেকর্ডে হাত না দেন। WinningSeller-এ নিজের ডোমেইন জোড়ার সময় যে CNAME বা A রেকর্ড বসিয়েছিলেন, দোকান চলে সেটা দিয়েই। MX রেকর্ড সেটা ছোঁয় না, তাই ইমেইল বসাতে গিয়ে ওই রেকর্ড মুছবেন না বা বদলাবেন না। আর WinningSeller কী করে না, সেটাও বলি। WinningSeller মেইলবক্স দেয় না। ইমেইল আসবে আপনার বেছে নেওয়া ইমেইল সার্ভিসে, দোকান চলবে WinningSeller-এ, আর দুটো একই ডোমেইনে পাশাপাশি থাকবে। নিজের ডোমেইন ছাড়া দোকানে আর কী কী নিজে সাজানো যায়, তার লিস্ট আছে ফিচারের পেজে।
DNS বদলানোর কাজটা রাতে করুন। Zoho-র পেজে লেখা DNS বদলাতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে, Google লিখেছে নতুন MX চিনতে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত। এই সময়টায় কিছু মেইল পুরনো জায়গায়, কিছু নতুন জায়গায় যেতে পারে। রাতে বদলালে সকালের মধ্যে বেশিরভাগ ঠিক হয়ে যায়, আর দিনের অর্ডারের মেইল হারানোর ভয় কমে।
শেষ ধাপটা কেউ বাদ দেবেন না। নতুন ইমেইল থেকে একটা মেইল পাঠান নিজের একটা Gmail-এ আর একটা Yahoo বা Outlook ঠিকানায়। তারপর দুই জায়গাতেই ইনবক্স আর স্প্যাম ফোল্ডার দুটোই দেখুন। স্প্যামে গেলে অনেক সময় কারণ SPF না থাকা বা দুটো SPF থাকা। ইমেইল সার্ভিস DKIM নামে আরেকটা TXT রেকর্ড দিলে সেটাও বসিয়ে দিন, এটা মেইলের গায়ে একটা সইয়ের মতো কাজ করে। উল্টো দিক থেকেও একটা মেইল পাঠিয়ে দেখুন নতুন মেইলবক্সে আসে কি না।

এক বছরে কত টাকা যায় (উদাহরণ)
দুজনের একটা দোকানের হিসাব দেখি। ধরুন rakibfashion.com-এ দুটো মেইলবক্স লাগবে, মালিকের info@ আর অর্ডার দেখার জন্য orders@। ডলারের দাম ১ ডলার = ১২২ টাকা ধরলাম, কার্ডের রেট আর ব্যাংকের চার্জে কিছুটা বেশি পড়বে। দামগুলো ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবরের, ওপরে বলা পেজগুলো থেকে।
| রাস্তা | হিসাব | এক বছরে |
|---|---|---|
| Zoho Mail Free | দুই ইউজার, ফ্রি | ০ টাকা |
| Zoho Mail Lite (৫ GB) | ২ × ১ ডলার × ১২ মাস = ২৪ ডলার | প্রায় ২,৯২৮ টাকা |
| Google Workspace Business Starter | ২ × ৭ ডলার × ১২ মাস = ১৬৮ ডলার | প্রায় ২০,৪৯৬ টাকা |
| দেশের কোম্পানির Google Workspace (৭৫০ টাকা থেকে) | ২ × ৭৫০ × ১২ | ১৮,০০০ টাকা থেকে |
এর সাথে ডোমেইনের নিজের বছরের রিনিউ খরচ আলাদা, সেটা ইমেইল যেখানেই নিন, দিতেই হবে। দেখুন, ফ্রি থেকে Google-এ যেতে বছরে প্রায় বিশ হাজার টাকার পার্থক্য। দুজনের দোকানের জন্য এই টাকা সাধারণত অ্যাডে বা স্টকে বেশি কাজে লাগে। Google Workspace তখনই নিন, যখন টিম বড় হয়েছে, Drive-এ সবার ফাইল এক জায়গায় রাখতে চান, বা Gmail ছাড়া অন্য কিছুতে অভ্যস্ত হতে পারছেন না। মাঝের রাস্তা Zoho Mail Lite, বছরে তিন হাজার টাকার মতো, যদি ফ্রি প্ল্যানের কোনো শর্তে আটকে যান।

একজনের ইমেইল, টিমের ইমেইল আর ফরোয়ার্ড
একা দোকান চালালে info@ একটাই যথেষ্ট। সাপ্লায়ার, কোম্পানি আর কাস্টমার সবাই এখানেই লিখবেন। আলাদা আলাদা মেইলবক্স খুললে প্রতিটার পাসওয়ার্ড আর অ্যাপ সামলাতে হয়, আর একটা না একটা অবহেলায় পড়ে থাকে। অনেক সার্ভিসে এক মেইলবক্সে কয়েকটা নাম জোড়া যায়, যাকে alias বলে, যেমন orders@ আর support@ দুটোর মেইলই info@-তে আসবে। আপনার প্ল্যানে এটা আছে কি না, সার্ভিসের পেজে মিলিয়ে নিন।
টিম হলে নিয়মটা বদলায়। প্রত্যেক মানুষের জন্য তাঁর নিজের মেইলবক্স, যেমন karim@, আর কাজের জন্য কাজের ঠিকানা, যেমন orders@, যেটা দরকার হলে দুজন মিলে দেখেন। মানুষ বদলালে কাজের ঠিকানা বদলায় না। মডারেটর চলে গেলে orders@-এর পাসওয়ার্ড বদলে নতুনজনকে দিন, কাস্টমার আর কোম্পানিকে নতুন ঠিকানা জানাতে হয় না।
ফরোয়ার্ড নিয়ে একটা সাবধানতা। নতুন ইমেইলের সব মেইল ব্যক্তিগত Gmail-এ ফরোয়ার্ড করে দেওয়াটা সহজ মনে হয়, কিন্তু তাতে দুটো জায়গায় একই মেইল, আর উত্তর দিতে গেলে Gmail থেকে চলে যায়, দোকানের ঠিকানা থেকে না। কাস্টমার তখন দুই ঠিকানা থেকে উত্তর পান আর বিভ্রান্ত হন। ফরোয়ার্ড রাখলে শুধু নোটিফিকেশনের জন্য রাখুন, উত্তর দিন দোকানের ঠিকানা থেকেই।
ইমেইল হাতছাড়া হলে কী হারান
সবচেয়ে কষ্টের ঘটনাটা প্রায় সব সময় একই রকম। প্রথম দিকে কোনো ভাই, ভাতিজা বা ডেভেলপার ইমেইলটা খুলে দিয়েছিলেন, নিজের ফোনে, নিজের নম্বরে। দুই বছর পরে তিনি আর নেই, বা সম্পর্কটা আগের মতো নেই। এখন ইমেইলের পাসওয়ার্ড বদলাতে গেলে কোড যায় তাঁর ফোনে।
এই ইমেইলটা হারালে আসলে কী হারান, ভেবে দেখুন। ডোমেইনের রিনিউ আর ট্রান্সফারের নোটিশ, ফেসবুক বিজনেসের পাসওয়ার্ড রিসেট, পেমেন্ট গেটওয়ের সেটলমেন্টের মেইল, কুরিয়ার প্যানেলের লগইন, আর পুরনো সব সাপ্লায়ারের সাথে কথাবার্তা। পেজ হ্যাক হলে ফেরত আনার সময়ও প্রথমে এই ইমেইলের দরকার পড়ে, সেটা ফেসবুক পেজ হ্যাক হলে কী করবেন, সেই লেখায় দেখবেন।
এই লেখা ইমেইল খোলা আর সাজানো নিয়ে। ইমেইল দিয়ে অফার পাঠানো, মানে ইমেইল মার্কেটিং, এখানে নেই, কারণ তার নিয়ম আর ঝুঁকি আলাদা। আর কোনো সার্ভিসের ফ্রি প্ল্যানের শর্ত হঠাৎ বদলাতে পারে, তাই বছরে একবার সার্ভিসের দামের পেজটা খুলে দেখে নিন আপনার প্ল্যান এখনো আগের মতো আছে কি না।
আজই করে ফেলুন
এই কাজগুলো আজ এক ঘণ্টায় হয়ে যায়।
- দোকানের সব অ্যাকাউন্ট কোন ইমেইলে খোলা, একটা কাগজে লিখুন। ডোমেইন, ফেসবুক বিজনেস, কুরিয়ার, bKash মার্চেন্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে।
- প্রতিটা ইমেইলের রিকভারি ফোন নম্বর আপনার নিজের কি না দেখুন। কারো অন্যের হলে আজই বদলান।
- ডোমেইন কোম্পানির DNS সেটিংস খুলুন, কোন কোন রেকর্ড আছে তার একটা স্ক্রিনশট রাখুন। কিছু বদলানোর আগে এই ছবিটাই আপনার ফেরার রাস্তা।
- Zoho Mail-এ ফ্রি প্ল্যানে নিজের ডোমেইন দিয়ে সাইন আপ করে ডোমেইন ভেরিফাই করুন আর info@ মেইলবক্স বানান।
- রাতে MX আর SPF রেকর্ড বসান, পুরনো MX মুছে দিন।
- পরদিন সকালে Gmail আর Yahoo-তে টেস্ট মেইল পাঠিয়ে ইনবক্স আর স্প্যাম দুটোই দেখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রফেশনাল ইমেইল আইডি কী?
যে ইমেইলের শেষে Gmail বা Yahoo না, আপনার নিজের ডোমেইনের নাম থাকে, যেমন info@rakibfashion.com। এটা দেখলেই বোঝা যায় ইমেইলটা একটা দোকানের, কোনো ব্যক্তির না। এর জন্য একটা ডোমেইন আর একটা ইমেইল সার্ভিস লাগে।
ফ্রিতে কি নিজের ডোমেইনে ইমেইল খোলা যায়?
যায়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Zoho Mail-এর দামের পেজে Mail Free প্ল্যানে ৫ জন পর্যন্ত ইউজার, প্রত্যেকের ৫ GB আর একটা ডোমেইনের কথা লেখা আছে। তবে এতে IMAP আর POP নেই, মানে Gmail বা Outlook অ্যাপে জুড়তে পারবেন না, Zoho-র নিজের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে পড়তে হবে।
Google Workspace-এর দাম কত?
২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Google Workspace-এর দামের পেজে Business Starter বছরের প্ল্যানে প্রতি ইউজার মাসে ৭ ডলার দেখিয়েছে, প্রতি ইউজারে ৩০ GB জায়গা। দেশে Alpha Net-এর মতো রিসেলারের পেজে টাকায় মাসে ৭৫০ টাকা থেকে শুরু লেখা আছে। কেনার দিন আবার মিলিয়ে নিন।
MX রেকর্ড বদলালে কি ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায়?
না। MX রেকর্ড শুধু ইমেইল কোথায় যাবে সেটা বলে। ওয়েবসাইট চলে A আর CNAME রেকর্ডে, সেগুলোতে হাত না দিলে দোকান যেমন চলছিল তেমনই চলবে। শুধু পুরনো MX রেকর্ডগুলো মুছে নতুনগুলো বসাবেন।
নতুন ইমেইল চালু হতে কত সময় লাগে?
Zoho-র সাহায্যের পেজে লেখা DNS বদলাতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে, আর Google লিখেছে নতুন MX চিনতে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে। অনেক সময় এক-দুই ঘণ্টাতেই কাজ করে, কিন্তু পরের দিন পর্যন্ত পুরনো ইমেইলে চোখ রাখুন।
দোকানের ইমেইল কি স্টাফের নামে খোলা যায়?
স্টাফের জন্য আলাদা মেইলবক্স খুলতে পারেন, কিন্তু মূল অ্যাকাউন্ট, মানে অ্যাডমিন, সবসময় মালিকের নিজের নামে আর নিজের ফোন নম্বরে রাখুন। স্টাফ চলে গেলে তাঁর পাসওয়ার্ড বদলে দেওয়া যায়, কিন্তু অ্যাডমিন তাঁর হাতে থাকলে পুরো ডোমেইনের ইমেইলই তাঁর হাতে থাকে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


