WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১১ মিনিটে পড়া যায়

চ্যাটজিপিটি দিয়ে কি কি করা যায়? দোকানের রোজকার কাজের প্রম্পট

চ্যাটজিপিটি দিয়ে দোকানের কোন কাজগুলো সত্যিই তাড়াতাড়ি হয়, কাস্টমারের মেসেজের উত্তর, ক্যাপশন, ৭০ অক্ষরের SMS, সাপ্লায়ারের ইংরেজি মেইল, শিটের সূত্র। প্রতিটার প্রম্পট দোকানের নিজের তথ্যসহ, আর কোথায় সে ভুল করে, কাস্টমারের নম্বর কেন দেবেন না।

চ্যাটজিপিটি দিয়ে কি কি করা যায়? দোকানের রোজকার কাজের প্রম্পট
এই লেখায় যা আছে
  1. চ্যাটজিপিটি দিয়ে দোকানের কোন কাজ হয়
  2. কাস্টমারের মেসেজের উত্তরের ড্রাফট
  3. ক্যাপশন আর SMS, কয়েকটা রূপ একসাথে
  4. সাপ্লায়ারের ইংরেজি, শিটের সূত্র আর স্টাফের চেকলিস্ট
    1. এক সপ্তাহে কত সময় বাঁচে (উদাহরণ)
  5. কোথায় ভুল করে, কী মিলিয়ে নেবেন
  6. কাস্টমারের তথ্য কেন দেবেন না
  7. কোন কাজে চ্যাটজিপিটি দেবেন না
  8. আজই করে ফেলুন

চ্যাটজিপিটি দিয়ে অনলাইন দোকানের লেখার কাজগুলো সবচেয়ে ভালো হয়। কাস্টমারের একই প্রশ্নের উত্তরের ড্রাফট, ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনের কয়েকটা রূপ, ৭০ অক্ষরের মধ্যে একটা SMS, সাপ্লায়ারের ইংরেজি মেইল বোঝা আর ভদ্রভাবে উত্তর লেখা, Google Sheets-এর সূত্র, আর প্যাকিংয়ের স্টাফের জন্য একটা চেকলিস্ট। শর্ত দুটো। আগে তাকে দোকানের নিজের তথ্য দিন, দাম, ডেলিভারি চার্জ, ফেরতের নিয়ম। আর সে যা লেখে, সেটা ড্রাফট ধরে নিজে পড়ে ঠিক করে তবেই কাজে লাগান। দাম, আইন আর কুরিয়ারের নিয়মে তার কথা না মিলিয়ে বিশ্বাস করবেন না, আর কাস্টমারের নম্বর বা ঠিকানা কখনো তাকে দেবেন না।

দুপুরে ইনবক্সে বিশটা মেসেজ জমেছে, তার পনেরোটায় একই প্রশ্ন, "ঢাকার বাইরে কত দিনে পাব?" এদিকে সন্ধ্যার পোস্টের ক্যাপশন এখনো লেখা হয়নি, আর চীনের সাপ্লায়ার ইংরেজিতে কী একটা লম্বা মেইল পাঠিয়েছেন, তিনবার পড়েও পুরোটা মাথায় ঢোকেনি। ছোট দোকানের মালিকের দিন এভাবেই যায়, সব কাজ নিজের হাতে। এই লেখা বলবে এর কোন কাজগুলো চ্যাটজিপিটিকে দিয়ে আধা সময়ে করানো যায়, আর কোনগুলো ভুলেও দেবেন না।

চ্যাটজিপিটি দিয়ে দোকানের কোন কাজ হয়

চ্যাটজিপিটি একটা চ্যাটের মতো জিনিস, যেখানে আপনি লিখে কিছু চান আর সে লিখে উত্তর দেয়। ওই লেখাটাকে বলে প্রম্পট। সে লেখায় ভালো, কারণ লাখ লাখ লেখা পড়ে শিখেছে কোন কথার পরে কোন কথা আসে। কিন্তু আপনার দোকানের কিছুই সে জানে না, আপনার দাম না, আপনার কুরিয়ার না, আপনার কাস্টমার কেমন সেটাও না।

এই একটা কথা বুঝলে বাকিটা সহজ। যে কাজে আসল তথ্য আপনি দেন আর সে শুধু গুছিয়ে লেখে, সেখানে সে দারুণ। ক্যাপশন, উত্তরের ড্রাফট, মেইল, চেকলিস্ট, এগুলো এই দলে। আর যে কাজে তথ্যটাই তার কাছ থেকে চান, যেমন "এই প্রোডাক্টের পাইকারি দাম কত" বা "কুরিয়ারের রিটার্ন চার্জ কত", সেখানে সে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভুল বলতে পারে।

একজন তরুণ সেলার দোকানের ছোট টেবিলে ল্যাপটপে একটা চ্যাট উইন্ডো খুলে টাইপ করছেন, পাশে একটা কাগজে প্রোডাক্টের নাম আর দামের লিস্ট, আর টেবিলের কোণে ভাঁজ করা কয়েকটা টি-শার্ট
দোকানের তথ্য আপনার, সাজিয়ে লেখার কাজ তার

প্রতিটা কাজের আগে তাই একটা জিনিস তৈরি রাখুন, দোকানের তথ্যের একটা মেসেজ। দোকানের নাম, কী বেচেন, দামের সীমা, ঢাকার ভেতরে আর বাইরে ডেলিভারি চার্জ, কত দিনে পৌঁছায়, অগ্রিম নেন কি না, ফেরত-বদলের নিয়ম, আর কোন সুরে কথা বলেন। এটা একবার লিখে ফোনের নোটে রেখে দিন। নতুন চ্যাট শুরু করলে প্রথমেই এটা পেস্ট করবেন, তারপর কাজের কথা।

কাস্টমারের মেসেজের উত্তরের ড্রাফট

ইনবক্সের বেশিরভাগ প্রশ্ন ঘুরে ফিরে দশ-বারোটা। দাম, সাইজ, ডেলিভারি কত দিনে, চার্জ কত, ছবির মতোই আসবে কি না, ফেরত দেওয়া যায় কি না। এগুলোর ভালো উত্তর একবার লিখে রাখলে প্রতিবার নতুন করে ভাবতে হয় না। চ্যাটজিপিটি এই উত্তরগুলোর ড্রাফট দশ মিনিটে করে দেয়।

দোকানের তথ্যের মেসেজ পেস্ট করার পর লিখুন এভাবে। "ওপরের তথ্য ধরে এই দশটা প্রশ্নের ছোট উত্তর লেখো, প্রতিটা তিন লাইনের মধ্যে, কথ্য বাংলায়, ঢাকার একজন সেলার যেভাবে ইনবক্সে লেখেন। অর্ডার, ডেলিভারি, কাস্টমারের মতো ইংরেজি শব্দ ইংরেজিই রাখো। শেষ লাইনে কাস্টমারকে অর্ডারের পরের ধাপটা বলো।" তারপর আপনার দশটা প্রশ্ন নিচে লিখে দিন, ঠিক যে ভাষায় কাস্টমার জিজ্ঞেস করেন।

উত্তর এলে প্রথম কাজ, প্রতিটা অঙ্ক নিজের তথ্যের সাথে মেলানো। চার্জ ৭০ লিখেছিলেন, সে ৮০ লিখে দিয়েছে কি না। তারপর জোরে পড়ুন। যেখানে "সম্মানিত ক্রেতা" বা "আপনার সন্তুষ্টিই আমাদের লক্ষ্য" ধরনের কথা আসে, সেটা কেটে দিন। কাস্টমার এমন লাইন পড়ে বোঝেন মানুষ লিখছে না। ঠিক হয়ে গেলে উত্তরগুলো WhatsApp Business-এর কুইক রিপ্লাইতে বা ফেসবুকের সেভ করা উত্তরে রাখুন।

একটা ফোনের পর্দার নকশা, ওপরে চ্যাটজিপিটির দেওয়া তিন লাইনের একটা উত্তর, তার একটা শব্দ লাল দাগে কাটা আর পাশে হাতে লেখা বদল, নিচে সেই উত্তর কুইক রিপ্লাইতে সেভ করার বাটন
ড্রাফট আসে তার কাছ থেকে, শেষ কলম আপনার

রাগী কাস্টমারের উত্তরেও সে কাজের, তবে সাবধানে। কাস্টমার লিখেছেন "তিন দিন হয়ে গেল, পার্সেল কই, ফ্রড নাকি?" আপনার মাথা গরম, উত্তরও গরম হয়ে যাচ্ছে। চ্যাটজিপিটিকে লিখুন, "এই কাস্টমার রেগে আছেন, পার্সেল ঢাকার বাইরে, কুরিয়ারের ট্র্যাকিং বলছে আজ ডেলিভারি হবে। শান্তভাবে দুই লাইনে উত্তর লেখো, দোষ না চাপিয়ে, ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়ার জায়গা রেখে।" ড্রাফটটা পড়ে নিজের মতো করে পাঠান। ঘটনাটা আসলে কী, ট্র্যাকিংয়ে কী লেখা, সেটা আপনিই দেখবেন, সে দেখতে পায় না।

ক্যাপশন আর SMS, কয়েকটা রূপ একসাথে

ক্যাপশনে চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে বড় কাজ একটার জায়গায় পাঁচটা রূপ দেওয়া। নিজে লিখলে আমরা একই ধাঁচে বারবার লিখি, আর পেজের পুরনো ফলোয়াররা চোখ বুলিয়ে চলে যান। পাঁচটা আলাদা শুরু দেখলে তার মধ্যে একটা হঠাৎ মনে ধরে।

প্রম্পট দিন এভাবে। "আমার নতুন প্রোডাক্ট নীল রঙের সুতি পাঞ্জাবি, দাম ১,২৫০ টাকা, সাইজ ৩৮ থেকে ৪৪, কাপড় নরম আর গরমে আরাম। ফেসবুক পোস্টের জন্য পাঁচটা আলাদা ক্যাপশন লেখো। প্রথম লাইনেই কাজের কথা, তিন-চার লাইনের বেশি না, শেষে কীভাবে অর্ডার করবেন। কোনো বাড়িয়ে বলা কথা না, 'সেরা' বা '১০০% গ্যারান্টি' না। কথ্য বাংলায়।" পাঁচটা থেকে একটা বাছুন, আর সেটায় নিজের একটা আসল খুঁটিনাটি বসান, যেমন "দুবার ধোয়ার পরেও রং যায়নি, নিজে পরে দেখেছি", যদি সেটা সত্যি হয়। এই এক লাইনই ক্যাপশনটাকে আপনার করে দেয়।

SMS-এ কাজটা আরেকটু হিসাবের। বাংলা SMS-এ এক মেসেজে সাধারণত ৭০ অক্ষর ধরে, বেশি হলে দুটো SMS-এর টাকা কাটে। চ্যাটজিপিটিকে বলুন, "এই অফারটা ৭০ অক্ষরের মধ্যে একটা বাংলা SMS-এ লেখো, দোকানের নামসহ, তিনটা রূপ দাও।" তবে অক্ষর গোনায় সে ভুল করতে পারে। নিজে গুনে দেখুন, বা একবার নিজের ফোনে পাঠিয়ে দেখুন কয়টা SMS হিসেবে যায়।

একটা ভুল প্রায় সবাই প্রথম সপ্তাহে করেন। চ্যাটজিপিটির লেখা ক্যাপশন হুবহু পোস্ট করেন, সাথে তার দেওয়া দশটা ইমোজি আর পনেরোটা হ্যাশট্যাগ। দেখতে সাজানো, পড়তে একঘেয়ে, আর কাস্টমার এক সেকেন্ডে বোঝেন এটা কারও হাতের লেখা না। ক্যাপশনের নিজস্ব নিয়ম আর কোন কথায় অর্ডার আসে, সেটা আলাদা বিষয়। প্রোডাক্টের পেজের বর্ণনা চ্যাটজিপিটিকে দিয়ে লেখালে কোথায় হাত দেবেন, সেটা প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়মের লেখায় আলাদা করে বলা আছে।

ক্যাপশন লেখার পরে কাস্টমারকে যেখানে পাঠাবেন, সেই পেজটাও তো লাগে। WinningSeller-এ এআই আছে ঠিক এই একটা কাজে, প্রোডাক্টের তথ্য দিলে পাঁচ মিনিটে একটা ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে দেয়, যেটা আপনি পরে নিজের মতো বদলান। কীভাবে কাজ করে, সেটা এআই দিয়ে ল্যান্ডিং পেজ বানানোর লেখায় আছে, আর দোকানের বাকি ফিচার ফিচারের পেজে। এই লেখার বাকি সব কাজ চ্যাটজিপিটির, WinningSeller-এর না।

সাপ্লায়ারের ইংরেজি, শিটের সূত্র আর স্টাফের চেকলিস্ট

চীন বা ভারতের সাপ্লায়ারের মেইলে এমন শব্দ থাকে যেটা রোজকার ইংরেজিতে আসে না, MOQ, lead time, FOB, sample fee। চ্যাটজিপিটিকে পুরো মেইলটা পেস্ট করে লিখুন, "এই মেইলে সাপ্লায়ার কী কী বলছেন, বাংলায় পয়েন্ট করে বলো। কোন সংখ্যা আর শর্ত আমার আলাদা করে খেয়াল করা দরকার, সেটা আলাদা লেখো।" তারপর উত্তর লেখাতে পারেন, "ভদ্র আর সোজা ইংরেজিতে উত্তর লেখো, আমি ৫০ পিসের একটা স্যাম্পল লট চাই, দাম আর পাঠানোর খরচ আলাদা করে জানতে চাই।"

এখানে একটা নিয়ম ভাঙবেন না। মেইলের প্রতিটা সংখ্যা মূল মেইল থেকে নিজের চোখে মেলান। অনুবাদে দাম, পিসের সংখ্যা বা দিনের হিসাব উল্টে গেলে সেই ভুলের দাম হাজার টাকায়। আর শুল্ক বা আমদানির নিয়মের প্রশ্ন তাকে করবেন না, সেটা আপনার C&F এজেন্ট বা কাস্টমসের নিজের নিয়মে দেখবেন।

একজন মাঝবয়সী দোকানদার নিজের গুদামঘরের টেবিলে বসে ল্যাপটপে একটা ইংরেজি মেইল পড়ছেন, পর্দার পাশের অর্ধেকে বাংলায় পয়েন্ট করে লেখা অনুবাদ, হাতে একটা কলম আর খাতায় সংখ্যা টুকে রাখা
অনুবাদ পড়ুন, কিন্তু সংখ্যাগুলো মূল মেইল থেকে মেলান

হিসাবের শিটেও সে কাজের। ধরুন Google Sheets-এ A কলামে অর্ডারের তারিখ, B-তে কুরিয়ারের নাম, C-তে অবস্থা, মানে ডেলিভারড না ফেরত। আপনি জানতে চান কোন কুরিয়ারে এ মাসে কয়টা ফেরত এল। লিখুন, "Google Sheets-এ A কলামে তারিখ, B-তে কুরিয়ারের নাম, C-তে 'ডেলিভারড' বা 'ফেরত' লেখা। এই মাসে Steadfast-এ কয়টা ফেরত, সেটা গোনার সূত্র দাও, আর সূত্রটা কীভাবে কাজ করে এক লাইনে বুঝিয়ে দাও।" সূত্রটা বসিয়ে প্রথমে তিন-চারটা সারি হাতে গুনে মিলিয়ে দেখুন। মিললে তবেই পুরো মাসে ভরসা করুন।

স্টাফের চেকলিস্ট হলো সবচেয়ে কম ঝুঁকির কাজ। "আমার প্যাকিংয়ের স্টাফের জন্য একটা চেকলিস্ট লেখো, পার্সেল বন্ধ করার আগে কী কী দেখবে। পাঞ্জাবি আর টি-শার্ট, পলি প্যাকেট, ইনভয়েস ভেতরে, কুরিয়ারের লেবেল বাইরে। ছোট ছোট লাইনে, সহজ বাংলায়।" লিস্টটা প্রিন্ট করে প্যাকিংয়ের টেবিলের দেয়ালে লাগিয়ে দিন। নিজের দোকানে বাস্তবে যে ভুলগুলো হয়, যেমন সাইজের ট্যাগ উল্টো, সেগুলো হাতে যোগ করে দিন।

এক সপ্তাহে কত সময় বাঁচে (উদাহরণ)

মিনিটগুলো আন্দাজ, ঘড়ি ধরে মাপা না। নিজের এক সপ্তাহের কাজের সময় লিখে রাখলে আপনার আসল সংখ্যাটা পাবেন।

উদাহরণ। ধরুন সপ্তাহে ৬টা পোস্ট দেন। হাতে প্রতিটার ক্যাপশনে লাগে ২০ মিনিট, মানে ৬ × ২০ = ১২০ মিনিট। চ্যাটজিপিটির ড্রাফট নিয়ে ঠিক করতে লাগে ৮ মিনিট, মানে ৬ × ৮ = ৪৮ মিনিট। বাঁচল ৭২ মিনিট। সাপ্লায়ারের ৩টা মেইল, হাতে প্রতিটায় ২৫ মিনিট, মানে ৭৫ মিনিট, নতুনভাবে প্রতিটায় ১০ মিনিট, মানে ৩০ মিনিট। বাঁচল ৪৫ মিনিট। নতুন প্রশ্নের ১০টা উত্তর, হাতে ৫ মিনিট করে ৫০ মিনিট, নতুনভাবে ২ মিনিট করে ২০ মিনিট। বাঁচল ৩০ মিনিট। সপ্তাহে মোট ৭২ + ৪৫ + ৩০ = ১৪৭ মিনিট, প্রায় আড়াই ঘণ্টা।

এই আড়াই ঘণ্টা দিয়ে কী করবেন, সেটাই আসল প্রশ্ন। ধরুন এই সময়ে পুরনো ৩০ জন কাস্টমারকে ফোন দিলেন নতুন কালেকশনের খবর দিতে, আর দশজনে একজন অর্ডার করলেন। তাহলে সপ্তাহে ৩টা অর্ডার। প্রতিটায় ৩০০ টাকা হাতে থাকলে ৩ × ৩০০ = ৯০০ টাকা, অ্যাডের এক টাকাও খরচ না করে। চ্যাটজিপিটি নিজে টাকা আনে না। সে সময় ফেরত দেয়, আর সেই সময় কোথায় খাটাবেন, সেটা আপনার হাতে।

কোথায় ভুল করে, কী মিলিয়ে নেবেন

১২ অক্টোবর ২০২৬-এ OpenAI Help Center-এর "Does ChatGPT tell the truth?" পেজে OpenAI নিজেই লিখেছে, চ্যাটজিপিটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর উত্তর দিতে পারে, আর ভুল উত্তরও সে আত্মবিশ্বাসের সুরে বলতে পারে। একই পেজে পরামর্শ দেওয়া আছে, তাকে প্রথম ড্রাফট হিসেবে নিন, শেষ কথা হিসেবে না, আর জরুরি তথ্য নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে মিলিয়ে নিন। দোকানের কাজে এর মানে খুব পরিষ্কার।

দাম আর চার্জ। কুরিয়ারের চার্জ, bKash-এর ক্যাশ আউট ফি, পাইকারি বাজারের দর, এগুলো সে পুরনো বা ভুল বলতে পারে। এসব সবসময় কুরিয়ারের নিজের প্যানেল, bKash-এর নিজের ওয়েবসাইট বা নিজের পাইকারের কাছ থেকে নেবেন।

আইন আর নিয়ম। ট্রেড লাইসেন্স, VAT, ভোক্তা অধিকার, ফেসবুকের অ্যাডের নিয়ম। এখানে সে আস্থা নিয়ে এমন ধারা বলে দিতে পারে যেটা নেই। আইনের প্রশ্ন সরকারি পেজে বা একজন আইনজীবীর কাছে নিন।

প্রোডাক্টের দাবি। "এই মধু ডায়াবেটিস সারায়" বা "এই তেলে চুল পড়া বন্ধ" ধরনের কথা সে লিখে দিতে পারে, কারণ বিক্রির লেখায় এমন কথা অনেক দেখেছে। এসব দাবি আপনার প্রমাণ ছাড়া লিখবেন না। কাস্টমার অভিযোগ করলে দায় আপনার, চ্যাটজিপিটির না।

একটা দুই ভাগের নকশা, বাঁ পাশে সবুজ টিক দিয়ে লেখা ক্যাপশন, উত্তরের ড্রাফট, মেইলের অনুবাদ, চেকলিস্ট, ডান পাশে হলুদ সতর্ক চিহ্ন দিয়ে লেখা কুরিয়ারের চার্জ, আইনের ধারা, প্রোডাক্টের রোগ সারানোর দাবি, পাইকারি দর
বাঁয়ের কাজ তাকে দিন, ডানের তথ্য নিজে মিলিয়ে নিন

চ্যাটজিপিটির বাংলা নিয়েও একটা কথা। অনেক সময় সে এমন বাংলা লেখে যেটা শুদ্ধ, কিন্তু কেউ এভাবে কথা বলে না। "আপনার অর্ডারটি সফলভাবে গৃহীত হয়েছে" পড়ে কাস্টমারের মনে হয় ব্যাংকের নোটিশ এসেছে। প্রম্পটে বলে দিন কথ্য বাংলায় লিখতে, আর পাঠানোর আগে নিজে একবার জোরে পড়ুন। যে লাইন মুখে বলতে আটকায়, সেটা বদলান।

কাস্টমারের তথ্য কেন দেবেন না

উত্তর লেখাতে গিয়ে অনেকে পুরো চ্যাটের স্ক্রিনশট বা কপি পেস্ট করেন, তাতে কাস্টমারের নাম, নম্বর আর ঠিকানা থাকে। এটা করবেন না। কাস্টমার আপনাকে নম্বর দিয়েছেন পার্সেল পাওয়ার জন্য, অন্য কোনো কোম্পানির সার্ভারে পাঠানোর জন্য না। আর উত্তর লেখাতে এসব লাগেই না। "একজন কাস্টমার জিজ্ঞেস করছেন..." লিখলেই কাজ হয়।

অর্ডারের লিস্ট বিশ্লেষণ করাতে চাইলেও একই নিয়ম। শিট পেস্ট করার আগে নাম, ফোন আর ঠিকানার কলাম মুছে দিন। প্রোডাক্ট, তারিখ, দাম আর কুরিয়ার থাকলেই হিসাবের কাজ হয়ে যায়। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে নতুন আইন কোন অবস্থায় আছে আর দোকানের কোন তথ্য এর মধ্যে পড়ে, সেটা কাস্টমারের ডেটা সুরক্ষার লেখায় আছে।

নিজের ব্যবসার কথাবার্তা নিয়েও সাবধান থাকুন। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ OpenAI Help Center-এর "Data controls in ChatGPT" পেজে লেখা আছে, Settings থেকে Data controls-এ গিয়ে Improve the model for everyone বন্ধ করলে আপনার নতুন কথাবার্তা OpenAI-এর মডেল শেখাতে যায় না। আর Temporary chat খুললে সেই চ্যাট হিস্ট্রিতে থাকে না, মডেল শেখাতেও যায় না, তবে নিরাপত্তার কারণে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা থাকতে পারে। সাপ্লায়ারের দাম বা নিজের লাভের হিসাবের মতো কথা দিলে এই সেটিংটা আগে দেখে নিন।

কোন কাজে চ্যাটজিপিটি দেবেন না

কিছু কাজ আছে যেখানে চ্যাটজিপিটি সময় বাঁচায় না, উল্টো ক্ষতি করে। নিচের তিনটা কাজে আমি তাকে ঢুকতেই দেব না, আপনিও দেবেন না। প্রথমটা রিভিউ। কাস্টমারের নামে বানানো রিভিউ বা "অনেকে কিনেছেন" ধরনের বানানো কথা লেখাবেন না। এটা সোজা কথায় কাস্টমারকে ঠকানো। আর একবার কেউ ধরে ফেললে কমেন্টে সেটা ছড়ায়, তখন আসল রিভিউগুলোকেও কেউ বিশ্বাস করেন না। আসল কাস্টমারকে রিভিউ দিতে বলার একটা ভদ্র মেসেজ লেখানো ঠিক আছে, বানানো রিভিউ না।

দ্বিতীয়টা দামি সিদ্ধান্ত। কোন প্রোডাক্টে টাকা ঢালবেন, কোন সাপ্লায়ারকে অগ্রিম দেবেন, কোন কুরিয়ার নেবেন। সে আপনার বাজার দেখেনি, আপনার কাস্টমার চেনে না। এসব সিদ্ধান্ত নিজের বিক্রির হিসাব আর মাঠের খোঁজ থেকে নিন। তাকে দিয়ে বড়জোর প্রশ্নের একটা লিস্ট বানাতে পারেন, কী কী খোঁজ নেওয়া দরকার।

তৃতীয়টা প্রোডাক্টের ছবি দিয়ে আসল জিনিস দেখানো। এআই দিয়ে বানানো ছবি দেখিয়ে আসল প্রোডাক্ট বলে বিক্রি করলে পার্সেল খুলে কাস্টমার ঠকে যান, আর ফেরত আসে। ছবির কাজে কোথায় এআই চলে আর কোথায় আসল ছবিই লাগবে, সেটা এআই দিয়ে প্রোডাক্টের ছবি আর ভিডিওর লেখায় আলাদা করে বলা আছে।

আর একটা অবস্থা। দিনে পাঁচ-সাতটা মেসেজ আসে, পোস্ট দেন সপ্তাহে দুটো? তাহলে চ্যাটজিপিটি শেখার সময়টা এখনই দেওয়ার দরকার নেই। হাতে লিখেই চলে যাবে। কাজ বাড়লে তখন শুরু করবেন।

আজই করে ফেলুন

একটা ফোন বা ল্যাপটপ, একটা ফ্রি অ্যাকাউন্ট আর এক ঘণ্টা।

  1. দোকানের তথ্যের মেসেজটা লিখুন, দাম, ডেলিভারি চার্জ, কত দিনে পৌঁছায়, ফেরতের নিয়ম আর কথা বলার সুর। ফোনের নোটে রাখুন।
  2. চ্যাটজিপিটির Settings থেকে Data controls খুলে Improve the model for everyone বন্ধ করবেন কি না ঠিক করুন।
  3. ইনবক্সে সবচেয়ে বেশি আসা দশটা প্রশ্ন লিখে উত্তরের ড্রাফট বানান। প্রতিটা অঙ্ক মিলিয়ে কুইক রিপ্লাইতে সেভ করুন।
  4. পরের পোস্টের জন্য পাঁচটা ক্যাপশন চান, একটা বেছে নিজের একটা আসল খুঁটিনাটি বসান।
  5. প্যাকিংয়ের একটা চেকলিস্ট বানিয়ে প্রিন্ট করুন, আর নিজের দোকানের দুটো আসল ভুল তাতে হাতে যোগ করুন।
  6. যে প্রম্পটগুলো ভালো কাজ দিল, সেগুলো একটা নোটে জমা রাখুন, পরের বার আবার লিখতে হবে না।

চ্যাটজিপিটি একজন দ্রুত লেখক, যে আপনার দোকান চেনে না। তথ্যটা আপনি দিন, লেখাটা সে গুছিয়ে দিক, আর শেষবার পড়ে নামটা আপনি বসান। তাহলে দোকানের কথা আপনার গলাতেই থাকবে, শুধু সময়টা কম লাগবে।

সাধারণ প্রশ্ন

চ্যাটজিপিটি দিয়ে অনলাইন ব্যবসায় কি কি করা যায়?

লেখার কাজগুলো সবচেয়ে ভালো হয়। কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তরের ড্রাফট, ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশন, ছোট SMS, সাপ্লায়ারের ইংরেজি মেইল বোঝা আর উত্তর লেখা, Google Sheets-এর সূত্র, আর স্টাফের জন্য চেকলিস্ট। দাম, আইন আর কুরিয়ারের নিয়মের মতো তথ্যে তার কথা না মিলিয়ে কাজে লাগাবেন না।

চ্যাটজিপিটি কি ফ্রি?

একটা ফ্রি অ্যাকাউন্ট আছে, আর এই লেখার কাজগুলো সাধারণ লেখার কাজ, ফ্রিতেও করা যায়। টাকার কয়েকটা প্ল্যানও আছে, বেশি কাজ করালে বা নতুন সুবিধা চাইলে সেগুলো লাগে। দাম আর সীমা বদলায়, তাই কেনার আগে OpenAI-এর নিজের পেজে দেখে নিন।

চ্যাটজিপিটি কি বাংলা লিখতে পারে?

পারে, তবে অনেক সময় অনুবাদের মতো শোনায়। প্রম্পটে লিখে দিন "কথ্য বাংলায়, ঢাকার একজন সেলার যেভাবে কাস্টমারের সাথে কথা বলেন", আর ইংরেজি শব্দ যেমন অর্ডার, ডেলিভারি, কাস্টমার ইংরেজিই রাখতে বলুন। তারপর নিজে একবার পড়ে যেখানে কানে লাগে সেখানে হাত দিন।

চ্যাটজিপিটিতে কাস্টমারের নম্বর বা ঠিকানা দেওয়া কি ঠিক?

না। কাস্টমারের নাম, নম্বর আর ঠিকানা তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য, আপনার দোকানের ভরসায় দেওয়া। উত্তর লেখাতে এগুলো লাগেই না, "একজন কাস্টমার" লিখলেই কাজ হয়। আর OpenAI-এর ডেটা কন্ট্রোলের সেটিং দেখে নিন, যাতে আপনার কথাবার্তা মডেল শেখাতে না যায়।

চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা ক্যাপশন কি ফেসবুক ধরে ফেলে?

আসল ঝুঁকি ফেসবুক না, আপনার কাস্টমার। হুবহু চ্যাটজিপিটির ক্যাপশন অনেক সময় সাজানো আর একঘেয়ে শোনায়, কাস্টমার নিজেই বুঝে ফেলেন। ড্রাফটটা নিয়ে নিজের দোকানের কথা, দাম আর একটা আসল খুঁটিনাটি বসিয়ে দিন, তাহলে লেখাটা আপনার হয়ে যায়।

চ্যাটজিপিটি দিয়ে কি রিভিউ লেখানো যায়?

কাস্টমারের নামে বানানো রিভিউ লেখাবেন না। এটা কাস্টমারকে ঠকানো, আর একবার ধরা পড়লে আসল রিভিউগুলোকেও কেউ আর বিশ্বাস করেন না। আসল কাস্টমারকে রিভিউ দিতে বলার একটা ভদ্র মেসেজ লেখাতে পারেন, সেটা ঠিক আছে।

#চ্যাটজিপিটি#ChatGPT প্রম্পট#ফেসবুক ক্যাপশন#কাস্টমারের উত্তর#অনলাইন ব্যবসা#এআই

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়