WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১১ মিনিটে পড়া যায়

ডিলারশিপ ব্যবসা, কোম্পানির ডিলার হতে কী লাগে, জামানত আর চুক্তি

কোনো কোম্পানির এলাকার ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটর হতে চান? ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, পাইকার আর রিসেলারের পার্থক্য, কোম্পানি কাকে বাছে, কী কাগজ আর জামানত, চুক্তিপত্রে যে শর্তগুলো দুবার পড়বেন, এক মাসের আসল হিসাব, আর ডিলারশিপের নামে প্রতারণা চেনার উপায়।

ডিলারশিপ ব্যবসা, কোম্পানির ডিলার হতে কী লাগে, জামানত আর চুক্তি
এই লেখায় যা আছে
  1. ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, পাইকার আর রিসেলার, পার্থক্য কী
  2. ডিলারশিপ নেওয়ার নিয়ম, কোম্পানি ডিলার বাছে কীভাবে
  3. ডিলারশিপ ব্যবসা করতে কী কাগজ আর কত টাকা জামানত
  4. লক্ষ্যমাত্রা, বাকি আর ফেরতের শর্ত, চুক্তিপত্রে যা দেখে নেবেন
  5. এক মাসে কত থাকে (উদাহরণ)
  6. অনলাইনে অথরাইজড সেলার হওয়া
  7. কখন ডিলারশিপ নেবেন না, আর প্রতারণা চিনবেন যেভাবে
  8. আজই করে ফেলুন

ডিলারশিপ ব্যবসা মানে একটা কোম্পানির সাথে লিখিত চুক্তি করে নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের মাল দোকানে দোকানে বা সরাসরি কাস্টমারের কাছে বেচা। এর জন্য সাধারণত লাগে ট্রেড লাইসেন্স, TIN, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অনেক সময় BIN, একটা গোডাউন, মাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা, আর কোম্পানি চাইলে জামানতের টাকা। জামানত কত, সেটা কোম্পানি ঠিক করে। আপনার কাজ হলো সেই টাকা শুধু কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া, আর ফেরতের শর্তসহ সবকিছু চুক্তিতে লিখিয়ে নেওয়া।

প্রস্তাবটা প্রায়ই আসে এভাবে। পরিচিত কেউ বলেন, "অমুক কোম্পানি তোমাদের উপজেলায় ডিলার খুঁজছে, এখনো কেউ নেয়নি, তাড়াতাড়ি ধরো।" শুনে মনে হয় সুযোগ চলে যাচ্ছে। কিন্তু ডিলারশিপ একবার নিলে সহজে ছাড়া যায় না, জামানত আটকে থাকে, ভ্যান আর গোডাউনের চুক্তি চলতে থাকে। তাই তাড়াহুড়ার আগে জেনে নিন এই ব্যবসায় আসলে কী লাগে, কত টাকা আটকায়, আর মাস শেষে কত থাকে।

ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, পাইকার আর রিসেলার, পার্থক্য কী

চারটা শব্দ মানুষ মিশিয়ে ফেলেন, অথচ চারটার ঝুঁকি আলাদা। ডিস্ট্রিবিউটর সাধারণত কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি বড় পরিমাণে কেনেন, একটা বড় এলাকার দায়িত্ব নেন, আর সেই এলাকার দোকান বা ছোট ডিলারদের কাছে মাল দেন। ডিলার সাধারণত ছোট এলাকায় কাজ করেন, কখনো কোম্পানি থেকে, কখনো ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে নেন, আর দোকানে বা সরাসরি কাস্টমারের কাছে বেচেন। দুজনেরই কোম্পানির সাথে লিখিত চুক্তি থাকে।

পাইকারের কোনো কোম্পানির সাথে চুক্তি থাকে না। তিনি যেখান থেকে সস্তায় পান সেখান থেকে কেনেন, যাকে খুশি বেচেন। স্বাধীনতা বেশি, কিন্তু কোম্পানির ইনসেন্টিভ, ফেরতের সুবিধা বা এলাকার একচেটিয়া অধিকার নেই। আর রিসেলার সাধারণত নিজে স্টক রাখেন না, অন্যের মাল অনলাইনে বেচে কমিশন বা দামের পার্থক্য রাখেন। নিজের মাল অন্যদের দিয়ে বেচানোর দিকটা, মানে রিসেলার নেটওয়ার্ক বানানো, আলাদা করে আছে রিসেলার নিয়োগের লেখায়।

চার ধাপের একটা নকশা, ওপরে কোম্পানি, তার নিচে ডিস্ট্রিবিউটর, তার নিচে ডিলার আর দোকান, পাশে আলাদা একটা ঘরে চুক্তি ছাড়া পাইকার আর স্টক ছাড়া রিসেলার, প্রতিটা ঘরে চুক্তি, স্টক আর এলাকার ছোট চিহ্ন
চুক্তি কার সাথে, স্টক কার ঘরে, এলাকা কার, এই তিন প্রশ্নেই পার্থক্য

একটা কথা মনে রাখবেন। এক কোম্পানি যাকে "ডিলার" বলে, আরেক কোম্পানি তাকেই "ডিস্ট্রিবিউটর" বলতে পারে। নামের চেয়ে জরুরি হলো চুক্তিতে আপনার কাজ কী লেখা। কোন এলাকা, কাদের কাছে বেচবেন, কোম্পানির কাছ থেকে নাকি অন্য কারো কাছ থেকে মাল নেবেন, আর দাম কে ঠিক করে।

ডিলারশিপ নেওয়ার নিয়ম, কোম্পানি ডিলার বাছে কীভাবে

বেশিরভাগ কোম্পানির ডিলার বাছার নিজস্ব একটা নিয়ম থাকে, আর সেটা সাধারণত শুরু হয় এলাকা দেখে। কোম্পানির এলাকার প্রতিনিধি দেখেন এলাকায় কয়টা দোকান, আগের ডিলার কেন ছেড়েছেন, আর আপনার বাজারে চেনাজানা কেমন। তারপর দেখা হয় আপনার টাকার জোর, গোডাউন, মাল পৌঁছানোর গাড়ি আর লোকবল। অনেক কোম্পানি পত্রিকায় বা নিজের ওয়েবসাইটে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়, কেউ কেউ এলাকার প্রতিনিধির মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করে।

আবেদন করবেন কোম্পানির নিজের পথে। ওয়েবসাইটে দেওয়া ঠিকানা, হটলাইন বা আঞ্চলিক অফিস। কোনো মধ্যস্থতাকারী যদি বলেন "আমি ডিলারশিপ পাইয়ে দেব", তাঁর কথা কোম্পানির অফিসে ফোন করে মিলিয়ে নিন।

সই করার আগে সবচেয়ে কাজের কাজটা হলো পাশের এলাকার পুরনো ডিলারের সাথে এক কাপ চা। কোম্পানির প্রতিনিধি টার্গেট সবসময় সহজ বলবেন, কিন্তু যিনি দুই বছর ধরে করছেন, তিনি বলবেন টার্গেট আসলে কত, কয় মাস পূরণ হয়, মেয়াদ শেষের মাল কোম্পানি সত্যিই ফেরত নেয় কি না, আর ইনসেন্টিভের টাকা কত দিন পরে আসে। এই এক ঘণ্টার কথা আপনাকে অনেক টাকার ভুল থেকে বাঁচাতে পারে।

নিজের দিক থেকে তিনটা জিনিস গুনে দেখুন। এলাকায় এই কোম্পানির মাল রাখার মতো কয়টা দোকান আছে, আর তাদের কয়জন আপনাকে চেনেন। প্রতিদিন কয়টা দোকানে যাওয়া যায়, মানে ভ্যান কয়টা রুটে ঘুরবে। আর দোকানগুলো সাধারণত কত দিনের বাকিতে মাল নেয়। শেষ প্রশ্নটার উত্তরই বলে দেবে আপনার কত টাকা বাজারে আটকে থাকবে।

ডিলারশিপ ব্যবসা করতে কী কাগজ আর কত টাকা জামানত

কাগজের লিস্ট কোম্পানিভেদে একটু আলাদা, কিন্তু মূলটা প্রায় একই। ব্যবসার ধরন দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স, আপনার নামে বা প্রতিষ্ঠানের নামে e-TIN সার্টিফিকেট, ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র আর ছবি, আর গোডাউনের ভাড়ার চুক্তি। অনেক কোম্পানি ব্যাংকের সলভেন্সি সার্টিফিকেট চায়, মানে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকার জোর আছে, ব্যাংকের এমন একটা চিঠি। আর বড় কোম্পানির সাথে লেনদেনে ভ্যাটের BIN প্রায়ই লাগে। BIN কী, কখন বাধ্যতামূলক, আর vat.gov.bd-তে কীভাবে আবেদন করবেন, আছে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন আর BIN-এর লেখায়।

কিছু খাতের ডিলারশিপে আলাদা সরকারি লাইসেন্স লাগে, যেমন সার, জ্বালানি তেল বা ওষুধ। এগুলোর নিয়ম আলাদা অফিস দেখে, আর এই লেখা সেই পথ দেখাবে না। খাবারের ডিস্ট্রিবিউশনেও একটা কথা জেনে রাখুন। The Daily Star বাংলার ২২ জুলাই ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী ১৬ জুলাই গেজেট হওয়া নিরাপদ খাদ্যের নতুন প্রবিধানমালায় বেসরকারি খাদ্য গুদাম আর হিমাগারের জন্য লাইসেন্স লাগবে, আর ভোজ্যতেলের বাণিজ্যিক মজুত আর বাজারজাতের জন্যও লাইসেন্সের কথা আছে। খাবারের কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে গোডাউনে মাল রাখলে জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন আপনার কী লাগবে।

এবার জামানত। জামানত হলো কোম্পানির কাছে রাখা একটা টাকা, যাতে আপনি বাকিতে মাল নিয়ে টাকা না দিলে কোম্পানি সেখান থেকে কাটতে পারে। কেউ নগদ টাকা নেয়, কেউ ব্যাংক গ্যারান্টি, কেউ আগাম তারিখের চেক। অঙ্কটা কোম্পানি, খাত আর এলাকার ওপর নির্ভর করে, তাই কারো মুখে শোনা সংখ্যা ধরে প্রস্তুতি নেবেন না। কোম্পানির কাছ থেকে লিখিত চেয়ে নিন।

জামানতের ক্ষেত্রে পাঁচটা প্রশ্নের উত্তর চুক্তিতে লেখা থাকতে হবে। টাকাটা ফেরতযোগ্য কি না। ডিলারশিপ ছাড়লে কত দিনের মধ্যে ফেরত দেবে। কোন কোন পাওনা কেটে রাখতে পারবে। জামানতের ওপর কোনো লাভ বা সুদ আছে কি না। আর জামানতের বদলে কোম্পানি আপনাকে কত টাকা পর্যন্ত বাকিতে মাল দেবে। শেষ প্রশ্নটা অনেকে করেন না, অথচ জামানতের আসল কাজটাই এটা।

একটা ছোট গোডাউনের সামনে ট্রাক থেকে নামানো কার্টনের স্তূপ, একজন তরুণ ডিলার হাতে চালান কাগজ নিয়ে কার্টনের গায়ের লেখা মিলিয়ে দেখছেন, পেছনে র‍্যাকে সাজানো আরও কার্টন
প্রতিটা চালান কার্টন গুনে, মেয়াদ দেখে, তারপর সই

লক্ষ্যমাত্রা, বাকি আর ফেরতের শর্ত, চুক্তিপত্রে যা দেখে নেবেন

ডিলারশিপের চুক্তিপত্র সাধারণত কোম্পানির ছাপানো, আর অনেকে শেষ পেজে সই করার জায়গাটা দেখেই কলম ধরেন। এটা করবেন না। পুরো কাগজটা বাসায় নিয়ে যান, অন্তত দুই দিন সময় চান, আর নিচের শর্তগুলো খুঁজে খুঁজে দাগ দিন।

প্রথমে লক্ষ্যমাত্রা। মাসে বা তিন মাসে কত টাকার মাল কিনতে হবে, না পারলে কী হবে। শুধু ইনসেন্টিভ বাদ যাবে, নাকি জরিমানা, নাকি ডিলারশিপই বাতিল হতে পারে। ইনসেন্টিভ কোন হারে, আর টাকা আসবে কবে, মাস শেষে নাকি তিন মাস পরে। দ্বিতীয়ত বাকির শর্ত। কোম্পানি আপনাকে কত দিনের বাকি দেয়, দেরি হলে কী হয়। এর উল্টো দিকটাও ভাবুন, দোকানগুলো আপনাকে কত দিনের বাকিতে টাকা দেয়। দুইটার মাঝের ফাঁকটা আপনার পকেট থেকে ভরতে হয়।

তৃতীয়ত, এবং এটাই সবচেয়ে জরুরি, ফেরতের শর্ত। মেয়াদ শেষ হওয়া, ভাঙা বা পথে নষ্ট হওয়া মাল কোম্পানি ফেরত নেয় কি না, কত দিনের মধ্যে, কোন দামে, আর টাকা ফেরত দেয় নাকি নতুন মাল দেয়। খাবার, প্রসাধনী বা ওষুধের মতো মেয়াদওয়ালা জিনিসে এই একটা শর্ত পুরো লাভ ঠিক করে দেয়। প্রতিটা কোম্পানির চালান আর ক্রেডিট নোট একটা ফাইলে রাখুন, ফেরতের দাবি করার সময় এগুলোই প্রমাণ।

এরপর আরও কয়েকটা জিনিস দাগ দিন। আপনার এলাকা কতটুকু, আর সেখানে অন্য কাউকে ডিলার করা হবে না, এমন কোনো কথা আছে কি না। কোম্পানি দাম কমালে আপনার গোডাউনের পুরনো দামের মালের লোকসান কে বহন করবে। মাল আনার গাড়িভাড়া কার। চুক্তি কত দিনের, কে কত দিনের নোটিশে ছাড়তে পারে, ছাড়লে বাকি মাল আর জামানতের কী হবে। আর বিরোধ হলে কোথায় মীমাংসা হবে।

একটা ডেস্কে বসে একজন মধ্যবয়সী পুরুষ চশমা পরে কয়েক পেজের একটা চুক্তিপত্র পড়ছেন, হাতে কলম দিয়ে কয়েকটা লাইনে দাগ দিচ্ছেন, পাশে একটা খাতা আর ক্যালকুলেটর
সই করার আগে বাসায় নিয়ে দুই দিন, প্রতিটা শর্তে দাগ

চুক্তি নিয়ে আইনের দিকটা আমি এখানে টানছি না। দেশে চুক্তির মূল আইন চুক্তি আইন, ১৮৭২, আর একটা চুক্তির কোন শর্ত আপনার বিরুদ্ধে যায়, সেটা বলতে পারেন একজন আইনজীবী। কয়েক লাখ টাকার জামানত দেওয়ার আগে কয়েক হাজার টাকা খরচ করে চুক্তিটা একজন আইনজীবীকে পড়িয়ে নিন। অংশীদার নিয়ে ডিলারশিপ নিলে নিজেদের মধ্যে আলাদা চুক্তিও লাগবে, কী কী লিখবেন সেটা আছে পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তিপত্রের লেখায়।

এক মাসে কত থাকে (উদাহরণ)

ডিলারশিপে মার্জিন শুনে অনেকে হতাশ হন, কয়েক শতাংশ মাত্র। আবার অনেকে বিক্রির বড় অঙ্ক দেখে খুশি হন। দুটোই ভুল দিকে তাকানো। দেখার প্রশ্ন হলো, সব খরচের পরে কত থাকে, আর সেটার জন্য কত টাকা আটকে রাখতে হয়।

উদাহরণ। সব সংখ্যা কল্পনার, কোনো কোম্পানির শর্ত না। নিজের কোম্পানির দাম আর নিজের এলাকার খরচ বসিয়ে আবার করুন। ধরুন মাসে কোম্পানি থেকে ২০ লাখ টাকার মাল কিনলেন, আর দোকানে বেচলেন কেনা দামের ৬% বেশিতে, মানে ২১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। টার্গেট পূরণ হলে কোম্পানি কেনা দামের ১% ইনসেন্টিভ দেয়।

খাত টাকা, মাসে
দামের পার্থক্য (২০ লাখের ৬%) ১,২০,০০০
টার্গেটের ইনসেন্টিভ (২০ লাখের ১%) ২০,০০০
মোট আয় ১,৪০,০০০
ভ্যান ভাড়া আর ড্রাইভার ৩৫,০০০
গোডাউন ভাড়া ১৫,০০০
দুইজন সেলস লোকের বেতন ৩০,০০০
ভাঙা আর নষ্ট মাল ১০,০০০
ফোন, তেল আর অন্যান্য ৭,০০০
মোট খরচ ৯৭,০০০
হাতে থাকে ৪৩,০০০

৪৩,০০০ টাকায় আপনার নিজের বেতন ধরা হয়নি, মানে পুরো মাস খেটে এটাই আপনার আয়। এবার দেখুন কত টাকা আটকে আছে। জামানত ধরলাম ৫ লাখ। দোকানগুলো গড়ে ১৫ দিনের বাকিতে নেয়, মানে প্রায় অর্ধেক মাসের বিক্রি, ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বাজারে। আর গোডাউনে ১০ দিনের স্টক, ২০ লাখের তিন ভাগের এক ভাগ, প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ৪৩,০০০ টাকা তার মাসে ২%-এর কম।

এবার দুটো খারাপ মাস ভাবুন। টার্গেট পূরণ না হলে ইনসেন্টিভের ২০,০০০ নেই, হাতে থাকে ২৩,০০০। তার ওপর যদি কেনা মালের ১% মেয়াদ পার হয় আর কোম্পানি ফেরত না নেয়, আরও ২০,০০০ যায়, হাতে থাকে মাত্র ৩,০০০ টাকা। এজন্যই বলি, ফেরতের শর্ত আর বাস্তবের টার্গেট না জেনে সই করবেন না। একই কারণে বাকির খাতা প্রতিদিন মেলাতে হয়, কোন দোকানে কত দিনের বাকি জমেছে, সেটা না দেখলে ১৫ দিনের বাকি চুপচাপ ৪৫ দিনে গড়ায়।

কোম্পানির কাছে আপনার কত বাকি, কোন চালান কতটা এসেছে, কোন গোডাউনে কত মাল, এই হিসাবগুলো খাতায় রাখা কঠিন। WinningSeller-এ কোম্পানিকে "সাপ্লায়ার" হিসেবে যোগ করে প্রতিটা চালানের জন্য "পারচেজ অর্ডার" রাখা যায়, মাল কতটা এলো আর সাপ্লায়ারের কাছে কত বাকি সেটা এক জায়গায় দেখা যায়। একাধিক "ওয়্যারহাউজ" রেখে কোন গোডাউনে কত স্টক আলাদা দেখা যায়। ফোনে আসা দোকানের অর্ডার "নতুন অর্ডার" দিয়ে তোলা যায়। তবে দোকানে দোকানে বাকির আলাদা খাতা, ভ্যানের রুট বা সেলস লোকের হাতে অর্ডার তোলার অ্যাপ হিসেবে এটা বানানো না, সেই কাজ আলাদা রাখতে হবে। পাইকারের বাকি নিয়ে তর্ক এড়ানোর পুরো নিয়ম আছে পারচেজ অর্ডারের লেখায়।

একটা ছোট পিকআপ ভ্যানের পেছনে দুইজন পুরুষ কার্টন তুলছেন, একজন নিচ থেকে তুলে দিচ্ছেন আরেকজন ভ্যানের ওপর সাজাচ্ছেন, পাশে গোডাউনের খোলা শাটার, কোনো কোম্পানির লোগো নেই
ভ্যান কয়টা রুটে ঘোরে, সেটাই ঠিক করে মাসের বিক্রি

অনলাইনে অথরাইজড সেলার হওয়া

ডিলারশিপ নিয়ে অনেকে ভাবেন, এলাকার দোকানের পাশাপাশি অনলাইনেও বেচবেন। ভালো চিন্তা, কিন্তু আগে কোম্পানির অনুমতি লিখিত নিন। অনেক কোম্পানির নিজের অনলাইন বিক্রির নিয়ম থাকে। কে অনলাইনে বেচতে পারবে, কোন দামে, আর আপনার এলাকার বাইরে অর্ডার এলে কী হবে। অন্য ডিলারের এলাকায় কম দামে বেচলে সেটা চুক্তি ভাঙার কারণ হতে পারে, আর কোম্পানির সাথে সম্পর্কটাই নষ্ট হয়।

অনুমতি পেলে কোম্পানির কাছ থেকে একটা অথরাইজেশন লেটার নিন, কোম্পানির প্যাডে, তারিখসহ, যেখানে লেখা থাকবে আপনি কোন এলাকা বা কোন চ্যানেলের অনুমোদিত বিক্রেতা। এই চিঠির ছবি পেজে আর ওয়েবসাইটে দিন। অনলাইনে নকল মালের ভয়ে কাস্টমার আসল কোম্পানির অনুমোদিত দোকান খোঁজেন, আর এই একটা চিঠি সেখানে অনেক কাজ করে। কোম্পানির ছবি আর লোগো পেজে দেওয়ার আগেও অনুমতি নিন।

দামের ব্যাপারে একটা সীমা কখনো পার হবেন না, মোড়কে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা দাম। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ bdlaws-এ দেশের ভোক্তা-অধিকার আইনের (২০০৯) ৪০ ধারায় লেখা আছে, আইন বা বিধিতে ঠিক করা দামের বেশিতে বেচলে বা বেচার প্রস্তাব দিলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। অনলাইনে বেচলেও নিয়মটা একই, তাই MRP-র ওপরে এক টাকাও না। ডেলিভারি চার্জ আলাদা লিখুন, কিন্তু প্রোডাক্টের দাম MRP-র ওপরে না। আর ওয়ারেন্টির জিনিস হলে ওয়ারেন্টি কার কাছে দাবি করতে হবে, কোম্পানি নাকি আপনি, সেটা পেজে পরিষ্কার লিখুন।

কখন ডিলারশিপ নেবেন না, আর প্রতারণা চিনবেন যেভাবে

যদি জামানত আর প্রথম স্টকের পুরো টাকাই ধার করে আনতে হয়, তাহলে এখন না। ওপরের হিসাবে দেখেছেন আটকে থাকা টাকার ওপর মাসে ২%-এর কম থাকে। ধারের সুদ দিলে তার বড় একটা অংশ চলে যায়, আর খারাপ মাসে সুদ দিতে হয় পকেট থেকে। যদি গোডাউন আর মাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকে, বা এলাকার দোকানগুলোর সাথে চেনাজানা না থাকে, তাহলেও ভাবুন। আর যে কোম্পানির মাল এলাকায় এমনিতেই চলে না, তার ডিলারশিপ নিলে আপনি শুধু তাদের স্টক নিজের গোডাউনে তুলছেন। আমার কাছে এখানে একটাই কড়া নিয়ম, পাশের এলাকার ডিলারের সাথে বসে কথা না বলে কোনো চুক্তিতে সই নয়।

প্রতারণার দিকটা আলাদা করে বলা দরকার, কারণ ডিলারশিপের নামে প্রতারণা নতুন না। বাংলা ট্রিবিউনের ২৩ জুলাই ২০২০-এর খবরে আছে, সিআইডি যশোর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, যিনি অনলাইনে ডিলারশিপের বিজ্ঞাপন দিয়ে দূরের জেলার ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে নমুনার টাকা বিকাশে দিয়ে বিশ্বাস জিততেন, তারপর বড় লটের মাল নিয়ে নম্বর আর ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দিতেন। ধরনটা উল্টো দিক থেকেও আসে, ভুয়া "কোম্পানি" জামানত বা ফি চেয়ে টাকা নিয়ে উধাও হয়।

আজই করে ফেলুন

  1. যে কোম্পানির ডিলারশিপ ভাবছেন, তাদের ওয়েবসাইট থেকে হটলাইন বা আঞ্চলিক অফিসের নম্বর খাতায় তুলুন।
  2. পাশের এলাকার পুরনো ডিলারের নাম জোগাড় করে এই সপ্তাহে একবার দেখা করার সময় চান।
  3. নিজের ট্রেড লাইসেন্স, e-TIN আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ আছে কি না দেখে নিন।
  4. ওপরের টেবিলে নিজের এলাকার ভ্যান, গোডাউন আর বেতনের খরচ বসিয়ে দেখুন মাসে কত টাকার মাল না বেচলে খরচ ওঠে না।
  5. জামানতের পাঁচটা প্রশ্ন একটা কাগজে লিখে রাখুন, কোম্পানির সাথে কথা বলার দিন সাথে নেবেন।
  6. পরিচিত একজন আইনজীবীর নম্বর জোগাড় করুন, চুক্তি হাতে পেলে তাঁকে দেখাবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

ডিলারশিপ ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

এক কথায় বলা যায় না, কারণ জামানতের অঙ্ক কোম্পানি ঠিক করে, আর তার ওপর লাগে স্টকের টাকা আর দোকানে দেওয়া বাকির টাকা। এই লেখার উদাহরণে মাসে ২০ লাখ টাকার মাল কেনা একজন ডিলারের প্রায় ২২ লাখ টাকা আটকে থাকে। কোম্পানির কাছ থেকে জামানত, প্রথম অর্ডারের ন্যূনতম পরিমাণ আর বাকির শর্ত লিখিত নিয়ে তারপর নিজের হিসাব করুন।

ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য কী কী কাগজ লাগে?

সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স, TIN সার্টিফিকেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর অনেক কোম্পানির বেলায় BIN আর ব্যাংকের সলভেন্সি সার্টিফিকেট। সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি আর গোডাউনের ভাড়ার কাগজ। সার, জ্বালানি তেল বা ওষুধের মতো কিছু খাতে আলাদা সরকারি লাইসেন্স লাগে।

ডিলারশিপের জামানত কি ফেরত পাওয়া যায়?

অনেক কোম্পানির জামানত ফেরতযোগ্য, কিন্তু কবে, কীভাবে আর কোন কোন কাটার পরে ফেরত দেবে, সেটা চুক্তিতে লেখা থাকতে হবে। মুখের কথায় ভরসা করবেন না। টাকা দেবেন শুধু কোম্পানির নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, আর রসিদ নেবেন কোম্পানির প্যাডে।

ডিলার আর ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে পার্থক্য কী?

ডিস্ট্রিবিউটর সাধারণত কোম্পানির কাছ থেকে বড় পরিমাণে কিনে একটা বড় এলাকায় দোকান বা ছোট ডিলারদের কাছে মাল দেন। ডিলার সাধারণত ছোট এলাকায় দোকানে বা সরাসরি কাস্টমারের কাছে বেচেন। কোম্পানিভেদে নাম আর কাজ বদলায়, তাই চুক্তিতে আপনাকে কী বলা হচ্ছে আর কী দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটাই আসল।

ডিলারশিপ ব্যবসায় লাভ কেমন?

কোম্পানি থেকে কেনা দাম আর দোকানে বেচা দামের পার্থক্য সাধারণত অল্প শতাংশের, লাভ আসে বেশি পরিমাণে বেচে আর টার্গেটের ইনসেন্টিভ থেকে। ভ্যান, গোডাউন, লোকের বেতন আর মেয়াদ শেষ হওয়া মালের ফেরত না নিলে লাভ দ্রুত শূন্যে নামে। সই করার আগে নিজের এলাকার সংখ্যা দিয়ে এক মাসের হিসাব করে দেখুন।

অনলাইনে ডিলারশিপ দেওয়ার বিজ্ঞাপন কি বিশ্বাস করা যায়?

অনেক সাবধানে। কোম্পানির নিজের ওয়েবসাইট বা হটলাইনে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন বিজ্ঞাপনটা ওদের কি না। কেউ ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে "ডিলারশিপ ফি" বা জামানত চাইলে টাকা দেবেন না।

#ডিলারশিপ ব্যবসা#ডিলারশিপ নেওয়ার নিয়ম#ডিস্ট্রিবিউটর ব্যবসা#পাইকারি ব্যবসা#চুক্তিপত্র#জামানত

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়