WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১১ মিনিটে পড়া যায়

ক্লাউড কিচেন কি? দোকান ছাড়া শুধু ডেলিভারির খাবারের ব্যবসা শুরু

রেস্টুরেন্ট দেওয়ার টাকা নেই, শুধু রান্নাঘর থেকে ডেলিভারি দিতে চান? ক্লাউড কিচেন কী আর হোম শেফ বা রেস্টুরেন্ট থেকে কোথায় আলাদা, জায়গা আর যন্ত্র, কোন কাগজ কখন, অর্ডার আসবে কোথা থেকে, আর এক মাসে দিনে কয়টা অর্ডারে খরচ ওঠে।

ক্লাউড কিচেন কি? দোকান ছাড়া শুধু ডেলিভারির খাবারের ব্যবসা শুরু
এই লেখায় যা আছে
  1. ক্লাউড কিচেন কি, হোম শেফ আর রেস্টুরেন্ট থেকে পার্থক্য
  2. জায়গা, যন্ত্র আর প্রথম খরচ
  3. লাইসেন্স আর রেজিস্ট্রেশন, কোনটা কখন
  4. একটা মেনু, একটা নাম, আর ৩০ মিনিটের রাস্তা
  5. অর্ডার আসবে কোথা থেকে, অ্যাপ আর নিজের পেজ
  6. এক মাসের খরচ আর কত অর্ডারে লাভ (উদাহরণ)
  7. কখন ক্লাউড কিচেন খুলবেন না, ঘরের রান্নাতেই থাকবেন
  8. আজই করে ফেলুন

ক্লাউড কিচেন কি, এক কথায় বললে, এমন রান্নাঘর যেখানে বসে খাওয়ার কোনো জায়গা নেই, শুধু ডেলিভারির অর্ডারের জন্য রান্না হয়। কাস্টমার অর্ডার দেন Foodpanda-র মতো খাবারের অ্যাপে বা আপনার ফেসবুক পেজে, রান্নাঘর থেকে খাবার যায় রাইডারের হাতে। টেবিল-চেয়ার, সাজানো দোকান আর ওয়েটার লাগে না বলে রেস্টুরেন্টের চেয়ে কম টাকায় শুরু করা যায়। কিন্তু খরচ কম মানে ঝুঁকি কম না, কারণ এখানে পুরো ব্যবসা দাঁড়িয়ে থাকে ডেলিভারির অর্ডারের ওপর।

এই প্রশ্নটা সাধারণত আসে এমন কারো কাছ থেকে, যিনি ভালো রাঁধেন, হয়তো কয়েক মাস বাসা থেকে অর্ডার নিয়েছেন, আর এখন বাসার রান্নাঘরে আর ধরছে না। দোকান ভাড়া, ডেকোরেশন আর স্টাফের হিসাব করে রেস্টুরেন্টের স্বপ্নটা পিছিয়ে যায়, তখন শোনেন ক্লাউড কিচেনের কথা। জায়গা ভাড়া নেওয়ার আগে তাই চারটা প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। এটা আসলে কী, কোন কাগজ লাগে, অর্ডার কোথা থেকে আসবে, আর দিনে কয়টা অর্ডার না হলে মাসের খরচই ওঠে না।

ক্লাউড কিচেন কি, হোম শেফ আর রেস্টুরেন্ট থেকে পার্থক্য

তিনটা জিনিস পাশাপাশি রাখলে পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়। হোম শেফ রাঁধেন নিজের বাসার রান্নাঘরে, ছোট মেনুতে, পরিবারের রান্নার পাশাপাশি। রেস্টুরেন্টে রান্নাঘরের সাথে বসার জায়গা, সামনের দোকান আর সার্ভিসের লোক থাকে। ক্লাউড কিচেন এই দুইয়ের মাঝখানে। জায়গা আলাদা ভাড়া নেওয়া, যন্ত্র বাণিজ্যিক, রান্না হয় পুরো সময় ধরে, কিন্তু কাস্টমার কখনো ভেতরে আসেন না।

তিনটা কলামের একটা নকশা, বাঁয়ে বাসার রান্নাঘর আর হোম শেফ, মাঝে আলাদা ভাড়া নেওয়া রান্নাঘর আর ক্লাউড কিচেন, ডানে বসার টেবিলসহ রেস্টুরেন্ট, প্রতিটার নিচে জায়গা, মেনু, কাস্টমার কোথায় খান আর খরচের ঘর
হোম শেফ, ক্লাউড কিচেন আর রেস্টুরেন্ট, তিন জায়গা, তিন রকম খরচ

এই মাঝখানের জায়গাটার একটা ভালো দিক আর একটা কঠিন দিক আছে। ভালো দিক হলো, দোকান যেখানে-সেখানে নিতে হয় না। বড় রাস্তার ধারের দামি জায়গা না নিয়ে গলির ভেতরে, এমনকি নিচতলার পেছনের দিকেও নেওয়া যায়, যতক্ষণ রাইডার সহজে আসতে পারেন। কঠিন দিক হলো, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া কেউ আপনার দোকান দেখে ঢুকবেন না। প্রতিটা অর্ডার আসে স্ক্রিন থেকে, আর স্ক্রিনে আপনি পাশের আরও বিশটা কিচেনের সাথে একই সারিতে।

অনেক ক্লাউড কিচেন একই রান্নাঘর থেকে দুই-তিনটা আলাদা নামে মেনু চালায়, একটা বিরিয়ানির, একটা চাইনিজের। শুনতে চতুর লাগে, কিন্তু শুরুতে এটা করবেন না। প্রতিটা নামের জন্য আলাদা ছবি, আলাদা রিভিউ, আলাদা কাঁচামাল, আর ভিড়ের সময় একসাথে সব সামলানো। একটা নাম আগে দাঁড় করান।

জায়গা, যন্ত্র আর প্রথম খরচ

জায়গা বাছুন দূরত্ব দিয়ে না, ডেলিভারির সময় দিয়ে। আপনার কাস্টমার যেখানে বেশি, মানে বড় আবাসিক এলাকা আর অফিসপাড়া, সেখান থেকে ২০-২৫ মিনিটে পৌঁছানো যায় এমন জায়গা খুঁজুন। আর রাইডারের দিকটা ভাবুন। চারতলায় লিফট ছাড়া রান্নাঘর হলে প্রতিটা অর্ডারে রাইডার সিঁড়ি ভাঙবেন, ভিড়ের সময় কয়েক মিনিট করে নষ্ট হবে। নিচতলা বা দোতলা, সামনে একটা মোটরসাইকেল দাঁড়ানোর জায়গা, এটুকু থাকলে অনেক ঝামেলা কমে।

ভাড়া নেওয়ার আগে তিনটা জিনিস নিজের চোখে দেখুন। পানির লাইন দিনে কতক্ষণ থাকে, ধোঁয়া বের হওয়ার জন্য জানালা বা এক্সহস্ট লাগানোর জায়গা আছে কি না, আর বিদ্যুতের লাইন একসাথে ফ্রিজ, ফ্রিজার আর এক্সহস্ট টানতে পারবে কি না। বাড়িওয়ালাকে আগেই বলুন এখানে দিনভর রান্না হবে। পরে ধোঁয়া আর গন্ধ নিয়ে প্রতিবেশীর অভিযোগে বাড়িওয়ালা চুক্তি ভাঙলে পুরো সাজানো রান্নাঘর আবার সরাতে হয়। আর ভাড়ার চুক্তিতে "এখানে বাণিজ্যিক রান্না হবে" কথাটা লিখিয়ে নিন, মুখের অনুমতি পরে কাজে আসে না।

ছোট একটা ভাড়া নেওয়া রান্নাঘরে একজন যুবক স্টিলের কাউন্টারের পাশে বড় চুলায় হাঁড়িতে রান্না করছেন, দেয়ালে এক্সহস্ট ফ্যান, পাশে দুইটা সিংক আর একটা বড় ফ্রিজ
স্টিলের কাউন্টার, দুই সিংক, এক্সহস্ট, এগুলো দিয়েই শুরু

যন্ত্রের লিস্ট মেনু ধরে বানান, ক্যাটালগ ধরে না। বিরিয়ানি-তেহারির কিচেনে লাগবে বড় হাঁড়ি আর বাণিজ্যিক চুলা। ভাজাভুজির কিচেনে লাগবে ডিপ ফ্রায়ার। মোটামুটি সবার লাগে স্টিলের কাউন্টার, দুইটা সিংক (একটা কাঁচা মাছ-মাংসের, একটা বাসনের), একটা ফ্রিজ, একটা ডিপ ফ্রিজার, তাক, আর খাবার গরম রাখার ব্যবস্থা। প্রথম দিনেই সব নতুন কিনবেন না। পুরনো রেস্টুরেন্ট বন্ধ হলে স্টিলের কাউন্টার আর চুলা অনেক কম দামে পাওয়া যায়, শুধু চুলার গ্যাসের সংযোগ আর পাইপ নতুন করে নেবেন।

গ্যাস আর বিদ্যুৎ নিয়ে আগে থেকে একটা পরিকল্পনা রাখুন। লাইনের গ্যাস দুপুরে কমে গেলে, বা সিলিন্ডার ঠিক ভিড়ের সময় ফুরালে, পুরো দুপুরের অর্ডার বাতিল হয়। একটা ভরা সিলিন্ডার সবসময় বাড়তি রাখুন। আর লোডশেডিংয়ে ফ্রিজার যেন অন্তত কয়েক ঘণ্টা চলে, সেজন্য IPS বা জেনারেটরের লাইনের খোঁজ নিন।

আর একটা কাজ প্রথম দিনেই করুন, যেটা ছোট রান্নাঘরে প্রায় কেউ করেন না। দেয়ালে একটা কাগজে পরিষ্কারের লিস্ট লিখে টাঙিয়ে দিন। প্রতিদিন রাতে কী ধোয়া হবে, সপ্তাহে কবে ফ্রিজ আর এক্সহস্ট পরিষ্কার হবে, আর কে করবেন। পাশে একটা ঘরে তারিখ আর সই। শুনতে অফিসের মতো লাগে, কিন্তু সহকারী বদলালে নতুন মানুষ প্রথম দিন থেকেই জানবেন কী করতে হয়। আর নিরাপদ খাদ্যের লোক কখনো রান্নাঘর দেখতে এলে এই কাগজটাই আপনার অভ্যাসের প্রমাণ।

লাইসেন্স আর রেজিস্ট্রেশন, কোনটা কখন

প্রথমে ট্রেড লাইসেন্স, খাবারের ব্যবসার ধরন দিয়ে, যে ঠিকানায় রান্নাঘর সেই ঠিকানায়। Foodpanda-র পার্টনার পেজে যে চারটা কাগজ চাওয়া আছে, তার একটা ট্রেড লাইসেন্স, তাই এটা ছাড়া অ্যাপে নামাই যাবে না। কোথায় আবেদন করবেন, কী কাগজ আর কত খরচ, সেটা অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের লেখায় ধাপে ধাপে আছে। ভাড়ার চুক্তির কপি হাতে রাখুন, ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে প্রায়ই সেটা লাগে।

এরপর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। The Daily Star বাংলার ২২ জুলাই ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী ১৬ জুলাই রেজিস্ট্রেশন আর লাইসেন্সের নতুন প্রবিধানমালা গেজেট হয়েছে। সেখানে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ আর ক্যাটারিং, এমনকি রাস্তার পিঠা-পুরির দোকানকেও রেজিস্ট্রেশন নিতে বলা হয়েছে। খবরে ফি ১,০০০ টাকা থেকে শুরু, নবায়ন ৫০০ টাকা, মেয়াদ সাধারণত তিন বছর। ক্লাউড কিচেনের নাম খবরে আলাদা করে নেই, কিন্তু কাজটা রেস্তোরাঁর রান্নাঘরেরই, তাই জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন কোন দলে পড়বেন।

একই খবরে আছে, বেসরকারি খাদ্যের গুদাম আর হিমাগারের জন্য রেজিস্ট্রেশন না, লাইসেন্স লাগবে। সাধারণ রান্নাঘরের একটা-দুইটা ডিপ ফ্রিজ সেই দলে পড়ে না, কিন্তু আলাদা ঘরে বড় করে কাঁচামাল জমিয়ে রাখলে প্রশ্নটা অফিসে একবার করে নিন। কোন অফিসে কী কাগজ নিয়ে যাবেন, সেটা আছে ফুড লাইসেন্সের লেখায়।

ফায়ার সার্ভিস বা অন্য কোনো ছাড়পত্র আপনার রান্নাঘরের মাপে লাগে কি না, সেই নিয়ম এই লেখার জন্য যাচাই করা হয়নি, তাই আন্দাজে কিছু বলছি না। ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনের সময় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় এটাও জিজ্ঞেস করে নিন, আর উত্তরটা তারিখসহ খাতায় লিখে রাখুন।

একটা মেনু, একটা নাম, আর ৩০ মিনিটের রাস্তা

ভাড়া নেওয়ার আগে মেনুটা পরীক্ষা করুন। বাসার রান্নাঘরে আপনার মূল তিন-চারটা খাবার রেঁধে বিশজন পরিচিত মানুষকে পুরো দামে বেচুন। টাকা দিয়ে কেনা মানুষ বিনা পয়সায় খাওয়া মানুষের চেয়ে সৎ মত দেন। প্রতিজনকে দুটো প্রশ্ন করুন। আবার কিনবেন কি না, আর কোন জিনিসটা ভালো লাগেনি।

মেনু ছোট রাখার কারণ শুধু সহজ রান্না না। প্রতিটা নতুন খাবার মানে নতুন কাঁচামাল, যা ফ্রিজে জায়গা নেয় আর কয়েক দিন না চললে নষ্ট হয়। পাঁচটা খাবার যেগুলো প্রতিদিন একই স্বাদে বের হয়, পনেরোটা খাবারের চেয়ে বেশি রিভিউ আর বেশি রিপিট আনে। নামটাও সেই মেনুর সাথে মেলান, যেন নাম শুনেই বোঝা যায় কী পাওয়া যায়।

এবার সবচেয়ে কাজের পরীক্ষাটা। একদিন নিজের মেনুর একটা অর্ডার প্যাক করে নিজে বা একজন বন্ধুকে দিয়ে মোটরসাইকেলে ৩০ মিনিট ঘুরিয়ে আনুন, ফোনে স্টপওয়াচ চালু রেখে। তারপর প্যাকেট খুলে খান, ঠিক কাস্টমার যেভাবে খাবেন। ভাত শক্ত হয়ে গেছে কি না, ঝোল পড়ে গেছে কি না, ভাজা জিনিস নরম হয়ে গেছে কি না, সব নিজের মুখে বুঝবেন।

একটা স্টিলের কাউন্টারে সারি করে রাখা ঢাকনা লাগানো একই রকম খাবারের কন্টেইনার, প্রতিটার ওপর একটা ছোট স্টিকার, পাশে কাগজের ব্যাগের স্তূপ, কোনো মানুষ নেই
রাইডার আসার আগেই সিল করা কন্টেইনার, ব্যাগ পাশে তৈরি

এই পরীক্ষা থেকে প্যাকিংয়ের সিদ্ধান্তগুলো আসে। যে কন্টেইনারের ঢাকনা উল্টো করলে লিক করে, সেটা বাদ দিন। ভাপে ভাত নরম হয়ে গেলে ঢাকনায় ছোট ফুটো আছে এমন কন্টেইনার দেখুন। ভাজা জিনিস আলাদা কাগজের বাক্সে, তরকারি আলাদা কন্টেইনারে, যাতে একটার ভাপে আরেকটা নষ্ট না হয়। প্রতিটা ব্যাগে স্টিকার দিয়ে অর্ডার নম্বর লিখুন, ভিড়ের সময় এক রাইডারের ব্যাগ আরেকজনের হাতে চলে যাওয়া খুব সাধারণ ভুল।

রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে একজন যুবক হেলমেট হাতে ফোনের স্টপওয়াচের দিকে তাকিয়ে আছেন, পেছনের সিটে বাঁধা একটা খাবারের ব্যাগ
৩০ মিনিট ঘুরে এসে নিজেই খেয়ে দেখুন

অর্ডার আসবে কোথা থেকে, অ্যাপ আর নিজের পেজ

ক্লাউড কিচেনের অর্ডারের দুটো দরজা। প্রথমটা খাবারের অ্যাপ। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Foodpanda-র পার্টনার পেজে লেখা আছে, HomeChef বা ক্লাউড কিচেনের মালিক দোকান ছাড়াই দরকারি কাগজ দিয়ে সাইন আপ করতে পারেন। কাগজের লিস্টে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, মেনু, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ আর ট্রেড লাইসেন্স। কমিশনের নির্দিষ্ট হার পাবলিক পেজে নেই, রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনার প্যাকেজে দেখায়। রেজিস্ট্রেশনের ধাপগুলো বিস্তারিত আছে ফুডপান্ডা হোম শেফ রেজিস্ট্রেশনের লেখায়, কাগজ আর শর্ত ক্লাউড কিচেনের জন্যও প্রায় একই।

অ্যাপের ভালো দিক হলো প্রথম দিন থেকেই এমন মানুষ আপনাকে দেখেন, যাঁরা এই মুহূর্তে খাবার খুঁজছেন, আর ডেলিভারি ওদের রাইডার করেন। খারাপ দিক কমিশন, আর কাস্টমারের নম্বর আপনার কাছে থাকে না। অ্যাপের কাস্টমার অ্যাপেরই থাকেন।

দ্বিতীয় দরজা নিজের পেজ। অফিসের দুপুরের খাবারের মাসিক চুক্তি, বাসার দাওয়াতের বড় অর্ডার, শুক্রবারের বিরিয়ানির অগ্রিম বুকিং, এগুলো সাধারণত অ্যাপে আসে না, আসে ফোনে আর ইনবক্সে। এখানে কমিশন নেই, আর কাস্টমারের নম্বর আপনার হাতে থাকে। ডেলিভারি অবশ্য নিজেকে সামলাতে হয়। কাছের এলাকায় নিজের রাইডার রাখা কখন লাভ, দিনে কয়টা অর্ডারে, সেটার হিসাব আছে নিজের ডেলিভারি ম্যানের লেখায়।

শুরুতেই বলে রাখি, WinningSeller খাবারের অ্যাপের অর্ডার নেয় না, অ্যাপের সাথে যুক্তও না। কাজে আসে নিজের পেজের অর্ডারে। ফোনে আসা অর্ডার "নতুন অর্ডার" দিয়ে তুলে রাখা যায়। সেটিংসের "ডেলিভারি চার্জ" অংশে নিজের এলাকাগুলো আলাদা চার্জে লেখা যায়, কাস্টমার অর্ডারের সময় একটা বেছে নেন। নিজের bKash বা SSLCommerz জুড়ে "অনলাইন পেমেন্ট" চালু করে নিলে "শুধু ডেলিভারি চার্জ (অ্যাডভান্স)" অপশনে ডেলিভারির টাকা আগে নেওয়া যায়, ভুয়া অর্ডারে হাঁড়ির খাবার নষ্ট হয় না। আর "নতুন অর্ডারের শব্দ" চালু রাখলে রান্নাঘরের হইচইয়ের মধ্যেও নতুন অর্ডার এলে কম্পিউটারে শব্দ হয়। বাকি কাজগুলো কোথায় কীভাবে হয়, ফিচারের পেজে সাজানো আছে।

এক মাসের খরচ আর কত অর্ডারে লাভ (উদাহরণ)

ক্লাউড কিচেনের আসল প্রশ্নটা হলো, দিনে কয়টা অর্ডার না হলে মাসের খরচই ওঠে না। এই সংখ্যাটা ভাড়া নেওয়ার আগে জানা দরকার, পরে না।

উদাহরণ। নিচের প্রতিটা অঙ্ক কল্পনার, আপনার শহরের ভাড়া আর বেতন বসিয়ে আবার করুন। অ্যাপের কমিশনও ধরে নেওয়া, কারণ কোনো অ্যাপ পাবলিক পেজে হার লেখেনি।

মাসের স্থায়ী খরচ টাকা
রান্নাঘরের ভাড়া ১৫,০০০
একজন সহকারী ১২,০০০
গ্যাস, বিদ্যুৎ আর পানি ৮,০০০
নিজের বেতন ২০,০০০
নবায়ন আর মেরামতের ভাগ ২,০০০
অ্যাডের বাজেট ১০,০০০
মোট ৬৭,০০০

এবার প্রতিটা অর্ডারের হিসাব। ধরুন গড়ে একটা অর্ডার ৪০০ টাকার, তাতে কাঁচামাল ১৬০ আর প্যাকিং ৩০ টাকা। নিজের পেজের অর্ডারে হাতে থাকে ৪০০ − ১৯০ = ২১০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। অ্যাপের অর্ডারে ধরলাম ২৫% কমিশন, মানে ১০০ টাকা, তখন হাতে থাকে ১১০ টাকা।

শুধু নিজের পেজের অর্ডার হলে ৬৭,০০০ ÷ ২১০ = প্রায় ৩২০টা অর্ডার লাগে মাসে, মানে ৩০ দিন খোলা রাখলে দিনে ১১টার মতো। শুধু অ্যাপের অর্ডার হলে ৬৭,০০০ ÷ ১১০ = প্রায় ৬১০টা, দিনে ২০টার বেশি। আর যদি ১০টা অর্ডারের ৬টা অ্যাপ থেকে আর ৪টা নিজের পেজ থেকে আসে, তাহলে গড়ে প্রতি অর্ডারে থাকে (৬ × ১১০ + ৪ × ২১০) ÷ ১০ = ১৫০ টাকা, আর মাসে লাগে ৬৭,০০০ ÷ ১৫০ = প্রায় ৪৪৭টা, দিনে ১৫টা।

একটা বারের নকশা, বাঁয়ে মাসের স্থায়ী খরচ ৬৭,০০০ টাকা খাত ধরে রঙে ভাগ করা, ডানে তিনটা কলামে দিনে কয়টা অর্ডার লাগে, নিজের পেজে ১১টা, মিলিয়ে ১৫টা, শুধু অ্যাপে ২০টার বেশি
একই খরচ, অর্ডার কোথা থেকে আসে তার ওপর দিনে ১১ থেকে ২০টা

এই হিসাবের সবচেয়ে জরুরি লাইনটা নিজের বেতন। অনেকে সেটা খরচে ধরেন না, তারপর মাস শেষে "লাভ" দেখেন যেটা আসলে নিজের খাটুনির মজুরি। আর এটা খরচ ওঠার হিসাব, লাভের না। দিনে ১৫টা অর্ডারে আপনি শূন্যে দাঁড়াবেন, এর ওপরের প্রতিটা অর্ডার থেকে লাভ শুরু। নিজের পেজের অর্ডার যত বাড়ে, দিনের দরকারি অর্ডারের সংখ্যা তত কমে। তাই পুরনো কাস্টমারের নম্বর যত্ন করে রাখুন। অ্যাপের প্যাকেটে নিজের পেজের কার্ড দেওয়ার কথা ভাবলে আগে অ্যাপের চুক্তিতে দেখে নিন সেটা চলে কি না।

কখন ক্লাউড কিচেন খুলবেন না, ঘরের রান্নাতেই থাকবেন

যদি বাসা থেকে এখনো দিনে নিয়মিত পাঁচ-সাতটা অর্ডারও না আসে, তাহলে আলাদা জায়গা নেবেন না। ভাড়ার চুক্তি সাধারণত এক-দুই বছরের, অগ্রিমও আটকে থাকে, আর রান্নাঘর সাজানোর টাকা ফেরত আসে না। আগে বাসা থেকে হোম শেফ হিসেবে চালিয়ে দেখুন, কোন খাবার চলে, কোন এলাকা থেকে অর্ডার আসে।

যদি নিজে প্রতিদিন রান্নাঘরে থাকতে না পারেন, শুধু লোক রেখে চালাবেন ভেবে থাকেন, তাহলেও ভাবুন। শুরুর মাসগুলোতে স্বাদ একই রাখা আর ভিড়ের সময় সামলানো মালিকের নিজের চোখ ছাড়া কঠিন। আর যে এলাকায় ভাড়া বেশি কিন্তু অফিস বা আবাসিক ভিড় কম, সেখানে খরচ উঠতে অনেক সময় লাগে। এই সিদ্ধান্তে আমি একটা নিয়মই মানতে বলি। আগে তিন মাস বাসা থেকে চালান, দিনে গড়ে কয়টা অর্ডার আসে খাতায় গুনুন, তারপর ওপরের টেবিলে সেই সংখ্যা বসিয়ে ঠিক করুন।

আজই করে ফেলুন

  1. আপনার মূল চারটা খাবারের নাম আর প্রতিটার কাঁচামালের খরচ লিখুন।
  2. এই সপ্তাহে বিশজন পরিচিতকে পুরো দামে খাবার বেচে দুটো প্রশ্নের উত্তর খাতায় লিখুন।
  3. একটা অর্ডার প্যাক করে ৩০ মিনিট মোটরসাইকেলে ঘুরিয়ে এনে নিজে খেয়ে দেখুন।
  4. ওপরের টেবিলে নিজের এলাকার ভাড়া, বেতন আর নিজের বেতন বসিয়ে দেখুন দিনে কয়টা অর্ডার লাগে।
  5. যে এলাকায় জায়গা খুঁজবেন, সেখান থেকে আপনার কাস্টমারদের বাসা পর্যন্ত ২০-২৫ মিনিটের একটা ম্যাপ আঁকুন।
  6. জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিস আর সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার ফোন নম্বর খাতায় তুলুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ক্লাউড কিচেন মানে কি?

যে রান্নাঘরে বসে খাওয়ার জায়গা নেই, শুধু ডেলিভারির অর্ডারের জন্য রান্না হয়, সেটাই ক্লাউড কিচেন। অর্ডার আসে খাবারের অ্যাপ আর নিজের ফেসবুক পেজ থেকে। দোকানের সামনের অংশ, টেবিল-চেয়ার আর ওয়েটারের খরচ এখানে নেই।

ক্লাউড কিচেন খুলতে কত টাকা লাগে?

নির্ভর করে জায়গার ভাড়া, অগ্রিম, চুলা-ফ্রিজ-কাউন্টারের মতো যন্ত্র আর প্রথম মাসের খরচের ওপর, তাই একটা সংখ্যা বলা যায় না। বেশি জরুরি হলো মাসিক খরচ আর দিনে কয়টা অর্ডারে সেটা ওঠে, সেই হিসাবটা এই লেখার উদাহরণে আছে। নিজের এলাকার ভাড়া আর বেতন বসিয়ে হিসাবটা আবার করুন।

ক্লাউড কিচেনের জন্য কোন লাইসেন্স লাগে?

খাবারের ধরন দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স, আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশন। জুলাই ২০২৬-এর নতুন প্রবিধানমালায় রেস্তোরাঁ আর ক্যাটারিং রেজিস্ট্রেশনের আওতায় এসেছে, খবরে ক্লাউড কিচেনের নাম আলাদা করে নেই, তাই জেলা অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন। Foodpanda-তে নামতে ওরা ট্রেড লাইসেন্স চায়।

ক্লাউড কিচেন কি বাসা থেকে চালানো যায়?

বাসার রান্নাঘর থেকে ছোট মেনুতে রাঁধলে সেটা সাধারণত হোম শেফের কাজ। ক্লাউড কিচেন বলতে মানুষ বোঝায় আলাদা জায়গা নিয়ে বড় করে চালানো রান্নাঘর। বাসা থেকে শুরু করে দিনে নিয়মিত অর্ডার এলে তারপর আলাদা জায়গা নেওয়াই নিরাপদ রাস্তা।

ক্লাউড কিচেনে কোন খাবার ভালো চলে?

যে খাবার ৩০-৪০ মিনিটের রাস্তায় স্বাদ আর চেহারা ধরে রাখে, যেমন বিরিয়ানি, তেহারি, খিচুড়ি, ভাত-তরকারির সেট বা রাইস বোল। ভাজা জিনিস আর ক্রিসপি খাবার পথে নরম হয়ে যায়, সেগুলো দিতে চাইলে প্যাকিং আগে পরীক্ষা করুন।

একটা কিচেন থেকে কি কয়েকটা ব্র্যান্ড চালানো যায়?

অনেক ক্লাউড কিচেন একই রান্নাঘর থেকে আলাদা আলাদা নামে দুই-তিনটা মেনু চালায়। শুরুতে একটা নাম আর একটা মেনুতে থাকুন, সেটা নিয়মিত চললে তারপর দ্বিতীয়টা ভাবুন। প্রতিটা নামের জন্য অ্যাপে আলাদা কাগজ লাগে কি না, অ্যাপের টিমকে জিজ্ঞেস করুন।

#ক্লাউড কিচেন#ক্লাউড কিচেন ব্যবসা#খাবারের ব্যবসা#ফুড ডেলিভারি#ফুড লাইসেন্স#রেস্টুরেন্ট ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়