WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

ক্রোকারিজ ব্যবসা অনলাইনে, প্লেট আস্ত পৌঁছাবে তো? কেনা থেকে লাভের হিসাব

ক্রোকারিজের দোকান দেখে লোভ হয়, কিন্তু অনলাইনে প্লেট আস্ত পৌঁছাবে তো? কোন জিনিস দিয়ে শুরু করবেন, পাইকারি কোথায় কিনবেন, কাস্টমারকে মেটেরিয়াল নিয়ে কী বলবেন, সেট কীভাবে প্যাক করবেন আর ভাঙার খরচ দামে কীভাবে ধরবেন, টাকার হিসাবসহ।

ক্রোকারিজ ব্যবসা অনলাইনে, প্লেট আস্ত পৌঁছাবে তো? কেনা থেকে লাভের হিসাব
এই লেখায় যা আছে
  1. ক্রোকারিজ ব্যবসায় অনলাইনে কোন জিনিস চলে, কোনটা ঝুঁকির?
    1. কখন ক্রোকারিজ দিয়ে শুরু করবেন না
  2. ক্রোকারিজ পাইকারি বাজার কোথায়?
  3. মেলামাইন, সিরামিক, কাচ আর স্টিল, কাস্টমারকে কী বলবেন?
  4. ছয় প্লেটের সেট ধরে ভাঙা ঠেকানোর প্যাকিং
  5. ভাঙার খরচ দামে ধরবেন কীভাবে (উদাহরণ)
  6. সেট আর কম্বো, কোথায় লাভ
  7. ভাঙা পৌঁছালে কী করবেন?
  8. আজই করে ফেলুন

ক্রোকারিজ ব্যবসা অনলাইনে করা যায়, তবে দোকানের মতো সব জিনিস দিয়ে না। মেলামাইন, স্টিল আর মোটা সিরামিকের মগ বা প্লেট ঠিকমতো প্যাক করলে কুরিয়ারে টিকে যায়। পাতলা কাচের গ্লাস সেট আর পাতলা চায়ের কাপ পথে সবচেয়ে বেশি ভাঙে। তাই শুরু করুন অল্প কয়েকটা টেকসই আইটেম দিয়ে। প্রতিটা পিস আলাদা কাগজে মুড়ে প্লেট খাড়া করে প্যাক করুন, আর দাম ঠিক করার সময় ভাঙার খরচ আগেই ধরে রাখুন। কারণ ভাঙলে ক্ষতিটা প্রায় সবসময় আপনার, কুরিয়ারের না।

ধরুন চকবাজারের একটা দোকানে দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে তাকে সাজানো ডিনার সেট, ফুল আঁকা মগ, ঝকঝকে গ্লাস। পাইকারি দাম শুনে মনে মনে হিসাব করছেন, ফেসবুকে এর দেড়-দুই গুণে তো সহজেই চলবে। তারপর মাসখানেক পরে এক সন্ধ্যায় ফোন আসে, "ভাই, ছয়টা প্লেটের দুইটা ভাঙা।" ওই একটা ফোনেই অনেক নতুন সেলারের ক্রোকারিজের শখ মিটে যায়। নিচের কথাগুলো সেই ফোনটা যেন কম আসে, আর এলেও যেন মাসের লাভটা খেয়ে না ফেলে, সেজন্য লেখা।

ক্রোকারিজ ব্যবসায় অনলাইনে কোন জিনিস চলে, কোনটা ঝুঁকির?

দোকানে কাস্টমার নিজের হাতে প্লেট তুলে ব্যাগে ভরে নিয়ে যান। অনলাইনে আপনার প্লেটের যাত্রা অনেক লম্বা। পিকআপের লোক নিয়ে যান হাবে, সেখানে অন্য শত শত পার্সেলের সাথে বাছাই হয়, তারপর ভ্যানে জেলার হাবে, শেষে রাইডারের বাইকের পেছনে বস্তায়। প্রতিবার হাত বদলের সময় পার্সেলের ওপর অন্য পার্সেল পড়ে, কখনো ছুড়েও দেওয়া হয়। তাই অনলাইনে ক্রোকারিজ বাছাইয়ের প্রশ্নটা "দেখতে সুন্দর কি না" না, প্রশ্নটা হলো "ধাক্কা খেলে টিকবে কি না"।

সবচেয়ে নিরাপদ হলো মেলামাইন আর স্টিল। মেলামাইনের প্লেট-বাটি হালকা, হাত থেকে পড়লে সাধারণত ভাঙে না। তবে একেবারে ভাঙে না এমনও না, জোরে আছাড় খেলে কিনারায় চিড় ধরতে পারে। স্টিলের প্লেট, বাটি আর গ্লাসে ভাঙার ভয়ই নেই। স্টিলের ঝামেলা অন্য জায়গায়, চাপ খেলে টোল পড়ে, আর কাস্টমার টোল পড়া বাটিকে নতুন মনে করেন না।

মোটা সিরামিকের মগ আর ডিনার প্লেটে ঝুঁকি মাঝামাঝি। মগের শরীর শক্ত, কিন্তু হাতলটা বাইরে বেরিয়ে থাকে, তাই ধাক্কা প্রথমে ওখানেই লাগে। ভাঙা মগের অভিযোগ এলে বেশিরভাগ সময় দেখবেন হাতলটাই খুলে এসেছে। সিরামিকের প্লেট মাঝখান থেকে কম ভাঙে, কিনারা থেকে ছোট টুকরো উঠে যায় বেশি। একে চিপ বলে, আর কাস্টমারের চোখে চিপ পড়া প্লেট মানেই ভাঙা প্লেট।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি পাতলা কাচে। পাতলা কাচের গ্লাস সেট, কাচের বাটির সেট, লম্বা ফুলদানি বা আলাদা ঢাকনার কাচের জার একটু অসাবধান প্যাকিংয়েই ফাটে। দোকানে এগুলোই সবচেয়ে চোখ টানে, আর অনলাইনে এগুলোই সবচেয়ে বেশি লস করায়। একটা কথা শুনে রাখুন, আমি সবাইকেই এটা বলি, দোকানে যেটা সবচেয়ে বেশি চোখ টানে, প্রথম অর্ডারের লিস্ট থেকে সেটাই আগে কাটুন।

টেবিলে পাশাপাশি রাখা মেলামাইনের ফুল আঁকা প্লেট, স্টিলের বাটি, মোটা সিরামিকের মগ আর পাতলা কাচের গ্লাস সেট, পাশে একজন তরুণ সেলার আঙুল দিয়ে মগের হাতল দেখাচ্ছেন
দোকানে সবই সুন্দর, কিন্তু পার্সেলে টেকে মেলামাইন, স্টিল আর মোটা সিরামিক

কখন ক্রোকারিজ দিয়ে শুরু করবেন না

আপনার বেশিরভাগ কাস্টমার যদি ঢাকার বাইরের হন, আর আপনি অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ নিতে না পারেন, তাহলে ক্রোকারিজ এখনই না। দূরের পার্সেল বেশি হাত ঘোরে, আর কেউ দরজা থেকে ফেরত দিলে সেই পার্সেল একই পথে আবার ফিরে আসে। মানে ভাঙার সুযোগ দুইবার।

বাসায় জায়গা না থাকলেও না। ক্রোকারিজের কার্টন ভারী আর বড়, খাটের নিচে ঠেলে রাখার জিনিস না। আর একা যদি দিনে অনেক অর্ডার সামলান, মাথায় রাখুন, একটা প্লেট সেট ঠিকমতো প্যাক করতে কাপড়ের পার্সেলের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। এই অবস্থায় প্লাস্টিক আর সিলিকনের কিচেন আইটেম দিয়ে শুরু করুন। পাইকারি মার্কেটের লেখায় এই কারণেই নতুনদের ওদিক থেকে শুরু করতে বলা হয়েছে।

ক্রোকারিজ পাইকারি বাজার কোথায়?

সৎ কথাটা আগে বলি। ঢাকায় শুধু ক্রোকারিজের জন্য আলাদা কোনো নামকরা পাইকারি মার্কেটের নাম নির্ভরযোগ্য পত্রিকার রিপোর্টে পাওয়া যায় না। ইউটিউব আর ব্লগে অনেক নাম ঘোরে, কিন্তু তারিখ আর সোর্সসহ লেখা কম। যেটুকু রিপোর্টে আছে, সেটা পুরান ঢাকার চকবাজার। The Business Standard বাংলা জানুয়ারি ২০২৪-এ চকবাজারের ইতিহাস নিয়ে যে লেখা ছেপেছে, সেখানে এখানকার মালের লম্বা লিস্টে বাসন-কোসনের নামও আছে। চকবাজারে কীভাবে যাবেন, কোন দিন বন্ধ থাকে, সেটা চকবাজার পাইকারি মার্কেটের লেখায় আছে। শুক্রবার পুরো বন্ধ, শনিবার কিছু দোকান বন্ধ পেতে পারেন।

চট্টগ্রামের দিকে হলে হাজী গোলাম রসুল মার্কেটের নাম শুনবেন, এটা রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায়। Business Today 24 মার্চ ২০২১-এ লিখেছিল, মার্কেটে ৪০০-র বেশি পাইকারি আর খুচরা দোকান আছে, তার দ্বিতীয় আর তৃতীয় তলা মূলত ক্রোকারিজের। সিরামিক, কাচ, ফাইবার আর মেলামাইন সবই পাওয়া যায়, বেশিরভাগ আসে চীন আর ভারত থেকে। খবরটা পুরনো, আর সুপ্রভাত বাংলাদেশ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মার্কেটটিতে আগুন লাগার খবর দিয়েছে, ক্ষতির পুরো হিসাব তখনো জানা যায়নি। তাই যাওয়ার আগে কোনো দোকানে ফোন করে জেনে নিন।

তৃতীয় রাস্তা হলো কারখানা। দেশেই মেলামাইনের কারখানা আছে, আর অনেকের ডিস্ট্রিবিউটর কার্টন ধরে বেচেন। কোন কারখানার BSTI লাইসেন্স আছে, সেটা BSTI-র ওয়েবসাইটে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের লিস্টে খুঁজে দেখা যায়। লাইসেন্স আছে এমন জায়গা থেকে কিনলে মেটেরিয়াল নিয়ে কাস্টমারের প্রশ্নে আপনার উত্তর দেওয়া সহজ হয়।

যেখান থেকেই কিনুন, দোকানে দাঁড়িয়ে কয়েকটা কাজ নিজের হাতে করুন। পাইকারি দাম সাধারণত ডজনে বলা হয়, পিসে না। "সেট" বললে জিজ্ঞেস করুন সেটে ঠিক কয় পিস, শুধু ছয়টা প্লেট নাকি ছয়টা প্লেট আর ছয়টা বাটি। প্রতিটা পিস আলোর দিকে ধরে দেখুন, কিনারায় আঙুল বুলিয়ে চিপ খুঁজুন, তলাটা উল্টে দেখুন। সিরামিকের প্লেটে আঙুলের গিঁট দিয়ে হালকা টোকা দিলে ভালো পিসে পরিষ্কার টুং শব্দ হয়, ভেতরে চিড় থাকলে আওয়াজটা ভোঁতা শোনায়।

পুরান ঢাকার একটা ক্রোকারিজের দোকানে একজন তরুণ সেলার একটা সাদা সিরামিকের প্লেট আলোর দিকে তুলে কিনারা দেখছেন, পাশে দোকানি কার্টন থেকে আরও প্লেট বের করছেন
প্রতিটা পিস আলোয় ধরে দেখুন, কিনারার চিপ বাসায় এসে ধরা পড়লে আর কিছু করার থাকে না

আরেকটা জিনিস প্রথমবার প্রায় সবাই মিস করেন, সেটা লটের রং। সাদা প্লেটও আলাদা লটে আলাদা শেডের হয়। ছয়টা প্লেট দুই লট থেকে এলে কাস্টমার টেবিলে পাশাপাশি রাখলেই ফারাকটা ধরে ফেলেন। তাই একটা সেটের সব পিস এক লট থেকে নিন। আর প্রতি ডজনে এক-দুইটা বাড়তি পিস কিনে রাখুন। পরে ভাঙা পৌঁছালে এই বাড়তি পিসগুলোই আপনাকে পুরো সেট বদলানোর খরচ থেকে বাঁচাবে। মাল আনার সময় রিকশা বা ভ্যানে কার্টন খাড়া রাখুন, ওপরে ভারী কিছু চাপাবেন না, আর বাসায় এসে আবার গুনে দেখুন।

মেলামাইন, সিরামিক, কাচ আর স্টিল, কাস্টমারকে কী বলবেন?

কমেন্ট আর ইনবক্সে তিনটা প্রশ্ন বারবার আসবে। "ভাই, এটা কি ভাঙে?", "মাইক্রোওভেনে দেওয়া যাবে?", "গরম ভাত দিলে কিছু হবে?" উত্তরগুলো আন্দাজে দেবেন না, বক্সে বা প্লেটের তলায় যা লেখা আছে সেখান থেকে দিন। কারণ আজকে বিক্রির জন্য একটা বাড়তি কথা বললে কাল সেই কথাটাই রিটার্ন আর খারাপ রিভিউ হয়ে ফিরে আসে।

একটা সরকারি নিয়মও জেনে রাখুন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে BSTI-র বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের লিস্টের পেজে ৩১৫টা আইটেমের যে মূল লিস্ট আছে (২০২৬ সালে তার সাথে আরও কিছু আইটেম যোগ হয়েছে), তাতে সিরামিকের টেবিলওয়্যার, মেলামাইন মোল্ডিং কম্পাউন্ডের টেবিলওয়্যার আর কাচের টেবিলওয়্যারের নাম আছে। মানে এগুলো বাজারে আনতে BSTI-র সার্টিফিকেশন লাগে। লাইসেন্সটা সাধারণত নেন যিনি বানান বা বিদেশ থেকে আনেন। আপনি রিসেলার হলে পাইকারকে জিজ্ঞেস করুন বক্সে BSTI-র মার্ক আছে কি না, থাকলে ছবিতে সেটা দেখান। নিজের নামে বানাতে বা আমদানি করতে চাইলে কী কাগজ লাগবে, সেটা BSTI-র অফিসে বা একজন কনসালট্যান্টের কাছে জেনে নিন। এই লেখা সেই অংশ কভার করে না।

কোন মেটেরিয়ালে কী বলা যায় আর কী বলা যায় না, নিচে মোটামুটি একটা ছক দিলাম।

মেটেরিয়াল যা বলতে পারেন যা বলবেন না
মেলামাইন হালকা, হাত থেকে পড়লে সহজে ভাঙে না, ছুরির দাগ বা হলুদের দাগ পড়তে পারে "আনব্রেকেবল", "একদম স্বাস্থ্যসম্মত", বক্সে না লেখা থাকলে "মাইক্রোওয়েভ সেফ"
সিরামিক ভারী, দেখতে দামি, বক্সে লেখা থাকলে মাইক্রোওয়েভে চলে "কখনো ভাঙবে না", "চিপ পড়ে না"
কাচ স্বচ্ছ, দাগ ধরে না, পরিষ্কার করা সহজ বক্সে না লেখা থাকলে "ফুটন্ত চা ঢাললেও কিছু হবে না"
স্টিল ভাঙে না, অনেক দিন চলে, চাপে টোল পড়তে পারে সাপ্লায়ারের কাগজ ছাড়া "ফুড গ্রেড ৩০৪"

"ফুড গ্রেড", "BPA ফ্রি", "লেড ফ্রি", এই কথাগুলো তখনই লিখবেন যখন বক্সে লেখা আছে বা সাপ্লায়ার কাগজ দিয়েছেন। আর নাম ছাড়া কোনো সেটকে কোনো নামকরা ব্র্যান্ডের নামে বেচবেন না। এতে শুধু কাস্টমার ঠকেন না, ব্র্যান্ডের মালিক অভিযোগ করলে আপনার পেজও বিপদে পড়ে।

শেষ কথাটা মাপ নিয়ে। "বড় প্লেট" লিখলে একজন ভাবেন ভাতের প্লেট, আরেকজন ভাবেন নাশতার। দর্জির ফিতা দিয়ে মেপে ইঞ্চিতে লিখুন, আর ছবিতে প্লেটের পাশে একটা চামচ বা হাত রাখুন, যাতে আকারটা চোখে বোঝা যায়। "যত বড় ভেবেছিলাম তত বড় না" ধরনের রিটার্ন এতেই অনেক কমে।

ছয় প্লেটের সেট ধরে ভাঙা ঠেকানোর প্যাকিং

কাচের বয়াম আর বোতল প্যাকের পুরো নিয়ম প্যাকেজিংয়ের লেখায় আছে। এখানে শুধু প্লেট আর মগ, ছয় প্লেটের একটা সেট ধরে।

  1. প্রতিটা প্লেট আলাদা করে সাদা কাগজে মুড়ুন। খবরের কাগজ দেবেন না। ঘষা লেগে কালি সাদা সিরামিকে দাগ বসায়, আর কাস্টমার বক্স খুলে প্রথমেই দেখেন ছাই রঙের দাগ।
  2. দুই প্লেটের মাঝে একটা কার্ডবোর্ডের টুকরো দিন। মোড়ানো প্লেটও একটা আরেকটার গায়ে ঘষা খেলে কিনারায় চিপ পড়ে।
  3. প্লেট শুইয়ে না, খাড়া করে বসান, তাকে বই যেমন দাঁড়িয়ে থাকে। শোয়ানো স্তূপে ওপর থেকে চাপ পড়লে সবটা ভার নিচের প্লেটে যায়। খাড়া প্লেটে চাপটা কিনারা বরাবর ভাগ হয়ে যায়।
  4. ৫ প্লাইয়ের কার্টন নিন, প্লেটের চেয়ে চারদিকে দুই-তিন আঙুল বড়। তলায় আর চারপাশে দলা পাকানো কাগজের বিছানা দিন, যাতে কোনো প্লেট কার্টনের দেয়ালে সরাসরি না লাগে।
  5. মগের ভেতরে কাগজ ভরে দিন, হাতলটা আলাদা করে দুই পাক বাবল র‍্যাপে মুড়ুন, তারপর পুরো মগ। কার্টনে বসানোর সময় হাতল ভেতরের দিকে রাখুন, দেয়ালের দিকে না।
  6. বন্ধ করে দুই হাতে ঝাঁকান। ভেতর থেকে কিছু নড়ার আওয়াজ এলে খুলে আরও কাগজ ভরুন। আপনার ঝাঁকুনিতে যা নড়ে, রাইডারের বাইকে সেটা ভাঙে।
  7. ওপরে বড় করে লিখুন "ভাঙবে, সাবধানে", সাথে একটা ওপরমুখী তীর। সবাই মানবেন না, তবু লিখবেন।
ছয় প্লেটের সেট প্যাকিংয়ের নকশা, ৫ প্লাইয়ের কার্টনে সাদা কাগজে মোড়া প্লেট খাড়া করে বসানো, মাঝে কার্ডবোর্ড, তলায় আর চারপাশে দলা পাকানো কাগজ, হাতল ভেতরের দিকে রাখা মগ, পাশে প্যাকিংয়ের সাতটা ধাপের লিস্ট
প্লেট শুইয়ে না, খাড়া করে। মাঝে কার্ডবোর্ড, চারপাশে কাগজের বিছানা

টেপ লাগানোর আগে আরেকটা কাজ করুন। ফোনটা স্ট্যান্ডে বসিয়ে ভিডিও চালু করুন, অর্ডার নম্বরের স্লিপটা দেখিয়ে ছয়টা প্লেট আর মগ গুনে কার্টনে ভরুন, তারপর টেপ লাগান। কাস্টমার যদি বলেন "পাঁচটা ছিল" বা "বক্স খুলেই ভাঙা পেয়েছি", এই এক মিনিটের ভিডিওই আপনার প্রমাণ। Steadfast-এর শর্তের পেজে ২০২৬ সালের অক্টোবরে লেখা আছে, সব পার্সেল সিসি ক্যামেরার নজরে প্যাক করতে হবে। ফোনের ভিডিও সিসি ক্যামেরা না, তবু কাস্টমারের সাথে কথা মেটাতে এটা খুব কাজের।

প্রথমবার প্যাকিংয়ের নিয়মটা পরীক্ষাও করে নিন। একটা সেট পুরো নিয়মে প্যাক করে কোমর সমান উঁচু থেকে মেঝেতে ফেলুন। একবার তলার দিকে, একবার পাশ দিয়ে, একবার কোনা দিয়ে। তারপর খুলে প্রতিটা পিস দেখুন। কিছু ভাঙলে বুঝবেন কোন স্তরটা দুর্বল ছিল, কারণ কুরিয়ারের বস্তা আপনার মেঝের চেয়ে নরম না। ঘরে থাকা পুরনো প্লেট দিয়ে এই পরীক্ষা করলে নতুন মাল নষ্ট হয় না।

একজন যুবক সেলার মোবাইল স্ট্যান্ডে ফোন রেখে ভিডিও করছেন আর প্যাক করা একটা কার্টন কোমর সমান উঁচু থেকে মেঝেতে ফেলার জন্য দুই হাতে ধরে আছেন, পাশে খোলা আরেকটা কার্টনে মোড়ানো প্লেট
মেঝেতে যা টেকে না, কুরিয়ারের বস্তাতেও টিকবে না

ভাঙার খরচ দামে ধরবেন কীভাবে (উদাহরণ)

প্রথমে জেনে রাখুন ভাঙলে টাকাটা কে দেয়।

এবার একটা উদাহরণ। নিচের সব সংখ্যা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

ধরুন আপনি ছয়টা সিরামিকের ডিনার প্লেটের একটা সেট বেচবেন। পাইকারি ডজন ১,৮০০ টাকা, মানে প্লেট প্রতি ১৫০ টাকা, সেট ৯০০ টাকা। কার্টন, কাগজ, কার্ডবোর্ড আর টেপ মিলে প্যাকিংয়ে যায় ১০০ টাকা। প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে অ্যাডে যায় ২০০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার আলাদা দেন। তাহলে একটা সেট কাস্টমারের হাতে পৌঁছাতে আপনার খরচ ৯০০ + ১০০ + ২০০ = ১,২০০ টাকা।

অনেকে এখানে ১৫০ টাকা লাভ যোগ করে দাম রাখেন ১,৩৫০ টাকা। ধরুন মাসে ২০টা সেট ডেলিভারি হলো। কাগজে লাভ ২০ × ১৫০ = ৩,০০০ টাকা। কিন্তু একটা সেট ভাঙা পৌঁছাল, কাস্টমার নতুন সেট চাইলেন। নতুন সেট ৯০০, প্যাকিং ১০০, আর নতুন করে পাঠানোর চার্জ ধরুন ১৩০, মোট ১,১৩০ টাকা। মাসের লাভ দাঁড়াল ৩,০০০ − ১,১৩০ = ১,৮৭০ টাকা, সেট প্রতি ৯৩ টাকার মতো। দুইটা সেট ভাঙলে ৩,০০০ − ২,২৬০ = ৭৪০ টাকা, সেট প্রতি ৩৭ টাকা। এত খাটুনির পর সেট প্রতি ৩৭ টাকা, অথচ খাতায় লেখা ছিল ১৫০।

আমার অভিজ্ঞতায় ক্রোকারিজে লস হওয়ার বড় কারণ প্যাকিং না, এই হিসাবটা না করা। ঠিক পথটা হলো ভাঙার জন্য একটা রিজার্ভ আগেই দামে ধরা। ধরুন ২০টার মধ্যে একটা ভাঙে। তাহলে ১,১৩০ ÷ ২০ = ৫৬.৫, গোল করে সেট প্রতি ৬০ টাকা। খরচ দাঁড়াল ১,২০০ + ৬০ = ১,২৬০ টাকা। এর ওপর লাভ ধরে দাম রাখুন ১,৪৫০ টাকা। তাহলে সেট প্রতি লাভ ১,৪৫০ − ১,২৬০ = ১৯০ টাকা। আর ২০ সেটে জমা রিজার্ভ ২০ × ৬০ = ১,২০০ টাকা, যা একটা ভাঙা সেটের ১,১৩০ টাকা পুরো ঢেকে দেয়।

খাতার পাতায় হাতে লেখা হিসাবের নকশা, এক কলামে সেটের দাম, প্যাকিং, অ্যাড খরচ আর ভাঙার রিজার্ভ যোগ করে মোট খরচ, অন্য কলামে ১,৩৫০ আর ১,৪৫০ টাকার দামে মাসের লাভের তুলনা, পাশে একটা ক্যালকুলেটর
ভাঙার রিজার্ভ ছাড়া দাম ১,৩৫০, রিজার্ভসহ ১,৪৫০। ফারাকটা মাস শেষে বোঝা যায়

বাড়তি পিসের কথাটা এখানে টাকায় দেখুন। বেশিরভাগ সময় পুরো সেট ভাঙে না, এক-দুইটা প্লেট ভাঙে। হাতে বাড়তি প্লেট থাকলে দুইটা প্লেট ২ × ১৫০ = ৩০০, ছোট প্যাকিং ৪০ আর পাঠানোর চার্জ ১৩০, মোট ৪৭০ টাকায় কাজ শেষ। পুরো সেট বদলালে লাগত ১,১৩০ টাকা।

"২০টায় একটা" সংখ্যাটা আপনার জন্য সত্যি না-ও হতে পারে। প্রথম কয়েক মাস রিজার্ভ একটু বেশি ধরুন, আর ভাঙার লগ রাখুন (নিচে বলছি)। লগে কয়েক মাসের হিসাব জমলে নিজের আসল ভাঙার হার দিয়ে রিজার্ভ ঠিক করবেন। আর রিজার্ভ ধরার পর দাম যদি বাজারের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন ওই আইটেমটা অনলাইনের জন্য না। তখন মেলামাইনে যান, বা ওই সেট শুধু ঢাকার ভেতরে বেচুন।

ঢাকার বাইরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নেওয়াও ভাঙার খরচ কমায়। কারণ যিনি টাকা দিয়ে অর্ডার করেছেন, তিনি সাধারণত দরজা থেকে পার্সেল ফেরত দেন না, আর পার্সেলটাকে একই পথে দুইবার ঘুরতে হয় না। WinningSeller-এ নিজের bKash মার্চেন্ট বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করে নিলে চেকআউটে কাস্টমার শুধু ডেলিভারি চার্জটা অনলাইনে দিয়ে অর্ডার করতে পারেন। টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যায়, আর চাইলে ক্যাশ অন ডেলিভারির অপশনও পাশে খোলা রাখা যায়। অ্যাকাউন্টটা আপনাকেই খুলতে হবে, এটা সেই জিনিস কানেক্ট করার জায়গা।

সেট আর কম্বো, কোথায় লাভ

ক্রোকারিজে সিঙ্গেল পিসের চেয়ে সেট বেচা প্রায় সবসময় ভালো। একটা প্লেট বেচলেও অ্যাডের খরচ, কার্টন আর প্যাক করার সময় প্রায় একই লাগে, ছয়টা বেচলেও তাই। তাই সেটে প্রতিটা পিসের ভাগে খরচ অনেক কমে যায়। ১, ২, ৩ প্যাকের অফার কীভাবে সাজাবেন, তার পুরো নিয়ম আপসেল আর ক্রস সেলের লেখায় আছে।

৬ পিস আর ১২ পিসের সেট পাশাপাশি রাখলে পরিবারওয়ালা কাস্টমার বড়টা নেন। তবে বড় সেটের দুটো হিসাব আলাদা করে করবেন। প্রথমটা ওজন। কুরিয়ারের চার্জ ওজন ধরে বাড়ে, আর সিরামিকের ১২টা প্লেট প্যাকিংসহ বেশ ভারী। রান্নাঘরের দাঁড়িপাল্লায় প্যাক করা কার্টনটা মেপে নিজের কুরিয়ারের রেট চার্টে মিলিয়ে নিন, তারপর ডেলিভারি চার্জ লিখুন। দ্বিতীয়টা ভাঙা। বারোটা পিসে একটা ভাঙার সুযোগ ছয়টার চেয়ে বেশি, তাই বড় সেটে বাড়তি পিস আরও জরুরি।

কম্বো সাজাবেন একই লটের জিনিস দিয়ে, যেমন একই ডিজাইনের প্লেট আর বাটি, বা দুইটা মগের একটা জোড়া, যেটা উপহার হিসেবে চলে। কাচ আর সিরামিক এক কার্টনে মেশাবেন না, কারণ ভারী সিরামিকের ধাক্কায় পাতলা কাচ আগে ফাটে। বিয়ে বা নতুন বাসার উপহারের জন্য কেউ গিফট বক্স চাইলে সেটার দাম আলাদা লিখুন, সেটের দামের ভেতরে লুকাবেন না।

WinningSeller-এর অর্ডার ফর্মে প্রতিটা ভ্যারিয়েন্ট একটা আলাদা প্যাকেজ কার্ড হয়ে দেখায়, প্রোডাক্টের ছবি আর দামসহ। প্রতিটা কার্ডে এক লাইনের লেখা আর কোনায় একটা ছোট ব্যাজ নিজে লিখে দিতে পারেন, যেমন "ছোট পরিবারের জন্য"। ফলে কাস্টমার ফর্মেই ৬ পিস না ১২ পিস বেছে নেন, ইনবক্সে জিজ্ঞেস করতে হয় না। তার আগে প্রোডাক্টে ৬ পিস আর ১২ পিস দুটো ভ্যারিয়েন্ট বানিয়ে নিজের দাম বসিয়ে নিতে হয়।

৬ পিস আর ১২ পিসের সেট অর্ডার ফর্মে সাজানপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

ভাঙা পৌঁছালে কী করবেন?

যত ভালো করেই প্যাক করুন, কোনো একদিন ফোনটা আসবেই। কাস্টমার রেগে আছেন, কারণ তিনি টাকা দিয়ে ভাঙা প্লেট পেয়েছেন। প্রথম কাজ হলো তর্ক না করা। সোজা বলুন, "ভাই, শুনে সত্যিই খারাপ লাগল। আজকের মধ্যেই ব্যবস্থা করছি, শুধু বক্সটার কয়েকটা ছবি পাঠান।" এই সময় "আমরা তো ঠিকমতোই প্যাক করেছিলাম" বললে কাস্টমারের কানে সেটা অজুহাত শোনায়, আর রাগটা তখন রিভিউতে গিয়ে নামে।

ছবি চাইবেন খোলা বক্সের, কুরিয়ারের লেবেলসহ, আর ভাঙা পিসগুলোর। এটা সন্দেহ থেকে না, নিজের প্যাকিংয়ের দুর্বল জায়গাটা খুঁজে বের করার জন্য। কার্টনের কোনা থেঁতলানো থাকলে বুঝবেন কার্টন দুর্বল ছিল। মাঝখানের প্লেট ভাঙলে বুঝবেন মাঝে কার্ডবোর্ড ছিল না বা কম ছিল। শুধু হাতল খুলে গেলে বুঝবেন হাতলের মোড়া পাতলা ছিল।

সিদ্ধান্তটা তাড়াতাড়ি নিন। এক-দুইটা পিস ভাঙলে বাড়তি পিস থেকে নিজের খরচে পাঠিয়ে দিন। কাস্টমার চাইলে ওই পিসগুলোর টাকা bKash-এ ফেরত দিতে পারেন। ভাঙা টুকরো কুরিয়ারে ফেরত পাঠাতে বলবেন না, ওই পার্সেলের খরচ প্লেটের দামের চেয়ে বেশি পড়তে পারে, আর কাস্টমারের ঝামেলাও বাড়ে।

আরেকটা ঘটনা প্রায়ই ঘটে। রাইডার পার্সেল দেওয়ার সময় ঝাঁকুনিতে ভেতরে টুংটাং শব্দ হলো, কাস্টমার সাথে সাথে নিতে রাজি হলেন না। পার্সেলটা তখন রিটার্ন হয়ে একই পথে আবার আপনার কাছে ফেরে। রিটার্ন পার্সেল হাতে পেলে খুলে প্রতিটা পিস আবার আলোয় দেখুন। চিপ পড়া পিস নতুন মালের সাথে স্টকে তুলবেন না, ওটা পরের কাস্টমারের কাছে আরেকটা অভিযোগ হয়ে যাবে। ঢাকার বাইরে দামি সেট পাঠানোর আগে নম্বরটার কুরিয়ার রেকর্ড দেখে নিন, যাঁর রেকর্ডে রিটার্ন বেশি তাঁর কাছ থেকে অগ্রিম চান।

পাঠানোর আগে নম্বরটা ফ্রিতে চেক করুনকুরিয়ার রেকর্ডে ডেলিভারি আর রিটার্নের হিসাব

যে কাজটা আসলে আপনার ক্রোকারিজ ব্যবসা টিকিয়ে রাখে, সেটা হলো ভাঙার লগ। একটা খাতা বা Google Sheet-এ প্রতিটা ভাঙা পার্সেলের জন্য একটা সারি রাখুন, আর এই কলামগুলো।

  • তারিখ, অর্ডার নম্বর আর কোন এলাকায় গিয়েছিল
  • কোন কুরিয়ারে গিয়েছিল
  • কোন আইটেম, কয়টা পিস ভাঙল, কোথায় ভাঙল (কিনারা, মাঝখান, হাতল)
  • কী করলেন (পিস বদল, টাকা ফেরত, পুরো সেট) আর তাতে কত খরচ হলো
ভাঙার লগ শিটের নকশা, কলামে তারিখ, অর্ডার নম্বর, এলাকা, কুরিয়ার, আইটেম, ভাঙা পিস, কোথায় ভাঙল, কী করলেন আর খরচ, মগ জোড়ার তিনটা সারি লাল রঙে দাগানো, পাশে মাস শেষের তিনটা সিদ্ধান্ত
একই আইটেম বারবার লাল হলে প্যাকিং বদলান, তাতেও না কমলে আইটেমটা বাদ দিন

মাস শেষে লগটা একবার খুলে বসুন। একটা আইটেম বারবার ভাঙলে আগে তার প্যাকিং বদলান, তাতেও না কমলে আইটেমটা বেচা বন্ধ করুন, যত সুন্দরই হোক। একটা নির্দিষ্ট এলাকা বা একটা কুরিয়ারে বেশি ভাঙলে ওই এলাকার অর্ডার অন্য কুরিয়ারে দিয়ে দেখুন। কোন জিনিস বেচবেন আর কোনটা ছাড়বেন, এই সিদ্ধান্ত মন দিয়ে না, লগ দেখে নেবেন।

আজই করে ফেলুন

পুরো লেখা পড়ে মাথা ভারী লাগলে সব একসাথে করতে হবে না। হাতে যা আছে তা দিয়ে আজ এক ঘণ্টায় এই কাজগুলো করে ফেলা যায়।

  1. যে তিন-চারটা আইটেম বেচার কথা ভাবছেন, প্রতিটার পাশে লিখুন মেলামাইন, সিরামিক, কাচ না স্টিল। পাতলা কাচের কিছু থাকলে আপাতত বাদ দিন।
  2. ঘরের একটা পুরনো প্লেট আর মগ এই লেখার নিয়মে প্যাক করে কোমর সমান উঁচু থেকে তিনবার ফেলুন, তারপর খুলে দেখুন।
  3. প্যাক করা কার্টনটা রান্নাঘরের দাঁড়িপাল্লায় মাপুন, আর নিজের কুরিয়ারের রেট চার্টে ওই ওজনের ডেলিভারি চার্জ দেখে নিন।
  4. ওপরের উদাহরণে নিজের পাইকারি দাম, প্যাকিং আর অ্যাড খরচ বসিয়ে দেখুন, ভাঙার রিজার্ভ ধরেও দামটা বাজারে চলে কি না।
  5. খাতায় বা Google Sheet-এ ভাঙার লগের কলামগুলো আজই বানিয়ে রাখুন, প্রথম পার্সেল যাওয়ার আগে।
  6. পাইকারের কাছে যাওয়ার আগে তিনটা প্রশ্ন লিখে নিন। সেটে কয় পিস, সব পিস এক লটের কি না, আর বক্সে BSTI-র মার্ক আছে কি না।

ক্রোকারিজের একটা ভালো দিকও আছে। ঈদের আগে, নতুন বাসায় ওঠার সময় বা বিয়ের উপহার কিনতে গিয়ে মানুষ প্লেট-বাটি বারবার কেনেন। যে দোকানের প্লেট আস্ত পৌঁছায়, কাস্টমার পরের বার সেখানেই ফেরেন। তাই প্রথম দুই-তিন মাস আইটেম কম রেখে প্যাকিংটা হাতে বসিয়ে নিন, আর ভাঙার হিসাবটা দামে ধরে রাখুন। আসল লাভটা আসে ওই ফিরে আসা কাস্টমার থেকেই।

সাধারণ প্রশ্ন

ক্রোকারিজ ব্যবসায় লাভ কেমন?

লাভ নির্ভর করে কোন জিনিস বেচছেন আর কতগুলো পথে ভাঙছে তার ওপর। কেনা দামের সাথে প্যাকিং, অ্যাড খরচ আর ভাঙার একটা রিজার্ভ যোগ করে তবেই লাভ ধরুন। ভাঙার খরচ হিসাবে না ধরলে কাগজে লাভ দেখায়, কিন্তু মাস শেষে হাতে টাকা কম থাকে। এই লেখার উদাহরণে ২০টা সেটের মধ্যে একটা ভাঙা সেটই মাসের লাভের এক-তৃতীয়াংশের বেশি খেয়ে ফেলে।

ক্রোকারিজ পাইকারি বাজার ঢাকায় কোথায়?

পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় থালা-বাসনের পাইকারি দোকান আছে। The Business Standard বাংলার জানুয়ারি ২০২৪-এর চকবাজার নিয়ে লেখায় এখানকার মালের লিস্টে বাসন-কোসনের নাম আছে। তবে শুধু ক্রোকারিজের আলাদা কোনো নামকরা মার্কেটের নাম নির্ভরযোগ্য পত্রিকার রিপোর্টে পাওয়া যায় না, তাই গিয়ে কয়েকটা দোকানের দাম মিলিয়ে কিনুন। চট্টগ্রামে রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার হাজী গোলাম রসুল মার্কেট ক্রোকারিজের জন্য পরিচিত।

মেলামাইনের প্লেট কি মাইক্রোওয়েভে দেওয়া যায়?

যে প্লেট বেচছেন, তার বক্সে বা তলায় যা লেখা আছে কাস্টমারকে শুধু সেটাই বলুন। লেখা না থাকলে "মাইক্রোওয়েভে দেওয়া যাবে" কখনো বলবেন না। পরে প্লেট বেঁকে গেলে বা দাগ পড়লে দোষটা আপনার কথার ওপরেই আসবে।

কুরিয়ারে প্লেট বা কাপ ভাঙলে কি টাকা পাওয়া যায়?

সাধারণত না। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর শর্তের পেজে লেখা আছে, কাচের জিনিস, সিরামিকের প্লেট আর কাপ-পিরিচ-বাটির মতো ক্রোকারিজ ভাঙলে তারা টাকা দেয় না। অন্য কুরিয়ারে পাঠালে তাদের শর্ত পড়ুন বা আপনার KAM-কে জিজ্ঞেস করুন। ধরে নিন ভাঙার খরচ আপনারই, আর সেটা দামে আগে থেকে ধরে রাখুন।

কত টাকা দিয়ে ক্রোকারিজ ব্যবসা শুরু করা যায়?

একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা যায় না, কারণ মেটেরিয়াল আর ডিজাইন অনুযায়ী দাম অনেক আলাদা, আর পাইকার সাধারণত ডজন বা কার্টন ধরে বেচেন। দুই-তিনটা টেকসই আইটেমের অল্প কয়েক সেট, প্রতি ডজনে এক-দুইটা বাড়তি পিস আর প্যাকিংয়ের জিনিস দিয়ে শুরু করুন। দোকানে আগে জিজ্ঞেস করে নিন সবচেয়ে কম কয় পিস নিতে হয়।

কাচের গ্লাস সেট কি অনলাইনে বেচা উচিত?

নতুন হলে পাতলা কাচের গ্লাস সেট দিয়ে শুরু না করাই ভালো। পার্সেল পথে বারবার হাত বদলায়, আর পাতলা কাচ এই ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ভাঙে। আগে মেলামাইন, স্টিল বা মোটা সিরামিকের মগ দিয়ে প্যাকিং হাতে বসিয়ে নিন, ভাঙার লগে কয়েক মাসের হিসাব জমলে তারপর কাচের কথা ভাবুন।

#ক্রোকারিজ ব্যবসা#ক্রোকারিজ পাইকারি#মেলামাইন#প্লেট প্যাকিং#ভাঙা পার্সেল#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়