ফেসবুক অ্যাডে WhatsApp বাটন, Click to WhatsApp অ্যাড চালানোর নিয়ম
ফেসবুক অ্যাডে চাপ দিলে কাস্টমার সরাসরি আপনার WhatsApp-এ চলে আসবেন, এমন Click to WhatsApp অ্যাড চালানোর পুরো নিয়ম। নম্বর পেজের সাথে জোড়া, Ads Manager-এ কোন গোল আর কোন জায়গা, প্রথম মেসেজ আর রেডি প্রশ্ন, ১০০টা চ্যাট থেকে কয়টা অর্ডার আর চ্যাটকে অর্ডারে বদলানোর এক মেসেজ।

এই লেখায় যা আছে
- Click to WhatsApp অ্যাড কী, কখন ওয়েবসাইটের চেয়ে ভালো
- আগে যা লাগবে, WhatsApp Business নম্বর পেজের সাথে জোড়া
- ধাপে ধাপে অ্যাড বানানো, কোন গোল আর কোন জায়গায়
- প্রথম মেসেজ আর রেডি প্রশ্ন সাজানো
- ১০০টা চ্যাট থেকে কয়টা অর্ডার, খরচের হিসাব (উদাহরণ)
- চ্যাটকে অর্ডারে বদলানো, ঠিকানা নেওয়ার এক মেসেজ
- কখন WhatsApp অ্যাড চালাবেন না
- আজই করে ফেলুন
Click to WhatsApp অ্যাড হলো ফেসবুক বা Instagram-এর এমন অ্যাড, যেটায় চাপ দিলে কাস্টমার ওয়েবসাইটে যান না, সরাসরি আপনার WhatsApp চ্যাটে চলে আসেন। চালাতে তিনটা জিনিস লাগে। একটা WhatsApp Business নম্বর, সেই নম্বর ফেসবুক পেজের সাথে জোড়া, আর Ads Manager-এ অ্যাড বানানোর সময় conversion location-এ Message destinations বেছে WhatsApp-এ টিক দেওয়া। অ্যাড চালু হলে Ads Manager গোনে কতজন কথা শুরু করলেন। কিন্তু কথা শুরু মানে অর্ডার না। চ্যাটকে অর্ডারে বদলানোর কাজটা আপনার, আর এই অ্যাডের লাভ-ক্ষতি সেখানেই ঠিক হয়।
অনেক সেলার একটা কথা খেয়াল করেন। কাস্টমার ফেসবুকের ইনবক্সের চেয়ে WhatsApp-এ বেশি স্বচ্ছন্দ। ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে ভুলে যান, কিন্তু WhatsApp তো সারাদিন খোলাই থাকে, মেসেজ এলে চোখে পড়ে। তাই প্রশ্নটা মাথায় আসে, অ্যাড থেকেই সরাসরি WhatsApp-এ আনা যায় না? যায়। কিন্তু প্রথম সপ্তাহে অনেকে দেখেন চ্যাট আসছে প্রচুর, অথচ অর্ডার খাতায় উঠছে খুব কম। এই লেখায় দুটো দিকই বলছি, অ্যাডটা কীভাবে বানাবেন আর চ্যাটগুলো কীভাবে অর্ডারে বদলাবেন।
Click to WhatsApp অ্যাড কী, কখন ওয়েবসাইটের চেয়ে ভালো
২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta Business Help Center-এর "Create ads that click to WhatsApp in Ads Manager" পেজে লেখা আছে, এই অ্যাড মানুষকে সরাসরি WhatsApp-এ আপনার ব্যবসার সাথে কথোপকথনে নিয়ে যায়। কাস্টমার অ্যাডে Send message বা WhatsApp বাটন দেখেন, চাপ দিলে তাঁর ফোনের WhatsApp খোলে, আর আপনার নম্বরের সাথে একটা চ্যাট শুরু হয়। চাইলে সেখানে আগে থেকে একটা স্বাগত মেসেজ আর কয়েকটা প্রশ্নের বাটন সাজিয়ে রাখা যায়।
ওয়েবসাইটের অ্যাডে কাস্টমার লিংকে চাপ দিয়ে পেজে যান, ছবি দেখেন, দাম দেখেন, নিজেই ফর্মে নাম-ঠিকানা লিখে অর্ডার করেন। WhatsApp অ্যাডে কাস্টমার কথা বলেন, আর অর্ডার নেন আপনি। তাই কোনটা ভালো, সেটা প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর করে।
WhatsApp অ্যাড সাধারণত ভালো চলে যেখানে কেনার আগে কাস্টমারের একটা-দুটো প্রশ্ন থাকেই। সাইজ মিলবে কি না, কালার আসল ছবির মতো কি না, ওয়ারেন্টি কত দিন। কাপড়, জুতা, ঘড়ি, গ্যাজেট, ফার্নিচার, এসব প্রোডাক্টে কথা বললে ভরসা বাড়ে। গ্রামের দিকের কাস্টমার, যাঁরা ওয়েবসাইটের ফর্ম পূরণ করতে স্বচ্ছন্দ না, তাঁদের কাছেও চ্যাট সহজ। অন্যদিকে যে প্রোডাক্টের সব কথা এক পেজেই বলা যায়, দামও কম, সেখানে ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্ম কম ঝামেলায় বেশি অর্ডার আনে।

বুস্ট করার সময় যে "Get more WhatsApp messages" গোলটা দেখেন, সেটাও একই রকম কাজ করে, তবে কম অপশনে। বুস্টে মেসেজ আর ওয়েবসাইট গোলের পার্থক্য ফেসবুক বুস্ট করার নিয়মের লেখায় আছে। এখানে বলছি Ads Manager দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ রেখে চালানোর কথা।
আগে যা লাগবে, WhatsApp Business নম্বর পেজের সাথে জোড়া
Meta-র ওই পেজে শুরুর আগের শর্ত দুটো লেখা আছে। একটা WhatsApp Business অ্যাকাউন্ট, যেটা WhatsApp Business অ্যাপ নামিয়ে খোলা যায়, আর সেই অ্যাকাউন্ট ফেসবুক পেজের সাথে জোড়া থাকতে হবে, আপনি পেজের অ্যাডমিন হয়ে। সাধারণ WhatsApp অ্যাপের নম্বর দিয়ে এই অ্যাড হয় না। নম্বরটা কোন সিমে খুলবেন আর পুরনো চ্যাট না হারিয়ে কীভাবে বিজনেস অ্যাপে সরাবেন, সেটা WhatsApp Business অ্যাকাউন্ট খোলার লেখায় ধাপে ধাপে আছে।
পেজের সাথে জোড়ার নিয়ম Meta Business Help Centre-এর "Connect your Facebook Page to WhatsApp" পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে এমন লেখা আছে। পেজে সুইচ করে Settings খুলুন, Permissions অংশে Linked accounts, তারপর WhatsApp। দেশের কোড বেছে নম্বর দিন, Send WhatsApp code চাপুন, WhatsApp-এ আসা কোড বসিয়ে Confirm।
এখানে একটা সিদ্ধান্ত খুব জরুরি, আর এটা Meta-র পেজে লেখা থাকবে না। অ্যাডে যে নম্বর যাবে, সেই ফোনটা থাকবে এমন একজনের হাতে, যিনি অ্যাড চলার পুরো সময় চ্যাট ধরবেন। মালিকের পকেটের ফোন, যেটা মিটিংয়ে সাইলেন্ট থাকে, এই কাজের জন্য না। চ্যাট দুই-তিন ঘণ্টা পড়ে থাকলে অ্যাডের টাকা খরচ হয়েই গেছে, কিন্তু কাস্টমার ততক্ষণে অন্য পেজের সাথে কথা বলছেন। এক ঘণ্টা পরে উত্তর পাওয়া চ্যাট খুব কমই অর্ডারে গড়ায়, চ্যাটে বিক্রি করা যে কেউ প্রথম মাসেই এটা টের পান।
অ্যাড চালু করার আগের দিন WhatsApp Business-এ অ্যাওয়ে মেসেজ আর খোলার সময়টা সেট করে নিন। রাতে অ্যাড চললে আর কেউ না থাকলে অন্তত এটা যাবে যে সকাল কয়টায় উত্তর পাবেন।
ধাপে ধাপে অ্যাড বানানো, কোন গোল আর কোন জায়গায়
Meta-র "Create ads that click to WhatsApp in Ads Manager" পেজে বলা আছে, এই অ্যাড Traffic, Engagement, Leads, Sales বা Awareness, কয়েকটা objective দিয়েই বানানো যায়, আর objective ভেদে ধাপ একটু আলাদা। ছোট দোকানের শুরুর জন্য Engagement objective-এর ধাপগুলো সবচেয়ে সোজা। ২০২৬ সালের অক্টোবরে ওই পেজে যেভাবে লেখা, সংক্ষিপ্ত করে বলছি।
- Ads Manager খুলে Create চাপুন, objective হিসেবে Engagement বেছে Continue।
- ক্যাম্পেইনের একটা নাম দিন, Next।
- অ্যাড সেটে Conversion অংশে conversion location হিসেবে Message destinations বাছুন।
- Facebook Page-এর ঘরে আপনার পেজ দিন। পেজের সাথে জোড়া WhatsApp নম্বরটাই এই অ্যাডে যাবে।
- Message destinations-এর নিচে WhatsApp-এ টিক দিন। ধূসর দেখালে Connect account চেপে নম্বর জুড়ুন।
- Performance goal দেখে নিন, তারপর বাজেট, সময় আর অডিয়েন্স ঠিক করে Next।
- অ্যাডের ছবি বা ভিডিও আর লেখা দিন। Message template অংশে Create new চেপে প্রথম মেসেজ সাজান, Save।
- সব মিলিয়ে দেখে Publish।

বাজেট আর অডিয়েন্সের সাধারণ নিয়ম যেকোনো ফেসবুক অ্যাডের মতোই। প্রথম অ্যাডে অডিয়েন্স অনেক ছোট করে ফেলবেন না, আর প্রথম দুই-তিন দিন বারবার এডিট করবেন না। এটা ছাড়া একটা বিষয় WhatsApp অ্যাডে আলাদা। অ্যাডের সময়টা ঠিক করবেন চ্যাট ধরার মানুষের কাজের সময় দেখে। আপনার মডারেটর সকাল দশটা থেকে রাত দশটা থাকলে অ্যাডও মোটামুটি সেই সময়েই চলুক।
একটা জিনিস অনেককে বিভ্রান্ত করে। Ads Manager-এ ফলাফলের ঘরে যে সংখ্যা দেখায়, অনেক সময় তার নাম Messaging conversations started। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী এটা গোনে কতজন অ্যাড থেকে নতুন করে কথা শুরু করলেন, বা অন্তত সাত দিন চুপ থাকার পর আবার লিখলেন। মানে ৮০টা কনভারসেশন দেখে ৮০টা অর্ডার ভাববেন না। প্রতিদিন সন্ধ্যায় Ads Manager-এর এই সংখ্যার পাশে নিজের খাতার সেদিনের অর্ডার সংখ্যাটা লিখে রাখুন। দুটোর মাঝের ফাঁকটাই বলে দেবে আপনার চ্যাট কতটা কাজ করছে।
প্রথম মেসেজ আর রেডি প্রশ্ন সাজানো
Meta-র পেজে Message template অংশে Start conversation নামে একটা ধরন আছে, যেখানে একটা স্বাগত মেসেজ আর কিছু প্রশ্ন বা মেসেজ সাজিয়ে রাখা যায়, যেগুলো মানুষ ট্যাপ করে পাঠাতে পারেন। এই অংশটা যত্ন করে সাজালে মডারেটরের অনেক টাইপ করা এখানেই বেঁচে যায়।
স্বাগত মেসেজে শুধু "স্বাগতম" লিখবেন না। লিখুন প্রোডাক্টের নাম, দাম আর ডেলিভারি চার্জ, এক-দুই লাইনে। যেমন, "আসসালামু আলাইকুম! চামড়ার বেল্টটা ৯৯০ টাকা, ঢাকায় ডেলিভারি চার্জ ৮০ টাকা, বাইরে ১৩০ টাকা। ক্যাশ অন ডেলিভারি।" যিনি দাম দেখে পিছিয়ে যাবেন, তিনি এখানেই চলে যান, আর আপনার মডারেটরের সময় বাঁচে।
প্রশ্নের বাটন রাখুন কাস্টমার যেভাবে জিজ্ঞেস করেন সেভাবে। "অর্ডার করতে চাই", "সাইজ কীভাবে মিলাব?", "আসল চামড়া তো?"। প্রথমটা সবচেয়ে জরুরি, কারণ যিনি কিনতে তৈরি তিনি এক ট্যাপেই সেটা জানিয়ে দেন, আর আপনি তাঁর চ্যাট আগে ধরতে পারেন।

WhatsApp Business অ্যাপের কুইক রিপ্লাইতে এই তিন প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে লিখে রাখুন, যাতে মডারেটর এক চাপে পাঠাতে পারেন। আর লেবেল দিয়ে চ্যাটগুলো সেদিনই ভাগ করুন, যেমন "ঠিকানা চাওয়া হয়েছে", "অর্ডার হয়েছে", "পরে জানাবে"। পরদিন সকালে "পরে জানাবে" লেবেলের চ্যাটগুলোতে একটা নরম ফলোআপ দিন। এই ফিচারগুলো দিয়ে চ্যাট গোছানোর পুরো নিয়ম হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়ার লেখায় আছে।
১০০টা চ্যাট থেকে কয়টা অর্ডার, খরচের হিসাব (উদাহরণ)
কত চ্যাট থেকে কত অর্ডার হবে, তার কোনো বাঁধা হার নেই। প্রোডাক্ট, দাম, এলাকা আর আপনার উত্তরের গতির ওপর এটা অনেক বদলায়। তাই একটা হিসাবের ধরন দেখাচ্ছি। নিচের সব সংখ্যা উদাহরণ, কোনো দোকানের মাপা ফল না।
ধরুন আপনি ৯৯০ টাকায় চামড়ার বেল্ট বেচেন, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। কেনা আর প্যাকেট বাদ দিয়ে একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে হাতে থাকে ৩৮০ টাকা। একটা পার্সেল ফেরত এলে যায় ১৪০ টাকা। এক সপ্তাহে অ্যাডে খরচ হলো ৩,০০০ টাকা, Ads Manager দেখাল ১০০টা কনভারসেশন। মানে প্রতিটা ৩০ টাকা, দেখতে খুবই ভালো।
এবার চ্যাটগুলো খুলে গুনুন। ১৮ জন শুধু বাটন চেপে প্রথম মেসেজটা পাঠিয়েছেন, তারপর আর কিছু লেখেননি। ৩০ জন দাম বা সাইজ জিজ্ঞেস করে উত্তর পেয়ে চুপ। ১২ জন বলেছেন "পরে জানাব"। বাকি ৪০ জনকে ঠিকানার মেসেজ পাঠানো গেছে। ১৮ + ৩০ + ১২ + ৪০ মিলে ঠিক ১০০। এই ৪০ জনের ৩২ জন পুরো ঠিকানা দিয়েছেন, ফোনে কনফার্ম হয়েছে ২৮টা। ২৮টা পার্সেল গেল, ডেলিভারি হলো ২৪টা, ফেরত এলো ৪টা।

হাতে এলো ২৪ × ৩৮০ = ৯,১২০ টাকা। ফেরতে গেল ৪ × ১৪০ = ৫৬০ টাকা। অ্যাডের ৩,০০০ টাকা বাদ দিলে থাকল ৯,১২০ − ৫৬০ − ৩,০০০ = ৫,৫৬০ টাকা। এখন আসল সংখ্যাটা দেখুন। একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আনতে অ্যাড আর ফেরত মিলে গেল (৩,০০০ + ৫৬০) ÷ ২৪ = প্রায় ১৪৮ টাকা। Ads Manager দেখাচ্ছিল ৩০ টাকা, আসল খরচ তার প্রায় পাঁচ গুণ।
এই হিসাবে অ্যাড লাভে চলছে। তবে মডারেটরের পুরো সপ্তাহের সময় এর মধ্যে ধরা নেই, আর তাঁর বেতন এই লাভ থেকেই যাবে। এখানে আমি একটা নিয়মে অনড়, কনভারসেশন প্রতি খরচ দেখে বাজেট বাড়াবেন না। প্রতি সপ্তাহে "একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে মোট খরচ" বের করুন, সিদ্ধান্ত নিন সেটা দেখে। আর ওপরের ১৮ আর ৩০, এই দুই দলের সংখ্যা যদি খুব বড় হয়, তাহলে সমস্যা অ্যাডে না, স্বাগত মেসেজে বা উত্তরের গতিতে।
চ্যাটকে অর্ডারে বদলানো, ঠিকানা নেওয়ার এক মেসেজ
চ্যাটে অর্ডার আটকে যায় সাধারণত একটা জায়গায়। মডারেটর একবারে একটা করে তথ্য চান। আগে নাম, উত্তর এলো আধা ঘণ্টা পরে। তারপর ঠিকানা, উত্তর এলো বিকেলে। তারপর থানা। এভাবে একটা অর্ডার নিতে পুরো দিন চলে যায়, আর মাঝপথে অনেকে উত্তর দেওয়াই বন্ধ করে দেন।
তাই কাস্টমার কিনতে রাজি হলে সব তথ্য এক মেসেজে চান, প্রতিটা লাইনে একটা করে।
"অর্ডার করতে নিচের তথ্যগুলো এক মেসেজে পাঠিয়ে দিন ভাই।"
- আপনার নাম
- পুরো ঠিকানা, বাসা আর রোডসহ
- থানা আর জেলা
- যে নম্বরে ফোন ধরেন
- সাইজ বা কালার
থানা আলাদা করে চাওয়ার কারণ আছে। শুধু "মিরপুর" বা "সদর" লিখলে কুরিয়ার অনেক সময় ভুল এলাকায় পার্সেল পাঠায়, আর রাইডার ফোন দিয়ে দিয়ে ঠিকানা খোঁজেন। নম্বরটাও আলাদা করে চান, কারণ যে নম্বর থেকে WhatsApp চলে, সেটাতে অনেকে কল ধরেন না।
তথ্য পাওয়ার পরে পুরো অর্ডারটা এক মেসেজে আবার লিখে পাঠান, প্রোডাক্ট, সাইজ, মোট টাকা আর ঠিকানাসহ। কাস্টমার "ঠিক আছে" লিখলে তবেই অর্ডার খাতায় তুলুন। আর পার্সেল পাঠানোর আগে নম্বরটার পুরনো কুরিয়ার রেকর্ড একবার দেখে নিন। যে নম্বরের আগের পার্সেলের বেশিরভাগ ফেরত গেছে, সেখানে পাঠানোর আগে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চাওয়াই ভালো। নম্বর দিয়ে রেকর্ড দেখার জন্য একটা ফ্রি ফ্রড চেকার আছে, অ্যাকাউন্ট খোলা লাগে না।

WinningSeller-এ এই কাজটা হাতে টাইপ করতে হয় না। "নতুন অর্ডার" খুলে "স্মার্ট পেস্ট" ঘরে কাস্টমারের পুরো মেসেজটা পেস্ট করে "পড়ে বসিয়ে দিন" চাপলে নাম, মোবাইল, ঠিকানা আর পরিমাণ নিজে থেকেই ফর্মে বসে যায়, ঢাকার ভেতরে না বাইরে সেটাও দেখায়। বাংলা অঙ্কে লেখা নম্বরও চলে। মেসেজে প্রোডাক্টের নাম থাকলে সেটাও খুঁজে দেয়, আপনি শুধু মিলিয়ে নেন। নম্বর বসানোর সাথে সাথে ওই নম্বরের আগের অর্ডার আর জানা কুরিয়ার রেকর্ডও দেখায়, যদি আপনার কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করা থাকে। দুটো সীমাও জেনে রাখুন। WinningSeller আপনার WhatsApp চ্যাট পায় না, মেসেজ কপি করে আনতে হয় আপনাকেই। আর এভাবে হাতে তোলা অর্ডার ফেসবুকে Purchase হিসেবে যায় না, কারণ এর সাথে কোনো অ্যাড ক্লিকের তথ্য থাকে না।
কখন WhatsApp অ্যাড চালাবেন না
কয়েকটা অবস্থায় এই অ্যাড টাকা আনে কম, নেয় বেশি।
অ্যাড চলার সময় যদি চ্যাট ধরার কেউ না থাকেন, তাহলে চালাবেন না। আপনি চাকরির পাশাপাশি দোকান চালান, রাতে ছাড়া সময় পান না, এমন হলে দিনের অ্যাডের চ্যাট রাতে গিয়ে প্রায় সবই ঠান্ডা। তখন ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্মের অ্যাড ভালো, যেখানে কাস্টমার নিজেই অর্ডার রেখে যান আর আপনি পরে ফোন দেন।
প্রোডাক্টের দাম খুব কম হলে, ধরুন তিন-চারশো টাকা, একটা চ্যাট চালাতে মডারেটরের যে সময় যায়, তার দাম অনেক সময় লাভের চেয়ে বেশি। আর আপনি যদি চান অ্যাড নিজে শিখুক কারা আসলে কেনেন, তাহলেও WhatsApp অ্যাড দুর্বল। ফ্রি WhatsApp Business অ্যাপ দিয়ে চালালে চ্যাটে হওয়া অর্ডারের খবর সাধারণত অ্যাডে ফেরত যায় না, তাই অ্যাড শেখে কারা কথা শুরু করেন, কারা কেনেন তা না। এই কাজে ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্ম আর পিক্সেল অনেক ভালো। শেষে, ঈদের মতো ভিড়ের সময় যদি দিনে শত শত চ্যাট আসে আর আপনার মানুষ একজন, তাহলে বাজেট কমিয়ে রাখুন। উত্তর না পাওয়া চ্যাট শুধু টাকার ক্ষতি না, পেজের নামেরও ক্ষতি।
আজই করে ফেলুন
প্রথম টাকাটা খরচ করার আগের দিন এই কাজগুলো সেরে রাখুন।
- পেজের Settings থেকে Linked accounts খুলে দেখুন WhatsApp Business নম্বর জোড়া আছে কি না, না থাকলে জুড়ে নিন।
- ঠিক করুন অ্যাডের নম্বরের ফোনটা সারাদিন কার হাতে থাকবে, আর তাঁর কাজের সময় অনুযায়ী অ্যাডের সময় লিখে রাখুন।
- WhatsApp Business-এ অ্যাওয়ে মেসেজ, খোলার সময় আর তিনটা কুইক রিপ্লাই সেভ করুন।
- দাম আর ডেলিভারি চার্জসহ দুই লাইনের স্বাগত মেসেজ লিখুন, আর তিনটা প্রশ্নের বাটনের লেখা ঠিক করুন।
- পাঁচ লাইনের ঠিকানা চাওয়ার মেসেজটা কুইক রিপ্লাইতে রাখুন।
- একটা খাতা বা শিটে কলাম বানান, তারিখ, Ads Manager-এর কনভারসেশন, অর্ডার, ডেলিভারি আর ফেরত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভরবেন।
অ্যাড শুধু মানুষকে আপনার দরজায় আনে। দরজা খুলে কথা বলা, ঠিকানা নেওয়া আর পার্সেল পাঠানো, ওই কাজগুলোই ঠিক করে দেয় অ্যাডের টাকাটা ফেরত আসবে কি না।
সাধারণ প্রশ্ন
Click to WhatsApp অ্যাড কি?
এটা ফেসবুক বা Instagram-এর এমন অ্যাড, যেটায় Send message বা WhatsApp বাটনে চাপ দিলে মানুষ ওয়েবসাইটে না গিয়ে সরাসরি আপনার WhatsApp নম্বরের চ্যাটে চলে আসেন। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী এর জন্য WhatsApp Business নম্বর লাগে, যেটা ফেসবুক পেজের সাথে জোড়া থাকতে হয়। অর্ডার তারপর চ্যাটে কথা বলে নিতে হয়।
WhatsApp অ্যাড চালাতে কি WhatsApp Business অ্যাপ লাগবেই?
হ্যাঁ, অথবা WhatsApp Business-এর API। সাধারণ WhatsApp অ্যাপের নম্বর দিয়ে এই অ্যাড চালানো যায় না। ছোট দোকানের জন্য ফ্রি WhatsApp Business অ্যাপটাই যথেষ্ট, আর সেই নম্বর পেজের সেটিংসের Linked accounts থেকে জুড়ে নিতে হয়।
অ্যাড বানানোর সময় WhatsApp অপশন ধূসর দেখাচ্ছে কেন?
সাধারণত কারণ পেজের সাথে কোনো WhatsApp নম্বর জোড়া নেই। Meta-র হেল্প পেজ বলছে, এমন হলে Message destinations-এর পাশে Connect account চেপে দেশের কোড আর নম্বর দিয়ে জুড়ে নিতে হয়। নম্বরটা অন্য কোনো ফেসবুক বিজনেসের সাথে আগে জোড়া থাকলেও আটকে যায়।
Click to WhatsApp অ্যাডে খরচ কত?
কোনো বাঁধা দাম নেই। খরচ নির্ভর করে বাজেট, অডিয়েন্স, প্রোডাক্ট আর অ্যাডের মানের ওপর, আর Ads Manager দেখায় একটা কথোপকথন শুরু করাতে কত গেল। আসল হিসাবটা হলো অ্যাড আর ফেরত পার্সেলের মোট খরচ ভাগ ডেলিভারি হওয়া অর্ডার, সেটা নিজে বের করতে হয়।
Messaging conversations started মানে কী?
Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী এটা গোনে কতজন অ্যাড থেকে আপনার সাথে নতুন কথা শুরু করলেন, বা অন্তত সাত দিন চুপ থাকার পর আবার লিখলেন। এর মানে অর্ডার না, শুধু কথা শুরু। কয়টা থেকে অর্ডার হলো, সেটা নিজের খাতায় গুনতে হয়।
WhatsApp অ্যাড ভালো, নাকি ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্মের অ্যাড?
প্রোডাক্ট আর আপনার টিমের ওপর নির্ভর করে। যে প্রোডাক্টে কাস্টমার কেনার আগে প্রশ্ন করেন আর আপনার সারাদিন চ্যাট ধরার মানুষ আছে, সেখানে WhatsApp অ্যাড ভালো চলে। যেখানে পেজেই সব উত্তর দেওয়া যায় আর আপনি চান অ্যাড আসল কেনাকাটা থেকে শিখুক, সেখানে ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্ম আর পিক্সেল ভালো।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


