WinningSeller
অর্ডার ও কুরিয়ার১৬ মিনিটে পড়া যায়

খাট-চেয়ার বা ২০ কেজির কার্টন? কুরিয়ারে ফার্নিচার পাঠানোর আসল খরচ

খাট, চেয়ার, র‍্যাক বা ২০ কেজির কার্টন কোন পথে পাঠাবেন, কেজি বাড়লে কুরিয়ার চার্জ কত বাড়ে, কোন কুরিয়ার কত কেজি পর্যন্ত নেয়, আর প্যাকিং ও অগ্রিমের নিয়ম, তিনটা প্রোডাক্টের টাকার হিসাবসহ।

খাট-চেয়ার বা ২০ কেজির কার্টন? কুরিয়ারে ফার্নিচার পাঠানোর আসল খরচ
এই লেখায় যা আছে
  1. কুরিয়ার ওজন ধরে কীভাবে চার্জ করে, কেজি বাড়লে কত বাড়ে
  2. বড় কিন্তু হালকা প্যাকেট, ভলিউমেট্রিক ওজন কী
  3. কোন কুরিয়ার কত কেজি পর্যন্ত নেয়
  4. কুরিয়ারে ফার্নিচার পাঠানোর খরচ কেমন, আর কোন পথে পাঠাবেন
  5. তিনটা প্রোডাক্টের খরচ পাশাপাশি (উদাহরণ)
    1. ফোল্ডিং টেবিলের হিসাব, শুরু থেকে শেষ
    2. চালের বস্তা আর কাঠের চেয়ার
  6. ভারী মালের প্যাকিং আর খুলে পাঠানো
  7. বড় অর্ডারে অগ্রিম কত নেবেন
  8. কখন ভারী মাল অনলাইনে পাঠানোর ঝামেলায় যাবেন না
  9. আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ

কুরিয়ারে ফার্নিচার পাঠানোর খরচ ঠিক হয় দুটো জিনিসে, প্যাক করার পরে ওজন কত আর জিনিসটা বাইকে ওঠে কি না। খুলে পাঠানো যায় এমন ছোট ফার্নিচার, ধরুন ৬ কেজির একটা ফোল্ডিং টেবিল, সাধারণ ই-কমার্স কুরিয়ারেই যায়। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে রংপুরে ৬ কেজির হোম ডেলিভারি দেখিয়েছে ২৩৫ টাকা, VAT আলাদা। খাট, আলমারি বা কাঠের বড় চেয়ার বাইকে ওঠে না। সেগুলোর জন্য কন্ডিশন বুকিং, কাভার্ড ভ্যান বা ট্রেনের পার্সেল, এই তিনটা পথের একটা বেছে নিতে হয়। আর ভারী অর্ডারে ডেলিভারি চার্জটা আগে নিয়ে নিন, কারণ ফেরত এলে লোকসান হালকা পার্সেলের কয়েক গুণ।

ধরুন রাত দশটায় ইনবক্সে একজন লিখলেন, "ভাই, এই বুকশেলফটা রংপুরে পাঠাতে পারবেন? ডেলিভারি চার্জ কত?" আপনার পেজে লেখা "ঢাকার বাইরে ১৩০ টাকা", তাই আপনিও সেটাই লিখে দিলেন। পরের সপ্তাহে কুরিয়ারের বিল এসে দেখলেন, ওই একটা পার্সেলেই চার্জ কেটেছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। অর্ডার পেয়ে যে খুশিটা হয়েছিল, সেটা তখন কপালের ভাঁজে বদলে যায়। অনেক সেলারের প্রথম ভারী অর্ডারটা এভাবেই লাভ খেয়ে যায়। নিচে আগে চার্জের হিসাবটা বুঝে নিই, তারপর পথ, প্যাকিং আর অগ্রিম।

কুরিয়ার ওজন ধরে কীভাবে চার্জ করে, কেজি বাড়লে কত বাড়ে

প্রায় সব ই-কমার্স কুরিয়ার একই ছাঁচে হিসাব করে। প্রথম ১ বা ২ কেজির একটা বাঁধা রেট থাকে, তার পরে প্রতি কেজিতে বাড়তি টাকা যোগ হয়। কাপড়ের পার্সেল এক কেজির নিচে থাকে বলে বেশিরভাগ সেলার শুধু প্রথম রেটটাই মুখস্থ রাখেন, আর ভারী মালে ওই সংখ্যাটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।

২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে রংপুরে হোম ডেলিভারির চার্জ এমন দেখিয়েছে। ১ কেজি ১৩৫ টাকা, ৩ কেজি ১৭৫ টাকা, ৬ কেজি ২৩৫ টাকা, ১০ কেজি ২৯৫ টাকা, আর ২০ কেজি ৪৭৫ টাকা। একই দিনে Pathao-র কুরিয়ার পেজের রেট টেবিলে ঢাকা থেকে অন্য জেলায় ১ থেকে ২ কেজি ১৭০ টাকা, আর ২ কেজির পরে প্রতি কেজিতে বাড়তি ২৫ টাকা লেখা আছে। Paperfly-র ওয়েবসাইটে ঢাকার বাইরে প্রথম ১ কেজি ১৩০ টাকা, আর প্রতি বাড়তি কেজিতে ২০ টাকা। Steadfast আর Pathao-র রেটে VAT ধরা নেই, Paperfly লিখেছে তাদের চার্জে VAT আর ট্যাক্স ধরা আছে।

এর ওপর COD-র টাকায় ১% কাটে। Steadfast-এর ক্যালকুলেটরে COD-র অঙ্ক বসালে দেখা যায়, এই ১% কাটে ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে বাকি টাকার ওপর। মাস শেষে প্যানেলের হিসাব মেলাতে গেলে এই ছোট কথাটাই কাজে লাগে।

এখানে একটা কথা প্রায় সবাই প্রথম মাসে ভুল করেন। ওজন মানে প্যাক করার পরের ওজন, শুধু জিনিসটার না। Steadfast-এর ক্যালকুলেটরেই লেখা আছে প্যাকেজিং ধরে ওজন দিতে। একটা ফোল্ডিং টেবিলের নিজের ওজন ৫ কেজি হলে কার্টন, কর্নার গার্ড আর স্ট্রেচ ফিল্ম মিলে সেটা সহজেই ৬ কেজির ওপরে চলে যায়। আন্দাজে ৫ লিখলে হাবে আবার ওজন হয়, বিল আসে আসল ওজনে, আর মাস শেষে আপনার খাতার সাথে কুরিয়ারের হিসাব মেলে না।

তাই একটা ঝুলানো ডিজিটাল স্কেল বা প্ল্যাটফর্ম স্কেল কিনে রাখুন। প্যাক শেষ হলে মাপুন, তারপর মার্কার দিয়ে কার্টনের গায়ে আর লেবেলে ওজনটা লিখে দিন। প্রথম পার্সেলের ওজনটা প্রোডাক্টের নোটে রাখলে প্যাকিং না বদলানো পর্যন্ত আর মাপতে হয় না। আর Steadfast-এর রেট পেজেই লেখা আছে, আলাদা রেটে চুক্তি থাকলে বিল হয় সেই রেটে, তাই নিজের প্যানেলের রেট কার্ডটাও দেখে নিন।

একজন তরুণ সেলার গুদামের মেঝেতে রাখা প্ল্যাটফর্ম স্কেলে একটা টেপ মারা বড় কার্টন মাপছেন, স্কেলের পর্দায় ৬.২ কেজি দেখাচ্ছে, তিনি মার্কার দিয়ে কার্টনের গায়ে ওজন লিখছেন
আন্দাজে না, প্যাক শেষ করে মেপে ওজন লিখুন

WinningSeller-এ কুরিয়ারের সেটিংসে একটা ডিফল্ট ওজন রাখা থাকে, আর একটা অর্ডার পাঠানোর সময় "ওজন (কেজি)" ঘরে সেই অর্ডারের আসল ওজনটা বসিয়ে দেওয়া যায়, ৩০ কেজি পর্যন্ত। ভারী অর্ডারগুলো তাই একসাথে বাল্কে না পাঠিয়ে একটা একটা করে পাঠান, যাতে প্রতিটায় নিজের ওজন যায়। Pathao বা Carrybee-র নিজের ওজনের সীমা ছাড়ালে পাঠানোর আগেই এরর দেখায়, আর ওজন কমাতে বা অন্য কুরিয়ার বেছে নিতে বলে। তবে কোন কুরিয়ার কত বড় কার্টন নেবে, সেটা সফটওয়্যার জানে না, ওটা আপনাকেই কুরিয়ারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

বড় কিন্তু হালকা প্যাকেট, ভলিউমেট্রিক ওজন কী

কিছু জিনিস ভারী না, কিন্তু জায়গা নেয় অনেক। বাচ্চাদের প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিলের সেট, ফোমের ম্যাট্রেস, বড় কুশন বা বেতের ঝুড়ির কথা ভাবুন। স্কেলে ৪ কেজি, অথচ কার্টনটা একটা বাইকের পুরো বক্স খেয়ে ফেলে। এমন প্যাকেটের জন্যই ভলিউমেট্রিক ওজন বলে একটা হিসাব আছে, মানে সাইজ থেকে বের করা ওজন।

বিদেশি কুরিয়ারগুলো এটা খোলাখুলি লেখে। DHL Express-এর ওয়েবসাইটের ভলিউমেট্রিক ওজনের টুলে লেখা আছে, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতা সেন্টিমিটারে গুণ করে ৫,০০০ দিয়ে ভাগ করতে হয়। তারপর আসল ওজন আর এই ওজনের মধ্যে যেটা বেশি, চার্জ হয় সেটা ধরে। ৬০ × ৪০ × ৪০ সেন্টিমিটারের একটা কার্টন হলে ৯৬,০০০ ÷ ৫,০০০ = ১৯.২ কেজি। ভেতরে মাল ৪ কেজি হলেও এই হিসাবে বিল হতো প্রায় ২০ কেজির।

দেশের ই-কমার্স কুরিয়ারের বেলায় ছবিটা এখনো ঝাপসা। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast, Pathao আর Paperfly-র রেট পেজের কোনোটায় এমন কোনো সূত্র লেখা নেই। তবে Steadfast-এর রেট পেজে লেখা আছে পার্সেলের সাইজে ডেলিভারি চার্জ বদলাতে পারে, আর তাদের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে লেখা দাম ঠিক হয় পার্সেলের সাইজ, ওজন আর গন্তব্য ধরে। মানে সাইজের জন্য বাড়তি চার্জ হতেই পারে, শুধু কোন হিসাবে, সেটা লেখা নেই।

সাইজ বড় হলে আসল ঝামেলাটা অনেক সময় টাকায় না, পিকআপে হয়। রাইডার এসে কার্টন দেখে বলেন, "ভাই, এটা বাইকে যাবে না।" পার্সেলটা পড়ে থাকে, পিকআপ পিছিয়ে যায়, আর কাস্টমার ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেন মাল কোথায়। তাই নতুন কোনো বড় প্রোডাক্ট শুরুর আগে কার্টনের তিন দিকের মাপ আর ওজন লিখে মার্চেন্ট সাপোর্ট বা আপনার KAM-কে জিজ্ঞেস করুন। KAM মানে কুরিয়ারের যে লোকটা আপনার অ্যাকাউন্ট দেখেন। প্রশ্নটা এভাবে করুন, "এই সাইজের কার্টন কি বাইকে নেবেন, চার্জ কি ওজনে হবে না সাইজে?" উত্তরটা মেসেজে বা ইমেইলে নিন, যাতে পরে হাবে তর্ক হলে দেখাতে পারেন।

একটা কার্টনের নকশা, তিন দিকে মাপ লেখা ৬০, ৪০ আর ৪০ সেন্টিমিটার, পাশে হিসাব ৯৬,০০০ ভাগ ৫,০০০ সমান ১৯.২ কেজি, আর স্কেলের ৪ কেজি আর সাইজের হিসাবের ১৯.২ কেজির দুটো দাগ পাশাপাশি
স্কেলে ৪ কেজি, সাইজের হিসাবে ১৯ কেজির বেশি

কার্টন ছোট করাই এখানে সবচেয়ে সস্তা সমাধান। ফোমের ম্যাট্রেস বা কুশন বাতাস বের করে রোল করে বাঁধুন, প্লাস্টিকের চেয়ার একটার ভেতরে আরেকটা বসান, আর মালের মাপে কার্টন কেটে নিন।

কোন কুরিয়ার কত কেজি পর্যন্ত নেয়

এই প্রশ্নের উত্তর সব কুরিয়ার খোলাখুলি লেখে না, আর যারা লেখে, তাদের সংখ্যাও এক না। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Paperfly-র ওয়েবসাইটে চার্জের টেবিলের নিচেই লেখা আছে, তারা ৮ কেজি পর্যন্ত পার্সেল নেয়। Pathao-র ব্লগে ১১ মে ২০২৬-এর Pathao Parcel-এর প্যাকেজিং গাইডলাইনে লেখা আছে সব পার্সেল ৮ কেজির নিচে হতে হবে, আর সবচেয়ে বড় সাইজটা ১২ × ১১ × ২১ ইঞ্চি। কিন্তু Pathao-র কুরিয়ার পেজের রেট টেবিলে কোনো উপরের সীমা লেখা নেই, শুধু ২ কেজির পরে প্রতি কেজির রেট আছে। তাই মার্চেন্ট পার্সেলে কত পর্যন্ত নেবে, সেটা Pathao-র মার্চেন্ট সাপোর্টে জিজ্ঞেস করে নিন।

Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরের ওজনের ঘরে ৬০০ কেজি পর্যন্ত বসানো যায়। এটা দেখে খুশি হওয়ার আগে একটা কথা ভাবুন। ক্যালকুলেটর হিসাব দেয়, কিন্তু আপনার গলির রাইডার বাইকে করেই আসবেন। ২০ কেজির চালের বস্তা বা ১৫ কেজির কার্টন পাঠানোর আগে ফোনে জেনে নিন পিকআপে বাইক আসবে না ভ্যান, আর ডেলিভারির দিন কাস্টমারের বাসা পর্যন্ত মাল কীভাবে যাবে। RedX, Carrybee আর eCourier-এর বেলায়ও একই কথা, তাদের প্যানেল বা KAM থেকে লিখিত উত্তর নিন।

ছবিটা খুব চেনা। প্রথম কয়েকটা ভারী পার্সেল চুপচাপ চলে যায়, তারপর একদিন হাব থেকে বলে এত ভারী মাল নেওয়া যাবে না। ততদিনে অ্যাড চলছে আর দশটা অর্ডার জমে আছে। নতুন কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি এক কথায় বলি, অ্যাড চালানোর আগেই দুটো কুরিয়ারের কাছ থেকে সীমাটা জেনে রাখুন। কোন কুরিয়ার কোন এলাকায় ভালো, সেটা কোন কুরিয়ার ভালো, চার্জসহ তুলনার লেখায় বিস্তারিত আছে।

কুরিয়ারে ফার্নিচার পাঠানোর খরচ কেমন, আর কোন পথে পাঠাবেন

৮ কেজির ওপরের বা বাইকে না ওঠা ফার্নিচারের জন্য চারটা পথ আছে। কোনটা নেবেন, সেটা ঠিক হয় তিনটা প্রশ্নে। মাল কত বড়, কয় পিস, আর কাস্টমার নিজে গিয়ে মাল তুলতে রাজি কি না।

খুলে পাঠানো যায় এমন ছোট জিনিস, যেমন ফোল্ডিং টেবিল, জুতার র‍্যাক বা ছোট বুকশেলফ, প্যাক করার পরে সীমার মধ্যে থাকলে সাধারণ ই-কমার্স কুরিয়ারেই পাঠান। এতে দরজায় ডেলিভারি আর COD দুটোই মেলে, আর ফেসবুকের কাস্টমার ঠিক এটাই আশা করেন।

কাঠের চেয়ার, শোকেস বা কয়েকটা কার্টন হলে অনেকে কন্ডিশন বুকিং করেন। সুন্দরবন বা SA Paribahan-এর মতো বুকিং কুরিয়ারের শাখায় মাল নিয়ে যান, শাখা ওজন আর সাইজ দেখে ভাড়া বলে, আর আপনি বলে দেন কাস্টমারের কাছ থেকে কত টাকা তুলবে। কাস্টমারকে নিজের এলাকার শাখায় গিয়ে টাকা দিয়ে মাল তুলতে হয়। শাখায় কী জিজ্ঞেস করবেন আর রিসিট কেন রাখবেন, সেটা কুরিয়ার সার্ভিস লিস্টের লেখায় কন্ডিশন বুকিংয়ের অংশে আছে। বড় মাল নেবে কি না আর ভাড়া কত, সেটা শাখাভেদে আলাদা, তাই মাল নিয়ে যাওয়ার আগে ফোন দিন।

খাট, আলমারি, সোফার সেট, বা এক ঠিকানায় অনেকগুলো পিস গেলে কাভার্ড ভ্যান বা পিকআপ ভাড়া করাই সহজ। এখানে ভাড়া হয় ট্রিপ ধরে, কেজি ধরে না, তাই এক পিস পাঠালে খরচ অনেক পড়ে আর পুরো ভ্যান ভরলে প্রতি পিসে কম পড়ে। দুই মাথায় ওঠানো-নামানোর লেবার আলাদা লাগে, আর ভ্যান মাল নামায় রাস্তায়, ফ্ল্যাটের ভেতরে না। ভাড়া ঠিক করার সময় লেবার ধরা কি না আর কয় তলা পর্যন্ত তুলবে, এই দুটো কথা মুখে না রেখে মেসেজে লিখে নিন। ডেলিভারির দিন এই দুটো নিয়েই সবচেয়ে বেশি তর্ক হয়।

এক শহর থেকে আরেক শহরে পাইকারি বা ভারী মাল পাঠাতে অনেকে ট্রেনের পার্সেল বেছে নেন। স্টেশনের পার্সেল অফিসে মাল বুক করা যায়, আর কাস্টমার নিজের স্টেশনে গিয়ে তোলেন। ভাড়ার কোনো অঙ্ক এখানে দিচ্ছি না, কারণ ২০২৬ সালের অক্টোবরে railway.gov.bd-এ পার্সেলের ভাড়ার কোনো লিস্ট পাওয়া যায়নি। স্টেশনের পার্সেল অফিসে ওজন করিয়ে ভাড়া আর কবে পৌঁছাবে, দুটোই জেনে নিন।

রাস্তার পাশে একটা কাভার্ড ভ্যানে দুজন পুরুষ শ্রমিক মিলে কম্বলে মোড়ানো একটা কাঠের খাটের ফ্রেম তুলছেন, পাশে কার্টনে প্যাক করা আরও কয়েকটা পিস রাখা
খাট-আলমারির মতো মাল ভ্যানে যায়, ভাড়া হয় ট্রিপ ধরে

যে পথেই পাঠান, মাল কোথায় নামবে আর ওপরে কে তুলবে, সেটা আগে কাস্টমারকে বলে নিন। ডেলিভারির দিন দেখা যায় বাসা পাঁচতলায়, লিফট নেই, আর ভ্যানের লোক রাস্তায় খাট নামিয়ে চলে যেতে চান। কাস্টমারের সেই রাগ গিয়ে পড়ে আপনার পেজের রিভিউতে। অর্ডার কনফার্মের ফোনেই জিজ্ঞেস করুন, "আপনার বাসা কয়তলায়, লিফট আছে? মাল নিচ থেকে তোলার লোক কি আপনি রাখবেন, নাকি আমরা ব্যবস্থা করব, তাহলে খরচ এত।"

তিনটা প্রোডাক্টের খরচ পাশাপাশি (উদাহরণ)

এবার তিনটা জিনিস ধরে পুরো হিসাবটা দেখি। নিচের প্রোডাক্টের দাম, কেনার দাম আর প্যাকিং খরচ একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। কুরিয়ার চার্জগুলো ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর কুরিয়ারগুলোর নিজের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া, ঢাকা থেকে রংপুরে হোম ডেলিভারি। নিজের রুট আর ওজন বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

প্রোডাক্ট, প্যাক করার পরে ওজন Steadfast (VAT আলাদা) Pathao (VAT আলাদা) Paperfly (VAT সহ)
ফোল্ডিং টেবিল, ৬ কেজি ২৩৫ টাকা ২৭০ টাকা ২৩০ টাকা
চিনিগুঁড়া চালের বস্তা, ২০ কেজি ৪৭৫ টাকা টেবিলের হিসাবে ৬২০ টাকা, নেবে কি না আগে জিজ্ঞেস করুন নেয় না, সীমা ৮ কেজি
কাঠের চেয়ার, ৯ কেজি, কিন্তু বাইকে ওঠে না সাইজের জন্য আগে জিজ্ঞেস করুন আগে জিজ্ঞেস করুন নেয় না

Pathao-র সংখ্যা তাদের রেট টেবিল থেকে হিসাব করা, ৬ কেজিতে ১৭০ + ৪ × ২৫ = ২৭০ টাকা, আর ২০ কেজিতে ১৭০ + ১৮ × ২৫ = ৬২০ টাকা। Paperfly-তে ৬ কেজি মানে ১৩০ + ৫ × ২০ = ২৩০ টাকা।

ফোল্ডিং টেবিলের হিসাব, শুরু থেকে শেষ

ধরুন ফোল্ডিং টেবিলটা বেচেন ২,৫০০ টাকায়। কিনতে পড়ে ১,৫০০ টাকা, আর কার্টন, কর্নার গার্ড আর স্ট্রেচ ফিল্মে যায় ১৫০ টাকা। পেজে লেখা ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ ১৩০ টাকা, তাই কাস্টমার দেন মোট ২,৬৩০ টাকা। Steadfast-এ পাঠালে কাটবে ২৩৫ টাকা ডেলিভারি চার্জ, আর ক্যালকুলেটর অনুযায়ী COD চার্জ ২৪ টাকা। হাতে থাকে ২,৬৩০ − ১,৫০০ − ১৫০ − ২৩৫ − ২৪ = ৭২১ টাকা, এর থেকে VAT আরও একটু কাটবে।

এবার ডেলিভারি চার্জটা ঠিকমতো ২৪০ টাকা লিখলে কাস্টমার দেন ২,৭৪০ টাকা, আর COD চার্জ হয় ২৫ টাকা। হাতে থাকে ২,৭৪০ − ১,৫০০ − ১৫০ − ২৩৫ − ২৫ = ৮৩০ টাকা। পার্থক্য ১০৯ টাকা, প্রতিটা অর্ডারে। মাসে ৩০টা টেবিল গেলে ৩,২৭০ টাকা, শুধু একটা ভুল সংখ্যার জন্য।

ফেরত এলে ছবিটা আরও খারাপ। Steadfast-এর টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে লেখা আছে, হাতে দেওয়া প্রতিটা পার্সেলের ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে, ডেলিভারি হোক বা বাতিল। তাহলে টেবিলটা দরজা থেকে ফেরত এলে ২৩৫ টাকা গেল। সাথে কর্নার গার্ড আর ফিল্মের বেশিরভাগ আর কাজে লাগে না, ধরুন আরও ৮০ টাকা। মোট প্রায় ৩১৫ টাকা, তার ওপর টেবিলটা দুবার পথ ঘুরে এল, কোথাও দাগ লাগল কি না দেখতে হবে। ফেরতের জন্য আলাদা চার্জ আছে কি না, সেটা নিয়ে Steadfast-এর দুই পেজে দুই রকম কথা লেখা, তাই প্রথম ফেরতের পরে প্যানেলে কী কাটল মিলিয়ে নিন। Pathao-তে পাঠালে হিসাব আরও ভারী, কারণ তাদের পেজে লেখা আছে ঢাকা মেট্রোর বাইরে ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জের ৫০% আলাদা কাটে। ২৭০ টাকার সাথে ১৩৫ টাকা, মোট ৪০৫ টাকা।

চালের বস্তা আর কাঠের চেয়ার

ধরুন ২০ কেজি চিনিগুঁড়া চাল বেচেন ২,৮০০ টাকায়, কিনতে পড়ে ২,৩০০ টাকা, বস্তা আর সেলাইয়ে ৪০ টাকা। মানে কাগজে লাভ ৪৬০ টাকা। কাস্টমারের কাছ থেকে ১৩০ টাকা ডেলিভারি চার্জ নিলেন, অথচ Steadfast কাটল ৪৭৫ টাকা, তাই আপনার পকেট থেকে বাড়তি ৩৪৫ টাকা গেল। কাস্টমার মোট দেন ২,৯৩০ টাকা, তাতে COD চার্জ ২৫ টাকা। তাহলে ৪৬০ − ৩৪৫ − ২৫ = ৯০ টাকা থাকে, তাও VAT কাটার আগে। একটা ফেরতেই কয়েকটা বস্তার লাভ শেষ। এখানে উপায় দুটো, আসল চার্জটা কাস্টমারকে খুলে বলা, অথবা ৫ কেজির ব্যাগে বেচা।

কাঠের চেয়ারের ৯ কেজি ওজন কাগজে বেশি না। কিন্তু চেয়ারটা খোলা যায় না, আর কার্টনটা বাইকের বক্সে ঢোকে না। এই চেয়ার ঢাকার বাইরে যাবে কন্ডিশন বুকিংয়ে। শাখায় ভাড়া জেনে নিন, কাস্টমারকে আগেই বলুন তাঁকে নিজের এলাকার শাখা থেকে চেয়ার তুলতে হবে, আর ভাড়াটা অগ্রিম নিন।

তিনটা কার্ড পাশাপাশি, ৬ কেজির ফোল্ডিং টেবিল, ২০ কেজির চালের বস্তা আর ৯ কেজির কাঠের চেয়ার, প্রতিটার নিচে কুরিয়ারভেদে চার্জ আর কোন পথে পাঠাবেন লেখা
তিনটা জিনিস, তিন রকম পথ। ওজনের সাথে সাইজটাও দেখুন

ভারী মালের প্যাকিং আর খুলে পাঠানো

ভারী মাল পথে ভাঙে মূলত দুই জায়গায়। হাবে যখন একটার ওপর আরেকটা রাখা হয়, আর গাড়ি থেকে নামানোর সময় যখন কোণ মাটিতে পড়ে। তাই ভারী প্যাকিংয়ে আসল কাজ কোণ আর ধার বাঁচানো, সুন্দর দেখানো না। কোন কার্টন কিনবেন, ৩ প্লাই না ৫ প্লাই, সেটা প্যাকেজিংয়ের লেখায় আছে। এখানে শুধু ভারী আর বড় মালের কথা।

যতটা পারেন খুলে পাঠান। টেবিলের পা, র‍্যাকের তাক, চেয়ারের হাতল খোলা গেলে খুলে ফেলুন। খোলা পিসগুলো চ্যাপ্টা করে এক কার্টনে সাজালে আকার কমে, ভাঙার ঝুঁকিও কমে, কারণ লম্বা পা বাইরে থাকে না। স্ক্রু, নাট আর অ্যালেন কি একটা জিপ ব্যাগে ভরে টেপ দিয়ে মূল পিসের গায়ে আটকে দিন, আর ব্যাগের ওপর লিখুন "স্ক্রু, ভেতরে ১২টা"। এই একটা ব্যাগ হারালে কাস্টমারের কাছে পুরো টেবিলটাই অকেজো, আর সেই ফোনটা আসে আপনার কাছে।

কোণগুলোয় কার্ডবোর্ডের কর্নার গার্ড লাগান, পালিশ করা কাঠের মুখে বাবল র‍্যাপ বা পুরনো কম্বল দিন, তারপর পুরোটা স্ট্রেচ ফিল্মে কয়েক পাক পেঁচিয়ে নিন। কার্টনের দুই পাশে বড় করে লিখুন "এই দিক ওপরে" আর "ভারী, সাবধানে নামান"। হাবের লোক সেটা সবসময় মানবেন, এমন না, কিন্তু না লিখলে মানার কোনো সুযোগই থাকে না।

একজন যুবক গুদামের টেবিলে খুলে রাখা একটা কাঠের টেবিলের পা আর মূল অংশ প্যাক করছেন, কোণে কার্ডবোর্ডের কর্নার গার্ড, গায়ে স্ট্রেচ ফিল্ম, আর একটা লেবেল লাগানো জিপ ব্যাগে স্ক্রু টেপ দিয়ে আটকানো
পা খুলে, কোণ ঢেকে, স্ক্রুর ব্যাগ গায়ে আটকে

কার্টনে টেপ দেওয়ার আগে মোবাইলে একটা ছোট ভিডিও করুন। জিনিসটা চারপাশ থেকে দেখান, তারপর প্যাক করুন, শেষে স্কেলের পর্দাটাও দেখান। Steadfast-এর টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে লেখা আছে সব পার্সেলের প্যাকিং CCTV-র সামনে করতে হবে। দোকানে CCTV না থাকলে অন্তত এই ভিডিওটা রাখুন। কাস্টমার "ভাঙা এসেছে" বললে বা কুরিয়ারের কাছে ক্লেইম করতে গেলে আপনার হাতে প্রমাণ থাকে।

বড় অর্ডারে অগ্রিম কত নেবেন

ভারী অর্ডারে অগ্রিম চাওয়াটা অভদ্রতা না, হিসাবের কথা। ওপরের উদাহরণে একটা টেবিল ফেরত এলে ৩১৫ থেকে ৪০৫ টাকা যায়, যেখানে হালকা একটা থ্রি-পিসে ঝুঁকিটা অনেক ছোট।

আমি এখানে সবাইকে একটা সোজা নিয়ম মানতে বলি। কুরিয়ারে যাওয়া ভারী পার্সেলে অন্তত পুরো ডেলিভারি চার্জ আগে নিন। Pathao-তে ঢাকার বাইরে পাঠালে, যেখানে ফেরতে বাড়তি ৫০% কাটে, ডেলিভারি চার্জটা গোল করে একটু বেশি নিন, যাতে ফেরতের খরচও উঠে আসে। কন্ডিশন বুকিং বা ভ্যানে গেলে পুরো ভাড়াটা আগে নিন, কারণ মাল ফেরত এলে যাওয়া-আসা দুইবারের ভাড়াই আপনার। আর অর্ডার দিয়ে বানানো বা কাস্টমারের মাপে কাটা ফার্নিচারে অনেক দোকান অর্ধেক টাকা আগে নেয়, কারণ সেটা আর কাউকে বেচা যায় না।

ফোনে কথাটা এভাবে বলুন। "ভাই, টেবিলটা প্যাক করলে ৬ কেজির বেশি হয়, রংপুরে কুরিয়ার চার্জই ২৩৫ টাকা। তাই ডেলিভারি চার্জ ২৪০ টাকা আগে bKash-এ দিয়ে দিন, বাকি ২,৫০০ টাকা মাল হাতে পেয়ে দেবেন।" সংখ্যা দিয়ে বললে বেশিরভাগ মানুষ বোঝেন, কারণ তিনি দেখছেন টাকাটা আপনি নিজের পকেটে রাখছেন না। যিনি ২৪০ টাকা দিতেও রাজি না, তিনি দরজায় ২,৫০০ টাকা দেবেন, এমন ভরসা কম। ভুয়া স্ক্রিনশট ছাড়া কীভাবে অগ্রিম নেবেন, সেটা bKash পেমেন্ট লিংকে অগ্রিম নেওয়ার লেখায় আছে।

একটা খাতার পাতায় অর্ডারের নোট, পাঁচতলা, লিফট নেই, অগ্রিম ২৪০ টাকা bKash-এ পেয়েছি, বাকি ২,৫০০ টাকা মাল হাতে পেয়ে, পাশে কনফার্মের ফোনে কী বলবেন তার দুটো লাইন
কনফার্মের ফোনেই তলা, লিফট আর অগ্রিমের কথা সেরে নিন

WinningSeller-এ নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করলে অর্ডার ফর্মেই ঠিক করে দিতে পারেন, কাস্টমার পুরো টাকা দেবেন, শুধু ডেলিভারি চার্জ দেবেন, না একটা নির্দিষ্ট অগ্রিম। আর আলাদা কোনো বড় অর্ডারে অর্ডারের পেজ থেকে "পেমেন্ট লিংক কপি করুন" চেপে পুরো বাকি টাকা বা নিজের ঠিক করা অগ্রিমের একটা লিংক বানিয়ে কাস্টমারকে পাঠানো যায়, লিংকটা ৩ দিন কাজ করে। টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যায়। কুরিয়ারে পার্সেল চলে যাওয়ার পরে আর লিংক বানানো যায় না, তাই অগ্রিমের কথা পাঠানোর আগেই সেরে নিন।

বড় অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ আগে নিয়ে নিনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

কখন ভারী মাল অনলাইনে পাঠানোর ঝামেলায় যাবেন না

সব ভারী জিনিস অনলাইনে বেচা লাভের না। দাম কম কিন্তু ওজন বেশি হলে ঢাকার বাইরে কুরিয়ার চার্জই লাভ খেয়ে ফেলে। সাধারণ চাল, বোতলের পানি বা সিমেন্টের মতো জিনিস কাস্টমার পাড়ার দোকানেই পান, তাই সেখানে আপনার দামটা দোকানের চেয়ে বেশি দেখাবে। ওপরের চালের হিসাবেই দেখলেন, ৪৬০ টাকার লাভ ৯০ টাকায় নেমে আসে।

কাচের টপ বা বড় আয়না থাকা ফার্নিচার দূরে পাঠানোও প্রায়ই লোকসানের। কুরিয়ার ভাঙার দায় নেয় না, আর একটা ফেরত মানে দুবার পথ ঘোরা। এমন জিনিস শুরুতে শুধু নিজের শহরে বেচুন, যেখানে নিজের লোক দিয়ে বা পিকআপ ভাড়া করে পৌঁছাতে পারেন। দূরের কাস্টমারকে বলুন, "আপনার এলাকায় আমরা এখনো এটা পাঠাই না, কাচ ছাড়া ফ্রেমটা পাঠাতে পারি।"

আর যেখানে বুকিং কুরিয়ারের শাখা নেই, ভ্যানও যেতে চায় না, সেখানে বড় মালের অর্ডার নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন কাস্টমার কাছের কোন শহর থেকে মাল তুলতে পারবেন। উত্তর না পেলে অর্ডারটা ছেড়ে দিন। আমার অভিজ্ঞতায় একটা খাট তিন জেলা ঘুরে ফেরত আসার চেয়ে একটা অর্ডার হারানো অনেক কম কষ্টের।

এই লেখার চার্জগুলো ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবরের, আর কুরিয়ার রেট মাঝে মাঝেই বদলায়, তাই বড় প্রোডাক্ট শুরুর আগে নিজের রুটে আবার দেখে নিন। ভাঙা মালের ক্লেইমের আইনি দিকটা এই লেখায় নেই, সেটা KAM-এর সাথে লিখিতভাবে মেটান।

আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ

আজ এক ঘণ্টায় এই কাজগুলো সেরে ফেলুন।

  1. আপনার সবচেয়ে ভারী তিনটা প্রোডাক্ট প্যাক করে মাপুন, আর প্রতিটার প্যাক করা ওজন প্রোডাক্টের নোটে লিখে রাখুন।
  2. যে কুরিয়ারে পাঠান, তার ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটর বা রেট টেবিলে সেই তিনটা ওজন বসিয়ে ঢাকার ভেতরে আর বাইরে, দুই জায়গার চার্জ লিখুন।
  3. পেজে বা অর্ডার ফর্মে যে ডেলিভারি চার্জ লেখা আছে, তার সাথে মেলান। কোনো প্রোডাক্টে কম নিচ্ছেন কি না দেখুন, আর ভারী প্রোডাক্টের পাশে আলাদা চার্জ লিখে দিন।
  4. আপনার কুরিয়ারের KAM বা মার্চেন্ট সাপোর্টকে একটা মেসেজ দিন, সর্বোচ্চ কত কেজি আর কত বড় কার্টন নেবে, সাইজের জন্য আলাদা চার্জ হয় কি না। উত্তরটা স্ক্রিনশট করে রাখুন।
  5. কাছের একটা বুকিং কুরিয়ারের শাখায় ফোন দিয়ে জেনে নিন, একটা কাঠের চেয়ার বা ১৫ কেজির কার্টন রংপুর বা সিলেটে কন্ডিশনে পাঠাতে ভাড়া কত, আর কাস্টমার কত দিনের মধ্যে না তুললে কী হয়।
  6. অর্ডার কনফার্মের ফোনের লাইনে দুটো প্রশ্ন যোগ করুন। বাসা কয়তলায়, আর লিফট আছে কি না।

সাধারণ প্রশ্ন

কুরিয়ারে কি ফার্নিচার পাঠানো যায়?

ছোট আর খুলে পাঠানো যায় এমন ফার্নিচার যায়, যেমন ফোল্ডিং টেবিল বা ছোট র‍্যাক, যদি প্যাক করার পরে ওজন আর সাইজ কুরিয়ারের সীমার মধ্যে থাকে। খাট, সোফা, আলমারি বা কাঠের বড় চেয়ার বাইকের বক্সে ওঠে না। সেগুলো সাধারণত কন্ডিশন বুকিংয়ে, কাভার্ড ভ্যানে বা ট্রেনের পার্সেলে যায়।

২০ কেজির পার্সেল কুরিয়ারে পাঠাতে কত টাকা লাগে?

কুরিয়ার আর এলাকা ভেদে আলাদা। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে রংপুরে ২০ কেজির হোম ডেলিভারি দেখিয়েছে ৪৭৫ টাকা, VAT আর ১% COD চার্জ আলাদা। পাঠানোর আগে নিজের রুট আর ওজন বসিয়ে ক্যালকুলেটরে দেখে নিন, আর এত ভারী পার্সেল বাইকে না ভ্যানে তুলবে সেটা ফোনে জেনে নিন।

ভলিউমেট্রিক ওজন কী?

বড় কিন্তু হালকা প্যাকেটের জন্য সাইজ থেকে হিসাব করা একটা ওজন। DHL Express দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতা সেন্টিমিটারে গুণ করে ৫,০০০ দিয়ে ভাগ করে, তারপর আসল ওজন আর এই ওজনের মধ্যে যেটা বেশি সেটা ধরে চার্জ করে। দেশের ই-কমার্স কুরিয়ারগুলোর রেট পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে এমন কোনো সূত্র লেখা নেই, তবে Steadfast লিখেছে পার্সেলের সাইজে চার্জ বদলাতে পারে।

কোন কুরিয়ার কত কেজি পর্যন্ত পার্সেল নেয়?

Paperfly-র ওয়েবসাইটে লেখা আছে তারা ৮ কেজি পর্যন্ত পার্সেল নেয়। Pathao-র ব্লগে Pathao Parcel-এর গাইডলাইনে সব পার্সেল ৮ কেজির নিচে রাখতে বলা হয়েছে। বাকিদের বেলায় মার্চেন্ট সাপোর্ট বা আপনার KAM-কে লিখে জিজ্ঞেস করুন, আর উত্তরটা লিখিত রাখুন।

ট্রেনে পার্সেল বুকিং করতে কত টাকা লাগে?

২০২৬ সালের অক্টোবরে railway.gov.bd-এ পার্সেলের ভাড়ার কোনো লিস্ট পাওয়া যায়নি, তাই এখানে কোনো অঙ্ক দেওয়া হলো না। যে স্টেশন থেকে পাঠাবেন সেখানকার পার্সেল অফিসে মাল নিয়ে গিয়ে ওজন করিয়ে ভাড়া জেনে নিন। কাস্টমারকে নিজের স্টেশন থেকে মাল তুলতে হবে, বাসায় পৌঁছায় না।

ফার্নিচার পথে ভাঙলে কুরিয়ার কি টাকা দেয়?

কুরিয়ারের নিজের শর্তের ওপর নির্ভর করে। Steadfast-এর টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে লেখা আছে, তাদের হাতে থাকা অবস্থায় পার্সেল নষ্ট হলে তদন্তের পরে পোর্টালে লেখা দামের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে, তবে আয়না, কাচের জিনিস বা জানালার প্যানেলের মতো ভঙ্গুর জিনিসে তারা টাকা দেয় না। তাই কাচ বা আয়না থাকা ফার্নিচার কুরিয়ারে দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন।

#কুরিয়ারে ফার্নিচার পাঠানোর খরচ#ফার্নিচার কুরিয়ার#ভারী পার্সেল#ভলিউমেট্রিক ওজন#কন্ডিশন বুকিং#ট্রেনে পার্সেল

আরও পড়ুন

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন

নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে

সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য

পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

·১১ মিনিটে পড়া যায়