পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তিপত্র, যে ১০টা কথা লিখলে বন্ধুত্বও টিকে থাকে
বন্ধুর সাথে ব্যবসা শুরু করছেন? চুক্তিপত্রে কোন ১০টা কথা লিখলে পরে টাকা, পেজ আর লাভ নিয়ে ঝগড়া হয় না, কত টাকার স্ট্যাম্প লাগে, রেজিস্ট্রেশন না করলে কী হয়, আর কেউ বের হতে চাইলে হিসাব কীভাবে মিটবে, টাকার উদাহরণসহ।

এই লেখায় যা আছে
- পার্টনারশিপে ব্যবসা কখন ভালো, কখন একা করাই ভালো?
- চুক্তিপত্র ছাড়া শুরু করলে কোথায় ঝগড়া বাঁধে (উদাহরণ)
- পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তিপত্রে কোন ১০টা কথা লিখবেন?
- ১. কে কত মূলধন দিচ্ছেন, কবে আর কীভাবে
- ২. কে কোন কাজ করবেন
- ৩. কাজ করা পার্টনারের বেতন
- ৪. লাভ-লোকসান কোন অনুপাতে আর কোন হিসাব থেকে
- ৫. ব্যাংক আর bKash কার নামে, টাকা উঠবে কার সইয়ে
- ৬. পেজ, ডোমেইন, ওয়েবসাইট আর কুরিয়ার অ্যাকাউন্টের মালিকানা
- ৭. কোন সিদ্ধান্তে সবার হ্যাঁ লাগবে
- ৮. কেউ বের হলে বা ব্যবসা বন্ধ হলে
- ৯. নতুন পার্টনার আনলে
- ১০. ঝগড়া হলে কী করবেন
- লাভ ভাগ করবেন কীভাবে, বেতন আগে না পরে?
- পেজ, ডোমেইন আর কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট কার নামে?
- কত টাকার স্ট্যাম্পে, রেজিস্ট্রেশন লাগে কি?
- পার্টনারশিপ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
- কেউ বের হয়ে যেতে চাইলে কী হবে?
ধরুন রাত এগারোটায় পুরনো বন্ধু ফোন দিয়ে বলল, "দোস্ত, আমি টাকা দেই, তুই পেজটা চালা, লাভ ফিফটি-ফিফটি।" শুনে বুকটা ভরে যায়। আর ঠিক এই উত্তেজনার সময়েই পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তিপত্রটা লিখে ফেলা দরকার। চুক্তিপত্র মানে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখা একটা কাগজ, যেখানে সব পার্টনার সই করে আগেই ঠিক করে রাখেন কে কত টাকা দিলেন, কে কোন কাজ করবেন, কাজ করা পার্টনার বেতন পাবেন কি না, লাভ কোন অনুপাতে ভাগ হবে, আর কেউ বের হতে চাইলে টাকা কীভাবে ফেরত যাবে।
RJSC-তে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক না, তবে না করলে কিছু অধিকার হাতছাড়া হয়। আর একটা কথা শুরুতেই বলে রাখি। এই কাগজের আসল কাজ মামলা জেতা না, এর কাজ হলো ঝগড়াটা শুরুই হতে না দেওয়া।
জানি, বন্ধুর সামনে কাগজ-কলমের কথা তুলতে অস্বস্তি লাগে। মনে হয় তাঁকে অবিশ্বাস করছেন। কিন্তু ছয় মাস পরে যখন মাসে দুই-তিন লাখ টাকার বিক্রি হবে, তখন ওই "ফিফটি-ফিফটি" কথাটার মানে দুজনের মাথায় দুই রকম হয়ে যাবে।
পার্টনারশিপে ব্যবসা কখন ভালো, কখন একা করাই ভালো?
পার্টনার নেওয়ার সবচেয়ে ভালো কারণ হলো এমন কিছু পাওয়া, যা আপনার একার নেই। একজনের কাছে টাকা আছে, আরেকজনের হাতে সময় আর বিক্রির হাত। একজন পাইকারি মার্কেট চেনেন, আরেকজন ফেসবুক অ্যাড চালাতে পারেন। এমন জোড়ায় দুজনের কাজ দুই দিকে যায়, তাই কেউ কারও কাজে নাক গলান না, ঠোকাঠুকিও কম হয়।
খারাপ কারণও আছে, আর সেটা খুব সাধারণ। একা শুরু করতে ভয় লাগছে, তাই বন্ধুকে সাথে নিলেন। দুজনেই ইনবক্স দেখতে চান, কিন্তু রাত জেগে প্যাকিং করতে কেউ রাজি না। তখন লাভটা দুই ভাগ হয়, কিন্তু কাজ বাড়ে না। মাসে ৪০ হাজার টাকা লাভের ব্যবসায় দুজন পার্টনার মানে প্রত্যেকের ভাগে ২০ হাজার, আর ওই টাকায় দুটো সংসার চলে না।
একটা সহজ পরীক্ষা করে দেখুন। পার্টনার ছাড়া আপনি কী করতে পারতেন না, সেটা এক লাইনে লিখুন। লাইনটা যদি হয় "৩ লাখ টাকার স্টক কিনতে পারতাম না" বা "দিনে ৫০টা কনফার্মেশন কল একা সামলাতে পারতাম না", তাহলে পার্টনার নেওয়ার যুক্তি আছে। আর যদি লাইনটা হয় "একা ভালো লাগে না", তাহলে হয়তো একজন বেতনের মডারেটর বা পাইকারের কাছ থেকে বাকিতে মাল নেওয়াই সহজ রাস্তা।

চুক্তিপত্র ছাড়া শুরু করলে কোথায় ঝগড়া বাঁধে (উদাহরণ)
এই ঘটনাটা একটা উদাহরণ, কোনো আসল দোকানের গল্প না। তবে যাঁরা কয়েক বছর অনলাইন ব্যবসা করছেন, তাঁরা এর প্রতিটা ধাপ কারও না কারও জীবনে দেখেছেন।
ধরুন রাকিব আর সাজিদ দুই বন্ধু মিলে থ্রি-পিসের পেজ খুললেন। রাকিব দিলেন ৩ লাখ টাকা, সাজিদ দিলেন ১ লাখ। কিন্তু ইনবক্স, কনফার্মেশন কল, প্যাকিং আর কুরিয়ারে পার্সেল দেওয়া, সব কাজ সাজিদের। মুখে কথা হয়েছিল "লাভ ফিফটি-ফিফটি"। প্রথম তিন মাস দুজনেই খুশি। ছয় মাসের মাথায় এসে চার জায়গায় ঝগড়া বাঁধল।
শুরুটা হলো লাভ নিয়ে। রাকিব ভাবেন, তিনি তিন গুণ টাকা দিয়েছেন, তাই লাভেও বেশি পাওয়া উচিত। সাজিদ ভাবেন, তিনি দিনে দশ ঘণ্টা খাটেন, তাঁর বেতন কোথায়? অবাক করা কথা হলো, কাগজ না থাকলে আইন কারও পক্ষেই পুরোপুরি যায় না। Partnership Act 1932-এর ১৩ ধারায় লেখা আছে, চুক্তি না থাকলে লাভ-লোকসান সমান ভাগ হবে, আর ব্যবসায় কাজ করার জন্য কোনো পার্টনার বেতন পাবেন না। মানে রাকিব বেশি ভাগ পাবেন না, আর সাজিদও বেতন পাবেন না।
তারপর এলো টাকার রাস্তার প্রশ্ন। কুরিয়ারের টাকা আসে সাজিদের পার্সোনাল bKash-এ। রাকিব হিসাব চাইলে সাজিদ স্ক্রিনশট পাঠান, কিন্তু রাকিবের মনে সন্দেহ থেকেই যায়। সন্দেহ একবার ঢুকলে আর বের হয় না।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এলো পেজ নিয়ে। পেজটা খোলা হয়েছিল সাজিদের প্রোফাইল থেকে, আর তিনিই একমাত্র অ্যাডমিন। কথা কাটাকাটির পরের দিন সকালে রাকিব দেখলেন, তিনি আর পেজে ঢুকতে পারছেন না। নিজের টাকায় বানানো দোকান, অথচ দরজায় তালা। ১২ হাজার ফলোয়ার, সব রিভিউ আর পুরনো কাস্টমারের ইনবক্স এখন একজনের হাতে।
শেষ ঝগড়াটা বের হওয়া নিয়ে। রাকিব বললেন, "আমার ৩ লাখ ফেরত দাও।" কিন্তু টাকার বড় অংশ তখন গুদামে স্টক হয়ে বসে আছে, কিছু কুরিয়ারের কাছে, আর পাইকারের কাছে ৫০ হাজার টাকা বাকি। কত টাকা ফেরত হবে, কবে হবে, কেউ জানে না। আর চুক্তিতে মেয়াদ লেখা না থাকলে আইনের চোখে এটা partnership at will, মানে কোনো মেয়াদ ছাড়া যতদিন সবাই চান ততদিনের পার্টনারশিপ। ৪৩ ধারা অনুযায়ী তখন যে কোনো পার্টনার লিখিত নোটিশ দিয়েই পুরো ফার্ম ভেঙে দিতে পারেন।

চারটা ঝগড়ার কোনোটাই খারাপ মানুষের কারণে হয়নি। হয়েছে কারণ দুজনের মাথায় দুই রকম ছবি ছিল, আর কেউ সেটা লিখে মিলিয়ে নেননি। এক সন্ধ্যায় বসে দুই পেজের একটা কাগজ লিখলে চারটা ঝগড়াই হয়তো হতো না।
পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তিপত্রে কোন ১০টা কথা লিখবেন?
Partnership Act-এর ১১ ধারা বলছে, পার্টনারদের অধিকার আর দায়িত্ব তাঁরা নিজেরাই চুক্তি দিয়ে ঠিক করতে পারেন। আইনের বেশিরভাগ নিয়ম শুরু হয় "চুক্তিতে অন্য কিছু না থাকলে" দিয়ে। মানে আপনি না লিখলে আইন তার নিজের নিয়ম বসিয়ে দেবে, আর সেটা আপনার মনের মতো না-ও হতে পারে। তাই নিচের দশটা কথা নিজেদের ভাষায় লিখে ফেলুন।
১. কে কত মূলধন দিচ্ছেন, কবে আর কীভাবে
টাকার অঙ্ক, কবে দেবেন, আর ক্যাশ না মাল হিসেবে, তিনটাই লিখুন। কেউ নিজের ল্যাপটপ, ক্যামেরা বা আগের স্টক দিলে তার দাম টাকায় লিখে মূলধনে ধরুন। পরে কেউ বাড়তি টাকা ঢাললে সেটা মূলধন, নাকি ব্যবসাকে দেওয়া ধার, সেটাও লিখে রাখুন। আইনের ১৩ ধারায় চুক্তির বাইরে দেওয়া বাড়তি টাকায় বছরে ৬% সুদের কথা আছে, তাই এটা নিয়েও আগেই একমত হয়ে নিন।
২. কে কোন কাজ করবেন
কে মাল কিনবেন, কে অ্যাড চালাবেন, কে কনফার্মেশন আর কুরিয়ার সামলাবেন, নাম ধরে লিখুন। দিনে কত ঘণ্টা দেবেন সেটাও লিখুন। "দুজনেই সব দেখবে" লিখলে আসলে কেউই কিছু দেখে না।
৩. কাজ করা পার্টনারের বেতন
যিনি পুরো সময় দোকানে খাটেন, তিনি লাভ ভাগের আগে মাসে একটা নির্দিষ্ট বেতন পাবেন কি না, আর পেলে কত পাবেন, টাকার অঙ্কে লিখে দিন। কেন, সেটা নিচে টাকার হিসাবে দেখাচ্ছি।
৪. লাভ-লোকসান কোন অনুপাতে আর কোন হিসাব থেকে
অনুপাত লিখুন, যেমন ৬০:৪০। সাথে লিখুন লাভ গোনা হবে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, মাসের কোন তারিখে হিসাব বসবে, আর লাভের কত অংশ ব্যবসায় রেখে বাকিটা ভাগ হবে। লোকসান হলেও একই অনুপাত খাটবে কি না, সেটা লিখতে ভুলবেন না।
৫. ব্যাংক আর bKash কার নামে, টাকা উঠবে কার সইয়ে
ব্যবসার টাকা থাকবে ব্যবসার নামের অ্যাকাউন্টে, কারও পার্সোনাল অ্যাকাউন্টে না। কত টাকার বেশি তুলতে দুজনেরই সই বা হ্যাঁ লাগবে, যেমন ২০ হাজার টাকার বেশি, সেই সীমাটাও লিখে দিন। এতে কেউ চাইলেও একা বড় টাকা তুলতে পারেন না, আর অন্যজনের মনে সন্দেহ ঢোকার জায়গাও থাকে না।
৬. পেজ, ডোমেইন, ওয়েবসাইট আর কুরিয়ার অ্যাকাউন্টের মালিকানা
ফেসবুক পেজ, ডোমেইন, ওয়েবসাইট আর কুরিয়ার প্যানেল ব্যবসার সম্পদ, কোনো একজন পার্টনারের না, এই কথাটা স্পষ্ট লিখুন।
৭. কোন সিদ্ধান্তে সবার হ্যাঁ লাগবে
আইনের ১২ ধারায় সাধারণ কাজের সিদ্ধান্ত হয় বেশিরভাগের মতে, কিন্তু ব্যবসার ধরন বদলাতে সবার মত লাগে। দুজনের ব্যবসায় "বেশিরভাগ" বলে কিছু নেই, তাই লিখুন কোন কাজে দুজনেরই হ্যাঁ লাগবে। যেমন ৫০ হাজার টাকার বেশি স্টক কেনা, লোন নেওয়া, নতুন ক্যাটাগরি খোলা বা স্টাফ রাখা।
৮. কেউ বের হলে বা ব্যবসা বন্ধ হলে
লিখে রাখুন কত দিনের নোটিশ দিতে হবে, ব্যবসার দাম কীভাবে ধরা হবে, টাকা কয় কিস্তিতে ফেরত যাবে, আর পেজটা কে রাখবেন। ব্যবসার মেয়াদ বা বন্ধের নিয়মটাও এখানে লিখুন, না হলে ৪৩ ধারায় একজনের নোটিশেই পুরো ফার্ম ভেঙে যেতে পারে।
৯. নতুন পার্টনার আনলে
আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী চুক্তিতে অন্য কিছু না থাকলে নতুন পার্টনার আনতে সব পুরনো পার্টনারের মত লাগে। এই নিয়মটা রেখে দিন, আর সাথে লিখুন নতুন জন কত টাকা দিয়ে কত ভাগ পাবেন সেটা কীভাবে ঠিক হবে।
১০. ঝগড়া হলে কী করবেন
প্রথমে দুজনে বসবেন, তাতে না মিটলে একজন নির্দিষ্ট মানুষ মধ্যস্থতা করবেন, যাঁর নাম দুজনেই আগে থেকে মেনে নিয়েছেন। তিনি হতে পারেন একজন মুরুব্বি, হিসাবরক্ষক বা আইনজীবী। আদালত হবে সবার শেষের রাস্তা, কারণ মামলা চলতে চলতে ব্যবসাটাই মরে যায়।

লাভ ভাগ করবেন কীভাবে, বেতন আগে না পরে?
উত্তর হলো, বেতন আগে। যে পার্টনার পুরো সময় খাটেন, তাঁর খাটুনিটা ব্যবসার একটা খরচ। ওই কাজ না করলে আপনাদের একজন স্টাফ রাখতে হতো, আর তাঁকে বেতন দিতে হতো লাভ হোক বা না হোক। তাই আগে কাজের দাম দিন, তারপর যা থাকে সেটা টাকার অনুপাতে ভাগ করুন।
আরেকটা নিয়ম কখনো ভাঙবেন না। লাভ গুনবেন ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, নেওয়া অর্ডার থেকে না। COD-তে অর্ডারের একটা অংশ দরজা থেকে ফেরত আসে, আর কিছু টাকা মাসের শেষেও কুরিয়ারের কাছে আটকে থাকে। নেওয়া অর্ডার ধরে লাভ ভাগ করলে আপনারা এমন টাকা ভাগ করবেন, যেটা কখনো ব্যবসায় ঢোকেইনি। পরের মাসে স্টক কেনার সময় টের পাবেন টাকা নেই।
নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন রাকিব আর সাজিদ চুক্তিতে লিখেছেন, সাজিদ মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন পাবেন, লাভের ২০% ব্যবসায় থাকবে, আর বাকিটা ৬০:৪০ অনুপাতে ভাগ হবে।
| খাত | টাকা |
|---|---|
| মাসে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের বিক্রি | ৪,০০,০০০ |
| ডেলিভারি হওয়া মালের কেনা দাম | − ২,২০,০০০ |
| অ্যাডের খরচ | − ৬০,০০০ |
| কুরিয়ার চার্জ আর ফেরত পার্সেলের খরচ | − ৩০,০০০ |
| প্যাকেজিং, মোবাইল আর অন্য খরচ | − ১০,০০০ |
| সাজিদের বেতন | − ২০,০০০ |
| ভাগের আগে লাভ | ৬০,০০০ |
৬০ হাজারের ২০%, মানে ১২ হাজার টাকা, ব্যবসায় থেকে গেল পরের মাসের স্টকের জন্য। বাকি ৪৮ হাজারের ৬০% রাকিব পেলেন, মানে ২৮,৮০০ টাকা। আর ৪০% সাজিদ পেলেন, মানে ১৯,২০০ টাকা। সাজিদের হাতে মাসে এলো বেতন আর ভাগ মিলিয়ে ৩৯,২০০ টাকা। রাকিব দোকানে না খেটেও পেলেন ২৮,৮০০ টাকা, কারণ তাঁর টাকাই ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছে। অঙ্কটা কারও কাছে কম-বেশি মনে হতেই পারে। কিন্তু দুজনেই জানেন কে কেন কত পাচ্ছেন, আর এই জানাটাই রাতে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়।
এবার কাগজ ছাড়া একই মাস ভাবুন। বেতন নেই, তাই ৮০ হাজার টাকা লাভ দুজনে সমান ভাগ করলেন, প্রত্যেকে ৪০ হাজার। সাজিদের দশ ঘণ্টার খাটুনির আলাদা কোনো দাম ধরা হলো না, আর রাকিবের তিন গুণ টাকাও হিসাবে উঠল না। আর পরের মাসের স্টকের জন্য ব্যবসায় এক টাকাও থাকল না। হাতে টাকা এলো ঠিকই, কিন্তু মনে মনে দুজনেই ভাবেন তিনি ঠকেছেন। এই ভাবনাটাই পরে বড় ঝগড়া হয়ে ফেরে।

মাসের মাঝে কেউ ব্যবসা থেকে টাকা তুললে সেটা কী হবে, সেটাও লিখে রাখুন। সহজ নিয়ম হলো, মাসের মাঝে তোলা টাকা ওই পার্টনারের ভাগ থেকে আগাম হিসেবে কাটা যাবে। না হলে একজন প্রতি সপ্তাহে "একটু দরকার" বলে পাঁচ-দশ হাজার তুলবেন, আর মাস শেষে কেউ মনে রাখবেন না কত গেল।
এই হিসাবটা খাতায় করা যায়, কিন্তু দুজন পার্টনার যখন একই খাতা দেখেন না, তখন সন্দেহ জন্মায়। কোন কলাম রাখবেন আর কোন খরচগুলো সেলাররা প্রায়ই বাদ দেন, তা অনলাইন ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাবের লেখায় ধাপে ধাপে আছে। WinningSeller-এ লাভ-ক্ষতির রিপোর্ট বানানো হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে। কুরিয়ার চার্জ আর ফেরত পার্সেলের খরচ সেখানে নিজে থেকেই ধরা হয়, অ্যাডের খরচ আলাদা করে লিখে রাখা যায়। প্রত্যেক পার্টনার নিজের লগইন দিয়ে ঢুকে একই সংখ্যা দেখতে পান, কাউকে স্ক্রিনশট পাঠাতে হয় না।
পেজ, ডোমেইন আর কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট কার নামে?
অনলাইন ব্যবসায় আসল সম্পদ শুধু স্টক না। আপনার ফেসবুক পেজের ফলোয়ার আর রিভিউ, ওয়েবসাইটের ডোমেইন আর কুরিয়ারের প্যানেলে জমা পার্সেলের ইতিহাস, এগুলোই কাস্টমারকে আপনার দরজায় আনে। তাই চুক্তিপত্রে এগুলোর মালিক কে, সেটা আলাদা করে লিখুন।
ফেসবুক পেজ ব্যবসার Meta বিজনেস পোর্টফোলিওতে রাখুন, আর সেখানে দুই পার্টনারকেই full control দিন। একজনের হাতে full control থাকলে ঝগড়ার দিন তিনি আরেকজনকে এক ক্লিকে বের করে দিতে পারেন। আবার full control বেশি মানুষের হাতে থাকাও ঝুঁকি, তাই মডারেটর বা স্টাফকে শুধু তাঁর কাজের অ্যাক্সেস দিন। পেজের নিরাপত্তার পুরো সেটিং পেজ হ্যাক হলে করণীয়ের লেখার শেষ অংশে আছে।
ডোমেইন কিনুন ব্যবসার নামে খোলা একটা ইমেইল দিয়ে, যেটার পাসওয়ার্ড দুজনেরই জানা। এক পার্টনারের পার্সোনাল ইমেইলে ডোমেইন থাকলে তিনি বের হয়ে গেলে রিনিউর মেইলও তাঁর কাছেই যাবে। একদিন সাইট বন্ধ হয়ে যাবে, আর কেউ টেরও পাবেন না কেন। ডোমেইন কেনার সময় কার নাম আর কোন ইমেইল দেবেন, তা ডোমেইন কেনার লেখায় বিস্তারিত আছে।
কুরিয়ারের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে ব্যবসার নাম দিন, আর পেমেন্ট নেওয়ার জায়গায় দিন ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ব্যবসার নামের মার্চেন্ট নম্বর। কুরিয়ারের টাকা কারও পার্সোনাল bKash-এ এলে সেটা প্রথম মাস থেকেই সন্দেহের বীজ বোনে, পরে যতই সৎ থাকুন।

নিজের ওয়েবসাইট থাকলে সেটাও একই নিয়মে চালান। WinningSeller-এ স্টোরটা আপনাদের নিজের ডোমেইনে কানেক্ট করা যায়, আর টিমের প্রত্যেকে আলাদা লগইনে আলাদা রোল পান, যেমন মালিক, অ্যাডমিন, ম্যানেজার বা স্টাফ। দুই পার্টনার মালিক বা অ্যাডমিন হলে দুজনেই পুরো হিসাব দেখবেন। আর কনফার্মেশনের স্টাফ রোলে যিনি থাকবেন, তিনি কেনা দাম বা লাভ দেখতে পাবেন না।
কত টাকার স্ট্যাম্পে, রেজিস্ট্রেশন লাগে কি?
চুক্তিপত্র লেখা হয় নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে অর্থ আইন ২০২২ দিয়ে বসানো Stamp Act 1899-এর তফসিলে পার্টনারশিপের দলিলের জন্য লেখা আছে, মূলধন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ২,০০০ টাকা, আর এর বেশি হলে ৪,০০০ টাকা। পরের কোনো অর্থ আইনে অঙ্কটা বদলেছে কি না, স্ট্যাম্প কেনার আগে ভেন্ডর বা আইনজীবীর কাছে একবার মিলিয়ে নিন।
সব পার্টনার প্রতিটা পেজে সই করবেন, আর দুজন সাক্ষী রাখুন, যাঁরা আপনাদের দুজনকেই চেনেন। অনেকে নোটারি পাবলিকের সামনে সই করান। এতে পরে কেউ "এই সই আমার না" বলার সুযোগ পান না। চুক্তির একটা করে আসল কপি প্রত্যেক পার্টনারের কাছে থাকবে।
রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারটা অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। Partnership Act-এর ৫৮ ধারায় লেখা আছে ফার্মের রেজিস্ট্রেশন "যে কোনো সময়" করা যায়, মানে এটা বাধ্যতামূলক না। আবেদন যায় RJSC-তে, আর তাতে লাগে ফার্মের নাম, ব্যবসার ঠিকানা, প্রত্যেক পার্টনারের পুরো নাম, স্থায়ী ঠিকানা আর কবে যোগ দিয়েছেন, আর ফার্মের মেয়াদ। সব পার্টনারকে সই করতে হয়।
তাহলে করবেন কেন? কারণটা আছে ৬৯ ধারায়। ফার্ম রেজিস্টার্ড না হলে চুক্তির কোনো অধিকার নিয়ে একজন পার্টনার আরেকজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন না। ফার্মও কোনো বাইরের লোকের কাছ থেকে চুক্তির পাওনা আদায়ে মামলা করতে পারে না। তবে ফার্ম ভেঙে দেওয়া বা ভাঙা ফার্মের হিসাব চাওয়ার মামলা এই বাধার বাইরে। মানে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চুক্তিটা ঝগড়া থামাতে কাজে লাগে, কিন্তু আদালতে এর জোর কমে যায়।
খরচ কত? ২০২৬ সালের অক্টোবরে roc.gov.bd-র ফি-র পেজে লেখা আছে, পার্টনারশিপ ফার্মের নামের ছাড়পত্রে প্রতিটা প্রস্তাবিত নামের জন্য ৫০০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি ৫,০০০ টাকা আর ফাইলিং ফি ৫০০ টাকা। মানে স্ট্যাম্প বাদে মোটামুটি ৬ হাজার টাকার মতো। দুজনের মূলধন মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকা হলে এই খরচটা একটা বীমার মতো। আর ২০-৩০ হাজার টাকার ছোট টেস্ট ব্যবসায় হয়তো শুধু স্ট্যাম্পে লেখা চুক্তিই যথেষ্ট, ব্যবসা দাঁড়ালে পরে রেজিস্ট্রেশন করবেন।

পার্টনারশিপ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
ট্রেড লাইসেন্স করবেন ফার্মের নামে, যে নাম চুক্তিপত্রে লেখা আছে, কোনো এক পার্টনারের নিজের নামে না। জাতীয় তথ্য বাতায়নের ট্রেড লাইসেন্স পেজে লেখা আছে, লাইসেন্স শুধু লাইসেন্সধারীর নামে দেওয়া হয় আর এটা হস্তান্তর করা যায় না। এক পার্টনারের নামে লাইসেন্স হলে কাগজের চোখে ব্যবসাটা তাঁর একার। তিনি বের হয়ে গেলে লাইসেন্সও তাঁর সাথেই চলে যায়। আবেদনের সময় চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি সাথে রাখুন, আর কোন অফিস থেকে কীভাবে আবেদন করবেন, কত খরচ, তা ট্রেড লাইসেন্সের লেখায় ধাপে ধাপে আছে।
লাইসেন্স হাতে এলে ফার্মের নামে ব্যাংকে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলুন। ব্যাংক সাধারণত চুক্তিপত্র, ট্রেড লাইসেন্স আর সব পার্টনারের পরিচয়পত্র চায়, তবে লিস্টটা ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই শাখায় আগে জিজ্ঞেস করে নিন। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যাংককে লিখিতভাবে জানান টাকা তুলতে কার সই লাগবে, একজনের না দুজনেরই। চুক্তির ৫ নম্বর কথায় যে সীমা লিখেছেন, এখানে সেটাই বসান।
আইনও এখানে আপনার পক্ষে। Partnership Act-এর ১৯ ধারায় লেখা, একজন পার্টনার নিজে থেকে ফার্মের হয়ে নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার অধিকার রাখেন না। মানে ব্যবসার টাকা কারও নিজের নামের অ্যাকাউন্টে রাখাটা শুরু থেকেই ভুল রাস্তা।
কেউ বের হয়ে যেতে চাইলে কী হবে?
এই অংশটা লিখতে সবার খারাপ লাগে, কারণ শুরুর দিনে কেউ শেষের কথা ভাবতে চান না। কিন্তু মানুষের জীবন বদলায়। কেউ বিদেশ যান, কেউ চাকরি পান, কারও বিয়ের পর সংসারের চাপ বাড়ে। এগুলো কারও দোষ না। দোষ হলো এমন দিনের জন্য আগে থেকে কোনো রাস্তা না রাখা।
আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোনো পার্টনার বাকিদের সম্মতিতে, চুক্তির নিয়ম মেনে, অথবা partnership at will হলে লিখিত নোটিশ দিয়ে বের হতে পারেন। আপনারা চুক্তিতে লিখে রাখুন অন্তত কত দিনের নোটিশ দিতে হবে, যেমন ৬০ দিন। এই সময়ে চালু অর্ডারগুলো ডেলিভারি হয়, কুরিয়ারের টাকা ঢোকে, আর বাকিরা নতুন ব্যবস্থা করার সময় পান।
এরপর ঠিক করুন বের হওয়া পার্টনারের ভাগের দাম কীভাবে ধরবেন। নিচের হিসাবটা একটা উদাহরণ। ধরুন যেদিন রাকিব বের হলেন, সেদিন গুদামে কেনা দামে ১,৮০,০০০ টাকার স্টক, কুরিয়ারের কাছে পাওনা ৪০,০০০ টাকা, আর ব্যাংকে ৩০,০০০ টাকা। পাইকারের কাছে বাকি ৫০,০০০ টাকা। তাহলে ব্যবসার নিট সম্পদ ১,৮০,০০০ + ৪০,০০০ + ৩০,০০০ − ৫০,০০০ = ২,০০,০০০ টাকা। চুক্তিতে লেখা আছে রাকিবের ভাগ ৬০%, তাই তিনি পাবেন ১,২০,০০০ টাকা।
শুনে রাকিবের মন খারাপ হতেই পারে। ৩ লাখ দিয়ে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার? কিন্তু ভাগ হয় ব্যবসায় আজ যা আছে শুধু সেটুকু, আর লোকসানে যা গেছে তা দুজনেরই গেছে। কেউ কেউ লাভের অনুপাতে না, মূলধনের অনুপাতে ভাগ করেন। তাহলে রাকিবের ভাগ হতো ৭৫%, মানে ১,৫০,০০০ টাকা। কোন নিয়মে হবে, সেটা আজই চুক্তিতে লিখুন, বের হওয়ার দিনে না।
এই টাকা একবারে দিতে গেলে সাজিদকে স্টক কম দামে ছেড়ে দিতে হবে, আর তাতে ব্যবসাটাই বসে যেতে পারে। তাই চুক্তিতে কিস্তির কথা লিখুন, যেমন ৪ মাসে প্রতি মাসে ৩০,০০০ টাকা। পেজের ফলোয়ার আর নামের আলাদা দাম, মানে গুডউইল, ধরা হবে কি না, সেটাও আগে লিখুন। না লিখলে বের হওয়ার দিন এই এক প্রশ্নেই সবচেয়ে বেশি তর্ক হয়।
পেজ আর ব্যবসার নাম কে রাখবেন, সেটাও লিখে দিন। সাধারণত যিনি ব্যবসা চালিয়ে যাবেন, তিনিই রাখেন। আইনের ৩৬ ধারায় বলা আছে, বের হওয়া পার্টনার চাইলে একই রকম ব্যবসা করতে পারেন, কিন্তু চুক্তিতে অন্য কিছু না থাকলে তিনি পুরনো ফার্মের নামে ব্যবসা চালাতে পারবেন না, নিজেকে ওই ফার্মের লোক বলে পরিচয় দিতে পারবেন না, আর ফার্মের পুরনো কাস্টমারদের ডেকে নিতে পারবেন না। বের হওয়ার পর কিছুদিন একই ব্যবসা না করার শর্ত দিতে চাইলে লাইনটা আইনজীবীকে দিয়েই লেখান, কারণ এমন শর্ত সব সময় আদালতে টেকে না।
শেষ কাজটা অনেকে ভুলে যান। ৩২ ধারা অনুযায়ী পার্টনার বের হওয়ার পাবলিক নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বাইরের লোকের কাছে তিনিও ফার্মের কাজের দায় থেকে পুরো মুক্ত হন না। তাই পাইকার, কুরিয়ার আর ব্যাংককে লিখিতভাবে জানিয়ে দিন। পুরো ফার্ম বন্ধ হলে হিসাব মিটিয়ে একটা ডিসলিউশন দলিল করুন। স্ট্যাম্পের একই তফসিলে এর জন্য ২,০০০ টাকা লেখা আছে।
আজ যদি বন্ধুর সাথে কথা পাকা করে থাকেন, তাহলে আজ সন্ধ্যাতেই দুজনে বসে ওপরের দশটা কথা খাতায় লিখে ফেলুন। কোথাও দুজনের উত্তর না মিললে খুশি হোন, কারণ এই অমিলটা আজ ধরা পড়ল, ছয় মাস পরে না। তারপর স্ট্যাম্প কিনুন, আইনজীবীকে দিয়ে পড়ান, আর ব্যবসাটা শুরু করুন হালকা মনে।
সাধারণ প্রশ্ন
পার্টনারশিপ ব্যবসার চুক্তিপত্র কত টাকার স্ট্যাম্পে করতে হয়?
bdlaws.minlaw.gov.bd-তে অর্থ আইন ২০২২ দিয়ে বসানো স্ট্যাম্প আইনের তফসিলে লেখা আছে, ব্যবসার মূলধন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ২,০০০ টাকা, আর এর বেশি হলে ৪,০০০ টাকা। পরে কোনো অর্থ আইনে অঙ্কটা বদলেছে কি না, স্ট্যাম্প কেনার আগে ভেন্ডর বা আইনজীবীর কাছে মিলিয়ে নিন।
পার্টনারশিপ ব্যবসা রেজিস্ট্রেশন না করলে কী সমস্যা?
রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক না, কিন্তু Partnership Act 1932-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন না থাকলে চুক্তির অধিকার নিয়ে একজন পার্টনার আরেকজনের বিরুদ্ধে, বা ফার্ম কোনো বাইরের লোকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না। তবে ফার্ম ভেঙে দেওয়া বা ভাঙা ফার্মের হিসাব চাওয়ার মামলা এই বাধার বাইরে। পার্টনারদের মধ্যে টাকার অঙ্ক বড় হলে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে রাখাই নিরাপদ।
চুক্তিপত্র ছাড়া পার্টনারশিপে লাভ কীভাবে ভাগ হয়?
চুক্তি না থাকলে Partnership Act-এর ১৩ ধারা খাটে। তখন কে কত টাকা দিয়েছেন তা না দেখে লাভ-লোকসান সমান ভাগ হয়, আর ব্যবসায় কাজ করার জন্য কোনো পার্টনার বেতন পান না। এই দুটো কথা বেশিরভাগ পার্টনারের মনের কথার সাথে মেলে না, তাই অনুপাত আর বেতন চুক্তিতে লিখে রাখুন।
পার্টনারশিপ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স কার নামে হবে?
লাইসেন্স হবে ফার্মের নামে, যে নাম চুক্তিপত্রে লেখা আছে। জাতীয় তথ্য বাতায়নের ট্রেড লাইসেন্স পেজে লেখা আছে, লাইসেন্স শুধু লাইসেন্সধারীর নামে দেওয়া হয় আর এটা হস্তান্তর করা যায় না। তাই এক পার্টনারের নিজের নামে লাইসেন্স করলে কাগজে ব্যবসাটা তাঁর একার দেখায়।
পার্টনারশিপ চুক্তি বাতিল করব কীভাবে?
চুক্তিতে মেয়াদ বা বাতিলের নিয়ম না থাকলে ব্যবসাটা আইনের চোখে partnership at will, আর তখন যে কোনো পার্টনার বাকি সবাইকে লিখিত নোটিশ দিয়ে ফার্ম ভেঙে দিতে পারেন (৪৩ ধারা)। চুক্তিতে নিয়ম থাকলে সেই নিয়মেই হবে। হিসাব মিটিয়ে একটা ডিসলিউশন দলিল করে নিন, স্ট্যাম্পের একই তফসিলে এর জন্য ২,০০০ টাকা লেখা আছে।
ভাই-ভাই বা স্বামী-স্ত্রী মিলে ব্যবসা করলেও কি চুক্তিপত্র লাগে?
আইন বাধ্য করে না, কিন্তু করে রাখাই ভালো। Partnership Act-এর ৫ ধারায় লেখা, পার্টনারশিপ তৈরি হয় চুক্তি থেকে, আত্মীয়তা থেকে না। পরিবারের ভেতরেই টাকা নিয়ে কথা তোলা সবচেয়ে কঠিন, তাই শুরুতে কাগজে লেখা থাকলে পরে কাউকে মুখ ফুটে চাইতে হয় না।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


