WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৬ মিনিটে পড়া যায়

কোন ছবিতে অর্ডার আসে? ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ টেস্ট করবেন যেভাবে

একই প্রোডাক্টের তিনটা ছবি আর একটা ভিডিও, কোনটা চালাবেন? আগে কোন পাঁচটা টেস্ট করবেন, কত টাকা আর কত দিন পরে রায় দেবেন, আর জয়ী কেন CTR দেখে না, ডেলিভারি হওয়া অর্ডার গুনে ঠিক করবেন, টাকার হিসাবসহ।

কোন ছবিতে অর্ডার আসে? ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ টেস্ট করবেন যেভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. অ্যাড ক্রিয়েটিভ বলতে কী কী, কোনটা বদলালে ফল বদলায়?
  2. একবারে একটা জিনিস, আগে কোন পাঁচটা টেস্ট করবেন?
    1. ১. প্রথম ফ্রেম বা হুক
    2. ২. ছবিতে দাম লিখবেন কি না
    3. ৩. শুধু প্রোডাক্ট, নাকি হাতে বা গায়ে পরা অবস্থায়
    4. ৪. ছবি নাকি ভিডিও
    5. ৫. অফারের লাইন
  3. এক অ্যাড সেটে কয়েকটা অ্যাড, নাকি Meta-র A/B টেস্ট?
  4. কত টাকা আর কত দিনে রায় দেবেন (উদাহরণ)
  5. জয়ী ঠিক করবেন কোন সংখ্যায়, CTR না ডেলিভারি?
  6. ক্রিয়েটিভ ক্লান্ত হলে কী দেখে বুঝবেন
  7. একটা ক্রিয়েটিভ খাতা রাখুন
  8. কখন ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ টেস্ট করবেন না
  9. আজই করে ফেলুন

ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ টেস্ট মানে একই প্রোডাক্ট, একই অডিয়েন্স আর সমান বাজেটে দুটো আলাদা ছবি বা ভিডিও পাশাপাশি চালিয়ে দেখা, কোনটায় বেশি অর্ডার ডেলিভারি হয়। নিয়মটা ছোট। একবারে একটাই জিনিস বদলাবেন। যে অ্যাডটা এখন ভালো চলছে সেটা চালু রেখে তার পাশে একটা নতুন অ্যাড দেবেন। প্রতিটা অ্যাডকে অন্তত সাত দিন আর মোটামুটি ২০টা অর্ডার আসার মতো টাকা দেবেন। আর জয়ী ঠিক করবেন ডেলিভারি হওয়া অর্ডার গুনে, CTR বা Ads Manager-এর Purchase দেখে না।

ধরুন রাত এগারোটা। পরদিন সকালে অ্যাড ছাড়বেন, ফোনের গ্যালারিতে একই মানিব্যাগের তিনটা ছবি আর একটা ছোট ভিডিও। একটায় মানিব্যাগটা টেবিলে, একটায় হাতে, একটায় বড় করে দাম লেখা। কোনটা দেবেন? বেশিরভাগ সেলার তখন যেটা নিজের চোখে সুন্দর লাগে সেটাই দেন, অথবা চারটাই একসাথে চালিয়ে দিয়ে বাকিটা ফেসবুকের ওপর ছেড়ে দেন। তিন দিন পরে কার্ডের মেসেজে ডলার স্পেন্ডের অঙ্কটা দেখে বুকটা একটু ধক করে ওঠে। অর্ডারও কিছু এসেছে, কিন্তু কোন ছবির কারণে এলো সেটা আর বোঝার উপায় থাকে না। পরের মাসে আবার সেই একই আন্দাজের খেলা চলে। নিচে ধাপে ধাপে দেখাচ্ছি এই আন্দাজ কীভাবে বন্ধ করবেন, সাথে টাকার একটা পুরো হিসাবও থাকছে।

অ্যাড ক্রিয়েটিভ বলতে কী কী, কোনটা বদলালে ফল বদলায়?

ক্রিয়েটিভ মানে অ্যাডে মানুষ যা দেখেন আর পড়েন। এর মধ্যে পড়ে ছবি বা ভিডিও, ছবির ওপরের লেখা (primary text), ছবির নিচের মোটা হেডলাইন আর বাটন। অডিয়েন্স, বাজেট আর প্লেসমেন্ট ক্রিয়েটিভ না, ওগুলো অ্যাড সেটের কাজ। Meta-র বিজনেস হেল্প সেন্টারের "Selecting a variable" পেজেও ক্রিয়েটিভকে অ্যাড লেভেলের জিনিস বলা হয়েছে, আর অডিয়েন্সকে অ্যাড সেট লেভেলের।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফল বদলায় ছবি বা ভিডিওর প্রথম দেখাটা। মানুষ ফিড স্ক্রল করতে করতে আঙুল থামান ছবি দেখে, লেখা পড়েন তার পরে। তাই প্রথম মাসে প্রায় সবাই যে ভুলটা করেন সেটা হলো, অর্ডার কম এলে ক্যাপশনের দুটো লাইন বদলে ভাবেন নতুন ক্রিয়েটিভ দিলাম। ছবি একই থাকলে বেশিরভাগ মানুষের কাছে অ্যাডটা আসলে একই।

একটা কাজ নিজের চোখে করে দেখুন। অ্যাডের preview নিজের ফোনে ফিডে খুলুন আর এক সেকেন্ড তাকিয়ে আঙুল সরিয়ে নিন। ওই এক সেকেন্ডে কী চোখে পড়ল? প্রোডাক্টটা চেনা গেল কি না, দাম চোখে পড়ল কি না, নাকি শুধু একটা রঙিন ব্যাকগ্রাউন্ড। আর primary text-এর কতটুকু "See more"-এর আগে দেখা যাচ্ছে সেটাও দেখুন। কাস্টমার এই এক সেকেন্ডের অ্যাডটাই দেখেন, আপনার পুরো অ্যাডটা না।

একই চামড়ার মানিব্যাগের তিনটা ছবি পাশাপাশি, একটায় মানিব্যাগ টেবিলে রাখা, একটায় হাতে ধরা, একটায় বড় অক্ষরে দাম লেখা
একই প্রোডাক্ট, তিন রকম প্রথম দেখা। কোনটায় অর্ডার আসবে, সেটা টেস্টই বলবে

একবারে একটা জিনিস, আগে কোন পাঁচটা টেস্ট করবেন?

টেস্টের প্রথম নিয়ম, দুটো অ্যাডের মধ্যে ফারাক থাকবে একটাই। নতুন ছবি, নতুন দাম লেখা আর নতুন অফার একসাথে দিলে নতুন অ্যাড জিতুক বা হারুক, আপনি জানবেন না কোনটার জন্য। Meta-র A/B টেস্টের বেস্ট প্র্যাকটিস পেজেও প্রথম পরামর্শ এটাই, একবারে একটা variable টেস্ট করুন।

আরেকটা ছোট অভ্যাস শুরু থেকেই রাখুন। অ্যাডের নাম দিন কী বদলালেন সেটা দিয়ে, যেমন "A-হাতে-মানিব্যাগ", "B-দাম-ছবিতে"। "New ad copy 3" নাম দিলে দুই সপ্তাহ পরে নিজেই মনে করতে পারবেন না কোনটা কী ছিল। কোন পাঁচটা জিনিস আগে টেস্ট করবেন, নিচে একে একে দিলাম।

১. প্রথম ফ্রেম বা হুক

ভিডিওর প্রথম দুই সেকেন্ড বা ছবির প্রথম চোখে পড়া অংশটাই হুক। একটায় প্রোডাক্ট সরাসরি দেখান, আরেকটায় সমস্যাটা দেখান, যেমন পকেট থেকে ফুলে ওঠা পুরনো মানিব্যাগ। একই ভিডিওর শুধু শুরুটা কেটে বদলালেই টেস্ট হয়ে যায়, পুরো ভিডিও নতুন করে শুট করতে হয় না।

২. ছবিতে দাম লিখবেন কি না

ছবির ওপর দাম লিখলে যাঁর বাজেটে কুলায় না তিনি চাপই দেন না। ফলে ক্লিক কমে, কিন্তু যাঁরা অর্ডার দেন তাঁরা দাম জেনেই দেন, কনফার্ম কলে "এত দাম জানতাম না" কম শোনেন। দাম না লিখলে কৌতূহলী মানুষ বেশি আসেন। কোনটা আপনার প্রোডাক্টে ভালো, সেটা ডেলিভারির হিসাবেই বোঝা যায়।

৩. শুধু প্রোডাক্ট, নাকি হাতে বা গায়ে পরা অবস্থায়

সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে শুধু প্রোডাক্ট পরিষ্কার দেখায়। হাতে ধরা বা পরা অবস্থার ছবিতে সাইজটা বোঝা যায়, আর সাইজ না বুঝে অর্ডার দেওয়া মানুষই দরজা থেকে সবচেয়ে বেশি ফেরত দেন। ঘড়ি, ব্যাগ, জুতা আর পোশাকে এই টেস্টটা প্রায় সবসময় করার মতো।

৪. ছবি নাকি ভিডিও

এখানে লড়াইটা হয় একই প্রোডাক্টের একটা ভালো ছবি আর ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ডের একটা ভিডিওর মধ্যে। ভিডিওতে প্রোডাক্টটা খোলা, চালানো বা ভাঁজ করা দেখানো যায়, যা ছবিতে যায় না। আবার কিছু প্রোডাক্টে একটা পরিষ্কার ছবিই যথেষ্ট। ভিডিও বানানোর নিয়ম প্রোডাক্টের রিল ভিডিওর লেখায় আছে, আর ঘরে বসে ছবি তোলার নিয়ম মোবাইলে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায়।

৫. অফারের লাইন

কাস্টমারকে কোন কথাটা বেশি টানে, "ফ্রি ডেলিভারি", "দুটো নিলে ১০০ টাকা কম", নাকি কোনো অফার ছাড়াই শুধু "হাতে পেয়ে টাকা দিন", সেটা আন্দাজে বলা যায় না। অফারের লাইনটা ছবির ওপর বা হেডলাইনে বদলে দেখুন। শুধু খেয়াল রাখবেন, অফার দিলে প্রতিটা অর্ডারের লাভ কমে। তাই এই টেস্টে অর্ডারের সংখ্যা না, অর্ডারপ্রতি লাভ মিলিয়ে দেখতে হয়।

দুটো ফোনের স্ক্রিন পাশাপাশি আঁকা একটা নকশা, দুটোতেই একই চামড়ার মানিব্যাগের অ্যাড, বাঁ দিকেরটায় ছবির কোণে দাম লেখা আর ডান দিকেরটায় দাম নেই, বাকি সব হুবহু এক
দুটো অ্যাডে ফারাক একটাই। তাহলেই বোঝা যায় ফল কেন বদলাল

এক অ্যাড সেটে কয়েকটা অ্যাড, নাকি Meta-র A/B টেস্ট?

টেস্ট চালানোর দুটো রাস্তা আছে, আর দুটোরই লাভ-ক্ষতি আছে।

প্রথম রাস্তাটা সবাই চেনেন। একই অ্যাড সেটে দুটো অ্যাড রাখা, বর্তমান জয়ী আর একটা নতুন। খরচ কম, ঝামেলাও কম। সমস্যা হলো ফেসবুক প্রথম এক-দুই দিনেই যেটাকে ভালো মনে করে, টাকার বড় অংশ সেটাতেই দেয়। ছোট বাজেটে প্রায় সবসময় এটাই হয়, তিন দিন পরে Amount spent কলামে দেখবেন একটা অ্যাডে ১,৯০০ টাকা গেছে আর অন্যটায় মাত্র ২৮০ টাকা। ২৮০ টাকায় দুটো অর্ডার এসেছে কি আসেনি, তাতে ওই অ্যাড সম্পর্কে কিছুই বলা যায় না। তাই এই রাস্তায় প্রতিদিন একবার প্রতিটা অ্যাডের Amount spent আলাদা করে দেখুন। একটা অ্যাড যদি টাকাই না পায়, সেটা হেরেছে না, সেটা খেলারই সুযোগ পায়নি।

Ads Manager-এর নকশা, Amount spent কলামে এক অ্যাডের পাশে ১,৯০০ টাকা আর অন্যটার পাশে মাত্র ২৮০ টাকা, নিচে টাকা ভাগের একটা বার
এক অ্যাড সেটে দুটো অ্যাড দিলে টাকা সমান ভাগ হয় না। রোজ একবার এই কলামটা দেখে নিন

দ্বিতীয় রাস্তা Meta-র নিজের A/B টেস্ট। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র বিজনেস হেল্প সেন্টারের "Create an A/B test in Ads Manager" পেজে যা লেখা আছে, Ads Manager-এর টুলবারে A/B test চেপে Make a copy of this ad বা Select two existing ads বেছে নেওয়া যায়। "About A/B testing" পেজে বলা আছে, প্রতিটা ভার্সন অডিয়েন্সের আলাদা ভাগকে দেখানো হয় আর কেউ দুটোই দেখেন না, আর দুই ভার্সনে সমান বাজেট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। Experiments টুলের পেজে আছে, একসাথে সর্বোচ্চ পাঁচটা ভার্সন তুলনা করা যায়, টেস্ট বানাতে আলাদা খরচ নেই, আর জয়ী ঠিক হয় বেছে নেওয়া মেট্রিকে কোনটার cost per result সবচেয়ে কম। উল্টো দিকে, এই সপ্তাহে একটা অ্যাড আর পরের সপ্তাহে আরেকটা হাতে হাতে চালিয়ে তুলনা করলে দুটো অ্যাড আলাদা সপ্তাহের আলাদা বাজার পায়, তুলনাটা আর সমান থাকে না।

ভাগটা এখানে পরিষ্কার আর ন্যায্য, কিন্তু দুটো কথা মাথায় রাখুন। প্রতিটা ভার্সন নিজের অ্যাড সেটে চলে, তাই মোট বাজেট লাগে দুই অ্যাড সেটের সমান। আর Meta-র জয়ী মানে Ads Manager-এর result-এর হিসাবে জয়ী, ডেলিভারির হিসাবে না। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে এই দুটো অনেক সময় আলাদা হয়, সেটা একটু পরে টাকায় দেখাচ্ছি।

তাহলে কোনটা নেবেন? দিনে কয়েকশো টাকার বাজেটে প্রথম রাস্তাই বাস্তব, শুধু Amount spent-এর দিকে চোখ রাখবেন। একটা অ্যাড বারবার টাকা না পেলে নতুনটাকে আলাদা অ্যাড সেটে সমান বাজেটে দিন, অথবা A/B টেস্ট চালান। আর এক অ্যাড সেটে পাঁচ-ছয়টা অ্যাড ঠাসবেন না। Meta-র লার্নিং ফেজের হেল্প পেজেই বলা আছে, অনেক বেশি অ্যাড বানালে সিস্টেম প্রতিটা থেকে কম শেখে।

Advantage+ creative নিয়েও একটা কথা বলে রাখি। Meta-র "About Advantage+ creative" পেজে বলা আছে, এখানে কিছু enhancement শুরু থেকেই চালু থাকতে পারে, যেমন ছবির আলো-কনট্রাস্ট বদলানো বা ছবির ওপর লেখা বসানো, আর চাইলে বন্ধ করা যায়। টেস্টের সময় দুটো অ্যাডে এই সেটিং একই রাখুন। আর preview-তে যে বদলে প্রোডাক্ট আসলের চেয়ে অন্য রকম দেখায়, সেটা বন্ধ করুন। দরজায় গিয়ে কাস্টমার যা দেখেছিলেন তা না পেলে পার্সেল ফেরত দেন।

কত টাকা আর কত দিনে রায় দেবেন (উদাহরণ)

দিনের হিসাবটা Meta নিজেই দিয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র বিজনেস হেল্প সেন্টারের A/B টেস্টের বেস্ট প্র্যাকটিস পেজে লেখা আছে, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফলের জন্য অন্তত সাত দিনের টেস্ট, সর্বোচ্চ ৩০ দিন, আর সাত দিনের কম টেস্টের ফল অনেক সময় অমীমাংসিত থাকে। বাজেট নিয়ে ওই পেজে কোনো টাকার অঙ্ক নেই, শুধু বলা আছে এমন বাজেট দিন যাতে জয়ী ঠিক করার মতো যথেষ্ট result আসে।

যথেষ্ট মানে কত, সেটা হাতের হিসাবে বলি। আমি নতুন সেলারদের সবসময় একটাই মাপ দিই, প্রতিটা অ্যাডে মোটামুটি ২০টা অর্ডার আসার মতো টাকা দিন। এটা অঙ্কের কোনো বাঁধা নিয়ম না, ছোট দোকানের জন্য কাজের মাপ। ৫-৬টা অর্ডারে রায় দিলে একটা ভালো বা খারাপ দিনেই পুরো ফল উল্টে যায়। আপনার আন্দাজে একটা অর্ডার আনতে ১০০ টাকা লাগলে প্রতিটা অ্যাডে লাগবে অন্তত ২,০০০ টাকা, সাত দিনে ভাগ করলে দিনে ৩০০ টাকার মতো।

আর ক্যাশ অন ডেলিভারির আসল কথাটা এখানে। সাত দিনে টেস্ট শেষ হয়, রায় না। শেষ দিনের অর্ডারগুলো কনফার্ম হয়ে কুরিয়ারে যায়, ঢাকার বাইরে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন লাগে। তাই অ্যাড বন্ধের পরে আরও এক সপ্তাহের মতো অপেক্ষা করে তারপর ডেলিভারির হিসাব মেলাবেন।

উদাহরণ। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম আর খরচ বসিয়ে মিলিয়ে নিন।

ধরুন আপনি একটা চামড়ার মানিব্যাগ ৯৫০ টাকায় বেচেন। কিনতে পড়ে ৪২০ টাকা, প্যাকেটে যায় ২০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। তাহলে একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে হাতে থাকে ৯৫০ − ৪২০ − ২০ = ৫১০ টাকা। আর একটা পার্সেল দরজা থেকে ফেরত এলে কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে ধরুন ১৫০ টাকা যায়।

দুটো অ্যাড চলল। A হলো হাতে ধরা মানিব্যাগের ছবি, এতদিন এটাই চলছিল। B হলো একটা মজার হুকের ভিডিও, যেখানে প্রথম সেকেন্ডে কেউ পকেট থেকে ইট বের করছেন। দুটোতেই দিনে ৪০০ টাকা করে সাত দিন, মানে প্রতিটায় ২,৮০০ টাকা। অ্যাড বন্ধের দশ দিন পরে অর্ডারের লিস্ট থেকে গুনে পেলেন এই হিসাব।

A-হাতে-মানিব্যাগ B-মজার-হুক
অ্যাডের খরচ ২,৮০০ টাকা ২,৮০০ টাকা
CTR (Ads Manager) ১.৪% ২.৬%
অর্ডার এলো ২৮টা ৪০টা
কনফার্ম কলে বাতিল ৪টা ১২টা
ডেলিভারি হলো ২০টা ১৮টা
দরজা থেকে ফেরত ৪টা ১০টা

Ads Manager-এর চোখে B পরিষ্কার জয়ী। অর্ডারপ্রতি খরচ A-তে ২,৮০০ ÷ ২৮ = ১০০ টাকা, B-তে ২,৮০০ ÷ ৪০ = ৭০ টাকা।

এবার ডেলিভারির হিসাব। A-তে ২০টা ডেলিভারিতে এলো ২০ × ৫১০ = ১০,২০০ টাকা, ৪টা ফেরতে গেল ৪ × ১৫০ = ৬০০ টাকা, অ্যাডে গেল ২,৮০০ টাকা। হাতে থাকল ১০,২০০ − ৬০০ − ২,৮০০ = ৬,৮০০ টাকা। B-তে ১৮টা ডেলিভারিতে এলো ১৮ × ৫১০ = ৯,১৮০ টাকা, ১০টা ফেরতে গেল ১০ × ১৫০ = ১,৫০০ টাকা, অ্যাডে গেল ২,৮০০ টাকা। হাতে থাকল ৯,১৮০ − ১,৫০০ − ২,৮০০ = ৪,৮৮০ টাকা।

একই টাকার অ্যাডে A আপনাকে ১,৯২০ টাকা বেশি দিল। ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচও A-তে কম, ২,৮০০ ÷ ২০ = ১৪০ টাকা, যেখানে B-তে ২,৮০০ ÷ ১৮ = প্রায় ১৫৬ টাকা। তার ওপর B-এর ১২টা বাতিলে কল সেন্টারের সময় গেছে, আর ১০টা মানিব্যাগ দুই সপ্তাহ কুরিয়ারে আটকে ছিল। Ads Manager দেখে B চালিয়ে গেলে প্রতি সপ্তাহে এই টাকাটা চুপচাপ হারাতেন।

একটা খোলা খাতার নকশা, দুটো সারিতে A আর B অ্যাড, কলামে অ্যাডের খরচ, অর্ডার, বাতিল, ডেলিভারি আর ফেরত, ডেলিভারির কলামটা হলুদ রঙে দাগানো আর A-এর পাশে টিক চিহ্ন
অর্ডার বেশি এলো B-তে, টাকা বেশি থাকল A-তে। রায় দেয় ডেলিভারির কলাম

জয়ী ঠিক করবেন কোন সংখ্যায়, CTR না ডেলিভারি?

সোজা উত্তর, ডেলিভারি দেখে। জয়ী সেই অ্যাড, যার ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ কম, আর অফারের টেস্ট হলে যার ডেলিভারি থেকে মোট লাভ বেশি। CTR, CPC আর Ads Manager-এর Purchase হলো রাস্তার মাঝের সংখ্যা। কোথায় গোলমাল সেটা ধরতে কাজে লাগে, কিন্তু রায় দেয় না। এই কলামগুলো কীভাবে পড়বেন, সেটা CPM আর CTR দেখে দোষ ধরার লেখায় বিস্তারিত আছে।

ওপরের উদাহরণে B-এর মজার হুক ঠিক যা করার কথা তা-ই করেছে, মানুষ থামিয়েছে। কিন্তু থেমেছেন কৌতূহলী মানুষ, যাঁদের মানিব্যাগ কেনার দরকার ছিল না। হাসতে হাসতে অর্ডার দিয়ে ফেলেন, তারপর কনফার্ম কলে বলেন "ভাই, এমনি দেখছিলাম", অথবা রাইডার ফোন দিলে বলেন "লাগবে না"। মজার হুক ক্লিক জেতে, ডেলিভারি হারে। প্রায় প্রতিটা নতুন সেলার একবার এই ফাঁদে পড়েন, আর আমার অভিজ্ঞতায় ক্যাশ অন ডেলিভারিতে CTR দেখে রায় দেওয়ার ভুলটাই সবচেয়ে চুপচাপ টাকা খায়।

Ads Manager-এর Purchase কলামেও ভরসা করবেন না। পিক্সেল সাধারণত অর্ডার জমা হওয়ার মুহূর্তে Purchase গোনে, তাই ভুয়া অর্ডার, বাতিল আর পরে ফেরত আসা পার্সেলও ওখানে বিক্রি হিসেবে থাকে। ডেলিভারির সংখ্যাটা নিজে লিখুন অর্ডারের লিস্ট বা কুরিয়ারের প্যানেল থেকে।

কিন্তু কোন অর্ডার কোন অ্যাড থেকে এলো, সেটা জানবেন কীভাবে? প্রতিটা অ্যাডের লিংকে আলাদা একটা লেবেল দিন। Ads Manager-এ অ্যাডের নিচের Tracking অংশে URL parameters ঘরে utm_campaign-এ প্রতিটা অ্যাডের জন্য আলাদা ছোট নাম লিখুন, যেমন wallet-a-hand আর wallet-b-hook। তাহলে ওয়েবসাইটের প্রতিটা অর্ডারের সাথে লেবেলটা থাকে। UTM কী আর কীভাবে লিখবেন, সেটা ROAS-এর লেখায় ধাপে ধাপে আছে। ইনবক্স বা ফোনে আসা অর্ডারে এই লেবেল থাকে না, তাই কাস্টমার কোন ছবিটা দেখে নক করেছেন, অর্ডার লেখার সময় জিজ্ঞেস করে নোটে লিখে রাখুন। অনেক সেলার প্রথম সপ্তাহে এটা ভুলে যান, তারপর দেখেন অর্ধেক অর্ডারের পাশে কোনো লেবেলই নেই।

নিজের অর্ডার পেজ বানানপেজের অর্ডারে অ্যাডের utm লেবেল নিজে থেকেই থাকে, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

ক্রিয়েটিভ ক্লান্ত হলে কী দেখে বুঝবেন

যে অ্যাড জিতল, সেটা চিরকাল জিতবে না। একই মানুষ একই ছবি বারবার দেখতে দেখতে আর থামেন না। একে বলে ক্রিয়েটিভ ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। Frequency আর CTR একসাথে দেখে এটা কীভাবে ধরবেন, সেটা ওপরের CPM-এর লেখায় আছে। এখানে বলি ক্যাশ অন ডেলিভারির সেলার হাতে-কলমে কী দেখেন।

প্রথম লক্ষণ আসে কমেন্টে। "এটা তো আগেও দেখলাম", "রোজ এই ভিডিও আসে কেন", অথবা আগের মতো "দাম কত" কমেন্ট আর আসে না। দ্বিতীয় লক্ষণ খাতায়। একই অ্যাডের ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি খরচ সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ে, ধরুন ১৪০ থেকে ১৭০, তারপর ২১০ টাকা।

কিন্তু খরচ বাড়লেই অ্যাড ক্লান্ত, এমন না। ঈদের আগের সপ্তাহে সব বড় দোকান একসাথে অ্যাড বাড়ায়, তখন সবার খরচই বাড়ে। তাই একই সময়ে আপনার অন্য অ্যাডগুলোর খরচও দেখুন। সবগুলোর খরচ একসাথে বাড়লে দোষ বাজারের, ছবির না, তখন নতুন ক্রিয়েটিভ দিয়ে লাভ হয় না। শুধু পুরনো অ্যাডটার খরচ বাড়লে, আর নতুন টেস্টের অ্যাড কম খরচে অর্ডার আনলে, বুঝবেন পুরনোটা ক্লান্ত।

একটা সাধারণ রেখাচিত্রের নকশা, চার সপ্তাহে পুরনো অ্যাডের ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি খরচের রেখা ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে, আর তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হওয়া নতুন অ্যাডের রেখা নিচে
পুরনো অ্যাডের খরচ একা একা বাড়লে সেটা ক্লান্ত, বাজার না

ক্লান্ত হওয়ার আগেই পরের চ্যালেঞ্জার রেডি রাখুন, এর চেয়ে কাজের অভ্যাস এখানে নেই। জয়ী অ্যাড চালু থাকুক, তার পাশে প্রতি এক-দুই সপ্তাহে একটা নতুন অ্যাড টেস্ট করুন। নতুনটা জিতলে সেটা নতুন জয়ী, পুরনোটা বন্ধ। হারলে পুরনোটাই চলবে, আপনার বিক্রি থামবে না। বন্ধ করা অ্যাড ডিলিট করবেন না, শুধু বন্ধ রাখুন, পরে হিসাব মেলাতে লাগবে।

একটা ক্রিয়েটিভ খাতা রাখুন

টেস্টের আসল লাভ আসে তিন-চার মাস পরে, যখন খাতা খুলে দেখেন আপনার কাস্টমারদের কাছে কী কাজ করে আর কী করে না। হয়তো দেখবেন হাতে ধরা ছবি বারবার জেতে, ছবিতে দাম লেখা অ্যাডে ফেরত কম আসে, আর মজার হুক প্রতিবার হারে। এই জ্ঞানটা আর কোথাও কেনা যায় না, শুধু নিজের খাতাতেই জমে।

একটা Google Sheet বা কাগজের খাতায় প্রতিটা অ্যাডের জন্য একটা সারি রাখুন, আর এই ঘরগুলো।

  • অ্যাডের নাম, যেমন "B-দাম-ছবিতে", আর লিংকের utm লেবেল
  • কী বদলালেন, এক লাইনে, আর কেন ভেবেছিলেন এটা জিতবে
  • শুরু আর শেষের তারিখ, আর মোট খরচ টাকায়
  • অর্ডার, কনফার্ম কলে বাতিল, ডেলিভারি আর ফেরত
  • ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ, আর জিতল না হারল
  • একটা লাইনে শিক্ষা, যেমন "দাম ছবিতে দিলে ফেরত কম"

খরচ আর ক্লিকের সংখ্যা পরে বদলে যেতে পারে, তাই প্রতিটা টেস্টের তিন নম্বর আর সাত নম্বর দিনে Ads Manager-এর একটা স্ক্রিনশট নিন, আর তারিখ দিয়ে একটা ফোল্ডারে রাখুন। তিন নম্বর দিনের স্ক্রিনশট রায়ের জন্য না, পরে দেখার জন্য যে শুরুর ঝোঁক শেষ পর্যন্ত টিকেছিল কি না। আর ডেলিভারির ঘরটা ভরবেন অ্যাড বন্ধের এক সপ্তাহ পরে, অর্ডারের লিস্ট থেকে।

WinningSeller-এ এই খাতার টাকার অংশটা নিজে থেকে দাঁড়ায়। স্টোর বা ল্যান্ডিং পেজ থেকে অর্ডার এলে অ্যাডের লিংকের utm লেবেল অর্ডারের সাথেই থেকে যায়। এরপর "হিসাব-নিকাশ"-এ অ্যাডের খরচ লেখার সময় "কোন ক্যাম্পেইন" ঘরে অ্যাডের লিংকের utm_campaign নামটাই দিন। তাহলে "ক্যাম্পেইনভিত্তিক ফল"-এ প্রতিটা নামের পাশে অ্যাড খরচ, ডেলিভারড অর্ডার, বিক্রি আর ROAS পাশাপাশি দেখা যায়। আর বিক্রি এখানে গোনা হয় ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, জমা হওয়া অর্ডার থেকে না। একটা কথা সৎভাবে বলি। খরচের অঙ্কটা Ads Manager থেকে আপনাকেই লিখতে হয়, এটা ফেসবুক থেকে নিজে আনে না। আর লেবেল ছাড়া যে অর্ডার আসে, যেমন ফোনে, সেটা কোনো অ্যাডের নামে বসে না।

অ্যাডপ্রতি ডেলিভারির হিসাব দেখুনক্যাম্পেইন ধরে ROAS, গোনা হয় ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে

কখন ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ টেস্ট করবেন না

টেস্ট সবসময় লাভের না। কয়েকটা অবস্থায় টেস্টে টাকা দেওয়ার আগে অন্য কাজ সারুন, নইলে টাকাও যাবে, শিক্ষাও আসবে না।

বাজেট যদি খুব ছোট হয়, টেস্ট আপাতত থাক। দিনে ২০০-৩০০ টাকার অ্যাডে দুটো অ্যাডকে সাত দিনে ২০টা করে অর্ডারের সুযোগ দেওয়া যায় না। তখন একটা ভালো অ্যাড চালান, আর বাজেট বাড়লে টেস্ট করুন। জোর করে টেস্ট করলে ৪টা বনাম ৬টা অর্ডার দেখে যে রায় দেবেন, সেটা কাকতালীয়।

প্রোডাক্টটাই যদি এখনো প্রমাণ না হয়ে থাকে, তাহলেও ছবি নিয়ে বসার সময় আসেনি। প্রথম সপ্তাহেই প্রোডাক্টে অর্ডার না এলে বা ডেলিভারিতে লাভ না থাকলে আগে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন। খারাপ প্রোডাক্টের সুন্দর ছবি খুঁজতে গিয়ে অনেকে মাসের পর মাস টাকা ঢালেন।

ল্যান্ডিং পেজ, স্টক বা কুরিয়ারে ঝামেলা চললেও টেস্ট থামান। পেজ ধীরে খুললে, স্টক শেষ হয়ে গেলে বা কুরিয়ার এক সপ্তাহ পার্সেল ফেলে রাখলে দুটো অ্যাডই খারাপ দেখাবে, আর দোষটা পড়বে ছবির ঘাড়ে। টেস্ট শুরুর আগে Wi-Fi বন্ধ করে নিজের ফোনের মোবাইল ডেটায় অ্যাডের লিংকটা একবার খুলে দেখুন, পেজ কত সেকেন্ডে আসে।

ঈদের ভিড়ের সপ্তাহে আর দাম বদলানোর সময়েও টেস্ট করবেন না। তখন সবকিছু একসাথে বদলায়, টেস্টের ফল পরের মাসে খাটে না। ঈদের আগে যে অ্যাড ইতিমধ্যে জিতেছে সেটাই চালান। আর টেস্ট চলার মাঝে প্রোডাক্টের দাম বদলালে দুই অ্যাডের তুলনা নষ্ট হয়ে যায়।

ছবির সাইজ বা ভিডিওর মাপ নিয়ে টেস্ট করার দরকার নেই, ওগুলো Meta আগেই বলে দিয়েছে। মাপগুলো মাঝে মাঝে বদলায়, তাই অ্যাড বানানোর দিন Meta-র অফিসিয়াল Ads Guide একবার খুলে দেখে নিন। একই কথা এই লেখার Meta-র নিয়মগুলোর বেলায়ও খাটে। ওপরের সব হেল্প পেজ ২০২৬ সালের অক্টোবরে মিলিয়ে দেখা, কিন্তু Ads Manager-এর বাটনের নাম আর জায়গা Meta প্রায়ই বদলায়। কোনো বাটন খুঁজে না পেলে Meta Business Help Center-এ পেজের নাম লিখে সার্চ করে নিন।

আজই করে ফেলুন

হাতে যা আছে তা দিয়েই আজ এক ঘণ্টায় এই কাজগুলো শেষ করা যায়।

  1. Ads Manager খুলে চালু প্রতিটা অ্যাডের নাম বদলে দিন, কী দেখাচ্ছে সেটা দিয়ে, যেমন "A-হাতে-মানিব্যাগ"।
  2. গত ১৪ দিনে কোন অ্যাডে কত খরচ হয়েছে লিখুন, আর অর্ডারের লিস্ট থেকে গুনুন ওই সময়ে কয়টা ডেলিভারি হয়েছে।
  3. এখন যে অ্যাডটা সবচেয়ে কম খরচে ডেলিভারি আনছে, সেটাকে জয়ী ধরুন।
  4. ওপরের পাঁচটা টেস্ট থেকে একটা বেছে নিন, আর জয়ী অ্যাডটা Duplicate করে শুধু ওই একটা জিনিস বদলান।
  5. দুটো অ্যাডের লিংকে আলাদা utm_campaign নাম দিন, আর খাতায় দুটো সারি খুলে আজকের তারিখ লিখুন।
  6. ফোনে তিন নম্বর আর সাত নম্বর দিনের জন্য রিমাইন্ডার দিন, স্ক্রিনশট নেওয়ার জন্য। আর অ্যাড বন্ধের এক সপ্তাহ পরের জন্য আরেকটা, ডেলিভারি গোনার জন্য।

ক্রিয়েটিভ টেস্ট শুনতে বড় কাজ মনে হয়, কিন্তু আসলে এটা একটা অভ্যাস। সপ্তাহে একবার একটা প্রশ্ন নিয়ে দুটো অ্যাড চালান, আর খাতায় একটা লাইন লিখে রাখুন। কয়েক মাস পরে যখন নতুন প্রোডাক্টের অ্যাড বানাতে বসবেন, তখন আর রাত এগারোটায় গ্যালারি খুলে আন্দাজ করতে হবে না। খাতাই বলে দেবে কোন ছবিটা দিয়ে শুরু করবেন।

একজন সেলার রাতে টেবিলে বসে ল্যাপটপের পাশে খোলা খাতায় অ্যাডের নাম, খরচ আর ডেলিভারির সংখ্যা লিখছেন, পাশে ফোনে Ads Manager-এর একটা স্ক্রিনশট খোলা
সপ্তাহে একটা টেস্ট আর খাতায় একটা লাইন, কয়েক মাসে এটাই হয়ে যায় দোকানের সবচেয়ে দামি নোট

সাধারণ প্রশ্ন

ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ টেস্ট মানে কী?

একই প্রোডাক্ট, একই অডিয়েন্স আর সমান বাজেটে দুই বা তার বেশি ছবি বা ভিডিও পাশাপাশি চালিয়ে দেখা, কোনটায় বেশি অর্ডার ডেলিভারি হয়। প্রতিবার একটাই জিনিস বদলানো হয়, যেমন শুধু প্রথম ফ্রেম বা শুধু ছবিতে দাম লেখা। তাহলে ফল বদলালে বোঝা যায় কোন জিনিসটার কারণে বদলাল।

একটা ক্রিয়েটিভ টেস্ট কত দিন চালাব?

অন্তত সাত দিন। Meta-র বিজনেস হেল্প সেন্টারের A/B টেস্টের বেস্ট প্র্যাকটিস পেজে সাত দিনের কম টেস্টকে অনেক সময় অমীমাংসিত বলা হয়েছে, আর সর্বোচ্চ ৩০ দিন চালানো যায়। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে এর পরে আরও এক সপ্তাহের মতো লাগে, কারণ পার্সেল ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত জয়ী ঠিক করা যায় না।

একটা অ্যাড সেটে কয়টা ক্রিয়েটিভ দেব?

টেস্টের সময় দুটো, যেটা এখন ভালো চলছে সেটা আর একটা নতুন। Meta-র লার্নিং ফেজের হেল্প পেজে বলা আছে, অনেক বেশি অ্যাড বানালে সিস্টেম প্রতিটা থেকে কম শেখে। ছোট বাজেটে পাঁচটা অ্যাড দিলে বেশিরভাগ অ্যাড এত কম টাকা পায় যে কিছুই প্রমাণ হয় না।

CTR বেশি মানেই কি ভালো ক্রিয়েটিভ?

না। CTR শুধু বলে কতজন অ্যাডে চাপ দিলেন, কতজন পার্সেল রাখলেন সেটা বলে না। মজার বা চমকে দেওয়া ছবি কৌতূহলী মানুষ টানে, তাতে CTR বাড়ে, অর্ডারও আসে, কিন্তু কনফার্ম কলে বাতিল আর দরজা থেকে ফেরত বেশি হয়। জয়ী ঠিক করুন অ্যাডের টাকা ভাগ ডেলিভারি হওয়া অর্ডার দিয়ে।

চালু অ্যাডের ছবি বা লেখা কি এডিট করা যায়?

যায়, কিন্তু টেস্টের সময় করবেন না। Meta-র লার্নিং ফেজের পেজে বলা আছে, চলার মাঝে অ্যাড বা অ্যাড সেট এডিট করলে শেখা আবার শুরু হতে পারে। তার ওপর আগের আর পরের ফল এক অ্যাডে মিশে যায়। চালু অ্যাডটা Duplicate করে নতুন কপিতে বদল আনুন, আর নতুন নাম দিন।

কত দিন পর পর নতুন ক্রিয়েটিভ লাগে?

ক্যালেন্ডার ধরে কোনো বাঁধা দিন নেই। যতক্ষণ একটা অ্যাডের ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি খরচ ঠিক থাকে, ততক্ষণ চালান। সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেটা বাড়তে থাকলে, আর একই সময়ে অন্য অ্যাডগুলোর খরচ না বাড়লে, বুঝবেন অ্যাডটা ক্লান্ত। তাই একটা চলার সময়েই পরেরটা বানিয়ে রাখুন।

#ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ#ক্রিয়েটিভ টেস্ট#A/B টেস্ট#ফেসবুক অ্যাড#Ads Manager#ক্যাশ অন ডেলিভারি

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়